BNG – AB S – Jowboner Gaan

01 গানের পাখিকে তাড়া করে কে?[রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ · 2026]

উত্তর গানের পাখিকে তাড়া করে বায়স-ফিঙে।

02 ‘ইহাই হউক তরুণের সাধনা।’ এই সাধনার স্বরূপ ব্যাখ্যা করো।[রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ · 2026]

উত্তর “ইহাই হোক তরুণের সাধনা” বলতে তরুণদের মনের মতো নতুন জগৎ রচনার বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে।
‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে লেখক দুরন্ত-দুর্বার যৌবনের প্রশস্ত উচ্চারণ করেছেন। দুর্বার উদ্দীপনা, ক্লান্তিহীন উদ্যম, অটল সাধনার প্রতীক যৌবন মৃত্যুকে তুচ্ছ করে সংস্কারের বেড়াজাল ছিন্নভিন্ন করে সকল বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যায় সমাজ প্রগতি ও নতুন স্বপ্নময় মুক্তজীবনের পথে। তাই লেখক তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাদের মনের মতো করে নতুন জগৎ রচনার সাধনায় অগ্রসর হতে।

03 সেন বংশের শেষ রাজা কে ছিলেন?[ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2026]

উত্তর সেন বংশের শেষ রাজা ছিলেন লক্ষ্মণ সেন।

04 “দুঃখের তিমির-কুন্তলা নিশীথিনীর সেই তো লীলাভূমি।”-কেন? ব্যাখ্যা করো।[ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2026]

উত্তর প্রশ্নোক্ত বাক্যে প্রাবন্ধিক বলতে চেয়েছেন- যেখানে যৌবনের’ তেজদীপ্ত শক্তি নেই, সেখানে দুঃখের অন্ধকার বিরাজমান।
‘যৌবনের গান’ রচনায় লেখক তারুণ্যশক্তির জয়গান গেয়েছেন। কারণ যৌবন হচ্ছে অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার। যৌবন মানুষের জীবনকে গতিশীল ও প্রত্যাশাময় করে তোলে। তারুণ্যশক্তি বৃদ্ধি পেলে দেশ দ্রুত উন্নতির দিকে অগ্রসর হয়। অন্যদিকে, তারুণ্যহীন জীবন নিঃসাড়। তখন জীবন গতিশূন্য হয়ে পড়ে। জীবনের ছন্দপতন ঘটে। মানবজীবন ধীরে ধীরে অন্ধকারে ছেয়ে যায়।..

05 মুসোলিনি কত সালে আবিসিনিয়া আক্রমণ করেন?[মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা · 2026]

উত্তর মুসোলিনি ১৯৩৫ সালে আবিসিনিয়া আক্রমণ করেন।

06  ‘যৌবনের মাতৃরূপ’ বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন? বর্ণনা করো।[মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা · 2026]

উত্তর যৌবনের মাতৃরূপ বলতে লেখক যৌবনের সেবাধর্মী কোমল রূপকে বুঝিয়েছেন।
যৌবনের শক্তি ঝড়ের মতো বিধ্বংসী। পৃথিবীর মিথ্যার সমস্ত আগল ভেঙে সত্যের স্বরূপ উন্মোচন এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠাই এ শক্তির মূল লক্ষ্য। কিন্তু কখনো কখনো যৌবন কোমল রূপেও আবির্ভূত হয়। সেবাপরায়ণতা, দয়ার্দ্রতা যৌবনের আরেক রূপ। যৌবন ক্ষুধার্তকে অন্ন দান করে, অসহায়কে সাহস জোগায়, দুর্গতদের পাশে দাঁড়ায় সর্বাত্মক সাহায্য নিয়ে। আর্তের পাশে থেকে রাত জেগে সেবা করে। মূলত এই রূপকেই লেখক যৌবনের মাতৃরূপ বলেছেন।

07 কার হাসিতে, কান্নায় গান?[শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ · 2026]

উত্তর বনের পাখির হাসিতে, কান্নায় গান।

08 “আমি আজ তাঁহাদেরই দলে, যাঁহারা কর্মী নন ধ্যানী।” এখানে ধ্যানী বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে এবং কেন?[শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ · 2026]

উত্তর উল্লিখিত উক্তিটিতে কাজী নজরুল ইসলাম নিজেকে ধ্যানী শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।

যৌবনের, গান’ প্রবন্ধে লেখক কাজী নজরুল ইসলাম জীবনের বাস্তব প্রয়োজনে যাঁরা প্রত্যক্ষ সেবামূলক কাজের মাধ্যমে মানবজাতির কল্যাণে ব্রতী হন, তাঁদেরকে কর্মী বলে অভিহিত করেছেন। যাঁরা এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত তাঁরা সক্রিয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শতাব্দীর অচলায়তন ভেঙে শাশ্বত সুন্দর নির্মাণ করেন। পক্ষান্তরে যাঁরা জীবনের প্রত্যক্ষ কার্যপ্রবাহে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত না থেকেও পর্দার আড়ালে থেকে সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে প্রেরণা জুগিয়ে থাকেন, দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন, তাঁদেরকে তিনি ধ্যানী বলেছেন। এ শ্রেণির মানুষ তারুণ্যের অমিত শক্তিকে স্বীয় ব্যক্তিত্বের বৈভব দিয়ে মানবকল্যাণে উৎসাহিত করেন।

09 কালাপাহাড় কে?[সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026]

উত্তর কালাপাহাড় হলেন ব্রাহ্মণ থেকে মুসলমানে ধর্মান্তরিত বিখ্যাত মুসলিম যোদ্ধা।

10 “বার্ধক্যকে সব সময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না।”- ব্যাখ্যা করো।[সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026]

উত্তর “বার্ধক্যকে সব সময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না।”- কারণ বয়সে বৃদ্ধ হলেও অনেকের মধ্যে যৌবনশক্তি সদা জাগ্রত থাকে। ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে লেখক যৌবন ও বার্ধক্যের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা
করেছেন। তিনি বলেছেন- বয়স দিয়ে যৌবন বা তারুণ্য বিচার করা যায় না। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শরীরে বার্ধক্য চলে আসে। তবে বৃদ্ধ বয়সেও অনেকের মনে তারুণ্যের প্রাণচাঞ্চল্য সদা জাগ্রত থাকে। তারা বয়সকে উপেক্ষা করে তারুণ্যশক্তিতে বলীয়ান হয়ে কর্মতৎপরতা চালায় এবং নব উদ্যমে এগিয়ে চলে। বার্ধক্য ও তারুণ্য মূলত মনমানসিকতার ব্যাপার। এ কারণেই লেখক বার্ধক্যকে সব সময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন।

11 কালাপাহাড় কে?[জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট · 2026]

উত্তর কালাপাহাড় হলেন ব্রাহ্মণ থেকে মুসলমানে ধর্মান্তরিত বিখ্যাত মুসলিম যোদ্ধা।

12 “দুঃখের তিমির-কুন্তলা নিশীথিনীর সেই তো লীলাভূমি।”-কেন? ব্যাখ্যা করো।[জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট · 2026]

উত্তর প্রশ্নোক্ত বাক্যে প্রাবন্ধিক বলতে চেয়েছেন- যেখানে যৌবনের তেজোদীপ্ত শক্তি নেই, সেখানে দুঃখের অন্ধকার বিরাজমান।
‘যৌবনের গান’ রচনায় লেখক তারুণ্যশক্তির জয়গান গেয়েছেন। কারণ যৌবন হচ্ছে অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার। যৌবন মানুষের জীবনকে গতিশীল ও প্রত্যাশাময় করে তোলে। দেশে তারুণ্যশক্তি বৃদ্ধি পেলে দেশ দ্রুত উন্নতির দিকে ধাবিত হয়। অন্যদিকে, তারুণ্যহীন জীবন নিঃসাড়। তখন জীবন গতিশূন্য হয়ে পড়ে। জীবনের ছন্দপতন ঘটে। ধীরে ধীরে অন্ধকারে ছেয়ে যায়।

13 বার্ধক্যকে সব সময় কীসে বাঁধা যায় না?[ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2026]

উত্তর বার্ধক্যকে সবসময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না।

14 যৌবনের মাতৃরূপ বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।[ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2026]

উত্তর নিঃস্বার্থ সেবার মধ্যে লেখক ‘যৌবনের মাতৃরূপ’ প্রত্যক্ষ করেছেন।
‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে লেখক যৌবনের শক্তি, উৎসাহ ও অটল সাধনাকে দেখেছেন, যা মৃত্যুকেও পরোয়া করে না এবং নিঃস্বার্থভাবে মানুষের সেবা করে। যৌবনের যে মাতৃসুলভ গুণাবলি, যেমন- ত্যাগ, সেবা এবং অন্যকে সুরক্ষা দেওয়া তা লেখক যৌবনের কর্মময় জীবনের মাধ্যমে, বিশেষত নিঃস্বার্থ সেবার কাজের মধ্যে দেখেছেন। অর্থাৎ লেখক যৌবনের কোমল সেবাপরায়ণতার মধ্যে ‘যৌবনের মাতৃরূপ’ প্রত্যক্ষ করেছেন।

15 পাতাশূন্য শুকনো গাছটায় কারা বসেছে?[ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2026]

উত্তর পাতাশূন্য শুকনো গাছটায় শকুনরা বসেছে।

16 জগু কেন মামলা করতে চাইল?[ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2026]

উত্তর আহ্লাদিকে মাসি-পিসির কাছ থেকে নিতে জগু মামলা করতে চাইল।
জগ্ন একজন অত্যাচারী স্বামী। তার অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে তার স্ত্রী আহ্লাদি মাসি-পিসির কাছে আশ্রয় নেয়। আহ্লাদিকে স্বামীর বাড়ি পাঠানোর প্রস্তাব দিতে জগু তার বন্ধু কৈলাশকে মাসি পিসির কাছে পাঠায়। কৈলাশ মাসি-পিসিকে জানায় তারা যেন যেচে আহ্লাদিকে স্বামীর বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। নইলে জগু মাসি-পিসির বিরুদ্ধে তার স্ত্রীকে আটক রাখার অভিযোগ দেখিয়ে মামলা করবে।

17 গানের পাখিকে তাড়া করে কে?

উত্তর বায়স-ফিঙে গানের পাখিকে তাড়া করে।

18 ‘আমি আজ তাঁহাদেরই দলে, যাহারা কর্মী নন- ধ্যানী’ এখানে ‘ধ্যানী’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে এবং কেন?

উত্তর ➤ ‘আমি আজ তাহাদের দলে, যাহারা কর্মী নন- ধ্যানী’- এখানে ‘ধ্যানী’ বলতে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগকারীদের বোঝানো হয়েছে।

➤ ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে লেখক যৌবনের বৈশিষ্ট্য, তারুণ্যের গুরুত্ব এবং বার্ধক্যের বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। আমাদের সমাজে দুই শ্রেণির লোককে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগকারী হিসেবে দেখা যায়। এক শ্রেণির লোক সাধনা করে পথ তৈরি করেন। আর এক শ্রেণির লোক সমাজকে সেই তৈরি করা পথে পরিচালিত করেন। প্রথম পথের অভিযাত্রিকদের লেখক বলেছেন ধ্যানী। এরা তাদের মনন ও মেধা দিয়ে সমাজ বিনির্মাণে অবদান রাখেন। এরা জাতির প্রাণশক্তি। এই ধ্যানী লোকদের সমাজসেবা প্রত্যক্ষ নয়। তারা সমাজকে তাদের অর্জনগুলো দান করে যান রক্তপ্রবাহের মতো অত্যন্ত গোপনে গোপনে। 

সারকথা: যারা অন্যের কল্যাণ কামনায় নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একাগ্রচিত্তে উৎসর্গ করেন তাদেরকে ধ্যানী বলা হয়েছে।

19 ‘বনের পাখির মতো গান করা স্বভাব’- কার?

উত্তর বনের পাখির মতো গান করা কবির স্বভাব।

20 কবি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন কেন?

উত্তর ➤ তরুণ হচ্ছে তারাই যাদের জীবনে আছে গতি এবং কাজ। দুর্বার প্রাণশক্তি নিয়ে যারা এগিয়ে যায় তারাই তরুণ।

➤ ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে লেখক চান যৌবনধর্মে দীক্ষিত কাঙ্ক্ষিত গতিময় সমাজ। সেই সমাজের তরুণেরা অজয়কে জয় করবে। অজানাকে নিজের করায়ত্ত করবে। মানবকল্যাণে আত্মনিবেদন করবে। মানবসেবা দিয়ে তার চারপাশ জীবন-সৌন্দর্যে ভরিয়ে তুলবে। এই ধর্ম সেই যৌবনের এবং এই বাসনা যারা কামনা করেন তারাই তরুণ। কবি এমনই কামনা করেন বিধায় তিনি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন। 

সারকথা: তরুণরা অফুরন্ত প্রাণশক্তির অধিকারী। তারা তাদের শক্তি ও সাহস দিয়ে জগৎকে সুন্দর করে গড়ে তোলে। তাই কবি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন।

21 মোহনিদ্রা শব্দের অর্থ কী?

উত্তর মোহনিদ্রা শব্দের অর্থ আসক্তি বা মোহরূপ নিদ্রা, অচেতনতা, জড়তা।

22 ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে তারুণ্যের কী কী বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর ➤ যৌবন হলো এমন একটি সম্মোহনী শক্তি, যা মানবদেহে প্রাণচাঞ্চল্য আনে, মানুষের কর্মশক্তি বাড়ায়, মানুষকে অদম্য সাহসী করে তোলে এবং নতুনকে গ্রহণ করতে অনুপ্রেরণা জোগায়।

➤ যৌবন হচ্ছে অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার এবং তা মানুষের জীবনকে করে গতিশীল ও প্রত্যাশাময়। দুর্বার উদ্দীপনা, ক্লান্তিহীন উদ্যম, অপরিসীম ঔদার্য, অফুরন্ত প্রাণচঞ্চলতা ও অটল সাধনার প্রতীক যৌবন মৃত্যুকে তুচ্ছ করে সংস্কারের বেড়াজাল ছিন্নভিন্ন করে সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যায় সমাজ-প্রগতি ও নতুন স্বপ্নময় মুক্তজীবনের পথে। যৌবনের অন্য নাম তারুণ্য। তারুণ্য একটি স্বতঃস্ফূর্ত অভিব্যক্তি। তরুণের মনে যদি শক্তি ও সাহস না থাকে তবে তাকে যুবক বলা যায় না। আর কারও মনে যদি শক্তি এবং সাহস থাকে তবে বৃদ্ধ হলেও সে যুবক। প্রকৃতপক্ষে এটিই হলো যৌবনের স্বরূপ। 

সারকথা: ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে তারুণ্যের অদম্য সাহস, কর্মশক্তি, প্রাণচাঞ্চল্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে।

23 মুসোলিনি কোন দেশের একনায়ক ছিলেন?

উত্তর মুসোলিনি ইতালির একনায়ক ছিলেন।

24 “রঙের খেলা খেলিতে তাহার উদয়, রং ছড়াইতে ছড়াইতে তাহার অন্ত” কথাটির অর্থ কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ➤ “রঙের খেলা খেলিতে তাহার উদয়, রং ছড়াইতে ছড়াইতে তাহার অন্ত” কথাটির অর্থ হচ্ছে তিমিরবিদারী আলোর মতোই যৌবনের আবির্ভাব এবং তেজোদীপ্ত সূর্যের অন্তমিত হওয়ার মতোই তার সমাপ্তি।

➤ ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে লেখক তারুণ্যের জয়গান করেছেন। যৌবন হচ্ছে তারুণ্যের মূর্ত প্রতীক। এর আবির্ভাব অফুরন্ত প্রাণচঞ্চলতা ও দুর্বার উদ্দীপনা নিয়ে। এ কারণে তরুণরা মৃত্যুকে তুচ্ছ করে সংস্কারের বেড়াজাল ছিন্নভিন্ন করে সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যায় মুক্তজীবনের পথে। আর দেশ ও জাতির জন্য তারা জীবন উৎসর্গ করে। প্রশ্নোক্ত লাইনের মাধ্যমে লেখক একথাই বোঝাতে চেয়েছেন। 

সারকথা: যৌবনের আবির্ভাব যেমন দুর্বার উদ্দীপনাময় তেমনই এর অন্তও অনুরূপ।

25 বনের পাখির মতো গান করা কার স্বভাব?

উত্তর বনের পাখির মতো পান করা কবির স্বভাব।

26 কবি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন কেন?

উত্তর ➤ তরুণ হচ্ছে তারাই যাদের জীবনে আছে গতি ও কর্মস্পৃহা, দুর্বার প্রাণশক্তি নিয়ে যারা এগিয়ে যায় তারাই তরুণ।

➤ কবিও চান এমনি একটি গতিময় যৌবনধর্মে দীক্ষিত কাঙ্ক্ষিত সমাজ, যে সমাজের তরুণেরা অজেয়কে জয় করার আকাঙ্ক্ষায় এগিয়ে যাবে। অজানাকে নিজের করায়ত্ত করবে। মানবসেবা দিয়ে তার চারপাশের জীবন সৌন্দর্যে ভরিয়ে তুলবে। এ ধর্ম সেই যৌবনের এবং এ বাসনা যারা কামনা করেন তারাই তরুণ- কবি এমনই কামনা করেন বিধায় তিনি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন। 

সারকথা: তরুণের জীবনে থাকে গতি ও কর্মস্পৃহা। তাই কবি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন।

27 কালাপাহাড় কত খ্রিষ্টাব্দে পুরী আক্রমণ করে মন্দির ও দেবদেবীর মূর্তি ধধ্বংস করে?

উত্তর কালাপাহাড় ১৫৬৮ খ্রিষ্টাব্দে পুরী আক্রমণ করে মন্দির ও দেবদেবীর মূর্তি ধ্বংস করে।

28 যৌবনের মাতৃরূপ বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর ➤ যৌবনের মাতৃরূপ বলতে লেখক যৌবনের সেবাধর্মী কোমল রূপকে বুঝিয়েছেন।

➤ যৌবনের শক্তি ঝড়ের মতো বিধ্বংসী। পৃথিবীর মিথ্যার সমস্ত আগল ভেঙে সত্যের স্বরূপ উন্মোচন এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠাই এ শক্তির মূল লক্ষ্য। কিন্তু কখনো কখনো যৌবন কোমল রূপেও আবির্ভূত হয়। সেবাপরায়ণতা, দয়ার্দ্রতা যৌবনের আরেক রূপ। যৌবন ক্ষুধার্তকে অন্ন দান করে, অসহায়কে সাহস জোগায়, দুর্গতদের পাশে দাঁড়ায় সর্বাত্মক সাহায্য নিয়ে। আর্তের পাশে থেকে রাত জেগে সেবা করে। মূলত এই রূপকেই লেখক যৌবনের মাতৃরূপ বলেছেন। 

সারকথা: যৌবনের মাতৃরূপ বলতে লেখক যৌবনের সেবাধর্মী কোষল রূপকে বুঝিয়েছেন।

29 ‘যৌবনের গান’ কোন জাতীয় রচনা?

উত্তর ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধ জাতীয় রচনা।

30 ‘আমরা মুরিদ যৌবনের’- উক্তিটির তাৎপর্য কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ➤ আমরা মুরিদ যৌবনের’- উক্তিটির মাধ্যমে লেখক যৌবনের গুরুত্ব নির্দেশ করেছেন।

➤ ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে লেখক যৌবনকে অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার বলে আখ্যায়িত করেছেন। প্রকৃত অর্থেই যৌবন মানুষের জীবনকে গতিশীল ও প্রত্যাশাময় করে তোলে। তারা পব বহন করে নিয়ে যায় শশ্মশানঘাটে, গোরস্থানে; অনাহারে থেকে জন্ন পরিবেশন করে দুর্ভিক্ষ- বন্যা-পীড়িতদের মুখে, রোগীর শয্যাপাশে রাত জেগে সেবা করে, দুর্বলের পাশে বল হয়ে দাঁড়ায়; কারণ এগুলো যৌবনের ধর্ম। এই তরুণদের কোনো দেশ নেই, জাতি নেই, অন্য ধর্ম নেই; তারা দেশ-কাল-জাতি-ধর্মের সীমার ঊর্ধ্বে। এসব কারণে লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। 

সারকথা: আমাদের মুসলিম তরুণদের । ধর্ম ইসলাম হলেও প্রাণের ধর্ম হচ্ছে তারুণ্য ও যৌবন।

31 লেনিন কে?

উত্তর লেনিন হলেন- ভ্লামিদির ইলিচ উইলিয়ানোফ, যিনি রুশ বিপ্লবের সংগঠক, পরিকল্পক ও নেতা।

32 ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধের লেখকের মতে কাদের দেশ নাই, জাতি নাই, অন্য ধর্ম নাই?- ব্যাখ্যা কর।।

উত্তর ➤ ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধের লেখকের মতে তারুণ্যের প্রতীক তরুণদের দেশ নেই, জাতি নেই, অন্য ধর্ম নেই।

➤ ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে লেখক যৌবনের বৈশিষ্ট্য ও গরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি এখানে যৌবনের মানবিক দিক তথা তারুণ্যের সেবাধর্মী মনোভাবের দিকটি তুলে ধরেছেন। তারুণ্যশক্তি মানুষের কলাণে নিবেদিত। তারা শব বহন করে, অনাহারীর জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করে, দুর্ভিক্ষ বন্যা-পীড়িতদের মুখে খাবার তুলে দেয়, রোগীর সেবা করে, পথে পথে গান গেয়ে দুর্দশাগ্রস্তদের জন্য ভিক্ষা করে, দুর্বলের পাশে বল হয়ে দাঁড়ায়, হতাশের বুকে আশা জাগায়। এসব কাজ করতে গিয়ে তারা ধর্ম, বর্ণ, জাতের ভিন্নতা বিচার করে না। তারা মানবধর্মের, তাই তাদের দেশ নেই, জাতি নেই, অন্য ধর্ম নেই। এ দিক বিচার করেই লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। 

সারকথা: যৌবনশক্তির অধিকারী তরুণদের দেশ নেই, জাতি নেই, অন্য ধর্ম নেই।

33 ‘লক্ষ্মণ সেন’ কে ছিলেন?

উত্তর লক্ষ্মণ সেন ছিলেন বাংলার সেন বংশের শেষ রাজা।

34 “বার্ধক্যকে সব সময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না।” কেন? বুঝিয়ে দাও।

উত্তর ➤ “বার্ষকাকে সব সময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না।”- কারণ বয়সে বৃদ্ধ হলেও অনেকের মধ্যে যৌবনশক্তি সদা জাগ্রত থাকে।

➤ ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে লেখক যৌবন ও বার্ধক্যের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন বয়স দিয়ে যৌবন বা তারুণ্য বিচার করা যায় না। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শরীরে বার্ধক্য চলে আসে। তবে বৃদ্ধ বয়সেও অনেকের মনে তারুণ্যের প্রাণচাঞ্চল্যতা সদা জাগ্রত থাকে। তারা বয়সকে উপেক্ষা করে তারুণ্যশক্তিতে বলীয়ান হয়ে কর্মতৎপরতা চালায় এবং নব উদ্যমে এগিয়ে চলে। বার্ধক্য ও তারুণ্য মূলত মনমানসিকতার ব্যাপার এ কারণেই লেখক বার্ধকাকে সব সময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন। 

সারকথা: বয়স দিয়ে বার্ধক্যকে সব ব সময় মাপা যায় না। কারণ অনেক বৃদ্ধের মধ্যেও যৌবনের উদাম লক্ষ করা যায়।

35 ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে লেখকের গান করার স্বভাব কার মতো?

উত্তর ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে লেখকের গান করার স্বভাব বনের পাখির মতো।

36 ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে ‘আমার একমাত্র সম্বল’ বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর ➤ ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে ‘একমাত্র সম্বল’ বলতে লেখক তরুণদের প্রতি তাঁর অপরিসীম ভালোবাসা ও প্রত্যাশাকে বুঝিয়েছেন।

➤ ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে লেখক তরুণদের প্রতি তার অনুরাগ ও প্রত্যাশার কথা বলেছেন। কারণ তারুণ্য সত্য ও ন্যায়ের পূজারি, উদার ও মহৎ, সাহসী ও অমিত শক্তির অধিকারী। সমাজে যা কিছু জীর্ণ সেগুলো ভেঙে নতুন করে গড়ার দুঃসাহস কেবল তরুণদেরই আছে। যুগে যুগে তারুণ্যশক্তিই নিজেদের মতো করে পৃথিবীকে গড়ে নিয়েছে। তারাই হতাশের বুকে আশা জাগিয়েছে। তারুণ্যশক্তি কর্মপ্রেরণার মাধ্যমে বেহেশত ও বেহেশতি চিজ অর্জন করে নিতে পারে। এসব কারণে তারুণ্যের প্রতি কবির অপরিসীম দরদ ও টান। তাই তারুণ্যশক্তিই তাঁর একমাত্র সম্বল। 

সারকথা: ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে ‘একমাত্র সম্বল’ বলতে তরুণদের প্রতি লেখকের অপরিসীম ভালোবাসা ও । প্রত্যাশাকে বুঝিয়েছেন।

37 কালাপাহাড় কে?

উত্তর কালাপাহাড় হলেন- ব্রাহ্মণ থেকে মুসলমানে ধর্মান্তরিত বিখ্যাত মুসলিম যোদ্ধা।

38 ‘যৌবনের মাতৃরূপ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ➤ যৌবনের মাতৃরূপ বলতে যৌবনের কোমল রূপকে বোঝানো হয়েছে।

➤ যৌবনের গান, প্রবন্ধে লেখক যৌবনের জয়গান করেছেন। এখানে প্রতিবাদ ও মানবিকতা উভয় চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। যৌবন মানেই ঝড়ের মতো বিধ্বংসী শক্তি। মিথ্যাকে গুঁড়িয়ে সত্য প্রতিষ্ঠাই এই শক্তির মূল লক্ষ্য। কিন্তু কখনো কখনো যৌবন অতান্ত কোমল। কোমলতা, দয়ার্দ্রতা যৌবনের আরেক রূপ। যৌবন ক্ষুধার্তকে অন্নদানে সহায়তা করে, বন্যার্তের পাশে দাঁড়ায় সর্বাত্মক সাহায্য নিয়ে। আর্তের পাশে রাত জেগে সেবা করে। গব বহন করে শ্মশানে নিয়ে যায়। এটিই যৌবনের মাতৃরূপ। 

সারকথা: যৌবনের মাতৃরূপ বলতে যৌবনের কোমল রূপকে বোঝানো হয়েছে।

39 যৌবনের গান’ প্রবন্ধের লেখক কীসের পূজারি?

উত্তর ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধের লেখক যৌবনের পূজারি।

40 যৌবনের মাতৃরূপ বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ➤ যৌবনের মাতৃরূপ বলতে যৌবনের সেবাব্রতী কোমল রূপকে বোঝানো হয়েছে।

➤ যৌবনের গান, প্রবন্ধে লেখক যৌবনের জয়গান করেছেন। এখানে প্রতিবাদ ও মানবিকতা উভয় চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। যৌবন মানেই ঝড়ের মতো বিধ্বংসী শক্তি। মিথ্যাকে গুঁড়িয়ে সত্য প্রতিষ্ঠাই এই শক্তির মূল লক্ষ্য। কিন্তু কখনো কখনো যৌবন অত্যন্ত কোমল। দয়ার্দ্রতা যৌবনের আরেক রূপ। যৌবন ক্ষুধার্তকে অন্নদানে সহায়তা করে, বন্যার্তের পাশে দাঁড়ায় সর্বাত্মক সাহায্য নিয়ে। আর্ডের পাশে রাত জেগে সেবা করে। শব বহন করে শশ্মশানে সৎকারের জন্য নিয়ে যায়। মূলত এটিই যৌবনের মাতৃরূপ। 

সারকথা: যৌবনের মাতৃরূপ বলতে যৌবনের সেবাব্রতী কোমল রূপকে বোঝানো হয়েছে।

41 আপন মনের আনন্দে কে গান করে?

উত্তর আপন মনের আনন্দে গানের পাখি গান করে।

42 “যদি তাহাতে কাহারও অলস তন্দ্রা, মোহনিদ্রা টুটিয়া যায়, তাহা একান্ত দৈব।” ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ➤ “যদি তাহাতে কাহারও অলস তন্দ্রা, মোহনিদ্রা টুটিয়া যায়, তাহা একান্ত দৈব” কথাটি দ্বারা গানের পাখির গানকে প্রত্যক্ষ নির্দেশ করা হয়েছে এবং পরোক্ষভাবে যৌবনের বেদনাকে বুঝানো হয়েছে।

➤ ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে লেখক যৌবনের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য এবং এর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি এখানে বিভিন্ন বিষয়ের অবতারণা করে মূল বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছেন। তিনি বলেছেন গানের পাখি মনের আনন্দে গান করে। এতে যদি বনের অন্য কারও সুখনিদ্রায় ব্যাঘাত ঘটে, তবে সেটা গানের পাখির দোষ নয়। কারণ গানের পাখি কারও অলসনিদ্রার কথা ভেবে গান গায় না। তেমনই যৌবনের বেগের কাছে যদি কারও মেকি মুখোশ খসে পড়ে, তবে সেটা যৌবনের দোষ নয়, কারণ যৌবন মেকি মুখোশের প্রতি লক্ষ রেখে পথ চলে না। আপন সৃষ্টির তেজে উদ্দীপিত হয়েই যৌবন পথ চলে এবং তার গান গেয়ে যায়। 

সারকথা: লেখক বনের গানের পাখির স্বাধীন চেতনাকে যৌবনের সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

43 মৃত্যুকালীন শ্বাসকষ্টকে কী বলে?

উত্তর মৃত্যুকালীন শ্বাসকষ্টকে বলে নাভিশ্বাস।

44 “যৌবন-সূর্য যেথায় অস্তমিত, দুঃখের তিমিরকুন্ডলা নিশীথিনীর সেই তো লীলাভূমি”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ➤ “যৌবন-সূর্য যেথায় অস্তমিত, দুঃখের তিমিরকুন্দ্রলা নিশীথিনীর সেই তো লীলাভূমি।”- যৌবনের প্রশস্তি গাইতে গিয়ে লেখক একথা বলেছেন।

➤  ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে লেখক তারুণ্যশক্তির জয়গান করেছেন। কারণ তরুণরা দেশ ও জাতির গৌরব, আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। যুগে যুগে দেশ ও জাতির উন্নতির মূলে এই শক্তি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। যৌবনশক্তিই দেশ ও জাতিকে কুসংস্কার দূরীকরণ এবং পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছে। সূর্য যেমন অন্ধকার দূর করে তারুণ্যও তেমনই সমাজ ও জাতীয় জীবন থেকে অন্ধকার ও কুসংস্কার নির্মূল করে। এদিক বিবেচনায় লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। 

সায়কথা: তারুণ্য সূর্যের মতোই তিমির হননকারী। লেখক তাই তাবুগাশক্তির প্রশংসা করেছেন।