01 ‘বোধোদয়’ গ্রন্থটির লেখক কে?[নটরডেম কলেজ · 2026]
উত্তর ‘বোধোদয়’ গ্রন্থটির লেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
02 “প্রভুদের বিদ্যার গতির সীমা নাই।”- ব্যাখ্যা করো।[নটরডেম কলেজ · 2026]
উত্তর “প্রভুদের বিদ্যার গতির সীমা নাই”- বলতে লেখিকা পুরুষদের শিক্ষিত হওয়ার অবাধ সুযোগ থাকাকে বুঝিয়েছেন।
‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে নারীর অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। পুরুষশাসিত বাঙালি সমাজে নারীর কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। যাপিত জীবনের সব ক্ষেত্রে নারীরা পিছিয়ে ছিল। শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীরা প্রাক-প্রাথমিক পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ পেত। অন্যদিকে সমাজের সকল ক্ষেত্রে পুরুষদের কর্তৃত্ব বিরাজমান ছিল। তারা দেশের সকল স্তরে পড়ার সুযোগ পেত। এমনকি শিক্ষার উদ্দেশ্যে কেউ কেউ বিলেতে গমন করত। লেখিকা সামাজিক ক্ষেত্রে পুরুষদের শিক্ষার সুযোগ প্রসঙ্গে আলোচ্য মন্তব্যটি করেছেন।
03 ‘নজম্-উল-ওলামা’ অর্থ কী?[ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2026]
উত্তর ‘নজম্-উল-উলামা’ হলো জ্ঞানীদের মধ্যে নক্ষত্র।
04 “তাঁহারা সুকুমারী গোলাপ-লতিকায় কাঁঠাল ফলাইতে চাহেন।”- উক্তিটির তাৎপর্য কী?[ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2026]
উত্তর প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা কম ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের কাছ থেকে বেশি কিছু আশা করাকে সুকুমারী গোলাপ-লতিকায় কাঁঠাল ফলানোর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
যাকে কোনোকালে বীরত্বসূচক শিক্ষা দেওয়া হয়নি তার কাছ থেকে যদি বীরত্বপূর্ণ কাজ আশা করা হয় তাহলে তা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। মানুষকে ব্যায়ামের মাধ্যমে সুঠাম ও বৃষ্টপুষ্ট হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে প্রথম থেকেই তা করতে হবে। শরীরকে ভালো রাখতে চাইলে নারী-পুরুষ উভয়েরই ব্যায়াম করা আবশ্যক। আমাদের দেশে অনেক অভিভাবক আছেন যারা মেয়ের ব্যায়াম না করিয়ে হঠাৎ মেয়ের ছেলেকে পালোয়ান হিসেবে দেখতে চান। তাদের এই চাওয়াকেই প্রাবন্ধিক ব্যঙ্গ করে সুকুমারী গোলাপ-লতিকায় কাঁঠাল ফলানোর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
05 অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতাটি উদ্ধৃত হয়েছে?[ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ · 2026]
উত্তর অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নবদম্পতির প্রেমালাপ’ ‘কবিতাটি উদ্ধত হয়েছে।
06 “অবলার হাতেও সমাজের জীবন-মরণের কাঠি আছে।”-ব্যাখ্যা করো।[ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ · 2026]
উত্তর “অবলার হাতেও সমাজের জীবন-মরণের কাঠি আছে।”-কথাটি দ্বারা সমাজ-জীবনে নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে নির্দেশ করা হয়েছে।
‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে লেখক উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের গোড়ায় ভারতবর্ষে পুরুষশাসিত সমাজজীবনের সর্বক্ষেত্রে নারীকে অবহেলা করার দিকটি তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে বাঙালি মুসলমান নারী সমাজের পশ্চাৎপদতা, দুর্বিষহ জীবন ও অধিকারহীনতাকে দেখানো হয়েছে পুরুষের নিদারুণ স্বার্থপরতা, আধিপত্যকামী মানসিকতার প্রেক্ষাপটে। কিন্তু নারীরা সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের অবলা বলে পিছনে ফেলে রাখলে চলবে না। প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নারীরা যদি উপযুক্তভাবে নিজেদের গড়ে তোলে তাহলে তারাই দেশের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গঠন করতে পারে। মূলত নারীদের উন্নয়নের ওপর দেশ ও জাতির উন্নয়ন নির্ভর করে। তাই, প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
07 ‘স্ত্রীজাতির অবনতি’ কোন ধরনের রচনা?[সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ, যশোর · 2026]
উত্তর ‘স্ত্রীজাতির অবনতি’ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের লেখা একটি প্রবন্ধ।
08 ‘স্বামীর’ স্থলে ‘অর্ধাঙ্গ’ শব্দটি প্রচলিত হওয়ার যৌক্তিকতা বর্ণনা করো।[সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ, যশোর · 2026]
উত্তর স্বামীর স্থলে ‘অর্ধাঙ্গ’ শব্দটি প্রচলিত হলে নারীরা নিজেদের দাসী না ভেবে স্বামীর অর্ধাঙ্গী ভাবতে পারবে এবং মানসিক দাসত্ব থেকে বেরিয়ে এসে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হবে।
আমাদের সমাজে স্বামী শব্দের অর্থ প্রভু। এ শব্দটি অবচেতনভাবেই নারী ও পুরুষের মধ্যে একধরনের অসমতা ও দাসত্বের মনোভাব তৈরি করে। অন্যদিকে ‘অর্ধাঙ্গ’ শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে নারীরা নিজেদের কেবল অধীন না ভেবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান অংশীদার বা অর্ধাঙ্গী হিসেবে ভাবতে পারবে। এ কারণে স্বামী বা প্রভু শব্দের স্থলে ‘অর্ধাঙ্গ’ শব্দ প্রচলিত হওয়া উচিত।
09 কলম্বাস কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?[শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ · 2026]
উত্তর কলম্বাস ১৫০৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
10 “যাহা হোক পড়া হইতে রক্ষা পাওয়া গেল”- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।[শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ · 2026]
উত্তর ‘যাই হোক পড়া হইতে রক্ষা পাওয়া গেল’ উক্তিটি মুসলমান সমাজে নারীশিক্ষার প্রতি প্রচলিত অবহেলা ও অপর্যাপ্ত শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি এক তীব্র ব্যঙ্গ ও সমালোচনা।
বেগম রোকেয়া তাঁর প্রবন্ধে উল্লেখ করেন মুসলমান সমাজে কন্যাশিক্ষা কেবল আনুষ্ঠানিকতা ও অর্ধশিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এই শিক্ষা ছিল নিয়মহীন ও উদ্দেশ্যহীন। বিয়ের পর যখন এই অগোছালো পড়াশোনার সমাপ্তি ঘটত, তখন মেয়েরা তা থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তিবোধ করত। বেগম রোকেয়া বুঝিয়েছেন শিক্ষাকে যদি বোঝা বা নিরর্থক কাজ হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে তা থেকে রক্ষা পাওয়াই যুক্তিসংগত হয়ে ওঠে।
11 ‘শমস-উল-ওলামা’ অর্থ কী?
উত্তর ‘শমস-উল-ওলামা’ অর্থ হলো জ্ঞানীদের মধ্যে সূর্য।
12 স্বামী’র স্থলে ‘অর্ধাক্কা’ শব্দটি প্রচলিত হওয়ার যৌক্তিকতা বর্ণনা কর।
উত্তর ➤ ‘অর্ধাক্কা’ শব্দে নারী ও পুরুষের সমকক্ষতা প্রকাশ পায় এবং এতে করে নারীর গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়; কর্মক্ষেত্রে নারীর গতি বৃদ্ধি পায়।
➤ আমাদের সমাজে একজন পুরুষ বিবাহিত জীবনে স্ত্রীর স্বামী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এই পরিচয়ে লুকিয়ে থাকে নারীর প্রতি আধিপত্যকামী মানসিকতা। অন্যদিকে ‘অর্ধাঙ্গ’ শব্দটির মাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয়ের সমকক্ষতার স্বীকৃতি পাওয়া যায় এবং বৃদ্ধি পায় নারীর মর্যাদা। নারীর নিজস্ব বিবেচনায় নিজের অধিকার ও মর্যাদা যখন গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে, তখন পুরুষের সহায়ক শক্তিরূপে কাজেও তারা আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং কল্যাণ বয়ে আনে। তাই লেখক ‘স্বামী’র স্থলে ‘অর্ধাঙ্গ’ শব্দটি প্রচলনের তাগিদ দিয়েছেন।
সারকথা: নারীরা সমাজের অর্ধারণ। তাই সব বৈষম্য বিদূরিত ত করে নারীকে পুরুষের যোগ্য সহকর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
13 ‘অবরোধ প্রথা’ কী?
উত্তর অবরোধ প্রথা হলো অন্তঃপুরে লোকচক্ষুর আড়ালে নারীদের আটক রাখার প্রচলিত নিয়ম।
14 ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে লেখক কোন প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘নবদম্পতির প্রেমালাপ’ কবিতাংশটি ব্যবহার করেছেন? বর্ণনা কর।
উত্তর ➤ ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে লেখক রবীন্দ্রনাথের ‘নবদম্পতির প্রেমালাপ’ কবিতাংশটি ব্যবহার করেছেন সমাজের বিধি-ব্যবস্থা নারীদের পুরুষদের অবস্থা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক রাখা প্রসঙ্গে।
➤ সমাজে নারীদের চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রটি সব সময় সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়। নারীরা যে পুরুষের মতো দায়িত্বশীল কোনো চিন্তাভাবনা করতে পারবে না- তা সমাজ তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। নারীকে কখনো এরকম শিক্ষা দেওয়া হয় র যে তারা স্বামীর ছায়াতুলা সহচরী হতে পারে। আসলে নারীর চিন্তাশক্তিকে বিস্তৃত হতে দেওয়া হয় না- এটি বোঝানোর জন্য লেখক ‘নবদম্পতির প্রেমালাপ’ কবিতাংশটি ব্যবহার করেছেন।
সারকথা: সমাজের বিধি-ব্যবস্থা নারীদের পুরুষদের অবস্থা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক রেখেছে- এ প্রসলেই ‘অর্থালী’ প্রবন্দে শেষর রবীন্দ্রনাধের ‘নবদম্পতির প্রেমালাপ’ কবিতাংশটি ব্যবহার করেছেন
15 ‘অবলা জাতি’ অর্থ কী?
উত্তর বলহীনা। প্রবন্ধে নারীসমাজ অর্থে ব্যবহৃত।
16 অবরোধ প্রথা’ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ’অবরোধ প্রথা’ বলতে নারীদের জন্য বিশেষ রক্ষণশীল নিয়মকে বোঝায়।
উনিশ শতকে নারীদের প্রতি পর্দাপ্রথার নামে জুলুম চালানো হতো। তাদের কণ্ঠস্বর পর্যন্ত পুরুষদের কানে পৌছানো নিষেধ ছিল। তাদেরকে সারাক্ষণ চার দেওয়ালের মধ্যে আবন্ধ থাকতে হতো। অন্তঃপুরে লোকচক্ষুর আড়ালে মেয়েদের আটক রাখার নির্মম প্রথাকেই বলা হতো ‘অবরোধ প্রথা’।
17কলম্বস কে?
উত্তর ক্রিস্টোফার কলম্বস প্রসিদ্ধ ইতালীয় নাবিক এবং আমেরিকা মহাদেশের আবিষ্কর্তা।
18 “তাহারা সুকুমারী গোলাপ-লতিকায় কাঁঠাল ফলাইতে চাহেন” বুঝিয়ে বল।
উত্তর ➤ কম ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের কাছে বেশি কিছু আশা করাকে সুকুমারী গোলাপ-লতিকায় কাঁঠাল ফলানোর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
➤ যাকে কোনোকালে বীরত্বসূচক শিক্ষা দেওয়া হয়নি তার কাছে যদি বীরত্বপূর্ণ কাজ আশা করা হয় তাহলে তা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। মানুষকে ব্যায়ামের মাধ্যমে সুঠাম ও খৃষ্টপুষ্ট হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে প্রথম থেকেই তা করতে হবে। শরীরকে ভালো রাখতে চাইলে নারী-পুরুষ উভয়েরই ব্যায়াম করা আবশ্যক। আমাদের দেশে অনেক অভিভাবক আছেন যারা পরিবারের সবাইকে ব্যায়াম না করিয়ে হঠাৎ কোনো ছেলেকে পালোয়ান হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তাদের এই চাওয়াকেই প্রাবন্ধিক বাল করে সুকুমারী গোলাপ-লতিকায় কাঁঠার ফলানোর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
সারকথা: কোনো একটা বিষয়ে ভালো ফল পেতে হলে অভ্যাসের প্রয়োজন। হঠাৎ করে দু-একজনকে দিয়ে জোর করে ভালো ফল পেতে চাইলে তা সুকুমারী গোলাপ-লতিকায় কাঁঠাল ফলানোর মতো অবস্থায় পরিণত হয়।
19 ‘চোগা’ কী?
উত্তর ‘চোগা’ হলো লম্বা ঢিলা বুক-খোলা এক ধরনের জামা যা চাপকানের উপরে পরা হয়।
20 “তিনি কি মাতা অপেক্ষা অধিক করুণাময় নহেন?”- কার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর ➤ “তিনি কি মাতা অপেক্ষা অধিক করুণাময় নহেন?” এখানে মানবজাতির প্রতি নর-নারী নির্বিশেষে সবার ওপর মহান আল্লাহর করুণা বর্ষণের কথা বলা হয়েছে।
➤ লেখক বলেন, ঈশ্বর ও মায়ের কাছে কন্যারা ভাইয়ের ‘অর্ধেক’ নয়। তা হলে এমন স্বাভাবিক বন্দোবস্ত হতো যে, পুত্র যেখানে দশ মাস মাতৃ উদরে স্থান পাবে, কন্যা সেখানে পাঁচ মাস। পুত্রের জন্য যেটুকু দুধ মাতৃস্কনে আসে, কন্যার জন্য তার অর্ধেক। কিন্তু মহান সৃষ্টিকর্তা তেমনটি করেননি। কারণ তিনি নর-নারী নির্বিশেষে মানবজাতির প্রতি মাতা-পিতা অপেক্ষা অধিক করুণাময়।
21 ‘স্বামী’র স্থলে কোন শব্দ প্রচলিত হবে?
উত্তর ‘স্বামী’র স্থলে ‘অর্ধাঙ্গ’ শব্দ প্রচলিত হবে।
22 শমস-উল-ওলামা’ বলতে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ➤ ‘শমস-উল-ওলামা’ বলতে লেখক মুসলিম সমাজের পুরুষের বিদ্যার সর্বোচ্চ শ্রেণিতে আসীন হওয়ার সুযোগ-সুবিধা বোঝাতে চেয়েছেন।
➤ ‘শমস-উল-ওলামা’ হলো জ্ঞানী ব্যক্তিদের উপাধি। এই উপাধির অর্থ ওলামা বা জ্ঞানীদের মধ্যে সূর্য। ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া এই শব্দটি দ্বারা তৎকালীন মুসলিম সমাজে পুরুষের শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা লাভের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এ প্রসঙ্গে লেখক বলেন, পুত্রদের বিদ্যালয়ের সংখ্যা করা যায় না, বালিকাদের বিদ্যালয় সংখ্যা পাওয়াই যায় না। বিদ্যমান সমাজব্যবস্থায় যে স্থলে ভাই ‘শমস-উল-ওলামা’ সেই স্থলে বোন ‘নজম-উল-ওলামা’ হতে পারে না।
সারকথা: শমস-উল-ওলামা’ অর্থ জ্ঞানীদের মধ্যে সূর্য। লেখক মুসলিম সমাজের পুরুষের বিদ্যার সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা বোঝাতে কথাটি বলেছেন।
23 ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতাটি উদ্ধৃত হয়েছে?
উত্তর ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নবদম্পতির প্রেমালাপ’ কবিতাটি উদ্ধৃত হয়েছে।
24 ‘অর্থালী’ প্রবন্ধে অপার্থিব সম্পত্তি বলতে কী বোঝানো হয়েছে
উত্তর ➤ ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে অপার্থিব সম্পত্তি বলতে সন্তানের প্রতি পিতার স্নেহ, যত্ন ইত্যাদিকে বোঝানো হয়েছে।
➤ লেখক অপার্থিব সম্পত্তির প্রসঙ্গে বলেন, এখানেও পক্ষপাতিত্বের মাত্রা বেশি। পিতার ওই যত্ন, স্নেহ, হিতৈষিতার অর্ধেকও মেয়েরা পায় না। যিনি পুত্রের সুশিক্ষার জন্য চারজন শিক্ষক নিযুক্ত করেন, তিনি কন্যার জন্য দুজন শিক্ষয়িত্রী নিযুক্ত করেন না। যেখানে পুত্রকে তিনটা (বিএ পর্যন্ত) পাশ করান, সেখানে কন্যাকে দেড়টা পাস (এন্ট্রান্স পাশ ও এফ. এ. ফেল) করান না। পুত্রদের বিদ্যালয়ের সংখ্যা অগুণতি, বালিকাদের বিদ্যালয়ের সংখ্যা পাওয়াই যায় না।
তারকথা: অর্থালী’ প্রবন্ধে অপার্থিব সম্পত্তি বলতে সন্তানের প্রতি পিতার রেহ, বয় ইত্যাদিকে বোঝানো হয়েছে।
25 ‘নজম-উল-ওলামা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর ‘নজম-উল-ওলামা’ শব্দের অর্থ- জ্ঞানীদের মধ্যে নক্ষত্র।
26 প্রভুদের বিদ্যার গতির সীমা নেই, স্ত্রীদের বিদ্যার দৌড় সচরাচর ‘বোধোদয়’ পর্যন্ত। উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ➤ উক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে পুরুষ শিক্ষা-দীক্ষায়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যেখানে ইচ্ছা বিচরণ করে; স্ত্রীরা সেখানে শুধু শিশুশিক্ষা ‘বোধোদয়’ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে।
➤ সমাজের বিধিব্যবস্থা নারীদেরকে পুরুষের অবস্থা থেকে অনেক ক্ষেত্রে পৃথক করে রেখেছে। কেননা পুরুষকে যেখানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে নারীকে সেখানে শুধু মক্তবে আরবি শিক্ষা, ঘরে বসেই শিশুশিক্ষা, রান্নাবান্না ও সংসার চালানোর শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। স্বামী যখন কল্পনার সাহায্যে সুদূর আকাশে গ্রহনক্ষত্রমালাবেষ্টিত সৌরজগতে বিচরণ করে, স্ত্রী তখন রন্ধনশালায় বিচরণ করে, চাল-ডাল ওজন করে এবং রাঁধুনির গতি নির্ণয় করে। তাই লেখক নারীদের এই অধঃগতির কথা বোঝাতে গিয়েই বলেছেন, প্রভুদের বিদ্যার গতির সীমা নেই, স্ত্রীদের বিদ্যার দৌড় সচরাচর ‘বোধোদয়’ পর্যন্ত।
সারকথা: শিক্ষা-দীক্ষায়, আনে-গুণে, বিদ্যা-বুদ্ধিতে বড় হয়ে ওঠার জন্য পুরুষ যেখানে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পেরিয়ে যায়, নারীকে সেখানে শুধু আরবি পাঠ ও শিশুশিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
27 ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার উল্লেখ রয়েছে?
উত্তর ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নবদম্পতির প্রেমালাপ’ কবিতার উল্লেখ রয়েছে।
28 ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে মানসিক দাসত্ব বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ➤ ‘অর্থালী’ প্রবন্ধে লেখক মানসিক দাসত্ব বলতে মানসিকভাবে নারীদের পরাধীন জীবনযাপন এবং প্রতিবাদ না করে পুরুষের অধীনেই থাকাকে গৌরবজনক মনে করাকে বুঝিয়েছেন।
➤ ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে নারীর সমস্যার স্বরূপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নারীর মানসিক দাসত্ব, অশিক্ষা ও অন্ধবিশ্বাসকে। মানসিক দাসত্বের কারণে যুগ যুগ ধরে নারীর অন্তর-বাহির, হৃদয়-মস্তিষ্ক সবই দাসী হয়ে পড়েছে। শিক্ষার অভাবে তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রেই পুরুষের তুলনায় পেছনে পড়ে থাকে; তাই অনেকে স্বাধীন উপার্জনক্ষম হওয়া সত্ত্বেও নিজেদেরকে স্বামীর দাসীই মনে করে।
সারকথা: নিজেকে স্বাধীন না ভাবার মানসিকতা নিয়ে পরাধীন থাকাই নারীর মানসিক দাসত্ব।
29 ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, ‘আমাদের একটি রোগ আছে’- রোগটি কী?
উত্তর ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, ‘আমাদের একটি রোগ আছে’- রোগটি হচ্ছে দাসত্ব।
30 দাসত্বকে মানসিক রোগ বলার কারণ কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ➤ দাসত্বকে মানসিক রোগ বলার কারণ হলো- দাস হয়ে থাকার প্রবণতাকে স্বীকার করে নেওয়া।
➤ দাস মানে অন্যের অধীন থেকে তার নির্দেশানুযায়ী জীবন পরিচালিত করা এবং নিজের মৌলিক অধিকারকে অস্বীকার করা। প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমান অধিকার রয়েছে। কোনো কোনো জাতি বা মানুষ মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। দীর্ঘদিনের চর্চার কারণে অন্যের অধীনে জীবনযাপন করতে বাধ্য থাকে বা অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। মানসিকতার এ দরিদ্র অবস্থার কারণেই দাসত্বকে মানসিক রোগ বলা হয়েছে।
সারকথা: অন্যের অধীন থেকে জীবন পরিচালিত করার নাম দাসত্ব। মানসিকতার এ দরিদ্র অবস্থার কারণেই দাসত্বকে মানসিক রোগ বলা হয়েছে।
31 রামচন্দ্রের অর্ধাঙ্গীর নাম কী?
উত্তর রামচন্দ্রের অর্ধাঙ্গীর নাম সীতা।
32 “রামচন্দ্র স্বামিত্বের ষোলো আনা পরিচয় দিয়াছেন।” ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ➤ “রামচন্দ্র স্বামিত্বের ষোলো আনা পরিচয় দিয়াছেন।”- কথাটির মাধ্যমে লেখক রামচন্দ্রের কৃতিত্ব নির্দেশ করে সীতার অবস্থান নির্ণয় করার বিষয়টি বুঝিয়েছেন।
➤ ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে লেখক পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর প্রতি অবহেলা এবং তাদের জাগরণের প্রত্যাশা করেছেন। তিনি এখানে পৌরাণিক বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের অবস্থান সম্পর্কে নির্দেশ করেছেন। সীতা রামচন্দ্রের অর্ধাঙ্গী, রানি, প্রণয়িনী এবং সহচরী। তা সত্ত্বেও রামচন্দ্র স্বামিত্বটা পূর্ণমাত্রায় দেখানোর জন্য সীতার অনুভবকে গুরুত্ব দিতে চাননি। কারণ সীতার অনুভব শক্তি বুঝতে গেলে তিনি অমন পবিত্র হৃদয়খানি অবিশ্বাসের পদাঘাতে দলিত ও চূর্ণ করতে পারতেন না।
সারকথা: স্বামিত্ব ভাবটা পূর্ণমাত্রায় দেখাতেই সীতার অনুভবকে রামচন্দ্র গুরুত্ব দেননি। প্রশ্নোক্ত কথায় এটাই বোঝানো হয়েছে।
33 ঈশ্বর কার অপেক্ষা অধিক করুণাময়?
উত্তর ঈশ্বর মা অপেক্ষা অধিক করুণাময়।
34 প্রত্যেকেই প্রত্যেকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে কেন?
উত্তর ➤ প্রত্যেকেই প্রত্যেকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করার কারণ হলো- কেউই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়।
➤ জীবন বা চাহিদা কখনই এককেন্দ্রিক হয় না। বিভিন্ন ধারার চাহিদা থাকার কারণে মানুষের প্রাপ্তির প্রত্যাশাও বিভিন্ন হয়ে থাকে। ফলে সাহায্য প্রার্থনা করতে হয় সবার কাছে। যদিও এর মধ্যে এক ধরনের বিনিময় ক্রিয়া রয়েছে, কিন্তু বিনিময় মুখ্য নয়। প্রাপ্তি বা চাহিদার পূর্ণতাই মুখ্য। জীবনকে পরিপূর্ণ করতেই একজন অন্যজনের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে।
সারকথা: জগতের কেউই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। । চাহিদার পূর্ণতা প্রাপ্তির লক্ষ্যেই একে অন্যের নিকট সাহায্য কামনা করে।
35 ‘নবদম্পতির প্রেমালাপ’ কবিতাটি কার লেখা?
উত্তর ‘নবদম্পতির প্রেমালাপ’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা।
36 লেখক অবরোধবাসিনীদের বেরিয়ে এসে উন্মুক্ত বিশ্বে পদার্পণের আহ্বান জানিয়েছেন কেন?- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ➤ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সমাজজীবনের অগ্রগতি ও কল্যাণ সাধনের জন্য অবরোধবাসিনীদের বেরিয়ে এসে উন্মুক্ত বিশ্বে পদার্পশের আহ্বান জানিয়েছেন।
➤ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সমাজজীবনের অগ্রগতি ও কল্যাণ সাধনের জন্য নারীজাগরণ ও তাদের মানসিক মুক্তি চেয়েছেন। এ লক্ষ্যেই তিনি সামাজিক পর্দাপ্রথা ভেঙে অবরোধবাসিনীদের বেরিয়ে এসে উন্মুক্ত বিশ্বে পদার্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। পর্দাপ্রথা নিয়ে যেসব নারী গোঁড়ামিকে আঁকড়ে আছে, তারা মানসিক দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি। এ অবস্থা নারীদের উন্নতির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাস্বরূপ। তাই তিনি অবরোধবাসিনীদের বেরিয়ে এসে উন্মুক্ত বিশ্বে পদার্পণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সারকথা: রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সমাজজীবনের অগ্রগতি ও কল্যাণ সাধনের জন্য নারীজাগরণ ও তাদের মানসিক মুক্তি চেয়েছেন। এ লক্ষ্যেই তিনি সামাজিক পদীপ্রখা ভেঙে অবরোধবাসিনীদের বেরিয়ে এসে উন্মুক্ত বিশ্বে পদার্পণের আজরান জানিয়েছেন।
37 কলম্বাসকে লোকেরা কী বলেছিল?
উত্তর কলম্বসকে লোকেরা বাতুল (উন্মাদ/পাগল) বলেছিল।
38 “অবলার হাতেও সমাজের জীবন-মরণের কাঠি আছে।” উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ➤ নারীরাও যে সমাজজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, উক্তিটির মধ্য দিয়ে সেটি সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
➤ পুরুষের মতো নারীরাও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তারাও সমাজের গঠন ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের সম্পর্কে পুরুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। অবলা বিবেচনা করে পেছনে ফেলে রাখলে চলবে না। প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নারীরা যদি উপযুক্তভাবে সন্তান গড়ে তোলে তাহলে সেই সন্তানই গঠন করতে পারে দেশের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ। নারীদের উন্নয়নের ওপর দেশ ও জাতির উন্নয়ন নির্ভর করে।
সারকথা : পুরুষের মতো নারীরাও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তারাও সমাজের গঠন ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
