Board Q analysis Bio1 Ch8

অবস্থানের ভিত্তিতে ভাজক টিস্যু তিন প্রকার। যথা- ১. শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যু ২. নিবেশিত ভাজক টিস্যু এবং ৩. পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যু। নিচে চিত্রসহ টিস্যুগুলোর শ্রেণিবিন্যাস বর্ণনা করা হলো-

চিত্রঃঅবস্থান অনুসারে কোষের প্রকারভেদ (ডায়াগ্রামেটিক)

জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধের উপর একই গুচ্ছে যুক্তভাবে অবস্থান করলে তাকে সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডল বলে। ফ্লোয়েমের সংখ্যা ও অবস্থানের উপর নির্ভর করে সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডলকে আবার দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে; যথা:

 (i) সমপার্শ্বীয় এবং

(ii) সমদ্বিপার্শ্বীয়

(i) সমপার্শ্বীয়: জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু একই ব্যাসার্ধে পাশাপাশি অবস্থান করলে তাকে সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। পুষ্পক উদ্ভিদের কাণ্ডে এটি দেখা যায়।এই ভাস্কুলার বান্ডলকে আবার দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

(A) মুক্ত সমপার্শ্বীয়: জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম থাকলে তাকে মুক্ত সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে; যেমন—দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদও নগ্নবীজী উদ্ভিদের কাণ্ড।

(B) বদ্ধ সমপার্শ্বীয় : জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মধ্যখানে ক্যাম্বিয়াম না থাকলে তাকে বন্ধ সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে; যেমন-একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডের ভাস্কুলার বান্ডল ।

(ii) সমদ্বিপার্শ্বীয় : যে ভাস্কুলার বান্ডলের মাঝখানে জাইলেম এবং তার ওপর ও নিচ উভয় পাশে ফ্লোয়েম টিস্যু থাকে তাকে সমদ্বিপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। সমদ্বিপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল সব সময়ই মুক্ত।

জাইলেম ও ফ্লোয়েমের পারস্পরিক অবস্থানের ভিত্তিতে ভাস্কুলার বান্ডলকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- i. সংযুক্ত ii. অরীয় এবং iii. কেন্দ্রীয়। 

i. সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডল: যে ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু একই ব্যাসার্ধের উপর একই সঙ্গে অবস্থান করে তাকে সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডল বলে। এটি আবার দুই প্রকার- ক. সমপার্শ্বীয় খ. সমদ্বিপার্শ্বীয়। 
ক. সমপার্শ্বীয়: একখণ্ড ফ্লোয়েম টিস্যু এবং এক খণ্ড জাইলেম টিস্যু একই ব্যাসার্ধে অবস্থান করে এবং ফ্লোয়েম বাইরের দিকে এবং জাইলেম ভেতরের দিকে বিন্যস্ত থাকে তাকে সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। যেমন- পুষ্পক উদ্ভিদের কাণ্ডে এ ধরনের ভাস্কুলার বান্ডল দেখা যায়। 
খ. সমদ্বিপার্শ্বীয়: যে ভাস্কুলার বান্ডলের মাঝখানে জাইলেম এবং তার উপর ও নিচ উভয় পাশে দুই খণ্ড ফ্লোয়েম টিস্যু থাকে তাকে সমদ্বিপার্শীয় ভাস্কুলার বান্ডলু বলে। যেমন- দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের (লাউ, কুমড়া ইত্যাদি) কাণ্ডে এ ধরনের ভাস্কুলার বান্ডল দেখা যায়। 
ii. অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল: যে ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুগুচ্ছ পৃথকভাবে এবং পর্যায়ক্রমে অক্ষীয় ব্যাসার্ধে বিন্যস্ত থাকে, তাকে অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। যেমন- সপুষ্পক উদ্ভিদের মূলে এ ধরনের ভাস্কুলার বান্ডল দেখা যায়। 
iii. কেন্দ্রীয় ভাস্কুলার বান্ডল: যে ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম অথবা ফ্লোয়েমের যেকোনো একটি কেন্দ্রে থাকে এবং অন্যটি তাকে চারদিক থেকে ঘিরে রাখে তাকে কেন্দ্রীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। যেমন- টেরিডোফাইটা বা ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদে এ ভাস্কুলার বান্ডল বেশি দেখা যায়।

হাইডাথোডের গঠন ও কাজ বর্ণনা করা হলো-
গঠন: হাইডাথোড এক বিশেষ ধরনের পানি নির্মোচনকারী অঙ্গ। হাইডাথোডে একটি পানি গহ্বর বা পত্ররন্দ্রীয় গহ্বর থাকে। গহ্বরের উপরের দিকে রক্ষীকোষে আবদ্ধ একটি রন্ধ্র থাকে। গহ্বরের নিচে কিছু অসংলগ্ন প্যারেনকাইমা কোষ থাকে, এগুলোকে এপিথেম বা এপিথেলিয়াম বলে। এপিথেমের কোষগুলো ঘন সাইটোপ্লাজমপূর্ণ, ক্ষুদ্রাকার ও পাতলা কোষপ্রাচীরযুক্ত।
এপিথেমের নিচে ট্রাকিডের প্রান্ত শেষ হয়। মূলজ চাপে ট্রাকিড থেকে পানি বের হয়ে আসে তারপর এপিথেমের মাধ্যমে বিন্দু আকারে রন্দ্রপথে জমা হয়। ভোরে এসব বিন্দু দেখা যায়। অন্য সময় পানি দ্রুত বাষ্পাকারে নির্গত হয় বলে তা দেখা যায় না। মাটিতে প্রচুর পানি থাকলে এবং আবহাওয়া অতিরিক্ত আর্দ্র থাকলে এ ঘটনা ঘটে থাকে। কচু, টমেটো, ধান, স্ট্রবেরি, দোপাটি, প্রিমুলা, ঘাস প্রভৃতি গাছের পাতার কিনারায় হাইডাথোড বা পানিপত্ররন্ধ্র দেখা যায়। হাইডাথোডগুলো দিনের চেয়ে রাতে বেশি কার্যকর থাকে।
কাজ:
১. হাইডাথোড দিয়ে সরাসরি পানি নির্গমন ঘটে।
২. পানি নির্গমন এর সময় লবণের মুক্তি ঘটে।
৩. প্রস্বেদন কম হলে পানি নির্গমন বেশি হয়।

একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডের অন্তর্গঠন চিত্রসহ উল্লেখ করা হলো-
১. সাধারণত কান্ডরোম অনুপস্থিত।
২. বহিঃত্বকে কিউটিকল উপস্থিত।
৩. অধঃত্বক আছে এবং সাধারণত স্ক্লেরেনকাইমা কোষ দিয়ে গঠিত।
৪. ভাস্কুলার বান্ডলগুলো গ্রাউন্ড টিস্যুতে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো।
৫. মেটাজাইলেম পরিধির দিকে এবং প্রোটোজাইলেম কেন্দ্রের দিকে অবস্থিত।
৬. ভাস্কুলার বান্ডল সংযুক্ত, সমপার্শ্বীয় ও বদ্ধ (জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝে ক্যাম্বিয়াম নেই) প্রকৃতির।
৭. জাইলেম Y বা আকৃতির হয়ে থাকে এবং ফ্লোয়েমে প্যারেনকাইমা কোষ থাকে না।

, চিত্রটি একটি একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডের অন্তর্গঠন।

ভাস্কুলার বান্ডলটি অরীয় এবং সংখ্যায় সাতটি। নিচে একবীজপত্রী উদ্ভিদ মূলের অন্তর্গঠনের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো- 

চিত্র: একবীজপত্রী উদ্ভিদ মূলের অন্তর্গঠনের চিহ্নিত চিত্র

একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূল (কচু) এবং একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ড (ভুট্টা কাণ্ড)। তারা নমুনা দুটির মধ্যে অনেক অন্তর্গঠনগত শারীরবৃত্তীয় পার্থক্য খুঁজে পেয়েছিল নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-