Islamic History 2nd – A,B S – CH 3

01 ‘হুমায়ুন’ শব্দের অর্থ কী? [Dhaka · 2025]

উত্তর হুমায়ুন অর্থ ভাগ্যবান।

02 ‘দ্বীন-ই-ইলাহি’ কী? ব্যাখ্যা কর। [Dhaka · 2025]

উত্তর দ্বীন-ই-ইলাহি হলো সম্রাট আকবর কর্তৃক গৃহীত একটি ধর্মীয় মতবাদ। সম্রাট আকবর ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে তার নতুন ধর্মমত দ্বীন-ই-ইলাহির প্রবর্তন করেন। এ ধর্মমতের কলেমা ছিল ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আকবারু খলিফাতুল্লাহ।’ দ্বীন-ই-ইলাহির ধর্মমতে দীক্ষিত হতে – হলে একজনকে সম্রাটের নামে জীবন, ধর্ম, সম্মান ও সম্পত্তি উৎসর্গ করতে হতো এবং সম্রাটকে সেজদা করতে হতো। এছাড়া তার প্রবর্তিত দ্বীন-ই-ইলাহির সেজদা প্রথা, অগ্নিকে পবিত্র মনে করা, প্রাসাদে রাজপুত স্ত্রীদের পূজার অনুমতি প্রদান ইত্যাদি ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ ধর্মের অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হতো।

03 পানিপথের প্রথম যুদ্ধ কত খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়? [Dhaka · 2025]

উত্তর পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ১৫২৬ সালে সংঘটিত হয়।

04 মুঘলদের পরিচয় দাও। [Dhaka · 2025]

উত্তর ‘মোঙ্গ’ শব্দ থেকে মোঙ্গল এবং মোঙ্গল থেকে মুঘল নামের উৎপত্তি ঘটেছে। তারা আদি বাসভূমি মঙ্গোলিয়া ছেড়ে মধ্য এশিয়ার পশ্চিম অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে মুঘল নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৫২৬ খ্রি. মুঘলরা ভারতের সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে ভারতবর্ষের শাসক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত এরপর থেকেই মুঘলরা একটি বৃহৎ জাতিগঠনে অবদান রাখতে শুরু করে।

05 ‘আকবরনামা’ কে রচনা করেন? [Dhaka · 2025]

উত্তর ঐতিহাসিক আবুল ফজল ‘আকবরনামা’ গ্রন্থ রচনা করেন।

06 ‘কবুলিয়ত ও পাট্টা’ বলতে কী বোঝায়? [Dhaka · 2025]

উত্তর শেরশাহ প্রজাদের সাথে সরকারের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে জমিদারি প্রথা লোপ এবং রায়তওয়ারি প্রথা প্রবর্তন করেন। ভূমি ব্যবস্থাপনায় ‘কবুলিয়ত’ ও ‘পাট্টা’ প্রথা প্রচলন তার অনবদ্য উদ্ভাবন। পাট্টা ছিল জমির স্বত্ব দলিল। জমির ওপর কৃষকের অধিকার ও স্বত্ব স্বীকার করে সরকারের পক্ষ হতে পাট্টা দেওয়া হতো। অন্যদিকে প্রদেয় করসহ ভূমিতে তার দায় ও কর্তব্য বর্ণনা করে কৃষক রাষ্ট্রকে কবুলিয়ত নামক দলিল সম্পাদন করে দিতেন।

07 ‘মনসব’ শব্দের অর্থ কী? [Dhaka · 2025]

উত্তর মনসব শব্দের অর্থ মর্যাদা বা সম্মান।

08 সম্রাট আওরঙ্গজেবকে ‘জিন্দাপির’ বলা হয় কেন? [Dhaka · 2025]

উত্তর ধর্মভীরুতার কারণে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবকে ‘জিন্দাপির’ বলা হয়। সম্রাট আওরঙ্গজেব একজন নিষ্ঠাবান সুন্নি মুসলিম শাসক ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। তিনি তৎকালীন সমাজের সকল অপরাধ থেকে মুক্ত ছিলেন। মদ সেবন থেকে দূরে থাকতেন। তিনি কুরআন শরিফ নকল করে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের নিকট বিক্রি করতেন। তিনি নামাজ আদায়ে যত্নবান ছিলেন। এমনকি যুদ্ধের ময়দানেও নামাজ আদায় করতেন। তার এ ধর্মভীরুতার জন্যই তাকে ‘জিন্দাপির’ বলা হতো।

09 মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে? [Dinajpur · 2025]

উত্তর মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।

10 ‘বাবরনামা’ কী? ব্যাখ্যা কর। [Dinajpur · 2025]

উত্তর বাবরনামা’ হচ্ছে সম্রাট বাবরের আত্মজীবনীমূলক ঐতিহাসিক একটি শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। তিনি গদ্য সাহিত্যে তুর্কি ভাষায় এটি রচনা করেন। এ গ্রন্থে বাবর তার পূর্ব পুরুষদের কথা, তার জন্ম, শৈশব, কৈশোরের কথা উল্লেখ করেছেন। এ গ্রন্থে বাবর তার বোকামি ও ব্যর্থতাগুলো অকপটে তুলে ধরেছেন। এ আত্মজীবনীতে ভারতের আবহাওয়া, পরিবেশ, ফলমূল ও মানুষের বৈশিষ্ট্যের কথা বর্ণনা করেছেন।

11 পানিপথের প্রথম যুদ্ধ কত খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়? [Dinajpur · 2025]

উত্তর পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়।

12 আওরঙ্গজেবকে জিন্দাপির বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর। [Dinajpur · 2025]

উত্তর ধর্মভীরুতার কারণে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবকে ‘জিন্দাপির’ বলা হয়। সম্রাট আওরঙ্গজেব একজন নিষ্ঠাবান সুন্নি মুসলিম শাসক ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। তিনি তৎকালীন সমাজের সকল অপরাধ থেকে মুক্ত ছিলেন। মদ সেবন থেকে দূরে থাকতেন। তিনি কুরআন শরিফ, নকল করে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের নিকট বিক্রি করতেন। তিনি নামাজ আদায়ে যত্নবান ছিলেন। এমনকি যুদ্ধের ময়দানেও নামাজ আদায় করতেন। তার এ ধর্মভীরুতার জন্যই তাকে ‘জিন্দাপির’ বলা হতো।

13 ‘বাবুর’ শব্দের অর্থ কী? [Dinajpur · 2025]

উত্তর বাবুর শব্দের অর্থ সিংহ।

14 ‘গ্রান্ড’ ট্রাঙ্ক রোড’ কী? ব্যাখ্যা কর। [Dinajpur · 2025]

উত্তর আফগান শাসক শেরশাহের সময়ে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক মহাসড়ক এর নাম হলো গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড। শেরশাহ বহু সুন্দর ও প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন। তার নির্মিত রাস্তাসমূহের মধ্যে প্রধান ছিলেন ‘সড়ক-ই-আযম’ বা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড। এটি ছিল প্রায় ১৫০০ মাইল দীর্ঘ। এই রাস্তাটি পূর্ববঙ্গের সোনারগাঁও থেকে সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সাধারণ পথিককে সূর্যের উত্তাপ থেকে রক্ষার জন্য রাস্তার দু’ধারে ছায়াপ্রদ ও ফলদ গাছ লাগানো হয়েছিল। এছাড়া দু’ক্রোশ অন্তর মুসাফিরখানা ছিল।

15 ‘মনসব’ শব্দের অর্থ কী? [Dinajpur · 2025]

উত্তর মনসব শব্দের অর্থ মর্যাদা বা সম্মান।

16 পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সম্পর্কে একটি টীকা লেখ। [Dinajpur · 2025]

উত্তর মুঘল সম্রাট আকবরকে বৈরামখানের অভিভাবকত্বে থাকাকালে ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে দুর্ধর্ষ-শত্রু হিমুকে মোকাবিলা করতে হয়। হিমুর অপ্রতিহত বিজয়, লক্ষাধিক সেনাবাহিনী ও পনেরো শতাধিক হস্তীবাহিনী এবং তৎকালীন দুর্ভিক্ষের প্রকোপে মাত্র ২০,০০০ সৈন্য সম্বলিত মুঘল বাহিনী শঙ্কিত হয়ে পড়ে। কিন্তু এ বাহিনী আকবর ও বৈরামখানের কঠিন সংকল্পের কারণে অবশেষে ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৫ নভেম্বর পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে হিমুর মোকাবিলা করে। প্রথম দিকে হিমু প্রচন্ডভাবে আক্রমণ পরিচালনা করে মুঘল বাহিনীকে হতভম্ব করে দেন। কিন্তু অকস্মাৎ হিমুর ডান চক্ষু তীরবিদ্ধ হওয়ায় তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তার সেনাবাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। ফলে হিমু পরাজিত, ধৃত ও নিহত হন।

17 আইন-ই-আকবরীর রচয়িতা কে? [Dinajpur · 2025]

উত্তর আইন-ই-আকবরীর রচয়িতা আবুল ফজল।

18 বৈরাম খানের পরিচয় দাও। [Dinajpur · 2025]

উত্তর বৈরাম খান ১৫০১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সম্রাট বাবর ও হুমায়ুনের উপদেষ্টা ছিলেন। শৈশবকালে সম্রাট আকবরের অভিভাবক ছিলেন বৈরাম খান। তিনি রাজকার্যে সর্বতোভাবে সম্রাট আকবরকে সহায়তা করেন। তার উপাধি ছিল খান-ই-খানান। কিন্তু পরবর্তীতে আকবরের শাসনামলেই বৈরাম খান বিদ্রোহী হয়ে উঠেন। ফলে সম্রাটের সাথে বৈরাম খানের দূরত্ব তৈরি হয়। সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ উস্কে দেওয়ার অপরাধ থেকে আকবর বৈরাম খানকে নিষ্কৃতি দিয়ে মক্কায় হজব্রত পালনের জন্য পাঠান। মক্কা গমনের পথেই বৈরাম খান নিহত হন।

19 তাজমহল কে নির্মাণ করেন? [Dinajpur · 2025]

উত্তর মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাজমহল নির্মাণ করেন।

20 ময়ূর সিংহাসন কী? ব্যাখ্যা কর। [Dinajpur · 2025]

উত্তর পৃথিবীর বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন সম্রাট শাহজাহানের নির্মিত অনুপম শিল্পকীর্তির অন্যতম। শিল্পী বেবাদল খানের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সাত বছরে এ সিংহাসনটি নির্মিত হয়েছিল। সিংহাসনের স্বর্ণ নির্মিত চারটি স্তম্ভের উপর একটি কারুকার্যমণ্ডিত চন্দ্রাতপ ছিল। প্রতিটি স্তম্ভ শীর্ষে মুখোমুখি বসানো একজোড়া ময়ূর স্থাপন করা হয়েছিল। এদের মাঝখানে ছিল বহু মূল্যবান মণিমুক্তা খচিত ফলবান বৃক্ষ। সিংহাসনে ওঠার জন্য মণিমুক্তা খচিত তিনধাপ বিশিষ্ট একটি সিঁড়ি ছিল। এটি দৈর্ঘ্যে ৩.৫ গজ, প্রস্থে ২.৫ গজ এবং উচ্চতায় ছিল ৫ গজ। অনিন্দ্যসুন্দর ও মূল্যবান এ ময়ূর সিংহাসনটি সম্রাট শাহজাহানের সৌন্দর্য জ্ঞান ও ঐশ্বর্যের উজ্জ্বলতম নিদর্শন। ১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের নাদির শাহ ভারত আক্রমণকালে ময়ূর সিংহাসনটি নিয়ে যান।

21 পানিপথের প্রথম যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়? [Dhaka · 2023]

উত্তর পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়।

22 তাজমহল কী? ব্যাখ্যা কর। [Dhaka · 2023]

উত্তর সম্রাট শাহজাহানের অনবদ্য, অমর ও সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলো যমুনা নদীর তীরে আগ্রায় নির্মিত তাজমহল। এ তাজমহল সম্রাট তার প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজের প্রেমের নিদর্শনস্বরূপ বানিয়েছিলেন। সম্রাজ্ঞী মমতাজ ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দের ৭ জুন সম্রাটের দাক্ষিণাত্যের বুরহানপুরে খানজাহান লোদীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনাকালে মৃত্যুবরণ করেন। ১৫৩১ খ্রিষ্টাব্দে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ঐতিহাসিক আব্দুল হামিদ লাহোরির মতে, এ তাজমহল বানাতে ১২ বছর লেগেছে এবং ৫০ লক্ষ রুপি ব্যয় হয়েছে। ঐতিহাসিক ঈশ্বরী প্রসাদের মতে, এসময়ও নির্মাণ ব্যয় শুধু তাজমহলের ভেতরের মার্বেল প্রস্তরের। ফরাসি পরিব্রাজক টেভার্নিয়ার ১৬৫৩ খ্রিষ্টাব্দে আগ্রায় উপস্থিত ছিলেন। তার মতে, তাজমহল নির্মাণ করতে ২২ বছর সময় লেগেছে এবং ৩ (তিন) কোটি রুপি খরচ হয়েছে।

23 ভারতীয় উপমহাদেশে কে প্রথম কামানের ব্যবহার করেন? [Dhaka · 2023]

উত্তর ভারতীয় উপমহাদেশে বাবর প্রথম কামানের ব্যবহার করেন।

24 মনসবদারি প্রথা বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর। [Dhaka · 2023]

উত্তর আকবরের সামরিক সংস্কারের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল মনসবদার ব্যবস্থা প্রবর্তন। আকবরের সিংহাসনে আরোহণের সময় সমস্ত সাম্রাজ্য কতকগুলো জায়গিরে বিভক্ত ছিল। জায়গিরদারগণ অকর্মণ্য, অদক্ষ এবং অপেশাদার যোদ্ধা রাখতেন। এর ফলে সৈন্যবাহিনীর অবস্থা সংকটজনক অবস্থায় পৌঁছায়। আকবর এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য মনসবদারি প্রথা চালু করেন। এ প্রথার মাধ্যমে তিনি ব্যক্তির পদমর্যাদা ও বেতন নির্ধারণ করেন। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ঐ ব্যক্তি তার পদমর্যাদা অনুযায়ী সামরিক সাহায্য প্রদানে বাধ্য থাকতেন। এ প্রথার ২৭ অথবা ৩৩টি স্তর ছিল।

25 সম্রাট শাহজাহানের পিতার নাম কী? [Dhaka · 2023]

উত্তর সম্রাট শাহজাহানের পিতার নাম সম্রাট জাহাঙ্গীর।

26 সম্রাট শাহজাহানের পুত্রদের মধ্যে সংঘটিত উত্তরাধিকার যুদ্ধের প্রধান কারণটি ব্যাখ্যা কর। [Dhaka · 2023]

উত্তর সম্রাট শাহজাহানের চার পুত্রই বিভিন্নভাবে ক্ষমতা পরিচালনা করার যোগ্য হলেও সম্রাট সম্পূর্ণরূপে আরোগ্য লাভ করে মহান রাজ্যভার গ্রহণ না করে আদুরে দুলাল দারাকে সিংহাসনে প্রতিষ্ঠির উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতা গ্রহণের আশা করে। কিন্তু তাদের করার জন্য মনস্থির করেন। অন্যদিকে, সম্রাটের চার পূজা কাউকে সাম্রাজ্য পরিচালনার দায়িত্ব না দেওয়ার কারণে তারা নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এজন্য দারার প্রতি সম্রাটের অন্ধ প্লেই ও পক্ষপাতিত্বকে উত্তরাধিকার যুদ্ধের প্রধান কারণ বলা হয়।

27 সর্বশেষ মুঘল সম্রাটের নাম কী? [Mymensingh · 2023]

উত্তর সর্বশেষ মুঘল সম্রাটের নাম দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর।

28 ‘মনসবদারি প্রথা’ কী ব্যাখ্যা কর। [Mymensingh · 2023]

উত্তর আকবরের সামরিক সংস্কারের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল মনসবদার ব্যবস্থা প্রবর্তন। আকবরের সিংহাসনে আরোহণের সময় সমস্ত সাম্রাজ্য কতকগুলো জায়গিরে বিভক্ত ছিল। জায়গিরদারগণ অকর্মণ্য, অদক্ষ এবং অপেশাদার যোদ্ধা রাখতেন। এর ফলে সৈন্যবাহিনীর অবস্থা সঙ্কটজনক অবস্থায় পৌঁছায়। আকবর এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য মনসবদারি প্রথা চালু করেন। এ প্রথার মাধ্যমে তিনি ব্যক্তির পদমর্যাদা ও বেতন নির্ধারণ করেন। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ঐ ব্যক্তি তার পদমর্যাদা অনুযায়ী সামরিক সাহায্য প্রদানে বাধ্য থাকতেন। এ প্রথার ২৭ অথবা ৩৩টি স্তর ছিল।

29 ‘হুমায়ুন’ শব্দের অর্থ কী? [Mymensingh · 2023]

উত্তর ‘হুমায়ুন’ শব্দের অর্থ ভাগ্যবান।

30 ‘গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড’ কী সংক্ষেপে লেখ। [Mymensingh · 2023]

উত্তর আফগান শাসক শেরশাহের সময়ে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক মহাসড়কের নাম হলো গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড। শেরশাহ বহু সুন্দর ও প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন। তার নির্মিত রাস্তাসমূহের মধ্যে প্রধান ছিলেন ‘সড়ক-ই-আযম’ বা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড। এটি ছিল প্রায় ১৫০০ মাইল দীর্ঘ। এই রাস্তাটি পূর্ববঙ্গের সোনারগাঁও থেকে সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সাধারণ পথিককে সূর্যের উত্তাপ থেকে রক্ষার জন্য রাস্তার দু’ধারে ছায়াপ্রদ ও ফলদ গাছ লাগানো হয়েছিল। এছাড়া দু’ক্রোশ অন্তর মুসাফিরখানা ছিল।

31 তাজমহলের স্থপতি কে? [Mymensingh · 2023]

উত্তর তাজমহলের স্থপতি ওস্তাদ ঈসা সিরাজী।

32 দস্তুরুল আমল কী? ব্যাখ্যা কর। [Mymensingh · 2023]

উত্তর শাসনব্যবস্থায় অনাচার রোধ এবং শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ১২টি বিধি জারি করেন, যা ‘দস্তুরুল আমল’ নামে পরিচিত। সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় (শাসনকাল: ১৬০৫-১৬২৭ খ্রি.) সাম্রাজ্যে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দিয়েছিল, যা জনমতে ভীতি সৃষ্টি করেছিল। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে তিনি কিছু আইনি বিধান চালু করেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- বিভিন্ন ধরনের শুল্ক রহিতকরণ, মাদকদ্রব্য তৈরি ও বিক্রয় নিষিদ্ধকরণ, মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির উত্তরাধিকারি নির্ণয়, চুরি ও ডাকাতি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা, রবিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পশুহত্যা নিষিদ্ধকরণ ইত্যাদি।

33 ‘বাবর’ শব্দের অর্থ কী? [Dhaka · 2022]

উত্তর সিংহ।

34 কবুলিয়ত ও পাট্টা বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর। [Dhaka · 2022]

উত্তর জমির উপর কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্রাট শেরশাহ প্রবর্তিত একটি ব্যবস্থা, যা কবুলিয়ত ও বাট্টা হিসেবে পরিচিত।

এ ব্যবস্থায় জমির উপর কৃষকের অধিকার স্বীকার করে সরকার পাট্টা বা জমির স্বত্ব দিতো। অন্যদিকে জমির কর এবং জমির উপর কৃষ্কের দায়িত্ব ও কর্তব্য স্বীকার করে কৃষকরা সরকারকে। মূলত জমদারী প্রথা বিলুপ্ত ও সরকারের সাথে জনগণের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করে শেরশাহ। 35 পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়?

[Dhaka · 2022] উত্তর

১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়। 36 ‘মনসবদারি প্রথা’ কী?

[Dhaka · 2022] উত্তর

মুঘল সম্রাট আকবর সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষে যে ব্যবস্থা গ্রহন করেন, তাই-ই ‘মনসবদারি প্রথা’ নামে পরিচিত। ‘মনবস’ শব্দের অর্থ পদ বা মর্যাদা। এই পদের অধিকারীরা মনসবদারি হয়। সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের অবস্থা দূর করার জন্য সম্রাট আকবর ১৫৭১ খ্রিষ্টাব্দে শাহবাজ খানকে মীর বকশি (সামরিক বাহিনীর প্রধান) নিয়োগ করে একটি পরিকল্পনা গ্রহন করেন। এটিই ‘মনসবদারি প্রথা’। এই ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন পর্যায়ের মনসবদারি প্রথার অধীনে যথাক্রমে মোট ১০ হাজার থেকে ১০ জন সৈন্য রাখতে পারেন। 

37 নুরজাহানের প্রকৃত নাম কী?

[Dhaka · 2022] উত্তর নুরজাহানের প্রকৃত নাম মেহের-উন-নিসা।

38 ‘বাবর-নামা’ কী? ব্যাখ্যা কর।

[Dhaka · 2022] উত্তর তুর্কী ভাষায় রচিত মুঘল সম্রাট জহিরউদ্দীন মুহাম্মদ বাবরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থটির নাম ‘বাবর নামা’।

তুলে ধরেছেন। 39 সর্বশেষ মুঘল সম্রাটের নাম কী?

[Dhaka · 2022] উত্তর

সর্বশেষ মুঘল সম্রাটের নাম হলো দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ। 40 ‘ময়ূর সিংহাসন’ কী? ব্যাখ্যা কর।

[Dhaka · 2022] উত্তর

পৃথিবীর বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন মুঘল সম্রাট শাহজাহানের নির্মিত অনুপম শিল্পকীর্তির অন্যতম নির্দেশ। তখনকার মুল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সাত বছরে ময়ূর সিংহাসন নির্মিত হয়েছিলো। সিংহাসনে সোনার তৈরি চারটি স্তম্ভের শীর্ষে ছিলো মুখোমুখি বসানো একজোড়া ময়ূর। অনিন্দ্যসুন্দর ও মূল্যবান এ সিংহাসনটি সম্রাট শাহজাহানের সৌন্দর্যজ্ঞা ও ঐশ্বর্যের উজ্জ্বল নিদর্শন। ১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের নাদির শাহ ভারতআক্রমনকালে এটি লুট করে নিয়ে যান। পরে পারস্য থেকে ব্রিটিশরা দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে য়াওয়ার পথে জাহাজডুবিতে ময়ূর সিংহাসনটি হারিয়ে যায়। 41

হুমায়ুন কত সালে সিংহাসনে বসেন? [Rajshahi · 2022]

উত্তর হুমায়ুন ১৫৩০ সালে ৩০ শে ডিসেম্বর সিংহাসনে বসে। 42

ট্রাঙ্ক রোড সম্পর্কে টীকা লেখ। [Rajshahi · 2022]

উত্তর আফগান শাসক শেরশাহের সময় নির্মিত একটি ঐতিহাসিক মহাসড়কের নাম হল গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড। এর অন্য নাম সড়ক-ই আযম। এটি ছিল প্রায় ১৫০০ মাইল দীর্ঘ। এই রাস্তাটি পূর্ববঙ্গের সোনারগাঁ থেকে সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সাধারণ পথিককে সূর্যের উত্তাপ থেকে রক্ষার জন্য রাস্তার দুধারে ছায়াপ্রদ ও ফলদ গাছ লাগানো হয়েছিল। এছাড়া দু ক্রোষ অন্তর মুসাফিরখানা ছিল। 43

পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়? [Rajshahi · 2022]

উত্তর ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়। 44

দ্বীন-ইলাহী বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর। [Rajshahi · 2022]

উত্তর “দীন-ই-ইলাহি” মুঘল সম্রাট আকবরের এক বিশেষ ধরনের ধর্মীয় নীতি। সম্রাট আকবর ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে ‘দীন-ই-ইলাহি’ নামে একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। এটি ছিল একটি একশ্বরবাদী ধর্ম। সকল ধর্মের ভালো ও উৎকৃষ্ট নীতিগুলাে এতে সমম্বিত হয়েছিলো। আকবরের প্রবর্তিত দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মমতে কোনো নবী বা দেবদেবীর অস্তিত্ব ছিলো না। প্রতি রোববার সম্রাট নির্দিষ্ট আসনে বসে আগ্রহীদের দীক্ষা দিতেন। একসময় দীক্ষা গ্রহণকারী সম্রাটের নামে ৪ টি স্তরে ব্যক্তির জীবন, সম্মান ও সম্পত্তি উৎসর্গ করতে হত।

45 কোন শব্দ থেকে মুঘল শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে?

[Rajshahi · 2022] উত্তর মোঙ্গল শব্দ থেকে মুঘল শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে।

46 কবুলিয়ত ও পাট্টা কি? ব্যাখ্যা কর।

[Rajshahi · 2022] উত্তর কুবলিয়ত ও পাট্টা বলতে ভূমির উপর প্রজাদের স্বত্ব অধিকার রক্ষার জন্য ভারতবর্ষের সম্রাট শেরশাহের (১৪৭২-১৫৪৫ খ্রি.) এক প্রবর্তিত অভিনব ব্যবস্থাকে বোঝায়।

পাট্টা ছিলো জমির অধিকার সংক্রান্ত দলিল।জমির উপর কৃষকের অধিকার স্বীকার করে সরকারের পক্ষে হতে পাট্টা দেওয়া হত। অন্যদিকে প্রদেয় করসহ ভূমিতে নিজের দায় ও কর্তব্য বর্ণনা করে কৃষক রাষ্ট্রকে কুবলিয়ত নামক দলিল সম্পাদান করে দিতেন। 47

নুরজাহানের প্রকৃত নাম কি? [Rajshahi · 2022] উত্তর

নুরজাহানের প্রকৃত নাম মেহের-উন-নিসা। 48

সম্রাট আওরঙ্গজেবকে ’জিন্দাপির’ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো? [Rajshahi · 2022] উত্তর

ইসলামি অনুশাসনের প্রতি নিষ্ঠাবান হওয়ায় মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব জিন্দাপির বলা হয়। সম্রাট আওরঙ্গজেব ছিলেন খাঁটি সুন্নি মুসলমান। ধর্মীয় দৃষ্টান্তে ইসলামের বিধি-বিধান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলেছেন। তিনি পরিশুদ্ধ জীবনযাপন করতেন। রাজ্যশাসনের ব্যাপারে তিনি ইসলাম ধর্ম অনুমোদিত বিধান জারি করেন। আওরঙ্গজেব ইসলামি বিরোধী সকল উৎসব -অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন। সম্রাট আকবরের আমলে ইসলাম ধর্মের চর্চা অত্যন্ত শিথিল হয়ে পড়েছিলো,আওরঙ্গজেব এসে পুনরুজ্জীবিত করে। তার এ অবদানের জন্য তিনি মুসলমানদের কাছ থেকে জিন্দাপির উপাধি লাভ করেন।

49 বঙ্গভঙ্গ রদ হয় কত সালে? [Rajshahi · 2022]

উত্তর ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়।

50 লাহোর প্রস্তাবের মূল বিষয় কি ছিল? ব্যাখ্যা কর। [Rajshahi · 2022]

উত্তর লাহোর প্রস্তাবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো ভারতের উত্তর -পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের প্রদেশগুলো স্বায়ত্তশাসন।

১৯৪০ সালে ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের ২৭ তম অধিবেশনে ভারতের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্র সম্পর্কিত উখাপিত প্রস্তাবই লাহোর প্রস্তাব। এ প্রস্তাবের মূল বক্তব্যে ভৌগোলিক সীমানা পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলীয় স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর প্রদেশগুলোর স্বার্বভৌমত্বের কথা হয়। ঐতিহাসিক এই প্রস্তাবই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ লুঙ্গায়িত হয়। 51 সম্রাট হুমায়ুনের পিতার নাম কী ?

[Combined · 2019] উত্তর

সম্রাট হুমায়ুনের পিতার নাম জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। 52 ‘বাবরনামা’ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো ।

[Combined · 2019] উত্তর

তুর্কি ভাষায় রচিত মুঘল সম্রাট জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থটির নাম বাবরনামা । ‘তুযুক-ই-বাবরি’ বা ‘বাবরনামা’ গ্রন্থটি ভারতের ইতিহাস অধ্যয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ আকরগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। ভাষার অনন্যতা ও তথ্যের নির্ভরযোগ্যতার জন্য এ গ্রন্থটি পণ্ডিত মহলের প্রশংসা লাভ করেছে। এ গ্রন্থে মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তানের পাশাপাশি সমকালীন ভারতের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিচয় পাওয়া যায়। ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর এতে তার ব্যক্তিজীবনের নানা দিক যেমন: দোষ-গুণ, সুখ-দুঃখ এবং সাফল্য-ব্যর্থতার কথা সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন । 53

কত খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবর সিংহাসনে আরোহণ করেন? খ. মনসবদারি প্রথা সম্পর্কে লেখো । [Combined · 2019]

উত্তর সম্রাট আকবর ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন । 54

মনসবদারি প্রথা সম্পর্কে লেখো । [Combined · 2019]

উত্তর মনসবদারি প্রথা বলতে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা দূর করার লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত একটি সামরিক সংস্কারকে বোঝায় । সম্রাট আকবর সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য ১৫৭১ খ্রিষ্টাব্দে শাহবাজ খানকে মীর বকশী নিয়োগ করে একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন । এটি মনসবদারি প্রথা হিসেবে পরিচিত। ‘মনসব’ শব্দের অর্থ পদ বা পদমর্যাদা। এ পদের অধিকারীকে ‘মনসবদার’ এবং সমগ্র ব্যবস্থাটিকে ‘মনসবদারি প্রথা’ বলা হয় । সর্বোচ্চ পর্যায়ের মনসবদার মোট দশ হাজার এবং সর্বনিম্ন পর্যায়ে ১০ জন সৈন্য নিজেদের অধীনে রাখতে পারতেন ।

55 সম্রাট শাহজাহানের কতজন পুত্র ছিল ?

[Combined · 2019] উত্তর সম্রাট শাহজাহানের চারজন পুত্র ছিল।

56 ময়ূর সিংহাসনের ওপর একটি নাতিদীর্ঘ টীকা লেখো।

[Combined · 2019] উত্তর পৃথিবী বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন মুঘল সম্রাট শাহজাহানের নির্মিত অনুপম শিল্পকীর্তির অন্যতম নিদর্শন।

তখনকার মূল্যে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সাত বছরে ময়ূর সিংহাসন নির্মিত হয়েছিল। সিংহাসনে সোনার তৈরি চারটি স্তম্ভের ওপর ছিল একটি কারুকার্যমণ্ডিত চন্দ্রাতপ। প্রতিটি স্তম্ভের শীর্ষে ছিল মুখোমুখি বসানো একজোড়া ময়ূর। অনিন্দ্যসুন্দর ও মূল্যবান এ সিংহাসনটি সম্রাট শাহজাহানের সৌন্দর্যজ্ঞান ও ঐশ্বর্যের উজ্জ্বল নিদর্শন। ১৭৩৯ খ্রিষ্টাব্দে পারস্যের নাদির শাহ ভারত আক্রমণকালে এটি লুট করে নিয়ে যান। পরে পারস্য থেকে ব্রিটিশরা দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যাওয়ার পথে জাহাজডুবিতে ময়ূর সিংহাসনটি হারিয়ে যায়। 57

‘হুমায়ুন’ শব্দের অর্থ কী? [Combined · 2018] উত্তর

‘হুমায়ুন’ শব্দের অর্থ সৌভাগ্যবান। 58

মুঘলদের পরিচয় ব্যাখ্যা করো। [Combined · 2018] উত্তর

‘মোঙ্গল’ শব্দ থেকেই ‘মুঘল’ নামকরণ হয়েছে বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন। উল্লেখ্য যে, ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর ছিলেন মায়ের দিক থেকে দুর্ধর্ষ মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান এবং পিতার দিক থেকে চাঘতাই তুর্কি বীর তৈমুর লঙের বংশধর। চেঙ্গিস-তৈমুরের বংশধর জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের ভারতে প্রতিষ্ঠিত রাজবংশটি ‘মুঘল’ নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে লোদি বংশের ধ্বংসস্তূপের ওপর বাবর এ নতুন রাজবংশের গোড়াপত্তন করেন।

59 শেরশাহের বাল্যনাম কী? [Combined · 2018]

উত্তর শেরশাহের বাল্যনাম ফরিদ।

60 বৈরাম খানের পতনের কারণ ব্যাখ্যা করো। [Combined · 2018]

উত্তর মুঘল সম্রাট আকবরের সময় সাম্রাজ্যের ভকিল বা প্রধান উজির বৈরাম খানের অপরিসীম প্রভাবই তার পতন ডেকে এনেছিল।

১৫৫৫ খ্রিষ্টাব্দে মুঘল সাম্রাজ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবরের সিংহাসন লাভ এবং পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে মুঘলদের জয়লাভে বৈরাম খানের বিশেষ ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও ১৫৬০ খ্রিষ্টাব্দে মুঘল রাজনীতিতে তার পতন ঘটে। কারণ শিয়া মুসলিম বৈরাম খানের প্রভাব রাজ দরবারের সুন্নি অভিজাত অমাত্যরা মেনে নিতে পারেনি। তাছাড়া উদ্ধত ও স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের কারণে তিনি ক্রমশ সবার কাছে অপ্রিয় হয়ে ওঠেন। সর্বোপরি সম্রাট আকবর প্রাপ্তবয়স্ক হলে পূর্ণ রাজক্ষমতা লাভের জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠেন। তাই তিনি বৈরাম খানের অভিভাবকত্ব ও সর্বময় কর্তৃত্বের নাগপাশ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। 61 ‘পানিপথের প্রথম যুদ্ধ’ কত সালে সংঘটিত হয়?

[Dhaka · 2017] উত্তর

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ১৫২৬ সালে সংঘটিত হয়। 62 ‘মনসবদারি প্রথা’ কী? বুঝিয়ে লেখো।

[Dhaka · 2017] উত্তর

সম্রাট আকবর সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের অব্যবস্থা দূর করার লক্ষ্যে ১৫৭১ খ্রিষ্টাব্দে শাহবাজ খানকে মীর বকশী (সামরিক বাহিনীর প্রধান) নিয়োগ করে যে পরিকল্পনাটি গ্রহণ করেন তাই মনসবদারি প্রথা নামে পরিচিত। ‘মনসব’ শব্দের অর্থ পদ বা মর্যাদা। এ পদের অধিকারীকে ‘মনসবদার’ এবং সমগ্র ব্যবস্থাটিকে ‘মনসবদারি প্রথা’ বলা হয়। এ ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের মনসবদারের মোট দশ হাজার এবং সর্বনিম্ন পর্যায়ে ১০ জন সৈন্য সংরক্ষণের নিয়ম ছিল। 63

কোন সম্রাট তাজমহল নির্মাণ করেন? [Dhaka · 2017]

উত্তর মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাজমহল নির্মাণ করেন। 64

সম্রাট আওরঙ্গজেবকে ‘জিন্দাপীর’ বলা হয় কেন? [Dhaka · 2017]

উত্তর ইসলামি অনুশাসনের প্রতি অত্যন্ত নিষ্ঠাবান হওয়ার কারণে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবকে জিন্দাপির বলা হতো। সম্রাট আওরঙ্গজেব ছিলেন খাঁটি সুন্নি মুসলমান। ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামের বিধি-বিধান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চললেও তিনি পরধর্মের প্রতি সহিষ্ণু ছিলেন। আকবরের শাসনামলে যে ধর্মের বন্ধন অত্যন্ত শিথিল হয়ে পড়েছিল আওরঙ্গজেব তা পুনরুজ্জীবিত করেন। এটা করতে গিয়ে হিন্দুদের কাছে তিনি অপ্রিয় হলেও মুসলমানদের নিকট হতে ‘জিন্দাপির’ উপাধি লাভ করেন।

65 মুহাম্মদ বিন তুঘলক কয়টি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন?

[Dhaka · 2017] উত্তর মুহাম্মদ বিন তুঘলক পাঁচটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন?

66 আইন-ই-আকবরী কী? ব্যাখ্যা করো।

[Dhaka · 2017] উত্তর আইন-ই-আকবরী হচ্ছে আবুল ফজলের রচিত একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থ।

আবুল ফজল উল্লিখিত গ্রন্থটি সম্রাট আকবরের পৃষ্ঠপোষকতায় রচনা করেন। আইন-ই-আকবরী গ্রন্থটিতে মুঘল সম্রাট আকবর এবং তার সাম্রাজ্য সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিপিবদ্ধ রয়েছে। আবুল ফজলের রচিত আইন-ই-আকবরীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। 67

কোন সালে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়? [Comilla · 2017] উত্তর

১৫২৬ সালে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। 68

রাজপুত নীতি বলতে কী বুঝায়? [Comilla · 2017] উত্তর

মুঘল সম্রাট আকবর রণদক্ষ ও নির্ভীক উত্তর ভারতের রাজপুত জাতির সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় সুচিন্তিত ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত যে নীতি গ্রহণ করেছিলেন তাই রাজপুত নীতি নামে পরিচিত। সম্রাট আকবরের অর্ধ শতাব্দী রাজত্বকালে তার গৃহীত উল্লেখযোগ্য নীতিসমূহের মধ্যে রাজপুত নীতি অন্যতম। তিনি রাজপুত বংশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। রাজপুতদের দেশের সামরিক ও উচ্চপদে নিয়োগের মাধ্যমে তাদের আনুগত্য লাভ করেন। তিনি হিন্দু ও রাজপুতদের আনুগত্য ও সমর্থন লাভের উদ্দেশ্যে তাদেরকে জিজিয়া ও তীর্থকর প্রদান থেকে অব্যাহতি দেন। সম্রাট আকবরের রাজপুতদের প্রতি গৃহীত এ সকল উদার নীতিই হলো রাজপুত নীতি।

69 সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহলের প্রকৃত নাম কী? [Comilla · 2017]

উত্তর সম্রাজ্ঞী মমতাজমহলের প্রকৃত নাম আরজুমান্দ বানু বেগম।

70 ‘দ্বীন-ই-ইলাহি’ এর প্রকৃত উদ্যেশ্য কী ছিল? [Comilla · 2017]

উত্তর ভারতের মুঘল শক্তির স্থায়িত্ব বিধানের জন্য হিন্দু-মুসলিম নাগরিকদের মধ্যে ঐক্য ও প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলাই ছিল ‘দীন-ই- এলাহী’ এর প্রকৃত উদ্দেশ্য।

মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাসে অন্যতম উল্লেখযোগ্য আলোচিত ও সমালোচিত বিষয় হলো সম্রাট আকবরের ‘দীন-ই-এলাহী’ ধর্মমত প্রচার। সম্রাটের এ ধর্মমত প্রচারের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত। ছিল। কেননা তিনি মনে করেন যে, হিন্দুদের সমর্থন ও সহযোগিতা পাওয়ার জন্য উদার ধর্মীয় নীতি গ্রহণ করা উচিত। তাই তিনি তার সাম্রাজ্যের সকলকে একটি কাঠামোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব বিধানের জন্য নতুন ধর্মমত প্রচার করেন। এটি ছিল ‘দীন-ই-এলাহী’ প্রবর্তনের প্রকৃত উদ্দেশ্য।