01 তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে? [কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ · 2026]
উত্তর তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা গিয়াসউদ্দিন তুঘলক।
02 ইবনে বতুতা সম্পর্কে একটি টীকা লেখ। [কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ · 2026]
উত্তর বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার প্রকৃত নাম আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ ইবনে বতুতা। তিনি আফ্রিকা মহাদেশের মরক্কোর অধিবাসী ছিলেন। তিনি ১৩০৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ ফেব্রুয়ারি আফ্রিকার তাঞ্জিয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। ২১ বছর বয়সে তিনি বিশ্বভ্রমণের বের হন এবং উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, কনস্ট্যান্টিনোপল, ভারত, বাংলা, সিংহল, মালয় দ্বীপপুঞ্জ প্রভৃতি দেশ ভ্রমণ করেন। ইবনে বতুতা ১৩৩৩ খ্রিষ্টাব্দে তুঘলক বংশের শাসক মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বকালে ভারতবর্ষে আগমন করেন এবং দিল্লির সুলতান তাকে সাদরে গ্রহণ করেন। তিনি বিখ্যাত সুফি সাধক হযরত শাহ জালালের (র) সাথে সাক্ষাৎ করেন। ইবনে বতুতার বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি ‘রিহালা-ই-ইবনে বতুতা’ নামে পরিচিত। তবে সমৃদ্ধিশালী বাংলার ভৌগোলিক পরিবেশ, জলবায়ু, বন্যা, মশামাছি, কাদামাটি দেখে তিনি একে ‘দোজখপূর্ণ নিয়ামত’ বা প্রাচুর্যে পূর্ণ জাহান্নাম বলে অভিহিত করেন। তিনি ১৩৭৭/৭৮ খ্রিষ্টাব্দে ৭৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
03 কারাচিল কোথায় অবস্থিত? [কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ · 2026]
উত্তর কারাচিল হিন্দুস্তান ও চীনের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
04 সুলতান ইলতুৎমিশকে দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় কেন? [কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ · 2026]
উত্তর তুর্কি জাতি বিপদাপন্ন, বিদ্রোহী সর্দারগণ, মালিকগণ ও ক্ষমতাশালী অভিজাতগণ সুলতানের অস্তিত্ব বিলোপ সাধনের কৃতসঙ্কল্প; সিন্ধুদেশ, রণথম্ভোর, গোয়ালিয়র ইত্যাদি অঞ্চলে বিদ্রোহীদের স্বাধীনতা ঘোষণা এমন জটিল পরিস্থিতিতে ইলতুৎমিশ ক্ষমতায় আরোহণ করেন। তখন দিল্লির সালতানাতের ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত ও গোলযোগপূর্ণ। এমতাবস্থায় ক্ষমতা গ্রহণ করে তিনিই সর্বপ্রথম ভারতে নির্ভেজাল ভারতীয় প্রশাসনের ভিত্তি রচনা করেন। দিল্লি প্রশাসনের প্রকৃত সংগঠক হিসেবে তিনি ইক্কা, প্রাদেশিক প্রশাসন, সামরিক বাহিনীর সংগঠন ও মুদ্রার প্রবর্তন করে একটি কেন্দ্রীয় প্রশাসন গড়ে তোলেন। এসব বিবিধ মৌলিক কৃতিত্বের জন্য ইলতুৎমিশকে দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
05 ‘A great political economist’ বলা হয় কোন সুলতানকে? [ঢাকা কলেজ · 2026]
উত্তর A great political economist বলা হয় সুলতান আলাউদ্দিন খলজিকে।
06 কুতুবউদ্দিন আইবেককে’ লাখ বখস’ বলা হয় কেন? [ঢাকা কলেজ · 2026]
উত্তর লাখ বখশ বলতে সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেককে বোঝানো হয়। কুতুবউদ্দিন আইবেকের চরিত্রে ছিল বদান্যতা ও কঠোরতার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। তিনি প্রতিদিন লক্ষ টাকা দান করতেন বিধায় তাকে লাখ বথশ বলা হয়। বদান্যতায় কুতুবউদ্দিনের নাম কিংবদন্তির পর্যায়ভুক্ত ছিল এবং এক্ষেত্রে তিনি হাতেম তাঈ-এর সাথে তুলনীয় ছিলেন। অকাতরে অজস্র টাকা দান করতেন বলে তিনি ‘লাখ বখশ’ (লক্ষ টাকা দানকারী) উপাধি লাভ করেন।
07 মালিক কাফুর কে ছিলেন? [ঢাকা কলেজ · 2026]
উত্তর মালিক কাফুর ছিলেন সুলতান আলাউদ্দিন খলজির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি।
08 সুলতান রাজিয়া সম্পর্কে লেখ। [ঢাকা কলেজ · 2026]
উত্তর সুলতান রাজিয়া ছিলেন দিল্লির সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা সুলতান ইলতুৎমিশের সুযোগ্য কন্যা এবং ভারতের প্রথম নারী শাসক। সুলতান রাজিয়াকে সিংহাসনের উত্তরাধিকার নির্বাচন করে সুলতান ইলতুৎমিশ একটি যুগোত্তীর্ণ, দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি একটি বিশৃঙ্খল ও গোলযোগপূর্ণ শাসনব্যবস্থা লাভ করেছিলেন। কারণ, তুর্কি আমিরেরা উত্তরাধিকারিত্ব অস্বীকার করে তাদের মনোনীত প্রার্থী রুকনউদ্দিন ফিরোজকে সিংহাসনে বসাতে উদ্ধত ছিল। অবশেষে দিল্লি জনসাধারণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সুলতান রাজিয়া সিংহাসনে আরোহণ করতে সক্ষম হলেও ৪ বছর পরে বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হন।
09 দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে? [ঢাকা কলেজ · 2026]
উত্তর দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ইলতুৎমিশ।
10 আলাউদ্দিন খলজি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করতে চেয়েছিলেন কেন? [ঢাকা কলেজ · 2026]
উত্তর বিরুদ্ধবাদীদের দমন ও মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহতকরণে আশাতীত সাফল্য সুলতান আলাউদ্দিন খলজিকে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী করে তোলে। ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানীর মতে, তার সাফল্য ও উন্নতি তাকে উন্মাদগ্রস্ত করে তোলে। তিনি তার বিপুল ধনসম্পদ ও বিশাল সেনাবাহিনীর সাহায্যে আলেকজান্ডারের মতো দিগ্বিজয়ের পরিকল্পনা করেন। আলাউদ্দিনের খ্যাতি ও সাফল্যের পেছনে সেনাপতি জাফর খান, উলুগ খান, আলপ খান এবং নসরত খানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাই সুলতান ভাবেন যে, মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ধর্মমত প্রচারে তার চারজন সহযোগীর বিশেষ অবদান ছিল। কাজেই তিনিও তার চারজন সহযোগীর সহায়তায় একটি নতুন ধর্মমত প্রচারের পরিকল্পনা করেন।
11 তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে? [সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026]
উত্তর তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা গিয়াসউদ্দিন তুঘলক।
12 মাতামহীসুলভ ব্যবস্থা কী? [সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026]
উত্তর মাতামহীসুলভ ব্যবস্থা বলতে মাতামহী তথা নানির মতো আদর-যত্ন, দয়ালু ও কল্যাণময় ব্যবস্থাদি বা কর্মকাণ্ডসমূহকে বোঝায়। দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক ৭ বছর বয়সে পিতৃহারা হয়ে মাতামহী গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের আদর্শে লালিত হন। তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করে দয়ালু শাসক হিসেবে গরিব অসহায় মেয়েদের বিবাহ দেওয়ার জন্য বিবাহ দপ্তর, বেকারদের চাকরির জন্য চাকরি দপ্তর স্থাপন করে। তাছাড়া গরিব লাশের দাফন সরকারি খরচে করার ব্যবস্থা করেন। তার এ মহানুভব ব্যবস্থার দরুন তার গৃহীত ব্যবস্থাবলিকে বলা হয় মাতামহীসুলভ ব্যবস্থা।
13 দিল্লির সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কে? [সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026]
উত্তর দিল্লির সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আইবেক।
14 বন্দেগানে চেহেলাগান’ বলতে কী বোঝ? [সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026]
উত্তর ভারতে তুর্কি সালতানাতের প্রথমদিকের কয়েকজন শাসক দাস ছিলেন তাই অনেকে এ সময়কালকে দাস শাসনামল বলে থাকেন। সুলতান ইলতুৎমিশ ব্যক্তিগত জীবনে প্রথমদিকে একজন দাস ছিলেন। তাই দাসদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য তিনি বিজ্ঞ ও প্রভাবশালী ৪০ জন দাস নিয়ে ‘বন্দেগান-ই-চেহেলগান’ বা চল্লিশচক্র গঠন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে এ চল্লিশচক্র খুবই প্রভাবশালী হয়ে ওঠে এবং তারা শাসকের উত্থান-পতনের নিয়ামক শক্তিতে পরিণত হয়। সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন চল্লিশচক্রের কুকীর্তি উপলব্ধি করে তাদের ক্ষমতা খর্ব করেন।
15 কুতুব মিনারের নামকরণ কার নামানুসারে করা হয়? [আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ, নরসিংদী · 2026]
উত্তর কুতুব মিনারের নামকরণ কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকীর নামক দরবেশের নামানুসারে করা হয়।
16 চল্লিশচক্র দমনে বলবনের গৃহীত পদক্ষেপ ব্যাখ্যা কর। [আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ, নরসিংদী · 2026]
উত্তর সুলতান ইলতুৎমিশ ৪০ জন দাস নিয়ে একটি চক্র গঠন করে, যা ইতিহাসে চল্লিশচক্র নামে পরিচিত। সুলতান ইলতুৎমিশের মৃত্যুর পর এ চল্লিশচক্র অনেক প্রভাবশালী হয়ে উঠে এবং প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে উত্থান-পতনে ভূমিকা রাখে। সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন এই চল্লিশ চক্রের ক্ষমতা খর্ব করেন। তিনি চল্লিশচক্রের সদস্যদের বিশেষ সুবিধা বাতিল করেন এবং অবাধ মেলামেশা, রাজদরবারে হাসি-ঠাট্টার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। জনগণের মন থেকে চল্লিশচক্র গোষ্ঠীর প্রভাব দূর করার জন্য তিনি অতি সামান্য অপরাধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করেন। এমনকি তাদের জায়গিরদারিও বাতিল করেন। এভাবে গিয়াসউদ্দিন বলবন চল্লিশ চক্রের ক্ষমতা খর্ব করেন।
17 কারাচিল কোথায় অবস্থিত? [আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ, নরসিংদী · 2026]
উত্তর কারাচিল হিন্দুস্তান ও চীনের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
18 মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজধানী স্থানান্তরের পরিকল্পনাটি ব্যাখ্যা কর। [আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ, নরসিংদী · 2026]
উত্তর সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক সিংহাসনে আরোহণ করেই দেবগিরিকে দৌলতাবাদ নাম দিয়ে সেখানে রাজধানী স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। দৌলতাবাদে রাজধানী স্থানান্তরের প্রধান কারণটি হলো – দাক্ষিণাত্য ছিল হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। সুলতান এ এলাকায় মুসলিম সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিস্তৃত করে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের উন্নতি সাধন করতে চেয়েছিলেন এবং দৌলতাবাদকে ইসলামি সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সেখানে রাজধানী স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন।
19 সুলতানী আমলের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? [আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা · 2026]
উত্তর সুলতানি আমলের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আইবেক।
20 সুলতান রাজিয়ার পরিচয় দাও। [আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা · 2026]
উত্তর সুলতান রাজিয়া ছিলেন সুলতান ইলতুৎমিশের কন্যা।
সুলতান ইলতুৎমিশের পুত্রদের কেউই সুলতান পদের যোগ্য ছিলেন না। এজন্য সুলতান তার কন্যা রাজিয়াকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন। কিন্তু তুর্কি আমিরদের এটা পছন্দ ছিল না। তাই তারা ইলতুৎমিশের পুত্র ফিরোজকে সিংহাসনে বসায়। কিন্তু দিল্লির অধিবাসীদের সমর্থনে রাজিয়া ১২৩৬ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসন দখল করে ১২৪০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত শাসনকার্য পরিচালনা করেন। তিনি বাহরামের সৈন্যবাহিনীর কাছে পরাজিত হয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনৈক হিন্দু আততায়ীর হাতে ১২৪০ খ্রিষ্টাব্দে নিহত হন। 21 সুলতানী আমলের রাজধানী কোথায় ছিল?
[আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা · 2026] উত্তর
সলতানি আমলের রাজধানী ছিল দিল্লি। 22 মালিক কাফুর ইতিহাসে এত বিখ্যাত কেন?
[আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা · 2026] উত্তর
সুলতান আলাউদ্দিন খলজির সময় (১২৯৬-১৩১৬ খ্রি.) দাক্ষিণাত্য বিজয়ের জন্য মালিক কাফুর বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন। মালিক কাফুর ছিলেন একজন খোজা হিন্দু। সুলতান আলাউদ্দিন খলজির গুজরাট অভিযানের সময় (১২৯৭ খ্রি.) তিনি বন্দি হয়ে দিল্লিতে আসেন। পরবর্তীসময়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের যোগ্যতার কারণে সুলতানের প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। সুলতান ভারতবর্ষের দক্ষিণাঞ্চলে অভিযান পরিচালনার জন্য মালিক কাফুরকে পাঠান। ১৩০৬ খ্রিষ্টাব্দে দেবগিরির রাজা রামচন্দ্রকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে মালিক কাফুর দাক্ষিণাত্যে অভিযান শুরু করেন। পরে তিনি বরঙ্গল, দ্বারসমুদ্র, হোয়াসল, পাণ্ড্যরাজ্য প্রভৃতি জয় করে পুরো দাক্ষিণাত্যে সুলতান আলাউদ্দিন খলজির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। দাক্ষিণাত্যে সফল অভিযানের কারণে মালিক কাফুর ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেন। 23
মেওয়াটি দস্যুদের দমন করেন কে? [সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ, টঙ্গী, গাজীপুর · 2026]
উত্তর মেওয়াটি দস্যুদের দমন করেন সুলতান বলবন। 24
ইলতুৎমিশ দাস রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন- ব্যাখ্যা করো। [সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ, টঙ্গী, গাজীপুর · 2026]
উত্তর ইলতুৎমিশ দাস রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন কারণ, তিনি এক সংকটময় মুহূর্তে সুলতান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে দিল্লি সালতানাতকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। দিল্লি সালতানাতের একটি উল্লেখযোগ্য সময় দাসরা শাসন করেন। এদের মধ্যে ইলতুৎমিশ ছিলেন শ্রেষ্ঠ। সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের মৃত্যুর (১২১০ খ্রি.) পর দিল্লি সালতানাতের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়। তার পরবর্তী সুলতান আরাম শাহের অযোগ্যতার কারণে দিল্লি সালতানাত গভীর সংকটের মুখে পড়ে। আরাম শাহের দুর্বল শাসনের সুযোগে বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহ দানা বেঁধে ওঠে। এ সময় ক্ষমতা গ্রহণ করে (১২১১ খ্রি.) সুলতান ইলতুৎমিশ এসব বিদ্রোহ দমন করে দিল্লি সালতানাতের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করেন।
25 তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
[সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ, টঙ্গী, গাজীপুর · 2026] উত্তর তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলক।
26 Blood & Iron Policy বলতে কী বোঝ?
[সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ, টঙ্গী, গাজীপুর · 2026] উত্তর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন এবং মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের গৃহীত নিষ্ঠুর ও কঠোর পদক্ষেপই রক্তপাত ও কঠোর নীতি (Blood and Iron policy) নামে পরিচিত।
সিংহাসনে আরোহণ করেই বলবন নানা ধরনের সমস্যা সম্মুখীন হন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল আমির-ওমরাহ ও অভিজাত সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান ঔদ্ধত্য, দ্বন্দ্ব-কলহ ও ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপ, দিল্লির সন্নিকটস্থ মেওয়াটি দস্যুদের উপদ্রব, উপর্যুপরি মোজঙ্গল আক্রমণ প্রভৃতি। এসব সমস্যা সাম্রাজ্যের ভিতকে হুমকির সম্মুখীন করে তোলে। তাই নিজের ক্ষমতা সুসংহত করে সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি গুপ্তচর প্রথা চালু, বিচার ব্যবস্থার পুনর্গঠন, মোজঙ্গল নীতি প্রভৃতি বিষয়ে কঠোর ও নিষ্ঠুর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এগুলোই বলবনের ‘রক্তপাত ও কঠোর নীতি’ হিসেবে স্বীকৃত। 27
দিল্লি সালতানাতের একমাত্র নারী শাসক কে ছিলেন? [ঢাকা সিটি কলেজ · 2026] উত্তর
দিল্লি সালতানাতের একমাত্র নারী শাসক ছিলেন সুলতান রাজিয়া। 28
কার নামে কুতুব মিনারের নামকরণ করা হয়? কুতুব মিনার সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো। [ঢাকা সিটি কলেজ · 2026] উত্তর
মহান সাধক কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকীর নামানুসারে কুতুব মিনারের নামকরণ হয়। দিল্লি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আইবেক ছিলেন শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি বেশ অনুরাগী। স্থাপত্য শিল্পের প্রতি তার বিশেষ আকর্ষণ ছিল। তাই তিনি ১১৯৯ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লিতে একটি বিজয় স্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকী নামে একজন মহান সাধক সুলতানের সংস্পর্শে আসেন। তাকে সুলতান খুবই পছন্দ এবং শ্রদ্ধা করতেন। তাই তার নামানুসারে এ বিজয় স্তম্ভের নামকরণ করা হয় কুতুব মিনার।
29 বন্দেগান-ই-চেহেলগানের (চল্লিশ চক্রের) প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন? [ঢাকা সিটি কলেজ · 2026]
উত্তর বন্দেগান-ই-চেহেলগানের (চল্লিশ চক্র) প্রতিষ্ঠাতা সুলতান ইলতুৎমিশ।
30 কুতুবউদ্দিন আইবেককে লাখ বকস বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো। [ঢাকা সিটি কলেজ · 2026]
উত্তর সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক মানুষকে অজস্র টাকা দান করতেন বলে তাকে ‘লাখ বক্স’ বা লক্ষ টাকা দানকারী বলা হয়।
সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক ছিলেন এক মহানুভব শাসক। তার বদান্যতা কিংবদন্তির পর্যায়ভুক্ত ছিল। বদান্যতায় তিনি ছিলেন দ্বিতীয় হাতেম। আর দানশীলতায় তিনি ছিলেন অনন্যসাধারণ। তিনি লাখ লাখ টাকা মানুষের মাঝে দান করতেন। এজন্যই তাকে লাখ বক্স বলা হয়। 31 লোদি বংশের সর্বশেষ শাসক কে ছিলেন?
[ঢাকা সিটি কলেজ · 2026] উত্তর
লোদি বংশের সর্বশেষ শাসক ছিলেন ইব্রাহিম লোদি। 32 সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন কীভাবে অভিজাত তুর্কিদের নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন?
[ঢাকা সিটি কলেজ · 2026] উত্তর
অভিজাত তুর্কিদের কঠোর শাস্তি প্রদান ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করার মাধ্যমে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন অভিজাত তুর্কিদের নিয়ন্ত্রণ করেন। সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের শাসনামলে তুর্কি অভিজাতরা প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠে। তাই তাদের অভিজাতদের জন্য নিম্নপদস্থ তুর্কিদের উচ্চপদে নিয়োগ করে অভিজাতদের সমপর্যায়ভুক্ত করেন এবং অনেককে চাকরিচ্যুত করেন। সামান্য অপরাধে তিনি তাদের কঠোর শাস্তি দিয়ে জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করেন। এছাড়া তাদেরকে প্রদানকৃত বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও জায়গির বাতিল করে তাদের দুর্বল ও ক্ষমতাহীন করে দেন। এভাবে সুলতান তাদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। 33
‘রুপাইয়া’ নামক মুদ্রা কে চালু করেন? [সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026]
উত্তর ‘রূপাইয়া’ নামক মুদ্রা চালু করেন সুলতান ইলতুৎমিশ। 34
কুতুব মিনার সম্পর্কে টীকা লেখো। [সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026]
উত্তর কুতুবউদ্দিন আইবেকের স্থাপত্য প্রীতির অপূর্ব নিদর্শন হলো দিল্লির কুতুব মিনার। ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে রাজ্য বিজয়ের স্মারকস্বরূপ ও ইসলামের বিজয় গাঁথা বিশ্বদরবারে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে কুতুবউদ্দিন আইবেক কুতুব মিনারের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সুলতান ইলতুৎমিশ এর নির্মাণ কাজ শেষ করেন। মিনারটি ৪ তলাবিশিষ্ট এবং ৪৭ ফুট ব্যাসের। উচ্চতায় মিনারটি ২৩৮ ফুট। এর স্থাপত্যশৈলী এত মনোরম ও মুগ্ধকর যে, দূর থেকে দেখলে এটিকে বাতিঘরের মতো মনে হয়। এ স্থাপত্যশিল্পে মুসলিম স্থাপত্যের স্বতন্ত্র ছাপ ফুটে উঠেছে।
35 আড়াই দিনকা ঝোপড়া মসজিদ কোথায় নির্মিত হয়?
[সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026] উত্তর ‘আড়াই দিনকা ঝোপড়া’ মসজিদ ভারতের আজমিরে নির্মিত হয়।
36 দিল্লির প্রথম নারী সুলতান হিসেবে সুলতান রাজিয়ার মূল্যায়ন করো।
[সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026] উত্তর সুলতানা রাজিয়া ছিলেন দিল্লির সালতানাতের ইতিহাসে প্রথম নারী শাসক এবং সুলতান ইলতুতমিশের অত্যন্ত যোগ্য ও দূরদর্শী উত্তরাধিকারী।
১২৩৬ সালে ক্ষমতায় আরোহণ করে তিনি অসামান্য প্রশাসনিক দক্ষতা ও রণকৌশল প্রদর্শন করেন। তিনি পর্দার অন্তরাল থেকে বেরিয়ে এসে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতেন এবং রাজ্যের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেন। তবে তৎকালীন রক্ষণশীল তুর্কি অভিজাতদের (চল্লিশ চক্র) ষড়যন্ত্র এবং নারী নেতৃত্বের প্রতি তাদের অনীহার কারণে তার শাসনকাল দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তা সত্ত্বেও মধ্যযুগের ইতিহাসে একজন সাহসী ও স্বাধীনচেতা নারী শাসক হিসেবে তার মূল্যায়ন অনস্বীকার্য। 37
সোমনাথ মন্দির কোথায় অবস্থিত? [সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026] উত্তর
সোমনাথ মন্দির গুজরাটের কাথিওয়াড়ে অবস্থিত। 38
মালিক কাফুর কে ছিলেন? ব্যাখ্যা করো। [সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026] উত্তর
মালিক কাফুর ছিলেন সুলতান আলাউদ্দিন খলজির দাক্ষিণাত্য অভিযানের সেনাপতি। সুলতান আলাউদ্দিন খলজি তাকে এক হাজার দিনারের বিনিময়ে ক্রয় করেন বলে তাকে ‘আলফি’ বা ‘হাজার দিনারি’ বলা হয়। তিনি ১৩০৬ খ্রিষ্টাব্দে দেবগিরির রাজা রামচন্দ্রকে পরাজয়ের মাধ্যমে দাক্ষিণাত্যে অভিযান শুরু করেন। পরে তিনি বরঙ্গল, দ্বারসমুদ্র, হোয়াসল, পান্ডরাজ্য প্রভৃতি বিজয় করে দাক্ষিণাত্যে সুলতান আলাউদ্দিন খলজির শাসনব্যবস্থা কায়েম করেন।
39 গিয়াসউদ্দিন বলবনের প্রকৃত নাম কী? [কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ · 2025]
উত্তর সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের প্রকৃত নাম হলো বাহা উদ্দিন।
40 সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন কীভাবে অভিজাত তুর্কিদের নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন? [কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ · 2025]
উত্তর সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন নিম্নলিখিত কৌশলে অভিজাত তুর্কিদের নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন:
১. “চল্লিশ চক্র” বা “বন্দেগানি-ই-চাহালগানি” ভেঙে দেওয়া: তিনি ইলতুৎমিশের তৈরি এই শক্তিশালী তুর্কি অভিজাত গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রতিপক্ষ মনে করতেন। তাই তিনি এই চক্রের সদস্যদের এক এক করে হত্যা, নির্বাসন বা পদচ্যুত করে তাদের ক্ষমতা ও প্রভাব সম্পূর্ণরূপে খর্ব করেন। ২. গোপচর ব্যবস্থা: তিনি একটি শক্তিশালী গুপ্তচর বিভাগ (বারি-দ) প্রতিষ্ঠা করেন। রাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে অভিজাতদের ষড়যন্ত্র বা কার্যকলাপের খবর দ্রুত তাঁর কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে তিনি অভিজাতদের গতিবিধি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। ৩. স্বতন্ত্র রাজকীয় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা: তিনি “নিয়াবত-ই-খুদাই” (অর্থাৎ, পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি) এবং “জিল্লে ইলাহি” (অর্থাৎ, ঈশ্বরের ছায়া) উপাধি ধারণ করে প্রমাণ করেন যে তাঁর ক্ষমতা সরাসরি সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত। এর মাধ্যমে তিনি অভিজাতদের ওপর নিজের কর্তৃত্বকে প্রশ্নাতীত করে তোলেন।
৪. কঠোর শাস্তি বিধান: তিনি তুর্কি অভিজাতদের অপরাধের জন্য সামান্য দয়া না দেখিয়ে অত্যন্ত কঠোর শাস্তি দিতেন, যা অন্যদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করে এবং তাদের বিদ্রোহের সাহস কমিয়ে দেয়। 41
কারাচিল কোথায় অবস্থিত? [কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ · 2025] উত্তর
পাঠ্যসূচি বহির্ভূত 42
দৌলতাবাদে রাজধানী স্থানান্তরের প্রধান কারণটি ব্যাখ্যা কর। [কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ · 2025] উত্তর
পাঠ্যসূচি বহির্ভূত 43
ভারতের মুসলিম শাসনের ইতিহাসে প্রথম মহিলা সুলতান কে? [কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ · 2025] উত্তর
পাঠ্যসূচি বহির্ভূত 44
সুলতান আলাউদ্দিন খলজির দাক্ষিণাত্য নীতি বলতে কী বোঝায়? [কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ · 2025] উত্তর
পাঠ্যসূচি বহির্ভূত 45
‘আইবেক’ শব্দের অর্থ কী ? [Combined · 2019] উত্তর
আইবেক শব্দের অর্থ চন্দ্রদেবতা। 46
তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধের গুরুত্ব বর্ণনা করো। [Combined · 2019] উত্তর
তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে মুসলিম বাহিনী অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। তারা একে একে হান্সি, সামান, খারাম প্রভৃতি দুর্গ দখল করে। বার্ষিক করদানের শর্তে পৃথ্বিরাজের এক পুত্রের শাসনাধীনে রেখে দেওয়া হয়। এরপর মুহাম্মদ ঘুরী কুতুবউদ্দিন আইবকের হাতে ভারতবর্ষের শাসনের ক্ষমতা অর্পণ করে গজনিতে প্রত্যাবর্তন করেন। ভি. ডি. মহাজনের মতে, ভারতবর্ষের ইতিহাসে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ একটি মাইলফলক। ভারতীয় রাষ্ট্রগুলোর বিপক্ষে মুহাম্মদ ঘুরীর চূড়ান্ত সফলতা সুনিশ্চিত করে। প্রফেসর কে. এ. নিজামির মতে, মুহাম্মদ ঘুরীর পদপ্রান্তে গোটা চৌহান রাজ্য লুটিয়ে পড়ে। এ. বি. এম. হাবিবুল্লাহর মতে, এ বিজয়ে গোটা চৌহান রাজ্য মুইজউদ্দিনের পদপ্রান্তে চলে আসে। 47
কোন সুলতান মেওয়াটি দস্যুদের দমন করেন ? [Combined · 2019] উত্তর
গিয়াসউদ্দিন বলবন মেওয়াটি দস্যুদের দমন করেন। 48
মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়াসউদ্দিন বলবন কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন ? [Combined · 2019] উত্তর
মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়াস উদ্দিন বলবন নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন- কর্মক্ষম সৈনিক বাছাই করে সেনানিবাসে মোতায়েন করেন।
পুরাতন দুর্গ বা সেনানিবাসগুলো সংস্কার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নতুন সেনানিবাস স্থাপন করেন। সামানা, মুলতান ও দিপালপুর সীমান্তবর্তী প্রদেশ হিসেবে ঘোষিত হয় এবং দক্ষ ও সুযোগ্য শাসনকর্তার ওপর এসব প্রদেশের শাসনভার ন্যস্ত করেন। 49
বন্দেগান-ই-চেহেলগান’ কে গঠন করেন ? [Combined · 2019]
উত্তর বন্দেগান-ই-চেহেলগান’ গঠন করেন সুলতান ইলতুৎমিশ’। 50
ইলতুৎমিশ দাস রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন — ব্যাখ্যা করো। [Combined · 2019]
উত্তর মানবপ্রতিষ্ঠিত মুসলিম শাসনের এক সঙ্কটময় মুহূর্তে ইলতুৎমিশ ক্ষমতায় আরোহণ করেন। তখন দিল্লি সালতানাতের ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত। এমন দ্বন্দ্ব, বিক্ষুব্ধ তিনি শুধু দিল্লি সালতানাতের অস্তিত্ব রক্ষা করেননি বরং একে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি ভারতে সর্বপ্রথম একটি সুপরিকল্পিত রাজধানী, একটি স্বাধীন সাম্রাজ্য, একটি বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। দিল্লির প্রশাসনের প্রকৃত সংগঠক হিসেবে তিনি প্রাদেশিক প্রশাসন, সামরিক বাহিনীর সংগঠন ও মুদ্রার প্রবর্তন করে কেন্দ্রীয় প্রশাসন গড়ে তোলেন। এসব কারণে তাকে দাস বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয়। 51
কার নামানুসারে কুতুব মিনার নামকরণ করা হয়? [Combined · 2018]
উত্তর বিখ্যাত সুফি কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকীর নামানুসারে কুতুব মিনারের নামকরণ করা হয়। 52
ক্ষমতা গ্রহণের পর ইলতুৎমিশের সমস্যা চিহ্নিত করো। [Combined · 2018]
উত্তর দিল্লি সালতানাতের শাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর সুলতান ইলতুৎমিশ অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। ১২১১ খ্রিষ্টাব্দে ইলতুৎমিশ দিল্লির সুলতান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের বিদ্রোহের সম্মুখীন হন। উচ ও মুলতানের শাসনকর্তা নাসিরউদ্দিন কুবাচা স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি ভাতিন্দা, গুহরাম, সারাসুতি প্রভৃতি এলাকা দখল করেন। গজনির শাসনকর্তা তাজউদ্দিন ইয়ালদুজ দিল্লির সার্বভৌম ক্ষমতা লাভের চেষ্টা চালায় । দিল্লির অধীনতা অস্বীকার করে আলী মর্দান খলজি বাংলায় (লাখনৌতি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এসব অভ্যন্তরীণ সমস্যার পাশাপাশি এ সময় ভারতে মোঙ্গল আক্রমণেরও আশঙ্কা দেখা দেয়।
53 ‘ভারতের তোতাপাখি’ কাকে বলা হয়?
[Combined · 2018] উত্তর কবি আমির খসরুকে ‘ভারতের তোতাপাখি’ বলা হয়।
54 মালিক কাফুরের খ্যাতির কারণ কী? ব্যাখ্যা করো।
[Combined · 2018] উত্তর সুলতান আলাউদ্দিন খলজির সময় (১২৯৬-১৩১৬ খ্রি.) দাক্ষিণাত্য বিজয়ের জন্য মালিক কাফুর বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন।
মালিক কাফুর ছিলেন একজন খোজা হিন্দু। সুলতান আলাউদ্দিন খলজির গুজরাট অভিযানের সময় (১২৯৭ খ্রি.) তিনি বন্দি হয়ে দিল্লিতে আসেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের যোগ্যতার কারণে সুলতানের প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। সুলতান ভারতবর্ষের দক্ষিণাঞ্চলে অভিযান পরিচালনার জন্য মালিক কাফুরকে পাঠান। ১৩০৬ খ্রিষ্টাব্দে দেবগিরির রাজা রামচন্দ্রকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে মালিক কাফুর দাক্ষিণাত্যে অভিযান শুরু করেন। পরে তিনি বরঙ্গল, দ্বারসমুদ্র, হোয়াসল, পাণ্ড্যরাজ্য প্রভৃতি জয় করে পুরো দাক্ষিণাত্যে সুলতান আলাউদ্দিন খলজির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। দাক্ষিণাত্যে সফল অভিযানের কারণে মালিক কাফুর ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেন। 55
বন্দেগান-ই-চেহেলগান’ কে গঠন করেন ? [Dhaka · 2017] উত্তর
বন্দেগান-ই-চেহেলগান’ গঠন করেন সুলতান ইলতুৎমিশ’। 56
ইলতুৎমিশ দাস রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন — ব্যাখ্যা করো। [Dhaka · 2017] উত্তর
মানবপ্রতিষ্ঠিত মুসলিম শাসনের এক সঙ্কটময় মুহূর্তে ইলতুৎমিশ ক্ষমতায় আরোহণ করেন। তখন দিল্লি সালতানাতের ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত। এমন দ্বন্দ্ব, বিক্ষুব্ধ তিনি শুধু দিল্লি সালতানাতের অস্তিত্ব রক্ষা করেননি বরং একে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি ভারতে সর্বপ্রথম একটি সুপরিকল্পিত রাজধানী, একটি স্বাধীন সাম্রাজ্য, একটি বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। দিল্লির প্রশাসনের প্রকৃত সংগঠক হিসেবে তিনি প্রাদেশিক প্রশাসন, সামরিক বাহিনীর সংগঠন ও মুদ্রার প্রবর্তন করে কেন্দ্রীয় প্রশাসন গড়ে তোলেন। এসব কারণে তাকে দাস বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয়। 57
তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে? [Dhaka · 2017] উত্তর
তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা গিয়াসউদ্দিন তুঘলক (শাসনকাল ১৩২০- ১৩২৫ খ্রিষ্টাব্দ)। 58
বলবনের “রক্তপাত ও কঠোরনীতি” ব্যাখ্যা করো। [Dhaka · 2017] উত্তর
রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন এবং মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের গৃহীত নিষ্ঠুর ও কঠোর পদক্ষেপই রক্তপাত ও কঠোর নীতি (Blood and Iron policy) নামে পরিচিত। সিংহাসনে আরোহণ করেই বলবন নানা ধরনের সমস্যা সম্মুখীন হন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল আমির-ওমরাহ ও অভিজাত সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান ঔদ্ধত্য, দ্বন্দ্ব-কলহ ও ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপ, দিল্লির সন্নিকটস্থ মেওয়াটি দস্যুদের উপদ্রব, উপর্যুপরি মোজঙ্গল আক্রমণ প্রভৃতি। এসব সমস্যা সাম্রাজ্যের ভিতকে হুমকির সম্মুখীন করে তোলে। তাই নিজের ক্ষমতা সুসংহত করে সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি গুপ্তচর প্রথা চালু, বিচার ব্যবস্থার পুনর্গঠন, মোজঙ্গল নীতি প্রভৃতি বিষয়ে কঠোর ও নিষ্ঠুর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এগুলোই বলবনের ‘রক্তপাত ও কঠোর নীতি’ হিসেবে স্বীকৃত।
59 তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে? [Comilla · 2017]
উত্তর তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা হলেন সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলক।
60 তৈমুর লঙ এর ভারত আক্রমণের ফলাফল ব্যাখ্যা করো। [Comilla · 2017]
উত্তর তৈমুর লঙের ভারত আক্রমণের ফলে দিল্লি সালতানাত পতনের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে যায়।
দিল্লি সালতানাতের দুর্বলতার সুযোগে মধ্য এশিয়ার দুর্ধর্ষ সমরনেতা আমির তৈমুর লঙ ভারত আক্রমণ করেন (১৩৯৮-৯৯ খ্রি.)। তার এ আক্রমণের ফলে দিল্লি সালতানাতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। এ সুযোগে সালতানাতের বিভিন্ন অঞ্চল কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং সালতানাতের পতনের বিষয়টি শুধু ব্যাপারে পরিণত হয়। 61 মালিক কাফুর কে ছিলেন?
[Comilla · 2017] উত্তর
মালিক কাফুর ছিলেন দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খলজির দাক্ষিণাত্য অভিযানের সেনাপতি। 62 দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধির কারণ কী? ব্যাখ্যা করো।
[Comilla · 2017] উত্তর
দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধির প্রধান কারণ ছিল বিত্তশালী কৃষকদের বিদ্রোহ দমন করা। সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক কর্তৃক দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ছিল হিন্দু বিদ্রোহ দমন এবং জমিদারদের দর্পচূর্ণ করা। আবার অনেকেই মনে করেন রাজধানী স্থানান্তর, খোরাসান ও কারাচিল অভিযানের ব্যর্থতা এবং প্রতীকী মুদ্রার বিফলতার কারণেই সুলতান দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধি করেন। কর বৃদ্ধির মারাত্মক পরিণতি সম্পর্কে ঐতিহাসিক বারানী বলেন যে, সুলতান দোয়াবে দশ হতে বিশগুণ কর বৃদ্ধি করেন। 63
সুলতান মাহমুদের পিতার নাম কী? উত্তর
সুলতান মাহমুদের পিতার নাম সুবক্তগীন। 64 কুতুবমিনার নামকরণের কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর কুতব মিনার ছিল কুতুবউদ্দিন আইবেকের নির্মিত সর্বশ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি। ১১৯৯ খ্রিস্টাব্দে রাজ্য বিজয়ের স্মারক এবং ইসলামের বিজয়গাঁথা বিশ্ব দরবারে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রখ্যাত সুফি-সাধক কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকীর নামানুসারে তিনি দিল্লিতে এ মিনারটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন এবং তা সম্পন্ন করেন পরবর্তী সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ। এটি ছিল তৎকালীন বিশ্বের সর্বোচ্চ মিনার। এটি আজানের জন্য ব্যবহৃত হতো। মিনারটি সাতটি স্তরে বিভক্ত ছিল। উপরের দুটি স্তর ভেঙে গিয়েছে। তবে অক্ষত অবস্থায় এর উচ্চতা ছিল ৩০০ ফুট, বর্তমানে ২২০ ফুট। সর্বোচ্চ স্তরে গমনের জন্য ইমারতের ভিতরে ৩৭৯টি ধাপবিশিষ্ট একটি ঘোরানো সিঁড়ি আছে। মুসলিম ও হিন্দু স্থাপত্যরীতির সংমিশ্রণে এটি তৈরি। প্রতি স্তরে ঝোলানো বারান্দা আছে। এর প্রাচীরের গায়ে কুরআনের আয়াত খোদাই করা আছে।
65 আইবক শব্দের অর্থ কী? উত্তর
আইবক শব্দের অর্থ চন্দ্রদেবতা। 66
রক্তপাত ও কঠোরনীতি কেন গ্রহণ করা হয়েছিল? উত্তর অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন এবং মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করার প্রয়োজনে বলবন Blood and Iron Policy অবলম্বন করেন। বলবন সাম্রাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান সকল প্রকার অরাজকতা ও বিদ্রোহ দমনে তৎপর ছিলেন। এভাবে Blood and Iron Policy প্রয়োগ করে বলবন বিচ্ছিন্ন সাম্রাজ্যের সর্বত্র শান্তি ও সমৃদ্ধি আনয়ন করেন। বিরাজমান সমস্যা মোকাবিলার জন্য Blood and Iron Policy ছিল উপযুক্ত নীতি।
67 ভারতে স্বাধীন মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কে?
উত্তর ভারতে স্বাধীন মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কুতুবউদ্দিন আইবেক। 68
কুতুবউদ্দিন আইবেক প্রতিষ্ঠিত বংশকে দাস বংশ বলা হয় কেন? উত্তর
১২০৬ খ্রিষ্টাব্দে কুতুবউদ্দিন আইবেকের সিংহাসনে আরোহণের মধ্য দিয়ে ভারতে স্বাধীন মুসলিম শাসন ও একটি নতুন রাজবংশের সূচনা হয়। কুতুবউদ্দিন আইবেক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এর রাজবংশই ইতিহাসে ‘দাস বংশ’ নামে পরিচিত। কুতুবউদ্দিন আইবেক তার প্রথম জীবনে ক্রীতদাস ছিলেন বলে তার এ বংশের নাম দাসবংশ হয়েছে বলে মনে করেন অনেক ইতিহাসবিদ। তবে অনেকে বলেন, এ বংশের ১১ জন শাসকের মধ্যে প্রধান তিন জন শাসক প্রথম জীবনে দাস ছিলেন বিধায় এ বংশের নাম ‘দাস বংশ’ বলা হয়। 69 কারাচিল কোথায় অবস্থিত?
উত্তর কারাচিল হিন্দুস্তান ও চীনের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
70 দৌলতাবাদে রাজধানী স্থানান্তরের প্রধান কারণটি ব্যাখ্যা কর। উত্তর
সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক সিংহাসনে আরোহণ করেই দেবগিরিকে দৌলতাবাদ নাম দিয়ে সেখানে রাজধানী স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। দৌলতাবাদে রাজধানী স্থানান্তরের প্রধান কারণটি হলো- দাক্ষিণাত্য ছিল হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। সুলতান এ এলাকায় মুসলিম সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিস্তৃত করে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের উন্নতি সাধন করতে চেয়েছিলেন এবং দৌলতাবাদকে ইসলামি সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সেখানে রাজধানী স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। 71
ফিরোজ শাহ তুঘলক কত খ্রিষ্টাব্দে সালতানাতে অধিষ্ঠিত হন? উত্তর ফিরোজ শাহ তুঘলক ১৩৫১ খ্রিস্টাব্দে সালতানাতে অধিষ্ঠিত হন।
72 ফিরোজ শাহ ছিলেন ক্রীতদাসদের প্রতি অনুরক্ত- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর সিংহাসনে আরোহণের পর ফিরোজ শাহ একটি বিরাট ক্রীতদাস বিভাগও গড়ে তোলেন। ফিরোজ শাহের আমলে ক্রীতদাসের সংখ্যা ছিল ১,৮০,০০০, যার মধ্যে ৪০,০০০ ক্রীতদাস সুলতানের প্রাসাদে অবস্থান করত। সুলতান ফিরোজ শাহ ক্রীতদাসদের বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ-সুবিধার জন্য ‘দেওয়ান-ই-বন্দেগান’ নামক একটি নতুন বিভাগ স্থাপন করেন। সুলতান ক্রীতদাসদেরকে পুত্রবৎ পালন করতেন এবং উপযুক্ত শিক্ষাপদে নিযুক্ত করতেন। যুদ্ধবন্দীদের হত্যা করা থেকে রক্ষা এবং ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যেই তিনি ক্রীতদাসদের প্রতি এ উদার নীতি গ্রহণ করেন। এসব কাজ থেকে পরিলক্ষিত হয়, ফিরোজ শাহ ছিলেন ক্রীতদাসদের প্রতি অনুরক্ত। 73
আল বিরুনি কে ছিলেন? উত্তর
আল বিরুনি ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ জ্ঞানীদের মধ্যে এক নীর্ষস্থানীয় মহাপন্ডিত। 74 সুলতান রাজিয়ার রাজ্যশাসন পদ্ধতির বর্ণনা দাও।
উত্তর সুলতান রাজিয়া ছিলেন দিল্লি সালতানাতের সর্বপ্রথম মহিলা সুলতান। নিজ যোগ্যতা ও দক্ষতা বুলে পিতা মূলতান ইলতুৎমিশ কর্তৃক দিল্লি সালতানাতের উত্তরাধিকারিত্ব অর্জন করেছিলেন। তার রাজত্বকালে শাসনপদ্ধতির সুষ্ঠু প্রয়োগের সুযোগ পাননি তিনি। কেননা নারী চরিত্রের দরুন উত্তরাধিকার সূত্রে তাকে লাভ করতে হয়েছিল একটি বিশৃঙ্খল ও গোলযোগপূর্ণ প্রশাসন। তার শাসনকালে উল্লেখ করর মতো ঘটনা হলো বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিদ্রোহ ও তার মোকাবিলা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপিত হলে, তিনি সাফল্যের সাথে তা মোকাবিলা করতে সমর্থ্য হন। নিজের বুদ্ধিমত্তা, কূটকৌশল ও সাহসিকতার দ্বারা অল্প সময়েই তিনি ন্যায়বিচার, দক্ষ প্রশাসক, সুনিপুণ সামরিক ব্যক্তিত্ব ও বিদ্যোৎসাহী শাসক হিসেবে পরিচিত লাভ করেন।
75 দিল্লি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন? উত্তর
দিল্লি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কুতুবউদ্দিন আইবেক। 76
বলবন কীভাবে চল্লিশ চক্রের বিদ্রোহ দমন করেছিলেন? উত্তর সুলতান ইলতুৎমিশ ৪০ জন দাস নিয়ে একটি চক্র গঠন করে যা ইতিহাসে চল্লিশ চক্র নাঙে পরিচিত। সুলতান ইলতুৎমিশের মৃত্যুর পর এ চল্লিশচক্র অনেক প্রভারআালী হয়ে উঠে এবং প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে উত্থান-পতনে ভূক্তি রাখে। সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন এই চল্লিশ চক্রের ক্ষমতা খর্ব করেন। তিনি চল্লিশচক্রের সদস্যদের বিশেষ সুবিধা বাতিল করেন এবং অবাধ মেলামেশা, রাজদরবারে হাসি-ঠাট্টার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। জনগণের মন থেকে চল্লিশচক্র গোষ্ঠীর প্রভাব দূর করার জন্য তিনি অতি সামান্য অপরাধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করেন। এমনকি তাদের জায়গিরদারিও বাতিল করেন। এভাবে গিয়াসউদ্দিন বলবন চল্লিশ চক্রের ক্ষমতা খর্ব করেন।
77 সালতানাতের শেষ সুলতান কে ছিলেন?
উত্তর সালতানাতের শেষ সুলতান ছিলেন ইব্রাহিম লোদী। 78
মালিক কাফুর কে ছিলেন? উত্তর
মালিক কাফুর ছিলেন আলাউদ্দিন খলজির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও নির্ভীক সেনাপতি। ১৩০৬ সালে সুলতান আলাউদ্দিন খলজি মালিক কাফুরকে প্রধান এবং খাজা হাজীকে সহকারী করে দেবগিরি অভিযানের বাহিনী গঠন করেন। মালিক কাফুর গুজরাটের ভিতর দিয়ে দেবগিরি অভিমুখে রওয়ানা দেন। প্রায় বিনা যুদ্ধে দেবগিরি দখল করে মালিক কাফুর প্রচুর ধনসম্পদ অর্জন করেন। দেবগিরি অভিযানের ফলে মালিক কাফুর সুলতানের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন। আর সুলতান বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের মধ্য দিয়ে দাক্ষিণাত্যের হিন্দু শাসকদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। 79 পানিপথের ১ম যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
উত্তর পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ১৫২৬ সালে সংঘটিত হয়।
80 রক্তপাত ও কঠোর নীতি কেন গ্রহণ করা হয়েছিল? উত্তর
অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন এবং মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করার প্রয়োজনে বলবন Blood and Iron Policy অবলম্বন করেন। বলবন সাম্রাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান সকল প্রকার অরাজকতা ও বিদ্রোহ দমনে তৎপর ছিলেন। এভাবে Blood and Iron Policy প্রয়োগ করে বলবন বিচ্ছিন্ন সাম্রাজ্যের সর্বত্র শান্তি ও সমৃদ্ধি আনয়ন করেন। বিরাজমান সমস্যা মোকাবিলার জন্য Blood and Iron Policy ছিল উপযুক্ত নীতি।
81 বার ভূঁইয়া কারা? উত্তর
সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে বাংলার যে সকল শক্তিশালী জমিদারগণ মুঘল আধিপত্য মেনে নেয়নি, তারাই বাংলার বার ভূঁইয়া। 82
জিন্দাপীর কে ছিলেন? উত্তর ধর্মভীরুতার কারণে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবকে ‘জিন্দাপীর’ বলা হয়। সম্রাট আওরঙ্গজেব একজন নিষ্ঠাবান সুন্নি মুসলিম শাসক ছিলেন।
তিনি অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। তিনি তৎকালীন সমাজের সকল অপরাধ থেকে মুক্ত ছিলেন। মদ সেবন থেকে দূরে থাকতেন। তিনি কুরআন শরীফ নকল করে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের নিকট বিক্রি করতেন। তিনি নামায আদায়ে যত্নবান ছিলেন। এমনকি যুদ্ধের ময়দানেও নামায আদায় করতেন। তার এ ধর্মভীরুতার জন্যই তাকে ‘জিন্দাপীর’ বলা হতো। 83
ফিরোজ শাহ মুহাম্মদ বিন তুঘলকের স্মৃতি রক্ষার্থে কোন শহরটির গোড়াপত্তন করেন? উত্তর ফিরোজ শাহ মুহাম্মদ বিন তুঘলকের স্মৃতি রক্ষার্থে ফাতেহাবাদ শহরটির গোড়াপত্তন করেন।
84 বলবনের মোঙ্গল নীতি কী ছিল? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর গিয়াসউদ্দিন বলবনের জানা ছিল যে তৎকালীন ভারতের উত্তর- পশ্চিম সীমান্ত পথ দিয়ে প্রাচীনকালে বিদেশিরা আক্রমণ করেছে। এসব বিবিধ বিষয় ভেবে বলবন বেশকিছু নীতি প্রণয়ন করেন, যা বলবনের মোঙ্গল নীতি নামে পরিচিত। তার গৃহীত নীতিসমূহ হলো রাজধানী শত্রু কর্তৃক দখল হওয়ার আশঙ্কায় বলবন রাজধানী ত্যাগের সিদ্ধান্ত মেনে চলেন। কর্মক্ষম ও সৈনিক বাছাই করে বিভিন্ন সেনানিবাসে মোতায়েন করেন। সামানা, মূলতান ও দিপালপুর সীমান্তবর্তী প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং সুযোগ্য ও দক্ষ শাসনকর্তার ওপর এসব প্রদেশের শাসনভার ন্যস্ত করেন। 85
পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ উত্তর
সরকার রাজকর্মচারীদের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে গঠিত বিশাল প্রতিরক্ষা বাহিনীর ব্যয় নির্বাহ করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। তদুপরি বাজার পর্যালোচনায় দ্রব্যের দাম চড়া ও জনসাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে বিবেচিত হওয়ায় সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য তালিকা নির্ধারণ করে নির্ধারিত দামে বিক্রির নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পণ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও মুজদদারি রোধ করে দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসেন। 86 মালিক কাফুর কে ছিলেন?
উত্তর মালিক কাফুর ছিলেন সুলতান আলাউদ্দিন খলজির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও নির্ভীক সেনাপতি।
87 পদ্মিনী উপাখ্যান কী? উত্তর
ইতিহাসে পদ্মিনী উপখ্যান বলতে মেবারের রাজা রতন সিংহের পরমাসুন্দরী রানি পদ্মিনীকে লাভ করতে সুলতান আলাউদ্দিন খলজি কর্তৃক প্রেরিত মেবারের সামরিক অভিযান সম্পর্কিত ঘটনাকে বোঝায়। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে সুলতানের বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে রতন সিংহ ব্যর্থ হয়। আলাউদ্দিন খলজির বাহিনী প্রাসাদে পৌঁছানোর আগেই রাজপুত মহিলা সম্মান ধরে রাখতে অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বিসর্জন দেন। ইতিহাসের এ বিরলতম ঘটনাই পদ্মিনী উপখ্যান-নামে পরিচিত। 88
কুতুবমিনার কে নির্মাণ করেন? উত্তর সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক কুতুবমিনার নির্মাণ করেন।
89 সুলতান রাজিয়া কে ছিলেন?
উত্তর সুলতান রাজিয়া ছিলেন সুলতান ইলতুৎমিশের কন্যা ও ভারতের ইতিহাসে প্রথম নারী শাসক। সুলতানা রাজিয়া ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও দূরদর্শী। তিনি ১২৩৬ সালে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। কিন্তু আমির ওমরাহদের বিরোধিতার কারণে তিনি বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। তিনি ১২৪০ খ্রিস্টাব্দে মুইজউদ্দিন বাহরামের কাছে ।। পরাজিত হন এবং পলায়নকালে দস্যুদের হাতে তিনি নিহত হন। 90
আরাম শাহ কত সালে সিংহাসনে বসেন? উত্তর
আরাম শাহ ১২১০ সালে সিংহাসনে বসেন। 91 ইলতুৎমিশের সুশাসনের ব্যাখ্যা দাও।
উত্তর অসাধারণ কর্মকৌশলের মাধ্যমে ইলতুৎমিশ সুশাসনের সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। তিনি তুর্কি শাসনের ভিত্তি সুদৃঢ় করে ভারতে মুসলিম শাসনের দায়িত্ব দান করেন। তিনি সাম্রাজ্য বিস্তারের পরিবর্তে এ সংহতি বিধান ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অতি সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সাম্রাজ্যকে পুনর্গঠিত করে ন্যায়বিচারের ব্যবস্থা এবং সামরিক ও বেসামরিক দফতরগুলোতে শৃঙ্খলা আনয়ন করেন তিনি। তিনিই সর্বভারতীয় সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে বিশৃঙ্খলতায় পরিপূর্ণ সাম্রাজ্যে সুষ্ঠু ও কল্যাণকর শাসনের প্রবর্তন করেন।
92 বন্দেগান-ই-চেহেলগান কাদের নিয়ে গঠিত হয়? উত্তর
বন্দেগান-ই-চেহেলগান দাসদের নিয়ে গঠিত হয়। 93
কেন্দ্রীয় শাসনের ভিত্তি রচনা করা ইলতুৎমিশের অন্যতম কৃতিত্ব’ ব্যাখ্যা কর। উত্তর ইলতুৎমিশই প্রথম সুলতানি সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ভিত্তি রচনা করেন। তিনি ছিলেন দিল্লি প্রশাসনের প্রকৃত সংগঠক। সুলতান ইলতুৎমিশের শাসনামল হতে ইক্কা প্রথার প্রবর্তন ভারতবর্ষে শুরু হস। ইক্কা অর্থ অংশ বা ভাগ। ভারতীয় সামন্তপ্রথা উচ্ছেদ করা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা, রাজস্ব আদায় করা, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে ইলতুৎমিশ ইক্কার প্রবর্তন করেন। ইক্তারদারদের আঞ্চলিক প্রভাব-প্রতিপত্তি দূর করার জন্য বদলির ব্যবস্থা ছিল।
94 মুহাম্মদ ঘুরী কীভাবে নিহত হন?
উত্তর মুহাম্মদ ঘুরী আততায়ীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন। 95
সম্রাট ইলতুৎমিশের রাজ্য বিজয়ের ইতিহাস ব্যাখ্যা কর উত্তর
দিল্লির মুসলিম রাজ্যে রাজপুত শক্তির একটি চাপ সবসময়ই ছিল। তারা সময়মত মুসলিম অধিকৃত অনেক রাজ্যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। ইলতুৎমিশ এ সমস্ত রাজ্যের ওপর পুনরায় অধিকার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তিনি ১২২৬ খ্রিস্টাব্দে রণথম্ভোর, ১২২৭ খ্রিস্টাব্দে সিওয়ালিক পর্বতে অবস্থিত মান্দাওয়ার এক বছর অবরোধের পর ১২৩২ খ্রিষ্টাব্দে গোয়ালিয়র জয় করেন, ১২৩৪ খ্রিস্টাব্দে মালবের রাজা মঙ্গলদেবের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে সুলতান বিখ্যাত ভিলসা দুর্গ ও উজ্জয়িনী দখল করেন। এভাবে সম্রাট ইলতুৎমিশ বিভিন্ন রাজ্য জয় করেন। 96 মুইজউদ্দিন বাহরাম শাহের পিতার নাম কী ছিল?
উত্তর কমুইজউদ্দিন বাহরাম শাহের পিতার নাম সুলতান ইলতুৎমিশ
97 সুলতান ইলতুৎমিশ ছিলেন স্থাপত্যকলার পৃষ্ঠপোষক’ ব্যাখ্যা কর। উত্তর
শিল্পরসিক ইলতুৎমিশের সময় ভারতে স্থাপত্যকলার বিকাশ ঘটে। শ্বশুর কুতুবউদ্দিন কর্তৃক স্থাপিত ‘দিল্লির কুয়াত-উল-ইসলাম’ ও আজমীরের ‘আড়াই-দিন-কা ঝোপড়া’ মসজিদ দুটির নির্মাণ কাজ তার আমলে শেষ হয়। তার শিল্পানুরাগের অন্যতম নিদর্শন দিল্লির কুতুবমিনার। দিল্লির কুতুবমিনার তার শিল্পনীতির অবিনাশী রূপ নিয়ে আজও বিদ্যমান। তিনি নিজের জন্য যে সমাধি ভবন নির্মাণ করেন তার গঠনশৈলী ও চারুশিল্পের অনন্য সাক্ষর বহন করে। তাই বলা যায়, সুলতান ইলতুৎমিশ ছিলেন স্থাপত্যকলার পৃষ্ঠপোষক। 98
সুলতান রাজিয়া কত খ্রিষ্টাব্দে নিহত হন? উত্তর সুলতান রাজিয়া ১২৪০ খ্রিষ্টাব্দে নিহত হন
99 সুলতান রাজিয়ার আলতুনিয়ার বিরুদ্ধে অভিযান ও বিবাহের ইতিহাস ব্যাখ্যা কর।
উত্তর দিল্লি তুর্কি আমিরদের নেতা আইতেগিন বা ইতিগিনের যোগসাজশে আলতুনিয়া সুলতান রাজিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। এ বিদ্রোহ রাজিয়ার সিংহাসনকে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছিল। সুলতান রাজিয়া ইয়াকুতসহ সসৈন্যে আলতুনিয়াকে দমন করতে দিল্লি থেকে রওয়ানা দেন। উভয়ের মাঝে সংঘর্ষ হলে ইয়াকুত নিহত হয় এবং সুলতান রাজিয়া কারারুদ্ধ হন। মুক্তিলাভের এবং সিংহাসন সংশ্লিষ্ট বিপদাপদ হতে নিরাপদ থাকার আশায় রাজিয়া আলতুনিয়াকে বিবাহ করা শ্রেয় মনে করেন এবং তাকে বিবাহ করেন। দিল্লিতে সুলতান রাজিয়ার অনুপস্থিতির সুযোগে ষড়যন্ত্রকারী অভিজাতগণ ইলতুৎমিশের পুত্র মুইজউদ্দিন বারাম শাহকে সুলতানরূপে সিংহাসনে বসান। 100
কত খ্রিষ্টাব্দে বাহরাম শাহের সৈন্যবাহিনীর সাথে সুলতান রাজিয়ার সৈন্যবাহিনীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়? উত্তর
১২৪০ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম শাহের সৈন্যবাহিনীর সাথে সুলতান রাজিয়ার সৈন্যবাহিনীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় 101 জালালউদ্দিন খলজি মালিক ছাজুর বিদ্রোহ দমনে সক্ষম। হয়েছিলেন- ব্যাখ্যা কর
উত্তর মালিক ছাজুর প্রকৃত নাম কিশলু খান। তিনি ছিলেন গিয়াসউদ্দিন বলবনের ভ্রাতৃম্পূত্র এবং কারা প্রদেশের শাসনকর্তা। তিনি জালালউদ্দিনের ক্ষমতা গ্রহণ ঠেকাতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারেননি। তাকে কারার শাসনকর্তা মনোনীত করা হয়েছিল। তিনি অযোধ্যার শাসনকর্তা হাতিম খানের সাথে জোট গঠন করেন। তারা জালালউদ্দিন প্রশাসনের পতনের উদ্দেশ্যে একসাথে দিল্লি অভিমুখে রওয়ানা দেন। সুলতান জালালউদ্দিন ভ্রাতুষ্পুত্র আলাউদ্দিন খলজি ও দ্বিতীয় পুত্র হিসাম উদ্দিনের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী প্রেরণ করেন। বদায়ুনের নিকট উভয় বাহিনীর যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে আলাউদ্দিন খলজি অসীম বীরত্বের পরিচয় দেন। যুদ্ধে মালিক ছাজ্জুর বাহিনী পরাজিত হয়।
102 দিল্লির মুসলিম রাজ্যে কোন শক্তির চাপ সবসময়ই ছিল? উত্তর
দিল্লির মুসলিম রাজ্যে রাজপুত শক্তির চাপ সবসময়ই ছিল। 103
আলাউদ্দিন খলজির রাজস্বনীতি সংস্কারের কারণ ব্যাখ্যা কর। উত্তর আলাউদ্দিন খলজি কর্তৃক রাজস্বনীতি সংস্কারের একাধিক কারণ উল্লেখ করা যায়। ঐতিহাসিক ওয়াসফ ও ফিরিশতার মতে, সুলতানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ৪৭৫০০ অশ্বারোহী সৈন্য ছিল। সেনাবাহিনীর এ ব্যয় নির্বাহের জন্য তিনি রাজস্ব ব্যবস্থার পূর্ণ বিন্যাস করেন। খুৎ, মকোদ্দম ও চৌধুরী নামে হিন্দু প্রতিনিধিগণ কৃষকদের নিকট হতে বাড়তি অর্থ আদায় করত। তাদের দুর্নীতিরোধের জন্য সুলতান রাজস্বনীতির সংস্কার করেন
104 ইলখানি বংশের আবু সাঈদ কোথাকার শাসক ছিলেন?
উত্তর ইলখানি বংশের আবু সাঈদ খোরাসানের শাসক ছিলেন। 105
গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের সিংহাসন লাভের ইতিহাস ব্যাখ্যা কর। উত্তর
খসরু শাহের শাসনামলে অভিজাত আমিরগণ তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এ সময় অভিজাতশ্রেণির একাংশে গিয়াসউদ্দিন তুঘলকে সিংহাসন দখলের জন্য আহ্বান জানান। ফলে গিয়াসউদ্দিন 1 তুঘলক দিপালপুরে সুলতান বিরোধী বাহিনী তৈরি করেন। এ বাহিনী দিল্লির উপকণ্ঠে সুলতান খসরুর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ৫ সেপ্টেম্বর ১৩২০ খ্রিষ্টাব্দে খসরু শাহ তার নিকট পরাজিত ও নিহত হন। দিল্লির অভিজাতশ্রেণির অনুরোধে গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ৮ সেপ্টেম্বর ১৩২০ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসন লাভের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। 106 সুলতান আলাউদ্দিন খলজি কত খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?
উত্তর সুলতান আলাউদ্দিন খলজি ১২১৬ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।
107 ফিরোজ শাহ তুঘলকের একটি অন্যতম ত্রুটি হচ্ছে জায়গির প্রথা ব্যাখ্যা কর। উত্তর
ফিরোজ শাহ তুঘলকের একটি অন্যতম ত্রুটি হচ্ছে জায়গির প্রথা। সুলতান সামরিক কর্মকর্তা, সাধারণ সৈনিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত গ্রাম ও শহর বিতরণ করে দিয়েছিলেন। জায়গির প্রথার মূলকথা হলো জায়গির প্রাপ্ত কর্মকর্তা- কর্মচারীরা প্রাপ্ত জমি থেকে নিজেদের বেতন-ভাতাদি লাভ করতেন। তারা সরকারের নিকট হতে নগদ অর্থে কোনো আর্থিক সুবিধা পেতেন না। এর ফলে সরকারি কাজের পরিবর্তে জমিতে ফসল ফলানোতে কর্মচারীরা বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। পূর্বে জিজিয়া কর ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের ওপর ধার্য করেন। এতে অমুসলিমদের ওপর বিরূপ জনমত গড়ে ওঠে। 108
কুতুবমিনার কে নির্মাণ করে উত্তর কুতুবউদ্দিন আইবেক কুতুবমিনার নির্মাণ করেন।
109 সৈয়দ বংশ পতনের একটি কারণ উল্লেখ কর।
উত্তর সৈয়দ বংশের পতনের নেপথ্যে কতকগুলো কারণ বিদ্যমান। তার একটি হচ্ছে সুলতান খিজির খানের আমল থেকেই রাজ দরবারের ওপর আমীর উমরাহদের প্রভাব বৃদ্ধি পেতে থাকে। তারা সালতানাতের সর্বেসর্বা হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য যে, সুলতান মোবারক শাহকে উজির সারওয়ারুল মুলক হত্যা করেন। এভাবে আমির উমরাহদের প্রভাব প্রতিপত্তি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কোনো সুলতানই উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। যার ফলে সালতানাতে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং সৈয়দ বংশের পতন ঘটে। 110
আরজ-ই-মামালিক বা সমরমন্ত্রী নামে কোন সুলতান একটি পদ সৃষ্টি করেছিলেন? উত্তর
সুলতান আলাউদ্দিন খলজি আরজ-ই-মামালিক বা সমরমন্ত্রী নামে একটি পদ সৃষ্টি করেছিলেন। 111 সুলতান আলাউদ্দিন খলজির মালব অভিযান ব্যাখ্যা কর।
উত্তর সুলতান আলাউদ্দিন খলজি ১৩০৫ খ্রিস্টাব্দে রাজপুত রাজ্য মালব আক্রমণ করেন। রাজা রায় মাহলাক দেব পরাজিত হলে মালব সুলতানের অধিকারে আসে। উজ্জয়িনী, চান্দেরি, মান্ডু, ধার প্রভৃতি অঞ্চলেও সুলতানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। সুলতান আলাউদ্দিন খলজি মালব বিজয়ী সেনাপতি আইন-উল-মূলকে সেখানকার গভর্নর নিয়োগ করেন।
112 ইলতুৎমিশের পিতার নাম কী ছিল? উত্তর
ইলতুৎমিশের পিতার নাম ইয়ালম খান। 113
আরাম শাহের শাসনের ব্যাখ্যা দাও। উত্তর কুতুবউদ্দিন আইবেকের মৃত্যুর পর লাহোরের অভিজাতবর্গ ভারতবর্ষে শাসনের জন্য ১২১০ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে আরাম শাহকে সুলতান নির্বাচিত করেন। আরাম শাহের রাজত্বকাল ছিল মাত্র ৮ মাস। ১২১০ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বরে তিনি সিংহাসনে বসেন এবং ১২১১ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে ক্ষমতা হারান। তার রাজত্বকাল ছিল নিষ্প্রভ। রাজ্য পরিচালনার মতো যোগ্যতা বা ক্ষমতা তার ছিল না।
114 দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
উত্তর দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ইলতুৎমিশ। 115
ইলতুৎমিশ রাজ্যজয়ে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন’ বুঝিয়ে বল। উত্তর
ইলতুৎমিশ রাজ্যজয়ে অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। অভ্যন্তরীণ সংকট এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণে দুর্যোগ হতে নিজের অবস্থা সংহত করে ইলতুৎমিশ হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় ব্রতী হয়ে ১২২৬ খ্রিষ্টাব্দে রণথম্ভোর এবং পরের বছর সিওয়ালিক পর্বতে অবস্থিত মান্দাওয়ার দখল করেন। এক বছর অবরোধের পর ১২৩২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি গোয়ালিয়র অধিকার করেন। একসময় তিনি সাহসিকতার সাথে ভিলসা ও উজ্জয়িনী দখল করেন। 116 সুলতান নাসিরউদ্দিনের মৃত্যুর পর কে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন?
উত্তর সুলতান নাসিরউদ্দিনের মৃত্যুর পর গিয়াসউদ্দিন বলবন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
117 সুলতান রাজিয়ার বিদ্রোহ দমনের ইতিহাস ব্যাখ্যা কর। উত্তর
সুলতান রাজিয়া শাসন শুরু করার মুহূর্তে একটি ধর্মীয় সংঘাতের মোকাবিলা করেন। ধর্মান্ধ কারামাতিয়া ও মূলাহিদ সম্প্রদায় নামে দুটি সম্প্রদায় বিদ্রোহী হয় এবং প্রায় এক হাজার অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দিল্লির মসজিদে একত্রিত হয়। তারা রাজিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করে। রাজিয়া সাফল্যের সাথে এ ধর্মীয় সংঘাত মোকাবিলা করেন। পাঞ্জাবের শাসনকর্তা কবির খাঁ সর্বপ্রথম সুলতান রাজিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করেন। ১২৪০ খ্রি. সুলতান রাজিয়া সশস্ত্রে অগ্রসর হয়ে এ বিদ্রোহ দমন করেন। তিনি লাহোরের শাসনকর্তাকেও পরাজিত করতে সক্ষম হন। 118
তুঘ্রিল খান কত খ্রিষ্টাব্দে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন? উত্তর তুলি খান ১২৭৮ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
119 মুহাম্মদ বিন তুঘলকের প্রতীক তাম্রমুদ্রা প্রচলনের ইতিহাস ব্যাখ্যা কর।
উত্তর প্রতীক তাম্রমুদ্রার প্রচলন মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। রাজধানী স্থানান্তরের কিছুকাল পর এটি তার একটি নিরীক্ষামূলক পদক্ষেপ। তার পিতার আমলে বা তার পূর্বেও সোনা ও ! রূপা মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তিনি দীর্ঘদিনের সোনা ও রূপার বদলে তাম্রমুদ্রার প্রচলন করেন। তিনি বিভিন্ন প্রকার মূল্যবান ধাতুর তুলনামূলক মূল্যমান নির্দিষ্ট করেন এবং বিভিন্ন রকম মুদ্রার প্রচলন করেন। তিনি দিনার নামে একটি নতুন স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন করেন। ২০০ গ্রেন বা রতি = ১ দিনার, ১০টি রুপার টক্কা = ১ দিনার, ১৪০ রৌপ্য = ১ আদালি, পূর্বে ১৭৫ রতি ওজনের রৌপ্য ও স্বর্ণ মুদ্রার প্রচলন ছিল।
বিশিষ্ট মুদ্রা বিশেষজ্ঞ এন্ডওয়ার্ড থমাস মুহাম্মদ বিন তুঘলককে টাকা নির্মাতার রাজা হিসেবে অভিহিত করা হয়। 120
ভারতের তোতা পাখি (Parrot of India) কাকে বলা হয়? উত্তর আমির খসবুকে ভারতে তোতাপাখি (Parrot of India) বলা হয়
121 দাসবংশের শাসনামলে চল্লিশচক্রের ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর ভারতে তুর্কি সালতানাতের প্রথম দিকের কয়েকজন শাসক দাস ছিলেন তাই অনেকে এ সময়কালকে দাস শাসনামল বলে থাকেন। ।। সুলতান ইলতুৎমিশ ব্যক্তিগত জীবনে প্রথম দিকে একজন দাস ছিলেন। ।। তাই দাসদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য তিনি বিজ্ঞ ও প্রভাবশালী ৪০ জন দাস নিয়ে ‘বন্দেগান-ই-চেহেলগান’ বা চল্লিশচক্র গঠন করেন। । কিন্তু পরবর্তীকালে এ চল্লিশচক্র খুবই প্রভাবশালী হয়ে ওঠে এবং তারা ।। শাসকের উত্থান-পতনের নিয়ামক শক্তিতে পরিণত হয়। সুলতান ।। গিয়াসউদ্দিন বলবন চল্লিশচক্রের কুকীর্তি উপলব্ধি করে তাদের ক্ষমতা খর্ব করেন। 122
সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক কত খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন? উত্তর
সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। 123 মুহাম্মদ শাহ সৈয়দ বংশের শাসকদের মধ্যে ব্যর্থ ছিলেন কেন? ২
উত্তর মুহাম্মদ শাহ ছিলেন সৈয়দ বংশের তৃতীয় শাসক। তিনি ১৪৩৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৪৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করেন। মুহাম্মদ শাহের শাসন দক্ষতা থাকলেও তিনি দেশকে অভ্যন্তরীণ অনৈক্য ও রাজনৈতিক কোন্দল থেকে রক্ষা করতে পারেননি। গোয়ালিয়রের শাসক সুলতানকে কর প্রদান বন্ধ করে দেয়। তার রাজত্বকালে মালবের মাহমুদ খিলজি দিল্লি পর্যন্ত সসৈন্যে অগ্রসর হন। জৌনপুরের সুলতান ইব্রাহিম শাহ শর্কী দিল্লির কয়েকটি পরগণা দখল করে নেন। উচ্চাভিলাষী মাহমুদ লোদী দিল্লি অধিকার করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। আর এসব ঘটনা মুহাম্মদ শাহের নিষ্ক্রিয়তার জন্য হয়েছিল। তাই মুহাম্মদ শাহকে সৈয়দ বংশের মধ্যে ব্যর্থ শাসক হিসেবে অভিহিত করা হয়।
