ICT – CQ S – CH 1


Question 01

মি. রফিক একজন বিখ্যাত গবেষক। তিনি এবং তার দল পার্পল কালার (বেগুনি রং) এর উফশী ধান আবিষ্কার করেন। মি. রফিকের বন্ধু শফিক একদিন তার ল্যাবে প্রবেশের জন্য হাত দিতে গেলেই দরজাটি না খুলে এলার্ম বেজে উঠে। কিন্তু মি. রফিক এসে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সেই দরজা খুলে যায়। Dhaka · 2025

a ই-লার্নিং কী?

b “প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরাসরি রোগাক্রান্ত কোষে চিকিৎসা প্রদান সম্ভব”- ব্যাখ্যা কর।

c মি. রফিক দরজার সামনে দাঁড়ালে দরজাটি খুলে গেলেও শফিক হাত দিলেও দরজার খুলল না কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর মি: রফিক দরজার সামনে দাঁড়ালে দরজাটি খুলে গেলেও শফিক হাত দিলেও দরজাটি খুলল না। নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো: উদ্দীপকের দরজাটিতে বায়োমেট্রিক সিকিউরিটি সিস্টেম হিসেবে ফেইসরিকগনিশন অথবা হ্যান্ডজিওমেট্রি ব্যবহার করা হয়েছে। ফেইস রিকগনিশন হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি যেখানে মানুষের মুখের জ্যামিতিক আকার ও গঠনকে পরীক্ষা করে উক্ত ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করা যায়। এ পদ্ধতিতে সিস্টেমে সংরক্ষিত পূর্বের ফেইস ডেটার সাথে নতুন প্রাপ্ত ফেইস ডেটা মিলিয়ে ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। উদ্দীপকের মি: রফিকের ফেইস ডেটার সাথে সিস্টেমে সংরক্ষিত পূর্বের ফেইস ডেটা মিলে যাওয়ায় দরজাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যায়। অন্যদিকে, মি: শফিক হাত দিয়ে দরজা খুলতে গেলেই দরজাটি না খুলে এলার্ম বেজে উঠল। অর্থাৎ দরজাতে লাগানো হ্যান্ড জিওমেট্রি পদ্ধতির রিডারটি মি: শফিককে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। এ পদ্ধতিতে হ্যান্ড জিওমেট্রি রিডারের সাহায্যে হাতের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ডেটা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরবর্তীতে নতুন ডেটার সাথে পূর্বের ডেটা মিলিয়ে ব্যক্তিকে শনাক্তকরণ করা হয়। উদ্দীপকের তথ্যানুসারে বলা যায় যে, মিঃ শফিকের হাতের ডেটার সাথে পূর্বে সংরক্ষিত সিস্টেমের ডেটার মিল না হওয়াতে দরজাতে ব্যবহৃত হ্যান্ড জিওমেট্রি রিডারটি মিঃ শফিককে শনাক্ত করতে পারে নি। ফলে দরজাটি বন্ধই থাকে এবং অপরিচিত কেউ অ্যাক্সেস নেওয়ার চেষ্টা করায় সতর্কতামূলক সংকেত হিসাবে এলার্ম বেজে উঠে।

d উফশী ধান আবিষ্কারের প্রযুক্তিটির কাজ করার পদ্ধতি বর্ণনা কর এবং প্রযুক্তিটি কৃষিক্ষেত্রে কী কী অবদান রাখছে তা উল্লেখ কর।

উত্তর উদ্দীপকে উফশী ধান আবিষ্কারে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। জীবদেহে জীনোমকে প্রয়োজন অনুযায়ী সাজিয়ে কিংবা – একাধিক জীবের জীনোমকে জোড়া লাগিয়ে নতুন জীবকোষ সৃষ্টির কৌশলই হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। একটি উদ্ভিদ বা প্রাণীর বৈশিষ্ট্যের বাহক হচ্ছে জিন। অন্যদিকে জিনোম হলো জীবের বৈশিষ্ট্যের নকশা বা বিন্যাস। কোনো উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন করতে চাইলে উক্ত উদ্ভিদের জিনোমের কোনো একটি জিনকে পরিবর্তন করে দিতে হয়। যেহেতু জিনগুলো আসলে ডিএনএ’র একটি অংশ, তাই একটা জিনকে পরিবর্তন করতে হলে ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ’র সেই অংশটুকু কেটে আলাদা করে অন্য কোনো উদ্ভিদ বা ব্যাকটেরিয়া থেকে আরেকটি জিন কেটে এনে সেখানে লাগিয়ে দিতে হয়। এর ফলে একটি নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কাঙ্ক্ষিত উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় মি: রফিক পার্পল কালার (বেগুনি রঙের) উফশী ধানের বীজ আবিষ্কারের জন্য উপরের বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। অর্থাৎ তিনি নির্দিষ্ট উদ্ভিদের ডিএনএ’র নির্দিষ্ট জিনকে কেটে আলাদা করে সেখানে সুনির্দিষ্ট জিনকে জোড়া লাগিয়ে নতুন প্রজাতির উফশী ধানের বীজ আবিষ্কার করেন। 

কৃষিক্ষেত্রে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর অবদান নিচে উল্লেখ করা হলো:
বর্তমানে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি প্রয়োগ করে খাদ্যশস্য বহুগুণে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এ বিষয়টি হাইব্রিড নামে বহুল পরিচিত। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক উচ্চ ফলনশীল জাতের শস্যবীজ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। এসব বীজ ব্যবহার করে শস্যও কয়েকগুণ হারে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। খাদ্যশস্য যেমন- ভুট্টা, ধান, তুলা, টমেটো, পেঁপেসহ অসংখ্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ানো, আগাছা সহিষ্ণু, পোকামাকড় প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন হচ্ছে। বিভিন্ন জাতের মৎস্য সম্পদ (বিশেষত মাগুর, কার্প, তেলাপিয়া ইত্যাদি) বৃদ্ধির জন্য জিন প্রকৌশলকে কাজে লাগানো হচ্ছে। প্রাণীর আকার ও মাংস বৃদ্ধি, দুধে আমিষের পরিমাণ বাড়ানো, ভেড়ার পশম বাড়ানোর কাজে জিন – প্রকৌশলকে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে। 


Question 02

আরিফ আণবিক স্কেলে পণ্য উৎপাদন নিয়ে গবেষণা করে। তাদের উৎপাদিত পণ্য সূক্ষ্ম, ছোট হলেও মজবুত ও টেকসই হয়। হাজিরার জন্য অফিসে তাকে একটি ডিভাইসে আঙুলের ছাপ দিতে হয় এবং ল্যাবে প্রবেশের সময় মনিটরের দিকে তাকাতে হয়। Rajshahi · 2025

a টেলিপ্রেজেন্স কী?

b প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোটর ড্রাইভিং শিখা সম্ভব- ব্যাখ্যা কর।

c উদ্দীপকে পণ্য উৎপাদনের ব্যবহৃত প্রযুক্তিটির ব্যবহার ক্ষেত্রসমূহ বর্ণনা কর।

উত্তর উদ্দীপকে আণবিক স্কেলে পণ্য উৎপাদনের ব্যবহৃত প্রযুক্তি হলো ন্যানোটেকনোলজি। নিচে এর ব্যবহার ক্ষেত্রসমূহ বর্ণনা করা হলো-
১. ‘ন্যানোটেকনোলজি প্রসেসরের উচ্চ গতি, দীর্ঘস্থায়িত্ব, কম শক্তি খরচ ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যে ব্যবহার্য। সেই সাথে ডিসপ্লে ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির উন্নয়নে সহায়তা করে।
২. ন্যানো-রোবট ব্যবহার করে অপারেশন করা, যেমন-এনজিওপ্লাস্টি; সরাসরি রোগাক্রান্ত সেলে চিকিৎসা প্রদান করা, যেমন- ন্যানো ক্রায়োসার্জারি; ডায়াগনোসিস করা, যেমন-এন্ডোস্কপি, এনজিওগ্রাম, কলোনোস্কপি ইত্যাদি সম্ভব।
৩. খাদ্যজাত দ্রব্য প্যাকেটিং, খাদ্যে স্বাদ তৈরিতে, খাদ্যের গুণাগুণ রক্ষার্থে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ম্যাটেরিয়াল তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়।
৪. জ্বালানি উৎসের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ফুয়েল তৈরির কাজে ব্যবহার হয়।
৫. হালকা ওজনের ও কম জ্বালানি চাহিদা সম্পন্ন গাড়ি প্রস্তুতকরণে ব্যবহার হয়।
৬. বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সামগ্রী যেমন- ক্রিকেট, টেনিস বলের স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য, ফুটবলের বাতাসে ভারসাম্য রক্ষার্থে ব্যবহার হয়।
৭. শিল্প কারখানার ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জ্যকে ন্যানো পার্টিকেল ব্যবহার করে অক্ষতিকর বস্তুকে রূপান্তর করে পানিতে নিষ্কাশিত করা যায়।
৮. প্রসাধনীতে জিংক অক্সাইড এর ন্যানো পার্টিকেল যুক্ত হওয়ায় ত্বকের ক্যান্সার রোধ সম্ভব হয়েছে। সেই সাথে সানস্ক্রিন ও ময়েশ্চরাইজার তৈরির কাজে ব্যবহার্য রাসায়নিক পদার্থ তৈরির ক্ষেত্রে এবং এন্টি এজিং ক্রিম তৈরিতেও ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহৃত হয়।

d উদ্দীপকে অফিস এবং ল্যাবে প্রবেশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তিদ্বয়ের মধ্যে উত্তম কোনটি? বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও।

উত্তর উদ্দীপকে অফিসে হাজিরার জন্যে ব্যবহৃত প্রযুক্তি হলো বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তির আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গার প্রিন্ট পদ্ধতি এবং ল্যাবে প্রবেশের সময় মনিটরে যে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় তা হলো আইরিশ বা রেটিনা স্ক্যান পদ্ধতি। উক্ত প্রযুক্তিদ্বয়ের মধ্যে ফিঙ্গার প্রিন্ট অধিক উত্তম। নিচে তুলনামূলক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো-
মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট সম্পূর্ণ ইউনিক এবং সারাজীবন ধরে অপরিবর্তিত থাকে। প্রত্যেক ব্যক্তির ফিঙ্গার প্রিন্ট এতোটাই স্বতন্ত্র দুটি যমজ শিশু একই ডিএনএ প্রোফাইল নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে আলাদা করা যায়। ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবহার করে অফিসে প্রবেশ নিশ্চিত করতে পূর্বেই ব্যবহারকারীর আঙুলের ছাপ ডেটাবেজে সংরক্ষণ করতে হয়। পরবর্তীতে ফিঙ্গার প্রিন্ট রিডার ঐ ব্যবহারকারীর আঙুলের নিচের অংশের ত্বককে রীড করে সংরক্ষিত ছাপের সাথে তুলনা করে এবং মিলে গেলে অ্যাকসেস প্রদান করে। এ পদ্ধতিতে সফলতার পরিমাণও বেশি। ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানারের দাম তুলনামূলকভাবে কম এবং সহজে সিস্টেম বুঝতে পারে। এ কারণে ফিঙ্গার প্রিন্ট বা হাতের স্পর্শ পদ্ধতিই বহুল ব্যবহৃত। অন্যদিকে চোখের রেটিনা পদ্ধতিতেও একইভাবে ব্যক্তি শনাক্ত করা গেলেও এর সফলতার হার তুলনামূলকভাবে কম। এক্ষেত্রে চোখের আইরিশ বা রেটিনা স্ক্যানার হিসেবে ডেটা ইনপুট করে অ্যাকসেস কন্ট্রোল কাজ করে। কিন্তু আইরিশ ও রেটিনা স্ক্যান অনেক সময় সিস্টেম সহজে বুঝতে পারে না। তাছাড়া ডিভাইসটির দামও বেশি। তাই ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রযুক্তি বেশি উত্তম।


Question 03

শিশির সাহেব একজন মোটর চালক প্রশিক্ষক। তিনি বাস্তবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পূর্বে বিশেষ ব্যবস্থায় একটি কক্ষে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তিনি সেই কক্ষে প্রবেশ করার জন্য একটি ডিভাইসের উপর হাত রাখেন। ফলে কক্ষের দরজা খুলে যায়। একজন প্রশিক্ষণার্থী জানালো তার পিতা গবেষণাগারে প্রবেশ করার জন্য মুখমণ্ডল ব্যবহার করেন। Jessore · 2025

aবিশ্বগ্রাম কী?

b “তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের জীবনযাপন অত্যন্ত আরামদায়ক ও সহজসাধ্য করে দিয়েছে”- ব্যাখ্যা কর।

c উদ্দীপকে শিশির সাহেবের বিশেষ ব্যবস্থায় প্রশিক্ষণ পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে শিশির সাহেবের বিশেষ ব্যবস্থায় প্রশিক্ষণ পদ্ধতিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়‍্যারের মাধ্যমে তৈরিকৃত এমন এক ধরনের কৃত্রিম পরিবেশ, যা ব্যবহারকারীদের কাছে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যাতে তারা এটিকে বাস্তব পরিবেশ হিসেবে মনে করে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ব্যবহারকারী সম্পূর্ণরূপে একটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নিমজ্জিত হয়ে যায়। তথ্য আদান-প্রদানকারী বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস সংবলিত চশমা, headsets, gloves, suit ইত্যাদি পরিধান করার মাধ্যমে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে বাস্তবকে উপলব্ধি করা হয়। একটি typical VR format-এ একজন ব্যবহারকারী ত্রিমাত্রিক স্ক্রিন সংবলিত একটি হেলমেট পরে এবং তার মধ্যে দিয়ে বাস্তব থেকে অনুকরণকৃত অ্যানিমেটেড বা প্রাণবন্ত ছবি দেখে। Telepresence বা কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক জগতে উপস্থিত থাকার ভ্রমণ একটি গতি নিয়ন্ত্রণকারী সেন্সর দ্বারা প্রভাবিত করা হয়। গতি নিয়ন্ত্রণকারী সেন্সর এর মাধ্যমে স্ক্রিনে প্রদর্শিত ছবির গতিকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারকারীর গতির সাথে মেলানো হয়। যখন ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারকারীর গতির পরিবর্তন হয় তখন স্ক্রিনে প্রদর্শিত দৃশ্যের গতিও পরিবর্তিত হয়। এভাবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারকারী কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক জগতের সাথে মিশে যায় এবং সেই জগতের একটি অংশে পরিণত হয়।

d উদ্দীপকে উল্লিখিত দুইটি বায়োমেট্রিক পদ্ধতির মধ্যে কোনটি সুবিধাজনক? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকের তথ্যানুসারে যে দুইটি বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির কথা বলা হয়েছে সেগুলো হলো হ্যান্ড জিওমেট্রি এবং ফেইস রিকগনিশন। এই দুটি পদ্ধতির মধ্যে হ্যান্ড জিওমেট্রি অধিকতর সুবিধাজনক। নিচে তা বর্ণনা করা হলো:
ফেইস রিকগনিশন পদ্ধতি বা মানুষের মুখ শনাক্তকরণ হচ্ছে এমন এক ধরনের প্রোগ্রাম বা সফটওয়‍্যার, যার সাহায্যে মানুষের মুখের গঠন প্রকৃতি পরীক্ষা করে শনাক্ত করা হয়। এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির সরাসরি মুখের ছবিকে কম্পিউটারে সংরক্ষিত ছবির সাথে তুলনা করা হয়। এ পদ্ধতিতে দুই চোখের মধ্যবর্তী দূরত্ব, নাকের দৈর্ঘ্য ও ব্যাস, চোয়ালের কৌণিক পরিমাণ ইত্যাদি পরিমাপের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। মুখের অভিব্যক্তির ভিন্নতার কারণে এ পদ্ধতিতে অনেক সময় মুখ শনাক্ত করা কষ্টকর। স্বল্প আলো, সানগ্লাস, টুপি, স্কার্ফ, দাড়ি, লম্বা চুল, মেকআপ ইত্যাদি পরিবেশে এ পদ্ধতি কম কার্যকর।

অন্যদিকে হ্যান্ড জিওমেট্রি পদ্ধতিতে বায়োমেট্রিক্স ডিভাইস দ্বারা মানুষের হাতের আকৃতি বা জ্যামিতিক গঠন ও সাইজ নির্ণয়ের মাধ্যমে মানুষকে শনাক্ত করা হয়। এই পদ্ধতি ব্যবহার করা খুবই সহজ। এই পদ্ধতিতে সিস্টেমে অল্প মেমোরির প্রয়োজন হয়। প্রতিটি মানুষের হাতের আকৃতি ও জ্যামিতিক গঠন পরস্পর থেকে আলাদা হওয়ায় নির্ভুলভাবে ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয় বলে নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ পদ্ধতি খুবই কার্যকর।
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার উপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, নিরাপত্তার মানদণ্ডে ফেইস রিকগনিশন এর তুলনায় হ্যান্ড জিওমেট্রি অধিক সুবিধাজনক।


Question 04

উদ্ভিদে প্রযুক্তি প্রয়োগের কারণে আজ উচ্চ ফলনশীল এবং আবহাওয়া উপযোগী ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। অপরদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যন্ত্র শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহারের ফলে মানুষের শ্রমসাধ্য কাজ খুব সহজেই করা যাচ্ছে Jessore · 2025

a স্মার্ট হোম কী?

b “ক্রেতা-বিক্রেতাকে তাদের উৎপাদিত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য অন্যত্র যেতে হয় না”- বুঝিয়ে লেখ।

c ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে উল্লেখিত ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।
জীবদেহে জীনোমকে প্রয়োজন অনুযায়ী সাজিয়ে কিংবা একাধিক জীবের জীনোমকে জোড়া লাগিয়ে নতুন জীবকোষ সৃষ্টির কৌশলই হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। একটি উদ্ভিদ বা প্রাণীর বৈশিষ্ট্যের বাহক হচ্ছে জিন। অন্যদিকে জিনোম হলো জীবের বৈশিষ্ট্যের নকশা বা বিন্যাস। কোনো উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন করতে চাইলে উক্ত উদ্ভিদের জিনোমের কোনো একটি জিনকে পরিবর্তন করে দিতে হয়। যেহেতু জিনগুলো আসলে ডিএনএ’র একটি অংশ; তাই একটা জিনকে পরিবর্তন করতে হলে ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ’র সেই অংশটুকু কেটে আলাদা করে অন্য কোনো প্রাণী বা ব্যাকটেরিয়া থেকে আরেকটি জিন কেটে এনে সেখানে লাগিয়ে দিতে হয়। এর ফলে একটি নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কাঙ্ক্ষিত উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে কৃষি, চিকিৎসা ও ঔষধ শিল্পে, গৃহপালিত পশু ও মৎস্য উন্নয়নে, দুগ্ধজাত দ্রব্য তৈরিতে, পরিবেশ ব্যবস্থাপনায়, ফরেনসিক টেস্টের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে।

d উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্ষেত্র ছাড়াও আর কোন কোন ক্ষেত্রে কীভাবে আমরা যন্ত্রটি ব্যবহার করতে পারি? আলোচনা কর।

উত্তর উদ্দীপকে “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন যন্ত্র” বলতে এমন যন্ত্রকে বোঝানো হয়েছে, যেটি মানুষের মতো চিন্তা, বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা শেখার ক্ষমতা রাখে। যেমন- রোবট, চ্যাটবট, সেলফ ড্রাইভিং গাড়ি ইত্যাদি। শিল্পক্ষেত্র ছাড়া আরও যেসব ক্ষেত্রে আমরা এই যন্ত্রকে ব্যবহার করতে পারি তা নিচে আলোচনা করা হলো-
১. মানুষ্যবিহীন গাড়ি এবং বিমান চালনার ক্ষেত্রে।
২. জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধানে ও বিভিন্ন ডিভাইসের সূক্ষ্ম ত্রুটি শনাক্তকরণে।
৩. ক্ষতিকর বিস্ফোরক শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার কাজে।
৪. চিকিৎসা ক্ষেত্রে। যেমন- মাইসিন, ন্যানোরোবট।
৫. কাস্টমার সার্ভিস প্রদানে। যেমন- Automated online assistans.
৬. বিনোদন ও গেম খেলায়। যেমন- দাবা খেলায়।
৭. স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে।
৮. প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ খুঁজে বের করার কাজে।
৯. ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা ও স্টক লেনদেন এর ক্ষেত্রে।
১০. বিভিন্ন অফিসে স্টাফদের প্রতিদিনের কর্মতালিকা বণ্টনে। 


Question 05

আইসিটি ক্লাসে শিক্ষক টেলিভিশন, মোবাইল, রেডিওসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইসের বর্তমান ক্ষুদ্র আকার ও অধিক ক্ষমতা নিয়ে পাঠদানকালে বললেন, এ সবই সম্ভব হচ্ছে আইসিটির সাম্প্রতিক প্রবণতায় ব্যবহৃত বিশেষ প্রযুক্তির কারণে। এক পর্যায়ে তিনি একজন শিক্ষার্থীর জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের থিয়েটারে 3D মুভি দেখে প্রাপ্ত বাস্তবের মতো অনুভূতি সৃষ্টিকারী প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করলেন। Chittagong · 2025

a বায়োমেট্রিক্স কী?

b প্রযুক্তির সাহায্যে একাধিক জীবের জিনোমকে জোড়া লাগিয়ে নতুন জীবকোষ সৃষ্টি করা যায়”-ব্যাখ্যা কর।

c উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ প্রযুক্তিটির চিকিৎসা ও খাদ্যশিল্পে ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকের তথ্যানুসারে বিভিন্ন ডিভাইসের ক্ষুদ্র আকার ও অধিক ক্ষমতা সম্বলিত যে প্রযুক্তির কথা বলা হয়েছে তা হলো ন্যানোটেকনোলোজি। চিকিৎসা ও খাদ্য শিল্পে ন্যানোটেকনোলজির ভূমিকা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

খাদ্যশিল্পে ভূমিকা: খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ থেকে খাদ্য উৎপাদন, প্যাকেজিং,
পরিবহন এবং পুষ্টি মান বজায় রাখতে ন্যানো টেকনোলজি ব্যবহৃত হয়। ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহারের ফলে খাদ্য সংরক্ষণ করা সহজ হয়েছে। ফলে খাদ্যের নিরাপত্তা বিধান করাও সম্ভব হচ্ছে। এ প্রযুক্তির প্রয়োগে খাদ্যের স্বাদ গুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়াও খাদ্যজাত দ্রব্য প্যাকেজিং এর সিলভার তৈরির কাজে এবং বিভিন্ন জিনিসের প্রলেপ তৈরির ‘কাজে ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহৃত হয়।

চিকিৎসাক্ষেত্রে ভূমিকা: ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে অতি ক্ষুদ্র
রোবট তৈরির গবেষণা চলছে। এ ধরনের রোবট মানবদেহের অভ্যন্তরে অস্ত্রোপচার করতে সক্ষম হবে। যেমন: এনজিওপ্লাস্টি। সরাসরি রোগাক্রান্ত সেলে চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহৃত হতে পারে যেমন: ন্যানো ক্রায়োসার্জারি। ডায়াগনোসিস ক্ষেত্র যেমন- এন্ডোস্কপি, এনজিওগ্রাম, কলোনোস্কোপি ইত্যাদিতে ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহৃত হতে পারে। ন্যানোসেন্সর ব্যবহার করে মানবদেহের রক্তের ভেতরে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান বায়োমার্কার সম্পূর্ণভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে। ন্যানো সুচ ব্যবহার করে সূক্ষ্মভাবে শুধুমাত্র ক্যান্সার আক্রান্ত কোষে ঔষধ প্রয়োগ করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা যায়।
উপরের বর্ণনা থেকে বলা যায় যে, চিকিৎসা ও খাদ্য শিল্পে ন্যানো টেকনোলজি ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

d উদ্দীপকের মুভি দেখার প্রযুক্তিটি শিক্ষা ও গবেষণাকে আধুনিকরূপ দিতে সক্ষম- বিশ্লেষণ করে মতামত দাও।

উত্তর উদ্দীপকের তথ্যানুসারে শিক্ষার্থীর 3D মুভি দেখে প্রাপ্ত বাস্তবের মতো অনুভূতি সৃষ্টিকারী প্রযুক্তি হচ্ছে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। এই প্রযুক্তি শিক্ষা ও গবেষণাকে আধুনিক রূপ দেয়। নিচে তা বর্ণনা করা হলো-
শিক্ষাক্ষেত্রে ভূমিকা:
১. শিক্ষার্থীরা ভার্চুয়াল পরিবেশে বস্তু, স্থান বা ঘটনাকে বাস্তবভাবে দেখার ও বুঝার সুযোগ পায়। যেমন: ইতিহাসে প্রাচীন সভ্যতা, জীববিজ্ঞানে মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা ভূগোলে আগ্নেয়গিরির অভ্যন্তরের গঠন।
২. চিকিৎসা, বিমানচালনা, ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদিতে ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তব প্রশিক্ষণের পরিবর্তে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে নিরাপদ অনুশীলন সম্ভব।
৩. শিক্ষার্থীরা সরাসরি পরিবেশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, যা শেখার আগ্রহ ও মেধা বিকাশে সাহায্য করে।
গবেষণাক্ষেত্রে ভূমিকা:
১. বিজ্ঞান, গণিত ও তথ্যপ্রযুক্তিতে জটিল ডেটাসেটকে থ্রিডি মডেলে রূপান্তর করে সহজে বিশ্লেষণ করা যায়।
২. গবেষকেরা ঐতিহাসিক ঘটনা, পরিবেশগত পরিবর্তন বা * সমাজবিজ্ঞানভিত্তিক দৃশ্যপটকে VR-এ মডেল করে পরীক্ষা করতে পারেন।
৩. পরীক্ষাগারে বা মাঠপর্যায়ে না গিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে পরীক্ষানিরীক্ষা চালানো যায়।
৪. গবেষণালব্ধ তথ্যকে আরও বাস্তব ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায়, যা শ্রোতাদের জন্য সহজবোধ্য হয়।
সুতরাং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তি শিক্ষা ও গবেষণায় বিপ্লব আনতে পারে। এটি শেখা ও জানার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, যেখানে বাস্তবতার সীমা পেরিয়ে এক নতুন বাস্তবতার সৃষ্টি হয়। তাই বলা যায়, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি শিক্ষা ও গবেষণাকে আধুনিক ও আরও কার্যকর রূপ দিতে সক্ষম। 


Question 06

ড. পিয়া HMPV ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স নিয়ে গবেষণা করে ইলেকট্রনিক ডেটাবেজ তৈরির কাজ করছেন। তাঁর ল্যাবে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত গাড়িটি হালকা ওজনের ও কম জ্বালানি চাহিদা সম্পন্ন। Sylhet · 2025

a মেশিন লার্নিং কী?

b “প্রতিরক্ষা ও আইসিটি একে অপরের পরিপূরক” -ব্যাখ্যা। কর।

c উদ্দীপকে উল্লিখিত গবেষণার প্রযুক্তিটি বর্ণনা কর।

উত্তর উদ্দীপকে ড. পিয়া HMPV ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স নিয়ে গবেষণা করে ইলেকট্রনিক ডেটাবেজ তৈরির কাজ করছেন। এক্ষেত্রে গবেষণার প্রযুক্তিটি হলো বায়োইনফরমেটিক্স।
জৈব তথ্যবিজ্ঞান তথা বায়োইনফরমেটিক্স এমন একটি কৌশল যেখানে ফলিত গণিত, তথ্যবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রসায়ন এবং জৈব রসায়ন ব্যবহার করে জীববিজ্ঞানের সমস্যাসমূহ সমাধান করা হয়। এখানে ব্যবহৃত ডেটাসমূহ হলো ডিএনএ, জিন, অ্যামিনো এসিড এবং নিউক্লিক এসিড। এসব ডেটাকে ব্যবহার করে জৈব ও জেনেটিক তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং একত্রীকরণের কাজ কম্পিউটারের মাধমে করা হয়, যা জিনভিত্তিক নতুন ঔষধ আবিষ্কার এবং উন্নয়নের কাজে লাগে।
বায়োইনফরমেটিক্স বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ হলো রিশাল জৈবডেটার ভান্ডারকে সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ, এতে সহজ বিচরণ এবং নির্ভরযোগ্য ডেটা প্রদানের দায়িত্ব পালন করা। যে কোনো ডেটা বিশ্লেষণের পূর্বে একেবারে অর্থহীন ডেটাকে অর্থপূর্ণ জৈবতথ্য প্রদানের উপযোগী করতে কম্পিউটারের ডেটা প্রসেসিং টেকনিক ব্যবহার করা হয়।

d উদ্দীপকের গাড়িতে ব্যবহৃত প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ বর্ণনা কর।

উত্তর উদ্দীপকে গাড়িতে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো ন্যানোটেকনোলজি। নিচে এর প্রয়োগক্ষেত্রসমূহ বর্ণনা করা হলো-
১. ন্যানোটেকনোলজি প্রসেসরের উচ্চ গতি, দীর্ঘস্থায়িত্ব, কম শক্তি খরচ ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যে ব্যবহার্য। সেই সাথে ডিসপ্লে ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির উন্নয়নে সহায়তা করে।
২. ন্যানো-রোবট ব্যবহার করে অপারেশন করা, যেমন-এনজিওপ্লাস্টি। সরাসরি রোগাক্রান্ত সেলে চিকিৎসা প্রদান করা, যেমন- ন্যানো ক্রায়োসার্জারি, ডায়াগনোসিস করা, যেমন-এন্ডোস্কপি, এনজিওগ্রাম, কলোনোস্কপি ইত্যাদি।
৩. খাদ্যজাত দ্রব্য প্যাকেটিং, খাদ্যে স্বাদ তৈরিতে, খাদ্যের গুণাগুণ রক্ষার্থে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ম্যাটেরিয়াল তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়।
৪. জ্বালানি উৎসের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ফুয়েল তৈরির কাজে।
৫. হালকা ওজনের ও কম জ্বালানি চাহিদা সম্পন্ন গাড়ি প্রস্তুতকরণে।
৬. বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সামগ্রী যেমন- ক্রিকেট, টেনিস বলের স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য, ফুটবলের বাতাসে ভারসাম্য রক্ষার্থে। 

৭. শিল্প কারখানার ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জ্যকে ন্যানো পার্টিকেল ব্যবহার করে অক্ষতিকর বস্তুকে রূপান্তর করে পানিতে নিষ্কাশিত করা যায়।
৮. প্রসাধনীতে জিংক অক্সাইড এর ন্যানো পার্টিকেল যুক্ত হওয়ায় ত্বকের ক্যান্সার রোধ সম্ভব হয়েছে। সেই সাথে সানস্ক্রিন ও ময়েশ্চরাইজার তৈরির কাজে ব্যবহার্য রাসায়নিক পদার্থ তৈরির ক্ষেত্রে এবং এন্টি এজিং ক্রিম তৈরিতেও ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহৃত হয়। 


Question 07

দৃশ্যকল্প-১ : রাফি তার অ্যাসাইনমেন্ট কী বোর্ডের সাহায্যে টাইপ করছে।
দৃশ্যকল্প-২: পপি কম্পিউটার ব্যবহার করে বন্ধুকে ইমেইল করল। [ Sylhet · 2025 ]

a গেটওয়ে কী?

b সিঙ্গেল মোড ফাইবার মাল্টিমোড ফাইবার এর চেয়ে কোন ক্ষেত্রে বেশি উপযোগী? ব্যাখ্যা কর।

c দৃশ্যকল্প-১ এ কোন ডেটা ট্রান্সমিশন মোড ব্যবহৃত হচ্ছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর দৃশ্যকল্প-১ এ যে ডেটা ট্রান্সমিশন মোড ব্যবহৃত হচ্ছে তা হলো
-সিমপ্লেক্স মোড।
যে পদ্ধতিতে ডেটা শুধু একদিকে প্রেরণ করা যায় তাকে সিমপ্লেক্স মোড বলে। এ পদ্ধতিতে শুধু একদিকে ডেটা পাঠানো সম্ভব হয়, প্রেরক শুধু ডেটা প্রেরণ করে এবং গ্রাহক শুধু ডেটা গ্রহণ করে।

অর্থাৎ প্রেরক প্রাপকের কাছে ডেটা পাঠাতে পারে, কিন্তু প্রাপক প্রেরকের কাছে পাঠাতে পারবে না। উদাহরণ- রেডিও, টেলিভিশন। একইভাবে কীবোর্ড থেকে কম্পিউটারে ডেটা পাঠানো সিমপ্লেক্স মোডের অন্তর্গত। তাছাড়া মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার করে ক্লাস নেওয়াও এ মোডের মধ্যে পড়ে।

d দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প-২ এ ব্যবহৃত ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড দুইটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

উত্তর দৃশ্যকল্প-১ এ ব্যবহৃত ডেটা ট্রান্সমিশন মেথডটি হলো অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন। অপরদিকে, দৃশ্যকল্প-২ এর মেথডটি হলো সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন। নিচে এ দুই মেথডের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
ডেটা কমিউনিকেশনে ডেটা ক্যারেক্টার বাই ক্যারেক্টার ট্রান্সমিট হওয়াকে বলা হয় অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন। অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে একটি ক্যারেক্টার ট্রান্সমিট হওয়ার পর আরেকটি ক্যারেক্টার ট্রান্সমিট হওয়ার মাঝখানে বিরতির সময় সমান নাও হতে পারে। ফলে এই ট্রান্সমিশনে সময় বেশি লাগে। এই ট্রান্সমিশনের গতি ও দক্ষতাও সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের তুলনায় কম।
অপরদিকে, ডেটা ব্লক আকারে ট্রান্সমিট হওয়াকে বলে সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন মেথড। এই মেথডে প্রতি ব্লক ট্রান্সমিশনের মাঝে বিরতির সময় সমান থাকে। ফলে সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে সময় তুলনামূলক কম লাগে। পাশাপাশি এর গতি ও দক্ষতা বেশি। অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের তুলনায় সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের ব্যান্ডউইথ বেশি বলে দূরবর্তী স্থানে ডেটা পাঠানোর জন্য এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 


Question 08

“ক” কলেজের আইসিটি ল্যাবে শিক্ষার্থীরা ফিংগার প্রিন্ট দিয়ে প্রবেশ করে। তারা ঐ ল্যাবে বিশেষ প্রোগ্রাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মানব সদৃশ যন্ত্র নিয়ে গবেষণা করছে। Barisal · 2025

a ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কী?

b ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তু থেকে বৃহৎ বস্তু তৈরির প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

c উদ্দীপকে আইসিটি ল্যাবে প্রবেশের প্রযুক্তিটি বর্ণনা কর।

উত্তর উদ্দীপকে আইসিটি ল্যাবে প্রবেশের প্রযুক্তিটি হলো বায়োমেট্রিক্সের ফিঙ্গার প্রিন্ট পদ্ধতি।

এ পদ্ধতিতে প্রথমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট অপটিক্যাল স্ক্যানারের মাধ্যমে আঙুলের ছাপের ইমেজ নেয়া হয়। ইনপুটকৃত ইমেজের অর্থাৎ আঙুলের ছাপের বিশেষ কিছু একক বৈশিষ্ট্যকে ফিল্টার করা হয় এবং এনক্রিপ্টেড বায়োমেট্রিক কি হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের ইমেজকে সংরক্ষণ না করে সংখ্যার সিরিজ (বাইনারি কোড) কে ভেরিফিকেশনের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিস্টেমের অ্যালগরিদম এ বাইনারি কোডকে ইমেজে পুনঃরূপান্তর করতে পারে না। তাই কেউ ফিঙ্গারপ্রিন্টকে নকল (ডুপ্লিকেট) করতে পারে না। বায়োমেট্রিক্স ডিভাইস, যেমন ফিঙ্গার স্ক্যানারে থাকে একটি রিডার অথবা স্ক্যানিং ডিভাইস এবং সফটওয়্যার যা স্ক্যান করা তথ্যকে ডিজিটাল ফর্মে রূপান্তর করে এবং ম্যাচিং পয়েন্টগুলো তুলনা করে। বায়োমেট্রিক ডিভাইসগুলোর মধ্যে বিশ্বজুড়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারের জনপ্রিয়তা সর্বাধিক। তুলনামূলকভাবে কম দামী, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সৃষ্টি এবং প্রচুর ডেটা রাখতে পারে বলে আজকাল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ও অন্যান্যদের প্রবেশ ও বের হবার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

d শিক্ষার্থীদের গবেষণায় ব্যবহৃত বিশেষ প্রোগ্রামটি বিশ্বে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে- উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।

উত্তর উদ্দীপকের তথ্যানুসারে শিক্ষার্থীদের গবেষণায় ব্যবহৃত বিশেষ প্রোগ্রাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মানব সদৃশ যন্ত্রের প্রযুক্তি হচ্ছে রোবটিক্স। রোবটিক্স প্রযুক্তি বর্তমান বিশ্বে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

১. শিল্প ও উৎপাদন খাতে রোবট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ভুল ও দ্রুত কাজ করতে পারে। উৎপাদনের খরচ কমায় ও গুণগত মান বৃদ্ধি করে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যেমন- উচ্চ তাপমাত্রা বা বিষাক্ত পরিবেশে রোবট ব্যবহার করা হয়।
২. চিকিৎসা ক্ষেত্রে সার্জারিতে রোবটিক যন্ত্র ব্যবহার করে জটিল ও. সূক্ষ্ম অপারেশন করা যায়।
৩. কৃষি ক্ষেত্রে রোবট ব্যবহার করে চাষ, বপন, কীটনাশক প্রয়োগ ও ফসল সংগ্রহ করা যায়।
৪. গৃহস্থালির কাজে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রান্না, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে।
৫. রোবট শিশুদের প্রোগ্রামিং ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা দিতে সাহায্য করে। গবেষণাগারে পরীক্ষা ও তথ্য বিশ্লেষণে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে।
৬. প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ড্রোন ও যুদ্ধ রোবট সীমান্ত পাহারা, উদ্ধার অভিযান ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণে ব্যবহৃত হয়। নজরদারিতে স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক সিস্টেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
৭. স্বয়ংচালিত গাড়ি ও ডেলিভারি রোবট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হচ্ছে। গাড়ির মধ্যে রোবোটিক সেন্সর, GPS ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযুক্ত করা হচ্ছে।
৮. মহাকাশ গবেষণায় চন্দ্র ও মঙ্গল গ্রহে রোভার রোবট পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সুতরাং রোবোটিক্স বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তিগত বিপ্লবের অন্যতম চালিকাশক্তি। এটি মানুষের কাজকে সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল করে তুলছে। ভবিষ্যতে রোবট মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


Question 09

আইসিটি শিক্ষক IEEE 802.15 স্ট্যান্ডার্ড প্রযুক্তি ব্যবহার করে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ছবিগুলো তাঁর নিজ মোবাইলে সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে তিনি IEEE 802.11 স্ট্যান্ডার্ডের প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁর ছাত্র নাহিদের মোবাইলে ছবিগুলো প্রেরণ করলেন। Barisal · 2025

a ব্যান্ডউইথ কী?

b ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার সুবিধাজনক- ব্যাখ্যা কর।

c আইসিটি শিক্ষক তাঁর মোবাইলে ছবিগুলো সংগ্রহের জন্য কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে আইসিটি শিক্ষক তার মোবাইলে ছবিগুলো সংগ্রহের জন্য IEEE 802.15 প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। IEEE স্ট্যান্ডার্ডের এই বিশেষ প্রযুক্তিটি হলো ব্লুটুথ।

ওয়‍্যারলেস নেটওয়ার্কিং জগতে ব্লুটুথ হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি যা স্বল্প দূরত্বের মধ্যে তারবিহীনভাবে দুটি ডিভাইসের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান করে থাকে। ব্লুটুথ নেটওয়ার্কটির ব্যান্ডউইথ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে কম হলেও এটি বহুল ব্যবহৃত। যে সব ডিভাইসে এই পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলোকে ব্লুটুথ ডিভাইস বলে। বর্তমানে ল্যাপটপ, ট্যাব, পিডিএ, স্মার্ট ফোনে ব্লুটুথ প্রযুক্তিসহ আগে থেকে দেওয়া থাকে।। এছাড়া ইদানীং মাউস, কীবোর্ড, হেডফোন সেট, স্পীকার ইত্যাদিতে ও। ব্লুটুথ ব্যবহৃত হয়।
এটি একটি পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক-প্যান (PAN), 2.45 GHz ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে এবং এর ব্যাপ্তি ৩ থেকে ১০ মিটার হয়ে থাকে। হাফ-ডুপ্লেক্সে মোডে এর ডেটা ট্রান্সমিশন রেট প্রায় 1 Mbps বা তারচেয়ে বেশি। এটি স্থাপন করা সহজ এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে কনফিগারেশন করা যায়।’

d WiMAX এর সাথে নাহিদের মোবাইলে ছবিগুলো স্থানান্তরে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

উত্তর উদ্দীপকে নাহিদের মোবাইলে ছবি স্থানান্তরের প্রযুক্তি হচ্ছে IEEE 802.11 বা Wifi। WiMAX এর সাথে WiFi এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
১. Wi-Fi এর কভারেজ 50 100 মিটার। পক্ষান্তরে WiMax এর কভারেজ প্রায় 10-50 কিলোমিটার।
২. Wi-Fi নেটওয়ার্কে খরচ কম, কিন্তু WiMax নেটওয়ার্ক ব্যয়বহুল।
৩. Wi-Fi এর নেটওয়ার্ক WLAN, WiMax এর নেটওয়ার্ক WMAN।
8. Wi-Fi এর গতি 11-200 Mbps, WiMax এর গতি 80-1000 Mbps ।

৫. Wi-Fi এর স্ট্যান্ডার্ড IEEE 802.11 অন্যদিকে WiMax এর স্ট্যান্ডার্ড IEEE 802.16 1
৬. Wi-Fi এ হাফ ডুপ্লেক্সিং মোড ব্যবহার করা হলেও WiMax এ ফুল ডুপ্লেক্সিং মোড ব্যবহার করা হয়।
৭. Wi-Fi এর ফ্রিকোয়েন্সি 2.4-5 GHz, WiMax এর ফ্রিকোয়েন্সি 2-66 GHz ।


Question 10

আরিয়ার মামা জিনোম ও প্রোটিন সিকোয়েন্সের গঠন উপাদানের ডেটাবেজ তৈরির কাজ নিয়ে গবেষণা করছেন। তার মামা গবেষণার কক্ষে প্রবেশের সময় একটি যন্ত্রের দিকে তাকানোর ফলে দরজাটি খুলে গেল। Dinajpur · 2025

a ক্রায়োসার্জারি কী?

b ‘প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে উচ্চ ফলনশীল শস্য উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে’- ব্যাখ্যা কর।

c গবেষণার কক্ষে প্রবেশের জন্য যে প্রযুক্তিটি ব্যবহৃত হয়েছে তা-বর্ণনা কর।

উত্তর উদ্দীপকে গবেষণার কক্ষে প্রবেশের জন্যে যে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে তা হলো বায়োমেট্রিক্সের চোখের মণি বা রেটিনা স্ক্যান পদ্ধতি। নিচে এ পদ্ধতিটি বিশ্লেষণ করা হলো-
২৪৬. একজন মানুষের চোখের মণির দৃশ্যমান রঙিন অংশ অপর কোনো মানুষের চোখের মণির সাথে মিল পাওয়া যায় না। এটি অদ্বিতীয় ও স্থায়ী। চোখের মণির চারপাশে বেষ্টিত রঙিন বলয় বিশ্লেষণ করে এ পদ্ধতিতে শনাক্তকরণ করা হয়। এ পদ্ধতিতেই চোখ ও মাথাকে স্থির করে একটি ক্যামেরাসম্পন্ন ডিভাইসের সামনে দাঁড়াতে হয়। এতে প্রায় ১ থেকে ১০ সেকেন্ড সময় লাগে। পূর্ব থেকে ধারণ করা চোখের মণি বা রেটিনা প্যাটার্নের সাথে মিলিয়ে শনাক্তকরণ করা হয়। এটি একটি উচ্চ নিরাপত্তামূলক শনাক্তকরণ পদ্ধতি। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে, মিলিটারিতে এ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। আঙ্গুলের ছাপ বা হাতের ছাপের তুলনায় এ পদ্ধতির ফলাফলের সূক্ষ্মতা তুলনামূলকভাবে বেশি। এছাড়া এটি
নিরাপত্তামূলক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, যা স্থায়ী এবং দৃশ্যমান।

d উদ্দীপকে আরিয়ার মামার গবেষণার প্রযুক্তিটি মানব জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবদান রাখছে- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর উদ্দীপকের আরিয়ার মামার গবেষণার প্রযুক্তিটি হলো বায়োইনফরমেটিক্স। এই প্রযুক্তি মানব জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। নিচে প্রধান কিছু ক্ষেত্রে বায়োইনফরমেটিক্সের অবদান ব্যাখ্যা করা হলো:
১. বায়োইনফরমেটিক্সের মাধ্যমে ডিএনএ বিশ্লেষণ করে কোনো ব্যক্তি জন্মগতভাবে কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না তা জানা যায়। রোগীর জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে তার জন্য উপযুক্ত ওষুধ ও চিকিৎসা নির্ধারণ করা যায়।
২. বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহারে কম্পিউটারে ওষুধের মডেল তৈরি করে দেখা যায় তা মানব শরীরের কোষে কিভাবে কাজ করবে। বিভিন্ন ওষুধের ট্রায়াল থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে কার্যকর ও নিরাপদ ওষুধ চিহ্নিত করা যায়।
৩. মানুষের সম্পূর্ণ জিনোম ম্যাপিংয়ে বায়োইনফরমেটিক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
৪. ফসলের জিন বিশ্লেষণ করে রোগ প্রতিরোধী ও অধিক ফলনশীল জাত তৈরি করা হচ্ছে। উচ্চ উৎপাদনশীল গবাদিপশু নির্বাচনে সহায়তা করছে।
৫. ভাইরাস জিন বিশ্লেষণ যেমন- COVID-19 ভাইরাসের জিন বিশ্লেষণ করে দ্রুত টিকা তৈরি সম্ভব হয়েছে।
৬. বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের ডিএনএ ব্যবহার করে শনাক্ত করা যায়। বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর জিন বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া যায়।

পরিশেষে বলা যায় বায়োইনফরমেটিক্স আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির একটি আশীর্বাদস্বরূপ শাখা। এটি শুধুমাত্র চিকিৎসা নয়, বরং কৃষি, পরিবেশ, খাদ্য ও জীববৈচিত্র্যসহ মানব জীবনের প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন ও উন্নয়নের সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। 


Question 11

Mymensingh · 2025

a ন্যানো-পার্টিকেল কী?

b সিম্যুলেশনের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের আবহ তৈরি করে সৈনিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব”-ব্যাখ্যা কর।

c দৃশ্যকল্প-১ এর প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এর প্রযুক্তিটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। নিচে এই প্রযুক্তির ব্যাখ্যা দেওয়া হলো-
আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলতে বস্তুতপক্ষে যন্ত্রের বুদ্ধিমত্তাকে বোঝায়। ‘অর্থাৎ কোনো ঘটনা বা পরিস্থিতির সাপেক্ষে কোনো যন্ত্র (যেমন- কম্পিউটার) কী ধরনের সিদ্ধান্ত নিবে তার সক্ষমতা পরিমাপন পদ্ধতি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তার মূল উপাদানগুলো হলো-
১. মেশিন লার্নিং: যন্ত্রকে অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে সহায়তা করে।
২. ডিপ লার্নিং: মানুষের মস্তিষ্কের মতো কাজ করে এমন নিউরাল নেটওয়ার্ক।
৩. ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (NLP): ভাষা বুঝে ও তৈরি করে।
৪. কম্পিউটার ভিশন: ছবি ও ভিডিও বুঝতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার ক্ষেত্র হলো-
১. স্বাস্থ্য, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা-পরিকল্পনা;
২. শিক্ষা বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন শিক্ষাসহায়ক সফটওয়্যার;
৩. কৃষি ফসলের রোগ শনাক্তকরণ, উৎপাদন পূর্বাভাস;
৪. ব্যবসাক্ষেত্রে গ্রাহকের আচরণ বিশ্লেষণ, অটোমেশন;
৫. প্রযুক্তি যেমন- চ্যাটবট, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট (যেমন: Siri, Alexa)

d দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত প্রয়োগসমূহের সাথে সম্পর্কিত প্রযুক্তিটি জীবের জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য প্রাপ্তির প্রযুক্তিটি থেকে ভিন্নতর- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লেখিত প্রয়োগসমূহের সাথে সম্পর্কিত প্রযুক্তিটি হলো বায়োইনফরমেটিক্স। আবার জীবের জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য প্রাপ্তির প্রযুক্তিটি হচ্ছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি থেকে ভিন্নতর। নিচে এদের তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বায়োইনফরমেটিক্স হলো এমন একটি আন্তঃশাস্ত্রীয় ক্ষেত্র যা জীব সংক্রান্ত ডেটা বিশ্লেষণ করে বুঝার জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি এবং সফটওয়্যার টুলস উন্নয়ন করে। অন্যদিকে বায়োটেকনোলজির মাধ্যমে কোনো প্রাণীর জিনোমকে নিজের সুবিধানুযায়ী সাজিয়ে নেওয়াই হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।
২. বায়োইনফরমেটিক্সের উদ্দেশ্য হলো জৈবিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুধাবন করা। অন্যদিকে, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরি করে বিশেষ জিনকে ক্রোমোজোমের DNA অণু থেকে পৃথক করে কাজে লাগানো।
৩. বায়োইনফরমেটিক্সের প্রধান কাজ হচ্ছে জীববিজ্ঞান সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় তথ্য ও জ্ঞানকে বিকশিত করার জন্য সফটওয়্যার সামগ্রী তৈরি করা। অন্যদিকে, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রধান কাজ হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ বা পরিবর্তিত জিনযুক্ত কোষে অন্য জীব থেকে কর্মক্ষম বা ভালো জিন সংস্থাপন করে কর্মক্ষমহীন জীবটিকে কর্মক্ষম করে তোলা।
৪. বায়োইনফরমেটিক্স প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন গবেষণা যেমন- সিকুয়েন্স, এলাইনমেন্ট, ডিএনএ ম্যাপিং, ডিএনএ এনালাইসিস, জিন ফাইন্ডিং জিনোম সমাগম, ড্রাগ নকশা, প্রোটিনের গঠন ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করছে। চিকিৎসা, গবেষণা, শিল্প এবং কৃষিসহ অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যাপক প্রয়োগ রয়েছে। 
উপরের বর্ণনার আলোকে বলা যায় বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি থেকে ভিন্নতর। 


Question 12

বাংলাদেশের পোশাক তৈরির একটি প্রতিষ্ঠান চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে বিশ্বমানের একটি কারখানা স্থাপন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যেখানে মানুষের সহায়তা ছাড়াই অ্যাকচুয়েটর এবং কম্পিউটারের সাহায্যে পোশাক তৈরির অধিকাংশ কাজ করা সম্ভব হবে। কারখানাটি স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রকৌশলীগণ কৃত্রিম সিমুলেটেড পরিবেশ তৈরি করে কারখানাটির ত্রি-মাত্রিক মডেল প্রণয়ন করেন। Dhaka · 2024

a ই-লার্নিং কী?

b কানেক্টিভিটি বিশ্বগ্রামের মূল চালিকাশক্তি-ব্যাখ্যা কর।

c নকশা প্রণয়নে প্রকৌশলীগণের ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে নকশা প্রণয়নে প্রকৌশলীগণের ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি । নিচে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা করা হলো—

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরিকৃত এমন এক ধরনের কৃত্রিম পরিবেশ, যা ব্যবহারকারীদের কাছে উপস্থাপন করা হলে এটিকে বাস্তব পরিবেশ বলে মনে হয় । ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশ তৈরির জন্য শক্তিশালী কম্পিউটারে সংবেদনশীল গ্রাফিক্স ব্যবহার, করতে হয়। সাধারণ গ্রাফিক্স আর ভার্চুয়াল জগতের গ্রাফিক্সের মধ্যে তফাত হলো এখানে শব্দ এবং স্পর্শকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যবহারকারীরা যা দেখে এবং স্পর্শ করে তা বাস্তবের কাছাকাছি বোঝানোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি চশমা বা হেলমেট ( HMD : Head Mounted Display) ছাড়াও অনেক সময় হ্যান্ড গ্লাভস, বুট, স্যুট ব্যবহার করা হয়। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটারে গ্রাফিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে দূর থেকে পরিচালনা করার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। একে টেলিপ্রেজেন্স বলা হয়। এছাড়াও এ পদ্ধতিতে বাস্তবভিত্তিক শব্দও সৃষ্টি করা হয়, যাতে মনে হয়, শব্দগুলো বিশেষ বিশেষ স্থান হতে উৎসারিত হচ্ছে।

উদ্দীপকে কারখানা স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রকৌশলীগণ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তিতে কৃত্রিম সিমুলেটেড পরিবেশ তৈরি করে কারখানাটির ত্রি-মডেল উপস্থাপন করে এর বিভিন্ন অংশ পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা সম্পন্ন করেন।

d উদ্দীপকে উল্লিখিত পোষাক শিল্পে বর্ণিত প্রযুক্তিটি শ্ৰম বাজারের উপর কীরূপ প্রভাব ফেলবে?

উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত পোশাক শিল্পে মানুষের সহায়তা ছাড়াই অ্যাকচুয়েটর এবং কম্পিউটারের  সাহায্যে পোশাক তৈরির প্রযুক্তিটি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। পোশাক শিল্পে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে মানুষের হাতের স্পর্শ ছাড়াই কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে পোশাক তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে করে সময়ের অপচয় রোধসহ কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার আশংকা কমে যাবে। একইসাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চব্বিশ ঘণ্টা পোশাক তৈরির কারখানা চালু রেখে অল্প সময়েই কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়া সম্ভব হবে। অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দ্বারা পরিচালিত এসব পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে মানুষের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকহারে কমে আসবে। সবকিছুই হবে প্রযুক্তি নির্ভর। এর ফলে পোশাক শিল্পে নিয়োজিত কর্মীদের প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে এবং তারা চাকুরি হারিয়ে বেকার হয়ে যাবে। অর্থাৎ পোশাক শিল্পে বর্ণিত প্রযুক্তিটি বেকারত্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে । উপরের বর্ণনার আলোকে বলা যায়, উল্লিখিত পোশাক শিল্পে বর্ণিত প্রযুক্তিটি শ্রম বাজারের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে এবং বেকারত্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে ।


Question 13

বাংলাদেশের পোশাক তৈরির একটি প্রতিষ্ঠান চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে বিশ্বমানের একটি কারখানা স্থাপন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যেখানে মানুষের সহায়তা ছাড়াই অ্যাকচুয়েটর এবং কম্পিউটারের সাহায্যে পোশাক তৈরির অধিকাংশ কাজ করা সম্ভব হবে। কারখানাটি স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রকৌশলীগণ কৃত্রিম সিমুলেটেড পরিবেশ তৈরি করে কারখানাটির ত্রি-মাত্রিক মডেল প্রণয়ন করেন। Dinajpur · 2024

a ই-লার্নিং কী?

b কানেক্টিভিটি বিশ্বগ্রামের মূল চালিকাশক্তি-ব্যাখ্যা কর।

c নকশা প্রণয়নে প্রকৌশলীগণের ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে নকশা প্রণয়নে প্রকৌশলীগণের ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি । নিচে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা করা হলো— ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরিকৃত এমন এক ধরনের কৃত্রিম পরিবেশ, যা ব্যবহারকারীদের কাছে উপস্থাপন করা হলে এটিকে বাস্তব পরিবেশ বলে মনে হয় । ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশ তৈরির জন্য শক্তিশালী কম্পিউটারে সংবেদনশীল গ্রাফিক্স ব্যবহার, করতে হয়। সাধারণ গ্রাফিক্স আর ভার্চুয়াল জগতের গ্রাফিক্সের মধ্যে তফাত হলো এখানে শব্দ এবং স্পর্শকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যবহারকারীরা যা দেখে এবং স্পর্শ করে তা বাস্তবের কাছাকাছি বোঝানোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি চশমা বা হেলমেট ( HMD : Head Mounted Display) ছাড়াও অনেক সময় হ্যান্ড গ্লাভস, বুট, স্যুট ব্যবহার করা হয়। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটারে গ্রাফিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে দূর থেকে পরিচালনা করার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। একে টেলিপ্রেজেন্স বলা হয়। এছাড়াও এ পদ্ধতিতে বাস্তবভিত্তিক শব্দও সৃষ্টি করা হয়, যাতে মনে হয়, শব্দগুলো বিশেষ বিশেষ স্থান হতে উৎসারিত হচ্ছে।

উদ্দীপকে কারখানা স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রকৌশলীগণ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তিতে কৃত্রিম সিমুলেটেড পরিবেশ তৈরি করে কারখানাটির ত্রি-মডেল উপস্থাপন করে এর বিভিন্ন অংশ পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা সম্পন্ন করেন।

d উদ্দীপকে উল্লিখিত পোষাক শিল্পে বর্ণিত প্রযুক্তিটি শ্ৰম বাজারের উপর কীরূপ প্রভাব ফেলবে?

উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত পোশাক শিল্পে মানুষের সহায়তা ছাড়াই অ্যাকচুয়েটর এবং কম্পিউটারের  সাহায্যে পোশাক তৈরির প্রযুক্তিটি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। পোশাক শিল্পে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে মানুষের হাতের স্পর্শ ছাড়াই কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে পোশাক তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে করে সময়ের অপচয় রোধসহ কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার আশংকা কমে যাবে। একইসাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চব্বিশ ঘণ্টা পোশাক তৈরির কারখানা চালু রেখে অল্প সময়েই কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়া সম্ভব হবে। অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দ্বারা পরিচালিত এসব পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে মানুষের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকহারে কমে আসবে। সবকিছুই হবে প্রযুক্তি নির্ভর। এর ফলে পোশাক শিল্পে নিয়োজিত কর্মীদের প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে এবং তারা চাকুরি হারিয়ে বেকার হয়ে যাবে। অর্থাৎ পোশাক শিল্পে বর্ণিত প্রযুক্তিটি বেকারত্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে । উপরের বর্ণনার আলোকে বলা যায়, উল্লিখিত পোশাক শিল্পে বর্ণিত প্রযুক্তিটি শ্রম বাজারের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে এবং বেকারত্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে ।


Question 14

‘ক’ গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে অগ্নিসংযোগে নিহত শ্রমিকের পরিচয় শনাক্ত করতে DNA পরীক্ষা করা হয়। রাকিব এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের কথা মাথায় রেখে এমন এক যন্ত্র আবিষ্কার করেছে যা একই সময়ে অগ্নি নির্বাপণে ও উদ্ধারকার্যে সহায়তা করবে। Rajshahi · 2024

a ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কী?

b ক্রায়োসার্জারিতে সূক্ষ্ম সুচযুক্ত নল ব্যবহার করা হয় কেন?

c উদ্দীপকে নিহত শ্রমিক শনাক্তকরণে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে নিহত শ্রমিক শনাক্তকরণে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো বায়োমেট্রিক্স । নিচে ব্যাখ্যা করা হলো—

তথ্য প্রযুক্তিতে বায়োমেট্রিক্স বলতে ঐ কৌশল বা পদ্ধতিকে বোঝায় যা মানব দেহের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য যেমন- ডি এন এ, আঙ্গুলের ছাপ, চোখের রেটিনা ও আইরিশ, ভয়েস প্যাটার্ন, মুখমণ্ডলের প্যাটার্ন, হাতের মাপ ইত্যাদি প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে বিশ্লেষণ ও পরিমাপ করে ব্যক্তি শনাক্ত করা যায়। বায়োমেট্রিক্স এককভাবে পরিমাপযোগ্য বিষয় দিয়ে শনাক্তকরণ কাজ সম্পন্ন করে। এটি শারীরিক ও আচরণগত – এ দুভাবে ব্যক্তিকে শনাক্ত করে থাকে। শারীরিক শনাক্তকরণ বায়োমেট্রিক্স উপাদান হতে পারে ব্যক্তির কন্ঠস্বর, ডিএনএ, আঙ্গুলের ছাপ ইত্যাদি। উদ্দীপকে যেহেতু মানুষগুলো মৃত তাই এক্ষেত্রে লাশ বায়োমেট্রিক্স উপাদান হিসেবে DNA টেস্ট এর মাধ্যমে শনাক্তকরণ করা যাবে DNA টেস্ট করার জন্য নমুনা হিসেবে চুল, রক্ত, লালা, শুক্ররস ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। এসব নমুনা থেকে DNA প্রোফাইলিং, টাইপিং বা ফিঙ্গার প্রিন্টিং করা হয়। পরবর্তীতে মৃত ব্যক্তির আত্মীয়স্বজন, ব্যবহার্য জিনিসপত্র থেকে পরিচয় নির্ণয় করা হয়।

d উদ্দীপকে রাকিবের আবিষ্কৃত যন্ত্রটিকে আমাদের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার সম্ভব— বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও ।

উত্তর উদ্দীপকে রাকিবের আবিষ্কৃত যন্ত্রটি হলো রোবট। আমাদের দৈনন্দিন কাজে রোবটের ব্যবহার সম্ভব। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-

১. যানবাহন, গাড়ির কারখানায় কম্পিউটার এইডেড ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে রোবট ব্যবহার করা যায় ।

২.শিল্পক্ষেত্রে জটিল ও বিপজ্জনক কাজগুলো যেমন— ঢালাই, ভারী মালামাল উঠানামা করানো, যন্ত্রাংশ সংযোজন, ওয়েল্ডিং প্রভৃতি কাজ রোবটের মাধ্যমে করানো যায় ।

৩. রোবট অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোসার্কিটের উপাদান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ‘পরীক্ষা করতে পারে, যা মানুষের পক্ষে অসম্ভব ।

৪. নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোবট ব্যবহার করা হয়। যেমন— রোবট কয়েকশ ফুট দূর থেকে অন্ধকারে আগন্তুককে দেখতে পায়। মাইক্রোওয়েভে ভিশনের মাধ্যমে’ যেকোনো অধাতব দেয়ালের অপর পাশে কি আছে তা দেখতে পায়, জিম্মি মুক্ত করতে, গোলাগুলি ইত্যাদির মতো পরিস্থিতিতে গুলি করতে, দরজা খুলতে, সামনে গিয়ে পরিস্থিতি দেখতে রোবট ব্যবহার করা হয় ।

৫. চিকিৎসাক্ষেত্রে রোবট ব্যবহার করা হয় ।

৬. মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে রোবট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । মানুষের পরিবর্তে এখন বিভিন্ন মহাকাশ অভিযানে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে যা বিভিন্ন গ্রহে পৌঁছে তার নানা তথ্য আমাদের দিতে পারছে।

উপরিউক্ত ব্যবহার ছাড়াও সামরিক ক্ষেত্রে, খনির অভ্যন্তরে কাজ করতে, রান্না করতে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে, প্রাত্যহিক বিভিন্ন ঘরের কাজে রোবটের ব্যবহার আছে। রোবট হলো এমন একটি যন্ত্র যা নির্দিষ্ট নির্দেশনাবলির মাধ্যমে নানা ধরনের কাজ করতে পারে। যাকে মানুষের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে ।


Question 15

ডাঃ রতন ত্বক ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন রোগীর চিকিৎসা নিম্ন তাপমাত্রা প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন। কিন্তু চিকিৎসার পূর্বে তিনি একটি সিমুলেটেড অপারেশনের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা লাভ করেন । Jessore · 2024

a সফ্‌টওয়্যার পাইরেসি কী?

b কণ্ঠস্বর যাচাইকরণে ব্যবহৃত প্রযুক্তি কী? ব্যাখ্যা কর ।

c ডাঃ রতনের চিকিৎসা পদ্ধতি বর্ণনা কর ।

উত্তর উদ্দীপকে ডাঃ রতনের চিকিৎসা পদ্ধতি হলো ক্রায়োসার্জারি। নিচে এ পদ্ধতিটি বর্ণনা করা হলো-

ক্রায়োসার্জারি এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি, যা অত্যধিক শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগের মাধ্যমে ত্বকের অস্বাভাবিক বা অপ্রত্যাশিত রোগাক্রান্ত টিস্যু/ত্বক কোষ ধ্বংস করার কাজে ব্যবহৃত হয়। এ পদ্ধতির চিকিৎসায় প্রথমেই সিম্যুলেটেড সফটওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত কোষগুলোর (যেমন— ক্যান্সার ইত্যাদি) অবস্থান ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে রোগাক্রান্ত কোষটিতে আল্ট্রা থিন সুচযুক্ত · ক্রায়োপ্রোব প্রবেশ করিয়ে নির্ধারিত ক্রায়োজেনিক গ্যাস প্রয়োগ করা হয়। তাপমাত্রা অত্যধিক হ্রাসের ফলে (–৪১ থেকে – ১৯৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড) নির্বাচিত টিস্যুটিতে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় । ফলে ঐ নিম্নতম তাপমাত্রায় রক্ত ও অক্সিজেন সঞ্চালন সম্ভব না হওয়ার দরুণ রোগাক্রান্ত টিস্যুর ক্ষতিসাধন হয়। ক্রায়োসার্জারি চিকিৎসায় রোগাক্রান্ত’ টিস্যুর ধরন অনুযায়ী এবং নির্দিষ্ট শীতলতায় পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যাস যেমন— তরল নাইট্রোজেন, আর্গন, অক্সিজেন বা তরল কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহার করা হয়। অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির তুলনায় ক্যান্সার ও নিউরোসার্জারি চিকিৎসায় ক্রায়োসার্জারি অনেক সাশ্রয়ী এবং সময় কম লাগে। এ পদ্ধতিতে ব্যথা, রক্তপাত অথবা অপারেশনজনিত কাটা-ছেঁড়ার জটিলতা নেই । রোগীকে কোনো পূর্ব প্রস্তুতি নিতে হয় না এবং অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতাল পর্যন্তও রোগীকে নিতে হয় না ।

d ডাঃ রতনের অপারেশনের অভিজ্ঞতা লাভের প্রযুক্তিটি শিক্ষা, গবেষণা এবং ব্যবসায় বাণিজ্যেও ব্যবহৃত হয়—বর্ণনা কর ।

উত্তর উদ্দীপকে ডাঃ রতনের অপারেশনের অভিজ্ঞতা লাভের প্রযুক্তিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। চিকিৎসাক্ষেত্র ছাড়াও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। নিচে শিক্ষা, গবেষণা ও ব্যবসা বাণিজ্যে এই প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখ করা হলো-

শিক্ষাক্ষেত্রে : ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে শিক্ষার জটিল বিষয়গুলো সহজেই উপস্থাপন করা যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি সহজ, চিত্তাকর্ষক ও আনন্দদায়ক হয় । এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সৌরজগৎ এর গ্রহ বা গ্রহাণুপুঞ্জের অবস্থান, গঠনপ্রকৃতি, গতিবিধি, প্রাণের উপস্থিতি, নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের অভ্যন্তরীণ বিক্রিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারে।

গবেষণায় : গবেষণা ক্ষেত্রেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার দৃশ্যমান গবেষণালব্ধ ফলাফল বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন, জটিল অণুর আণবিক গঠন, ডিএনএ গঠন সিমুলেশনের মাধ্যমে দেখা যায়। এছাড়া, ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কেও ধারণা লাভ করা যায়। ব্যবসায়-বাণিজ্যে : ব্যবসায়-বাণিজ্যে ‘ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সহজ করে তুলেছে। কোনো যন্ত্র বা উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান, গঠন, বিপণন, সম্ভাব্যতা যাচাইকরণ, যন্ত্র বা পণ্যের ক্ষতিকর দিক নিরূপণ, বিপণন কর্মী প্রশিক্ষণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সিমুলেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ক্রেতা ও ভোক্তার কাছে পণ্য ব্যবহারের পদ্ধতি, সুবিধাদি ও ঝুঁকি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশে উপস্থাপন করা হয়।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শিক্ষা, গবেষণা ও ব্যবসায়-বাণিজ্যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বহুল ব্যবহার বিদ্যমান।


Question 16

ডাঃ রতন ত্বক ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন রোগীর চিকিৎসা নিম্ন তাপমাত্রা প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন। কিন্তু চিকিৎসার পূর্বে তিনি একটি সিমুলেটেড অপারেশনের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা লাভ করেন । Comilla · 2024

a রোবটিক্স কী?

b “বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ সম্ভব”— ব্যাখ্যা কর।

c ডাঃ রতনের চিকিৎসা পদ্ধতি বর্ণনা কর ।

উত্তর উদ্দীপকে ডাঃ রতনের চিকিৎসা পদ্ধতি হলো ক্রায়োসার্জারি। নিচে এ পদ্ধতিটি বর্ণনা করা হলো-

ক্রায়োসার্জারি এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি, যা অত্যধিক শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগের মাধ্যমে ত্বকের অস্বাভাবিক বা অপ্রত্যাশিত রোগাক্রান্ত টিস্যু/ত্বক কোষ ধ্বংস করার কাজে ব্যবহৃত হয়। এ পদ্ধতির চিকিৎসায় প্রথমেই সিম্যুলেটেড সফটওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত কোষগুলোর (যেমন— ক্যান্সার ইত্যাদি) অবস্থান ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে রোগাক্রান্ত কোষটিতে আল্ট্রা থিন সুচযুক্ত · ক্রায়োপ্রোব প্রবেশ করিয়ে নির্ধারিত ক্রায়োজেনিক গ্যাস প্রয়োগ করা হয়। তাপমাত্রা অত্যধিক হ্রাসের ফলে (–৪১ থেকে – ১৯৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড) নির্বাচিত টিস্যুটিতে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় । ফলে ঐ নিম্নতম তাপমাত্রায় রক্ত ও অক্সিজেন সঞ্চালন সম্ভব না হওয়ার দরুণ রোগাক্রান্ত টিস্যুর ক্ষতিসাধন হয়। ক্রায়োসার্জারি চিকিৎসায় রোগাক্রান্ত’ টিস্যুর ধরন অনুযায়ী এবং নির্দিষ্ট শীতলতায় পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যাস যেমন— তরল নাইট্রোজেন, আর্গন, অক্সিজেন বা তরল কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহার করা হয়। অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির তুলনায় ক্যান্সার ও নিউরোসার্জারি চিকিৎসায় ক্রায়োসার্জারি অনেক সাশ্রয়ী এবং সময় কম লাগে। এ পদ্ধতিতে ব্যথা, রক্তপাত অথবা অপারেশনজনিত কাটা-ছেঁড়ার জটিলতা নেই । রোগীকে কোনো পূর্ব প্রস্তুতি নিতে হয় না এবং অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতাল পর্যন্তও রোগীকে নিতে হয় না ।

d ডাঃ রতনের অপারেশনের অভিজ্ঞতা লাভের প্রযুক্তিটি শিক্ষা, গবেষণা ও ব্যবসায়-বাণিজ্যে ব্যবহৃত হয়— বর্ণনা কর।

উত্তর উদ্দীপকে ডাঃ রতনের অপারেশনের অভিজ্ঞতা লাভের প্রযুক্তিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। চিকিৎসাক্ষেত্র ছাড়াও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। নিচে শিক্ষা, গবেষণা ও ব্যবসা বাণিজ্যে এই প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখ করা হলো-

শিক্ষাক্ষেত্রে : ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে শিক্ষার জটিল বিষয়গুলো সহজেই উপস্থাপন করা যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি সহজ, চিত্তাকর্ষক ও আনন্দদায়ক হয় । এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সৌরজগৎ এর গ্রহ বা গ্রহাণুপুঞ্জের অবস্থান, গঠনপ্রকৃতি, গতিবিধি, প্রাণের উপস্থিতি, নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের অভ্যন্তরীণ বিক্রিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারে।

গবেষণায় : গবেষণা ক্ষেত্রেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার দৃশ্যমান গবেষণালব্ধ ফলাফল বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন, জটিল অণুর আণবিক গঠন, ডিএনএ গঠন সিমুলেশনের মাধ্যমে দেখা যায়। এছাড়া, ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কেও ধারণা লাভ করা যায়। ব্যবসায়-বাণিজ্যে : ব্যবসায়-বাণিজ্যে ‘ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সহজ করে তুলেছে। কোনো যন্ত্র বা উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান, গঠন, বিপণন, সম্ভাব্যতা যাচাইকরণ, যন্ত্র বা পণ্যের ক্ষতিকর দিক নিরূপণ, বিপণন কর্মী প্রশিক্ষণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সিমুলেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ক্রেতা ও ভোক্তার কাছে পণ্য ব্যবহারের পদ্ধতি, সুবিধাদি ও ঝুঁকি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশে উপস্থাপন করা হয়।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শিক্ষা, গবেষণা ও ব্যবসায়-বাণিজ্যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বহুল ব্যবহার বিদ্যমান।


Question 17

বাসার সাহেব কম্পিউটার মেলায় গিয়ে একটি হার্ডডিস্ক কিনলেন । হার্ডডিস্কটি আকারে খুব ছোট কিন্তু এর ধারণক্ষমতা অনেক বেশি। তিনি বন্ধু প্রিন্সকে হার্ডডিস্কটি দেখানোর জন্য তার অফিসে গেলেন। প্রিন্সের অফিসে গিয়ে দেখলেন উক্ত অফিসের কর্মকর্তা- কর্মচারীগণ একটি যন্ত্রের দিকে তাকালেই অফিসের দরজা খুলে যাচ্ছে। Chittagong · 2024

a ন্যানোটেকনোলজি কী?

b অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ছাড়াই অপারেশন সম্ভব-ব্যাখ্যা কর ।

c উদ্দীপকে উল্লিখিত ডিভাইসটি তৈরির প্রযুক্তি ব্যাখ্যা কর ।

উত্তর : উদ্দীপকে উল্লিখিত ডিভাইসটি অর্থাৎ হার্ডডিস্ক তৈরির প্রযুক্তি হলো ন্যানোটেকনোলজি। নিচে এ প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা করা হলো- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে । থেকে 100 ন্যানোমিটার আকৃতির কোনো কিছু তৈরি করা এবং ব্যবহার করার প্রযুক্তিই হলো ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানোটেকনোলজি। ন্যানো প্রযুক্তি দুটি পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয় । ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ এবং বৃহৎ থেকে ক্ষুদ্র। ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ পদ্ধতিতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আণবিক উপাদান থেকে শুরু করে ধীরে বড় কোনো জিনিস তৈরি করা যায়। অন্যদিকে বৃহৎ থেকে ক্ষুদ্র পদ্ধতিতে একটু বড় আকৃতির কিছু থেকে শুরু করে তাকে ভেঙে ছোট করতে করতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আকৃতিতে পরিণত করা হয়। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৃহৎ স্কেলে পণ্যোৎপাদন সম্ভব হচ্ছে এবং উৎপাদিত পণ্য আকারে সূক্ষ্ম ও ছোট হলেও অত্যন্ত মজবুত, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, টেকসই ও হালকা হয়। কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে প্রসেসরের উচ্চগতি, দীর্ঘস্থায়িত্ব, কম শক্তি খরচ, ডিসপ্লে ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির উন্নয়নে ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহৃত হয়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আগামীতে দুরারোগ্য ব্যাধি হতে মুক্তি, প্রতিরক্ষায় ন্যানো রোবট, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বিশ্বব্যাপী বৃহৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কার্যকরী ও সস্তায় শক্তি উৎপাদনসহ পানি ও বায়ু দূষণ কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

d প্রিন্সের অফিসের দরজায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি বিশ্লেষণ কর ।

উত্তর উদ্দীপকে প্রিন্সের অফিসের দরজায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো বায়োমেট্রিক্সের চোখের মনি বা রেটিনা স্ক্যান পদ্ধতি। নিচে এ পদ্ধতিটি বিশ্লেষণ করা হলো-

একজন মানুষের চোখের মণির দৃশ্যমান রঙিন অংশ অপর কোনো মানুষের চোখের মণির সাথে মিল পাওয়া যায় না। এটি অদ্বিতীয় ও স্থায়ী। চোখের মণির চারপাশে বেষ্টিত রঙিন বলয় বিশ্লেষণ করে এ পদ্ধতিতে শনাক্তকরণ করা হয়। এ পদ্ধতিতেই চোখ ও মাথাকে স্থির করে একটি ক্যামেরাসম্পন্ন ডিভাইসের সামনে দাঁড়াতে হয়। এতে প্রায় ১ থেকে ১০ সেকেন্ড সময় লাগে। পূর্ব থেকে ধারণ করা চোখের মণি বা রেটিনা প্যাটার্নের সাথে মিলিয়ে শনাক্তকরণ করা হয়। এটি একটি উচ্চ নিরাপত্তামূলক শনাক্তকরণ পদ্ধতি। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে, মিলিটারিতে এ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। আঙ্গুলের ছাপ বা হাতের ছাপের তুলনায় এ পদ্ধতির ফলাফলের সূক্ষ্মতা : তুলনামূলকভাবে বেশি। এছাড়া এটি নিরাপত্তামূলক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, যা স্থায়ী এবং দৃশ্যমান ।

এ পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং তুলনামূলকভাবে বেশি মেমোরির প্রয়োজন হয় । চশমা ব্যবহারকারীদের জন্য এ পদ্ধতিতে সমস্যা হয় । এ পদ্ধতি ব্যবহার করার ফলে চোখের ক্ষতি হয়। 


Question 18

মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ডাঃ রিফাত তার শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম ধকল সহিষ্ণু, রক্তপাতহীন চিকিৎসা পদ্ধতির অভিজ্ঞতা লাভের উদ্দেশ্যে একটি সিমুলেটেড পরিবেশে অপারেশন প্রক্রিয়া শেখালেন। Sylhet · 2024

a রোবটিকস কী?

b খাদ্যের গুণাগুণ রক্ষার্থে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ব্যাখ্যা কর ।

c উদ্দীপকে উল্লিখিত চিকিৎসা পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত চিকিৎসা পদ্ধতি হলো ক্রায়োসার্জারি। ক্রায়োসার্জারি এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি, যা অত্যধিক শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগের মাধ্যমে ত্বকের অস্বাভাবিক বা অপ্রত্যাশিত রোগাক্রান্ত টিস্যু/ত্বক কোষ ধ্বংস করার কাজে ব্যবহৃত হয়। এ পদ্ধতির চিকিৎসায় প্রথমেই সিম্যুলেটেড সফটওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত কোষগুলোর (যেমন— ‘ক্যান্সার ইত্যাদি) অবস্থান ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে রোগাক্রান্ত কোষটিতে আল্ট্রা থিন সুচযুক্ত ক্রায়োপ্রোব প্রবেশ করিয়ে নির্ধারিত ক্রায়োজেনিক গ্যাস প্রয়োগ করা হয়। তাপমাত্রা অত্যধিক হ্রাসের ফলে (–৪১ থেকে – ১৯৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড) নির্বাচিত টিস্যুটিতে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঐ নিম্নতম তাপমাত্রায় রক্ত ও অক্সিজেন সঞ্চালন সম্ভব না হওয়ার দরুণ রোগাক্রান্ত টিস্যুর ক্ষতিসাধন হয়। ক্রায়োসার্জারি চিকিৎসায় রোগাক্রান্ত টিস্যুর ধরন অনুযায়ী এবং নির্দিষ্ট শীতলতায় পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যাস যেমন— তরল নাইট্রোজেন, আর্গন, অক্সিজেন বা তরল কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহার করা হয় । অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির তুলনায় ক্যান্সার ও নিউরোসার্জারি চিকিৎসায় ক্রায়োসার্জারি অনেক সাশ্রয়ী এবং সময় কম লাগে। এ পদ্ধতিতে ব্যথা, রক্তপাত অথবা অপারেশনজনিত কাটা-ছেঁড়ার জটিলতা নেই। রোগীকে কোনো পূর্ব প্রস্তুতি নিতে হয় না এবং অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতাল পর্যন্তও রোগীকে নিতে হয় না ।

d প্রাত্যহিক জীবনে উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবেশের প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবেশ হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তি । এ প্রযুক্তিটি খুব বেশি সহজলভ্য না হলেও প্রাত্যহিক জীবনে এর কিছু প্রভাব লক্ষণীয় । যেমন-

১. বিনোদন ক্ষেত্রে : ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এ ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত । আজকালকার প্রায় প্রতিটি চলচ্চিত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ।

ব্যবহার পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে নানা ধরনের ‘ কম্পিউটার গেম তৈরি করা হচ্ছে। মিউজিয়াম ও ঐতিহাসিক স্থানের দৃশ্যও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।

যানবাহন চালনার ও প্রশিক্ষণে : বিমান, মোটরগাড়ি, জাহাজ ইত্যাদি চালানোর প্রশিক্ষণে সংশ্লিষ্ট সিম্যুলেটর ও মডেলিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ-সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে বাস্তবের ন্যায় প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়।

৩. শিক্ষা ও গবেষণায় : শিখন কার্যক্রমে জটিল বিষয়গুলো সিম্যুলেশন ও মডেলিং করে শিক্ষার্থীদের সামনে সহজবোধ্য ও চিত্তাকর্ষকভাবে উপস্থাপন করা যায় । গবেষণালব্ধ ফলাফল বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন, জটিল অণুর আণবিক গঠন, ডিএনএ গঠন সিম্যুলেশনের মাধ্যমে দেখা যায় । ৪. চিকিৎসা ক্ষেত্রে : জটিল অপারেশন, কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন, ডিএনএ পর্যালোচনা ইত্যাদিসহ নবীন শল্য চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও রোগ নির্ণয়ে ব্যাপক হারে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয় ।

৫. সামরিক প্রশিক্ষণে : ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সত্যিকার যুদ্ধক্ষেত্রের আবহ তৈরি করে সৈনিকদেরকে উন্নত ও নিখুঁত প্রশিক্ষণ প্রদান করা যায়।

৬. ব্যবসা বাণিজ্য : উৎপাদিত ও প্রস্তাবিত পণ্যের গুণগতমান, গঠন, বিপণন, সম্ভাব্যতা যাচাই, মূল্যায়ন, বিপণন কর্মী প্রশিক্ষণ ইত্যাদি সব ধরনের কার্যক্রমে সিম্যুলেশন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, দৈনন্দিন জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রয়োগ করে আমাদের জীবনমান আরও উন্নত করা সম্ভব।


Question 19

দৃশ্যকল্প-১ : ডাক্তার মনিরা মেডিকেল কলেজে তার শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের কাটা ছেঁড়া ছাড়াই অত্যধিক নিম্নতাপমাত্রায় বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার নিরাময় সম্পর্কে পাঠদান করলেন।

দৃশ্যকল্প-২ : ড. মামুন বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত জাতের উদ্ভিদ ও প্রাণী উদ্ভাবনের লক্ষ্যে প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ করছেন। Barisal · 2024

a মহাকাশ অভিযান কী?

b ক্ষুদ্র আকারের জিনিস দিয়ে বড়ো আকারের জিনিস তৈরি করার প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

c উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ যে চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে তা আলোচনা কর।

উত্তর উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ যে চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে তা হলো ক্রায়োসার্জারি । নিচে এ চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো—

ক্রায়োসার্জারি এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি, যা অত্যধিক শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগের মাধ্যমে ত্বকের অস্বাভাবিক বা অপ্রত্যাশিত রোগাক্রান্ত টিস্যু/ত্বক কোষ ধ্বংস করার কাজে ব্যবহৃত হয়। এ পদ্ধতির চিকিৎসায় প্রথমেই সিম্যুলেটেড সফটওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত কোষগুলোর (যেমন— ক্যান্সার ইত্যাদি) অবস্থান ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে রোগাক্রান্ত কোষটিতে আল্ট্রা থিন সুচযুক্ত ক্রায়োপ্রোব প্রবেশ করিয়ে নির্ধারিত ক্রায়োজেনিক গ্যাস প্রয়োগ করা হয়। তাপমাত্রা অত্যধিক হ্রাসের ফলে (–৪১ থেকে ১৯৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড) নির্বাচিত টিস্যুটিতে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঐ নিম্নতম তাপমাত্রায় রক্ত ও অক্সিজেন সঞ্চালন সম্ভব না হওয়ার দরুন রোগাক্রান্ত টিস্যুর ক্ষতিসাধন হয়। ক্রায়োসার্জারি চিকিৎসায় রোগাক্রান্ত টিস্যুর ধরন অনুযায়ী এবং নির্দিষ্ট শীতলতায় পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যাস যেমন- তরল নাইট্রোজেন, আর্গন, অক্সিজেন বা তরল কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহার করা হয়। অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির তুলনায় ক্যান্সার ও নিউরোসার্জারি চিকিৎসায় ক্রায়োসার্জারি অনেক সাশ্রয়ী এবং সময় কম লাগে। এ পদ্ধতিতে ব্যথা, রক্তপাত অথবা অপারেশনজনিত কাটা-ছেঁড়ার জটিলতা নেই। রোগীকে কোনো পূর্ব প্রস্তুতি নিতে হয় না এবং অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতাল’ পর্যন্তও রোগীকে নিতে হয় না।

d দৃশ্যকল্প-২ এ ড. মামুন যে প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন তা ‘খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে অপরিহার্য— বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও।

উত্তর উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ ড. মামুন যে প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন তা হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। কৃষিসম্পদ উন্নয়নে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সহায়তা করছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-

বিশ্বের অনেক দেশেরই জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্য ঘাটতি একটি সাধারণ সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে বর্তমানে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রয়োগ করে খাদ্যশস্য বহুগুণে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এ বিষয়টি হাইব্রিড নামে বহুল পরিচিত। জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে জিন স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য অল্প সময়ে সুচারুরূপে স্থানান্তর করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবক বা উদ্যোক্তাগণের নিকট প্রচলিত প্রজননের তুলনায় এ প্রযুক্তিটি অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। আমাদের দেশেও এ প্রযুক্তির উপর বেশ কিছু সংস্থা কাজ করে অনেক উচ্চ ফলনশীল জাতের শস্যবীজ উৎপাদন করেছেন। এসব বীজ ব্যবহার করে শস্যও কয়েকগুণ হারে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। খাদ্যশস্য যেমন— ভুট্টা, ধান, তুলা, টমেটো, পেঁপেসহ অসংখ্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ানো, আগাছা সহিষ্ণু, পোকামাকড় প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন হচ্ছে। বিভিন্ন জাতের মৎস্য সম্পদ (বিশেষত মাগুর, কার্প, তেলাপিয়া ইত্যাদি) বৃদ্ধির জন্য জিন প্রকৌশলকে কাজে লাগানো হচ্ছে। প্রাণীর আকার ও মাংস বৃদ্ধি, দুধে আমিষের পরিমাণ বাড়ানো, ভেড়ার পশম বাড়ানোর কাজে.. জিন প্রকৌশলকে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে ।

উপরের বর্ণনার আলোকে দেখা যাচ্ছে, উচ্চ গুণাগুণসম্পন্ন উচ্চ ফলনশীল ফসলের জাত ও প্রাণিসম্পদ উদ্ভাবনের মাধ্যমে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সুতরাং বলা যায়, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি অপরিহার্য ।


Question 20

সরাসরি বিমান চালনা না করেও প্রযুক্তির কল্যাণে মি. X একজন বৈমানিক। কৃষিবিজ্ঞানী মি. Y উন্নত জাতের পাটবীজ উদ্ভাবন করেন এবং সেগুলো চাষ করে কৃষকরা উপকৃত হয়। তিনি তার গবেষণা কর্মের ডেটাসমূহ প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ করেন । Mymensingh · 2024

a নিউরাল নেট কী ?

b টপ টু ডাউন পদ্ধতিতে কাজ করার প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

c উদ্দীপকের বিমান প্রশিক্ষণ প্রযুক্তিটি বর্ণনা কর ।

উত্তর উদ্দীপকে বিমান প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। নিচে এ প্রযুক্তিটি বর্ণনা করা হলো-

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরিকৃত এমন এক ধরনের কৃত্রিম পরিবেশ, যা ব্যবহারকারীদের কাছে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যাতে তারা এটিকে বাস্তব পরিবেশ হিসেবে মনে করে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ব্যবহারকারী সম্পূর্ণরূপে একটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নিমজ্জিত হয়ে যায়। তথ্য আদান-প্রদানকারী বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস সংবলিত চশমা, headsets, gloves, suit ইত্যাদি পরিধান করার মাধ্যমে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে বাস্তবকে উপলব্ধি করা হয়। একটি typical VR format-এ একজন ব্যবহারকারী ত্রিমাত্রিক স্ক্রিন, সংবলিত, একটি হেলমেট পরে এবং তার মধ্যে দিয়ে বাস্তব থেকে অনুকরণকৃত অ্যানিমেটেড বা প্রাণবন্ত ছবি দেখে। Telepresence বা কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক জগতে উপস্থিত থাকার ভ্রমণ একটি গতি নিয়ন্ত্রণকারী সেন্সর দ্বারা প্রভাবিত করা হয়। গতি নিয়ন্ত্রণকারী সেন্সর এর মাধ্যমে স্ক্রিনে প্রদর্শিত ছবির গতিকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারকারীর গতির সাথে মেলানো হয়। যখন ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারকারীর গতির পরিবর্তন হয় তখন, স্ক্রিনে প্রদর্শিত দৃশ্যের গতিও পরিবর্তিত হয় । এভাবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারকারী কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক জগতের সাথে মিশে যায় এবং সেই জগতের একটি অংশে পরিণত হয়। বিমান প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ফ্লাইট সিমুলেশন পরিবেশ কৌশলের মাধ্যমে এমন এ ৩রি করা হয় যার ফলে প্রশিক্ষণার্থী মনে করেন তিনি সত্যিকারের বিমান নিয়ন্ত্রণ করছেন। এ পরিবেশে প্রশিক্ষণার্থী যথাযথভাবে বিমান চালনা প্রশিক্ষণ লাভ করতে সক্ষম হন।

d মি. Y এর কর্মকাণ্ডে যে প্রযুক্তিসমূহ নির্দেশিত হয়েছে তারা একে অপরের পরিপূরক বিশ্লেষণ সাপেক্ষে মতামত দাও ।

উত্তর উদ্দীপকে মি. Y এর কর্মকাণ্ডে যে প্রযুক্তিসমূহ নির্দেশিত হয়েছে তা হলো যথাক্রমে বায়োইনফরমেটিক্স এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। এ দুটি প্রযুক্তি যে একে অপরের পরিপূরক নিচে তা বর্ণনা করা হলো— উদ্দীপক অনুসারে মি. Y এর উন্নত জাতের পাটবীজ উদ্ভাবনের প্রযুক্তি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তার গবেষণা কর্মের ডেটা সংরক্ষণের প্রযুক্তি হলো বায়োইনফরমেটিক্স।

আমরা জানি, কোনো জীব থেকে জিন বা ডিএনএ ভিন্ন জীবে স্থানান্তর অথবা জিন পরিবর্তনের কৌশল হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি · যেমন ডিএনএ সিকোয়েন্সিং উদ্ভাবনের ফলে বিশ্বব্যাপী জৈবতর্থ্যের (বায়োইনফরমেশন) সমাহার দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই সাথে সমহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে কম্পিউটেশনাল কৌশল এবং তথ্যবিদ্যা বা ইনফরমেটিক্সের প্রয়োজনীয়তা। জন্ম নিলো বায়োইনফরমেটিক্স। এর যে কৌশল প্রয়োগ করে হিসাব-নিকাশ করা হয় সেগুলোর মধ্যে প্যাটার্ন রিকগনিশন, ডেটা মাইনিং, যান্ত্রিক শিক্ষা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে বর্তমানে জেনেটিক … ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সমস্যাগুলো কম্পিউটার প্রযুক্তি কৌশল (কম্পিউটেশনাল টেকনিক) ব্যবহার করে সমাধান করা হয়, যা বায়োইনফরমেটিক্স নামে পরিচিত। যেমন— কোনো একবার একটি নিউক্লিক এসিড ক্রম একত্রিত হয়ে গেলে বায়োইনফরমেটিক বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা হয় ক্রমটি পরিচিত জিনের অনুরূপ কি-না। অর্থাৎ একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বায়োইনফরমেটিক্স একে অপরের পরিপুরক।


Question 21

বর্তমান যুগে সৈনিকরা একটি বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘরে বসেই কৃত্রিম পরিবেশে যুদ্ধের বিভিন্ন কৌশল রপ্ত করতে পারেন। প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রবেশের জন্য একটি ডিভাইসে আঙুলের ছাপ এবং অপর একটি ডিভাইসের দিকে তাকাতে হয় Barisal · 2024

a বায়োইনফরমেটিক্স কী?

b বর্তমানে চিকিৎসকদের পাশাপাশি যন্ত্রও সার্জারির কাজ করছে-ব্যাখ্যা কর।

c উদ্দীপকে সৈনিকদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে সৈনিকদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। নিচে এ প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা করা হলো-

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো হার্ডওয়‍্যার ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরিকৃত এমন এক ধরনের কৃত্রিম পরিবেশ, যা ব্যবহারকারীদের কাছে উপস্থাপন করা হলে এটিকে বাস্তব পরিবেশ বলে মনে হয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশ তৈরির জন্য শক্তিশালী কম্পিউটারে সংবেদনশীল গ্রাফিক্স ব্যবহার করতে হয়। সাধারণ গ্রাফিক্স আর ভার্চুয়াল জগতের গ্রাফিক্সের মধ্যে তফাত হলো এখানে শব্দ এবং স্পর্শকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যবহারকারীরা যা দেখে এবং স্পর্শ করে তা বাস্তবের কাছাকাছি বোঝানোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি চশমা বা হেলমেট (HMD: Head Mounted Display) ছাড়াও অনেক সময় হ্যান্ড গ্লাভস, বুট, স্যুট ব্যবহার করা হয়। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটারে গ্রাফিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে দূর থেকে পরিচালনা করার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। একে টেলিপ্রেজেন্স বলা হয়। এছাড়াও এ পদ্ধতিতে বাস্তবভিত্তিক শব্দও সৃষ্টি করা হয়, যাতে মনে হয়, শব্দগুলো বিশেষ বিশেষ স্থান হতে উৎসারিত হচ্ছে।

এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প সময়ে ও নিখুঁতভাবে সৈনিকদের অস্ত্র চালনা প্রশিক্ষণ, আধুনিক যুদ্ধান্ত্রের ব্যবহার, রাতে যুদ্ধ পরিচালনা, ডুবোজাহাজ চালনা ইত্যাদি বিষয়ে সহজেই প্রশিক্ষণ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে।

d উদ্দীপকে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রবেশে ব্যবহৃত প্রযুক্তির পদ্ধতি দুইটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

উত্তর উদ্দীপকে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রবেশের প্রথম পদ্ধতিটি হলো বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তির আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গার প্রিন্ট এবং দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো আইরিশ বা রেটিনা স্ক্যান পদ্ধতি। নিচে এ পদ্ধতি দুটির মধ্যে তুলনা করা হলো-

মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট সম্পূর্ণ ইউনিক এবং সারাজীবন ধরে অপরিবর্তিত থাকে। প্রত্যেক ব্যক্তির ফিঙ্গার প্রিন্ট এতোটাই স্বতন্ত্র দুটি যমজ শিশু একই ডিএনএ প্রোফাইল নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে আলাদা করা যায়। ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবহার করে অফিসে প্রবেশ নিশ্চিত করতে পূর্বেই ব্যবহারকারীর আঙুলের ছাপ ডেটাবেজে সংরক্ষণ করতে। হয়। পরবর্তীতে ফিঙ্গার প্রিন্ট রিডার ঐ ব্যবহারকারীর আঙুলের নিচের অংশের ত্বককে রীড করে সংরক্ষিত ছাপের সাথে তুলনা করে এবং মিলে গেলে অ্যাকসেস প্রদান করে। এ পদ্ধতিতে সফলতার পরিমাণও বেশি। ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানারের দাম তুলনামূলকভাবে কম এবং সহজে সিস্টেম বুঝতে পারে। এ কারণে ফিঙ্গার প্রিন্ট বা হাতের স্পর্শ পদ্ধতিই বহুল ব্যবহৃত। অন্যদিকে চোখের রেটিনা পদ্ধতিতেও একইভাবে ব্যক্তি শনাক্ত করা গেলেও এর সফলতার হার তুলনামূলকভাবে কম। এক্ষেত্রে চোখের আইরিশ বা রেটিনা স্ক্যানার হিসেবে ডেটা ইনপুট করে অ্যাকসেস কন্ট্রোল কাজ করে। কিন্তু আইরিশ ও রেটিনা স্ক্যান অনেক সময় সিস্টেম সহজে বুঝতে পারে না। তাছাড়া ডিভাইসটির দামও বেশি। তাই ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রযুক্তি বেশি নির্ভরযোগ্য।


Question 22

Dhaka · 2023

a ন্যানো টেকনোলজি কী?

b বর্তমানে ড্রাইভারবিহীন গাড়িতেও যাতায়াত করা যায়। ব্যাখ্যা কর।

c উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ (?) চিহ্নিত স্থানে প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ (?) চিহ্নিত স্থানের প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। জীবদেহে জীনোমকে প্রয়োজন অনুযায়ী সাজিয়ে কিংবা একাধিক জীবের জীনোমকে জোড়া লাগিয়ে নতুন বা প্রাণীর বৈশিষ্ট্যের বাহক হচ্ছে জিন ৷ অন্যদিকে জিনোম হলো জীবের বৈশিষ্ট্যের নকশা বা বিন্যাস। কোনো উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন করতে চাইলে উক্ত উদ্ভিদের জিনোমের কোনো একটি ডিএনএ’র একটি অংশ, তাই একটা জিনকে পরিবর্তন করতে হলে ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ’র সেই অংশটুকু কেটে আলাদা করে অন্য কোনো প্রাণী বা ব্যাকটেরিয়া থেকে আরেকটি জিন কেটে এনে সেখানে লাগিয়ে দিতে হয়। এর ফলে একটি নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কাঙ্ক্ষিত উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে কৃষি, চিকিৎসা ও ঔষুধ শিল্পে, গৃহপালিত পশু ও মৎস উন্নয়নে ৷ দুগ্ধজাত দ্রব তৈরিতে, পরিবেশ ব্যাবস্থাপনায়, ফরেনসিক টেস্টের ক্ষেত্রে বাপকভাবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে।

d চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত প্রযুক্তিটির ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

উত্তর উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত প্রযুক্তিটি হলো রোবটিক্স ৷ চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হলো আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ তথা স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রচলিত উৎপাদন ও শিল্প ব্যবস্থার স্বংক্রিয়করণের একটি চলমান প্রক্রিয়া৷

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে ব্যবহৃত হবে স্বয়ংক্রিয় মেশিন, অ্যাপস ডিভাইস আর মানুষের বিকল্প হিসেবে রোবট কাজ করবে। এক্ষেত্রে যানবাহন গাড়ির কারখানায় কম্পিউটার এইডেড ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে রোবট ব্যবহার করা যাবে। শিল্পক্ষেত্রে জটিল ও বিপজ্জনক কাজগুলো যেমন- ঢালাই, ভারী মালামাল উঠানামা করানো, যন্ত্রাংশ সংযোজন, ওয়েল্ডিং প্রভৃতি কাজ রোবটের মাধ্যমে করানো যায়। রোবট অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোসার্কিটের উপাদান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করতে পারে, যা মানুষের পক্ষে অসম্ভব। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোবট ব্যবহার করা হয়। যেমন- রোবট কয়েকশ ফুট দূর থেকে অন্ধকারে আগন্তুককে দেখতে পায়। মাইক্রোওয়েভে ভিশনের মাধ্যমে যেকোনো অধাতব দেয়ালের অপর পাশে কি আছে তা দেখতে পায়, গোলাগুলি পরিস্থিতি দেখতে রোবট ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসাক্ষেত্রেও রোবট ব্যবহার করা হয়। মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে রোবট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষের পরিবর্তে এখন বিভিন্ন মহাকাশ অভিযানে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে যা বিভিন্ন গ্রহে পৌছে তার নানা তথ্য আমাদের দিতে পারছে । এছাড়াও সামরিক ক্ষেত্রে, খনির অভ্যন্তরে কাজ করতে, রান্না করতে বিভিন্ন রেন্টুরেন্টে, প্রাত্যহিক বিভিন্ন ঘরের কাজে রোবটের ব্যবহার আছে। রোবটের এ ধরনের ব্যবহার চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের গতি ত্বরান্বিত করছে। উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, চতুর্ত শিল্পবিপ্লবের ক্ষেত্রে রোবটিক্সের ভূমিকা বর্ণনাতীত। 


Question 23

ডা. জে. সি. দেব নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য জাপান গিয়েছিলেন। বিশেষ ব্যবস্থায় কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থেকে তিনি এই চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে দেশে ফিরে এসেছেন। এখন তার কাছে রোগী এলে তিনি বিশেষ কিছু জটিল রোগের অপারেশনে সফলতার সাথে এই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকেন। Dhaka · 2023

a CAD কী?

b ‘আচরণিক ডেটা’ ব্যাখ্যা কর।

c উদ্দীপকে উল্লিখিত ডাক্তারের প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত ডাক্তারের প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রযুক্তিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরিকৃত এমন একধরনের কৃত্রিম পরিবেশ, যা ব্যবহারকারীদের কাছে উপস্থাপন করা হলে এটিকে বাস্তব পরিবেশ বলে মনে হয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশ তৈরির জন্য শক্তিশালী কম্পিউটারে সংবেদনশীল গ্রাফিক্স ব্যবহার করতে হয়। সাধারণ গ্রাফিক্স আর ভার্চুয়াল জগতের গ্রাফিক্সের মধ্যে তফাত হলো এখানে শব্দ এবং স্পর্শকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যবহারকারীরা যা দেখে এবং স্পর্শ করে তা বাস্তবের কাছাকাছি বোঝানোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি চশমা বা হেলমেট (Head Mountained Display) ছাড়াও অনেক সময় হ্যান্ড গ্লাভস, বুট, স্যুট ব্যবহার করা হয়। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটারে গ্রাফিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে দূর থেকে পরিচালনা করার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। একে টেলিপ্রেজেস বলা হয়৷ এছাড়াও এ পদ্ধতিতে বাস্তবভিত্তিক শব্দও সৃষ্টি করা হয় যাতে মনে হয় শব্দগুলো বিশেষ বিশেষ স্থান হতে উৎসারিত হচ্ছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অনেক ক্ষেত্রেই আজ ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমানে সার্জিক্যাল প্রশিক্ষণে এমআইএসটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ল্যাপরোস্কোপিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এ পদ্ধতিতে কম্পিউটার সিমুলেশন ব্যবহার করে ল্যাপরোস্কোপির পরিচালনার বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়। শিক্ষানবিস ডাক্তারগণ এর ফলে অত্যন্ত সহজে ও সুবিধাজনক উপায়ে বাস্তবে অপারেশন থিয়েটারে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

d উদ্দীপকে উল্লিখিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবদান মূল্যায়ন কর।

উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় চিকিৎসা পদ্ধতি হলো ক্রায়োসার্জারি। এ চিকিৎসা পদ্ধতিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্রায়োসার্জারি এক ধরনের কাটা ছেঁড়াবিহীন চিকিৎসা পদ্ধতি। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অত্যধিক শীতল তাপমাত্রার গ্যাস মানব শরীরে প্রয়োগ করে অপ্রত্যাশিত ও অস্বাভাবিক রোগাক্রান্ত টিস্যু/ত্বক কোষ ধ্বংস করার কৌশল হলো ক্রায়োসার্জারি। মানব শরীরের ত্বক উপরিস্থ বিভিন্ন রোগ যেমন আঁচিল, ফুসকুড়ি, প্রদাহ, ক্ষতিকর ক্ষত ইত্যাদি ক্ষেত্রে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বিশেষ করে শরীরের অভ্যন্তরস্থ অঙ্গ-প্রতঙ্গ সমূহের রোগ যেমন- ক্যান্সার, ক্ষত, প্রদাহ ইত্যাদিতে আক্রান্ত কোষগুলোর অবস্থান সিমুলেটেড সফটওয়্যার দ্বারা চিহ্নিত করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে আইসিটি যন্ত্রপাতি কোষ/অংশের ক্ষতস্থান শনাক্ত করে অত্যন্ত সূক্ষ্ম সূচযুক্ত নলের মাধ্যমে ক্রায়োজনিক বিভিন্ন গ্যাস আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করা হয়। ক্রায়োসার্জারিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা অনেক বেশি, যেমন আক্রান্ত কোষ বা টিস্যুর অবস্থান নির্ণয়ে এবং সমস্ত কার্যাবলি পর্যবেক্ষণের কাজে সারাক্ষণ কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়। সেজন্য ক্রায়োসার্জারিতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় অভিজ্ঞ করে তুলতে ডাক্তারদের প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়। রোগীর তথ্য চিকিৎসার গবেষণার ফলাফল ইত্যাদি সংরক্ষণের জন্য কম্পিউটার ডেটাবেজ সিস্টেম প্রয়োজন হয়।

উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, ক্রায়োসার্জারি চিকিৎসা পদ্ধতির বেশির ভাগই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর৷


Question 24

মি. সাজ্জাদ কৃষি বিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, তিনি উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান উৎপাদনের জন্য গবেষণা করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ মুখে আচিলের সমস্যায় ভূগছেন। অবশেষে তিনি তার বন্ধু ডাক্তার ফুয়াদের কাছে চিকিৎসার জন্য গেলে ডাক্তার শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগ করে রক্তপাত ছাড়াই আচিল অপারেশন করলেন। Rajshahi · 2023

a ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কী?

b আইসিটি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নত দেশ গঠনে অপরিহার্য- ব্যাখ্যা কর।

c ডাক্তার ফুয়াদের চিকিৎসা পদ্ধতি বর্ণনা কর।

উত্তর উদ্দীপকে ডাক্তার ফুয়াদের শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগ করে করা চিকিৎসা পদ্ধতি হলো ক্রায়োসার্জারি৷

ক্রায়োসার্জারি এক ধরনের কাটা ছেঁড়াবিহীন চিকিৎসা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে অত্যধিক শীতল তাপমাত্রার গ্যাস মানব শরীরে প্রয়োগ করে অস্বাভাবিক বা অপ্রত্যাশিত রোগাক্রান্ত টিস্যু/ত্বক কোষকে ধ্বংস করা হয়। এ পদ্ধতির চিকিৎসায় প্রথমেই সিম্যুলেটেড সফটওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত কোষগুলোর (যেমন- আঁচিল, ফুসকুড়ি, প্রদাহ ইত্যাদি) অবস্থান ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে মাইক্রো ক্যামেরাযুক্ত নল প্রবেশ করিয়ে রোগাক্রান্ত কোষ/অংশের ক্ষতস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর রোগাক্রান্ত কোষটিতে আল্ট্রা থিন সূচযুক্ত ক্রায়োপ্রোব প্রবেশ করিয়ে নির্ধারিত ক্রায়োজেনিক গ্যাস প্রয়োগ করা হয়। তাপমাত্রা অত্যধিক হ্রাসের ফলে (-8১ থেকে -১৯৬ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড) নির্বাচিত টিস্যুটিতে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ নিম্ন তাপমাত্রা -২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে নামিয়ে আনা হয়। ফলে এ নিম্নতম তাপমাত্রায় রক্ত ও অক্সিজেন সঞ্চালন সম্ভব না হওয়ার দরুণ রোগাক্রান্ত টিস্যুর ক্ষতিসাধন হয়। ক্রায়োসার্জারি চিকিৎসায় রোগের আক্রান্ত স্থান ও রোগের ধরন অনুযায়ী এবং নির্দিষ্ট শীতলতায় পৌঁছানোর জন্য তরল নাইট্রোজেন, আর্গন, অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড ইত্যাদি গ্যাস ব্যবহার করা হয়। অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির তুলনায় ক্রায়োসার্জারি অনেক সাশ্রয়ী এবং সময় কম লাগে। এ পদ্ধতিতে ব্যথা, রক্তপাত অথবা অপারেশনজনিত কাটা-ছেঁড়ারও জটিলতা নেই ।

d সাজ্জাদ সাহেবের গবেষণায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি ওষুধ তৈরিতে কীভাবে সহায়তা করছে তা বিশ্লেষণসহ আলোচনা কর।

উত্তর উদ্দীপকে সাজ্জাদ সাহেবের গবেষণায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। ওষুধ তৈরিতে এ প্রযুক্তি যেভাবে সহায়তা করছে তা নিচে বর্ণনা করা হলো-

জিন প্রযুক্তির সাফল্যময় অবদান হচ্ছে ক্লোনকৃত জিন থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েক প্রকার প্রোটিন তৈরি করা। এসব প্রোটিন জটিল রোগ নিরাময়ে মানুষের চিকিৎসায় অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ইতোমধ্যে যেসব জৈব রাসায়নিক প্রোটিনসমূহ আবিষ্কার করা হয়েছে সেগুলো হলো- ইনসুলিন, হিউম্যান গ্রোথ হরমোন, ইন্টারফেরন ইত্যাদি৷ ইনসুলিন ডায়াবেটিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসা ক্ষেত্রে E.coli ব্যাকটেরিয়া থেকে ইনসুলিন তৈরি, ঈস্ট থেকে হরমোন তৈরি ছাড়াও বামনত্ব, ভাইরাসজনিত রোগ, এইডস, ক্যান্সার ইত্যাদির চিকিৎসায় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারফেরন হচ্ছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রোটিনের একটি গ্রপ। এ প্রোটিন দেহকোষকে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং এন্টিবডি উৎপাদনে বাধা দেয় । জেনেটিক্যাল উপায়ে উৎপাদিত নিয়ন্ত্রণকারী হিউম্যান গ্রোথ হরমোন পোড়া ত্বক ফেটে যাওয়া হাড় এবং খাদ্য নালির আলসার চিকিৎসায় ব্যবহূত হয়। জীবপ্রযুক্তির, ব্যবহার করে ভ্যাক্সিন উৎপাদন করা হচ্ছে, ফলে মানুষ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা থেকে রক্ষা পাচ্ছে। বিভিন্ন ভাইরাস জনিত রোগ ক্যান্সার, এইডস ইত্যাদির চিকিৎসায়ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে।


Question 25

ডা. ইফাদ অত্যধিক শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা করেন। তার চেম্বারের প্রবেশ পথে প্রথম দরজায় আঙ্গুল এবং দ্বিতীয় দরজায় সম্পূর্ণ হাত একটি মেশিনের উপর রাখতে হয়। Comilla · 2023

a ন্যানোটেকনোলজি কী?

b ঝুকিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রটি কীভাবে মানুষের বিকল্প হিসেবে কাজ করে?

c ডা. ইফাদের চিকিৎসা প্রযুক্তি বর্ণনা কর।

উত্তর উদ্দীপকে ডা. ইফাদের চিকিৎসা প্রযুক্তি হলো ক্রায়োসার্জারি ৷ ক্রায়োসার্জারি এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি, যা অত্যধিক শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগের মাধ্যমে ত্বকের অস্বাভাবিক বা অপ্রত্যাশিত রোগাক্রান্ত টিস্যু কোষ ধ্বংস করার কাজে ব্যবহৃত হয়। এ পদ্ধতির চিকিৎসায় প্রথমেই সিম্যুলেটেড সফটওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত কোষগুলোর (যেমন- ক্যান্সার ইত্যাদি) অবস্থান ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে রোগাক্রান্ত কোষটিতে আল্ট্রা থিন সুচযুক্ত ক্রায়োপ্রোব প্রবেশ করিয়ে নির্ধারিত ক্রায়োজেনিক গ্যাস প্রয়োগ করা হয়। তাপমাত্রা অত্যধিক হ্রাসের ফলে (-৪১ থেকে -১৯৬ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড) নির্বাচিত টিস্যুটিতে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঐ নিম্নতম তাপমাত্রায় রক্ত ও অক্সিজেন সঞ্চালন সম্ভব না হওয়ার দরুণ রোগাক্রান্ত টিস্যুর ক্ষতিসাধন হয়। ক্রায়োসার্জারি চিকিৎসায় রোগাক্রান্ত টিস্যুর ধরন অনুযায়ী এবং নির্দিষ্ট শীতলতায় পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যাস যেমন- তরল নাইট্রোজেন, আর্গন, অক্সিজেন বা তরল কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহার করা হয়। অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির তুলনায় ক্যান্সার ও নিউরোসার্জারি চিকিৎসায় ক্রায়োসার্জারি অনেক সাশ্রয়ী এবং সময় কম লাগে৷ এ পদ্ধতিতে ব্যথা, রক্তপাত অথবা অপারেশনজনিত কাটা-ছেঁড়ার জটিলতা নেই। রোগীকে কোনো পূর্ব প্রস্তুতি নিতে হয় না এবং অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতাল পর্যন্তও রোগীকে নিতে হয় না।

d ডা. সাহেবের চেম্বারে প্রবেশ পথে ব্যবহৃত প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে কোনটি জনপ্রিয়- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর উদ্দীপকে ডা. সাহেবের চেম্বারের প্রবেশ পথে ব্যবহৃত প্রথম দরজার প্রযুক্তি হলো ফিঙ্গার প্রিন্ট এবং দ্বিতীয় দরজার প্রযুক্তি হলো হ্যান্ড জিওমেট্রি ৷ এ দুই প্রযুক্তির মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি বেশি জনপ্রিয়।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট হচ্ছে বহুল পরিচিত একটি বায়োমেট্রিক্স ডিভাইস যার সাহায্যে মানুষের আঙ্গুলের ছাপকে ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে তা পূর্ব হতে সংরক্ষিত আঙ্গুলের ছাপের সাথে মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এই পদ্ধতি ব্যবহারে খরচ খুবই কম। শনাক্তকরণে খুব কম সময় লাগে এবং সফলতার হার প্রায় শতভাগ। এছাড়াও এ পদ্ধতি সহজেই অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা প্রদান, প্রকৃত কর্মীদের শনাক্তকরণে সহজেই ব্যবহার করা যায়।

অন্যদিকে হ্যান্ড জিওমেট্রি পদ্ধতিতে মানুষের হাতের আকার ও গঠন বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। এ প্রযুক্তির সাহায্যেও ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করা যায়। তবে এটি ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রযুক্তির তুলনায় অত্যন্ত ব্যয়বহুল ৷ কায়িক পরিশ্রম করা ব্যক্তিদের জন্য এ পদ্ধতি বেশি কার্যকর হয় না। হাতে কিছু লেগে থাকলেও এ প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরিলক্ষিত হয় না। হ্যান্ড জিওমেট্রি পদ্ধতির এসব অসুবিধার কারণে এর ব্যবহার সীমিত পরিসরে লক্ষ করা যায়।

তাই বলা যায় ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রযুক্তি অনেক জনপ্রিয় হ্যান্ড জিওমেট্রি পদ্ধতি থেকে।


Question 26

একজন যন্ত্র প্রকৌশলী বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি মেমোরি ডিভাইস তৈরি করেছেন যা আকারে ছোট কিন্তু তথ্য ধারণ ক্ষমতা বেশি। তিনি ডিভাইসটি উন্নত করার জন্য আরো একটি বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে কাল্পনিক ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরি করলেন। Dinajpur · 2023

a বায়োমেট্রিক্স কাকে বলে?

b কোন প্রযুক্তিতে সারা বছর আমের ফলন সম্ভব? ব্যাখ্যা কর।

c উল্লিখিত মেমোরি ডিভাইস তৈরির প্রযুক্তি বর্ণনা কর।

উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত মেমারি ডিভাইস তৈরির প্রযুক্তিটি হলো ন্যানো টেকনোলজি। নিচে এ প্রযুক্তিটি বর্ণনা করা হলো:

বিজ্ঞানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১ থেকে ১০০ ন্যানোমিটার আকৃতির কোনো কিছু তৈরি করা এবং ব্যবহার করা প্রযুক্তি হলো ন্যানোপ্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি। ন্যানোপ্রযুক্তির দুটি পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়। যথা-ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ এবং বৃহৎ থেকে ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ পদ্ধতিতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আণবিক উপাদান থেকে শুরু করে ধীরে বড় কোন জিনিস তৈরি করা যায়। অন্যদিকে বৃহৎ থেকে ক্ষুদ্র পদ্ধতিতে একটি বড় আকৃতির কিছু থেকে শুরু করে তাকে ভেঙে ছোট করতে করতে ক্ষুদ্রতিক্ষুদ্র আকৃতিতে পরিণত করা যায়। ন্যানোপ্রযুক্তি বহুমাত্রিক, এর সীমানা প্রচলিত সেমিকন্ডাক্টর পদার্থবিদ্যা থেকে অত্যাধুনিক আণবিক স্বয়ং-সংশ্লেষণ প্রযুক্তি পর্যন্ত আণবিক কাঠামো নিয়ন্ত্রণ থেকে নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ন্যানো পদার্থের উদ্ভাবন পর্যন্ত বিস্তৃত। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে বৃহৎ স্কেলে পণ্যোৎপাদন সম্ভব হচ্ছে এবং উৎপাদিত পণ্য আকারে সূক্ষ্ম ও ছোট হলেও অত্যন্ত মজবুত, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, টেকসই ও হালকা হয়।

d উদ্দীপকে উল্লিখিত ডিভাইসটি উন্নত করার প্রযুক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত ডিবাসটি উন্নত করার জন্য কাল্পনিক ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরি। অর্থাৎ ডিভাইসটি উন্নত করার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নানা ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। যেমন – 

১. বিনোদন ক্ষেত্রে: ভার্চুয়ালিটি এক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। আজকালকার প্রায় প্রতিটি চলচ্চিত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহৃত পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে নানা ধরনের কম্পিউটার গেম তৈরি করা হচ্ছে। মিউজিয়াম ও ঐতিহাসিক স্থানের দৃশ্য তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। 

২. যানবাহন চালান ও প্রশিক্ষণে: বিমান, মোটরগাড়ি, জাহাজ ইত্যাদি চালানোর প্রশিক্ষণের সংশ্লিষ্ট সিম্যুলেটর ও মডেলিং সফটওয়্যার এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ -সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে বাস্তবে ন্যায় প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। 

৩. শিক্ষা ও গবেষণায়: শিখন-শেখানো কার্যক্রমে জটিল বিষয়গুলোকে সিমুলেশন ও মডেলিং করে শিক্ষার্থীদের সামনে সহজবোধ্য ও চিওাকর্ষভাবে উপস্থাপন করা যায়। গবেষণালব্ধ ফলাফল বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন, জটিল অনুর আনুবিক গঠন,ডিএনএ গঠন সিম্যুলেশন এর মাধ্যমে দেখা যায়। 

৪. চিকিৎসা ক্ষেত্রে: জটিল অপারেশন কৃএিম অঙ্গ -প্রত্যঙ্গ সংযোজন ডিএনএ পর্যালোচনা ইত্যাদি সহ শল্য চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও রোগ নির্ণয়ের ব্যাপক হারে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়। 

৫. সামরিক প্রশিক্ষণে: ভার্চুয়াল রিলেটির মাধ্যমে সত্যিকারের যুদ্ধক্ষেত্রে আবহ তৈরি করে সৈনিকদেরকে উন্নত ও নিখুঁত প্রশিক্ষণ প্রদান করা যায়। 

৬. ব্যবসা-বাণিজ্য: উৎপাদিত ও প্রস্তাবিত পণের গুণগতমান, গঠন, বিপণন, সম্ভাব্যাতা যাচাই, মুল্যায়ন, বিপণণ কর্মী প্রশিক্ষণ ইত্যাদি সব ধরনের কার্যক্রমের সিমুলেশন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। 

উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায় আমাদের জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তির প্রভাব অনেক গুরুত্বপূর্ণ।


Question 27

একটি কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিতির সময় একটি যন্ত্রের উপর আঙুল রেখে উপস্থিতি নিশ্চিত করে। উক্ত কলেজের ICT ল্যাবে প্রবেশের সময় বিশেষ যন্ত্রের দিকে তাকানোর ফলে দরজা খুলে যায়। Dinajpur · 2023

a HTML এলিমেন্ট কী?

b ট্যাগের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

c উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির প্রযুক্তিটি বর্ণনা কর।

উত্তর উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির প্রযুক্তিটি হলো বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি। নিচে উক্ত প্রযুক্তিটি বর্ণনা করা হলো:মানুষের দৈহিক গঠন বা আচরণগত বৈশিষ্ট পরিমাপের ভিত্তিতে কোনা ব্যাক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করার জন্য বাবহৃত প্রযুক্তিই হলো বায়োমেট্রিক ৷ শারীরবৃত্তীয় বায়োমেট্রিক পদ্ধতির একটি কৌশল হলো ফিঙ্গারপ্রিন্ট। আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট হলো কোনো বাক্তিকে যথাযথভাবে শনাক্ত করার জনা উক্ত ব্যাক্তির আঙুলের ছাপকে শনাক্তকারী একক হিসেবে ব্যবহার করা। এক্ষেত্রে উক্ত ব্যাক্তির আঙুলের ছাপ পূর্ব হতেই আঙুলের ছাপ পড়তে পারে এমন মেশিনের (ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার) সাহায্যে ডেটাবেসে সংরক্ষণ করে রাখতে হয়। পরবর্তীতে যখন একই ব্যাক্তি ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারে আঙুল রাখে তখন যে আঙুলের ছাপের ছবি তৈরি হয় তা পূর্বে ডেটাবেসে রক্ষিত ছবির সাথে মিলিয়ে শনাক্তকরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে মেশিনটির আঙুলের রেখার বিন্যাস, ত্বকের টিস্যু এবং ত্বকের নিচের রক্ত সঞ্চালনের ওপর ভিত্তি করে ইলেকট্টোম্যাগনেটিক পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপচিত্র তৈরি করে। বায়োমেট্রিক্স ডিভাইসগুলোর মধ্যে বিশ্বজুড়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারের জনপ্রিয়তা সর্বাধিক৷ তুলনামূলকভাবে কম দামী, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সৃষ্টি এবং প্রচুর ডেটা রাখতে পারে বলে আজকাল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ও অন্যান্যদের প্রবেশ ও বের হবার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

d উদ্দীপকের প্রযুক্তিদ্বয়ের কোনটি অধিক নির্ভরযোগ্য? তোমার মতামত দাও।

উত্তর উদ্দীপকে কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির প্রক্রিয়াটি হচ্ছে আঙ্গুলের ছাপ (ফিঙ্গার প্রিন্ট) এবং ICT ল্যাবে প্রবেশের সময় বিশেষ যন্ত্রের দিকে তাকানোর প্রক্রিয়াটি হলো রেটিনা স্ক্যান৷ এ দুটি প্রযুক্তির মধ্যে ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রক্রিয়াটি বেশি নির্ভরযোগ্য৷

মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট সম্পূর্ণ ইউনিক এবং সারাজীবন ধরে অপরিবর্তিত থাকে। প্রত্যেক ব্যক্তির ফিঙ্গার প্রিন্ট এতোটাই স্বতন্ত্র যে দুটি যমজ শিশু একই ডিএনএ প্রোফাইল নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে আলাদা করা যায়। ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবহার করে অফিসে প্রবেশ নিশ্চিত করতে পূর্বেই বাবহারকারীর আঙুলের ছাপ ডেটাবেজে সংরক্ষণ করতে হয়। পরবর্তীতে ফিঙ্গার প্রিন্ট রিডার, এ ব্যবহারকারীর আঙুলের নিচের অংশের ত্বককে রীড করে সংরক্ষিত ছাপের সাথে তুলনা করে এবং মিলে গেলে আ্যাকসেস প্রদান করে। এ পদ্ধতিতে সফলতার পরিমাণও বেশি । ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানারের দাম তুলনামূলকভাবে কম এবং সহজে সিস্টেম বুঝতে পারে। এ কারণে ফিঙ্গার প্রিন্ট বা হাতের স্পর্শ পদ্ধতিই বহুল বাবহৃত। অন্যদিকে চোখের রেটিনা পদ্ধতিতেও একইভাবে ব্যক্তি শনাক্ত করা গেলেও এর সফলতার হার তুলনামূলকভাবে কম। এক্ষেত্রে চোখের আইরিশ বা রেটিনা স্ক্যানার হিসেবে ডেটা ইনপুট করে আকসেস কন্ট্রোল কাজ করে। কিন্তু আইরিশ ও রেটিনা স্ক্যান অনেক সময় সিস্টেম সহজে বুঝতে পারে না। তাছাড়া ডিভাইসটির দামও বেশি৷ তাই ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রযুক্তি বেশি নির্ভরযোগ্য।


Question 28

হিমেল ড্রাইল্যাব জৈব সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছিল। একদিন তোর বন্ধু তাকে একটি কক্ষে নিয়ে যায় এবং সেখানে তারা মহাশূন্য ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লাভ করল। Mymensingh · 2023

a রোবটিক্স কি?

b আচরণের মাধ্যমে ব্যক্তির শনাক্তকরণের পদ্ধতিটি বুঝিয়ে লেখ।

c হিমেল কোন প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে হিমেল জৈব সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে বায়োইনফরমেটিক্স প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েছে। নিচে প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা করা হলো-

জৈব তথ্য বিজ্ঞান তথা বায়োইনফরমেটিক্স এমন একটি কৌশল যেখানে ফলিত গণিত,তথ্য বিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রসায়ন এবং জৈব রসায়ন ব্যবহার করে জীববিজ্ঞানের সমস্যা সমূহ সমাধান করা হয়। এখানে ব্যবহৃত ডেটা সমূহ হলো ডিএনএ, জিন, অ্যামিনো এসিড এবং নিউক্লিক অ্যাসিড। এসব ডেটা কে ব্যবহার করে জৈব ও জেনেটিক তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং একত্রি করনের কাজ কম্পিউটারের মাধ্যমে করা হয়,যা জিনভিত্তিক নতুন ঔষধ আবিষ্কার এবং উন্নয়নের কাজে লাগে।

বায়োইনফরমেটিক্স বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ হলো বিশাল জৈব ভান্ডার কে সুশৃংখলভাবে সংরক্ষণ, এত সহজ বিচরণ এবং নির্ভরযোগ্য যেটা প্রদানের দায়িত্ব পালন করা হয়। যেকোনো ডাটার বিশ্লেষনের পূর্বে একেবারে অর্থহীন যেটাকে অর্থপূর্ণ জৈব তথ্য প্রদানের উপযোগী করতে কম্পিউটারের ডেটা প্রসেসিং টেকনিক ব্যবহার করা হয়। একটি বায়োইনফরমেটিক্স ডিভাইস সাধারণত তিনটি প্রধান কার্য সম্পাদন করে থাকে। যথা-

১. ডিএনএ ক্রম থেকে প্রোটিন সিকোয়েন্স নির্ণয় করা।

২. প্রোটিন থেকে প্রোটিন স্ট্রাকচার নির্ণয় করা।

৩. প্রোটিন স্ট্রাকচার থেকে প্রোটিনের কাজ নির্ণয় করা।

d কক্ষে কোন প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে? প্রাত্যহিক জীবনে ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

উত্তর উদ্দীপকে মহাশূন্য ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লাভ করার কক্ষে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এই প্রযুক্তির ভূমিকা নিচে মূল্যায়ন করা হলো-

১. বিনোদন ক্ষেত্রে: ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এ ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। আজকালকার প্রায় প্রতিটি চলচ্চিত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে নানা ধরনের কম্পিউটার গেইম তৈরি করা হচ্ছে। মিউজিয়াম ও ঐতিহাসিক স্থানের দৃশ্যও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।

২. যানবাহন চালান ও প্রশিক্ষণে: বিমান, মোটরগাড়ি, জাহাজ ইত্যাদি চালানোর প্রশিক্ষণের সংশ্লিষ্ট সিমুলেটর ও মডেলিং সফটওয়্যার এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে বাস্তবের ন্যায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

৩. শিক্ষা ও গবেষণায়: শিখন-শেখানো কার্যক্রমের জটিল বিষয়গুলো সিমুলেশন ও মডেলিং করে শিক্ষার্থীদের সামনে সহজবদ্ধ ও চিত্রকর্ষকভাবে উপস্থাপন করা যায়। গবেষণা লব্ধ ফলাফল বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন, জটিল অণুর আণবিক গঠন, ডিএনএ-র গঠন সিমুলেশন এর মাধ্যমে দেখা যায়।

৪. চিকিৎসার ক্ষেত্রে: জটিল অপারেশন, কৃত্রিম অঙ্গ-প্রতঙ্গ সংযোজন, ডিএনএ পর্যালোচনা ইত্যাদি সহ রোগ নির্ণয়ে ব্যাপকহারে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়।

৫. সামরিক প্রশিক্ষণে: ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সত্যিকারের যুদ্ধক্ষেত্রের আবহাওয়া তৈরি করে সৈনিকদের উন্নত ও নিখুঁত প্রশিক্ষণ প্রদান করা যায়।

৬. ব্যবসা-বাণিজ্য: উৎপাদিত ও প্রস্তাবিত পণ্যের গুণগত মান, গঠন, বিপণন, সম্ভাব্যতা যাচাই, মূল্যায়ন, বিবরণ কর্মী প্রশিক্ষণ ইত্যাদি সব ধরনের কার্যক্রমে সিমুলেশন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।


Question 29

রাহবার উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো। সে তার এক বিদেশে বন্ধুর কাছ থেকে জানতে পারল যে, সে দেশে কিছু গাড়ি রয়েছে যেগুলো চলাচলে চালকের প্রয়োজন হয় না এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলাচলের সক্ষম। রাহবার তার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে ক্যাম্পাসের ভিতরে প্রবেশ করে দেখল যে, ক্যাম্পাসে একটি নির্দিষ্ট কক্ষে একদল শিক্ষার্থী ক্যান্সারের ওপর গবেষণা করছে। Sylhet · 2023

a ক্রায়োজেনিক এজেন্ট কি?

b সিমুলেটর ও মডেলিং সফটওয়্যার এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সম্ভব- ব্যাখ্যা কর।

c উদ্দীপকে উল্লেখিত গাড়ি চলাচলের ব্যবহৃত প্রযুক্তি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে উল্লেখিত চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় গাড়ি তৈরির প্রযুক্তিতে হলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এ ধরনের গাড়ির সামনের ড্রাইভার এর আসল খালি থাকে। গাড়ির স্টিয়ারিং হুইল একা একা ঘুরতে থাকে। গাড়ির ক্যামেরা, লেজার রশ্মির রিডার সিস্টেম, এবং রিডার থেকে পাওয়া ডাটা ব্যবহার করে গাড়িটি চলায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলতে বস্তুতপক্ষে যন্ত্রের বুদ্ধিমত্তাকে বোঝায়। অর্থাৎ কোন ঘটনা বা পরিস্থিতির স্বপক্ষে কোন যন্ত্র কি ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে তার সক্ষমতা পরিমাপন পদ্ধতি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। অর্থাৎ মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কৃত্রিম উপায়ে প্রযুক্তি নির্ভর করে যন্ত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে। বুদ্ধিমত্তা কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি শাখা। যেখানে, কতগুলো সমষ্টিগত গুন মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার দ্বারা অনুসরণকৃত করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য কম্পিউটারে বিশেষ প্রোগ্রাম ও ডেটা ঢুকানো হয় ।সমস্যা সমাধানের জন্য কম্পিউটারের মেমোরিতে সঞ্চিত তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কম্পিউটারের জটিল সমস্যার সমাধান করা হয়ে থাকে।

d বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তির সাথে গবেষণার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

উত্তর উদ্দীপকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হল বায়োমেট্রিক্স এবং গবেষণার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হল বায়ো ইনফরমেটিক। এই দুই প্রযুক্তির তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হল- 

১. বায়োমেট্রিক্স হল বায়োজিক্যাল ভিটা মাপা ও বিশ্লেষণ করার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। অন্যদিকে বায়ো ইনফরমেটিকস হল ফলিত গণিত, তথ্য বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমতা ও রসায়ন ব্যবহার করে জীববিজ্ঞানের সমস্যা গুলোর ব্যবহার করে সমাধান করার প্রযুক্তি। 

২. বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি মানুষের দেহের বৈশিষ্ট্য যেমন: ডিএনএ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, চোখের রেটিনা, কণ্ঠস্বর ও হাতের ছাপ ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে বৈধতা নির্ণয় করে। অন্যদিকে বায়ো ইনফরমেটিকস বায়োটিক্যাল ডাটা এনালাইসিস করার জন্য কম্পিউটার প্রযুক্তির, ইনফরমেশন থিওরি এবং গাণিতিক জ্ঞানকে ব্যবহার করে। 

৩. কম্পিউটার পদ্ধতির নিখুঁত নিরাপত্তার জন্য বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে মলিকুলার জেনেটিক্স এর ভিজুয়্যালাইজেশনকে সম্ভব করে তুলতে বায়োইনফরমেটিকস পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। 

৪. বায়োমেট্রিক প্রযুক্তিতে মানুষের বায়োটিক্যাল যেটা কম্পিউটার ডেটাবেসের সংরক্ষিত করে, পরবর্তীতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলিয়ে বৈধতা বিবেচনা করে। অন্যদিকে বায়োইনফরমেটিকস বিপুল পরিমাণে পুনরাবৃত্তিমূলক এবং A- পুনটাবৃত্তি মূলক তথ্যসমূহ কে সংরক্ষণের সহায়তা করে। প্যাটার্ন রিকগনিশন এবং এলগরিদম ডেটা মাইনিং করা হয়। 

৫. বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তিতে তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল প্রযুক্তি। অন্যদিকে বায়োইনফরমেটিকস অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রযুক্তি। 


Question 30

ডা. রাজিব মেডিকেল কলেজের ব্যবহারিক ক্লাসে রোগী ছাড়াই বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে হার্টের অপারেশনের অভিজ্ঞতা লাভ করেন। তিনি লং টেনিস খেলতে গিয়ে লক্ষ করলেন অন্যান্য বলের তুলনায় এ বলের স্থায়িত্ব অনেক বেশি। Jessore · 2023

a ক্রায়োপ্রোব কী?

b “ঝুকিপূর্ণ কাজ যন্ত্রের সাহায্যে করা সম্ভব”- বুঝিয়ে লিখ।

c উদ্দীপকের বলটি তৈরির প্রযুক্তি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে টেনিস বল তৈরির প্রযুক্তিটি হলো ন্যানোটেকনোলজি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে 1-100 ন্যানোমিটার আকৃতির কোন কিছু তৈরি করা এবং ব্যবহার করার প্রযুক্তি হলো ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি। ন্যানো প্রযুক্তির দুটি পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়। ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ এবং বৃহৎ থেকে ক্ষুদ্র। ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ পদ্ধতিতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আণবিক উপাদান থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে বড় জিনিস তৈরি করা হয়। অন্যদিকে বৃহৎ থেকে ক্ষুদ্র পদ্ধতিতে একটু বড় আকৃতির কিছু থেকে শুরু করে তাকে ভেঙ্গে ছোট করতে করতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আকৃতিতে পরিণত করা হয়। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৃহৎ স্কেলে পণ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে এবং উৎপাদিত পণ্য আকারে সূক্ষ্ম ও ছোট হলেও অত্যন্ত মজবুত, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, টেকসই ও হালকা হয়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আগামীতে দুরারোগ্য ব্যাধি হতে মুক্তি, প্রতিরক্ষায় ন্যানো রোবট, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বিশ্বব্যাপী বৃহৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কার্যকরী ও সস্তায় শক্তি উৎপাদন সহ পানি ও বায়ু দূষণ কমানোর সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

d ব্যবহারিক ক্লাসে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি দক্ষ জনবল তৈরিতে কোনো ভূমিকা রাখবে কী? বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও।

উত্তর উদ্দীপকে ব্যবহারিক ক্লাসের ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হল ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। দক্ষ জনবল তৈরিতে এ প্রযুক্তির ভূমিকা নিচে বর্ণনা করা হলো:

যেকোনো কাজ সফলতার জন্য দক্ষতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন সঠিক প্রশিক্ষণ। যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরিতে বর্তমান ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের জন্য পেশাজীবীদের বাস্তবসম্মত ও নিরাপদ প্রশিক্ষণে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশেষ করে চিকিৎসা, গাড়ি বা বিমান চালনা, সামরিক বা যুদ্ধ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রগুলোতে বিভিন্নভাবে শারীরিক কিংবা রিসোর্স গত যে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, সেগুলো সহজেই নিরাপদ করে তোলা সম্ভব। যেমন- বাস্তবে বিমান চালনা বা গাড়ি চালানায় দুর্ঘটনার শঙ্কা, চিকিৎসায় পরীক্ষা মূলক অপারেশন রোগীর প্রাণ সংহারের আশঙ্কা কিংবা সামরিক বা যুদ্ধ প্রশিক্ষণে সরাসরি আহত বা নিহত হওয়ার শঙ্কাগুলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটের মাধ্যমে পরাবাস্তব পরিবেশে একেবারেই নেই। কেননা এখানে সম্পূর্ণ কৃত্রিম পরিবেশ বা উপাদান ব্যবহার করে বাস্তবের ন্যায় অবিকল দৃশ্য, মডেল ও পরিবেশ তৈরি করা হয়, যেগুলো কোন কিছুই বাস্তব নয় আবার বাস্তব না হলেও এগুলো পুরোপুরি বাস্তবের মত বিধায় প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বাস্তবতার অভাবে প্রশিক্ষণটি অসম্পূর্ণ বা বিফলতার পর্যবসিত হয় না। আর এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। সুতরাং সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরিতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।


Question 31

দৃশ্যকল্প-১: সাম্প্রতিকালে আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে পৃথিবীতে বসেই কৃত্তিম পরিবেশের চন্দ্র ভ্রমনের অভিজ্ঞতা অর্জন সম্ভব হচ্ছে।

দৃশ্যকল্প-২: কৃষি ও প্রাণীসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

Chittagong · 2023

a ক্রায়োসার্জারি কী?

b “প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তি শনাক্তকরণ করা যায়”- ব্যাখ্যা কর।

c উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এর প্রযুক্তিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ বর্ণনা কর।

উত্তর উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এর প্রযুক্তিটি হল ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। এ প্রযুক্তিটি ব্যবহারের ক্ষেত্র সমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো।

১. বিনোদন ক্ষেত্রে: ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এর ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। আজকালকার প্রায় প্রতিটি চলচ্চিত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার পরিলক্ষিত। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে নানা ধরনের কম্পিউটার গেম তৈরি করা হচ্ছে। মিউজিয়াম ও ঐতিহাসিক স্থানের দৃশ্য তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।

২. যানবাহন চালানো ও প্রশিক্ষণে: বিমান, মোটরগাড়ি, জাহাজ ইত্যাদি চালানোর প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট সিমুলেটর ও মডেলিং সফটওয়্যার এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে বাস্তবের মত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

৩. শিক্ষা ও গবেষণায়: শিখন ও শেখানো কার্যক্রমে জটিল বিষয়গুলো সিভিলেশন ও মডেলিং করে শিক্ষার্থীদের সামনে সহজবোধ্য ও চিত্রাকর্ষ ভাবে উপস্থাপন করা হয়। গবেষণালব্ধ ফলাফল বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন, জটিল অনুর আণবিক গঠন, ডিএনএ গঠন সিমুলেশন এর মাধ্যমে দেখা যায়।

৪. চিকিৎসা ক্ষেত্রে: জটিল অপারেশন, কৃত্রিম অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সংযোজন, ডিএনএ পর্যালোচনা ইত্যাদি সহ নবীনশল্য চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও রোগ নির্ণয়ে ব্যাপক হারে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়।

৫. সামরিক প্রশিক্ষণে: ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সত্যিকার যুদ্ধক্ষেত্রের আবহাওয়া তৈরি করে সৈনিকদের উন্নত ও নিখুঁত প্রশিক্ষণ প্রদান করা যায়।

৬. ব্যবসা বাণিজ্য: উৎপাদিত ও প্রস্তাবিত পণ্যের গুণগত মান, গঠন, বিপণন, সম্ভাব্যতা যাচাই ও মূল্যায়ন ইত্যাদি সব ধরনের কার্যক্রম সিমুলেশন পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে হয়।

d দৃশ্যকল্প-২ এর প্রযুক্তিটি বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এর প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। বাংলাদেশের উন্নয়নে এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিচে তা বর্ণনা করা হলো –

বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। কৃষির উন্নয়ন মানেই এদেশের উন্নয়ন। কৃষি উন্নয়নকে সংস্থার করতে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্য ঘাটতি একটি সাধারণ সমস্যা। এ সমস্যার সমাধানের বর্তমান জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রয়োগ করে খাদ্যশস্য বহুগুনে উৎপাদন করা সম্ভব। এ বিষয়টি হাইব্রিড নামে বহুল প্রচলিত। জিন প্রকৌশল এর মাধ্যমে জিন স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় কাঙ্খিত বৈশিষ্ট্য অল্প সময়ে স্থানান্তর করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবক বা উদ্যোক্তাগনের নিকট প্রচলিত প্রজননের তুলনায় এ প্রযুক্তিটি অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। আমাদের দেশেও এ প্রযুক্তির ওপর বেশ কিছু সংস্থা কাজ করছে। অনেক উচ্চ ফলনশীল জাতের শষ্য বীজ উৎপাদন করেন। এসব বীজ ব্যবহার করে শস্য ও কয়েকগুণ হাড়ে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। সম্প্রীতি পাটের জিনোম সিকুয়েন্স আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে আমাদের দেশের সোনালী আঁশ পাট বিশ্বের দরবারে হারানো ঐতিহ্য পুনরায় প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বিভিন্ন খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, বিভিন্ন জাতের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির জন্য জিন প্রকৌশলকে কাজে লাগানো হচ্ছে। প্রাণের আকার ও মাংস বৃদ্ধি, দুধে আমিষের পরিমাণ বাড়ানো, ভেড়ার পশম বারানোর কাজে জিন প্রকৌশলকে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে। কৃষি ক্ষেত্র ছাড়াও চিকিৎসা ও ওষুধ শিল্পের উন্নয়নে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির ভূমিকা রাখছে, যা দেশের উন্নয়নকে তরান্বিত করছে।

উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, বাংলাদেশের উন্নয়নের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি বিশেষ ভূমিকা রাখছে।


Question 32

ডাঃ “ক” চিকিৎসায় ক্রায়োজেনিক এজেন্ট ব্যবহার করে নিম্ন তাপমাত্রায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। তিনি তার ওটিতে প্রবেশের জন্য একটি ডিভাইসে আঙ্গুল স্পর্শ করন। অন্যদিকে গবেষক “খ” তার কক্ষে প্রবেশ করার জন্য কণ্ঠস্বর ব্যবহার করেন। Barisal · 2023

a “স্মার্ট হোম” কী?

b “তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে দূরবর্তী রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব”।- ব্যাখ্যা কর।

c ডাঃ “ক” চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পদ্ধতি আলোচনা কর।

উত্তর উদ্দীপকে ডাঃ “ক” সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতিটি হলো ক্রায়োসার্জারি।

ক্রায়োসার্জারি এমন এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি, যা অত্যধিক শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগের মাধ্যমে তত্ত্বের অস্বাভাবিক বা অপ্রকাশিত রোগাক্রান্ত টিস্যু বাতোক ধ্বংস করার কাজে ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতি চিকিৎসায় প্রথমে সিমুলেটর সফটওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত কোষগুলোর অবস্থান এবং সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে রোগাক্রান্ত গোষ্ঠীতে আলট্রাথিনস যুক্ত ক্রায়োপ্রোব প্রবেশ করিয়ে নির্ধারিত ক্রায়োজেনিক গ্যাস প্রয়োগ করা হয়। তাপমাত্রা অত্যধিক হ্রাসের ফলে (-৪১থেকে -১৯৬ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেট) নির্বাচিত টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই নিম্নতম তাপমাত্রায় রক্ত ও অক্সিজেন সঞ্চালন সম্ভব না হওয়ার দরুন রোগাক্রান্ত টিস্যুর ক্ষতিসাধন হয়। ক্রায়োসার্জারি চিকিৎসায় রোগাক্রান্ত টিস্যুর ধরন অনুযায়ী এবং নির্দিষ্ট শীতলতায় পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যাস যেমন-তরল নাইট্রোজেন আর্গন, অক্সিজেন বা তরল কার্বন-ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করা হয়।

অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির তুলনায় ক্যান্সার ও নিউরোসার্জারি চিকিৎসায় ক্রায়োসার্জারি অনেক সাশ্রয়ী এবং সময় কম লাগে। এ পদ্ধতিতে ব্যথা ও রক্তপাত অথবা অপারেশন জড়িত কাঁটা ছেড়ার জটিলতা নেই। রোগীকে কোন পূর্ব প্রস্তুতি নিতে হয় না এবং অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতাল পর্যন্ত রোগীকে নিতে হয় না।

d ডাঃ “ক” ওটিতে প্রবেশ করার প্রযুক্তি এবং গবেষক “খ” তার কক্ষে প্রবেশ করার প্রযুক্তির মধ্যে কোনটি উত্তম? যুক্তিসহ মতামত দাও।

উত্তর উদ্দীপকে ডাঃ “ক” এর ওটিতে প্রবেশ করার প্রযুক্তিটি হল ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং গবেষক “খ” এর কক্ষে প্রবেশ করার প্রযুক্তিটি হল ভয়েস রিকগনিশন বা বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত।

বায়োমেট্রিক্স হল এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে কোন ব্যক্তির দেহের গঠন এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে তাকে অদ্বিতীয়ভাবে চিহ্নিত করা যায়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ভয়েস রিগকনিশন বায়োমেট্রিক্স এর দুটি শাখা।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট হচ্ছে বহুল পরিচিত একটি বায়োমেট্রিক্স ডিভাইস যার সাহায্যে মানুষের আঙ্গুলের ছাপ বা টিপসইকে ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে তা পূর্ব হতে সংরক্ষিত আঙ্গুলের ছাপ এর সাথে মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এই পদ্ধতি ব্যবহারে খরচ খুবই কম। শনাক্তকরণে সময় কম লাগে এবং সফলতার হার প্রায় শতভাগ।

অন্যদিকে ভয়েস রিকিগনিশন পদ্ধতিতে একজন ব্যবহারকারীর কণ্ঠস্বরকে ডেটাবেজে সংরক্ষিত ওই ভয়েস ফাইলের সাথে ব্যবহারকারীর ভয়েজের তুলনা করা হয়। এ পদ্ধতি সহজ ও কম খরচে গ্রহণযোগ্য হলেও এর সূক্ষ্মতা তুলনামূলকভাবে কম। ভয়েস নকল করে সহজে ধোকা দেওয়া যায়।

উপরোক্ত বিশ্লেষণ এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ভয়েজের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতিটি বেশি উত্তম।


Question 33

মি. এক্স গবেষণা করার উদ্দেশ্যে “ক” দেশে পৌঁছে বিমান থেকে নেমে ড্রাইভার বিহীন স্বয়ংক্রিয় গাড়ি চড়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছায়। সেখানে তাকে এমন একটি বাড়িতে থাকতে দেওয়া হয়, যার সবকিছুই আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।Barisal · 2023

a ই-কমার্স কি?

b “আগামী বিশ্ব হবে ন্যানো টেকনোলজির বিশ্ব”। ব্যাখ্যা কর।

c উদ্দীপকে উল্লেখিত গাড়িটি তৈরি করার প্রযুক্তি আলোচনা কর।

উত্তর উল্লেখিত ড্রাইভারবিহীন স্বয়ংক্রিয় গাড়ি তৈরির প্রযুক্তিটি হলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এ ধরনের গাড়ির সামনে ড্রাইভারের আসনটি খালি থাকে। গাড়ির স্টিয়ারিং হুইল একা একা ঘুরতে থাকে। গাড়ির ক্যামেরা, লেজার রশ্মির লিডার সিস্টেম এবং রাডার থেকে পাওয়া ডাটা ব্যবহার করে গাড়িটি চালায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলতে বস্তুত পক্ষে যন্ত্রের বুদ্ধিমত্তাকে বোঝায়। অর্থাৎ কোন মানুষের বুদ্ধিমত্তা বা চিন্তাশক্তিকে কৃত্রিম উপায়ে প্রযুক্তি নির্ভর করে যন্ত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি শাখা। যেখানে কতগুলো সমষ্টিগত গুণ মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার দ্বারা অনুসরণকৃত করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য কম্পিউটারে বিশেষ প্রোগ্রাম ও ডেটা ঢুকানো হয়। সমস্যার সমাধানের জন্য কম্পিউটারের মেমোরিতে সঞ্চিত তথ্য ও উপাত্তর বিশ্লেষণ করে কম্পিউটার জটিল সমস্যার সমাধান করে থাকে।

d সাধারণ বাড়ির তুলনায় উদ্দীপকের বাড়ির জনপ্রিয়তা দিনদিন বৃদ্ধি পাবার কারণ ব্যাখ্যা কর?

উত্তর উদ্দীপকে উল্লেখিত বাড়ি বলতে স্মার্টহোমকে বোঝানো হয়েছে। স্মার্টহোম হলো এক ধরনের ওয়ান স্টপ সার্ভিস পয়েন্টের মত, যেখানে বসবাসরত সকল উপযোজন পাওয়া যায় এবং গ্রাহককে ব্যবহার্য দ্রবাদের গুণগত মান নিশ্চিত করে এ সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা যায়। নানাবিথ সুবিধার কারণে স্মার্টহোমের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্মার্টহোমের উল্লেখযোগ্য কিছু সুবিধা হল-

১. বাড়ির সকল কিছুর নিয়ন্ত্রণ থাকে হাতের মুঠোয়।

২. আধুনিক সুরক্ষা সিস্টেম থাকায় বাড়িতে থাকে সুরক্ষিত।

৩. বাড়ির মালিক দূরবর্তী স্থানে থেকেও বাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

৪. বাড়ির ভিতরে আবহাওয়া গত উপাদান নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।

৫. বাড়ির সকল ডিভাইস এক জায়গা থেকেই পরিচালনার সুযোগ পাওয়া যায়।

৬. শরীরের অনুভূতির ওপর নির্ভর করে লাইটিং সিস্টেম কাজ করে।

৭. বাড়িতে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভয়েস কমান্ড ব্যবহার করে সুবিধা পাওয়া যায়।

উপরে বর্ণিত সুবিধাগুলো আরো অনেক বেশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের সুযোগ থাকায় সাধারণ বাড়ির তুলনায় স্মার্ট হোম এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। 


Question 34

মি.মোখলেস সাহেব পেশায় মৎসবিদ। দেশে মাছের ঘাটতি পূরণের জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন নতুন প্রজাতির মাছ উৎপাদন করেন। তার অফিসে প্রবেশের জন্য দরজার সামনে রাখা একটি মেশিনে আঙ্গুলের ছাপ দিলে দরজা খুলে যায়। অতঃপর তার কক্ষে প্রবেশের জন্য দরজার সামনে রাখা একটি মেশিনের দিকে তাকালে দরজা খুলে যায়। Dhaka · 2019

a রোবটিক্স কী?

b প্রযুক্তির ব্যবহারে মটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ সম্ভব- কথাটি ব্যাখ্যা কর।

c উদ্দীপকের আলোকে মাছ উৎপাদনের প্রযুক্তিটি বর্ণনা কর।

উত্তর উদ্দীপকের মাছ উৎপাদনের প্রযুক্তিটটি জেনেটিক ইন্ঞ্জিনিয়ারিং।

একটি উদ্ভিদ বা প্রাণীর বাহক হচ্ছে জিন। অন্যদিকে জিনোম হচ্ছে জীবের বৈশিষ্ট্যের নকশা বা বিন্যাস। কোনো প্রাণীর বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন করতে চাইলে উক্ত প্রাণীর জিনোমের কোনো একটি জিনকে পরিবর্তন করে দিতে হয়। যেহুতু জিনগুলো আসলে ডিএনএ’র একটি অংশ,তাই একটা জিনকে পরিবর্তন করতে হলে ল্যাবে ডিএনএ’র সেই অংশকে কেটে আলাদা করে অন্য কোনো প্রাণী বা ব্যাকটেরিয়া থেকে আরেকটি জিন কেটে এনে সেখানে লাগিয়ে দিতে হবে। এর ফলে, নতুন একটি বৈশিষ্ট্যের কাঙ্ক্ষিত প্রাণীর সৃষ্টি হয়।

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় মি.মোখলেস সাহেবের নতুন নতুন প্রজাতির মাছ উৎপাদনে ক্ষেত্রে উপরে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছে ন।

d উদ্দীপকের আলোকে অফিসে প্রবেশ ও কক্ষে প্রবেশের জন্য কৌশলের দুটির মধ্যে কোনটি বেশি সুবিধাজনক? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর উদ্দীপকের মি. মোখলেস সাহেবের অফিসে প্রবেশের প্রক্রিয়াটি হচ্ছে আঙ্গুলের ছাপ ( ফিঙ্গার প্রিন্ট ) এবং অফিসে প্রবেশের সময় তাকানো প্রক্রিয়াটি রেটিনা স্ক্যান। এ দুটি প্রযুক্তির মধ্যে ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রক্রিয়াটি বেশি সুবিধাজনক।

মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট সম্পূর্ণ ইউনিক এবং সারাজীবন ধরে অপরিবর্তিত থাকে। প্রতিটি ব্যক্তির ফিঙ্গার প্রিন্ট এতোটাই স্বতন্ত্র যে দুটি জমজ শিশু একই ডিএনএ প্রোফাইল নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে আলাদা করা যায়। ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবহার করে অফিসে প্রবেশ নিশ্চিত করতে পূর্বেই ব্যবহার কারীর আঙ্গুলের ছাপ ডেটাবেজে সংরক্ষণ করতে হয়। পরবর্তীতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার ঐ ব্যবহারকারীর আঙ্গুলের নিচের অংশের ত্বককে রীড করে সংরক্ষিত ছাপের সাথে তুলনা করে এবং মিলে গেলে অফিস এক্সেস প্রদান করে। এ পদ্ধতিতে সফলতার পরিমানও বেশি। ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারের দাম তুলনামূলক কম এবং সহজেই সিস্টেম বুঝতে পারে। এ কারণে এই পদ্ধতিটি বহুল ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে চোখের রেটিনা পদ্ধতিতেও একইভাবে ব্যক্তি শনাক্ত করা গেলেও এর সফলতার হার তুলনামূলক কম। এক্ষেত্রে চোখের আইরিশ বা রেটিনা স্ক্যানার হিসেবে ডেটা ইনপুট করে অ্যাকসেস কন্ট্রোল কাজ করে। কিন্তু আইরিশ ও রেটিনা স্ক্যান অনেক সময় সিস্টেম সহজে বুঝতে পারে না। তাছাড়া ডিভাইসটির দামও তুলনামূলক ভাবে বেশি। তাই ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রযুক্তি বেশি সুবিধাজনক।


Question 35

বাংলাদেশের রাজধানীর অদূরে তথ্য প্রযুক্তি প্রয়োগে একটি বিশ্বমানের শিল্প কারখানা স্থাপন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে অ্যাকচুয়েটর এর সাহায্যে দক্ষ হাতে কম্পিউটারের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি তৈরি করার মাধ্যমে দেশকে উন্নত ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাববলম্বী হতে সহায়তা করবে। উক্ত প্রতিষ্ঠানের দক্ষ প্রোগ্রামারগণ সিমুলেটেড পরিবেশ স্থাপন করে ঘরে বসে দর্শনার্থীদের শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান দেখার ব্যবস্থা করবেন। Rajshahi · 2019

a নিউরাল নেট কী?

b কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা এক ধরনের এক্সপার্ট সিস্টেম-বুঝিয়ে লিখ।

c শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি হল রোবট। যে প্রোগ্রাম সমৃদ্ধ মেশিন বা কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধারাবাহিক জটিল কার্যক্রম সমূহের নির্দেশকে বাস্তবায়ন করতে পারে তাই রোবট। রোবট হতে পারে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়, আধা স্বয়ংক্রিয়, রি-প্রোগ্রামেবল অথবা মানব নিয়ন্ত্রিত রোবট। রোবট তার স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম অনুসারে কাজ করে থাকে। শিল্প কারখানায় ভারী বস্তু নড়াচড়া করানো, প্যাকিং, সংযোজন, পরিবহন ইত্যাদি শ্রমসাধ্য কাজ ছাড়াও কম্পিউটার এইডেড এ রোবটিক্স এর ব্যবহার আছে। নিত্য-নতুন প্রয়োজনে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন নতুন ডিজাইন করে বিভিন্ন ধরনের রোবট তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি কাজের জন্য পৃথক পৃথকভাবে নির্দেশনা রোবটের মেমোরিতে পূর্ব থেকে ঠিক করে দেয়া হয়। প্রতিটি রোবট তাকে দেওয়া নির্দেশিত কাজটি শুধু করতে সক্ষম। রোবট অত্যন্ত দ্রুত, ক্লান্তিহীন এবং নিখুঁত কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় আধুনিক যন্ত্র। রোবট অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোসার্কিটের উপাদান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ও অবিশ্বাস্যভাবে পরীক্ষা করতে পারে যা মানুষের পক্ষে কঠিন ও অসম্ভব। শিল্প ক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বিজ্ঞানীরা শ্রমিক রোবট তৈরির ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছে। শিল্প কারখানায় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সিমুলেশন করা হয়। ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর পূর্বেই উৎপাদন সংক্রান্ত ঝুকি মোকাবেলা করা সহজ হচ্ছে।

d প্রোগ্রামারদের তৈরি প্রযুক্তি ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় কতটুকু ভূমিকা রাখে – মূল্যায়ন কর।

উত্তর উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী প্রোগ্রামারদের তৈরি প্রযুক্তিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো হার্ডওয়‍্যার ও সফটওয়‍্যারের মাধ্যমে তৈরিকৃত এমন এক ধরনের কৃত্রিম পরিবেশ, যা ব্যবহারকারীদের কাছে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যাতে তারা এটিকে বাস্তব পরিবেশ হিসেবে মনে করে। ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নিম্নরূপে ভূমিকা পালন করে-
ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে জাদুঘরে প্রাচীন বিষয়গুলো উপস্থাপন ও প্রদর্শন করা সম্ভব। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিষয় যেমন- কেনো প্রাচীন গুহা, ভাস্কর্য, ঐতিহাসিক ভবন, প্রত্নত্বাত্তিক নিদর্শন প্রভৃতি প্রদর্শনে ‘জাদুঘরে বা বিভিন্ন ঐতিাসিক গবেষণাতেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর ফলে জাদুঘরে যেমন আগত দর্শনার্থীরা এ সমস্ত বিষয়গুলো পরিদর্শনে জ্ঞান ও আনন্দ লাভ করতে পারেন তেমনি আধুনিক ঐতিহাসিক গবেষকরাও প্রাচীন পৃথিবী সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অনেক আছে, যা আমাদের জানা থাকলেও এগুলোর বাস্তব কোনো নির্দশন পাওয়া যায় নি। এসব বিষয়গুলোকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে উপস্থাপন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখা যাবে।


Question 36

শফিক সাহেব তার গবেষণাগারে দিনাজপুরের ঐতিহ্য ধারণের লক্ষ্যে লিচু নিয়ে গবেষণা করে, তার ফলাফল সংরক্ষণ করেন। তিনি গবেষণাগারের প্রবেশমুখে এমন একটি যন্ত্র বসিয়েছেন যেটির দিকে নির্দিষ্ট সময়ে তাকালে অনুমোদিত ব্যাক্তিবর্গ ভিতরে প্রবেশ করতে পারেন। Chittagong · 2019

a রোবট কী?

b “ন্যুনতম ধকল সহিষ্ণু শল্যচিকিৎসা পদ্ধতিটি” ব্যাখ্যা কর।

c গবেষণাগারের প্রবেশমুখে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে গবেষণাগারে প্রবেশ মুখে ব্যবহৃত প্রযুক্তি হল বায়োমেট্রিক্স এর চোখের মণি ও রেটিনা স্ক্যান।

একজন মানুষের চোখের মণি দৃশ্যমান রঙিন অংশ অপর কোন মানুষের চোখের মনের সাথে মিল পাওয়া যায় না। এটি অদ্বিতীয় ও স্থায়ী।চোখের মণির চারপাশে বেষ্টিত রঙিন বলয় বিশ্লেষণ করে এ পদ্ধতিতে সনাক্তকরণ করা হয়। এ পদ্ধতিতেই চোখ ও মাথাকে স্থির করে একটি ক্যামেরাসম্পন্ন ডিভাইসের সামনে দাঁড়াতে হয়। এতে প্রায় ১ থেকে ১০ সেকেন্ড সময় লাগে। পূর্ব থেকে ধারণ করার চোখের আইরিসের প্যাটার্ন এর সাথে মিলে শনাক্তকরণ করা হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে, মিলিটারিতে এ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। আঙ্গুলের ছাপ বা হাতের ছাপের তুলনায় এ পদ্ধতির ফলাফলের সূক্ষ্মতা তুলনামূলকভাবে বেশি। এছাড়া এটি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা, যার স্থায়ী এবং দৃশ্যমান।

এ পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং তুলনামূলকভাবে বেশি মেমোরির প্রয়োজন হয়। চশমা ব্যবহারকারীদের জন্য এ পদ্ধতিতে সমস্যা হয়। এ পদ্ধতি ব্যবহার করার ফলে চোখের ক্ষতি হয়।

d উদ্দীপকের গবেষণা কার্যক্রমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যে দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে, বিশ্লেষণপূর্বক সেটির প্রয়োগক্ষেত্র আলোচনা কর।

উত্তর উদ্দীপকের গবেষণা কার্যক্রমের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যে দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে তা হলো বায়োইনফরমেটিক্স। নিচে বায়োইনফোরমেটিক্সের প্রয়োগ ক্ষেত্র আলোচনা করা হলো –

বায়োইনফরমেটিক্স হলো জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার সাইন্স, ইনফরমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং,গণিত এবং পরিসংখ্যানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিষয় যা জীববিজ্ঞান এর বিশাল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং সঠিকভাবে প্রক্রিয়া করে সেগুলো ব্যাখা করে।মূলত জৈবিক পদ্ধতি বিশ্লেষণ সম্পর্কে সম্যক এবং সঠিক ধারণা অর্জন করার ক্ষেত্রে বায়োইনফরমেটিক্স ব্যাবহৃত হয়। আর এ জৈবিক তথ্য হিসাব নিকাশ এবং এর সম্পর্কিত যাবতীয় সমস্যার সমাধানে কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহার ও অপরিহার্য। তবে জিনোম সিকোয়েন্স,প্রোটিন সিকোয়েন্স, ইত্যাদি গঠন উপাদানের ইলেকট্রনিক ডেটাবেস গঠনে কম্পিউটার প্রযুক্তি বিষেশভাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও মলিকুলার মেডিসিন, জিনথেরাপি, ঔষুধ তৈরিতে, বর্জ্য পরিষ্কারকরনে, জলবায়ু পরিবর্তনন গবেষণায়, বিকল্প শক্তির উৎস সন্ধানে, জীবাণু অস্ত্র তৈরিতে, ডিএনএ ম্যাপিং ও অ্যানালাইসিস, জিন ফাইন্ডিং, প্রোটিনের মিথষ্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণে বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহৃত হয়।


Question 37

ডক্টর খলিল দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে অতি ফসল উৎপাদনকারী বীজ আবিষ্কারের জন্য একটি প্রযুক্তির সাহায্যে গবেষণা করছেন। তার গবেষণা সম্পর্কিত তথ্যসমূহ তার সরকারি অনুমতি ব্যতীত কম্পিউটার থেকে নেওয়ার চেষ্টা করে Barisal · 2019

a বায়োমেট্রিক্স কি?

b ঘরের মধ্যে ড্রাইভিং শেখা সম্ভব -ব্যাখ্যা কর।

c ডক্টর খলিলের গবেষণায় ব্যবহৃত প্রযুক্তির ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে ডক্টর খলিলের গবেষণা প্রযুক্তিতে হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। জীবদেহে জিনোম কে প্রয়োজন অনুযায়ী সাজিয়ে কিংবা একাধিক জীবের জিনোম কে জোড়া লাগিয়ে নতুন জীব সৃষ্টির কৌশলই হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।

একটি উদ্ভিদ বা প্রাণীর বৈশিষ্ট্যের বাহক হচ্ছে জিন। অন্যদিকে জিনম হলো জীবের বৈশিষ্ট্যের নকশা বা বিন্যাস। কোন উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন করতে চাইলে উক্ত উদ্ভিদের জিনোমের কোন একটি জিনকে পরিবর্তন করে দিতে হয়। যেহেতু জিনগুলো আসলে ডিএনএ-র অংশ, তাই একটা জিনকে পরিবর্তন করতে হলে ল্যাবরেটরীতে ডিএনএ-র সেই অংশটুকু কেটে আলাদা করে অন্যপ্রাণী বা ব্যাকটেরিয়া থেকে আরেকটি জিন কেটে এনে সেখানে লাগিয়ে দিতে হয়। এর ফলে একটি নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন কাঙ্খিত উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় ডক্টর খলিল অধিক ফসল উৎপাদনকারী বীজ আবিষ্কারের জন্য উপরের বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। অর্থাৎ তিনি নির্দিষ্ট উদ্ভিদের ডিএনএ নির্দিষ্ট জিনকে কেটে আলাদা করে সেখানে সুনির্দিষ্ট জিনকে জোড়া লাগিয়ে নতুন প্রজাতির অধিক ফসল উৎপাদনকারী বীজ আবিষ্কার করেন।

d ডক্টর খলিলের সহকারীর কর্মকাণ্ডটি নৈতিকতার বিচারে বিশ্লেষণ কর।

উত্তর উদ্দীপকের তথ্য মতে ICT এর ভাষায় ডক্টর খলিলের সহকারীর কর্মকাণ্ডটির নৈতিকতা বহির্ভূত। কারণ কারো অনুমতি ব্যতীত তার কোন তথ্য ব্যবহার করা বা সেগুলো দেখা বা কম্পিউটার থেকে নেওয়া নৈতিকতা বিরোধী। একে এক প্রকার চুরি বলা হয়। সহকারী ডক্টর খলিলের কাছ থেকে কোন প্রকার অনুমতি গ্রহণ করেননি। এমনকি সরকারি তার সামনে কম্পিউটারের তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করেননি। বরং তিনি চলে যাবার পর তার অবর্তমানে সেখানে কম্পিউটার থেকে তথ্য নেন। যা চরমভাবে নৈতিকতা পরিপন্থী। আর ICT এর নীতিমালা অনুসারে এই কর্মকান্ড কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়।

তাই বলা যায় যে, ICT এর ভাষায় উদ্দীপকে উল্লেখিত কর্মকাণ্ড টি ICT নীতিমালার আলোকে বেআইনি ও নৈতিকতা পরিপন্থী।


Question 38

চিপস সবার খুবই প্রিয়। প্যাকেটজাত করানোর সময় একটি বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। চিপস কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য প্রবেশের পথে আঙ্গুলের ছাড় দেওয়ার একটি ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে। Comilla · 2019

a রোবটিক্স কি?

b প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোটর ড্রাইভিং শিখা সম্ভব –কথাটি ব্যাখ্যা কর।

c উদ্দীপকে কারখানায় ব্যবহৃত ডিভাইসের প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে কারখানায় ব্যবহৃত ডিভাইসটি হচ্ছে বায়োমেট্রিক্স ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতি। প্রবেশের প্রযুক্তি হলো বায়োমেট্রিক্স এর ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি।

বর্তমানে আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা একটি জনপ্রিয় বায়োমেট্রিক্স সিস্টেম। এ পদ্ধতিতে প্রথমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট অপটিক্যাল স্ক্যানারের মাধ্যমে আঙ্গুলের ছাপের ইমেজ নেওয়া হয়। ইমেজের অর্থাৎ আঙ্গুলের ছাপের বিশেষ কিছু একক বৈশিষ্ট্য কি ফিল্টার করা হয় এবং এনক্রিপ্টেড বায়োমেট্রিক কি হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের ইমেজকে সংরক্ষণ না করে শংকর সিরিজ (বাইনারি কোড) কে ভেরিফিকেশন এর জন্য সংরক্ষণ করা হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিস্টেমের অ্যালগরিদম এই বাইনারি কোড কে ইমেজ এ পুনঃ রূপান্তর করতে পারেনা। তাই কেউ ফিঙ্গারপ্রিন্ট কে নকল করতে পারেনা। বায়োমেট্রিক্স ডিভাইস যেমন, ফিঙ্গার স্ক্যানার থেকে একটা রিডার অথবা স্ক্যানিং ডিভাইস এবং সফটওয়্যার যা স্ক্যান করা তথ্যকে ডিজিটাল ফার্মে রূপান্তর করে এবং ম্যাচিং পয়েন্ট গুলো তুলনা করে। বায়োমেট্রিক্স ডিভাইস গুলোর মধ্যে বিশ্বজুড়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট লিডার এর জনপ্রিয়তা সর্বাধিক। তুলনামূলকভাবে কম দামি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সৃষ্টি এবং প্রচুর যেটা রাখতে পারে বলে আজকাল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ও অন্যদের প্রবেশ ও বের হবার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভিডিও গুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

d চিপসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তির সুবিধা ও অসুবিধা উল্লেখসহ তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

উত্তর উদ্দীপকে চিপসের প্যাকেটজাতকরণের সময় ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো ন্যানোটেকনোলজি। নিচে ন্যানো টেকনোলজির সুবিধা ও অসুবিধা উল্লেখ করা হলো-

সুবিধা: ন্যানো টেকনোলজির সুবিধা অনেক, যেমন-

১. বৃহৎ স্কেলে পণ্য উৎপাদন সম্ভব হয়।

২. উৎপাদিত পণ্য আকারে সূক্ষ্ম ও ছোট করা সম্ভব হয়।

৩. উত্তায়িত পণ্য অত্যন্ত মজবুত, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী,টেকসই ও হালকা হয়।

৪. ক্যান্সার সহ বিভিন্ন দূরারোগ্য ব্যাধি হতে মুক্তি লাভ করা সম্ভব।

৫. বিশ্বব্যাপী বৃহৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

৬. কার্যকরী ও সস্তার শক্তি উৎপাদন সহ পানি ও বায়ু দূষণ কমানোর সম্ভব ঘটবে।

অসুবিধা: টেকনোলজি সুবিধার পাশাপাশি অনেক অসুবিধা রয়েছে, যেমন –

১. এ প্রযুক্তিতে উচ্চারিত ন্যানো ফাইবার বা সূক্ষ্ম তন্তু ফুসফুসে পৌঁছালে ভয়ানক স্বাস্থ্য ঝুঁকিসৃষ্টি হতে পারে, এ ঝুঁকি বিষাক্ত ক্ষণিক এসবেস্টস এর চেয়ে বেশি

২. প্রযুক্তি ব্যবহার করে মারাত্মক প্রাণঘাতী অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব বিধান যুদ্ধক্ষেত্রে ভয়াবহতার আশঙ্কা রয়েছে।

৩. ধ্বনি ও নির্ধনের পার্থক্য চরম বৃদ্ধি পাবে।

৪. মানব শরীরে গঠন শৈলী পরিবর্তন সহ কোষ মেরে ফেলতে পারে

৫. এ প্রযুক্তি ব্যবহার ফলে অদক্ষর আক্রমশ কর্মহীন হয়ে যাবে।

ন্যানা প্রযুক্তির অসুবিধা গুলো সতর্কতার সাথে এড়িয়ে চলে এর সুবিধাগুলো গ্রহণ করতে পারলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।


Question 39

ডাঃ নিলয় ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে শীতল আর্গন গ্যাস ব্যবহারের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগের জন্য অভিজ্ঞতা লাভের উদ্দেশ্যে একটি সিমুলেটেড অপারেশন সম্পন্ন করেন । Sylhet · 2019

a কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী?

b আচরণের মাধ্যমে ব্যক্তি শনাক্তকরণের পদ্ধতি বুঝিয়ে লেখো।

c ডাঃ নিলয়ের চিকিৎসা পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো ।

উত্তর ডাঃ নিলয়ের চিকিৎসা পদ্ধতিটি হলো ক্রায়োসার্জারি

ক্রায়োসার্জারি হচ্ছে এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যার মাধ্যমে অতি ঠান্ডা তাপমাত্রায় শরীরের অস্বাভাবিক ও অসুস্থ টিস্যু (কোষ) ধ্বংস করা হয়। এক্ষেত্রে তরল নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, আর্গন ও ডাই মিথাইল ইথার-প্রোপেন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন রোগাক্রান্ত কোষের চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে অসুস্থ ত্বকের পরিচর্যায় এটি বেশি ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া লিভার ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সার, ফুসফুস ক্যান্সার, মুখ বা ওরাল ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগে অসুস্থ ত্বক সতেজ করে তুলতে এটি ব্যবহার করা হয়। ত্বকের অসুস্থ কোষকে অতি শীতল তাপমাত্রায় ধ্বংসের মাধ্যমে ক্রায়োসার্জারি কাজ করে। ফলে অসুস্থ ত্বকের মধ্যে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক করে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় ক্রায়োগান ব্যবহার করে বর্তমান সময়ে নিখুঁতভাবে ক্রায়োসার্জারি করা হয়।

d ডাঃ নিলয়ের অপারেশনের অভিজ্ঞতা লাভের পরিবেশের প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

উত্তর ডাঃ নিলয়ের অপারেশনের অভিজ্ঞতা লাভের পরিবেশ সিমুলেটেড পরিবেশ। আর সিমুলেটেড পরিবেশ তৈরি করা হয় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে । প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতনা উদ্রেককারী বিজ্ঞান নির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা অনুভবে বাস্তবতা কিংবা কল্পবাস্তবতা বলে । ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বিভিন্ন প্রভাব নিচে দেওয়া হলো:

• চিকিৎসাক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি দারুন প্রভাব রাখছে।

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে ড্রাইভিং নির্দেশনা প্রদান করা হয় । ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

• ফ্লাইট সিমুলেশন করা হয় ।

• মহাশূন্য অভিযানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়।

• খেলাধুলায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়।

• সামরিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়।

• ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়।

• বিভিন্ন ইমেজ সংরক্ষণ ও দৃশ্যধারণে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়।

• নগর পরিকল্পনায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয় ।

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ফলে মনুষ্যত্বহীনতা বা ডিহিউম্যানাইজেশন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে মানুষের ক্রিয়া হ্রাস পাবে এবং মানব সমাজ বিলুপ্ত হতে থাকবে ।

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ফলে মানুষ ইচ্ছেমতো কল্পনার রাজ্যে বিচরণ করতে পারবে। ফলে মানুষ বেশিরভাগ সময় কাটাবে কল্পনার জগতে এবং খুব কম সময় থাকবে বাস্তব জগতে। কিন্তু এভাবে মানুষ যদি কল্পনা ও বাস্তবের মধ্যে পার্থক্য করতে না পারে তাহলে পৃথিবীতে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করবে।

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারের ফলে মানুষের চোখের ‘ও শ্রবণশক্তির ক্ষতি হতে পারে।


Question 40

মিসেস পাপিয়ার কপালে একটি টিউমার দেখা দেওয়ায় একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে সার্জারির জন্য ভর্তি হলেন। উক্ত হাসপাতালের ডাক্তারগণ আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার করে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। সার্জারি বিভাগের ডাক্তার তাকে অপারেশন পূর্ববর্তী বিভিন্ন টেস্ট দিলেন। টেস্টে পাপিয়ার অতিরিক্ত ব্লাড সুগার থাকায় ডাক্তার তাকে ইনসুলিন প্রয়োগে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন। Dinajpur · 2019

a ই-কমার্স কী?

b তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে- ব্যাখ্যা করো।

c ডাক্তারদের হাসপাতালে প্রবেশের প্রযুক্তি চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর ডাক্তারদের হাসপাতালে প্রবেশের প্রযুক্তিটি হলো বায়োমেট্রিক্স। বায়োমেট্রিক্স হচ্ছে এক ধরনের কৌশল বা প্রযুক্তি যার মাধ্যমে মানুষের শারীরিক কাঠামো, আচার-আচরণ, বৈশিষ্ট্য, গুণাগুণ, ব্যক্তিত্ব প্রভৃতি দ্বারা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত বা শনাক্ত করা যায়। বায়োমেট্রিক্স এর মূল কাজই হচ্ছে প্রতিটি মানুষের যে অনন্য বৈশিষ্ট্য আছে তাকে খুঁজে বের করা এবং প্রতিটি মানুষকে সেই বৈশিষ্ট্যের আলোকে পৃথক পৃথকভাবে চিহ্নিত করতে সাহায্য করা। কম্পিউটার পদ্ধতিতে নিখুঁত নিরাপত্তার জন্য বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি ব্যবহার হয়। এ পদ্ধতিতে মানুষের বায়োলজিক্যাল ডেটা কম্পিউটারের ডেটাবেজে সংরক্ষিত করে রাখা হয় এবং পরবর্তিতে এসব ডেটা নিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলিয়ে দেখা হয়। ডেটাতে মিল পেলে তা বৈধ বলে বিবেচিত হয় এবং অনুমতি প্রাপ্ত হয়।

d মিসেস পাপিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধ তৈরির প্রযুক্তি কৃষি গবেষণায় সফলতা ও অবদান রাখে- মতামত দাও।

উত্তর মিসেস পাপিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধ তৈরির প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।

কোনো জীব থেকে একটি নির্দিষ্ট জিন বহনকারী DNA পৃথক করে ভিন্ন একটি জীবে স্থানান্তরের কৌশলকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জিনতত্ত্ব প্রকৌশল বলে। যে সমস্ত উদ্ভিদ বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে না, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের চারা তৈরি ও সতেজ অবস্থায় স্থানান্তর করা যায়। সহজে রোগমুক্ত, বিশেষ করে ভাইরাসমুক্ত চারা উৎপাদন করা সম্ভব। ঋতুভিত্তিক চারা উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা হতে মুক্ত থাকা যায়। বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে টিস্যু কালচার নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি হিসেবে স্বীকৃত এবং সঠিক ‘বীজ সংগ্রহ ও মজুদ করার সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়। কোনো বন্যজাতের জিন অপর ফসলী শস্যের মধ্যে সঞ্চালিত করে অধিক ফলনশীল শস্য উৎপাদন করা যায়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদির গঠন, বর্ণ, পুষ্টিগুণ, স্বাদ ইত্যাদির উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। আগাছানাশক ঔষধ প্রতিরোধী জিন প্রতিস্থাপন করে তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করা হয়েছে।


Question 41

সূর্য পড়াশুনা শেষ করার পর চাকরি না পেয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসে কাজ করে অর্থ উপার্জনের পথ বেছে নেয়। কয়েক বছরের মধ্যে সে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয় এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। পরবর্তীতে তার এলাকার অনেকেই এই পথ অনুসরণ করে স্বাবলম্বী হয়। তার ভাই প্রতাপ বাড়িতে থেকে আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে। Jessore · 2019

a প্লেজিয়ারিজম কী?

b বায়োইনফরম্যাটিক্স-এ ব্যবহৃত ডেটা কী? ব্যাখ্যা করো।

c উদ্দীপকে প্রতাপের উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের প্রক্রিয়া কী? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর উদ্দীপকে প্রতাপের উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের প্রক্রিয়া হলো ই-লার্নিং বা ই-এডুকেশন। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনের মাধ্যমে ছাত্র ছাত্রীরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ক্লাশে উপস্থিত না হয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহন করতে পারে। অনলাইনের মাধ্যমে এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে ই-লার্নিং বা ই-এডুকেশন বলে। প্রতাপ কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে ঘরে বসে বিদেশী লাইব্রেরি থেকে বিভিন্ন তথ্যাদি সংগ্রহ করে এবং বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঘরে বসেই ডিগ্রীও অর্জন করে। প্রতাপের ঘরে বসে বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী অর্জনের প্রেক্ষিতে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। প্রতাপের সহপাঠীসহ অন্যরাও বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী অর্জনে উৎসাহিত হবে।

d বাংলাদেশের বাস্তবতায় সূর্যের কার্যক্রমের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর সূর্য পড়াশুনা শেষ করার পর চাকরি না পেয়ে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে ঘরে বসে কাজ করে অর্থ উপার্জনের পথ বেছে নেয়। কোনো নির্দিষ্ট কাজ নিজেরা না করে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অন্যের দিয়ে করিয়ে নেওয়াকে আউটসোর্সিং বলে। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অনলাইন মার্কেটপ্লেসের অসংখ্য কাজ থেকে নিজের যোগ্যতানুযায়ী নির্দিষ্ট কাজ খুঁজে নেয়া ও সেটি সম্পাদন করার পর বায়াদের কাছ থেকে তার পেমেন্ট সহজেই গ্রহন করা যায়। অর্থ উপার্জন করার মাধ্যমে দেশের লাখ লাখ শিক্ষিত ও প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন বেকার যুবক-যুবতি বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারছে। নিজের বাড়িতে বসে বা ঘরে বসে নারী-পুরুষ সকলেই এমনকি অভিজ্ঞ গৃহিনীরাও নিজের পছন্দমত কাজ করতে পারছে। এদের মাধ্যমে দেশে আসবে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা যা দেশের অর্থনীতির চাকাকে বেগবান করছে।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় সূর্যের কার্যক্রম পুরোপুরি যৌক্তিক এবং বাংলাদেশের বেকারত্ব দূরীকরনে অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত।


Question 42

গবেষণা প্রতিষ্ঠান আলফা-এর বিজ্ঞানীগণ রোগাক্রান্ত কোষে সরাসরি ওষধ প্রয়োগ করার জন্য আণবিক মাত্রার একটি যন্ত্র তৈরির চেষ্টা করছেন। ব্রেইনের অভ্যন্তরের গঠন ও কোষ পর্যবেক্ষণের জন্য তারা একটি সিমুলেটেড পরিবেশ তৈরি করেন Dhaka · 2018

a টেলিমেডিসিন কি?

b কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এক ধরনের এক্সপার্ট সিস্টেম-বুঝিয়ে লেখ।

c বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে বিজ্ঞানীগণ ব্রেইনের অভ্যন্তরের গঠন ও কোষ পর্যবেক্ষণের জন্য যে পদ্ধতি ব্যবহার করে সিমুলেটেড পরিবেশ তৈরি করেন তা হচ্ছে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ৷ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরিকৃত এমন এক ধরনের কৃত্রিম পরিবেশ, যা ব্যবহারকারীদের কাছে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যাতে তারা এটিকে বাস্তব পরিবেশ হিসেবে মনে করেন। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে অণুকরণকৃত পরিবেশ হুবহু বাস্তব পৃথিবীর মতো হতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারী সম্পূর্ণরূপে একটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নিমজ্জিত হয়ে যায়। তথ্য আদান-প্রদানকারী বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস সংবলিত চশমা, headsets, gloves, suit ইত্যাদি পরিধান করার মাধ্যমে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে বাস্তবকে উপলব্ধি করা হয়। একটি typical VR format-এ একজন ব্যবহারকারী ত্রিমাত্রিক স্ক্রিন সংবলিত একটি হেলমেট পরে এবং তার মধ্যে দিয়ে বাস্তব থেকে অনুকরণকৃত অ্যানিমেটেড বা প্রাণবন্ত ছবি দেখে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে মান্টিসেন্গর হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টার সেন্সসমূহের ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত থাকে যা মানব ব্যবহারকারীদেরকে কম্পিউটার-সিমুলেটেড অবজেক্ট, স্পেস, কার্যক্রম এবং বিশ্বকে একবারে বাস্তবের মতো অভিজ্ঞতা প্রদানে সক্ষম করে তোলে । উদ্দীপকে গবেষণা প্রতিষ্ঠান আলফা-এর বিজ্ঞানীগণও উপরে বর্ণিত উপায়ে ব্রেইনের অভ্যন্তরের গঠনের কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত একটি সিমুলেটেড পরিবেশ তৈরি করে তা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন ।

d উদ্দীপকে উল্লিখিত যন্ত্র তৈরির প্রযুক্তিটি খাদ্য শিল্পে কি ধরনের প্রভাব রাখে- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত আণবিক মাত্রার যন্ত্র তৈরির প্রযুক্তিটি হচ্ছে ন্যানো টেকনোলজি। কোনো একটি বস্তুর কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ প্রযুক্তি বা যন্ত্র ব্যবহার করে অণু বা পরামাণুগুলোকে ন্যানো মিটার স্কেলে বা ন্যানো পার্টিকেল রূপে পরিবর্তন করার প্রযুক্তিই হলো ন্যানো টেকনোলজি। বর্তমানে বিভিন্ন ধরণের ইলেকট্রনিক্স, খাদ্য,প্যাকেজিং, ক্লথিং, ফুয়েল ক্যাটালিস্ট, গৃহ-সামগ্রী, ঔষধ ইত্যাদিতে ন্যানো টেকনোলজির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে খাদ্য শিল্পের ক্ষেত্রে ন্যানো টেকনোলজির বহুবিধ প্রভাব লক্ষণীয় । খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ থেকে খাদ্য উৎপাদন, প্যাকেজিং, পরিবহন এবং পুষ্টি মান বজায় রাখতে ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। ন্যানো প্রযু্ক্তি ব্যবহারের ফলে খাদ্য সংরক্ষণ করা সহজ হয়েছে। ফলে খাদ্যের নিরাপত্তা বিধান করাও সম্ভব হচ্ছে৷ এ প্রযুক্তির প্রয়োগে খাদ্যের স্বাদ গুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়াও খাদ্যজাত দ্রব্য প্যাকেজিং এর সিলভার তৈরির কাজে এবং বিভিন্ন জিনিসের প্রলেপ তৈরির কাজে ন্যানো টেকনোলজি ব্যবহৃত হয়। উপরের বর্ণনা থেকে বোঝা যায় যে, খাদ্য শিল্পে ন্যানো প্রযুক্তি ব্যাপক প্রভাব রাখে ।


Question 43

“S” সাহেব একজন বড় ব্যবসায়ী। তাঁর অফিসের কর্মচারীদেরকে একটি সুইচে হাতের ছাপ দিয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হয় এবং কারখানায় প্রবেশ করার জন্য শ্রমিকরা মনিটরের দিকে তাকানোর পর দরজা খুলে যায়। “S” সাহেব এর কপালে টিউমার অপারেশন করতে গেলে ডা. সাহেব কোনো রক্তপাত ছাড়াই একটি বিশেষ পদ্ধতিতে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় টিউমার অপারেশন করে দেন। Rajshahi · 2018

a রোবোটিক্স কী?

b কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যাখ্যা করো।

c উদ্দীপকের আলোকে “S” সাহেবের টিউমার অপারেশনে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর যেহেতু রক্তপাত ছাড়াই অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় S সাহেবের অপারেশন করা হয়েছে। সুতরাং S সাহেবের অপারেশনে ক্রায়োসার্জারি ব্যবহার করা হয়েছে। ক্রায়োসার্জারি (Cryosurgery) বা ক্রায়োথেরাপি (Cryotherapy) হলো অস্ত্রোপচারের অন্যতম একটি আধুনিক পদ্ধতি। অস্বাভাবিক টিস্যু ধ্বংস করতে নাইট্রোজেন বা আর্গন গ্যাস হতে উৎপাদিত প্রচন্ড ঠান্ডা তরল ত্বকের বাহ্যিক চামড়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় যা ক্রায়োসার্জারি নামে পরিচিত। গ্রীক শব্দ cryo এর অর্থ বরফের মতো ঠান্ডা এবং surgery এর অর্থ হাতের কাজ। খুব শীতলীকরণ তরল পদার্থ প্রয়োগের মাধ্যমে শরীরের অসুস্থ বা অস্বাভাবিক টিস্যুকে ধ্বংস করার চিকিৎসা পদ্ধতিকে ক্রায়োসার্জারি বলে। এক্ষেত্রে তরল নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, আর্গন ও ডাই মিথাইল ইথার- প্রোপেন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। এ সকল পদার্থকে একটি গোলাকার। নলে নিয়ে তুলার সাহায্যে রোগাক্রান্ত টিস্যুর উপর প্রলেপ দেওয়াকে ক্রায়োপ্রব (Cryo probe) বলে। এছাড়াও তুলার সাহায্যে রোগাক্রান্ত টিস্যুর উপর’ প্রলেপ দেওয়া হয়। বিভিন্ন রোগ ও অসুস্থ কোষের চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে অসুস্থ ত্বকের পরিচর্যায় এটি বেশি ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া লিভার ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সার, ফুসফুস ক্যান্সার, মুখ বা ওরাল ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগে অসুস্থ ত্বক সতেজ করে তুলতে এটি ব্যবহার করা হয়। ত্বকের অসুস্থ কোষকে অতি শীতল তাপমাত্রায় ধ্বংসের মাধ্যমে ক্রায়োসার্জারি কাজ করে। কারণ অতি নিম্নতাপমাত্রায় বরফ স্ফটিক ত্বকের অসুস্থ কোষকে ধ্বংস করে রক্ত সঞ্চালন ঠিক করে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় ক্রায়োপ্রব ব্যবহার করে বর্তমান সময়ে নিখুঁতভাবে, ক্রায়োসার্জারি করা হয়।

d উদ্দীপকের “S” সাহেবের অফিসের উপস্থিতি নিশ্চিত ও কারখানায় প্রবেশের প্রক্রিয়াদ্বয়ের মধ্যে কোনটি বহুল ব্যবহৃত?

উত্তর S সাহেবের অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ও কারখানায় প্রবেশের জন্য যে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে তাহলো বায়োমেট্রিক্স। বায়োমেট্রিক্স হচ্ছে এক ধরনের কৌশল বা প্রযুক্তি যার মাধ্যমে মানুষের মুখমণ্ডল, হাতের আঙুল ও রেখা, রেটিনা, আইরিস, শিরা, ব্যক্তির আচরণ, হাতের লেখা, কথাবলা বা চলাফেরার স্টাইল, ব্যক্তিত্ব প্রভৃতি দ্বারা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত বা শনাক্ত করা যায়।

উদ্দীপকে কারখানায় প্রবেশের সময় শ্রমিকদের মনিটরের দিকে তাকাতে হয়। অর্থাৎ কারখানায় প্রবেশের সময় শ্রমিকদের চোখের রেটিনা বা আইরিশ ব্যবহৃত হয়। চোখের রেটিনা বা আইরিশ স্ক্যান পদ্ধতিতে চোখ ও মাথাকে স্থির করে একটি ক্যামেরা সম্পন্ন ডিভাইসের সামনে ঠিকমতো দাড়াতে হয় যা অনেক সময়ই ঠিকমত হয় না। তাছাড়া এই পদ্ধতিতে ব্যবহৃত ডিভাইসের দাম ও মেমোরি অত্যাধিক। এই পদ্ধতিতে আলোক স্বল্পতা পুরো কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে। চোখে চশমা থাকলে এই কার্যক্রম ব্যাহত হয়। চোখের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

অন্যদিকে S সাহেবের অফিসে প্রবেশের সময় একটি সুইচে হাতের ছাপ দিয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হয়। অর্থাৎ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবহৃত হয়। উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ফিঙ্গার প্রিন্টের জনপ্রিয়তা সর্বাধিক। কেননা ফিঙ্গার প্রিন্ট পদ্ধতিতে ব্যবহৃত ডিভাইসের দাম কম তাই এই পদ্ধতি ব্যবহারে খরচ তুলনামুলক কম কিন্তু সফলতার হার প্রায় শতভাগ। তাছাড়া শনাক্তকরণের জন্য খুবই কম সময় লাগে।

সতরাং আঙ্গুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহনকারী প্রক্রিয়াটি বহুল ব্যবহৃত হয়।


Question 44

ভিনক্লু নামে জাপানের এক প্রযুক্তি কোম্পানি ডিজিটাল প্রযুক্তির কৃত্রিম গৃহকর্মী তৈরি করেছে যার নাম দেওয়া হয়েছে হিকারি। এই গৃহকর্তীকে দেখা যাবে হলোগ্রাফিক পর্দায়। হিকারি তার গৃহকর্তাকে ঘুম থেকে জাগানো, গুড মর্নিং বলা, অফিসের কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন বার্তা পাঠানোর কাজও করবে। রাফি সদ্য পড়াশুনা শেষ করে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছে। যেহুতু সে বাসায় একা থাকে তাই মাঝে মাঝে ঘুম উঠতে দেরি হয়। সেজন্য সে একটি হিকারি কেনার সিদ্ধান্ত নিলেন। যেহুতু হিকারির দাম বেশি তাই বাসা থেকে চুরি না হয় সেজন্য বাসায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণের চিন্তা করলেন যাতে পরিচিত ব্যাক্তিরা নির্দিষ্ট বাটনে আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে বাসায় প্রবেশ করতে পারবে। যদিও নিরাপত্তার জন্য তার অফিসে টাকার ভোল্টে প্রবেশের জন্য মাইক্রোফোনে কথা বলে প্রবেশ করতে হয়। Dhaka · 2017

a ক্রয়োসার্জারি কী?

b আণবিক পর্যায়ের গবেষণার প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

c উদ্দীপকের হিকারি তৈরিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকের হিকারি তৈরিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো রোবটিক্স। টেকনোলজির যে শাখায় রোবটের নকশা, গঠন ও কাজ সম্পর্কে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হযরোবটিক্স মূলত প্রকৌশল বিজ্ঞানের একটি শাখা, যেখানে রোবট সম্পর্কিত ধারণা, নকশা, উৎপাদন, কার্যক্রম, ব্যবহার-ক্ষেত্র ইত্যাদি বিষয় গবেষণা করা হয়। এটি বিজ্ঞান প্রকৌশলবিদ্যার ইন্টারডিসিপ্লিনারি সেক্টর, যেখানে রোবটের Moveable body, অ্যাকচুয়েটর ইত্যাদি হার্ডওয়্যার এবং রোবটের আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইত্যাদি বিষয় বিবৃত থাকে। রোবটিক্সের অধিভুক্ত বিষয় বলতে ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ন্যনোটেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদিকে বুঝায়। এ প্রযুক্তিটি কম্পিউটার বুদ্ধিমত্তা সংবলিত এবং কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত রোবট মেশিন তৈরি করে যেগুলো আকৃতিগত দিক থেকে অনেকটা মানুষের মতো হয় এবং অনেকটা মানুষের মতোই দৈহিক ক্ষমতাসম্পন্ন থাকে। রোবট হলো এক ধরণের ইলেকট্রোমেকানিক্যাল যান্ত্রিক ব্যবস্থা, যা কম্পিউটার প্রোগ্রাম বা ইলেকট্রনিক সার্কিট কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত এক ধরণের স্বয়ংক্রিয় বা আধা-স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র বা যন্ত্রমানব। রোবটে একবার কোনো প্রোগ্রাম করা হলে ঠিক সেই প্রোগ্রাম অনুসারে কাজ করে। এক্ষেত্রে তার কাজটির জন্য মানুষকে আর কোনো কিছু করতে হয় না। রোবট স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রোগ্রাম অনুসারে সকল কাঝ সম্পন্ন করে । রোবট মানুষের অনেক কঠিন কাজ করতে পারে এবং এর কাজের ধরণ দেখে মনে হয় এর বুদ্ধিমত্তা আছে। এ ক্ষেত্রটিতে তাই রোবটকে যেসব যেসব বৈশিষ্ট্য দেওয়ার চেষ্টা করা হয় সেগুলো হলো- দর্শনেন্দ্রিয়গ্রাহ্য ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ ও ম্যানিপুলেশনের ক্ষেত্রে দক্ষতা বা নিপুণতা, যেকোনো স্থানে দৈহিকভাবে নড়াচড়ার ক্ষমতা বা লোকোমোশন।

d উদ্দীপকের রাফির বাসা ও অফিসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কৌশলের মধ্যে কোনটি বেশি উপযোগী- বিশ্লেষণপূর্বক তোমার মতামত দাও।

উত্তর উদ্দীপকের রাফির বাসা ও অফিসে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কৌশলগুলো হলো যথাক্রমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ভয়েস রিকগনিশন যা বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত। বায়োমেট্রিক্স হলো এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে কোনো ব্যাক্তির দেহের গঠন এবং আচরণগত বৈশিষ্টের উপর ভিত্তি করে তাকে অদ্বিতীয়ভাবে চিহ্নিত করা যায়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ভয়েস রিকগনিশন বায়োমেট্রিক্সের দুটি শাখা।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট হচ্ছে বহুল পরিচিত একটি বায়োমেট্রিক্স ডিভাইস যার সাহায্যে মানুষের আঙ্গুলের ছাপ বা টিপসইকে ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে তা পূর্ব হতে সংরক্ষিত আঙ্গুলের ছাপের সাথে মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এই পদ্ধতি ব্যবহারে খরচ খুবই কম। শনাক্তকরনে খুব কম সময় লাগে এবং সফলতার হারও প্রায় শতভাগ।‌

অন্যদিকে ভয়েস রিকগনিশন পদ্ধতিতে একজন ব্যবহারকারীর কন্ঠস্বরকে ডেটাবেজে সংরক্ষিত করে ঐ ভয়েস ডেটা ফাইলের সাথে ব্যবহারকারীর ভয়েসের তুলনা করা হয়। এ পদ্ধতি সহজ ও কম খরচে বাস্তবায়নযোগ্য হলে এর সূক্ষ্মতা তুলনামূলকভাবে কম। ভয়েস নকল করে সহজ দেওয়া যায়।

উপরোল্লিখিত বিশ্লেষনের মাধ্যমে স্পষ্ট যে উদ্দীপকের রাফির গৃহীত নিরাপত্তা পদ্ধতির মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতিটি বেশি উপযোগী।


Question 45

মি. “Y” তার বাবার ল্যাবরেটরিতে প্রবেশের সময় একটি বিশেষ সেন্সরের দিকে তাকানোর ফলে দরজা খুলে গেল। ভিতরে প্রবেশ করে দেখলো প্রথম কক্ষে জৈব তথ্যকে সাজিয়ে গুছিয়ে ইনফরমেশন সিস্টেম তৈরি সংক্রান্ত গবেষণা এবং দ্বিতীয় কক্ষে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরি সংক্রান্ত গবেষণা করা হয়। Rajshahi · 2017

a ন্যানো টেকনোলজি কী?

b “তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তি একে অপরের পরিপূরক”- বুঝিয়ে লেখ।

c ল্যাবরেটরির দরজায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি বর্ণনা কর।

উত্তর উদ্দীপকে উল্লেখিত ল্যাবরেটরির দরজায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো বায়োমেট্রিক্সের আইরিস বা রেটিনা স্ক্যান পদ্ধতি।

আইরিস শনাক্তকরণ পদ্ধতিতে পদ্ধতিতে চোখের তারার রঙিন অংশকে পরীক্ষা করা হয় এবং রেটিনা স্ক্যান পদ্ধতিতে চোখের মণিতে রক্তের লেয়ারের পরিমাণ পরিমাপ করে মানুষকে শনাক্ত করা হয়। আইরিশ বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে কোনো কোনো ব্যক্তির এক বা উভয় চোখের আইরিস বা চোখের তারাত দৃশ্যমান রংগিন অংশের ভিত্তিতে পরীক্ষা করে গাণিতিক প্যাটার্ন রিকগনিশন পদ্ধতির প্রোয়োগে শনাক্তকরণ করা হয়।এ পদ্ধতিতে চোখ ও মাথাকে স্থির করে একটি ক্যামেরা সম্পন্ন ডিভাইসের সামনে দাড়াঁতে হয়।এতে প্রায় ১ থেকে ১০ সেকেন্ড সময় লাগে।আগে থেকে ধারণ করা চোখের আইরিসের প্যাটার্নের সাথে মিলিয়ে শনাক্তকরণ করা হয়এ পদ্ধতিরর প্রোয়োগে পাসপোর্টবিহিন ভাবে এক দেশের সীমা অতিক্রম করে অন্য দেশে গমন করা যেতে পারে যা বর্তমানে ইউরোপে ব্যাবহৃত হচ্ছে।এছাড়া সরকারি গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠান,মিলিটারি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিতে আইরিস পদ্ধতি শনাক্তকরণের কাজে ব্যাবহৃত হয়।।

d ল্যাবরেটরিতে যে প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা হয় তাদের তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ কর ।

উত্তর উদ্দীপকের উল্লিখিত ল্যাবরেটরিতে ১ম কক্ষে জৈব তথ্যকে সাজিয়ে গুছিয়ে ইনফরমেশন সিস্টেম তৈরি সংক্রান্ত গবেষণা প্রযুক্তিটি হলো বায়োইনফরমেটিক্স সিস্টেম এবং ২য় কক্ষে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ (DNA) তৈরি সংক্রান্ত গবেষণা হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। নিচে এদের মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-

১. বায়োইনফরমেটিক্স হলো এমন একটি আন্তঃশাস্ত্রীয় ক্ষেত্র যা জীব সংক্রান্ত ডেটা বিশ্লেষণ করে বুঝার জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি এবং সফটওয়্যার টুলস উন্নয়ন করে।অন্যদিকে বায়োটেকনোলজির মাধ্যমে কোন প্রাণির জিনোম কে নিজের সুবিধা অনুযায়ী সাজিয়ে নেওয়াই হল জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।

২. বায়োইনফরমেটিক্স এর উদ্দেশ্য হলো জৈবিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুধাবন করা। অন্যদিকে, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরি করে বিশেষ জীনকে ক্রোমোজোমের DNA অনু থেকে পৃথক করে কাজে লাগানো।

৩. বায়োইনফরমেটিক্সের প্রধান কাজ হচ্ছে জীববিজ্ঞান সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় তথ্য ও জ্ঞানকে বিকশিত করার জন্য সফটওয়্যার তৈরি করা। অন্যদিকে, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রধান কাজ হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ বা পরিবর্তিত জিনযুক্ত কোষে অন্য জীব থেকে কর্মক্ষম বা ভালো জীন সংস্থাপন করে কর্মক্ষমহীন জীবটিকে কর্মক্ষম করে তোলা।

৪. বায়োইনফরমেটিক্স প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন গবেষণা যেমন -সিকুয়েন্স, অ্যালাইনমেন্ট, ডিএনএ ম্যাপিং, ডি এন এ এনালাইসিস, জিন ফাইন্ডিং জিনোম সমাগম, ড্রাগ নকশা, প্রোটিনের গঠন ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে, জেনেটিক ইন্ঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্জন করেছে। চিকিৎসা, গবেষণা, শিল্প এবং কৃষিকাজ অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে জেনেটিক ইন্ঞ্জিনিয়ারিং-এর ব্যাপক প্রয়োগ রয়েছে।


Question 46

নির্বাচন কমিশন ন্যাশনাল আইডি কার্ড তৈরি করার জন্য প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মুখমণ্ডলের ছবি, আঙুলের ছাপ এবং সিগনেচার সংগ্রহ করে একটি চমৎকার ডাটাবেজ তৈরি করেছে। ইদানীং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে উক্ত ডাটাবেজের সাহায্যে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট তৈরি করেছে। কিছু অসৎ ব্যক্তি নকল পাসপোর্ট তৈরি করার জন্য উক্ত ডাটাবেজ হ্যাক করার চেষ্টা করে এবং পরিশেষে ব্যর্থ হয়। Chittagong · 2017

a টেলিপ্রেজেন্স কী?

b “বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ সম্ভব” বুঝিয়ে লিখ।

c নির্বাচন কমিশন ডাটাবেজ তৈরিতে যে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছিল তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

উত্তর উদ্দীপকের বর্ণনানুযায়ী নির্বাচন কমিশন ডাটাবেজ তৈরিতে যে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছিলো তা হচ্ছে বায়োমেট্রিক্সে পদ্ধতি। বায়োমেট্রিক্সে হচ্ছে এক ধরনের কৌশল যার মাধ্যমে মানুষের শারীরিক কাঠামো, আচার-আচরণ, বৈশিষ্ট্য গুণাগুণ, ব্যক্তিত্ব প্রভৃতি দ্বারা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিতকরণ বা শনাক্তকরণ করা যায়।বায়োমেট্রিক্স আইডেন্টিফায়ার স্বাতন্ত্র্যসূচক ও নিরুপণযোগ্য বৈশিষ্ট্য দ্বারা প্রতিটি মানুষকে ভিন্ন ভিন্নভাবে শনাক্ত ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে থাকে৷ উদ্দীপকে নির্বাচন কমিশন ডেটাবেজ তৈরিতে মুখমণ্ডলের ছবি, আঙুলের ছাপ এবং সিগনেচার সংগ্রহ করার কাজটি নিম্নরূপে সম্পন্ন করেছিলেন১. মুখমন্ডলের ছবি: এ ক্ষেত্রে পূর্ব হতে রক্ষিত স্যাম্পল মানের সাথে যার মুখমন্ডলের আকৃতি তুলনা করা হবে তার ছবি ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণ করে তুলনা করা হয়। এ পদ্ধতিতে দুই চোখের মধ্যবর্তী দূরত্ব, নাকের দৈর্ঘ্য এবং ব্যাস, চোয়ালের কৌণিক পরিমাণ ইত্যাদি পরিমাপ করে তুলনা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। সাধারণত আলোর তীব্রতার উপর শনান্তকরণ সূক্ষ্মতা নির্ভর করে।

২. আঙুলের ছাপ: এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যক্তির আঙুলের ছাপ পূর্ব হতেই আঙুলের ছাপ পড়তে পারে এমন মেশিনের (ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার) সাহায্যে ডেটাবেজে সংরক্ষণ করে রাখতে হয় । পরবর্তীতে যখন একই ব্যক্তি ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারে আঙুল রাখে তখন যে আঙুলের ছাপের ছবি তৈরি হয় তা পূর্বে ডেটাবেজে রক্ষিত ছবির সাথে মিলিয়ে শনান্তকরণের কাজ সম্পন্ন করা হয় । এ ক্ষেত্রে মেশিনটি আঙুলের রেখার বিন্যাস, ত্বকের টিস্যু এবং ত্বকের নিচের রক্ত সঞালনের উপর ভিত্তি করে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পদ্ধতিতে আঙ্গুলের ছাপচিত্র তৈরি করে।

৩. সিগনেচার: এ ক্ষেত্রে স্বাক্ষরের আকার, ধরন, লেখার গতি, সময়, লেখার মাধ্যমে (যেমন- কলম, পেন্সিল) চাপকে যাচাই করে শনাক্তকরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

d উদ্দীপকের কিছু ব্যক্তির ব্যর্থ চেষ্টার নৈতিকতার দিকগুলো ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে কিছু অসৎ ব্যক্তির নকল পাসপোর্ট তৈরি করার জন্য উক্ত ডাটাবেজ হ্যাক করার চেষ্টা করে এবং পরিশেষে ব্যর্থ হয়। এ হতে বুঝা যায় যে, তাদের মধ্যে নৈতিকতার অভাব ছিল। কম্পিউটার নৈতিকতা হচ্ছে নৈতিকতার একটি ধারণা, যা কম্পিউটার ব্যবহারে নৈতিকতার বিষয়, সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিরোধ করাকে বুঝায় । ১৯৯২ সালে “কম্পিউটার ইথিকস ইনস্টিটিউট” নৈতিকতার বিষয়ে যে ১০টি নির্দেশনা তৈরি করেন তা নিচে উপস্থাপন করা হলো-

১. কম্পিউটার ব্যবহার করে অন্যের ক্ষতি না করা।

২. অন্যের কম্পিউটার সংক্রান্ত কাজে হস্তক্ষেপ না করা।

৩. অনুমতি ব্যতীত কারও ফাইল, গোপন তথ্য সংগ্রহ না করা।

৪. চুরির উদ্দেশ্যে কম্পিউটার ব্যবহার না করা।

৫. মিথ্যা তথ্যের জন্য কম্পিউটার ব্যবহার না করা। ৬. লাইসেন্সবিহীন সফটওয়্যার ব্যবহার ও কপি না করা।

৭. বিনা অনুমতিতে কম্পিউটার সংক্রান্ত অন্যের রিসোর্স ব্যবহার না করা।

৮. অন্যের কাজকে নিজের বলে চালিয়ে না দেওয়া ।

৯. তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের আগে সমাজের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে চিন্তা করা১০. কম্পিউটার ব্যবহার করার সময় অন্যের ভালোমন্দ বিবেচনা করা ও শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন করা।।


Question 47

জয়িতা চৌধুরি পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রজেক্ট পেপার তৈরির ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের সহায়তা নিয়ে থাকে। সে নিয়ম মেনে প্রতিটা তথ্যের উৎস উল্লেখ করে। ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তথ্য হতে সে এমন একটি প্রযুক্তি সম্পর্কে জেনেছে যা দিয়ে অণুর গঠন দেখা সম্ভব। তবে জয়ন্ত ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন ফাইলের সফটকপি সংগ্রহ করে কোনোরূপ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ছাড়াই নিজের নামে প্রকাশ করে। Sylhet · 2017

a বায়োইনফরমেটিক্স কী?

b বাস্তবে অবস্থান করেও কল্পনাকে ছুয়ে দেখা সম্ভব- ব্যাখ্যা কর।

c উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রযুক্তিটির ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রযুক্তিটি হচ্ছে ন্যানো টেকনোলজি। ন্যানো টেকনোলজির মাধ্যমেই অণুর গঠন দেখা সম্ভব।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে 1 থেকে 100 ন্যানোমিটার আকৃতির কোনো কিছু তৈরি করা এবং ব্যবহার করার প্রযুক্তিই হলো ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানোটেকনোলজি। ন্যানো প্রযুক্তি দুটি পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়। যথা- ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ এবং বৃহৎ থেকে ক্ষুদ্র। ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ পদ্ধতিতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আণবিক উপাদান থেকে শুরু করে ধীরে বড় কোনো জিনিস তৈরি করা যায়। অন্যদিকে বৃহৎ থেকে ক্ষুদ্র পদ্ধতিতে একটু বড় আকৃতির কিছু থেকে শুরু করে তাকে ভেঙ্গে ছোট করতে করতে ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র আকৃতিতে পরিণত করা হয়। ন্যানোপ্রযুক্তি বহুমাত্রিক, সীমানা প্রচলিত সেমিকন্ডাক্টর পদার্থবিদ্যা থেকে আধুনিক অনবিক স্বয়ং সংশ্লেষণ প্রযুক্তি পর্যন্ত ;আণবিক কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ থেকে নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ন্যানো পদার্থের উদ্ভাবক পর্যন্ত বিস্তৃত। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে বৃহৎ স্কেলে পন্যুৎপাদন সম্ভব হচ্ছে এবং উৎপাদিত পণ্য আকাশ সূক্ষ্ম ও ছোট হলেও অত্যন্ত মজবুত, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, টেকসই হালকা হয়।

d তথ্য প্রযুক্তির নৈতিকতার বিচার জয়িতা চৌধুরি ও জয়ন্তের আচরণ মূল্যায়ন কর।

উত্তর তথ্যপ্রযুক্তির নৈতিকতার বিচারে জয়িতা চৌধুরী ও জয়ন্তের আচরণ সম্পূর্ণ বিপরীত। জয়িতা ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দেশ এবং নিয়ম কানুন মেনে নৈতিকতার পরিচয় দিয়েছে। আর জয়ন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে অনৈতিকতার পরিচয় দিয়েছে।

১৯৯২সালে প্রণীত ‘কম্পিউটার এথিকস ইনস্টিটিউট’-এর কম্পিউটার এথিকস এমনিতে সোনা অনুসারে, অন্যের তোবা গবেষণালব্ধ ফলাফল কে নিজের মালিকানা বলে দাবি করা যাবে না। অন্যের তথ্য বা গবেষণা লব্ধ ফলাফল ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়লে অবশ্যই মূল লেখক বা মূল কর্মের স্রষ্টার নাম অবশ্যই সংযোজন করতে হবে এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে তা অবশ্যই নৈতিকতার বিরোধী অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবে, যা ‘প্লেজিয়ারিজম ‘অপরাধে আওতাভুক্ত। উদ্দীপকে জয়িতা চৌধুরী এ নৈতিকতা মেনে কাজ করলেও জয়ন্ত তা করে না। অর্থাৎ জয়ন্তর আচরণ ‘প্লেজিয়ারিজম’অপরাধের আওতাভুক্ত অর্থাৎ নৈতিকতার বিচারে জয়িতা চৌধুরী নীতি, আদর্শের অধিকারী হলেও জয়ন্ত নীতি, আদর্শহীন একজন অপরাধী।


Question 48

জনাব সিহাব একজন বৈমানিক।তিনি কম্পিউটার মেলা থেকে ১ টেরাবাইটের একটি হার্ডডিস্ক কিনলেন।এটি আকার বেশ ছোট দেখে তিনি অবাক হলেন। অগ্রযাত্রায় বিভিন্ন ডিভাইসের আকার ছোট হয়ে আসছে। বিমান চলনা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা তেও পরিবর্তন এসেছে। এখন সত্যিকারের বিমান ব্যবহার না করে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বিমান পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। Jessore · 2017

a বায়োইনফরমেটিক্স কাকে বলে।

b প্রযুক্তির ব্যবহারে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ সম্ভব কথাটি ব্যাখ্যা ক

c উদ্দীপকে ছোট আকারের হার্ডডিস্কের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে তা বর্ণনা দাও।

উত্তর উদ্দীপকে ছোট আকারের হার্ডডিস্কের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে সে প্রযুক্তি টা হলো ন্যানোটেকনোলজি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে 1-100 ন্যানোমিটার আকৃতির কোন কিছু তৈরি করা এবং ব্যবহার করার প্রযুক্তি হলো ন্যানোপ্রযুক্তি বা ন্যানোটেকনোলজি। যেন প্রযুক্তির দুটি পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়। যথা -ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ এবং বৃহৎ থেকে ক্ষুদ্র। ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ পদ্ধতিতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আকৃতিতে পরিণত করা হয়। ন্যানো প্রযুক্তি বহুমাত্রিক, এর সীমানা প্রচলিত সেমিকন্ডাক্টর পদার্থবিদ্যার থেকে অত্যাধুনিক আণবিক স্বয়ং- সংশ্লেষণ প্রযুক্তি পর্যন্ত আণবিক কাঠামো নিয়ন্ত্রণ থেকে নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ন্যানো পদার্থের উদ্ভাবন পর্যন্ত বিস্তৃত। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে বৃহৎ স্কেলে পন্য উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে এবং উৎপাদিত পণ্য আকারে সুখ্য ও ছোট হলেও অত্যন্ত মজবুত, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, টেকসই ও হালকা হয়।

d বিমান চালনা প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত বর্তমান প্রযুক্তিটি নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত বিমান চালনা প্রশিক্ষণের ব্যবহৃত বর্তমান প্রযুক্তিটি হল ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। এটি মূলত কম্পিউটার প্রযুক্তি ও সিম্যুলেশন তত্ত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক ইমেজ তৈরি করে অসম্ভব কাজকেও করা সম্ভব।

নকল পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে একটা সুন্দর ও আধুনিক নগর গড়ে তোলার সম্ভব। নকল পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে -নগর উন্নয়ন রূপরেখা প্রণয়ন, নগর যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ও আকর্ষণীয় গড়ে তোলা, স্থাপত্য ও নির্মাণ শিল্প ইত্যাদি। ত্রিমাত্রিক ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এর প্রয়োগ ঘটিয়ে এসব উন্নয়ন রূপরেখার পরিকল্পনার সহজে প্রণয়ন করা যায়।

নগর পরিকল্পনায় কোন ভবন, শপিং কমপ্লেক্স, ফ্লাইওভার, ব্রিজ ইত্যাদি অবকাঠামো তৈরীর পূর্বে তা সিমুলেটর সফটওয়্যার তৈরি করে বাস্তবের অবস্থা দেখা সম্ভব। এতে করে পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন অনেক সহজ হয়। মোটকথা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে সহজেই একটি পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা সম্ভব।


Question 49

ড. জামিল একজন কৃষি গবেষক। তার আবিষ্কৃত বীজ চাষ করে একজন কৃষক পূর্বের ফসলের চেয়ে অধিক ফসল ঘরে তুলল। ডা.জামিল একদিন তার বন্ধু চিকিৎসকের নিকট আছিল অপারেশনের জন্য গেলেন। বন্ধু তাকে স্বল্প সময়ে – 20০ C তাপমাত্রায় রক্তপাতহীন অপারেশন করলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ বাড়ি ফিরে এলেন। Barisal · 2017

a রোবটিক্স কী?

b ব্যক্তি শনাক্তকরণের প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

c ড. জামিলের গবেষণায় কোন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর উদ্দীপকে ড.জামিলের গবেষণায় জেনেটিক ইন্জ্ঞিনিয়ারিং বা জিন প্রকৌশল প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। একটি উদ্ভিদ বা প্রাণীর বৈশিষ্ট্যের বাহক হচ্ছে জিন। অন্যদিকে জিনোম হলো জীবের বৈশিষ্ট্যের নকশা বা বিন্যাস। কোনো উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন করতে চাইলে উক্ত উদ্ভিদের জিনোমের কোনো একটি জিনকে পরিবর্তন করে দিতে হয়। যেহুতু জিনগুলো আসলে ডিএনএ’র একটি অংশ, তাই একটা জিনকে পরিবর্তন করতে হলে ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ’র সেই অংশটুকু কেটে আলাদা অন্য কোনো প্রাণী বা ব্যাকটেরিয়া থেকে আরেকটি জিন কেটে এনে সেখানে লাগিয়ে দিতে হয়। এর ফলে একটি নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কাঙ্ক্ষিত নতুন উদ্ভিদের সৃষ্উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় ড. জামিল অধিক ফসল উৎপাদনকারী বীজ আবিষ্কারের জন্য উপরের বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। অর্থাৎ তিনি নির্দিষ্ট উদ্ভিদের ডিএনএ’র নির্দিষ্ট জিনকে কেটে আলাদা করে সেখানে সুনির্দিষ্ট জিনকে জোড়া লাগিয়ে নতুন প্রজাতির অধিক ফসল উৎপাদনকারী বীজ আবিষ্কার করেন।টি হয়।

d জামিলের বন্ধুর চিকিৎসা পদ্ধতির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও।

উত্তর উদ্দীপকের বর্ণনানুযায়ী ড. জামিলের বন্ধুর গালের আচিল- ২০*C তাপমাত্রায় কোষকলা ধ্বংস করার ক্ষমতাকে ক্রায়োসার্জারি পদ্ধতিতে কাজে লাগানো হয়। এক্ষেত্রে অত্যন্ত শীতল তাপমাত্রায় কোষকলার অভ্যন্তরে বলের আকৃতিবিশিষ্ট ছোট ছোট বরফের কৃষ্টাল তৈরি হয়ে আক্রান্ত কোষগুলোকে ধ্বংস কর ফেলে। এ যন্ত্রে সাধারণত শীতলকারী হিসেবে তরল নাইট্রোজেন অথবা আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। শরীরের বাইরের দিকে অবস্থিত অঙ্গের ক্ষেত্রে অত্যন্ত শীতল এ পদার্থ আক্রান্ত স্থানের কোষকলার ওপর তুলা জড়ানো শলাকা বা স্প্রে করার কোনো যন্ত্রের সাহায্যে সরাসরি প্রয়োগ করা হয়। বর্তমানে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ক্রায়োসার্জারি প্রযুক্তিটির সাফল্যজনক ব্যবহার লক্ষণীয়। বিশেষত ত্বকের বিভিন্ন ক্ষতের চিকিৎসায় এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। যেমন- ত্বকের তিল, আচিল, মেছতা, বিভিন্ন ধরণের টিউমার ও ক্যান্সার চিকিৎসায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

উপরের বর্ণনার আলোকে বলা যায়, স্বল্প সময়ে, রক্তপাতহীনভাবে আচিল চিকিৎসায় ক্রায়োসার্জারী খুবই কার্যকর একটি কৌশল। এক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে বাড়িও ফিরে যাওয়া সম্ভব। সুতরাং সার্বিক বিবেচনায় ড. জামিলের বন্ধুর আচিল চিকিৎসায় ক্রায়োসার্জারি পদ্ধতি ব্যবহার করেন, যা যথাযথ হয়েছে।


Question 50

আসিফ আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার সুযোগ পায়া কিন্তু আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে আমেরিকাতে যাওয়া সম্ভব হয়নি। অতঃপর বাংলাদেশে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী অর্জন করল। আসিফ পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে অনলাইনে কাজ করে অর্থ উপার্জন করে। ফলে তার পারিবারিক অবস্থার উন্নতি হয়। তার বন্ধু মনির নতুন জাতের টমেটো চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়। Dinajpur · 2017

a ন্যানোটেকনোলজি কী?

b নিম্ন তাপমাত্রার চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।

c আসিফের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী অর্জন কীভাবে সম্ভব হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর বিশ্বগ্রামের অন্তর্গত ই-লার্নিং এর মাধ্যমে আসিফের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী অর্জন সম্ভব হয়েছে।
গ্লোবাল ভিলেজ শিক্ষাক্ষেত্রে এনে দিয়েছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। তাছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে পৃথিবীর দূর দূরান্তে বসে শিক্ষার্থীরা ই-লাইব্রেরি, ভার্চুয়াল ক্যাম্পাস ইত্যাদি ব্যবহারের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে।
আসিফ অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স এ অংশগ্রহণ করে, অনলাইনেই উক্ত কোর্সটির পরীক্ষা দিয়ে প্রয়োজনীয় ক্রেডিট অর্জন করেছে। কারণ এখন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের প্রশ্নপত্র অনলাইনে প্রকাশ করে এবং পরীক্ষার পর উত্তর পত্র মূল্যায়ন করে অনলাইনেই ফলাফল প্রকাশ করে। ফলে নানা দেশের শিক্ষার্থীরা, উক্ত কোর্সে অংশগ্রহণ করতে পারছে। অর্থাৎ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কারণে আসিফ অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী অর্জন করতে পারছে।

d উদ্দীপকের আলোকে আসিফ ও মনির এর, আর্থিক স্বচ্ছলতার কারণ তুলনামূলক বিশ্লেষণপূর্বক তোমার মতামত দাও।

উত্তর উদ্দীপকে আসিফের আর্থিক স্বচ্ছলতার কারণ হচ্ছে আউটসোর্সিং এবং মনিরের আর্থিক স্বচ্ছলতার কারণ হচ্ছে DNA প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত জাতের টমেটো উৎপাদন করা। নিচে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হলো-

বর্তমানে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ তাদের বিভিন্ন কাজ ওয়েবসাইটে দেয় যাতে অন্য কেউ সেই কাজ করে জমা দিতে পারে। সাধারণত দরিদ্র দেশের নাগরিকরা সেই কাজ ঘরে বসে করে তা অনলাইনে জমা দেয় এবং বিনিময়ে বৈদেশিক অর্থ আয় করে যা দেশ ও জাতির জন্য অনেক বড় উপকার। উক্ত কাজকে আউটসোর্সিং বলে। আসিফ উক্ত আউটসোর্সিং এর কাজ করছে। ফলে তার পারিবারিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

অন্যদিকে মনির এর আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে উন্নত জাতের টমেটো চাষ করার কারণে। বর্তমানে DNA প্রযুক্তির কারণে কোনো বস্তুর অন্তর্গত জিনকে কোনো জীবকোষে প্রবেশ করিয়ে বা কোষ হতে সরিয়ে উক্ত জীবটির বৈশিষ্ট্যের বংশগতি বদলে নতুন উন্নত জাতের বস্তু সৃষ্টি করা হচ্ছে। (একেই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলে) যা সারাবছরই চাষ করা যায়। মনিরের উন্নত জাতের টমেটো এই DNA প্রযুক্তির ফল। একই পরিমাণ জায়গায় উন্নত ফলনশীল জাতের টমেটো উৎপাদন করায় মনিরের উপার্জন অনেকাংশে বেড়েছে।

অর্থাৎ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে আসিফ ও মনিরের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।


Question 51

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিওর মাধ্যমে দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর হিসেবে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবস্থিত পায়রাবন্দর উদ্বোধন করেন। অপরদিকে দেশের শিক্ষামন্ত্রী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ইলেকট্রনিক উপায়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের কথা বলার প্রেক্ষিতে ABC কলেজের পরিচালনা পরিষদ শিক্ষার্থীদের জন্য ফেস-রিকগনিশন পদ্ধতি চালু করার কথা ভাবছে। যদিও বর্তমানে শিক্ষকদের জন্য আঙ্গুলের ছাপ পদ্ধতি চালু আছে। Comilla · 2017

a ই-কমার্স কী?

b ‘শীতলীকরণ প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা দেয়া সম্ভব’-ব্যাখ্যা করো।

c উদ্দীপকে সমুদ্রবন্দর উদ্বোধনের জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিটির সুবিধাগুলো কী কী? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর উদ্দীপকে সমুদ্রবন্দর উদ্বোধনের জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হচ্ছে ভিডিও কনফারেন্সিং।
ভিডিও কনফারেন্সিং হলো এক সারি ইন্টারঅ্যাকটিভ টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি যেগুলো দুই বা ততোধিক অবস্থান হতে নিরবিচ্ছিন্ন দ্বিমুখী অডিও এবং ভিডিও সম্প্রচারের মাধ্যমে একত্রে যোগাযোগ ‘স্থাপনের সুযোগ দেয়।
ভিডিও কনফারেন্সিং এর সুবিধা হচ্ছে-
১. একই জায়গায় না এসে বিভিন্ন স্থানের একদল মানুষ সভায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
২. বিভিন্ন জায়গার বিভিন্ন দল এক জায়গায় না এসে এ সভায় অংশগ্রহণ করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
৩. বিভিন্ন জায়গা থেকে সভায় অংশগ্রহণ করা যায় বলে যাতায়াতের প্রয়োজন হয় না ফলে গুরুত্বপূর্ণ সময় অপচয় হয় না।
৪. ভিডিও কনফারেন্সিংটি রেকর্ড করে রাখা যায়, ফলে যে কোনো সময় তা আবার দেখা যায়।

d উদ্দীপকে কম সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে কোনটির প্রাধান্য দেয়া কলেজের জন্য বেশি যুক্তিযুক্ত হবে?-বিশ্লেষণ করো।

উত্তর উদ্দীপকে কম সময়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে আঙ্গুলের ছাপ পদ্ধতির প্রাধান্য দেয়া বেশি যুক্তিযুক্ত।
মুখমন্ডলের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নির্ণয় করার সময় আলোর পার্থক্যের কারণে অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়। তাছাড়া চুলের স্টাইল, দাড়ি, গোফ পরিবর্তন, মেকআপ ব্যবহার, গহণা ব্যবহারের কারণে মুখমন্ডল সনাক্তকরণের কাজ ব্যাহত হয়।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতিতে কাউকে সনাক্তকরণের জন্য খুবই কম সময় লাগে। এছাড়া ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতিতে ব্যবহৃত ডিভাইসের দাম কম তাই এই পদ্ধতি ব্যবহারে খরচ তুলনামূলক কম কিন্তু সফলতার হার প্রায় শতভাগ।
অর্থাৎ কলেজ কর্তৃপক্ষের আঙ্গুলের ছাপ পদ্ধতির প্রাধান্য দেয়া উচিত বলে আমি মর্মে করি।