01 কীসের দিকে তাকালে জীবনের সার্থকতা উপলব্ধি করা যায়?[ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ · 2026]
উত্তর বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের সার্থকতা উপলব্ধি করা যায়।
02 বৃক্ষের ইতিহাসকে লেখক বৃদ্ধির ইতিহাস বলেছেন কেন?-ব্যাখ্যা করো।[ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ · 2026]
উত্তর যে বৃক্ষের জন্ম থেকে পরিপূর্ণতা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপই ধারাবাহিক বিকাশ, পরিবর্ধন ও পরিণতির ক্রমাগত গতিশীল প্রক্রিয়া, যা জীবনের আদর্শ প্রতীক হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে লেখক বৃক্ষের সার্থক জীবনপরিক্রমা দেখিয়েছেন। বৃক্ষের সম্পূর্ণ যাত্রাটি কেবল আকারগত বৃদ্ধি নয় বরং জীবনীশক্তি ও পরিপক্বতার ক্রমবিকাশ। বৃক্ষের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি ও বিকাশই তাকে জীবনের প্রতীক করে তোলে। এজন্যই লেখক বৃক্ষের ইতিহাসকে বৃদ্ধির ইতিহাস বলেছেন।
03 কোনটি স্রষ্টার উপভোগ্য?[ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026]
উত্তর ‘আত্মারূপ ফল’ স্রষ্টার উপভোগ্য।
04 বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয় কেন? বুঝিয়ে লেখো।[ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026]
উত্তর বৃক্ষ আমাদের নীরব ভাষায় সার্থকতার গান শোনায় তাই বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয়।
বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি করা অনেক সহজ হয়। এজন্য লেখক বারবার বৃক্ষের দিকে তাকানোর প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বের সাথে বর্ণনা করেছেন। মাটি থেকে রস টেনে নিয়ে নিজেকে পরিপূর্ণ করে বৃক্ষ থেমে থাকে না। জীবনের অসম্পূর্ণতা দূর করতে বৃক্ষকে ফুল ফোটাতে হয়, ফল ধরাতে হয়। সেসব ফুল-ফল বৃক্ষ অন্যকে দান করে। তাই মানবজীবনের সার্থকতা খোঁজার ক্ষেত্রে বৃক্ষকে আদর্শ প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি করার জন্য বৃক্ষের মতো জীবন্ত দৃষ্টান্ত আর নেই।
05 ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?[নটরডেম কলেজ · 2026]
উত্তর ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধটি ‘সংস্কৃতি-কথা’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
06 “সাধনার ব্যাপারে প্রাপ্তি একটা বড়ো জিনিস।”- ব্যাখ্যা করো।[নটরডেম কলেজ · 2026]
উত্তর কোনো কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সাধনা করার বিষয়টি প্রশ্নোক্ত উক্তিতে প্রাবন্ধিক প্রকাশ করেছেন।
প্রাবন্ধিক সাধনার দ্বারা বৃক্ষের প্রাপ্তির দিকটি ইঙ্গিত করেছেন। ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ হয়ে বৃক্ষ যেমন আত্মতৃপ্তি লাভ করে, তেমনই তা অন্যের জন্যও কল্যাণকর হয়ে ওঠে। নিরলস সাধনা করলে তা থেকে মানুষ বিশেষ কিছু অর্জন করে থাকে। এই অর্জন হওয়া উচিত এমন, যা একই সাথে আত্মতৃপ্তি এনে দেয় এবং অন্যের জন্যও কল্যাণকর হয়ে ওঠে। সাধনার সার্থকতা এখানেই।
07 ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?[মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা · 2026]
উত্তর ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধটি ‘সংস্কৃতি-কথা’ গ্রন্থের অন্তর্গত।
08 আমাদের বারবার বৃক্ষের দিকে তাকানো প্রয়োজন কেন?-বুঝিয়ে লেখো।[মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা · 2026]
উত্তর বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয় বলে আমাদের বারবার বৃক্ষের দিকে তাকানো প্রয়োজন।
পরার্থে আত্মনিবেদিত, বিবেকবোধসম্পন্ন মানবজীবনের মহত্তম প্রত্যাশা থেকে প্রাবন্ধিক মানুষের জীবন কাঠামোকে বৃক্ষের সাথে তুলনা করেছে। বৃক্ষের বিকাশ পূর্ণতা পায় অপরের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে। বৃক্ষ নীরব সাধনা করে বিকশিত হয়। ফুলে-ফলে পূর্ণতা পায়, সেই ফুল-ফল দিয়ে বৃক্ষ অন্যের সেবায় আত্মনিয়োগ করে। বৃক্ষের সমুদয় অর্জন সে অন্যের কল্যাণে অকপটে দান করে। তাই পরার্থপর, মানবজীবনের প্রত্যাশায় আমাদের বারবার বৃক্ষের দিকে তাকানো প্রয়োজন।
09 ‘জীবন ও বৃক্ষ’ কোন ধরনের রচনা?[সিলেট এমসি কলেজ · 2026]
উত্তর ‘জীবন ও বৃক্ষ’ রচনাটি একটি প্রবন্ধ।
10 “মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।”- ব্যাখ্যা করো।[সিলেট এমসি কলেজ · 2026]
উত্তর “মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।” বলতে মানুষের দৈহিক বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আত্মিক বিকাশের প্রয়োজনীয়তাকে বোঝানো হয়েছে।
সাধারণভাবে আত্মার বৃদ্ধি বলতে মানুষের মানসিক অবস্থা ও আত্মিক উন্নতিকে বোঝায়। শারীরিকভাবে মানুষের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবস্থারও উন্নতি ঘটাতে হয়। আত্মার বৃদ্ধির জন্য মানুষকে আত্মা সৃষ্টি করে নিতে হয়। কারণ তা তৈরি পাওয়া যায় না। আত্মা হচ্ছে সুখ-দুঃখ-বেদনা উপলব্ধির ফলে অন্তরের পরিপক্বতা। বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও গভীর অনুভবের মাধ্যমেই মানুষের আত্মার শ্রীবৃদ্ধি হয়। আর তা হলেই একজন মানুষ পরিপূর্ণতা অর্জন করে। এ কারণেই বলা হয়েছে, মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।
11 সাধনার ব্যাপারে বড়ো জিনিস কী?[আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ · 2026]
উত্তর সাধনার ব্যাপারে প্রাপ্তি বড়ো জিনিস।
12 “যা তার প্রাপ্তি তা-ই তার দান।” ব্যাখ্যা করো।[আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ · 2026]
উত্তর প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে প্রকাশ পেয়েছে বৃক্ষ যা অর্জন করে তা অপরের কল্যাণে দান করে।
উক্তিটির মধ্য দিয়ে বৃক্ষের জীবনচক্র তথা মানবকল্যাণে বৃক্ষের আত্মনিবেদন সম্পর্কে বলা হয়েছে। বৃক্ষের ফুল-ফলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠা তার প্রাপ্তি। বৃক্ষের এ প্রাপ্তি চোখের সামনে ছবির মতো ফুটে ওঠে। আবার বৃক্ষ তার এ প্রাপ্তি মানুষের কল্যাণে নিবেদন করে। সৃজনশীল মানুষের সাধনাও একই রকম। এ কারণেই বলা হয়েছে, “যা তার প্রাপ্তি তাই তার দান।”
13 সাধনার ব্যাপারে বড়ো জিনিস কী ?[Comilla · 2019]
উত্তর সাধনার ব্যাপারে বড় জিনিস হচ্ছে প্রাপ্তি।
14 মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।’— ব্যাখ্যা করো ।[Comilla · 2019]
উত্তর ➤ “মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।”- বলতে মানুষের দৈহিক বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আত্মিক বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকে বোঝানো হয়েছে।
➤ সাধারণভাবে আত্মার বৃদ্ধি বলতে মানুষের মানসিক অবস্থা ও আত্মিক উন্নতিকে বোঝায়। শারীরিকভাবে মানুষের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবস্থারও উন্নতি ঘটাতে হয়। আত্মার বৃদ্ধির জন্য মানুষকে আত্মা সৃষ্টি করে নিতে হয়। কারণ তা তৈরি পাওয়া যায় না। আত্মা হচ্ছে সুখ-দুঃখ-বেদনা উপলব্ধির ফলে অন্তরের পরিপক্কতা। বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও গভীর অনুভবের মাধ্যমেই মানুষের আত্মার শ্রীবৃদ্ধি হয়। আর তা হলেই একজন মানুষ পরিপূর্ণতা অর্জন করে। এ কারণেই বলা হয়েছে, মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।
সারকথা: মানুষের বাইরের দিকের বৃদ্ধিই সার্থক বৃদ্ধি নয়, এর সঙ্গে আত্মিক বৃদ্ধিরও প্রয়োজন রয়েছে।
15 ‘তপোবন’ প্রেমিক কে?[Rajshahi · 2018]
উত্তর ‘তপোবন প্রেমিক’ হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
16 বৃক্ষ কীভাবে নীরব ভাষায় আমাদের সার্থকতার গান শোনায়?[Rajshahi · 2018]
উত্তর বৃক্ষ তার সমস্ত অর্জন অন্যকে দান করার মধ্য দিয়ে নীরব ভাষায় আমাদের সার্থকতার গান শোনায় ।
বৃক্ষের জন্ম, বৃদ্ধি, ফুল ফোটানো, ফল ধারণ, ছায়া ও সৌন্দর্যদান সবকিছুতেই যেন একটা নীরব সাধনা চলে। সব কষ্ট সহ্য করে নিজেকে অন্যের কল্যাণে উৎসর্গ করে। বৃক্ষের এ সেবাদান ও সার্থকতা নীরবেই সাধিত হয়। পরোপকারী ব্যক্তিরাও বৃক্ষের মতো নিজেদেরকে মানবকল্যাণে নিয়োজিত করে। তাই বলা যায় যে, বৃক্ষ তার সমস্ত অর্জন নীরবে অন্যকে দান করার মধ্য দিয়ে আমাদের সার্থকতার গান শোনায়।
17 নদীকে মনুষ্যত্বের প্রতীক বলেছেন কে?[Dhaka · 2018]
উত্তর নদীকে মনুষ্যত্বের প্রতীক বলেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
18 “যা তার প্রাপ্তি তাই তার দান।”- ব্যাখ্যা কর।[Dhaka · 2018]
উত্তর প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে প্রকাশ পেয়েছে বৃক্ষ যা অর্জন করে তা অপরের কল্যাণে দান করে।
উক্তিটির মধ্য দিয়ে বৃক্ষের জীবনচক্র তথা মানবকল্যাণে বৃক্ষের আত্মনিবেদন সম্পর্কে বলা হয়েছে। বৃক্ষের ফুল-ফলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠা তার প্রাপ্তি। বৃক্ষের এ প্রাপ্তি চোখের সামনে ছবির মতো ফুটে ওঠে। আবার বৃক্ষ তার এ প্রাপ্তি মানুষের কল্যাণে নিবেদন করে। সৃজনশীল মানুষের সাধনাও একই রকম। এ কারণেই বলা হয়েছে, “যা তার প্রাপ্তি তাই তার দান।”
19 বৃক্ষের গান শুনতে হবে কীভাবে?[Dhaka · 2017]
উত্তর ➤ অনুভূতির কান দিয়ে বৃক্ষের গান শুনতে হবে।
20 “মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও”- ব্যাখ্যা কর। [Dhaka · 2017]
উত্তর ➤ মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।”- বলতে মানুষের দৈহিক বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আত্মিক বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকে বোঝানো হয়েছে।
➤ সাধারণভাবে আত্মার বৃদ্ধি বলতে মানুষের মানসিক অবস্থা ও আত্মিক উন্নতিকে বোঝায়। শারীরিকভাবে মানুষের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবস্থারও উন্নতি ঘটাতে হয়। আস্থার বৃদ্ধির জন্য মানুষকে আত্মা সৃষ্টি করে নিতে হয়। কারণ তা তৈরি পাওয়া যায় না। আম্মা হচ্ছে সুখ-দুঃখ-বেদনা উপলব্ধির ফলে অন্তরের পরিপক্ষতা। বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও গভীর অনুভবের মাধ্যমেই মানুষের আত্মার শ্রীবৃদ্ধি হয়। আর তা হলেই একজন মানুষ পরিপূর্ণতা অর্জন করে। এ কারণেই বলা হয়েছে, মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।
সারকথা: মানুষের দৈহিক বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আয়িক বৃদ্ধিও প্রয়োজন। প্রচুর দুঃখ-সুখ, আনন্দ-বেদনার দ্বারা অত্তরে পরিপক্ষতা আসে। • আর তখন আত্তিক বৃদ্ধি হয়।
21 ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে ‘তপোবন প্রেমিক’ কাকে বলা হয়েছে?[Jessore · 2017]
উত্তর ➤ ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘তপোবনপ্রেমিক’ বলা হয়েছে।
22 “সাধনার ব্যাপারে প্রাপ্তি একটা বড় জিনিস।”- বর্ণনা কর।[Jessore · 2017]
উত্তর ➤ “সাধনার ব্যাপারে প্রাপ্তি একটা বড় জিনিস।”- উক্তিটিতে যে সাধনায় প্রাপ্তি নেই সেই সাধনার কোনো সার্থকতা থাকে না- লেখক এখানে এটাই বোঝাতে চেয়েছেন।
➤ সাগরে নদীর পতিত হওয়াকে লেখক আত্মবিসর্জন বলেছেন। এ ঘটনার মধ্যে কোনো প্রাপ্তি নেই। কিন্তু বৃক্ষের প্রাপ্তি চোখের সামনে দেখা যায়। ফলধারণের মাধ্যমেই বৃক্ষের প্রাপ্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লেখকের মতে যে সাধনায় প্রাপ্তি নেই সেই সাধনা অর্থহীন। প্রাপ্তিতেই মূলত সাধনার সার্থকতা। তাই লেখক বলেছেন, সাধনার ব্যাপারে প্রাপ্তি একটা বড় জিনিস।
সারকথা: যে সাধনায় প্রাপ্তি নেই সেই সাধনা অর্থহীন। প্রাপ্তিতেই মূলত সাধনার সার্থকতা।
23 মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সুখ’ গ্রন্থটি কোন গ্রন্থের অনুবাদ?
উত্তর ➤ মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সুখ’ গ্রন্থটি বারট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness’ গ্রন্থের অনুবাদ।
24 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেন নদীর গতির মধ্যে মনুষ্যত্বের সাদৃশ্য দেখতে পেয়েছেন?
উত্তর ➤ নদীকে অনেক বাধা ডিঙানোর দুঃখ পেতে হয় বলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নদীর গতির মধ্যে মনুষ্যত্বের সাদৃশ্য দেখাতে পেয়েছেন।
➤ মনুষ্যত্ব মানবজীবনের সবচেয়ে দামি সম্পদ। মনুষ্যত্বহীন মানুষ পশুর সমতুল্য। কিন্তু এই মনুষ্যত্ব অর্জন করতে হলে মানুষকে কঠিন-কঠিন বাধা অতিক্রম করতে হয়। ফুলের ফোটা আর নদীর গতির সাথে তুলনা করে রবীন্দ্রনাথ নদীর গতির মধ্যে মনুষ্যত্বের সাদৃশ্য দেখতে পেয়েছেন। তাঁর মতে মনুষ্যত্বের চেতনা নদীর গতিতেই উপলব্ধ হয়, ফুলের ফোটায় নয়। আর এ কারণেই তিনি নদীর গতির মধ্যে মনুষ্যত্বের সাদৃশ্য দেখতে পেয়েছেন।
সারকথা: নদীকে অনেক বাধা পেরোনোর দুঃখ পেতে হয় বলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর র নদীর গতির মধ্যে মনুষ্যত্বের সাদৃশ্য দেখতে পেয়েছেন।
25 কারা মাঝে মাঝে মানবপ্রেমের কথা বলে?
উত্তর ➤ স্বল্পপ্রাণ, স্থলবুদ্ধি ও জবরদস্ক্রিপ্রিয় মানুষেরা মাঝে মাঝে মানবপ্রেমের কথা বলে।
26 প্রাবন্ধিক জীবনের সাথে বৃক্ষের তুলনা করেছেন কেন?
উত্তর➤ বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের সার্থকতা ও পরিপূর্ণতার ছবি ভেসে ওঠে বলে প্রাবন্ধিক জীবনের সাথে বৃক্ষের তুলনা করেছেন।
➤ মানবজীবনের মহত্তম প্রত্যাশা থেকে প্রাবন্ধিক মানুষের জীবনকে বৃক্ষের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন বৃদ্ধের বিকাশ, পরিপূর্ণতা ও সার্থকতার পেছনে রয়েছে তার নীরব সাধনা। বৃক্ষ যেমন করে ফুলে-ফলে পরিপূর্ণতা পায় আর তার প্রাপ্তি অন্যের সেবায় নিয়োজিত হয়, তেমনই মানবজীবনের ক্ষেত্রেও ঘটে। বৃক্ষের মতো মহৎ মানুষের জীবনেও যা তার প্রাপ্তি তাই তার দান। এসব কারণের প্রাবন্ধিক জীবনের সাথে বৃক্ষের তুলনা করেছেন।
সারকথা: বৃক্ষের দিকে তাকালে মানবজীবনের সার্থকতা ও পরিপূর্ণতার ছবি এ ভেসে ওঠে বলে লেখক জীবনের সাথে বৃক্ষের তুলনা করেছেন।
27 নীরব ভাষায় বৃক্ষ আমাদের কী শোনায়?
উত্তর ➤ নীরব ভাষায় বৃক্ষ আমাদের সার্থকতার গান গেয়ে শোনায়।
28 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেন। নদীর গতির মধ্যে মনুষ্যত্বের সাদৃশ্য দেখতে পেয়েছেন?
উত্তর ➤ বৃক্ষ আমাদের নীরব ভাষায় সার্থকতার গান শোনায় তাই বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয়।
➤ বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি করা অনেক সহজ হয়। এজন্য লেখক বারবার বৃক্ষের দিকে তাকানোর প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বের সাথে বর্ণনা করেছেন। মাটি থেকে রস টেনে নিয়ে নিজেকে পরিপূর্ণ করে বৃক্ষ থেমে থাকে না। জীবনের অসম্পূর্ণতা দূর করতে বৃক্ষকে ফুল ফোটাতে হয়, ফল ধরাতে হয়। সেসব ফুল-ফল বৃক্ষ অনাকে দান করে। তাই মানবজীবনের সার্থকতা খোঁজার ক্ষেত্রে বৃক্ষকে আদর্শ প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি করার জন্য বৃক্ষের মতো জীবন্ত দৃষ্টান্ত আর নেই।
সারকথা: বৃক্ষ আমাদের নীরব ভাষায় সার্থকতার গান শোনায় বলে বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি করা যায়।
29 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নদীকে কীসের প্রতীক করতে চেয়েছেন?
উত্তর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নদীকে মনুষ্যত্বের প্রতীক করতে চেয়েছেন।
30 “তাকে অনেক বাধা ডিঙানোর দুঃখ পেতে হয়”- লেখক এই কথাটি দ্বারা কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর
- তাকে অনেক বাধা ডিঙানোর দুঃখ পেতে হয়”- এই কথাটি দ্বারা লেখক মানুষের জীবনের দুঃখ-কষ্টকে নদীর চলার পথের ” প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
- ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে লেখক ফুলের ফোটা এবং নদীর গতির সঙ্গে মানুষের জীবনের তুলনা করেছেন। তিনি নদীর গতির মধ্যেই মনুষ্যত্বের সাদৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর মতে, মনুষ্যত্বের বেদনা নদীর গতিতেই উপলব্ধ হয়, ফুলের ফোটায় নয়। কেননা ফুলের ফোটা সহজ। নদীর গতি সহজ নয়- তাকে অনেক বাধা ডিঙানোর দুঃখ পেতে হয়। মানুষের জীবনও নানা বাধাবিঘ্নের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়।
সারকথা: নদীর চলার পথের প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি তুলে ধরতে গিয়ে আলোচ্য বাক্যটি ব্যবহৃত হয়েছে।
31 বস্তুজগৎ সম্পর্কে জানার আগ্রহকে কী বলে?
উত্তর বস্তুজগৎ সম্পর্কে জানার আগ্রহকে বলে বস্তুজিজ্ঞাসা।
32 “তারই চরণে এরা নিবেদিতপ্রাণ।” কথাটি কাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
- “তারই চরণে এরা নিবেদিতপ্রাণ।”- এই কথাটি নিষ্ঠুর ও বিকৃতবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে।
- ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে লেখক বলেছেন- স্বল্পপ্রাণ স্থূলবুদ্ধি ও জবরদস্তিপ্রিয় মানুষে সংসার পরিপূর্ণ। অন্যের জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তোলার পরিবর্তে তারা অন্যের জীবনের সার্থকতার পথে বাধা সৃষ্টি করে। তারা নিষ্ঠুর ও বিকৃতবুদ্ধি। অহংকার তাদের একমাত্র দেবতা। অহংকারের কাছে তারা আত্মনিবেদন করে। এই কারণেই তারই চরণে তারা নিবেদিতপ্রাণ।
সারকথা: প্রশ্নোক্ত কথাটি সমাজে স্থলবৃদ্ধি, নিষ্ঠুর ও জবরদস্তিপ্রিয় মানুষদের সম্পর্কে বলা হয়েছে।
