Board Prep BOM 2 CH 5

1/ কর্মীসংস্থান : কর্মীসংস্থান বলতে কর্মী সংগ্রহের পাশাপাশি কর্মী নির্বাচন, নিয়োগ, উন্নয়ন, মূল্যায়ন, পদোন্নতি ও অবসান সংক্রান্ত যাবতীয় কাজকেই বোঝায়।কর্মীরাই হলো প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি তাদের ছাড়াও উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখা অসম্ভব।  প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, মূলধনসহ যাবতীয় উপকরণে সর্বোচ্চ ব্যবহার নির্ভর করে দক্ষ কর্মীদের উপর। তাই কর্মীসংস্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান  উপযুক্ত ও দক্ষ কর্মী বাহিনী গড়ে তোলার চেষ্টা করে।  কর্মীদের উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা কর্মীসংস্থানের অন্তর্ভুক্ত। মানব সভ্যতার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে কর্মী উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কর্মসংস্থান ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

2/ অভ্যন্তরীণ উৎস : প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের মধ্য থেকে বা তাদের মাধ্যমে বা তাদের পরিচয়ে কর্মী  সংগ্রহ করা হলে  অভ্যন্তরীণ উৎস বলে। কর্মী সংগ্রহের অভ্যন্তরীণ উৎসের মত অন্যতম হলো সংশ্লিষ্ট বিভাগের সুপারিশ। কখনো কখনো বিভাগের কর্মকর্তা সুপারিশে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে এতে বিশ্বস্ত ও দক্ষ কর্মী সংগ্রহ করা সহজ হয়। নিয়োজিত কর্মী বা তাদের সুপারিশক্রমে অথবা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তর থেকে কর্মী সংগ্রহ করা হয়। যেমন- সহকারী ব্যবস্থাপককে পদোন্নতি দিয়ে ব্যবস্থাপক পদে উন্নীত করা অথবা প্রতিষ্ঠানের কোনো শাখা ব্যবস্থাপককে অন্য আরেকটি শাখার ব্যবস্থাপক পদে বদলির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ উৎস হতে কর্মী সংগ্রহ বলে গণ্য হয়।

3/ বাহ্যিক উৎস : প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ পূরণের জন্য বা প্রয়োজনীয় জনশক্তি সংগ্রহের জন্য প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে লোক সংগ্রহ করা হলে উক্ত উৎসকে কর্মী সংগ্রহের বাহ্যিক উৎস বলে। বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ পদ্ধতিকে অধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হয়ে থাকে। কর্মী সংগ্রহের বাহ্যিক উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে চাকরি সন্ধানী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চাকরি বিনিয়োগ কেন্দ্র, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি।

4/ অভ্যন্তরীণ পদোন্নতি উৎস : অভ্যন্তরীণ এ উৎসে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীকে তার বর্তমান পদ হতে উচ্চতর দায়িত্ব ও পদমর্যাদা সম্পন্ন কোনো পদে উন্নীত করে। বর্তমান বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের পদোন্নতি প্রদান মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এতে কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি পায় এবং যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মীদের প্রতিষ্ঠানে ধরে রাখা সম্ভব হয়।

5/ পদোন্নতি : প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীকে তার বর্তমান পদ হতে উচ্চতর দায়িত্ব ও পদমর্যাদাসম্পন্ন কোনো পদে উন্নীত করাকে পদোন্নতি বলে। বর্তমান বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের পদোন্নতি প্রদান মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। যেকোনো প্রতিষ্ঠানেই পদোন্নয়ন কর্মীদের উত্তম কাজের পুরস্কার হিসেবে গণ্য। এতে কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি পায় এবং যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মীদের প্রতিষ্ঠানে ধরে রাখা সম্ভব হয়।

6/ জ্যেষ্ঠতাভিত্তিক পদোন্নতি : যে পদ্ধতিতে জ্যেষ্ঠতাকে ভিত্তি করে পদোন্নতি দেওয়া হয়, তাকে জ্যেষ্ঠতাভিত্তিক পদোন্নতি বলা হয়। এ পদ্ধতিতে যিনি আগে নিয়োগ পাবেন তার পদোন্নতি আগে হবে । এটি একটি সরল পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জ্যেষ্ঠতম কর্মী ক্রমানুসারে পদোন্নতি পেয়ে থাকেন। ঝামেলামুক্ত হওয়ায় এটি একটি ভালো পদ্ধতি হলেও প্রতিভা বিকাশে সৃজনশীল নয়।

7/ যোগ্যতাভিত্তিক / মেধাভিত্তিক পদোন্নতি : প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের বিভিন্ন যোগ্যতা ও দক্ষতার উপর ভিত্তি করে যে পদোন্নতি দেওয়া হয় তাকে যোগ্যতাভিত্তিক / মেধাভিত্তিক পদোন্নতি বলে।এক্ষেত্রে কর্মীদের কার্যকালের জ্যেষ্ঠত্ব উপেক্ষা করে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া হয় বলে কর্মীরা সর্বশক্তি প্রয়োগ করে স্বীয় যোগ্যতা বৃদ্ধিতে সচেষ্ট হয়। ফলে কর্মীর কার্যদক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নতি নিশ্চিত হয়।

8/ জ্যেষ্ঠত্ব ও যোগ্যতাভিত্তিক পদোন্নতি : প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের জ্যেষ্ঠত্ব ও যোগ্যতা উভয়ের সংমিশ্রণে যে পদোন্নতি দেয়া হয় তাকে জ্যেষ্ঠত্ব ও যোগ্যতাভিত্তিক পদোন্নতি বলে। এটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বেশ কার্যকর। এতে জ্যেষ্ঠত্বের সাথে সাথে কর্মীদের যোগ্যতা ও মেধাকে সমভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়। এ পদ্ধতিতে একাধিক কর্মী সমমেধা ও যোগ্যতার অধিকারী হলে তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত জ্যেষ্ঠত্বকেই পদোন্নতি দেওয়া হয়।

9/ কর্মী নির্বাচনের যোগ্যতা পরীক্ষা পদ্ধতিটি : সংগৃহীত কর্মীদের মধ্য হতে সর্বোত্তম কর্মী বাছাই করার প্রক্রিয়াকে কর্মী নির্বাচন বলে। যোগ্য কর্মী ছাড়া লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। আর যোগ্য কর্মী পেতে হলে কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্যতম একটি পদ্ধতি হচ্ছে যোগ্যতা পরীক্ষা।

10/ শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ : মি. হাসিবের প্রশিক্ষণ পদ্ধতিটি হচ্ছে শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ। কোনো অভিজ্ঞ তত্ত্বাবধায়কের অধীনে কতিপয় কর্মীকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কার্যক্ষেত্রে হাতেকলমে ও তাত্ত্বিক বিষয়ে যে জ্ঞান দেওয়া হয় তাকে শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ বলে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে কর্মীকে নির্দিষ্ট কাজে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের পূর্বে তাকে ঐ কাজের বিভিন্ন বিষয়ে হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। অতঃপর শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ শেষে কর্মীকে Churanto ভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।


11/  প্রশিক্ষণের আলোচনা পদ্ধতি : এ প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে বক্তা প্রশিক্ষণার্থীদের সামনে শুধুমাত্র তার বক্তব্যই উপস্থাপন করে না সেই সাথে প্রশ্ন করার সুযোগ দেয় ও তার উত্তর প্রদানের মাধ্যমে অধিক জ্ঞানদানের প্রয়াস চালায়। এরূপ প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে একজন দলনেতা থাকেন যিনি এক বা একাধিক সমস্যার বিশদ বর্ণনা, উপদেশ, দিক-নির্দেশনা এবং ফলাফলের উপর পর্যালোচনা করে থাকেন।

12/ প্রশিক্ষণই কর্মীকে তার প্রতিষ্ঠান ও কাজ সম্পর্কে অবগত করে (Aita akta Uktii) : প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের দক্ষতা ও পেশাগত জ্ঞান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মীদেরকে হাতেনাতে, যে শিক্ষাদান করা হয় তাকে প্রশিক্ষণ বলে। প্রশিক্ষণ এমন একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কর্মীদের বিশেষ কার্যদক্ষতা, যোগ্যতা ও প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং কর্মীকে অধিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে গড়ে তোলে।

13/ পদ পরিবর্তন পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ : এ প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে কর্মীকে একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অর্থাৎ এই পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরকে এক পদ হতে অন্য পদে বদলি করে সকল কাজের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলা হয়।

14/ কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যোগ্যতা ও বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষা : আবেদনকারীদের মধ্য হতে যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী বাছাই করাকে কর্মী নির্বাচন বলে। কর্মী নির্বাচনের অনেকগুলো পরীক্ষার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যোগ্যতা ও বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষা। এক্ষেত্রে যোগ্যতা পরীক্ষায় কর্মীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা যাছাই করা হয়। অন্যদিকে বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষায় প্রার্থীর চিন্তার গভীরতা, পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষমতা, মানসিক যোগ্যতা পরীক্ষা করা হয়।

15/ কর্মী নির্বাচনের নিযুক্তি পরীক্ষা : সংগৃহীত কর্মীদের মধ্য হতে সর্বোত্তম কর্মী বাছাই করার প্রক্রিয়াকে কর্মী নির্বাচন বলে। যোগ্য কর্মী ছাড়া লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। আর যোগ্য কর্মী পেতে হলে কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিকল্প নেই।. এক্ষেত্রে কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্যতম একটি পদ্ধতি হচ্ছে নিযুক্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণপত্র ইস্যু

16/ কর্মীসংস্থান প্রক্রিয়ার কর্মী নির্বাচন পর্যায় : কর্মী নির্বাচন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সংগৃহীত প্রতিভাবান এবং সম্ভাবনাময় কর্মীদের মধ্য হতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য যথোপযুক্ত কর্মী বাছাই ও নির্বাচন করা হয়। প্রাতিষ্ঠানিক কার্য সম্পাদনের জন্য যোগ্য কর্মী প্রয়োজন। আর যোগ্য কর্মী পেতে হলে কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিকল্প নেই। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আবেদনকৃত কর্মীদের মধ্য হতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী রেখে অবশিষ্টদের বাদ দেওয়া হয়।

17/ ব্যক্তিগত ইতিহাস অনুসন্ধান : সংগৃহীত কর্মীদের মধ্য হতে সর্বোত্তম কর্মী বাছাই করার প্রক্রিয়াকে কর্মী নির্বাচন বলে। যোগ্য কর্মী ছাড়া লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয় আর যজ্ঞকর্মী পেতে হলে কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিকল্প নেই। কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অন্যতম একটি পদ্ধতি হচ্ছে ব্যক্তিগত ইতিহাস অনুসন্ধান। এর মাধ্যমে কর্মীর পারিবারিক অবস্থা জানা যায়। আর পারিবারিক অবস্থা জানা গেলে কর্মীর দোষ, গুণ ইত্যাদি ও জানা যায়।

18/ কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পদ্ধতি : যে প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে একজন কর্মী কাজে জড়িত থেকে কাজ সম্পর্কে বাস্তব ও হাতেনাতে দক্ষতা অর্জন করে তাকে কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ বলে । কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ধাপ হলো-

১. শিক্ষানবিস প্রশিক্ষণ : কোন অভিজ্ঞতা বোধহায় একের অধীনে কতিপয় কর্মীকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কার্যক্ষেত্রে  হাতে কলমে ও তাত্ত্বিক বিষয়ে যে জ্ঞান দেওয়া হয় তাকে শিক্ষানবিশ পদ্ধতি বলে 

২. পদ পরিবর্তন: যে প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে কর্মীকে একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তাকে পদ পরিবর্তন এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ বলে।

৩. প্রবেশনা পদ্ধতি: যে প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে নির্ধারিত শিক্ষায়তনে একটি নির্দিষ্ট শিক্ষা করছে প্রার্থীদেরকে ভর্তি করে তাদেরকে তত্ত্বমূলক জ্ঞান দান করা হয় এবং মাঝে মাঝে তাদেরকে কোন ব্যবসায়ের প্রতিষ্ঠানের নিয়ে ওই সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান দেওয়া হয় তাকে প্রশিক্ষণের প্রবেশনা পদ্ধতি বলে।

৪. কোচিং: যে প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে শিক্ষানবিশ কর্মীগণ একজন তত্ত্বাবধায়ক সুপারভাইজার কোচের অধীনে থেকে কাজের পদ্ধতি ও কুসুর সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করে তাকে প্রশিক্ষণের কোচিং পদ্ধতি বলে।

৫. পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি: যে প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে একজন নির্বাহী খুব কাছে থেকে কর্মীদের কাজ দেখেন এবং ভুলত্রুটি হলে তার সংশোধনের ব্যবস্থা করেন তাকে প্রশিক্ষণের পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি বলে।

19/ লাগামহীন নেতৃত্ব (Non Chapter) : যে নেতৃত্ব ব্যবস্থায় কর্ম বিমুখ নেতা নিজে কাছ থেকে দূরে থাকেন এবং নির্দিষ্ট অধস্থনদের ওপর সর্বোচ্চভাবে নির্ভর করেন তাদেরকে লাগামহীন নেতৃত্ব বলে। নেতৃত্বে অধস্তনরা অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে। এক্ষেত্রে নেতার কর্ম বিমুখ থাকে এবং নিজেকে অধস্থনদের কাছ থেকে দূরে রাখে। এতে প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়।

20/ ব্যবস্থাপনার উচ্চ স্তর : ব্যবস্থাপনার যে অংশের প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য নির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ ইত্যাদি মানসিক ও বুদ্ধিভিত্তিক কার্যাবলীর সম্পাদন করা হয় তাকে উচ্চ স্তরের ব্যবস্থাপক বলে। শীর্ষস্থানীয় নির্বাহীদের সমন্বয়ে উচ্চ স্তরের ব্যবস্থাপনা গঠিত। প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ, পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রবৃত্তি ব্যক্তিবর্গ উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার অন্তর্গত।

21/  প্রশিক্ষণের অধিবেশন পদ্ধতি : যে প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে একটা অধিবেশনে প্রশিক্ষনার্থিদের পূর্ব নির্ধারিত কোন বিষয় নিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তাকে প্রশিক্ষণের অধিবেশন পদ্ধতি বলে। অধিবেশনের কর্মসূচি অভ্যন্তরীণ অথবা বাহ্যিক দুই ধরনের হতে পারে।এ ব্যবস্থায় দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগণ বিভিন্ন পর্যায়ে সারগর্ভ আলোচনা করে প্রশিক্ষনার্থীদের তাত্তিক জ্ঞান দান করে।

22/ নিযুক্তি পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতি : সংগৃহীত কর্মীদের মধ্য হতে সর্ব উত্তম কর্মী বাছাই করার প্রক্রিয়াকে কর্মী নির্বাচন বলে।যোগ্য কর্মী ছাড়া লক্ষ্য পৌঁছানো সম্ভব নয়। আর যোগ্য কর্মী পেতে হলে কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়ার কোন বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অন্যতম একটি পদ্ধতি হচ্ছে নিযুক্তি পরীক্ষা গ্রহণ। এ পদ্ধতিতে কর্মীদের শারীরিক যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা যাচাই করে প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়।

23 /  প্রাথমিক নির্বাচন : লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে কোন প্রার্থীর যোগ্য বলে বিবেচিত হলে তাকে প্রাথমিক নির্বাচন বলা হয়। এক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার অথবা উভয়ের ভিত্তিতে মেধাতালিকা করে তার মধ্য থেকে নির্বাচন কার্য সম্পাদন করা হয়। অবশ্য অনেক ক্ষেত্রে এরূপ নির্বাচনের সংবাদপ্রার্থীকে জানানো হয় না।

24/ প্রশিক্ষণের প্রবেশনা পদ্ধতি : যে প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে নির্ধারিত শিক্ষায়তনে একটি নির্দিষ্ট শিক্ষা করছে প্রার্থীদের ভর্তি করে তাদেরকে তথ্যমূলক জ্ঞান দান করা হয় এবং মাঝে মাঝে তাদেরকে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ওই সম্পর্কে বাস্তবে জ্ঞান দেওয়া হয় তাকে প্রশিক্ষণের প্রবেশনা পদ্ধতি বলে। আমাদের দেশের বিবিএ, MBA ও নার্স ডিগ্রি ধারীদের এই ধরনের শিক্ষা দেওয়া হয়।

25/ প্রশিক্ষণের কোচিং পদ্ধতি : একজন তত্ত্বাবধায়ক বা কোচের অধীনে নির্দিষ্ট কাজের পদ্ধতি ও কৌশল সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করলে তাকে কোচিং পদ্ধতি বলে। এক্ষেত্রে কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীকে একই সময়ে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। প্রশিক্ষনার্থী নির্দেশিত উপায়ে কাজ করেন। কোন ভুল হলে প্রশিক্ষক তাকে সাথে সাথে শুধরে দেন। অনেক বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের মান উন্নয়নের জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

26/ সমন্বয়ে প্রক্রিয়া : উদ্দেশ্য অর্জনের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দলীয় প্রচেষ্টা ও কার্যাবলির মধ্যে শৃঙ্খলা বিধান করা মিল বজায় রাখা, সামঞ্জস্য বিধান করা এবং ভারসাম্য নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াকে সমন্বয় বলে। সমন্বয়ের অভাবে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের কাজের মধ্যে অসন্তুষ্টি অ দক্ষতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। তাই প্রতিষ্ঠান কর্মীদের কাজের মধ্যে সাদৃশ্য বজায় রাখার জন্য দলীয় প্রতিষ্ঠাতা কে জোরদার করার ক্ষেত্রে সমন্বয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।

27/ কর্মী সংগ্রহ ও নিয়োগ ব্যবস্থাপনা কর্মীসংস্থানের সাথে জড়িত : কর্মীসংস্থান বলতে কর্মী সংগ্রহের পাশাপাশি কর্মী নির্বাচন, নিয়োগ, উন্নয়ন, মূল্যায়ন, পদোন্নতি ও অবসান সংক্রান্ত যাবতীয় কাজকেই বোঝায়। প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, মূলধনসহ যাবতীয় উপকরণে সর্বোচ্চ ব্যবহার নির্ভর করে দক্ষ কর্মীদের উপর। তাই কর্মীসংস্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান উপযুক্ত ও দক্ষ কর্মী বাহিনী গড়ে তোলার চেষ্টা করে। কর্মীদের উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা কর্মীসংস্থানের অন্তর্ভুক্ত।

28/ বক্তৃতা পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ পদ্ধতি : প্রশিক্ষনার্থীদের একত্র করে কোন বিষয়ের উপর বক্তৃতা দানের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়াকে বক্তৃতা পদ্ধতি বলে। প্রশিক্ষনার্থীদের মনে কোন প্রশ্ন থাকলে তা বক্তা বা প্রশিক্ষকের কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন। বিশেষ কোনো ঘটনা, ধারণা, নীতি, অভিব্যক্তি, তথ্য বা সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে কর্মীদের এই ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া অধিক কার্যকর হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে স্বল্প সময়েই বিপুল সংখ্যক কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়।

29/ বাহ্যিক উৎসের মধ্যে চাকরি সন্ধানী  উৎস : প্রতিষ্ঠানের বাইরের কোন উৎস থেকে কর্মী সংগ্রহ। করা হলে তাকে বলে। কর্মী সংগ্রহের বাহ্যিক উৎসব গুলোর মধ্যে চাকরির সন্ধানি অন্যতম। এখানে চাকরি প্রত্যাশী অনেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য স্বেচ্ছায় আবেদন পত্র বা জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়ে থাকেন। কখনো কর্মীর প্রয়োজন হলে তার মধ্যে থেকে কর্মী সংগ্রহ করা চাই।

30/ কর্মী নির্বাচন : সংগৃহীত কর্মীর মধ্য থেকে সর্বোত্তম কর্মী বাছাই করাকে কর্মী নির্বাচন বলে।যোগ্য কর্মী ছাড়া লক্ষে পৌঁছানো সম্ভব না।তাই যোগ্য ও দক্ষ কর্মী বাছাই করতে কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়া ছাড়া উপায় নেই।

Total CQ – 130

Board 2025-2017

College 25,24,23