01 কল্যাণীর বাবার পেশা কী? [Dhaka · 2025]
উত্তর :: কল্যাণীর বাবার পেশা হলো চিকিৎসা।
02 “এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি”- ব্যাখ্যা কর। [Dhaka · 2025]
উত্তর :: “এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি”- উক্তিটির মাধ্যমে অনুপম আত্মতুষ্টি লাভের প্রয়াস পেয়েছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামার লোভী ও হীন মানসিকতার কারণে কল্যাণীর সঙ্গে অনুপমের বিয়ে ভেঙে গেলে সে বিরহে জর্জরিত হয়। একারণেই পরবর্তী সময়ে মনস্তাপে ভেঙে পড়া অনুপম কল্যাণীকে বিয়ে করতে না পারলেও তার কাছাকাছি থাকতে চেয়েছে। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর একদিন মাকে নিয়ে তীর্থে যাওয়ার পথে কল্যাণীকে দেখে মুগ্ধ হয় অনুপম। এরপর তার কাছে ও তার পিতার কাছে ক্ষমা চায় অনুপম। সবকিছু ছেড়ে সে বছরের পর বছর কানপুরে কল্যাণীর কাছাকাছি থাকে। কল্যাণী তাকে ক্ষমা করে দিলেও বিয়েতে রাজি হয়নি। তবুও অনুপম তার দেখা পায়, কণ্ঠ শোনে, সুবিধামতো তার কাজ করে দিয়ে নিজের একটা অবস্থান তৈরি করে। কল্যাণীকে আশ্রয় করে সেই আনন্দেই সে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেছে।
03 ‘অপরিচিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছের কোন খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়? [Rajshahi · 2025]
উত্তর :: ‘অপরিচিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছের তৃতীয় খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়।
04 “সমস্ত মন যে সেই অপরিচিতার পানে ছুটিয়া গিয়াছিল।”- বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [Rajshahi · 2025]
উত্তর : :”সমস্ত মন যে সেই অপরিচিতার পানে ছুটিয়া গিয়াছিল।”-বাক্যটি দ্বারা বিবাহ ভেঙে যাওয়ার পর অনুপমের মনের অনুভূতি ব্যক্ত করা হয়েছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম আশীর্বাদের সময় কনে দেখতে যেতে চেয়েছিল। সেই ইচ্ছার কথাটি মামাকে সাহস করে বলতে পারেনি। এরপর বিয়ে করতে গিয়ে কনের গহনা পরিমাপের বাদানুবাদের জের ধরে কনে কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন কন্যা সম্প্রদান না করে তাদেরকে আপ্যায়ন করিয়ে বিয়ে ভেঙে দেন। ফলে কল্যাণীকে চোখের দেখাও আর হয়ে ওঠেনি অনুপমের পক্ষে। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পরও কল্যাণীর প্রতি জমানো অনুরাগের জন্য অনুপম কল্যাণীকে স্মরণ করে, ভুলতে পারে না। এ প্রসঙ্গেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
05 ‘অপরিচিতা’ গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়? [Comilla · 2025]
উত্তর : :’অপরিচিতা’ গল্পটি প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত ‘সবুজপত্র’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
06 অনুপম তার মামাকে ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলেছে কেন? [Comilla · 2025]
উত্তর :: মামার সিদ্ধান্তে চলতে হয় বলে অনুপম তার মামাকে ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলেছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের বাবার মৃত্যুর পর থেকে মামাই পরিবারের হাল ধরেছেন। তাছাড়া অনুপম নিজেই মামার সিদ্ধান্ত মেনে চলতেই অভ্যস্ত ছিল। তাদের বাড়িতে মামার সিদ্ধান্তের বাইরে কোনোকিছুই হতো না। এমতাবস্থায় অনুপমের বিয়ের বিষয়েও মামার সিদ্ধান্তই শেষ কথা। অনুপম কিছুতেই তার সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করতে পারবে না। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মামার উপর নিজের এই অতি নির্ভরশীলতার বিষয়টিকে ইঙ্গিত করেই অনুপম তার মামাকে ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলেছে।
07 “মন্দ নয় হে! খাঁটি সোনা বটে।”- উক্তিটি কার? [Chittagong · 2025]
উত্তর :: “মন্দ নয় হে! খাঁটি সোনা বটে।”- উক্তিটি বিনু দাদার।
08 “আমাকে একটি কথা বলাও তিনি আবশ্যক বোধ করিলেন না।”- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ। [Chittagong · 2025]
উত্তর :: “আমাকে একটি কথা বলাও তিনি আবশ্যক বোধ করিলেন না”- উক্তিটি শম্ভুনাথ সেনের আচরণের প্রেক্ষাপটে বর অনুপম নিজের সম্পর্কে বলেছে। ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের বিয়ের জন্য পাত্রী হিসেবে কল্যাণীকে ঠিক করা হয়। অনুপম সেই যুবক যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করলেও ব্যক্তিত্বরহিত রয়ে গেছে। পরিবারতন্ত্রের কাছে সে অসহায় পুতুলমাত্র। যার ফলে তারই বিয়ে উপলক্ষ্যে যৌতুক নিয়ে তার মামা ও কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেনের মধ্যে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেলেও সে নীরব থেকেছে। ফলে শম্ভুনাথ সেন তার সাথে কোনো কথা না বলেই নীরব প্রতিবাদস্বরূপ বিয়ে ভেঙে দিয়েছেন।
09 ‘অপরিচিতা’ গল্পে কথকের নাম কী? [Sylhet · 2025]
উত্তর :: ‘অপরিচিতা’ গল্পে কথকের নাম অনুপম।
10 “একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুক-ভাঙা পণ।”-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। [Sylhet · 2025]
উত্তর : :প্রশ্নোক্ত কথাটি দ্বারা সমাজে বিয়ের বাজারে যোগ্য পাত্রের কদর এবং পণের টাকার পরিমাণকে নির্দেশ করা হয়েছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে যোগ্য পাত্রের জন্য কনের অভিভাবকদের অবস্থা নির্দেশিত হয়েছে। সেকালে শিক্ষিত পাত্রের অতিমাত্রায় কদর থাকায় পণের টাকার পরিমাণও বেশি ছিল। আর যোগ্য পাত্রের জন্য কনের পিতা সেই ধনুক-ভাঙা পণ দিতেও কুণ্ঠাবোধ করতেন না। কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন মেয়েকে যেন-তেন পাত্রের হাতে তুলে দিয়ে দায় সারতে চাননি। তিনি ধৈর্য ধারণ করে উপযুক্ত পাত্রের জন্য অপেক্ষায় থেকেছেন। এর ফলে দিন দিন মেয়ের বয়স বেড়েই গিয়েছে। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে উপযুক্ত পাত্রের অত্যধিক কদর ও অত্যধিক পণের বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
11 অনুপমের বাবার পেশা কী ছিল? [Barisal · 2025]
উত্তর : :অনুপমের বাবার পেশা ছিল ওকালতি।
12 “একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুক-ভাঙা পণ।”-ব্যাখ্যা কর। [Barisal · 2025]
উত্তর : :প্রশ্নোক্ত কথাটি দ্বারা সমাজে বিয়ের বাজারে যোগ্য পাত্রের কদর এবং পণের টাকার পরিমাণকে নির্দেশ করা হয়েছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে যোগ্য পাত্রের জন্য কনের অভিভাবকদের অবস্থা নির্দেশিত হয়েছে। সেকালে শিক্ষিত পাত্রের অতিমাত্রায় কদর থাকায় পণের টাকার পরিমাণও বেশি ছিল। আর যোগ্য পাত্রের জন্য কনের পিতা সেই ধনুক-ভাঙা পণ দিতেও কুণ্ঠাবোধ করতেন না। কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন মেয়েকে যেন-তেন পাত্রের হাতে তুলে দিয়ে দায় সারতে চাননি। তিনি ধৈর্য ধারণ করে উপযুক্ত পাত্রের জন্য অপেক্ষায় থেকেছেন। এর ফলে দিন দিন মেয়ের বয়স বেড়েই গিয়েছে। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে উপযুক্ত পাত্রের অত্যধিক কদর ও অত্যধিক পণের বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
13 অনুপমের বন্ধু হরিশ কোথায় কাজ করে? [Dhaka · 2024]
উত্তর : :অনুপমের বন্ধু হরিশ কানপুরে কাজ করে।
14 “এককালে ইহাদের বংশে লক্ষ্মীর মঙ্গলঘট ভরা ছিল।”- এখানে ‘লক্ষ্মীর মঙ্গলঘট’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [Dhaka · 2024]
উত্তর : :”এককালে ইহাদের বংশে লক্ষ্মীর মঙ্গলঘট ভরা ছিল।”- এখানে লক্ষ্মীর মঙ্গলঘট বলতে একসময় লক্ষ্মীর কৃপায় কল্যাণীদের বংশে ঐশ্বর্যের ঘট পূর্ণ থাকাকে বোঝানো হয়েছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামা অনুপমের বিয়ে সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে গিয়ে কনে অপেক্ষা কনের পিতার আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে আগে খোঁজ নেন। কারণ সেটাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তখন তিনি জানতে পারেন যে এককালে কল্যাণীদের বংশে লক্ষ্মীর মঙ্গলঘট ভরা ছিল, অর্থাৎ অনেক অর্থবিত্ত ছিল। বর্তমানে তা শূন্য বললেই হয়, তবে তলায় সামান্য কিছু বাকি আছে। আর তাতে যা আছে তা একেবারে উপুড় করে দিতে কনের পিতা দ্বিধা করবেন না। প্রশ্নোক্ত বাক্যটিতে এ দিকটিই নির্দেশ করা হয়েছে। সারকথা: অতীতে কল্যাণীদের অনেক ধন-সম্পদ থাকার কথা বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে। 15
15 কল্যাণীর পিতার নাম কী? [Rajshahi · 2024]
উত্তর ::কল্যাণীর পিতার নাম শম্ভুনাথ সেন।
16 “এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি”- ব্যাখ্যা কর। [Rajshahi · 2024]
উত্তর :: “এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি।” উক্তিটির মাধ্যমে অনুপম আত্মতুষ্টি লাভের প্রয়াস পেয়েছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামার লোভী ও হীন মানসিকতার কারণে কল্যাণীর সঙ্গে অনুপমের বিয়ে ভেঙে গেলে সে বিরহে জর্জরিত হয়। একারণেই পরবর্তীতে মনস্তাপে ভেঙে পড়া অনুপম কল্যাণীকে বিয়ে করতে না পেরেও তার কাছাকাছি থাকতে চেয়েছে। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর একদিন মাকে নিয়ে তীর্থে যাওয়ার পথে কল্যাণীকে দেখে মুগ্ধ হয় অনুপম। এরপর তার কাছে ও তার পিতার কাছে ক্ষমা চায় অনুপম। সবকিছু ছেড়ে সে বছরের পর বছর কানপুরে কল্যাণীর কাছাকাছি থাকে। কল্যাণী তাকে ক্ষমা করে দিলেও বিয়েতে রাজি হয়নি। তবুও অনুপম তার দেখা পায়, কণ্ঠ শোনে, সুবিধামতো তার কাজ করে দিয়ে নিজের একটা অবস্থান তৈরি করে নিতে চায়। কল্যাণীকে আশ্রয় করে সেই আনন্দেই সে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেছে।
17 অনুপমের বাড়ি কোথায়? [Jessore · 2024]
উত্তর :: অনুপমের বাড়ি কলকাতায়।
18 “কই, কিছুই তো হয়নি বাবা।”- ব্যাখ্যা কর। [Jessore · 2024]
উত্তর :: “কই. কিছুই তো হয়নি বাবা।”- উক্তিটিতে বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় কল্যাণীর মনের অবস্থা প্রসঙ্গে অনুপমের কল্পিত চিন্তা প্রকাশ পেয়েছে। অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের সঙ্গে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর কল্যাণীর নাকি বেশ ভালো পাত্র জুটেছিল। অথচ সে বিয়ে করবে না বলে পণ করেছে। এই কথা শুনে অনুপম মনে মনে খুশি হয়। এ বিষয় নিয়ে সে ভাবে, কল্যাণী হয়তো তার বিরহেই এমন, সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তখন অনুপম তার শূন্যতায় ক্রন্দনরত কল্যাণীর রূপ কল্পনা করে। আর অনুপমের কল্পনাতেই কল্যাণী তার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে নিজ বাবার প্রশ্নের জবাবে প্রশ্নোক্ত উত্তর : প্রদান করে।
19 ‘অপরিচিতা’ গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? [Comilla · 2024]
উত্তর :: ‘অপরিচিতা’ গল্পটি প্রথম ‘সবুজপত্র’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
20 “তার পরে বুঝিলাম, মাতৃভূমি আছে।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। [Comilla · 2024]
উত্তর :: “তার পরে বুঝিলাম, মাতৃভূমি আছে।”- কথাটি অনুপম কল্যাণীর নারীশিক্ষার ব্রত গ্রহণ সম্পর্কে বলেছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে কল্যাণী বিয়ে না করার পণ করে। তার এই প্রতিজ্ঞা থেকে কেউ তাকে টলাতে পারেনি। দেশের কল্যাণে সে জাগতিক মোহ ত্যাগ করে মেয়েদের শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এটাই তার মাতৃ-আজ্ঞা তথা মাতৃভূমির সেবা। মাকে নিয়ে ট্রেনে যাওয়ার সময় অনুপম প্রথম কল্যাণীকে দেখে। অনেকদিন পর কল্যাণীকে খুঁজে পেয়ে অনুপম কল্যাণীকে পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কল্যাণী সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে না হয়ে তার মাতৃ-আজ্ঞার কথা বলে। আসলে কল্যাণী দেশমাতার নারীদের শিক্ষিত করবে বলে আর বিয়ে করতে রাজি নয়। নারীশিক্ষার মাধ্যমে কল্যাণী যে দেশসেবার ব্রত গ্রহণ করেছে সেটি বুঝেই অনুপম প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে।
21 বেহাই সম্প্রদায়ের কী থাকা দোষের? [Chittagong · 2024]
উত্তর : :বেহাই সম্প্রদায়ের তেজ থাকা দোষের।
22 “নিতান্ত এক ছেলে বলিয়া মা আমাকে ছাড়িতে পারেন নাই।” বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [Chittagong · 2024]
উত্তর :: “নিতান্ত এক ছেলে বলিয়া মা আমাকে ছাড়িতে পারেন নাই।”- এ কথা বলতে পরিবারের সঙ্গে অনুপমের সম্পর্কের অবনতির দিকটিকে বোঝানো হয়েছে।
বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কিছুকাল পর অনুপম তার মাকে নিয়ে তীর্থ যাত্রার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। ঘটনাক্রমে তারা একই কামরায় সিট পায়। তখন সে কল্যাণীকে দেখতে পায়। এই ঘটনা অনুপমের মনে গভীর রেখাপাত করে। আর তাই মা ও মামার মতামতকে অগ্রাহ্য করে সে কানপুরে কল্যাণীর বাবার কাছে যায়। এই ঘটনায় মামার সঙ্গে তার সম্পর্ক, নষ্ট হলেও একমাত্র ছেলে বলে মা তার সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করতে পারেন না। মায়ের মতামতকে অগ্রাহ্য করে অনুপমের কানপুরে কল্যাণীদের কাছে থেকে যাওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
23 বরযাত্রীর দল কীসের পালা সেরে বের হয়ে গেল? [Barisal · 2024]
উত্তর :: বরযাত্রীর দল দক্ষযজ্ঞের পালা সেরে বের হয়ে গেল।
24 “তবে আপনাদের গাড়ি বলিয়া দিই”- উক্তিটি কাকে উদ্দেশ্য করে কেন করা হয়েছে? [Barisal · 2024]
উত্তর :: “তবে আপনাদের গাড়ি বলিয়া দিই”-‘ কথাটি শম্ভুনাথ সেন বলেছেন অনুপমের মামাকে উদেশ্য করে তার হীন মানসিকতার জন্য। ‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণীর বিয়ের গহনা পরখ করে দেখার জন্য অনুপমের মামা সেকরা নিয়ে বিয়েবাড়িতে উপস্থিত হন এবং গহনা পরীক্ষা করে দেখেন। মেয়ের বিয়েতে বাবা বেশি খাদ মেশানো সোনা দেবেন বা মেয়ের বিয়ের গহনায় ফাঁকি দেবেন এমন ধারণা যারা পোষণ করে শম্ভুনাথ সেন তাদের কাছে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তিনি কৌশলে বরপক্ষকে খাওয়ানো শেষ করেন। তারপর তাদের বিদায় দেওয়ার জন্য তিনি সেন অনুপমের মামাকে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
25 ঠাট্টার সম্পর্ককে কে স্থায়ী করতে চাননি? [Mymensingh · 2024]
উত্তর : :ঠাট্টার সম্পর্ককে শম্ভুনাথ সেন স্থায়ী করতে চাননি।
26 অনুপম তার মামাকে ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলেছে কেন? [Mymensingh · 2024]
উত্তর : :অনুপম তার মামাকে ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলেছে, তার জীবনের কোনো সিদ্ধান্ত সে মামাকে ছাড়া নিতে পারে না বলে। ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম শিক্ষিত হলেও একজন ব্যক্তিত্বহীন’ যুবক। সেকরা দিয়ে কনের গহনা যাচাই করার হীন কাজেও সে মামার বিরোধিতা করতে পারেনি। অনুপমের মামাই তাদের সংসারে সর্বেসর্বা। মামার মতামতের বাইরে তার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। অনেক বড় ঘর থেকে অনুপমের সম্বন্ধ এলেও মামার বিশেষ মত থাকার কারণে সেসব সম্বন্ধ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই মামা অনুপমের জীবনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেছেন। এসব কারণে অনুপম তার মামাকে ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলেছে।
27 হরিশ কোথায় কাজ করে? [Dhaka · 2023]
উত্তর : :হরিশ কানপুরে কাজ করে।
28 “সেজন্য কিছু ভাবিবেন না – এখন উঠুন।” উক্তিটিতে বক্তার মনোভাব ব্যাখ্যা কর। [Dhaka · 2023]
উত্তর : :”সেজন্য কিছু ভাববেন না – এখন উঠুন।” – উক্তিটি দ্বারা শম্ভুনাথ সেনের বিবাহ প্রত্যাখ্যান করার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। অপরিচিত গল্পে বিয়ের লগ্ন যখন প্রস্তুত তখন কন্যার লগ্নভ্রষ্ট হবার লৌকিকতাকে অগ্রাহ্য করে শম্ভুনাথ সেনের নির্বিকার অথচ বলিষ্ঠ প্রত্যাখ্যান নতুন এক সময়ের আশু আবির্ভাবকে সংকেতবহ করে তুলেছে। বিয়ের লগ্নে শম্ভুনাথ সেন তার ও তার মেয়ের আত্মসম্মান সংরক্ষণের জন্য বিয়ে প্রত্যাখ্যানের উদ্দেশ্যে এই উক্তিটি করেন।
29 অনুপমকে ‘মাকাল’ ফলের সাথে তুলনা করে বিদ্রুপ করেছিল কে? [Barisal · 2023]
উত্তর :: পন্ডিতমশাইরা অনুপমকে মাকাল ফলের সাথে তুলনা করে বিদ্রুপ করেছিল।
30 “একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুক ভাঙা পণ”-এ কথার অর্থ বুঝিয়ে লেখ। [Barisal · 2023]
উত্তর :: পনেরো বছর বয়সেও কল্যাণীর বিয়ে না হওয়ার কারণ নির্দেশ করা হয়েছে উক্তিটির মাধ্যমে। কল্যাণীর বয়স পনেরো যা তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় বিয়ের যোগ্য কন্যার জন্য অনেকটাই বেশি। মোটা টাকা পণ দিতে হয় বলে সুপাত্র মেলাই ভার। তবে এ ব্যাপারে কল্যাণীর বাবা চিন্তিত নয়। বয়স যতই হোক উপযুক্ত পাত্র ছাড়া কন্যার বিয়ে না দিতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তখনকার সমাজে কন্যার পিতার এরূপ মনোভাবের প্রকাশ ঘটতে সাধারণত দেখা যেত না।
31 রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ গল্পের নাম কী? [Dinajpur · 2023]
উত্তর :: রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ গল্পের নাম মুসলমানীর গল্প।
32 ‘একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুকভাঙা পণ’ – ব্যাখ্যা কর। [Dinajpur · 2023]
উত্তর :: পনেরো বছর বয়সেও কল্যাণীর বিয়ে না হওয়ার কারণ নির্দেশ করা হয়েছে উক্তিটির মাধ্যমে। কল্যাণীর বয়স পনেরো যা তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় বিয়ের যোগ্য কন্যার জন্য অনেকটাই বেশি। মোটা টাকা পণ দিতে হয় বলে সুপাত্র মেলাই ভার। তবে এ ব্যাপারে কল্যাণীর বাবা চিন্তিত নয়। বয়স যতই হোক উপযুক্ত পাত্র ছাড়া কন্যার বিয়ে না দিতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তখনকার সমাজে কন্যার পিতার এরূপ মনোভাবের প্রকাশ ঘটতে সাধারণত দেখা যেত না।
33 কল্যাণীর বিয়ের গহনাগুলো কোন আমলের? [Chittagong · 2023]
উত্তর :: নকল্যাণীর বিয়ের গহনাগুলো তাঁর পিতামহীদের আমলের ছিল।
34 ‘ছোটোদের সঙ্গে সে অনায়াসে এবং আনন্দে ছোটো হইয়া গিয়াছিল।’- উক্তিটির তাৎপর্য বর্ণনা করো। [Chittagong · 2023]
উত্তর : অত্যন্ত মিশুক ও সংবেদনশীল কল্যাণী সম্পর্কে প্রশ্নোক্ত কথা বলা হয়েছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে ছোটোদের সঙ্গে মিষ্টি ভাষায় কথা বলা কল্যাণীর সঙ্গে দু-তিনটি মেয়ে ছিল। তাদের সঙ্গে কল্যাণী অনায়াসে ও আনন্দে ছোটো হয়ে গিয়েছিল। কারণ পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী স্বচ্ছন্দে চলতে গেলে বয়সের তফাৎটাকে ভুলে থাকতে হয়। অন্য মেয়েদের সঙ্গে বয়সের তফাৎটা ধরে রাখলে হাসি-আনন্দটা কিছুতেই করা হতো না। এই মনোভাবটি যে অত্যন্ত ইতিবাচক তা বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
35 অনুপমের বন্ধু হরিশ কোথায় কাজ করে? [Dhaka · 2022]
উত্তর : অনুপমের বন্ধু হরিশ কানপুরে কাজ করে।
36 “এইটে একবার পরখ করিয়া দেখো।” ব্যাখ্যা কর। [Dhaka · 2022]
উত্তর : শম্ভুনাথ সেন আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে একজোড়া এয়ারিং সেকরার হাতে দিয়ে তা খাঁটি সোনার কি না পরখ করে দেখতে বলেছেন।
‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের সঙ্গে শম্ভুনাথ সেনের কন্যা কল্যাণীর বিয়ে ঠিক হয়। কিন্তু অনুপমের মামার চরম যৌতুকলোভী মানসিকতার প্রকাশ ঘটে বিয়ের আসরে। যৌতুকের গহনা কল্যাণীর শরীর থেকে খুলে পরীক্ষা করান অনুপমের মামা। তখন শম্ভুনাথ সেন এক জোড়া এয়ারিং এগিয়ে দেন সেকরার হাতে তা পরখ করে দেখার জন্য। কেননা সেটা ছিল অনুপমের মামার দেওয়া বিলাতি জিনিস, যাতে সোনার ভাগ আছে সামান্যই।
37 কল্যাণী কোন স্টেশনে নেমেছিল? [Mymensingh · 2022]
উত্তর : কল্যাণী কানপুর স্টশনে নেমেছিল।
38 ‘বাহিরে তো সে ধরা দিলই না, তাহাকে মনেও আনিতে পারিলাম না।’-ব্যাখ্যা কর। [Mymensingh · 2022]
উত্তর : বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কারণে অনুপম কল্যাণীকে কখনো না দেখতে পাওয়ার কারণে নিজের কল্পনাতেও কল্যাণীর না থাকার প্রসঙ্গে প্রশ্নোত্তর কথাটি বলেছেঅপরিচিতা গল্পে মামার
যৌতুকলোভী মানসিকতার কারণে বিয়ের আসর থেকে বিয়ে না করেই অনুপমকে ফিরে আসতে হয়েছে। ফলে অনুপম এর কাছে কল্যাণী অচেনা থেকে যায়। এমনকি কল্যাণীকে কখনো না দেখায় তার অবয়ব অনুপমের অচেনাই থেকে যায়।বিনুদার বর্ণনা শুনে পছন্দ করে অনুপম কখনো কল্যাণীকে দেখেনি। কল্যাণীর কোন ছবি অনুপম দেখেনি। ফলে কল্যাণীর দেখতে কেমন সে কল্পনাও করতে পারে না অনুপম। আর এ প্রসঙ্গেই প্রশ্নোত্তর কথাটি বলা হয়েছে।
39 ‘রসনচৌকি’ শব্দের অর্থ কী? [Rajshahi · 2022]
উত্তর : ‘রসন চৌকি’ শব্দের অর্থ শানাই, ঢোল ও কাঁসি এই তিনটি বাদ্যযন্ত্রের সৃষ্ট ঐকতানবাদন।
40 ‘মামা বিবাহ-বাড়িতে ঢুকিয়া খুশি হইলেন না।’-কেন? [Rajshahi · 2022]
উত্তর : বিয়েবাড়ির উঠানে বরযাত্রীদের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় এবং সমস্ত আয়োজন নিতান্ত মধ্যম রকমের হওয়ায় মামা সেখানে ঢুকে খুশি হলেন না। শম্ভুনাথ সেনের এককালে প্রচুর ধন-সম্পদ থাকলেও বর্তমানে তেমন কিছুই নেই। তাই শম্ভুনাথ সেনের আয়োজনে তেমন বাড়াবাড়ি ছিল না। আর বিয়েবাড়ির উঠানে বরযাত্রীদের জায়গারও সংকুলান হচ্ছিল না। এসব কারণে মামা বিয়েবাড়িতে ঢুকে খুশি হলেন না ।
41 ‘অপরিচিতা’ গল্পের খাদযুক্ত গহনাটির নাম কী? [Dinajpur · 2022]
উত্তর : ‘অপরিচিতা’ গল্পের খাদযুক্ত গহনাটির নাম এয়ারিং।
42 “ফল্গুর বালির মতো তিনি আমাদের সমস্ত সংসারটা নিজের অন্তরের মধ্যেশুষিয়া লাইয়াছেন।”-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। [Dinajpur · 2022]
উত্তর : অনুপমদের পরিবারে ব্যাপক প্রভাব বিস্তারের কারণে অনুপমের মামাকে উদ্দেশ করে কথাটি বলা হয়েছে। ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের আসল অভিভাবক তার মামা। অনুপমের জীবনের সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই মামার ভূমিকাই প্রধান। তিনি অনুপমের চেয়ে মাত্র ছয় বছরের বড়ো। অথচ সংসারে তাঁর মতামত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফল্গু একটি নদীর নাম। যার ওপরের অংশে বালির আস্তরণ কিন্তু ভেতরে জলস্রোত প্রবাহিত। অনুপমের মামার সর্বেসর্বা । হয়ে সমস্ত দায়দায়িত্ব পালনের বিষয়টিকে এ নদীর সাথে তুলনা করা হয়েছে। অনুপমের মামা যেন ফল্গু নদীর বালির মতো তাদের সংসারটাকে নিজের অন্তরের মধ্যে শুষে নিয়েছেন’। আর এ বিষয়টি বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
43 বিবাহ ভাঙার পর হতে কল্যাণী কোন ব্রত গ্রহণ করে? [Comilla · 2022]
উত্তর : বিবাহ ভাঙার পর হতে কল্যাণী মেয়েদের শিক্ষার ব্রত গ্রহণ করে।
44 “এটা আপনাদের জিনিস, আপনাদের কাছেই থাক।”- এরূপ মন্তব্যের কারণ কী? [Comilla · 2022]
উত্তর : বরপক্ষের হীন মানসিকতার কারণে কৌশলী এবং অপমানসূচক প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ সেন ।
বিয়ের আসরে কন্যা সম্প্রদানের কাজ স্থগিত রেখে বরের মামা সেকরা দিয়ে কন্যার বাবার দেওয়া গহনা যাচাই করার মতো হীন কাজ করেন। সেকরা দ্বিধাহীনভাবে জানায় কনের সমস্ত গহনাই খাঁটি। শুধু একজোড়া এয়ারিং খাদপূর্ণ এবং বিলাতি । সেটি আশীর্বাদের সময় বরের মামা কন্যাকে দিয়েছিলেন। এ কারণে কৌশলে বরপক্ষকে অপমান করতে কনের বাবা সেটি বরের মামাকে ফেরত দেন এবং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেন ।
45 বিনুদাদা অনুপমের কেমন ভাই? [Jessore · 2022]
উত্তর : পিসতুতো ভাই ।
46 “মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাপের খবরটাই তাঁহার কাছে গুরুতর।”- ব্যাখ্যা কর। [Jessore · 2022]
উত্তর : বিয়েতে কল্যাণীর যোগ্যতার চেয়ে তার পিতা শম্ভুনাথ কী পরিমাণ পণ দিতে সক্ষম অনুপমের মামার কাছে সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। হরিশ অনুপমের মামার কাছে অনুপমের জন্য পাত্রীর সন্ধান দেয়। পাত্রীর কথা জানার চেয়ে মামার কাছে পাত্রীর বাবার বিষয়-সম্পত্তির ব্যাপারে জানার বেশি আগ্রহ দেখা যায়। অর্থাৎ উক্তিটিতে অনুপমের মামার যৌতুকলিপ্সার দিকটি উন্মোচিত হয়েছে।
47 মামার একমাত্র লক্ষ্য কী ছিল? [Chittagong · 2022]
উত্তর : মামার একমাত্র লক্ষ্য ছিল, তিনি কোনোমতেই কারও কাছে ঠকবেন ‘না ।
48 “ঠাট্টা তো আপনিই করিয়া সারিয়াছেন” উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। [Chittagong · 2022]
উত্তর : প্রশ্নোক্ত উক্তিটি শম্ভুনাথ সেন অনুপমের মামাকে উদ্দেশ করে বলেছিল ।
মামা কনের গহনা যাচাই করে দেখতে চাওয়ায় শম্ভুনাথ সেন খুব কষ্ট পান এবং তাঁর আত্মসম্মানে আঘাত লাগে। আর অনুপম এ ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকায় তিনি সিদ্ধান্ত নেন মেয়েকে এ বাড়িতে বিয়ে দেবেন না। তাই তিনি মামাকে গহনা যাচাই করে দেখান, বিয়েতে আমন্ত্রিতদের খাবার খাওয়ান তারপর বলেন যে, সম্পর্কটা স্থায়ী করার ইচ্ছা তাঁর নেই। এ কথা শুনে অনুপমের মামা ভাবেন শম্ভুনাথ ঠাট্টা করছেন। কিন্তু শম্ভুনাথ নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে বলেন, ঠাট্টা তিনি নয়, অনুপমের মামা করেছেন। কারণ, মেয়ের গহনা বাবা চুরি করতে পারে এই ধরনের হীন চিন্তাকেই ঠাট্টাই বলা যায়, তার বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে নয় ।
49 কল্যাণীর পিতার নাম কী? [Sylhet · 2022]
উত্তর : কল্যাণীর পিতার নাম শম্ভুনাথ সেন।
50 “ঠাট্টা তো আপনিই করিয়া সারিয়াছেন।”-ব্যাখ্যা কর। [Sylhet · 2022]
উত্তর : প্রশ্নোক্ত উক্তিটি শম্ভুনাথ সেন অনুপমের মামাকে উদ্দেশ করে বলেছিল । মামা কনের গহনা যাচাই করে দেখতে চাওয়ায় শম্ভুনাথ সেন খুব কষ্ট পান এবং তাঁর আত্মসম্মানে আঘাত লাগে। আর অনুপম এ ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকায় তিনি সিদ্ধান্ত নেন মেয়েকে এ বাড়িতে বিয়ে দেবেন না। তাই তিনি মামাকে গহনা যাচাই করে দেখান, বিয়েতে আমন্ত্রিতদের খাবার খাওয়ান তারপর বলেন যে, সম্পর্কটা স্থায়ী করার ইচ্ছা তাঁর নেই। এ কথা শুনে অনুপমের মামা ভাবেন শম্ভুনাথ ঠাট্টা করছেন। কিন্তু শম্ভুনাথ নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে বলেন, ঠাট্টা তিনি নয়, অনুপমের মামা করেছেন। কারণ, মেয়ের গহনা বাবা চুরি করতে পারে এই ধরনের হীন চিন্তাকেই ঠাট্টাই বলা যায়, তার বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে নয় ।
51 অনুপমকে ‘মাকাল ফল’-এর সাথে তুলনা করে বিদ্রুপ করেছিল কে ? [Comilla · 2019]
উত্তর : অনুপমকে ‘মাকাল ফল’-এর সাথে তুলনা করে বিদ্রুপ করেছিল পণ্ডিতমশায় ।
52 বলিলেন, সে কী কথা। লগ্ন’- কে, কেন বলেছিল ? প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বুঝিয়ে দাও । [Comilla · 2019]
উত্তর : কল্যাণীর বিয়ের গহনা পরীক্ষা করানোর পর শম্ভুনাথ বরপক্ষকে খাবার কথা বললে অনুপমের মামা অবাক হয়ে লগ্নের কথা উল্লেখ করে । অনুপমের মামা কল্যাণীর গয়না যাচাই করে দেখতে চাইলে শম্ভুনাথ সেনের আত্মসম্মানে আঘাত লাগে। অনুপম এ ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করলে শম্ভুনাথ স্থির করেন তিনি এমন ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দেবেন না। তাই নিয়ম না থাকলেও শম্ভুনাথ বরকে বিয়ের পূর্বেই খাওয়ার কথা বলেন । আর এতে বিস্মিত হয়ে অনুপমের মামা শম্ভুনাথকে লগ্নের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ।
53 ‘অপরিচিতা’ গল্পটি প্রথম কোথায় প্রকাশিত হয়? [Sylhet · 2019]
উত্তর : অপরিচিতা’ গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত মাসিক ‘সবুজপত্র’ পত্রিকার ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪) কার্তিক সংখ্যায়।
54 “তার পরে বুঝিলাম, মাতৃভূমি আছে।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। [Sylhet · 2019]
উত্তর : পুনর্বার বিয়েতে রাজি না হওয়ায় কল্যাণী সম্পর্কে আলোচ্য উক্তিটি করেছে অনুপম।
অনুপম কানপুরে এসে কল্যাণী ও তার পিতার সামনে হাতজোড় করে, মাথা হেঁট করে ক্ষমা চেয়ে আবার বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু কল্যাণী ততদিনে দাম্পত্য জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে, সে মনোযোগী হয়েছে দেশমাতৃকার সেবার প্রতি। তাই অনুপমকে ফিরিয়ে দিয়ে সে বলে ‘মাতৃ-আজ্ঞা’ আছে। অনুপম বুঝতে পারে, মাতৃ-আজ্ঞা মানে মাতৃভূমির জন্য কল্যাণীর উৎসর্গিত প্রাণ। তাই অনুপম বলেছে ‘তারপর বুঝিলাম, মাতৃভূমি আছে।
55 অনুপমের বাবার পেশা কী ছিল ? [Chittagong · 2019]
উত্তর : অনুপমের বাবার পেশা ছিল ওকালতি ।
56 ‘এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি।’— ব্যাখ্যা করো। [Chittagong · 2019]
উত্তর : প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে অনুপম কল্যাণীর কাছাকাছি থাকা বলতে তার হৃদয়ে জায়গা পাওয়ার কথা বুঝিয়েছে । কানপুরে পৌছে কল্যাণীর পরিচয় জানতে পেরে অনুপমের হৃদয় আবারো কল্যাণীর চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়। সে কল্যাণীকে বিয়ে করতে চাইলেও কল্যাণী রাজি হয় না । কল্যাণীর কাছাকাছি থাকার জন্য সে কানপুরেই বসবাস করতে শুরু করে। সুযোগ পেলেই সে কল্যাণীর কাজে সাহায্য করে। কল্যাণীর আশপাশে থাকার সুযোগটুকুকেই সে পরম পাওয়া মনে করে আর ভাবে— জীবনসঙ্গী হিসেবে পাইনি; কিন্তু কাছে থাকার সুযোগটুকুইবা কম কীসে
57 ‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা অনুপমের চেয়ে কত বছরের বড়ো ? [Rajshahi · 2019]
উত্তর : ‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা অনুপমের চেয়ে ছয় বছরের বড়ো।
58 ‘একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুক-ভাঙা পণ ।’— এই কথার অর্থ বুঝিয়ে দাও । [Rajshahi · 2019]
উত্তর : পনেরো বছর বয়সেও কল্যাণীর বিয়ে না হওয়ার কারণ নির্দেশ করা হয়েছে উক্তিটির মাধ্যমে ।
কল্যাণীর বয়স পনেরো যা তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় বিয়ের যোগ্য কন্যার জন্য অনেকটাই বেশি। মোটা টাকা পণ দিতে হয় বলে সুপাত্র মেলাই ভার। তবে এ ব্যাপারে কল্যাণীর বাবা চিন্তিত নয় । বয়স যতই হোক উপযুক্ত পাত্র ছাড়া কন্যার বিয়ে না দিতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তখনকার সমাজে কন্যার পিতার এরূপ মনোভাবের প্রকাশ ঘটতে সাধারণত দেখা যেত না ।
59 কোন কথা স্মরণ করে অনুপমের মামা ও মা ‘একযোগে বিস্তর হাসিলেন’? [Jessore · 2019]
উত্তর : গায়ে হলুদে কনের বাড়িতে যে সংখ্যক বাহক গিয়েছিল, তাদের আপ্যায়নে কল্যাণীদের কী রকম নাকাল হতে হবে, সে কথা স্মরণ করে অনুপমের মামা ও মা ‘একযোগে বিস্তর হাসিলেন।
60 ‘মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাপের খবরটাই তাহার কাছে গুরুতর।’— উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো। [Jessore · 2019]
উত্তর : বিয়েতে কল্যাণীর যোগ্যতার চেয়ে তার পিতা শম্ভুনাথ কী পরিমাণ পণ দিতে সক্ষম অনুপমের মামার কাছে সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল । হরিশ অনুপমের মামার কাছে অনুপমের জন্য পাত্রীর সন্ধান দেয়। পাত্রীর কথা জানার চেয়ে মামার কাছে পাত্রীর বাবার বিষয়-সম্পত্তির ব্যাপারে জানার বেশি আগ্রহ দেখা যায়। রূপ বা গুণ নয় বরং তার বাবার আর্থিক সক্ষমতার মানদণ্ডে পাত্রীর যোগ্যতা যাচাই করে অনুপমের মামা। আলোচ্য উক্তিটিতে অনুপমের মামার যৌতুকলিপ্সার দিকটি উন্মোচিত হয়েছে।
61 অনুপমের পিসতুতো ভাইয়ের নাম কী? [Rajshahi · 2018]
উত্তর : অনুপমের পিসতুতো ভাইয়ের নাম- বিনু।
62 ‘অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোটো ভাইটি’- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো। [Rajshahi · 2018]
উত্তর : প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে ব্যঙ্গার্থে দেবতা কার্তিকের সঙ্গে অনুপমের তুলনা করা হয়েছে। দেবী দুর্গার দুই পুত্র- অগ্রজ গণেশ ও অনুজ কার্তিক। দেবী দুর্গার কোলে দেব সেনাপতি কার্তিক অপূর্ব শোভায় ভাস্বর। বড়ো হয়েও অনুপম কার্তিকের মতো মায়ের কাছাকাছি থেকে মাতৃআজ্ঞা পালনে ব্যস্ত থাকে। তাই পরিণত বয়সেও তার স্বাধীন ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে না। ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায় ও ব্যক্তিত্বহীন একটি চরিত্র। উচ্চশিক্ষিত হলেও তার নিজস্বতা বলতে কিছু নেই। তাকে দেখলে মনে হয় আজও সে যেন মায়ের কোলে থাকা শিশুমাত্র। এজন্যই ব্যঙ্গ করে অনুপমকে গজাননের ছোটো ভাই কার্তিকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
63 ‘অপরিচিতা’ গল্পে কাকে গজাননের ছোট ভাই বলা হয়েছে? [Barisal · 2017]
উত্তর : ‘অপরিচিতা’ গল্পে ব্যাঙ্গার্থে অনুপমকে গজাননের ছোট ভাই বলা হয়েছে।
64 “ঠাট্টার সম্পর্কটাকে স্থায়ী করিবার ইচ্ছা আমার নাই”- উক্তিটি কোন প্রসজো করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। [Barisal · 2017]
উত্তর : অনুপমের সাথে কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে দেওয়াটাকে অনুপমের মামা ঠাট্টা মনে করলে শম্ভুনাথ সেন একথা বলেছিলেন।
অনুপমের মামা বিয়ের আগেই সেকরা দিয়ে কনের গায়ের গয়না যাচাই করে দেখেতে চান তা আসল কি না। এ কারণে শম্ভুনাথ সেন অপমানিত বোধ করেন। গয়না যাচাইয়ের ব্যাপারে পাত্রের নির্লিপ্ততা দেখে তিনি এমন ব্যক্তিত্বহীন ছেলের সাথে মেয়ে বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাই তিনি পাত্রপক্ষকে যথাযথ আপ্যায়নের পর গাড়ি ডেকে বিদায় দিতে চাইলে অনুপমের মামা এ বিষয়টি ঠাট্টা মনে করেন। এর জবাবে তিনি বলেন ‘ঠাট্টার সম্পর্ককে স্থায়ী করিবার ইচ্ছা আমার নাই।’
65 ‘অপরিচিতা’ গল্পে কন্যাকে কী দিয়ে আশীর্বাদ করা হয়েছিল? [Jessore · 2017]
‘উত্তর : অপরিচিতা’ গল্পে কন্যাকে এয়ারিং দিয়ে আশীর্বাদ করা হয়েছিল।
66 ‘কিন্তু ভাগ্য আমার ভালো, এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি’- বক্তার এমন অনুভূতির কারণ বুঝিয়ে লেখো। [Jessore · 2017]
উত্তর : প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা অনুপম কল্যাণীর কাছাকাছি থাকা বলতে হৃদয়ে জায়গা পাওয়ার কথা বুঝিয়েছে। কানপুরে পৌঁছে কল্যাণীর পরিচয় জানতে পেরে অনুপমের হৃদয় আবারো কল্যাণীর চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়। সে কল্যাণীকে বিয়ে করতে চাইলেও কল্যাণী রাজি হয় না। কল্যাণীর কাছাকাছি থাকার জন্য সে কানপুরেই বসবাস করতে শুরু করে। সুযোগ পেলেই সে কল্যাণীর কাজে সাহায্য করে আর মনে করে হয়তো এভাবেই সে কল্যাণীর হৃদয়ে স্থান পেয়েছে।
67 বিবাহ ভাঙার পর হতে কল্যাণী কোন ব্রত গ্রহণ করেছে? [Sylhet · 2017]
উত্তর : বিবাহ ভাঙার পর থেকে কল্যাণী মেয়েদের শিক্ষা ব্রত গ্রহণ করেছে।
68 ‘আমার ভাগ্যে প্রজাপতির সঙ্গে পঞ্চশরের কোন বিরোধ নাই’- বাক্যটির তাৎপর্য কী? [Sylhet · 2017]
উত্তর : প্রশ্নোক্ত বাক্যটিতে অনুপমের ভাগ্যের সুপ্রসন্নতার কথা বলা হয়েছে।
অনুপমের বিবাহের জন্যে কন্যাকে আশীর্বাদ করতে তার পিস্তুতো ভাই বিনুকে পাঠানো হলো। সে ফিরে এসে কন্যার প্রশংসা করে। বিনু খুবই রুচিশীল মানুষ, সে অল্প কথায় অনেক অর্থ প্রকাশ করে। সে যখন বলে খাঁটি সোনা, তখন অনুপমের বুঝতে বাকি থাকে না যে তার জন্যে যে পাত্রী পছন্দ করা হয়েছে সে অনন্যা গুণসম্পন্না নারী। তার ভাগ্যে বিবাহের দেবতা প্রজাপতি ও প্রেমের দেবতা মদনের শুভদৃষ্টি পড়েছে। উভয় দেবতার মধ্যে কোনো রকম আশীর্বাদের বিরোধ নেই।
69 ‘কন্সট’ শব্দের অর্থ কী? [Comilla · 2017]
উত্তর : ‘কন্সট’ শব্দের অর্থ নানা রকম বাদ্যযন্ত্রের ঐকতান।
70 অনুপমের মামার মন কীভাবে নরম হলো? [Comilla · 2017]
উত্তর : অপরিচিতা’ গল্পের হরিশ অনুপমের মামার কাছে কল্যাণী ও তার পরিবারের প্রশংসা করার ফলে মামার মন নরম হলো।। বিয়ের পাত্রী তথা কল্যাণীর পারিবারিক অবস্থা, বংশমর্যাদার ব্যাপারে অনুপমের মামাকে বিশদ বর্ণনা দেয় হরিশ। সেসব কথা শুনে তিনি আশ্বস্ত। হলেও কল্যাণীর বয়স বেশি মনে করে বিয়ে নিয়ে দ্বিধাগ্রস্তও হন। কিন্তু হরিশের ছিল নিজের সরস কথা দ্বারা মানুষের মনকে প্রভাবিত করার বিশেষ গুণ। তাই তো পরবর্তীতে তার কাছ থেকে পাত্রীর নির্ভরযোগ্য প্রশংসা বাক্য শুনে মামার মন নরম হয়েছিল।
71 কন্যাকে আশীর্বাদ করার জন্য কাকে পাঠানো হলো? [Chittagong · 2017]
উত্তর : কন্যাকে আশীর্বাদ করার জন্য অনুপমের পিসতুতো ভাই বিনুদাদাকে পাঠানো হয়েছিল।
72 অনুপমের মামা সেকরাকে বিয়ে বাড়িতে এনেছিল কেন? [Chittagong · 2017]
উত্তর : অনুপমের মামা যৌতুকলোভী ও হীন মানসিকতার মানুষ হওয়ায় বিয়ের গয়না পরীক্ষা করতে সেকরাকে বিয়ে বাড়িতে এনেছিল। কল্যাণীর বিয়েতে তার বাবা শম্ভুনাথ সেন নগদ পণের সঙ্গে গয়না দিতে চান। অনুপমের মামা শম্ভুনাথ সেনের কথায় আস্থাশীল ছিলেন না। কন্যাপক্ষ যে গয়না দেবে তা আসল না নকল সেটি পরীক্ষা করার জন্য অনুপমের মামা বিয়ে বাড়িতে সেকরাকে সঙ্গে এনেছিল। সেকরা সমস্ত গয়নার খাঁটিত্ব প্রমাণ করেন।
73 কাকে ‘মাকাল ফল’ বলে বিদ্রূপ করা হয়েছে? [Rajshahi · 2017]
উত্তর : অনুপমকে ‘মাকাল ফল’ বলে বিদ্রূপ করা হয়েছে।
74 অনুপমের বিবাহ যাত্রার বর্ণনা দাও। [Rajshahi · 2017]
উত্তর : অনুপম মহাসমারোহের সাথে বিয়ে করতে গিয়েছিল।
ধনী ঘরের ছেলে অনুপম। তাই তার বিয়েতে ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। ব্যান্ড, বাঁশি, কন্সট কোনো কিছুরই কমতি ছিলো না। দামি পোশাক ও বাহারি গয়নাতে জড়ানো ছিল অনুপমের শরীর। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল সে ভাবী শ্বশুরের সঙ্গে আভিজাত্যের মোকাবিলা করতে বিয়ের আসরে যাচ্ছে
