BNG – AB S – Kopel Das Murmur Ses Kaj

01 শওকত আলী কত খ্রিস্টাব্দে একুশে পদকে ভূষিত হন?[ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2026]

উত্তর শওকত আলী ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে একুশে পদকে ভূষিত হন।

02 “শুধুই যথাস্থানে ফিরে যাওয়া, শুধুই মেনে নেওয়া”- কেন? ব্যাখ্যা করো।[ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2026]

উত্তর আলোচ্য উক্তিটি দ্বারা লেখক কপিলদাস মুর্মুর বার্ধক্যের স্থবিরতাকে নির্দেশ করেছেন।
‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পে দখলদাররা সাঁওতালদের জমি দখল করতে চাইলে গ্রামে এ ব্যাপারে পরামর্শ সভা বসে। কিন্তু সেখানে কারও মধ্যে রাগ নেই, জ্বালা নেই, কারও দুচোখ ধকধক করে জ্বলে না। এসব ব্যাপার দেখে কপিলদাস ভারি অবাক হয়। ছেলেরা মনে করে তাকে দিয়ে আর কিছুই হবে না। সবাই তাকে অবজ্ঞা করে। একসময় কপিলদাস নিজেও বিশ্বাস করতে শুরু করে- তাকে দিয়ে আর বুঝি কিছুই হবে না। তাদের বসতভিটা নিয়ে আসন্ন সংগ্রামে তাকে রাখা হয়নি। তাই সে হতাশ হয়ে ফিরে যায়। আলোচ্য বাক্যে বার্ধক্যে উপনীত কপিলদাসের মানসিক অবস্থা প্রকাশ পেয়েছে।

03 ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে?[ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2026]

উত্তর ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পটি ‘লেলিহান সাধ’ গ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে।

04 “ঠিক শুনিছিস তুই, ঠিক শুনিছিস?”- উক্তিটি কোন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।[ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2026]

উত্তর “ঠিক শুনিছিস তুই, ঠিক শুনিছিস?”- নিজের বসতভিটার ওপর মহাজনের ট্রাক্টর চলার কথা বিশ্বাস না করতে পেরে কপিলদাস সলিমউদ্দিনকে আলোচ্য উক্তিটি করেছে।
সাঁওতালরা মহাজনের অনেক অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়। তাদের বসতভিটা থেকে বিতাড়িত করে মহাজন সেখানে চাষাবাদ করার পরিকল্পনা করে। কথাটি সলিমদ্দিন বৃদ্ধ কপিলদাসকে বলে। কপিলদাসের এ কথা বিশ্বাস হয় না, কারণ বসতভিটার ওপর দিয়ে ট্রাক্টর চলার কথা নয়। সলিমদ্দিনের কথা বিশ্বাস না হওয়ায় কপিলদাস সলিমউদ্দিনকে আলোচ্য উক্তিটি করে।

05 মুর্মু কী?

উত্তর মুর্মু হলো সাঁওতাল গোত্রবিশেষ। মুর্মু শব্দের অর্থ নীল গাভি।

06 ‘কপিলদাস বুড়োর কাছে সবই একটার সাথে আরেকটা মেলানো মনে হয়।’- কেন?

উত্তর ➤ ‘কপিলদাস বুড়োর কাছে সবই একটার সঙ্গে আরেকটা মেলানো বলে মনে হয়’ গভীর বিবেচনাবোধের কারণে।

➤ ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পে কপিলদাস মুর্মু সবার কাছে বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়া বৃদ্ধ এবং নিতান্ত অপ্রয়োজনীয় একজন মানুষ। অথচ অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ জীবনে কপিলদাস মুর্মু ঝগড়াঝাঁটি, জীবন-মরণ, রাগ-ক্ষোভ, হাসি-খুশি ভাব অনেক দেখেছে। প্রকাণ্ড কান্দর বা তার ওপরের আকাশ, নিচে টাঙন নদীর স্রোত- সবই তার দেখা, অনেক চেনা। এসব তার কাছে শেষ পর্যন্ত একটির সঙ্গে অন্যটিকে মেলানো মনে হয়েছে। সংসারের অনেক ভেতরে শান্ত, ধীর, নিরবচ্ছিন্ন একটি স্রোত আছে যা সবকিছুর ওপর দিয়ে বয়ে যায়। সেখানে কাঁপন বা উত্তেজনা বা চিৎকার নেই। এভাবে একটার সঙ্গে আরেকটা মিলে যায়।

সারকথা: সংসারের অনেক ভেতরে শান্ত, ধীর, নিরবচ্ছিন্ন একটি স্রোত আছে (যা সবকিছুর ওপর দিয়ে বয়ে যায়।

07 দীনেশ কিস্কুর উঠোনে হুড়মুড় করে কী ঢুকে পড়বে?

উত্তর দীনেশ কিস্কুর উঠোনে হুড়মুড় করে কলের জিনিস ট্রাকটর ঢুকে পড়বে।

08 “বস্তিটস্তি উঠে যাবে আর ট্রাকটর চলতে থাকবে ঘরবাড়ি-ভিটেমাটির উপর দিয়ে।”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ➤ “বস্তিটস্তি উঠে যাবে আর ট্রাকটর চলতে থাকবে ঘরবাড়ি-ভিটেমাটির উপর দিয়ে।”- কথাটি কপিলদাসের মনোভাবনা।

➤ ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পে কপিলদাস সলিমউদ্দিনের কাছে জানতে পারে সাঁওতাল বস্তি ভেঙে সেখানে ধান চাষ করা হবে। তখন কপিলদাসের মনে পড়ে তাদের বস্তি উঠে যাওয়ার বিষয়টি। তখন সে ভাবে, শেষ পরিণতি কি এমন হবে যে ঘর- বাড়ির উপর দিয়ে ট্রাকটর চলবে? আশু ভবিষ্যতের দুঃসময়ের কথা ভেবে সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আর তার ভাবনার এই বিষয়টি ঘুরপাক খেতে থাকে। এরকম অবস্থায় কপিলদাস মনে মনে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে। 

সারকথা: ভবিষ্যতের কথা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে কপিলদাস তার ভাবনা থেকে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।

09 কোথায় নতুন ঘুন্টি বাঁধা হয়েছে?

উত্তর ফার্মের গরুগুলোর গলায় নতুন মুষ্টি বাঁধা হয়েছে।

10“বুঢ়া দাদা তুমার বস্তিটা আর এইঠে থাকবে নাই, ইবছর এইঠে ধানের আবাদ হবে।”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ➤ “বুঢ়া দাদা তুমার বস্তিটা আর এইঠে থাকবে নাই, ইবছর এইঠে ধানের আবাদ হবে।”- কথাটি সলিমউদ্দিন বলেছে কপিলদাসকে।

➤ ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পের সাঁওতাল অধ্যুষিত গ্রামের বয়োবৃদ্ধ কপিলদাস মুর্মু। বয়সকালে সে প্রকৃতির বৈরিতার বিরুদ্ধে লড়াই করে, শিকার করে, মহাজনের জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করত। বংশপরম্পরায় তারা বস্তিতে বসবাস করে আসছে। অথচ এখন ম্যানেজার মহাজন সেই গ্রামের সাঁওতাল বসতি ভেঙে সেখানে ধানের চাষ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সলিমউদ্দিন খামারবাড়ি থেকে এই খবরটি শুনে এসেছে, আর তা কপিলদাসকে দেওয়ার জন্যই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে। 

সারকথা: সাঁওতাল অধ্যুষিত বসতি ভেঙে ধানচাষের খবরটি কপিলদাসকে দেওয়ার জন্য সলিমউদ্দিন প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।

11 ‘লেলিহান সাধ’ গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?

উত্তর শওকত আলীর লেখা ‘লেলিহান সাধ’ গ্রন্থটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত হয়।

12 “ভারি ধীর নোয়ানো স্বর। শান্তভাবে পরামর্শ হচ্ছে যেন।”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ➤ “ভারি ধীর নোয়ানো স্বর। শান্তভাবে পরামর্শ হচ্ছে যেন।”- কথাটিতে শলাপরামর্শকারীদের নিচু স্বরে কথা বলা বোঝানো হয়েছে।

➤ ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পের ম্যানেজার মহাজন সাঁওতালদের বস্তি উচ্ছেদ করে সেখানে ফসল আবাদের কথা জানায়। সাঁওতাল গ্রামের বসতি ভেঙে ধান চাষের বিষয় নিয়ে কপিলদাসের বাড়িতে সবাই শলাপরামর্শ করতে আসে। সাঁওতালদের অস্তিত্ব সংকট নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হতে থাকে। তবে তাদের চোখে-মুখে সেই সংকটে কোনো জ্বালা নেই বলে কপিলদাস মুর্মু বিমর্ষ হয়। তাদের সেই নির্বিকার রূপ তুলে ধরতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে। 

সারকথা: বসতি ভেঙে দেওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলার সময়ও নির্বিকার দেখে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

13 বিচার সভার কোন দৃশ্যটা কপিলদাসের স্মরণে আসে না?

উত্তর বিচার সভার শেষ দৃশ্যটা কপিলদাসের স্মরণে আসে না।

14 কপিলদাস ভাত খাওয়ার কথা ভুলে গিয়ে তার নাতিদের কোন গল্প বলে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ➤ কপিলদাস ভাত খাওয়ার কথা ভুলে গিয়ে তার নাতিদের নিজের গল্প বলা শুরু করে।

➤ ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পে কপিলদাস টাঙনের পাড় থেকে এসে খেতে বসে। ভাতের থালায় এক টুকরা পোড়া মাংস পায়। তখন সে শিকারের প্রসঙ্গ টেনে আনে। আর তার নাতিরা গল্প শুনতে চাইলে সে তাদেরকে বলতে শুরু করে। প্রকৃতপক্ষে এই গল্প ছিল তার নিজের গল্প। কপিলদাস মুর্মু তার নাতিদের সঙ্গে বনবিড়াল মনে করে কীভাবে বাঘ শিকার করেছিল সেই গল্পই বলে। 

সারকথা: কপিলদাস মুর্ষু তার নাতিদের কাছে বনবিড়াল মনে করে বাঘ শিকারের গল্প বলে।

15 কপিলদাস তার মনের ভেতরে স্পষ্ট কী দেখতে পায়?

উত্তর কপিলদাস তার মনের ভেতরে স্পষ্ট দেখতে পায় তার কালো রঙের কুকুরটাকে।

16 “হ্যাঁ মড়ল তুই বুড়া মানুষ, তুই কিছু করিবা পারিস না।” কথাটি বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর ➤ “হ্যাঁ মড়ল তুই বুড়া মানুষ, তুই কিছু করিবা পারিস না।” কথাটি কপিলদাস বুড়োকে কেউ একজন বলেছে।

➤ ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পে কপিলদাস বৃদ্ধ হলেও চারপাশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সে সচেতন। কপিলদাস মূর্য যৌবনকালে খুব সাহসী একজন শিকারি ছিল। তার বয়স হওয়ার কারণে বর্তমানে কেউ তাকে আর গুরুত্ব দেয় না। তার নিজের ছেলেও তাকে ভর্ৎসনা করে। সমাজ বা সম্প্রদায়ের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সভায় তাকে কেউ রাখতে চায় না। এতে সে মনে মনে খুবই কষ্ট পায়। তবে, বুড়ো হলেও তার মনে যৌবনের উদ্দামতা এখনও আছে। শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সে সব সময় প্রস্তুত থাকে। তা সত্ত্বেও সমাজের মানুষ তাকে কোনো গুরুত্বই দেয় না, যা প্রশ্নোক্ত কথাটিতে প্রতিফলিত হয়েছে। 

সারকথা: কপিলদাস মুর্মু বৃদ্ধ বলে সবাই তাকে হেয় প্রতিপন্ন করে। কেউই তাকে গুরুত্ব দিতে চায় না।

17 কপিলদাস গল্প বলার সময় কোন বিষয়টি প্রকাশ করতে ইতস্তত করে?

উত্তর কপিলদাস গল্প বলার সময় নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করতে ইতস্তত করে।

18 “কপিলদাসের ভারি অবাক লাগে গোটা ব্যাপারটা দেখে।”- কোন ব্যাপার? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ➤ পরামর্শ সভায় কারও কণ্ঠে প্রতিবাদী মনোভাব না থাকায় গোটা ব্যাপারটা দেখে কপিলদাসের ভারি অবাক লাগে।

➤ ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পে সাঁওতালরা নিজেদের বসতবাটি থেকে উচ্ছেদের আশঙ্কায় সবাই মিলে পরামর্শ সভার আয়োজন করে। কপিলদাস সেখানে না থাকলেও দূর থেকে সে সবকিছু অবলোকন করে। সে দেখতে পায় দীনদাস, মহিন্দর, ভায়া মাঝিরা কথা বলছে। তাদের স্বর ভারি ধীর ও শান্ত, রাগ নেই, এমনকি কেউ চিৎকার করে মহাজনকে গালাগালও দিচ্ছে না। এই দিকটি কপিলদাসের কাছে অবাক লাগে। 

সারকথা: পরামর্শ সভায় কারও মধ্যে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর না থাকায় সভার গোটা ব্যাপারটা কপিলদাসের কাছে অবাক লাগে।

19 কপিলদাস মুর্মু শেষ পর্যন্ত কী হয়ে ওঠে?

উত্তর কপিলদাস মুর্মু শেষ পর্যন্ত জাতিসত্তার অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামের এক আপসহীন যোদ্ধা হয়ে ওঠে।

20 “সেই ভাবটা টাঙনের স্রোতে আজকাল সব সময় ধরা থাকে।”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ➤ ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পের টাঙনের পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় এর স্রোতে শীতের শান্ত ভাবটা সব সময় ধরা থাকে।

➤ নদীতে পানি বেশি থাকলে এর স্রোতেও তীব্রতা দেখা যায়। আর পানির পরিমাণ কমে গেলে সেই নদী হয়ে পড়ে শান্ত ও স্থবির। টাঙনের অবস্থাও এমনই হয়েছে। পানি কমে যাওয়ায় বাতাস উঠলে এখন এর পানিতে কাঁপন লাগে না। সাঁকোর ওপর দিয়ে চিনি কলের ভারী আখ বওয়া ট্রাকগুলো যাওয়ার সময় পানির স্রোত কাঁপে না, সাঁকোর থামগুলো গুমগুম শব্দ করে উঠলেও পানির স্রোত তেমনই ধীর ও শান্ত থাকে। এই কারণেই টাঙনের স্রোতে শীতের শান্ত ভাবটা সব সময় ধরা থাকে। 

সারকথা: টাঙনের পানির স্তর অনেক নিচে থাকায় ওই নদীতে স্রোত নেই। ফলে তাতে শীতের শান্ত ভাব সব সময় ধরা থাকে।

21 কার কাছে সবই একটার সঙ্গে আরেকটা মেলানো বলে মনে হয়?

উত্তর কপিলদাস বুড়োর কাছে সবই একটার সঙ্গে আরেকটা মেলানো বলে মনে হয়।

22 “সেখানে কাঁপন নেই, উত্তেজনা নেই, চিৎকার নেই।”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ➤ সেখানে কাঁপন নেই, উত্তেজনা নেই, চিৎকার নেই।”- এখানে সংসারের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্রোতের কথা বলা হয়েছে। 

➤ ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পে কপিলদাস মুর্মু তার চারপাশের ঝগড়াঝাঁটি, কর্মকান্ড ইত্যাদি নিয়ে তেমন কিছুই ভাবে না। কারণ তার কাছে মনে হয় এসব সংসারের স্বাভাবিক বিষয়। সে মনে করে রাগ, ক্ষোভ, হাসিখুশি মনের ভাব, আসমান, টাঙনের স্রোত প্রভৃতি সবকিছুই একটার সঙ্গে আরেকটা শেষ পর্যন্ত একসূত্রে গাঁথা। প্রকৃতপক্ষে কপিলদাস মুর্মুর মনে করে যে সংসারের সবকিছুর ওপর দিয়ে একটি শান্ত স্রোত বয়ে চলছে আর সেখানে কাঁপন নেই, উত্তেজনা নেই, চিৎকার নেই। 

সারকথা: সংসারের অনেক ভেতর দিয়ে কাঁপনহীন, উত্তেজনাহীন, চিৎকারহীন এক শান্ত, ধীর ও নিরবচ্ছিন্ন স্রোতধারা বহমান

23 ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পে কাদের গলায় শানানো স্বরের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পে মেয়েদের গলায় শানানো স্বরের কথা বলা হয়েছে।

24 “কপিলদাস দেখতে দেখতে নিজের যৌবনকালে চলে যায়।”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ➤ প্রশ্নোক্ত কথাটিতে কপিলদায় মুর্মুর শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের দিনগুলোতে ফিরে যাওয়াকে বোঝানো হয়েছে।

➤ ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পের কপিলদাস প্রায়ই টাঙন নদীর পাড়ে বসে থাকে। সেখানে বসে থাকতে থাকতে তার একটা গা-ছাড়া ভাব চলে আসে। এই ভাবটি যখন আসে তখন তার জীবনের পুরনো ঘটনার ছবি সাজিয়ে নিয়ে আসে। তার চোখের সামনে পুশনা পরবের তুমুল নাচ, মেয়েদের গলায় শানানো স্বর প্রভৃতি ঘটনা ভেসে ওঠে। তখন সে যৌবনকালের ঘটনা স্মরণ করতে থাকে। মহাজনের ধান খামারবাড়ি থেকেই কিষানদের হাতে বিলিয়ে দেওয়া, মানুয়েল পাদ্রিকে টাঙনের পানিতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া ইত্যাদি ঘটনা তার চোখে ভাসতে থাকে। 

সারকথা: বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাবনার সময় কপিলদাস দেখতে দেখতে তার কল্পনায় যৌবনকালে চলে যায়।

25 কপিলদাসের ছেলের নাম কী?

উত্তর কপিলদাসের ছেলের নাম মহিন্দর।

26 “একবার নয়, ঘুরে ঘুরে কথাটা সে বলেই চলল।”- কোন কথা এবং কেন বলেই চলল?

উত্তর ➤ “একবার নয়, ঘুরে ঘুরে কথাটা সে বলেই চলল।”- লোকে কপিলদাসকে বলে যে সে বুড়া হয়ে গেছে, সে কিছুই পারে না- এই কথাটিই সে নিজের অক্ষমতার দুঃখ ও আক্ষেপে নিজের মনে বলেই চলল।

➤ ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পের বৃদ্ধ কপিলদাস মুর্মু বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়েছে বলে অনেকেই তাকে দূরে সরিয়ে রাখে। কেউ কেউ “তুই বুঢ়া মানুষ- তুই কিছু পারিস না” বলেও অবজ্ঞা করে। এসব কথাই কপিলদাস নিজেকে শোনায়- “তুই বুঢ়া মানুষ হে মড়ল, তোর কিছু করার নাই।” এই কথটি শুধু একবার নয়, ঘুরে ঘুরে কথাটি সে বলেই চলে। কথাটি বলতে বলতে সে কয়েকটি ভারি গভীর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। ওই কথা তাকে বার্ধক্যের অক্ষমতা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল। এ কারণে সে বারবার কথাটি বলেই চলছিল। 

সারকথা: কপিলদাস যে বুড়ো হয়ে অক্ষম হয়ে গিয়েছে এই কথাটা অনেকেই তাকে বলে। সেই কথাট্রিই আক্ষেপে সে বারবার বলে চলে।