01
Question 01
সুমন ও নীলিমা দুজনেই উচ্চশিক্ষিত। তারা পরস্পরকে খুব ভালোবাসে। তারা বিয়ে করে সংসারী হতে চায়। নীলিমার পরিবার যৌতুক দিতে পারেনি বলে সুমনের পরিবার তাকে মেনে নিতে চায় না। সুমন পরিবারের ইচ্ছায় অন্যত্র বিয়ে করে। কিন্তু নীলিমা এটিকে অপমানজনক মনে করে আর বিয়ে করে না। অতঃপর শিক্ষকতায় নিবেদিত হয়ে নীলিমা তার বাকি জীবন অতিবাহিত করে।
Dhaka · 2025
a
কল্যাণীর বাবার পেশা কী?
b
“এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি”- ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকের সুমন আর ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম চরিত্রের সাদৃশ্য তুলে ধর।
উত্তর
উদ্দীপকের সুমন আর ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম চরিত্রের সাদৃশ্য মূলত তাদের ব্যক্তিত্বহীনতায়।
‘অপরিচিতা’ গল্পের কথক অনুপম বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকের যুদ্ধসংলগ্ন সময়ের এক বাঙালি যুবক, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর উপাধি অর্জন করেও ব্যক্তিত্বরহিত, পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায় পুতুলমাত্র। সে যেন মায়ের কোলসংলগ্ন শিশুর মতো।
উদ্দীপকের সুমন ও নীলিমা দুজনেই উচ্চশিক্ষিত। তারা পরস্পরকে ভালোবেসে বিয়ে করতে চায়। নীলিমার পরিবার যৌতুক দিতে অপারগ হলে সুমনের পরিবার তাকে মেনে নেয় না এবং সুমন পরিবারের ইচ্ছায়- অন্যত্র বিয়ে করে। উদ্দীপকের সুমনের এই ব্যক্তিত্বহীনতার দিকটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম চরিত্রেও পরিলক্ষিত হয়। নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত সে নিজে নিতে পারেনি, তার বিয়েতে মামাই সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিয়ে শুরুর আগে তার মামা কনের গহনা যাচাই ও পরিমাণ মাপার মতো অপমানজনক বিষয়টি দেখেও অনুপম নীরব দর্শক হয়ে থেকেছে। সে নিজের পছন্দকে মূল্যায়ন, ন্যায় ও সত্যের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ার মতো ব্যক্তিত্ববান হয়ে ওঠেনি। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের সুমন আর ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম চরিত্রের সাদৃশ্য মূলত ব্যক্তিত্বহীনতায়। তারা তাদের নিজেদের পছন্দের মূল্যায়ন করতে পারেনি। যৌতুকের মতো অন্যায় বিষয়ের বিপক্ষেও দাঁড়াতে পারেনি। তারা দুজনেই বিয়েতে ব্যক্তিত্বহীন মেরুদণ্ডহীনের মতো আচরণ করেছে।
d
“উদ্দীপকের নীলিমা ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীরই প্রতিচ্ছবি”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
দৃঢ় ব্যক্তিত্ব ও আত্মমর্যাদার বিবেচনায় “উদ্দীপকের নীলিমা ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীরই প্রতিচ্ছবি”- মন্তব্যটি যথার্থ।
‘অপরিচিতা’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যৌতুকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও দেশচেতনায় ঋদ্ধ এক প্রখর ব্যক্তিত্বময়ী নারীর চিত্র তুলে ধরেছেন কল্যাণী চরিত্রের মাধ্যমে। কল্যাণী আত্মমর্যাদাশীল নারী, তাই সে আর বিয়েতে মত দেয়নি, বরং দেশের নারীদের শিক্ষার মাধ্যমে মর্যাদাশীল করে তুলতে পদক্ষেপ নিয়েছে।
উদ্দীপকে উচ্চশিক্ষিত সুমন ও নীলিমার কথা বলা হয়েছে। তারা – পরস্পরকে ভালোবাসে এবং সংসারী হতে চায়। কিন্তু নীলিমার পরিবার যৌতুক দিতে অপারগ হলে সুমনের পরিবার নীলিমাকে মেনে নেয় না। সুমনও কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে পরিবারের ইচ্ছায় অন্যত্র বিয়ে করে। নীলিমা এটিকে অপমান মনে করে আর বিয়ে করে না এবং শিক্ষকতায় নিবেদিত হয়ে বাকি জীবন অতিবাহিত করে। এই ‘নীলিমা যেন ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীরই প্রতিচ্ছবি।
‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যায় পাত্র অনুপমের নির্লিপ্ততা আর তার মামার যৌতুকলোভী মানসিকতার কারণে। অনুপম তার মামার অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ না করায় কল্যাণীর বাবা মর্মাহত হন। অনুপমের ব্যক্তিত্বহীনতা এবং তার মামার হীন মানসিকতা দেখে তিনি মেয়ের বিয়ে ভেঙে দেন। বাবার সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করে কল্যাণী সারা জীবন বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং দেশসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে। পরবর্তী সময়ে অনুপম ভুল স্বীকার করে তার জীবনে আসতে চাইলেও সে আর রাজি হয় না। কল্যাণীর এই দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্ব উদ্দীপকের নীলিমার মধ্যেও পরিলক্ষিত হয়। সেও আত্মমর্যদায় বলীয়ান হয়ে আর বিয়ে না করে শিক্ষকতা করে জীবন পার করেছে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
02
Question 02
জেরিন রহমান ডাক্তার। বাবা-মার অনুরোধ সত্ত্বেও বিয়ে করতে চান না। কারণ, পত্র-পত্রিকা আর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে যৌতুক ও নারী নির্যাতন বিষয়ে বিভিন্ন ঘটনা দেখে বিয়ে সম্পর্কে তার একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। অবশেষে তার বাবা-মা বুঝিয়ে জেরিনকে বিয়ে করতে রাজি করান। বিয়ের দিনই তার ধারণা বদলে যায়। কারণ, বাবা-মা জেরিনের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে কিছু আসবাবপত্র কিনে দিতে চাইলে জেরিনের শ্বশুর-শাশুড়ি তা নিতে বিনয়ের সঙ্গে অস্বীকৃতি জানায়। শ্বশুরবাড়িতে এসে তার ধারণা একদম পাল্টে যায়। স্বামী ইরফান হাসানের ভালোবাসা এবং শ্বশুর-শাশুড়ির আদর-স্নেহ তাকে বিমোহিত করে।
Rajshahi · 2025
a
‘অপরিচিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছের কোন খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়?
b
“সমস্ত মন যে সেই অপরিচিতার পানে ছুটিয়া গিয়াছিল।”- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
c
“উদ্দীপকের শ্বশুর-শাশুড়ি এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা ভিন্ন জগতের মানুষ।”- উক্তিটি যাচাই কর।
উত্তর
লোভী ও হীন মানসিকতার দিক দিয়ে “উদ্দীপকের শ্বশুর-শাশুড়ি ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা ভিন্ন জগতের মানুষ।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামা একজন অর্থলিপ্স মানুষ। তিনি অনুপমের বিয়েতে নগদ টাকা ও গহনা পণ হিসেবে দাবি করেন। কনের পিতা শম্ভুনাথ সেন এতে সম্মত হন। বিয়ের অনুষ্ঠানে অনুপমের মামা কন্যার বাবাকে তার মেয়ের গা থেকে গহনাগুলো খুলে আনতে বলেন সেকরা দিয়ে সেগুলো যাচাই করার জন্য। অনুপমের মামার এ ধরনের আচরণ ও হীন মানসিকতার জন্য শম্ভুনাথ সেন মেয়েকে বিয়ে না দিয়ে কৌশলে তাকে খাবার খাইয়ে বিদায় করে দেন।
উদ্দীপকের শ্বশুর-শাশুড়ি অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি। জেরিনের বাবা-মায়ের দেওয়া সামান্য উপহারও তারা শ্রদ্ধাভরে নিতে অস্বীকৃতি জানান। তারা জেরিনকে নিজের সন্তানের মতো আদর-স্নেহ করেন, যা দেখে জেরিন বিমোহিত। অন্যদিকে, ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামা আগে থেকেই দেনা-পাওনা ঠিক করে নেন। গহনা কত ভরি দেওয়া হবে, স্বর্ণ কত দরের হবে- সব পাকাপাকি করে নোট করে রাখেন। এ দিক থেকে উদ্দীপকের শ্বশুর-শাশুড়ি ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা ভিন্ন জগতের মানুষ।
d
“শম্ভুনাথ ও কল্যাণীর কাঙ্ক্ষিত সমাজের ইঙ্গিত রয়েছে উদ্দীপকে।”- তোমার মতামত দাও।
উত্তর
“শম্ভুনাথ ও কল্যাণীর কাঙ্ক্ষিত সমাজের ইঙ্গিত রয়েছে উদ্দীপকে।”- উক্তিটির পক্ষে আমার মতামত তুলে ধরা হলো।
‘অপরিচিতা’ গল্পে লেখক ব্যক্তিত্ববোধে জাগ্রত বাবা শম্ভুনাথ সেন ও মেয়ে কল্যাণীর বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের সম্মিলিত প্রতিরোধ উপস্থাপন করেছেন। শম্ভুনাথ সেন ও তার মেয়ে কল্যাণী এমন এক সমাজ প্রত্যাশা করেন যেখানে আর কোনো মেয়ে যৌতুকপ্রথার শিকার হবে না। অনুপমের মতো ব্যক্তিত্বহীন শিক্ষিত আর তার মামার মতো লোভী মানসিকতা সম্পন্ন মানুষও কারো জীবনে প্রভাব ফেলবে না। তাই তো কল্যাণী মেয়েদের শিক্ষার ব্রত গ্রহণ করেছে।
উদ্দীপকের জেরিনের শ্বশুর-শাশুড়ি আধুনিক মানসিকতার ধারক। ছেলের বিয়েতে তারা কোনো প্রকার যৌতুক তো দাবি করেননি, বরং কনের বাবা-মায়ের দেওয়া কিছু আসবাবপত্র নিতেও তারা শ্রদ্ধাভরে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তারা জেরিনকে নিজ মেয়ের মতো স্নেহ করেন। ‘অপরিচিতা’ গল্পে পিতা শম্ভুনাথ সেন ও কন্যা কল্যাণীর এমন প্রাগ্রসর চিন্তা বা আকাঙ্ক্ষাই প্রকাশ ঘটেছে।
অপরিচিতা’ গল্পের শম্ভুনাথ সেন ও কল্যাণী আধুনিক মানসিকতার ধারক। অনুপমের মামার যৌতুকের দাবিকে তারা স্বীকার করে নিলেও বিবাহসভায় কনের গা থেকে গহনা খুলে পরিমাপ করার মতো নীচতাকে তারা প্রশ্রয় দেননি। বরপক্ষকে আপ্যায়ন করিয়ে কৌশলে বিদায় করে দিয়েছেন। কল্যাণী বিয়ে না করার প্রতিজ্ঞা করেছে। তাদের বলিষ্ঠ প্রত্যাখানের মধ্য দিয়ে নতুন এক সময়ের আশু – আবির্ভাব কামনা করেছেন তারা। তাদের সেই পরিবর্তিত সমাজব্যবস্থায় গড়ে ওঠা আধুনিক মানসিকতার ধারক ব্যক্তিত্ব হলেন উদ্দীপকের জেরিনের শ্বশুর-শাশুড়ি। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য উক্তিটি সমর্থনযোগ্য।
03
Question 03
বরপক্ষ অনেক টাকা ও দানসামগ্রী যৌতুক দাবি করলেও পাত্র হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে রামসুন্দর মেয়ের বিয়ের জন্য তাতেই রাজি হয়ে যান। নিজের সম্পদ বিক্রি ও বন্ধক রাখার পরও বিয়ের দিন যৌতুকের কিছু টাকা বাকি থেকে যায়। পুরো যৌতুক বুঝে না নিয়ে বরের পিতা রায়বাহাদুর সন্তানকে বিয়ের আসরে বসতে দিতে রাজি নন। কিন্তু বর বিয়ে না করে বিয়ের আসর ছাড়বেন না ঘোষণা দেওয়ায় রায়বাহাদুর পুত্রের বিয়ে সম্পন্ন করার অনুমতি দিতে বাধ্য হন।
Comilla · 2025
a
‘অপরিচিতা’ গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
b
অনুপম তার মামাকে ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলেছে কেন?
c
উদ্দীপকের বর ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম চরিত্রের বৈসাদৃশ্য বর্ণনা কর।
উত্তর
দৃঢ়চেতা মনোভাব ও ব্যক্তিত্বের দিক থেকে উদ্দীপকের বর ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম চরিত্রের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
‘অপরিচিতা’ ‘গল্পের অনুপম যেকোনো ক্ষেত্রে মামার সিদ্ধান্তকেই মাথা পেতে নিয়েছে। এ কারণে মামার যৌতুকলোভী মানসিকতা ও অসদাচরণের কারণে কল্যাণীর সাথে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হলেও সে কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনি। অনুপমের ব্যক্তিত্বহীনতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অপারগতার কারণেই কল্যাণীর সাথে তার বিয়ে ভেঙে যায়।
উদ্দীপকের বরের পিতা রায়বাহাদুর যৌতুকের কিছু টাকা বাকি থাকায় ছেলেকে বিয়ের অনুমতি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমতাবস্থায় বর পিতার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন এবং বিয়ে না করে আসর ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দেন। পক্ষান্তরে, ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম তার মামার যৌতুকলোভী মানসিকতা ও কনের গায়ের গহনা পরীক্ষার মতো হীন আচরণের প্রতিবাদ করতে পারেনি। এমনকি নিজে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। ফলে কল্যাণীর সাথে তার বিয়ে ভেঙে যায়। অর্থাৎ উদ্দীপকের বরের মধ্যে প্রকাশিত দৃঢ়চেতা মনোভাব ও ব্যক্তিত্বের দিকটি অনুপমের মধ্যে পরিলক্ষিত হয় না। এ দিক থেকে উদ্দীপকের বর ও গল্পের অনুপম চরিত্রের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
d
“উদ্দীপকের রায়বাহাদুর এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা দুটো নর-নারীর হৃদয়ের মিলনের চেয়ে বৈষয়িক লাভ-ক্ষতিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।”- মন্তব্যটি বিচার কর।
উত্তর
যৌতুকলোভী মানসিকতার দিক বিবেচনায় “উদ্দীপকের রায়বাহাদুর এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা দুটো নর-নারীর হৃদয়ের মিলনের চেয়ে বৈষয়িক লাভ-ক্ষতিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন”- মন্তব্যটি যথার্থ।
‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামা যৌতুকলোভী ও দাম্ভিক প্রকৃতির মানুষ। এ কারণেই তিনি অনুপম-কল্যাণীর বিয়ের দিন কনের গায়ের গহনা খুলে পরীক্ষা করানোর মতো হীন আচরণ করেন। তার কাছে অনুপম-কল্যাণীর বিয়ের চেয়ে যৌতুকের পরিমাণ এবং আত্মদম্ভই বড় বিষয় ছিল।
উদ্দীপকে বরপক্ষের দাবি অনুযায়ী কন্যার পিতা রামসুন্দর সব ব্যবস্থা করেন। কিন্তু যৌতুকের টাকার সামান্য বাকি থেকে যায়। এমতাবস্থায় বরের পিতা রায়বাহাদুর বেঁকে বসেন। যৌতুকের সম্পূর্ণ টাকা না পেয়ে তিনি কিছুতেই ছেলেকে বিয়ের অনুমতি দিতে রাজি নন। পরিস্থিতি আন্দাজ করে বর পিতার সেই সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ জানান এবং বিয়ে না করে আসর ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দেন। তার এমন মনোভাব প্রত্যক্ষ করে রায়বাহাদুর তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য হন এবং বিয়ের অনুমতি দেন। উদ্দীপকের রায়বাহাদুরের মতো এমন বৈষয়িক মানসিকতা ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার মধ্যেও পাওয়া যায়।
‘অপরিচিতা’ গল্পে লেখক অনুপম-কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যাওয়ার মধ্য দিয়ে যৌতুকপ্রথার ভয়াবহতার দিকটিকে উন্মোচন করেছেন। সেখানে অনুপমের মামার হীন আচরণ ও যৌতুকলোভী মানসিকতার কারণেই কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ সেন অনুপমের সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে অস্বীকার করেন। অন্যদিকে, উদ্দীপকের বরের পিতা রায়বাহাদুর যৌতুকের টাকা বাকি থাকায় ছেলেকে বিয়ের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। অর্থাৎ আলোচ্য গল্প এবং উদ্দীপক উভয় ক্ষেত্রে অনুপমের মামা এবং বরের পিতা সন্তানদের বিয়ের চেয়ে যৌতুকের বিষয়টিকেই – অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই দিক বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
04
Question 04
মেয়ের বিয়ে নিয়ে বাবার উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। সমাজ এখনও কালো কিংবা শ্যামলা মেয়েদের পছন্দ করতে চায় না। হাশেম সাহেবের মেয়ে তাহমিনার গায়ের রং কালো হওয়ায় এ নিয়ে পরপর চারবার বিয়ে ভেঙে যায়। তাই তাহমিনা বিয়ের পিঁড়িতে বসার চিন্তা পরিহার করে নারীশিক্ষার উন্নয়নে জীবন উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
Chittagong · 2025
a
“মন্দ নয় হে! খাঁটি সোনা বটে।”- উক্তিটি কার?
b
“আমাকে একটি কথা বলাও তিনি আবশ্যক বোধ করিলেন না।”- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।
c
উদ্দীপকের তাহমিনার বিয়ে ভাঙার ক্ষেত্রে গায়ের রঙের প্রসঙ্গটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন বিষয়টিকে মনে করিয়ে দেয়? বর্ণনা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের তাহমিনার বিয়ে ভাঙার ক্ষেত্রে গায়ের রঙের প্রসঙ্গটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের নারীর প্রতি সমাজের হীন দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টিকে মনে করিয়ে দেয়।
‘অপরিচিতা’ গল্পে নারীর প্রতি সমাজের অনুদার ও হীন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করার দিকটি ফুটে উঠেছে। এ গল্পে কল্যাণীর বয়স পনেরো শুনে অনুপমের মামার মন ভার হয়ে যায়। আবার কনেপক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের যৌতুকও দাবি করা হয়।
উদ্দীপকের হাশেম সাহেবের মেয়ে তাহমিনার গায়ের রং কালো হওয়ায় পরপর চারবার তার বিয়ে ভেঙে যায়। এভাবে বিয়ে ভেঙে যাওয়া নারীর প্রতি সমাজের অনুদার দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে যা ‘অপরিচিতা’ গল্পেও ফুটে উঠেছে। এই গল্পে বিয়ের ক্ষেত্রে কনের বাবার কাছে মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি করা হয়। বরপক্ষের কাছে কনের চেয়ে কনের বাবার সহায়-সম্পত্তি বেশি গুরুত্ব পায়। আবার কনের বয়স পনেরো হলেও সেটি অনেক বেশি হিসেবে ধরা হয়। এমন মনোভাব মূলত নারীর প্রতি সমাজের হীন দৃষ্টিভঙ্গিকেই নির্দেশ করে যা উদ্দীপকের তাহমিনার বিয়ে ভাঙার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
d
“নারীর নানাবিধ সামাজিক প্রতিবন্ধকতা তাহমিনা ও কল্যাণী চরিত্রের ব্যক্তিসত্তার জাগরণের অনুঘটক।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।
উত্তর
বক্তব্য বিষয়ের দিক থেকে বলা যায় “নারীর নানাবিধ সামাজিক প্রতিবন্ধকতা তাহমিনা ও কল্যাণী চরিত্রের ব্যক্তিসত্তার জাগরণের অনুঘটক”- মন্তব্যটি যথার্থ।
‘অপরিচিতা’ গল্পে সমাজে গেড়ে বসা অমানবিক যৌতুকপ্রথা প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে। পুরুষতন্ত্রের চাপিয়ে দেওয়া যৌতুক প্রথাকে কল্যাণী বা তার পিতা কেউ-ই মেনে নেননি। পিতা শম্ভুনাথ সেন এবং কন্যা কল্যাণীর স্বতন্ত্রবীক্ষা ও আচরণে ইতিবাচক এক নতুন সময়ের আবির্ভাবকে ইঙ্গিতবহ করে তুলেছে।
উদ্দীপকের ঘটনাংশে দেখা যায়, হাশেম সাহেবের মেয়ে তাহমিনার গায়ের রং কালো হওয়ার কারণে পরপর চারবার তার বিয়ে ভেঙে যায়। সমাজে গেড়ে বসা কুসংস্কারের কারণে সমাজ এখনো কালো কিংবা শ্যামলা মেয়েদের পছন্দ করতে চায় না। বারবার অবহেলিত হয়ে তাহমিনা বিয়ের পিঁড়িতে বসার চিন্তা পরিহার করে এবং নারীশিক্ষার উন্নয়নে নিজের জীবন উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সমাজের প্রতিবন্ধকতা থেকেই তার ব্যক্তিসত্তার জাগরণ ঘটে এবং সে অন্যকেও সচেতন করে তুলতে চায়। ‘অপরিচিতা’ গল্পেও কল্যাণী চরিত্রে ব্যক্তিসত্তার জাগরণ ঘটতে দেখা যায়, যার অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে সমাজের কিছু লোভী মানুষের হীন মানসিকতা।
‘অপরিচিতা’ গল্পের ঘটনায় দেখা যায়, গল্পের নায়ক অনুপম বরযাত্রী নিয়ে কন্যা কল্যাণীর বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয়েছে। সেখানে গিয়ে যৌতুকপ্রথার নামে দর কষাকষি ক্ষনের বাবার দেওয়া গয়না সেকরা দিয়ে পরখ করানোর মতো জঘন্য মানসিকতা কল্যাণী বাতার পিতা শম্ভুনাথ সেন কারওই পছন্দ হয়নি। তারা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে এবং প্রতিবাদ স্বরূপ বিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই বলা যায়, নারীর প্রতি নানাবিধ সামাজিক প্রতিবন্ধকতাই তাহমিনা ও কল্যাণী চরিত্রের ব্যক্তিসত্তার জাগরণ ঘটাতে সাহায্য করেছে।
Question 05
আশফাক সাহেব নিজের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তার একমাত্র ছেলে তন্ময়ের জন্য তিনি একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের বিয়ের প্রস্তাব মেনে নেন। মেয়েটি মেধাবী, আত্মবিশ্বাসী এবং উচ্চশিক্ষিত। তবে, বিয়ের অনুষ্ঠানের পূর্বমুহূর্তে মেয়েটি জানতে পারে, আশফাক সাহেব তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং পণ হিসেবে একটি বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করেছেন। তখন মেয়েটি পরিবারের সকলের আপত্তি উপেক্ষা করে নিজেই সামনে এসে ঘোষণা করে, “একজন মানুষের মর্যাদা এবং সম্পর্ক অর্থের উপর নির্ভরশীল হতে পারে না। আমি এমন কোনো সম্পর্কে জড়াতে চাই না, যেখানে আত্মসম্মান নেই।” মেয়েটি বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকে।
Sylhet · 2025
a
‘অপরিচিতা’ গল্পে কথকের নাম কী?
b
“একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুক-ভাঙা পণ।”-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকের আশফাকের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? সাদৃশ্যের কারণ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর
উদ্দীপকের আশফাকের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার সাদৃশ্য রয়েছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামা যৌতুকলোভী ও দাম্ভিক প্রকৃতির এক চরিত্র। পণের অঙ্ক বেশি হওয়ায় কল্যাণীর সঙ্গে তিনি অনুপমের বিয়ে ঠিক করেন। শুধু তাই নয়, বিয়েবাড়িতে গিয়েও তিনি কনের গায়ের গহনা খুলে সেকরা দিয়ে তা পরীক্ষা করান। তার এমন হীন আচরণের কারণেই অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যায়।
উদ্দীপকের আশফাক সাহেব একমাত্র ছেলে তন্ময়ের বিয়েতে কনেপক্ষের আর্থিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং পণ হিসেবে একটি বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। তার এমন হীন মানসিকতা ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার মধ্যেও দেখা যায়। গল্পে অনুপমের বিয়ের সময় তার ব্যক্তিত্বহীন মানসিকতা এবং মামার নীচতা প্রকাশ পায়। কনের বাবার দেওয়া গহনাগুলো তিনি পরখ করে দেখার জন্য সঙ্গে করে সেকরা নিয়ে আসেন। মামার এমন লোভী ও নীচ মানিসকতার কারণে কনের বাবা শম্ভুনাথ সেন মেয়েকে বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
d
উদ্দীপকে ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূল বক্তব্য কতটা প্রতিফলিত হয়েছে বলে তুমি মনে কর, তা নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
উদ্দীপকে ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূল বক্তব্য পরিপূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়েছে বলে আমি মনে করি।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম-কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যাওয়ার মধ্য দিয়ে লেখক যৌতুকপ্রথার ভয়াবহতাকে আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। সেখানে অনুপমের মামার যৌতুকলোভী মনোভাব ও আত্মদম্ভের কারণে শেষ মুহূর্তে শম্ভুনাথ সেন. অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর বিয়ে দিতে অস্বীকার করেন। এছাড়াও গল্পটিতে কল্যাণী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক ভবিষ্যৎ নারীজাগরণের দিকটির প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন।
উদ্দীপকে আশফাক সাহেবের লোভী মনোভাব ও হীন মানসিকতার জন্য মেয়েটি পরিবারের সবার আপত্তি উপেক্ষা করে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। সে ঘোষণা করে, একজন মানুষের মর্যাদা ও সম্পর্ক অর্থের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না। অন্যায় ও যৌতুকের বিরুদ্ধে এমন বলিষ্ঠ প্রতিবাদ ও নারীজাগরণের বার্তাই ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূলভাব। গল্পেও অনুপমের মামার হীন ও লোভী মাসিকতার বিরুদ্ধে কল্যাণী ও তার বাবা শম্ভুনাথ সেনের জোরালো প্রতিবাদ লক্ষ করা যায়। আবার কল্যাণীর মাধ্যমেও লেখক নারীজাগরণের স্বরূপ দেখিয়েছেন।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অপরিচিতা বিশেষণের আড়ালে কল্যাণী চরিত্রের মধ্য দিয়ে এক বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের নারীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, কর্মীর ভূমিকায় তার উত্তরণের মধ্য দিয়ে লেখক নারীর আত্মজাগরণের পথও প্রশস্ত করেছেন। এর বাইরে যৌতুকপ্রথার বীভৎসতা, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার আত্মাভিমানের জয়, যৌতুকের বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের মতো বিষয় ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকের স্বল্প পরিসরে এতসব বিষয় না থাকলেও গল্পের মূল বক্তব্য হিসেবে সেখানে যৌতুকপ্রথা ও এর বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি নারীর আত্মজাগরণের বিষযটিও’ তুলে ধরা হয়েছে। এদিক বিচারে তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূল বক্তব্য পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়েছে।
06
Question 06
রুনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম (আইনশাস্ত্রে) পাশ করেছে। ইতোমধ্যে তার বয়স ছাব্বিশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। সে সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় অনেক পরীক্ষা দিয়েছে। এমতাবস্থায়, ডাক্তার পাত্র অজয়ের সাথে বিশ লক্ষ টাকা পণ ধার্য করে তার বিয়ে ঠিক হয়। বিয়ের দিন রুনার বাবা পণের জন্য পনেরো লক্ষ টাকা জোগাড় করতে সক্ষম হন। কিন্তু বাকি পাঁচ লক্ষ টাকা না দেওয়া পর্যন্ত বিয়ের কাজ সম্পন্ন হবে না বলে জানিয়ে দেন ডাক্তার অজয়ের বাবা। বিষয়টি রুনার ব্যক্তিত্বে আঘাত করে। সে ব্যথিত হয়ে বিয়ে ভেঙে দেয়। স্বাবলম্বী না হয়ে বিয়ে করবে না বলে সে তার বাবা ইন্দ্র বাবুকে জানিয়ে দেয়। বিয়ে ভাঙার ছয় মাস পর রুনা বিচারকের চাকরি পায়।
Barisal · 2025
a
অনুপমের বাবার পেশা কী ছিল?
b
“একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুক-ভাঙা পণ।”-ব্যাখ্যা কর।
c
‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর সাথে উদ্দীপকের রুনার সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য দেখাও।
উত্তর
অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর সঙ্গে উদ্দীপকের রুনার সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য উভয়ই রয়েছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পের নায়িকা কল্যাণী একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী। অপমানজনক যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সে নারী শিক্ষার ব্রত গ্রহণ করেছে। একপর্যায়ে জীবনে আর বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেয় সে।
উদ্দীপকের রুনার মাঝেও ব্যক্তিত্ববোধসম্পন্ন মানসিকতার পরিচয় ঘটেছে। অপমানজনক যৌতুকের শর্তে বিয়েকে সে অস্বীকার করেছে। নিজেকে স্বাবলম্বী করার ব্রত গ্রহণের মাধ্যমে সে ব্যক্তিত্ববোধের পরিচয় দিয়েছে। ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীও বাবার ব্যক্তিত্ববোধসম্পন্ন সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানিয়েছে এবং নিজেকে নারীর উন্নয়নের কান্ডারিরূপে তৈরি করেছে। এ দিক থেকে গল্পের কল্যাণীর সঙ্গে উদ্দীপকের রুনার সাদৃশ্য রয়েছে। তবে উদ্দীপকের স্বাবলম্বী হয়ে বিয়ে করার কথা বললেও, আলোচ্য গল্পের কল্যাণী বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে – একেবারেই সরে দাঁড়ায়। এদিক থেকে কল্যাণীর সঙ্গে রুনার বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
d
“অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর চেয়ে উদ্দীপকের রুনার জীবনচেতনা অধিকতর আধুনিক”- মন্তব্যটির যথার্থতা নির্ণয় কর।
উত্তর
সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিক থেকে “”অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর চেয়ে উদ্দীপকের রুনার জীবনচেতনা অধিকতর আধুনিক।”-মন্তব্যটি যথার্থ।
‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী উনিশ শতকের সংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের এক নারী চরিত্র। বিবাহ সভায় বরপক্ষের যৌতুক সম্পর্কীয় দাবি-. দাওয়ার প্রতিবাদে তার বাবা বিয়ে ভেঙে দেন। বাবার সিদ্ধান্তকে সেও সাদরে গ্রহণ করে।
উদ্দীপকের রুনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণকারী একজন আধুনিক নারী। ডাক্তার পাত্রের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হলে বরপক্ষ বিশ লক্ষ টাকার যৌতুক দাবি করে। পনেরো লক্ষ টাকা জোগাড় হলেও তাতে বরপক্ষ টালবাহানা শুরু করে। এতে ব্যথিত হয়ে রুনা বিয়ে ভেঙে দেয় এবং নিজে স্বাবলম্বী না হয়ে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেয়। ছয় মাসের মধ্যেই সে বিচারক হিসেবে চাকরি পায়। অন্যদিকে ‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণী আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত একজন ব্যক্তিত্বময়ী নারী হলেও উদ্দীপকের রুনার মতো বলিষ্ঠ ও সাহসী পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী নিজে বিয়ে ভাঙার দুঃসাহসিকতা দেখায়নি। বিয়ে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল তার বাবার। বিয়ে ভাঙার পরে নিজেকে আত্মউন্নয়ন তথা স্বাবলম্বী হওয়ার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং সে বিয়ে না করার প্রতিজ্ঞা করে, যা মোটেই আধুনিক মনোভাবের পরিচয় নয়। পক্ষান্তরে উদ্দীপকের রুনা বরপক্ষের অন্যায় আবদারের বিরুদ্ধে নিজে সোচ্চার হয়েছে, নিজেই বিয়ে ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ছয় মাসের মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাই বলা যায়, ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর চেয়ে উদ্দীপকের রুনার জীবনচেতনা অধিকতর আধুনিক।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
Question 07
নাম তার অনামিকা। সে তার পিতামাতাসহ পরিবারের সকলকে জানিয়ে দিয়েছে বিয়ের বাজারে সে পণ্য হতে চায় না। কথাটি এলাকায় ছড়িয়ে যাওয়ায় তার পিতামাতা পড়েছে দুশ্চিন্তায়। সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে যোগদানকারী পাশের গ্রামের উচ্চশিক্ষিত তরুণ বিবেক রায় অনামিকাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তার বাবা সিদ্ধেশ্বর রায় বিপুল পরিমাণ যৌতুক নিয়ে ঘটা করে ছেলের বিয়ে দেবেন ভেবে রাখলেও বিবেকের ইচ্ছা ও কঠিন সিদ্ধান্তে কোনো প্রকার শর্ত ছাড়াই অনামিকার বাবার কাছে ছেলের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যান এবং অল্পদিনের মধ্যেই বিবেক- অনামিকার শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়।
Dhaka · 2024
a
অনুপমের বন্ধু হরিশ কোথায় কাজ করে?
b
“এককালে ইহাদের বংশে লক্ষ্মীর মঙ্গলঘট ভরা ছিল।”- এখানে ‘লক্ষ্মীর মঙ্গলঘট’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
c
উদ্দীপকের অনামিকা ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা নিরূপণ কর।
উত্তর
উদ্দীপকের অনামিকা ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা রয়েছে।
আমাদের সমাজে বরপক্ষের চাহিদা মতো যৌতুক বা পর্ণনা দিতে না পারলে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতারা তাদের মেয়েদের উপযুক্ত পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দিতে পারেন না। বর্তমানে সচেতন নারীরা এ প্রথা মানে না।
উদ্দীপকে অনামিকার বিয়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে অনামিকা বিয়ের বাজারে নিজেকে পণ্য না হতে চাওয়ার কথা বলে। এ কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার পিতামাতা দুশ্চিন্তায় পড়ে পড়ে যান। শেষে অনামিকার বিয়ে হয় তাদের পাশের গ্রামের উচ্চশিক্ষিত তরুণ বিবেক রায়ের সঙ্গে। বিবেক রায়ের বাবা বিপুল পরিমাণ যৌতুক নিয়ে ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার কথা ভাবলেও ছেলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেই সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে পারেননি। এখানে অরায়িকার যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে তা হলো, নিজেকো যৌতুকের কবলে ফেলে পণ্য না করে যৌতুকবিহীন বিয়ে করতে চেয়েছে। এই বৈশিষ্ট্য ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। অনুপমের মামার অত্যধিক লোভ এবং তাদের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণের কারণে বিয়ে ভেঙে গেলে কল্যাণী মাতৃসেবা তথা দেশসেবার প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছে। তার এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও দৃঢ়তা উদ্দীপকের অনামিকা থেকে তাকে পৃথক করেছে।
d
“উদ্দীপকের বিবেক রায় ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের চেয়ে কার্যত অধিক সফল।”- মন্তব্যটি সম্পর্কে তোমার অভিমত যৌক্তিকভাবে তুলে ধর।
উত্তর
“উদ্দীপকের বিবেক রায় ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের চেয়ে কার্যত অধিক সফল।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের পরিপূর্ণ বিকাশ তার ব্যক্তিত্বে ধরা পড়ে। ন্যায়-অন্যায় বোধ না থাকলে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে না পারলে কেউ মর্যাদাবান হয় না। কাজেই বিচার-বুদ্ধিসম্পন্ন মানবিক মানুষই প্রকৃত শিক্ষিত।
‘অপরিচিতা’ গল্পে প্রথম পর্যায়ে অনুপমের ব্যক্তিত্বহীনতা এবং শেষ পর্যায়ে আবেগপ্রবণতা প্রকাশ পেয়েছে। কল্যাণীর সঙ্গে তার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার মূল কারণ তার ব্যক্তিত্বহীনতা এবং মানসিকতার দিক থেকে পরনির্ভরশীলতা। এ গল্পে তার মামার হীন ও লোভী মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বিয়ের আসরে সেকরা নিয়ে গিয়ে কনের শরীর থেকে গহনা খুলে যাচাই করতে চেয়েছেন। মামার ইচ্ছাকে অনুপম মৌন সমর্থন দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে উদ্দীপকের বিবেক রায় একজন বিবেকবানের পরিচয় দিয়েছে। সে যৌতুক ছাড়াই অনামিকাকে বিয়ে করেছে। এই দিক থেকে বিবেক রায় সফল হয়েছে।
অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম শেষ পর্যন্ত নিজের ভুল বুঝতে পেরে সবাইকে ছেড়ে কল্যাণীর কাছে ছুটে গিয়েছে। তখন কল্যাণী দেশসেবার ব্রত ভেঙে অনুপমকে বিয়ে করতে রাজি হয়নি। এ ক্ষেত্রেও উদ্দীপকের বিবেক রায় ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম অপেক্ষা দৃঢ়চেতা। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Question 08
তুমি কি এখন দেখিছ স্বপন
আমারে, আমারে, আমারে
খোলা এলোচুল মুখের দু’পাশে ছড়ায়ে,
তুমি ঘুমায়ে আছো কি
মোর দেওয়া সেই ঝরা মালা বুকে জড়ায়ে
স্বপনে দিলে কি ভুলিয়া
স্মৃতির দুয়ার খুলিয়া
আবার কি তারে ফিরে চাও তুমি
ফিরায়ে দিয়াছ যাহারে।
Rajshahi · 2024
a
কল্যাণীর পিতার নাম কী?
b
“এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি”- ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের সাদৃশ্য বিচার কর।
উত্তর
উদ্দীপকের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের কল্যাণীকে ঘিরে কল্পনাপ্রসূত ভাবনার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
মানুষের জীবনে চলার পথে অনেক সময় অনেককে ভালো লেগে যায়। এই ভালো লাগা থেকে প্রণয়ের সৃষ্টি হয়। প্রণয় থেকে হয় পরিণয়। কিন্তু কোনো সম্পর্ক পরিণয়ে পৌছাতে হলে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হয়। সম্মান করতে হয়। তা না হলে পরিণয়ের পরিবর্তে তা স্মৃতি হয়ে যায়।
‘অপরিচিতা’ গল্পের এমন এক স্মৃতিকাতর কল্পনাবিলাসী হলো অনুপম। যৌতুকের কারণে যখন কল্যাণীর সঙ্গে তার বিয়ে ভেঙ্গে যায় তখন অনুপম নির্বিকার থাকে। পরবর্তীতে অনুপম বুঝতে পারে কল্যাণী তার অন্তরে কতটা জুড়ে রয়েছে। সে কল্পনায় ভাবতে থাকে কল্যাণীও তাকে নিয়ে ভাবছে। তার দেওয়া ছবি কখনো লুকিয়ে দেখছে, আবার পিতার ভয়ে লুকিয়ে রাখছে। উদ্দীপকেও এমনই এক কল্পনার রূপ দেখা যাচ্ছে। এখানেও দেখা যায় কেউ একজন ভাবছে যে প্রেয়সী তাকে স্বপ্ন দেখছে। তার দেওয়া মালা বুকে জড়িয়ে রেখেছে। উদ্দীপকের ব্যক্তির এই ভাবনা ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের ভাবনারই অন্য রূপ। এভাবে উদ্দীপকের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের কল্যাণীকে ঘিরে কল্পনাপ্রসূত ভাবনার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
d
উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাবের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের নায়কের প্রেমবোধ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাবের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের নায়কের প্রেমবোধের অনেকাংশেই সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রেম মানবজীবনের এক আবশ্যক বিষয়। জীবনের কোনো কোনো পর্যায়ে ব্যক্তি হৃদয়ে প্রেমের স্ফুরণ ঘটে। তবে সব প্রেম পরিণয়ের হয় না। কিছু কিছু প্রেম অধরাই থেকে যায়। বিমূর্ত এই প্রেমে থাকে শুধু ভাবের সাধনা আর অপেক্ষার প্রহর।
‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মধ্য দিয়ে আমরা এমনই এক প্রেমের দর্শন দেখতে পাই। বিবাহ সম্বন্ধ ঠিক করার নিমিত্তে বন্ধু হরিশের কাছে কল্যাণীর বর্ণনা শুনেই সে কল্যাণীর প্রেমে পড়ে যায়। যৌতুক নিয়ে ঝামেলার ফলে কল্যাণীর সাথে অনুপমের বিয়ে ভেঙ্গে যায়। সে কল্যাণীকে এক নজর দেখতেও পায় না। কল্যাণীর চিন্তায় সে এতই মগ্ন হয় যে, সে ভাবতে থাকে কল্যাণীও হয়তো তাকে ভালোবাসে। সম্বন্ধ ভেঙ্গে গেছে বলে কল্যাণীও তার মতো কষ্ট পাচ্ছে। সে. কল্পনায় নানান কিছু ভাবতে থাকে। শেষে যখন সে কল্যাণীকে খুঁজে পায় তখন কল্যাণী বিবাহে আর রাজি হয় না। এত কাছে পেয়েও কল্যাণী চির অধরা রয়ে যায়।
উদ্দীপকেও যে প্রেমের স্বরূপ পাওয়া যায়, সেখানেও প্রেমের শাশ্বত রূপ পরিলক্ষিত হয়। সেখানেও দেখা যায়, প্রেয়সীকে নিয়ে নানা কল্পনা। সেই প্রেয়সীও অধরা। তার কাছেও প্রেমিক হৃদয় আশ্রয়প্রার্থী। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাবের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের নায়কের প্রেমবোধের সাদৃশ্য রয়েছে।
Question 09
মা-বোনের কথা শুনে সমর অকারণে সন্দেহ এবং পরে অত্যাচার শুরু করে লক্ষ্মীমন্ত সুন্দরী বউ শ্যামলীকে। তাকে গেঁয়ো, আনকালচার্ড, অপদার্থ ও অযোগ্য বউ হিসেবে প্রমাণ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে বারবার। এমনকি সমরের খাবারে বিষ মিশিয়েছে শ্যামলী বলে রব তোলে সমরের বোন। শ্যামলীর কথা উপেক্ষা করে সেই খাবার না খেয়ে ডাক্তার এনে খাবার পরীক্ষা করায় সমর। এবার শ্যামলী কোনো প্রতিবাদ না করে ঘর ছাড়ে। সমর যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচে। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই সমর একটা শূন্যতা অনুভব করতে থাকে। দুই মাস পর মা-বোনকে না জানিয়ে শ্যামলীকে ফিরিয়ে আনতে যায় সমর। সেখানে গিয়ে শুনতে পায়, এক মাস আগে শ্যামলী গার্মেন্টসে চাকরি নিয়ে ঢাকায় চলে গেছে। সমরও সেদিনই ঢাকায় চলে যায়।
Jessore · 2024
a
অনুপমের বাড়ি কোথায়?
b
“কই, কিছুই তো হয়নি বাবা।”- ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকের সমরের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের সাদৃশ্য কতটুকু?
উত্তর
উদ্দীপকের সমরের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের আংশিক সাদৃশ্য রয়েছে।
সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করার সৌভাগ্য অনেকেরই হয় না। এ কারণে অনেক সময় নিজের কাছের মানুষও দূরে চলে যায়। তবে কেউ কেউ তা বুঝতে পেরে নিজের ভুল সংশোধন করার প্রয়াস চালায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমর অন্যের কথায় স্ত্রী শ্যামলীকে অবিশ্বাস করে। তাঁর খাবারে বিষ মেশানোর সন্দেহে তা পরীক্ষাও করায়। এই যন্ত্রণায় কোনো প্রতিবাদ না করেই ঘর ছাড়ে শ্যামলী। ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি নেয় সে। প্রথমে সমর এতে হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেও অল্পদিনেই শ্যামলীর শূন্যতা অনুভব করে তার উদ্দেশ্যে ঢাকায় চলে যায়। অন্যদিকে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমকে ভালো-মন্দ কোনো ভূমিকাই গ্রহণ করতে দেখা যায় না। কল্যাণী ও তার পরিবারের প্রতি করা অপমানে সে কাপুরুষের মতো চুপ করে থাকে। তবে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পরও তাকে কল্যাণীর কথা ভাবতে দেখা যায়। এমনকি শেষ পর্যন্ত কল্যাণী বিয়েতে রাজি না হলেও অনুপম তার পাশেই জায়গা করে নিয়েছে। তার পাশেই থাকতে চেয়েছে। আর কেবল এই দিকটিতেই উদ্দীপকের সমরের সঙ্গে গল্পের অনুপমের সাদৃশ্য রয়েছে।
d
উদ্দীপকটির বিষয়বস্তু ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন অংশের প্রতিনিধিত্ব করে?- আলোচনা কর।
উত্তর
নারীর প্রতি অবমাননার মধ্য দিয়ে তাদের আত্মপ্রকাশের অংশে উদ্দীপকটির রিয়য়বস্তু ‘অপরিচিতা’ গল্পের প্রতিনিধিত্ব করে।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর অবমাননা নতুন কোনো বিষয় নয়। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীরা অবহেলা ও অবমাননার শিকার হচ্ছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে সারীরা এই অবস্থা থেকে তাদের উত্তরণের প্রচেষ্টা চালায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত শ্যামলী তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির মানুষের দ্বারা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাদের চরম অবমাননা সহ্য করতে না পেরে শ্যামলী ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়। সে গার্মেন্টসে চাকরি নিয়ে স্বনির্ভর হয়। নতুনরূপে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ বিষয়টিতে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর ক্ষেত্রেও কিছুটা মিল পাওয়া যায়। ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী যৌতুকের কারণে চরম অবমাননার শিকার হয়েছে। এর প্রতিবাদস্বরূপ কল্যাণীর পিতা মেয়ের বিয়ে ভেঙে দেন। পরবর্তী সময়ে নতুন রূপে কল্যাণীরও আত্মপ্রকাশ ঘটে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের সঙ্গে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর কল্যাণী বিয়ে না করে দেশের কল্যাণ কাজ করার পণ করে এবং সে কর্মীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে অসামান্য হয়ে ওঠে। প্রথমত অবমাননার শিকার হয়ে পরবর্তী সময়ে অবমানিত জীবনের লাঞ্ছনা ঘুচিয়ে আপন ভিতকে মজবুত করে শ্যামলী ও কল্যাণী। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটির বিষয়বস্তু ‘অপরিচিতা’ গল্পের নারীর অবমাননা ও উত্তরণের দিকটির প্রতিনিধিত্ব করে।
10
Question 10
গৌরী এমএ পাশ মেয়ে। লেখাপড়া শেষ করতে তার পঁচিশ বছর পেরিয়ে গেল। বিয়ের ব্যাপারে কয়েকবার আলোচনা এবং দেখাশোনা হলেও শেষ পর্যন্ত তার বিয়ে হয়নি। সে বর্তমানে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদে সমাজের অধিকারবঞ্চিত নারীদের আইনি সহায়তা দিচ্ছে। গৌরীর কাকা একদিন তাকে বিয়ের কথা বললেন। কিন্তু গৌরী তার কাকাকে বিনয়ের সাথে বলে, ‘নারীর কল্যাণে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
Comilla · 2024
a
‘অপরিচিতা’ গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
b
“তার পরে বুঝিলাম, মাতৃভূমি আছে।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকের গৌরীর সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর সাদৃশ্য- বৈসাদৃশ্য তুলে ধর।
উত্তর
উদ্দীপকের গৌরীর সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা বরাবরই অবহেলিত। । তাদের সব সময় পণ্য মনে করা হয়। তাদেরও যে আবেগ-অনুভূতি, মতামত দেওয়ার ইচ্ছা ও অধিকার আছে তা সমাজ বেমালুম ভুলে যায় কিন্তু বর্তমানে এমন অনেক নারী আছে যারা নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন।
‘অপরিচিতা’ গল্পে তেমনই এক নারী চরিত্রের প্রতিনিধি কল্যাণী। শেষ পর্যন্ত দেখা যায় সে নারীশিক্ষার ব্রতে ব্রতী হয়েছে, যা উদ্দীপকের। গৌরীর মধ্যে দৃশ্যমান। এদিক থেকে দুজনের মধ্যে সাদৃশ্য থাকলেও বেশ কিছু দিক দিয়ে বৈসাদৃশ্য রয়েছে। যেমন গৌরীকে দেখা যায় লেখাপড়া শেষ করে পঁচিশ বছর বয়স পেরিয়ে বিয়ের প্রসঙ্গ আসে। অন্যদিকে কল্যাণীর পনেরো বছর বয়সেই বিয়ের প্রসঙ্গ আসে। কল্যাণীর যেমন বিয়ের পিঁড়িতে বসে বিয়ে ভেঙে যায়, গৌরীর জীবনে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এভাবে গৌরী ও কল্যাণীর মধ্যে নারীমুক্তির ব্রতে ব্রতী হওয়ার বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও বেশ কিছু বৈসাদৃশ্যও রয়েছে।
d
“উদ্দীপকের গৌরী এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী উভয়েই মানবকল্যাণের পূজারি”- মন্তব্যটি যাচাই কর।
উত্তর
“উদ্দীপকের গৌরী এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী উভয়েই মানবকল্যাণের পূজারি”- মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের সমাজে নারী ও পুরুষ উভয়েরই অবস্থান। নারীকে পিছিয়ে রেখে পুরুষ যদি একাকী এগিয়ে চলে তাহলে ‘সমাজ বেশিদূর এগিয়ে যেতে পারবে না। সমাজের অগ্রগতি তখনই বেগবান হবে যখন নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাবে।
‘অপরিচিতা’ গল্পের অন্যতম চরিত্র কল্যাণী। বিয়ের আসরে অনুপমের মামা যখন কল্যাণীর গহনা পরীক্ষা করে বাবাকে অপমান করেছিল তখন সে ছিল নির্বিকার। পরে বাবার সিদ্ধান্তে’ সমর্থন জানিয়ে কল্যাণী অনুপমের সঙ্গে তার বিয়ে ভেঙে দেয়। সমাজে নারীদের এই যে অবমাননা এটা কল্যাণী মেনে নিতে পারেনি। তাই সে আর কোনো দিনও বিয়ে করবে না এমন সিদ্ধান্ত নেয়। সে নারী শিক্ষায় ব্রতী হয়। সে উপলব্ধি করে নারীরা শিক্ষিত হলে সমাজে তাদের অবমাননা সইতে হবে না। বরং সমাজ গঠনে নারীরা আরও এগিয়ে আসবে যার ফলে সমাজ ও মানবের কল্যাণ সাধন হবে।
উদ্দীপকের গৌরীকেও দেখা যায় সে নারীর কল্যাণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আর নারীর কল্যাণ হলে সমাজের কল্যাণ হবে। ‘অপরিচিতা’ গল্পে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মানুষের হীন মানসিকতায় কল্যাণী বিরক্ত হয়ে বিয়ে না করার পণ করে। দেশের সেবা করার লক্ষ্যে মেয়েদের শিক্ষিত করার ব্রত গ্রহণ করে। এই বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপকের গৌরী এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী উভয়েই মানবকল্যাণের পূজারি। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ।
11
Question 11
তার বড় মেয়ে যুঁথিকার বিয়ে না হলে অন্য দু’মেয়েরও বিয়ে হবে না- এমন মনে হলেই রায়হান সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু সম্প্রতি যুথিকা ক্যান্সার চিকিৎসার ওপর গবেষণার জন্য জার্মান সরকারের বৃত্তি লাভ করায় বাড়িতে পাত্রের হাট বসে গেছে। কিন্তু যুথিকার একটাই কথা- দেশের কল্যাণ আমার প্রধান লক্ষ্য। বিয়ের কথা এখন একদমই ভাবছি না।
Chittagong · 2024
a
বেহাই সম্প্রদায়ের কী থাকা দোষের?
b
“নিতান্ত এক ছেলে বলিয়া মা আমাকে ছাড়িতে পারেন নাই।” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
c
উদ্দীপকের যুঁথিকার সাথে কল্যাণীর চরিত্রের সাদৃশ্যগত দিকগুলো আলোচনা কর।
উত্তর
বিয়ে করতে না চাওয়া এবং দেশ সেবার পণ গ্রহণের দিক থেকে উদ্দীপকের যুঁথিকার সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর সাদৃশ্য রয়েছে।
আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ রয়েছে, যাদের দেশাত্মবোধ অত্যন্ত প্রবল। সংগত কারণেই এ ধরনের ব্যক্তিবর্গ দেশ ও দশের কল্যাণকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। দেশমাতৃকার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও মমত্ববোধই তাদের এমন অবস্থানের কারণ।
উদ্দীপকে যুঁথিকা নামের এক মেধাবী তরুণীর কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি ক্যান্সার গবেষণার জন্য জার্মান সরকারের বৃত্তি লাভ করায় বিভিন্ন জায়গা থেকে তার বিয়ের জন্য প্রস্তাব আসে। এমতাবস্থায় যুঁথির বাবা তার বিয়ের কথা ভাবলেও দেশ সেবাকে প্রাধান্য দিয়ে এ সময় সে বিয়ে করতে অপারগতা জানায়। একইভাবে, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীও বিয়ের চিন্তা ত্যাগ করে নারীদের শিক্ষিত করে তোলার মাধ্যমে দেশসেবার পণ করে। এ কারণেই সে অনুপমকে ফিরিয়ে দেয়, যা উদ্দীপকের যুথিকার মনোভাবকেই তুলে ধরে। এসব দিক থেকে তাদের চরিত্রের সাদৃশ্য প্রতীয়মান হয়।
d
“উদ্দীপকেও ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুরূপ নারী স্বাধীনতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।”- উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
“উদ্দীপকেও ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুরূপ নারী স্বাধীনতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।”- উক্তিটি যথার্থ।
এক সময় এ দেশের নারীদের মত প্রকাশের তেমন স্বাধীনতা ছিল না। সেসময় সমাজের সর্বত্রই তারা ছিল অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। তবে কালের বিবর্তনে আজ নারীরা অনেকটাই স্বাধীন। স্পষ্টভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করা ছাড়াও সমাজের সর্বস্তরে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মামার হীন মানসকিতার কারণে কল্যাণীর সঙ্গে অনুপমের বিয়ে ভেঙে যায়। বহুদিন পরে সে কল্যাণীকে দেখে তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তাকে বিয়ে করতে চায়। তখন কল্যাণী তাকে ক্ষমা করলেও বিয়ে করতে রাজি হয় না। কল্যাণীর এই চেতনার সঙ্গে উদ্দীপকের চেতনাগত সাদৃশ্য বিদ্যমান। উদ্দীপকের যুঁথিকা একজন স্বাধীনচেতা ও আত্মপ্রত্যয়ী নারী। নিজের চেষ্টা ও মেধার গুণে সে লক্ষ্যে পৌঁছেছে। তার চেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে সে ক্যান্সার গবেষণার জন্য জার্মান সরকারের বৃত্তি লাভ করে। শুধু তাই নয়, তার বাবা তাকে বিয়ে দিতে চাইলেও দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সে এ সময় বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। এমন অবস্থান তার স্বাধীনচেতা মনোভাবকেই তুলে ধরে। ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর ক্ষেত্রেও বিষয়টি একইভাবে লক্ষ করা যায়।
‘অপরিচিতা’ গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র কল্যাণী। এ গল্পে কল্যাণী একজন আত্মপ্রত্যয়ী ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী। অনুপমের সঙ্গে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর সে বিয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করে। পরবর্তী সময়ে অনুপমের অনুরোধ সত্ত্বেও তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি: জানিয়েছে, যা উদ্দীপকের যুঁথিকার কর্মকাণ্ডেও প্রকাশ পেয়েছে। এমন আচরণ তাদের দৃঢ়সংকল্প এবং স্বাধীনচেতা মনোভাবকেই তুলে ধরে। এ দিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
12
Question 12
জান তোমরা? যেদিন অযোধ্যার লোকেরা সীতাকে বিসর্জন দিবার দাবি করিয়াছিল তাহার মধ্যে আমিও যে ছিলাম। আর সেই বিসর্জনের গৌরবের কথা যুগে যুগে যাহারা গান করিয়া আসিয়াছে আমিও যে তাদের মধ্যে একজন। আর, আমিও তো সেদিন লোকরঞ্জনের জন্য স্ত্রী পরিত্যাগের গুণ বর্ণনা করিয়া মাসিকপত্রে প্রবন্ধ লিখিয়াছি। বুকের রক্ত দিয়া আমাকে যে একদিন দ্বিতীয় সীতা বিসর্জনের কাহিনি লিখিতে হইবে সে কথা কে জানিত।
Barisal · 2024
a
বরযাত্রীর দল কীসের পালা সেরে বের হয়ে গেল?
b
“তবে আপনাদের গাড়ি বলিয়া দিই”- উক্তিটি কাকে উদ্দেশ্য করে কেন করা হয়েছে?
c
উদ্দীপকের কথকের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের সাদৃশ্য বর্ণনা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের কথকের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের সাদৃশ্য রয়েছে।
যথার্থ মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ কখনোই অসংগতিকে মেনে নিতে পারেন না। যদি বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের কেউ হন তবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। আর যদি তিনি ব্যক্তিত্বহীন, হন তাহলে তার জীবন হয়ে পড়ে দুর্বিষহ ও হতাশাগ্রস্ত।
উদ্দীপকের কথক বলছেন যে, অযোধ্যার লোকেরা যেদিন সীতাকে বিসর্জন দেওয়ার দাবি করেছিল সেদিন তাদের মধ্যে তিনিও ছিলেন। সেই বিসর্জনের গৌরবের কথা যুগে যুগে যারা গান করে আসছে তাদের মধ্যে তিনিও একজন। আবার তিনি লোকরঞ্জনের জন্য স্ত্রী পরিত্যাগের গুণ বর্ণনা করে মাসিকপত্রে প্রবন্ধও লিখেছেন। অন্যদিকে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম একজন ব্যক্তিত্বহীন মানুষ। সে তার মা ও মামার সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারে না। নিজের বিয়েতে তার মামার অন্যায়ভাবে সেকরা ডেকে কনেপক্ষের সোনা পরখ করিয়ে দেখার মতো অন্যায় সিদ্ধান্তেও সে কোনো প্রতিবাদ করেনি। এভাবে উদ্দীপকের কথকের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের সাদৃশ্য রয়েছে।
d
“উদ্দীপকের কথক এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম স্বীয় ব্যক্তিত্ববোধের জায়গা থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রতিবাদ করলে দুজনের জীবনই সুন্দর হতে পারত।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
“উদ্দীপকের কথক এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম স্বীয় ব্যক্তিত্ববোধের জায়গা থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিবাদ করলে দুজনের জীবনই সুন্দর হতে পারত।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ সৎ সাহস ও উন্নত মানসিকতার হয়ে থাকে। সে কখনো কোনো অন্যায় আচরণ ও অসংগতিকে মাথা পেতে সহ্য করে না। বরং সাহস দিয়ে এগুলোর প্রতিবাদ করে। ফলে সে কখনোই আত্মদ্বন্দ্বে ভোগে না, হতাশাগ্রস্ত হয় না। ফলে তার জীবন হয় সুন্দর ও সম্ভাবনাময়।
উদ্দীপকের কথক, অযোধ্যার লোকদের অন্যায় দাবি সীতাকে বিসর্জনের বিষয়টি সমর্থন করেছেন। এটি অন্যায় জেনেও এর পক্ষে তিনি গান করেছেন। প্রবন্ধ লিখেছেন। ফলে এর পরিণতি স্বরূপ তাকে বুকের রক্ত দিয়ে সীতা বিসর্জনের কাহিনি লিখতে হয়েছে। অথচ তিনি যদি নিজের ব্যক্তিত্ববোধের জায়গা থেকে প্রথমেই সীতা বিসর্জনের প্রতিবাদ করতেন তাহলে শেষে তার এমন পরিণতি হতো না। ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মাঝেও একই পরিণতি লক্ষ করা যায়। অনুপমও একজন ব্যক্তিত্বহীন পুরুষের মতো তার লোভী মামার সকল অন্যায় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। নিজের বিয়েতে মামা কনেপক্ষের সোনা পরীক্ষা করে দেখার জন্য সেকরা আনলেও অনুপম তার প্রতিবাদ করেনি। ফলে বিয়েবাড়ি থেকে তাকে অপমানিত হয়ে বিয়ে না করেই ফিরে আসতে হয়।
‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম যদি ব্যক্তিত্ববোধের জায়গা থেকে মামার অন্যায় আচরণে প্রতিবাদ করত তাহলে বিয়েবাড়ি থেকে তাকে এভাবে অপমানিত হতে হতো না, কল্যাণীকে বিয়ে করে সে সুখে-শান্তিতে জীবন কাটাতে পারত। আবার উদ্দীপকের কথকও যদি ব্যক্তিত্বের জায়গা থেকে প্রতিবাদ করতেন তাহলে তারও এমন করুণ পরিণতি হতো না। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
13
Question 13
রুনু সুন্দরী ও উচ্চ শিক্ষিতা। পরিবারের চাপে সে নিম্নমধ্যবিত্ত, চাকরিরত মেহরাবের সঙ্গে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়েতে সম্মত হয়। বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়ার পর মেহরাবের চাচা দুলু অকস্মাৎ বললেন, “পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক না পেলে’ আমরা সহসা পাত্রীকে ঘরে তুলে নেব না।” বিয়ের আসরে যৌতুকের বিষয়টি জানার পর রুনু তার হবু স্বামী মেহরাবকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি হয় না। রুনুর দৃঢ়তায় বিয়েটি ভেঙে যায়। সমাজের চোখে মেহরাব একাধারে ব্যক্তিত্বহীন ও যৌতুকপ্রথার সমর্থক হিসেবে বিবেচিত হয়।
Mymensingh · 2024
a
ঠাট্টার সম্পর্ককে কে স্থায়ী করতে চাননি?
b
অনুপম তার মামাকে ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলেছে কেন?
c
উদ্দীপকের মেহরাবের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের যে চরিত্রের সাদৃশ্য আছে তা তুলে ধর।
উত্তর
উদ্দীপকের মেহরাবের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের সাদৃশ্য রয়েছে।
যথার্থ মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ কখনোই সমাজের কোনো অসংগতি ও অন্যায়কে মেনে নিতে পারে না। আর যারা এগুলো মেনে নেয় তারা মূলত ব্যক্তিত্বহীন ও কাপুরুষ মানুষের প্রতিনিধি।
উদ্দীপকের মেহরাব তার বিয়েতে তার চাচা দুলু মোটা অংকের টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করলেও তার কোনো প্রতিবাদ করেনি। ফলে বিয়ের আসরে যৌতুকের বিষয়টি জানার পর কনে রুনু মেহরাবকে বিয়ে করতে রাজি হয়নি। এভাবে মেহরাব সমাজের চোখে একাধারে ব্যক্তিত্বহীন ও যৌতুক প্রথার সমার্থক হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমও তার বিয়েতে ব্যক্তিত্বহীন মানুষের পরিচয় দিয়েছে। কনেপক্ষের গহনা পরীক্ষা করার মতো জঘন্য কাজ তার মামা করতে চাইলেও সে তার প্রতিবাদ করেনি। ফলে এমন ব্যক্তিত্বহীন পুরুষের কাছে কনের পিতা শম্ভুনাথ মেয়ের বিয়ে না দিয়ে বরযাত্রীকে বিদায় করে দেন। এভাবেই অনুপম বিয়ের আসর থেকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়। এভাবে উদ্দীপকের মেহরাবের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের সাদৃশ্য রয়েছে।
d
“উদ্দীপকের রুনু ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর চেয়েও সাহসী ও প্রতিবাদী” – বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
“উদ্দীপকের রুনু ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর চেয়েও সাহসী ও প্রতিবাদী।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের সমাজে নারীদেরকে অনেক দিক দিয়ে অবমূল্যায়ন করা হয়। বিশেষত বিয়ের ক্ষেত্রে বরপক্ষ কনেপক্ষের কাছে মোটা অংকের যৌতুক দাবি করে। তবে কিছু সাহসী নারী এসব অন্যায় মুখ বুজে সহ্য না করে প্রতিবাদী হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যায়।
উদ্দীপকের রুনু সুন্দরী ও উচ্চশিক্ষিতা হয়েও পরিবারের চাপে সে নিম্ন মধ্যবিত্ত, চাকরিরত মেহরাবের সঙ্গে বিয়েতে সম্মত হয়। বিয়েতে বরের চাচা দুলু হঠাৎ মোটা অংকের টাকা যৌতুক দাবি করলে বিয়ের আসর থেকে রুনু প্রতিবাদ করে এবং মেহরাবকে বিয়ে করতে রাজি না হয়ে বিয়ে ভেঙে দেয়। ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর মধ্যেও রুনুর মতো প্রতিবাদ লক্ষ করা যায়। তবে এক্ষেত্রে রুনু কল্যাণীর চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে। কেননা উদ্দীপকের রুনু নিজে থেকেই যৌতুকের এই অন্যায় সিদ্ধান্তকে মেনে না নিয়ে মেহরাবকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে যা একজন নারীর পক্ষে খুবই কঠিন। অন্যদিকে কল্যাণী কেবল তার বাবার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অনুপমকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে যায়।
‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী তার বাবার মতামতের ভিত্তিতে অনুপমকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে যায়। অন্যদিকে উদ্দীপকের রুনু তার বিয়েতে বরপক্ষের যৌতুকের কথা জানতে পেরে বিয়ের আসর থেকে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে নিজের বিয়েটা ভেঙে দেয়। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Question 14
নিবেদিতা তার স্বামী প্লাবনসহ বইয়ের দোকানে এসে অবাক হলেন। ফোনে নিবেদিতা বই বিক্রেতাকে বইয়ের নাম, সংখ্যা, প্রকাশনী, কমিশন এবং সরবরাহের তারিখ প্রভৃতি বিষয়ে বিস্তারিত সব বলে দিয়েছিলেন। কিন্তু দোকানদার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বই সরবরাহের ন্যূনতম প্রস্তুতিও নেননি। এক পর্যায়ে দোকানদার প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করলে নিবেদিতা মোবাইল থেকে প্রমাণ উপস্থাপন করলেন। প্লাবনের অনুরোধে নিবেদিতা দোকানদারের সাথে আর তর্কে জড়ালেন না।
Dhaka · 2023
a
হরিশ কোথায় কাজ করে?
b
“সেজন্য কিছু ভাবিবেন না – এখন উঠুন।” উক্তিটিতে বক্তার মনোভাব ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকের প্লাবন ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মধ্যে সাযুজ্য নির্ণয় কর।
উত্তর
উদ্দীপকের প্লাবন ও অপরিচিতা গল্পের অনুপম দুইজনই চরম সিদ্ধান্তের সময় নিশ্চুপ থেকেছে। চোখের সামনে অন্যায় দেখে ও কোন প্রতিবাদ করেনি। উদ্দীপকের প্লাবন ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মধ্যে সাযুজ্য লক্ষ্য করা যায়। নিচে তা তুলে ধরা হলো:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা অপরিচিতা গল্পে অনুপম হলো এমন একটা চরিত্র যে পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায় এক পুতুল মাত্র। তার বিয়ে উপলক্ষে যৌতুক নিয়ে কনে পক্ষের উপর চরম অবমাননা করা হয়। তার চোখের সামনে ঘটে যাওয়া নারীর এমন অপমানজনক পরিস্থিতিতে শিক্ষিত ও মার্জিত অনুপম এর কোন প্রতিবাদ করেনি। সে সম্পূর্ণ পরিস্থিতিতে নীরব থেকে নিজের ব্যক্তিত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।
উদ্দীপকের প্লাবন বই কিনতে গিয়ে বিক্রেতার অসাধু আচরণের শিকার হয়েও কোন প্রতিবাদ করেনি। উল্টো তার স্ত্রীকে প্রতিবাদ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছে। অন্যায় সামনে দেখেও নীরব ভূমিকা পালন করেছে।
উদ্দীপকের প্লাবন তাই অনুপমের ব্যক্তিত্বহীনতা ও কাপুরুষতার প্রতিনিধিত্ব করছে।
d
উদ্দীপকটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূলভাবকে ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।”- মন্তব্যটির পক্ষে তোমার যুক্তি তুলে ধর।
উত্তর
“উদ্দীপকটি অপরিচিতা গল্পের মূলভাবকে ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে” – উক্তিটি যথার্থ হয়েছে।
অপরিচিতা গল্পে একজন বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের নারীর কাহিনী বর্ণিত হয়েছে যার নাম কল্যাণী। এ গল্পে যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নারী পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের দৃষ্টান্ত উদ্ধৃত হয়েছে। গল্পে বিয়ের লগ্নে কন্যার গায়ের স্বর্ণ খুলে নিয়ে যাচাইকরণ ও যৌতুকের কারণে কনেপক্ষকে হেয় করা হয়েছিল। এমতাবস্থায় অনুপম, যে কিনা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করা যুবক হওয়া সত্ত্বেও তার ব্যক্তিত্বহীনতার প্রকাশ ঘটিয়েছিল যৌতুকপ্রথার মতো অন্যায় প্রথার প্রতিবাদ না করে। কিন্তু কল্যাণী ও তার পিতা শম্ভুনাথ সেন এই অসংগতি ও অনাচারের প্রতিবাদে বিয়ে প্রত্যাখ্যান করে আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তিত্বের পরিচয় প্রকাশ করেন।
অপরপক্ষে, উদ্দীপকের প্লাবন ও তার স্ত্রী নিবেদিতা বইয়ের বিক্রেতার অসাধু কর্মের শিকার হন। প্রতিবাদে নিবেদিতা বিক্রেতার সঙ্গে তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়লে প্লাবন নিবেদিতাকে ঝঞ্ঝাট করতে বিরত থাকতে বলেন। এতে তার দুর্বলচিত্ত ও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়ার মানসিকতা প্রকাশ পায়।
তবে এক্ষেত্রে প্লাবনের ব্যাক্তিত্বহীনতার কারণে নিবেদিতা প্রতিবাদ করেও ব্যর্থ হয়েছে। সে স্বামীর কারণে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Question 15
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রী গীতা রাণী সরকার। লেখা-পড়া শেষ করতেই ২৭ বছর পেরিয়ে গেল। বিয়ের ব্যাপারে কয়েকবার সম্বন্ধ আসে এবং দেখাশুনা হলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে হয়নি। গীতা রাণী লেখা-পড়া শেষে একটি স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সমাজে অবহেলিত, পশ্চাৎপদ নারীদের গভীর মনোযোগ সহকারে শিক্ষাদান করেন। হঠাৎ প্রতিবেশি কালীচরণ রায় একটি সম্বন্ধ নিয়ে আসে। গীতা তাকে বিনয়ের সঙ্গে জানান- সে এখন আর বিয়ে করতে পারবে না। কারণ সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের শিক্ষার গুরু দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন।
Barisal · 2023
a
অনুপমকে ‘মাকাল’ ফলের সাথে তুলনা করে বিদ্রুপ করেছিল কে?
b
“একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুক ভাঙা পণ”-এ কথার অর্থ বুঝিয়ে লেখ।
c
উদ্দীপকের গীতা রাণীর সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর সাদৃশ্য আলোচনা কর ।
উত্তর
উদ্দীপকে গীতার রানীর সাথে অপরিচিতা গল্পের কল্যাণীর সাদৃশ্য রয়েছে। তারা উভয়ই স্বাধীনচেতা মনোভাবের এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদী। এছাড়াও তারা নারীর কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।
অপরিচিতা গল্পে নায়িকা কল্যাণী এর মধ্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার এক ধরনের মনোভাব ফুটে উঠেছে। সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এবং ভবিষ্যতে নারীদের কল্যাণমূলক কাজের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই গীতা রানী সরকার। সে তার গ্রামের স্বল্প শিক্ষিত মহিলাদের কল্যাণে নিজেকে নিযুক্ত করছেন। তিনি গ্রামের পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে কাজ করছেন।
সুতরাং উদ্দীপক এবং কল্যাণী মধ্যে সমাজে নারীদের নিয়ে কাজ করার উদ্যোগটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
d
উদ্দীপকের গীতা রাণীর বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জাগরণ ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর বুদ্ধিদীপ্ততার আত্মপ্রকাশ – তুমি কি এ মত সমর্থন কর? যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর
উদ্দীপকের গীতা রাণীর বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জাগরণ ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর বুদ্ধিদীপ্ততার আত্মপ্রকাশ – আমি এক মত সমর্থন করি।
“অপরিচিতা” গল্পে অপরিচিতা বিশেষণের আড়ালে যে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী নারীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, তার নাম কল্যাণী পৃথিবীর মোট জনশক্তির অর্ধেক নারী। তাই তাদের দমিয়ে রেখে কোনো জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। ঘরের কোণে বন্দি না থেকে নারীরা আজ পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকল কাজের অংশীদার হয়ে উঠছে। গল্পের শেষাংশে কল্যাণীর বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জাগরণ ও শুচিশুভ্র আত্মপ্রকাশ দেখা যায়, যা ভবিষ্যতের নতুন নারীর আগমনী ইঙ্গিতে সমাপ্ত।
উদ্দীপকে গীতা রানী সরকার, গ্রামের একজন শিক্ষিত নারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হয়ে গ্রামের স্বল্প শিক্ষিত মানুষদের নিয়ে কাজ করতে চেয়েছেন। সেই লক্ষ্যে তিনি গ্রামের মহিলাদের শিক্ষিত করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এক্ষেত্রে উদ্দীপক এবং অপরিচিতা গল্পের কল্যাণী উভয়ের মধ্যে বলিষ্ঠ জাগরন ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটে।
Question 16
অতুলনীয় মাতৃস্নেহের উত্তাপে সন্তানের পরিপুষ্টি, তাহারই আধিক্যে সে অসহায় হইয়া পড়ে। মাতৃস্নেহের প্রাবাল্যে মানুষ আপনাকে হারাইয়া আসল শক্তির মর্যাদা বুঝিতে পারে না। নিয়ত মাতৃষেহের অন্তরালে অবস্থান করিয়া আত্মশক্তির সন্ধান সে পায় না—দুর্বল অসহায় পক্ষীশাবকের মতো চিরদিন স্নেহাতিশয্যে আপনাকে সে একান্ত নির্ভরশীল মনে করে। ক্রমে জননীর পরম সম্পদ সন্তান অলস, ভীরু, দুর্বল ও পরনির্ভরশীল হইয়া মনুষ্যত্ব বিকাশের পথ হইতে দূরে সরিয়া যায়।
Dinajpur · 2023
a
রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ গল্পের নাম কী?
b
‘একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুকভাঙা পণ’ – ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকে বর্ণিত সন্তানের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখা কর।
উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সন্তানের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম চরিত্রটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
অপরিচিতা’ গল্পের নায়ক অনুপম। নায়ক হলেও তার মধ্যে নায়কোচিত গুণতো নেইই, পুরুষোচিত গুণেরও অভাব ছিল। শিক্ষিত হলেও সে ছিল ব্যক্তিত্বহীন। অন্যদিকে নারী চরিত্র কল্যাণী ও তার বাবা শম্ভুনাথ সেন ছিলেন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন নি কখনো, মাথা নত করেন নি।
গল্পে অনুপমের লোভী মামার অশোভন আচরণ তৎকালীন বাঙালি সমাজকে প্রতিফলিত করেছে।
গল্পের শুরুতে অনুপমের পরিচয় পাওয়া যায়, অনুপম দেখতে সুশ্রী ছিল। কিন্তু গুণহীনতার কারণে শিক্ষক তাকে শিমুল ফুল ও মাকাল ফলের সাথে তুলনা করতেন। পিতার মৃত্যুর পর মায়ের স্নেহেই অনুপম বড় হয়। অনুগত সন্তান বলেই কখনো মাতৃআজ্ঞার বাইরে যাওয়ার সুযোগ তার ছিল না। কিন্তু তার আসল অভিভাবক ছিলেন মামা। যিনি অনুপমদের সংসারের সবকিছুর ভার কাঁধে নিয়েছিলেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত, অতুলনীয় মাতৃস্নেহের উত্তাপে সন্তানের পরিপুষ্টি, তাহারই আধিক্যে সে অসহায় হইয়া পড়ে। মাতৃস্নেহের প্রাবাল্যে মানুষ আপনাকে হারাইয়া আসল শক্তির মর্যাদা বুঝিতে পারে না।
অপরিচিতা গল্পে অনুপমের মধ্যে উপরোক্ত চরিত্রটি ফটো উঠেছে।
d
উদ্দীপকের ইতিবাচক মর্মার্থ উপলব্ধির মানসিকতাই ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের পরিবর্তিত জীবনভাবনার উপায় হিসেবে কাজ করেছে।” মন্তব্যটির সার্থকতা বিচার কর।
উত্তর
উদ্দীপকের ইতিবাচক মর্মার্থ উপলব্ধির মানসিকতাই ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের পরিবর্তিত জীবনভাবনার উপায় হিসেবে কাজ করেছে।”
‘অপরিচিতা’ গল্পটি নারীর মর্যাদাপ্রতিষ্ঠায় নিযুক্ত। মর্যাদাপ্রতিষ্ঠায় নারীর যে বিদ্রোহ, গল্পে লেখক তারই পটে নারীর দৈহিক নয়, মানসিক সৌন্দর্য দেখিয়েছেন। ‘অপরিচিতা’ গল্পে নায়িকা কল্যাণীর বিদ্রোহ-প্রয়াসে অংশীদার তার পিতা শম্ভুনাথ সেন। শম্ভুনাথের কন্যা কল্যাণীর বিয়ে ঠিক হয়েছে কলকাতার এক এমএ পাশ যুবকের সঙ্গে। বরের অভিভাবক তার মামা। তার মামার চোখের চামড়া ছিল না। পণের টাকা এবং দরদস্তুরি আগেই ঠিক ছিল। শম্ভুনাথ লোকটির ব্যবহার ঠাণ্ডা। পাত্রীপক্ষের সাথে নির্লজ্জ দরাদরি, স্বর্ণালঙ্কার সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ, নিজের সেকরাকে দিয়ে সেই অলঙ্কার পরীক্ষা করানোয় যে ইতরতা প্রকাশ পেয়েছে, মেরুদণ্ডহীন নায়ক তাতে সায় দিয়েছে।
ফলে কন্যার পিতা বিয়ে ভেঙে দিয়েছেন। বিয়ের লগ্ন যখন প্রস্তুত তখন কন্যার লগ্নভ্রষ্ট হওয়ার লৌকিকতাকে অগ্রাহ্য করে শম্ভুনাথ সেনের নির্বিকার অথচ বলিষ্ঠ প্রত্যাখ্যান নতুন এক সময়ের আশু আবির্ভাবকেই সংকেতবহ করে তুলেছে। কর্মীর ভূমিকায় বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জাগরণের মধ্য দিয়ে গল্পের শেষাংশে কল্যাণীর শুচিশুভ্র আত্মপ্রকাশও ভবিষ্যতের নতুন নারীর আগমনীর ইঙ্গিতে পরিসমাপ্ত।
‘অপরিচিতা’ মনস্তাপে ভেঙেপড়া এক ব্যক্তিত্বহীন যুবকের স্বীকারোক্তির গল্প, তার পাপস্খালনের অকপট কথামালা। অনুপমের আত্মবিবৃতির সূত্র ধরেই গল্পের নারী কল্যাণী অসামান্যা হয়ে উঠেছে। গল্পটিতে পুরুষতন্ত্রের অমানবিকতার স্ফুরণ যেমন ঘটেছে, তেমনি একই সঙ্গে পুরুষের ভাষ্যে নারীর প্রশস্তিও কীর্তিত হয়েছে।
17
Question 17
লাবণীর বিয়ে। তার বাবা বলল, ‘ছেলেপক্ষ এত ভালো যে, তারা কিছুই চায় না। কিন্তু আমার মন মানে না। এতবড়ো বাড়িতে তোকে খালি হাতে পাঠাই কী করে! তাই ভাবছি- যত ইলেকট্রনিক্স লাগে, সব তোর সঙ্গে পাঠাব।’ লাবণী দৃঢ়কণ্ঠে বলল, ‘না! আমার বিয়েটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাক, বাবা।’
Chittagong · 2023
a
কল্যাণীর বিয়ের গহনাগুলো কোন আমলের?
b
‘ছোটোদের সঙ্গে সে অনায়াসে এবং আনন্দে ছোটো হইয়া গিয়াছিল।’- উক্তিটির তাৎপর্য বর্ণনা করো।
c
উদ্দীপকের বাবা চরিত্রের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের শম্ভুনাথ সেনের তুলনা করো।
উত্তর
চরিত্রগত বৈশিষ্ট্যের কারণে উদ্দীপকের বাবা চরিত্রের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের শম্ভুনাথ সেনের চরিত্র পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। ‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ সেন একজন ব্যক্তিত্ববান মানুষ। বিয়ের অনুষ্ঠানে অনুপমের মামার আচরণে অপমানিত বোধ করায় তিনি বরপক্ষকে খাবার খাইয়ে বিদায় করে দেন। ফলে বিয়ে ভেঙে যায়। পরবর্তীতে কল্যাণী ও শম্ভুনাথ বাবুর কাছে অনুপম বিগত ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইলে শম্ভুনাথ সেন ক্ষমা করে দেন। গল্পে শম্ভুনাথ স্পষ্টবাদী ও সুপুরুষ। উদ্দীপকের লাবণীর বাবা বিয়েতে খালি হাতে মেয়েকে পাঠাতে চান না। তিনি ভাবলেন, যত ইলেকট্রনিকস লাগে তিনি তা মেয়ের সঙ্গে পাঠাবেন। উদ্দীপকের লাবণীর বাবা শম্ভুনাথ সেনের মতো দৃঢ়চিত্ত ও ব্যক্তিত্ববান নন। লাবণীর বাবা উপযাচিত হয়ে মেয়ের বিয়েতে যৌতুক দিতে চান। তার কথায় মনে হয় বরপক্ষ যৌতুক দাবি করলেও তার খুব একটা আপত্তি হতো না। তিনি মেয়ের জন্য সব ইলেকট্রনিকস সামগ্রী দিতে প্রস্তুত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বাবা চরিত্রের সঙ্গে, ‘অপরিচিতা’ গল্পের শম্ভুনাথ সেনের চরিত্র তুলনামূলক বিচারে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।
d
উদ্দীপকের লাবণী ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দেখাও।
উত্তর
উদ্দীপকের লাবণী ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর পুরোপুরি প্রতিনিধিত্ব করে না।
‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী কন্যা হিসেবে ছিল বেশ সুন্দর ও প্রাণচঞ্চলা। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার একপর্যায়ে দেনা-পাওনার, কারণে সব আনন্দ-আয়োজন ম্লান হয়ে যায়। অনুপমের মামার আচরণে অপমানিত বোধ করেন কল্যাণীর বাবা। ফলে তিনি বরপক্ষকে খাইয়ে বিদায় করে দেন। সব ক্ষেত্রে অনুপম নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। অনুপম পরবর্তী সময়ে ক্ষমা চাইলেও কল্যাণী তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় সে আর বিয়ে করবে না।
উদ্দীপকের লাবণীর বাবা মেয়ের বিয়েতে মেয়েকে খালি হাতে বরের বাড়ি পাঠাতে চান না। তার মতে ছেলে পক্ষ অনেক ভালো যে, তারা কিছুই চায় না। তাই তিনি সব ধরনের ইলেকট্রনিকস সামগ্রী পাঠাতে চান। কিন্তু লাবণী অস্বীকৃতি জানিয়ে বলে তার বিয়ে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে লাবণীর দৃঢ় ব্যক্তিত্বের পরিচয় ফুটে উঠেছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণীর ব্যক্তিত্ব ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যতটা প্রকাশিত হয়েছে উদ্দীপকে লাবণীর ক্ষেত্রে তেমন ততটা পরিচয় আমরা পাই না। কল্যাণী গাড়িতে সিট নিয়ে যে প্রতিবাদ করেছে তা নজীরবিহীন। অনুপম ও তার মাকে ডেকে জায়গা করে দিয়েছে। কল্যাণীর ব্যবহারে অনুপমের মা মুগ্ধ হয়েছিলেন। দৃঢ়চিত্ত কল্যাণী বিয়ের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নারী শিক্ষার পেছনে জীবন উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেয়। উদ্দীপকের লাবণী প্রতিবাদী হলেও কল্যাণীর চরিত্রের মতো মহিমান্বিত হয়ে ওঠেনি। তাই উদ্দীপকের লাবণী ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না।
18
Question 18
পড়াশুনা শেষ করে সবিতা এখন গ্রামের একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। বছর কয়েক আগে শহরের এক ধনী ব্যবসায়ীর ছেলের সাথে তাঁর বিবাহ স্থির হয়। পাত্রপক্ষ বিয়েতে মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি করলে তাঁর আত্মসম্মানে আঘাত লাগে। সবিতা নিজেই যৌতুককে প্রত্যাখ্যান করে বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। পিতা-মাতা ও সহকর্মীদের অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি তাঁর চিন্তা চেতনায় কোনো পরিবর্তন আনেননি। তিনি ছাত্র-ছাত্রীর প্রাণ। মায়ের মতো ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখেন সবাইকে। তিনি বলেন, “দেশকে মাতৃজ্ঞানে সেবা করা, দেশকে ভালোবাসা প্রত্যেকের কর্তব্য।” পরহিতে জীবন উৎসর্গ করাই তাঁর ধর্ম।
Dhaka · 2022
a
অনুপমের বন্ধু হরিশ কোথায় কাজ করে?
b
“এইটে একবার পরখ করিয়া দেখো।” ব্যাখ্যা কর।
c
“উদ্দীপকের ‘সবিতা’ ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের ‘কল্যাণী’ উভয়েই যৌতুকের শিকার। ” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
“উদ্দীপকের ‘সবিতা’ ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের ‘কল্যাণী’ উভয়েই যৌতুকের শিকার।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
যৌতুকপ্রথা একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি আমাদের সমাজে ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। বরপক্ষের দাবি পূরণ করতে কন্যার পিতাকে কখনো কখনো সর্বস্বান্ত হতে হয়। বিয়েতে যারা যৌতুক দাবি করে তারা আত্মসম্মানবোধহীন অমানবিক প্রকৃতির লোক।
উদ্দীপকে যৌতুকের জন্য বিয়ে ভেঙে যাওয়া এবং যৌতুক দিয়ে বিয়ে না করে আত্মনির্ভরশীল হয়ে মানবকল্যাণে আত্মনিবেদনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে যৌতুককে প্রত্যাখ্যান করে বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে সবিতার অটল থাকার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের এ বিষয়টি ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। পিতা-মাতা ও সহকর্মীদের অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও সবিতা আর বিয়ে করতে চাননি। এ বিষয়টি ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর বিয়ে করতে না চাওয়ার সঙ্গে মিলে যায়। উদ্দীপকে সবিতাকে বিয়ে করতে আসা বর শহরের ধনী ব্যবসায়ীর ছেলে হলেও মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি করে লোভী মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। অন্যদিকে ‘অপরিচিতা’ গল্পে বরপক্ষ কল্যাণীর গহনা পরীক্ষা করতে বিয়েবাড়িতে সেকরা নিয়ে এসেছে এবং অত্যন্ত অমর্যাদাকরভাবে কনের শরীর থেকে গহনা খুলে নিয়ে তা খাঁটি কি না পরীক্ষা করেছে। তাই কল্যাণীর বিয়ে হয়নি। এই দিক বিচারে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
d
“সবিতার দেশপ্রেম কল্যাণীর মাতৃআজ্ঞার সাথে একই সূত্রে গাঁথা।”-উক্তিটির যথার্থতা বিচার কর।
উত্তর
“সবিতার দেশপ্রেম কল্যাণীর মাতৃআজ্ঞার সাথে একই সূত্রে গাঁথা।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
দেশসেবা মহৎ কাজ। যৌতুকলোভীদের অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে বহু নারী বিয়ে না করে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করে থাকেন। এমনকি পরাধীন না থেকে আত্মনির্ভরশীল হয়ে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করেন।
‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ সেন বরযাত্রীদের যথার্থ আপ্যায়ন শেষে বিয়ে ভেঙে দেন। কারণ বিয়ের আসরে বরের মামা কনের শরীর থেকে গহনা খুলে এনে পরীক্ষা করতে চাইলে তিনি ব্যথিত হন। তাই তিনি কোনো হীন মানসিকতার মানুষের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্কে জড়াতে চাননি। কল্যাণী তার বাবার সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে নিজের আত্মমর্যাদা ও ব্যক্তিত্বকে রক্ষা করেছে। গল্পের কল্যাণীর এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে উদ্দীপকের সবিতার সিদ্ধান্ত সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে সবিতার বাবা-মা ও সহকর্মীরা চাইলেও সবিতা বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে অটল থেকেছে। এ বিষয়টি কল্যাণীর বিয়ে না করার সিদ্ধান্তের অনুরূপ।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যায় পাত্র অনুপমের মামার লোভী মানসিকতা এবং বিয়ের আসরে কনের শরীর থেকে গহনা খুলে সেকরা দিয়ে পরীক্ষা করানোর কারণে। উদ্দীপকের সবিতাও যৌতুকলোভী ধনী ব্যবসায়ী ছেলেকে বিয়ে করেননি। তিনি পড়াশুনা শেষ করে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং শিক্ষাদানের মাধ্যমে দেশসেবার কাজ বেছে নিয়েছেন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
19
Question 19
সেই শৈশবের সুরবালা তোমার যত কাছেই থাকুক, তাহার চুড়ির শব্দ শুনিতে পাও, তাহার মাথা ঘষার গন্ধ অনুভব কর, কিন্তু মাঝখানে বরাবর একখানি করিয়া দেয়াল থাকিবে। আমি বলিলাম থাক-না, সুরবালা আমার কে? উত্তর শুনিলাম : সুরবালা আজ তোমার কেহই নয়; কিন্তু সুরবালা তোমার কী না হইতে পারিত! সে কথা সত্য। সুরবালা আমার কী না হইতে পারিত। আমার সবচেয়ে অন্তরঙ্গ, আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী, আমার জীবনের সমস্ত সুখ-দুঃখভাগিনী হইতে পারিত- সে আজ এত দূর, এত পর, আজ তাহার দেখা নিষেধ, তাহার সঙ্গে কথা কওয়া দোষ, তাহার বিষয়ে চিন্তা করা পাপ।
Mymensingh · 2022
a
কল্যাণী কোন স্টেশনে নেমেছিল?
b
‘বাহিরে তো সে ধরা দিলই না, তাহাকে মনেও আনিতে পারিলাম
না।’-ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের সাদৃশ্য তুলে ধর।
উত্তর
উদ্দীপকের কথকের মধ্যে তার ভালোবাসার মানুষের গভীর অনুরাগ ও না পাওয়ার বেদনা প্রকাশ পেয়েছে, যা তাকে আলোচ্য গল্পের অনুপমের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে।
অপরিচিতা গল্পে দেখা যায় কল্যাণীর সাথে বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার পরেও কল্যাণকে ভুলতে পারেনি বরং তাকে পরমযন্তে হৃদয় স্থান দিয়েছে। কল্যাণীকে না পাওয়ার কল্যাণীর জন্য তার হৃদয় হাহাকার বিরাজ করে। কল্যাণীকে নিয়ে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখলেও পারিপার্শ্বিক কারণে তা হয়ে ওঠেনি।ফলে অনুপমের মাঝে বিচ্ছেদের বেদনা প্রগাঢ় হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকে দেখা যায় যে গল্পের কথক তার শৈশবের ভালোবাসার মানুষকে স্মৃতিচারণ করেছে। শৈশবের তার সুরবালা জীবনে কি না হতে পারত।এখন তাকে নিয়ে ভাবাও পাপ। মূলত কথকের সুপ্ত ভালবাসা ও হাহাকার এখানে প্রকাশিত হয়েছে। অনুরূপভাবে গল্পেও দেখতে পাই যে অনুপমের বিয়ে-কল্যাণীর সাথে ঠিক হলেও তার যৌতুক লোভী মামার আচরণের কারণে অনুপমের বিয়ে ভেঙে যায়। বিয়ে ভাঙার পরেও মনের মধ্যে কল্যাণীকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। এখানে কাছের মানুষকে না পাওয়ার বেদনা ফুটে উঠেছে। তাই উপরোক্ত বিষয় বিবেচনা করে আমরা বলতে পারি উভয় ক্ষেত্রেই প্রিয়া কে না পাওয়ার হাহাকার প্রকাশিত হয়েছে। সে বিবেচনায়,প্রশ্নোত্তর উক্তিটি যথার্থ।
d
“প্রিয়জনকে না পাওয়ার হাহাকারই উদ্দীপকের বাহক ও অপরিচিতা’
গল্পের অনুপমকে একই সূত্রে গেঁথেছে।” বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
প্রিয়জনকে না পাওয়ার হাহাকারই উদ্দীপকের কথক ও অপরিচিতা গল্পের অনুপমকে একই সূত্রে গেঁথেছে।’ উক্তিটি যথার্থ
অপরিচিতা গল্পে যৌতুকলোভী মামার কারণে কল্যাণীর সাথে অনুপমের বিয়ে ভেঙে যায়।কল্যাণীকে না দেখলেও তার কথা শুনে তার প্রতি একটা আকর্ষণ তৈরি হয়। অনুপম কল্যাণীকে ভুলতে পারেনা কল্যাণীকে না পাওয়ার হাহাকার তাকে কাতর করে তোলে।
উদ্দীপকে দেখা যায় কথক তার ভালোবাসার মানুষকে জীবনসঙ্গী করে নিতে পারেননি। ফলে না পাওয়ার বেদনা তাকে প্রতিনিয়ত আহত করে। যে সুরবালা তাঁর জীবনে অনেক কিছু হতে পারতো, আজ তা মনে করাও পাপ কথকের সুপ্ত ভালবাসা ও হাহাকার এখানে প্রকাশিত হয়েছে। অপরিচিতা গল্পের অনুপম কল্যাণীকে না পাওয়ার দিকটি ফুটে উঠেছে। গল্পে অনুপম পরবর্তী সময় কল্যাণীকে পুনরায় বিয়ের মিনতি আহ্বান জানালেও কল্যাণে তাতে অসম্মতি জানায়। ফলে কাছে পেলেও একান্ত আপন করে প্রিয়াকে না পাওয়ার বেদনায় দগ্ধ হতে হয় অনুপমকে। এসব দিক বিবেচনা করে উভয় ক্ষেত্রেই প্রিয়াকে না পাওয়ার হাহাকার প্রকাশিত হয়েছে।সে বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত উক্তটি যথার্থ।
20
Question 20
মাতৃস্নেহের তুলনা নাই, কিন্তু অতি স্নেহ অনেক সময় অমঙ্গল আনয়ন করে। যে স্নেহের উত্তাপে সন্তানের পরিপুষ্টি, তাহারই আধিক্যে সে অসহায় হইয়া পড়ে। মাতৃহৃদয়ে মমতার প্রাবল্যে, মানুষ আপনাকে হারাইয়া আপন শক্তির মর্যাদা বুঝিতে পারে না। দুর্বল অসহায় পক্ষীশাবকের মতো চিরদিন স্নেহাতিশয্যে আপনাকে সে একান্ত নির্ভরশীল মনে করে। ক্রমে জননীর পরম সম্পদ সন্তান অলস, ভীরু, দুর্বল ও পরনির্ভরশীল হইয়া মনুষ্যত্ব বিকাশের পথ হইতে দূরে সরিয়া যায়।
Rajshahi · 2022
a
‘রসনচৌকি’ শব্দের অর্থ কী?
b
‘মামা বিবাহ-বাড়িতে ঢুকিয়া খুশি হইলেন না।’-কেন?
c
মাতৃস্নেহের আধিক্যে “পরনির্ভরশীল হইয়া মনুষ্যত্ব বিকাশের পথ হইতে দূরে সরিয়া যায়।” উদ্দীপকের এই মন্তব্যের সাদৃশ্যমূলক প্রভাব রয়েছে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম চরিত্রে-বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর
আলোচ্য গল্পের অনুপম মাতৃস্নেহের আধিক্যের কারণে একদিকে পরনির্ভরশীল হয়েছে, অন্যদিকে মনুষ্যত্বের বিকাশও তার পরিপূর্ণ হয়নি ।
‘অপরিচিতা’ গল্পের কথক ও নায়ক অনুপম। ধনী পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়ায় সে তার মায়ের অতি আদরে মানুষ হয়। বাবার মৃত্যুর পর অনুপমের মামা তাদের পরিবারের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে সংসারের কোনো দায়িত্ব পালন না করে তার মধ্যে পরনির্ভরশীলতা তৈরি হয়। বিয়ের আসরে মামার হীন মানসিকতার কোনো প্রতিবাদ সে করতে পারে না। বিয়ে ভেঙে গেলেও অনুপম নীরব ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মাতৃস্নেহ কীভাবে একজন মানুষকে অলস, ভীরু, দুর্বল ও পরনির্ভরশীল করে তোলে। মাতৃস্নেহের তুলনা নেই কিন্তু অতিস্নেহ অনেক সময় অমঙ্গলের কারণ হয়ে ওঠে। মাতৃমমতার প্রাবল্যে মানুষ নিজেকে হারিয়ে ফেলে এবং নিজের মর্যাদা বুঝতে ব্যর্থ হয়। যেমনটি আমরা দেখতে পাই আলোচ্য গল্পের অনুপম চরিত্রের মধ্যে। সে ছোটোবেলা থেকে মায়ের অতিস্নেহে মানুষ হওয়ায় তার মধ্যে পরনির্ভরশীলতা প্রবল আকার ধারণ করে। সে ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে বিভেদ করতে পারে না। নিজের বিয়ে ভেঙে গেলেও তার প্রতিবাদ করতে পারে না। সুতরাং উদ্দীপকের মন্তব্যের সাদৃশ্যমূলক প্রভাব অনুপম চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে।
d
“উদ্দীপকে বর্ণিত মাতৃস্নেহের আধিক্যে অনুপম চরিত্রের বিকাশ ব্যাহত হয়েছে ঠিকই কিন্তু গল্পের পরিণতিতে বৃত্তভাঙা ভিন্ন এক ব্যক্তি হিসেবে তাকে পাওয়া যায়।”- মন্তব্যটি তোমার মতামতসহ যাচাই কর।
উত্তর
“উদ্দীপকে বর্ণিত মাতৃস্নেহের আধিক্যে অনুপম চরিত্রের বিকাশ ব্যাহত হয়েছে ঠিকই; কিন্তু গল্পের পরিণতিতে বৃত্তভীঙা এক ব্যক্তি হিসেবে তাকে পাওয়া যায়।”— ‘অপরিচিতা’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ। ‘অপরিচিতা’ গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র অনুপম। গল্পের শুরুতে আমরা তাকে গুণহীন, ব্যক্তিত্বহীন ভূমিকায় দেখি, যে কিনা শিক্ষিত হয়েও পরিবারতন্ত্রের গণ্ডিতে আবদ্ধ। কিন্তু ক্রমে তার মধ্যে চেতনার বিকাশ ঘটে । গল্পের শেষ দিকে আমরা তাকে ক্রমে ইতিবাচক হয়ে উঠতে দেখি । অতিরিক্ত মাতৃস্নেহ কীভাবে একজন মানুষকে অলস, ভীরু, দুর্বল ও পরনির্ভরশীল করে তোলে, উদ্দীপকের বর্ণনায় সেই দিকটি উঠে এসেছে। মাতৃস্নেহের তুলনা নেই কিন্তু অতিস্নেহ অনেক সময় অমঙ্গলের কারণ হতে পারে। মাতৃমমতার প্রাবল্যে মানুষ নিজের ব্যক্তিত্ব গঠন করতে পারে না এবং নিজেকে মর্যাদাহীন করে তোলে । তখন তারা মনুষ্যত্বের বিকাশের পথ থেকে দূরে সরে যায়। আলোচ্য গল্পের অনুপম চরিত্রের মধ্যেও আমরা সেই দিকটি লক্ষ করি।
‘অপরিচিতা’ গল্প এবং আলোচ্য উদ্দীপকের আলোচনায় আমরা দেখতে পাই, অতিরিক্ত মাতৃস্নেহের বিরূপতা। উভয়স্থানেই মাতৃস্নেহের আধিক্যের কারণে সৃষ্ট সংকটের কথা উঠে এসেছে। গল্পে আমরা দেখতে পাই, অনুপম মাতৃস্নেহের কারণে কীভাবে তার মনুষ্যত্ব হারিয়েছিল। উচ্চশিক্ষিত হয়েও ন্যায়-অন্যায় বোধ তার মধ্যে জেগে উঠতে দেখা যায় না। কিন্তু গল্পের শেষে তার মধ্যে এক ভিন্ন ব্যক্তিসত্তার জাগরণ লক্ষ করা যায়।
21
Question 21
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হৈমন্তী’ গল্পে যৌতুকের বলি হৈমন্তী। মানসিক নির্যাতনে জর্জরিত হয়ে সে পিতা গৌরীশংকর বাবুকে খবর পাঠায় স্বামিগৃহ হতে তাকে পিত্রালয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। গৌরীশংকর বাবু মেয়ের বাড়িতে এসে মেয়ের কষ্ট বুঝতে পারেন। কিন্তু ধনী বেয়াই-এর বিরুদ্ধে প্রতিকার করতে না পেরে নীরবে চোখের জল ফেলতে ফেলতে বিদায় নেন। আর চরম পরিণতির দিকে এগিয়ে যায় হৈমন্তী।
Dinajpur · 2022
a
‘অপরিচিতা’ গল্পের খাদযুক্ত গহনাটির নাম কী?
b
“ফল্গুর বালির মতো তিনি আমাদের সমস্ত সংসারটা নিজের অন্তরের মধ্যেশুষিয়া লাইয়াছেন।”-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
c
হৈমন্তীর চরম পরিণতি আর ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যাওয়ার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন কর।
উত্তর
হৈমন্তীর চরম পরিণতি আর ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যাওয়ার মধ্যে যৌতুক প্রথার করাল গ্রাসের দিকটির সম্পর্ক বিদ্যমান ।
‘অপরিচিতা’ গল্পের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কল্যাণী । কল্যাণী শিক্ষিত-মার্জিত ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। কল্যাণীর সাথে অনুপমের বিয়ে ঠিক হয়। কিন্তু অনুপমের মামা অর্থলিপ্স হওয়ায় বিয়ের দিন কল্যাণীর বাবাকে অসম্মান করে। পণের জিনিস বুঝে নিতে গিয়ে অনুপমের মামা কল্যাণী ও তার বাবাকে অসম্মান করে। এই জন্য প্রবল ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কল্যাণীর বাবা কল্যাণীকে বিয়ে না দিয়ে পাত্রপক্ষকে ফিরিয়ে দেন। কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ বাবুর কাছে সম্মান ও মর্যাদা অনেক মূল্যবান। সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সম্মান বা মর্যাদা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে সম্মান মর্যাদা নেই সেখানে সম্পর্ক হতে পারে না । তাই শম্ভুনাথ বাবু কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে দেন ।
উদ্দীপকের হৈমন্তীর জীবনের চরম পরিণতিও যৌতুক প্রথার জন্য হয়েছিল। হৈমন্তীর শ্বশুর-শাশুড়ি যৌতুকের লোভে ছেলেকে হৈমন্তীর সাথে বিয়ে দেয়। হৈমন্তীর বাবা তার শ্বশুর-শাশুড়িকে নির্দিষ্ট সময়ে যৌতুকের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় হৈমন্তীর ওপর নির্মম নির্যাতন নেমে আসে। শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। ফলে মনের দিক থেকে কষ্ট পেতে পেতে তার অন্তর শুকিয়ে রোগগ্রস্ত হয়ে যায়। তাই বলা যায় হৈমন্তীর করুণ পরিণতি ও কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যাওয়া একই সূত্রে গাঁথা অর্থাৎ উভয়ই যৌতুক প্রথার শিকার ।
d
“উদ্দীপকের গৌরীশংকর বাবুর ভূমিকা যদি শম্ভুনাথ বাবুর মতো হতো, তাহলে হয়তো হৈমন্তীকে অকালে চলে যেতে হতো না।”-উক্তিটির পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর
উদ্দীপকের হৈমন্তী যৌতুকের বলি হলেও ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী তার বাবা শম্ভুনাথ সেনের উপস্থিত বুদ্ধির কারণে যৌতুকের বলি না হওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।
‘অপরিচিতা’ গল্পে যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী দিক তুলে ধরা হয়েছে। যৌতুক প্রথা সমাজে একটি ব্যাধির মতো। তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় যৌতুক প্রথা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। ‘অপরিচিতা’ গল্পে আমরা সেই চিত্র দেখতে পাই। কল্যাণী শিক্ষিত-মার্জিত হওয়া সত্ত্বেও অনেক উপঢৌকনের মাধ্যমে বিয়ে ঠিক হয়।বিয়ের সময় পাত্রের মামা সেই উপঢৌকন আসল না নকল তা যাচাই করে দেখতে চান। একটি মেয়ের জন্য এবং তার পরিবারের জন্য এই অমর্যাদা ও অসম্মান অনেক বেদনার । এজন্য কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ বাবু মেয়ের লগ্নভ্রষ্ট হওয়ার ভয় উপেক্ষা করে অনুপমের সাথে বিবাহ ভেঙে দেন। ফলে কল্যাণী ভারতবর্ষে জেঁকে বসা পণপ্রথার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সচেতন করার ও নারী সমাজকে জাগ্রত করার মহান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
উদ্দীপকের হৈমন্তীর বাবা মেয়েকে পণপ্রথার নির্মম বলি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি। হৈমন্তীর শ্বশুর বাড়ির লোকদের অর্থলোভী মানসিকতার কারণে হৈমন্তীকে তিলে তিলে নিঃশেষ হয়ে যেতে হয়। হৈমন্তীর বাবার অর্থনৈতিক দুর্বলতা সম্পর্কে জানতে পারলে হৈমন্তীর ওপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। হৈমন্তীর ওপর চলা নির্যাতনের কথা তার বাবা অনুমান করতে পারলেও নিজের দুর্বলতার কারণে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেননি। তাই হৈমন্তীর জীবনে করুণ পরিণতি নেমে আসে।
উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের আলোকে বলা যায়, কল্যাণীর বাবার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে হৈমন্তীর জীবনে করুণ পরিণতি হতো না। কল্যাণীর বাবা ছিলেন ব্যক্তিত্ববান মানুষ। তিনি অসম্মান ও অমর্যাদাকে মেনে নিতে পারেননি । সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাস, পারস্পরিক মর্যাদাবোধ অনেক মূল্যবান । সেই মর্যাদা না থাকলে আত্মীয়তার কোনো অর্থ নেই। কিন্তু উদ্দীপকের হৈমন্তীর বাবা ছিলেন নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। হৈমন্তীর দুঃখ-যন্ত্রণা বুঝতে পারলেও তিনি যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে বরং তার নিজের দুর্বলতাই মেয়ের দুঃখ-কষ্টের কারণ বলে মনে করেন। তাই হৈমন্তীর জীবনে নেমে আসে করুণ পরিণতি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের গৌরীশংকর বাবুর ভূমিকা যদি শম্ভুনাথ বাবুর মতো যৌতুক প্রথার বিরোধী হতো, তাহলে হৈমন্তীকে অকালে চলে যেতে হতো না ।
Question 22
সবেমাত্র ডাক্তারি পাস করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগদান
করেছে পরেশ। এর মধ্যেই তার বাবা তাকে না জানিয়ে পাশের গ্রামের সুন্দরী
শিক্ষিতা এক মেয়ের সাথে বিয়ের ব্যবস্থা পাকা করে ফেলেছেন। ঘটকের
মাধ্যমে পরেশ জানতে পেরেছে, ঘর সাজিয়ে দেওয়া ছাড়াও বরপক্ষকে মোটা
অঙ্কের টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে। সবকিছু জানার পর, কোনো বিনিময় ছাড়াই
পরেশ বিয়ের পক্ষে মত দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তার কথা সবাই মেনে নেয়।
Comilla · 2022
a
বিবাহ ভাঙার পর হতে কল্যাণী কোন ব্রত গ্রহণ করে?
b
“এটা আপনাদের জিনিস, আপনাদের কাছেই থাক।”- এরূপ মন্তব্যের কারণ কী?
c
উদ্দীপকের পরেশ ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন চরিত্রের বিপরীত? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
চারিত্রিক দৃঢ়তার দিক দিয়ে উদ্দীপকের পরেশ ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম চরিত্রের বিপরীত ।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম চরিত্রটিকে দেখা যায় একজন মেরুদণ্ডহীন তথা ব্যক্তিত্বহীন যুবক হিসেবে। বাবা মারা যাওয়ার পর মামাই তার পরিবারে অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেন। অনুপমের বিয়ের আসরে তার মামা কল্যাণীর বাবার দেওয়া গহনা পরীক্ষার মাধ্যমে অপমানজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করলেও অনুপম তার কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না ।
উদ্দীপকের ডাক্তারি পাশ করা পরেশের বাবা তার অনুমতি ছাড়াই বিয়ে | ঠিক করে। পরেশ জানতে পারে তার বিয়েতে মোটা অঙ্কের যৌতুক নেওয়া হবে। কিন্তু ব্যক্তিত্বের অধিকারী পরেশ যৌতুক ছাড়াই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। তার এ সিদ্ধান্তের প্রতি তার পরিবার সম্মতি না দিয়ে পারে না। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে পরেশ চরিত্রে উন্নত ও দৃঢ় | মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায় । কিন্তু আলোচ্য গল্পে অনুপম পরেশের মতো ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা দেখাতে পারেনি। চারিত্রিক দৃঢ়তার এ দিকটিই তাদের চরিত্রকে দুই বিপরীত মেরুতে দাঁড় করিয়েছে।
d
‘অপরিচিতা’ গল্পের উদ্দিষ্ট চরিত্র যদি উদ্দীপকের পরেশের মতো হতো, তাহলে গল্পের পরিণতি কেমন হতো? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের চারিত্রিক দৃঢ়তা যদি উদ্দীপকের পরেশের মতো হতো তাহলে গল্পের পরিণতি ইতিবাচক হতে পারত ।
‘অপরিচিতা’ গল্পে ধনী পরিবারের ছেলে শিক্ষিত অনুপমের বিয়ে ঠিক হয়েছে । বিয়ের দিন অনুপমের মামা মেয়ের বাবা খাঁটি গহনা দিচ্ছেন কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য সেকরাকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। কিন্তু ব্যক্তিত্বহীন অনুপম এর প্রতিবাদ করতে পারে না। এতে কল্যাণীর বাবা অপমানিত হয়ে অনুপমের সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান ।
উদ্দীপকে, সচ্ছল পরিবারের শিক্ষিত ডাক্তারি পাশ করা ছেলে পরেশের বিয়ে ঠিক করা হয় পাশের গ্রামের এক সুন্দরী মেয়ের সঙ্গে। গোপনে যৌতুক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবারের লোকেরা। কিন্তু পরেশ যৌতুকের কথা জানতে পেরে বেঁকে বসে। সে কোনোরূপ যৌতুক ছাড়াই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। সামাজিক ব্যাধি যৌতুকের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ তার শুভ চিন্তা ও দৃঢ় চরিত্রের পরিচায়ক। আলোচ্য গল্পের অনুপমের মধ্যে এমন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায় না ।
উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের উভয়স্থানেই বিয়েতে যৌতুকের কথা উঠে এসেছে। কিন্তু উদ্দীপকের পরেশের মধ্যে যৌতুকের বিরুদ্ধে তার দৃঢ়তা লক্ষ করা গেলেও গল্পের অনুপমের মধ্যে তা দেখা যায় না। গল্পের অনুপম যদি উদ্দীপকের পরেশের মতো যৌতুকবিরোধী মানসিকতা ধারণ করত তবে সে তার মামার অন্যায়কে মেনে নিত না। বরং এর প্রতিবাদ করলে কল্যাণী ও তার বাবা বিয়েতে অমত করত না। তাদের হতে পারত সুন্দর | সংসার। কল্যাণীকে বিয়ে না করার ব্রত গ্রহণ করতে হতো না। আর্থিক অবস্থা ভালো ও উভয়েই শিক্ষিত হওয়ায় তাদের জীবনের পরিণতি হতো ইতিবাচক ও সম্ভাবনাময় ।
23
Question 23
লিটন শীল আর চন্দনা একে অপরের ভালো বন্ধু। ছাত্রজীবন থেকে তাদের মাঝে বেশ সখ্য আর জানা-শোনা। উভয়ই উচ্চশিক্ষিত। চন্দনা এমএ পাস করে স্বল্প বেতনের একটা চাকরি করে। স্বল্প বেতনের জন্য মা-বাবাকে সাথে নিয়ে শহরতলীতে একটা পুরনো ভাড়া বাসায় বাস
করে। তার যাপিত জীবন আভিজাত্যের নয়, নিম্ন মধ্যবিত্তের। লিটন শীল সরকারি চাকরিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বাবা বিক্রম শীলের কাছে চন্দনাকে বিয়ে করার কথা জানালে বাবা বিক্রমশীল মেয়েকে এবং মেয়ের পরিবারকে দেখতে চান। মেয়ের পারিবারিক অবস্থা দেখে ফিরে এসে বাবা গম্ভীর কণ্ঠে বলেন, “মেয়ে দেখতে সুন্দর, তবে এ বিয়ে হবে না।” বাবার এরূপ মানসিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারেনি লিটন শীল। কারণ বাল্যকাল থেকেই সে তার বাবার কথার অবাধ্য হয়নি কখনো।
Jessore · 2022
a
বিনুদাদা অনুপমের কেমন ভাই?
b
“মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাপের খবরটাই তাঁহার কাছে গুরুতর।”- ব্যাখ্যা কর।
c
উপরের উদ্দীপকে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? বিচার কর।
উত্তর
উদ্দীপকে ‘অপরিচিতা’ গল্পের উচ্চশিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও বাঙালি যুবকের ব্যাক্তিত্বহীনতা ও পরিবারের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে নাপারার দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পের কথক অনুপম বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকের সেই | বাঙালি যুবক, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেও ব্যক্তিত্বহীন, পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায় পুতুলমাত্র। তরুণ বয়সেও সে যেন মায়ের কোলসংলগ্ন শিশু। বিয়েতে তার উপস্থিতিতে যখন যৌতুক প্রদান-সংক্রান্ত অবমাননাকর কারণে কন্যাপক্ষ বিয়ে ভেঙে দেয়, তখন পুরো ঘটনাটিতে তার উপস্থিতি ছিল জড়বস্তুর মতো। মামা এবং মায়ের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পুরো ঘটনায় সে কোনো ভূমিকাই রাখতে পারেনি। উদ্দীপকেও আমরা উচ্চশিক্ষিত, আত্মনির্ভরশীল লিটন শীলের ব্যক্তিহীনতার পরিচয় পাই । লিটন শীল ও চন্দনার মধ্যে দীর্ঘদিনের জানাশোনা ও ভালো বন্ধুত্ব থাকা সত্ত্বেও লিটনের বাবা যখন নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের চন্দনাকে পুত্রবধূ বানাতে অস্বীকৃতি জানায়, লিটন তখন বাধ্য ছেলের মতো বাবার কথা মেনে নেয়। কেননা, বাল্যকাল থেকেই সে কখনো বাবার কথার অবাধ্য হয়নি। তাই সুন্দরী ও চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও চন্দনার লিটনের বধূ হওয়া হয় না। ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মাঝে উদ্দীপকের লিটন শীলের মতোই ব্যক্তিত্বহীনতা দেখতে পাই। মামার অন্যায় আচরণে সে বাধা দিতে উক্ত ঘটনায় নিজের মতামত দেওয়া, পছন্দকে মূল্যায়ন করা কিংবা পারেনি। হবু শ্বশুরকে সে নীরব দর্শকের মতো অপমানিত হতে দেখেছে। ব্যক্তিতের পরিচয় দিয়ে ন্যায়ের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়া কোনোটাই তার পক্ষে সম্ভব হয়নি । তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘অপরিচিতা’ গল্পের উচ্চশিক্ষিত বাঙালি যুবকের ব্যক্তিত্বহীনতা ও পরিবারের গণ্ডি থেকে বাইরে বেরিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে না পারার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
d
“উদ্দীপকের বিক্রম শীল এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার মতো মানুষের হীনমানসিকতার কারণেই তৎকালীন সমাজে যৌতুক প্রথা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছিল।”-আলোচনা কর।
উত্তর
“উদ্দীপকের বিক্রম শীল এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার মতো মানুষের হীন মানসিকতার কারণেই তৎকালীন সমাজে যৌতুক প্রথা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছিল”-উক্তিটি যথার্থ।
অনুপমের মামা যৌতুকলোভী চরিত্র। তিনি অনুপমের বিয়ের জন্য এমন একটি জুতসই ঘর খুঁজছিলেন, যেখানে না চাইলেও অনেক টাকা যৌতুক পাওয়া যাবে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর শম্ভুনাথ সেনের কন্যা কল্যাণীর সাথে মামা অনুপমের বিয়ে ঠিক করেন। বিয়ের দিন মেয়ের বাড়ি থেকে দেওয়া যৌতুকের গহনা নিয়ে অনুপমের মামা হীনমানসিকতার পরিচয় দেন। গহনাগুলো আসল না নকল তা পরীক্ষা করার জন্য, তিনি বিয়েবাড়িতে সেকরাকে সঙ্গে নিয়ে আসেন ।
উদ্দীপকের বিক্রম শীল তার সরকারি চাকরিজীবী ছেলে লিটন শীলের বধূ হিসেবে চন্দনাকে মেনে নিতে চাননি। চন্দনা ও তার পরিবার নিম্নমধ্যবিত্ত এবং শহরতলিতে একটি পুরোনো ভাড়া বাসায় বসবাস করে। তাই তার কাছে চন্দনার শিক্ষা, চাকরি কিংবা সৌন্দর্য কোনোটাই গুরুত্ব বহন করে না।
উদ্দীপকের বিক্রম শীল ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামা দুজনেই লোভী ও বৈষয়িক বিষয় সম্পর্কে অতিমাত্রায় সচেতন। চন্দনা উচ্চশিক্ষিত, সুন্দরী এবং লিটনের ভালো বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও বিক্রম শীল চন্দনার সাথে লিটনের বিয়ের বিষয়টি এগোতে চাননি। কারণ, চন্দনা নিম্নমধ্যবিত্তের জীবনযাপন করে। অন্যদিকে অনুপমের মামা অনুপমের বিয়ের জন্য একটি জুতসই ঘর খুঁজছিলেন। ধনীর কন্যারা মাথা উঁচু করে কথা বলবে বলে বড়ো ঘরে ভাগিনার বিয়ে দিতে চান না তিনি। যেখানে না চাইলেও অনেক টাকা যৌতুক পাওয়া যাবে এবং কন্যা ও তার পরিবারও তাদের সম্ভ্রম দেখাবে, এমন জায়গাতেই মামা অনুপমকে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। অর্থাৎ বিয়ে যেন যৌতুক আদায়ের মাধ্যম ছাড়া আর কিছুই না। সুতরাং বলা যায়, বিক্রম শীল ও অনুপমের মামার মতো মানুষের হীনমানসিকতার কারণেই তৎকালীন সমাজে যৌতুক প্রথা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছিল।
24
Question 24
অসহায় বিধবা শুভারাণী, তার মেয়ে তমালিকার বিয়ের বয়স পার হয়ে যাওয়া সত্তেও তাকে
পাত্রস্থ করতে পারেনি। কারণ পাত্রপক্ষের দাবি মেটাতে সে অক্ষম। অবশেষে নিজের সামান্য
জমিটুকু বিক্রি করে মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করে সে। কিন্তু বরে বাবা নলীন বাবুর আকাশ ছোঁয়া
চাওয়ার কাছে পরাজিত হতে হয় তাকে। মায়ের এহেন অবস্থা দেখে তমালিকা নিজেই বিয়ের
পিঁড়ি থেকে উঠে আসে এবং সবাইকে সাফ জানিয়ে দেয়, এ বিয়ে সে করতে পারবে না।
অতঃপর স্বাবলম্বী হয়ে একাকী পথ চলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যায় সে।
Chittagong · 2022
a
মামার একমাত্র লক্ষ্য কী ছিল?
b
“ঠাট্টা তো আপনিই করিয়া সারিয়াছেন” উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকের তমালিকা চরিত্রটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন চরিত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ? আলোচনা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের তমালিকা চরিত্রটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী চরিত্রের সাথে সংগতিপূর্ণ।
‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী। পিতার সিদ্ধান্তে অনুপমের সঙ্গে বিয়ে ভেঙে গেলে সে পিতার যৌক্তিক মতামতকে সম্মান জানিয়েছে। পরবর্তী সময়ে সে মাতৃভূমি সেবার ব্রত গ্রহণ করেছে। আর তার উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছে মেয়েদের শিক্ষাদান করাকে। অর্থাৎ একই সঙ্গে সে হয়ে উঠেছে দেশপ্রেমী ও নারী জাগরণের পথপ্রদর্শক। গল্পের শেষে অনুপমের আচরণে শম্ভুনাথ বাবুর হৃদয় নরম হলেও বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকে কল্যাণী ।
তমালিকা আত্মপ্রত্যয়ী এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নারী। তার মা নিজের শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করে তমালিকার বিয়ের ব্যবস্থা করে। কিন্তু বর পক্ষের আকাশচুম্বী লোভের কাছে তার মা দিশাহারা হয়ে পড়ে। তখন তমালিকা নিজেই তার বিয়ে ভেঙে দেয় এবং স্বনির্ভর হয়ে একা পথ চলার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই বলা যায়, যৌতুকের কাছে আত্মসমর্পণ না করে দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করার পথ বেছে নেওয়ায় তমালিকা ও কল্যাণী চরিত্র দুটি সংগতিপূর্ণ ।
d
“উদ্দীপকের ঘটনাটি ‘অপরিচিতা’ গল্পে বর্ণিত তৎকালীন সামাজিক সমস্যার দিকটি তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছে।”-মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাটি যৌতুক প্রথার ভয়াবহতা প্রকাশ করে যা ‘অপরিচিতা’ গল্পে বর্ণিত তৎকালীন সামাজিক সমস্যার দিকটি তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছে।
আমাদের সমাজে এখনো কিছু ক্ষেত্রে যৌতুক প্রথার প্রচলন আছে। আগেকার দিনেও বিয়ের সময় কন্যা সম্প্রদানের জন্য যৌতুক প্রদান করার রেওয়াজ ছিল । এমনকি সম্পূর্ণ টাকা না পেলে বরকে বিয়ের আসরে বসতে দিতো না তার পরিবার। সে সময় যৌতুকপ্রথা একটা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছিল । আলোচ্য গল্পে যৌতুক প্রথার নির্মমতা উন্মোচিত হয়েছে। অনুপমের মামার হীনমানসিকতা ও যৌতুকের প্রতি লোভ তৎকালীন ভয়ংকর যৌতুক প্রথা সম্পর্কে ধারণা দেয়।
উদ্দীপকে যৌতুক প্রথার নির্মমতা প্রকাশ পেয়েছে। বিধবা শুভারাণী অর্থের অভাবে তার মেয়েকে পাত্রস্থ করতে পারছে না। অথচ তার মেয়ের বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে। অবশেষে নিজের শেষ আশ্রয় জমিটুকু বিক্রি করে তিনি তার মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করে। তারপরও বর পক্ষের আকাশচুম্বী চাওয়ার কাছে তাকে পরাজিত হতে হয় ।
যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধি। এর কারণে সমাজে শৃঙ্খলা ও শান্তি বিনষ্ট হয়। স্বল্প আয়ের মানুষেরা অনেক সময় এ দাবি পূরণে ব্যর্থ হওয়ার কারণে তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়। ‘অপরিচিতা’ গল্পে এই যৌতুকের কাছে মানবিকতাবোধের পরাজয় প্রকাশ পেয়েছে। নিজ অহংবোধ ও লোভের কারণে কল্যাণীর গা থেকে গহনা খুলে তা যাচাই করতেও দ্বিধা করেননি অনুপমের মামা। অন্যদিকে বিধবা শুভারাণীকেও যৌতুকের নির্মমতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনাটি আলোচ্য গল্পে বর্ণিত যৌতুক প্রথার দিকটি তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছে।
25
Question 25
“ধলেশ্বরী নদীর তীরে পিসিদের গ্রাম
তাঁর দেওরের মেয়ে
অভাগার সাথে তার বিবাহ ছিল ঠিকঠাক
লগ্ন শুভ, নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেল
সেই লগ্নে এসেছি পালিয়ে।
মেয়েটা তো রক্ষা পেল
আমি তথৈবচ
ঘরেতে এলো না সে তো, মনে তার নিত্য আসা যাওয়া
পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর।”
Sylhet · 2022
a
কল্যাণীর পিতার নাম কী?
b
“ঠাট্টা তো আপনিই করিয়া সারিয়াছেন।”-ব্যাখ্যা কর।
c
অনুপমের কল্পনায় অপরিচিতার সাথে উদ্দীপকের মেয়েটির তুলনা কর।
উত্তর
অনুপমের কল্পনার অপরিচিতা পরবর্তী সময়ে নতুন জীবনে শুরু না করলেও উদ্দীপকের মেয়েটি নতুন জীবন শুরু করেছিল।
‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী। অনুপমের সাথে বিয়ে ভেঙে গেলে সে পিতার যৌক্তিক মতামতকে সম্মান জানিয়েছে। পরবর্তী সময়ে সে নারীশিক্ষাকে ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে। শুধু তাই নয়, গল্পের শেষে আমরা দেখতে পাই, অনুপমের অনুরোধ ও মিনতিতে শম্ভুনাথের হৃদয় নরম হলেও বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকে কল্যাণী।
উদ্দীপকের কবিতাংশের বক্তা কোনো এক কারণে বিয়ের লগ্নেই পালিয়েআসতে বাধ্য হন । কিন্তু বিয়ে না করে পালিয়ে এলেও তিনি তাকে মন থেকে মুছে ফেলতে পারেনি। কবির কল্পনার সেই নারী এখন অন্য কারও ঘরনী হয়ে সুখে সংসার করছে। কবির অন্তর্দৃষ্টিতে তার পরনে ঢাকাই শাড়ি আর কপালে টকটকে লাল সিঁদুর। পক্ষান্তরে, ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী বিয়ে আর্থিক ভেঙে যাওয়ার পর নারীশিক্ষাকেই পণ হিসেবে গ্রহণ করেছে। অপ্রত্যাশিতভাবে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার দিক থেকে কল্যাণীর সাথে উদ্দীপকের কবিতাংশের কবির কল্পিত নারীর মিল থাকলেও ঘটনার পরবর্তী বাস্তবতায় তাদের অবস্থানগত পার্থক্য দেখা যায় ।
d
‘সেই লগ্নে এসেছি পালিয়ে’- এ চরণের আলোকে বুঝিয়ে লেখ যে, উদ্দীপকের নায়কের মতো অনুপমের বিরহের জন্য নিজের অক্ষমতাই দায়ী।
উত্তর
উদ্দীপকের নায়কের মতো অনুপমের বিরহের জন্য নিজের অক্ষমতাই দায়ী ।
‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম শিক্ষিত হয়েও ব্যক্তিত্বরহিত, পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায় পুতুলমাত্র। তাকে দেখলে মনে হয়, আজও সে যেন মায়ের কোলের শিশুমাত্র। অনুপমের মাঝে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটেনি বলেই মামার অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করতে পারেনি সে। সব কিছুতেই তাকে মামার ওপর নির্ভর করতে হতো। এরকম মনোভাবের জন্যই কল্যাণীর সঙ্গে তার বিয়ে ভেঙে যায় ।
উদ্দীপকের নায়ক নিজের অক্ষমতার কারণেই বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে এসেছিল। এতে মেয়েটি রক্ষা পেলেও সে তাকে কিছুতেই ভুলতে পারেনি । এ কারণে মেয়েটির কথা ভেবে আজও সে বিরহকাতর হয়। সে মনে করে, মেয়েটিকে নিজের ঘরে নিয়ে আসতে না পারলেও হৃদয়ে ছিল তার নিত্য আসা-যাওয়া। একইভাবে, আলোচ্য গল্পের অনুপমও বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর কল্যাণীর কথা ভেবে বিরহকাতর হয়ে পড়ে।
‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মধ্যে দৃঢ়ব্যক্তিত্বের দিকটি অনুপস্থিত। বাবার মৃত্যুর পর মামার ওপরেই সে সবকিছুর জন্য নির্ভর করেছে। এ কারণে বিয়ের আসরে তার মামা কল্যাণীর বাবার দেওয়া গহনা পরীক্ষার মাধ্যমে যে অপমানজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন, অনুপম তার কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনি। এমনকি শম্ভুনাথ সেন বিয়ে ভেঙে দিলেও সে নীরব থাকে। এ ধরনের ব্যক্তিত্বহীন আচরণের জন্যই তাকে কল্যাণীকে হারাতে হয়। একইভাবে, উদ্দীপকের নায়কও নিজের অক্ষমতার জন্যই বিয়ে না করে পালিয়ে আসে । অর্থাৎ প্রিয় মানুষকে হারানোর জন্য তারা নিজেরাই দায়ী ।
26
Question 26
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষার্থী শ্রীযুক্তা। পড়ালেখা শেষ করতেই ২৭ বছর পেরিয়ে গেল। বিয়ের ব্যাপারে কয়েকবার সম্বন্ধ আসা এবং দেখাশোনা হলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে হয়নি। শ্রীযুক্তা আইন ও সালিশ কেন্দ্রে সমাজের অধিকারবঞ্চিত নারীদের আইনি সহায়তা দিচ্ছেন। হঠাৎ একদিন শ্রীযুক্তার কাকা বিয়ের সম্বন্ধের কথা বললেন। তিনি বিনয়ের সাথে কাকাকে বললেন, ‘নারীর কল্যাণে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
Comilla · 2019
a
অনুপমকে ‘মাকাল ফল’-এর সাথে তুলনা করে বিদ্রুপ করেছিল কে ?
b
বলিলেন, সে কী কথা। লগ্ন’- কে, কেন বলেছিল ? প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বুঝিয়ে দাও ।
c
উদ্দীপকের শ্রীযুক্তার সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর সাদৃশ্য আলোচনা করো ।
উত্তর
ব্যক্তিজীবনকে প্রাধান্য দেওয়ার পরিবর্তে অন্যের জীবন আলোকিত করার চেতনার দিক থেকে উদ্দীপকের শ্রী গীতা রাণী সরকারের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর সাদৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়।
গল্পে কল্যাণীর সাথে অনুপমের বিয়ের সকল বন্দোবস্ত ও আয়োজন সমাপ্ত হওয়ার পরও অনুপমের মামার হীনম্মন্যতা ও কল্যাণীর বাবার ব্যক্তিত্ববোধের কারণে তা অসম্পন্নই থেকে যায়। কল্যাণী এ ঘটনার পর সাংসারিক জীবনের চিন্তা বাদ দিয়ে নারীদের শিক্ষার প্রসারে আত্মনিয়োগ করে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনুপমের কাছ থেকে বিয়ের বিষয়ে বিনীত অনুরোধ আসার পরও কল্যাণী তার লক্ষ্যে অবিচল থাকে।
উদ্দীপকের শ্রী গীতা রাণী সরকার উচ্চশিক্ষিত। কয়েকবার সম্বন্ধ এলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে হয়নি। এরপর তিনি বিয়ে সম্পর্কে বীতশ্রদ্ধ হয়ে অধিকারবঞ্চিত নারীদের জন্য কাজ শুরু করেন। প্রতিবেশী কালীচরণ রায় একদিন পুনরায় সম্বন্ধ নিয়ে এলেও তিনি অধিকারবঞ্চিত নারীদের জন্য কাজ করার প্রচেষ্টাতেই বদ্ধপরিকর বলে জানান। উদ্দীপকের এ বিষয়ের সঙ্গে প্রায় একই সমান্তরালে এগিয়েছে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর জীবনচেতনা। অর্থাৎ উদ্দীপকের শ্রী গীতা রাণী সরকারের মতো কল্যাণীও সংসারচিন্তা বাদ দিয়ে নারীশিক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ । এ দিকটিই তাদের চরিত্রকে সাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে ।
d
“উদ্দীপকে শ্রীযুক্তার বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জাগরণ ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর শুচিশুভ্র আত্মপ্রকাশ।” — মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর
‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণীর চরিত্রে উন্নত মানবিকতার প্রতিফলন রয়েছে, যা উদ্দীপকের শ্রী গীতা রাণী সরকারের বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের মাঝেও নিহিত ।
‘অপরিচিতা’ গল্পের কাহিনি দৃঢ়চেতা মনোভাবাপন্ন ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কল্যাণী নামক এক নারীকে আশ্রয় করে গড়ে উঠেছে। সকল আয়োজন সম্পন্ন হলেও বিয়ের আসরে বিয়ে ভেঙে যায় তার। এতে সে ভেঙে না পড়ে নিজেকে দেশ ও নারীদের উন্নয়নে নিয়োজিত করে। কল্যাণীর এ পদক্ষেপকে তার শুচিশুভ্র আত্মপ্রকাশ বলা যায় ।
উদ্দীপকের গীতা রাণী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন । ২৭ বছর বয়স হলেও নানা কারণে তাঁর বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে যায়। পরবর্তীকালে তিনি বিয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে দেশ ও সমাজের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। অধিকারবঞ্চিত নারীদের নিয়ে কাজ করেন তিনি। গল্পের কল্যাণীর মাঝে যে দৃঢ়চেতা ও বলিষ্ঠ মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়, তা উদ্দীপকের গীতা রাণীর মাঝেও বিদ্যমান।
‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী ও উদ্দীপকের গীতা রাণী উভয়ের মাঝেই আমরা আত্মপ্রত্যয়ী নারী চরিত্রের দেখা পাই। গল্পের কল্যাণীর বয়স কম হলেও বিয়ে ভাঙার কারণে ভেঙে না পড়ে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছে। গল্পে তাকে আমরা প্রতিবাদী, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও দৃঢ়চেতা নারীর প্রতীকে উপস্থাপিত হতে দেখি। উদ্দীপকের নারী চরিত্রটিও আত্মবিশ্বাস ও প্রত্যয়ে ভরপুর। অধিকারবঞ্চিত নারীদের মনোযোগ সহকারে শিক্ষা দেন গীতা রাণী। চারিত্রিক দৃঢ়তার কারণেই প্রতিবেশিকে বিনয়ের সাথে বিয়ের সম্বন্ধ আনতে বারণ করেন তিনি। সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধে জাগ্রত এমন মানসিকতার পরিচয় আমরা গল্পের কল্যাণীর মাঝেও ফুটে উঠতে দেখি। সার্বিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি আমি সমর্থন করি।
27
Question 27
হয়তো কিছুই নাহি পাব
তবুও তোমায় আমি দূর হতে ভালোবেসে যাব
যদি ওগো কাঁদে মোর ভীরু ভালোবাসা।
জানি তুমি বুঝিবে না তবু তারি ভাষা,
তোমারি জীবনে কাঁটা আমি, কেন মিছে ভাবো
Sylhet · 2019
a
‘অপরিচিতা’ গল্পটি প্রথম কোথায় প্রকাশিত হয়?
b
“তার পরে বুঝিলাম, মাতৃভূমি আছে।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
c
উদ্দীপকের কথকের মনের ভাব ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মনোভাবের সঙ্গে কতটুকু সম্পর্কিত? আলোচনা করো
উত্তর
গল্পে কল্যাণীর প্রতি অনুপমের গভীর আকর্ষণ প্রকাশ পেয়েছে; যা তাকে উদ্দীপকের কথকের মনোভাবের সাথে সম্পর্কিত করে তুলেছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মাঝে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটেনি আর তাই নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার ছিল না। সব কিছুতেই তাকে মামার ওপর নির্ভর করতে হতো। তার এ রকম মনোভাবের জন্যই কল্যাণীকে হারাতে হয়। বিয়ে ভেঙে গেলেও অনুপম কল্যাণীকে ভুলতে পারেনি বরং পরম যত্নে আপন হৃদয়ে স্থান দিয়েছে।
উদ্দীপকের কথক তার ভালোবাসার মানুষকে নিজের করে নিতে পারেনি। কথকের মনে গভীর ভালোবাসা সঞ্চারিত থাকলেও তার ভালোবাসার মানুষ তাকে বুঝতে পারে না। কথকের হৃদয়ে গল্পের অনুপমের মতোই দূর থেকে ভালোবাসার কথা ধ্বনিত হয়েছে। কল্যাণীর প্রতি অনুপমের যে দুর্বার আকর্ষণ তারই প্রকাশ আমরা দেখি উদ্দীপকের কথকের মাঝে।
d
“উদ্দীপকে ‘অপরিচিতা’ গল্পের আংশিক ভাব প্রতিফলিত হয়েছে।”— বিশ্লেষণ করো
উত্তর
উদ্দীপকে মানসপ্রিয়াকে আপন করে না পাওয়ার বেদনা প্রতিফলিত হলেও ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূলবক্তব্য প্রকাশিত হয়নি বরং আংশিক ভাব প্রতিফলিত হয়েছে।
গল্পে যৌতুকপ্রথার চিরবহমান চিত্রের প্রতিফলন থাকলেও কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেনের নির্বিকার অথচ বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের কারণে তা নতুন দিকে প্রবাহিত হয়। আর এতে বিয়ে সম্পর্কে বীতশ্রদ্ধ কল্যাণীর জীবনচেতনা পালটে যায়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তার ব্যক্তিত্বের ছটা ব্যক্তিত্বহীন অনুপমকেও প্রভাবিত করে। কল্যাণীর জীবনবোধের কারণে বাঙালি নারীর সামান্য থেকে অসামান্য হয়ে ওঠার দিকটি পাঠককে আন্দোলিত করে । উদ্দীপকে দেখা যায়, কথক তার ভালোবাসার মানুষকে আপন করে নিতে পারে না। ভালোবাসার মানুষ তাকে ভুল বোঝে। আপন করে নিতে না পারলেও দূর থেকে কথক তাকে ভালোবেসে যায়। মূলত কথকের সুপ্ত ভালোবাসা এখানে প্রকাশিত হয়েছে। দূর থেকে এভাবে ভালোবাসার কথা ‘অপরিচিতা’ গল্পে বলা হলেও এটি গল্পের একমাত্র দিক নয়।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে বিয়ের বিনীত আহ্বান এলেও কল্যাণী সম্মত হয় না। ফলে কাছে পেলেও একান্ত আপন করে প্রিয়াকে না পাওয়ার বেদনায় দগ্ধ হতে হয় অনুপমকে। তবে গল্পে শুধু এ বিষয় আলোচিত হয়নি। সেই সঙ্গে শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও অনুপমের ব্যক্তিত্বহীনতা, যৌতুকের লোভে মামার বিবেকহীন আচরণ, কন্যার লগ্নভ্রষ্টা হওয়ার পরিস্থিতিতে কল্যাণীর বাবার ঋজু ব্যক্তিত্ব, কল্যাণীর সমাজচেতনা ও আত্মপ্রত্যয়সহ নানা বিষয় উঠে এসেছে। কিন্তু উদ্দীপকে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনেক বিষয়ই উপেক্ষিত। এখানে শুধু অনুপমের কল্যাণীকে আপন করে না পাওয়ার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। অতএব বলা যায়, “উদ্দীপকে ‘অপরিচিতা’ গল্পের আংশিক ভাব প্রতিফলিত হয়েছে”— উক্তিটি যথার্থ।
28
Question 28
আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের শিক্ষিত ছেলে কৌশিকের মা-বাবা তার মতামত না নিয়েই সুরবালার সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে। সুরবালার বাবার অঢেল সম্পদ। গোপনে ঘটকের মধ্যস্থতায় এ বিয়েতে বরপক্ষকে নগদ টাকা, গাড়ি এবং ঢাকার অভিজাত এলাকায় একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যৌতুকের বিষয়টি জানতে পেরে কৌশিক ও সুরবালা বেঁকে বসে এবং সম্পূর্ণ যৌতুকবিহীনভাবে পরস্পর বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়।
Chittagong · 2019
a
অনুপমের বাবার পেশা কী ছিল ?
b
‘এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি।’— ব্যাখ্যা করো।
c
উদ্দীপকের কৌশিকের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের তুলনা করো
উত্তর
‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মাঝে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো চারিত্রিক দৃঢ়তার পরিচয় পাওয়া যায় না, যা উদ্দীপকের কৌশিকের মাঝে দেখতে পাওয়া যায় ।
‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম চরিত্রটি মেরুদণ্ডহীন, ব্যক্তিত্বহীন যুবকের প্রতীক । বাবা মারা যাওয়ার পর মামাই তার পরিবারে অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেন । অনুপমের বিয়ের আসরে তার মামা কল্যাণীর বাবার দেওয়া গহনা পরীক্ষার মাধ্যমে যে অপমানজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন, অনুপম তার-কোনো প্রতিবাদ করে না। এমনকি শম্ভুনাথ সেন বিয়ে ভেঙে দিলেও সে নীরব থাকে ।
উদ্দীপকের কৌশিক এবং সুরবালার পরিবার গোপনে যৌতুক আদানপ্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও কৌশিক ও সুরবালা এতে বেঁকে বসে। তারা একত্রে সিদ্ধান্ত নেয় যৌতুকবিহীন বিয়ে করার। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তাদের উন্নত ও দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু গল্পে অনুপম কৌশিকের মতো সৎসাহস দেখাতে পারেনি। চারিত্রিক দৃঢ়তার এ দিকটি তাদের পৃথক করেছে ।
d
“উদ্দীপকে ‘অপরিচিতা’ গল্পে বর্ণিত সামাজিক অসংগতি অনেকাংশেই প্রতিফলিত।”— ব্যাখ্যা করো ।
উত্তর
উদ্দীপকে ‘অপরিচিতা’ গল্পে বর্ণিত একটি সামাজিক অসংগতি— যৌতুকপ্রথার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে ।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামার মধ্যে যৌতুকলোভী মনোভাব লক্ষ করা যায় । তিনি অনুপমের বিয়েতে কল্যাণীর বাবার কাছে অর্থ ও গহনা যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। কল্যাণীর বাবা অনুপমের মামার সব কথা মেনে নেন। বিয়ের দিন অনুপমের মামা মেয়ের বাবা খাঁটি গহনা দিচ্ছেন কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য সেকরাকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। এতে কল্যাণীর বাবা অপমানিত হন এবং অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে কল্যাণীও আর বিয়েতে আগ্রহী হয় না এবং মেয়েদের শিক্ষার ব্রত গ্রহণ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সচ্ছল পরিবারের শিক্ষিত ছেলে কৌশিকের বিয়ে ঠিক করা হয় ধনী পরিবারের মেয়ে সুরবালার সঙ্গে। গোপনে যৌতুক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবারের লোকেরা । তবে কৌশিক ও সুরবালা যৌতুকের কথা জানতে পেরে বেঁকে বসে। তারা পরস্পর যৌতুকবিহীন বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। সামাজিক ব্যাধি যৌতুকের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ তাদের শুভ চিন্তা ও দৃঢ় চরিত্রের পরিচায়ক।
উদ্দীপকে ও ‘অপরিচিতা’ গল্পে যৌতুক প্রথার যে চিত্র আমরা পাই তা আমাদের সমাজে আজও বিদ্যমান। যৌতুক প্রথার ফলে অনেক কন্যার পিতা হন সর্বস্বান্ত, অনেকের বিয়ে ভেঙে যায় এবং অনেক মেয়ে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়। সমাজের এ ঘৃণ্য প্রথার রূপটি আমরা দেখতে পাই উদ্দীপক এবং অপরিচিতা’ গল্প উভয়ক্ষেত্রেই। উদ্দীপকের কৌশিক ও সুরবালার অভিভাবকগণ তাদের বিয়ে ধার্য করার ক্ষেত্রে দেনাপাওনার বিষয়টি গোপনে স্থির করে নেন। যদিও কৌশিক ও সুরবালার দৃঢ় অবস্থানের কারণে আর্থিক লেনদেনটি বাধাপ্রাপ্ত হয়। আলোচ্য গল্পেও সমাজে যৌতুকপ্রথার প্রকোপ লক্ষ করা যায় এবং যৌতুকের লোভই পরোক্ষভাবে অনুপম কল্যাণীর বিয়েভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যৌতুকের স্বরূপ ও কুফল তুলে ধরার দিক থেকে উদ্দীপকটি ‘অপরিচিতা’ গল্পকে অনেকাংশেই প্রতিনিধিত্ব করে। অর্থাৎ, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
29
Question 29
প্রজাপতির দুই পক্ষ। বরপক্ষ এবং কন্যাপক্ষ। বরপক্ষ কন্যাপক্ষের কাছে নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার চেয়ে বসল । নিত্যানন্দ রায় কোনোকিছু বিবেচনা না করে তাতেই মেয়ের বিয়ে দিতে সম্মত হয়ে গেল। তার মতে, এমন শিক্ষিত ছেলে আর বনেদি পরিবার কিছুতেই হাতছাড়া করা যায় না। তার ইচ্ছায় যথারীতি আশীর্বাদ পর্ব শেষে শুভ বিবাহের দিন ধার্য হয়ে গেল। নিত্যানন্দ অনেক কষ্ট স্বীকার করে বিয়ের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করার পরও নিতান্ত এক তুচ্ছ কারণে বিয়ের আসরেই এই বিয়ে ভেঙে যায় ।
Rajshahi · 2019
a
‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা অনুপমের চেয়ে কত বছরের বড়ো ?
b
‘একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুক-ভাঙা পণ ।’— এই কথার অর্থ বুঝিয়ে দাও ।
c
উদ্দীপকের নিত্যানন্দ রায়ের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পেও শম্ভুনাথের সাদৃশ্য নির্ণয় করো ।
উত্তর
কন্যার বিয়েতে যৌতুক প্রদানের দিক থেকে উদ্দীপকের নিত্যানন্দ রায়ের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের শম্ভুনাথ সেনের সাদৃশ্য রয়েছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে শম্ভুনাথ সেন নগদ অর্থ ও গহনা যৌতুক দিতে রাজি হয়ে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিলেন ধনী ঘরের সন্তান অনুপমের সঙ্গে। যদিও শেষ পর্যন্ত অনুপমের মামার হীন মানসিকতার কারণে শম্ভুনাথ সেন নিজেই মেয়ের বিয়ে ভেঙে দেন। তবে বিয়েতে যে পরিমাণ গহনা দেওয়ার কথা ছিল শম্ভুনাথ সেন তার চেয়েও বেশি গহনা দিয়েছিলেন। এতে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য যৌতুক প্রদানে শম্ভুনাথ সেনের মানসিক সমর্থনই প্রকাশ পায় ৷
উদ্দীপকের নিত্যানন্দ সুপাত্রের সন্ধান পেতেই কোনো প্রকার ভাবনা ছাড়া মেয়ের বিয়ে দিতে চান । বিয়ের আয়োজনে আর্থিক কষ্টের স্বীকার হতে হলেও তিনি সব ব্যবস্থাই করেন। তবে শেষ পর্যন্ত এ বিয়ে ভেঙে যায়। দেখা যায়, ‘অপরিচিতা’ গল্পে শম্ভুনাথ সেন তাঁর কন্যার বিয়ের যে সমারোহ দেখিয়েছেন উদ্দীপকের নিত্যানন্দও তেমনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যৌতুকের জোগান দিয়েছেন। যৌতুক প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁদের মনোভাব একই সূত্রে গাঁথা ।
d
তুমি কি মনে করো যৌতুক প্রথাই বিয়ে ভেঙে যাওয়ার একমাত্র কারণ ? উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের আলোকে বিচার করো।
উত্তর
যৌতুকপ্রথা চিরবহমান একটি সামাজিক ব্যাধি হলেও যৌতুকপ্রথাই বিয়ে ভাঙার একমাত্র কারণ বলে আমি মনে করি না ।
‘অপরিচিতা’ গল্পে যৌতুকপ্রথার ঘৃণ্য রূপটি ফুটে উঠেছে। এ প্রথা নারীকে পণ্য ও বিয়ে ব্যাপারটিকে বেচাকেনার সম্পর্কে পরিণত করেছে। যৌতুকের লোভ যে মানুষের মানসিকতাকে কতটা হীন করে দিতে পারে তার প্রমাণ হলো অনুপমের মামার আচরণ ।
উদ্দীপকে যৌতুকের কারণে বিয়ে ভাঙার চিত্র দেখা যায় না। নিত্যানন্দ রায় কষ্ট হলেও মেয়ের সুখের আশায় যৌতুকের টাকা জোগাড় করে। তবে এত কষ্টের পরেও বিয়েটা ভেঙে যায়। উদ্দীপকের মতো গল্পেও বিয়ে ভাঙার একমাত্র কারণ হিসেবে যৌতুকপ্রথাকে দায়ী করা যায় না।
‘অপরিচিতা’ গল্পে শম্ভুনাথ এবং উদ্দীপকের নিত্যানন্দ রায় দুজনেই কন্যার সুখের জন্য যৌতুক দিতে প্রস্তুত ছিলেন। অনুপমের মামার আচরণে হীনতার প্রকাশ এবং অনুপমের ব্যক্তিত্বহীন গলগ্রহের মানসিকতা গল্পে বিয়ে ভাঙার জন্য নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। আর উদ্দীপকে যৌতুক প্রস্তুত থাকলেও তুচ্ছ কোনো এক কারণে বিয়ে ভাঙার চিত্র দেখা যায় । তাই উদ্দীপক ও গল্প বিবেচনায় বলা যায়, যৌতুকপ্রথাই বিয়ে ভেঙে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলেও একমাত্র কারণ নয় ৷
30
Question 30
গৌরী ও সঞ্জয় অনেক দিন ধরে একই অফিসে চাকরি করছে কিন্তু সহকর্মীরা জানে না দুজনার অন্তরে গভীর ক্ষত। গৌরীকে নিজে পছন্দ করে বিয়ে করতে চেয়েছিল সঞ্জয়। বছর পাঁচেক আগে লোক খাওয়ানো নিয়ে বিয়ে ভেঙেছে তাদের। পিতৃহীন সঞ্চয় কাকার আশ্রয়ে মানুষ তাই তার দোষ জেনেও প্রতিবাদ করতে পারেনি। একদিন গৌরীর কাছে নিজের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে সঞ্জয়। বলে, তার জন্য সে সারা জীবন অপেক্ষা করবে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে গৌরী বলে, “কী দরকার, এই তো বেশ আছি!”
Jessore · 2019
a
কোন কথা স্মরণ করে অনুপমের মামা ও মা ‘একযোগে বিস্তর হাসিলেন’?
b
‘মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাপের খবরটাই তাহার কাছে গুরুতর।’— উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।
c
উদ্দীপকের সঞ্জয় ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে ? বুঝিয়ে দাও ।
উত্তর
ব্যক্তিত্বহীনতা প্রদর্শনের বিচারে উদ্দীপকের সঞ্জয় ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের প্রতিনিধিত্ব করে।
‘অপরিচিতা’ গল্পের কথক ও নায়ক অনুপম। বাবার মৃত্যুর পর অনুপমের মামা তাদের পরিবারের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেন। বিয়ের আসরে কনের গহনা পরীক্ষার মাধ্যমে অনুপমের মামা যে হীন মানসিকতার পরিচয় দেন, অনুপম তার কোনো প্রতিবাদ করে না। বিয়ে ভেঙে গেলেও অনুপম নীরব ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের সঞ্জয়ের কাকা খাবার নিয়ে ঝামেলা করে সঞ্জয়ের বিয়ে ভেঙে দিলেও সে নীরব থাকে। সঞ্জয় কাকার দোষ জেনেও কোনো প্রতিবাদ করে না, গল্পের অনুপমের মতো সঞ্জয় ব্যক্তিত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। সৎ সাহসের অভাবে অনুপমের ন্যায় সঞ্জয় গৌরীকে আপন করে নিতে পারে না। দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অভাবেই অনুপম কল্যাণী সঞ্জয় আর গৌরীকে আপন করে নিতে পারেনি। এভাবেই সঞ্জয় গল্পের অনুপমের প্রতিনিধি হয়ে ওঠে।
d
‘এই তো বেশ আছি!” “গৌরীর এই উক্তিতে ‘অপরিচিতা’ গল্পের পরিণতি প্রতিফলিত হয়েছে।”— উক্তিটি মূল্যায়ন করো ।
উত্তর
আত্মমর্যাদা-সচেতন নারীর যে রূপ কল্যাণীর মাঝে ফুটে উঠেছে তারই প্রতিফলন দেখা যায় উদ্দীপকের গৌরীর মাঝে।
‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী। অনুপমের সাথে বিয়ে ভেঙে গেলে সে পিতার যৌক্তিক মতামতকে সম্মান জানিয়েছে । পরবর্তী সময়ে সে দেশসেবার ব্রত গ্রহণ করেছে। নারী জাগরণের পথপ্রদর্শক হয়ে কল্যাণী দেশের জন্য কাজ করে চলেছে। গল্পের শেষে অনুপমের অনুরোধ ও মিনতিতে শম্ভুনাথের হৃদয় নরম হলেও বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকে কল্যাণী ।
উদ্দীপকের গৌরী ও সঞ্জয় একসময় প্রণয়ের বন্ধনে আবদ্ধ ছিল । তবে একপর্যায়ে সঞ্জয়ের কাকার বিরূপ আচরণে বিয়ে ভেঙে যায় তাদের। এতে পরে সঞ্জয় গৌরীর জন্য সারাজীবন অপেক্ষার কথা বললেও মন গলে না গৌরীর। কল্যাণীর মতো গৌরীর জীবনদর্শনেও পরিবর্তন এসেছে। যৌথ জীবনের স্বপ্নকে সে এখন আর আবশ্যিক মনে করে না ।
উদ্দীপকের গৌরী এবং গল্পের কল্যাণী উভয় চরিত্রের মাধ্যমে সমাজে নারী জাগরণের বিষয়টি উঠে এসেছে। কল্যাণী যেমন অনুপমের শত অনুরোধেও বিয়েতে রাজি হয়নি, তেমনি গৌরী সঞ্জয়ের কথার উত্তরে বলেছে ‘এই তো বেশ আছি’। উভয়ের মাঝেই সমাজের প্রচলিত প্রথাকে অস্বীকার করে স্বাধীন ও স্বাবলম্বী জীবনগড়ার ইঙ্গিত বিদ্যমান। আত্মমর্যাদাবোধে উদ্বুদ্ধ নারীর যে রূপ গল্পের পরিণতিতে লেখক তুলে ধরেছেন তারই দেখা পাই আমরা উদ্দীপকে গৌরীর মাঝে। এ বিবেচনায়, আলোচ্য মন্তব্যটি যথাযথ ।
31
Question 31
কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না। তিনি দেখিলেন, মেয়েটির বিবাহের বয়স পার হইয়া গিয়াছে, কিন্তু আর কিছুদিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র কোনো রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার হইয়া যাইবে না। মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে বাড়িয়া গিয়াছে বটে, কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো তাহার চেয়ে কিঞ্চিৎ ওপরে আছে, সেইজন্য তাড়া।
Rajshahi · 2018
a
অনুপমের পিসতুতো ভাইয়ের নাম কী?
b
‘অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোটো ভাইটি’- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
c
উদ্দীপকের বরের বাপের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করো।
উত্তর
যৌতুকলোভী মনোভাব ধারণের দিক থেকে উদ্দীপকের বরের বাপের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য দুটোই রয়েছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামা যৌতুকলোভী চরিত্র। তিনি অনুপমের বিয়ের জন্য একটি জুতসই ঘর খুঁজছিলেন; যেখানে না চাইলেও অনেক টাকা যৌতুক পাওয়া যাবে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর শম্ভুনাথ সেনের কন্যা কল্যাণীর সাথে মামা অনুপমের বিয়ে ঠিক করেন। বিয়ের দিন মেয়ের বাড়ি থেকে দেওয়া যৌতুকের গহনা নিয়ে অনুপমের মামা হীন মানসিকতার পরিচয় দেন। গহনাগুলো আসল না নকল তা পরীক্ষা করার জন্য তিনি বিয়েবাড়িতে সেকরাকে সঙ্গে নিয়ে আসেন।
উদ্দীপকের বরের বাবার মাঝেও যৌতুকলোভী মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। সে কারণেই বিয়ের জন্য মেয়ের বয়স বেশি হলেও যৌতুকের পরিমাণ তার চেয়ে বেশি বলে তিনি এ বিয়ে নিয়ে তাগাদা দেন। উদ্দীপকের বরের বাবার যৌতুকলোভী মানসিকতার এ দিকটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কিন্তু অনুপমের মামা যেমন গহনা পরীক্ষা করার জন্য সেকরাকে সাথে নিয়ে বিয়েবাড়িতে আসেন, তেমন বিষয় উদ্দীপকের বরের বাবার মাঝে দেখা যায় না। এছাড়া অনুপমের মামা মেয়ের বাবাকে যেভাবে অপমান করেছে, সে বিষয়টিও উদ্দীপকের বরের বাবার মাঝে অনুপস্থিত। সুতরাং বলতে পারি, যৌতুককে কেন্দ্র করে উভয় ঘটনা আবর্তিত হলেও উদ্দীপকের বরের বাপের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য দুটোই রয়েছে।
d
“উদ্দীপকের ঘটনাচিত্রে ‘অপরিচিতা’ গল্পের খণ্ডাংশ প্রতিফলিত হয়েছে”- উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাচিত্রে ‘অপরিচিতা’ গল্পের যৌতুকপ্রথার মতো সামাজিক অসংগতির দিকটি ফুটে উঠলেও যৌতুকের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের দিকটি অনুপস্থিত।
আলোচ্য গল্পে অনুপমের মামা চরিত্রের মাধ্যমে যৌতুকের মতো ঘৃণ্য প্রথার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। অনুপমের মামা কন্যার বাবার দেওয়া গহনা যাচাই করার জন্য বিয়েবাড়িতে সেকরাকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। এতে কন্যার বাবা শম্ভুনাথ সেন অপমান বোধ করেন এবং কল্যাণীর সঙ্গে অনুপমের বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান। কল্যাণীও বাবার এ মতকে সমর্থন করে।
উদ্দীপকে যৌতুকপ্রথার স্বরূপ উপস্থাপিত হয়েছে, যেখানে বিয়ে প্রসঙ্গে মেয়ের বাবার চেয়ে বরের বাবার তাড়া বেশি দেখা যায়। কেননা, মেয়ের বয়স বেশি হওয়ায় যৌতুকের টাকার পরিমাণও বেশি। উদ্দীপকে উল্লিখিত বরের বাবার এ অর্থলোভী মানসিকতা ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার সঙ্গে মিলে যায়। কিন্তু গল্পের অন্য দিকগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
‘অপরিচিতা’ গল্প ও উদ্দীপকে যৌতুকপ্রথার মতো সামাজিক ব্যাধির বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। তবে আলোচ্য গল্পে যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে বাবা ও মেয়ের সম্মিলিত প্রতিরোধের প্রসঙ্গ এসেছে যার ফলে অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যায় এবং পরবর্তী সময়ে কল্যাণী মেয়েদের শিক্ষাদানের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করে। যৌতুকের বিরুদ্ধে এমন প্রতিবাদী অবস্থানের স্বরূপ উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাছাড়া গল্পে নারী জাগরণের যে ইঙ্গিত রয়েছে তা-ও উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় না। অতএব বলতে পারি, যৌতুকপ্রথার সঙ্গে মিল থাকলেও উদ্দীপকের ঘটনাচিত্রে ‘অপরিচিতা’ গল্পের খণ্ডাংশই প্রতিফলিত হয়েছে। প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
32
Question 32
ডাক্তার অপূর্ব রংপুর বাস স্টপেজে দাঁড়িয়ে দেখতে পেলেন একটি স্কুল বাসে একজন শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের ছড়া-গান শেখাতে শেখাতে নিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষিকাকে তার চেনা চেনা মনে হলো। তার সঙ্গেই কি অপূর্বের বিয়ে হবার কথা ছিল? অপূর্বের কৌতূহল আর কোলাহলের মধ্যেই বাসটি চলে গেল। শিক্ষিকাকে দেখে মনে হলো স্বাধীনচেতা ও ব্যক্তিত্বময়ী। ভাস্তার অপূর্বের মনে পড়ল সেই বিখ্যাত গানের কলি: আমার বলার কিছু ছিল না,………..।
Barisal · 2017
a
‘অপরিচিতা’ গল্পে কাকে গজাননের ছোট ভাই বলা হয়েছে?
b
“ঠাট্টার সম্পর্কটাকে স্থায়ী করিবার ইচ্ছা আমার নাই”- উক্তিটি কোন প্রসজো করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
c
ডাক্তার অপূর্ব এবং ‘অপিরিচিতা’ গল্পের অনুপম যেদিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
গল্পে কল্যাণীর প্রতি অনুপমের গভীর আকর্ষণ প্রকাশ পেয়েছে; যা তাকে ও উদ্দীপকের ডাক্তার অপূর্বকে সাদৃশ্য এনে দিয়েছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের সাথে কল্যাণীর বিয়ে ঠিক হয়। কল্যাণীকে না দেখেই তার প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয় অনুপমের মনে। অনুপমের মামা বিয়ের আসরে সেকরা দিয়ে কনের গয়না পরীক্ষা করে দেখেন। এ কারণে অপমানিত হয়ে কল্যাণীর বাবা অনুপমের সাথে মেয়ে বিয়ে না দিয়েই বরযাত্রী বিদায় করেন। বিয়ে ভেঙে গেলেও অনুপম কল্যাণীকে ভুলতে পারেনি। অন্যদিকে, কল্যাণী মেয়েদের উন্নয়নে সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োজিত হয়। মাকে নিয়ে তীর্থে যাওয়ার পথে ট্রেনে কল্যাণীকে দেখে অনুপমের তাকে স্বাধীনচেতা ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী বলে মনে হয়।
উদ্দীপকের ডাক্তার অপূর্ব বাসস্টপেজে একটি স্কুলবাস দেখেন। সেই বাসের একজন শিক্ষিকাকে তার চেনা মনে হলো। তিনি ভাবতে লাগলেন, এমন একজনের সাথেই তার বিয়ের কথা হয়েছিল। অপূর্বের কৌতূহলী মনকে বেশি কিছু ভাবার সুযোগ না দিয়েই বাসটি চলে যায়। কিন্তু বাসের ওই শিক্ষিকাকে তার স্বাধীনচেতা ও ব্যক্তিত্বময়ী বলে মনে হয় যা গল্পের অনুপমের ভাবনার অনুরূপ। গল্পের কল্যাণীর প্রতি অনুপমের যে আকর্ষণ লক্ষ করা যায় উদ্দীপকের ডাস্তার অপূর্বের মাঝেও তা লক্ষণীয়। আর এই অনুরূপ মনোভাব প্রকাশের দিকটিই তাদের দুইজনকে সাদৃশ্যপূর্ণ করেছে।
d
উদ্দীপকের শিক্ষিকার মধ্যে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর চারিত্রিক প্রবণতাসমূহ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বলে তুমি মনে করো কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর
‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর চরিত্রে বেশ কিছু উন্নত মানবিক প্রবণতা প্রতিফলিত হয়েছে; যেগুলোর সমগ্রতা উদ্দীপকের শিক্ষিকার মাঝে দেখা যায় না।
‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী দৃঢ়চেতা মনোভাবাপন্ন ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন নারী। বিয়ের আসরে বিয়ে ভেঙে গেলেও সে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েনি। নিজেকে সে দেশের কল্যাণে, নারীদের উন্নয়নে সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োজিত করে। তৎকালীন সমাজবাস্তবতার বিরূপ পরিবেশে কল্যাণী সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।
উদ্দীপকে আমরা ডাক্তার অপূর্বের স্কুলবাসে হঠাৎ দেখা এক শিক্ষিকার সাথে পরিচিত হই। তাকে ঘিরে অপূর্বের মনে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। শিক্ষিকার প্রতি অপূর্বের আকর্ষণ সৃষ্টির পাশাপাশি উদ্দীপকের সেই শিক্ষিকার স্বাধীনচেতা ও ব্যক্তিত্বময়ী চরিত্রের পরিচয় পাওয়া যায়। ‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণীকে আমরা উদার, পরোপকারী, স্বাধীনচেতা ও ব্যক্তিত্বময়ী নারী হিসেবে দেখতে পাই। সে তার বাবা ও নিজের সম্মান বজায় রাখতে অনুপমকে বিয়ে করেনি। অনুপম দ্বিতীয়বার পাণিপ্রার্থী হলে তার বাবা মেনে নেন কিন্তু নারীশিক্ষা বিকাশে দেশের প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কল্যাণী তা প্রত্যাখ্যান করে।
উদ্দীপকে ডাক্তার অপূর্বের সাথে স্কুল শিক্ষিকার বিয়ে হওয়ার কথা থাকলেও সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আলোচনা নেই। সেই শিক্ষিকার পরিচয়ও উদ্দীপকে আলোচনা করা হয়নি। অপরদিকে গল্পে কল্যাণী চরিত্রকে দেশসেবায় নিয়োজিত হওয়া এবং তাতেই সংকল্পবদ্ধ থাকার মাধ্যমে পূর্ণতা দেওয়া হয়েছে। তাই আমি মনে করি, উদ্দীপকের শিক্ষিকার মধ্যে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর চারিত্রিক প্রবণতাসমূহ আংশিক প্রতিফলিত হয়েছে।
33
Question 33
কারো ঘর ভাঙে ঝড়ে
কারো সংসার পুড়ে যায় যৌতুকের আগুনে।
কেউ করে হায় হায়, বাপ-মা কাঁদে
মেয়েকে বিয়ে দিতে হয়-পড়ে যৌতুকের ফাঁদে।
করবে না বিয়ে সোনালি নিজেকে করে পণ্য
এটা তার পণ সোনালি জীবনের জন্য।
Jessore · 2017
a
‘অপরিচিতা’ গল্পে কন্যাকে কী দিয়ে আশীর্বাদ করা হয়েছিল?
b
‘কিন্তু ভাগ্য আমার ভালো, এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি’- বক্তার এমন অনুভূতির কারণ বুঝিয়ে লেখো।
c
উদ্দীপকের ‘সোনালি’ ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন চরিত্রকে ইঙ্গিত করে? বর্ণনা করো।
উত্তর
‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণীকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও দৃঢ়চেতা এক নারী চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা উদ্দীপকের সোনালির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আলোচ্য গল্পের কল্যাণী আত্মমর্যাদায় বলীয়ান একজন নারী। সামাজিক রীতিনীতির চেয়ে আত্মসম্মানই তার কাছে বড়। আর তাই তো বাবার কথায় লগ্নভ্রষ্ট হওয়ার লৌকিকতাকে অগ্রাহ্য করে সে এগিয়ে গেছে সামনের দিকে। নিজেকে নিয়োজিত করেছে মাতৃ-আজ্ঞা তথা দেশসেবায়।
উদ্দীপকে যৌতুক প্রথার কারণে সংসার ভাঙার কথা বলা হয়েছে। একইসাথে যৌতুকের কাছে কন্যার পিতামাতার অসহায়ত্বের দিকটিও স্পষ্ট। কিন্তু সোনালি নামের মেয়েটি নিজেকে যৌতুক প্রথার কাছে সমর্পণ করবে না। জীবনকে সুন্দরভাবে সামনে এগিয়ে নিতে সে যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এদিকে আলোচ্য গল্পের কল্যাণীও তাই। অনুপমের মামার যৌতুকলোভী আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল সে। যৌতুক প্রথা সংশ্লিষ্ট তিক্ত অভিজ্ঞতার ফলে পরবর্তীতে সে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশসেবায় মগ্ন হয়েছিল।
d
“উদ্দীপকে নিহিত সামাজিক কাঠামো এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের সামাজিক পটভূমি সাদৃশ্যযুক্ত”- যুক্তিসহ মন্তব্যটি যাচাই করো।
উত্তর
অপরিচিতা’ গল্পের কাহিনি মূলত যৌতুক প্রথা ও এর বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে যৌতুক প্রথার ঘৃণ্য রূপটি ফুটে উঠেছে। এ প্রথা নারীকে পণ্য ও বিয়ে ব্যাপারটিকে বেচা-কেনার সম্পর্কে পরিণত করেছে। যৌতুকের লোভ যে মানুষের মানসিকতাকে কতটা হীন করে দিতে পারে তার প্রমাণ হলো অনুপমের মামার আচরণ।
উদ্দীপকে যৌতুকের কারণে সংসার ভাঙার কথা বলা হয়েছে। কন্যার বাবা- মায়েরা মেয়ের সুখ-চিন্তা করে বরপক্ষের যৌতুকের দাবি মেনে নেয়। ‘অপরিচিতা’ গল্পেও যৌতুকের এই দিকটি স্পষ্ট। অনুপমের মামা কন্যার গহনা যাচাই করার জন্য সেকরা সাথে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর এই আচরণ তাঁর যৌতুকলোভী মানসিকতাকে সবার সামনে উন্মুক্ত করেছে। অনুপমের মামার কাছেও কল্যাণী পণ্যের মতো ছিল আর তাই তো তার মাঝে ছিল দামে ঠকে না যাওয়ার নির্লজ্জ মানসিকতা। তাঁর আচরণের কারণে অনুপম কল্যাণীর বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে যায়। এমনিভাবে ভেঙে যায় অনেক বৈবাহিক সম্পর্কও যার কথা উদ্দীপকে বলা হয়েছে।
উদ্দীপক ও আলোচ্য গল্পের সামাজিক কাঠামোর সাদৃশ্য এখানেই যে, উভয়ক্ষেত্রেই সম্পর্কের গুরুত্বের চেয়ে যৌতুক প্রথার প্রভাব বেশি। উদ্দীপকে নিহিত সামাজিক কাঠামো ও আলোচ্য গল্পের সামাজিক কাঠামো একই। উভয়ক্ষেত্রেই অমানবিক যৌতুক প্রথার প্রভাব বিদ্যমান। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
34
Question 34
নিঝুম আর অহনা পরস্পরকে গভীরভাবে ভালোভাসে। তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায়। কিন্তু নিঝুমের পরিবার সেটা মেনে নেয় না। কারণ, নিঝুম শিক্ষিত এবং ধনী পরিবারের একমাত্র সন্তান। অপরদিকে, অহনার পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। নিঝুম পরিবারের সম্মতিতে অন্যত্র বিয়ে করে এবং একসময় অহনাকে ভুলে যায়। অহনার দিন কাটে কষ্টের সমুদ্রে। কারণ, সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো মরে না।
Sylhet · 2017
a
বিবাহ ভাঙার পর হতে কল্যাণী কোন ব্রত গ্রহণ করেছে?
b
‘আমার ভাগ্যে প্রজাপতির সঙ্গে পঞ্চশরের কোন বিরোধ নাই’- বাক্যটির তাৎপর্য কী?
c
উদ্দীপকের নিঝুমের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের কী বৈসাদৃশ্য রয়েছে লেখো।
উত্তর
‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মাঝে স্বার্থহীন ভালোবাসার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়, যা তাকে উদ্দীপকের নিঝুমের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ করেছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম পরিবারতন্ত্রের কারণে না দেখা মানসপ্রতিমা কল্যাণীকে বিয়ে করে ঘরে তুলতে পারে না। কল্যাণীকে সে হৃদয়ে স্থান দিয়েছে। প্রথম জীবনে পৌরুষের ঘাটতি তার চরিত্রে থাকলেও পরবর্তীতে মা ও মাতুলের বাধা উপেক্ষা করে কল্যাণীর পাশে থেকে তার জীবনের ভুল ও পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে সচেষ্ট হয়েছে।
উদ্দীপকের নিঝুম পরিবারের বাধায় তার ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করেনি। তার ভালোবাসার মানুষকে ভুলে যায়। নিঝুমের অহনার প্রতি ভালোবাসার গভীরতার ক্ষেত্রে ঘাটতি লক্ষ করা যায়। প্রেম মানুষের হৃদয়বৃত্তির এক মহত্তম উপাদান। প্রেমশূন্য মানুষ হৃদয়হীন। অথবা স্বার্থের দিক বিবেচনা করে যেসব মানুষ ভালোবাসার মানুষকে উপেক্ষা করে তারা অমানবিক। ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম হৃদয়বান প্রেমিক পুরুষ আর উদ্দীপকের নিঝুম তার থেকে ভিন্ন চরিত্রের মানুষ।
d
উদ্দীপকটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম-কল্যাণীর জীবনের বিপরীত প্রতিচ্ছবি- মূল্যায়ন করো।
উত্তর
উদ্দীপকটিতে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম কল্যাণীর জীবনের মাঝে গভীর ভালোবাসা না থাকলেও কল্যাণীর প্রতি অনুপমের শ্রদ্ধাবোধ লক্ষ করা যায়।
সমাজে বসবাসরত নর-নারীর ভেতরে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। ওই সম্পর্ককে সামাজিকভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকৃতি দেওয়া মানুষের মানবিক দায়িত্ব, তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। উদ্দীপকে ভালোবাসার সম্পর্কের অবমাননা করা হয়েছে আর ‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণীর প্রতি অনুপমের প্রগাঢ় ভালোবাসার অকপট স্বীকৃতি বর্ণিত হয়েছে।
উদ্দীপকে নিঝুম ও অহনা পরস্পরকে ভালোবাসলেও আর্থিক ও সামাজিক কারণে নিঝুমের পরিবার বধূ হিসাবে অহনাকে ঘরে তোলেনি। নিঝুম পরিবারের মতে অন্যত্র বিয়ে করে অহনার ভালোবাসাকে অবহেলা করেছে। আর অহনার ভালোবাসা নিঝুমের প্রতি নিখাদ হওয়ায় সে কষ্টের সমুদ্রে ভাসতে থাকে। আর ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম-কল্যাণীর জীবনচিত্র ভিন্ন মাত্রিকতা লাভে ধন্য হতে দেখা যায়।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম-কল্যাণীর যৌতুকের কারণে সামাজিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটেছে। কনের সাথে প্রথমে অনুপমের পরিচয় বা দেখা না হলেও ওই অপরিচিতা মানুষকে অনুপম হৃদয়ে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছে। তাকে না দেখার বা না পাওয়ার বেদনা অনুপমের জীবনে ভীষণ পরিবর্তন এনেছে। এক পর্যায়ে কানপুরের পথে কল্যাণীর সাথে অনুপমের সাক্ষাৎ ঘটেছে। তারপর কল্যাণীর সেবাব্রতে মুগ্ধ হয়ে সে কল্যাণীর পাশে অবস্থান নিয়েছে। অনুপম কল্যাণীর মনে ভালোবাসার আসন লাভ করেছে। অথচ উদ্দীপকে নিঝুমের অহনার প্রতি বিরূপ আচরণ সত্যিই দুঃখজনক যা ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম-কল্যাণীর জীবনের বিপরীত চিত্র ধারণ করেছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ বলা যায়।
35
Question 35
প্রায় এক বছর হলো বাজিতপুর নিবাসী কেরামত আলীর ছোট মেয়ে বিজলীর সাথে মনোহরপুর গ্রামের হোসেন মিয়ার একমাত্র ছেলে হাশিমের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই হাশিমের পরিবার বিজলীর উপর অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু করেছে। বিজলীর অপরাধ- বিয়ের সময় তার বাবা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যৌতুকের সমস্ত টাকা পরিশোধ করতে পারেনি। তাই বিজলীকে নীরবে সহ্য করতে হচ্ছে এ নির্যাতন।
Comilla · 2017
a
‘কন্সট’ শব্দের অর্থ কী?
b
অনুপমের মামার মন কীভাবে নরম হলো?
c
উদ্দীপকের বিজলীর সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী চরিত্রের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য তুলে ধরো।
উত্তর
‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণীর মাঝে দৃঢ়চেতা ও সাহসী মনোভাব লক্ষ করা যায়।
আলোচ্য গল্পের কল্যাণী বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী একজন নারী। একই সঙ্গে তার পিতা শম্ভুনাথ সেনও দৃঢ়চেতা ও সচেতন মানুষ। পিতা-কন্যা উভয়ের মাঝেই আত্মসম্মানবোধ প্রবল ছিল। তাই তো কল্যাণী বিয়ে ভাঙার পর নারী শিক্ষায় ব্রতী হয়েছিল।
উদ্দীপকের বিজলীর সঙ্গে হাশিমের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই হাশিমের পরিবার যৌতুকের কারণে বিজলীর ওপর নির্যাতন শুরু করে। বিজলী নীরবে এ নির্যাতন সহ্য করতে থাকে। ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর হবু শ্বশুরবাড়ির মানুষেরাও ছিল যৌতুকলোভী ও নীচু মনের অধিকারী। এছাড়াও বরের ব্যক্তিত্বহীনতা উপলব্ধি করতে পেরে কল্যাণীর পিতা এ বিয়ে ভেঙে দেন। আত্মসম্মানে বলীয়ান কল্যাণীও পিতার সিদ্ধান্তে দ্বিমত করেনি। বরের পরিবারের মানসিকতার দিক দিয়ে বিজলী ও কল্যাণীর মাঝে সাদৃশ্য ফুটে উঠলেও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি বিজলীর সঙ্গে কল্যাণীর বৈসাদৃশ্য তুলে ধরেছে।
d
যদি অনুপমের সাথে কল্যাণীর বিয়ে হতো, তার পরিণতিও কি উদ্দীপকের বিজলীর মতো হতো? তোমার মতামত দাও।
উত্তর
অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর বিয়ের পর তার পরিস্থিতি উদ্দীপকের বিজলীর মতো হলেও কল্যাণী ওই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসত বলে আমি মনে করি।
‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী আত্মসম্মানে বলীয়ান এক নারী। তার সঙ্গে ঘটা অন্যায়কে প্রতিহত করার দৃঢ়তা তার রয়েছে। বিয়ের দিনে তার পিতা বিয়ে ভেঙে দেওয়ার পর সে দেশসেবায় নিয়োজিত হয়েছে। পুনরায় বিয়ে করে নিজেকে মাতৃ-আজ্ঞা থেকে দূরে সরিয়ে রাখেনি।
উদ্দীপকের বিজলীর সঙ্গে হাশিমের বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তার পরিবার বিজলীর ওপর অত্যাচার করতে থাকে। অত্যাচারের কারণ হলো যৌতুকের টাকা পরিশোধ না করা। এ অত্যাচার বিজলী নীরবে সহ্য করতে থাকে। অন্যদিকে আলোচ্য গল্পের কল্যাণীর হবু বরের পরিবারও ছিল যৌতুকলোভী। এ কারণে কল্যাণীর পিতা দৃঢ়তার সাথে বিয়ের সম্বন্ধটি ভেঙে দিয়েছিল। অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর বিয়ে যদি হয়ে যেত, নিঃসন্দেহে সেও বিজলীর ন্যায় নির্যাতনের শিকার হতো। কেননা অনুপমের পরিবারও ছিল যৌতুকলোভী ও নীচু মনের অধিকারী। কিন্তু কল্যাণী ছিল দৃঢ়চেতা প্রতিবাদী নারী। সে অনুপমের পরিবারের নিপীড়ন থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা অবশ্যই করত।
কল্যাণীর মাঝে ফুটে ওঠা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এটাই নিশ্চিত করে, সে বিজলীর ন্যায় নীরবে অত্যাচার সহ্য করত না। আত্মসম্মানের শক্তি নিয়ে একসময় সে ওই অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতই। তাই বলা যায়, অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর বিয়ে হলে তার পরিণতি বিজলীর পরিণতির দিকে মোড় নিলেও তা থেকে নিজেকে মুক্ত করত কল্যাণী।
36
Question 36
‘কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না। তিনি দেখিলেন, মেয়েটির বিবাহের বয়স পার হইয়া গিয়াছে, কিন্তু আর কিছুদিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র কোনো রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার হইয়া যাইবে। মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে বাড়িয়া গিয়াছে বটে, কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো তাহার চেয়ে কিঞ্চিত উপরে আছে, সেই জন্যই তাড়া।’
Chittagong · 2017
a
কন্যাকে আশীর্বাদ করার জন্য কাকে পাঠানো হলো?
b
অনুপমের মামা সেকরাকে বিয়ে বাড়িতে এনেছিল কেন?
c
উদ্দীপকের কন্যার বাপের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার সাদৃশ্য দেখাও।
উত্তর
উদ্দীপকে কন্যার বিয়ের প্রতি তার বাবার উদাসীনতার সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার সাদৃশ্য রয়েছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামা যৌতুকলোভী চরিত্র। তিনি অনুপমের বিয়ের জন্য একটি যুতসই ঘর খুঁজছিলেন। অর্থাৎ যেখানে না চাইলেও অনেক টাকা যৌতুক পাওয়া যাবে এমন জায়গাতেই মামা অনুপমকে বিয়ে দিতে চান। এজন্য অনুপমের বিয়ের জন্য মামার মাঝে কোনো প্রকার তাড়াহুড়ো পরিলক্ষিত হয় না।
উদ্দীপকে কন্যার বাবার মাঝে কন্যার বিয়ের প্রতি কোনোপ্রকার তাড়াহুড়ো দেখা যায় না। কন্যার বয়স অবৈধ রকমে বেড়ে গেলেও তিনি কন্যার বিয়ে সম্পর্কে ছিলেন নির্বিকার। এতে কন্যার বাবার মাঝে কন্যার বিয়ের বিষয়ে উদাসীন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। কন্যার বিয়ের বয়স পার হয়ে যাওয়ায় পাত্রের বাবা যেখানে বিয়ের জন্য তাড়াহুড়ো করছেন সেখানে কন্যার বাবা ছিলেন স্বাভাবিক। আর সন্তানের বিয়ের বিষয়ে কন্যার বাবার এই মানসিকতা তাকে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার সাথে সাদৃশ্যময় করে তুলেছে।
d
উদ্দীপকের ঘটনাচিত্র ‘অপরিচিতা’ গল্পের খন্ডাংশের প্রতিনিধিত্ব করে মাত্র- কথাটির যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাচিত্রে ‘অপরিচিতা’ গল্পের যৌতুক প্রথার মতো সামাজিক অসঙ্গতির দিকটি ফুটে উঠলেও যৌতুকের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের দিকটি অনুপস্থিত।
আলোচ্য গল্পে অনুপমের মামা চরিত্রের মাধ্যমে যৌতুকের মতো ঘৃণ্য সামাজিক প্রথার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। অনুপমের মামা কন্যার বাবার দেওয়া গয়না যাচাই করার জন্য বিয়ে বাড়িতে সেকরাকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। এতে কন্যার বাবা শম্ভুনাথ সেন অপমানিত বোধ করেন এবং কল্যাণীর সঙ্গে অনুপমের বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান। কল্যাণীও বাবার এ মতকে সমর্থন করে।
উদ্দীপকে যৌতুক প্রথার একটি দিক উপস্থাপিত হয়েছে, যেখানে বিয়ে প্রসঙ্গে মেয়ের বাবার চেয়ে বরের বাবার তাড়া বেশি দেখা যায়। কেননা মেয়ের বয়স বেশি হওয়ায় যৌতুকের টাকার পরিমাণও বেশি। উদ্দীপকে উল্লেখিত বরের বাবার এ অর্থলোভী মানসিকতা ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার সঙ্গে মিলে যায়।
‘অপরিচিতা’ গল্প ও উদ্দীপকে যৌতুক প্রথার মতো সামাজিক ব্যাধির বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। তবে আলোচ্য গল্পে যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে বাবা ও মেয়ের সম্মিলিত প্রতিরোধের প্রসঙ্গ এসেছে। ফলে অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যায় এবং পরবর্তীতে কল্যাণী মেয়েদের শিক্ষাদানের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করে। এছাড়া গল্পের প্রতিটি বিষয় নাটকীয় আবহের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা উদ্দীপকে দেখা যায় না। অতএব বলতে পারি, যৌতুক প্রথার সঙ্গে মিল থাকলেও উদ্দীপকের ঘটনাচিত্রে ‘অপরিচিতা’ গল্পের খণ্ডাংশই প্রতিফলিত হয়েছে। প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
37
Question 37
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনার পাঠ শেষ করতে করতেই আমার বোনের অনেক বয়স হয়ে যায়। তিন তিনবার তার বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে যাবার পর কেমন যেন হতাশ হয়ে পড়ি। একদিন তাকে ডেকে বলি, ‘সানজিদা, কাল বাসায় একটি নতুন বরপক্ষ তোকে দেখতে আসবে।’ শুনে ওর চেহারা কঠিন হয়ে ওঠে, বলে, ‘তুই শুধু শুধু ব্যস্ত হচ্ছিস তপন, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আমার যা কাজ তা জীবনভর শেষ হবার নয়।’
Rajshahi · 2017
a
কাকে ‘মাকাল ফল’ বলে বিদ্রূপ করা হয়েছে?
b
অনুপমের বিবাহ যাত্রার বর্ণনা দাও।
c
উদ্দীপকের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর সাদৃশ্য- বৈসাদৃশ্যগুলো আলোচনা করো।
উত্তর
উদ্দীপকের সানজিদার সঙ্গে কল্যাণীর দৃঢ় ব্যক্তিত্বের সাদৃশ্য এবং যৌতুকের কাছে মাথা নত না করার ঘটনায় বৈসাদৃশ্য উভয়ই লক্ষ করা যায়।
‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণী চরিত্রটি বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। সমাজে গেড়ে বসা যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ধ্বনিত হয়েছে এ চরিত্রের মাধ্যমে। পিতার কথায় অনুপমকে বিয়ে না করে সে পিতার যৌক্তিক সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। এছাড়া সমাজের অবহেলিত নারীদের শিক্ষাদানের মহান দায়িত্বে সে নিজেকে নিয়োজিত করতে চেয়েছে। সর্বোপরি সেবাব্রত ও নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে কল্যাণী এক অসাধারণ নারী চরিত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
উদ্দীপকের সানজিদা বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। সে বার বার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পরও দুঃখে কাতর হয়নি। বিয়েই যে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয় তা সে উপলব্ধি করতে পেরেছে। ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীও এমনই মানব সেবার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছে। সামাজিক প্রেক্ষাপটে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া তাদের পক্ষে মোটেও সহজ ছিল না। এরূপ বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বই তাদের দুজনকে এক করে দিয়েছে। কিন্তু কল্যাণী বরপক্ষকে বিয়ের আসর থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে। পুরুষশাসিত সমাজের কাছে এমনকি যৌতুকের কাছে মাথা নত করেনি। তার চরিত্রে ফুটে উঠেছে প্রতিবাদী দৃঢ় ব্যক্তিত্ব। এসবের বিচারে উদ্দীপকের সানজিদার সাথে তার কিছু বৈসাদৃশ্যও বিদ্যমান।
d
উদ্দীপকটিতে ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূল বক্তব্য কতটুকু প্রতিফলিত হয়েছে? যৌক্তিক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
উদ্দীপকটিতে ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূল বক্তব্য আংশিক প্রতিফলিত হয়েছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পেই প্রথম যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের কথা তুলে ধরেছেন লেখক। অপিরিচিতা বিশেষণের আড়ালে বর্ণিত হয়েছে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী এক নারীর কাহিনি। ব্যক্তিত্বের জাগরণ ও তার অভিব্যক্তিতে গল্পটি সার্থক হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকে সানজিদা পুরুষশাসিত সমাজে বিরূপ মনোভাবের শিকার। কিন্তু সে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের কারণে হতাশ হয়ে পড়েনি। মানবসেবায় সে নিজেকে ব্যস্ত করে রেখেছে। বিয়ে না হওয়া একজন নারীর জীবন দুঃখের হলেও সানজিদা এটিকে জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য মনে করে না। এর মধ্য দিয়ে তার দৃঢ় ব্যক্তিত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। যদিও তার পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।
‘অপরিচিতা’ গল্পে উদ্দীপকের বক্তব্য ফুটে উঠলেও সেই সঙ্গে ধ্বনিত হয়েছে প্রতিবাদের সুর। গল্পের কল্যাণী চরিত্রের মাধ্যমে তৎকালীন সমাজে নারী জাগরণের বিষয়টি উঠে এসেছে। সমসাময়িক যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গল্পে উঠে আসলেও উদ্দীপকে তার আভাস নেই। সে যুগে কন্যাপক্ষ কর্তৃক বিয়ে ভেঙে দেওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু পিতা শম্ভুনাথ ও কন্যা কল্যাণীর স্বতন্ত্র মানসিকতা ও ব্যক্তিত্বের কারণে সেটা সম্ভব হয়েছিল। অন্যদিকে উদ্দীপকে কেবল নারী সত্তার জাগরণের কথাই উঠে এসেছে। এসব বিচারে উদ্দীপকটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূল বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি।
