BNG – CQ S – Bilashi

01
Question 01

উজ্জয়নীর রাজা বিক্রমাদিত্যের রাজসভার প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ বরাহপুত্র মিহিরের স্ত্রী খনা। একদিন পিতা বরাহ এবং পুত্র মিহির আকাশের তারা গণনা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়লে খনা এ সমস্যার সমাধান দেন। রাজা বিক্রমাদিত্য তার গুণে মুগ্ধ হন। গণনা করে খনার দেওয়া পূর্বাভাসে রাজ্যের কৃষকরা উপকৃত হতেন বলে রাজা বিক্রমাদিত্য খনাকে দশম রত্ন হিসেবে আখ্যা দেন। কিন্তু খনার এই খ্যাতি ও সম্মান অল্প সময়ের মধ্যেই তার জীবনে বিড়ম্বনা নিয়ে আসে। রাজসভার প্রতিপত্তি হারানোর ভয়ে ও নারীর জ্ঞানের কাছে নিচু হওয়ার লজ্জায় প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে বরাহের আদেশে মিহির বনার জিহ্বা কেটে দেন। এর কিছুকাল পরে খনার মৃত্যু হয়।

ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ · 2026

a খুঁড়া কোন বংশের?

b ইহা আর একটি শক্তি বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

c বিলাসী চরিত্রের কোন জিনিসটি খনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ তা বর্ণনা করো।

উত্তর বিলাসী চরিত্রের কর্মনিপুণতা ও জীবনের নির্মম পরিণতির দিকটি খনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

‘বিলাসী’ গল্পের নাম চরিত্র বিলাসী। উচ্চবর্ণের মৃত্যুঞ্জয়কে আন্তরিক সেবা-যত্নের মাধ্যমে সে সুস্থ করে তোলে। ভালোবেসে তাকে বিয়ে করে। কিন্তু বর্ণবিভক্ত সমাজব্যবস্থা তাদের সেই সম্পর্ককে মেনে নেয়নি। তারা অন্নপাপের অজুহাতে মৃত্যুঞ্জয়কে সমাজচ্যুত করে। এমতাবস্থায় একদিন সাপের কামড়ে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু হলে বিলাসীও আত্মহননের পথ বেছে নেয়।

‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী তার সেবাপরায়ণতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার শক্তিতে মহীয়সী। সে কর্মনিপুণ, বুদ্ধিমতী ও সেবাব্রতী। প্রেম সাধনায় সে জয়ী হলেও জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমার কাছে পরাজিত হয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অন্ধ কুসংস্কার তার করুণ পরিণতির জন্য দায়ী। উদ্দীপকের খনা এক বিরল প্রতিভার অধিকারী নারী। তিনি তাঁর স্বামী-শ্বশুরের সমস্যার সমাধান করে দিয়ে দশম রত্ন হিসেবে আখ্যা পান। কিন্তু পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থায় তাঁর প্রতিভার জন্য তাঁকে চরম মূল্য দিতে হয়। তাই বলা যায়, বিলাসী চরিত্রের কর্মনিপুণতা ও জীবনের নির্মম পরিণতির দিকটির সঙ্গে উদ্দীপকের খনার সাদৃশ্য রয়েছে।

d মৃত্যুঞ্জয় ও মিহির পরস্পর বিপরীত চরিত্রের মানুষ- মন্তব্যটি যাচাই করো।

উত্তর স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতার দিক বিবেচনায় মৃত্যুঞ্জয় ও মিহির পরস্পর বিপরীত চরিত্রের মানুষ মন্তব্যটি যথার্থ।

‘বিলাসী’ গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয়। বিলাসীর সেবা-যত্নে সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাকে সে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করে। শুধু তাই নয়, এ নিয়ে তৎকালীন বর্ণবিভক্ত সমাজ চাপ প্রয়োগ করলে সে সমাজচ্যুত হয়েছে, কিন্তু বিলাসীকে ত্যাগ করার কথা ভাবেনি।

উদ্দীপকের মিহির একজন অকৃতজ্ঞ, প্রেমহীন হিংসুক মানুষ। একদিন আকাশের তারা গণনা করতে গিয়ে জ্যোতির্বিদ বরাহপুত্র মিহির সমস্যায় পড়লে স্ত্রী খনা তাকে সেই সমস্যা থেকে উদ্ধার করেন। কিন্তু মিহির রাজসভায় প্রতিপত্তি হারানোর ভয়ে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে পিতা বরাহের আদেশে স্ত্রী খনার জিহ্বা কেটে দেন। এর ফলে কিছুকাল পরে খনার মৃত্যু ঘটে। এই মিহির চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী চরিত্র ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়। কারণ সে তার জীবনরক্ষাকারী বিলাসীকে ভালোবেসে বিয়ে করে। সে নিজের সমাজ-সংসার ত্যাগ করে বিলাসীর সঙ্গে নতুন করে জীবন শুরু করে।

‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসী অসুস্থ মৃতুঞ্জয়কে সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। এর প্রতিদানে মৃত্যুঞ্জয় তাকে ভালোবাসে। জাত-ধর্ম ত্যাগ করে তাকে বিয়ে করে নিজে সাপুড়ে জীবন গ্রহণ করে। অন্যদিকে উদ্দীপকের মিহিরের মধ্যে এসব অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


Question 02

নেলসন ম্যান্ডেলা বর্ণবাদকে দাসত্ব ও দারিদ্যের মতো সামাজিক ব্যাধি মনে করতেন। তিনি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য এবং কৃষ্ণাঙ্গ আধিপত্য উভয়ের বিরুদ্ধে আমরণ লড়াই করেন। তাঁর বিখ্যাত দুটি উক্তি (i) ‘আমি যেকোনো ধরনের বর্ণবাদী বৈষম্যকে সবচেয়ে তীব্রভাবে ঘৃণা করি। সারাজীবন আমি এর বিরুদ্ধে লড়েছি। আমি এখনো লড়াই করি এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়ে যাব।’ (ii) ‘আমরা এমন একটি সমাজের জন্য যুদ্ধ করছি যেখানে মানুষের বর্ণ নিয়ে কেউ চিন্তা করবে না।

রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ · 2026

a ‘মাঝে মাঝে আমাদের গুরুশিষ্যের সহিত বিলাসী তর্ক করিত।’-কী বিষয়ে?

b ‘অতিকায় হস্তি লোপ পাইয়াছে, কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।’-ব্যাখ্যা করো।

c উদ্দীপকের উক্তি (i)-এ ‘বিলাসী’ গল্পের কোন দিকটি বিশেষায়িত হয়েছে তা আলোচনা করো।

উত্তর উদ্দীপকের উক্তি (i)-এ ‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত লেখকের জাতিভেদ প্রথাবিরোধী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পটি একটি সামাজিক সমস্যামূলক গল্প। হিন্দু সমাজে বর্ণিত জাতিভেদ প্রথার নির্মম রূপ প্রকাশিত হয়েছে এ গল্পে। লেখকের মানসে ধ্বনিত হয়েছে বর্ণপ্রথাবিরোধী মনোভাব।
উদ্দীপকের উক্তি (i)-এ আধুনিক দক্ষিণ আফ্রিকার রূপকার নেলসন ম্যান্ডেলার বর্ণভেদ প্রথাবিরোধী মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে। তিনি যেকোনো ধরনের জাতিভেদকে ঘৃণা করেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে তিনি সংগ্রাম করেছেন। ‘বিলাসী’ গল্পেও বর্ণপ্রথার নির্মম রূপ উন্মোচিত হয়েছে। এ গল্পের লেখক এর বিরুদ্ধে তার মনোভাব প্রকাশ করেছেন। উদ্দীপকের উক্তি (i)-এ ‘বিলাসী’ গল্পের লেখকের বর্ণপ্রথাবিরোধী চিন্তাধারার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।ও আাজার

d উদ্দীপকের উক্তি (i) এবং (ii)-এ ‘বিলাসী’ গল্পের প্রধান দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে কি? এ প্রসঙ্গে মতামত দাও।

উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পের প্রধান বিষয়বস্তু উদ্দীপকের মতো বর্ণপ্রথা বিরোধী হওয়ায় উদ্দীপকের উক্তি (i) ও (ii)-এ ‘বিলাসী’ গল্পের প্রধান দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী দুই মানব-মানবীর চরিত্রের অসাধারণ প্রেমের মহিমা, যা ছাপিয়ে উঠেছে জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা। এ গল্পের লেখকের বক্তব্যে এমন ঘৃণ্য প্রথাবিরোধী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের উক্তি (i) ও (ii)-এ নেলসন ম্যান্ডেলার বর্ণভেদ প্রথাবিরোধী চিন্তার প্রকাশ ঘটেছে। তিনি বর্ণপ্রথাকে ঘৃণা করতেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এ ঘৃণ্য প্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান নিশ্চিত করেছিলেন। ‘বিলাসী’ গল্পের লেখকও জাতিভেদ প্রথাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ গল্পে তিনি এ ধরনের প্রথার বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
উদ্দীপকের নেলসন ম্যান্ডেলার উক্তি (i) ও (ii)-এ ‘বিলাসী’ গল্পের লেখকের মতো বর্ণভেদ প্রথার বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ পেয়েছে। এ গল্পে লেখক উঁচু বর্ণের মৃত্যুঞ্জয় ও নিচু বর্ণের তথা সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীর মতো দুই বিপরীত মানব-মানবীর অসাধারণ প্রেমের মহিমা তুলে ধরেছেন। জাত বিসর্জনের কারণে সমাজ মৃত্যুঞ্জয়কে গোত্রচ্যুত করেছে। বিলাসীকে শিকার হতে হয়েছে অকথ্য নির্যাতনের। মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পরে বিলাসীর আত্মহত্যার মাধ্যমে বর্ণভেদপ্রথা প্রচলিত সমাজব্যবস্থার প্রতি লেখক অপরিসীম ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় উদ্দীপকের উক্তি (i) ও (ii) ‘বিলাসী’ গল্পের প্রধান দিকটি প্রতিফলিত করে।


Question 03

করোনা মহামারির সময় আমরা সাধারণ জনগণ যখন আত্মরক্ষার্থে নিজেদের বাসায় আবদ্ধ রেখেছি তখন একদল চিকিৎসক ও নার্স রোগীদের বাঁচাতে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ক্ষেত্রবিশেষে নিকট আত্মীয়রাও যখন মৃতের লাশ দাফন করতে অনীহা প্রকাশ করছিলেন, তখন একদল স্বেচ্ছাসেবক হাসিমুখে এগিয়ে এসেছেন। যেসব শ্রমজীবী মানুষের দু’বেলার অন্নসংস্থান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল- তাদের জন্যও চাল-ডালের ব্যবস্থা করেন। এসব আত্মত্যাগী মানুষদের জন্যই পৃথিবী এত সুন্দর।

ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026

a বিলাসীর কোন ব্যাপারটি অনেকের কাছে পরিহাসের বিষয়?

b ‘গেল গেল, গ্রামটা এবার রসাতলে গেল।’ কে, কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলেছে বুঝিয়ে লেখো।

c উদ্দীপকের ডাক্তার ও নার্স ‘বিলাসী’ গল্পের কার কথা মনে করিয়ে দেয়? আলোচনা করো।

উত্তর উদ্দীপকের ডাক্তার ও নার্স ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়।

‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসী দরিদ্র সাপুড়ের মেয়ে। সে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে ও বিপদকে তুচ্ছ করে মৃত্যঞ্জয় নামক একটি অনাথ রোগীর সেবা করে। যখন গ্রামের কেউ মৃত্যুঞ্জয়ের কাছে আসে না তখন বিলাসী দিনরাত তার সেবা করে এবং শেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিলাসীর এই ত্যাগ ও সেবা সাহসী ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্ভূত।

উদ্দীপকে করোনা মহামারিকালে ডাক্তার ও নার্সরা নিজেদের জীবন বিপন্ন করেও রোগীদের সেবা করেন। নিকটাত্মীয়দের অনীহা সত্ত্বেও স্বেচ্ছাসেবকরা মৃতদের দাফন করেছেন। এই আত্মত্যাগ, সাহস ও মানবিকতা ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর চরিত্রের সাথে সরাসরি মিলে যায়। বিলাসীও সমাজের নিন্দা ও ভয়কে উপেক্ষা করে এক অসহায় মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিল। উভয় ক্ষেত্রেই নিঃস্বার্থ সেবা, বিপদ মোকাবিলার সাহস এবং মানবতার জয় এই মূল্যবোধগুলো প্রাধান্য পেয়েছে, যা উদ্দীপকের ডাক্তার-নার্সদের মাধ্যমে বিলাসীর স্মৃতি জাগ্রত করে।

d উদ্দীপকের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের ঘটনাগত মিল না থাকলেও ভাবগত সাদৃশ্য রয়েছে। তোমার মতামত দাও।

উত্তর উদ্দীপকের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের ঘটনাগত মিল না থাকলেও মানবসেবা, ত্যাগ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের দিক থেকে উভয়ের মধ্যে ভাবগত সাদৃশ্য রয়েছে।

‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসীর চরিত্রটি প্রকাশ পায় তার সেবা, সাহস ও মানসিকতায়। সে সমাজের নিয়ম ও কুসংস্কারকে উপেক্ষা করে একটি অসহায় মানুষকে বাঁচানোর দায়িত্ব নেয়। গল্পে বিলাসীর চরিত্রটি জাতি, বর্ণ বা সমাজের সংকীর্ণতা অতিক্রম করে।

উদ্দীপকে করোনা মহামারির সময় ডাক্তার-নার্স ও স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটে। তারা নিজেদের নিরাপত্তা ত্যাগ করে রোগী ও দুস্থদের জন্য কাজ করে গেছেন। যদিও ঘটনাগতভাবে এটি আধুনিক সময়ে বৈশ্বিক সংকট এবং ‘বিলসী’ গল্পটি একটি পল্লিসমাজের প্রেক্ষাপট, কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের জন্য ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও সাহসিকতার একই চেতনা কাজ করেছে।

‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী সমাজের রক্ষণশীলতা ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে একটি নীরব বিদ্রোহ করে। উদ্দীপকের ডাক্তার-নার্স ও স্বেচ্ছাসেবকরাও একইভাবে সামাজিক ভয় ও সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে মানবতার বিজয় গড়ে তুলেছেন। উভয় রচনা দেখায় যে, সত্যিকারের মানবতা কোনো ঘটনা বা সময়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়। বরং তা যুগে যুগে বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পায়। ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী এবং উদ্দীপকের আত্মত্যাগী মানুষেরা একই সত্যের বাহক- তারা প্রমাণ করে স্বার্থ ও ভয়ের উর্ধ্বে উঠে মানুষের জন্য কাজ করাই জীবনকে অর্থবহ করে।


Question 04

মহুয়া শহরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। তার শহরে কাজ করার বিষয়টি গ্রামের কিছু মানুষ পছন্দ করে না। উপরন্তু তার নামে দুর্নাম রটনা করে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি এলে গ্রামের মানুষগুলো মহুয়ার নামে বিচার বসায়। তারা মহুয়াকে জোর করে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মহুয়া তাতে প্রতিবাদ করে। অসুস্থ মাকে রেখে সে কিছুতেই কোথাও যাবে না।

নটরডেম কলেজ · 2026

a ‘বিলাসী’ গল্পের গল্পকথকের নাম কী?

b ‘বাঙালির বিষ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

c বিলাসী চরিত্রের কোন দিকটি মহুয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা বর্ণনা কর।

উত্তর বিলাসী চরিত্রের মৃত্যুঞ্জয়ের গ্রামের মানুষ কর্তৃক নির্যাতনের দিকটি মহুয়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

পৃথিবীতে সব মানুষের জন্ম-পরিচয় এক ও অভিন্ন। অথচ আত্মস্বার্থে তারা পরস্পরকে ঘৃণা করে এবং সমাজের লোককে বিভিন্ন স্তরে বিভাজন করে বৈষম্য তৈরি করে।

উদ্দীপকে মহুয়া শহরে কাজ করে। মেয়ে হয়ে শহরে কাজ করে বলে গ্রামের লোকেরা তাকে বদনাম দেয় এবং তাকে গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে হয়ে কায়স্থ ঘরের সন্তান মৃত্যুঞ্জয়কে বিয়ে করায় গ্রামের লোকজন তা মেনে নেয় না। তারা বিলাসীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। তারা বিলাসীর প্রতি অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করে। জ্ঞাতি খুড়া মৃত্যুঞ্জয়ের জমি ও বাগানের লোভে অন্ন্য পাপের অভিযোগে সমাজচ্যুত করে। এভাবে, উদ্দীপকের মহুয়া এবং ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী দুজনেই গ্রামের মানুষ কর্তৃক নির্যাতনের শিকার।

d “বিলাসী ও মহুয়া পরস্পর বিপরীত চরিত্রের মানুষ।”-মন্তব্যটি যাচাই কর।

উত্তর “বিলাসী ও মহুয়া, পরস্পর বিপরীত চরিত্রের মানুষ।”-মন্তব্যটি যথার্থ।

পৃথিবী সব মানুষ সমান। সবারই সুন্দরভাবে জীবনযাপন করার অধিকার রয়েছে। কেউ কেউ অন্যায়ভাবে সেই অধিকার খর্ব করতে চায়। কেউ সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করে। আবার কেউ তা নীরবে সহ্য করে।

উদ্দীপকে গ্রামের মেয়ে মহুয়া শহরে কাজ করায় গ্রামের লোকজন তার নামে কুৎসা রটনা করে এবং তাকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মহুয়া এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। অসুস্থ মাকে রেখে সে কোথাও যাবে না। অন্যদিকে ‘বিলাসী’ গল্পে নিচু জাতের হয়ে উঁচু জাতের ছেলেকে বিয়ে করায় গ্রামবাসী তাকে গ্রামছাড়া করতে চায়। বিলাসী এ সিদ্ধান্তের কোনো প্রতিবাদ করেনি, বরং চুপচাপ সহ্য করেছে।

উদ্দীপকের মহুয়া একজন প্রতিবাদী নারী। কিন্তু ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর মধ্যে অন্যায়কে সহ্য করার প্রবণতা প্রতিফলিত হয় যা মহুয়া চরিত্রের বিপরীত। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


Question 05

হুমরাবেদের মেয়ে মহুয়ার প্রেমে পড়ে জমিদারপুত্র নদের চাঁদ। জমিদার বিষয়টি জানতে পেরে রাতের আঁধারে হুমরাবেদের দলকে গ্রামছাড়া করে। নিচু জাতের বেদের মেয়ের সঙ্গে তার পুত্র নদের চাঁদের প্রেম তিনি মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু নদের চাঁদ মহুয়াকে পাওয়ার আশায় বাবা-মাকে ছেড়ে যায়। হুমরাবেদে নদের চাঁদকে হত্যার জন্য মহুয়ার হাতে বিক্ষার ছুরি তুলে দেয়। মহুয়া সেই ছুরি দিয়ে স্বামীকে হত্যার পরিবর্তে আত্মহত্যা করে।

সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ, যশোর · 2026

a ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?

b “টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়।”- কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

c উদ্দীপকের নদের চাঁদ চরিত্রের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর উদ্দীপকের নদের চাঁদের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের সহায়-সম্পদ থাকলেও সে ছিল অনাথ যুবক। এমনকি তার কাকাও ছিলেন তার বিষয়-সম্পদ দখলের ফন্দিতে। মৃত্যুঞ্জয় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে, সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী নিজে সেবা করে তাকে মৃত্যুপুরী থেকে ফিরিয়ে আনে। বিলাসীর এই অসামান্য ত্যাগ দেখে এবং বিলাসী ছোটো জাত জেনেও মৃত্যুঞ্জয় তাঁকে জীবনসঙ্গিনী করে। এমনকি সে নিজ উঁচু জাত ছেড়ে সাপুড়ে জীবন বেছে নেয়।
উদ্দীপকের জমিদারপুত্র নদের চাঁদ হুমরাবেদের মেয়ে মহুয়ার প্রেমে পড়ে। জমিদার বিষয়টি জানতে পারলে বেদেদের গ্রামছাড়া করে। মহুয়া নিচু জাতের মেয়ে বলে জমিদার মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু নদের চাঁদ মহুয়াকে পাওয়ার জন্য বাবা-মাকে ত্যাগ করে মহুয়ার কাছে চলে যায়। উভয় ক্ষেত্রেই প্রেমের জয় হয়েছে। তাই উদ্দীপকের নদের চাঁদের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

d উদ্দীপকটি যেন ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর অমর প্রেমের উপাখ্যান।”- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

উত্তর প্রেমের জয়গান ঘোষিত হওয়ার দিক থেকে “উদ্দীপকটি যেন ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর অমর প্রেমের উপাখ্যান” মন্তব্যটি যথার্থ।
‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর প্রেম সামাজিক বাধা অতিক্রম করে অমরত্ব পেয়েছে। অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে বিলাসীর রাত জেগে নিঃস্বার্থ সেবার মধ্যে একই সাথে ফুটে উঠেছে বিলাসীর নারীত্ব ও প্রেমের প্রতিমা। অপরদিকে মৃত্যুঞ্জয়ের বিলাসীকে আপন করে নেওয়াও ছিল নিখাদ প্রেমের বহিঃপ্রকাশ। কারণ বিলাসীকে নিচু জাত ভেবে দূরে সরিয়ে না দিয়ে সে বুকে টেনে নিয়েছে।
উদ্দীপকে নদের চাঁদ জমিদারপুত্র হয়েও বেদের মেয়ে মহুয়াকে ভালোবেসে সব সুখ ত্যাগ করেছে। সমাজ, বাবা-মার বাধা কিংবা ঘরছাড়া হওয়ার ভয় তাকে দমাতে পারেনি। মহুয়া ও নদের চাঁদ উভয়েই ছিল প্রকৃত ভালোবাসায় আপসহীন। ভালোবাসার এই একই প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর মধ্যে। তারাও ভালোবাসার জন্য আপসহীন।
উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্প বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের পবিত্র প্রেমের মধ্যে প্রেমের জয়গান ঘোষিত হয়েছে। উদ্দীপকের নদের চাঁদ ও মহুয়া প্রেমের ক্ষেত্রে নিবেদিতপ্রাণ। তারা সমাজের সকল বাধা অতিক্রম করে প্রেমের জয়গান গেয়েছে। ‘বিলাসী’ গল্পের নায়ক ও নায়িকাও সমাজের কিংবা পরিবারের সকল প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে ভালোবাসাকে রেখেছে সবার ওপরে। এদিক্ বিচারে তাই বলা যায়, উদ্দীপকর যেন ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর অমর প্রেমের উপাখ্যান।


Question 06

কেবল গোত্রগত অমিলের কারণে লাবণ্যকে তার শাশুড়ি আশালতা খুবই অপছন্দ করেন। তার রান্না করা ভাত খান না। তার ধরাছোঁয়া ধরেন না। ধরতে গেলে তার ছায়াও এড়িয়ে চলেন শাশুড়ি। অথচ লাবণ্য উচ্চশিক্ষিতা মেয়ে। একটি ভালো চাকরি করে। প্রতিবেশীদের কাছে সে চোখের মণি। শাশুড়ির মন জোগাতে সে কতশত চেষ্টা করে! আর আশালতা মনে করেন লাবণ্য তার ছেলে নিলয়কে রূপে ভুলিয়ে বিয়ে করে সে তার পরিবারের মানসম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। ক্রমাগত অমানুষিক আচরণে লাবণ্য একদিন স্বামীগৃহ ত্যাগে বাধ্য হয়।

সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026

a মৃত্যুঞ্জয়কে তার শ্বশুরের দেওয়া নামটি কী?

b “নারায়ণের কর্তৃপক্ষেরও চক্ষুলজ্জা হইবে।”- ব্যাখ্যা করো।

c উদ্দীপকের আশালতা ‘বিলাসী’ গল্পের কার সার্থক প্রতিনিধি? কেন?

উত্তর উদ্দীপকের আশালতা ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়োর সার্থক প্রতিনিধি।
‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়া স্বার্থপর ও কূটকৌশলী এক চরিত্র। মৃত্যুঞ্জয়ের বিশাল সম্পত্তি দখল করার লোভ তার মনে সব সময় বিরাজমান। মৃত্যুঞ্জয় মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হলেও তার ন্যূনতম দেখভাল করার প্রয়োজন বোধ করেননি তার খুড়া। অথচ নিচু জাতের মেয়ে বিলাসীকে বিয়ে করায় বংশমর্যাদা রক্ষার নামে তাকে সমাজচ্যুত করেন তিনি।
উদ্দীপকে কেবল গোত্রগত অমিলের কারণ লাবণ্যের শাশুড়ি আশালতাকে খুবই অপছন্দ করেন। তাকে এড়িয়ে চলেন, তার ধরাছোঁয়া খান না। তাছাড়া তিনি মনে করেন, লাবণ্যের সাথে ছেলে নিলয়ের বিয়ে হওয়ায় তার পরিবারের সম্মান ধুলোয় মিশে গিয়েছে। ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়াও জাতিভেদ প্রথা প্রবলভাবে ধারণ করেন। নিচু সাপুড়ে জাতের মেয়ে বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে বিয়ে করায় তিনি গ্রামের লোকজন নিয়ে তার ওপর অত্যাচার চালান। অন্নপাপের অভিযোগ এনে মৃত্যুঞ্জয়কে গ্রামছাড়া করেন। উদ্দীপকের আশালতা এবং গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়া উভয়ই ঘৃণ্য জাতিভেদ প্রথার মাধ্যমে মানুষের মানবীয় অধিকার অস্বীকার করেন। তাদের কাছে মানুষের মহৎ গুণাবলি, ভালোবাসা প্রভৃতির উর্ধ্বে স্থান পেয়েছে তাদের জাত পরিচয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের আশালতা দেবী ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ারই সার্থক প্রতিনিধি।

d “অসাম্য ও জাত্যভিমানের মনোভাবনাই লাবণ্য ও বিলাসীর নির্যাতিত হওয়ার মূল কারণ”- উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর “অসাম্য’ ও জাত্যভিমানের মনোভাবনাই লাবণ্য ও বিলাসীর নির্যাতিত হওয়া মূল কারণ”- উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
‘বিলাসী’ গল্পের মূল বিষয় জাতিভেদ প্রথার ভয়াবহতা। এ গল্পে জাতিভেদ প্রথার ভয়াবহ রূপ উন্মোচন করেছেন লেখক। কেবল নিচু জাতের হওয়ার কারণে বিলাসীর অমানুষিক খাটুনি ও ত্যাগ উপেক্ষিত হয়েছে। তাকে হতে হয়েছে নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার।
উদ্দীপকের উচ্চশিক্ষিতা মেয়ে লাবণ্য একটি ভালো চাকরি করে। কিন্তু তারপরও কেবল গোত্রগত কারণে তার শাশুড়ি আশালতা তাকে খুবই অপছন্দ করেন। শাশুড়ির মন জোগাতে নানা রকম চেষ্টার পরও তাকে বিভিন্ন কটুকথা শুনতে হয়। এমনকি শেষ পর্যন্ত তাকে স্বামীগৃহ ত্যাগ করতে হয়। ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর জীবনে জাতপ্রথার কারণে আরও নির্মম পরিণতি ঘটে। নিচু সাপুড়ে জাতের মেয়ে হয়েও উঁচু জাতের ছেলেকে বিয়ে করায় তাকে নানাভাবে অপদস্থ হতে হয়েছে। এমনকি বিলাসীকে শারীরিক নির্যাতন করে গ্রামছাড়া করা হয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী জাতিভেদ প্রথার নির্মম শিকার। বিলাসীর এত পরিশ্রম, আত্মত্যাগ, ভালোবাসা সবই তুচ্ছ হয়েছে হিন্দু সমাজে প্রচলিত জাতিভেদ প্রথার কাছে। উদ্দীপকের লাবণ্যও অনুরূপ জাতিভেদ প্রথার শিকার। তার শিক্ষাগত শিক্ষাগত যোগ্যতা, ভালো চাকরি কিংবা ভালো গুণ ছাপিয়ে তার গোত্রগত পরিচয়ই মুখ্য হয়েছে শাশুড়ির কাছে। যার কারণে তাকে সহ্য করতে হয়েছে ক্রমাগত অমানুষিক আচরণ। স্বীয় কৃতকর্মের প্রাপ্রির বদৌলতে কেবল নিচু জাত-গোত্রের কারণে উভয়ের জীবনে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। উপর্যুক্ত পর্যালোচনা থেকে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থই।

07
Question 07

শোনায়ে লোভের বুলি

নেবে না কেউ কাঁধের ঝুলি

ইতর আতরাফ বলি

দূরে ঠেলে নাহি দেবে।।

আমির ফকির হয়ে এক ঠাঁই

সবার পাওনা পাবে সবাই

আশরাফ বলিয়া রেহাই

ভবে কেহ নাহি পাবে।।

সিলেট এমসি কলেজ · 2026

a ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?

b “শুধু কর্তব্যজ্ঞানের জোরে অথবা বহুকাল ধরিয়া একসঙ্গে ঘর করার অধিকারেই এই ভয়টাকে কোনো মেয়েমানুষই অতিক্রম করিতে পারে না।”- ব্যাখ্যা করো।

c উদ্দীপকটিতে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? বিশ্লেষণ করো।

উত্তর উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত জাত-পাতের বিভাজন ভুলে মানবতার জয়গানের দিকটি ফুটে উঠেছে।
‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী দুই মানব-মানবীর অসাধারণ প্রেমের মহিমা, যা ছাপিয়ে উঠেছে জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা। পরম সেবাব্রত আর ভালোবাসা দিয়ে বিলাসী জয় করে নিয়েছে মৃত্যুঞ্জয়ের হৃদয়।
উদ্দীপকের কবিতাংশের মানুষে মানুষে ভেদাভেদের বিষয়টিকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কবির মতে ইতর, আতরাফ, আমির, ফকির সকলেই এক মহা আত্মার অংশ। কেউই পৃথিবীতে স্থায়ী হয়ে থাকতে পারবে না। ‘বিলাসী’ গল্পেও লেখক জাত-পাতের ভেদাভেদ ভুলে ভালোবাসার পৃথিবী রচনা করার বার্তা দিয়েছেন। উঁচু জাতের মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীকে ভালোবেসে নিজের জাত ত্যাগ করে শ্বশুরের জাত গ্রহণ করে মানুষে মানুষে বিভাজনের মানদণ্ড ভেঙে দিয়েছে, যা উদ্দীপকের কবিরও প্রত্যাশিত।

d “উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পেরেছে”-তোমার অভিমতসহ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের একাধিক বিষয় অনুপস্থিত থাকায় “উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পেরেছে”- এ মন্তব্যটি যথার্থ নয়।
‘বিলাসী’ গল্পের মূল প্রতিবাদ্য দুজন বিপরীতধর্মী মানব-মানবীর অসাধারণ প্রেমের মহিমা, যা জাত-পাত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা অতিক্রম করেছে। পরম সেবাব্রত আর ভালোবাসা দিয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের হৃদয় জয় করে নিয়েছে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবির উদারনৈতিক জীবনবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। আশরাফ-আতরাফ, ধনী-ফকির এগুলো সমাজের তৈরি মানদণ্ড। প্রকৃতপক্ষে সকল মানুষই জন্মগতভাবে সমান মর্যাদার অধিকারী। ‘বিলাসী’ গল্পেও লেখক জাতি-ধর্ম-বর্ণ হিসেবে মানুষকে বিভেদের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। পরম সেবাধর্ম ও ভালোবাসা মানুষকে জাত-পাতের বৈষম্য ভুলিয়ে কাছে টানতে পারে, কেউ কারও জন্য বাঁচতে পারে, আবার তারই জন্য মরতে পারে।
উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের জাত-পাত ভুলে সাম্যের পৃথিবী রচনার বিষয়টি প্রকাশ পেলেও এটিই এ গল্পের একমাত্র বিষয় নয়। এ গল্পে বর্ণিত দুই পৃথক জাত-পাতের দুজন মানব-মানবীর পরস্পরের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা ও একে অপরের জন্য আত্মত্যাগ, খুড়ার কূটকৌশল, ন্যাড়ার শৈশবস্মৃতি প্রভৃতি বিষয় স্থান পেয়েছে। এছাড়াও গ্রামীণ সমাজব্যবস্থায় কুসংস্কার ও অন্ধধর্মবিশ্বাসের নিকৃষ্ট রূপ প্রকাশ পেয়েছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, “উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পেরেছে”- এ মন্তব্যটি যথার্থ নয়।

08
Question 08

সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় সুজন। সংক্রমণের ভয়ে পরিবারের সকলেই তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। এ সময় পাশের বাড়ির দরিদ্র মাঝির মেয়ে রুমা সুজনের সেবায় এগিয়ে আসে। সে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা-শুশ্রুষা করে সুজনকে সুস্থ করে তোলে। সুজন কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে রুমাকে বিয়ে করে; কিন্তু তার পরিবার রুমাকে মেনে নেয় না। রুমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাইলে সুজনও কুমার সাথে বেরিয়ে আসে।

আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ · 2026

a
বিলাসী’ গল্পের ন্যাড়া কত ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যেত?

b
“অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।”- ব্যাখ্যা করো।

c
উদ্দীপকের সুজন চরিত্রের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন চরিত্র তুলনীয়? বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর
উদ্দীপকের সুজন চরিত্রের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের সাদৃশ্য রয়েছে।

‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হলে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী তাকে সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মৃত্যুঞ্জয় তাকে বিয়ে করলে গ্রামের লোকের জাতভঙ্গের অপরাধে তাকে গ্রামছাড়া করে।

উদ্দীপকের সুজন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে তার পরিবারের লোক তাকে ছেড়ে চলে যায়। এমন পরিস্থিতিতে দরিদ্র মাঝির মেয়ে রুমা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তাকে সেবা-শুশ্রুষা করে বাঁচায়। প্রতিদানে সুজন রুমাকে বিয়ে করলে পরিবারের লোকজন রমাকে বের করে দিতে চাইলে সুজনও রুমার সঙ্গে বের হয়ে আসে। ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ও তার মুমূর্ষু পরিস্থিতিতে বিলাসীর সেবধর্মের কৃতজ্ঞতা হিসেবে তাকে বিয়ে করে। গ্রামের লোকজন এতে জাতভঙ্গের দোহাই দিয়ে তাদের গ্রামছাড়া করে। এদিক থেকে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে সুজনের সাদৃশ্য রয়েছে।

d
উদ্দীপকটি যেন ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর মানবিক প্রেমচিত্র। – উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

উত্তর

উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পে সেবাধর্মের মাধ্যমে হৃদয় জয় করার দিকটি ফুটে ওঠায়, “উদ্দীপকটি যেন ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর মানবিক প্রেমচিত্র” মন্তব্যটি যথার্থ।

‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী দুই মানব-মানবীর অসাধারণ প্রেমের মহিমা, যা ছাপিয়ে উঠেছে জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা। মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসী তাদের জাতিগত পরিচয় ভুলে মানবীয় পরিচয়ে উত্তীর্ণ হতে পেরেছে।

উদ্দীপকের সুজন অসুস্থ হলে পরিবারের মানুষ তাকে ছেড়ে গেলেও দরিদ্র মাঝির মেয়ে রুমা তাকে অক্লান্ত সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছে। প্রতিদানে সুজনও রুমাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে পরিবার-পরিজন ছাড়তেও কুণ্ঠিত হয়নি। ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হলে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী অক্লান্ত সেবা দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলে। প্রতিদানে মৃত্যুঞ্জয়ও বিলাসীকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে নিজের জাত-ধর্ম বিসর্জন দিতে কুণ্ঠিত হয়নি।

উদ্দীপকের সুজন-রুমা ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের মতোই প্রেমধর্মকে বড়ো করে দেখেছে। একে অপরের জন্য জীবন বাজি রেখে সেবা করেছে, একে অন্যের জন্য সামাজিক জাত-ধর্ম বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠিত হয়নি। জাতি-ধর্ম-বর্ণ ভুলে মানবীয় প্রেমের জয়গান গেয়েছে, যা সমাজিক বিভেদের সংকীর্ণ সীমা অতিক্রম করে গেছে। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকটি যেন ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর মানবিক প্রেমচিত্র” মন্তব্যটি যথার্থ।

09
Question 09

তরুণ লালন তীর্থ ভ্রমণে বের হয়ে গুটিবসন্ত রোগে আক্রান্ত হন। তার সঙ্গীরা তাকে মৃতপ্রায় অবস্থায় ফেলে গেলে এক মুসলমান দম্পতি তাকে উদ্ধার করে সেবা-যত্ন দিয়ে সুস্থ করে তোলেন। সুস্থ হয়ে বাউল কবি লালন সাঁই ফিরে এলে সমাজপতিরা তাকে অন্নপাপের দায়ে পরিবার ও সমাজ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই কষ্ট বুকে নিয়ে লালন ফকির গেঁয়ে উঠেছিলেন-
জাত গেল জাত গেল বলে
এ কী আজব কারখানা

জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট · 2026

a
ন্যাড়া পরীক্ষার উত্তরপত্রে হুমায়ুনের পিতার নাম কী লিখেছিল?

b
“গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম।”- ব্যাখ্যা করো।

c
উদ্দীপকের লালন সাঁইয়ের সমাজচ্যুত হওয়ার কারণ ‘বিলাসী’ গল্পের কোন প্রসঙ্গের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর
উদ্দীপকের লালন সাঁইয়ের সমাজচ্যুত হওয়ার কারণ ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের জাতভঙ্গ প্রসঙ্গের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত হয়েছে বর্ণপ্রথার নির্মম রূপ। এ গল্পে দেখা মেলে ব্যতিক্রমধর্মী দুই মানব-মানবীর অসাধারণ প্রেমের মহিমা, যা ছাপিয়ে উঠেছে জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা।
উদ্দীপকে বর্ণপ্রথার করাল রূপটি ফুটে উঠেছে। লালন সাঁই বসন্ত রোগে আক্রান্ত হলে মুসলিম দম্পতির সেবা-শুশ্রুষায় ভালো হন। কিন্তু সমাজপতির জাতভঙ্গের কারণ দেখিয়ে তাকে সমাজচ্যুত করে। ‘বিলাসী’ গল্পের মুমূর্ষু মৃত্যুঞ্জয়কে নিরলস সেবা-শুশূষার মাধ্যমে ভালো করে তোলে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী। গ্রামবাসীরা একে অন্নপাপ বলে জাতভঙ্গের কারণ দেখিয়ে তাকে সমাজচ্যুত করে। এদিক থেকে উদ্দীপকের লালন সাঁইয়ের সমাজচ্যুত হওয়ার কারণ ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের জাতভঙ্গের প্রসঙ্গের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

d
“উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পে অমানবিক সমাজব্যবস্থাই মানুষের প্রাণের চেয়ে জাতকে বড়ো করে দেখেছে।”- বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পে মানবিকতার চেয়ে জাতিভেদকে অধিক প্রাধান্য দেওয়ায়, “উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পে অমানবিক সমাজব্যবস্থাই মানুষের প্রাণের চেয়ে জাতকে বড়ো করে দেখেছে।”- মন্তব্যটি সমর্থনযোগ্য।
‘বিলাসী’ গল্পে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ে মেয়ে বিলাসীর সেবায় ভালো হয়ে ওঠাকে সমাজপতিরা জাতভঙ্গের কারণ মনে করে। তারা মৃত্যুঞ্জয়কে এ কারণে সমাজচ্যুত করে।
উদ্দীপকে লালন সাঁই অসুস্থ হয়ে অন্য ধর্মাবলম্বী দম্পতির সেবায় সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে সমাজপতিরা জাতভঙ্গের কারণ মনে করে। এতে তাকে সমাজচ্যুত হতে হয়। ‘বিলাসী’ গল্পেও মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়া অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ে মেয়ে বিলাসীর সেবা-শুশ্রূষা নেওয়াকে জাতভঙ্গের কারণ দেখিয়ে মৃত্যুঞ্জয়কে সমাজচ্যুত করে।
উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্প উভয় ক্ষেত্রে মানুষের জীবনের চেয়ে জাতকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে সমাজের নীতিনির্ধারকেরা। ‘বিলাসী’ গল্পের মুমূর্ষু মৃত্যুঞ্জয় কিংবা উদ্দীপকে লালন সাঁইয়ের মৃত্যুকে তারা যত সহজে মেনে নিতে পারত, তাদের অন্য জাতের হাতে সেবা নেওয়া, ভাত খাওয়াকে তারা তত সহজে মেনে নিতে পারেনি। তাই তারা তাদেরকে সমাজচ্যুত করতেও দ্বিধান্বিত হয়নি। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, “উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পে অমানবিক সমাজব্যবস্থাই মানুষের প্রাণের চেয়ে জাতকে বড়ো করে দেখেছে।”- মন্তব্যটি সমর্থনযোগ্য।

10
Question 10

সোহান উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যায়। লেখাপড়া শেষে মা-বাবার মতামত না নিয়ে এক বিদেশিনীকে বিয়ে করে। প্রথমে মা-বাবার আপত্তি থাকলেও পরে সহজভাবে তারা মেনে নেন। সোহান স্ত্রী সুজানাকে দেশে নিয়ে আসে। মেয়েটি সহজ-সরল এবং অত্যন্ত মিশুক প্রকৃতির। সে সবাইকে সহজে আপন করে নেয়। একদিন সোহান অসুখে পড়ে। সুজানার দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম ও সেবায় সোহান সুস্থ হয়ে ওঠে। নিজের দেশ, আত্মীয়-পরিজন ছেড়ে প্রেমের টানে সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিয়ে আসা ভিনদেশি বধূটিকে শ্বশুর-শাশুড়ি, পাড়া-প্রতিবেশী সকলে আপন করে নেয়।

ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2026

a
‘সাইবেরিয়া’ এশিয়ার কোন অঞ্চলে অবস্থিত?

b
“সে কত বড়ো সাহসের কাজ!”- সপ্রসঙ্গ উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

c
উদ্দীপকের সুজানা ও গল্পের ‘বিলাসী’ চরিত্রের সাদৃশ্য নিরূপণ করো।

উত্তর
অসুস্থ স্বামীর প্রতি অক্লান্ত সেবাধর্মের দিক থেকে উদ্দীপকের সুজানা ও গল্পের বিলাসী চরিত্রের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী একজন সেবাধর্মী নারী। নির্জন’ প্রকাণ্ড পোড়োবাড়িতে মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে অচেতন অবস্থায় পতিত হলে বিলাসী তার অক্লান্ত সেবা দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলে।
উদ্দীপকের সুজানাও একজন পতিব্রত নারী। স্বামীর জন্য সে বিদেশ বিভুঁয়ে চলে এসেছে আত্মীয়-পরিজন ছেড়ে। স্বামী অসুস্থ হলে অক্লান্ত সেবার মাধ্যমে সে তাকে সুস্থ করে তোলে। ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীও একজন পতিব্রতা নারী। অসুস্থ অচেতন মৃত্যুঞ্জয়কে সে দিন-রাত অক্লান্ত সেবার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলে। সেবাধর্মের দিক থেকে উদ্দীপকের সুজানা ও ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের সাদৃশ্য বিদ্যমান।

d
“উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের তৎকালীন সমাজব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটেছে।”- উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।

উত্তর

উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত তৎকালীন সমাজের সংকীর্ণ মানসিকতা প্রকাশ না পাওয়ায় “উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের তৎকালীন সমাজব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটেছে” এ মন্তব্যটি যথার্থ নয়।
‘বিলাসী’ হল্পে ধরা পড়েছে সমাজের অনুদারতা ও রক্ষণশীলতা। এ গল্পে ব্যতিক্রমধর্মী দুই মানব-মানবীর অসাধারণ প্রেমের মহিমা প্রকাশ পেয়েছে, যা ছাপিয়ে উঠেছে জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা।
উদ্দীপকের সমাজব্যবস্থায় উদারতার চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। উদ্দীপকের সোহান এক বিদেশিনীকে বিয়ে করলে তার পরিবার প্রথমে মেনে না নিলেও শেষে সবাই মেনে নেয়। অন্যদিকে ‘বিলাসী’ গল্পের সমাজব্যবস্থায় অনুদারতা ও রক্ষণশীলতা প্রকাশিত হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ের মেয়েকে বিয়ে করলে তাকে জাতভঙ্গের কারণ দেখিয়ে সমাজচ্যুত করা হয়।
উদ্দীপকের সমাজব্যবস্থায় উদারতার দিকটি প্রকাশ পেলেও ‘বিলাসী’ গল্পের সমাজব্যবস্থায় প্রকাশ পেয়েছে। অনুদারতা ও রক্ষণশীলতা। এ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী তাকে সেবার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলে। প্রতিদান হিসেবে মৃত্যুঞ্জয় তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেয়। এ খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী মৃত্যুঞ্জয়কে জাতভঙ্গের কারণ দেখিয়ে সমাজচ্যুত করে। উদ্দীপকের সমাজে এ ধরনের রক্ষণশীলতা প্রকাশিত না হওয়ায় আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ নয়।

11
Question 11

গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে বিদেশে গিয়েছে লতিফা। বিদেশে কাজ করার বিষয়টি তার এলাকার মানুষ পছন্দ করে না। তিন বছর পর লতিফা রাড়ি ফিরে এলে গ্রামবাসী তার নামে বিচার বসায় এবং তাকে গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেয়। লতিফা প্রতিবাদী কণ্ঠে বলে, “অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্যই গৃহকর্মীর কাজ করেছি, তাকে ফেলে রেখে কিছুতেই যাব না।”

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা · 2025

a
মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?

b
গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম- ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের সাদৃশ্য নিরূপণ কর।

উত্তর

  • উদ্দীপকের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে।
  • পৃথিবীজুড়ে মানুষে মানুষে যে হিংসা-বিদ্বেষ তা মানুষ নিজেদের স্বার্থেই তৈরি করেছে। অথচ মানুষ চাইলেই সব হিংসা ভুলে একে অন্যের পাশে দাঁড়িয়ে একটি মানবিক সমাজ গড়তে পারে।
  • উদ্দীপকে লতিফার বিদেশে কাজ করার বিষয়টি এলাকার মানুষ পছন্দ করে না। ফলে সে বাড়ি এলে গ্রামবাসী তার নামে বিচার বসায় এবং তাকে গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু লতিফা অসুস্থ স্বামীকে ফেলে যেতে চায় না। ‘বিলাসী’ গল্পেও বিলাসীর প্রতি গ্রামবাসীর এমন আচরণ লক্ষ করা যায়। বিলাসী অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে সেবাযত্ন করে সুস্থ করতে চেয়েছে, কিন্তু সে সাপুড়েকন্যা বলে তাকে অপবাদ দেওয়া হয়েছে। তাকে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার জন্য তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। কিন্তু সে তার অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে ছেড়ে কিছুতেই যেতে চায়নি। ফলে এদিকগুলোর সঙ্গেই উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।

d
লতিফা এবং বিলাসী মানসিক শক্তির দিক থেকে একই রূপ হওয়া সত্ত্বেও ‘বিলাসী’ গল্পের পরিণতি আরও ভয়াবহ হওয়ার পেছনের কারণসমূহ কী কী বলে তুমি মনে কর?

উত্তর

• লতিফা এবং বিলাসী মানসিক শক্তির দিক থেকে একই রূপ হওয়া সত্ত্বেও ‘বিলাসী’ গল্পের পরিণতি আরও ভয়াবহ হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে।
• কিছু স্বার্থবাদী মানুষ নিজের স্বার্থে নিরপরাধ মানুষের ওপর অন্যায়-আচরণ করে। এর ফলে অসহায় মানুষগুলো জীবনের পটপরিবর্তনে এক সময় তাদের জীবনে ট্র্যাজিক পরিণতি নেমে আসে।
• উদ্দীপকের লতিফার ওপর গ্রামবাসী চড়াও হলেও সে সাহস নিয়ে অসুস্থ স্বামীর পাশে থাকার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। স্বামীর প্রতি স্ত্রীর এমন ভালোবাসা ‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসীর কর্মকাণ্ডেও ফুটে উঠেছে। গ্রামবাসী যখন তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছিল তখন সে সাহস নিয়ে তার মৃত্যুঞ্জয়ের পাশে থাকতে চেয়েছে। ফলে মানসিক শক্তির দিক দিয়ে উদ্দীপকের লতিফা ও ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী একই রকম। তবে ‘বিলাসী’ গল্পের পরিণতি উদ্দীপক থেকে ভয়াবহ।
• ‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের জীবনে করুণ পরিণতি লক্ষ করা যায়। গ্রামবাসী যখন তাদেরকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয় তখন তারা সাপুড়ে জীবন শুরু করে। কিন্তু একদিন মৃত্যুঞ্জয় সাপ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে মৃত্যুবরণ করে। ফলে বিলাসীর জীবন হয়ে পড়ে দুর্বিষহ। স্বামীর মৃত্যু সে কিছুতেই মেনে নিতে না পেরে নিজেও আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। ‘বিলাসী’ গল্পের এমন ঘটনাগুলোই উদ্দীপক থেকে এর পরিণতিকে ভয়াবহ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

12
Question 12

শহরের গৃহকর্মী মায়ের সন্তান আরিফ আর ধনী ব্যবসায়ী বাবার সন্তান আসিফ। দুজনের বন্ধুত্ব অত্যন্ত সুদৃঢ় হলেও আসিফের বাবা আরিফের মেলামেশা, বাসায় আসা এবং ড্রয়িংরুমে আপ্যায়ন মেনে নেন না। আরিফকে বাসায় আসতে তিনি কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। এমনকি আরিফকে অকথ্য ভাষায় বকাবকি করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি ডেঙ্গু আক্রান্ত সংকটাপন্ন বন্ধু আসিফকে আরিফই রক্ত দিয়েছে,
জীবন বাঁচিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত রেখেছে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2025

a
‘সাইবেরিয়া’ এশিয়ার কোন অঞ্চলে অবস্থিত?

b
সে কত বড় সাহসের কাজ!’ সপ্রসঙ্গ উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকের ‘বাবা’ ‘বিলাসী’ গল্পের কোন চরিত্রের মানসিকতার সাথে সংগতিপূর্ণ?

উত্তর

  • উদ্দীপকের বাবা চরিত্রটি ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়ার মানসিকতার সাথে সংগতিপূর্ণ।
  • সাম্যের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষ সমান। কিন্তু স্বার্থপর ব্যক্তিরা তা মানতে চায় না। তারা মিথ্যা জাত-ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করে।
  • উদ্দীপকের আরিফ শহরের গৃহকর্মী মায়ের সন্তান আর আসিফ ধনী ব্যবসায়ী বাবার সন্তান। দুজনের বন্ধুত্ব অত্যন্ত সুদৃঢ় হলেও আসিফের বাবা আরিফের মেলামেশা, বাসায় আসা এবং ড্রয়িংরুমে আপ্যায়ন মেনে নিতে পারেন না। ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়াও কুসংস্কারাচ্ছন্ন হীন মানসিকতার অধিকারী। মুমূর্ষু মৃত্যুঞ্জয়কে বিলাসী রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম ও সেবাযত্ন করে সুস্থ করার প্রয়াস চালালে মৃত্যুঞ্জয়কে এই খুড়া অন্নপাপে অভিযুক্ত করে। পাশাপাশি সাপুড়েকন্যা হয়ে কায়স্থের ছেলে মৃত্যুঞ্জয়কে বিয়ে করার অপরাধে বিলাসীর ওপর নির্মম নির্যাতন ও অত্যাচার করে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়। খুড়ার এমন হীন মানসিকতা উদ্দীপকের বাবা চরিত্রটির হীন মানসিকতাকেই নির্দেশ করে।

d
“পরিবেশ ও সময়ের’ ভিন্নতা থাকলেও উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পের বিষয়বস্তু একই বাস্তবতা ধারণ করেছে।” উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

• “পরিবেশ ও সময়ের ভিন্নতা থাকলেও উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পের বিষয়বস্তু একই বাস্তবতাকে ধারণ করেছে।”- উক্তিটি যথার্থ।
• সমাজ মানুষকে জাত-ভেদ, ধর্ম-বর্ণ দিয়ে বিভক্ত করে। এসব কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের জীবনকে করে তোলে দুর্বিষহ ও অতিষ্ঠ।
• উদ্দীপকের আরিফ গৃহকর্মীর ছেলে হওয়ায় ধনী ব্যবসায়ী বাবা তার ছেলে আসিফের সঙ্গে আরিফকে মেলামেশা করতে দেননি। আরিফকে তিনি বাসায় আসতে নিষেধ করেন এবং তাকে অকথ্য ভাষায় বকাবকি করে বাসা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ এই আরিফই ডেঙ্গু আক্রান্ত সংকটাপন্ন বন্ধু আসিফকে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছে। পরিবেশ ও সময়ের ভিন্নতা থাকলেও উদ্দীপকের অনুরূপ ঘটনা ‘বিলাসী’ গল্পেও ফুটে উঠেছে। এই গল্পে জাতিভেদ, বর্ণবৈষম্য প্রভৃতি সামাজিক অসংগতির পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশও ঘটেছে। এখানে মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতার সময় নিম্নবর্ণের সাপুড়ে মেয়ে বিলাসী তাকে সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। তার প্রতিদানে মৃত্যুঞ্জয় তাকে বিয়ে করে তার হাতে ভাত খায়। তৎকালীন সমাজ তা মেনে নেয়নি।
• ‘বিলাসী’ গল্পে সমাজ মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর বিয়ে করা ও একসাথে অবস্থান করাকে অন্যায় হিসেবে বিবেচনা করেছে। অথচ বিলাসী রাত-দিন, রাত জেগে সেবাযত্ন করে মুমূর্ষু মৃত্যুঞ্জয়কে সুস্থ করে তুলেছে। বিনিময়ে সে পেয়েছে সমাজের নির্মম নির্যাতন ও অপবাদ। গল্পের এই সমাজবাস্তবতাই উদ্দীপকের ঘটনায় প্রতিফলিত হয়েছে। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।

13
Question 13

উজ্জয়নীর রাজা বিক্রমাদিত্যের রাজসভার প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ বরাহপুত্র মিহিরের স্ত্রী খনা। একদিন পিতা বরাহ এবং পুত্র মিহির আকাশের তারা গণনা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়লে খনা এ সমস্যার সমাধান করে দেন। রাজা বিক্রমাদিত্য খনার গুণে মুগ্ধ হন। গণনা করে খনার দেওয়া পূর্বাভাসে রাজ্যের কৃষকরা উপকৃত হতেন বলে রাজা বিক্রমাদিত্য খনাকে ‘দশম রত্ন’ হিসেবে আখ্যা দেন। কিন্তু খনার এই খ্যাতি ও সম্মানে অন্যের কাছে নিচু হওয়ার লজ্জায় প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে বরাহের আদেশে মিহির খনার জিহ্বা কেটে দেয়- যাতে সে আর কোনো বচন দিতে না পারে।

চট্টগ্রাম কলেজ · 2025

a
শরৎচন্দ্রের প্রথম মুদ্রিত রচনা কোনটি?

b
“ইহা আর একটি শক্তি”- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

c
অনুচ্ছেদের বরাহের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের কার মিল রয়েছে? বুঝিয়ে দাও।

উত্তর

  • অনুচ্ছেদের বরাহের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ে জ্ঞাতি খুড়ার মিল রয়েছে।
  • স্বার্থপর মানুষ সব সময় অন্যের খ্যাতিতে প্রবল হিংসাপরায়ণ হয়ে পড়ে। তারা সব সময় নিজেদের সুবিধাকে প্রাধান্য দেয়। অন্যের ক্ষতি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
  • অনুচ্ছেদের পিতা বরাহ ও পুত্র মিহির আকাশের তারা গণনা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়লে মিহিরের স্ত্রী খনা সেই সমস্যার সমাধান করে দেন। এতে রাজা বিক্রমাদিত্য খনার গুণে মুগ্ধ হয়ে তাকে ‘দশম রত্ন’ হিসেবে আখ্যা দেন। কিন্তু বরাহ খনার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়। প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে সে মিহিরের মাধ্যমে তার জিহ্বা কেটে দেয়। ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়া আচরণেও এমন ঈর্ষা ও প্রতিহিংসা লক্ষ করা যায়। বিলাসী তার অসুস্থ স্বামীকে সেবা-যত্ন করলে খুড়া তাতে প্রবল বিরোধিতা করে। নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য সে বিলাসীর ওপর নির্মম অত্যাচার করে তাদের দুজনকেই গ্রামছাড়া করে। তাই বলা যায়, অনুচ্ছেদের বরাহের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়া চরিত্রের মিল্ রয়েছে।

d
“কাহিনিগত বৈসাদৃশ্য থাকলেও অনুচ্ছেদ এবং ‘বিলাসী’ গল্পের সারকথা অভিন্ন”- তোমার মতামত দাও।

উত্তর

  • “কাহিনিগত বৈসাদৃশ্য থাকলেও অনুচ্ছেদ এবং ‘বিলাসী’ গল্পের সারকথা অভিন্ন”- মন্তব্যটি যথার্থ।
  • স্বার্থপর ও নীচ প্রকৃতির মানুষেরা অন্যের খ্যাতিতে ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে পড়ে। নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য তারা নিরপরাধ মানুষকে অন্যায় অপবাদ দিয়ে তাদের সর্বনাশ করে দেয়।
  • অনুচ্ছেদের ঘটনায় মিহিরের স্ত্রী খনা গণনার সমস্যা সমাধান করে রাজা বিক্রমাদিত্যের সুনজরে পড়েন। গণনা করে খনার দেওয়া পূর্বাভাসে রাজ্যের কৃষকরা উপকৃত হতেন বলে রাজা তাকে ‘দশম রত্ন’ হিসেবে আখ্যা দেন। এতে তার শ্বশুর বরাহ লজ্জিত হয়ে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে মিহিরকে দিয়ে তার জিহ্বা কেটে দেয়। এমন করে নিরপরাধ মানুষের সঙ্গে নির্মম আচরণ আমরা ‘বিলাসী’ গল্পেও দেখি। এই গল্পে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে ভালোবেসে বিয়ে করলে তার স্বার্থপর জ্ঞাতি খুড়া তা মেনে নেয়নি। নীচু জাতের মেয়ে বিলাসীর হাতে খাবার খেয়েছে বলে মৃত্যুঞ্জয়কে সে গ্রামছাড়া করে। আর বিলাসীর ওপরও অমানুষিক নির্যাতন ও নিপীড়ন চালায়।
  • ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর ওপর মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার অমানবিক ও স্বার্থপর আচরণ লক্ষ করা যায়। খুড়া মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পত্তি দখল করার জন্য অন্নপাপের দোহাই দিয়ে তাদের দুজনের ওপর গ্রামবাসীকে লেলিয়ে দিয়ে তাদের গ্রামছাড়া করেছে। এভাবে এই গল্পে সমাজের অনুদারতা, রক্ষণশীলতা ও জীবনের নিষ্ঠুর ও অশুভ চেহারা ফুটে উঠেছে, যা অনুচ্ছেদের ঘটনায়ও ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

14
Question 14

সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় নাসির। সংক্রমণের ভয়ে পরিবারের সকলেই তার থেকে দূরে সরে যায়। এ সময় পাশের বাড়ির দরিদ্র মাঝির মেয়ে ঝুমা নাসিরের সেবায় এগিয়ে আসে। সে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা-শুশ্রুষা করে নাসিরকে সুস্থ করে তোলে। নাসির কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে ঝুমাকে বিয়ে করে; কিন্তু তার পরিবার ঝুমাকে মেনে নেয় না। ঝুমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাইলে নাসিরও ঝুমার সাথে বেরিয়ে আসে।

আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ · 2025

a
‘বিলাসী’ গল্পের ন্যাড়া কত ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যেত?

b
“অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।”- ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকের নাসির চরিত্রের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন চরিত্র তুলনীয়? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

  • উদ্দীপকের নাসির চরিত্রের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্র তুলনীয়।
  • মানুষের প্রধান পরিচয় হলো সে মানুষ। মানবিকবোধসম্পন্ন মানুষ সর্বদা মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করে। সে ধনী দরিদ্র, উঁচু-নিচু এগুলো কোনো কিছুই তার মধ্যে স্থান পায় না।
  • ‘বিলাসী’ গল্পের প্রধান চরিত্র হলো মৃত্যুঞ্জয়। গল্পে দেখা যায়, মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে বনের মধ্যে পড়ে থাকে। কেউ তার কোনো খোঁজখবর নেয় না। এমতাবস্থায় এক সাপুড়েকন্যা বিলাসী সেবাশুশ্রুষা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। তখন মৃত্যুঞ্জয় তাকে বিয়ে করে। নীচু জাতের মেয়েকে বিয়ে করেছে বলে গ্রামের সকলে যখন কথা বলে তখন মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর সঙ্গে মালো পাড়ায় গিয়ে বসবাস শুরু করে। মৃত্যুঞ্জয়ের মতো অবস্থা উদ্দীপকের নাসিরের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। সেও শুশ্রুষাদানকারী নীচু জাতের মেয়ে ঝুমাকে বিয়ে করে ঘর ছাড়ে। এভাবেই উদ্দীপকের নাসির চরিত্রের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্র তুলনীয়।

d
উদ্দীপকটি যেন ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর মানবিক প্রেমচিত্র। – উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

• উদ্দীপকটি যেন ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর মানবিক প্রেমচিত্র।- উক্তিটি যথার্থ।
• আমাদের সমাজে অনেকেই আছে মানবিক কারণে আবার কেউ কেউ সামাজিক বিধিবিধান অমান্য করে মানবিকবোধের পরিচয় দেন। তারা জেনেবুঝে সমাজের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে উপকারীর যথার্থ প্রতিদান দিয়ে থাকেন।
• ‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসী অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। এর প্রতিদানে মৃত্যুঞ্জয় তাকে ভালোবাসে। জাত-ধর্ম বিসর্জন দিয়ে বিলাসীকে বিয়ে করে এবং সাপুড়ে জীবন গ্রহণ করে। জীবন রক্ষাকারী বিলাসীকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে তুলে প্রেমের মহিমার্কে অক্ষুণ্ণ রাখে মৃত্যুঞ্জয়। তার এই কৃতজ্ঞতাবোধ এবং উদ্দীপকের ঝুমার প্রতি নাসিরের কৃতজ্ঞতাবোধ একসূত্রে গাঁথা। নাসির সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে ঝুমা তাকে সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। ঝুমার প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে নাসির তাকে নিয়ে করে। মাঝির মেয়ে ঝুমার প্রতি নাসিরের কৃতজ্ঞতাবোধ এবং ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর প্রতি মৃত্যুঞ্জয়ের কৃতজ্ঞতাবোধ পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
• ‘বিলাসী’ গল্পে তৎকালীন সমাজ মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়েকে মেনে নিতে পারেনি। তাদেরকে শাস্তি দিয়েছে। তা সত্ত্বেও মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর প্রতি অনুরাগ হারায়নি। উদ্দীপকের নাসিরও ঝুমাকে নিয়ে বাড়িতে গিয়ে জায়গা না পেয়ে বেরিয়ে গেছে, যা ‘বিলাসী’ গল্পেরই মানবিক প্রেমচিত্র। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।

15
Question 15

সৌদামিনী মালোর পালিত পুত্র হরিদাসকে নিয়ে মনোরঞ্জন মালো গ্রামময় প্রচার করে দিল যে সৌদামিনী ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপকর্ম করেছে। ব্রাহ্মণের জাত মেরেছে সে। সৌদামিনী মালোর সাথে মনোরঞ্জন মালোর শত্রুতা আগে ছিল ব্যক্তিগত এখন তা সমাজগত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু একা মনোরঞ্জন মালো নয়, সমস্ত গ্রাম সৌদামিনী মালোর বিরুদ্ধে জুলুম শুরু করল।

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ · 2025

a
বিলাসী’ গল্পটি প্রথমে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?

b
‘একলা যেতে ভয় করবে না তো?’ কে, কাকে এবং কেন এই উক্তিটি করেছিল? বুঝিয়ে লেখ।

c
উদ্দীপকের সৌদামিনী মালোর সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের কী মিল খুঁজে পাওয়া যায়? আলোচনা কর।

উত্তর

  • উদ্দীপকের সৌদামিনী মালোর সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের মানবসেবার এবং সমাজে তার অমানবিকতার শিকার হওয়ার দিক থেকে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
  • নারীরা সাধারণত কোমল হৃদয়ের অধিকারী। মানবতার সেবায় তারা প্রধানত সেবাধর্মী। ফলে তারা আর্তের সেবার সময় তাদের জাত-ভেদ, ধর্ম-বর্ণ বিচার করেন না।
  • উদ্দীপকে সৌদামিনী মালোর স্নেহ-মমতা এবং তার প্রতি মনোরঞ্জন মালোর শত্রুতা প্রকাশ পেয়েছে। সৌদামিনী মালো হরিদাসকে পুত্রস্নেহে লালন-পালন করেন। এটাকে ব্রাহ্মণের জাত মারা বলে মনোরঞ্জন মালো প্রচার করেছে। এ দিকটি ‘বিলাসী’ গল্পের সাপুড়েকন্যা বিলাসীকে মৃত্যুঞ্জয়ের বিয়ে করা এবং মৃত্যঞ্জয়ের খুড়ার শত্রুতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া সব সময় ভাইপো মৃত্যুঞ্জয়ের দুর্নাম রটনা করার কাজে লেগে থাকত। ভাইপোকে গ্রামবাসীর কাছে কোণঠাসা করার জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের অন্নপাপের কথা সে প্রচার করেছে। এভাবে তৎকালীন হিন্দু সমাজের স্বার্থপরদের নিন্দা ও গঞ্জনা সহ্য করে এবং মানবিক হৃদয় নিয়ে কাউকে ভালোবাসার দিক থেকে সৌদামিনী মালোর সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।

d
উদ্দীপকের ভয়ানক ‘শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ’ ‘বিলাসী’ গল্পে কীভাবে দেখানো হয়েছে? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

• উদ্দীপকের ‘ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ’ ‘বিলাসী’ গল্পে অন্নপাপকে ক্ষমার অযোগ্য পাপ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
• সমাজের স্বার্থপর সম্পদলোভীরা নানা কূটকৌশলে অন্যের সম্পত্তি নিজেদের হস্তগত করতে চায়। তারা নিজেদের স্বার্থে অন্যকে কষ্ট, জুলুম-নির্যাতন করতেও দ্বিধাবোধ করে না.।
• ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতার সময় নিম্নবর্ণের সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী তাকে সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। তার
প্রতিদানে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে ভালোবেসে বিয়ে করে। মৃত্যুঞ্জয় কায়স্থের ছেলে হয়ে সাপুড়ের মেয়েকে বিয়ে করেছে; তার হাতে ভাত
খেয়েছে। এই অপরাধ সমাজ ক্ষমা করতে পারে না। মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়ো এটিকে ক্ষমার অযোগ্য ‘অন্নপাপ’ বলে অভিহিত করেছে। এ বিষয়টি উদ্দীপকের ‘ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ’-এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। নিচু জাতের হয়ে সৌদামিনী হরিদাসকে লালন-পালন করে ব্রাহ্মণের জাত মেরেছে বলে মনোরঞ্জন প্রচার করেছে।

• ‘বিলাসী’ গল্পের খুড়া এবং উদ্দীপকের মনোরঞ্জন উভয়ের মধ্যেই স্বার্থপরতা, লোভ ও হিংসাত্মক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। তারা উভয়ই যথাক্রমে বিলাসী ও সৌদামিনী মালোর সম্পত্তি গ্রাস করতে চেয়েছে। ‘তাই অসহায় শিশুকে মাতৃস্নেহে লালন-পালন করাকে সৌদামিনীর ‘ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ’ এবং মৃত্যুপথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে সুস্থ করে তোলা বিলাসীকে বিয়ে করা এবং তার হাতে ভাত খাওয়াকে ‘ক্ষমার অযোগ্য অন্নপাপ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

16
Question 16

আচারনিষ্ঠ ব্রাহ্মণ মহিম চক্রবর্তীর পুত্র সমর পোস্টমাস্টারের চাকরি নিয়ে আসে রাধানগর গ্রামে। কিছুদিন পর নিঃসঙ্গ সমর টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়ে। পাশের বাড়ির নিম্নবর্ণের মেয়ে, স্কুলশিক্ষিকা আলতা ডাক্তার ডেকে তার চিকিৎসা করায় এবং সেবাযত্নের জন্য গ্রামের এক দরিদ্র মাসিকে নিয়োগ করে। আলতার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সেবা ও উপযুক্ত চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠে সমর। আলতার মার্জিত রুচি, ব্যক্তিত্ব, মানবতাবোধে মুগ্ধ হয়ে জাতভেদ ভুলে বাবার অমতে তাকে বিয়ে করে সমর। প্রথাগত সংস্কারের বিপরীতে জয় হলো মনুষ্যত্বের।

আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা · 2025

a
গল্পকথক ন্যাড়া সদব্রাহ্মণের ছেলেকে কী পেশা গ্রহণ করতে দেখেছে?

b
“অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।” ব্যাখ্যা কর।

c
‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের সঙ্গে উদ্দীপকের আলতা চরিত্রের বৈসাদৃশ্য আলোচনা কর।

উত্তর

  • সামাজিক স্বীকৃতি ও পরিণতির দিক থেকে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের সাথে আলতা চরিত্রের বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
  • মানবিক বোধের নিরিখে মানুষে মানুষে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাই প্রকৃত সম্পর্ক। তা সত্ত্বেও আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ রয়েছে, যারা মানবিক সম্পর্ককে মূল্য না দিয়ে মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে। কিন্তু এমনটি কাম্য হতে পারে না।
  • উদ্দীপকের আলতা মানবিক বোধসম্পন্ন এক নারী। এ কারণেই শহর থেকে আসা পোস্টমাস্টার সস্মর নিঃসঙ্গ অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সে তার সেবা-শুশ্রুষার সকল দায়িত্ব নেয় এবং নিজে ডাক্তার ডেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। তার এমন আন্তরিক আচরণে সমর মুগ্ধ হয়। ফলে অনেকটা প্রথাবিরুদ্ধভাবেই সমর তাকে বিয়ে করে নেয় এবং সমাজও তাদের সেই সম্পর্ক মেনে নেয়। কিন্তু ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর সম্পর্ককে সমাজ স্বীকৃতি তো দেয়ইনি বরং তাদের সমাজচ্যুত করে। অর্থাৎ সামাজিক স্বীকৃতি ও পরিণতির দিক থেকে আলোচ্য গল্পের বিলাসীর সাথে উদ্দীপকের আলতা চরিত্রের বৈসাদৃশ্য প্রতীয়মান হয়।

d
‘প্রথাগত সংস্কারের বিপরীতে জয় হলো মনুষ্যত্বের’- এ উক্তির আলোকে উদ্দীপক ও গল্পে মূলত বর্ণশাসিত সমাজে মানবতা ও মানবপ্রেমের জয় ঘোষিত হয়েছে। মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

• প্রথাবিরুদ্ধভাবে উদ্দীপকের সমর-আলতার বিয়ে এবং বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের বিয়ের মধ্য দিয়ে মূলত মানবিকতারই জয় ঘোষিত হয়েছে, যা প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ প্রতিপন্ন করে।
• একসময় আমাদের সমাজ ধর্ম ও জাতির নামে নানা ভাগ-উপভাগে বিভক্ত ছিল। মানবিকতাশূন্য সেই সমাজে ভেদ-বৈষম্য এত প্রকট ছিল যে, মানবিক সম্পর্কের কোনো মূল্যই ছিল না সেখানে। তা সত্ত্বেও কিছু মানুষ প্রথাবিরুদ্ধভাবে এসব ভেদ-বৈষম্যের উর্ধ্বে মানবিকতাকেই প্রাধান্য দিয়েছে।
• উদ্দীপকে সমর নামের এক যুবকের কথা বলা হয়েছে। পোস্টমাস্টার হিসেবে চাকরির সুবাদে গ্রামে এলে সেখানে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসময় পাশের বাড়ির নিম্নবর্ণের মেয়ে আলতা তার সেবা-শুশ্রুষার দায়িত্ব নেয়, ডাক্তার ডেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তার আন্তরিক সেবাযত্নে ধীরে ধীরে সমর সুস্থ হয়ে ওঠে। তার আন্তরিকতা ও গুণে মুগ্ধ হয়ে অনেকটা প্রথাবিরুদ্ধভাবেই সে আলতাকে বিয়ে করে নেয়, যার মধ্য দিয়ে ভেদ-বৈষম্যের ঊর্ধ্বে মানবিকতার জয় হয়।
• ‘বিলাসী’ গল্পের তৎকালীন সামন্তবাদী সমাজ বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের অকৃত্রিম ভালোবাসাকে মূল্য তো দেয়ইনি বরং সাপুড়ের মেয়ে বলে বিলাসীর হাতে মৃত্যুঞ্জয়ের ভাত খাওয়াকে পাপ বলে গণ্য করেছে। তা সত্ত্বেও মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে বিয়ে করেছে এবং তার জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করেছে। একইভাবে উদ্দীপকের সমরও নিম্নবর্ণের মেয়ে আলতার আন্তরিকতা এবং গুণে মুগ্ধ হয়ে প্রথাবিরুদ্ধভাবেই তাকে বিয়ে করে। অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রে বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয় এবং সমর-আলতার বিয়ের মধ্য দিয়ে সমাজিক বিভেদের বিরুদ্ধে মানবিকতার জয় ঘোষিত হয়েছে। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।

17
Question 17

তিথির বাল্যকালে বিয়ে হয়। বিয়ের কথা তার মনে নেই। ভালো-মন্দ বোঝার আগেই স্বামী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। তার দরিদ্র পিতা গ্রামের একটি সচ্ছল ছেলের সঙ্গে তিথির পুনরায় বিয়ে দেন। কিন্তু কদিন যেতে না যেতেই গ্রামের তাহের মাতব্বর এ বিয়ে নিয়ে হৈচৈ শুরু করেন। তিনি রীতিমতো সালিশ বসিয়ে এ বিয়েকে অবৈধ ঘোষণা করেন। গ্রামবাসীও তাহের মাতব্বরকে সমর্থন করে।

ঢাকা কমার্স কলেজ · 2025

a
‘পারিবারিক প্রবন্ধ’ গ্রন্থের লেখক কে?

b
“অ্যাঁ, এ হইল কী? কলি কি সত্যই উল্টাইতে বসিল?”- ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকের তাহের মাতব্বরের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? আলোচনা কর।

উত্তর

  • উদ্দীপকের তাহের মাতব্বরের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়ার সাদৃশ্য রয়েছে।
  • সমাজে জাত-ধর্ম, ধনী-গরিবের পার্থক্য মানুষেরই তৈরি। সাম্যের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষ সমান। কিন্তু স্বার্থপর ব্যক্তিরা তা মেনে নিতে চায় না এবং সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে।
  • উদ্দীপকে দরিদ্র পিতার মেয়ে তিথির স্বামী তাকে ছেড়ে চলে গেলে তার পিতা তাকে এক ধনাঢ্য ছেলের সঙ্গে পুনরায় বিয়ে দেন। কিন্তু স্বার্থান্বেষী তাহের মাতব্বর তাদের এ বিয়ের বিরোধিতা করেন এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়াও হীন মানসিকতার অধিকারী। সাপুড়েকন্যা বিলাসী মুমূর্ষু মৃত্যুঞ্জয়কে সেবাযত্ন করার প্রয়াস চালালে মৃত্যুঞ্জয়কে খুড়া অন্নপাপে অভিযুক্ত করে। পাশাপাশি সাপুড়েকন্যা হয়ে কায়স্থের ছেলের সঙ্গে বিয়ে করার অপরাধে বিলাসীর ওপর নির্মম নির্যাতন ও অত্যাচার করে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়। খুড়ার এই হীন মানসিকতা উদ্দীপকের তাহের মাতব্বরের হীন মানসিকতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

d
উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের সমাজব্যবস্থাকে কতখানি তুলে ধরতে পেরেছে? বিচার কর।

উত্তর

• উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের সমাজব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ তুলে ধরতে পেরেছে।
• মানুষের প্রতি মানুষের আন্তরিকতা ও ভালোবাসা মানুষকে মানবিক করে তোলে। আর কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের জীবনকে করে তোলে দুর্বিষহ ও অতিষ্ঠ।
• উদ্দীপকে বাল্যকালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া তিথি সংসার থেকে সুখের বদলে পেয়েছে সীমাহীন যন্ত্রণা। এরপর দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও তাকে বিয়ে করে গ্রামের এক সচ্ছল ছেলে। সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝামেলা না থাকলেও বিরোধ তৈরি করেন স্বার্থান্বেষী তাহের মাতকার। গ্রামের মানুষ তিথির পুনরায় বিয়েকে অবৈধ ঘোষণা করে। পরিবেশ ও সময়ের ভিন্নতা থাকলেও উদ্দীপকের অনুরূপ ঘটনা বিলাসী’ গল্পেও
ফুটে উঠেছে। এখানে কায়স্থের ছেলে মৃত্যুঞ্জয়কে অসুস্থতার সময় সেবা করে সুস্থ করে তোলে সাপুড়েকন্যা বিলাসী। প্রতিদানে মৃত্যুঞ্জয় তাকে বিয়ে করে তার হাতে ভাত খায়। নীচু জাতের মেয়েকে বিয়ে করা ও তার হাতে ভাত খাওয়াকে সমাজে অন্নপাপ হিসেবে বিবেচনা করে এবং জ্ঞাতি খুড়া সমাজের মানুষকে নিয়ে বিলাসীর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়।
• ‘বিলাসী’ গল্পে সমাজ মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর বিয়ে করা ও একসাথে অবস্থান করাকে অন্যায় হিসেবে বিবেচনা করেছে। অথচ বিপদের সময় সমাজের মানুষ নয় বরং এই সাপুড়েকন্যা বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়ের পাশে ছিল। সমাজের এই বাস্তবতা উদ্দীপকেও প্রস্ফুটিত। সর্বোপরি বলা যায়, উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পের সমাজব্যবস্থার চিত্র সম্পূর্ণ এক।

18
Question 18

‘মহুয়া’ পালা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি অন্যতম গীতিকা। একদিকে মহুয়া সুন্দরী অন্যদিকে জমিদার পুত্র নদের চাঁদ। তাদের অদম্য প্রেম সকল বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে চেয়েছে। কিন্তু বেদে সর্দার হুমরা সামাজিক ও বৈষয়িক কারণে এ প্রেমের প্রবল প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে মিলন পিয়াসী দুটি মানবহৃদয় শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। মৃত্যুই হয় তাদের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি।

ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2025

a
‘মৃত্যুঞ্জয়’ নামের অর্থ কী?

b
“কিন্তু তাহার হৃদয় জয় করিয়া দখল করার আনন্দটাও তুচ্ছ নয়, সে সম্পদও অকিঞ্চিৎকর নহে।” উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।

c
উদ্দীপকের নদের চাঁদ চরিত্রের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

  • উদ্দীপকের নদের চাঁদ চরিত্রের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রটি হলো মৃত্যুঞ্জয়।
  • মানুষের প্রতি মানুষের আন্তরিকতা ও ভালোবাসা মানুষকে মানবিক করে তোলে। স্বার্থপর মানুষেরা মানবিকতার মূল্য না দিলেও অনেকে জাত-ধর্ম-বর্ণ বিবেচনা না করে, মানুষ হিসেবেই মানুষকে ভালোবাসে।
  • উদ্দীপকে সাপুড়েকন্যা মহুয়ার প্রেমে পড়ে জমিদারপুত্র নদের চাঁদ কিন্তু সমাজ উঁচু ও নিচু জাতের মধ্যে গড়ে ওঠা এ প্রেম মেনে নেয়নি। উদ্দীপকের নদের চাঁদের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় সাদৃশ্যপূর্ণ। সে সাপুড়েকন্যা বিলাসীর সেবাযত্নে সুস্থ হয়ে তার প্রেমে পড়ে এবং তাকে বিয়ে করে। কায়স্থের সন্তান হয়ে নিচু জাতের মেয়েকে বিয়ে করে তার হাতে ভাত খেলে অন্ন-পাপের অভিযোগে তাকে সমাজচ্যুত করা হয়। সামাজিক বিরোধিতা থাকলেও মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন মৃত্যুঞ্জয়ের মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসার দিকটি উদ্দীপকের নদের চাঁদের মাঝে প্রতিফলিত। উভয়ই মানবিকতার মূর্ত প্রতীক।

d
নদের চাঁদ ও মহুয়ার মৃত্যুর জন্য সমাজ মনস্তত্ত্ব ও বৈষয়িক বিষয় যতটা দায়ী ঠিক ‘মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসী’র মৃত্যুর জন্যও ততটাই দায়ী। উক্তিটির যথার্থতা উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পের আলোকে বিচার কর।

উত্তর

• ‘নদের চাঁদ ও মহুয়ার মৃত্যুর জন্য সমাজ মনস্তত্ত্ব ও বৈষয়িক বিষয় যতটা দায়ী, মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর মৃত্যুর জন্য ঠিক ততটাই দায়ী’- উক্তিটি উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পের আলোকে যথার্থ।
• পৃথিবীতে সব মানুষেরই সমান অধিকার আছে। কিন্তু এ পৃথিবীতে এখনো জাতি-ধর্ম-বর্ণ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হয়, যার ফলে অনেক মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
• উদ্দীপকে জমিদারপুত্র নদের চাঁদ ও সাপুড়েকন্যা মহুয়া প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাদের প্রেমের পথে অনেক বাধা আসা সত্ত্বেও তারা একে অপরকে ঘিরে বাঁচতে চেয়েছে। কিন্তু বেদে সরদার হুমরা সামাজিক বৈষয়িক অবস্থা বিবেচনা করে তাদের প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে প্রণয়প্রত্যাশী দুটি হৃদয় মিলনের পরিবর্তে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে। ‘বিলাসী’ গল্পেও এই কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের চিত্র ফুটে উঠেছে।
• ‘বিলাসী’ গল্পে কায়স্থের ছেলে হয়ে সাপুড়েকন্যাকে বিয়ে ও তার হাতে ভাত খাওয়ার অপরাধে মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার উসকানিতে কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজ তাদেরকে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করে। ফলে মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ে পেশায় নিয়োজিত হয়। সাপ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হলে বিলাসীও আত্মহত্যা করে। সমাজ যদি তাদের পথে বাধা না হয়ে বরং সহযোগী হতো তাহলে উদ্দীপকের নদের চাঁদ, মহুয়া ও ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের পরিণতি ভিন্ন হতো। সমাজ বাস্তবতাই তাদের এ পরিণতির কারণ। সার্বিক দিক বিবেচনায় বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

19
Question 19

নির্মল প্রকৃতির মাঝে অবস্থিত পাহাড়ি গ্রাম রতনপুর। সেই গ্রামে সদ্য শিক্ষকতার কাজে যোগ দেয় তরুণ রাশেদ। শহর থেকে আসা রাশেদ ধীরে ধীরে গ্রামের নির্জন জীবনে একাকিত্ব অনুভব করে। একদিন জ্বরে কাতর হয়ে পড়ে সে। গ্রামের কৃষক পরিবারের মেয়ে, সাহসী তরুণী লুবনা ডাক্তার ডেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। নিজের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে ওষুধ কেনা ও দেখাশোনার দায়িত্ব নেয় লুবনা। ধীরে ধীরে রাশেদ সুস্থ হয়ে ওঠে। লুবনার আত্মত্যাগ, মানবিকতা ও স্বচ্ছ চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে রাশেদ তার সঙ্গে ঘর বাঁধার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সম্পর্ক সামাজিক প্রথার বিরুদ্ধে হলেও মানবিকতার জয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ · 2025

a
ভুজ্যি উচ্ছ্বগ্য শব্দের অর্থ কী?

b
বিলাসীর আত্মহত্যার ব্যাপারটা অনেকের কাছে পরিহাসের বিষয় হইল। কেন? ব্যাখ্যা কর।

c
‘বিলাসী’ গল্পের ‘বিলাসী চরিত্রের সঙ্গে উদ্দীপকের লুবনা চরিত্রের বৈসাদৃশ্য আলোচনা কর।

উত্তর

  • সামাজিক স্বীকৃতির দিক থেকে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের সাথে লুবনা চরিত্রের বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
  • মানবিক বোধের নিরিখে মানুষে মানুষে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাই প্রকৃত সম্পর্ক। তা সত্ত্বেও আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ রয়েছে, যারা মানবিক সম্পর্ককে মূল্য না দিয়ে মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে। কিন্তু এমনটি কাম্য হতে পারে না।
  • উদ্দীপকের লুবনা মানবিকবোধসম্পন্ন এক কিশোরী। এ কারণেই শহর থেকে শিক্ষকতা করতে আসা রাশেদ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সে তার সেবা-শুশ্রুষার সব দায়িত্ব নেয় এবং নিজের শ্রম ও অর্থ দিয়ে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। আর তা করতে গিয়ে রাশেদের সাথে তার প্রণয়ের সম্পর্ক তৈরি হয়। ফলে অনেকটা প্রথাবিরুদ্ধভাবেই রাশেদ তাকে বিয়ে করে নেয় এবং সমাজও তাদের সেই সম্পর্ক মেনে নেয়। কিন্তু ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর সম্পর্ককে সমাজ স্বীকৃতি তো দেয়ইনি বরং তাদের সমাজচ্যুত করে। এদিক থেকে আলোচ্য গল্পের বিলাসীর সাথে উদ্দীপকের লুবনা চরিত্রের বৈসাদৃশ্য প্রতীয়মান।

d
“উদ্দীপকটিতে ‘বিলাসী’ গল্পের সমাজ-বাস্তবতার আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।”- মন্তব্যটি বিচার কর।

উত্তর

  • “উদ্দীপকটিতে ‘বিলাসী’ গল্পের সমাজ-বাস্তবতার আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।”- মন্তব্যটি যথাযথ বলেই আমি মনে করি।
  • একসময় আমাদের সমাজ ধর্ম ও জাতির নামে নানা ভাগ-উপভাগে বিভক্ত ছিল। মানবিকতাশূন্য সেই সমাজে ভেদ-বৈষম্য এত প্রকট ছিল যে, অনেক সময় মানুষকে তার মানবিক অধিকার থেকেই বঞ্চিত হতে হতো।
  • উদ্দীপকে রাশেদ নামের এক যুবকের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে গ্রামে এলে সেখানে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসময় কৃষকের মেয়ে লুরনা তার সেবা-শুশ্রুষার দায়িত্ব নেয়, নিজের খরচে ডাক্তার ডেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তার আন্তরিক সেবাযত্নে রাশেদ সুস্থ হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে অনেকটা প্রথাবিরুদ্ধভাবেই সে লুবনাকে বিয়ে করে, যার মধ্য দিয়ে মানবিকতার জয় হয়।
  • ‘বিলাসী’ গল্পে তৎকালীন সামন্তবাদী সমাজে জাতিভেদের ভয়াবহতাকে উন্মোচন করা হয়েছে। সেই সমাজ বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের অকৃত্রিম ভালোবাসাকে মূল্য তো দেয়ইনি বরং সাপুড়ের মেয়ে বলে বিলাসীর হাতে মৃত্যুঞ্জয়ের ভাত খাওয়াকে পাপ হিসেবে গণ্য করেছে। শুধু তা-ই নয়, এ অপরাধে তাদের সমাজচ্যুতও করা হয়েছে। উদ্দীপকের স্বল্প পরিসরে এসব বিষয় উঠে আসেনি। সেখানে কেবল রাশেদ ‍ও লুবনার বিয়েকে কেন্দ্র করে সামান্য প্রতিবন্ধকতার কথাই ফুটে উঠেছে, আলোচ্য গল্পে উল্লিখিত অন্যন্য সমস্যা নয়। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যাটি যথাযথ।


Question 20

মুখে দেয় জল, সুধায় কুশল, শিরে দেয় মোর হাত,

দাঁড়ায়ে নিঝুম, চোখে নাই ঘুম, মুখে নাই তার ভাত।

বলে বার বার, ‘কর্তা, তোমার কোন ভয় নাই, শুন-

যাবে দেশে ফিরে, মা ঠাকুরাণীরে দেখিতে পাইবে পুন।’

লভিয়া আরাম আমি উঠিলাম, তাহারে ধরিল জ্বরে,

নিল সে আমার কালব্যাধিভার আপনার দেহ ‘পরে।

জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট · 2025

a
‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম কত সালে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?

b
“স্বদেশের মঙ্গলের জন্য সমস্ত অকাতরে সহ্য করিয়া তাহাকে হিড়হিড় করিয়া টানিয়া লইয়া চলিলাম।”- লাইনটি ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকের ভৃত্যের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায়? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

  • উদ্দীপকের ভৃত্যের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।
  • মানুষের বিপদে মানুষই এগিয়ে আসে। আর্তের সেবা করে তাকে সুস্থ করে তোলা মনুষ্যত্ববোধ সম্পন্ন মানুষের দায়িত্ব। জাতি-ধর্ম-বর্ণ, ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু কোনো কিছুই সেবাপরায়ণতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে না।
  • উদ্দীপকের ঘটনায় একজন ভৃত্যের তার কর্তার প্রতি সেবা-যত্ন করার চিত্রটি ফুটে উঠেছে। কর্তার অসুখে ভৃত্যটি রাত-দিন অনেক সেবা-যত্ন করেছে। কর্তাকে সুস্থ করতে যা যা করা দরকার সব সে করেছে। শেষ পর্যন্ত কর্তা সুস্থ হলেও সে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে পড়লে বিলাসী তাকে সুস্থ করতে রাত-দিন কষ্ট করেছে। গহিন জঙ্গলে আহার-নিদ্রা ভুলে রাত-দিন সেবা-যত্ন করে সে মৃত্যুঞ্জয়কে সুস্থ করে তুলেছে। সুতরাং এখানে স্পষ্টভাবে বলা যায়, উদ্দীপকের ভৃত্যের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।

d
“উদ্দীপকের পরিণতি থেকে ‘বিলাসী’ গল্পের পরিণতি ভয়াবহ।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

  • “উদ্দীপকের পরিণতি থেকে ‘বিলাসী’ গল্পের পরিণতি ভয়াবহ।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
  • মানুষের জীবনে চলার পথে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যায়। সমস্যাকে সমস্যা মনে না করে বরং সেটাকে জয় করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াতেই জীবনের সার্থকতা।
  • উদ্দীপকে একজন কর্তার প্রতি তার ভৃত্যের সেবাপরায়ণতা এবং শেষে সেই ভৃত্যটির জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। ভৃত্যটি খেয়ে না খেয়ে, নিদ্রা-অনিন্দ্রায় থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে সেবা-যত্নের মাধ্যমে তার কর্তাকে সুস্থ করে তোলে। কিন্তু একসময় সে নিজেই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কর্তার জ্বর যেন নিজের শরীরে গ্রহণ করে। এখানে ভৃত্যের এই পরিণতি অতটা ভয়াবহ নয়, যতটা ভয়াহ ‘বিলাসী’ গল্পের পরিণতি।
  • ‘বিলাসী’ গল্পে জাত-ধর্ম ভুলে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসী একে অপরকে ভালোবাসলেও গ্রামবাসী তাদেরকে প্রহার করে গ্রাম থেকে বের করে দেয়। নির্মম অত্যাচার সহ্য করেও বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে সুস্থ করে একসময় তারা বিয়ে করে। কিন্তু তাদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বেশিদিন টিকেনি। সাপের কামড়ে মৃত্যুঞ্জয়ের করুণ মৃত্যু হলে বিলাসী তা কোনোভাবেই মানতে পারেনি। আর তাই বিলাসী শেষপর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। তার এই আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে ভালোবাসার যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তাই আলোচ্য বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, উদ্দীপকের পরিণতি থেকে ‘বিলাসী’ গল্পের পরিণতি ভয়াবহ।


Question 21

সৌদামিনী মালো স্বামীর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে ধানি জমি, বসতবাড়ি, পুকুরসহ কয়েক একর সম্পত্তির মালিক হয়। এই সম্পত্তির ওপর নজর পড়ে সৌদামিনীর জ্ঞাতি দেবর মনোরঞ্জনের। সৌদামিনীর সম্পত্তি দখলের জন্য সে নানা কৌশল অবলম্বন করে। একবার সৌদামিনী দুর্ভিক্ষের সময় ধানখেতের পাশে একটি মানবশিশু খুঁজে পায়। অসহায়, অসুস্থ শিশুটিকে সে তুলে এনে পরম যত্নে আপন সন্তানের মতো লালন-পালন করে। মনোরঞ্জন সৌদামিনীকে সমাজচ্যুত করতে প্রচার করে যে নমঃশূদ্রের ঘরে ব্রাহ্মণ সন্তান পালিত হচ্ছে। এ যে মহাপাপ, হিন্দু সমাজের জাত-ধর্ম শেষ হয়ে গেল।

সিলেট সরকারি কলেজ · 2025

a
‘বিলাসী’ গল্পের ন্যাড়ার কয়টি শখ ছিল?

b
“অন্নপাপ। বাপরে! এর কি আর প্রায়শ্চিত্ত আছে।”- ব্যাখ্যা কর।

c
‘সৌদামিনী’ চরিত্রের কোন বৈশিষ্ট্যটি বিলাসীর চরিত্রের সঙ্গে মিলে যায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

  • উদ্দীপকের সৌদামিনী মালোর সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের মানবসেবার এবং সমাজে তার অমানরিকতার শিকার হওয়ার দিক থেকে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
  • নারীরা সাধারণত কোমল হৃদয়ের অধিকারী। মানবতার সেবায় তারা প্রধানত সেবাধর্মী। ফলে তারা আর্তের সেবার সময় তাদের জাত-ভেদ, ধর্ম-বর্ণ বিচার করেন না।
  • উদ্দীপকে সৌদামিনী মালোর স্নেহ-মমতা এবং তার প্রতি মনোরঞ্জন মালোর শত্রুতা প্রকাশ পেয়েছে। সৌদামিনী মালো হরিদাসকে পুত্রস্নেহে লালন-পালন করেন। এটাকে ব্রাহ্মণের জাত মারা বলে মনোরঞ্জন মালো প্রচার করেছে। এ দিকটি ‘বিলাসী’ গল্পের সাপুড়েকন্যা বিলাসীকে মৃত্যুঞ্জয়ের বিয়ে করা এবং মৃত্যঞ্জয়ের খুড়ার শত্রুতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া সব সময় ভাইপো মৃত্যুঞ্জয়ের দুর্নাম রটনা করার কাজে লেগে থাকত। ভাইপোকে গ্রামবাসীর কাছে কোণঠাসা করার জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের অন্নপাপের কথা সে প্রচার করেছে। এভাবে তৎকালীন হিন্দু সমাজের স্বার্থপরদের নিন্দা ও গঞ্জনা সহ্য করে এবং মানবিক হৃদয় নিয়ে কাউকে ভালোবাসার দিক থেকে সৌদামিনী মালোর সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।

d
“মনোরঞ্জন যেন ‘বিলাসী’ গল্পের খুড়ারই প্রতিচ্ছবি।”-বিষয়টি মূল্যায়ন কর।

উত্তর

• “উদ্দীপকের মনোরঞ্জন যেন ‘বিলাসী’ গল্পের খুড়ারই প্রতিচ্ছবি।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
• সম্পদের লোভ ও কুসংস্কার মানুষকে অন্ধ করে দেয়। আমাদের সমাজে এমন কিছু স্বার্থপর মানুষ থাকে, যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য নিরপরাধ মানুষের প্রতি অমানবিক আচরণ করে ও অপপ্রচার চালায়। কুসংস্কার ও ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য নিরপরাধ মানুষদেরকে সমাজচ্যুত করার অপচেষ্টা চালায়।
• উদ্দীপকের মনোরঞ্জন সৌদামিনী মালোর সম্পত্তি দখলের জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে। অসহায় একটি মানব শিশুকে ধানখেতের পাশে খুঁজে পেয়ে সৌদামিনী তাকে পরম যত্নে আপন সন্তানের মতো লালন-পালন করে আর তা দেখে মনোরঞ্জন তাকে সমাজচ্যুত করার জন্য অপপ্রচার চালায় যে, নমঃশূদ্রের ঘরে ব্রাহ্মণ সন্তান পালিত হচ্ছে। সে সবাইকে বোঝায় এটি হিন্দুধর্মে মহাপাপ। হিন্দু সমাজের জাত-ধর্ম এতে শেষ হয়ে গেল। ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়ার চরিত্রেও অনুরূপ স্বার্থবাদী আচরণ লক্ষ করা যায়। এদিক থেকে উদ্দীপকের মনোরঞ্জন ‘বিলাসী’ গল্পের খুড়ারই প্রতিচ্ছবি।
• ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পত্তি দখলের জন্য তার খুড়া নানা রকম কৌশল অবলম্বন করে। মৃত্যুঞ্জয়ের নামে সে সমাজে নানা রকম দুর্নাম রটাতে থাকে। গুরুতর অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে সাপুড়ে মেয়ে বিলাসী পরম যত্নে সুস্থ করে তোলে। এটি দেখে খুড়া সমাজে প্রচার করতে থাকে মৃত্যুঞ্জয় কায়স্থের ছেলে হয়ে সাপুড়ে মেয়েকে বিয়ে করেছে। এটি তার কাছে মহাপাপ। সমাজের মানুষকে এসব ভুল বুঝিয়ে সে গ্রামের লোকদের নিয়ে তাদের উপর আক্রমণ করে। এভাবে সবাইকে নিয়ে অন্যায়ভাবে বিলাসীর গায়ে হাত তোলে। এখানে খুড়ার উদ্দেশ্য ছিল মৃত্যুঞ্জয়ের নামে দুর্নাম রটিয়ে গ্রামছাড়া করে তার সম্পত্তি দখল করা। তাই বলা যায়, মনোরঞ্জন যেন বিলাসী গল্পের খুড়ারই প্রতিচ্ছবি।


Question 22

“জাত গেল জাত গেল বলে

একি আজব কারখানা।

সত্য কাজে কেউ নয় রাজি

সবই দেখি তা না না না।”

Dhaka · 2025

a
‘বিলাসী’ গল্পের বর্ণনাকারী কে?

b
“অন্নপাপ। বাপরে! এর কি আর প্রায়শ্চিত্ত আছে।”- ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন দিকটির সাদৃশ্য আছে? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর
উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের জাতিগত বিভেদের দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পে লেখক সমাজে প্রচলিত ঘৃণ্য জাতিভেদ প্রথা তুলে ধরেছেন। সমাজে প্রচলিত জাতভেদ প্রথার কাছে কীভাবে মানবিকতার পরাজয় হয় তার বয়ান এই গল্পটি। গল্পের প্রধান দুটি চরিত্র বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের জাতিভেদ প্রথার বলি হওয়া প্রেমকাহিনি এর প্রধান বিষয়।

উদ্দীপকে জাতিগত বৈষম্যের রূপ তুলে ধরা হয়েছে। একেক ব্যক্তি একেক জাতের হতেই পারে, তাতে ক্ষতি নেই। সবার একটাই পরিচয়, আর তা হলো মানুষ। জাতিগত বিভেদের পেছনে কেবল ব্যক্তিস্বার্থই কাজ করে। এই বৈষম্যের কারণে মানুষে মানুষে বিভাজন তৈরি হয়, সমাজ ও দেশ অনেকাংশে পিছিয়ে পড়ে। ‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসী অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। মৃত্যুঞ্জয় এর প্রতিদানে বিলাসীকে বিয়ে করে। সমাজ এ বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেয় না। কারণ বিলাসী নিচু জাতের আর মৃত্যুঞ্জয় উঁচু জাতের। এ কারণে বিলাসীর ওপর নির্মম অত্যাচার চালানো হয়। শুধু জাতিগত বৈষম্যের কারণেই বিলাসীকে মৃত্যুঞ্জয়ের কাছ থেকে আলাদা করার চেষ্টা করা হয় এবং তাদেরকে সমাজ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এভাবেই উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের জাতিগত বিভেদের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

d
“উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

গল্পের সামগ্রিক ভাব উঠে না আসায় “উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে” মন্তব্যটি যথার্থ।
‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী দুই মানব-মানবীর অসাধারণ প্রেমের মহিমা, যা ছাপিয়ে উঠেছে জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা। প্রেমের এই আখ্যানে সমাজের অনুদারতা ও রক্ষণশীলতা, জীবনের নিষ্ঠুর ও অশুভ চেহারা ধরা পড়েছে।
উদ্দীপকে জাতিভেদের অসারতা তুলে ধরা হয়েছে। জাতিগত ভেদাভেদের ফলে মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয় না, অর্থাৎ মানবমর্যাদা এতে ক্ষুণ্ণ হয়। আর জাতিগত এই বিভেদের পেছনে কেবল কিছু মহলের স্বার্থসিদ্ধির দুরভিসন্ধি থাকে। ‘বিলাসী’ গল্পে জাতিভেদের এ রূপটিই স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। মৃত্যুঞ্জয় মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকলে বিলাসী সেবাযত্ন করে তাকে সুস্থ করে তোলে। একপর্যায়ে তারা ভালোবেসে বিয়ে করে। সমাজ এই বিয়ে মেনে নিতে পারে না। কারণ বিলাসী নিচু জাতের সাপুড়ের মেয়ে। ফলে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এ বিষয়টি উদ্দীপকের মূলভাবের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ বিষয়টি ছাড়াও ‘বিলাসী’ গল্পে তৎকালীন সমাজব্যবস্থার চিত্র, মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার ষড়যন্ত্র, বিলাসী চরিত্রের কর্মনিপুণতা, বুদ্ধিমত্তা ও সেবাব্রত, মৃত্যুঞ্জয়ের সমাজ ছেড়ে চলে যাওয়া, গ্রামবাসীর অমানবিকতার বিষয়গুলোও উঠে এসেছে, যেগুলো উদ্দীপকে নেই।
উদ্দীপকে জাতিভেদ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। ‘বিলাসী’ গল্পে জাতিভেদের রূপটি স্পষ্ট হলেও এ গল্পের বড় শিক্ষা হলো অসাম্প্রদায়িক মনোভাব তৈরি ও মানবিক হওয়া। তবে গল্পের অন্যান্য বিষয় যেমন- তৎকালীন সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, সমাজের নানা অসংগতি, মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসী চরিত্রের ট্র্যাজিক পরিণতি ইত্যাদি উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


Question 23

ইদ্রিস আলী দামপাড়া ইউনিয়নের প্রভাবশালী চেয়ারম্যান। বংশমর্যাদাও ছিল সবার উপরে। হঠাৎ একটি সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ নিহত হন। গুরুতর আহত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় তাঁর বড় ছেলে রাইহান। রাইহানকে সেবা করার মতো নিকটাত্মীয় কেউ ছিল না। কিন্তু পাশের বাড়ির হাতেম চৌকিদারের মেয়ে বিউটি তাকে সেবা দিয়ে, সাহস আর ভালোবাসা দিয়ে বাঁচিয়ে তোলে। এর বিনিময়ে তার কপালে জোটে কলঙ্কের দাগ, বঞ্চনা আর শারীরিক নির্যাতন।

Rajshahi · 2025

a
মৃত্যুঞ্জয় কয় দিন অচেতন অবস্থায় ছিল?

b
“ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।”- উক্তিটির তাৎপর্য লেখ।

c
উদ্দীপকের সমাজের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত সমাজের তুলনা কর।

উত্তর
অন্ধকারাচ্ছন্ন বর্ণপ্রথার তথা উঁচু-নিচু প্রভেদের দিক থেকে উদ্দীপকের সমাজের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের সমাজের তুলনামূলক সাদৃশ্য রয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পে মৃতপ্রায় মৃত্যুঞ্জয়কে সেবাশুশ্রুষা দিয়ে বাঁচিয়ে তোলে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ মৃত্যুঞ্জয় ভালোবেসে ‘বিলাসীকে বিয়ে করে। সমাজ তা মেনে নিতে পারেনি। তারা অন্নপাপের দোহাই দিয়ে মৃত্যুঞ্জয়কে সমাজচ্যুত করে। জাতভঙ্গের দোহাই দিয়ে বিলাসীকে তারা অত্যাচার করে তাড়িয়ে দেয়।
উদ্দীপকের দুর্ঘটনা বাবা-মাকে হারানো আহত রাইহানকে সেবা, সাহস ও ভালোবাসা দিয়ে সুস্থ করে তোলে হাতেম চৌকিদারের মেয়ে বিউটি। এর বিনিময়ে বিউটি রক্ষণশীল সমাজ দ্বারা কলঙ্ক, বঞ্চনা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। ‘বিলাসী’ গল্পেও সাপুড়ের মেয়ের হাতে ভাত খাওয়ার অপবাদে জাতভঙ্গের দোহাই দিয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ো গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বিলাসীকে নির্যাতন করে। সমাজ কর্তৃক নির্যাতনের দিক দিয়ে উদ্দীপকের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের রক্ষণশীল সমাজের সাদৃশ্য বিদ্যমান। বিলাসীর মতোই উদ্দীপকের হাতেম চৌকিদারের মেয়ে বিউটিও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

d
উদ্দীপকের বিউটি ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের অনুরূপ, তুমি কি এ মত সমর্থন কর? যুক্তিসহ তুলে ধর।

উত্তর

উদ্দীপকের বিউটি ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের অনুরূপ-আমি এ মত সমর্থন করি না।’

‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী মুমূর্ষু মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করে কলঙ্ক ও নির্যাতনের শিকার হয়েও মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে সংসার গড়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ও তাকে ভালোবেসে বিয়ে করে সমাজ ও সম্পত্তি সব ছেড়ে সাপুড়ে পেশা গ্রহণ করেছে। সাপ ধরতে গিয়ে সাপের ছোবলে বিষক্রিয়ায় সে মৃত্যুবরণ করেছে। এরপর বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়ের বিরহ সইতে না পেরে একদিন আত্মহত্যা করেছে।’
উদ্দীপকের বিউটি আহত রাইহানের সেবা-শুশ্রুষা করে সুস্থ করে তুলেছে। বিনিময়ে পেয়েছে রক্ষণশীল সমাজের কলঙ্ক, বঞ্চনা ও শারীরিক নির্যাতন, যা বিলাসী চরিত্রের মৃত্যুঞ্জয়ের সেবার বিনিময়ে রক্ষণশীল সমাজের জাতভঙ্গের অপবাদ ও নির্যাতনের বিষয়টিকে ধারণ করে।
উদ্দীপকের বিউটি ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের একটি দিককে ধারণ করলেও সম্পূর্ণ চরিত্রকে ধারণ করেনি। শত কলঙ্ক-বঞ্চনা মাথায় নিয়েও বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়ের জীবনসঙ্গিনী হয়েছে, দুজনে একসঙ্গে ঘর বেঁধেছে। নিয়তি মৃত্যুঞ্জয়কে বিলাসীদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়। বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে ছাড়া বেশিদিন বাঁচতে পারেনি। সে মৃত্যুঞ্জয়ের শোকে আত্মহত্যা করেছে। বিলাসী চরিত্রের এই প্রেম উদ্দীপকের বিউটি চরিত্রে স্পষ্ট হয়নি। তাই আমি মনে করি, উদ্দীপকের বিউটি বিলাসী চরিত্রের অনুরূপ নয়।


Question 24

নয়া জমিদার আদিলদ্দীন ধরি সকিনারে হাত,

কহিল, চল গো সোনার বরণী, মোর ঘরে মোর সাথ!
পঙ্খী করিয়া পুষিব তোমারে উড়াব আকাশ ভরি,

আমার দুনিয়া রঙিন করিব তোমারে মেহেদী করি।
সকিনা কহিল, আপনি মহান, হতভাগিনীর তরে

যাহা করেছেন জিন্দেগী যাবে ঋণ পরিশোধ করে।
তবুও আমারে ক্ষমা করিবেন, আপনার ঘরে গেলে,

বসিতে হইবে হতভাগিনীরে কলঙ্ক কালি মেলে।
আসমান সম আপনার কুল, মোর জীবনের মেঘে,

যত চান আর সুরয তারকা সকল ফেলিবে ঢেকে।

Jessore · 2025

a
মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?

b
“সাপের বিষ যে বাঙালির বিষ নয়।”- কথাটি বুঝিয়ে লেখ।

c
উদ্দীপকের আদিলদ্দীনের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন চরিত্রের মিল দেখা যায়? – কীভাবে?

উত্তর
ভালোবাসা ও অনুরাগের প্রগাঢ়তায় উদ্দীপকের আদিলদ্দীনের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রের মিল দেখা যায়।

‘বিলাসী’ গল্পে দুই মানব-মানবীর অসাধারণ প্রেমের মহিমা বর্ণিত হয়েছে। এ প্রেম জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা ছাপিয়ে উঠেছে। প্রেমের কারণে মৃত্যুঞ্জয় নিজের জাত-বংশের মর্যাদাকে উপেক্ষা করেছে। উদ্দীপকে প্রেমের এ দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

উদ্দীপকের কবিতাংশে মহান জমিদার আদিলদ্দীন সকিনার হাত ধরে বলেন তার সঙ্গে গেলে তাকে পাখির মতো অনেক আদর-যত্নে পুষবেন, মনের আকাশ ভরে তাকে উড়াবেন। তাকে মেহেদি রঙে রাঙিয়ে দুনিয়া রঙিন করে তুলবেন। নয়া জমিদার আদিলদ্দীনের এ প্রেমানুরাগ ‘বিলাসী’ গল্পের নিচু জাতের সাপুড়ে মেয়ে বিলাসীকে ভালোবেসে মৃত্যুঞ্জয়ের নিজের জাত-বংশ-গোষ্ঠী ছেড়ে সাপুড়ে পেশা গ্রহণের চেতনা ও অনুরাগের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এভাবে ভালোবাসা ও অনুরাগের প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপকের আদিলদ্দীনের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রের মিল রয়েছে।

d
“উদ্দীপকের সকিনার ভেতরে দোদুল্যমানতা থাকলেও ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর মধ্যে তা নেই।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

মৃত্যুপথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়কে ভালোবেসে সেবা-শুশ্রুষার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার দিক বিচারে “উদ্দীপকের সকিনার ভেতরে দোদুল্যমানতা থাকলেও ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর মধ্যে তা নেই-মন্তব্যটি যথার্থ।”
‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতার সময় নিম্নবর্ণের সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী তাকে সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। তার প্রতিদানে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে ভালোবেসে বিয়ে করে। বিলাসীও তাতে অমত করে না। কারণ সেও মৃত্যুঞ্জয়কে ভালোবেসেই সেবা দিয়ে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছে। বিলাসীর হাতে ভাত খাওয়ার অপরাধে তাদেরকে সমাজচ্যুত করা হলে মৃত্যুঞ্জয় পুরোদস্তুর সাপুড়ে হয়ে ওঠে। বিলাসী তাকে নিয়ে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করে।
উদ্দীপকে নয়া জমিদার আদিলদ্দীনের প্রেমানুরাগের কথা শুনে সকিনা কলঙ্ক কালির ভয় করেছে। নিজে হতভাগিনী হয়ে মহান ব্যক্তি জমিদারকে সে গ্রহণ করতে সাহস পায়নি। জমিদারের ঋণ শোধ করতে জীবন কেটে যাবে তবুও সকিনা জমিদারের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। সে বলেছে জমিদারের বংশমর্যাদা আকাশচুম্বী আর তার জীবন অন্ধকার মেঘে ঢাকা, হীন জীবনের অন্ধকার সূর্য-তারাকেও অন্ধকার করে ফেলবে। তাই সে নয়া জমিদারের সঙ্গে যেতে দ্বিধা প্রকাশ করেছে। এই দিকটি ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর মধ্যে পরিলক্ষিত হয় না।
‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়ের জন্য যে গভীর অনুরাগ অনুভব করেছে তা উদ্দীপকের আদিলদ্দীনের জন্য সকিনার ক্ষেত্রে ঘটেনি। গ্রামের লোকজন বিলাসীকে টেনে-হিঁচড়ে গ্রামের বাইরে রেখে আসার সময় বিলাসী তাদের বলেছে- “বাবুরা, আমাকে একটিবার ছেড়ে দাও আমি রুটিগুলো ঘরে দিয়ে আসি। বাইরে শিয়াল কুকুরে খেয়ে যাবে-রোগা মানুষ সমস্ত রাত খেতে পাবে না।” মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি ‘বিলাসী’র এহেন ভালোবাসা উদ্দীপকের সকিনার মাঝে প্রকাশ পায়নি। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। 


Question 25

অবস্থাপন্ন সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান রিফাত ভালোবেসে বিয়ে করে দিনমজুরের মেয়ে আসমাকে। এই অসম বিয়েতে ক্ষুব্ধ হয়ে রিফাতের বাবা ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা করে। জীবন-জীবিকার তাগিদে রিফাত একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি নেয়। একদিন চাকরি থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হলে এলাকাবাসী তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। রিফাতের পরিবার তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে কোনো প্রকার দুঃখ প্রকাশ না করে বলে- “এটা তার কর্মের ফল।”

Chittagong · 2025

a
মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু হয়েছিল কোন সাপের দংশনে?

b
“তাহার বয়স আঠারো কি আটাশ ঠাহর করিতে পারিলাম না।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকের রিফাতের মর্মান্তিক পরিণতি ‘বিলাসী’ গল্পের কোন ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়? বর্ণনা কর।

উত্তর
উদ্দীপকের রিফাতের মর্মান্তিক পরিণতি ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়।
‘বিলাসী’ গল্পে ব্যতিক্রমধর্মী দুই মানব-মানবীর প্রেমের মহিমা চিত্রায়িত হয়েছে। এখানে জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা অতিক্রম – করে মানবিকতার জয় ঘোষিত হয়েছে। বংশমর্যাদা ও সমাজের নিয়মকে উপেক্ষা করে উচ্চ বংশীয় মৃত্যুঞ্জয় প্রণয়ে আবদ্ধ হয়ে নিচু বংশের বিলাসীর সাথে সংসার গড়েছে।
উদ্দীপকে সম্ভ্রান্ত পরিবারের রিফাত ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দিনমজুরের মেয়ে আসমাকে বিয়ে করে। বাবা তাকে ত্যাজ্য করলে তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জীবিকার সন্ধান করতে হয়। দুর্ভাগ্যবশত দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের ক্ষেত্রেও এই করুণ পরিণতি লক্ষ করা যায়। তবে তাদের এই মৃত্যুতে তাদের পরিবার বংশমর্যাদার মুখোশ পরে অনুশোচনা বা শোক না করে তাকেই দোষারোপ করেছে, তারা মনে করে মৃত্যুঞ্জয়ের এমন পরিণতি তার অন্নপাপের ফল। যা মূলত সমাজে গেড়ে বসা কুসংস্কারকেই নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রিফাতের মর্মান্তিক পরিণতি ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের করুণ পরিণতির ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

d
“প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পে প্রচলিত সমাজ বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।

উত্তর

মূলভাবের দিক থেকে বলা যায় “প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পে প্রচলিত সমাজ বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে”-মন্তব্যটি যথার্থ।

‘বিলাসী’ গল্পে সমাজ বাস্তবতার এক করুণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের সমাজে নর-নারীর মধ্যে পরস্পরের হৃদয় জয় করে বিয়ে করার রীতি নেই। বরং তা নিন্দার সামগ্রী। উচ্চ বংশীয় কেউ অপেক্ষাকৃত নিম্ন বংশের মানুষের সাথে প্রণয়ে আবদ্ধ হলে তাকে সমাজচ্যুত করা হয়।

উদ্দীপকের ঘটনাংশে রিফাত সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হয়েও দিনমজুরের কন্যা আসমাকে বিয়ে করে। বিষয়টি তার পরিবার মেনে নিতে পারেনি। পিতা তাকে ত্যাজ্য ঘোষণা করে। জীবন-জীবিকার তাগিদে রিফাত বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি নেয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার জীবনের মর্মান্তিক সমাপ্তি ঘটে। অথচ পরিবার এ মৃত্যুকে তার কর্মের ফল হিসেবে অভিহিত করে। ‘বিলাসী’ গল্পেও একই সমাজবাস্তবতা ফুটে উঠেছে।

উদ্দীপকের মতো ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের করুণ পরিণতি ঘটেছে। বংশমর্যাদা ত্যাগ করে প্রণয়ে আবদ্ধ হয়ে সাপুড়েকন্যাকে বিয়ে করে সাপুড়ে হয়ে ওঠে মৃত্যুঞ্জয়। কিন্তু মর্মান্তিকভাবে সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হয়। অথচ সমাজ মনে করে এটি মৃত্যুঞ্জয়ের অন্নপাপের ফল। উদ্দীপকের রিফাত এবং গল্পের মৃত্যুঞ্জয় উভয়ের মর্মান্তিক পরিণতিতে তাদের আত্মীয়-স্বজন শোকাহত না হয়ে প্রফুল্ল হয়। কেননা তাদের ধারণা এটা তাদের কর্মফল। যা মূলত নির্মম সমাজবাস্তবতার চিত্র। সমাজের এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা উদ্দীপক ও আলোচ্য গল্পের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে। তাই বলা যায়, প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পে প্রচলিত সমাজ বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে।

26
Question 26

ধর্ম ও সমাজসংস্কারক রাজা রামমোহন রায়কে বলা হয় ভারতের নবজাগরণের পথিকৃৎ। রামমোহনের সমকালীন সমাজে গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস ও জাতিভেদসহ নানা কুপ্রথা প্রচলিত ছিল। একটি মানবিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের জন্য তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁর আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকার সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করে আইন পাশ করে। এতে নারীকে স্বামীর চিতায় জীবন্ত দাহ করার অমানবিক প্রথার, অবসান ঘটে।

Dinajpur · 2025

a
মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?

b
“আমি বুঝিলাম, বিষহরির দোহাই বুঝি আর খাটে না।”-কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকের রামমোহন রায়ের সমকালীন সমাজের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের সমাজব্যবস্থার সাদৃশ্য বর্ণনা কর।

উত্তর
কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও বর্ণপ্রথার ঘৃণ্য প্রচলনের দিক থেকে উদ্দীপকের রামমোহন রায়ের সমকালীন সমাজের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পে লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তৎকালীন হিন্দু সমাজে প্রচলিত ধর্মীয় কুসংস্কার, বর্ণপ্রথাকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছেন। দুজন নর-নারীর প্রেমের মধ্য দিয়ে তিনি সমাজের অনুদারতা ও রক্ষণশীলতা, জীবনের নিষ্ঠুর ও অশুভ চেহারা ফুটিয়ে তুলেছেন।
উদ্দীপকের রাজা রামমোহন রায় তাঁর সমকালে প্রচলিত সমাজের গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস ও জাতিভেদসহ নানা কুপ্রথাকে তীব্র ভাষায় শ্লেষ করেছেন। একটি মানবিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়ে তোলার জন্য তিনি এসব কুপ্রথার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। ‘বিলাসী’ গল্পেও তৎকালীন সমাজের কুসংস্কারাচ্ছন্নতা, গোঁড়ামি, নারীর প্রতি সহিংসতা, বর্ণপ্রথার নির্মম রূপ প্রকাশ পেয়েছে। এদিক থেকে উভয় সমাজে সাদৃশ্য বিদ্যমান।

d
“রামমোহনের কাঙ্ক্ষিত মানবিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হলে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের জীবনের এমন করুণ পরিণতি হতো না।”- উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটি বিচার কর।

উত্তর

পরিণতির দিক বিবেচনায় “রামমোহনের কাঙ্ক্ষিত মানবিক ও বিজ্ঞানমনষ্ক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হলে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের জীবনের এমন করুণ পরিণতি হতো না” মন্তব্যটি যথার্থ।

‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত হয়েছে সামাজিক কুসংস্কার, বর্ণ ও জাতিভেদ প্রথার দরুন মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর করুণ পরিণতি। নিচু জাতের মেয়ে বিলাসীর হাতের রাঁধা ভাত খেয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের জাতভঙ্গ হয়েছে বলে সমাজের লোকজন বিলাসীকে মেরে তাড়িয়ে দেয়।

উদ্দীপকে রাজা রামমোহন রায় তৎকালীন সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার, গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস ও জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। একটি বিজ্ঞানমনস্ক মানবিক সমাজ গঠনের প্রধান অন্তরায় এ ধরনের অন্ধবিশ্বাস ও কুপ্রথা। তাই তিনি সমাজ থেকে এগুলো উচ্ছেদের আন্দোলন গড়ে তোলেন। রামমোহন রায়ের কাঙ্ক্ষিত সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠলে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের জাতভেদ প্রথার শিকার হতে হতো না। তাদের পরিণতি হয়তো অন্যরকম হতে পারত।

‘বিলাসী’ গল্পের রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় নিচু জাতের হাতে রাঁধা ভাত খেলেই জাতভঙ্গ ও অন্নপাপের কুসংস্কার লেপ্টে দেওয়া হতো। এ জাতভঙ্গের ব্যাপারে সমাজের লোকজন নারীর প্রতি সহিংস হতেও দুবার ভাবেনি। শেষে মৃত্যুঞ্জয় নিজের পিতৃ জাত বিসর্জন দিয়ে শ্বশুরের সাপুড়ে বৃত্তি গ্রহণ করে। উদ্দীপকের রাজা রামমোহন রায়ের কাঙ্ক্ষিত বিজ্ঞানমনস্ক সমাজব্যবস্থা চালু হলে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে নিয়ে পিতৃভিটায় বৃহৎ আমবাগান বন্ধক দিয়ে দিব্যি খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারত। সাপের দংশনে অকালে তাকে প্রাণ দিতে হতো না। হয়তো বিলাসীও স্বেচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করত না। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।

27
Question 27

“কেউ মালা, কেউ তসবি গলায়

তাইতে কি জাত ভিন্ন বলায়

যাওয়া কিংবা আসার বেলায়

জাতের চিহ্ন রয় কার রে।।”

Mymensingh · 2025

a
‘বিলাসী’ গল্পে কোন মোগল সম্রাটের নাম উল্লেখ আছে?

b
“গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম।”- কথাটি কোন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন দিকটিকে নির্দেশ করা হয়েছে? আলোচনা কর।

উত্তর
উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের জাতিগত বিভেদের দিকটিকে নির্দেশ-করা হয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পের জাতিভেদ প্রথার স্বরূপ উন্মোচন করা হয়েছে। সেখানে সাপুড়েকন্যা বিলাসীকে বিয়ে করা এবং তার হাতে ভাত খাওয়ার অপরাধে মৃত্যুঞ্জয়কে সমাজচ্যুত হতে হয়। মূলত বর্ণবিভক্ত সমাজের সংকীর্ণতাই তার এমন পরিণতির কারণ।
উদ্দীপকে মানবধর্মের কথা বলা হয়েছে। একেক ব্যক্তি একেক ধর্মের অনুসারী হতেই পারে, তাতে ক্ষতি নেই। সবার একটাই-পরিচয়, আর তা হলো- তারা সবাই মানুষ। কারণ সবার জন্ম-মৃত্যু-রহস্য এক ও অভিন্ন। জন্ম-মৃত্যুর মতো সত্যের কাছে কোনো জাতিভেদের অস্তিত্ব থাকে না। ‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসী অসুস্থ-মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। মৃত্যুঞ্জয় এর প্রতিদানে বিলাসীকে বিয়ে করে। সে জাতিগত বিভেদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। কিন্তু সমাজ এ বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেয় না। কারণ বিলাসী-নিচু জাতের, আর মৃত্যুঞ্জয় উঁচু জাতের। এ কারণেই বিলাসীর ওপর নির্মম অত্যাচার চালানো হয়। শুধু জাতিগত বৈষম্যের কারণেই বিলাসীকে মৃত্যুঞ্জয়ের কাছ থেকে আলাদা করার চেষ্টা করা হয়, তাদেরকে সমাজ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এভাবে উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’-গল্পের জাতিগত বিভেদের দিকটিকে নির্দেশ করে।

d
উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পেরেছে ‘কি? তোমার মতামত দাও।

উত্তর

কেবল জাতিভেদের দিকটি তুলে ধরায় উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।
‘বিলাসী’ গল্পে গল্পকার বর্ণপ্রথার ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন। সেখানে বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের মানবিক প্রেমের সম্পর্কও সেই সমাজের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে বারবার। সংকীর্ণ সেই সমাজ তাদের সম্পর্ককে মেনে নেয়নি, উপরন্তু অন্নপাপের দোহাই দিয়ে তাদের সমাজচ্যুত করেছে।
উদ্দীপকে জাতিভেদের অসারতা তুলে ধরা হয়েছে। ধর্ম আলাদা হলেও সবার পরিচয় একটাই, আর তা হলো- তারা সবাই মানুষ। কারণ জাতিভেদ সৃষ্টি করা হলেও জন্ম ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে এই ভেদাভেদের কোনো স্থান নেই। ‘বিলাসী’ গল্পে জাতিভেদের এই রূপটিই স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। মৃত্যুঞ্জয় মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকলে বিলাসী সেবা-যত্ন করে তাকে সুস্থ করে তোলে। একপর্যায়ে তারা ভালোবেসে বিয়ে করে। সমাজ এই বিয়ে মেনে নিতে পারে না। কারণ বিলাসী নিচু জাতের সামান্য সাপুড়ের মেয়ে। ফলে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং তাদের গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এ বিষয়টি উদ্দীপকের মূলভাবের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ বিষয়টি ছাড়াও ‘বিলাসী’ ‘গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার ষড়যন্ত্র, মৃত্যুঞ্জয়ের সমাজ ছেড়ে চলে যাওয়া, গ্রামবাসীর অমানবিকতা, মৃত্যুঞ্জয়ের সাপুড়ে জীবন, সাপের কামড়ে তার মৃত্যু, স্বামীর মৃত্যুশোকে বিলাসীর মৃত্যু ইত্যাদি বিষয় উঠে এসেছে, যেগুলো উদ্দীপকে নেই।

উদ্দীপকে ধর্মের দোহাই দিয়ে জাতিভেদ সৃষ্টি না করার কথা বলা হয়েছে। এখানে জন্ম-মৃত্যুর কাছে সবাই সমান এ কথা বলা হয়েছে। ‘বিলাসী’ গল্পে জাতিভেদের রূপটি স্পষ্ট হয়ে উঠলেও এ গল্পের বড় শিক্ষা ‘হলো অসাম্প্রদায়িক মনোভাব ও মানবিক হওয়া। তবে গল্পের অন্যান্য বিষয় যেমন- তৎকালীন সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, সমাজের নানা অসংগতি ইত্যাদি উদ্দীপকে অনুপস্থিত। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের আংশিক ভাব ধারণ করেছে।


Question 28

নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ রাজিব চক্রবর্তীর পুত্র রাতুল চাকুরি নিয়ে শহরে আসে। কিছুদিন পর রাতুল করোনায় আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়ে। পাশের বাড়ির নিম্নবর্ণের মেয়ে, স্কুল শিক্ষিকা রমা দাস তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ডাক্তার দেখায় এবং সেবা যত্নের জন্য গ্রামের এক দরিদ্র মাসিকে নিয়োগ করে। রমার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে উপযুক্ত সেবা ও চিকিৎসা পেয়ে রাতুল সুস্থ হয়ে ওঠে। রমার মার্জিত রুচি, ব্যক্তিত্ব, মানবতাবোধে মুগ্ধ হয়ে জাতভেদ ভুলে বাবার অমতে তাকে বিয়ে করে রাতুল। প্রথাগত সংস্কারের বিপরীত জয় হয় মনুষ্যত্বের।

ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2024

a
‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?

b
‘অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলেপোকা টিকিয়া আছে’- ব্যাখ্যা কর।

c
‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের সাথে উদ্দীপকের রমা দাস চরিত্রের বৈসাদৃশ্য আলোচনা কর।

উত্তর
বিলাসী গল্পে বিলাসী চরিত্রের সাথে উদ্দীপকের রমা দাস চরিত্রের সাথে বৈসাদৃশ্য রয়েছে । নিচে তা উল্লেখ করা হলো।

উদ্দীপকের রমা দাস যার সেবা করেছেন তিনি একজন চাকুরীজীবী কিন্তু বিলাসী গল্পের বিলাসী যাকে সেবা করেছেন সে একজন হতদরিদ্র মানুষ। সে শুধু আম বাগান দেখাশোনা করতেন। রমা দাস যার সেবা করেছেন সে করনায় আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়ে কিন্তু বিলাসী যার সেবা করেছেন সে করোনায় আক্রান্ত হয়নি। রমা দাস নিম্ন বর্ণের মেয়ে হলেও সে একজন স্কুল শিক্ষিকা কিন্তু বিলাসী একজন সাপুড়ের মেয়ে এবং নিজেও সাপ ধরে। রমা দাস রাতুলকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করেন কিন্তু বিলাসী নিজেই সেবা করেছেন। রমা দাস যার সেবা করেছেন তার বাবা-মা বেঁচে আছেন কিন্তু বিলাসী যার সেবা করেছিলেন তার বাবা-মা বেঁচে নেই।

d
“উদ্দীপকটিতে ‘বিলাসী’ গল্পে সমাজবাস্তবতার আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।”- উত্তরের পক্ষে তোমার যুক্তি দেখাও।

উত্তর

উদ্দীপকটিতে বিলাসী গল্পে সমাজ বাস্তবতার আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে । উভয় পক্ষে আমার যুক্তি যথাযথ। উদ্দীপকে দেখা যায়, রমাদাস একজন নিম্ন বর্ণের মেয়ে হলেও স্কুল শিক্ষিকা ।  তিনি নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ  রাজিব চক্রবর্তীর পুত্র রাতুল করনায় আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে উপযুক্ত সেবা ও চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করেছেন। রমাদাসের মার্জিত রুচি ব্যক্তিত্ব মানবতাবোধে মুগ্ধ হয়ে যা ভেদ ভুলে বাবার অমতে তাকে বিয়ে করেন। রাতুল নিম্ন বর্ণের মেয়ে বলে তার বাবা এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি কারণ নিন্ম  বর্ণের মেয়েকে সমাজ মেনে নিতে পারবে না । এখানে সমাজের কুদৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে।

অপরদিকে বিলাসী গল্পে বিলাসী একজন সাপুড়ের মেয়ে। সে মৃত্যুধঞ্জয়ের সেবা করেছেন। রাত জেগে একটি মেয়ে একটি ছেলেকে গভীর রাতে একা একা সেবা করার মধ্যে সমাজ বাস্তবতা অনেক মিশ্রিত । যেটা উদ্দীপকে ফুটে ওঠেনি। তাছাড়া মৃত্যুর ধনঞ্জয় আমবাগান দেখাশোনা করতেন পরবর্তীতে তার সেবার প্রতি মুগ্ধ হয়ে সাপুড়ে হয়ে যান।

সুতরাং উদ্দীপক এবং বিলাসি গল্প পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, উদ্দীপকের উক্তি সমাজ বাস্তবতা কম ফুটে উঠেছে কিন্তু বিলাসী গল্পটি বাস্তবতা অনেক দিকটি ইঙ্গিত করেছেন। সুতরাং বলা যায় উদ্দীপকে প্রেক্ষীতে বিলাসী গল্পে সমাজ বাস্তবতার আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।

29
Question 29

বশির ঢাকা শহরে থাকে, এখানে আপনজন বলতে তেমন কেউ নেই। সে কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে, কিন্তু সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে তাকে কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় না। এ সময় বশিরের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে তার বাল্যবন্ধু বুশরা। বাবা-মায়ের নিষেধ অমান্য করে বুশরা জীবনের মায়া না করে বশিরকে সেবা-শুশ্রুষা করে সুস্থ করে তোলে। বশির ভালোবাসার প্রতিদানস্বরূপ বুশরাকে বিয়ে করে। বশিরের বন্ধুরা লজ্জিত হয় এবং বন্ধুর প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।

ঢাকা কমার্স কলেজ · 2024

a
কামস্কাটকা দ্বীপটি কোন মাছের দেশ নামে পরিচিত?

b
‘বিলাসী’ গল্পে “দেখ, এমন করে মানুষ ঠকায়ো না” কে, কেন বলেছে?

c
উদ্দীপকের বুশরা কীভাবে ‘বিলাসী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে? আলোচনা কর।

উত্তর
উদ্দীপকের বুশরার সহযোগিতার দিক দিয়ে গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিলাসীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

বিলাসী গল্পে দেখা যায় বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়ের রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করিয়েছেন। তিনি একাকী সারারাত তার সেবা করেছেন । সমাজ তাকে কটু কথা বলেও সে একজন সাপুড়ে মেয়ে হয়ে মৃত্যু মুমূর্ষ রোগির খারাপ অবস্থা থেকে আরোগ্যলাপ করার জন্য এগিয়ে এসেছেন। অবশেষে প্রতিদান স্বরূপ মৃত্যু ধনঞ্জয় তাকে বিয়ে করেন।

একইভাবে উদ্দীপকের বুশরাও বশিরকে কোভিড-১৯ আক্রান্ত থেকে রক্ষা করেছেন। বশিরের বন্ধুরা বশিরকে সাহায্য করার জন্য এড়িয়ে যায় কিন্তু তার ভালো চায়নি। তার বাল্যবন্ধু-বুশরা বাবা মায়ের নিষেধ অমান্য করে জীবনের মায়া না করে বশির কে সেবা করে সুস্থ করে তোলে। বশির ভালবাসার প্রতিদান স্বরূপ বুশরাকে বিয়ে করে।

সুতরাং বলা যায় উদ্দীপকের বুশরা সহযোগিতার দিক দিয়ে বিলাসী গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রের সাথে সাদৃস্যপূর্ণ।

d
“‘বিলাসী’ গল্পে লেখকের যে প্রত্যাশাটি সুপ্ত রয়েছে, উদ্দীপকে তা বাস্তব রূপ লাভ করেছে” মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

বিলাসী গল্পের লেখকের যে প্রত্যাশা সেটি সুপ্ত হয়েছে। উদ্দীপকে তা বাস্তব রুপ লাভ করেছে মন্তব্যটি যথার্থ।

বিলাসী গল্পে দেখা যায় বিলাসী একজন সাপুড়ের মেয়ে কিন্তু মেয়ে হয়েও মৃত্যুঞ্জয়ের দুরারোগ্য রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করতে সহযোগিতা করেছেন। এতে নানান জনে নানান কানাকানি করলেও তিনি সেদিকে কর্ণপাত করে নি। সহযোগিতার প্রতিদান স্বরূপ মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে বিবাহ করে নিজেই সাপুড়ে হয়ে যায় । এখানে ভালোবাসার প্রতিদান দিকটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

অপরদিকে উদ্দীপকের বুশরাও বিলাসী চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ । বিলাসী বশিরের বাল্যবন্ধু বসির ঢাকা শহরে থাকে । সেখানে আপনজন বলতে তার কেউ নেই। সে কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে কিন্তু সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে তাকে কেউ সাহায্য করতে হাত বাড়িয়ে দেয়নি। কিন্তু বাবা মায়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেও সে তাকে সুস্থ করে তোলে। বশির তার ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে বিয়ে করেন। এখানেও প্রতিদানের সফল দিকটি ফুটে উঠেছে। একদিকে বিলাসী গল্পে বিলাসী এবং উদ্দীপকের বুশরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তার ভালোবাসার মানুষকে আপন করে পাওয়ার জন্য মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে নেওয়ার সংগ্রাম করেছেন। এখানে বিলাসী গল্পের লেখক এর প্রত্যাশিত সত্য রয়েছে বাস্তব রুপ লাভ করেছে।

30
Question 30

কলেজ পড়ুয়া সালমা এক দরিদ্র পিতার সন্তান। এলাকার প্রভাবশালী মাতব্বর মোতালেব খান বুড়া বয়সে জোরপূর্বক সালমাকে বিয়ে করতে চায়। সালমার মা-বাবা তাতে রাজি না হলে হুমকি দেয় তুলে নিয়ে যাওয়ার। এ পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়ায় সালমার বান্ধবীরা। সালমার বান্ধবীরা চায় না মোতালেব খানের হাতে পড়ে মেধাবী ছাত্রী সালমার লেখাপড়া ধ্বংস হোক। সালমার বান্ধবীরা তাকে সাথে নিয়ে কলেজে যায় এবং বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক ও কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে জানায়। এতে দমে যায় মোতালেব খান। জয় হয় সম্মিলিত প্রতিরোধের।

ঢাকা কমার্স কলেজ · 2024

a
‘মাসি-পিসি’ গল্পে আহ্লাদির বাবা, মা, ভাই কোন রোগে মারা যায়?

b
“বুড়ো রহমান ছলছল চোখে তাকায় আহ্লাদির দিকে।”- কেন? বুঝিয়ে দাও।

c
উদ্দীপকের মোতালেব খান ‘মাসি-পিসি’ গল্পের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে। তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দেখাও।

উত্তর
উদ্দীপকে মোতালেব খান মাসি পিসি গল্পের জগু চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করেঋ

জগু হচ্ছে আহ্লাদীর স্বামী। আহ্লাদীকে নানাভাবে অত্যাচার করে জগু। এজন্য মাসি পিসি আহ্লাদিকে তার স্বামীর বাড়িতে যেতে দেয়নি। আহ্লাদীর পেটে চার মাসের বাচ্চা তবুও তাকে মৃত্যুর ভয়ে বা অত্যাচারের ভয়ে জগুর কাছে না রেখে নিজেদের কাছে রেখেছেন। কৈলেশ যখন মাসি পিসিকে বোঝানোর চেষ্টা করেন তখন তিনি জগুর বিভিন্ন ভয় দেখায় কিন্তু মাসি পিসি তার প্রতিবাদ করেন।

জগু যতই ভয় দেখাক, মাসি পিসি প্রতিবাদের কাছে এসে দুর্বল হয়ে থাকে। আহ্লাদীর বাবা-মা কলেরা মহামারিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। সেদিন থেকেই মাসি পিসি আহ্লাদির দেখভালোর দায়িত্ব নিয়েছেন। তাকে জগুর সাথে বিয়ে দিলেও অত্যাচারী জগু তার দিকে নানাভাবে হত্যাচার করেন। এজন্য মাসির পিসি আহ্লাদীকে জগুর সাথে দেয়নি। যা উদ্দীপকের মোতালেব খানের প্রতিনিধিত্ব করে কারণ মোতালেব খান ও জোরপূর্বক সালমাকে বিয়ে করতে চান।

d
“জয় হয় সম্মিলিত প্রতিরোধের- উদ্দীপকের একথা ‘মাসি-পিসি’ গল্পের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য’- উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

উত্তর

জয় হয় সম্মিলিত প্রতিরোধের উদ্দীপকের এ কথা মাসি পিসি গল্পের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য। উক্তির যথার্থ রয়েছে।

মাসি পিসি গল্পে দেখা যযায়, আহ্লাদিকে কেন্দ্র করে মাসি পিসিদের বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে জগু আহ্লাদিকে নেওয়ার বিভিন্ন ষড়যন্ত্র এবং অন্যদিকে কু চরিত্র কিছু লোক তাকে তুলে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালায়। মাসি পিসি দুইজনে সম্মিলিত প্রতিরোধে আহ্লাদীকে বিপদমুক্ত রাখার চেষ্টা করেন।

দুজনেই দা বটি কাটারি নিয়ে প্রস্তুত থাকেন। তাদের সংগ্রাম বেঁচে থাকার জন্য এবং আহ্লাদিকে ভালো রাখার জন্য।

একইভাবে উদ্দীপকের কলেজ পড়ুয়া সালমা এক দারিদ্র পিতার সন্তান। এলাকার প্রভাবশালী মোতালেব খান বুড়ো বয়সে জোরপূর্বক তাকে বিয়ে করতে চাইলেও বান্ধবীদের প্রচেষ্টায় তারা সফল হন। সালমার বাবা-মা ওনাকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় প্রভাবশালীর হুমকিতে বান্ধবীরা পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা চান না বান্ধবীর লেখাপড়া নষ্ট হোক। এজন্য সালমাকে নিয়ে বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক ও কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে জানায়। মোতালেব খান এবং জয় হয় সম্মিলিত প্রতিরোধের।

31
Question 31

শিক্ষিত যুবক অপূর্ব গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের নিয়ে একটি সমবায় সমিতি গড়ে তোলে; সমন্বিত কৃষি চাষের মাধ্যমে সকলের ভাগ্যোন্নয়ন করতে। সমিতি গড়ার কাজ ভালোভাবেই এগিয়ে চলছিল; সমস্যা দেখা দেয় যখন অপূর্ব তার সমিতিতে ডোম সম্প্রদায়ের অনুকূল নামের একজনকে সমিতির সদস্য করে নেয়। অনেকেই স্পষ্ট জানিয়ে দেয় একজন ডোমের সাথে তারা একই সমিতিতে থাকবে না। গ্রামপ্রধান অসীম রায় সমিতির অস্থায়ী অফিস ভেঙে দিয়ে অপূর্বকেই গ্রামছাড়া করার হুমকি দেয়। গ্রামবাসীর বিরুদ্ধাচরণের কারণে একটা পর্যায়ে গিয়ে ভেঙে যায় অপূর্বের সমিতি গড়ার স্বপ্ন।

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল · 2024

a
‘পারিবারিক প্রবন্ধ’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?

b
‘স্বদেশের মঙ্গলের জন্য সমস্ত অকাতরে সহ্য করিয়া টানিয়া লইয়া চলিলাম-উদ্ধৃিতিটি কোন প্রসঙ্গে, কেন, কে বলেছে?

c
উদ্দীপকের অসীম রায় চরিত্রের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের সঙ্গতিপূর্ণ চরিত্রের সাদৃশ্য নিরূপণ করো।

উত্তর
উদ্দীপকের অসীম রায় চরিত্রের সঙ্গে বিলাসিতা গল্পের খুরা চরিত্রে সংগতিপূর্ণ। বিলাসী একজন সাপুড়ের মেয়ে যিনি মৃত্যুঞ্জয়কে মৃত্যুসজ্জা থেকে আরোগ্য লাভ করার জন্য সেবা করেছেন কিন্তু বিলাসী ছোট জাতের মেয়ে বলে খুড়া তাকে নিয়ে সমালোচনা করেছে যা উদ্দীপকের অসীম রায় চরিত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

ছোট জাতের মানুষ বলে তাকে ছোট করা উচিত নয়। উদ্দীপকের অসীম রায় একজন ডুমের জন্য সমিতিকে ভেঙে দিয়েছেন। আবার একইভাবে বিলাসিতা গল্পের বিলাসী একজন ছোট মেয়ে যাতে মেয়ে বলে তাদের ভালোবাসাকে ভালো চোখে দেখে নেই।

d
উদ্দীপকের ঘটনা ‘বিলাসী’ গল্পের বিষয়বস্তুকে কীভাবে ধারণ করে তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনা বিলাসী গল্পের  বিষয়বস্তু জাতকে ছোট করে দেখানো হয়েছে।

উদ্দীপকে দেখা যায় একজন ডোম সদস্যের জন্য অসীম রায় তার কৃষি সমিতিকে ভেঙে দিয়েছেন । এখানে কাজটা ছিল অনেক বড় কিন্তু অনেক মানুষের মধ্যে একজন নিচু জাত হওয়ায় তাকে অবমাননা করা হয়েছে যেটা সামাজিক বিপন্থীক।

অপরদিকে বিলাসিতা গল্পের বিলাসী একজন সাপুড়ের মেয়ে অর্থাৎ ছোট জাত। মৃত্যুধঞ্চয়ের কেউ নেই। একমাত্র খুঁড়ো তার সমালোচনা করে বেড়ায়। ছোট জাতের বলে ভালো কাজে অংশগ্রহণ করা যাবে না এটা ভুল। বিলাসী একা মেয়ে হয়ে অনেক বড় আম বাগানের ভিতরে সেবা করেছেন অথচ তার এই ভালোবাসার দাম তাকে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে মৃত্যুদঞ্চায় নিজেই বিলাসীকে বিয়ে করেছেন। সুতরাং উদ্দীপক এবং ব্রাশি তা গল্পের আলোকে বলা যায় এখানে ছোট জাতকে ঘৃণার বিষয়টি ধারণ করেছে।

32
Question 32

ভারতের অভিজাত এলাকায় অবস্থিত গ্লোরি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রায় সব ছাত্রছাত্রীরা ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের। হঠাৎ একদিন বেশ কয়েকজন অভিভাবক স্কুলে এসে চিৎকার করে বলা শুরু করল যে তাদের জাত চলে গেছে কারণ স্কুলের রান্নার মাসি নিম্ন সম্প্রদায়ের। তার হাতের রান্না খেয়ে তাদের সন্তানদের পাশাপাশি তাদেরও মহাপাপ হয়েছে । তাই তাদের দাবি অবিলম্বে রান্নার মাসিকে চাকরিচ্যুত করতে হবে। কিন্তু স্কুলের প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের পক্ষ না নিয়ে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলেন সকল সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ভালোবাসাই প্রকৃত ধর্ম ।

ঢাকা সিটি কলেজ · 2024

a
ন্যাড়া সন্ন্যাসী অবস্থায় কোথায় গিয়ে সিদ্ধি লাভ করে এসেছে?

b
স্বদেশের মঙ্গলের জন্য সমস্ত অকাতরে সহ্য করিয়া টানিয়া লইয়া চলিলাম’— উক্তিটি বাখ্যা করো ।

c
উদ্দীপকের অভিভাবকদের ভাবনার মধ্য দিয়ে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?- আলোচনা করো ।

উত্তর
উদ্দীপকের অভিভাবকদের মধ্যে ‘বিলাসী’ গল্পের গোড়া হিন্দু সমাজের দিকটি ফুটে উঠেছে।

‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয় তৎকালীন গোড়া হিন্দুসমাজের রোষানলের স্বীকার। তৎকালীন রক্ষণশীল হিন্দু সমাজ বিশ্বাস করত না যে সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানুষ। এই বৈষম্য, জাতিভেদ, এই জাতীয় সামাজিক অনাচার তৎকালীন হিন্দু সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছিল। মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর হাতে ভাত খেয়ে যে অন্যায় করেছে তা গোড়া হিন্দু সমাজের কাছে অমার্জনীয় অপরাধ। ফলে সমাজের নিষ্ঠুর ও অশুভ থাবার ছোবলে পড়ে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের জীবনে নেমে এসেছে করুণ পরিণতি ।

উদ্দীপকে গ্লোরি ইন্টারন্যশনাল স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের কিন্তু স্কুলের রান্নার কাজে নিযুক্ত মাসি নিম্ন সম্প্রদায়ের। অভিভাবকরা বিষয়টি জেনে স্কুলে এসে অভিযোগ করতে লাগল যে তাদের মহাপাপ হয়েছে। মাসিকে চাকরিচ্যুত করা হোক। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলেন যে সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ভালোবাসাই প্রকৃত ধর্ম। একইভাবে ‘বিলাসী’ গল্পেও দেখা যায় মৃত্যুঞ্জয় নিম্ন জাতের মেয়ে বিলাসীর হাতে ভাত খাওয়ায় রক্ষণশীল হিন্দু সমাজ কিছুতেই তাদের মেনে নেয় না। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের অভিভাবকদের মধ্য দিয়ে ‘বিলাসী’ গল্পের সামাজিক কুসংস্কার, বর্ণপ্রথা জাতিভেদের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

d
‘সকল সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ভালোবাসাই প্রকৃত ধর্ম।’— উক্তিটির তাৎপর্য ‘বিলাসী’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

‘ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ভুলে সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ভালোবাসাই প্রকৃত ধর্ম।’— উক্তিটি যথার্থ।

‘বিলাসী’ গল্পে লেখক জাত-বর্ণের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানবপ্রেম ও ভালোবাসার মহিমা তুলে ধরেছেন। মৃত্যুপথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়কে সেবাযত্ন করে সুস্থ করে তোলে বিলাসী মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এদিকে বিলাসীর এমন কাজের প্রতিদানস্বরূপ মৃত্যুঞ্জয় তাকে বিয়ে করে। এমনকি সমাজের মানুষ তাদের অন্নপাপের দোহাই দিয়ে সমাজচ্যুত করলে তারা অন্যগ্রামে গিয়ে সংসার শুরু করে ।

উদ্দীপকে দেখা যায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী যেখানে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের সেখানে স্কুলের রান্নার কাজে নিযুক্ত মাসি নিম্ন সম্প্রদায়ের। তাই গ্লোরি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বিষয়টি জেনে স্কুলে এসে অভিযোগ করতে লাগল যে তাদের মহাপাপ হয়েছে। মাসিকে চাকরিচ্যুত করা হোক। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলেন যে সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ভালোবাসাই প্রকৃত ধর্ম । আলোচ্য ‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার মহিমা প্রকাশ করা হয়েছে। বিলাসীর হাতে ভাত খেয়ে অন্নপাপের দায়ে গোড়া হিন্দু সমাজ বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়কে সমাজচ্যুত করলেও তারা তাদের ভালোবাসার অমর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে গল্পটিতে। জাতভেদের ঊর্ধ্বে গিয়ে স্থাপন করেছেন ভালোবাসার নিদর্শন। উদ্দীপকেও মানুষকে ভালোবাসার একটি গভীর চেতনা উল্লেখ করা হয়েছে। সব সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে গিয়ে মানুষকে ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।

33
Question 33

শহরের গৃহকর্মী মায়ের সন্তান আরিফ আর ধনী ব্যবসায়ী বাবার সন্তান আসিফ। দুজনের বন্ধুত্ব অত্যন্ত সুদৃঢ় হলেও আসিফের বাবা আরিফের মেলামেশা, বাসায় আসা এবং ড্রয়িং রুমে আপ্যায়ন মেনে নিতে পারেন না। আরিফকে বাসায় আসতে তিনি নিষেধ করেছেন। এমনকি অকথ্য ভাষায় বকাবকি করে বাড়ি থেকে তাড়িয়েও দিয়েছেন। সম্প্রতি ডেঙ্গু আক্রান্ত সংকটাপন্ন বন্ধু আসিফকে আরিফই রক্ত দিয়েছে, জীবন বাঁচিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত রেখেছে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2024

a
‘সাইবেরিয়া’ এশিয়ার কোন অঞ্চলে অবস্থিত?

b
“সে কত বড় সাহসের কাজ!” সপ্রসঙ্গ উক্তিটি ব্যাখ্যা কর ।

c
উদ্দীপকের বাবা চরিত্রটি ‘বিলাসী’ গল্পের কোন চরিত্রের মানসিকতার সাথে সংগতিপূর্ণ?

উত্তর
উদ্দীপকের বাবা চরিত্রটি ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়ার মানসিকতার সাথে সংগতিপূর্ণ।

  • সমাজে জাত-ধর্ম-বর্ণের পার্থক্য মানুষেরই তৈরি। সাম্যের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষ সমান। স্বার্থপর ব্যক্তিরা তা মানতে চায় না। তারা মিথ্যা জাত-ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করে ।

উদ্দীপকের আরিফ শহরের গৃহকর্মী মায়ের সন্তান আর আসিফ ধনী ব্যবসায়ী বাবার সন্তান। দুজনের বন্ধুত্ব অত্যন্ত সুদৃঢ় হলেও আসিফের বাবা আরিফের মেলামেশা, বাসায় আসা এবং ড্রয়িং রুমে আপ্যায়ন মেনে নিতে পারেন না। আরিফকে তিনি বাসায় আসতে নিষেধ করেন। এমনকি অকথ্য ভাষায় বকাবকি করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়াও কুসংস্কারাচ্ছন্ন হীন মানসিকতার অধিকারী। মুমূর্ষু মৃত্যুঞ্জয়কে বিলাসী রাতদিন অক্লান্ত

পরিশ্রম ও সেবা-যত্ন করে সুস্থ করার প্রয়াস চালালে মৃত্যুঞ্জয়কে এই খুড়া অন্নপাপে অভিযুক্ত করে। পাশাপাশি সাপুড়েকন্যা হয়ে কায়স্থের ছেলে মৃত্যুঞ্জয়কে বিয়ে করার অপরাধে বিলাসীর উপর নির্মম নির্যাতন ও অত্যাচার করে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়। খুড়ার এমন হীন মানসিকতা উদ্দীপকের বাবা চরিত্রটির হীন মানসিকতাকেই নির্দেশ করে ।

d
“পরিবেশ ও সময়ের ভিন্নতা থাকলেও উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পের বিষয়বস্তু একই বাস্তবতাকে ধারণ করেছে।”— উক্তিটি বিশ্লেষণ কর ।

উত্তর

“পরিবেশ ও সময়ের ভিন্নতা থাকলেও উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পের বিষয়বস্তু একই বাস্তবতাকে ধারণ করেছে।”— উক্তিটি যথার্থ।

• মানুষের প্রতি মানুষের আন্তরিকতা ও ভালোবাসা মানুষকে মানবিক করে তোলে । অথচ সমাজ তা মানতে নারাজ । কারণ তারা মানুষকে জাত-ভেদ, ধর্ম-বর্ণ দিয়ে বিভক্ত করে। এসব কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের জীবনকে করে তোলে দুর্বিষহ ও অতিষ্ঠ।

• উদ্দীপকের আরিফ গৃহকর্মীর ছেলে হওয়ায় ধনী ব্যবসায়ী বাবা তার ছেলে আসিফের সঙ্গে আরিফকে মেলামেশা করতে দেয়নি ৷ আরিফকে তিনি বাসায় আসতে নিষেধ করেন এবং তাকে অকথ্য ভাষায় বকাবকি করে বাসা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ এই আরিফই ডেঙ্গু আক্রান্ত সংকটাপন্ন বন্ধু আসিফকে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছে। পরিবেশ ও সময়ের ভিন্নতা থাকলেও উদ্দীপকের অনুরূপ ঘটনা ‘বিলাসী’ গল্পেও ফুটে উঠেছে। এই গল্পে জাতিভেদ, বর্ণবৈষম্য প্রভৃতি সামাজিক অসংগতির পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশও ঘটেছে। এখানে মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতার সময় নিম্নবর্ণের সাপুড়ে মেয়ে বিলাসী তাকে সেবা-শুশ্ৰূষা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। তার প্রতিদানে মৃত্যুঞ্জয় তাকে বিয়ে করে তার হাতে ভাত খায় । কিন্তু তৎকালীন সমাজ তা মেনে নেয়নি। নিচু জাতের মেয়েকে বিয়ে করা ও তার হাতে ভাত খাওয়াকে সমাজ অন্নপাপ হিসেবে বিবেচনা করে তাদের ওপর চড়াও হয়। জ্ঞাতি খুড়া সমাজের মানুষকে নিয়ে বিলাসীর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় ।

• ‘বিলাসী’ গল্পে সমাজ মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর বিয়ে করা ও একসাথে অবস্থান করাকে অন্যায় হিসেবে বিবেচনা করেছে। অথচ বিলাসী রাত-দিন, রাত জেগে সেবা-যত্ন করে মুমূর্ষু মৃত্যুঞ্জয়কে সুস্থ করে তুলেছে। বিনিময়ে সে পেয়েছে সমাজের নির্মম নির্যাতন ও অপবাদ । গল্পের এই সমাজ বাস্তবতাই উদ্দীপকের ঘটনায় প্রতিফলিত হয়েছে। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ।

34
Question 34

সৌদামিনী মালো স্বামীর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারসূত্রে ধানী জমি, বসতবাড়ি, পুকুরসহ কয়েক একর সম্পত্তির মালিক হয়। এই সম্পত্তির ওপর নজর পড়ে সৌদামিনীর জ্ঞাতি দেওর মনোরঞ্জনের। সৌদামিনীর সম্পত্তি দখলের জন্য সে নানা কৌশল অবলম্বন করে। একবার সৌদামিনী দুর্ভিক্ষের সময় ধান ক্ষেত্রের পাশে একটি মানবশিশু খুঁজে পায়। অসহায়, অসুস্থ শিশুটিকে সে তুলে এনে পরম যত্নে আপন সন্তানের মতো লালন পালন করে। মনোরঞ্জন সৌদামিনীকে সমাজচ্যুত করতে প্রচার করে যে, নমশূদ্রের ঘরে ব্রাহ্মণ সন্তান পালিত হচ্ছে। এ যে মহাপাপ, হিন্দু সমাজের জাত ধর্ম শেষ হয়ে গেল।

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ · 2024

a
‘বিলাসী’ গল্পের বর্ণনাকারী কে?

b
মৃত্যুঞ্জয়ের ‘জাতবিসর্জনের’ কারণ বর্ণনা কর।

c
সৌদামিনী চরিত্রের কোন বৈশিষ্ট্যটি বিলাসীর চরিত্রের সঙ্গে মিলে যায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর
উদ্দীপকের সৌদামিনীর সেবামূলক কাজের সাথে বিলাসী গল্পের বিলাসী চরিত্র মিলে যায়।

বিলাসী বাঙালি নারীর প্রতীক। বাঙালি নারীরা যেমন শত দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেও অন্যকে সুখে রাখতে সব ত্যাগ করে। বিলাসীও নিজের জীবনের মায়া না করে মৃত্যুঞ্জয়কে রোগশয্যা থেকে সুস্থ করে তোলে।

বিলাসীর ওপর সমাজের মানুষ নামক মনুষ্যত্বহীন প্রাণীদের অত্যাচার হলেও বিলাসী উদ্বেলিত হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়ের চিন্তায়।

অপরদিকে সৌদামিনীর চরিত্রটি একই সুত্রে গাথা। তিনিও এক অসহায়, অসুস্থ পথ শিশুকে কুড়িয়ে এনে লালনপালন করেন। তার ক্ষেত্রেও সমাজের কুনজর ছিল কিন্তু তিনি এগুলো খেয়ালের বাইরে রেখেছে।

d
‘মনোরঞ্জন যেন বিলাসী গল্পের খুড়ারই প্রতিচ্ছবি’- বিষয়টি মূল্যায়ন কর।

উত্তর

উদ্দীপকের মনোরঞ্জনই খুড়ার প্রতিচ্ছবি।

বিলাসী’ সর্বংসহা বাঙালি নারীর প্রতিচ্ছবি। গল্পটি গড়ে উঠেছে এক মহীয়সী নারীর প্রেম, ত্যাগ, তিতিক্ষার কাহিনি। গল্পটিতে প্রেমের সঙ্গে একই সমান্তরালে স্থান করে নিয়েছে জাত-পাত ভেদ, অন্ত্যজ শ্রেণির জীবন চারিত্র্য, স্বজনহীন এক মানবের বেদনাবিধুর জীবন। যেই জীবনকে সেবা, ভালোবাসায় জয় করে নিয়েছে বিলাসী। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়। এছাড়া আরও একটি চরিত্র বিশেষভাবেই স্থান করে নিয়েছে মৃতুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া।

মৃত্যুঞ্জয়ের শয্যাশায়ী অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে মুক্তি মেলে এবং নীচু জাতের সাপুড়ে কন্যা বিলাসীকে বিয়ে করে। মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া অন্নপাপের দোষে দোষী করে গ্রাম ছাড়া করে তাদের। সবিশেষ সাপুড়ে পেশায় মৃত্যুঞ্জয়কে দেখা যায়।

অপরদিকে উদ্দীপকে দেখা যায়, মনরঞ্জন সৌদামিনীর অমঙ্গল চেয়েছে। এক অসহায় শিশুর সেবাকে সে কুমন্ত্রণা রটিয়েছে। সুতরাং বলা যায়, মনরঞ্জন ও খুড়া একই সুতায় গাথা।

35
Question 35

দীর্ঘ ৫০ বছর পথে-ঘাটে সাপখেলা দেখিয়ে সংসার চালিয়েছে ঝড়ু সর্দার। আত্মীয়-পরিজন হারিয়ে বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে সর্দারজি। পনেরো বছরের মেয়ে স্বর্ণময়ী এখন তার একমাত্র ভরসা। কয়েকদিন ধরে খাবারের ব্যবস্থা হয়নি বলে সাপ নিয়ে স্বর্ণময়ী রাস্তায় বেরিয়েছে। কিন্তু আজকাল লোকে সাপখেলা দেখে না। এমন অবস্থা দেখে প্রতিবেশী ব্রাহ্মণের ছেলে রাজন স্বর্ণময়ীকে বিয়ে করে তাদের দায়িত্ব নেয়। এই ঘটনায় সমাজ রাজনের পরিবারকে একঘরে করে রাখে।

Comilla · 2024

a
‘বিলাসী’ গল্পের ন্যাড়া কত ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যেত?

b
“গ্রামটা এবার রসাতলে গেল।” ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকের স্বর্ণময়ী ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের কোন দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর’।

উত্তর
সাপ খেলা দেখিয়ে সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করার দিক থেকে উদ্দীপকের স্বর্ণময়ী ও ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।

সমাজে নানান শ্রেণি ও নানান পেশার মানুষ থাকে। এদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা সাপুড়ে। এরা সাপ খেলা দেখিয়ে পয়সা রোজগার করে এবং ক্ষুন্নিবৃত্তি করে। সামাজিক শ্রেণি অবস্থানে এরা নিচু জাতের। ‘বিলাসী’ গল্পের তেমনই এক চরিত্র বিলাসী। সে সাপুড়ের কন্যা। পিতার বয়স হয়ে যাওয়ায় সে সাপ খেলা দেখিয়ে পয়সা উপার্জনের চেষ্টা করে। অর্থাৎ সে সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করে। উদ্দীপকের স্বর্ণময়ীর মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যায়। তার পিতা বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে পড়ায় সে সাপ নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। অর্থাৎ স্বর্ণময়ীও সাপ খেলা দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করে সংসারের হাল ধরতে চায়, যা বিলাসী চরিত্রের অন্য রূপ। এভাবে সাপ খেলা দেখিয়ে সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করার দিক দিয়ে উদ্দীপকের স্বর্ণময়ী ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

d
“উদ্দীপকের ভাববস্তু ও ‘বিলাসী’ গল্পের প্রেক্ষাপট, অভিন্ন নয়।”- মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

উত্তর

“উদ্দীপকের ভাববস্তু ও ‘বিলাসী’ গল্পের প্রেক্ষাপট অভিন্ন নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
হিন্দু সমাজব্যবস্থায় জাতভেদ প্রথা প্রবল। তারা জাতিভেদের নামে সমাজে এক নির্মম প্রথা চালু করে রেখেছে। উঁচু জাতের হিন্দুর সাথে নিচু জাতের হিন্দুর প্রণয় সমাজ কখনই মেনে নেয় না। আসলে সমাজের এই ব্যবস্থা মানবতাবিরোধী।

‘বিলাসী’ গল্পটি হিন্দু সমাজে প্রচলিত জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে এক শ্লেষাত্মক আখ্যান। গল্পের প্রধান চরিত্র মৃত্যুঞ্জয়, যে কায়স্থের ছেলে। সে যখন একা ঘরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিল তখন এক সাপুড়ের কন্যা বিলাসী তাকে সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। এরপর মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে বিয়ে করে, আর তখনই বিপত্তি বাধে। উঁচু জাতের ছেলে হয়ে নিচু জাতের এক সাপুড়ের মেয়েকে বিয়ে করে বলে সমাজ তাকে হেয় করে। তখন সে বিলাসীর সঙ্গে অন্য জায়গায় চলে যায়। যখন তার সাহায্য প্রয়োজন ছিল তখন সমাজ ছিল নির্বিকার আর বিয়ের, বেলায় জাতপ্রথা। আসলে গল্পকার এই প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে সমাজের ঘৃণ্য প্রথার রূপ উন্মোচন করেছেন।

উদ্দীপকেও এমনই এক ভাববস্তু প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে দেখা যায় ব্রাহ্মণ রাজন নিচু জাতের স্বর্ণময়ীকে বিয়ে করার দরুন সমাজ তার পরিবারকে একঘরে করে দেয়। উদ্দীপকেও সমাজে প্রচলিত ঘৃণ্য প্রথার রূপ উন্মোচন করা হয়েছে। এই বিবেচনায় তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভাববস্তু ও ‘বিলাসী’ গল্পের প্রেক্ষাপট অভিন্ন নয়।

36
Question 36

‘মহেশ’ গল্পে গফুরের প্রিয় গরুটির নাম মহেশ। দরিদ্র গফুর নিরীহ পশুটিকে ঠিকমতো খাবারের জোগান দিতে পারে না। ফসল নষ্ট করার কারণে তাকে জমিদারের শাস্তিও পেতে হয়েছে। একদিন তৃষ্ণার্ত মহেশ পানির জন্য গফুরের মেয়ে আমিনার মাটির পাত্র ভেঙে ফেলে। রাগান্বিত গফুর লাঙলের ফলা দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মহেশ মারা যায়। গো-হত্যার প্রায়শ্চিত্ত করতে গফুর রাতের আঁধারে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

Dinajpur · 2024

a
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করে?

b
“আমার মাথার দিব্যি রইল, এসব তুমি আর কখনো করো না।”- ব্যাখ্যা কর।

c
গফুরের জীবনবাস্তবতার সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা কর।

উত্তর
গফুরের জীবনবাস্তবতার সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের সাম্প্রদায়িকতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।
পৃথিবীতে সব মানুষের জন্মপরিচয় এক, তা হলো মানুষ। কিন্তু আত্মস্বার্থে তারা পরস্পরকে হিংসা করে এবং সমাজের লোকদের বিভিন্ন স্তরে বিভাজন করে। মানুষ স্বার্থের কারণে বিভিন্ন জাতিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

উদ্দীপকের দরিদ্র গফুর নিরীহ পশুটিকে খাবারের জোগান দিতে পারে না। এমনকি গরুটি অন্যের ফসল নষ্ট করায় শাস্তিও পায় গফুর। ঘটনাক্রমে রাগান্বিত গফুর লাঙলের ফলা দিয়ে মাথায় আঘাত করলে গরুটি মারা যায়। তৎকালীন হিন্দু রক্ষণশীল সমাজের শাস্তির ভয়ে সে মেয়েকে নিয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। অপরদিকে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী মৃত্যুঞ্জকে সেরা করে সুস্থ করে তোলে। মৃত্যুঞ্জয় এর প্রতিদানে বিলাসীকে বিয়ে করে। কিন্তু সমাজ এই বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেয় না। কারণ বিলাসী নিচু জাতের সাপুড়ে মেয়ে, আর মৃত্যুঞ্জয় উঁচু জাতের। এ কারণে সমাজের মানুষদের সঙ্গে নিয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া বিলাসীর ওপর নির্মম অত্যাচার চালায়। তাই বলা যায়, গফুরের জীবনবাস্তবতার সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের সাম্প্রদায়িকতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।

d
“উদ্দীপকের ‘গো-হত্যা’ এবং ‘বিলাসী’ গল্পের ‘অন্নপাপ’ একই সূত্রে গাঁথা”- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

“উদ্দীপকের ‘গো-হত্যা’ এবং ‘বিলাসী’ গল্পের ‘অন্নপাপ’ একই সূত্রে গাঁথা”- মন্তব্যটি যথার্থ।’

পৃথিবীতে সব মানুষ সমান। সবারই সম্মান অধিকার আছে। তাই এই পৃথিবীকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তুলতে চাইলে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি গড়ে তুলতে হবে।

উদ্দীপকের গফুর দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত। সে রাগান্বিত হয়ে তার পোষা প্রাণী সন্তানতুল্য মহেশের মাথায় লাঙলের ফলা দিয়ে আঘাত করে। তাতে গরুটি মারা যায়। গোহত্যা করার কারণে প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ রাতের আঁধারে তাকে পালিয়ে যেতে হয়। অন্যদিকে ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে পড়লে মালোপাড়ার সাপুড়েকন্যা বিলাসী সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে মৃত্যুঞ্জয়কে সুস্থ করে তোলে। মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর হাতে ভাত খেয়েছে বলে তৎকালীন সমাজ বিষয়টি মেনে নেয়নি। তখনকার কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজবাসীর বিশ্বাস ছিল- অন্নপাপের কোনো প্রায়শ্চিত্ত নেই। পরবর্তী সময়ে মৃত্যুঞ্জয় সাপের কামড়ে মারা গেলে গ্রামবাসী মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুকে অন্নপাপের পরিণাম হিসেবে আখ্যায়িত করে।

‘বিলাসী’ গল্পে সমাজে জাতিভেদ বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। এই জাতিভেদের কারণে সমাজে নিম্নশ্রেণির মানুষের ওপর নানা অন্যায়- অত্যাচার করা হয়। অন্নপাপের অজুহাতে মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়ার নেতৃত্বে গ্রামের মানুষ সংঘবদ্ধভাবে বিলাসীর ওপর নির্যাতন চালায়। উদ্দীপকের ‘গোহত্যা’ সমাজের মানুষের তৈরি এমন কিছু নিয়ম- কানুনের বহিঃপ্রকাশ যার কারণে গফুরের মতো নিরীহ বহু মানুষকে বসতভিটা ছেড়ে পালাতে হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

37
Question 37

হুমরাবেদের মেয়ে মহুয়ার প্রেমে পড়ে জমিদারপুত্র নদের চাঁদ। জমিদার বিষয়টি জানতে পেরে রাতের আধারে হুমরাবেদের দলকে গ্রামছাড়া করে। নীচু জাত বেদের মেয়ের সাথে তাঁর পুত্র নদের চাঁদের প্রেম তিনি মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু নদের চাঁদ মহুয়াকে পাওয়ার আশায় বাবা-মাকে ছেড়ে যায়। হুমরাবেদে নদের চাঁদকে হত্যার জন্য মহুয়ার হাতে বিষলক্ষার ছুরি তোলে দেয়।

Comilla · 2023

a
‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

b
‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ির পরিবেশ কেমন ছিল?

c
উদ্দীপকের নদের চাঁদ চরিত্রের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন চরিত্র তুলনীয় ব্যাখ্যা কর।

উত্তর
উদ্দীপকের নদের চাঁদ চরিত্রের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।

গল্পের মৃত্যুঞ্জয় উচ্চ কায়স্থ বংশ এবং বিলাসী নিচু বংশের হওয়ায় তাদের ভালোবাসা ও একত্রে ঘরবাঁধা সমাজপতিরা মেনে নিতে পারেনি। সেই সমাজে সমাজপতিদের মুখের কথাই ছিল আইন। তাদের খেয়ালখুশিমতো চলত সমাজ।

এমনি উদ্দীপকের জমিদার পুত্র নদের চাঁদ নীচু জাত বেদের মেয়ের সাথে প্রেম করায় নদের চাঁদের বাবা জমিদার মেনে নিতে পারেনি।

উদ্দীপকের নদের চাঁদ যেমন মহুয়ার প্রেমে পড়ে সমাজকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছিল তেমনি বিলাসী গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে আপন করতে সমাজপতিদের চোখ রাঙানোকে উপেক্ষা করেছিল।

d
“উদ্দীপকটি যেন ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর অমর প্রেমের উপাখ্যান।”- মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর।

উত্তর

“উদ্দীপকটি যেন ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর অমর প্রেমের উপাখ্যান।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

বিলাসী গল্পের মৃত্যুঞ্জয় উচ্চ কায়স্থ বংশ এবং বিলাসী নিচু বংশের হওয়ায় তাদের ভালোবাসা ও একত্রে ঘরবাঁধা সমাজপতিরা মেনে নিতে পারেনি। সেই সমাজে সমাজপতিদের মুখের কথাই ছিল আইন। তাদের খেয়ালখুশিমতো চলত সমাজ। বিলাসী নারী হওয়া সত্ত্বেও তার প্রতি সমাজপতিদের সামান্য শ্রদ্ধাবোধ ছিল না। জাত ও বংশ রক্ষার নামে তারা বিলাসীর ওপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে। সমাজপতিদের নির্মমতা সহ্য করেও মৃত্যুঞ্জয়কে নিয়ে বিলাসীর ঘরবাঁধা এ গল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। যদিও তাদের দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, তবুও মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর ভালোবাসা যেন নির্মম সমাজে নতুন আলোকপ্রভা হয়ে উঠেছে।

উদ্দিপকে হুমরাবেদের মেয়ে মহুয়ার প্রেমে পড়ে জমিদারপুত্র নদের চাঁদ। জমিদার বিষয়টি জানতে পেরে রাতের আধারে হুমরাবেদের দলকে গ্রামছাড়া করে। নীচু জাত বেদের মেয়ের সাথে তাঁর পুত্র নদের চাঁদের প্রেম তিনি মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু নদের চাঁদ মহুয়াকে পাওয়ার আশায় বাবা-মাকে ছেড়ে যায়। হুমরাবেদে নদের চাঁদকে হত্যার জন্য মহুয়ার হাতে বিষলক্ষার ছুরি তোলে দেয়।

তাই দেখা যায় উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পে একই অবয়বে দুইটি প্রেমের উপাখ্যান রচিত হয়েছে।

“উদ্দীপকটি যেন ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর অমর প্রেমের উপাখ্যান।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

38
Question 38

কেউ মালা, কেউ তসবি গলায়

তাইতে কী জাত ভিন্ন বলায়,

যাওয়া কিংবা আসার বেলায়

জাতের চিহ্ন রয় কার রে।।

Jessore · 2023

a
‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?

b
“ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।”— ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকটিতে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? বুঝিয়ে লেখ ।

উত্তর
উদ্দীপকটি বিলাসী গল্পের জাত ভেদকে নির্দেশ করে।

‘বিলাসী’ গল্পে সমাজে বিদ্যমান জাত প্রথার প্রকট চিত্র ফুটে উঠেছে। মৃত্যুঞ্জয় কায়স্তের সন্তান হয়ে সাপুড়ে কন্যা বিলাসীকে বিয়ে করে। • বিলাসীর হাতের খাবার খেয়ে সে অন্নপাপ করেছে বলে অভিযোগ করে গ্রামবাসী। একপর্যায়ে তাদের গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে জাতপ্রথার অসাড়তা সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন পোশাকে আমরা ভিন্ন ভিন্ন জাতকে চিনতে পারি। কিন্তু জন্ম বা মৃত্যুর সময় । আমাদের জাত নির্ধারিত থাকে না। প্রকৃতির কাছে সবাই সমান। উদ্দীপকে যে জাতপ্রথা নিয়ে কথা বলা হয়েছে ‘বিলাসী’ গল্পে সেই জাতপ্রথার নেতিবাচক দিকগুলো চিত্রিত হয়েছে।

d
“উদ্দীপকটি কি ‘বিলাসী’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পেরেছে?” তোমার অভিমত দাও।

উত্তর

‘বিলাসী’ গল্পে জাতপ্রথার করুণ পরিণতি এবং সার্বিক চিত্র প্রতিফলিত হলেও উদ্দীপকে শুধু এর অসাড়তা নিয়ে কথা বলায় উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের পুরো ভাব প্রকাশিত হয়নি ।

‘বিলাসী’ গল্পে তৎকালীন সমাজের জাত প্রথার স্বরূপ বিস্তৃতভাবে চিত্রিত হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসী পরস্পরকে ভালোবাসলে জাতপ্রথার কারণে তারা কালিমার শিকার হয়। মৃত্যুঞ্জয়কে অন্নপাপের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। তাদের গ্রাম থেকে বের করে দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জীবনের দিকে ঠেলে দেয় সমাজের মানুষ ।

উদ্দীপকে জাতপ্রথার অপ্রয়োজনীয়তা দেখানো হয়েছে। জাতপ্রথা মানুষেরই সৃষ্টি, মানুষ বিভিন্নভাবে নিজেদের মধ্যে উঁচু-নিচু ভেদ তৈরি করে। কিন্তু জন্ম বা মৃত্যুর সময় মানুষের কোনো জাত পরিচয় থাকে না। ‘বিলাসী’ গল্পে জাতপ্রথা নিয়ে আলোকপাত করার পাশাপাশি নর- নারীর ভালোবাসার রূপও প্রকাশিত হয়েছে।

‘বিলাসী’ গল্পে সংকীর্ণ সমাজ দৃষ্টির ঊর্ধ্বে মানব-মানবীর প্রেমের স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে। বর্ণবাদী সমাজের দৃষ্টি-ভঙ্গি প্রকাশিত হয়েছে। অসচেতন মানুষের অন্ধ বিশ্বাস প্রবণতা দেখানো হয়েছে। এর সাথে জাতপ্রথার বলী হয়ে বিলাসী এবং মৃত্যুঞ্জয়ের করুণ পরিণতি এ গল্পে দৃশ্যমান।

উদ্দীপকে জাতপ্রথার একটিমাত্র দিক আলোচিত হওয়ায় উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি বলে আমি মনে করি।

39
Question 39

সৌদামিনী মালো স্বামীর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে ধানি জমি, বসত-বাড়ি, পুকুরসহ কয়েক একর সম্পত্তির মালিক হয়। এই সম্পত্তির উপর নজর পড়ে সৌদামিনীর জ্ঞাতি দেওর মনোরঞ্জনের। সৌদামিনীর সম্পত্তি দখলের জন্য সে নানা কৌশল অবলম্বন করে। একবার সৌদামিনী দুর্ভিক্ষের সময় ধানখেতের পাশে একটি মানব শিশু খুঁজে পায়। অসহায় অসুস্থ শিশুটিকে সে তুলে এনে পরম যত্নে সন্তানের মতো লালন-পালন করে। মনোরঞ্জন সৌদামিনীকে সমাজচ্যুত করতে প্রচার করে যে নমঃশূদ্রের ঘরে ব্রাহ্মণ সন্তান পালিত হচ্ছে। এ যে মহাপাপ। সমাজের জাত-ধর্ম সব শেষ হয়ে গেল।

Mymensingh · 2023

a
মৃত্যুঞ্জয়ের কত বিঘার বাগান ছিলো?

b
মৃত্যুঞ্জয়ের জাত বিসর্জনের কারণ ব্যাখ্যা কর।

c
সৌদামিনী চরিত্রের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসীর সাদৃশ্য তুলে ধর।

উত্তর
তৎকালীন হিন্দু সমাজের দিক থেকে বিচার করলে জ্ঞাতিজন কর্তৃক সমাজচ্যুত করার অপচেষ্টার ক্ষেত্রে সৌদামিনী মালো চরিত্রের সঙ্গে বিলাসী চরিত্রের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। আবার জাত-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে কাউকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও উভয়ের মধ্যে একই বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে।

সৌদামিনী মালোর স্বামীর মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তির ওপর নজর পড়ে সৌদামিনীর দেবর মনোরঞ্জন মালোর। অন্যদিকে, মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পত্তির ওপর নজর পড়ে জ্ঞাতি খুড়ার।

সৌদামিনী মালো দুর্ভিক্ষের সময় ধানখেতের পাশে কুড়িয়ে পাওয়া এক অসহায়, অসুস্থ মানবশিশুকে তুলে এনে একান্ত আপনজনের মতো করে লালন-পালন করে। ফলে সমাজ থেকে সে ধিক্কার পায়। অন্যদিকে, সাপুড়ে কন্যা বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে ভালোবেসে বিয়ে করেও সমাজ কর্তৃক ধিক্কৃত হয়।

পরিশেষে আমরা বলতে পারি, সৌদামিনী মালো চরিত্রের সঙ্গে বিলাসী চরিত্রের এক অপরূপ মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

d
উদ্দীপকের মূলভাব ‘বিলাসী’ গল্পের আংশিক প্রতিচ্ছবি। ‘মূল্যায়ন কর।

উত্তর

উদ্দীপকের মনোরঞ্জন মালো ও ‘বিলাসী’ গল্পের খুড়া একে অন্যের প্রতিচ্ছবি। সৌদামিনী মালো তার স্বামীর মৃত্যুর পর বসতবাড়ি, পুকুরসহ বেশ কয়েক একর জমির মালিক হয়। এ সম্পত্তির ওপর নজর পড়ে সৌদামিনীর জ্ঞাতি দেবর মনোরঞ্জন মালোর।

অন্যদিকে, ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পত্তির ওপর কু-নজর পড়ে তার এক জ্ঞাতি খুড়ার। সে ছলে-বলে-কৌশলে মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পত্তি দখলে নিতে চায়। অর্থাৎ উভয়ের মধ্যেই অন্যের সম্পত্তি হস্তগত করার একটা মানসিকতা দিবালোকের মতো পরিষ্কার।

মনোরঞ্জন মালো সৌদামিনীকে সমাজচ্যুত করার লক্ষ্যে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। সে বলে বেড়াচ্ছে যে নমশূদ্রের ঘরে ব্রাহ্মণ সন্তান পালিত হচ্ছে। এ যে মহাপাপ, হিন্দু সমাজের জাত-ধর্ম সব শেষ হয়ে গেল। অন্যদিকে, মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া মৃত্যুঞ্জয়ও বিলাসীর মৃত্যুর পর এই বলে অপপ্রচার চালিয়েছিল যে মৃত্যুঞ্জয় কায়স্থের ছেলে হয়ে সাপুড়ে মেয়েকে বিয়ে করছে। এমনকি তার হাতে ভাত পর্যন্ত খেয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া একে অন্নপাপ বলতে পিছপা হয়নি।

সুতরাং আলোচনার শেষ প্রান্তে এসে বলা যায়, মনোরঞ্জন যেন ‘বিলাসী’ গল্পের খুড়ারই প্রতিচ্ছবি।

40
Question 40

মুখে দেয় জল, সুধায় কুশল, শিরে দেয় মোর হাত,

দাঁড়ায়ে নিঝুম, চোখে নাই ঘুম, মুখে নাই তার ভাত ।

বলে বার বার, ‘কর্তা, তোমার কোন ভয় নাই, শুন-

যাবে দেশে ফিরে, মা ঠাকুরাণীরে দেখিতে পাইবে পুন ।’

লভিয়া আরাম আমি উঠিলাম, তাহারে ধরিল জ্বরে,

নিল সে আমার কালব্যাধিভার আপনার দেহ পরে।

Sylhet · 2023

a
‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?

b
“স্বদেশের মঙ্গলের জন্য সমস্ত অকাতরে সহ্য করিয়া তাহাকে হিড়হিড় করিয়া টানিয়া লইয়া চলিলাম।”—ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকের ভৃত্যের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায়? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর
উদ্দীপকের ভৃত্যের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর মিল পাওয়া যায়।

‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী উদার ও সেবাপরায়ণ মনোভাবাপন্ন এক নারী। নিচু জাতের মেয়ে হয়েও বিলাসী অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা-শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলে। পোড়োবাড়িতে একা রাত জেগে সে দিন-রাত সেবা করে গেছে মৃত্যুঞ্জয়ের। এজন্য তাকে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়েছে। সমাজের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করে গেছে। পরম মমতা ও ভালোবাসায় আগলে রেখেছে মৃত্যুঞ্জয়কে।

উদ্দীপকের ভৃত্য ও তার কর্তাকে পরম ক্ষমতায় সযত্নে সেবা করে। মুখে জল দিয়ে, মাথায় হাত বুলিয়ে, না ঘুমিয়ে, না খেয়ে কর্তার সেবায় নিয়োজিত থাকে। কর্তাকে বারবার আরোগ্য লাভের আশ্বাস দেন। নিচু জাত হয়েও কর্তার যত্ন করেন উচ্চ মানসিকতা নিয়ে। ভালোবাসা ও মমতায় আগলে রেখেছে কর্তাকে।

উদ্দীপকের ভৃত্যের এই সেবাপরায়ন মানসিকতার সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর সাদৃশ্য রয়েছে।

d
”উদ্দীপকের পরিণতি থেকে ‘বিলাসী’ গল্পের পরিণতি ভয়াবহ।”—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

”উদ্দীপকের পরিণতি থেকে ‘বিলাসী’ গল্পের পরিণতি ভয়াবহ।”—মন্তব্যটি যথার্থ।

‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয় দুইজন ভিন্ন জাতভুক্ত মানুষ। অনাথ মৃত্যুঞ্জয় একবার অসুস্থ হলে বিলাসী তাকে সেবা-যত্ন করে সুস্থ করে তোলে। তারা বিয়ে করে একসাথে সংসার শুরু করলে গ্রামের মানুষ মৃত্যুঞ্জয়ের অন্নপাপ হয়েছে অভিযোগ তুলে বিলাসীকে ‘গ্রাম থেকে বের করে দিতে চায়, মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসী পরদিন গ্রাম থেকে চলে যায় । মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ে জীবন বেছে নেয় ও পরে সাপের কামড়ে মৃত্যুবরণ করে, বিলাসী এই শোক সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে।

উদ্দীপকের ভৃত্য তার কর্তাকে পরম ক্ষমতায় সযত্নে সেবা করে। মুখে জল দিয়ে, মাথায় হাত বুলিয়ে, না ঘুমিয়ে, না খেয়ে কর্তার সেবায় নিয়োজিত থাকে। কর্তাকে বারবার আরোগ্য লাভের আশ্বাস দেন। নিচু জাত হয়েও কর্তার যত্ন করেন উচ্চ মানসিকতা নিয়ে। অবশেষে কর্তার অসুস্থতা তার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, কর্তার জ্বরের প্রকোপ যেন ভৃত্য তার গায়ে তুলে নেয়। কর্তার জন্য জীবন বাজি রেখে সে জ্বরে আক্রান্ত হয়।

‘বিলাসী’ গল্পের সমাজ কুসংস্কারাচ্ছন্ন, গোড়া সমাজ। এ সমাজের মধ্যে জাতপ্রথায় প্রাপ্ত পরিচয়ই মানুষের একমাত্র পরিচয় বলে গণ্য করা হয়, মানবিক উদারতার জায়গা এখানে খুব কম। যার কারণেই বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়কে গ্রাম ছেড়ে সাপুড়ে জীবন বেছে নিতে হয়েছিল। উদ্দীপকের গানে জাতপ্রথার ঊর্ধ্বে গিয়ে সকল মানুষের সমতার সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে। ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী কে বরণ করে নিতে হয়েছিল বিয়োগান্তক ফলাফল, অপরদিকে উদ্দীপকের বৃত্তের পরিণতি হয়েছিল অসুস্থতার প্রতিস্থাপনে।

”উদ্দীপকের পরিণতি থেকে ‘বিলাসী’ গল্পের পরিণতি ভয়াবহ।”—মন্তব্যটি সঠিক। 

41
Question 41

করোনাকালীন দুর্যোগে জনাব শিমুল চাকুরি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। চরম আর্থিক সংকট এবং মানসিক চাপে তিনি শারীরিকভাবেও ভেঙে পড়েন। ফলে দুই সন্তানের লেখাপড়াসহ সংসারের খরচ চালানো তার জন্য কঠিন হয়ে যায়। এই সময়ে তার স্ত্রী পারুল আক্তার সেলাইয়ের কাজ করে সংসারের হাল ধরেন। পাশাপাশি অসুস্থ স্বামীর সেবা করেন পরম মমতায়।

Dinajpur · 2023

a
মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?

b
“একদিন এই মন্ত্রের সত্য-মিথ্যার চরম মীমাংসা হইয়া গেল।”—উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ ।

c
পারুল আক্তারের সঙ্গে বিলাসী চরিত্রের কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর
উদ্দীপকের পারুল আক্তারের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর সাদৃশ্যপূর্ণ দিক হলো উদার এবং সেবাব্রতী মানসিকতা।

‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী উদার ও সেবাপরায়ণ মনোভাবাপন্ন এক নারী । নিচু জাতের মেয়ে হয়েও বিলাসী অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা-শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলে। পোড়োবাড়িতে একা রাত জেগে সে দিন-রাত সেবা করে গেছে মৃত্যুঞ্জয়ের। এজন্য তাকে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়েছে। সমাজের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করে গেছে। পরম মমতা ও ভালোবাসায় আগলে রেখেছে মৃত্যুঞ্জয়কে।

উদ্দীপকের পারুল আক্তার একজন মানবিক এবং সেবাপরায়ণ, কোমল স্বভাবের নারী। করোনাকালীন দুর্যোগে তার স্বামী চাকুরী হারিয়ে চরম আর্থিক সংকট এবং মানসিক চাপে শারীরিকভাবেও ভেঙে পড়েন। এই সময়ে পারুল আক্তার সংসারে হাল ধরার পাশাপাশি স্বামীর সেবায় নিয়োজিত হন। মূলত পারুলের আন্তরিকতা, সেবাযত্ন এবং ভালোবাসাই সংসার টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে। তাই বলা যায়, তার মানবিকতা ও সেবাপরায়ণ মানসিকতা বিলাসী চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

d
“উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের সাদৃশ্য থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।”—উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

উত্তর

“উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের সাদৃশ্য থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।”—উক্তিটির যথার্থ।

‘বিলাসী’ গল্পে সাপুড়ে কন্যা বিলাসীর সঙ্গে উচ্চবংশীয় মৃত্যুঞ্জয়ের অকৃত্রিম ভালোবাসার অনন্যসাধারণ কাহিনি উঠে এসেছে। পাশাপাশি গল্পটিতে তাদের অসমবর্ণ সম্পর্কের বিরুদ্ধে কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের আগ্রাসী রূপটিও ফুটে উঠেছে। গল্পটিতে বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের করুণ কাহিনির মধ্যদিয়ে তৎকালীন বর্ণবাদী সমাজের ভয়ংকর রূপটি উন্মোচিত হয়েছে ।

উদ্দীপকে করোনাকালীন দুর্যোগে জনাব শিমুল চাকুরি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। চরম আর্থিক সংকট এবং মানসিক চাপে তিনি শারীরিকভাবেও ভেঙে পড়েন। ফলে দুই সন্তানের লেখাপড়াসহ সংসারের খরচ চালানো তার জন্য কঠিন হয়ে যায়। এই সময়ে তার স্ত্রী পারুল আক্তার সেলাইয়ের কাজ করে সংসারের হাল ধরেন। পাশাপাশি অসুস্থ স্বামীর সেবা করেন পরম মমতায়। আলোচ্য ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রটিও গভীর ভালোবাসার শক্তিতে বলীয়ান হয়েই’সমাজবাস্তবতার বিরুদ্ধে গিয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। সেবা দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে তাকে ফিরিয়ে এনেছে।

এসকল বিষয়ে সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও, বিলাসী গল্পের বিলাসী ভালোবাসার মানুষের সেবা করেছিল তার প্রেমের টানে, আর উদ্দীপকের পারুল আক্তার তার ভালোবাসার মানুষের সেবা করেছিল প্রয়োজনের তাড়নায়। বিলাসী গল্পে মৃত্যুঞ্জয় ভালোবেসে জাত ধর্ম ত্যাগ করে বিলাসীর কাছে এসেছিল, কিন্তু উদ্দীপকে তেমন কিছু হয় নি।

তাই বলা যায়, “উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের সাদৃশ্য থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।”—উক্তিটির যথার্থ।

42
Question 42

মহামারি কোভিডের সময় বাবুলের বাবার কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, বাবুলের লেখাপড়া প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়। এ সময় সহপাঠী রানুর বাবা বাবুলকে গৃহশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। বাবুল যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে। কিন্তু তাদের পারিবারিক শত্রুর কারসাজিতে নিজের আড়ালে কিছু একটা ঘটতে থাকে। কিছুদিনের মধ্যেই সে টের পায়- তার পাড়া-প্রতিবেশী তাকে এড়িয়ে চলছে। সবাই বাবুল এবং রানুকে জড়িয়ে অপপ্রচারে বিশ্বাসী।

Chittagong · 2023

a
ন্যাড়ার সন্ন্যাসীগিরি ইস্তফার কারণ কী?

b
. ‘অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।’

c
উদ্দীপকের পারিবারিক শত্রু ‘বিলাসী’ গল্পের খুড়াকে কীভাবে প্রতিনিধিত্ব করে? আলোচনা করো।

উত্তর
মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিক অনাচার সৃষ্টির ক্ষেত্রে উদ্দীপকের পারিবারিক শত্রু ‘বিলাসী’ গল্পের খুড়ার প্রতিনিধিত্ব করে।

‘বিলাসী’ গল্পে চিত্রিত হয়েছে দুই মানব-মানবীর প্রেমের মহিমা। পাশাপাশি বর্ণিত হয়েছে ধর্মীয় গোঁড়ামি, পরনিন্দা, দুর্বলের প্রতি সবলের অত্যাচার ও তৎকালীন হিন্দু সমাজের বীভৎস রূপ। গল্পের মৃত্যুঞ্জয় এক অনাথ যুবক। এক জ্ঞাতি খুড়া ছাড়া আপনজন বলতে তার আর কেউ ছিল না। জ্ঞাতি খুড়া নিজেকে মৃত্যুঞ্জয়ের আম বাগানের অর্ধেক অংশের মালিক বলে প্রচার করে এবং মৃত্যুঞ্জয়ের নামে নানা ধরনের দুর্নাম রটায়। মৃত্যুঞ্জয় কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা করে মালো পাড়ার সাপুড়ে কন্যা বিলাসী। মৃত্যুঞ্জয় অসহায় বিলাসীকে বিয়ে করলে সমাজের মানুষ তার বিরুদ্ধে অন্নপাপের অভিযোগ আনে যার নেতৃত্ব দেয় স্বার্থান্বেষী খুড়া। খুড়ার ষড়যন্ত্রে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।

উদ্দীপকে বাবার কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাবুলের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হয়। সহপাঠী রানুর বাসায় গৃহশিক্ষক হওয়ায় সে হাফ ছেড়ে বাঁচে। পারিবারিক শত্রুর কারসাজির কারণে এই ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত হতে থাকে। বাবুল এবং রানুকে জড়িয়ে ঘৃণ্য অপপ্রচার চলতে থাকে। তারা বুঝতে পারে পাড়া-প্রতিবেশী তাকে এড়িয়ে চলছে। ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার যে মানুষের জীবন কীভাবে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে তা আমরা ‘বিলাসী’ গল্পে এবং উদ্দীপকে লক্ষ করি। উদ্দীপকে যেমন একজন পারিবারিক শত্রু দুটি ছেলে মেয়ের জীবন বাধাগ্রস্ত করে তেমনি ‘বিলাসী’ গল্পের খুড়াও মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর জীবন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। বিলাসী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। সংগত কারণেই উদ্দীপকের পারিবারিক শত্রু ‘বিলাসী’ গল্পের খুড়াকে প্রতিনিধিত্ব করে।

d
উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজচিত্রকে ‘বিলাসী’ গল্পের সমাজচিত্রের দর্পণ বলা যায় কি? যুক্তিসহ মত প্রকাশ করো।

উত্তর

ঘটনার সাজুয্য থাকলেও উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজচিত্রকে ‘বিলাসী’ গল্পের সমাজচিত্রের পুরোপুরি দর্পণ বলা যায় না।

‘বিলাসী’ গল্পে জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা পেরিয়ে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর ভালোবাসা জয়যুক্ত হয়েছে। কিন্তু অশিক্ষা, কুসংস্কার ও তৎকালীন হিন্দু সমাজের জাতভেদ প্রথা তাদের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছিল। সমাজের নিষ্ঠুর নিপীড়নের শিকার হয়েছিল মমতাময়ী নারী বিলাসী। নিচু জাতের বলে বিলাসীকে গ্রাম ছেড়ে তাড়িয়ে দিতে উদ্যত হয়েছে গ্রামবাসী। মৃত্যুঞ্জয়ের আপন বলতে কেউ ছিল না। কঠিন রোগে আক্রান্ত মৃত্যুঞ্জয়কে বিলাসী | মনপ্রাণ দিয়ে শুশ্রুষা করে সারিয়ে তোলে। মৃত্যুঞ্জয়ও তাই তাকে ভালোবেসে ম বিয়ে করে। জাত-কুলের মূলে কুঠারাঘাত করে মৃত্যুঞ্জয় পৈতৃক ভিটা ছেড়ে নি মালোপাড়ায় নতুন বসতি গড়ে।

উদ্দীপকে মানসিক দৈন্য ও পরাশ্রীকাতরতার একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। কোভিড মহামারির সময় বাবুলের বাবার কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। বাবুলের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হলে সহপাঠী রানুর বাবা তাকে গৃহশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। কিন্তু তাদের পারিবারিক শত্রু রানু ও বাবুলকে জড়িয়ে ঘৃণ্য অপপ্রচার চালায়। এতে প্রতিবেশীরাও তাদের এড়িয়ে চলে।

‘বিলাসী’ গল্পে দুটি হৃদয়ের অমর প্রেমকাহিনি তুলে ধরতে গিয়ে লেখক নানা চরিত্র ও ঘটনার সমাবেশ ঘটিয়েছেন। সেখানে উদার, নিভীক, দৃঢ়চেতা, ধৈর্যশীল ও মানবিক মৃত্যুঞ্জয়ের উল্লেখ রয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে বুদ্ধিমতী, সেবাব্রতী ও কর্মনিপুণ নারী বিলাসীর। বিদ্যার্জনে তৎকালে শিক্ষার্থীদের কী পরিমাণ কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে তাও প্রসঙ্গক্রমে বাল এসেছে। বিভিন্ন ফলমূল, গাছের বর্ণনাসহ প্রকৃতির প্রকৃত চিত্র অংকন করা ভাল হয়েছে। ন্যাড়ার জবানিতে হৃদয়গ্রাহী প্রেমকাহিনিসহ সামাজিক অনাচার, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও জাতভেদ প্রথার উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্দীপকে তার একটি খণ্ডিত চিত্র ফুটে উঠেছে। তাই উদ্দীপককে ‘বিলাসী’ গল্পের দর্পণ বলা যায় না।

43
Question 43

মহুয়া শহরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। তার শহরে কাজ করার বিষয়টি গ্রামের কিছু মানুষ পছন্দ করে না। উপরন্তু তার নামে দুর্নাম রটনা করে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি এলে গ্রামের মানুষগুলো মহুয়ার নামে বিচার বসায়। তারা মহুয়াকে জোর করে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মহুয়া তাতে প্রতিবাদ করে। অসুস্থ মাকে রেখে সে কিছুতেই কোথাও যাবে না।

Rajshahi · 2023

a
এডেন কীসের জন্য বিখ্যাত?

b
“ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

c
বিলাসী চরিত্রের কোন দিকটি মহুয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা বর্ণনা কর।

উত্তর
বিলাসী চরিত্রের মৃত্যুঞ্জয়ের গ্রামের মানুষ কর্তৃক নির্যাতনের দিকটি মহুয়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

পৃথিবীতে সব মানুষের জন্ম-পরিচয় এক ও অভিন্ন। অথচ আত্মস্বার্থে তারা পরস্পরকে ঘৃণা করে এবং সমাজের লোককে বিভিন্ন স্তরে বিভাজন করে বৈষম্য তৈরি করে।

উদ্দীপকে মহুয়া শহরে কাজ করে। মেয়ে হয়ে শহরে কাজ করে বলে গ্রামের লোকেরা তাকে বদনাম দেয় এবং তাকে গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে হয়ে কায়স্থ ঘরের সন্তান মৃত্যুঞ্জয়কে বিয়ে করায় গ্রামের লোকজন তা মেনে নেয় না। তারা বিলাসীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। তারা বিলাসীর প্রতি অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করে। জ্ঞাতি খুড়া মৃত্যুঞ্জয়ের জমি ও বাগানের লোভে অন্ন্য পাপের অভিযোগে সমাজচ্যুত করে। এভাবে, উদ্দীপকের মহুয়া এবং ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী দুজনেই গ্রামের মানুষ কর্তৃক নির্যাতনের শিকার।

d
“বিলাসী ও মহুয়া পরস্পর বিপরীত চরিত্রের মানুষ।”-মন্তব্যটি যাচাই কর।

উত্তর

“বিলাসী ও মহুয়া, পরস্পর বিপরীত চরিত্রের মানুষ।”-মন্তব্যটি যথার্থ।

পৃথিবী সব মানুষ সমান। সবারই সুন্দরভাবে জীবনযাপন করার অধিকার রয়েছে। কেউ কেউ অন্যায়ভাবে সেই অধিকার খর্ব করতে চায়। কেউ সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করে। আবার কেউ তা নীরবে সহ্য করে।

উদ্দীপকে গ্রামের মেয়ে মহুয়া শহরে কাজ করায় গ্রামের লোকজন তার নামে কুৎসা রটনা করে এবং তাকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মহুয়া এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। অসুস্থ মাকে রেখে সে কোথাও যাবে না। অন্যদিকে ‘বিলাসী’ গল্পে নিচু জাতের হয়ে উঁচু জাতের ছেলেকে বিয়ে করায় গ্রামবাসী তাকে গ্রামছাড়া করতে চায়। বিলাসী এ সিদ্ধান্তের কোনো প্রতিবাদ করেনি, বরং চুপচাপ সহ্য করেছে।

উদ্দীপকের মহুয়া একজন প্রতিবাদী নারী। কিন্তু ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর মধ্যে অন্যায়কে সহ্য করার প্রবণতা প্রতিফলিত হয় যা মহুয়া চরিত্রের বিপরীত। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

44
Question 44

আলেয়া খাতুন রাতের বেলা এক হাতে লণ্ঠন আর অন্য হাতে রশি নিয়ে মনের দুঃখে কাঁদতে কাঁদতে পাশের বাড়ির সালেহা বেগমকে এসে বললেন, ‘আম্মা, আমার আর বাঁচার এতটুকু ইচ্ছে নেই। যাকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসলাম সেই যখন আমাকে ছেড়ে চলে গেল তখন আমি বাঁচতে চাই না। আমিও মরতে চাই।’ সাহেলা বেগম বললেন, ‘দেখ বউমা, এমন কথা বলো না। তোমার শ্বশুরের সাথে ত্রিশ বছর ধরে সংসার করেছি। তিনি মারা যাওয়ার পরে আজও এই ঘর, এই সংসারকে আঁকড়ে পড়ে আছি। কোনোদিন এই সংসার ছেড়ে চলেযাওয়ার চিন্তাও করি নাই। তিনি যেদিন মারা গেলেন, বুকে পাথর বেঁধে সারাটি রাত তার পাশেই বসে ছিলাম। যাও বাড়ি যাও। সব ঠিক হয়ে যাবে।’ পাশেই বসে থাকা সালেহা বেগমের ছোট সন্তান সোহাগ আলেয়া খাতুনকে জিজ্ঞাসা করে, ‘ভাবী, তোমার হাতে লণ্ঠন কেন?’ আলেয়া খাতুন চট করে উত্তর দেয়-‘যদি সাপে কামড়ায়!’

Mymensingh · 2022

a
ন্যাড়ার মাদুলি-কবচ কবরে দেওয়ার পরে তার কাছে আর কী অবশিষ্ট রইল?

b
‘ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।’ ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকের আলেয়া খাতুনের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? আলোচনা কর।

উত্তর
উদ্দীপকের আলেয়া খাতুনের সাথে বিলাসী গল্পের ন্যাড়ার আত্মীয়ার স্ত্রীর স্বামীভক্তির দিকটির সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।বিলাসী গল্পের আত্মীয় মারা গেলে তার বিধায় স্ত্রী শোকাহত হয়ে স্বামীর সঙ্গে সহমরণের জন্য হাহাকার করতে থাকে।কিন্তু লাশের পাশে তাকে একাকী রেখে ন্যাড়া যখন মৃতের সৎকারের জন্য লোক ডাকতে বাইরে পা বাড়ায়, সে চিৎকার করে বলে ওঠে যে, সে একা থাকতে পারবে না।

উদ্দীপকে আলেয়া খাতুন রাতের বেলা এক হাতে লন্ঠণ আর এক হাতে দড়ি নিয়ে পাশের বাড়ির সালেহা বেগমকে বললেন যে, তার স্বামী মারা যাওয়ায় তিনিও আর বেঁচে থাকতে চান না।কেননা, তিনি তাঁর স্বামীকে প্রাণদিয়ে ভালবাসতেন।তখন সালেহা বেগমের ছোট ছেলে সোহাগ আলেয়া খাতুনের হাতে লন্ঠন কেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন সাপে কামড়ানোর ভয়ে।অর্থাৎ তিনি স্বামীর প্রতি লোভ দেখানো ভালোবাসা প্রকাশ করে মারা যাওয়ার কথা বলেছেন।যেমনটি আমরা লক্ষ করি আলোচ্য গল্পের ন্যাড়ার আত্মীয় স্ত্রীর মধ্যেও। সেও স্বামীর মৃত্যুতে লোক দেখানো শোক প্রকাশ করে সহমরনের কথা বলে। সুতরাং মেকি স্বামীভক্তির দিক দিয়ে উদ্দীপকের আলেয়া খাতুন এর সাথে বিলাসী গল্পের ন্যাড়ার আত্মীয় সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

d
উদ্দীপকের সালেহা বেগমের ক্ষেত্রে ‘বিলাসী’ গল্পের ‘ইহা আর এক শক্তি’ উক্তিটি প্রযোজ্য হয়নি। বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের সালেহা বেগমের ক্ষেত্রে বিলাসী গল্পে ইহা আর এক শক্তি, উক্তিটি প্রযোজ্য হয়নি।মন্তব্যটি যথার্থ

বিলাসী গল্পে কথকের এক আত্মীয় তার স্বামীর মৃত্যুর পরে মৃতদেহের পাশে একা থাকতে ভয় পায়। একসঙ্গে দীর্ঘ দিন সংসার করলেও মৃতদেহের পাশে একা কোন মেয়ে থাকতে চায় না।কথকের মতে, এই ভয়কে অতিক্রম করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়।কথক মনে করেন এটি অন্য এক শক্তি যা একসঙ্গে সংসার করলেই সবার মধ্যে আসে না।

উদ্দীপকের সালেহা বেগম ত্রিশ বছর সংসার করেন। এরপর তার স্বামী মারা গেলেও তিনি সংসার ছেড়ে যাননি। যেদিন তার স্বামীর মৃত্যু হয় সেদিন সারা রাত্রি মৃত স্বামীর পাশে বসে ছিলেন। মৃতদেহের পাশে বসে থাকার সময় তার মধ্যে কোন ভয় কিংবা আতঙ্কের ভাব দেখা যায়নি।বরয় ভয়কে অতিক্রম করতে পেরেছেন।’বিলাসী’ গল্পের মৃত মানুষের সঙ্গে একা সময় পার করার সাহস সবার থাকে না বলে কথক মনে করেছেন।এই সাহস ও শক্তি বহু স্বামী স্ত্রী একসঙ্গে দীর্ঘদিন সংসার করার পরও হয় না।উদ্দীপকের সালেহার ক্ষেত্রে আমরা শক্তি ও সাহস দেখতে পাই।তিনি মৃতস্বামীর পাশে সারারাত থাকলেও তার মধ্যে কোন ভয় পরিলক্ষিত হয়নি।পারস্পরিক মনোজগতে নৈকট্য লাভের এই দিকটিকেই কথক ‘ইহা আর একটি শক্তি’ বলে অভিহিত করেছেন। আর এই শক্তি উদ্দীপকের সালহা বেগমের মধ্যে প্রকাশ পাওয়ায় প্রশ্নোত্তর মন্তব্যটির যথার্থ হয়ে ওঠেনি বলেই প্রতিমান।

45
Question 45

ভয়ংকর এক সড়ক দুর্ঘটনায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা রায়হানকে পাশের বস্তির

মেয়ে জাহানারা উদ্ধার করে নিয়ে আসে। স্মৃতি ফিরে পেলে রায়হান জানতে পারে

তার জীবন বাঁচিয়েছে ঐ মেয়েটি। দীর্ঘদিন সেবা-যতেœর পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে

ওঠে সে। রায়হান মেয়েটির প্রতি কৃজ্ঞতাবোধ থেকে তাকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে

আসে। তার বাবা জাহানারাকে মেনে নেয় না। কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে তাকে বিদায়

করে দিতে চাইলে রায়হানও জাহানার সাথে বস্তিতেই চলে যায় এবং সেখানেই সুখে

সংসার বাঁধে।

Chittagong · 2022

a
‘বিলাসী’ গল্পের গল্পকথকের নাম কী?

b
“ওরে বাপরে! আমি একলা থাকতে পারব না।” উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকের জাহানারা চরিত্রের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি আলোচনা কর।

উত্তর
উদ্দীপকের জাহানারা চরিত্রের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর সাদৃশ্যপূর্ণ দিক হলো উদার এবং সেবাব্রতী মানসিকতা ।

‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী উদার ও সেবাপরায়ণ মনোভাবাপন্ন এক নারী নিচু জাতের মেয়ে হয়েও বিলাসী অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা-শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলে। পোড়োবাড়িতে একা রাত জেগে সে দিন-রাত সেবা করে গেছে মৃত্যুঞ্জয়ের । এজন্য তাতে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়েছে। সমাজের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করে গেছে।পরম মমতায় আগলে রেখেছে মৃত্যুঞ্জয়কেউদ্দীপকের জাহানারা একজন মানবিক এবং সেবাপরায়ণ, কোমল স্বভাবের নারী । মারাত্মক দুর্ঘটনায় আহত রায়হানকে সে নিজ দায়িত্বে বাড়িতে নিয়ে সেবা শুশ্রূষা করে। দুর্ঘটনায় রায়হান তার স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে। পরবর্তী সময়ে জাহানাবার সেবা-যত্নে সে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। মূলত জাহানারার আন্তরিকতা, সেবা যত্নে এবং ভালোবাসাই রায়হানকে নতুন জীবন দিয়েছে। তাই বলা যায়, মানবিকতা ও সেবাপরায়ণ মানসিকতা বিলাসী চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।।

d
“উদ্দীপকের রায়হান এবং ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় উভয়েই মানবিকতার মূর্ত প্রতীক।” উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের রায়হান এবং মৃত্যুঞ্জয় উভয়েই মানবিকতার মূর্ত প্রতীক। কারণ, তারা সামাজিক ভেদ বৈষম্যের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানবিক পরিচয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে।

মৃত্যুঞ্জয় কায়স্থ ঘরের মিত্তির বংশের ছেলে। কিন্তু সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সেবা-শুষা করে সুস্থ করে তোলে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী। পরবর্তী সময়ে বিলাসীর গুণমুগ্ধ হয়ে তাকে ভালোবেসে বিয়ে করে মৃত্যুঞ্জয়। এ কারণে রক্ষণশীল সমাজের চাপে পড়ে জাত বিসর্জন দিয়ে সাপুড়ে হতে হয় মৃত্যুঞ্জয়কে।

উদ্দীপকের রায়হান ছিল অত্যন্ত কৃতজ্ঞতাবোধসম্পন্ন মানুষ। বস্তির মেয়ে জাহানারা তারা জীবন বাঁচালে সে-ও তার প্রতি আন্তরিকতা, ভালোবাসা এবং মুগ্ধতা থেকে তাকে বিয়ে করে ঘরে নিয়ে আসে। কিন্তু রায়হানের পরিবার জাহানারাকে কিছু টাকা দিয়ে বিদায় করে দিতে চায়। তবে, রায়হান এই অন্যায় হতে দেয়নি। সে তার পরিবার ছেড়ে স্ত্রীকে নিয়ে বস্তিতে চলে আসে।

জাহানারার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং উদারতার জন্য রায়হান নিজের পরিবার ত্যাগ করে বস্তিজীবন বেছে নেয়। তাছাড়া সে তার স্ত্রীর প্রতি অত্যন্ত দায়িত্বশীল। অন্যদিকে মৃত্যুঞ্জয় সমাজের নিষ্ঠুরতা রক্ষণশীলতা, সংকীর্ণতা ও চোখরাঙানি উপেক্ষা করে স্বেচ্ছায় সাপুড়ে কন্যাকে বিয়ে করে জাত সাপুড়ে হয়ে উঠতেও দ্বিধা করেনি। যার মূলে সক্রিয় ছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মানবতাবোধ। তাই বলা যায়; রায়হান ও মৃত্যুঞ্জয় উভয়েই মানবিকতার মূর্ত প্রতীক।

46
Question 46

শরৎচন্দ্রের ‘মহেশ’ গল্পে গফুরের প্রিয় গরুটির নাম মহেশ। দরিদ্র গফুর নিরীহ পশুটিকে

ঠিকমতো খাবারের জোগান দিতে পারে না। ফসল নষ্ট করার জন্য তাকে জমিদারের শাস্তিও

পেতে হয়েছে। একদিন তৃষ্ণার্ত মহেশ পানির জন্য গফুরের মেয়ে আমিনার মাটির পাত্র ভেঙে

ফেলে। রাগান্বিত গফুর লাঙলের ফলা দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মহেশ মারা যায়। গোহত্যার

প্রায়শ্চিত্ত করতে গফুর রাতের আঁধারে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

Sylhet · 2022

a
‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথমে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?

b
“গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম”- ব্যাখ্যা কর।

c
গফুরের জীবন-বাস্তবতার সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন ঘটনার সাদৃশ্য বিদ্যমান? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর
গফুরের জীবনবাস্তবতার সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের সমাজচ্যুত হওয়ার ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।

‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সেবা-শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী। পরবর্তী সময়ে বিলাসীর গুণমুগ্ধ হয়ে তাকে ভালোবেসে বিয়ে করে মৃত্যুঞ্জয়। এ কারণে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের চাপে পড়ে জাত বিসর্জন দিয়ে সাপুড়ে হতে হয় মৃত্যুঞ্জয়কে।

উদ্দীপকের গফুর রেগে গিয়ে লাঙলের ফলা দিয়ে তার প্রিয় গরু মহেশকে আঘাত করে। ফলে মহেশ মারা যায়, যা তাকে অত্যন্ত ব্যথিত করে। কিন্তু এর ফলে সমাজপতিদের চাপে তাকে গোহত্যার প্রায়শ্চিত্ত করার মতো শাস্তির সম্মুখীন হতে পারে। তাই শাস্তি থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে গফুর রাতের অন্ধকারে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এক্ষেত্রে গোহত্যার ঘটনাটি তার ইচ্ছাকৃত ছিল না, তবুও সমাজের ভয়ে তাকে তার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়। অন্যদিকে, ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে ভালোবেসে বিয়ে করে সমাজচ্যুত হয়। গফুরের জীবনবাস্তবতার সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের এই ঘটনার সাদৃশ্য বিদ্যমান ।

d
“উদ্দীপকের ‘গোহত্যা’ এবং গল্পের ‘অন্নপাপ’ একই সূত্রে গাঁথা”- তোমার মতামত আলোচনা কর।

উত্তর

তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজ বাস্তবতার নিরিখে উদ্দীপকের ‘গোহত্যা’ এবং গল্পের ‘অন্নপাপ’ মূলত একই সূত্রে গাঁথা ।

সেকালে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের বিভিন্ন কুসংস্কারের মধ্যে অন্যতম ছিল ‘অন্নপাপ’ নামক প্রচলিত ধারণা। অন্নপাপ বলতে সমাজে উঁচু জাতের কেউ নিচু জাতের কারো হাতে ভাত খাওয়াকে বোঝায়। গল্পের মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ে কন্যা বিলাসীর গুণমুগ্ধ হয়ে তাকে বিয়ে করলে অন্নপাপের অভিযোগে তাদের সমাজচ্যুত করা হয়৷

উদ্দীপকের গফুরের অত্যন্ত প্রিয় গরু মহেশ। দারিদ্র্যের কারণে গফুর ঠিকমতো তার খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে না। একদিন রাগের মাথায় মহেশকে আঘাত করলে মহেশ মারা যায়। এমতাবস্থায় গোহত্যার অভিযোগে তাকে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। তাই নিজেকে বাঁচাতে সে সপরিবারে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়। তার এই গ্রামছাড়া হওয়ার কারণ তৎকালীন সমাজের কুসংস্কার ও সংকীর্ণ চিন্তাধারা।

‘বিলাসী’ গল্পে গল্পকার তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের ভয়াবহ রূপটি উন্মোচন করেছেন। অসবর্ণের হওয়ায় সেই সমাজ বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের বিয়েকে স্বীকৃতি দেয় না। উপরন্তু অন্নপাপের অজুহাতে তাদের নিপীড়ন করে গ্রামছাড়া করে । ফলে বাধ্য হয়েই মৃত্যুঞ্জয়কে সাপুড়ে জীবন গ্রহণ করতে হয় এবং পরিণতিতে সর্প দংশনে মৃত্যু হয় তার। একইভাবে, গোহত্যার কারণে রক্ষণশীল সমাজের শাস্তির ভয়েই গফুরকেও গ্রাম ছাড়তে হয়। এই গোহত্যাজনিত অপরাধ বা অন্নপাপ মূলত রক্ষণশীল মানসিকতারই প্রকাশ। এ দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ ।

47
Question 47

সৌদামিনী মালোর পালিত পুত্র হরিদাসকে নিয়ে মনোরঞ্জন মালো গ্রামময় প্রচার

করে দিল যে সৌদামিনী ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ কর্ম করেছে। ব্রাহ্মণের জাত

মেরেছে সে। সৌদামিনী মালোর সাথে মনোরঞ্জন মালোর শত্রæতা আগে ছিল

ব্যক্তিগত এখন তা সমাজগত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু একা মনোরঞ্জন

মালো নয়, সমস্ত গ্রাম সৌদামিনী মালোর বিরুদ্ধে জুলুম শুরু করল।

Barisal · 2022

a
‘বিলাসী’ গল্পে কোন মোগল সম্রাটের নাম উল্লেখ আছে?

b
“একলা যেতে ভয় করবে না তো?’- কে, কাকে এবং কেন এই উক্তিটি করেছিল? বুঝিয়ে লেখ।

c
উদ্দীপকের সৌদামিনী মালোর সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের কী মিল খুঁজে পাওয়া যায়? আলোচনা কর।

উত্তর
তৎকালীন হিন্দু সমাজের বিশ্বাস অনুসারে উচ্চ জাতকে কলঙ্কিত করেছে এই অজুহাতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার সঙ্গে সৌদামিনী মালো করে দুজনেই কর্পোরেট জব করছে এবং পরিবারের

ও বিলাসী চরিত্রের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যায় ।

‘বিলাসী’ গল্পের নাম চরিত্র বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে। তার নিবিড় সেবা-যত্নে মৃত্যুঞ্জয় কঠিন রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করে। এরপরই মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে বিলাসীর বিয়ে দেয় বিলাসীর পিতা। মৃত্যুঞ্জয়ের স্বার্থান্বেষী খুড়া এ বিয়ে ও বিলাসীর হাতে মৃত্যুঞ্জয়ের ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামের লোকদের খেপিয়ে তোলে। গ্রামের লোকেরা নির্যাতন করে বিলাসীকে বাড়ি ছাড়া করে। মূলত মৃত্যুঞ্জয়ের আমবাগান দখল করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে খুড়া জুলুম করার এমন প্রেক্ষাপট তৈরি করে ।

উদ্দীপকের সৌদামিনী মালোকেও ব্রাহ্মণের জাত মারার অপবাদ দিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাজেহাল করা হয়। মনোরঞ্জন মালোর সঙ্গে সৌদামিনী মালোর পূর্ব শত্রুতা ছিল। ব্যক্তিগত সেই শত্রুতাকে গ্রামময় ছড়িয়ে দিতে মনোরঞ্জন মালো পুরো গ্রামে প্রচার করে যে, সৌদামিনী ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপকর্ম করেছে। সে ব্রাহ্মণের জাত মেরেছে বলে সমাজের লোকদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। গোটা গ্রাম তখন সৌদামিনীর বিরুদ্ধে জুলুম শুরু করে। ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর অবস্থাও সৌদামিনীর মতোই। সাপুড়ের মেয়ে হয়ে মিত্তির বংশের মৃত্যুঞ্জয়কে বিয়ে করা ও ভাত রেঁধে খাওয়ানোর কারণে গায়ে হাত তুলে টেনেহিঁচড়ে গ্রামের বাইরে বের করে দেওয়া হয় বিলাসীকে। বিলাসীর ওপর জুলুম করতে সম্পত্তির লোভে অন্ধ খুড়া | গ্রামবাসীকে প্রভাবিত করে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে। উদ্দীপকের সৌদামিনী মালোও বিলাসীর মতোই এমন জুলুমের শিকার। তাই বলা যায়, ধর্মীয় কুসংস্কারকে ব্যবহার করে অত্যাচার করার দিক থেকে উভয় চরিত্রের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যায় ।

d
উদ্দীপকের ‘ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ’ ‘বিলাসী’ গল্পে কীভাবে দেখানো হয়েছে? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ‘ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ’ ‘বিলাসী’ গল্পে দেখানো হয়েছে সাপুড়ের মেয়ে হয়ে মিত্তির বংশের মৃত্যুঞ্জয়কে ভাত খাওয়ানোর অর্থাৎ অন্নপাপের মধ্য দিয়ে।

‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে হওয়ায় তার রান্না করা ভাত উচ্চ. জাতের কেউ খেতে পারবে না। এতে অন্নপাপ হয় বলেই সমাজের মানুষের বিশ্বাস। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় তাকে বিয়ে করে তার হাতে ভাত খেয়েছে। এজন্য মৃত্যুঞ্জয়ের জাত গেছে ও মিত্তির বংশের নাম ডুবেছে বলে জ্ঞাতি খুড়া গ্রামময় প্রচার করে। তৎকালীন সমাজের প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে এতে ভয়ানক অপরাধ হয়েছে বলে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়কে কঠিন পরিণতি বরণ করতে হয়।

উদ্দীপকে সৌদামিনী মালোকে ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপের কথা বলে তার ওপর জুলুম করা হয়। সে ব্রাহ্মণের জাত মেরেছে বলে প্রচার করে মনোরঞ্জন মালো। পূর্বশত্রুতার জেরে মনোরঞ্জন মালো সৌদামিনীর বিরুদ্ধে গোটা সমাজকে খেপিয়ে তোলে। সমাজের মানুষও এতটাই অন্ধবিশ্বাসী যে তারা মনোরঞ্জন মালোর কথায় প্রভাবিত হয়ে সৌদামিনীর ওপর জুলুম চালায় ।

‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসীর ওপরও ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ কথাটির প্রয়োগ করা হয় অন্নপাপ করার অভিযোগের ভেতর দিয়ে। সে সাপুড়ের মেয়ে হয়ে উচ্চবংশীয়, শারীরিকভাবে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে ভাত রেঁধে খাইয়ে যেন অপরাধ করেছে। কঠিন অসুখে মৃত্যুঞ্জয়ের জীবন যখন মৃত্যুর মুখোমুখি তখন বিলাসীর মতো মানবিক মেয়ে রাত-দিন তার পাশে ছিল । তার অক্লান্ত সেবা-শুশ্রুষা ও রাতজেগে সেবার পর মৃত্যুঞ্জয় সুস্থ হয়ে ওঠে। সেই দুর্দিনে গাঁয়ের কেউ এসে খোঁজ নেয়নি, উদ্যোগ নেয়নি ভালো চিকিৎসার। কিন্তু চক্রান্তকারী লোভী খুড়ার প্ররোচনায় সবাই অন্নপাপের অপবাদে একজোটহয়ে আক্রমণ করে। তাদের কাছে জীবনের চেয়ে জাতে ওঠে। তাই তারা বিলাসীকে নির্যাতন করে মৃত্যুঞ্জয়ের বা দেয়। বিলাসী তাদেরকে বলার চেষ্টা করে যে, সে মৃত স্ত্রী। তবুও অন্নপাপের ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ কাজের অজুহ ওপর জুলুম করে । বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে ভাত রান্না করে ভয়ানক শাস্ত্র-বিরুদ্ধ পাপ বলে গণ্য হয়। উদ্দীপকে ে এমন পাপকে অত্যধিক গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়েছে।

48
Question 48

মহুয়া শহরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। তার শহরে কাজ করার বিষয়টি গ্রামের কিছু মানুষ পছন্দ করে না। উপরন্তু তার নামে দুর্নাম রটনা করে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসলে গ্রামের মানুষগুলো মহুয়ার নামে বিচার বসায়। তারা মহুয়াকে জোর করে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মহুয়া তাতে প্রতিবাদ করে। অসুস্থ মাকে রেখে সে কিছুতেই কোথাও যাবে না।

a
এডেন কীসের জন্য বিখ্যাত?

b
“ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।” বলতে কী বুঝানো হয়েছে?

c
বিলাসী চরিত্রের কোন দিকটি মহুয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা বর্ণনা কর ।

উত্তর
বিলাসী চরিত্রের মানবসেবাধর্ম ও উপার্জনক্ষমতার দিকটি মহুয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

‘বিলাসী’ গল্পে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীর সাথে উচ্চবর্ণের ছেলে মৃত্যুঞ্জয় প্রণয় ও পরিণয়ে আবদ্ধ হয়। বিশেষত মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতায় বিলাসীর সেবা মৃত্যুঞ্জয়কে তথাকথিত সামাজিক ও ধর্মীয় বিধি-নিষেধ ভাঙতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সমাজ বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি এবং বিলাসীর সাথে মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার নেতৃত্বে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। কিন্তু বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়কে আলাদা করা সম্ভব হয়নি।

উদ্দীপকে মহুয়া মায়ের ভালোবাসায় সমাজের সকল অপঘাতে বিরুদ্ধাচারণ করে প্রতিবাদী হয়ে উঠে গ্রাম ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়। মায়ের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চায়। এদিকটি “বিলাসী” গল্পের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

আবার, বিলাসী গল্পের বিলাসী ও উদ্দীপকের মহুয়া উভয়ই স্বনির্ভর উপার্জনে সক্ষম নারী। এদিক থেকেও তাদের মিল রয়েছে।

d
“বিলাসী ও মহুয়া পরস্পর বিপরীত চরিত্রের মানুষ।”— মন্তব্যটি যাচাই কর।

উত্তর

উদ্দীপকের মহড়া প্রতিবাদী চরিত্র হলেও “বিলাসী” গল্পের বিলাসী প্রতিবাদী নয়।

‘বিলাসী’ গল্পের নাম চরিত্র বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে। তার নিবিড় সেবা-যত্নে মৃত্যুঞ্জয় কঠিন রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করে। এরপরই মৃত্যুঞ্চায়ের সঙ্গে . বিলাসীর বিয়ে দেয় বিলাসীর পিতা। মৃত্যুঞ্জয়ের স্বার্থান্বেষী গুঁড়া এ বিয়ে ‘ও বিলাসীর হাতে মৃত্যুঞ্জয়ের ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামের লোকদের খেপিয়ে তোলে। গ্রামের লোকেরা নির্যাতন করে বিলাসীকে বাড়ি ছাড়া করে। কিন্তু বিলাসী তাতে কোন প্রতিবাদ করে না।

অপরদিকে উদ্দীপকের মহুয়া শহরে পোশাকখানায় কাজ করে ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসলে গ্রামের মানুষগুলো মহুয়ার নামে বিচার বসায়। কারণ তার শহরে কাজ করার বিষয়টি গ্রামের কিছু মানুষ পছন্দ করে না। তারা মহুয়াকে জোর করে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মহুয়া তাতে প্রতিবাদ করে। অসুস্থ মাকে রেখে সে কিছুতেই কোথাও যাবে না। সে সমস্বরে প্রতিবাদ জানায়। এ থেকে বোঝা যায়, মহুয়া একটি প্রতিবাদী নারী চরিত্র।

বিলাসী গল্পে সংকীর্ণ সমাজ দৃষ্টির উর্ধ্বে মানব মানবীর প্রেমের স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে উদ্দীপকে নারী ক্ষমতায়নের বিপক্ষ শক্তির অবস্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে। আবার উদ্দীপকে মা-মেয়ের ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে।

তাই বলা যায়, “বিলাসী ও মহুয়া পরস্পর বিপরীত চরিত্রের মানুষ।”— মন্তব্যটি যথার্থ।