BNG – CQ S – Banglar Nobbo Lekhok

Question 01

আরাফ বড়ো হয়ে লেখক হতে চায়। তাই এখন থেকেই লেখালেখির চর্চা করছে সে। সহজ-সরল শব্দ ব্যবহার তার লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য। অপরিচিত বা জটিল শব্দসম্ভার সে সর্বদা পরিত্যাগ করে। সে মনে করে যে, তার লেখা পাঠককে বোধগম্য করাই আসল লক্ষ্য।

সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ, যশোর · 2026

a
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ইংরেজি উপন্যাসের নাম কী?

b
“যাহা লিখিবেন, তাহা হঠাৎ ছাপাইবেন না।”- বঙ্কিমচন্দ্রের এ পরামর্শের কারণ কী?

c
উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার কোন দিকটি ফটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর
উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় উল্লিখিত রচনার অন্যতম গুণ সহজবোধ্যতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে লেখক যেসব বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে লেখার সরলতা ও সহজবোধ্যতা অন্যতম। প্রবন্ধটিতে সরলতাকে তিনি রচনার সর্বশ্রেষ্ঠ অলংকার হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উদ্দীপকের আরাফ বড়ো হয়ে লেখক হতে চায়। এজন্য সে এখন থেকেই লেখালেখির চর্চা করছে। আর তা করতে গিয়ে সে জটিল ও অপরিচিত শব্দ পরিহার করে সহজ-সরল শব্দ ব্যবহারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। এভাবেই সে রচনা লেখার চেষ্টা করছে। একইভাবে, ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় নতুন লেখকদের পরামর্শ দিতে গিয়ে লেখক রচনার সরলতা ও বোধগম্যতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর মতে, একটি আদর্শ লেখা অবশ্যই সহজ-সরল ভাষায় লেখা উচিত, যাতে তা সহজেই পাঠক বুঝতে পারে। উদ্দীপকে আলোচ্য রচনার এ দিকটিই বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।

d
“উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার আংশিক ভাবনা প্রকাশিত হয়েছে।”- বিশ্লেষণ করো।

উত্তর
কেবল রচনার সহজবোধ্যতার বিষয়টি তুলে ধরায় “উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার আংশিক ভাবনা প্রকাশিত হয়েছে” মন্তব্যটি যথার্থ।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে লেখক সরলতাকে যেকোনো লেখার অন্যতম গুণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি মানবকল্যাণকে লেখার উদ্দেশ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর বাইরে লেখার ক্ষেত্রে অনুকরণীয়তা পরিহার করে তিনি বস্তুনিষ্ঠ লেখার প্রতি মনোযোগী হওয়ার ওপর পরামর্শ দিয়েছেন।
উদ্দীপকে আরাফ নামের এক যুবকের কথা বলা হয়েছে। বড়ো হয়ে একজন ভালো লেখক হওয়াই তার লক্ষ্য। এ কারণে সে এখন থেকেই লেখার প্রতি মনোযোগী হয়েছে। আর তা করতে গিয়ে সে রচনার অন্যতম গুণ সরলতা ও সহজবোধ্যতার দিকটিকে সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়েছে। তার মতে, যেকোনো লেখা পাঠকের বোধগম্য হওয়াই সমীচীন। আর তাই লেখার ক্ষেত্রে সে অপরিচিত বা জটিল শব্দের ব্যবহার থেকে বিরত থাকে। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধেও লেখক লেখার সরলতার প্রতি জোর দিয়েছেন।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে আত্মসচেতন লেখক ভবিষ্যতের লেখকদের জন্য কিছু আত্মোপলব্ধিগত পরামর্শ দিয়েছেন, যা লেখকদের লেখার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এরই অংশ হিসেবে রচনাটিতে লেখার সরলতা, বস্তুনিষ্ঠতা, অনুকরণপ্রিয়তা পরিহার ও মানবকল্যাণকে উদ্দেশ্য করে লেখাকে রচনার বড়ো গুণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পক্ষান্তরে উদ্দীপকের ঘটনাবর্তে কেবল রচনার সহজবোধ্যতার দিকই তুলে ধরা হয়েছে, উল্লিখিত অন্যান্য দিক নয়। এদিক বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


Question 02

সাহিত্য সম্বন্ধেও এই কথা খাটে। আমরা যদি আপনার উচ্চতার অভিমানে পুলকিত হইয়া মনে করি যে, এই-সব সাধারণ লোকদের জন্য আমরা লোকসাহিত্য সৃষ্টি করিব তবে এমন জিনিসের আমদানি করিব যাহাকে বিদায় করিবার জন্য দেশে ভাঙা কুলা দুর্মূল্য হইয়া উঠিবে। ইহা আমাদের ক্ষমতায় নাই। আমরা যেমন অন্য মানুষের হইয়া খাইতে পারি না, তেমনি আমরা অন্য মানুষের হইয়া বাঁচিতে পারি না। সাহিত্য জীবনের স্বাভাবিক প্রকাশ, তাহা তো প্রয়োজনের প্রকাশ নহে। চিরদিনই লোকসাহিত্য লোক আপনি সৃষ্টি করিয়া আসিয়াছে। দয়ালু বাবুদের উপর বরাত দিয়া সে আমাদের কলেজের দোতলার ঘরের দিকে হাঁকরিয়া তাকাইয়া বসিয়া নাই। সকল সাহিত্যেরই যেমন এই লোকসাহিত্যেরই সেই দশা, অর্থাৎ ইহাতে ভালো মন্দ মাঝারি সকল জাতেরই জিনিস আছে।

সিলেট এমসি কলেজ · 2026

a
যশের জন্য লিখিলে কী হয়?

b
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সরলতাকে সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার বলেছেন কেন?

c
উদ্দীপকটি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার কোন দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর
উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার যে বিষয়ে যার অধিকার নেই, সেই বিষয়ে হস্তক্ষেপ নিষেধ করার দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় লেখক নতুন লেখকদের যে পরামর্শ দিয়েছেন তা অবশ্যপালনীয়। তিনি বলতে চেয়েছেন- যে বিষয়ে যার অধিকার নেই, সেই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা তার পক্ষে অকর্তব্য।
উদ্দীপকে লোকসাহিত্য সৃষ্টিতে আধুনিক সাহিত্যিকদের উচ্চতর বোধ নিয়ে প্রবেশের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। লোকসাহিত্য সাধারণ মানুষের সরল মনের অভিব্যক্তি, তাতে আধুনিক সাহিত্যের তত্ত্বকথা জুড়ে দিলে তার হানি ঘটা স্বাভাবিক। তাই লেখক আধুনিক সাহিত্যিকদের এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। আলোচ্য প্রবন্ধেও লেখক তাঁর পরামর্শের এক পর্যায়ে উল্লেখ করেছেন, যে বিষয়ে যার অধিকার নেই, সেই বিষয়ে তার হস্তক্ষেপ অকর্তব্য। বিষয়টি উদ্দীপকের লেখকের লোকসাহিত্যে আধুনিক লেখকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তার অনুরূপ বলা যেতে পারে।

d
উদ্দীপক এবং ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার আলোকে সাহিত্যের মানোন্নয়নের পথ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপক ও ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনা উভয় ক্ষেত্রেই লেখকদ্বয় লেখার মানোন্নয়নের বিষয়ে নব্য লেখকদের ইতিবাচক পরামর্শ দিয়েছেন।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় লেখক নতুন লেখকদের আদর্শ কী হওয়া উচিত সেই বিষয়ে অত্যাবশ্যকীয় পরামর্শ দিয়েছেন। সর্বোপরি তিনি লেখার বস্তুনিষ্ঠতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যার প্রতিটি উপদেশই পালনীয়।
উদ্দীপকে লোকসাহিত্য রচনার ব্যাপারে লেখক আধুনিক সাহিত্যিকদের যে পরামর্শ দিয়েছেন তা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। লোকসাহিত্য সাধারণ মানুষের সরল মনের অভিব্যক্তি। তাই কোনো আধুনিক সাহিত্যিক যেন এতে তার পাণ্ডিত্য প্রকাশের জন্য তত্ত্বকথার সংযোগ না ঘটান সেই বিষয়ে লেখক সতর্ক করেছেন। আলোচ্য প্রবন্ধেও লেখক যে বিষয়ে যার অধিকার নেই সেই বিষয়ে তার হস্তক্ষেপকে অকর্তব্য বলে মনে করেন। কেননা তাতে রচনা হয়ে পড়ে সাময়িক সাহিত্য।
উদ্দীপকের লেখক রচনা বিশ্বাসযোগ্য ও মানসম্মত করার পরামর্শ দিয়েছেন। লোকসাহিত্যের সরল আবেদন হারালেই তা হয়ে পড়বে কৃত্রিম। আলোচ্য প্রবন্ধেও লেখক লেখার মানদণ্ড ও বস্তুনিষ্ঠতা সম্পর্কে তরুণ লেখকদের পরামর্শ দিয়েছেন। সাহিত্য রচনায় সত্য ও সৌন্দর্যকে লেখক অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। কেননা অসত্য বা নীতিবিরুদ্ধে হলে লেখার আবেদন সর্বজনীন হয়ে উঠবে না। এছাড়া লিখতে হবে নিজের অধিকৃত বিষয়কে কেন্দ্র করে, নচেৎ লেখা হয়ে পড়বে কৃত্রিম ও সাময়িক। উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধে লেখকদ্বয় লেখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে লেখার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।


Question 03

সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যে সাহসী প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠেছিল তার অন্যতম নায়ক ছিলেন নূরলদীন। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও স্থানীয় জমিদারদের নিষ্ঠুর খাজনা আদায়, নিপীড়ন ও শোষণের বিরুদ্ধে তিনি, সাধারণ প্রজাদের সংগঠিত করেছিলেন। তাই তিনি অস্তিত্বের লড়াইয়ে অন্যায়-অনাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ডাক দেন- “জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়?”

জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট · 2026

a
মোহন কিছুর বউয়ের নাম কী?

b
“কপিলদাস বুড়ো এবার সত্যিই দমে যায়।”- ব্যাখ্যা করো।

c
‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পের কোন দিকটি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর
‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পের কপিলদাসের সংগ্রামী চেতনার দিকটি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পে বর্ণিত হয়েছে সাঁওতাল বুড়ো কপিলদাসের সংগ্রামী চেতনা। নিজেদের বসতভিটা থেকে উম্মলিত হওয়ার আশঙ্কা তীব্র হলে বৃদ্ধ কপিলদাস অমিত সাহসে উদ্দীপিত হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকে নূরলদীনের সাহসী প্রতিবাদের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ব্রিটিশদের অত্যাচার-নিপীড়ন তীব্রতর হলে নূরলদীন অস্তিত্বের লড়াইয়ে শামিল হতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে। ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পের বৃদ্ধ কপিলদাসও জমিদার-জোতদারদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিবাদে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া, সমাজের চোখে অবহেলিত কপিলদাস সবার মনে বিপ্লবের বোধ জাগিয়ে তোলে। এদিক থেকে উদ্দীপকে সঙ্গে ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পের সাদৃশ্য বিদ্যমান।

d
“অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নূরলদীন ও কপিলদাস মুর্মুর সংগ্রাম যেন একই ধারায় উৎসারিত।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর
উদ্দীপকের নূরলদীন ও গল্পের কপিলদাসের সংগ্রামের মূল উপজীব্য অস্তিত্ব রক্ষার বাসনা থেকে উৎসারিত হওয়ায়, “অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নূরলদীন ও কপিলদাস মুর্মুর সংগ্রাম যেন একই ধারায় উৎসারিত”- উক্তিটি যথার্থ।
‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পে বর্ণিত হয়েছে ভূমির অধিকার নিয়ে সাঁওতালদের সংগ্রামী ঐতিহ্যের চিত্র। এই সংকট তীব্রতর হলে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া কপিলদাসও সশস্ত্র প্রতিবাদে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে ব্রিটিশদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে রংপুরের বিপ্লবী নেতা বৃদ্ধ নূরলদীনের সংগ্রামের চিত্র। এই নিপীড়ন তীব্রতর হলে কৃষকনেতা নূরলদীন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন। ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পেও বৃদ্ধ কপিলদাসের সংগ্রামী চেতনার দিকটি ফুটে উঠেছে। বসতভিটা থেকে উম্মলিত হওয়ার প্রশ্নে কপিলদাস বৃদ্ধ একাই সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
উদ্দীপকের নূরলদীন যেমন নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় সংগ্রামের আহ্বান জানিয়েছেন তেমনই আলোচ্য গল্পের কপিলদাসও সংগ্রামের পথ রচনা করেছেন। ভূমির অধিকার নিয়ে সাঁওতালদের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ভূমি তাদের অস্তিত্বের অপর নাম। অধিকার জোতদার কর্তৃক নিজেদের বসতভিটা থেকে উম্মলিত হওয়ার প্রশ্নে আপসহীন সংগ্রামে উত্তীর্ণ হয়েছে তারা। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।


Question 04

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময় বিশ্বব্যাপী মূল্যবোধের অবক্ষয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, হতাশা ও হাহাকারে উপমহাদেশ ছিল নানা অভিঘাতে বিপর্যস্ত ও রূপান্তরিত। এমনই এক পরিবেশে কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) তাঁর ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতায় বিনির্মাণ করলেন শাশ্বত কল্যাণ ও সাম্যবাদের মহাকাব্যিক এক আশাবাদী জগৎ। তিনি কলম তুলে নিলেন শোষণ-বঞ্চনাহীন, শ্রেণিবৈষম্যহীন, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক এক জগৎ সৃষ্টি করতে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সাম্যের গান গাইলেন। এক সময় তিনি হয়ে উঠলেন ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি-গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকার আদায়ের কলমসৈনিক। শোষণ, বঞ্চনা ও সকল প্রকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর বিদ্রোহ আজও আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে।

a
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য কী?

b
অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী-ধারণ মহাপাপ- বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?

c
উদ্দীপকের কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য সাধনা ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন বৈশিষ্ট্যটির প্রতিফলন ঘটায় তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর
উদ্দীপকে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যসাধনা ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে মানুষের মঙ্গল সাধনের বৈশিষ্ট্যটির প্রতিফলন ঘটেছে।

মানুষই সাহিত্যচর্চার মূল উপাদান। সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ কীভাবে সম্ভব তা একজন সাহিত্যিকের চিন্তার অন্যতম বিষয়। মানুষের কল্যাণ না হলে সাহিত্যচর্চা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

উদ্দীপকের কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর রচনায় বিনির্মাণ করেন শাশ্বত কল্যাণ ও সাম্যবাদের এক মহাকাব্যিক জগৎ। তিনি তাঁর লেখায় তুলে আনেন শোষণ-বঞ্চনাহীন, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক এক জগৎ। তিনি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জন্য কলম ধরেন। মূলত সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তিনি মানুষের কল্যাণচিন্তা করেছেন। আলোচ্য প্রবন্ধেও প্রাবন্ধিক এমন কথাই বলেছেন। প্রাবন্ধিক বলেন, লিখে দেশের বা মানুষ জাতির যদি মঙ্গল সাধন করা সম্ভব হয় তবেই লেখা উচিত। কারণ যে সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের কোনো মঙ্গল সাধন হয় না সেই সাহিত্য মহৎ সাহিত্য হতে পারে না। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যসাধনা আলোচ্য প্রবন্ধের সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে মানুষের মঙ্গল সাধনের বৈশিষ্ট্যটির প্রতিফলন ঘটেছে।

d
বাংলার নতুন লেখকদের প্রতি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নিবেদন উদ্দীপকে যথার্থভাবে প্রকাশিত হয়েছে কি? উদ্দীপক ও প্রবন্ধের আলোকে তোমার মতামত দাও।

উত্তর
হ্যাঁ, বাংলার নতুন লেখকদের প্রতি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নিবেদন উদ্দীপকে যথার্থভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

সাহিত্য মানুষের কথা বলে। সাহিত্যের মাধ্যমে একটি জাতির স্বরূপ উন্মোচন করা সম্ভব। কারণ একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার চিত্র সাহিত্যের মাধ্যমে ফুটে ওঠে।

উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বব্যাপী মূল্যবোধের অবক্ষয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, হতাশা ও হাহাকারে উপমহাদেশ ছিল নানা অভিঘাতে বিপর্যন্ত। ঠিক এ সময়ে কাজী নজরুল ইসলাম ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতায় নির্মাণ করেন শাশ্বত কল্যাণ ও সাম্যবাদের মহাকাব্যিক জগৎ। তিনি লেখার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক এক জগৎ সৃষ্টি করেন। সাহিত্যের মাধ্যমে মূলত তিনি মানুষের কল্যাণের কথাই বলতে চেয়েছেন। সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ সাধনের বিষয়টি আলোচ্য প্রবন্ধেও প্রকাশিত হয়েছে।

আলোচ্য প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকও চেয়েছেন নতুন লেখকরা সাহিত্যের মধ্য দিয়ে মানুষ ও মানুষের কল্যাণের কথা বলবে।। আলোচ্য প্রবন্ধে লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নতুন লেখকদের প্রতি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম একটি পরামর্শ হলো- সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে যদি মানবজাতির মঙ্গল করা যায় তবেই সাহিত্যচর্চা করা উচিত। উদ্দীপকেও সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের মঙ্গল সাধনার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, বাংলার নতুন লেখকদের প্রতি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যয়ের নিবেদন উদ্দীপকে যথার্থভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।


Question 05

প্রাঞ্জলতা রচনার বড় গুণ। তুমি যাহা লিখিবে লোকে পড়িবামাত্র যেন তাহা বুঝিতে পারে। যাহা লিখিলে, লোকে যদি তাহা না বুঝিতে পারিল, তবে লেখা বৃথা, কিন্তু অনেক লেখক একথা মনে রাখেন না। জটিল বাক্য রচনা করিও না। অনেকগুলি বাক্য একত্রে জড়িত করা হইলে বাক্য জটিল হয়। যেখানে বাক্য জটিল হইয়া আসিবে, সেখানে জটিল বাক্যটি ভাঙিয়া ছোট ছোট সরল বাক্যে সাজাইবে।

a
‘লোকরঞ্জন’ বলতে কী বোঝ?

b
“যশের জন্য লিখিবেন না।”- প্রাবন্ধিক এ কথা কেন বলেছেন?

c
উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর
উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে রচনার সরলতা ও পাঠকের বোধগম্যতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
সরলতা রচনার বড় গুণ। যিনি সহজে ও সরল ভাষায় রচনার বিষয়টি পাঠককে বোঝাতে পারেন, তিনি শ্রেষ্ঠ লেখক। রচনায় জটিল বাক্য ব্যবহার না করে সরল বাক্য ব্যবহার করলে পাঠকের বুঝতে সহজ হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে প্রাঞ্জলতা রচনার বড় গুণ এবং লেখক যা লিখবেন তা পড়ামাত্র যেন পাঠক বুঝতে পারেন। যদি রচনার উদ্দেশ্য বা অর্থ পাঠক বুঝতে না পারেন তাহলে রচনার মূল্য থাকে না। জটিল বাক্য ও জটিল শব্দ পরিহার করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। সাহিত্যের উদ্দেশ্য পাঠককে আনন্দ প্রদান করা, লেখকের স্বার্থ হাসিল করা নয়। অন্যদিকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে লেখক অপ্রয়োজনে বাক্যে দুর্বোধ্য শব্দ ও অলংকার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। যিনি সহজ ভাষায় নিজের মনের ভাব পাঠককে বোঝাতে পারেন, তিনিই শ্রেষ্ঠ লেখক। লেখকের মতে, সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার সরলতা। পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকে আলোচ্য প্রবন্ধের সাহিত্যের ভাষা হবে সহজ, বোধগম্য ও সরল এই দিকটি পরিলক্ষিত হয়েছে।
সারকথা: সাহিত্য রচনার ভাষ্য হওয়া উচিত প্রাঞ্জল এবং বাক্য হওয়া উচিত সহজ-সরল। উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধে এই বিষয়ে সুদৃষ্টি বা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

d
“উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের আংশিক ভাব ফুটে উঠেছে।”- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর
“উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের আংশিক ভাব ফুটে উঠেছে।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
সাহিত্য রচনাকালে লেখকদের অনেক বিষয় খেয়াল রেখে সাহিত্য রচনা করতে হয়। কোন বিষয়গুলো গ্রহণীয় বা বর্জনীয় তা মাথায় রেখে লেখকরা সাহিত্য রচনা করে থাকেন।
উদ্দীপকে সাহিত্য রচনার বিষয়টিকে সরল বাক্য ও শব্দে সহজভাবে প্রকাশের দিকটি গুরুত্ব লাভ করেছে। সাহিত্যের ভাষা হবে সহজবোধ্য। সাহিত্যের কাজ ব্যক্তির অনুভূতিকে, মানুষের অন্তরের সত্যকে সুন্দর ও সরল ভাষায় বর্ণনা করা। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিকের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক নতুন লেখকদের সাহিত্য রচনার সময় বিশেষ কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রেখে সাহিত্য রচনা করতে বলেছেন।
প্রাবন্ধিক ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে যেসব বিষয়ের দিকে নজর প্রদান করতে বলেছেন উদ্দীপকের বিষয়টি সেগুলোর মধ্যে একটি। কিন্তু এই বিষয়টি ছাড়া প্রবন্ধের অন্যান্য বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায় বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: আলোচ্য প্রবন্ধে সার্থক সাহিত্যের অনেক দিক প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে আলোচ্য প্রবন্ধের আংশিক দিক ফুটে উঠেছে। প্রবন্ধের অন্যান্য দিক উদ্দীপকে প্রকাশিত হয়নি বলে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


Question 06

সততা একটা সংগ্রাম। অনেক সময় কপটতার আবরণ ছিঁড়বার জন্য নিজের অহমিকার বিরুদ্ধেই সংগ্রাম। ‘পুরস্কার’ কবিতাতে রবীন্দ্রনাথ নিজেকে নিছক গৃহীর সততার সারল্যের প্রতিচ্ছবি করে তুলে ধরেছিলেন। অপরদিকে তিনি ‘অমৃত’ কবিতাতে ঘরছাড়া বিপ্লবীর সততাকে সামনে এনেছিলেন। এর আগে মেশিনগানের সম্মুখে গেয়েছিলেন জুঁই ফুলের গান। তাঁর গানগুলিকে নিয়ে খেলা করার প্রবণতাকেও ঢাকবার চেষ্টা তিনি করেননি।

a
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার প্রথম বাক্যটি কী?

b
কী কারণে লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হয়ে পড়ে? ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকটি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার কোন দিকটিকে নির্দেশ করেছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর
উদ্দীপকটি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার সাহিত্য সৃষ্টির প্রকৃত উদ্দেশ্যর দিকটিকে নির্দেশ করেছে।
সাহিত্যে সমাজ মানুষের জীবন-বোধের প্রতিফলন ঘটে। উন্নত ও মহৎ সাহিত্য সৃষ্টি মানবকল্যাণে আত্মনিবেদনের নামান্তর। মানুষের মনে আনন্দ দান, সৌন্দর্য সৃষ্টি এবং সার্বিক কল্যাণ সাধনই সহিত্যের মূল উদ্দেশ্য। তাই লেখকদের উৎকৃষ্ট সাহিত্য রচনায় মনোযোগী হওয়া উচিত।
উদ্দীপকে কবি বা সাহিত্যিকের পূর্ণতা অর্জনের প্রক্রিয়া ও পর্যায়কে নির্দেশ করা হয়েছে। নিজের অপূর্ণতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে পূর্ণতা লাভের চেষ্টার দিকটি এখানে বর্ণিত হয়েছে। লেখক বা শিল্পীর স্বাধীনতা ও সততার প্রশ্নে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টির পর্যায়কে ব্যাখ্যা করে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই বিষয়টি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় বর্ণিত নব্য লেখকদের কেমন হওয়া উচিত সেই বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করেছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই রচনায় অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ, পরনিন্দা বা পরপীড়ন বা স্বার্থসাধনের উদ্দেশ্যে সাহিত্য সৃষ্টি করতে নিষেধ করেছেন। কারণ সত্য ও ধর্মই সাহিত্যের উদ্দেশ্য। উদ্দীপকে এই উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার চিন্তায় ও প্রকাশে সত্যকে আশ্রয় করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি সততা ও স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন।
সারকথা: কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীর স্বাধীনতা তার সৃষ্টির স্বাধীনতা ও সততার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় লেখক সত্য ও ধর্ম সম্পর্কে যে পরামর্শ দিয়েছেন তার সঙ্গে উদ্দীপকের বক্তব্যের মিল রয়েছে।

d
“উদ্দীপকটি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার একট বিশেষ দিককে নির্দেশ করে, পুরো বিষয়কে প্রতিফলিত করে না।” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর
“উদ্দীপকটি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার একটি বিশেষ দিককে নির্দেশ করে, পুরো বিষয়কে প্রতিফলিত করে না।” মন্তব্যটি যথার্থ। সাহিত্য সত্য ও ধর্মের প্রতি অনুকূল হয়ে মানবকল্যাণ সাধন করে।
সাহিত্যিক সত্য-সাধক। মানুষের জন্য মঙ্গলকর কথা দিয়ে কল্যাণ পথের সন্ধান দেওয়া সাহিত্যিকের কর্তব্য। কারণ সত্য ও ধর্ম থেকে বিচ্যুত হলে সাহিত্য মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।
উদ্দীপকে একজন সাহিত্যিকের সত্যাশ্রয়ী হয়ে মানবকল্যাণ সাধনে সাহিত্যসাধনা চালিয়ে যাওয়ার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সাহিত্যে নিজেকে যে একজন গৃহীর সততার সাফল্যের প্রতিচ্ছবি করে তুলে ধরেছিলেন সেই কথা বলা হয়েছে। তিনি ঘরছাড়া বিপ্লবীর সততাকে যেমন সামনে এনেছেন তেমনই মেশিনগানের সামনে জুঁইফুলের স্নিখতাকে উপস্থাপন করেছেন। এগুলো করতে গিয়ে তিনি কখনো কপটতার আশ্রয় বা কোনোকিছু ঢাকার চেষ্টা করেননি। উদ্দীপকের এই বিষয়টি আলোচ্য রচনায় প্রতিফলিত নতুন লেখকদের সত্যাশ্রয়ী হয়ে মানবকল্যাণ সাধনে সাহিত্য সৃষ্টির পরামর্শদানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এছাড়া আরও কিছু বিষয় আলোচ্য রচনায় রয়েছে, যেগুলো উদ্দীপকে নেই।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অর্থ, যশ-খ্যাতি, আত্মস্বার্থ ও মনোরঞ্জনের জন্য লেখনী ধারণ করতে নিষেধ করেছেন। ধর্মের বিরুদ্ধে বা সত্যের বিরুদ্ধে যায় এমন সব শিল্প সৃষ্টি থেকে বিরত থাকতে বলেছেন এই রচনায়। এসব বিষয়ে উপদেশ, পরামর্শ উদ্দীপকে নেই। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: সাহিত্যে সত্য-সাধনার দিকটি উদ্দীপক ও আলোচ্য রচনায় এক ও অভিন্ন। কিন্তু নতুন লেখকদের জন্য আলোচ্য রচনায় লেখক যেসব উপদেশ ও পরামর্শ দিয়েছেন সেগুলো উদ্দীপকে নেই। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


Question 07

কাজী মোতাহের হোসেনের মতে, “মানুষের প্রচেষ্টায় মানুষের জন্যই যে সাহিত্য রচিত হয় তাহা যদি মানবহিত এবং মানবসভ্যতার ক্রমোন্নতির দিক নির্দেশ না করে তবে বড়ই আক্ষেপের কথা।” সুতরাং বিষয়টি পরিষ্কার যে, মানুষ ভালো হবে, মানুষ ভালো করবে এটাই স্বাভাবিকতার দাবি। সুতরাং মানুষের সাহিত্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করবে এটাও স্বাভাবিক।

a
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?

b
“লেখা ভালো হইলে যশ আপনি আসিবে।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন বিষয়টির প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর
উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের যে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে তা হলো, সাহিত্য রচনার মধ্য দিয়ে মানুষের কল্যাণ সাধন করা।
মানবকল্যাণ মনুষ্যত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সাহিত্যের মধ্য দিয়েও মানবকল্যাণ সাধন করা যায়। সাহিত্যের মধ্য দিয়ে মানুষের কল্যাণ না হলে সাহিত্যসাধনা বৃথা।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে- মানুষের ভালো হবে, কল্যাণ হবে এমন সাহিত্য রচনা করা উচিত। কাজী মোতাহের হোসেনের মতে, সাহিত্য মানবকল্যাণের জন্য রচিত হবে এবং মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। যদি তা না হয় তবে তা আক্ষেপের বিষয় হবে। আলোচ্য প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও এমন কথাই বলেছেন। প্রাবন্ধিক বলেছেন, লিখতে চাইলে এমনভাবে লিখতে হবে যেন ওই লেখাটি দেশের বা মানুষ জাতির কিছু মঙ্গল সাধন করতে পারে অথবা সৌন্দর্য সৃষ্টি করতে পারে। অন্য উদ্দেশ্যে লেখা যাবে না। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে আলোচ্য প্রবন্ধের সাহিত্যের মধ্য দিয়ে মানুষের কল্যাণ সাধনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
সারকথা: সাহিত্যের মধ্য দিয়ে মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। তানা • বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছেন।

d
‘উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধের খন্ডাংশমাত্র’- আলোচনা কর।

উত্তর

  • ‘উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধের খন্ডাংশমাত্র’- মন্তব্যটি যথার্থ।
  • সাহিত্য জাতির দর্পণস্বরূপ। সাহিত্যের মাধ্যমে প্রকাশ পায় একটি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা। তাই মানবকল্যাণে সহায়ক হয় এমন সাহিত্য রচনা করা উচিত।
  • উদ্দীপকে কাজী মোতাহের হোসেনের সাহিত্য সম্পর্কিত একটি মতামত প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের প্রচেষ্টায় মানুষের জন্য যে সাহিত্য রচিত হয় তা যদি মানবের কল্যাণে এবং মানবসভ্যতার অগ্রগতিকে নির্দেশ না করে তবে তা আক্ষেপের বিষয়। অর্থাৎ মানুষের ভালো হবে এমন সাহিত্য রচনা করা উচিত। আলোচ্য প্রবন্ধেও এই কথা বলা হয়েছে। প্রাবন্ধিক বলেছেন, লেখক দেশের মানুষের মঙ্গল সাধন করতে পারেন অথবা সৌন্দর্য সৃষ্টি করতে পারেন এমন লেখাই লিখবেন। এই বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য প্রবন্ধে আরও অনেক বিষয় প্রকাশ পেয়েছে যেগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
  • ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক লেখকদের কেমনভাবে লিখতে হবে, লেখার সময় কোন বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে, কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে যেতে হবে সেসব বিষয়ে একটি দিকনিদের্শনা দিয়েছেন। যেমন- অর্থের জন্য লেখা যাবে না, যশের জন্য লেখা যাবে না, অসত্য ও ধর্মবিরুদ্ধ বিষয় সাহিত্যে আনা, যাবে না, নিজের বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা করা যাবে না এবং কাউকে অনুকরণ করা যাবে না। এছাড়াও মঙ্গল সাধনের জন্য লিখতে হবে, কিছু লিখলে তা বারবার পড়ে সংশোধন করতে হবে এমন কথাও বলেছেন। কিন্তু উদ্দীপকে শুধু একটি দিকই প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে অন্যান্য বিষয় অনুপস্থিত থাকায় বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। 

সারকথা: ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক, একজন ভালো লেখক হতে চাইলে কী কী করতে হবে আর কী কী করা যাবে না সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। উদ্দীপকে সেগুলোর একটি মাত্র দিক প্রকাশিত হয়েছে। 


Question 08

আমাদের ভাষাকে অনেকটা সহজবোধ্য করতে হবে। আমির হামজার দান্তানের ভাষা আমাদের সাহিত্যে আর চলবে না। আমরা আমাদের স্বাভাবিক ভাষার অনুকরণ করে সরলতার পথে অগ্রসর হব।… সাহিত্যে কাজ হচ্ছে ব্যক্তির, জাতির, বিশ্বমানবের সুখ- করা। দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা, বেদনা-সমবেদনা প্রভৃতি অনুভূতিকে, মানুষের অন্তরের অন্তরতম সত্যকে, সুন্দর সরল মর্মস্পর্শী ভাষায় বর্ণনা করা।

a
‘রাজসিংহ’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন ধরনের রচনা?

b
“অর্থের উদ্দেশ্যে লিখিতে গেলে, লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হইয়া পড়ে।”- ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে?

উত্তর
উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের যে বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে তা হলো সাহিত্যের ভাষা হতে হবে সহজ-সরল।
সাহিত্য রচিত হয় মানুষের জন্য। কিন্তু জটিল ভাষার মোড়কে সাহিত্যকে আবন্ধ রাখলে তা মানুষের বোধ পর্যন্ত পৌছাতে পারবে না। তাই সাহিত্য রচনার সময় সহজ ও সরল ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করা উচিত।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে সাহিত্যের ভাষা সহজবোধ্য করতে হবে। পুরনো আমলের ভাষা বর্তমান সাহিত্যে অনুপযোগী। সাহিত্যের ভাষা হতে হবে স্বাভাবিক ভাষার অনুকরণে সহজ ও সরল। যাতে ব্যক্তির, জাতির বা বিশ্বমানবের সুখ-দুঃখ বা অন্যান্য অনুভূতিকে মর্মস্পর্শী করে প্রকাশ করা যায়। প্রবন্ধেও প্রাবন্ধিক বলেছেন, অজানা ভাষা থেকে বা অন্যের গ্রন্থের সাহায্য নিয়ে জটিল ভাষার কোটেশন ব্যবহার করা যাবে না। অযথা অলংকার প্রয়োগ করা যাবে না। যিনি সহজ কথায় নিজের মনের ভাব সহজে পাঠককে বোঝাতে পারেন তিনিই শ্রেষ্ঠ লেখক। প্রাবন্ধিকের মতে, সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার সরলতা। তাই বলা যায় যে, প্রবন্ধের সাহিত্যের ভাষা হতে হবে সহজ ও সরল এই বিষয়টি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
সারকথা: সাহিত্যের ভাষা হওয়া উচিত সহজ-সরল। উদ্দীপক চও আলোচ্য প্রবন্ধে এই বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

d
“উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধের একটি মাত্র ভাবকে চিত্রায়িত করে” মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

  • “উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধের একটি মাত্র ভাবকে চিত্রায়িত করে” মন্তব্যটি যথার্থ।
  • সাহিত্য রচনার সময় লেখককে মনে রাখতে হয় লেখার ভাষা কেমন হবে, ছন্দ ও অলংকারের ব্যবহার, লেখকের আভিজাত্য বোধের সৃজনশীল প্রকাশ ইত্যাদি। এগুলো লেখায় সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারলে তা মূল্যবান সাহিত্য হয়ে ওঠে।
  • উদ্দীপকে সাহিত্য রচনায় সহজ-সরল ভাষার গুরুত্বের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। সাহিত্যের ভাষা হবে সহজবোধ্য। কারণ সাহিত্যের কাজই হচ্ছে ব্যক্তি বা জাতির অনুভূতিকে এবং মানুষের অন্তরের সত্যকে সুন্দর ও সরল ভাষায় বর্ণনা করা। আলোচ্য প্রবন্ধেও এই বিষয়টির প্রকাশ দেখা যায়। প্রাবন্ধিক রচনায় সহজ-সরল ভাষার ব্যবহার ও লেখার সরলতার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু এই বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য প্রবন্ধে প্রকাশ পেয়েছে নতুন লেখকদের কোন বিষয়গুলো মনে রেখে সাহিত্য রচনা করতে হবে তার কিছু দিকনির্দেশনা। এসব বিষয় উদ্দীপকে প্রকাশিত হয়নি।
  • আলোচ্য প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক নতুন লেখকদের সাহিত্য রচনার সময় কিছু বিষয় বর্জন করতে বলেছেন এবং কয়েকটি বিষয়। গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে সাহিত্য রচনা করতে বলেছেন। উদ্দীপকের বিষয়টি সেগুলোর মধ্যে একটি। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়া প্রবন্ধের অন্যান্য বিষয় উদ্দীপকে প্রকাশ না পাওয়ায় বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। 

সারকথা: ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে সাহিত্যের ভাষা হবে সহজ-সরল এই বিষয়টির পাশাপাশি আরও অনেক বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে। কিন্তু উদ্দীপকে যে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে তা আলোচ্য প্রবন্ধের একটি মাত্র ভাব। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


Question 09

বাংলাভাষী অনেক মুসলমান কবি বৈষ্ণব পদ সাহিত্য সৃষ্টি করে গেছেন। তাঁদের কেউ করেছেন নেশার ঝোঁকে আর কেউ করেছেন পেশা হিসেবে।… পূর্ব পাকিস্তানের খ্যাতনামা কবিয়াল শ্রী রমেশচন্দ্র শীল মাইজ-ভান্ডারপন্থী মারফতী গান লিখে পুস্তিকায় প্রকাশ করেছেন…। তিনি বলেন… আমি ভাবলাম এরূপ গান লিখলে বেশ কাটতি হবে- আমার পয়সা হবে।… অতএব দেখা যাচ্ছে, অন্য স্বার্থবশে এসব শ্রেণির কবিতা সৃষ্টি হয়েছে।… এ জন্য সাধারণ মনেও তার ক্রিয়া উল্লেখযোগ্য হয়নি।

a
যশের জন্য লিখলে কোনটি হবে না?

b
সাহিত্যে কী একেবারে পরিহার্য? ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকের বিষয়টি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন কোন বিষয় নির্দেশ করে?

উত্তর
উদ্দীপকের বিষয়টি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের যশ, অর্থ ও স্বার্থের জন্য না লেখার বিষয়গুলো নির্দেশ করে।
সাহিত্যের মাধ্যমে প্রকাশ পায় একটি দেশ, জাতি ও মানুষের সার্বিক অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য। তাই সাহিত্য হওয়া উচিত নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির। কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্য রচনা করলে তা কালোত্তীর্ণ হয় না।
উদ্দীপকে খ্যাতনামা কবিয়াল শ্রী রমেশচন্দ্র শীল মাইজ-ভান্ডারপন্থি মারফতি গান লিখে পুস্তিকায় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভাবলাম এরূপ গান লিখলে বেশ কাটতি হবে, আমার পয়সা হবে।’ অর্থাৎ তিনি স্বার্থের জন্য সাহিত্য রচনা করেছেন। যার ফলে তা মানবমনে বিশেষ আবেদন তৈরি করতে পারেনি। অনেক মুসলমান কবিও নেশা এবং পেশার কারণে বৈষ্ণব পদ রচনা করেছেন। তাদের অবস্থাও একই। প্রাবন্ধিক উক্ত বিষয়টির দিকে খেয়াল রেখেই বলেছেন যশের জন্য লিখবেন না, টাকার জন্য লিখবেন না। কারণ অর্থ ও যশের জন্য লিখতে গেলে লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হয়ে পড়ে। এতে রচনার বিকৃতি ও অনিষ্ট ঘটে। তিনি আরও বলেছেন, অসত্য, পরপীড়ন ও স্বার্থসাধন যেন সাহিত্যের উদ্দেশ্য না হয়। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য প্রবন্ধের যশ, অর্থ ও স্বার্থের জন্য না লেখার বিষয়টি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
সারকথা: অর্থ,যশ ও ব্যক্তিস্বার্থে সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করা ঠিক নয়। কারণ এতে সাহিত্য মান হারায়।

d
উদ্দীপকটি কি তোমার পঠিত প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করে? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর
উদ্দীপকটি আমার পঠিত প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করে নাংটা কাকালি যায় টান না।
বর্তমান সময়ে অনেকে অর্থ, যশ ও ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য সাহিত্য রচনা করেন। কিন্তু তারা ভুলে যান যে এসব উদ্দেশ্যে সাহিত্যসাধনা করলে সাহিত্য মান হারায়। তাই মানবকল্যাণের কথা চিন্তা করে সাহিত্যসাধনা করা উচিত।
উদ্দীপকে ব্যক্তিস্বার্থে সাহিত্য রচনা করার কথা বলা হয়েছে। যার ফলে তৎকালীন সাহিত্যিকদের রচনা মানবমনে উল্লেখযোগ্য ক্রিয়া সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়। এই বিষয়টি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধেও প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু এই বিষয়টি ছাড়াও প্রাবন্ধিক আরও বলেছেন কীভাবে একটি রচনাকে সুন্দর ও সার্থক করে তোলা যায়। সাহিত্যের উদ্দেশ্য কেমন হবে সে কথাও তিনি প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন। তিনি আশা করেছেন প্রবন্ধের বিষয়গুলো বিবেচনা করে কোনো সাহিত্যিক সাহিত্য রচনা করলে সাহিত্যের উন্নতি হবে।
আলোচ্য প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক নতুন লেখকদের প্রতি কিছু নিবেদন প্রকাশ করেছেন। যার মধ্য দিয়ে নতুন লেখকদের লেখার উৎকর্ষ বৃদ্ধি পাবে। উদ্দীপকে যশ, অর্থ ও ব্যক্তিস্বার্থে লেখার পরিণতি এবং এতে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু সেখানে অন্য আরও অনেক বিষয় অনুপস্থিত। যেমন- সাহিত্যের উদ্দেশ্য, লেখকের কর্তব্য ও লেখকদের প্রতি আবেদন ইত্যাদি। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ পায়নি।
সারকথা: উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের আংশিক বিষয় প্রকাশ পেয়েছে। অন্য বিষয়গুলো অনুপস্থিত থাকায় বলা যায়, উদ্দীপকে প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ পায়নি।


Question 10

নব্বই দশকে অনেক প্রতিভাবান তরুণ কবির আবির্ভাব ঘটেছে। তবে তাঁদেরকে সঠিকভাবে চিহ্নিত ও মূল্যায়ন করার জন্য আরো কিছু সময় অপেক্ষা করা প্রয়োজন বলে আমার ধারণা।

a
সাহিত্যে কী কী একেবারে পরিহার্য?

b
“যাঁহারা সাময়িক সাহিত্যে ব্রতী, তাঁহাদের পক্ষে এই নিয়ম রক্ষাটি ঘটিয়া উঠে না।”- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

c
উদ্দীপকের তরুণ কবিদের সঙ্গে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কাদের সাদৃশ্য রয়েছে?

উত্তর
উদ্দীপকের তরুণ কবিদের সঙ্গে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের নতুন লেখকদের সাদৃশ্য রয়েছে।

একটি সাহিত্য কতটুকু কালোত্তীর্ণ হবে, আদৌ হবে কিনা তা নির্ভর করে সময়ের ওপর। মানুষ চাইলেই কোনো সাহিত্য কালোত্তীর্ণ হয় না, একজন লেখককেও সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

উদ্দীপকে নব্বই দশকে আবির্ভাব ঘটা কিছু তরুণ প্রতিভাবান কবির কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের প্রাবন্ধিক মুহম্মদ মতিউর রহমানের মতে, তাদেরকে সঠিকভাবে চিহ্নিত ও মূল্যায়ন করার জন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন। সাহিত্য রচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে কালোত্তীর্ণ করা যায় না। প্রবন্ধেও লেখক এমন কথাই বলেছেন। তিনি সাহিত্যকাজে নিয়োজিত নতুন লেখকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যা লিখবেন তা হঠাৎ ছাপানো যাবে না। কিছু কাল ফেলে রাখতে হবে। তারপর আবার তা সংশোধন করতে হবে। এতে করে সাহিত্য উৎকর্ষ লাভ করবে। অর্থাৎ নতুন লেখকদের প্রতি প্রাবন্ধিকের নিবেদন তাৎক্ষণিক সাহিত্যচর্চার ফল লাভে যেন তারা উৎকণ্ঠিত না হন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের তরুণ কবিদের সঙ্গে আলোচ্য প্রবন্ধের নতুন লেখকদের সাদৃশ্য রয়েছে।

d
“উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধের খন্ডাংশমাত্র”-মন্তব্যটি যাচাই কর।

উত্তর
না, উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধের সামগ্রিক দিক নির্দেশে সমর্থ নয়।
সত্য ও ধর্ম ছাড়া কোনোকিছুই কল্পনা করা যায় না। এটি সাহিত্যের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। যে সাহিত্য মানুষের জন্য রচিত সেখানে সত্য ও ধর্ম থাকা অনিবার্য। যে সাহিত্য সত্য ও ধর্মের পথ থেকে বিচ্যুত সেই সাহিত্য মানুষের জন্য রচিত হতে পারে না।
উদ্দীপকে সাহিত্যের বাণীর সঙ্গে ধর্মের বাণীর তুলনা করা হয়েছে। উদ্দীপকের প্রাবন্ধিক বলেন, শিল্প চিরন্তন এবং ধর্মীয় বাণীর মতোই তা বিশ্বাস্য ও অনিন্দ্য। তাছাড়া প্রাবন্ধিক আরও বলেন, শিল্প চরিত্রের কথা বলে এবং ধর্ম বলে আত্মার কথা। চরিত্রের মধ্যে আত্মা প্রতিষ্ঠিত না হলে ধর্ম রক্ষিত হয় না। তাই সাহিত্যে ধর্মরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধেও বলা হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়টি ছাড়া আরও অনেক বিষয় প্রবন্ধে উঠে এসেছে। সেসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক নতুন লেখকদের প্রতি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন- যশ ও অর্থের জন্য লেখা যাবে না; মানুষের কল্যাণ না হলে লেখা যাবে না; অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ, পরনিন্দা, পরপীড়ন বা স্বার্থসাধন সাহিত্যের মাধ্যমে করা যাবে না; লিখেই ছাপানোর কথা চিন্তা করা যাবে না; নিজের বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা করা যাবে না; অলংকার প্রয়োগ বা রসিকতার ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে প্রভৃতি আরও অনেক বিষয়ে প্রাবন্ধিক পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু উদ্দীপকে কেবল সাহিত্যের সঙ্গে ধর্ম ও সত্যের যোগসূত্রের বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধের সামগ্রিক দিক নির্দেশে ‘সমর্থ নয়।
সারকথা: সত্য ও। ধর্ম ছাড়া সাহিত্য কল্পনা করা যায় না। উদ্দীপকে সত্য ও ধর্মের কথা বলা হলেও ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি • নিবেদন’ প্রবন্ধে সত্য ও ধর্ম ছাড়াও আরও অনেক বিষয় উঠে এসেছে যেগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত।


Question 11

শিল্পের বাণী বা বক্তব্য খুবই বলিষ্ঠ এবং শক্তিশালী। শিল্প যা বলে, চিরন্তন হয়ে থাকে, ধর্মীয় বাণীর মতোই বিশ্বাস্য ও অনিন্দ্য মনে হয়। মূলত ধর্ম আত্মার কথা বলে, শিল্প বলে চরিত্রের কথা।

a
কোনটি লেখকের পক্ষে অবনতিকর?

b
সাময়িক সাহিতা লেখকের পক্ষে অবনতিকর কেন? ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকটি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন বিষয়টিকে নির্দেশ করে?

d
উদ্দীপকটি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন বিষয়টিকে নির্দেশ করে?

12
Question 12

শুধু ভঙ্গি দিয়ে যেন না ভোলায় চোখ।

সত্য মূল্য না দিয়েই সাহিত্যের খ্যাতি করা চুরি

ভালো নয়, ভালো নয় নকল সে শৌখিন মজদুরি।

এসো কবি, অখ্যাতজনের

নির্বাক মনের।

মর্মের বেদনা যত করিয়া উদ্ধার-

……………….. ………………..

সাহিত্যের ঐকতানসংগীতসভায়

একতারা যাহাদের তারাও সম্মান যেন পায়-

মুক যারা দুঃখে সুখে,

নতশির স্তব্ধ যারা বিশ্বের সম্মুখে,

ওগো গুণী,

কাছে থেকে দূরে যারা তাহাদের বাণী যেন শুনি।

a
লেখার উদ্দেশ্য কোনটি?

b
“কাহারও অনুকরণ করিও না।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকের সঙ্গে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন দিকটির মিল রয়েছে?

উত্তর
উদ্দীপকের সঙ্গে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের আকাঙ্ক্ষার মিল রয়েছে।
সাহিত্য একটি দেশ বা জাতির দর্পণ। সাহিত্যের মাধ্যমে দেশের অনেক বিষয় সবার সামনে স্পষ্ট হয়। তাই একজন সাহিত্যিকের উৎকৃষ্ট মানের সাহিত্য রচনার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি বলেছেন, শুধু ভঙ্গি দিয়ে বা সত্য মূল্য না দিয়ে সাহিত্যে খ্যাতি লাভ করার চেষ্টা ঠিক নয়। তাই কবি প্রত্যাশা করেছেন এমন একজন কবির যিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ-বেদনার কথা সাহিত্যে প্রকাশ করবেন। কবি সেই গুণী কবির কাছে প্রত্যাশা করেন, যারা কাছে থেকে দূরে তাদের কথা তিনি শুনতে পাবেন তার সাহিত্যের মাধ্যমে। আলোচ্য প্রবন্ধেও প্রাবন্ধিক নবীন লেখকদের কাছে এমনই প্রত্যাশা করেছেন। প্রাবন্ধিক চেয়েছেন, নতুন লেখকরা কিছু নিয়ম মেনে মানবের কল্যাণ হয় এমন সাহিত্য রচনা করবেন। তারা নিয়মগুলো রক্ষা করলে বাংলা সাহিত্যের উন্নতি হবে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের সঙ্গে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ লেখকের এই আকাঙ্ক্ষার মিল রয়েছে।
সারকথা: উদ্দীপকের কবি যে প্রত্যাশা করেছেন, ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের লেখকও একই প্রত্যাশা করেছেন।

d
“উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধের সমগ্র ভাব ধারণ করে” উক্তিটির যথার্থতা নির্ণয় কর।

উত্তর
“উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধের সমগ্র ভাব ধারণ করে” উক্তিটি যথার্থ।
সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষ তার মনের কথা অন্যের কাছে প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু সাহিত্য যদি অন্যের বোধগম্য না হয়, তবে তা মুখ থুবড়ে পড়ে। তাই লেখকদের উচিত উৎকৃষ্ট সাহিত্য রচনায় মনোযোগী হওয়া।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি বলেছেন, শুধু ভঙ্গি দিয়ে যেন চোখ ভোলানো না হয়। সত্য মূল্য না দিয়ে সাহিত্যের খ্যাতি চুরি করা ভালো নয়; ভালো নয় নকল শৌখিনতা। তাই তিনি এমন কবির আগমন প্রত্যাশা করেছেন, যিনি নির্বাক মনের কথা এবং সাধারণের মর্মবেদনার কথা সাহিত্যের ঐকতানসংগীতসভায় প্রকাশ করতে পারেন। কবি দূরে থেকেও যেন তাদের কথা সাহিত্যের মধ্য দিয়ে শুনতে পান। অন্যদিকে আলোচ্য প্রবন্ধেও প্রাবন্ধিক বাংলা সাহিত্যের নতুন লেখকদের বলেছেন- যশের জন্য, অর্থের জন্য না লিখতে। মানুষের মঙ্গল সাধন হবে না এমন সাহিত্য রচনা করতেও নিষেধ করেছেন। যা অসত্য এবং যা বলার অধিকার নেই তা সাহিত্যে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। তিনি প্রত্যাশা করেছেন, তাঁর বলা কথাগুলো নতুন লেখকরা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন এবং দোষত্রুটিগুলো সংশোধন করে উৎকৃষ্ট মানের সাহিত্য রচনা করবেন।
উদ্দীপকের কবি ও আলোচ্য প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক একই চেতনার অধিকারী। তাঁরা চেয়েছেন নতুন লেখকরা যেন কোনো রকম খ্যাতি বা অর্থের উদ্দেশ্যে না লেখেন। তারা যেন সাধারণ মানুষের কথা সহজ-সরল ও সুন্দরভাবে সাহিত্যে তুলে ধরেন, যাতে করে বাংলা সাহিত্য উৎকর্ষ লাভ করে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধ- উভয় জয়গায় নতুন লেখকদের কাছে উৎকৃষ্ট সাহিত্য রচনার প্রত্যাশা করা হয়েছে। তাই বলা গা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


Question 13

হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;-

তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি

পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ

পরদেশ, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।

কাটাইনু বহুদিন সুখ পরিহরি।

………….. …………… ………………..

কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!

……………. ………………. ……………….

পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে

মাতৃভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে।

a
বাংলা সাহিত্য কার ভরসা?

b
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে লেখক নব্য লেখকের হাতে কী থাকার কথা বলেছেন? ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন দিকটিকে নির্দেশ করে?

উত্তর
উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা না করা এবং নিজ ভাষায় সাহিত্য রচনা করার দিকটিকে নির্দেশ করে।
প্রত্যেক সাহিত্যিকের উচিত মাতৃভাষায় সাহিত্য রচনা করা। যাতে তিনি সাহিত্যের মাধ্যমে সাধারণের দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-বেদনা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন। মাতৃভাষায় সাহিত্য রচনা না করলে তাতে দেশের সাধারণ মানুষ সাহিত্যের রস লাভ থেকে বঞ্চিত থাকে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে দেখা যায়, কবি তাঁর মাতৃভাষাকে অবহেলা করে অন্য ভাষায় সাহিত্য রচনা করেছেন। কিন্তু তিনি তাতে খ্যাতি লাভ করতে পারেননি। অন্য ভাষায় সাহিত্য রচনা কবির কাছে ভিক্ষাবৃত্তির মতো মনে হয়েছে। তিনি মনে করেন, নিজ ভাষাকে অবহেলা করে অন্য ভাষায় সাহিত্য রচনা করার মানে হলো- ফুল ছেড়ে শৈবাল নিয়ে খেলা করা। মাতৃভাষায় সাহিত্য রচনা করার গুরুত্বের দিকটি আলোচা প্রবন্ধেও প্রকাশ পেয়েছে। প্রাবন্ধিকের মতে, বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা করা ঠিক নয়। তাতে পাঠক বিরক্ত হন এবং রচনা উৎকর্ষ হারায়। তাই মাতৃভাষায় সহজ-সরলভাবে সাহিত্য রচনা করা উচিত। তিনি মনে করেন, অন্যান্য ভাষার কোটেশনও সাহিত্যের মানকে নষ্ট করে দেয়। তাই। বলা যায় যে, উভয় স্থানে বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা না করে মাতৃভাষায় সাহিত্য রচনা করার দিকটি নির্দেশিত হয়েছে।
সারকথা: নিজের ভাষায় সাহিত্যসাধনা করা উচিত, বিদ্যা জাহির করার চেষ্টা করা উচিত নয়। উদ্দীপক ও প্রবন্ধে এই কথাই বলা হয়েছে।

d
“উদ্দীপকের কবিতাংশের ভাব আলোচ্য প্রবন্ধের আংশিক ভাব ধারণ করে”- উক্তিটি যাচাই কর।

উত্তর
“উদ্দীপকের কবিতাংশের ভাব আলোচ্য প্রবন্ধের আংশিক ভাব ধারণ করে”- উক্তিটি যথার্থ।
মাতৃভাষার মাধ্যমে মানুষ যথাযথ ও সুন্দরভাবে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। কারণ মাতৃভাষা সর্বসাধারণের বোধগম্য। তাই সবার উচিত মাতৃভাষায় সাহিত্য রচনা করা।
উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধে বলা হয়েছে, জোর করে বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা করা উচিত নয়। মাতৃভাষা ছাড়া অন্যান্য ভাষা সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য হয় না। তাই একজন সাহিত্যিক তখনই সাফল্য লাভ করেন যখন তিনি মাতৃভাষায় সাহিত্য রচনা করেন। এই বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক নতুন লেখকদের কয়েকটি বিষয়ের প্রতি বিশেষভাবে নজর দিতে বলেছেন। যেমন- যশ বা খ্যাতির জন্য না লেখা, অর্থের জন্য না লেখা, মানুষের মঙ্গল হয় এমন সাহিত্য রচনা করা, সাহিত্যে কোনো কিছু জোর করে আরোপ না করা, সহজ-সরল সুন্দর ভাষায় সাহিত্য রচনা করা ইত্যাদি। কিন্তু এই বিষয়গুলো উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি।
উদ্দীপকের কবি পরধন লোভে মত্ত হয়ে অর্থাৎ অন্য ভাষায় সাহিত্য রচনা করে খ্যাতি লাভ করতে পারেননি। কিন্তু মাতৃভাষায় সাহিত্য রচনা করে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর মাতৃভাষা বাংলার ভান্ডার বিবিধ রত্নে পরিপূর্ণ। এই বিষয়টি আলোচ্য প্রবন্ধের আংশিক ভাব নির্দেশ করে। উদ্দীপকে প্রবন্ধের অন্যান্য বিষয় অনুপস্থিত থাকায় বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকে মাতৃভাষায় সাহিত্য রচনার। । গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে, যা এই প্রবন্ধের আংশিক ভাব ধারণ করে।


Question 14

এখন আমাদের বাঙ্গা সাহিত্যে স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করিতে হইলে সর্বপ্রথম আমাদের লেখার জড়তা দূর করিয়া তাহাতে ঝর্ণার মতো ঢেউভরা চপলতা ও সহজ মুক্তি আনিতে হইবে। যে সাহিত্য জড়, যাহার প্রাণ নাই, সে নির্জীব-সাহিত্য দিয়া আমাদের কোনো উপকার হইবে না। আর তাহা স্থায়ী সাহিত্যও হইতে পারে না।

a
‘সাম্য’ কোন ধরনের গ্রন্থ?

b
“অনুকরণে দোষগুলি অনুকৃত হয়, গুণগুলি হয় না।”- ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর
উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের সাহিত্যের ভাষা হবে সহজ-সরল ও জড়তামুক্ত- এ দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
সাহিত্য মানুষের কথা বলে। যা মানুষের জন্য রচিত হবে তার ভাষা হতে হবে সহজ ও সরল। জটিল ভাষার মোড়কে জড়িয়ে রাখলে সাহিত্য সব মানুষের কাছে পৌঁছাবে না। তাই সাহিত্যে মনের ভাব প্রকাশের জন্য সহজ ও সরল ভাষা বেছে নিতে হবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করতে চাইলে সর্বপ্রথম লেখার জড়তা দূর করার দিকে নজর দিতে হবে। রচনার জড়তা দূর হলে লেখায় ঝরনার মতো চপলতা চলে আসে। যে সাহিত্য জড়, সেই সাহিত্যের প্রাণ নেই; সেই নির্জীব সাহিত্য দিয়ে আমাদের কোনো উপকার হবে না। যে সাহিত্য মানুষের উপকারে আসে না তা স্থায়ী সাহিত্যও হতে পারে না। অন্যদিকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের লেখক বলেছেন, অজানা ভাষা থেকে কিংবা অন্য গ্রন্থের সাহায্য নিয়ে জটিল ভাষার কোটেশন ব্যবহার করা যাবে না। কারণ ছাড়া অলংকারের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। যিনি সহজ ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করতে পারেন তিনিই শ্রেষ্ঠ লেখক। লেখক মনে করেন, সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার সরলতা। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের সাহিত্যের ভাষা হবে সহজ, সরল ও জড়তামুক্ত- এই দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।
সারকথা: আলোচ্য প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যের ভাষা হিসেবে সহজ-সরল ও জড়তামুক্ত ভাষাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। উদ্দীপকেও সহজ-সরল ও জড়তামুক্ত ভাষার কথা বলা হয়েছে। সহজ ও সরল ভাষায় রচিত সাহিত্য মানুষের কাছাকাছি পৌঁছায় বলে তা বাংলা সাহিত্যে স্থায়িত্ব লাভ করে।

d
“উদ্দীপকের বিষয়টি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের খন্ডাংশমাত্র”- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর
“উদ্দীপকের বিষয়টি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের খন্ডাংশমাত্র”- মন্তব্যটি যথার্থ।
সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে একজন লেখককে অনেক বিষয়ে সচেতন থাকতে হয়। লেখার ভাষা কেমন হবে, ছন্দ ও অলংকারের ব্যবহার কেমন হবে- এসব বিষয় মাথায় রেখেই সাহিত্যে মনোনিবেশ করা জরুরি। এই বিষয়গুলোর দিকে নজর রাখলেই একজন সাহিত্যিক সফলতা অর্জন করতে পারেন।
উদ্দীপকে লেখকের লেখার জড়তা বিষয়ে বলা হয়েছে। উদ্দীপকের লেখক সর্বপ্রথম আমাদের লেখার জড়তা দূর করার কথা বলেছেন। যে সাহিত্য জড়, যার প্রাণ নেই, সেই নির্জীব সাহিত্য মানুষের কোনো উপকারে আসবে না; সেই সাহিত্য কখনো স্থায়ী সাহিত্যও হতে পারবে না। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধেও উদ্দীপকের বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য প্রবন্ধে উঠে এসেছে একজন নতুন লেখক কোন কোন বিষয়ে নজর রেখে সাহিত্য সাধনা করবে- সেসব বিষয়ে কিছু নির্দেশনা বা পরামর্শ। এসব নির্দেশনা বা পরামর্শ বিষয়ে উদ্দীপকে কোনো আলোচনা হয়নি।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নতুন লেখকদের সাহিত্য রচনার সময় কয়েকটি বিষয় বর্জন করতে বলেছেন এবং কয়েকটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে সাহিত্য রচনা করতে বলেছেন। উদ্দীপকের বিষয়টি প্রবন্ধে উল্লিখিত বিষয়গুলোর একটি। কিন্তু এই বিষয়টি ছাড়াও অন্য আরও অনেক বিষয় থাকায় বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে সাহিত্যের ভাষা হবে সহজ, সরল ও জড়তামুক্ত। উদ্দীপকেও এই বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে, যা আলোচ্য প্রবন্ধের একটি মাত্র ভাব।তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


Question 15

সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। এ দুয়ের ভিতর যে আকাশ-পাতাল প্রভেদ আছে, সেহাট ভুলে গেলেই লেখকেরা নিজে খেলা না করে পরের জন্যে খেলনা তৈরি করতে বসেন। সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য যে স্বধর্মচ্যূত হয়ে পড়ে, তার প্রমাণ বাংলাদেশে আজ দুর্লভ নয়।

a
উন্নত’ শব্দের অর্থ কী?

b
“অসময়ে বা শূন্য ভান্ডারে অলংকার প্রয়োগের বা রসিকতার মতো কদর্য আর কিছুই নাই।”- ব্যাখ্যা কর।

c
উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর
উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে সাহিত্যের উদ্দেশ্যর দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
সাহিত্য রচিত হয় মানুষের জন্য। মানুষ ছাড়া সাহিত্য এক প্রকার অসম্ভব। তাই মানুষের কল্যাণে সত্য ও ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কাজ। সত্য ও ধর্ম থেকে বিচ্যুত হলে সাহিত্য মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।
উদ্দীপকের লেখক বলেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য সবাইকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। এই দুইয়ের মাঝে আকাশ- পাতাল প্রভেদ রয়েছে। এ প্রভেদটি ভুলে গেলেই লেখক নিজে খেলা না করে পরের জন্য খেলনা তৈরি করতে বসেন। সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য নিজের ধর্ম থেকে সরে যায়। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধেও তেমন বলা হয়েছে। প্রাবন্ধিক বলেন- যা অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ, পরনিন্দা, পরপীড়ন কিংবা স্বার্থসাধন যার উদ্দেশ্য সেসব প্রবন্ধ কখনো হিতকর বা কল্যাণকর হতে পারে না। অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ বক্তব্য, পরনিন্দা, পরপীড়ন এবং স্বার্থসাধনের ঊর্ধ্বে গিয়ে সত্য ও ধর্মের কথা সাহিত্যে তুলে আনতে হবে। কারণ সত্য ও ধর্মই হলো সাহিত্যের উদ্দেশ্য। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের সাহিত্যের উদ্দেশ্যর দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
সারকথা: সত্য ও ধর্ম একটির সঙ্গে অন্যটি জড়িত। সত্য ও ধর্ষকে প্রবণ্যে এমন কথাই বলা হয়েছে। বাদ দিয়ে মহৎ সাহিত্য রচিত হতে পারে না। উদ্দীপক ও আলোচা

d
“উদ্দীপকে আলোচ্য প্রবন্ধের একটি দিক প্রকাশ পেয়েছে মাত্র।” মন্তব্যটির পক্ষে তোমার মত দাও।

উত্তর
‘উদ্দীপকে আলোচ্য প্রবন্ধের একটি দিক প্রকাশ পেয়েছে মাত্র।” মন্তব্যটি যথার্থ।’
মানুষের কল্যাণে সত্য ও ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করা সাহিত্যের অন্যতম কাজ। সত্য ও ধর্ম ছাড়া মহৎ কিছুই কল্পনা করা যায় না। যে সাহিত্য সত্য ও ধর্মের পথ থেকে বিচ্যুত সেই সাহিত্য কখনই মানুষের জন্য সৃষ্টি হতে পারে না। মানুষের জন্য রচিত সাহিত্যে সত্য ও ধর্ম অনিবার্যরূপে থাকতে হবে।
উদ্দীপকের লেখক মনে করেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য সবাইকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। অন্যকে আনন্দ দেওয়া আর মনোরঞ্জন করার মধ্যে যে পার্থক্য আছে, আমরা সেটাই ভুলে যাই। ফলে লেখক নিজে খেলা না করে পরের জন্য খেলনা তৈরি করতে বসেন। সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধেও এই বিষয়টি উঠে এসেছে। কিন্তু এই বিষয়টি ছাড়াও আরও অনেক বিষয় আলোচ্য প্রবন্ধে প্রকাশ পেয়েছে। যেমন- যশ ও টু অর্থের জন্য লেখা যাবে না, মানুষের কল্যাণ না হলে সাহিত্য রচনা করা যাবে না। অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ, পরনিন্দা, পরপীড়ন বা স্বার্থসাধন সাহিত্যের মাধ্যমে করা যাবে না; লিখেই ছাপানোর কথা চিন্তা করা যাবে না; বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা করা যাবে না; অলংকার প্রয়োগ বা রসিকতার ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে প্রভৃতি আরও অনেক নিয়ম প্রবন্ধে উঠে এসেছে। এই বিষয়গুলো উদ্দীপকে নেই।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যে অন্যের মনোরঞ্জন না করার ব্যাপারে বিশেষভাবে গুরুত্ব ই দিয়েছেন। এই বিষয়টি উদ্দীপকেও দেখা যায়। কিন্তু আলোচ্য প্রবন্ধে এই বিষয়টি ছাড়াও আরও অনেক বিষয় এসেছে যেগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: সত্য ও ধর্মের সমন্বয়ে স্থায়ী সাহিতা । সৃষ্টি হয়। উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধে এই বিষয়টি থাকলেও প্রবন্ধে এটি ছাড়াও বেশ কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে, যেগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।