ব্রায়োফাইটা অর্থাৎ Riccia। Riccia এর থ্যালাসের প্রস্থচ্ছেদকে তিনটি পৃথক অঞ্চলে বিভক্ত দেখা যায় :
i) উপরের দিকে ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত ফটোসিনথেটিক বা আত্তীকরণ অঞ্চল।
ii) নিচের দিকে বর্ণহীন সঞ্চয়ী অঞ্চল
iii) এবং নিম্নত্বক।
বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করা হলো-
i. Riccia-র দেহ থ্যালয়েড অর্থাৎ দেহকে মূল, কান্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না।
ii. থ্যালাসটি সবুজ, শায়িত এবং বিষমপৃষ্ঠ।
iii. থ্যালাস দ্ব্যাগ্র শাখান্বিত।
iv. Riccia গ্যামিটোফাইটিক উদ্ভিদ এবং এরা সাধারণত স্যাঁতসেঁতে মাটি এবং ভিজা প্রাচীর গাত্রে জন্মে থাকে।
V. Riccia থ্যালাসগুলো গোলাপের পাপড়ির ন্যায় চক্রাকারে অবস্থান করে।
vi. থ্যালাসের উপর পৃষ্ঠে লম্বালম্বিভাবে মধ্য শিরা থাকে এবং শিরা বরাবর লম্বা খাঁজ থাকে।
vii. থ্যালাসের প্রতিটি শাখার শীর্ষে একটি খাঁজ থাকে, যাকে অগ্রস্থ খাঁজ বলে।
viii. থ্যালাসের নিচে বহুকোষী স্কেল এবং এককোষী রাইজয়েড দেখা যায়।
Pteris.
এটিকে সানফার্ন বলা হয়।এটিতে জনুক্রম ঘটে।কোনো জীবের জীবন চক্র সম্পন্ন করার জন্য পর্যায়ক্রমে ডিপ্লয়েড বা স্পোরোফাইট এবং হ্যাপ্লয়েড বা গ্যামিটোফাইট জনুর আবির্ভাবকে জনুক্রম বলে। Pteris উদ্ভিদের জীবন চক্রে সুস্পষ্টভাবে দুটি জনুর পর্যায়ক্রমিক আবর্তন ঘটে। একটি হলো স্পোরোফাইটিক জনু এবং অপরটি হলো গ্যামিটোফাইটিক জনু। নিচে Pteris-এর জনুক্রম এর বর্ণনা দেওয়া হলো-
স্পোরোফাইটিক জনু :
Pteris-এর উদ্ভিদদেহ স্পোরোফাইটিক অর্থাৎ ডিপ্লয়েড । স্পোরোফাইট প্রজনন ঋতুতে পত্রক কিনারা বরাবর সোরাস উৎপন্ন করে। সোরাস হলো স্পোরাঞ্জিয়ামের গুচ্ছ। প্রতিটি স্পোরাঞ্জিয়ামের ক্যাপসিউলের ভেতরে ডিপ্লয়েড স্পোর-মাতৃকোষ থাকে। স্পোর-মাতৃকোষ মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড স্পোর উৎপন্ন করে। স্পোর সৃষ্টির পর ক্যাপসিউলের প্রাচীর বিদীর্ণ করে স্পোরগুলো বেরিয়ে আসে। এভাবে স্পোরোফাইটিক জনুর সমাপ্তি ঘটে।
গ্যামিটোফাইটিক জনু :
স্পোর-মাতৃকোষ থেকে উৎপন্ন হ্যাপ্লয়েড স্পোর গ্যামিটোফাইটের প্রথম ধাপ। এই হ্যাপ্লয়েড স্পোর অঙ্কুরিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড প্রোথ্যালাস নামক গ্যামিটোফাইটিক পর্যায়ের সৃষ্টি করে। প্রোথ্যালাসে আর্কিগোনিয়াম ও অ্যান্থেরিডিয়াম সৃষ্টি হয় এবং এদের ভেতরে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু সৃষ্টি হয়। এদের মধ্যে নিষেকের ফলে সৃষ্টি হয় ডিপ্লয়েডে উস্পোর(2n) যা স্পোরোফাইটিক পর্যায়ের প্রথম ধাপ। উস্পোর অঙ্কুরিত হয়ে এবং ক্রমাগত মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে সৃষ্টি করে ভ্রূণ ও পূর্ণাঙ্গ, স্বভোজী স্পোরোফাইটিক Pteris উদ্ভিদ।সুতরাং বলা যায়,Pteris এর জীবন চক্রে জনুক্রম সম্পন্ন হয় এবং এরূপ জনুক্রমকে বলে হেটারোমরফিক জনুক্রম ।
Pteris এবং Riccia উদ্ভিদ দুটির পার্থক্য নিম্নরূপ-
| Pteris | Riccia |
| i. উদ্ভিদটি স্পোরোফাইট ও সবুজ বর্ণের হৃৎপিণ্ডকার প্রোথ্যালাস নামে পরিচিত। | i. উদ্ভিদটি গ্যামিটোফাইট ও থ্যালাসসদৃশ। |
| ii. দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। | ii. দেহকে মূলত কান্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। |
| iii. পরিবহন কলাগুচ্ছ বিদ্যমান। | iii. কাণ্ডে পরিবহন কলাগুচ্ছ নেই। |
| iv. কাণ্ড র্যামেন্টা নামক শল্ফপত্র দ্বারা আবৃত থাকে। | iv. কান্ড বায়বীয় ও শল্কপত্র বিহীন। |
| v. গ্যামিটাফাইট স্পোরোফাইটের উপর নির্ভরশীল। | v. স্পোরোফাইট গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। |
Ulothrix নামক শৈবাল। এর যৌন জনন নিচে বর্ণনা করা হলো-
Ulothrix শৈবাল হেটারোথ্যালিক। এর যৌন মিলন আইসোগ্যামাস প্রকৃতির। হোল্ডফাস্ট ছাড়া যে কোনো একটি কোষের প্রোটোপ্লাস্ট বিভাজনের মাধ্যমে ৮-৬৪টি অপত্য প্রোটোপ্লাস্ট সৃষ্টি করে। প্রতিটি অপত্য প্রোটোপ্লাস্ট একটি নাশপাতি আকৃতির বাইফ্লাজিলেট গ্যামিটে রূপান্তরিত হয়। একটি ভেসিকল দ্বারা পরিবেষ্টিত অবস্থায় এরা অবস্থান করে একে বলা হয় গ্যামিট্যাঞ্জিয়াম। এরা গ্যামিট্যাঞ্জিয়ামের প্রাচীরে সৃষ্ট ছিদ্রপথে বের হয়ে আসে এবং ভেসিকলের অবলুপ্তির পর মুক্তভাবে সাঁতরে বেড়ায়। দুটি ভিন্ন ফিলামেন্ট হতে দু’টি গ্যামিট এসে যৌন মিলন সম্পন্ন করে এবং একটি চার ফ্লাজেলাযুক্ত ডিপ্লয়েড জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোট কিছুকাল সচল থাকে এবং পরে বিশ্রামকাল কাটায়। বিশ্রামের পূর্বে এরা প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করে এবং চারদিকে একটি প্রাচীর সৃষ্টি করে। বিশ্রামকাল শেষে এতে মায়োসিস বিভাজন ঘটে এবং ৪-১৬ টি হ্যাপ্লয়েড জুস্পোর সৃষ্টি হয়। জাইগোট প্রাচীর বিদীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে জুস্পোরগুলো বের হয়ে আসে এবং অঙ্কুরায়ন ও বিভাজনের মাধ্যমে নতুন উদ্ভিদে পরিণত হয়।
এভাবেই উদ্দীপকের M উদ্ভিদ অর্থাৎ Ulothrix শৈবালের যৌন জনন ঘটে।







