Bio 1 CH 5 D

Question 01

A স্বভোজী, পাইরিনয়েড, হোল্ডফাস্ট,B মৃতজীবী, রাইজোম, গিল

[Comilla , 2019]

a.

লিভার ওয়ার্ট কী?

b.

হিল  বিক্রিয়া বলতে কী বুঝ?

c.

তোমার সিলেবাসে বর্ণিত উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘A’ জীবটির গঠন সংক্ষেপে বর্ণনা কর।

d.

উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘A’ জীবটির পুষ্টি প্রক্রিয়া ‘B’ অপেক্ষা অধিকতর উন্নত- তোমার মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে A হলো Ulothrix এবং B হলো Agaricus. 

Ulothrix এবং Agaricus পৃথক পুষ্টি সিস্টেমের সঙ্গে দুটি ভিন্ন উদ্ভিদ। Ulothrix হল একটি ফিলামেন্টাস সবুজ শেওলা, অন্যদিকে Agaricus হল মাশরুমের একটি প্রজাতি। তাদের পুষ্টি ব্যবস্থার তুলনা করা কঠিন, কারণ তারা বিভিন্নভাবে পরিবেশে অবদান রাখে। তাদের নিজ নিজ পুষ্টি ব্যবস্থা সম্পর্কে নিয়ে দেয়া হলো- 

Ulothrix:

Ulothrix হল একটি জলজ জীব যা সালোকসংশ্লেষণকে পুষ্টির প্রাথমিক পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করে। এটিতে ক্লোরোপ্লাস্ট রয়েছে, যা এটিকে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে সূর্যের আলো,পানি এবং কার্বন ডাই অক্সাইডকে শক্তি-সমৃদ্ধ জৈব যৌগে রূপান্তর করে ।Ulothrix তার জলজ পরিবেশ থেকে খনিজ পদার্থ এবং দ্রবীভূত জৈব পদার্থের মতো পুষ্টিও শোষণ করে। সালোকসংশ্লেষণ এবং পুষ্টির শোষণের সংমিশ্রণ Ulothrix বৃদ্ধি এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব অণু সংশ্লেষণ করতে সক্ষম করে। 

Agaricus:

Ulothrix এর তুলনায় Agaricus মাশরুমের পুষ্টির পদ্ধতি ভিন্ন । ছত্রাক হলো হেটোরোট্রফিক জীব অর্থাৎ তারা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব খাদ্য তৈরি করতে পারে না। পরিবর্তে, তারা তাদের পরিবেশে জৈব পদার্থ ভেঙ্গে পুষ্টি গ্রহণ করে। Agaricus মাশরুম, বিশেষ করে, saprophytic, মৃত গাছপালা বা কাঠের মত ক্ষয়প্রাপ্ত জৈব উপাদান খাওয়ায়। তারা জৈব পদার্থের উপর এনজাইমগুলি নিঃসরণ করে, এটিকে সহজ যৌগগুলিতে ভেঙে দেয় এবং সেটি তারা তাদের বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য শোষণ করতে এবং ব্যবহার করতে পারে। Ulothrix এর সালোকসংশ্লেষণ করার ক্ষমতা এটিকে সূর্যালোক ব্যবহার করে নিজের খাদ্য তৈরি করতে সক্ষম করে, পর্যাপ্ত আলো এবং পুষ্টির প্রাপ্যতা সহ পরিবেশে এটিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলে। অন্যদিকে, Agaricus এবং অন্যান্য ছত্রাক জৈব পদার্থকে পঁচিয়ে সহজ যৌগগুলিতে ভেঙ্গে দেয় এবং পুষ্টিগুলিকে পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়। 

Ulothrix এবং Agaricus উভয়েরই নিজস্ব অনন্য বৈশিষ্ট্য দ্বারা পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।কিন্তু পুষ্টির প্রক্রিয়া উন্নত বিবেচনায় Ulothrix এর পুষ্টির প্রক্রিয়া অধিকতর উন্নত।

Question 02

[Jessore , 2019]

a.

লাইকেন কী?

b.

শৈবাল কেন স্বনির্ভর ব্যাখ্যা কর।

c.

উদ্দীপকের A উদ্ভিদটি প্রতিকূল পরিবেশে কীভাবে বংশবিস্তার করে বর্ণনা কর।

d.

খাদ্য ও ঔষধ শিল্পে উদ্দীপকে প্রদর্শিত ‘B’ উদ্ভিদ গোষ্ঠীর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লেখিত B হলো ছত্রাক।

খাদ্য, শিল্প ও বাণিজ্য, ওষুধ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ছত্রাকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।নিচে খাদ্য ও ওষুধ শিল্পে ছত্রাকের গুরুত্ব দেওয়া হলো-

খাদ্য শিল্পে : ‘মাশরুম’ বিভিন্ন ভিটামিন সমৃদ্ধ হওয়ায় পৃথিবীর বহুদেশে এটি সুপ্রিয় খাদ্য হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের বড় বড় হোটেলগুলোতে খাদ্য হিসেবে, বিশেষ করে স্যুপ তৈরিতে মাশরুম ব্যবহৃত হয়। পুষ্টিগত দিক থেকে Agaricus campestris ও Agaricus bisporus অত্যন্ত উঁচু মানের এবং সুস্বাদু। টাটকা মাশরুমে নানা ধরনের ভিটামিন যেমন-থায়ামিন, রিবোফ্লাবিন, Vit-C, D, K ও প্যান্টোথেনিক এসিড পাওয়া যায়। ওষুধ শিল্পে:

এতে আঁশ বেশি থাকায় এবং শর্করা ও চর্বি কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীর জন্য একটি আদর্শ খাবার। এতে শর্করা, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ যেমন-Ca, K, P, Fe ও Cu আছে যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করে। যার ফলে গর্ভবতী মা ও শিশুরা এটি নিয়মিত খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।এতে প্রচুর উৎসেচক  আছে যা হজমে সহায়ক, খাবারে রুচি বাড়ে এবং পেটের পীড়া নিরাময় করে।  এতে লোভাস্টাটিন, এনটাডেনিন ও ইরিটাডেনিন থাকে যা শরীরের কোলেস্টেরল কমানোর জন্য অন্যতম

উপাদান। মাশরুম নিয়মিত খেলে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রিত থাকে। ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধ করে।

সুতরাং বলা যায়, ছত্রাক খাদ্য ও ওষুধ শিল্পে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Question 03

মিনা কাঁঠাল গাছের কাণ্ডে যুক্ত. অনেকটা বৃত্তাকার থ্যালাস লক্ষ করল। সবুজ ও অসবুজ দু’ধরনের উদ্ভিদের সহঅবস্থানের ফলে এটি সৃষ্ট। কয়েকদিন পর মিনা তাদের গোয়াল ঘরের পেছনে সাদাটে ছাতার ন্যায় উদ্ভিদ জন্মাতে দেখল।

[Chittagong , 2019]

a.

আইসোগ্যামী কাকে বলে?

b.

হোল্ডফাস্ট কী-ব্যাখ্যা করো।

c.

উদ্দীপকে উল্লিখিত গোয়াল ঘরের পেছনে জন্মানো উদ্ভিদটির চিহ্নিত চিত্র অংকন করো।

d.

উদ্দীপকে বর্ণিত থ্যালাস সৃষ্টিতে দু’ধরনের উদ্ভিদের ভূমিকাই গুরুত্বপূর্ণ- বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত থ্যালাসটি হলো লাইকেন। এখানে উল্লেখ করা হয়েছে সবুজ এবং অসবুজ দুধরনের উদ্ভিদের সহ অবস্থানের মাধ্যমে থ্যালাসটি সৃষ্টি হয়েছে। সবুজ শৈবাল এবং অসবুজ ছত্রাকের সহ অবস্থানের মাধ্যমেই তৈরি হয় সম্পূর্ণ পৃথক ধরনের থ্যালয়েড জাতীয় লাইকেন উদ্ভিদ। উদ্ভিদ জগতে শৈবাল ও ছত্রাক পৃথক রাজ্যের বাসিন্দা হলেও লাইকেন সৃষ্টিতে তারা একই সাথে পারস্পরিক সহযোগীতার ভিত্তিতে বাস করে। একটি লাইকেন থ্যালাস সৃষ্টিতে ছত্রাক চারদিক থেকে শৈবালকে ঘিরে রেখে বাসস্থান প্রদান করে। পাশাপাশি পরিবেশ থেকে পানি, খনিজ লবণ, জলীয়বাষ্প ইত্যাদি শোষণ করে শৈবালকে দিয়ে থাকে। অন্যদিকে শৈবাল ছত্রাকের মাঝে অবস্থান করে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য প্রস্তুত করে। প্রস্তুতকৃত খাদ্য শৈবাল ও ছত্রাক উভয়েই ভাগ করে গ্রহণ করে। এভাবে শৈবাল ও ছত্রাকের সহ অবস্থানের মাধ্যমে লাইকেন গঠিত হয়, যেখানে উভয়ের ভূমিকাই গুরুত্বপূর্ণ।

Question 04

কৃষিবিদ কোরবান একটি রোগাক্রান্ত আলুক্ষেত পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পেলেন গাছের পাতা কালচে বাদামী বর্ণ ধারণ করেছে। এছাড়া ক্ষেতের পাশে পচা আবর্জনার উপরে ছাতা আকৃতির কিছু সমাঙ্গদেহী অপুষ্পক উদ্ভিদও তার দৃষ্টিগোচরে এলো।

[Barisal , 2019]

a.

সুপ্তাবস্থা কী?

b.

অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন বলতে কী বোঝ?

c.

‘কৃষিবিদের দেখা অপুষ্পক উদ্ভিদটির গঠন বর্ণনা করো।

d.

কৃষিবিদের পর্যবেক্ষিত রোগটি থেকে পরিত্রাণের উপায় বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ

কৃষিবিদের পর্যবেক্ষিত আলুগাছের রোগটি হলো আলুর বিলম্বিত ধ্বসা রোগ। এটি আলুর একটি মারাত্মক রোগ। সময়মতো এ রোগ প্রতিহত করতে না পারলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ আলুক্ষেত আক্রান্ত হতে পারে। নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণের মাধ্যমে এ রোগটি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে-

i. আলু চাষের সময় রোগমুক্ত আলু বীজ হিসেবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। রোগ প্রবণ এলাকা থেকে বীজ আলু সংগ্রহ করা ঠিক নয়।

ii. বীজ বপনের আগে ১% বোঁর্দোমিশ্রণ বা অন্য কোনো ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করে ব্যবহার করা দরকার।

iii. গাছের দৈর্ঘ্য ৬ ইঞ্চির বড় হলে বা বয়স এক মাস হলে ১৫ দিন পর পর ছত্রাকনাশক (ডাইথেন এম-৪৫) স্প্রে করা প্রয়োজন যাতে রোগ সংক্রমণ হতে না পারে।

iv. জমিতে অতিরিক্ত সেচ ও নাইট্রোজেন সার প্রয়োগে রোগ বিস্তার দ্রুততর হয়। এ জন্য অতিরিক্ত সেচ ও নাইট্রোজেন সারের ব্যবহার পরিহার করতে হবে।

V. বর্তমানে কিছু রোগ প্রতিরোধী জাত আবিষ্কৃত হয়েছে। সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য এসব রোগ প্রতিরোধী জাত আবাদ করা আবশ্যক।

Question 05

নমুনা-A: সূত্রাকার দেহ, ক্লোরোপ্লাস্ট গার্ডেল আকৃতির, অশাখান্বিত।

নমুনা-B: ছাতাকৃতির দেহ, কিছু প্রজাতি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

[Sylhet , 2019]

a.

পরীচক্র কী?

b.

শৈবালের দেহকে থ্যালয়েড বলা হয় কেন?

c.

নমুনা B এর গঠনে ছাতার মতো দেহটি জননকার্যে গুরুত্বপূর্ণ- ব্যাখ্যা করো।

d.

নমুনা A ও B এর মধ্যে কোনটি ইকোসিস্টেমে অধিক গুরুত্বপূর্ণ- বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে নমুনা ‘A’ ও ‘B’ দ্বারা যথাক্রমে সবুজ শৈবাল Ulothrix এবং ছত্রাক Agaricus-কে বোঝানো হয়েছে।

ইকোসিস্টেমে উক্ত সবুজ শৈবাল ও ছত্রাক উভয়েই বিশেষ অবদান রেখে থাকে। এক্ষেত্রে ইকোসিস্টেমে তাদের অবদান বিশ্লেষণের মাধ্যমে কার গুরুত্ব অধিক তা সহজেই অনুধাবন করা যায়। সবুজ শৈবালকে ইকোসিস্টেমে বলা হয় উৎপাদক। উৎপাদক সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে এবং সকল স্তরের খাদক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে খাদ্যের জন্যে উৎপাদকের উপর নির্ভরশীল। আবার উৎপাদক যখন খাদ্য তৈরি করে তখন প্রকৃতিতে O₂ নির্গত হয়, যা ইকোসিস্টেমের খাদক তথা প্রাণীকুলের বেঁচে থাকার জন্য আবশ্যক। অন্যদিকে, ইকোসিস্টেমে ছত্রাককে বলা হয় বিয়োজক। এরা উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ থেকে খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে তাদেরকে বিয়োজিত করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। এই মিশে যাওয়া উপাদান পরবর্তীতে উদ্ভিদ মাটি থেকে গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে বিয়োজক তথা ছত্রাক উৎপাদককে পরোক্ষভাবে খনিজ উপাদান সরবরাহ করে থাকে। সংক্ষিপ্ত আলোচনায় দেখা যায় ইকোসিস্টেমে শৈবাল ও ছত্রাক উভয়ের অবদান থাকলেও শৈবালের অবদান তথা গুরুত্ব অধিক।

Question 06

২০১০ সালে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে গোলআলুর কান্ড ও পাতা একটি বিশেষ ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়। ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অপর একটি ছত্রাক দ্বারা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ছোট ছেলেমেয়েরা বেশি আক্রান্ত হয়।

[Comilla , 2017]

a.

লাইকেন কী?

b.

ওয়াটার ব্লুম বলতে কী বোঝ?

c.

উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম রোগটির পরজীবীর গঠন বর্ণনা করো।

d.

উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় রোগটি থেকে পরিত্রাণের উপায় বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় রোগটি হলো দাঁদ বা ডার্মাটোফাইটোসিস। Trichophyton rubrum ছত্রাক দ্বারা এ রোগ হয়। নিচে রোগটি থেকে পরিত্রাণের উপায় বিশ্লেষণ করা হলো-

i. চামড়া পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখতে হবে।

ii. সুতির মোজা ও অন্তর্বাস ব্যবহার করতে হবে।

iii. অন্য কারো ব্যবহৃত পোষাক, তোয়ালে, চিরুনী ব্যবহার করা যাবে না।

iv. গোসলের পর ভালোভাবে শরীর মুছতে হবে।

V. পোশাক যথাসম্ভব ঢিলেঢালা পড়তে হবে।

vi. বিছানার তোষক, চাদর ও কাপড় কিছুদিন পরপর পরিষ্কার করতে হবে।

vii. মাথার ত্বকে দাঁদে আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত বালিশ, টুপি, চিরুনী, কাঁচি জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে।

viii. আক্রান্ত স্থানে ছত্রাকনাশক পাউডার বা ক্রীম যাতে Miconazole, Clotrimazole-এর মত উপাদান আছে লাগানো যেতে পারে।

ix. এমন কাপড় পরা উচিত নয় যা আক্রান্ত স্থানে ঘসা লাগে ও অস্বস্থি বোধ হয়। আক্রান্ত হলে প্রত্যেকদিন

X. রাতের কাপড় ও বিছানা পরিষ্কার করতে হবে।

xi. আক্রমণ বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শে ছত্রাকনাশক ক্রিম ব্যবহার ও পিল সেবন করা যেতে পারে।

Question 07

গণি মিয়া তার আলু ক্ষেতে গাছের পাতায় মখমলের ন্যায় আস্তরণ ও দূর্গন্ধ লক্ষ করেন এবং ধান ক্ষেতের পাতায় ভেজা, লম্বা দাগ ও আঁঠালো রস জমতে দেখেন।

[Jessore , 2017]

a.

পুষ্পপ্রতীক কী?

b.

কোরালয়েড মূল বলতে কী বোঝ?

c.

প্রথম রোগটির কারণসহ প্রতিকারের উপায়গুলো লেখো।

d.

দ্বিতীয় রোগটি মহামারী আকারে দেখা দিলে জনজীবনে কি কি বিপর্যয় আসতে পারে-বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় রোগটি হলো ধানের ব্লাইট রোগ। বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই রোগকে সবচেয়ে ক্ষতিকর রোগ বলে মনে করা হয়। রোগের প্রকোপ অনুযায়ী এই রোগে ধানের ফলন শতকরা ৬০ ভাগ কম হয়। পৃথিবীর ৬০% মানুষের প্রধান খাদ্য হলো ভাত। তাই ধানের এই রোগটি মহামারী আকারে দেখা দিলে খাদ্য স্বল্পতার সৃষ্টি হবে। অধিকাংশ মানুষ না খেয়ে বা একবেলা খেয়ে দিন কাটাবে। এতে তারা অপুষ্টির শিকার হবে বলে তাদের ওজনও হ্রাস পাবে। আবার ধানের পরিমাণ হ্রাস পেলে স্বাভাবিকভাবে অন্যান্য ফসলের উপর চাপ পড়বে, বাজারে ফসলের দাম বৃদ্ধি পাবে। ফলে মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ বাড়বে, জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে। অধিকাংশ মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য শহরমুখী হবে। এতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পরিবেশে যেমন দূষণ ঘটবে তেমনি কর্মসংস্থানের সুযোগ না পেয়ে অনেকে অপরাধ সংগঠনে সক্রিয় হয়ে উঠবে। তাই বলা যায়, ধানের ব্লাইট রোগ মহামারী আকারে দেখা দিলে জনজীবনের বিভিন্নক্ষেত্রে বিপর্যয় আসতে পারে।

Question 08

সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদের কিছুসংখ্যক সবুজ, আবার কিছুসংখ্যক অসবুজ হয়ে থাকে। সবুজগুলোর মধ্যে বহুকোষী একটিতে গার্ডল ক্লোরোপ্লাস্ট বিদ্যমান। অসবুজগুলোর মধ্যে একটি বেকারি শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

[Chittagong , 2017]

a.

হলোকার্পিক ছত্রাক কী?

b.

আইসোগ্যামি বলতে কী বোঝ?

c.

উদ্দীপকে বর্ণিত সবুজ উদ্ভিদটির অযৌন জনন চিত্রের সাহায্যে দেখাও।

d.

উদ্দীপকে উল্লিখিত উদ্ভিদ গোষ্ঠী দুটির অঙ্গজ জননের তুলনামূলক বর্ণনা দাও।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত উদ্ভিদগোষ্ঠী দুটি হলো শৈবাল ও ছত্রাক। রেণুস্থলী অথবা যৌনাঙ্গ গঠন ব্যতীত যে জনন প্রক্রিয়াসম্পন্ন হয় তাকে অঙ্গজ জনন বলে। শৈবাল এবং ছত্রাক উভয় উদ্ভিদ গোষ্ঠীতেই অঙ্গজ জনন পরিলক্ষিত হয়।

দেহের অংশবিশেষ থেকে সরাসরি নতুন বংশধর উৎপাদনের মাধ্যমে শৈবাল তার অঙ্গজ জনন সম্পন্ন করে থাকে। এক্ষেত্রে এককোষী শৈবাল দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য শৈবাল উৎপন্ন করে। যেমন- Chlorella। অন্যদিকে ঈস্ট জাতীয় এককোষী ছত্রাক অনুকূল পরিবেশে দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় বংশবিস্তার ঘটায়। আবার, যান্ত্রিক আঘাত বা ভৌত কারণে বহুকোষী শৈবালের কলোনি বা ফিলামেন্ট খণ্ডিত হলে প্রতিটি খণ্ড হতে একটি নতুন শৈবাল উৎপন্ন হয়। যেমন- Ulothrix। ছত্রাকের ক্ষেত্রেও যান্ত্রিক আঘাত বা পরিবেশের কারণে মাইসেলিয়াম খণ্ডিত হলে প্রতি খণ্ড থেকে নতুন মাইসেলিয়াম গঠিত হয়। যেমন- Penicillium। কতিপয় এককোষী প্রজাতিতে কোষ থেকে উপবৃদ্ধি আকারে বাড উৎপন্ন হয় যা মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন শৈবাল উৎপন্ন করে। যেমন- Protosiphon অনেক এককোষী ছত্রাকে অনুকূল পরিবেশে মাতৃকোষের প্রাচীর যেকোনো স্থানে স্ফীত হয়ে উপবৃদ্ধি আকারে বাড বা কুঁড়ি উৎপন্ন করে যা পরবর্তীতে প্রাচীর সৃষ্টির মাধ্যমে মাতৃকোষ থেকে পৃথক হয়ে নতুন ছত্রাক উৎপন্ন করে। যেমন- Sacchromyces 

আবার, সূত্রাকার নীলাভ সবুজ শৈবালের ট্রাইকোম খণ্ডিত হলে প্রতিটি খন্ড পরবর্তীতে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন সূত্র গঠন করে। যেমন- Nostoc, Chara জাতীয় শৈবালে রাইজয়েডের উপরে ও নিচের পর্বে খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে টিউবার উৎপন্ন হয়। মাতৃদেহ থেকে টিউবার বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন শৈবাল তৈরি হয়। কিন্তু ছত্রাক শৈবালের মতো এরূপ টিউবার কিংবা হরমোগোনিয়া সৃষ্টির মাধ্যমে অঙ্গজ জনন সম্পন্ন করে না।

Question 09

গণি মিয়া তার আলু ক্ষেতে গাছের পাতায় মখমলের ন্যায় আস্তরণ ও দূর্গন্ধ লক্ষ করেন এবং ধান ক্ষেতের পাতায় ভেজা, লম্বা দাগ ও আঁঠালো রস জমতে দেখেন।

[Barisal , 2017]

a.

পুষ্পপ্রতীক কী?

b.

কোরালয়েড মূল বলতে কী বোঝ?

c.

প্রথম রোগটির কারণসহ প্রতিকারের উপায়গুলো লেখো।

d.

দ্বিতীয় রোগটি মহামারী আকারে দেখা দিলে জনজীবনে কি কি বিপর্যয় আসতে পারে-বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় রোগটি হলো ধানের ব্লাইট রোগ। বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই রোগকে সবচেয়ে ক্ষতিকর রোগ বলে মনে করা হয়। রোগের প্রকোপ অনুযায়ী এই রোগে ধানের ফলন শতকরা ৬০ ভাগ কম হয়। পৃথিবীর ৬০% মানুষের প্রধান খাদ্য হলো ভাত। তাই ধানের এই রোগটি মহামারী আকারে দেখা দিলে খাদ্য স্বল্পতার সৃষ্টি হবে। অধিকাংশ মানুষ না খেয়ে বা একবেলা খেয়ে দিন কাটাবে। এতে তারা অপুষ্টির শিকার হবে বলে তাদের ওজনও হ্রাস পাবে। আবার ধানের পরিমাণ হ্রাস পেলে স্বাভাবিকভাবে অন্যান্য ফসলের উপর চাপ পড়বে, বাজারে ফসলের দাম বৃদ্ধি পাবে। ফলে মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ বাড়বে, জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে। অধিকাংশ মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য শহরমুখী হবে। এতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পরিবেশে যেমন দূষণ ঘটবে তেমনি কর্মসংস্থানের সুযোগ না পেয়ে অনেকে অপরাধ সংগঠনে সক্রিয় হয়ে উঠবে। তাই বলা যায়, ধানের ব্লাইট রোগ মহামারী আকারে দেখা দিলে জনজীবনের বিভিন্নক্ষেত্রে বিপর্যয় আসতে পারে।

Question 10

রবিন তাদের আলুক্ষেতে কিছু আলুর পাতার কিনারায় ছোট ছোট সবুজ-ধূসর বর্ণের পানিভেজা দাগ এবং কিছু পাতায় কালচে দাগসহ পচন দেখতে পেল। ক্ষেতের পাশে রাখা গোবর সারের স্তূপে ছাতার মত গঠনবিশিষ্ট এক প্রকার বর্ণহীন উদ্ভিদ লক্ষ করল।

[Sylhet , 2017]

a.

লাইকেন কী?

b.

অমরাবিন্যাস বলতে কী বোঝ?

c.

উদ্দীপকের উদ্ভিদের সৃষ্ট রোগের প্রতিকার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।

d.

গোবর সারের স্তূপে দৃশ্যমান বস্তুর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত গোবর সারের স্তূপে দৃশ্যমান বস্তুটি হলো । Agaricus একে মাশরুম বলা হয়। নিচে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-

Agaricus অর্থনৈতিকভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুটি প্রজাতি ছাড়া Agaricus এর সকল প্রজাতিকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। A. brunnescens এবং A. bitorquis সারাবিশ্বে ব্যাপক পরিমাণে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। এছাড়া অন্য একটি ভক্ষণযোগ্য মেঠো ছত্রাক হলো A. campestris। সমগ্র বিশ্বে মাশরুমের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবং এর সহজ উৎপাদন পদ্ধতি থাকাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। মাশরুমের ওষুধি মূল্য বহুবিধ। যেমন- এটা খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এটি ডায়াবেটিক রোগীর আদর্শ খাবার। নিয়মিত খেলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ নিরাময় হয়। দাঁত ও হাড় গঠনে কার্যকর। ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধ করে। চুলপাকা ও চুলপড়া প্রতিরোধ করে। Agaricus মাধ্যমের জটিল যৌগগুলোকে ভেঙে মাটিকে উর্বর করে তোলে। Agaricus xanthodermus এবং A. silircola বেশ বিষাক্ত কিন্তু প্রাণঘাতী নয়। তবে অন্যান্য মাশরুম অধিক বিষাক্ত যা খেলে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। মাশরুম যেখানে জন্মায় সেখানে জৈব বস্তুর ঘাটতি দেখা দেয়। এছাড়া গাছের গুঁড়ি, খড় ও বাঁশের ওপর জন্মে এগুলোর প্রভূত ক্ষতি করে।

Question 11

গ্রুপ ‘A’ = থ্যালোফাইটিক, সবুজ কিন্তু জননাঙ্গ এককোষী।

গ্রুপ ‘B’ = থ্যালোফাইটিক ও অসবুজ।

[Dinajpur , 2017]

a.

ক্রোজিয়ার কী?

b.

Cycas কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয় কেন?

c.

উদ্দীপকের গ্রুপ-A এবং গ্রুপ-B ভুক্ত উদ্ভিদসমূহের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গঠিত স্বতন্ত্র উদ্ভিদের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো।

d.

উদ্দীপকের গ্রুপ-A এবং গ্রুপ-B ভুক্ত উদ্ভিদসমূহের মধ্যে বৈসাদৃশ্য- এর সাথে সাদৃশ্যও বিদ্যমান- বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রুপ ‘A’ (শৈবাল) ও গ্রুপ ‘B’ (ছত্রাক) এর মধ্যে বৈসাদৃশ্য-এর সাথে সাদৃশ্যও বিদ্যমান। নিম্নে শৈবাল ও ছত্রাকের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করা হলো-

শৈবাল ও ছত্রাক উভয়েই থ্যালয়েড। উভয়েরই দেহে ভাস্কুলার টিস্যু অনুপস্থিত। ছত্রাক ও শৈবাল উভয়ই সুকেন্দ্রিক অর্থাৎ উভয়েরই কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে। শৈবাল ও ছত্রাক উভয়ের জননাঙ্গ বন্ধ্যাকোষ দিয়ে আবৃত থাকে না। আবার শৈবাল সালোকসংশ্লেষণকারী স্বভোজী অর্থাৎ এদের দেহে ক্লোরোফিল থাকে। কিন্তু ছত্রাকের দেহে ক্লোরোফিল নেই। শৈবালের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ ও পেকটিন নির্মিত। কিন্তু ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন নির্মিত। শৈবালের খাদ্য শ্বেতসার হিসেবে জমা থাকে, অপরদিকে ছত্রাকের খাদ্য গ্লাইকোজেন বা তৈলবিন্দু হিসেবে জমা থাকে। শৈবাল আলোর উপর নির্ভরশীল তাই আলো ছাড়া অন্ধকারে বাঁচতে পারে না। অপরদিকে ছত্রাক আলোর উপর নির্ভরশীল নয়। এরা আলো ও অন্ধকার উভয় পরিবেশে বাঁচতে পারে। অধিকাংশ শৈবাল পানিতে বাস করে, কিন্তু ছত্রাকের অধিকাংশ স্থলে বাস করে।

Question 12

আরিয়ান গোমতী নদীর তীরে বেড়াতে গিয়ে প্রবাহমান পানির ধারে। এক ধরনের অশাখ সূত্রাকার উদ্ভিদ দেখল। এছাড়া সে নদীর তীরে স্যাঁতস্যাঁতে মাটিতে চ্যান্টা, দ্ব্যাগ্র শাখান্বিত বিষমপৃষ্ঠ থ্যালাস গোলাকার চক্রাকারে অবস্থান করতে দেখল।   [রাজশাহী বোর্ড ২০১৬ ]

[ ]

a.

ছত্রাক কী?

b.

হেটারোমর্ফিক জনুক্রম ব্যাখ্যা কর।

c.

উদ্দীপকের প্রথমোক্ত উদ্ভিদটিতে যৌন জনন কিভাবে ঘটে?

d.

উদ্দীপকের আলোচ্য উদ্ভিদ দুটির মধ্যে মিল ও অমিল খুঁজে বের কর। 

উত্তরঃ

উদ্দীপকে আরিয়ান গোমতী নদীর তীরে বেড়াতে গিয়ে প্রবাহমান পানির ধারে এক ধরনের অশাখ-সূত্রাকার উদ্ভিদ দেখে যা Ulothrix নামক শৈবাল। এছাড়া সে স্যাঁতসেঁতে মাটিতে চ্যাপ্টা দ্ব্যাগ্র শাখান্বিত বিষমপৃষ্ঠ থ্যালাস গোলাকার চক্রাকারে অবস্থান করতে দেখল যা ব্রায়োফাইট উদ্ভিদ Riccia। Ulothrix এবং Riccia এর মধ্যে মিল ও অমিল নিচে আলোচনা করা হলো-
মিল: Ulothrix সাধারণত পুকুর, নদী, হ্রদ প্রভৃতি জলজ পরিবেশে জন্মায়। Ulothrix এর মতো Riccia জলজ পরিবেশে জন্মাতে পারে। Riccia এর ন্যায় Ulothrix মাটি বা পাথরেও জন্মাতে পারে। Ulothrix এবং Riccia উভয়েই সবুজ ও স্বভোজী। Ulothrix এর যেমন পরিবহন তন্ত্র থাকে না, তেমনি Riccia এরও পরিবহনতন্ত্র থাকে না। Ulothrix এর ন্যায় Riccia এর মূল থাকে না।

অমিল: Ulothrix এর দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত নয়, কিন্তু Riccia এর দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। Ulothrix এ হোল্ডফাস্ট থাকে যা এদেরকে কোনো অবলম্বনের সাথে আটকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। অপরদিকে Riccia তে আটকে থাকার জন্য রাইজয়েড বিদ্যমান। Ulothrix অঙ্গজ, যৌন ও অযৌন পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করে। কিন্তু Riccia এর থ্যালাস পচন ও গলনের ফলে স্পোর নির্গত হয় যার মাধ্যমে এর বংশবৃদ্ধি হয়। Ulothrix এর ফিলামেন্ট শীর্ষদেশ ও পাদদেশ এ দুটি অঞ্চলে বিভক্ত। অপরদিকে Riccia সবুজ ফটোসিনথেটিক অঞ্চল ও বর্ণহীন সঞ্চয়ী অঞ্চলে বিভক্ত। Ulothrix এর জননাঙ্গ বন্ধ্যা কোষপ্রাচীর দ্বারা আবৃত থাকে না, কিন্তু Riccia তে জননাঙ্গ বন্ধ্যা কোষপ্রাচীর দ্বারা আবৃত থাকে। Ulothrix এর জাইগোট বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হতে পারে না অপরদিকে Riccia এর জাইগোট বহুকোষী ভ্রুণ সৃষ্টি করতে পারে। 

অতএব উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, Ulothrix ও Riccia এর মধ্যে মিল-অমিল দুটোই বিদ্যমান।

Question 13

[ ]

a.

সিন্যাপসিস কী?

b.

সিনোসাইটিক মাইসেলিয়াম বলতে কী বুঝ?সিনোসাইটিক মাইসেলিয়াম বলতে কী বুঝ?

c.

উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘A’ এবং ‘B’ জীব দুটির মধ্যে পার্থক্য লেখ। 

d.

অর্থনৈতিকভাবে চিত্র ‘B’ জীবটির বহুমুখী ব্যবহার বিশ্লেষণ কর।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘চিত্র-B’ হলো Agaricus নামক ছত্রাক। এরা সাধারণত মাশরুম নামে পরিচিত। অর্থনৈতিকভাবে Agaricus-এর নানাবিধ ব্যবহার রয়েছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-

Agaricus বা মাশরুম খাদ্য হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দুটি প্রজাতি ছাড়া Agaricus এর প্রায় সকল প্রজাতিকে খাদ্য হিসেবে ধ্যবহার করা যায়। A. brunnescens এবং A. bitorquis সারা বিশ্বে ব্যাপক পরিমাণে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। এছাড়া অন্য একটি ভক্ষণযোগ্য মেঠো ছত্রাক হলো A. campestris. মাশরুম পুষ্টিকর খাদ্য এবং এদের প্রোটিন মান উদ্ভিদ প্রোটিন এবং প্রাণীজ প্রোটিনের মাঝামাঝি। এতে ক্যালরি কম কিন্তু খনিজ লবণে (Ca, K, P, Fe. Cu) সমৃদ্ধ। এছাড়া ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও সি থাকে। তাই মাশরুমের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে এবং এর চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হওয়া যায়। সমগ্র বিশ্বে এর চাহিদা থাকায় এবং সহজ উৎপাদন পদ্ধতি থাকায় কুটির শিল্পের মতো ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া মাশরুমের ঔষধি গুণ বহুবিধ। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপের রোগের চিকিৎসায় উপকারী। ফলে Agaricus বা মাশরুমের চাহিদা এবং পরিচিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই মাশরুমের চাষে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, Agaricus অর্থনৈতিকভাবে • খুবই গুরুত্ব বহন করে এবং এর যথেষ্ট উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

Question 14

পুরাতন আম গাছের বাকলে ও ভেজা দেয়ালের উপর ধূসর সবুজ বর্ণের মিশ্রণে সমাঙ্গদেহী পত্রসদৃশ কিছু জীব দেখতে পাওয়া যায়। জীববিজ্ঞানের শিক্ষক জীবটি সম্পর্কে ছাত্রদেরকে জানাতে গিয়ে বললেন, এটি হচ্ছে দুটি জীবের সহাবস্থান।   [ঢাকা বোর্ড ২০১৫]

[ ]

a.

ভাইরাস কী?

b.

ট্রান্সক্রিপশন বলতে কী বুঝ?

c.

উদ্দীপকে উল্লেখিত সহাবস্থানটির অন্তর্গঠন লেখ।

d.

উক্ত সহাবস্থানটির পরিবেশীয় গুরুত্ব লেখ।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে জীববিজ্ঞান শিক্ষক ছাত্রদের সাথে যে জীবটি নিয়ে আলোচনা করেছেন তা হলো লাইকেন। নিচে ‘লাইকেনের’ পরিবেশীয় গুরুত্ব আলোচনা করা হলো-

শুষ্ক পার্বতগাত্র বা মরু অঞ্চলে যেখানে অন্য কোনো জীব জন্মাতে পারে না সেখানে লাইকেন মাটি গঠনে সাহায্য করে। লাইকেন হলো কঙ্করময় মরুভূমির বা বরফ আচ্ছাদিত তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রথম প্রাণ। লাইকেন পাথুরে মরুভূমিতে তার নিঃসৃত CO₂ সাথে বৃষ্টির পানি অথবা জলীয়বাষ্প মিশে কার্বনিক এসিড সৃষ্টি হয়। যা পাথর বিচূর্ণ করে। সেখানে লাইকেনের মৃতদেহাবশেষ জমে হিউমাস গঠিত হয়। এ হিউমাসেই পরবর্তীতে উন্নত উদ্ভিদ জন্মানোর জন্য উষর পাথুরে অঞ্চলে মাটির সৃষ্টি করে। আবার সেখানে উন্নত উদ্ভিদ জন্মানোর ফলে বিভিন্ন পশু পাখির আবাসস্থলে পরিণত হয়। কারণ লাইকেন বিভিন্ন কীটপতঙ্গ ও পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এভাবে সেখানে জীববৈচিত্র্য তৈরি হয়। অর্থাৎ উষরভূমি উর্বরভূমিতে রূপান্তরিত হয়। বেশ কিছু লাইকেন বায়ুর দূষণের নিদের্শক হিসেবে বিবেচিত। কিছু লাইকেন আবার বিষাক্ত যা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। কিছু লাইকেন • আবার ঐতিহাসিক স্থাপনায় অথবা ভাস্কর্য জন্মে সৌন্দর্যহানিও করে। যদিও লাইকেনের সামান্য কিছু অপকারী দিক আছে তবুও লাইকেন হলো উদ্ভিদ ক্রমাগমনের সাহসী সৈনিক। লাইকেনই পারে সাহারাকে আমাজানে এবং আলাস্কাকে গ্রীনল্যান্ডে রূপান্তরিত করতে।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, লাইকেন তথা উদ্দীপকের জীবটি হলো সবুজ বিপ্লবের প্রথম প্রাণ যার পরিবেশীয় গুরুত্ব অবর্ণনীয়।

Question 15

ডাক্তার একজন উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীকে এক ধরনের ক্লোরোফিলবিহীন, মৃতজীবী, ছাতার ন্যায় গঠনবিশিষ্ট উদ্ভিদ খেতে বললেন।  [যশোর বোর্ড ২০১৫ ]

[ ]

a.

এনজাইম কি?

b.

রাইবোজ ও ডিঅক্সিরাইবোজ সুগারের মধ্যে পার্থক্য লেখ।

c.

উদ্দীপকে উল্লেখিত উদ্ভিদটির গঠন বর্ণনা কর।

d.

উল্লেখিত উদ্ভিদটি মানবকল্যাণে সহায়ক-মতামত দাও।

উত্তরঃ

ঘউদ্দীপকে ডাক্তার রোগীকে যে ভেষজ উদ্ভিদটি খেতে বললেন সেটি হলো ‘মাশরুম’। এটি এক ধরনের ছত্রাক। যার বৈজ্ঞানিক নাম- Agaricus campestris। Agaricus বিভিন্ন শিল্পে, খাদ্যে, ওষুধে এমনকি জেনেটিক মেটেরিয়াল হিসেবে গবেষণায় স্থান দখল করে নিয়েছে। ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে এটি সহায়ক। এতে আঁশ বেশি এবং শর্করা ও চর্বি কম। এতে শর্করা, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ এমন সমন্বয়ে আছে যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করে। যার ফলে গর্ভবতী মা ও শিশুরা নিয়মিত খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। এতে প্রচুর উৎসেচক আছে যা হজমে সহায়ক, খাবারে রুচি বাড়ায় এবং পেটের পীড়া নিরাময় করে। এতে লোভাস্টালিন, এনটাডেনিন ও ইরিটাভেনিন থাকে যা শরীরের কোলেস্টেরল কমানোর জন্য অন্যতম উপাদান। মাশরুম নিয়মিত খেলে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রিত থাকে। ওষুধের পাশাপাশি মাশরুম সুপ্রিয় খাদ্য হিসেবে বহুদেশে পরিচিত। বাংলাদেশের বড় বড় হোটেলগুলোতে খাদ্য হিসেবে বিশেষ করে স্যুপ তৈরিতে মাশরুম ব্যবহৃত হয়। মাশরুম এর চাষ বেশ লাভজনক কুটির শিল্পে পরিণত হয়েছে। মাশরুম যেহেতু মৃতজীবী তাই বিভিন্ন ধরনের জটিল দ্রব্যকে ভেঙে মৃত্তিকার পুষ্টি বৃদ্ধি করে থাকে। বিশ্বের অনেক দেশে মাশরুম অত্যন্ত দামি খাবার। ব্যাপকভাবে মাশরুম চাষ ও রপ্তানির মাধ্যমে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লেখিত উদ্ভিদটি মানবকল্যাণে সহায়ক।

Question 16

জীববিজ্ঞান ক্লাসে এক প্রকার সিমবায়োটিক সহঅবস্থান নিয়ে শিক্ষক আলোচনা করছিলেন যা যেকোনো পরিবেশে জন্মাতে পারে এবং পরিবেশ দূষণের নির্দেশক হিসেবে পরিচিত।

[ ]

a.

লিভারওয়ার্ট কী?

b.

জেনেটিক কোড বলতে কী বুঝ?

c.

উল্লেখিত সিমবায়োটিক সহঅবস্থানের অন্তর্গঠন বর্ণনা কর। 

d.

উপরে উল্লেখিত সিমবায়োটিক সহঅবস্থানের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর। 

উত্তরঃ

উদ্দীপকে জীববিজ্ঞান শিক্ষক কর্তৃক আলোচিত সিমবায়োটিক সহঅবস্থানটি হলো লাইকেন। নিচে লাইকেনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-

১. লাইকেন একটি অতি সাধারণ ও নিম্নশ্রেণির থ্যালয়েড উদ্ভিদ হলেও ভূমি ও বায়ুমন্ডলে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২. লাইকেন নির্গত CO₂ জলীয়বাষ্প বা বৃষ্টির পানি বা কুয়াশার সাথে মিশে যে কার্বনিক অ্যাসিড তৈরি করে তা পাথর বা শিলা খণ্ডকে ক্ষয় করে ছোট ছোট মাটি কণায় পরিণত করে এবং মরুজ ক্রমাগমণের সূচনা করে যা একসময় বনভূমি সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।

৩. লাইকেনের দেহ গঠনকারী সায়ানোব্যাকটেরিয়া (Nostoc, Anabaena) শৈবাল বায়ুর মুক্ত N₂ গ্যাসকে উদ্ভিদের গ্রহণ উপযোগী NH2, NO2, NO3 ইত্যাদিতে পরিণত করে। 

৪. লাইকেন সৃষ্ট হিউমাস পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

৫. উন্মুক্ত পাহাড় ও গাছের বাকলে লাইকেন জন্মে তাদের দৃষ্টিনন্দন করে।

৬. লাইকেন পরিবেশ দূষণের ইন্ডিকেটর হিসেবে কাজ করে।

৭. গাছের গুড়ি, পুরাতন ইটের দেয়াল ও ছাদে লাইকেনের দীর্ঘ অবস্থানের ফলে আবাসস্থল ক্ষয় ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

Question 17

নমুনা A: স্বভোজী, সঞ্চিত খাদ্য স্টার্চ
নমুনা B: পরজীবী ও মৃতজীবী’, সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন   [ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, ঢাকা ]

[ ]

a.

রাইজোমর্ফ কী?

b.

দাদ রোগের লক্ষণগুলো লেখ।

c.

নমুনা A জীবটির অযৌন ও যৌন জনন পদ্ধতির পার্থক্য বর্ণনা কর।

d.

মানবজীবনে উদ্দীপকের B জীবটির উপকারিতা বিশ্লেষণ কর। 

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত B জীবটি হলো ছত্রাক। নিচে মানবজীবনে ছত্রাকের উপকারিতা বিশ্লেষণ করা হলো-

১. প্রাচীনকাল থেকে মানুষের খাদ্য হিসেবে ও খাদ্য সুস্বাদুকরণের জন্য ছত্রাক ব্যবহার করা হচ্ছে। মাশরুম বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশে খাবারের উদ্দেশ্যে ব্যাপক হারে চাষ হচ্ছে।

২. রোগ নিয়ন্ত্রণে যে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হয় তার অধিকাংশ ছত্রাক থেকে পাওয়া যায়। প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন Penicillium chrysogenum গণের ছত্রাক থেকে তৈরি করা হয়।

৩. প্রতিদিন যে অসংখ্য জীব মৃত্যুবরণ করে তাদের দেহে পচন সৃষ্টি করে পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণমুক্ত হয়।

৪. বিভিন্ন প্রজাতির ছত্রাক থেকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত বিভিন্ন জৈব এসিড ও উৎসেচক উৎপাদন করা হয়।

৫. পচনের মাধ্যমে জৈব সার তৈরি এবং ঊষর মরুতে বনায়নে ছত্রাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Question 18

X ও Y দুটি উদ্ভিদ। X উদ্ভিদটি সমাঙ্গদেহী ও স্বভোজী। Y উদ্ভিদটির অধিকাংশ সদস্যই শোষণের মাধ্যমে পুষ্টি সংগ্রহ করে। X ও Y মিলিত হয়ে পৃথক নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে।  [আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা ]

[ ]

a.

উগ্যামি কী?

b.

পামেলা দশা বলতে কী বুঝ?

c.

উদ্দীপকের সৃষ্ট নতুন উদ্ভিদের অন্তর্গঠন লিখ।

d.

X ও Y উদ্ভিদ গঠন ও কাজের তুলনামূলক আলোচনা কর। 

উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত X ও Y হলো যথাক্রমে শৈবাল এবং ছত্রাক। নিচে শৈবাল ও ছত্রাকের মধ্যকার গঠন ও কাজের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-
শৈবাল সালোকসংশ্লেষণকারী স্বভোজী উদ্ভিদ অর্থাৎ এদের দেহে। ক্লোরোফিল থাকে। এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ ও পেকটিন নির্মিত।। অধিকাংশ শৈবাল পানিতে বাস করে এবং এরা আলো ছাড়া অন্ধকারে। বাঁচতে পারে না। শৈবালের খাদ্য শ্বেতসার হিসেবে জমা থাকে। শৈবাল কার্যগত দিক দিয়ে বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। মশক নিয়ন্ত্রণে, পরিবেশ দূষণ রোধে, কৃষিকাজে, জৈব জ্বালানি তৈরি, মাটির বয়স। নির্ণয়, কালচার মিডিয়াম তৈরি ইত্যাদি অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও শৈবাল খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাছ, জলজ স্তন্যপায়ী ও অন্যান্য প্রাণীর খাদ্যের প্রধান উৎস হলো নানা প্রকারের শৈবাল। শৈবাল জলাশয়ে ব্লুম সৃষ্টি করে, রাস্তাঘাট পিচ্ছিলকরণ, স্থাপনার ক্ষতি ইত্যাদি অপকারী কাজ করে থাকে।

অন্যদিকে, ছত্রাক সালোকসংশ্লেষণকারী বর্ণহীন অর্থাৎ এদের দেহে কোনো ক্লোরোফিল থাকে না। এদের কোষপ্রাচীর কাইটিন নির্মিত। অধিকাংশ ছত্রাক স্থলে বাস করে এবং আলো ও অন্ধকার উভয় পরিবেশেই বাঁচতে পারে। এদের খাদ্য গ্লাইকোজেন বা তৈলবিন্দু হিসেবে জমা থাকে। কার্যগত দিক দিয়ে ছত্রাক অ্যান্টিবায়োটিক ও ঔষুধ তৈরি, এনজাইম ও জৈব সৃষ্টি, রুটি ও পনির শিল্পে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও ছত্রাক উদ্ভিদ ও প্রাণীর রোগ সৃষ্টি, খাদ্যদ্রব্য পচন ও বিষক্রিয়া, কাঠের পচন ও ক্ষয় ইত্যাদি অপকারী কাজও করে থাকে।

Question 19

ফটোবায়োন্ট ও মাইকোবায়োন্ট নামক দুটি জীবীয় উপাদান সম্মিলিতভাবে ধূসর বা সাদা অথবা কমলা-হলুদ বর্ণের সমাঙ্গদেহী এমন একটি জীবগোষ্ঠী উৎপন্ন করে যাদেরকে পরিবেশ দূষণ নির্দেশকও বলা হয়।   [চট্টগ্রাম কলেজ ]

[ ]

a.

ভিন্নবাসী শৈবাল কী?

b.

ব্যাসিডিওকার্প বলতে কী বুঝ?

c.

উদ্দীপকে প্রথমোক্ত প্রকৃতির জীবীয় উপাদানের অযৌন জনন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা কর।

d.

উদ্দীপকের জীবটি উপকার ভিত্তিক সম্পর্কের অনন্য উদাহরণ- বিশ্লেষণ কর।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের ফটোবায়োন্ট ও মাইকোবায়োন্ট হলো যথাক্রমে শৈবাল ও ছত্রাক। জীব দুটি সম্মিলিতভাবে লাইকেন নামক উদ্ভিদ সৃষ্টি করে। লাইকেন উপকারভিত্তিক সম্পর্ক অর্থাৎ মিথোজীবীতার অনন্য উদাহরণ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-

শৈবাল ও ছত্রাকের মিথোজীবিতামূলক সহাবস্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট স্বয়ংসম্পূর্ণ থ্যালাস হলো লাইকেন। এক্ষেত্রে সহাবস্থানের ফলে উভয়ই কমবেশি উপকৃত হয়। ছত্রাক শৈবালকে ঘিরে রাখে। ফলে শৈবালের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় ও অত্যধিক আলো থেকে রক্ষা পায়। ছত্রাক সদস্যটি কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি বা জলীয় বাষ্প শৈবাল সঙ্গীকে প্রদান করে। শৈবাল এসব পদার্থ সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহার করে শর্করা খাদ্য তৈরি করে। ছত্রাক শৈবালের এ খাদ্যের অংশ বিশেষ শোষণ করে কৃতকার্যতার সাথে বেঁচে থাকে। ছত্রাক পরিবেশ থেকে খনিজ পুষ্টি ও পানি শোষণ করে এবং এর অংশবিশেষ শৈবাল গ্রহণ করে। ফলে উভয়েই উপকৃত হয়। লাইকেনের দেহ গঠনে ও শৈবালের প্রতিরক্ষায় ছত্রাক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। পক্ষান্তরে শৈবাল খাদ্য দিয়ে ছত্রাককে বাঁচিয়ে রাখে। এভাবেই তারা সহাবস্থান সৃষ্টি করে।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায় লাইকেন শৈবাল ও ছত্রাকের উপকারভিত্তিক সম্পর্ক তথা মিথোজীবিতার অন্য উদাহরণ এবং এরূপ সহাবস্থানের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ লাইকেন প্রকৃতিতে টিকে থাকে।

Question 20

[ ]

a.

হোল্ডাফাস্ট কী?

b.

গর্ভপাদ পুষ্প বলতে কী বোঝ?

c.

চিত্রের C জাতীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য লিখ।

d.

চিত্রের উদ্ভিদের মধ্যে কোন জাতীয় উদ্ভিদ উন্নত তোমার মতামতসহ ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ

উদ্দীপক উল্লেখিত চিত্রদ্বয়ের মধ্যে C- হলো Ulothrix শৈবাল, যা একটি থ্যালোফাইটা জাতীয় উদ্ভিদ এবং D-হলো Riccia, যা একটি ব্রায়োফাইটা জাতীয় উদ্ভিদ। এদের মধ্যে থ্যালোফাইটা অপেক্ষা ব্রায়োফ্রাইটা উন্নত ধরনের। নিচে তা মতামতসহ ব্যাখ্যা করা হলো- যে ধরনের অপুষ্পক উদ্ভিদের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না তারাই হলো থ্যালোফাইটা। থ্যালোফাইটের দেহ থ্যালয়েড, প্রধানদেহ গ্যামিটোফাইট। এদের স্পোরোফাইট সম্পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু নেই। এরা বীজহীন, সাধারণত ‘স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। এদের জীবনচক্র হ্যাপ্লোবায়োন্টিক, কখনো ভূণ সৃষ্টি হয় না।

অপরদিকে, ব্রায়োফাইটাও অপুষ্পক ও পরিবহন টিস্যুবিহীন উদ্ভিদ। কিন্তু, এদের প্রধানদেহ গ্যামিটোফাইট। এদের দেহে মূল না থাকলেও মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড ও কখনো কখনো বহুকোষী রোম বা শঙ্ক থাকে যা থ্যালোফাইটে অনুপস্থিত ব্রায়োফাইটার জননাঙ্গ জটিল ও বহুকোষী এবং এদের জননাঙ্গে অ্যাম্বেরেডিয়াম ও আর্কিগোনিয়াম সৃষ্টি হয়। ব্রায়োফাইটাতে নিষেক ঘটে কিন্তু থ্যালোফাইটাতে ঘটে না। সুতরাং, উপর্যুক্ত বৈশিষ্ট্যমূলক আলোচনার প্রেক্ষিতে একথা বলা যাচ্ছে যে, C জাতীয় উদ্ভিদ অর্থাৎ থ্যালোফাইটা অপেক্ষা D জাতীয় উদ্ভিদ অর্থাৎ ব্রায়োফাইটাই উন্নত।