1/ একার্থক পরিকল্পনা : যে পরিকল্পনা একটি নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য একবারই প্রণয়ন করা হয় তাকে একার্থক পরিকল্পনা বলে। একটি মাত্র উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য একার্থক পরিকল্পনা ব্যবহার করা হয় বলে একবার ব্যবহারের পর এর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। যে সকল কার্যক্ষেত্রে অবস্থা দ্রুত পরিবর্তন হয় বা ফরমায়েশ অনুযায়ী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় সেখানে একার্থক পরিকল্পনা উত্তম বিবেচিত হয়ে থাকে।
Exm : একটি কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয় কলেজের ১লা বৈশাখ উদযাপনের জন্য একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেন। সে মোতাবেক যথারীতি পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়। = এটি নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য এবং এককালীন উদযাপনের জন্য গৃহীত হওয়ায় এটি প্রকৃতির দিক থেকে এককথক পরিকল্পনা। সুতরাং, ১লা বৈশাখ উদযাপনের পরিকল্পনাটি প্রকৃতির ভিত্তিতে এককথক পরিকল্পনা, কারণ এটি একবারের জন্য এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গৃহীত হয়।
2/ পরিকল্পনা প্রণয়নের ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন : পরিকল্পনা প্রণয়নের পূর্বে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক সুযোগ বা বাধাগুলোর আগাম মূল্যায়নকে ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন বলে। এটি পরিকল্পনা প্রণয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। একজন ব্যবস্থাপককে পরিকল্পনা প্রণয়নের পূর্বে প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে কী চায়, কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা লাভ করতে পারে অর্থবা কোন কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে হয়।
Ques : শম্পা লিমিটেডের নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব শাহাদাত ২০২৪ সালে ৪০০ মেট্রিক টন চা রপ্তানির পরিকল্পনা করেন। ন্যূনতম মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় বছরের মাঝামাঝি কিছু শ্রমিক দুবাই চলে যায়। কিছুদিন পর আরও কিছু প্রবীণ দক্ষ শ্রমিক অবসরে যান। ফলে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং ফরমায়েশ অনুযায়ী চা রপ্তানি করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানকে ব্যাপক লোকসানের সম্মুখীন হতে হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হয়। (Mym25) = এই বিষয়গুলো জনাব শাহাদাত, পরিকল্পনা প্রণয়নের শুরুতেই চিন্তা করেননি। অর্থাৎ তিনি পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন বিষয়টি নিয়ে ভাবেন নি।
3/ লক্ষ্য পরিকল্পনা : নির্ধারিত ফললাভের উদ্দেশ্যে যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় তাকে লক্ষ্য পরিকল্পনা বলে। প্রতিটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানই একটি নির্ধারিত ফললাভের জন্য সমুদয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। ফললাভের উদ্দেশ্যে যে পরিকল্পনা প্রণীত হয় তা-ই লক্ষ্য নামে পরিচিত। লক্ষ্য ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার মূল কেন্দ্রবিন্দু। সকল পরিকল্পনা প্রক্রিয়া লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়।
Q. জনাব সাদাত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চা রপ্তানি করেন। বর্তমানে ২০% বিক্রয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার জন্য এবং দেশে চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য তিনি বিভিন্ন ধরনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল অবলম্বন করেন।
Ques = জনাব ইসমাইল একটি উৎপাদনকর্মী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি বিগত বছরের তুলনায় ১০% উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। কিন্তু ৬ মাস পর পর্যবেক্ষণ করে তিনি দেখতে পান উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ৪%।
4/ সাধারণ স্বার্থে ব্যক্তি স্বার্থ ত্যাগের নীতি : এ নীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বা সাধারণ স্বার্থকে সর্বদাই ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্ষীণ স্বার্থ যদি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের উর্ধ্বে স্থান পায় তবে প্রতিষ্ঠানের সকল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। এতে প্রতিষ্ঠান সামগ্রিকভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধের উপক্রম হবে।
5/ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা : যে পরিকল্পনা পাঁচ বছরের অধিক সময়ের জন্য প্রণয়ন করা হয় তাকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বলে। প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এ ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের মৌলিক উদ্দেশ্য অর্জন করা।
Q. জনাব তারিক হাসান তাঁর প্রতিষ্ঠিত সিমেন্ট কোম্পানির পরচালনার পাশাপাশি ঠিকাদারি কাজের সাথেও জড়িত। তিনি তাঁর কোম্পনির উৎপাদন কাজের জন্য ১০ বছরের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
6/ স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা : যে পরিকল্পনা এক বছর বা তার চেয়ে কম সময়ের জন্য প্রণয়ন করা হয় তাকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বলে। একজন ব্যবস্থাপকের দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পাদন সচরাচর স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা ভিত্তিতে হয়ে থাকে। এ জাতীয় পরিকল্পনার মেয়াদ সাধারণত একদিন, এক সপ্তাহ, এক মাস, ত্রৈমাসিক অথবা খুব বেশি হলে এক বছর পর্যন্ত হতে পারে।
Ques = জনাব আবির একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ব্যবস্থাপক। বিক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে ছয় মাস মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন কিন্তু উক্ত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তিনি পরিকল্পনাটির মেয়াদ আরও ‘চার মাস বৃদ্ধি করলেন।
7/ স্থায়ী পরিকল্পনা : যে পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানে একবার গৃহীত হওয়ার পর নতুন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তা বারবার ব্যবহৃত হয় তাকে স্থায়ী পরিকল্পনা বলে। স্থায়ী পরিকল্পনা স্থায়ী প্রকৃতির হয়ে থাকে এবং একই ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য এ ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। ফলে নতুন পরিকল্পনা তৈরির ঝামেলা ও ব্যয় হতে প্রতিষ্ঠান রক্ষা পায়।
Q. জনাব কামরুল একটি বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক। তিনি পণ্য উৎপাদন, বিক্রয় ও পরিচালনার ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি বারবার ব্যবহার করেন। এতে কর্মীরা সহজেই সঙ্গতি বিধান করতে পারে।
8/ কৌশলগত পরিকল্পনা : তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে টিকে থেকে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় তাকে কৌশলগত পরিকল্পনা বলে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য এ ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় বিধায় প্রতিষ্ঠানের উচ্চ স্তরের নির্বাহীদের অনেক চিন্তা-ভাবনা করতে হয়।
Ques : কর্ণফুলী কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বোর্ড ফলাফলে শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করতে পারছে না। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত রিপোর্টে দেখা যায়, কলেজে প্রথম বর্ষে ১ম পত্র ও ২য় বর্ষে ২য় পত্র পড়ানো হয়। মূলত এ কারণে শিক্ষার্থীরা প্রথম পত্রে ভালো ফল পাচ্ছে না। অধ্যক্ষ এ বিষয়ে একাডেমিক সভা আহ্বান করেন। সবার সাথে পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এখন থেকে প্রত্যেক বর্ষে উভয় পত্র পড়ানো হবে। = Tara Kowshol Change korce
9/ সময় লক্ষ্য (College): সময় লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানে গৃহীত প্রতিটি কাজ কত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে তা পূর্ব থেকে নির্ধারণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কাজ সম্পাদনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়। এই সীমারেখার আওতায় একটি কাজ কখন শুরু হবে আবার তা কখন শেষ হবে তা নির্ধারণ করে দিতে হয়। কেননা সময়সীমা নির্ধারিত না থাকলে প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায় না।
10/ সংগঠনের কাঠামোভিত্তিক বিভাগীয় পরিকল্পনা : এ পরিকল্পনার প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক বিভাগের জন্য পৃথক পৃথক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এ ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ উৎপাদন বিভাগের পরিকল্পনা, ক্রয় বিভাগের পরিকল্পনা, বিক্রয় বিভাগের পরিকল্পনা, মানব সম্পদ বিভাগের পরিকল্পনা ইত্যাদি।
Example : সুরমা লিমিটেড আগামী বছর ১০% বিক্রয় বৃদ্ধি করতে চায়। সে লক্ষ্যে কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার জনাব উৎপল সংশ্লিষ্ট বিভাগের ব্যবস্থাপকগণের মাধ্যমে উৎপাদন, ক্রয়, বাজারজাতকরণ, বিক্রয়, অর্থ ও মানবসম্পদ বিভাগের জন্য আলাদা আলাদা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। উক্ত পরিকল্পনাটি বিভাগীয় পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
11/ আঞ্চলিক পরিকল্পনা : দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য যখন কোনো প্রতিষ্ঠান পৃথক পৃথকভাবে পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তখন তাকে আঞ্চলিক পরিকল্পনা বলে। সাধারণত ব্যাংক ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিকল্পনা লক্ষ্য করা যায়। উদাহরণস্বরূপ: পেপসি কোম্পানি বাংলাদেশের কোনো অঞ্চলের জন্য যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তাই আঞ্চলিক পরিকল্পনা।
Q. জনাব সাব্বির একটি শিল্পীয় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদক ব্যবস্থাপক। তার কারখানায় উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে (যেমন খুলনা, রাজশাহী, দিনাজপুর, যশোর) সরবরাহের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। উক্ত পরিকল্পনা প্রণয়নে তিনি দেশের পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় নেন।
12/ বিভাগীয় পরিকল্পনা : প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক বিভাগের জন্য পৃথক পৃথক যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় তাকে বিভাগীয় পরিকল্পনা বলে। প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এ ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
Ques : X কোম্পানি লি. বিগত বৎসরের তুলনায় চলতি বৎসরে আরও ১০% বিক্রয় বৃদ্ধি করতে চায়। সে লক্ষ্যে কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার জনাব মুনির বিভিন্ন বিভাগের ব্যবস্থাপকদের মাধ্যমে উৎপাদন, ক্রয়, বিক্রয়, অর্থ ও মানব সম্পদ বিভাগে ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন।
13/ পরিকল্পনায় বিকল্প স্থিরকরণ : ভবিষ্যৎ যেকোনো পরিস্থিতির মধ্যে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পূর্ব থেকে একাধিক বিকল্প ঠিক করে রাখাকে বিকল্প স্থিরকরণ বলে। এ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য অনুসরণযোগ্য একাধিক কার্যপদ্ধতি পরিকল্পনাবিদকে উদ্ভাবন করতে হয়। যেমন-প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য বিজ্ঞাপনের পরিমাণ বাড়ানো, মূল্য হ্রাস করা, একটির সাথে একটি ফ্রি দেওয়া ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।
14/ পরিকল্পনা প্রণয়নের বিকল্প মূল্যায়ন : ভবিষ্যত সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে গৃহীত বিকল্পসমূহের যথাযথ মূল্যায়ন কে বিকল্প কার্যপদ্ধতি মূল্যায়ন বলে। অর্থাৎ এ পর্যায়ে গৃহীত পদ্ধতি সমূহের সুবিধা ও অসুবিধা, কার্যকারিতা, ফলপ্রদতা ইত্যাদি পুঙ্গানুপুঙ্গ ভাবে মূল্যায়ন করতে হয় । বিকল্পসমূহ মূল্যায়নে এবং এটা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় সময়, অর্থ, ঝুঁকি, আয়, ব্যয় ও শক্তি, দুর্বলতা এবং সন্তুষ্টি কি পরিমাণ হবে তার বিশ্লেষণ করে দেখতে হয়।
15/ মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা : যে পরিকল্পনা এক বছরের বেশি এবং পাঁচ বছরের কম সময়ের জন্য প্রণয়ন করা হয় তাকে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা বলে। এ ধরনের পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অধীনে অন্তবর্তীকালীন কোনো উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রণয়ন করা হয়। দেশের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্পোরেট লেভেলে এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এ ধরনের পরিকল্পনা ব্যবহৃত হয়।
16/ পরিকল্পনার নমনীয়তা :যে পরিকল্পনা গ্রহণের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন করা যায় তাকে পরিকল্পনার নমনীয়তা বলে । বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি কিংবা আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সমস্যা দেখা যায়। এমতাবস্থায় নতুন কোন পরিকল্পনা বা পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। অবশ্য এসব প্রতিষ্ঠান বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করে রাখে যাতে উদ্ভূত বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যায়।
17/ বিকল্প নির্ধারণ ও মূল্যায়ন ধাপ : পরিকল্পনা প্রণয়নের আগে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য সম্ভাব্য বিভিন্ন উপায় প্রস্তুত ও নির্ধারণ করার কাজকে বিকল্প উদ্ভাবন বলে। যত বেশি বিকল্প পদ্ধতি উদ্ভাবন বা সনাক্ত করা যাবে পরিকল্পনার নিখুঁত ও নির্ভুলভাবে প্রণয়ন করাও তত সহজ হবে। পরিকল্পনা প্রণেতাকে বিকল্প কার্যপদ্ধতি সমূহ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হয়। এক্ষেত্রে চিন্তা ভাবনা, বিশ্লেষণ করে বিকল্প পদ্ধতির কাজগুলোর কার্যকারিতা, সুবিধা, অসুবিধা ইত্যাদিও মূল্যায়ন করতে হয়।
18/ পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নির্ধারণ : কোন ফল লাভের জন্য প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা প্রণীত হলে তাকে উদ্দেশ্য নির্ধারণ বলে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সুযোগ সুবিধা গুলো বিশ্লেষণ করার পর তার আলোকে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে হয়। এ উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ ও উপবিভাগের কাজ সুনির্দিষ্ট করতে হয়। তাই ভবিষ্যৎ সুযোগ-সুবিধা গুলো বিশ্লেষণ করতে প্রতিষ্ঠানের অনেক চিন্তা ভাবনা করার প্রয়োজন হয়। নাচেৎ সঠিক উদ্দেশ্য নির্ধারণের ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠান তারা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেনা।
19/ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় বিবেচনা করা উচিত ?
সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ অবস্থা, প্রাপ্ত তথ্য, সিদ্ধান্ত লক্ষ্য, সহযোগিতার মাত্রা, ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করতে হয়।
কোন কার্য সম্পাদনের জন্য একাধিক কর্মপন্থার মধ্য হতে সর্বোত্তম পদ্ধতি বেছে নেওয়াকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বলে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারাবাহিক কার্যক্রম। এটি এক ধরনের ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া। প্রত্যেক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান দৈনন্দিন কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য ব্যবস্থাপকের নানাবিধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। এবং উত্তর সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হয়।
20/ পরিকল্পনার বাস্তবমুখীতা বৈশিষ্ট্য (Raj23,Je21): পরিকল্পনার বাস্তবমুখীতা বলতে ভবিষ্যৎ অবস্থা বিবেচনায় পরিকল্পনা বাস্তবযোগ্য হওয়াকে বোঝায়। বৃহত্তর উদ্দেশ্য ও তার আলোকে একটি বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই তা সুফল দিতে পারেনা। অবাস্তব পরিকল্পনা সবার মাঝে তাৎক্ষণিক কিছুটা আশাবাদ সৃষ্টি করতে সমর্থ্য হলেও কার্যক্ষেত্রে তা কখনোই কাঙ্খিত ফল দেয় না। এ কারণেই পরিকল্পনাকে বাস্তবমুখী হতে হয়।
21/ কল্পনার সংক্রান্ত দক্ষতা : অতীত অভিজ্ঞতা দিয়ে ভবিষ্যৎ অবসাদ সম্পর্কে আগাম ধারনা করতে পারার দক্ষতাকে এই ব্যবস্থাপকের কল্পনার সংক্রান্ত দক্ষতা বলে। এই দক্ষতার মাধ্যমে একজন ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন এবং এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এক্ষেত্রে পরিকল্পনায় ভুল হলে প্রতিষ্ঠানের বাকি সব কাজই ব্যর্থ হয়।
22/ পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রতিযোগিতার অবস্থা CTG 22: প্রতিযোগিতা অবস্থা বিবেচনা পরিকল্পনা প্রণয়নের ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। বর্তমানে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য প্রতিযোগিতার অবস্থা বিবেচনা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রতিযোগীদের গৃহীত কৌশল বিশেষভাবে বিবেচনার প্রয়োজন পড়ে। তাই পরিকল্পনা গ্রহণের সময় কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
23/ ব্যবস্থাপনা চক্রের কাজগুলো ধারাবাহিকতা : ব্যবস্থাপনা কার্যাবলী পরিকল্পনা সংগঠন কর্মী সংস্থার নির্দেশনা প্রেষণা সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ। ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে। এটি পরিকল্পনার মাধ্যমে শুরু হয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শেষ হয়। নিয়ন্ত্রণে সংশোধনীমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে আবার নতুন পরিকল্পনা করা হয়। এভাবে ব্যবস্থাপনার কাজগুলো চক্রাকারে চলতে থাকে।
24/ পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতা : পরিকল্পনা সময় প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার ও বাইরের পরিবেশে সুযোগ-সুবিধা যাচাই করা হয় আর বাস্তবসম্মত তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতের পরিবর্তনশীল পরিবেশে মূল্যায়ন করা হয় এতে ব্যবসায়ের ভবিষ্যতের লাভ জনকতা সম্পর্কে জানা যায়
25/ পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ও মূল্যয়ন : পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ও মূল্যায়ন পর্যায়ে পরিকল্পনার উপযুক্ততা বা নির্ভুলতা পরীক্ষা করা হয়। স্থায়ীভাবে গ্রহণ বা বর্জনের আগে একে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়।এতে পরিকল্পনাটি সফল বলে বিবেচিত হলে তা চূড়ান্ত করা হয়। অন্যাথায়, প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার চিন্তা করতে হয়।
26/ পরিকল্পনার আঙ্গিনা সীমাবদ্ধতা : পরিকল্পনার আঙিনা বলতে বুঝায় যে সকল অবস্থার মধ্য দিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে পারে তার সম্পর্কে পূর্ব অনুমান করাকে. যে ব্যবস্থাপক যত বেশি সঠিকভাবে পারিপার্শ্বিক অবস্থা নির্ণয় করতে পারবে তার পরিকল্পনা তত বেশি সফলতা অর্জন করবে.
27/ নিয়ন্ত্রণ : পরিকল্পনা বা আদর্শ মান অনুযায়ী যাবতীয় কাজ সম্পাদিত হচ্ছে কিনা তা যাচাই করে কোন কিছুতে বিচ্যুতি থাকলে প্রয়োজনীয় সংশোধন মূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কাজকে নিয়ন্ত্রণ বলে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। পরিকল্পনা বা আদর্শ মানের উপর ভিত্তি করার নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এতে প্রকৃত কার্যফল পরিমাপ করা আদর্শ মানুষের সাথে তুলনা করা হয়। নিয়ন্ত্রণ সাধারণত দৈনিক সপ্তাহিক মাসিক বা বার্ষিক হতে পারে। এটি প্রতিষ্ঠান আকার, আয়তন, নকশা বা প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। নিয়ন্ত্রণ পরবর্তী পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
28/ পিতৃসুলভ নেতৃত্ব : যে নেতৃত্বে নেতা কর্মীদের ওপর বেশি কর্তৃত্বপরায়ণ হলেও পিতা-পুত্রের মতো সদয় ও কল্যাণময়ী হয়ে তাদের দ্বারা কাজ আদায়ের চেষ্টা করেন,তাকে পিতৃসুলভ নেতৃত্ব বলে। কর্মীদের মনে শ্রদ্ধাবোধ জাগাতে চেষ্টা করেন নেতা।স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের উন্নত ও ইতিবাচক সংস্করণই হলো পিতৃসুলভ নেতৃত্ব। এরূপ নেতৃত্বেও কতৃত্ব ও ক্ষমতা নেতার হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে।এক্ষেত্রে নেতা তার কাজের জন্য কারো কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেনা।এরূপ নেতৃত্ব নেতা সবসময় নিজ সন্তানের মতো ভালো ব্যবহার দেখিয়ে কাজ আদায় করে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
29/ ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া : এ প্রক্রিয়া শুরু হয় সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সংজ্ঞায়িতকরণের মাধ্যমে। এরপর কোন সমস্যাটি আগে সমাধান করতে হবে তা নির্দিষ্ট করে আদর্শমান নির্ধারণ করতে হয়। পরবর্তীতে উপাত্ত ও তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে সমাধানের বিভিন্ন বিকল্প উদ্ভাবন করতে হয়। এরপর বিকল্পগুলো মূল্যায়ন করে সর্বোত্তম বিকল্প বাছাই করা হয়। সবশেষে সর্বোত্তম বিকল্প অনুযায়ী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হয়।
30/ কার্যভিত্তিক পরিকল্পনা : এ ধরনের পরিকল্পনায় ব্যবস্থাপনার কাজকে প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে এক-একজনের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রতিটি কাজের শৃঙ্খলা বজায় থাকে। এছাড়া, প্রতিটি বিভাগের কর্মীরা সঠিক ও দক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য থাকে।
31/ স্থায়ী পরিকল্পনার নীতি : নীতি হলো কোনো কাজের নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন বা পথ নির্দেশিকা। নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করলে কাজে গতিশীলতা আসে। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সময় লাগে।
32/ পরিকল্পনা প্রণয়নে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ : পরিকল্পনা হলো কতগুলো ধারাবাহিক কার্যক্রমের সমষ্টি। এ কার্যাবলির যথার্থ অনুসরণের ওপর পরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ।
Total CQ – 124 ,
Board 2017-2025 , College 25,24,23
