Islamic History 1st – A,B S – CH 7

01 ফাতেমি কারা? [সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ, যশোর · 2026]

উত্তর হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা হযরত ফাতেমা (রা.)-এর নামানুসারে মিশরের শিয়া বংশকে ফাতেমি বা ফাতেমি বংশ নামে অভিহিত হয়।

02 দারুল হিকমার কার্যক্রম কীরূপ ছিল? [সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ, যশোর · 2026]

উত্তর বাগদাদের ‘বায়তুল হিকমা’র অনুকরণে মিশরের কায়রোতে ফাতেমি খলিফা আল হাকিম কর্তৃক ১০০৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত, জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানই হলো ‘দারুল হিকমা’ বা বিজ্ঞানভবন। এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষণীয় বিষয়সমূহের মধ্যে ছিল জোতিষশাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যা, ব্যাকরণ প্রভৃতি। এর পাশে একটি লাইব্রেরিও প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীকালে এ বিদ্যালয় শিয়া মতাবলম্বীদের শিক্ষার কেন্দ্ররূপে পরিণত হয় এবং এতে শিয়া শিক্ষাদীক্ষা ও রীতিনীতি বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে।

03 দাঈ অর্থ কী? [ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, কুমিল্লা · 2026]

উত্তর দাঈ অর্থ প্রচারক।

04 উত্তর আফ্রিকা ও মিসরে প্রতিষ্ঠিত খিলাফতকে ফাতেমি খিলাফত বলার যৌক্তিকতা তুলে ধর। [ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, কুমিল্লা · 2026]

উত্তর হযরত আলী (রা.) এবং বিবি ফাতিমার বংশধরগণ ইতিহাসে ফাতেমি নামে পরিচিত। উবায়দুল্লাহ আল-মাহদীর নেতৃত্বে ৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে উত্তর আফ্রিকায় প্রতিষ্ঠিত শিয়া খিলাফতের খলিফারা ‘ফাতেমি’ নামে একটি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করে। তাদের এরূপ নামকরণের কারণ এ বংশের খলিফারা নিজেদের ইসলামের চতুর্থ খলিফা ও মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জামাতা হযরত আলী (রা.) এবং তর স্ত্রী বিবি ফাতেমা (রা.)-এর বংশধর হিসেবে দাবি করেন। তাই উত্তর আফ্রিকা ও মিশরে প্রতিষ্ঠিত খিলাফতকে – ফাতেমীয় খিলাফত বলা যৌক্তিক।

05 আল-আজহার মসজিদ নির্মাণ করেন কে? [শহিদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ, ঢাকা · 2026]

উত্তর আল আজহার মসজিদ নির্মাণ করেন খলিফা আল মুইজের সুযোগ্য সেনাপতি জওহর।

06 দারুল হিকমা কী? [শহিদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ, ঢাকা · 2026]

উত্তর বাগদাদের ‘বায়তুল হিকমা’র অনুকরণে মিশরের কায়রোতে ফাতেমি খলিফা আল হাকিম কর্তৃক ১০০৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানই হলো ‘দারুল হিকমা’ বা বিজ্ঞানভবন। এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষণীয় বিষয়সমূহের মধ্যে ছিল জোতিষশাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যা, ব্যাকরণ প্রভৃতি। এর পাশে একটি লাইব্রেরিও প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীকালে এ বিদ্যালয় শিয়া মতাবলম্বীদের শিক্ষার কেন্দ্ররূপে পরিণত হয় এবং এতে শিয়া শিক্ষাদীক্ষা ও রীতিনীতি বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে।

07 আল মুইজ কে ছিলেন? [মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ · 2026]

উত্তর আল মুইজ ছিলেন উত্তর আফ্রিকার ফাতেমি খিলাফতের ৪র্থ খলিফা।

08 দারুল হিকমা কী? ব্যাখ্যা কর। [মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ · 2026]

উত্তর ফাতেমি খলিফা আল-হাকিম ১০০৫ খ্রিস্টাব্দে কায়রোতে একটি বিখ্যাত বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ করেন। এটি দারুল হিকমা নামে পরিচিত। বাগদাদের বায়তুল হিকমার অনুকরণে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। মিশরের বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী আলী-ইবন-ইউসুফ এ জ্ঞানগৃহ নির্মাণে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। এখানে শিয়া ধর্ম বিষয়ে আলোচনা ও গবেষণা হতো। এখানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বহু অমূল্য গ্রন্থরাজি সংগৃহীত ছিল। দেশ-বিদেশের বহু প্রখ্যাত পণ্ডিত ব্যক্তি এখানে হাজির হতেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন আলাপ-আলোচনায় অংশগ্রহণ করতেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন প্রখ্যাত দার্শনিক ও পদার্থবিজ্ঞানী ইবনে হায়সাম।

09 উত্তর আফ্রিকা ও মিশরে কে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন? [আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ, নরসিংদী · 2026]

উত্তর উত্তর আফ্রিকা ও মিসরে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন ওবায়দুল্লাহ আল মাহদী।

10 ইসমাঈলীয় কারা? ব্যাখ্যা করো। [আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ, নরসিংদী · 2026]

উত্তর ৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে শিয়া সম্প্রদায়ের ষষ্ঠ ইমাম জাফর সাদিকের মৃত্যুর পর শিয়া সম্প্রদায় যে দুটি ভাগে বিভক্ত হয় তাদের একটি ইসমাঈলীয় হিসেবে পরিচিত।

জাফর সাদিক তার মৃত্যুর পূর্বে পুত্র ইসমাঈলকে ইমামতির দায়িত্ব দেন এবং পিতার মৃত্যুর আগেই ইসমাঈল মৃত্যুবরণ করলে দ্বিতীয় মুসা আল-কাজিমকে ইমামতি দান করা হয়। যারা আল-কাজিমকে ইমাম হিসেবে মেনে নিতে পারেনি তাদের ইসমাঈলীয় বলা হয়। 11 মিসর বিজয়ী ফাতেমিয় সেনাপতির নাম কী?

[আইডিয়াল কলেজ, ধানমন্ডি, ঢাকা · 2026] উত্তর

মিসর বিজয়ী ফাতেমি সেনাপতির নাম জওহর। 12 ফাতেমি কারা? ব্যাখ্যা করো।

[আইডিয়াল কলেজ, ধানমন্ডি, ঢাকা · 2026] উত্তর

ইসলামের চতুর্থ খলিফা ও মুহাম্মদ (স)-এর জামাতা হযরত আলী (রা) ও নবিকন্যা ফাতিমা (রা)-এর বংশধররা ইসলামের ইতিহাসে ফাতেমি নামে পরিচিত। ফাতেমি খিলাফত ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সপ্তম ইমামে বিশ্বাসী শিয়া মতাবলম্বী ইসমাঈলীদের সহায়তায় উত্তর আফ্রিকায় ওবায়দুল্লাহ আল মাহদীর নেতৃত্বে ৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়। 13

উত্তর আফ্রিকায় কোন বংশের শাসককে উৎখাত করে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল? [সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ, টঙ্গী, গাজীপুর · 2026]

উত্তর উত্তর আফ্রিকায় আগলাবি বংশের শাসককে উৎখাত করে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। 14

ফাতেমি কারা? ব্যাখ্যা করো। [সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ, টঙ্গী, গাজীপুর · 2026]

উত্তর ইসলামের চতুর্থ খলিফা ও মুহাম্মদ (স)-এর জামাতা হযরত আলি (রা) ও নবিকন্যা ফাতিমা (রা)-এর বংশধরেরা ইসলামের ইতিহাসে ফাতেমি নামে পরিচিত। ফাতেমি খিলাফত ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সপ্তম ইমামে বিশ্বাসী শিয়া মতাবলম্বী ইসমাঈলীদের সহায়তায় উত্তর আফ্রিকায় উবায়দুল্লাহ আল-মাহদীর নেতৃত্বে ৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়।

15 আল আজহার মসজিদ নির্মাণ করেন কে ?

[Dhaka · 2019] উত্তর আল আজহার মসজিদ নির্মাণ করেন খলিফা আল মুইজের সুযোগ্য সেনাপতি জওহর।

16 দারুল হিকমা কী ?

[Dhaka · 2019] উত্তর দারুল হিকমা হলো ফাতেমি খলিফা আল হাকিমের নির্মিত একটি বিজ্ঞানভবন। ফাতেমি খলিফা আল হাকিম ১০০৫ খ্রিষ্টাব্দে কায়রোতে বিখ্যাত দারুল হিকমা বা বিজ্ঞানভবন নির্মাণ করেন। এটি বাগদাদের বায়তুল হিকমার আদলে নির্মিত হয়েছিল। এখানে শিয়া ধর্ম বিষয়ে আলোচনা ও গবেষণা হতো। এখানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বহু মূল্যবান গ্রন্থাবলি সংগৃহীত ছিল। দেশ-বিদেশের বহু বিখ্যাত পন্ডিত ব্যক্তি এখানে হাজির হতেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন আলাপ-আলোচনায় অংশগ্রহণ করতেন।

17 উত্তর আফ্রিকা ও মিসরে কে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন?

[Dhaka · 2018] উত্তর ওবায়দুল্লাহ আল মাহদী উত্তর আফ্রিকা ও মিসরে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন।

18 দারুল হিকমা কী? ব্যাখ্যা করো।

[Dhaka · 2018] উত্তর দারুল হিকমা হলো ফাতেমি খলিফা আল হাকিমের প্রতিষ্ঠিত একটি জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র।

দারুল হিকমার শাব্দিক অর্থ বিজ্ঞান ভবন। খলিফা আল হাকিম ১০০৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রধানত শিয়া মতাদর্শ বিষয়ে আলোচনা ও গবেষণার জন্য মিসরে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এর সংগ্রহে শিয়া মতাদর্শ ছাড়াও জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বহু অমূল্য গ্রন্থ ছিল। বিখ্যাত পণ্ডিতেরা এখানে জ্ঞানচর্চা এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করতেন। বিখ্যাত দার্শনিক এবং চক্ষু ও পদার্থবিজ্ঞানী ইবনে হায়সাম ছিলেন তাদের অন্যতম। বাগদাদের বায়তুল হিকমার (জ্ঞানগৃহ) অনুকরণে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। 19

মিসর বিজয়ী ফাতেমিয় সেনাপতির নাম কী? [Rajshahi · 2018] উত্তর

মিসর বিজয়ী ফাতেমি সেনাপতির নাম জওহর। 20

ফাতেমি কারা? ব্যাখ্যা করো। [Rajshahi · 2018] উত্তর

ইসলামের চতুর্থ খলিফা ও মুহাম্মদ (স)-এর জামাতা হযরত আলী (রা) ও নবিকন্যা ফাতিমা (রা)-এর বংশধররা ইসলামের ইতিহাসে ফাতেমি নামে পরিচিত। ফাতেমি খিলাফত ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সপ্তম ইমামে বিশ্বাসী শিয়া মতাবলম্বী ইসমাঈলীদের সহায়তায় উত্তর আফ্রিকায় ওবায়দুল্লাহ আল মাহদীর নেতৃত্বে ৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়।

21 জওহর কে ছিলেন? [Dhaka · 2017]

উত্তর জওহর ছিলেন ফাতেমি খলিফা আল মুইজের সেনাপতি এবং আল কাহিরা (কায়রো) নগরীর গোড়াপত্তনকারী।

22 ‘আল-কাহিরা’ বলতে কী বুঝায়? ব্যাখ্যা করো। [Dhaka · 2017]

উত্তর ফাতেমি খলিফা আল মুইজের শাসনামলে মিসরে প্রতিষ্ঠিত রাজধানী ‘আল কাহিরা’ নামে পরিচিত।

আল কাহিরা অর্থ ‘বিজয়ী শহর’। চতুর্থ ফাতেমি খলিফা আল মুইজের সেনাপতি জওহর ৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে মিসর জয় করেন এবং খলিফার নির্দেশে কায়রোকে রাজধানীর উপযোগী করে নির্মাণ করেন। সরকারিভাবে কায়রোর নামকরণ করা হয় ‘আল কাহিরা’ বা বিজয়ী শহর। ৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে ‘আল কাহিরা’ বা কায়রো রাজধানীর মর্যাদা লাভ করে। 23 দাঈ শব্দের অর্থ কী?

[Rajshahi · 2017] উত্তর

‘দাঈ’ শব্দের অর্থ প্রচারক। 24 দারুল হিকমা বলতে কী বুঝ?

[Rajshahi · 2017] উত্তর

ফাতেমি খলিফা আল হাকিম ১০০৫ খ্রিষ্টাব্দে কায়রোতে একটি বিখ্যাত বিজ্ঞানভবন নির্মাণ করেন। এটি দারুল হিকমা নামে পরিচিত। বাগদাদের বায়তুল হিকমার অনুকরণে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। মিশরের বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী আলী-ইবন-ইউসুফ এ জ্ঞানগৃহ নির্মাণে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। এখানে শিয়া ধর্ম বিষয়ে আলোচনা ও গবেষণা হতো। এখানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বহু অমূল্য গ্রন্থরাজি সংগৃহীত ছিল। দেশ-বিদেশের বহু প্রখ্যাত পণ্ডিত ব্যক্তি এখানে হাজির হতেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন আলাপ-আলোচনায় অংশগ্রহণ করতেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন প্রখ্যাত দার্শনিক ও পদার্থবিজ্ঞানী ইবনে হায়সাম। 25

কত খ্রিষ্টাব্দে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়? উত্তর

৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয় । 26 ‘দারুল হিকমা’ কী? ব্যাখ্যা কর ।

উত্তর দারুল-হিকমা হলো খলিফা আবু আলী মনসুর আল হাকিম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি বিজ্ঞান ভবন, যা তিনি ১০০৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন। এটি বাগদাদের বায়তুল হিকমার অনুকরণে নির্মিত হয়েছিল। শিয়া ধর্ম বিষয়ে আলোচনা ও গবেষণা ছাড়াও এখানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখার বহু অমূল্য গ্রন্থরাজি সন্নিবেশিত ছিল। দেশ-বিদেশের বহু প্রখ্যাত পণ্ডিত ব্যক্তি সেখানে হাজির হতেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন আলাপ করতেন। বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ আলি ইবনে ইউনুস খলিফার নিকট হতে অকৃপণ সহানুভূতি লাভ করেছিলেন। প্রখ্যাত চক্ষুবিজ্ঞানী হাসান ইবনে হাইসাম খলিফার দরবার অলঙ্কৃত করেছিলেন।

27 উত্তর আফ্রিকায় কোন বংশের শাসনকে উৎখাত করে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল? উত্তর

উত্তর আফ্রিকায় আগলাবি বংশের শাসনকে উৎখাত করে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। 28

উত্তর আফ্রিকায় প্রতিষ্ঠিত খিলাফতকে ফাতেমি খিলাফত বলার কারণ ব্যাখ্যা কর উত্তর ৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার তিউনিসিয়ায় সর্বপ্রথম ফাতেমিয় খিলাফতের গোড়াপত্তন হয়। ফাতেমিরা ছিল হযরত আলীর অনুসারী ও অনুগামী। হযরত আলীর অনুসারী বা সমর্থকগণ ইতিহাসে ‘শিয়া’ নামে পরিচিত। ফাতেমিরা নিজেদেরকে হযরত আলী এবং তাঁর বিবি ফাতেমা (রা.) বংশধর বলে দাবি করার কারণে এবং ফাতেমার নামানুসারেই তাদের প্রতিষ্ঠিত খিলাফত ইসলামের ইতিহাসে ‘ফাতেমি খিলাফত’ নামে পরিচিত ।

29 ফাতেমি খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী ?

উত্তর ফাতেমি খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম উবায়দুল্লাহ আল মাহদি । 30

ফাতেমি কারা? ব্যাখ্যা কর । উত্তর

৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার তিউনিসিয়ায় সর্বপ্রথম ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়। ফাতেমিরা ছিল হযরত আলী (রা.)-এর অনুসারী ও অনুগামী । হযরত আলী (রা.)-এর অনুসারী বা সমর্থকগণ ইতিহাসে ‘শিয়া’ নামে পরিচিত। ফাতেমিরা নিজেদেরকে হযরত আলী (রা.) এবং তার স্ত্রী ফাতিমা (রা.)-এর বংশধর বলে দাবি করেন । ফাতিমার নামানুসারেই তাদের প্রতিষ্ঠিত খিলাফতকে ফাতেমি খিলাফত বলা হয় ৷ 31 কাকে পাশ্চাত্যের মামুন বলা হয়?

উত্তর ফাতেমি খলিফা আল মুইজকে পাশ্চাত্যের মামুন বলা হয় ।

32 দারুল হিকমা সম্পর্কে লেখ। উত্তর

বাগদাদের ‘বায়তুল হিকমা’র অনুকরণে মিশরের কায়রোতে ফাতেমি খলিফা আল হাকিম কর্তৃক ১০০৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান- বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানই হলো ‘দারুল হিকমা’ বা বিজ্ঞানভবন। এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষণীয় বিষয়সমূহের মধ্যে ছিল জ্যোতিষশাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যা, ব্যাকরণ প্রভৃতি। এর পাশে একটি লাইব্রেরিও প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীকালে এ বিদ্যালয় শিয়া মতাবলম্বীদের শিক্ষার কেন্দ্ররূপে পরিণত হয় এবং এতে শিয়া শিক্ষাদীক্ষা ও রীতিনীতি বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। 33

আল মুইজ কে ছিলেন? উত্তর আল মুইজ ছিলেন উত্তর আফ্রিকার ফাতেমি খিলাফতের ৪র্থ খলিফা ।

34 দারুল হিকমা কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর বাগদাদের ‘বায়তুল হিকমা’র অনুকরণে মিশরের কায়রোতে ফাতেমি খলিফা আল হাকিম কর্তৃক ১০০৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান- বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানই হলো ‘দারুল হিকমা’ বা বিজ্ঞানভবন। এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষণীয় বিষয়সমূহের মধ্যে ছিল জ্যোতিষশাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যা, ব্যাকরণ প্রভৃতি। এর পাশে একটি লাইব্রেরিও প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীকালে এ বিদ্যালয় শিয়া মতাবলম্বীদের শিক্ষার কেন্দ্ররূপে পরিণত হয় এবং এতে শিয়া শিক্ষাদীক্ষা ও রীতিনীতি .বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। 35

কায়রো নগরী কে নির্মাণ করেন? উত্তর

ফাতেমি খলিফা আল মুইজের পরামর্শে তার সেনাপতি জওহর কায়রো নগরী নির্মাণ করেন । 36 আর্মেনীয় উজিরদের পরিচয় দাও ।

উত্তর খিলাফতকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য আবু আব্বাস আস-সাফফাহ উজির পদ সৃষ্টি করেন। আবু সালামা যাল্লালকে উজির পদে নিযুক্ত করা হয়। এ’আবু সালমা ইতিহাসে আর্মেনীয় উজির নামে পরিচিত ।

37 আল জওহর কার স্মরণার্থে ‘আল আজহার’ মসজিদটি নির্মাণ করেন? উত্তর

আল জওহর বিবি ফাতেমাতুজ জোহরার স্মরণার্থে ‘আল- আজহার’ মসজিদটি নির্মাণ করেন। 38

আল মুইজকে পাশ্চাত্যের মামুন বলা হয় কেন? উত্তর শিল্প সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে অবদানের জন্য আল মুইজকে পাশ্চাত্যের মামুন বলা হয়। আল-মুইজের সময়কাল ছিল মিশরের ফাতেমি শাসনকালের স্বর্ণযুগ। আল মুইজ মিশরের ফাতেমি শাসন সুদৃঢ় করে রাজ্যের প্রভৃত উন্নতি সাধনে মনোনিবেশন করেন। তার রাজনৈতিক বিচক্ষণতা, বিজ্ঞানমনষ্কতা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি উদার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য সৈয়দ আমীর আলী তাকে ‘পাশ্চাত্যের মামুন’ বলে অভিহিত করেছেন।

39 ফাতেমি খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী?

উত্তর ফাতেমি খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম উবায়দুল্লাহ আল মাহদি। 40

ফাতেমি কারা? ব্যাখ্যা কর। উত্তর

৯০৯ খ্রিস্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার তিউনিসিয়ায় সর্বপ্রথম ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়। ফাতেমিরা ছিল হযরত আলী (রা.)-এর অনুসারী ও অনুগামী। হযরত আলী (রা.)-এর অনুসারী বা সমর্থকগণ ইতিহাসে ‘শিয়া’ নামে পরিচিত। ফাতেমিরা নিজেদেরকে হযরত আলী (রা.) এবং তার স্ত্রী ফাতিমা (রা.)-এর বংশধর বলে দাবি করেন। ফাতিমার নামানুসারেই তাদের প্রতিষ্ঠিত খিলাফতকে ফাতেমি খিলাফত বলা হয়। 41 আব্বাসিদের শেষ খলিফার নাম কী?

উত্তর আব্বাসিদের শেষ খলিফার নাম আল-মুসতাসিম বিল্লাহ।

42 আব্বাসি কারা? ব্যাখ্যা কর। উত্তর

আব্বাসিরা মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশের হাশেমি শাখা হতে উদ্ভূত। কুরাইশ বংশের অন্য শাখাটি উমাইয়া নামে খ্যাত। মহানবি (সা.)-এর পিতৃব্য আল আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিমের নাম হতেই আব্বাসি বংশের নামকরণ করা হয়েছে। আল আব্বাস তার চার পুত্রকে রেখে ৬৫৫ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন। সিফফিনের যুদ্ধের সময় তারা উমাইয়া গোত্রের মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে হাশেমি গোত্রের হযরত আলী (রা.)-এর পক্ষাবলম্বন করেন। 43

কাকে পাশ্চাত্যের মামুন বলা হয়? উত্তর ফাতেমি খলিফা আল মুইজকে পাশ্চাত্যের মামুন বলা হয়।

44 দারুল হিকমা সম্পর্কে লেখ।

উত্তর বাগদাদের ‘বায়তুল হিকমা’র অনুকরণে মিশরের কায়রোতে ফাতেমি খলিফা আল হাকিম কর্তৃক ১০০৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান- বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানই হলো ‘দারুল হিকমা’ বা বিজ্ঞানভবন। এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষণীয় বিষয়সমূহের মধ্যে ছিল জ্যোতিষশাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যা, ব্যাকরণ প্রভৃতি। এর পাশে একটি লাইব্রেরিও প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীকালে এ বিদ্যালয় শিয়া মতাবলম্বীদের শিক্ষার কেন্দ্ররূপে পরিণত হয় এবং এতে শিয়া শিক্ষাদীক্ষা ও রীতিনীতি বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। 45

আল মুইজ কে ছিলেন? উত্তর

আল মুইজ ছিলেন উত্তর আফ্রিকার ফাতেমি খিলাফতের ৪র্থ খলিফা। 46 দারুল হিকমা কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর বাগদাদের ‘বায়তুল হিকমা’র অনুকরণে মিশরের কায়রোতে ফাতেমি খলিফা আল হাকিম কর্তৃক ১০০৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান- বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানই হলো ‘দারুল হিকমা’ বা বিজ্ঞানভবন। এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষণীয় বিষয়সমূহের মধ্যে ছিল জ্যোতিষশাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যা, ব্যাকরণ প্রভৃতি। এর পাশে একটি লাইব্রেরিও প্রতিষ্ঠা। করা হয়। পরবর্তীকালে এ বিদ্যালয় শিয়া মতাবলম্বীদের শিক্ষার কেন্দ্ররূপে পরিণত হয় এবং এতে শিয়া শিক্ষাদীক্ষা ও রীতিনীতি বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে।

47 কায়রো নগরী কে নির্মাণ করেন? উত্তর

ফাতেমি খলিফা আল মুইজের পরামর্শে তার সেনাপতি জওহর কায়রো নগরী নির্মাণ করেন। 48

আর্মেনীয় উজিরদের পরিচয় দাও। উত্তর খিলাফতকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য আবু আব্বাস আস-সাফফাহ উজির পদ সৃষ্টি করেন। আবু সালামা যাল্লালকে উজির পদে নিযুক্ত করা হয়। এ আবু সালমা ইতিহাসে আর্মেনীয় উজির নামে পরিচিত।

49 মাহদীয়া শহর কত হিজরিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়?

উত্তর মাহদীয়া শহর ৩০১ হিজরিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়। 50

উবায়দুল্লাহ আল মাহদী কীভাবে ফাতেমি খিলাফত কণ্টকমুক্ত করেন? উত্তর

৯০৯ খ্রিস্টাব্দে উবায়দুল্লাহ আল মাহদী আগলাবীয় রাজধানী রাকাদায় নবপ্রতিষ্ঠিত ফাতেমি খিলাফতের সূচনা করেন। প্রথমে তিনি প্রতিষ্ঠিত খিলাফতের শান্তি ও সংহতি বজায় রাখতে সচেষ্ট হন। সিংহাসন লাভের অল্পদিন পরেই উবায়দুল্লাহ সন্দেহের বশে আব্দুল্লাহ ও তার ভ্রাতা আব্বাসকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। এ আব্দুল্লাহ। উবায়দুল্লাহ আল মাহদীর সিংহাসন লাভের ক্ষেত্রে সহায়তা করেছিলেন। আল মনসুরের মতো তিনি আব্দুল্লাহকে হত্যা করে ফাতেমি খিলাফত কণ্টকমুক্ত করেন। 51 আল-মুইজের আসল নাম কী?

উত্তর আল-মুইজের আসল নাম আবু তামিম আল মাদ।

52 আল-মনসুর সম্পর্কে লেখ। কী জান? উত্তর

৯৪৬ সালে আল-কাঈমের মৃত্যুর পর স্বীয়পুত্র আবু তাহির আল- মনসুর উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি সিসিলি ও ক্যালব্রিয়ায় কর্তৃত্ব স্থাপন করেন। তিনি পূর্তকাজের প্রতিও আগ্রহী ছিলেন। তার অন্যতম পূর্তকাজ হলো মুসার উপকণ্ঠে ‘আল-মনসুরা’ নামে একটি সুদৃশ্য নগরী নির্মাণ। 53

খলিফা আল আজিজ কার মৃত্যুর পর সিংহাসনে আরোহণ করেন? উত্তর খলিফা আল আজিজ খলিফা আল মুইজের মৃত্যুর পর সিংহাসনে আরোহণ করেন।

54 খলিফা আল-আজিজের পরিচয় দাও।

উত্তর আবুল মনসুর নিজার। পিতার নাম আল মুইজ। উপাধি আল আজিজ বিল্লাহ (আল্লাহর দয়ায় মহিমান্বিত)। তিনি ৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে কায়রোর ফাতেমি সিংহাসনে আরোহণ করেন। আল আজিজই প্রথম খলিফা যিনি মিশর শাসনের কৃতিত্ব অর্জন করেন। তার সময়ে ফাতেমি খিলাফত সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে। 55

কোন অঞ্চল আল-মাগরিব নামে পরিচিত ছিল? উত্তর

উত্তর আফ্রিকা তৎকালীন যুগে ‘আল-মাগরিব’ নামে পরিচিত ছিল। 56 আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দাও।

উত্তর খলিফা আল-মুইজের সময় তার প্রাসাদের দক্ষিণে হযরত ফাতেমা (রা.)-এর স্মৃতি স্মরণে খলিফা আল মুইজের প্রধান সেনাপতি জওহরের নির্দেশনায় একটি মসজিদ নির্মিত হয়। মসজিদটির কাজ ৯৭০ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়ে ৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে শেষ হয়। পরবর্তীতে খলিফা আজিজ মসজিদটিতে একটি পাঠাগার এবং এরপর মসজিদটিকে একটি বিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করেন। এ বিশ্ববিদ্যালয় আজহার বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পবিত্র কুরআন ও হাদিস গুরুত্বের সাথে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হতো।

57 জওহর কে ছিলেন? উত্তর

আবুল হাসান জওহর বিন আব্দুল্লাহ ফাতেমি খলিফা আল মুইজের প্রধান সেনাপতি ছিলেন। 58

আল হাকিমের সিংহাসনারোহণ বর্ণনা কর।। উত্তর আল আজিজ সিরিয়া যাওয়ার লক্ষ্যে বিলবাইস নামক স্থানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। মৃত্যু নিকটবর্তী জেনে খলিফা আল আজিজ কাজী মুহাম্মদ বিন নোমান ও সেনাপতি ইবনে আম্মারকে ডেকে আল হাকিমের তত্ত্বাবধানের আদেশ দেন। আল হাকিম ১১ বছর বয়সে ইবনে আম্মারের তত্ত্বাবধানে সিংহাসনারোহণ করেন। ইবনে আম্মার আল হাকিমকে মুকুট পরিয়ে দেন। এরপর উপস্থিত সকলে আল হাকিমকে খলিফা হিসেবে সালাম করে।

59 খলিফা আল-মুইজের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

উত্তর খলিফা আল-মুইজের প্রধানমন্ত্রী জওহর। 60

কায়রো নগরী সম্পর্কে কী জান? উত্তর

কায়রো নগরীর প্রতিষ্ঠা ফাতেমিদের একক ও শ্রেষ্ঠ কীর্তি। মধ্যযুগের মুসলিম বিশ্বে শিক্ষা-সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে কায়রো নগরী বাগদাদ ও কর্ডোভা নগরীর সমপর্যায়ের ছিল। তখন কায়রো ছিল। উত্তর আফ্রিকার জ্ঞান-বিজ্ঞানের বাতিঘর। চতুর্থ ফাতেমি খলিফা আল মুইজের সেনাপতি জওহর ৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে মিশর জয় করেন এবং কায়রোকে রাজধানী উপযোগী করে নির্মাণ করেন। ৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে কায়রো রাজধানীর মর্যাদা লাভ করে। 61 ফাতেমি বংশ দ্বারা কাদেরকে বোঝায়?

উত্তর বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা হযরত ফাতেমা (রা.)- এর বংশধরদের ফাতেমি বলা হয়।

62 আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। উত্তর

খলিফার প্রাসাদের দক্ষিণে হযরত ফাতেমা (রা.)-এর স্মৃতি স্মরণে খলিফা মুইজের প্রধান সেনাপতি জওহরের নির্দেশনায় একটি মসজিদ নির্মিত হয়। মসজিদটির কাজ ৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে শুরু হয়ে ৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে শেষ হয়। খলিফা আজিজ মসজিদটিতে একটি পাঠাগার এবং এর পরে মসজিদটিকে একটি বিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করেন। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। 63

উবায়দুল্লাহ আল মাহদী কত বছর রাজত্ব করেন? উত্তর উবায়দুল্লাহ আল মাহদী ২৬ বছর রাজত্ব করেন।

64 ইসমাইলীয় কারা? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে শিয়া সম্প্রদায়ের ষষ্ঠ ইমাম জাফর সাদিকের মৃত্যুর পর শিয়া সম্প্রদায় দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। জাফর সাদিক মৃত্যুর পূর্বে তার জ্যেষ্ঠপুত্র ইসমাইলকে ইমামতির উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করেন। কিন্তু ইসমাইল পিতার মৃত্যুর পূর্বে মারা যান। অতঃপর জাফর সাদিক তার দ্বিতীয়পুত্র মুসা-আল-কাজিমকে ইমামতি দান করেন। তখন ইসমাইলীয়গণ মুসা আল-কাজিমকে ইমাম হিসেবে মেনে নেননি। তারা ইসমাইলের পুত্র মুহাম্মদ আল মাকতুমকে ইমাম হিসেবে প্রচার করেন। মূলত শিয়া সম্প্রদায়ের উক্ত দলটি ইসমাইলীয় নামে পরিচিত। 65

উবায়দুল্লাহ আল মাহদী কত খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন? উত্তর

উবায়দুল্লাহ আল মাহদী ৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন। 66 ফাতেমি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর হযরত আলী (রা.) এবং বিবি ফাতিমার মাধ্যমে যে বংশধারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাদেরকেই প্রধানত ফাতেমি বলা হয়। উবায়দুল্লাহ আল মাহদী ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে আগলাবীয় বংশের ধ্বংসস্তূপের ওপর উত্তর আফ্রিকায় আব্বাসি খিলাফতের প্রতিদ্বন্দ্বীরূপে একটি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজেকে ইসমাইল এবং হুসাইন বিন আলীর মাধ্যমে হযরতের কন্যা বিবি ফাতেমা জোহরার বংশধর বলে দাবি করতেন বলে ইতিহাসে তার প্রতিষ্ঠিত খিলাফত ফাতেমি নামে পরিচিত।

67 আল আজিজ কত খ্রিষ্টাব্দে ফাতেমি সিংহাসনে আরোহণ করেন? উত্তর

খলিফা আল আজিজ ৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে ফাতেমি সিংহাসনে আরোহণ করেন। 68

আল মুইজের মিশর বিজয় বর্ণনা কর। উত্তর ইখশিদীয় বংশীয় শাসনকর্তা কাফুর খলিফা আল মুইজের পূর্বে মিশরের শাসক ছিলেন। তার ২০ বছরের কুশাসনে মিশর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত দুর্বল ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। শাসকবর্গ বহুদিন ধরে সেনাবাহিনীর বেতন ও ভাতা দিতে না পারায় দেশের প্রতিরক্ষা অতিশয় দুর্বল হয়ে পড়ে। এমন সময় মিশরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ফাতেমি খলিফা আল মুইজকে মিশর দখল করার এবং তথায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আকুল আবেদন জানায়। তাদের ডাকে আল মুইজ ৯৬১ খ্রিস্টাব্দে তার প্রখ্যাত সেনাপতি জওহরের নেতৃত্বে এক বিশাল সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করে মিশর জয় করেন।

69 মিশরে ফাতেমিগণ কত বছর রাজত্ব করেন?

উত্তর ফাতেমিগণ মিশরে ২৬২ বছর রাজত্ব করেন। 70

জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চায় দারুল হিকমাহ-এর অবদান ব্যাখ্যা কর। উত্তর

জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চায় দারুল হিকমার অবদান অনস্বীকার্য। মিশরের বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী আলী ইবনে ইউসুফ, পদার্থবিজ্ঞানী ইবন-উল-হায়সাম দারুল হিকমায় গবেষণা শুরু করেন। তাছাড়া জ্ঞান- বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় দারুল হিকমাহ গবেষণা কাজে সহায়তা করে।এটি ছিল আল হাকিমের অনন্য সাধারণ কীর্তি। এটি প্রথমে বায়তুল হিকমা নামে নামকরণ হয়, পরবর্তীতে এটি দারুল হিকমা নামে পরিচিতি লাভ করে। আল হাকিম বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার জন্য বহু গ্রন্থরাজি গবেষণা ও সংগ্রহ করেন। তাই বলা যায়, দারুল হিকমাহ জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় অনবদ্য অবদান রাখে এবং পরবর্তীতে অনন্য জ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। 71 আল-কাইম কখন জেনোয়া অধিকার করেন?

উত্তর ৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে আল কাইম জেনোয়া অধিকার করেন।

72 উবায়দুল্লাহকে ‘মাহদী’ ঘোষণা করা হয় কেন? উত্তর

ফাতিমি খিলাফত তথা শিয়া মতবাদের প্রতি জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে আবু আবদুল্লাহ আস-শিয়ী ওবায়দুল্লাহকে মাহদী বা প্রতিশ্রুতি নেতা ঘোষণা করেন। রাক্কাদা মসজিদেও এ ঘোষণা দেওয়া হয়। আল মাহদী সুযোগ্য শাসক ছিলেন। তিনি ছিলেন পরম ধার্মিক মুসলমান। দীর্ঘ ২৬ বছর রাজত্ব করে তিনি ৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করে। 73

ফাতেমি কারা? উত্তর মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর জামাতা হযরত আলী (রা.) ও কন্যা হযরত ফাতেমা (রা.)-এর পরবর্তী বংশধরগণ ইতিহাসে ফাতেমি নামে পরিচিত।

74 দারুল হিকমার কার্যক্রম কীরূপ ছিল?

উত্তর ফাতেমি খলিফা আল হাকিম ১০০৫ খ্রি. কায়রোতে বিখ্যাত দারুল হিকমা বা বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পরম পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। এটি বাগদাদের বায়তুল হিকমার অনুকরণে নির্মিত হয়েছিল। শিয়া ধর্ম বিষয়ে আলোচনা ও গবেষণা ছাড়াও এখানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বহু অমূল্য গ্রন্থরাজির সমাবেশ ছিল। দেশ-বিদেশের বহু প্রখ্যাত পন্ডিত ব্যক্তি তথায় হাজির হতেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন আলাপ- আলোচনায় অংশগ্রহণ করতেন। 75

আল কাইম কত খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতারোহণ করেন? উত্তর

আল কাইম ৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ক্ষমতারোহণ করেন। 76 সাবিয়া বলতে কী বোঝায়?

উত্তর মুহাম্মদ আল মাকতুমের অনুসারী সাত জন ইমামে যারা বিশ্বাস করে তারাই ইতিহাসে সাবিয়া নামে পরিচিত। শিয়ারা তাদের ৬ষ্ঠ ইমাম জাফর আস সাদিক পর্যন্ত ইমাম নিয়ে মতপার্থক্য করে না। জাফর আস সাদিক মৃত্যুর পূর্বে স্বীয়পুত্র ইসমাইলকে ইমাম মনোনীত করেন। কিন্তু জাফরের পূর্বে ইসমাইলের মৃত্যু হলে জাফর অপর পুত্র’ মুসা আল কাজিমকে ইমাম মনোনীত করেন। ইসমাইলীয়রা মুসা আল কাজিমকে অস্বীকার করে এবং তাদের মতে, ইসমাইলের পর থেকে জাহেরি তথ্য প্রকাশ্য ইমামত শেষ এবং মুহাম্মদ আল মাকতুম হতে বাতেনি তথা গুপ্ত প্রভাবান্বিত হয়েছিল এবং তারা সাত জন ইমামে বিশ্বাসী বলে তাদেরকে সাবিয়া বলা হয়।

77 মিশরে আইয়ুবি বংশ প্রতিষ্ঠিত হয় কখন? উত্তর

মিশরে আইয়ুবি বংশ প্রতিষ্ঠিত হয় ১১৭১ খ্রিস্টাব্দে। 78

ইতিহাসে ‘আলাবি’ নামে পরিচিত কারা? উত্তর মহানবি (সা.)-এর ওফাতের পর একদল মুসলমান হযরত আলী (রা.)-কে সমর্থন করে। তারা খিলাফতের প্রথম তিন খলিফাকে বৈধ হিসেবে মনে করেন না। এরা শিয়া সম্প্রদায় নামে পরিচিত। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। মূলত ইসলামের ‘খিলাফত’ ও ‘ইমামত’ প্রশ্নে যে দুটি দলের সৃষ্টি হয়েছিল তাদের মধ্যে হযরত আলী (রা.)-কে সমর্থন করে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়েছিল তারাই শিয়া। আর ইতিহাসে এ শিয়া সম্প্রদায়ই ‘আলাবি’ নামে পরিচিত ছিল।

79 ফাতেমি বংশের সর্বশেষ শাসক কে?

উত্তর ফাতেমি বংশের সর্বশেষ শাসক বা খলিফা ছিলেন খলিফা আল আজিদ। 80

দারুল হিকমা কী? উত্তর

বাগদাদের ‘বায়তুল হিকমা’র অনুকরণে মিশরের কায়রোতে” ফাতেমি খলিফা আল হাকিম কর্তৃক ১০০৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান- বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানই হলো ‘দারুল হিকমা’ বা বিজ্ঞানভবন। এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষণীয় বিষয়সমূহের মধ্যে ছিল জোতিষশাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যা, ব্যাকরণ প্রভৃতি। এর পাশে একটি লাইব্রেরিও প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীকালে এ বিদ্যালয় শিয়া মতাবলম্বীদের শিক্ষার কেন্দ্ররূপে পরিণত হয় এবং এতে শিয়া শিক্ষাদীক্ষা ও রীতিনীতি বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। 81 ইব্রাহিম বিন আগলাব কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর ইব্রাহিম বিন আগলাব ৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

82 উত্তর আফ্রিকায় শিয়ারা যে ধর্মীয় আন্দোলনের আশ্রয় নেয়, তা ব্যাখ্যা কর উত্তর

উত্তর আফ্রিকার শিয়ারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য ধর্মীয় আন্দোলনের আশ্রয় নেয়। এ আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও সমর্থক ছিলেন পারস্যবাসী আব্দুল্লাহ-বিন-মাইমুন। তিনি নবম শতাব্দীর শেষভাগে ফকির, দরবেশ ও বণিক ছদ্মবেশে মুসলিম জাহানের প্রায় সর্বত্র, এমনকি উত্তর আফ্রিকায়ও প্রচারক বা ‘দাঈ’ পাঠাতে থাকেন। এ প্রচারকদের মূল কাজ ছিল ইসমাইলীয় মতবাদের বীজ বপন করা। আব্দুল্লাহ বিন মাইমুন ৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। 83

ফাতেমি বংশের প্রতিষ্ঠাতা শাসকের নাম লেখ। উত্তর ফাতেমি বংশের প্রতিষ্ঠাতা শাসকের নাম উবায়দুল্লাহ আল মাহদি।

84 ফাতেমি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা কে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ফাতেমি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা আল-মুইজ। ৯৫২ খ্রিস্টাব্দে আল-মনসুরের মৃত্যুর পর আবু তামিম মা’আদ আল-মুইজ উপাধি ধারণ করে ফাতেমি বংশের চতুর্থ খলিফা হিসেবে দয়িত্ব গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে ফাতেমি সাম্রাজ্য বিশাল বিস্তৃতি লাভ করে এবং গৌরবের চরম শিখরে আরোহণ করে। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক লেনপুল বলেন, “চতুর্থ খলিফা আল-মুইজের রাজত্বকাল থেকে ফাতেমিরা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।” আল-মুইজের শাসনকালে উত্তর আফ্রিকা সভ্যতা ও সমৃদ্ধির সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে।