BNG – AB S – বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন 

01 বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ইংরেজি উপন্যাসের নাম কী? [সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ, যশোর · 2026]

উত্তর : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ইংরেজি উপন্যাসের নাম Rajmohons Wife.

02 “যাহা লিখিবেন, তাহা হঠাৎ ছাপাইবেন না।”- বঙ্কিমচন্দ্রের এ পরামর্শের কারণ কী? [সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ, যশোর · 2026]

উত্তর :“যাহা লিখিবেন, তাহা হঠাৎ ছাপাইবেন না।”- উক্তিটির মাধ্যমে লেখক নতুন লেখকদের লেখা কিছুদিন ফেলে রেখে সংশোধন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সাধারণত নতুন কোনো লেখা সম্পূর্ণ করার পর তাতে কিছু ত্রুটি থেকে যেতে পারে। সেই ত্রুটি তাৎক্ষণিক নজরে আসে না। তাই প্রাবন্ধিক কোনো প্রবন্ধ, নাটক, উপন্যাস লেখার পর এক-দুই বছর ফেলে রাখতে অর্থাৎ চোখের আড়ালে রাখতে বলেছেন। এক-দুই বছর পর লেখাটির অনেক ত্রুটি নজরে পড়বে। তখন লেখার ত্রুটিগুলো সংশোধন করলে রচনাটি বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে।

03 যশের জন্য লিখিলে কী হয়? [সিলেট এমসি কলেজ · 2026]

উত্তর :যশের জন্য লিখলে যশও হয় না, লেখাও ভালো হয় না।

04 বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সরলতাকে সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার বলেছেন কেন? [সিলেট এমসি কলেজ · 2026]

উত্তর: লেখার উদ্দেশ্য পাঠককে বোঝানো। তাই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সরলতাকেই সব অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার বলেছেন।
লেখার উদ্দেশ্য হলো লেখকের চিন্তার সাথে পাঠকের মনের সংযোগ ঘটানো। সহজ ভাষায় সরল উপস্থাপনের মাধ্যমে লেখকের চিন্তার মধ্যে পাঠকের প্রবেশকে সহজ করা সম্ভব। তাই যিনি সোজা কথায় নিজের মনের ভাব সহজে পাঠককে বোঝাতে পারেন, তিনিই শ্রেষ্ঠ লেখক। লেখার সারল্য লেখাকে সহজবোধ্য করে। এ কারণে প্রাবন্ধিক সরলতাকে সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার বলেছেন।

05 মোহন কিছুর বউয়ের নাম কী? [জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট · 2026]

উত্তর :মোহন কিস্কুর বউয়ের নাম টরি।

06 “কপিলদাস বুড়ো এবার সত্যিই দমে যায়।”- ব্যাখ্যা করো। [জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট · 2026]

উত্তর: কপিলদাস বুড়ো এবার সত্যিই দমে যায়- বলতে নিজের ছেলের অবজ্ঞার শিকার হয়ে কপিলদাসের মর্মাহত হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
মহাজন কর্তৃক বসতভিটা থেকে উৎখাতের বিষয়ে সাঁওতালদের মধ্যে শলাপরামর্শ হচ্ছিল। কপিলদাসের ছেলে মহিন্দরের কাছে একজন লোককে আসতে দেখে আগ্রহ নিয়ে কপিলদাস তাদের কথা শুনতে এগিয়ে আসে। এতে বিরক্ত হয়ে মহিন্দর তাকে ‘বুড়ো’ বলে অবজ্ঞা করে। নিজের ছেলের কাছে অপমানিত হয়ে কপিলদাস দমে যায়।
আলোচ্য বাক্যটিতে কপিলদাসের সেই অবস্থাকেই নির্দেশ করা হয়েছে।

07 বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য কী?

উত্তর : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো- ধর্ম ও সত্য।

অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী-ধারণ মহাপাপ- বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর : সাহিত্যের উদ্দেশ্য থেকে যারা দূরে সরে গেছেন তাদের উদ্দেশ্য করে লেখক প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।

প্রাবন্ধিকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো- সত্য ও ধর্মের পথে থাকা। সত্য ও ধর্ম সাহিত্যে অনিবার্যরূপে থাকতে হবে। যারা সাহিত্যে অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ বিষয়, পরনিন্দা বা পরপীড়ন ও স্বার্থের বিষয় নিয়ে আসেন তারা সত্য ও ধর্ম থেকে বিচ্যুত। সত্য ও ধর্ম ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী ধারণকে লেখক মহাপাপ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

09.’লোকরঞ্জন’ বলতে কী বোঝ?

উত্তর :লোকরঞ্জন’ বলতে জনসাধারণের মনোরঞ্জন বা সন্তোষ বিধানকে বোঝায়।

10 “যশের জন্য লিখিবেন না।”- প্রাবন্ধিক এ কথা কেন বলেছেন?

উত্তর :যশের জন্য লিখলে লেখার মান ও যশ কোনোটাই হবে না। এ কারণে লেখক যশের জন্য লিখতে নিষেধ করেছেন। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক যশের জন্য লিখতে নিষেধ করেছেন। তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন ভালো লেখার প্রতি। কারণ প্রাবন্ধিক জানেন যশ বা খ্যাতির দিকে গুরুত্ব দিলে লেখার মান ভালো করা সম্ভব নয়। লেখার মান ভালো হলে যশ আপনা-আপনিই আসবে। তাই লেখক যশের জন্য লিখতে নিষেধ করেছেন।

সারকথা: প্রাবন্ধিক যশ লাভের জন্য লিখতে নিষেধ করেছেন, কারণ লেখার মান উন্নত ও ভাষা প্রাঞ্জল হলে যশ আপনিই আসবে।

11 ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার প্রথম বাক্যটি কী?

উত্তর: ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার প্রথম বাক্যটি হচ্ছে- যশের জন্য লিখিবেন না।

12 কী কারণে লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হয়ে পড়ে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর :অর্থের উদ্দেশ্যে লিখতে যাওয়ার কারণে লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হয়ে পড়ে। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় লেখক লেখকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ ও পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সাহিত্য সৃষ্টি করতে বলেছেন মানুষের উপকার ও সৌন্দর্য সৃষ্টির মনোভাব নিয়ে। তিনি অসত্য, নীতি-নৈতিকতাবিরোধী কিংবা পরনিন্দার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা স্বার্থতাড়িত লেখা পরিহার করতে বলেছেন। কারণ তাঁর মতে, আমাদের দেশে অর্থের উদ্দেশ্যে লিখতে গেলে লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হয়ে পড়ে। দেশের সাধারণ পাঠকের রুচি ও শিক্ষা বিবেচনা করে বা লোকরঞ্জনের দিক বিবেচনা করে লিখলে লেখার মর্যাদা নষ্ট হয়; লেখা দুর্বল, বিকৃত ও অনিষ্টকর হয়ে ওঠে।

সারকথা: সাহিত্য সৃষ্টির মূল এ উদ্দেশ্য মানবকল্যাণ ও সৌন্দর্য সৃষ্টি করা। অন্য উদ্দেশ্যে লিখতে গেলে প্রবৃত্তি প্রবল হয়ে ওঠে।

13 বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে জন্মগ্রহণ করেন? উত্তর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

14 “লেখা ভালো হইলে যশ আপনি আসিবে।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর :”লেখা ভালো হইলে যশ আপনি আসিবে।”- বলতে লেখক যশের প্রতি মনোযোগী না হয়ে লেখার মানের দিকে গুরুত্ব দিলে যশ হওয়াকে বুঝিয়েছেন। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে লেখক নব্য লেখকদের লেখার মানের প্রতি মনোযোগী হতে বলেছেন। লেখক মনে করেন, লেখার মান ভালো হলে খ্যাতির পেছনে দৌড়াতে হয় না। খ্যাতি নিজেই এসে ধরা দেয়। লেখার মান ঠিক না রেখে কেবল খ্যাতির পেছনে ছুটলে লেখাও ভালো হয় না, খ্যাতিও আসে না। এই বিষয়টি বোঝাতেই লেখক প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।

সারকথা: লেখকের লেখার মান ভালো । হলে যশ এমনি এমনি আসবে। তার জন্যই চেষ্টা করতে হবে।

15 ‘রাজসিংহ’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন ধরনের রচনা?

উত্তর :’রাজসিংহ’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাস।

16 “অর্থের উদ্দেশ্যে লিখিতে গেলে, লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হইয়া পড়ে।”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: “অর্থের উদ্দেশ্যে লিখিতে গেলে, লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হইয়া পড়ে।” বলতে লেখক পাঠকের মনোরঞ্জন অপেক্ষা লেখার মান গুরুত্বপূর্ণ- এই বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছেন। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে লেখক, নব্য লেখকদের টাকার জন্য লিখতে নিষেধ করেছেন। তিনি মনে করেন, এখনও আমাদের টাকার জন্য লেখার সময় আসেনি। অর্থের উদ্দেশ্যে লিখলে পাঠকের মনোরঞ্জন করতে হবে। ফলে রচনা বিকৃত ও অনিষ্টকর হয়ে যেতে পারে। আমাদের দেশের পাঠকের রুচি ও শিক্ষা বিবেচনা করে এমন কথা বলেছেন প্রাবন্ধিক।

সারকথা: অর্থের জন্য লিখিত রচনা বিকৃত ও অনিষ্টকর হয়। এতে লেখকের মধ্যে পাঠকের মনোরঞ্জনের চেষ্টা তীব্র হয়ে দেখা দেয়।

17 যশের জন্য লিখলে কোনটি হবে না?

উত্তর: যশের জন্য লিখলে যশও হবে না, লেখাও ভালো হবে না।

18 সাহিত্যে কী একেবারে পরিহার্য? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: সাহিত্যে যা অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ; পরনিন্দা বা পরপীড়ন তা একেবারে পরিহার্য। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য হলো সত্য ও ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করা। যদি কেউ সাহিত্যে অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ বা পরনিন্দা বা স্বার্থসাধন সংশ্লিষ্ট বিষয় উপস্থাপন করেন তবে সেই সাহিত্যের অবস্থান সাহিত্যের উদ্দেশ্য থেকে অনেক দূরে। তাই সত্যহীন ও ধর্মহীন বিষয় সাহিত্যে আনা একেবারেই উচিত নয়। এই সত্যহীন ও ধর্মহীন বিষয় সাহিত্যে উপস্থাপন করাকে লেখক মহাপাপ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

সারকথা: সাহিত্যের বিষয় সবসময় সত্য ও ও সুন্দর হওয়া বাঞ্ছনীয়। অসত্য ও ধর্মহীন বিষয় সাহিত্যে আনা উচিত নয়।

19 সাহিত্যে কী কী একেবারে পরিহার্য?

উত্তর: অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ, পরনিন্দা বা পরপীড়ন বা স্বার্থসাধন- এসব বিষয় সাহিত্যে একেবারে পরিহার্য।

20 “যাঁহারা সাময়িক সাহিত্যে ব্রতী, তাঁহাদের পক্ষে এই নিয়ম রক্ষাটি ঘটিয়া উঠে না।”- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর :”যাঁহারা সাময়িক সাহিত্যে ব্রতী, তাঁহাদের পক্ষে এই নিয়ম রক্ষাটি ঘটিয়া উঠে না।” উক্তিটি লেখক যারা সাময়িক সাহিত্য নিয়ে কাজ করেন তাদের লক্ষ্য করে করেছেন। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ লেখক নতুন লেখকদের লেখা কিছুকাল ফেলে রাখতে বলেছেন এবং কিছুদিন পরে তা সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রবন্ধ, নাটক, উপন্যাস প্রভৃতি কিছুকাল ফেলে রাখলে সেগুলোর কিছু দোষ নজরে আসে। পরে তা সংশোধন করা যায়। এভাবে রচনা বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে। কিন্তু যারা সাময়িক সাহিত্য নিয়ে কাজ করেন তাদের পক্ষে লেখা কিছুকাল ফেলে রাখা সম্ভব হয় না। এই বিষয়টি বোঝাতেই লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

21 কোনটি লেখকের পক্ষে অবনতিকর?

উত্তর: সাময়িক সাহিত্য লেখকের পক্ষে অবনতিকর।

22 সাময়িক সাহিতা লেখকের পক্ষে অবনতিকর কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : সাময়িক সাহিত্যে অনেক দোষ-ত্রুটি থেকে যায় বলে তা লেখকের পক্ষে অবনতিকর। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের লেখক মনে করেন, লেখা কিছুকাল ফেলে রেখে সংশোধন করলে লেখার অনেক উন্নতি সাধিত হয়। তার যারা লিখেই ছাপানোর জন্য তৎপর হন তাদের লেখায় অনেক ত্রুটি থেকে যায়। তাই প্রবন্ধ, কাব্য, নাটক, উপন্যাস কিছুকাল ফেলে রেখে সংশোধন করার পরামর্শ দিয়েছেন লেখক। যারা সাময়িক সাহিত্যে ব্রতী তাদের পক্ষে এই নিয়মটি রক্ষা করা সম্ভব হয় না। তাই তাদের উদ্দেশ্যে লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। সারকথা: সাময়িক সাহিত্যে সংশোধনের সুযোগ থাকে না, তাই তা । লেখকের পক্ষে অবনতিকর।

23 লেখার উদ্দেশ্য কোনটি?

উত্তর :লেখার উদ্দেশ্য পাঠককে বোঝানো।

“কাহারও অনুকরণ করিও না।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। উত্তর

উত্তর :”কাহারও অনুকরণ করিও না।”- উক্তিটি দ্বারা লেখক অনুকরণ করতে নিষেধ করেছেন। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে লেখক বলেছেন অনেক লেখক মনে করেন- ইংরেজি, সংস্কৃত বা বাংলা ভাষার লেখক যেভাবে লিখেছে, আমিও তেমন করে লিখব। এমন চিন্তা মনে স্থান দিতে নিষেধ করেছেন তিনি। কারণ কোনো লেখককে অনুকরণ করতে গেলে তার দোষগুলো অনুকৃত হয়, গুণগুলো হয় না। তাই কাউকে অনুকরণ করে সাহিত্য রচনা করা উচিত নয়। সারকথা: কাউকে অনুকরণ করলে তার দোষগুলোই অনুকৃত হয়। । তাই লেখক কাউকে অনুকরণ করতে নিষেধ করেছেন।

25 বাংলা সাহিত্য কার ভরসা?

উত্তর : বাংলা সাহিত্য বাংলার ভরসা।

26. ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে লেখক নব্য লেখকের হাতে কী থাকার কথা বলেছেন? ব্যাখ্যা কর। উত্তর

উত্তর :বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে লেখক নব্য লেখকের হাতে প্রমাণ থাকার কথা বলেছেন। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে লেখক রচনার বস্তুনিষ্ঠতার ওপর সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। যে কথার প্রমাণ নেই লেখক তা লিখতে নিষেধ করেছেন। লেখার প্রয়োজনে অনেক কথাই রচনায় আনতে হয়। তবে যুক্তি-প্রমাণহীন কোনো কথাই রচনায় যুক্ত করা ঠিক নয় বলে লেখক মনে করেছেন। আর এ ক্ষেত্রে তিনি প্রমাণ থাকার কথা বলেছেন। সারকথা: যে বিষয়ে লেখক সাহিত্যে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করবেন তার এ সঠিক প্রমাণ হাতে থাকতে হবে। প্রয়োগ

27 ‘সাম্য’ কোন ধরনের গ্রন্থ?

উত্তর :’সাম্য’ একটি গদ্যগ্রন্থ।

28 “অনুকরণে দোষগুলি অনুকৃত হয়, গুণগুলি হয় না।”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর :”অনুকরণে দোষগুলি অনুকৃত হয়, গুণগুলি হয় না।” বলতে লেখক সাহিত্য রচনার সময় অন্যের লেখা অনুকরণ করে লিখলে দোষগুলোর অনুকরণ হওয়া এবং গুণগুলোর অনুকরণ না হওয়াকে বুঝিয়েছেন। লেখক বলেছেন ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের অনেক লেখক আছেন যারা অন্য লেখক দ্বারা প্রভাবিত হন এবং তাদের লেখা অনুকরণ করে সাহিত্য রচনায় সচেষ্ট হন। এরকম অনুকরণপ্রিয়তা সাহিত্যের জন্য ক্ষতিকর। একজন লেখক অন্য লেখক দ্বারা অনুপ্রাণিত হতে পারেন, সেই ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় দোষগুলোই অনুকৃত হয়। প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে লেখক এটাই বোঝাতে চেয়েছেন। সারকথা: যেকোনো লেখক অন্য লেখক দ্বারা অনুপ্রাণিত হতে পারেন, তবে অনুকরণ করতে গেলে দোষগুলো অনুকৃত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

29 উন্নত’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘উন্নত’ শব্দের অর্থ হলো- উৎকর্ষ।

30. “অসময়ে বা শূন্য ভান্ডারে অলংকার প্রয়োগের বা রসিকতার মতো কদর্য আর কিছুই নাই।”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর :”অসময়ে বা শূন্য ভান্ডারে অলংকার প্রয়োগের বা রসিকতার মতো কদর্য আর কিছুই নাই।” বলতে লেখক, লেখার মধ্যে অপ্রয়োজনে অলংকার প্রয়োগ করে সাহিত্যকে সুন্দর করার পরিবর্তে কদর্য করে তোলাকে বোঝাতে চেয়েছেন। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে লেখকের মতে সাহিত্যের রস বা নির্যাস অনেকাংশেই অলংকারের ওপর নির্ভরশীল। তবে তা অবশ্যই যথাস্থানে ব্যবহার করতে হবে। অলংকার প্রয়োগ বা রসিকতার জন্য জোর করা যাবে না। অযথা যেখানে-সেখানে অলংকার বা রসিকতা ব্যবহার করলে সাহিত্য সৌন্দর্যমন্ডিত হওয়ার বদলে আরও কুৎসিত হয়ে ওঠে। লেখকের ভান্ডারে থাকলে প্রয়োজন অনুসারে তা আপনা থেকেই আসবে। এই দিকটি বোঝাতেই লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। সারকথা: প্রয়োজন অনুসারে সাহিত্যে রসিকতা বা অলংকার প্রয়োগ করতে হবে। অপ্রয়োজনে করলে সাহিত্য কদর্য হয়ে পড়বে।