01
Question 01
ঘটনা-১: নাবিলের লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলার প্রতি প্রবল আগ্রহ। এই খেলায় সে অতুলনীয় আনন্দ পায়। খেলাধুলা করায় তার মন ও শরীর প্রফুল্ল থাকে। এর ফলে লেখাপড়ায় বেশি মনোযোগ দিতে পারে। অল্প সময়ে পড়া আয়ত্ত করতে পারে।
ঘটনা-২: বাল্যকাল হতে আমাদের শিক্ষার সাথে আনন্দ নেই। কেবল যা কিছু নিতান্ত আবশ্যক, তাই কণ্ঠস্থ করতেছি। প্রকৃতপক্ষে এটি করে কোনোমতে কাজ চলে মাত্র, কিন্তু মনের বিকাশ লাভ হয় না।
রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ · 2026
a
মর্ত্যবাসীর পক্ষে কোথায় গমন করাটা নিন্দনীয়?
b
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখকদের যথার্থ সামাজিক জীব বলা হয়েছে কেন?
c
ঘটনা-১-এর সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়টি আলোচনা করো।
উত্তর
ঘটনা-১-এর সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের খেলাধুলার মাধ্যমে আনন্দপ্রাপ্তির বিষযটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যের সঙ্গে খেলাধুলার তুলনা করেছেন। খেলাধুলায় যেমন লোকে নিছক আনন্দ ছাড়া কিছু প্রত্যাশা করে না, তেমনই সাহিত্যেরও প্রধান উদ্দেশ্য শুধু আনন্দ দান করা।
উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ নাবিলের খেলাধুলার প্রতি প্রবল ঝোঁক। ক্রিকেট খেলে সে প্রচুর আনন্দ পায়, যা তাকে নিরবচ্ছিন্ন পড়ালেখায় মনোনিবেশ করতে সহায়তা করে। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধেও লেখক উদ্দেশ্যগত দিক থেকে সাহিত্যের সাথে খেলাধুলার তুলনা করেছেন। খেলাধুলায় লোকে আনন্দ ছাড়া অন্যকিছু প্রত্যাশা করে না। খেলার মাঝে আনন্দপ্রাপ্তির দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে আলোচ্য প্রবন্ধের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
d
“প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকদ্বয়ের ভাবার্থ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের মূল বিষয়কে নির্দেশ করে” মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ খেলার মধ্যে আনন্দপ্রাপ্তি ও ঘটনা-২ এ পাঠ্যবইয়ের মধ্যে আনন্দহীনতার যে দিকগুলো ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের মতো বর্ণিত হয়েছে তাতে “প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকদ্বয়ের ভাবার্থ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের মূল বিষয়কে নির্দেশ করে” মন্তব্যটি যথার্থ।
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। অন্যদিকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য শিক্ষাদান করাও নয়। তাই সাহিত্যের সঙ্গে তুলনা চলে খেলাধুলার।
উদ্দীপকের ঘটনাংশে-১ এর নাবিল ক্রিকেট খেলে আনন্দ পায়। অন্যদিকে ঘটনা-২-এ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার নিরানন্দের দিকটি ফুটে ওঠে। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক উদ্দেশ্যগত দিক থেকে খেলার সাথে সাহিত্যের তুলনা করেছেন। আর সাহিত্যিককে তিনি স্কুল মাস্টারির ভার দেননি।
উদ্দীপকের ঘটনাদ্বয় ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্য ও সাহিত্যিকের কর্তব্যের মতো মূল বিষয়গুলোকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। লেখকের মতে, খেলাধুলার মতো সাহিত্যের উদ্দেশ্য নিছক আনন্দ দান। লোকে যখন খেলা করে তখন একমাত্র আনন্দ ছাড়া আর কিছুই চায় না। তাই সাহিত্যের সঙ্গে খেলার তুলনা চলে। এই একই কারণে সাহিত্যিককে স্কুলমাস্টারির ভার দেওয়া যায় না। কারণ স্কুল মাস্টাররা সাহিত্যের আনন্দের ব্যাপারে উদাসীন। তারা কঠিন উপস্থাপনার মাধ্যমে সাহিত্যকে জটিল করে ফেলে। ফলে সাহিত্যের আনন্দ থেকে ছাত্ররা বঞ্চিত হয়ে গলাধঃকরণ শুরু করে। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, “প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকদ্বয়ের ভাবার্থ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের মূল বিষয়কে ধারণ করে” মন্তব্যটি যথার্থ।
02
Question 02
‘কাবুলিওয়ালা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ছোটোগল্প। গল্পটি কেবল কাবুল দেশের কাবুলিওয়ালা রহমতের জীবনকাহিনি নয় বরং এটি একজন পিতার অসীম ভালোবাসা ও আবেগের প্রতিচ্ছবি। আফগান ‘এ ফল বিক্রেতা কলকাতায় ফল বিক্রির সুবাদে লেখকের মেয়ে মিনির সাথে নিবিড় সখ্য গড়ে তোলেন। মিনির মধ্যে তিনি কাবুলে ফেলে আসা তার মেয়ের ছবি খুঁজে ফেরেন। গল্পের শেষে মিনির বারা তার মেয়ের বিয়ের খরচ থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে রহমতকে দিয়ে তার নিজের দেশে গিয়ে মেয়ের সাথে দেখা করার সুযোগ করে দেন। গল্পটিতে ফুটে উঠেছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শক্তি ভালোবাসা ও মানবিকতা-যা জাতি-ধর্ম ও ভৌগোলিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে।
ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026
a
স্কুলঘরে আমরা কাব্যের কী দেখতে পাই না?
b
মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া কেন শ্রেষ্ঠ? বুঝিয়ে লেখো।
c
‘শিক্ষার উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো’- ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের এ বিষয়টি উদ্দীপকে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
“শিক্ষার উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো”- ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের এ বিষয়টি শিক্ষা ও সাহিত্যের পার্থক্য নির্ণয়ের মাধ্যমে উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী বলেছেন, সাহিত্য মানুষের অনুভূতি ও চেতনার স্তরে স্পর্শ করে তার মনকে সচেতন ও সক্রিয় করে তোলে। সাহিত্যের রস অমৃত সুধার মতো সঞ্জীবনী শক্তিসম্পন্ন। এর স্পর্শে মানুষের অন্তরাত্মা সজীব ও বিকশিত হয়। মানুষের মাঝে সত্যিকার অর্থে মানবিকতার জাগরণ ঘটায় সাহিত্য।
উদ্দীপকের ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পটি পাঠকের মনকে জাগিয়ে তোলে মানবতা, স্নেহ ও ভৌগোলিক সীমানার বোধে। রহমতের প্রতি লেখকের সহানুভূতি এবং মিনির সাথে তার সম্পর্কের মাধ্যমে গল্পটি পাঠকের মধ্যে সহমর্মিতা ও মানবিক বোধ জাগ্রত করে। এই জাগরণই হলো সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য, যা শিক্ষার তথ্যনির্ভর দিক থেকে ভিন্ন। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে, সাহিত্য পাঠকের মনকে জাগিয়ে তোলে আনন্দ ও অনুভূতির মাধ্যমে। উদ্দীপকের গল্পটি ঠিক সেই কাজটি করেছে- এটি পাঠকের মানবিক চেতনাকে জাগ্রত * করেছে, যা শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।
d
বিশ্বমানবের সাথে নিত্যনতুন সম্বন্ধ পাতানোই কবিমনের নিত্য-নৈমিত্তিক কর্ম- উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
‘বিশ্বমানবের সাথে নিত্যনতুন সম্বন্ধ পাতানোই কবিমনের নিত্য-নৈমিত্তিক কর্ম’- উক্তিটি যথার্থ কারণ উদ্দীপক ও প্রবন্ধ উভয়ের মধ্যেই এই উক্তি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক ব্যাখ্যা করেন, কবি বা সাহিত্যিক তার সৃষ্টির মাধ্যমে অজানা মানুষের সঙ্গে একটি সম্পর্ক তৈরি – করেন, তাদের অনুভূতির সাথে মিলিত হন। এটি সাহিত্যের খেলা বা লীলার অংশ, যা মানুষের মনকে সংযুক্ত করে এবং একই আনন্দে শরিক করে।
উদ্দীপকের ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বিশ্বমানবের সাথে সম্পর্ক পাতানোর কাজটি সার্থকভাবে করেছেন। গল্পের কাবুলিওয়ালা একজন আফগান ফল বিক্রেতা কিন্তু লেখক তাকে এবং তার গভীর পিতৃস্নেহকে বিশ্বজনীন রূপ দিয়েছেন। গল্পটি পাঠকের সঙ্গে রহমতের মানবিক বন্ধন তৈরি করে, জাতি, ধর্ম ও ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে। এটি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের বক্তব্যেরই প্রতিফলন।
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে, সাহিত্য হলো ‘মনোজগতে খেলা’। উদ্দীপকের কাবুলিয়ালা এই খেলার মাধ্যমে মিনির সাথে আনন্দ ও সম্পর্ক তৈরি করেছে। রহমতের সাথে মিনির বন্ধুত্ব পাঠকের হৃদয়ে সর্বজনীন মানবতার বোধ জাগায়। এই বোধ সময় ও স্থানের সীমাকে অতিক্রম করে। প্রমথ চৌধুরীর মতে, সাহিত্যের এই সম্পর্ক পাতানোর কাজটি কোনো উদ্দেশ্য বা স্বার্থের জন্য নয় বরং এটি নিষ্কাম খেলা। রবীন্দ্রনাথও এই গল্পে একটি সহজ মানবিক সম্পর্কের গল্প বলেছেন, যা পাঠকের সঙ্গে বিশ্বজনীন সংযোগ স্থাপন করেছে। সুতরাং উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে সঠিক যে, উদ্দীপকের গল্প ও প্রবন্ধ দুটোই কবি বা লেখকের এই বিশ্বমানবের সাথে সম্পর্ক পাতানোর নিত্যনৈমিত্তিক কর্মকে সমর্থন করে এবং প্রকাশ করে।
03
Question 03
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি’ উপন্যাসটির মূলে জেলে-জীবনের কথকতাই মুখ্য বিষয়। কিন্তু তিনি জেলে সম্প্রদায়কে তুষ্ট করার জন্য এ উপন্যাস রচনা করেননি। পরবর্তীকালে এটি বাংলা সাহিত্যে একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাসের মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছে। এরকম একাধিক উপন্যাস, গল্প রচনা করে তিনি নিজেও সাহিত্যিক হিসেবে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। সাহিত্য রচনাই ছিল তাঁর একমাত্র আনন্দ, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তিনি সাহিত্য রচনা করেননি। আর তাই মাত্র আটচল্লিশ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রচণ্ড অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2026
a
‘গীতিকবিতা’ কী?
b
“বৈশ্য লেখকের পক্ষেই শূদ্র পাঠকের মনোরঞ্জন করা সংগত।”-কেন? ব্যাখ্যা করো।
c
উদ্দীপকে উল্লিখিত মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোভাব ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা করো।
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মানিক বন্দোপাধ্যায়ের মনোভাব ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাহিত্যচর্চার আদর্শের দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন যে, সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য সৌন্দর্যসৃষ্টির সাপেক্ষে পাঠকচিত্তে আনন্দের সংশ্লেষণ। মহৎ শিল্পীরা এই আদর্শ মেনেই সাহিত্যজগতে উজ্জ্বল হয়ে আছেন।
উদ্দীপকের মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তেমনই একনিষ্ঠ সাহিত্যসাধক। তিনি তাঁর ‘পদ্মানদীর মাঝি’ উপন্যাসে জেলেজীবনের নিখুঁত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি কিন্তু জেলে সম্প্রদায়কে তুষ্ট করতে এ লেখা লেখেননি। তাঁর আটচল্লিশ বছরের জীবন কেটেছে অভাব-অনটনে। শেষ পর্যন্ত বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেও তিনি সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হননি। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধেও লেখক প্রকৃত সাহিত্যিকের মনোভাবের দিকটি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কোনো প্রকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তাঁরা সাহিত্যচর্চা করেন না। এক্ষেত্রে তাঁরা তাঁদের ফলভোগের লোভেও বসে থাকেন না। তারা শুধু বিশ্বমানবের মনের সঙ্গে লেখক সত্তার সংযোগ ঘটান। এই সাহিত্যচর্চার আদর্শটি উদ্দীপকের মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ধারণ করেছেন। এভাবেই উদ্দীপকে উল্লিখিত মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোভাব ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাহিত্যচর্চার আদর্শের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
d
উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের মূলভাবকে সম্পূর্ণরূপে ধারণ করে না, কেন? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর উদ্দীপকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের একটি মাত্র দিক সাহিত্যচর্চার আদর্শের প্রকাশ ঘটায় উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের মূলভাবকে সম্পূর্ণরূপে ধারণ করে না।
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক সাহিত্যচর্চা সম্পর্কে নানাবিধ বিষয় তুলে ধরেছেন। এ প্রবন্ধে সাহিত্যচর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখকের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গির সুস্পষ্ট পরিচয় ফুটে উঠেছে। সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য আনন্দ দান, কারও মনোরঞ্জন নয়।
উদ্দীপকের মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃত সাহিত্যের স্রষ্টা হিসেবে খ্যাত। কোনোরূপ মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে তিনি সাহিত্যচর্চা করেননি। তাই তো তাঁর সাহিত্য কালজয়ী হয়ে উঠেছে। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধেও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রকৃত সাহিত্যচর্চার বিষয়টি তুলে ধরেছেন প্রাবন্ধিক।
উদ্দীপকের মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাঝে প্রকৃত সাহিত্যসাধকের দিকটি ফুটে উঠেছে। এটি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের একটি মাত্র দিক। এ প্রবন্ধে এটি ছাড়াও লেখক বহু বিষয়ের আলোচনা যুক্ত করেছেন। সাহিত্যচর্চাকে লেখক স্কুল-মাস্টারি থেকে আলাদা বলতে চেয়েছেন। পাঠকদের শিক্ষা দেওয়া সাহিত্যের উদ্দেশ্য নয়। লেখক সাহিত্যচর্চাকে খেলাধুলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়বে। সাহিত্যের উদ্দেশ্য শিক্ষাদান করাও নয়। তাই লেখক সাহিত্যের সঙ্গে খেলাধুলার তুলনা করেছেন। এ বিষয়গুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায় উদ্দীপকটি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের মূলভাবকে সম্পূর্ণরূপে ধারণ করেনি।
04
Question 04
স্কুল মাঠে একদল শিশু আপন মনে খেলায় ব্যস্ত। মাঠের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পাড়ার সকলের বেলুমামা। তিনি শিশুদের ডেকে বললেন, “তোমরা এমন দৌড়-ঝাঁপ করতে গিয়ে হাত-পা ভাঙবে, ব্যথা পাবে। তার চেয়ে এসো সবাই বসে পড়ালেখা করি- জ্ঞান বাড়বে, দিব্যাবুদ্ধি বাড়বে।” একটি শিশু বলল, “মজাটা কমবে।” সাথে সাথে সব শিশু হেসে উঠল। একে একে সবাই ছুটে পালাল খেলার মাঠে- মনের আনন্দে শুরু করল খেলা।
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ · 2026
a
প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম কী?
b
“সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, শিক্ষা দান করা নয়।”-ব্যাখ্যা করো।
c
উদ্দীপকের বেলুমামা ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের কোন চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
মানসিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের বেলুমামা ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের স্কুলমাস্টার চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যের প্রতি আমাদের বিরাগ সৃষ্টির কারণ হিসেবে ‘স্কুল শিক্ষকদের দায়ী করেছেন। কেননা তারা জোর করে সাহিত্যের গূঢ় তত্ত্ব বা গুণের কথা শেখালেও এতে করে সাহিত্যের সঙ্গে আমাদের প্রাণের মিলন ঘটে না। সাহিত্য কী তা আমরা বুঝতে পারি না।
স্কুলমাস্টাররা যেমন সব বিষয়ই শিক্ষার্থীদের জোর করে বোঝাতে চান, তেমনই উদ্দীপকেও বেলুমামা জোর করে শিশুদের শেখাতে চান। বেলুমামা শিশুদের খেলাধুলা বাদ দিয়ে পড়ালেখা করার কথা বলেন। শিশুরা তখন শিক্ষালাভের বিপরীতে মনের আনন্দে খেলা করার বিষয়টি গ্রহণ করে। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধেও লেখক স্কুলমাস্টারদের সম্বন্ধে এই কথাগুলোই বলেছেন। তারাও শিক্ষার্থীদের মনের আনন্দকে প্রাধান্য না দিয়ে জোরপূর্বক পড়ালেখায় ব্যস্ত রাখতে চান। এ দিক থেকে উদ্দীপকের বেলুমামা ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের স্কুলমাস্টারদের একই কাতারে ফেলা যায়।
d
“”সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্য এবং উদ্দীপকের শিশুদের খেলার উদ্দেশ্য অভিন্ন।”- এই বিষয়ে যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও।
উত্তর
সাহিত্যের অন্যতম উদ্দেশ্য মানুষকে নিছক আনন্দদানের দিক বিবেচনায় “সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্য এবং উদ্দীপকের শিশুদের খেলার উদ্দেশ্য অভিন্ন” মন্তব্যটি যথার্থ।
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের লেখকর মতে, সাহিত্যর উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আনন্দ দান করা। মানুষকে নির্মল আনন্দ দান ও সৌন্দর্য সৃষ্টির লক্ষ্যেই সাহিত্যের সূচনা। এটা অনেকটা খেলার মতো। কেননা সাহিত্যের মতো খেলারও উদ্দেশ্য মানুষকে নিছক আনন্দ দান।
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে মনের আনন্দের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার মতে আনন্দই সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য। সাহিত্যিকরা মনের আনন্দে সাহিত্য রচনা করবেন এবং পাঠক তা পড়ে আনন্দলাভকরবে। উদ্দীপকের শিশুদের খেলায়ও একই উদ্দেশ্য দেখা যায়। শিশুরা মনের আনন্দে খেলা করছে।
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্যের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে লেখক নিছক আনন্দলাভের কথা বলেছেন। উদ্দীপকে শিশুদের খেলায়ও একই উদ্দেশ্য লক্ষ করি। শুধু আনন্দলাভের উদ্দেশ্যেই তারা খেলাধুলায় মগ্ন হয়। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের শিশুদের খেলা থেকে সাহিত্য ও খেলার একটাই উদ্দেশ্য পাই, তা হলো আনন্দলাভ করা। তাই বলা যায়, ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্য এবং উদ্দীপকের শিশুদের খেলার উদ্দেশ্য অভিন্ন। সুতরাং উক্তিটি যুক্তিসংগত ও সঠিক।
05
Question 05
জীবনানন্দ দাশ বাংলার ‘রূপসী বাংলা’র কবি নামে খ্যাত। আত্মগত আনন্দ ও ভাবনার নিবিষ্টতায় কবি নির্মাণ করেছেন তাঁর কাব্যভুবন। বাংলার আকাশ-বাতাস, বাংলার হাওয়া-জল, বৃক্ষ-লতাপতা, পাখি-ফুল, বাংলার নদী-নালা-সাগর এমন নিবিড়ভাবে আর কোনো কবি ধরতে পারেননি। তার কবিতায় মানুষের চেয়ে প্রকৃতির প্রাবল্য। তাঁর কাব্যভাষা বিস্ময়কর। তাঁর সমকালে অনেক বোদ্ধা সমালোচক তাঁর কবিতাকে কেটেকুটে পোস্টমর্টেম করে তাঁর কবিতার সীমাবদ্ধতার সমালোচনা করেছেন। সেই সমালোচকরা হারিয়ে গেছেন অথচ জীবনানন্দ দিনকে দিন পাঠকের কাছে সমাদৃত হচ্ছেন।
সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026
a
রোঁদ্যা কে?
b
“কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।”- ব্যাখ্যা করো।
c
উদ্দীপকের সমালোচক ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের কার নিকটতম প্রতিনিধি? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
উদ্দীপকে সমালোচক ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের নিকটতম প্রতিনিধি।
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক সাহিত্য রচনার মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, মানুষের মনে আনন্দদান ও সৌন্দর্য সৃষ্টির অভিপ্রায়ে রচিত হয় সাহিত্য। এর বাইরে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রচিত হলে তা হয়ে পড়ে স্বধর্মচ্যুত।
উদ্দীপকের রূপসী বাংলার কবি খ্যাত জীবনানন্দ দাশ আত্মগত আনন্দ ও ভাবনার নিবিষ্টতায় নির্মাণ করেছেন তাঁর কাব্যভুবন। বাংলার অপরূপ প্রকৃতির সৌন্দর্য তার মতো নিবিড়ভাবে আর কোনো কবি ধারণ করতে পারেননি। তারপরও তাঁর সমকালের অনেক সমালোচক তাঁর কবিতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকও সাহিত্যের আদর্শ ও উদ্দেশ্য বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামত দিয়েছেন। তাঁর মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে সকলকে আনন্দ দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। আবার, সাহিত্যের উদ্দেশ্য এবং শিক্ষার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও তিনি মত প্রদান করেছেন। সর্বোপরি সাহিত্য রচনার নানা দিক আলোচনাপূর্বক তিনি সাহিত্য আদর্শ ও উদ্দেশ্য বিষয়ে সমালোচনা করেছেন। উদ্দীপকের সমালোচকও জীবনানন্দ দাশের কবিতার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেছেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের সমালোচক ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকেরই নিকটতম প্রতিনিধি।
d
“উদ্দীপকের মূলভাবটি যেন ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধেরই অনুরণন” উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর “উদ্দীপকের মূলভাবটি যেন ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধেরই অনুরণন”- মন্তব্যটি যথার্থ।
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধানুসারে, সাহিত্যের জগৎ মূলত নিছক আনন্দের জগৎ। মহৎ কবির সৃষ্টি সর্বজনীন আবেদনে পরিপূর্ণ। তার মানবসত্তা প্রতিনিয়তই বিশ্বমানব সত্তা ও সভ্যতার সাথে নিত্যনতুন সংযোগ সাধনের সেতু নির্মাণ করে।
উদ্দীপকে জীবনানন্দ দাশ বাংলার নিসর্গ সৌন্দর্যকে যেরূপ ধারণ করতে পেরেছেন, তা আর কোনো কবি পারেননি। তাঁর কবিতায় মানুষের চেয়ে প্রকৃতির প্রাবল্য অধিক। ফলে সমালোচকরা তাঁর কবিতার নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে সমালোচনা করলেও তিনি দিন দিন পাঠকের কাছে সমাদৃত হচ্ছেন। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের মতে, নিছক আনন্দদানের উদ্দেশ্যে যে সাহিত্যকর্ম রচিত হবে, তা গুণগত মান হারাবে না। পাঠকের অনিচ্ছায় কিংবা অবহেলায় সেসব সাহিত্যকর্ম কালের গর্ভে বিলীন হবে না।
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য হিসেবে কেবল আনন্দদানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। কেননা ব্যক্তির মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে সাহিত্যকর্ম রচিত হলে তা হয়ে পড়ে স্বধর্মচ্যুত। উদ্দীপকের জীবনানন্দ দাশ সমালোচকদের সমালোচনা উপেক্ষা করে নিজ কাব্যভাষায় সাহিত্যকর্ম রচনা করেছেন। এতে নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের মনোরঞ্জন না হলেও, পাঠকসমাজে তিনি দিন দিন সমাদৃত হয়েছেন। কেননা তাঁর কাব্য কেবল নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্য রচিতা না হয়ে সাহিত্যের প্রকৃত আদর্শ মেনেই রচিত হয়েছে। যা আলোচ্য প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের নির্দেশিত পথেরই অনুরূপ। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যৌক্তিক।
06
Question 06
নাসির একজন জনপ্রিয় লেখক হতে চান। পাঠকের চাহিদা বুঝে তিনি লেখালেখি চালিয়ে যান। এতে তিনি সাময়িক সফলতাও অর্জন করেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে তার নামটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়।
আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ · 2026
a
লেখকেরা কার কাছে হাততালির প্রত্যাশা রাখেন?
b
“সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়।”- ব্যাখ্যা করো।
c
উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাদৃশ্য কোথায়? আলোচনা করো।
উত্তর
উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাদৃশ্য হলো পাঠকের মনোরঞ্জনকারী সাহিত্যিকের আচরণের দিকটি।
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক প্রকৃত শিল্পীর মনোভাব ও কর্মকুশল তুলে ধরেছেন। প্রকৃত সাহিত্যিক সাহিত্যকে খেলা হিসেবে নেন। প্রবন্ধে লেখক প্রকৃত সাহিত্যিকের সাহিত্য সৃষ্টিকে খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সৌন্দর্য সৃষ্টির মাধ্যমে আনন্দের সঞ্চার করাই তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকের নাসির পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী লেখা লিখে জনপ্রিয় লেখক হতে চান। সাময়িকভাবে তিনি সফল হলেও ধীরে ধীরে তার লেখার আবেদন ম্লান হতে থাকে। তারপর এক সময় তার সৃষ্ট সাহিত্য কালের অতল গর্ভে হারিয়ে যায়। বিষয়টি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের পাঠকের মনোরঞ্জনকারী সাহিত্যিকের মনোভাব ও কর্মকান্ডের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। নিজের মনোভাবের সঙ্গে বিশ্বমনের সংযোগ সাধনই লেখকের ব্রত। তবে এর বিপরীত চিত্রও দেখা যায়। কেউ কেউ আবার খ্যাতির জন্য পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী সাহিত্য সৃষ্টি করেন। এ ধরনের সাহিত্য সাময়িকভাবে জনপ্রিয় হলেও কালোত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়।
d
“কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্যচর্চা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।”- উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সাহিত্য রচনা করলে শিল্পগুণ ক্ষুণ্ণ হয়, তাই “কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্যচর্চা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে” মন্তব্যটি যথার্থ।
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন যে, সাহিত্য সৃষ্টির একমাত্র লক্ষ্য- সৌন্দর্য সৃষ্টি ও আনন্দ দান। যিনি যথার্থ সাহিত্যিক, তিনি তাঁর সাহিত্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধির প্রতি সচেষ্ট হন। এতে করে তাঁর সাহিত্য কালজয়ী হয়ে ওঠে। যুগ-যুগান্তর ধরে তাঁর সাহিত্য স্বমহিমায় উজ্জ্বল থাকে। এর বিপরীত হলে সাহিত্য আরোপিত হয়ে পড়ে। সেই সাহিত্য সাময়িক জনপ্রিয় হলেও কালের বিবর্তনে মহিমা তা হারায়।
উদ্দীপকের নাসির সৌন্দর্য সৃষ্টির বিপরীতে পাঠকের মনোরঞ্জনকে সাহিত্য রচনার লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন। ফলে নিজ সময়ে জনপ্রিয় হলেও কালের গহ্বরে ধীরে ধীরে তলিয়ে গেছে তার সেই ঠুনকো জনপ্রিয়তা। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রচিত সাহিত্যের সমালোচনা করা হয়েছে। কোনো সাময়িক উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্য রচনা করলে তা কালের গর্ভে হারিয়ে যায়।
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক জনপ্রিয়তা প্রত্যাশী সাহিত্যিকদের নীচ সাহিত্যিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সাহিত্যিকের সাহিত্যজগতে খেলা করার স্বাধীনতা রয়েছে। এর মাধ্যমেই সাহিত্যিক বিশ্বমনের সঙ্গে কবিমনের সম্পর্ক স্থাপন করেন। এর বিপরীত ঘটলে সাহিত্য তার কালজয়ী মহিমা হারায়। সেটিই উদ্দীপকের নাসিরের সাহিত্যের ক্ষেত্রে ঘটেছে। তাই বলা যায়, “কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্যচর্চা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে” মন্তব্যটি যুক্তিপূর্ণ।
07
Question 07
জ্ঞানের কথা জানা হয়ে গেলে আর জানতে ইচ্ছে করে না- তা জেনে মনে আনন্দও জন্মে না। সূর্য পূর্বাকাশে ওঠে- এই তথ্য আমাদের মন টানে না। কিন্তু সূর্যোদয়ে যে সৌন্দর্য ও দেখার আনন্দ তা সৃষ্টিকাল থেকে আজও বিদ্যমান। এই সৌন্দর্য ও আনন্দানুভূতি পাঠক হৃদয়ে জাগিয়ে তোলাই সাহিত্যের কাজ। পাঠ ও অনুধাবনের মাধ্যমে রসিক পাঠকের হৃদয়ে তা সঞ্চারিত হয়। রস গ্রহণে অসমর্থ লোকই সাহিত্যের সৌন্দর্য ও আনন্দানুভূতির পরিবর্তে আত্মহিত ও সন্তুষ্টি খোঁজে। সাহিত্যে নির্মিত সৌন্দর্য-অনুভূতি যদি লোকহিত সাধন করে, তাতে সাহিত্যের কুললক্ষণ নষ্ট হয় না। শুধু লোকহিত ও সন্তুষ্টির প্রচেষ্টা সাহিত্যকে কুলত্যাগী করে, সাহিত্যিক শিক্ষকে রূপান্তরিত হন।
[পাঠ্যবইয়ের অনুশীলনীর সৃজনশীল প্রশ্ন]
a
‘রামায়ণ’ কে রচনা করেছেন?
b
‘অতি সস্তা খেলনা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
c
‘সাহিত্যের স্বধর্মচ্যুত’ হওয়ার বিষয়টি উপরের অনুচ্ছেদে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, বুঝিয়ে দাও।
উত্তর
➤ সাহিত্যের মাধ্যমে শুধু লোকের হিতসাধন ও সন্তুষ্টির চেষ্টা করা হলে ‘সাহিত্যের স্বধর্মচ্যুতি’ হয়, কথাটি অনুচ্ছেদে প্রতিফলিত হয়েছে।
➤ সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে সবাইকে আনন্দদান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য হয়ে পড়বে স্বধর্মচ্যুত। সাহিত্য রচনা করার সময় লেখকের এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হয়।
➤ অনুচ্ছেদে দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা হয়েছে, সূর্য পূর্বাকাশে ওঠে- এই তথ্য আমাদের মনকে আকর্ষণ করে না। কিন্তু সূর্যোদয়ে যে সৌন্দর্য ও দেখার আনন্দ তা সৃষ্টিকাল থেকে আজও বিদ্যমান। এই সৌন্দর্য ও আনন্দানুভূতি পাঠকহৃদয়ে জাগিয়ে তোলাই সাহিত্যের কাজ। সাহিত্যের সৌন্দর্যানুভূতি যদি কারও মনোরঞ্জন বা হিতসাধন করে তাতে সাহিত্যের ধর্ম নষ্ট হয় না। কিন্তু যদি শুধু লোকের হিতসাধন ও সন্তুষ্টির জন্য সাহিত্য সৃষ্টি করা হয় তবে সেই সাহিত্য হয়ে পড়বে কুলত্যাগী। এই ধরনের সাহিত্য অধিক সস্তা খেলনার মতো ‘সাহিত্যের স্বধর্মচ্যুত’ হওয়ার বিষয়টি উপরের অনুচ্ছেদে এভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে।
সারকথা: যদি শুধু লোকহিতার্থে ও কারও মনোরঞ্জনের জন্য সাহিত্য সৃষ্টি করা হয় তবে তা স্বধর্মচ্যুত হয়।
d
‘শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য ভিন্নধর্মী’- বক্তব্যটি উপরের অনুচ্ছেদে কতখানি প্রতিফলিত হয়েছে বলে তুমি মনে কর- উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর
➤ ‘শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য ভিন্নধর্মী’- বক্তব্যটি উপরের অনুচ্ছেদে অনেকখানি প্রতিফলিত হয়েছে বলে আমি মনে করি।
➤ শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মাঝে বিশ্বের খবর পৌছানো। অন্যের মনের অভাব দূর করতেই শিক্ষকের যাতে শিক্ষা জন্মলাভ ‘করেছে। কিন্তু নিজের মনের পরিপূর্ণতা থেকেই সাহিত্যিক তার সাহিত্য সৃষ্টি করেন। সাহিত্যের জগৎ নিছক আনন্দের জগৎ।
➤ সাহিত্য হচ্ছে আনন্দের উপকরণ। কাউকে শিক্ষা দান করা এটির উদ্দেশ্য নয়। কাজেই শিক্ষা ও সাহিত্যের ধর্ম-কর্ম যে এক নয়- এই সত্যটি স্পষ্ট হওয়া দরকার। প্রথমত, শিক্ষা অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে মানুষ বাধ্য হয়, পক্ষান্তরে কাব্যরস লোকে সানন্দে পান করে। কেননা শাস্ত্রমতে সেই রস অমৃত। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনকে বিশ্বের খবর জানানো, সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো। তৃতীয়ত, অপরের মনের অভাব পূর্ণ করার উদ্দেশ্যেই শিক্ষকের হায়ে শিক্ষা জন্মলাভ করেছে, কিন্তু কবির নিজের মনের পরিপূর্ণতা থেকেই সৃষ্টি হয় সাহিত্য। তাই প্রমথ চৌধুরী বলেছেন, সাহিতোর উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, শিক্ষা দান করা নয়। অনুচ্ছেদেও বক্তব্যটি অনেকখানি প্রতিফলিত হয়েছে।
➤ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জ্ঞানের কথা জেনে মনে আনন্দ জন্মে না। সূর্য পূর্বাকাশে ওঠে- এই তথ্য আমাদের মন টানে না। কিছ সূর্যোদয়ে যে সৌন্দর্য ও দেখার আনন্দ আছে তা সৃষ্টিকাল থেকে আজও বিদ্যমান। এই সৌন্দর্য ও আনন্দানুভূতি পাঠকহৃদয়ে জাগিয়ে তোলাই সাহিত্যের কাজ। কাজেই শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য যে ভিন্নধর্মী তা অনুচ্ছেদে অনেকখানি প্রতিফলিত হয়েছে।
সারকথা: শিক্ষা হচ্ছে জ্ঞানের ব্যাপার আর সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে আনন্দদান করা, শিক্ষা দান করা নয়। কাজেই ‘শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্বেগ ভিন্নধর্মী’ এই বক্তব্যটি উপরের অনুচ্ছেদে অনেকখানি প্রতিফলিত হয়েছে।
08
Question 08
মানুষের একটি চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে নিজের অনুভূতি ও উপলব্ধি অন্যের কাছে প্রকাশ করা। জয়নুল আবেদীনের মতো ছবি এঁকে, কিংবা রবীন্দ্রনাথের মতো কবিতা-গান লিখে নিজ হৃদয়ানুভূতি ও রূপচেতনা সে অন্য মনে ছড়িয়ে দিতে চায়। এভাবে সে জগতের সকল মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়। চায় লক্ষ হৃদয়ের মধ্যে বেঁচে থাকতে। এ এ কাজ তখনই সফল হয়, যখন রঙে, ঢঙে, আকারে-প্রকারে, ভাষায়-সুবে, ছন্দে, ইঙ্গিতে নিখুঁত রূপ বা অনুভূতি অন্য মনে প্রতিফলিত ও সঞ্চারিত করা যায়। এ কাজ যে পারে, শিল্পরাজ্যের সেই রাজা। ধর্মের জাতপাত, বর্ণভেদ সেখানে একাকার।
a
রোদ্যার একটি শ্রেষ্ঠ ভাস্কর্যের নাম লেখ।
b
‘মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ।’- কেন? ব্যাখ্যা কর।
c
প্রবন্দে বর্ণিত ব্রাহ্মণশূদ্রের মানবাধিকার উপরের অনুচ্ছেদের কোন বস্তুবো প্রতীয়মান হয়? আলোচনা কর।
উত্তর
➤ উদ্দীপকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের ব্রাহ্মণশূদ্রের মানবাধিকার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
➤ শিল্পরাজ্যে খেলা করার প্রবৃত্তির মতো অধিকারও ছোট-বড় সবার সমান আছে। এই পৃথিবীতে একমাত্র খেলার ময়দানে ব্রাহ্মণ- শূদ্রের প্রভেদ নেই। রাজার ছেলের সঙ্গে দরিদ্রের ছেলেরও খেলায় যোগ দেওয়ার অধিকার আছে।
➤ অনুচ্ছেদে শিল্পরাজ্যে মানবাধিকারের কথা বলা হয়েছে। এখানে জাতপাত বিচার করা হয় না। রাজার ছেলেও সাহিত্য রচনা করে, ছবি এঁকে তার মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে, আবার প্রজা বা দরিদ্র ঘরের ছেলেও তা করতে পারে। এখানে ব্রাহ্মণ- শূদ্রের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। প্রবন্ধে খেলার মাঠে এই মানবাধিকারের কথা বলা হয়েছে। পৃথিবীতে একমাত্র খেলার ময়দানে ব্রাহ্মণ-শূদ্রের প্রভেদ নেই। রাজার ছেলের সঙ্গে দরিদ্রের ছেলেরও খেলায় যোগ দেওয়ার অধিকার আছে। এভাবে উদ্দীপকের বক্তব্যটিতে প্রতীয়মান হয় যে খেলার ময়দানে যেমন ব্রাহ্মণ-শূদ্র, শিল্পরাজ্যেও তাদের একই অধিকার প্রতিষ্ঠিত।
সারকথা: অনুচ্ছেদে শিল্পরাজ্যে ছোট-বড় সবার সমানাধিকারের কথা বলা হয়েছে। অনুচ্ছেদের এই প্রবন্ধে বর্ণিত ব্রাহ্মণ-পূদ্রের সমানাধিকার প্রতীয়মান হয়। খেলার মাঠে ব্রাহ্মণ-শূদ্রের কোনো প্রভেদ নেই।
d
উপরের অনুচ্ছেদের ‘লক্ষ’ হৃদয়ের মধ্যে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা’ বাক্যাংশ অবলম্বনে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্দে বর্ণিত ‘বিশ্বমানবের সঙ্গে সম্বন্ধ পাতানোরই নামান্তর’ প্রসঙ্গে তোমার মতামত উপস্থাপন কর।
উত্তর
➤ উপরের অনুচ্ছেদের ‘লক্ষ হৃদয়ের মধ্যে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা’ বাক্যাংশ অবলম্বনে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত ‘বিশ্বমানবের সঙ্গে সম্বন্ধ পাতানোরই নামান্তর’ মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ সাহিত্যের জগৎ মূলত নিছক আনন্দের জগৎ। মহৎ কবির সৃষ্টি সর্বজনীন আবেদনে পরিপূর্ণ। তার মানসসত্তা প্রতিনিয়তই বিশ্বমানব সত্তা ও সভ্যতার সাথে নিত্যনতুন সংযোগ সাধনের সেতু নির্মাণ করে।
➤ মানুষ নিজেকে প্রকাশ করতে চায়। জয়নুল আবেদীনের মতো ছবি এঁকে, রবীন্দ্রনাথের মতো কবিতা ও গান লিখে নিজের হৃদয়ানুভূতি ও রূপচেতনা সে অন্য মনে ছড়িয়ে দিতে চায়। এভাবে সে বিশ্বমানবের সঙ্গে সম্বন্ধ গড়ে তুলতে চায় এবং বেঁচে থাকতে চায় লক্ষ হৃদয়ের মাঝে। উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে মানুষের শিল্পরাজ্যে প্রবেশ করার উদ্দেশ্যটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
➤ মহৎ কবিরা সাধারণের মতো আত্মকেন্দ্রিক নন। তাঁরা সর্বজনীন এবং বিশ্বনাগরিক। একজন মহৎ কবির মনে প্রতিনিয়ত যে ভাবের উদয় হয়, সেই ভাবকে তিনি কবিতার মাধ্যমে চিত্রিত করে ছড়িয়ে দেন বিশ্ববাসীর কাছে। ফলে কবিমনের সঙ্গেঙ্গ বিশ্বমানবের নতুন সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। কবির মনের কথাগুলো অসংখ্য পাঠকের মনে প্রবেশ করে। এটার একটাই লক্ষ্য- সৃষ্টির মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকা। এ দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: সৃষ্টির মধ্য দিয়ে শিল্পপ্রন্টারা তাঁদের ভাবকে বিশ্ববাসীর কাছে ছড়িয়ে দিয়ে বিশ্বমানবের মধ্যে বেঁচে থাকতে চান। কাজেই • উদ্দীপকের দক্ষ যুদয়ের মধ্যে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা’ কথাটি অবলম্বনে প্রবন্ধে বর্ণিত বিশ্বমানবের সঙ্গে সম্বন্ধ পাতানোরই নামান্তর’ কথাটি আমার মতে যথার্থ হয়েছে।
09
Question 09
স্কুল মাঠে একদল শিশু আপন মনে খেলায় ব্যস্ত। মাঠের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পাড়ার সকলের বেলুমামা। তিনি শিশুদের ডেকে বললেন, “তোমরা এমন দৌড়-ঝাঁপ করতে গিয়ে হাত-পা ভাঙবে, ব্যথা পাবে। তার চেয়ে এসো সবাই বসে পড়ালেখা করি- আন বাড়বে, দিব্যাবুদ্ধি বাড়বে।” একটি শিশু বলল, “মজাটা কমবে।” সাথে সাথে সব শিশু হেসে উঠল। একে একে সবাই ছুটে পালাল খেলার মাঠে- মনের আনন্দে শুরু করল খেলা।
[এইচএসসি পরীক্ষা ‘১২]
a
এ পৃথিবীতে ব্রাহ্মণশূদ্রের প্রভেদ নেই কোথায়?
b
“যে খেলার ভিতর আনন্দ নেই কিন্তু উপরি পাওনার আশা আছে, তার নাম খেলা নয়, জুয়াখেলা।”- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
c
উদ্দীপকের বেলুমামা ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের কোন চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ উদ্দীপকের বেলুমামা ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের স্কুলমাস্টার চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ সাহিত্য হলো আনন্দ উপভোগ করার একটি মাধ্যম। মানুষ সাহিত্যিকের কাছ থেকে আনন্দ ভিন্ন অন্য কিছু কামনা করবে না। মানুষ তাই সাহিত্য পাঠ করবে স্বেচ্ছায়। অন্যদিকে মানুষকে শিক্ষা দান করতে হয় জোর করে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না।
➤ স্কুলমাস্টাররা যেমন সব বিষয়ই শিক্ষার্থীদের জোর করে বোঝাতে চান, তেমনই উদ্দীপকেও বেলুমামা জোর করে শেখাতে চান। বেলুমামা শিশুদের খেলাধুলা বাদ দিয়ে পড়ালেখা করার কথা বলেন। শিশুরা তখন শিক্ষালাভের বিপরীতে মনের আনন্দে খেলা করার বিষয়টি গ্রহণ করে। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধেও লেখক স্কুলমাস্টারদের সম্বন্দ্বে এই কথাগুলোই বলেছেন। তারাও শিক্ষার্থীদের মনের আনন্দকে প্রাধান্য না দিয়ে জোরপূর্বক পড়ালেখায় ব্যস্ত রাখতে চান। এ দিক থেকে উদ্দীপকের বেলুমামা ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের স্কুলমাস্টারদের একই কাতারে ফেলা যায়।
সারকথা: আচরণ ও মনমানসিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের বেলুমামা ও সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের স্কুলমাস্টার চরিত্র সমতুল্য। উভয়েই জোর করে শিক্ষাকে শিক্ষার্থীদের গলাধঃকরণ করাতে চান।
d
সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্য এবং উদ্দীপকের শিশুদের খেলার উদ্দেশ্য অভিন্ন। এই বিষয়ে যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও।
উত্তর
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্য এবং উদ্দীপকের শিশুদের খেলার উদ্দেশ্য অভিন্ন। মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষকে নির্মল আনন্দদান। এই পৃথিবীতে সাহিত্যের মতো শুধু আনন্দের উদ্দেশ্যে একটা কাজই করা হয়, তা হলো খেলা। খেলার মধ্যে শুধু আনন্দই আছে, অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে মনের আনন্দের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার মতে আনন্দই সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য। সাহিত্যিকরা মনের আনন্দে সাহিত্য রচনা করবেন এবং পাঠক তা পড়ে আনন্দলাভ করবে। উদ্দীপকের শিশুদের খেলায়ও একই উদ্দেশ্য দেখা যায়। শিশুরা মনের আনন্দে খেলা করছে।
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্যের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে লেখক নিছক আনন্দলাভের কথা বলেছেন। উদ্দীপকে শিশুদের খেলায়ও একই উদ্দেশ্য লক্ষ করি। শুধু আনন্দলাভের উদ্দেশ্যেই তারা খেলাধুলায় মগ্ন হয়। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের শিশুদের খেলা থেকে সাহিত্য ও খেলার একটাই উদ্দেশ্য পাই, তা হলো আনন্দলাভ করা। তাই বলা যায়, ‘সাহিতো খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্য এবং উদ্দীপকের শিশুদের খেলার উদ্দেশ্য অভিন্ন। সুতরাং উক্তিটি যুক্তিসংগত ও সঠিক।
সারকথা: সাহিতা ও খেলা উভয়ের উদ্দেশ্যই অভিন্ন, নিছক আনন্দলাভ করা- অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। উর্বীপথের শিপুরাও যেখন শুধু আনন্দলাভের জন্য খেলেছে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধেও তেমনই নিছক আনন্দলাভের জন্যই সাহিত্য রচনার কথা ব্যস্ত হয়েছে।
10
Question 10
খুব জ্ঞানমার্গের বই লেখেন আরিফ আল মাসুদ। তাকে জ্ঞানের একটি আন্ত ভান্ডার বললে অত্যুক্তি হবে না। ২০১১ সালের বইমেলায় তিনি ‘ঈশ্বরবিষয়ক বিচিন্তা’ নামক বই প্রকাশ করেন। কাটতি ভালো ছিল না। ২০১২ সালের ‘পুরোহিতের ধামে’ বইটিও পাঠক সমাদৃত হয়নি। এদিকে তাঁর বন্ধু কল্লোল রহমানের গীতিকবিতার বই ‘সখা হে এলে না’ বইটি বেশ জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করে।
[হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা]
a
সাহিত্য নামক অমৃতে যে আমাদের অরুচি জন্মেছে’ তার জন্য লেখক কাকে দায়ী করেছেন?
b
“কাব্যের ঝুমঝুমি, বিজ্ঞানের চুষিকাঠি, দর্শনের বেলুন, ইতিহাসের ন্যাকড়ার পুতুল” কথাগুলো দিয়ে প্রাবন্ধিক কী বোঝাতে চেয়েছেন? ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের বিষয়গত সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ কোনোরূপ উচ্চ আশা নিয়ে সাহিত্য ক্ষেত্রে উপস্থিত হলে যে নিম্নশ্রেণিতে পড়ে যেতে হয় ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের এই বিষয়গত দিকটির সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
➤ সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, শিক্ষা দান করা নয়। শিক্ষা লোকে নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়। আর কাব্যরস লোকে শুধু স্বেচ্ছায় নয়, সানন্দে পান করে। শিক্ষা দানের উদ্দেশ্যে কোনোকিছু রচনা করলে তা পাঠক সমাজে সমাদৃত হয় না।
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক সাহিত্য সৃষ্টির মূল্য উদ্দেশ্যের কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য সবাইকে আনন্দ দেওয়া। তিনি এও বলেছেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনকে বিশ্বের খবর জানানো, আর সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো। উদ্দীপকের আরিফ আল মাসুদের জ্ঞানমার্গের বই বইমেলায় ভালো কাটতি হয় না। অথচ তারই বন্ধু কল্লোল রহমানের গীতিকবিতার বই বেশ জনপ্রিয়তা পায়। কারণ আরিফ আল মাসুদ শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে গ্রন্থ রচনা করেছেন বলে তার বই জনপ্রিয়তা পায়নি। শিক্ষা দানের উদ্দেশ্যে সাহিত্য রচনা করলে তা উৎকৃষ্ট হয় না। এই বিষয়টি প্রবন্ধের অন্যতম বিষয়।
সারকথা: শিক্ষা দান নয় বরং আনন্দদানের উদ্দেশ্যেই সাহিত্য সৃষ্টি করতে হয়। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের এই বিষয়গত দিকটির সাথে উদ্দীপকটির বেশ মিল আছে।
d
“উদ্দীপকটিতে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সারার্থ প্রতিফলিত।”- মন্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ কর।
উত্তর
➤ “উদ্দীপকটিতে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সারার্থ প্রতিফলিত হয়েছে।”- কথাটি যথার্থ।
➤ সাহিত্য সৃষ্টি বিশ্ব সৃষ্টির অনুরূপ, সেই সৃজনের মূলে কোনো অভাব দূর করার অভিপ্রায় নেই। সেই সৃষ্টির মূল অন্তরাত্মার স্ফূর্তি এবং তার ফল আনন্দ। আনন্দদান ব্যতিরেকে যে শিক্ষা দানের জন্য সাহিত্য সৃষ্টি করেন তাকে নিম্ন শ্রেণিতে পড়ে যেতে হয়।
➤ উদ্দীপকের আরিফ আল মাসুদ মানুষকে শিক্ষা দানের জন্য বই লেখেন বলে তাঁর বই জনপ্রিয়তা পায় না। অথচ কল্লোল রহমান আনন্দদানের জন্য সহজ কথায় গীতিকবিতার বই প্রকাশ করেছেন বলে পাঠক মহলে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধেও লেখক সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য নিছক আনন্দদান; শিক্ষা দান করা নয়। উদ্দীপকে এই দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বিভিন্নভাবে আলোচনা করে বলেছেন- সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, শিক্ষা দান করা নয়। তারপরও কোনো রূপ উচ্চ আশা নিয়ে সেই ক্ষেত্রে উপস্থিত হলেও নিম্নশ্রেণিতে পড়ে যেতে হবে। প্রাবন্ধিক বাল্মীকির রামায়ণ ও যোগবশিষ্ঠ রামায়ণের কথা বলেছেন বিষয়টি বোঝানোর জন্য। উদ্দীপকেও এটার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বিভিন্নভাবে আলোচিত হয়েছে- আনন্দদানই সাহিত্যের উদ্দেশ্য, শিক্ষা দান নয়। শিক্ষা দানের জন্য যদি কেউ সাহিত্য রচনা করে তবে তাকে নিম্নশ্রেণিতে পড়তে হবে- যার প্রমাণ উদ্দীপকে পাওয়া যায়।
11
Question 11
নিজেকে প্রকাশ করার আগ্রহ মানুষের চিরকালের। হৃদয়ের ভিতরকার অনুভূতিগুলো নানা উদ্দীপনায়, অনুকরণগুলো নানা মাধ্যমে সাজিয়ে সুন্দর করে প্রকাশ করার এই ব্যাপারটি পরিচিতি পেয়েছে শিল্পকলা নামে। মানুষ কথায়, সংগীতে, চিত্রে, ভাস্কর্যে নানা মাত্রায় তার মহৎ ভাবনাগুলোকে হৃদয়ের মধ্যে মিশিয়ে প্রকাশ করে। সুখ-দুঃখ, বিরহ-মিলন, দ্রোহ, সংক্ষোভ, নানা মাত্রিক হৃদয়ানুভূতির এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশে সে নিজে যেমন অসীম আনন্দ পায়, আবার অন্যকেও আনন্দ দেয়।
[ঢাকা কমার্স কলেজ; ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ]
a
প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম কী?
b
মনোরঞ্জন আর আনন্দের মধ্যে পার্থক্য কতটুকু?
c
অনুচ্ছেদের বক্তব্যটি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সঙ্গে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ অনুচ্ছেদের বক্তব্যটি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে আনন্দদানের বিষয়টির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ সাহিত্যের জগৎ নিছক আনন্দের জগৎ। মানুষ স্বেচ্ছায় ও আনন্দে এ জগতে বিচরণ করে। একমাত্র আনন্দের জন্যই সাহিত্য রচনা করা উচিত। সাহিত্যিক নিজেদের এবং অন্যদের আনন্দ দেওয়ার জন্য সাহিত্য রচনা করে থাকেন।
➤ উদ্দীপকে বলা হয়েছে, নিজেকে প্রকাশ করার আগ্রহ মানুষের চিরকালের। হৃদয়ের ভিতরকার অনুভূতিগুলো নানা উদ্দীপনায়, অনুকরণগুলো নানা মাধ্যমে সাজিয়ে সুন্দর করে প্রকাশ করার এই ব্যাপারটি পরিচিতি পেয়েছে শিল্পকলা নামে। এই শিল্পকলার প্রধান উদ্দেশ্য আনন্দদান করা। এই বক্তব্যটি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ সাহিত্যের প্রধান উদ্দেশ্য আনন্দদান করা। সাহিত্যিকরা নিজেদের এবং অন্যদের আনন্দের সাগরে ভাসানোর জন্য সাহিত্য রচনা করে থাকেন। প্রমথ চৌধুরী এই আনন্দদানের বিষয়টিকেই সাহিত্যের প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হতে দেখা যায়।
সারকথা: শিল্পীরা নানামাত্রিক শিল্পকলার জন্ম দেন আনন্দ পাওয়ার জন্য, অন্যকিছুর জন্য নয়। তেমনই সাহিত্যিকরা নিজেদের এবং অন্যদের আনন্দদান করার জন্য সাহিত্য রচনা করে থাকেন।
d
“পৃথিবীর শিল্পী মাত্রেই শিল্পের খেলা খেলে থাকেন”- বক্তব্যটি উদ্দীপকটিতে কতখানি প্রতিফলিত হয়েছে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর
➤ “পৃথিবীর শিল্পী মাত্রেই শিল্পের খেলা খেলে থাকেন”- বক্তব্যটি উদ্দীপকটিতে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়েছে বলে আমি মনে করি।
➤ শিল্প-সাহিত্য হচ্ছে এক ধরনের খেলা। খেলার উদ্দেশ্য যেমন নিছক আনন্দদান তেমনই সাহিত্যের উদ্দেশ্যও নির্ভেজাল আনন্দদান, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। শিল্পীরা বিভিন্ন শিল্প সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেরা যেমন আনন্দ পান, তেমনই অন্যদেরকে আনন্দ দিয়ে থাকেন।
➤ উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মানুষ কথায়, সংগীতে, চিত্রে, ভাস্কর্যে নানা মাত্রায় তার মহৎ ভাবনাগুলোকে হৃদয়ের মধ্যে মিশিয়ে প্রকাশ করে। সুখ-দুঃখ, বিরহ-মিলন, দ্রোহ, সংক্ষোভ নানা মাত্রিক হৃদয়ানুভূতির এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশে সে নিজে যেমন অসীম আনন্দ পায়, আবার অন্যকেও আনন্দ দেয়। উদ্দীপকের এই বক্তব্যটি ‘সাহিত্যের খেলা’ প্রবন্ধের “পৃথিবীর শিল্পী মাত্রেই শিল্পের খেলা খেলে থাকেন” তা এই চরণে প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ শিল্পীরা শিল্পের খেলা খেলেন নিজে এবং অন্যকে আনন্দ দেওয়ার জন্য।
➤ সাহিত্যকে তথা শিল্পকে খেলার সঙ্গে তুলনার জন্য ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক রোদ্যার প্রসঙ্গ টেনেছেন। এতে শিল্প- সাহিত্যের আদর্শ ও উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট হয়েছে। কাদামাটি দিয়ে পুতুল তৈরি করে তিনি নিজে যেমন আনন্দ পেয়েছেন তেমনই অন্যকেও আনন্দদান করেছেন। শুধু রোদ্যা নন, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ও প্রকৃত শিল্পী মাত্রেই এই খেলা খেলে থাকেন। যার সম্পূর্ণ প্রতিফলন উদ্দীপকে দেখতে পাই। এই বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি আমার কাছে যথার্থ।
সারকথা: শিল্পীরা নানা শিল্পের খেলা করে নিজে যেমন আনন্দ পান তেষনই অন্যদেরকে আনন্দদান করেন। উদ্দীপকের এই বিষয়টি প্রবন্দের প্রতিফলিত হয়েছে। রোদ্যা কাদামাটির শিল্প তৈরি করে নিজে যেমন আনন্দ পেয়েছেন, তেমনই অন্যদেরকেও আনন্দদান করেছেন। পৃথিবীর সব শিল্পীই এই কাজটি করে থাকেন।
12
Question 12
এখন আমাদের বাঙলা সাহিত্যে স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করিতে হইলে সর্বপ্রথম আমাদের লেখার জড়তা দূর করিয়া তাহাতে ঝর্ণার মতো ঢেউভরা চপলতা ও সহজ মুক্তি আনিতে হইবে। যে সাহিত্য জড়, যাহার প্রাণ নাই, সে নির্জীব-সাহিত্য দিয়া আমাদের কোনো উপকার হইবে না। আর তাহা স্থায়ী সাহিত্যও হইতে পারে না।
a
বিশ্ববিখ্যাত ফরাসি ভাস্কর রোঁদ্যার প্রকৃত নাম কী?
b
সাহিত্যকে লেখক কেন খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্যের দিকটি উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে।
➤ সাহিত্য হলো সমাজের দর্পণ। সাহিত্যের মধ্য দিয়ে একটি সমাজ ও জাতির রূপ ফুটে ওঠে। যাই সাহিত্যকে আপন গতিতে চলতে দেওয়া উচিত। সেখানে জোরজবরদস্তি করলে সাহিত্য তার নিজস্বতা হারায়।
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যের উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত সে সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। লেখকের মতে সাহিত্যের উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে সবাইকে আনন্দ দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। সমাজের কারও মনোরঞ্জ করতে গেলে সাহিত্য হয়ে পড়ে স্বধর্মচ্যুত। লেখক বলেন সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো মানুষের মনে সাড়া জাগানো। উদ্দীপবেও সাহিত্যের এরূপ উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে- যে সাহিত্য জড়, যার প্রাণ নেই সেই সাহিত্য কোনোউপকারে আসবে না। এখানে মূলত সাহিত্যের উদ্দেশ্যের দিকটিই প্রতীয়মান হয়েছে। মূলত এভাবেই উদ্দীপকে আলোচ্য প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্যের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
সারকথা: উদ্দীপকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। ‘সাহিত্যের খেলা’ প্রবন্ধেও ব্যিয়টি রয়েছে। মূলত এদিক থেকেই পরস্পর সাদৃশ্যমান।
d
“উদ্দীপকের বিষয়টি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের খন্ডাংশমাত্র” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
➤ “উদ্দীপকের বিষয়টি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের খন্ডাংশমাত্র” মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ সাহিত্য হলো সাহিত্যিকের নির্মল মনের ভাবনার প্রকাশ। সেখানে কোনো উদ্দেশ্য থামে না। যদি কোনো সাহিত্যিক উদ্দেশ্যপ্রসূত সাহিত্য রচনা করতে বসেন তাহলে সেই সাহিত্য যথার্থ সাহিত্য হয় না।
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যকে খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। খেলাধুলায় যেমন নছক আনন্দই প্রধান, সাহিত্যেও তাই। খেলাধুলার প্রধান উদ্দেশ্য যেমন আনন্দ দান তেমনই সাহিত্যেরও প্রধান উদ্দেশ্য আনণ দান। লেখক সাহিত্যের এরকম উদ্দেশ্যের পাশাপাশি মানুষের স্বেচ্ছায় সাহিত্য পাঠ করা, সাহিত্যের রস আস্বাদন করা, পাঠনের মনের আনন্দানুভূতি এরূপ নানা বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। পক্ষান্তরে উদ্দীপকে দেখা যায়, সাহিত্যের উদ্দেশ্য কী এং সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য কেমন হওয়া উচিত সেই দিকটি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
➤ উদ্দীপকে সাহিত্য কেমন হওয়া উচিত সেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যা আলোচ্য প্রবণের সঙ্গে মিলে যায়। কিন্তু ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের শিক্ষা ও সাহিত্যের মধ্যে পার্থক্য, সাহিত্যকে খেলার সঙ্গে তুলনা কর ইত্যাদি বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বিষয়টি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের খন্ডাংশমাত্র।
সারকথা: আলোচ্য প্রবন্ধে সাহিত্যের উদ্দেশ্য ও বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি সাহিত্যের রস আাদন, ব্যক্তি হৃদয়ের আনন্দানুকৃতি, সাহিত্য ও শিক্ষার পার্থক্য- এরূপ নানা বিষয় আছে। কিন্তু উদ্দীপকে এসব বিষয় নেই। তাই প্রশ্নোক্ত মর্যটি যথার্থ।
13
Question 13
কাজী মোতাহের হোসেনের মতে, “মানুষের প্রচেষ্টায় মানুষের জন্যই যে সাহিত্য রচিত হয় তাহা যদি মানবহিত এবং মানবসভাতার ক্রমোন্নতির দিকনির্দেশ না করে তবে বড়ই আক্ষেপের কথা।” সুতরাং বিষয়টি পরিষ্কার যে, মানুষ ভালো হবে, মানুষ ভালো করবে এটাই স্বাভাবিক দাবি। সুতরাং মানুষের সাহিত্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করবে এটাও স্বাভাবিক।
a
‘সাহিতো খেলা’ প্রবন্ধে ‘ইতর’ শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
b
“শিল্পী মাত্রেই এই শিল্পের খেলা খেলে থাকেন” ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো- সাহিত্যের উদ্দেশ্যের বিষয়টি তুলে ধরা।
➤ সাহিত্য হলো লেখকের নির্মল মনের ভাবনার প্রকাশ। সাহিত্য পাঠ করে পাঠক নির্মল আনন্দই লাভ করে। সাহিত্যিক যদি কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্য রচনা করেন তাহলে সেখানে আনন্দ থাকে না।
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যের উদ্দেশ্যের দিকটি আলোকপাত করেছেন। লেখকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে সবাইকে আনন্দ দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য হয়ে পড়ে স্বধর্মচ্যুত। লেখক মূলত সাহিত্যের উদ্দেশ্য হিসেবে বলেছেন নিছক আনন্দ দানের কথা। উদ্দীপকেও দেখা যায়, কাজী মোতাহের হোসেন সাহিত্যের উদ্দেশ্যের কথাই বলেছেন। তিনি সাহিত্যের উদ্দেশ্যের স্বরূপ বলেছেন মানবকল্যাণ। প্রাবন্ধিক ও উদ্দীপকের লেখক দুজনের বর্ণনায়ই সাহিত্যের উদ্দেশ্যের দিকটিই প্রধান হয়ে উঠেছে। এভাবেই স্যাহিত্যের উদ্দেশ্যের বর্ণনার দিক থেকে উদ্দীপকটি প্রবন্ধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: প্রবন্ধে সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে আনন্দ দান। আর উদ্দীপকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে মানবকল্যাণ। উভয় স্থানেই সাহিত্যের উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়েছে। মূলত এই দিকটিই সাদৃশ্যপূর্ণ।।
d
“সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের বিষয়টি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের পুরো বিষয়কে নির্দেশ করে না।” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
➤ “সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের বিষয়টি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের পুরো বিষয়কে নির্দেশ করে না।” মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ সাহিত্য ও শিক্ষার মধ্যে একটা পার্থক্য রয়েছে। শিক্ষা মানুষ জোর করে গ্রহণ করে, অন্যদিকে সাহিত্য মানুষ পাঠ করে মনের আনন্দে। সাহিত্য পাঠে ব্যক্তির চিন্তার ক্ষেত্র তৈরি হয়। পাঠক নির্মল আনন্দ লাভ করে।
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যকে খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। খেলার উদ্দেশ্য যেমন নিছক আনন্দ লাভ তেমনই সাহিত্যের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আনন্দ লাভ করা। যদি কারও মনোরঞ্জনের জন্য সাহিত্য রচিত হয় তাহলে সেই সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে। প্রাবন্ধিক এরূপ সাহিত্যের উদ্দেশ্য বর্ণনার পাশাপাশি প্রবন্ধে পাঠকের সাহিত্য পাঠে রস আস্বাদনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এছাড়াও সাহিত্য পাঠ কীভাবে মানবমনে সাড়া জাগায় সে সম্পর্কেও আলোচনা রয়েছে। এদিকে উদ্দীপকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানবকল্যাণ এরূপ বলা হয়েছে, যা প্রবন্ধের সাহিত্যের উদ্দেশ্যের দিকটি ইঙ্গিত করে মাত্র।
➤ উদ্দীপকে সাহিত্য মানবকল্যাণ নিশ্চিত করবে এরূপ বর্ণনায় কেবল আলোচ্য প্রবন্ধের সাহিত্যের উদ্দেশ্যের দিকটি ফুটে উঠেছে। এছাড়া প্রবন্ধে আলোচিত সাহিত্যের সঙ্গে পাঠকের কীরূপ সম্পর্ক, আনন্দ লাভ এসব বিষয় উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকে কেবল সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাহিত্যের উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যান্য বিষয় নেই। তাই বলা যায়, প্রশ্নোত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
14
Question 14
করিম সাহেবের সৃষ্ট সাহিত্যজগৎ এখন সংকীর্ণতার গাঢ় ছায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেছে। তাঁর সৃষ্টিকর্ম এখন আর বিশ্বমানবের মনের সকো নিতানতুন সম্বন্ধ পাতানোর উদারতা দেখায় না। তাঁর সাহিত্যের রঙ্গমঞ্চে এক নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জীবনালেখ্য মধ্যস্থ হয়। যাঁরা নিজেদের মনন্তুষ্টির বিনিময়ে করিম সাহেবকে মেকি প্রশংসাপূর্ণ পারিশ্রমিক দেন। আর এতেই খুশি হয়ে তিনি সাহিত্যের মর্মবাণীকে অগ্রাহ্য করে ঐ বিশেষ শ্রেণির মনোরঞ্জনের জন্য তাঁর অমূল্য সৃজনশক্তিকে নিয়োগ করেন।
a
উপরি পাওয়া’ বলতে কী বোঝায়?
b
“সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, শিক্ষা দান করা নয়।”- ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকের করিম সাহেবের সাথে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের বৈসাদৃশ্য কোথায়? আলোচনা কর।
উত্তর
➤ উদ্দীপকের করিম সাহেবের সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্যের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
➤ সাহিত্য হলো ব্যক্তিমনের আনন্দের খোরাক। সাহিত্য ব্যক্তিকে অচেনা জগৎ থেকে ঘুরিয়ে আনে। তবে সব সাহিত্যের এমন গুণ থাকে না। সাহিত্য যখন কারও মনোরঞ্জনের জন্য রচিত হয় তখন সেটি তার সাহিত্যগুণ হারায়।
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী সাহিত্য সৃষ্টির উদ্দেশ্য, কারণ, প্রভাব ইত্যাদি উল্লেখ করতে গিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সাহিত্যিকের নানা গুণ ব্যক্ত করেছেন। সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো খেলার ছলে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। কোনোকিছুর পাওয়ার আশায় যদি সাহিত্য রচিত হয় তবে তা ধর্মচ্যুত হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, করিম সাহেব সাহিত্য রচনা করেন বিশেষ একশ্রেণির লোকের মনোরঞ্জনের জন্য। সাহিত্য রচনাকে তিনি টাকা উপার্জনের উৎস হিসেবে ধরে নিয়েছেন। এজন্য তাঁর রচনা সাহিত্যের পর্যায়ে পড়ে না। কেননা সাহিত্যের উদ্দেশ্য তা নয়। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য শুধু নির্মল আনন্দ দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। আনন্দকে বাদ দিয়ে কারও মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে সাহিত্য রচিত হলে তা প্রকৃত সাহিত্য হবে না। এই দিক থেকে উদ্দীপকের করিম সাহেবের সাথে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
সারকথা: সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক বলেছেন সাহিত্যের কাজ হচ্ছে নির্মল আনন্দ দান ছাড়া অ অন্য কিছুই নয়। কিন্তু উদ্দীপকের করিম উপার্জনের উদ্দেশ্যে লেখেন, এই। ক্ষেত্রেই প্রবন্ধের সাথে অমিল লক্ষণীয়।
d
“উদ্দীপকের করিম সাহেবের সৃষ্ট সাহিত্য ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধ অনুসারে উৎকৃষ্ট সাহিত্যজগৎ থেকে ছিটকে পড়েছে।” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
➤ “উদ্দীপকের করিম সাহেবের সৃষ্ট সাহিত্য ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধ অনুসারে উৎকৃষ্ট সাহিত্যজগৎ থেকে ছিটকে পড়েছে।” মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ উৎকৃষ্ট সাহিত্য থেকে ধনী-গরিব, ব্রাহ্মণ-শূদ্র সকলেই আনন্দ লাভ করতে পারে। সাহিত্য কোনো বিশেষ শ্রেণির মনস্কৃষ্টির জন্য রচিত হয় না, হওয়া উচিতও নয়। তাহলে সাহিত্য নিজ ধর্ম থেকে ছিটকে পড়বে। সাহিত্যের কাজ শুধুই আনন্দ দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়।
➤ উদ্দীপকের করিম সাহেব লেখালেখি করেন। তাঁর রচিত রচনাগুলো সমাজের এক নির্দিষ্ট শ্রেণির মনস্তুটির জন্য রচিত। তাদের বাহবা পাওয়া এবং তার মাধ্যমে অর্থ অর্জন করা করিম সাহেবের লক্ষ্য। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধ অনুসারে আনন্দ দান ছাড়া সাহিত্যের অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। যদি থাকে তবে সেটা সাহিত্যের পর্যায়ে পড়বে না। ধর্মচ্যুত হয়ে পরিণত হবে জুয়াখেলায়।
➤ খেলার আনন্দ যেমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়, তেমনই সাহিত্যও কোনো উদ্দেশ্যে রচিত হলে তার নিজস্ব গতিপথ হারাবে। উদ্দীপকের করিম সাহেব সমাজের বিশেষ একশ্রেণির জন্য লেখেন। এজন্য তাঁর লেখা সাহিত্যের পর্যায় পড়ে না। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বলেছেন, সাহিত্য জগৎ নির্মল আনন্দের জগৎ। এদিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আনন্দ দান করা, অন্য কিছুই নয়। কিন্তু উদ্দীপকের করিম সাহেব অর্থ উপার্জনের এবং মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে সাহিত্য রচনা করেন, এজন্য তাঁর সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত।
15
Question 15
সাহিত্য হচ্ছে সৃজনশীল মনের তরঙ্গায়িত কথামালার লিখিত গাঁথুনি। মনের উল্লাসে সাহিত্যিকরা সাহিত্য রচনা করে গেছেন। আর সাহিতোর পরশে যার মন দোলায়িত হয় তিনি আপনাআপনিই সাহিত্য পড়বেন। মূলত সাহিত্য হচ্ছে একধরনের মনের খেলা। বাস্তব জীবনের বাস্তব খেলা। এ খেলায় শুধু সাহিত্যে নিবেদিতপ্রাণ খেলোয়াড়ই পরশ নিবেন। কিন্তু বর্তমানে এর উল্টোটাই দেখা যায়। যার মধ্যে সাহিত্য ভাবনার ছিটেফোঁটাও নেই, তাকেও সাহিত্য গেলানো হয়। ফলে স্বভাবতই সাহিত্যের মতো উন্নত বিষয়ের প্রতি তার অরুচি ও বিতৃষ্ণা জন্মে।
a
পুতুল গড়া কার খেলা?
b
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে জীবাত্মা ও পরমাত্মার মধ্যকার সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের কোন অংশের সাদৃশ্য বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের শেষ অংশের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
➤ সাহিত্য হলো সমাজের দর্পণ। সাহিত্যের মধ্য দিয়ে সমাজের চিত্র ফুটে ওঠে। সাহিত্য সব সময় ব্যক্তিমনে আনন্দ দান করতে পারে না। কারণ সাহ্যিরসে সিক্ত হতে সবাই পারে না।
➤ উদ্দীপকে সাহিত্যরসে অরুচির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধেও কাব্যরসে অরুচির ব্যাপারটা দেখতে পাই। প্রবন্ধের শেষ অংশে এই বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। সাধারণত সাহিত্য হলো পড়ার ও বোঝার জিনিস; পড়ানোর বা বোঝানোর জিনিস নয়। কিন্তু আমাদের স্কুল মাস্টাররা সাহিত্য পড়ান ও বোঝান। এতে শ্রোতাদের সাথে কবিমনের মিল তো দূরে থাক, কবির কাব্য বা সাহিত্যিকের সাহিত্যও তাদের দৃষ্টিগোচর হয় না। ফলে সাহিত্য আনন্দের বন্ধু না হয়ে তাদের কাছে বিতৃষ্ণার বস্তু হিসেবে বিবেচিত হয়। মূলত এর জন্য দায়ী আমাদের সমাজের শিক্ষকরা। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের এ বিষয়টির সঙ্গে উদ্দীপকের আলোচনার পুরোপুরি সাদৃশ্য বিদ্যমান।
সারকথা: উদ্দীপকে সাহিত্যের সংজ্ঞা ও সাহিত্যের প্রতি অরুচি সৃষ্টি হওয়ার কারণ আলোচিত হয়েছে। এর সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্দের শেষের অংশের মিল রয়েছে। কারণ এখানে একই বিষয়ে আলোচনা রয়েছে।
d
উদ্দীপকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের বিশেষ দুটি দিকের প্রতিফলন ঘটেছে, পুরো অংশ নয়। মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
উত্তর
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের মূলভাবের বিশেষ দুটি দিক উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে, তা হচ্ছে সাহিত্য ও সাহিত্যের বর্তমান অবস্থা।
➤ সাহিত্য মানবমন থেকে উৎসারিত শিল্পকর্ম। সাহিত্য মনের আনন্দে আপনিই প্রকাশিত হয়। এর প্রকৃত রসাস্বাদন করতে হলে মনের আনন্দেই করতে হয়। জোর করে বা হাজারো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে সাহিত্যরসের উদ্রেক করা যায় না, বরং তা কঠিন মনে হয়।
➤ উদ্দীপকে সাহিত্যের দুটি দিক উপস্থাপিত হয়েছে। সাহিত্য হলো সৃজনশীল মনের তরঙ্গায়িত কথামালার লিখিত রূপ। এর জন্য কোনো নিয়ম বা নীতি নেই। সাহিত্যিকরা মনের উল্লাসে রচনা করেছেন সাহিত্য। মনের ইচ্ছায় মানুষ সাহিত্যকে কাছে টানবে, সাহিত্যরসে হৃদয়কে তৃপ্ত করবে। বর্তমান সময়ে হচ্ছে তার সম্পূর্ণ উল্টোটা। আনাড়ি সাহিত্যিকরা পাঠকের মনের ভুলের জন্যই সস্তা সাহিত্য সৃষ্টি করে থাকে। অথচ সাহিত্য কারও মনোরঞ্জনের বিষয় নয়; বরং সাহিত্য হচ্ছে পড়া, বোঝা ও হৃদয়ঙ্গম করার বিষয়। অন্যদিকে বর্তমান সময়ে আমাদের স্কুলমাস্টাররা যেভাবে সাহিত্য পড়ানোর ভার গ্রহণ করেছেন তাতে ছাত্ররা আনন্দহীন বেত্রাঘাতের মতোই সাহিত্যকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে।
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্যের প্রতি আমাদের অরুচির কারণ দর্শানো হয়েছে। আর ‘শিল্পী’ চরিত্রের মাধ্যমে সাহিত্যিকের সাবলীলতা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শিল্প যেমন শিল্পীর হাতেই শুধু মানায়, অন্যের হাতে আনাড়ি হয়ে পড়ে, সাহিত্য তেমনই সাহিত্যিকের কাছেই মানায়, সাধারণ মানুষ সাহিত্য গড়তে গেলে আনাড়ি, সাহিত্যই সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে শিক্ষকের কারণে ছাত্ররা সাহিত্যকে উপদ্রব ভাবতে শুরু করেছে। উদ্দীপকে ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের এ দুটি দিক স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের মূলভাবের বিশেষ দুটি দিক ফুটে উঠেছে।
সারকথা: উদ্দীপকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের মূলভাবের বিশেষ দুটি দিক ফুটে উঠেছে। প্রথমটা হলো সাহিত্যের সংজ্ঞা আর দ্বিতীয়টা হলো বর্তমান সময়ে সাহিত্যরসের প্রতি আমাদের অরুচির কারণ। মূলত সাহিত্য হলো স্বতঃস্ফূর্ত মনের জন্য আনন্দের বিষয়। কিন্তু জোর করে পড়ানো ও বোঝানোর জন্য সাহিত্যের সৃষ্টি হয়নি।
16
Question 16
আকবর হাসান একজন সরকারি চাকরিজীবী। অফিসের কাজের পাশাপাশি বাড়িতে তিনি আরেকটা কাজ নিয়মিত করেন, তা হলো লেখালেখি। সাহিত্যপাগল আকবর হাসান কবিতা ও ছোটগল্প লেখেন। তার লেখা কোনো কবিতা বা ছোটগল্প এখন পর্যন্ত কোথাও প্রকাশিত হয়নি। তার পরিবার, অফিস, বন্ধুবান্ধব কারও কাছ থেকে তিনি প্রশংসা পাননি। সবাই তার লেখাকে অত্যন্ত সাধারণ মানের উল্লেখ করে লেখালেখি করতে নিষেধ করেন। কিন্তু আকবর হাসান এতে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত না করে নিজ আনন্দে লিখে চলেছেন।
a
প্রমথ চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস কোথায়?
b
স্কুলঘরে আমরা কাব্যের রূপ দেখতে পাইনে”- প্রমথ চৌধুরী কেন এই অভিযোগ করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকের আকবর হাসানের মধ্যে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যিকের কোন গুণ বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ উদ্দীপকে উল্লিখিত আকবর হাসানের মধ্যে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত সাহস ও মনের আনন্দে সাহিত্য সৃষ্টি করার গুণাবলি বিদ্যমান।
➤ সাহিত্য সৃষ্টি করার জন্য সাহিত্যিকের কিছু গুণ থাকতে হয়। সাহিত্যিক যা রচনা করবেন তা হবে মনের আনন্দে এবং আনন্দদানের জন্য। কারও মনোরঞ্জনের জন্য সাহিত্য সৃষ্টি করলে তা হবে সাহিত্যের ধর্মচ্যুত।
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক সাহিত্য সৃষ্টির উদ্দেশ্য, কারণ ইত্যাদি উল্লেখ করতে গিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সাহিত্যিকের নানা গুণ ব্যস্ত করেছেন। প্রথমতই সাহিত্যিককে সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য সম্বন্দ্বে অবহিত থাকতে হবে। আনন্দই সাহিত্য রচনার প্রধান উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্য পূরণ করার জন্য সাহিত্যিকের নিজের মনে আনন্দ থাকতে হবে; সাহিত্য রচনার সাহস ও ক্ষমতা থাকতে হবে। উদ্দীপকের আকবর হাসান সাহিত্য রচনা করছেন মনের আনন্দে। সাহিত্য সৃষ্টির জন্য মূল যে গুণাবলি প্রয়োজন আকবর হাসানের মধ্যে তা বিদ্যমান।
সারকথা: সাহিত্যিক সাহিত্য রচনা করবেন। নিজ আনন্দে। কেউ প্রশংসা করুক বা না করুক, তিনি এই কাজ থেকে কখনো পিছপা হবেন না।
d
“সাহিত্যিকের মনের আনন্দই সাহিত্য রচনার প্রধান উপাদান- উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের এটিই মূল সুর।” মন্তব্যটির যথার্থতা নির্ণয় কর।
উত্তর
➤ “সাহিত্যিকের মনের আনন্দই সাহিত্য রচনার প্রধান উপাদান- উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের এটিই মূল সুর।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ সাহিত্যের উদ্দেশ্য কারও মনোরঞ্জন নয়, আনন্দদান। আনন্দকে বাদ দিয়ে মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে সাহিত্য রচিত হলে তা প্রকৃত সাহিত্য হবে না। সাহিত্যের অবশ্যই প্রধান উদ্দেশ্য হবে আনন্দ। প্রধানত সাহিত্যিকের নিজের আনন্দ।
➤ উদ্দীপকের আকবর হাসানের ক্ষেত্রে আমরা দেখি, তিনি একজন সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও সাহিত্য রচনায় ব্রতী হয়েছেন। তিনি কোনোরূপ অর্থ উপার্জনের বা কারও মনোরঞ্জনের ইচ্ছা ছাড়াই শুধু মনের আনন্দে সাহিত্য রচনা করে যাচ্ছেন। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিকও একই বিষয় তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, সাহিত্য রচনার প্রধান উদ্দেশ্যই হলো আনন্দদান।
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের ঘটনা উভয় ক্ষেত্রেই আমরা যে বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখতে পাই তা হলো সাহিত্যিকের নিজের আনন্দ। সাহিত্যিক পাঠককে আনন্দদানের জন্য লিখবেন। তবে তার আগে ওই সাহিত্য সৃষ্টির ব্যাপারে সাহিত্যিকের নিজের মনে আনন্দ থাকতে হবে। নিজে যদি সাহিত্য রচনা করে আনন্দ না পান তাহলে তিনি যা লিখবেন তা হবে অর্থোপার্জনের উদ্দেশ্যে। এই লেখা আর যাই হোক, সাহিত্য নয়। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধেও উদ্দীপকের ঘটনা আমাদের সামনে এই সত্যটিকেই মূর্ত করে তোলে। তাই বলা যায়, “সাহিত্যিকের মনের আনন্দই সাহিত্য রচনার প্রধান উপাদান- উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের এটিই মূল সুর” উক্তিটি যথার্থ।
সারকথা: যেখানে স্রষ্টার আনন্দ নেই সেখানে মহৎ সৃষ্টি নেই। সাহিত্যসৃষ্টির ক্ষেত্রেও তাই সাহিত্যস্রষ্টার মনের আনন্দই রচনার প্রধান উপাদান হিসেবে কাজ করে।
17
Question 17
একাদশ শ্রেণির ছাত্র শিহাব। সে পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্যান্য বই প্রচুর পরিমাণে পড়ে। কবিতার বইয়ের প্রতি তার প্রচন্ড আগ্রহ। বিখ্যাত-অখ্যাত সব কবির বই-ই সে পড়ে। কবিতা শিহাবের সবচেয়ে প্রিয় হলেও পাঠ্যবইয়ের কবিতা তার একদমই ভালো লাগে না। অথচ একই কবিদের বই যখন সে একা একা পড়ে তখন অনেক ভালো লাগে।
a
কোন স্থানের বক্তৃতার উদ্দেশ্য অতি মহৎ?
b
“পাঠকসমাজ যে খেলনা আজ আদর করে, কাল সেটিকে ভেঙে ফেলে” ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের কোন দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে?- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ উদ্দীপকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত মাস্টারদের শিক্ষা দান পদ্ধতির আলোচনার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
➤ পাঠক সাহিত্য পড়ে কবিতার রস আস্বাদন করার জন্য। অন্য কোনো কারণ এতে জড়িত নয়। অন্য কোনো বিষয় যদি এতে যুক্ত হয় তখন তা তার কাছে ভালো লাগার পরিবর্তে তেতো হয়ে যায়।
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক বর্তমান স্কুলমাস্টারদের পড়ানোর পদ্ধতির সমালোচনা করেছেন। তারা যেকোনো রচনাকে টীকা-ভাষ্য, নিগূঢ় তত্ত্ব উদঘাটন ইত্যাদির মাধ্যমে অত্যধিক জটিল করে তোলেন। এরপর শিক্ষার্থীকে তা গলাধঃকরণ করান যা পরে পরীক্ষার খাতায় উদগিরণ করতে হয়। শিক্ষার্থী কবিতার রস আস্বাদনের পরিবর্তে বিচার-বিশ্লেষণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে সে কবিতা পাঠ করে কোনো আনন্দলাভ করে না। উদ্দীপকের শিহাব একজন ছাত্র। তার মধ্যেও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের এই কারণগুলো কাজ করাটাই স্বাভাবিক। এজন্যই শিহাব কবিতার একান্ত ভক্ত হলেও পাঠ্যবইয়ের কবিতা তার কাছে বিরক্তিকর। এভাবেই ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে মাস্টারদের শিক্ষা দান পদ্ধতি উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: কাব্য মানুষের আনন্দের জন্য। এর মাঝে অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করলে ওই আনন্দটা বিরক্তিতে রূপ নেয়। শিহাবের কাছেও তাই পাঠ্যবইয়ের কবিতা ভালো লাগে না।
d
“উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ উভয়ের মূল বিষয়বস্তু সাহিত্য আনন্দদানের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে, শিক্ষা দানের জন্য নয়।”- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
উত্তর
➤ “উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ উভয়ের মূল বিষয়বস্তু সাহিত্য আনন্দদানের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে, শিক্ষা দানের জন্য নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ আনন্দদান ও শিক্ষা দান দুটি আলাদা বিষয়। আনন্দলাভে সবাই উৎসুক থাকে কিন্তু শিক্ষালাভে ঠিক তার উলটো। কেউ সহজে শিক্ষালাভ করতে চায় না। কিন্তু আনন্দলাভের জন্য কোনো কারণ লাগে না, এমনিতেই মানুষ তা পেতে চায়। আর মানুষকে আনন্দদানের গুরুদায়িত্বটি নেয় সাহিত্য।
➤ উদ্দীপকের শিহাব নিয়মিত কাব্য পাঠ করছে এবং আনন্দলাভ করছে। যখনই এই কাব্য তার শিক্ষার উপকরণ হচ্ছে তখনই আনন্দ তার কাছ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যের এই দিকটিই তুলে ধরেছেন। সাহিত্যের উদ্দেশ্য হবে আনন্দদান, শিক্ষা দান নয়।
➤ যেকোনো বিষয় থেকেই মানুষ শিক্ষালাভ করতে পারে। হতে পারে তা খেলা কিংবা সাহিত্য। কিন্তু এই শিক্ষা ওই বিষয়টির উদ্দেশ্য নয়, সহায়ক মাত্র। সাহিত্যে আছে শুধু নির্মল আনন্দ। এজন্য মানুষ নিজের মনের আনন্দে সাহিত্য পাঠ করে। কিন্তু শিক্ষালাভ করে অতি কষ্টে, অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে। উদ্দীপকের শিহাবের ক্ষেত্রে আমরা এই অবস্থাটি হুবহু দেখতে পাই। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধেও লেখক স্পষ্টভাবে এই সত্যটিই দেখিয়ে দেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্য আনন্দদানের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে, শিক্ষাদানের জন্য নয়।
সারকথা: সাহিত্য থেকে শিক্ষালাভ করা গেলেও তা সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য নয়, তা উপরি পাওয়া। আনন্দদানই সাহিত্য রচনার মূল উদ্দেশ্য। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে সঠিক ও যথার্থ বলা যায়।
18
Question 18
বর্তমানে নব্য কবি-লেখকদের হিড়িক পড়ে গেছে বাজারে। যেহেতু কবিসাহিত্যিকরা মানুষের কাছে শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্র, তাঁদের সুনাম জগৎজোড়া, তাই অনেকেই এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না। সাহিত্যকে না বুঝে সাহিত্যের মর্মে প্রবেশ না করে কিছু একটা লিখেই নামের আগে গর্বিতভাবে কবিসাহিত্যিক যোগ করে থাকেন। তার পরে সাহিত্যচর্চার বদলে দু-একটা বই বগলে করে কবিসাহিত্যিক পদবির প্রচার ঘটাতেই তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অথচ সাহিত্যের যারা সত্যিকারের সাধক, প্রকৃত বিজয়মাল্য তাদের গলায়ই শোভা পায়, বেশধারী সাহিত্যিকদের গলায় নয়।
a
প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
b
“কারও মনোরঞ্জন করা সাহিত্যের কাজ নয়।”- ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ নাম প্রচারের জন্য সাহিত্য রচনার সমালোচনার দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাদৃশ্য রয়েছে।
➤ সাহিত্য রচনা করতে চাইলে সাহিত্যের উদ্দেশ্য ও প্রকৃতি সম্বন্ধে ধারণা থাকতে হবে। কারও মনোরঞ্জনের আশায় সাহিত্য রচনা করলে তা সফল হয় না।
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে উদ্দীপকের বিষয় সম্পর্কিত আলোচনা রয়েছে। কবি-সাহিত্যিক মাত্রই মানুষের প্রশংসা কুড়ানোর আশা পোষণ করেন। একথা সত্য। এখানে হাততালি পাওয়ার একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। কবিমনের কাজ হচ্ছে বিশ্বমানবতার সম্পর্কে কবিতার রূপরেখার সাদৃশ্য ঘটানো, মনের নিঃসৃত কথামালা সেটা ঘটাতে সাহায্য করে। সেই রূপরেখা সাবলীল গতিতে সাধারণ্যের হৃদয় স্পর্শ করে। সাহিত্য জগতে যারা খেলা করার ক্ষমতা রাখেন মনের সৃজনীশক্তি দ্বারা, মূলত হাততালি তাঁদের ভাগ্যেই জোটে। কিন্তু যারা সাহিত্যের জগতে খেলা করার সাহস রাখে না তারা কখনোই হাততালির ভাগীদার হয় না। উদ্দীপকেও এই কথাগুলো হুবহু উচ্চারিত হয়েছে। এদিক দিয়েই উদ্দীপক ও প্রবন্ধের মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
সারকথা: উদ্দীপকে নাম প্রচারের জন্য সাহিত্য রচনা করার সমালোচনার দিকটি ইঙ্গিতপূর্ণ করা হয়েছে এবং আলোচ্য প্রবন্ধেও মনোরঞ্জনের জন্য রচনাকারী সাহিত্যিকদের সমালোচনা করা হয়েছে।
d
“সাহিত্যের যারা সত্যিকারের সাধক, প্রকৃত বিজয়মাল্য তাদের গলায়ই শোভা পায়, বেশধারী সাহিত্যিকদের গলায় নয়।” উদ্দীপকের এ মন্তব্যটি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের মূলভাবেরই নামান্তর- মূল্যায়ন কর।
উত্তর
➤ “সাহিত্যের যারা সত্যিকারের সাধক, প্রকৃত বিজয়মাল্য তাঁদের গলায়ই শোভা পায়, বেশধারী সাহিত্যিকদের গলায় নয়।” মন্তব্যটি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের মূলভাবেরই নামান্তর মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ সাহিত্যের কাজ হলো ব্যক্তিমনের সঙ্গে বিশ্ব জগৎকে সম্পৃক্ত করা। সাহিত্য তার আবেদন তখনই হারায় যখন সেখানে। সাহিত্যিকের উদ্দেশ্য যুক্ত হয়। সাহিত্য তখনই প্রকৃত সাহিত্য হয়ে ওঠে যখন তা মনের আনন্দের জন্য রচিত হয়।
➤ উদ্দীপকে বর্তমান যুগের বেশধারী নব্য সাহিত্যিকদের পরিচয় পাওয়া যায়। এসব নব্য সাহিত্যিকের আগমনের কারণ হলো নাম ফুটিয়ে তোলা। সাহিত্যকে না বুঝে, সাহিত্যের মর্ম অনুধাবন না করে, তারা সস্তা দরের ভাব দ্বারা দু-এক ছত্র লিখেই তা প্রকাশ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। প্রকাশিত বই বগলে নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ে নিজের নামের পূর্বে ‘সাহিত্যিক’ পদবি প্রচার করার জন্য।
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্যিকদের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। সাহিত্য হচ্ছে মনের নিঃসৃত কথামালার সুরম্য গাঁথুনি। মনের আনন্দেই তা ফুটে ওঠে কলমের কালিতে। যাঁরা সাহিত্যের অঙ্গনে খেলা করার সৃজনীশক্তি ও সাহস ধারণ করেন, তাঁদের সাহিত্য মানুষের হৃদয়ে স্পর্শ করে আলতোভাবে। তাঁরাই পায় শত প্রশংসার বাণী। কিন্তু যারা প্রশংসার জন্যই সাহিত্য রচনার বৃথা আস্ফালন করে, হাততালি তাদের ভাগ্যে না জুটলেও দুর্নাম জুটতে সময় লাগে না। উদ্দীপকের বক্তব্যও যেন এই বক্তব্যেরই প্রতিচ্ছবি। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের নিরিখে বলা যায় যে, যারা সাহিত্যের প্রকৃত পূজারি, তাদের গলাতেই সম্মানের জয়মাল্য ওঠে। আর যারা জয়মাল্য ও হাততালির লোভে সাহিত্যের চাদর ধরে টানে, তারা না পায় সম্মান, নাপায় মানুষের হাততালি।
19
Question 19
মাজেদ মাহতাব একজন নামকরা চিত্রশিল্পী। তাঁর পুরো শিল্পকর্মকে দুভাগে ভাগ করা যায়- সহজবোধ্য ও দুর্বোধ্য। তাঁর অনেক সৃজনশীল কাজ রয়েছে যেগুলো শিল্পমানে কালোত্তীর্ণ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি কয়েকবার তাঁর শিল্পকর্মের প্রদর্শনী করেছেন এবং বোদ্ধা মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর কিছু চিত্রকর্ম রয়েছে সহজ, সুন্দর ও সাধারণের উপযোগী। চিত্রকলা একটি উঁচুমানের শিল্পকলা যাতে সাধারণের প্রবেশাধিকার নেই। চিত্রকলার সাথে সাধারণের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতেই তিনি দু ধারায় কাজ করেন। তাঁর কোনো অর্থমোহ নেই।
a
মহর্ষিরা রামায়ণ শুনে কুশীলবকে কী পর্যন্ত পেলা দিয়েছিলেন?
b
প্রমথ চৌধুরীর মতানুসারে বৈশ্য লেখক ও শূদ্র পাঠকের পরিচয় দাও।
c
উদ্দীপকের মাজেদ মাহতাবের চিন্তাধারার সঙ্গে সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের কার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ মাজেদ মাহতাব একজন নির্মোহ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির শিল্পী। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে এমন মহৎ শিল্পীদের স্বরূপ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
➤ সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনে সাড়া জাগানো। তাই সাহিত্যকে হতে হবে সহজবোধ্য। নিজের পান্ডিত্য জাহির করে শুধু ভারী ভারী শব্দ ব্যবহার করলেই সাহিত্যের মান বাড়ে না। সাহিত্যের মান নির্ভর করে লেখাকে পাঠকের বোধগম্য করে তোলার উপর।
➤ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী যুক্তিতর্কের স্থলে সাহিত্যের আদর্শ ও উদ্দেশ্য নিরূপণ করেছেন। এক্ষেত্রে ‘খেলা’ ও ‘জুয়াখেলা’ প্রসঙ্গটিও এসেছে। সাহিত্যচর্চার শৈল্পিক সিদ্ধি ঠিক রাখতে চাইলে সাহিত্য নিয়ে ‘খেলা’ করার বিকল্প নেই। খেলা নির্মল আনন্দ দেয় এবং এতে আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো প্রাপ্তির আশা কেউ করে না। কিন্তু লেখক যদি তার সাহিত্যকর্ম থেকে প্রাপ্তির যোগ প্রত্যাশা করেন তাহলে সাহিত্যচর্চার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। উদ্দীপকের মাজেদ মাহতাব একজন সৃজনশীল চিত্রশিল্পী। তিনি ছবি আঁকেন মনের আনন্দে। শুধু যোদ্ধাদের জন্যই তিনি ছবি আঁকেন না। কিংবা কার্য উদ্ধারের অভিপ্রায়ও তিনি তুলে ধরেন না। এক্ষেত্রেই প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্য দর্শনের সঙ্গে তাঁর চিন্তাচেতনার সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
সারকথা: সাহিত্য জগৎ হচ্ছে খেলা করার জগৎ। তা না করে সাহিত্যকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। মাজেদ মাহতাব কোনো উদ্দেশ্য বা অভিসন্ধি থেকে ছবি আঁকেন না। তাই তিনি সত্যিকারের সৃজনশীল চিত্রশিল্পী।
d
“উদ্দীপকের মাজেদ সাহেবের কর্মকান্ড ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের লেখকের সমধর্মী।” মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
উত্তর
➤ “উদ্দীপকের মাজেদ সাহেবের কর্মকান্ড ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের লেখকের সমধর্মী।” মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ সাহিত্যের মান নির্ভর করে পাঠকের আনন্দ ও বোধগম্যতার ওপর। যতই উচ্চমার্গীয় সাহিত্য হোক না কেন- তা যদি পাঠকের বোধগম্য না হয় তাহলে সেটাকে যথার্থ সাহিত্য বলা যায় না। কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাহিত্য পাঠকসমাজে সমাদৃত হতে পারে না।
➤ উদ্দীপকের মাজেদ মাহতাবের শিল্পীজীবন দুই ধারায় বিভক্ত। শিল্পকলা সৃষ্টির এক ধারায় তিনি নির্মাণ করেছেন ক্লাসিক ধারার চিত্রকলা এবং বিপরীত পথে নির্মাণ করেছেন সহজবোধ্য কিছু চিত্র। জনপ্রিয় ধারায় কিছু কাজ করলেও সেটা তিনি প্রাপ্তির উদ্দেশ্য নিয়ে করেননি। সাধারণ মানুষকে চিত্রকলার অনুপম দ্বাদ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি তা করেছেন। তাঁর কোনো অর্থমোহ ছিল না।
➤ স্যাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখকের বক্তব্য হচ্ছে এই যে, “সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দান করা, কারো মনোরঞ্জন করা নয়।” সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে। আপন মনের আনন্দেই সাহিত্য রচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে মাজেদ মাহতাবের চিত্রকর্মকে এই দুই পর্যায়ের মাঝামাঝি রাখতে হয়। কেননা এক্ষেত্রে তিনি কিছুটা আপস করেছেন। সাধারণ জনজীবনকে সম্পৃক্ত করতেই মাজেদ মাহতাব কিছু সহজবোধ্য ছবি এঁকেছেন। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকের মাজেদ মাহতাব শিল্পমানে উত্তীর্ণ ক্লাসিক্যাল চিত্র নির্মাণ করে সুনাম কুড়িয়েছেন। আবার চিত্রকলার সঙ্গে সাধারণকে পরিচয় করিয়ে দিতে কিছু সহজবোধ্য কাজ করেছেন। প্রমথ চৌধুরীর আদর্শের সঙ্গে তা পুরোপুরি যথার্থ নয়।
20
Question 20
করিম আহমেদ একজন বড় মাপের শিল্পী। তাই খেলাচ্ছলে ছবি আঁকা, পুতুল গড়াই তাঁর কাজ। তিনি সামান্য একটু মাটিকে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে টিপে যে পুতুল তৈরি করেন, তা-ই উৎকৃষ্ট শিল্পকর্মে পরিণত হয়। করিম আহমেদের মতো বড় শিল্পীরা প্রায়ই শিল্পরাজ্যের এ খেলা খেলে থাকেন। কিন্তু ছোট মাপের শিল্পীরা এক করতে গিয়ে আরেক করে ফেলেন। করিম আহমেদের মতো বড় মাপের শিল্পীর সঙ্গে ছোট মাপের শিল্পীর এই পার্থক্য।
a
রোদ্যা কে?
b
“যিনি গড়তে জানেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন, বাঁদরও গড়তে পারেন।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকে উল্লিখিত ছোট মাপের শিল্পীদের সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাদৃশ্য বর্ণনা কর।
উত্তর
➤ উদ্দীপকে উল্লিখিত ছোট মাপের শিল্পীদের সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে উল্লিখিত লেখকের সমালোচনার সাদৃশ্য রয়েছে।
➤ যাঁরা প্রকৃত শিল্পী তাঁরা খেলাচ্ছলেই তৈরি করেন সব মহৎ শিল্পকর্ম। মহৎ শিল্পীদের সঙ্গে সাধারণ শিল্পীদের পার্থক্য হলো সাধারণ শিল্পীরা এক করতে গিয়ে আর এক করে বসেন। আর মহৎ শিল্পীরা যা করতে চান ঠিক তা-ই করতে পারেন।
➤ উদ্দীপকের ছোট মাপের শিল্পীদের যে বৈশিষ্ট্য উল্লিখিত হয়েছে তা প্রমথ চৌধুরীর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তিনি পৃথিবীর বড় মাপের শিল্পী হিসেবে রোদ্যার দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন এবং তাঁর সঙ্গে ছোট মাপের অর্থাৎ ইতর শ্রেণি শিল্পীদের পার্থক্য নির্ণয় করেছেন। পৃথিবীর বড় মাপের শিল্পীরা শিল্পরাজ্যে খেলা করে থাকেন। এই খেলায় তাঁরা যেমন আনন্দ পান, তেমনই দর্শক বা সাধারণ মানুষকেও আনন্দ দেন। প্রমথ চৌধুরী বড় এবং ইতর শ্রেণির শিল্পীদের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে এই ব্যাপারটিই তুলে ধরেছেন। মূলত উদ্দীপকের ছোট মাপের শিল্পীদের সমালোচনার দিকটিই প্রবন্ধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক বড় মাপের এবং ছোট মাপের শিল্পীদের পার্থক্য নির্ণয় করেছেন, যা উদ্দীপকেও উল্লেখ করা হয়েছে।
d
শিল্প মাত্রই আনন্দদান করে, তাই পৃথিবীর বড় মাপের শিল্পীগণ এ খেলায় অংশগ্রহণ করেন।”- উদ্দীপক ও প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর
➤ শিল্পমাত্রই আনন্দদান করে, তাই পৃথিবীর বড় মাপের শিল্পীগণ এ খেলায় অংশগ্রহণ করেন।”- মন্তব্যটি যথার্থ “
➤ শিল্পরাজ্যে প্রবেশাধিকার সবার জন্য সমান। সবাই এখানে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। তবে সবার কাজ একরকম হয় না, একেক ব্যক্তির কাজ একেক রকম হয়। এখানেই শিল্পীদের মধ্যকার পার্থক্য নির্ণীত হয়।
➤ উদ্দীপকের করিম আহমেদ বড় মাপের শিল্পী। তাই তিনি খেলাচ্ছলে নানা শিল্প তৈরি করে আনন্দ পান। এই আনন্দ পাওয়া এবং আনন্দ দেওয়াই একজন বড় মাপের শিল্পীর বৈশিষ্ট্য। তিনি সামান্য একটু মাটিকে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে টিপে টিপে যে পুতুল তৈরি করেন, তাই উৎকৃষ্ট শিল্পকর্মে পরিণত হয়। করিম আহমেদের মতো বড় শিল্পীরা প্রায়ই শিল্পরাজ্যের এই খেলা খেলে থাকেন।
➤ দক্ষতা ও নৈপুণ্য অর্জনের মধ্য দিয়েই প্রত্যেক শিল্পী, কবি-সাহিত্যিক স্ব-স্ব ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। উদ্দীপকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের রোদ্যার মতো শিল্পীদের কথা বলা হয়েছে। ভাস্কর রোদ্যা পাষাণ দেহে এমন শিল্প নির্মাণ করেছেন যা মনে হয় জীবন্ত। তিনি শিল্পকর্মে এতটাই দক্ষ ছিলেন যে, যখন-তখন হাতে কাদা নিয়ে আঙুলের টিপে মাটির পুতুল তৈরি করতে পারতেন। এই পুতুল গড়া ছিল তাঁর কাছে খেলার মতো। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তবটি উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধ উভয়ের আলোকে যথার্থ।
সারকথা: পৃথিবীর এসব বড় মাপের শিল্পীরা করিম আহমেদের মতো শিল্পরাজ্যের খেলা খেলে থাকেন। এই খেলায় তাঁরা যেমন আনন্দ পান, তেমনই অন্যদেরকেও আনন্দদান করেন। ফলে শিল্পমাত্রই আনন্দ। দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়
21
Question 21
পিরোজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে প্রতিদিন বিকেলে ছেলেরা খেলাধুলা করে। এই গ্রামে ধনীদরিদ্র সকলের সন্তান এই মাঠে খেলা করে আনন্দ উপভোগ করে। তাদের মধ্যে মাঝে মাঝে সামান্য একটু ঝগড়া হলেও পরক্ষণেই তা মিটে যায়, কারণ খেলাধুলার যে আনন্দ তা ঝগড়ার বিষাদকে নিঃশেষ করে দেয়। একই গ্রামের শিক্ষিত যুবক করিম শেখ বিকেল বেলায় অবসর সময়ে ছেলেদের খেলা দেখে প্রায়ই আনন্দ উপভোগ করে থাকেন।
a
সাহিত্য কখন স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে?
b
প্রমথ চৌধুরী সাহিত্য ও শিক্ষাকে ভিন্ন ভিন্নভাবে দেখিয়েছেন কেন?- ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকের মাঠের খেলার সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ উদ্দীপকের মাঠের খেলার মতো শিল্পরাজ্যের খেলায় সবার অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে- এই দিকটি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ মানুষ কোনোরূপ জাগতিক লাভের আশায় খেলাধুলা করে না। খেলাধুলার ক্ষেত্রে মানুষ সব ভেদাভেদ ভুলে একত্রে অংশগ্রহণ করে। সাহিত্যের বেলায়ও ঠিক তেমনই। এখানেও মূল উদ্দেশ্য আনন্দলাভ হওয়ায় সবাই এতে অংশগ্রহণ করতে পারে।
➤ উদ্দীপকে মাঠের খেলার মতো প্রবন্ধের শিল্পরাজ্যের খেলায় ধনী-দরিদ্র সবারই অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। পৃথিবীতে খেলার মাঠে ব্রাহ্মণ-শূদ্রের যেমন প্রভেদ নেই, সাহিত্যের রাজ্যও তেমনই। রাজার ছেলের সঙ্গে দরিদ্রের ছেলের খেলায় যোগ দেওয়ার অধিকার যেমন সর্বজনস্বীকৃত, সাহিত্যেও তাই। মূলত উদ্দীপকের খেলার জগতে প্রবেশ করার সঙ্গে প্রবন্ধের সাহিত্যের জগতে সবার প্রবেশ করার দিকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: পৃথিবীতে খেলার মাঠে ব্রাহ্মণ-শূদ্রের যেমন প্রভেদ নেই, সাহিত্যের রাজ্যেও তেমনই। খেলায় অধিকার যেমন সর্বজনস্বীকৃত, সাহিত্যেও তাই।
d
“উদ্দীপকের করিম শেখের খেলা দেখা এবং ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্য রচনা উভয় ক্ষেত্রেই আনন্দই 8 প্রধান।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
➤ “উদ্দীপকের করিম শেখের খেলা দেখা এবং ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্য রচনা উভয় ক্ষেত্রেই আনন্দই প্রধান।” উক্তিটি যথার্থ।
➤ খেলা দেখা মানবজীবনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে না। এ দেখার পেছনে একটিই কারণ বিদ্যমান, তা হলো আনন্দলাভ। এ রকম নিছক আনন্দলাভের জন্য মানুষ আরেকটি কাজ করে, তা হলো সাহিত্যপাঠ।
➤ উদ্দীপকের করিম শেখ যেমন খেলা দেখে আনন্দ উপভোগ করেন তেমনই সাহিত্য পাঠ করে পাঠক অনাবিল আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যকে খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সাহিত্য এক জটিল শিল্পকর্ম, কিন্তু তা আনন্দদায়ক। এর স্রষ্টারা আনন্দ ভুবনে কল্পনারথের অভিযাত্রী। সে কারণেই সাহিত্যকে খেলা বলা হয়েছে। লেখকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য অনাবিল আনন্দ দান করা, শিক্ষা দেওয়া নয়। খেলার উদ্দেশ্যও তাই। এ কারণে উদ্দীপকের করিম শেখ খেলা দেখে এবং সাহিত্য পাঠ করে অনাবিল আনন্দ উপভোগ করেন।
➤ লেখক শিল্পরাজ্যে কোনো রকম কার্যোদ্ধার বা উদ্দেশ্য সাধনের চেয়ে খেলা করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। খেলার মাধ্যমে যেমন উদ্দীপকের করিম শেখ নিছক আনন্দ উপভোগ করে থাকেন, তেমনই সাহিত্যের মাধ্যমেও পাঠক অনাবিল আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। এদিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: খেলাধুলা যেমন মানুষকে আনন্দদান করে তেমনই সাহিত্যও মানুষকে অনাবিল আনন্দদান করে। তাই আলোচ্য প্রবন্ধে সাহিত্যকে প্রমথ চৌধুরী খেলাধুলার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
