01 মাইকেল মধুসূদন দত্ত কত খ্রিষ্টাব্দে মারা যান? [ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026]
উত্তর মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে মারা যান।
02 ‘লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে।’ উক্তিটি কার? এর মাধ্যমে তার কোন মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে? বুঝিয়ে লেখো। [ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026]
উত্তর ‘লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে’- কথাগুলো মেঘনাদ বলেছে বিশ্বাসঘাতক বিভীষণকে; এখানে অস্ত্রাগারে গিয়ে যুদ্ধের সাজে সজ্জিত হয়ে এসে মেঘনাদ লক্ষ্মণকে হত্যা করে লঙ্কাপুরীর কলঙ্ক কালিমা মুছে দিতে চেয়েছে।
‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় যুদ্ধযাত্রার আগে মেঘনাদ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা সম্পন্ন করতে মনস্থির করে। কিন্তু মায়াদেবীর অনুগ্রহ এবং বিভীষণের সহায়তায় শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে রামানুজ লক্ষ্মণ সেই যজ্ঞাগারে প্রবেশ করে। সেখানে লক্ষ্মণ নিরস্ত্র মেঘনাদকে তার সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধের আহ্বান করে এবং তরবারি কোষমুক্ত করে। মেঘনাদ অস্ত্রাগারে যেতে চায় অস্ত্র আনার জন্য। কিন্তু বিভীষণ অস্ত্রাগারের দ্বার রোধ করে দাঁড়িয়ে থাকে। তখন মেঘনাদ বিভীষণকে প্রশ্নোক্ত কথাগুলো বলেছে।
03 মাইকেল মধুসূদন দত্তের পিতার নাম কী? [নটরডেম কলেজ · 2026]
উত্তর মাইকেল মধুসূদন দত্তের পিতার নাম রাজনারায়ণ দত্ত।
04 “গতি যার নীচসহ, নীচ সে দুর্মতি।”- বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। [নটরডেম কলেজ · 2026]
উত্তর প্রশ্নোক্ত চরণে বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতার বিষয়টি বুঝতে পেরে মেঘনাদ যে তিরস্কার করে, সেই বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে।
‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় মেঘনাদ একজন দেশপ্রেমিক বীর। অপরপক্ষে তার পিতৃব্য বা চাচা বিভীষণ দেশ ও জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। সে. বহিঃশত্রু রামের পক্ষ অবলম্বন করে লক্ষ্মণকে পথ দেখিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নিয়ে যায়। মেঘনাদ এ বিষয়টি বুঝতে পেরে বিভীষণকে বলে, শত্রু যদি গুণবানও হয় তবুও তার সঙ্গে সখ্য স্থাপন করা উচিত নয়। যে এমনটি করে সে অতি নীচ এবং দুর্জন ব্যক্তি।
05 সৌমিত্রি কে? [ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ · 2026]
উত্তর সৌমিত্রি হলো লক্ষ্মণ।
06 “চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো। [ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ · 2026]
উত্তর “চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে”- কথাটি লক্ষ্মণ সম্পর্কে মেঘনাদ বিভীষণকে বলেছিল।
মেঘনাদ লক্ষ্মণকে চণ্ডাল বলে অভিহিত করেছে। সে তার চাচা বিভীষণের কাছে লঙ্কাপুরীতে লক্ষ্মণ কীভাবে প্রবেশ করতে পারল সেই বিষয়ে জানতে চায়। কারণ শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সেখানে কারও প্রবেশ করা সহজ নয়। অবশেষে বুঝতে পারল যে, বিভীষণের সহায়তায় সে লঙ্কাপুরীতে প্রবেশ করেছে। লঙ্কাপুরীর স্বর্ণনির্মিত রাজার আলয়ে বিভীষণ লক্ষ্মণকে নিয়ে এসে নিজের আভিজাত্যের অপমান ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। লঙ্কার ক্ষমতাধর রাজা রাবণের ভাই হয়ে তার এই কাজ করা মোটেই উচিত হয়নি। অথচ সে রাবণের শত্রু রামের পক্ষে যোগ দিয়ে এসব করেছে। এই হীন অবস্থা দেখে মেঘনাদ তাকে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছে।
07 ‘ধীমান’ শব্দের অর্থ কী? [শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ · 2026]
উত্তর ‘ধীমান’ শব্দের অর্থ জ্ঞানী।
08 “নিজগৃহপথ, তাত, দেখাও তস্করে? চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে?”- ব্যাখ্যা করো। [শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ · 2026]
উত্তর “নিজগৃহপথ, তাত, দেখাও তস্করে?”- চরণটির মধ্য দিয়ে পিতৃব্য বিভীষণের প্রতি মেঘনাদের তিরস্কার প্রকাশ পেয়েছে। বিভীষণ লঙ্কার রাজা রাবণের ছোটো ভাই। সে ধর্মের দোহাই দিয়ে শত্রু রামের পক্ষ নেয়। রাবণের বীর পুত্র মেঘনাদ যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা সম্পন্ন করতে যায়। এই সময় বিভীষণ লক্ষ্মণকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়। তখন মেঘনাদ বিভীষণের সেই উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে তাকে তিরস্কার করে বলে- নিজের ঘরের পথ চোরকে দেখানোর মতো সে লক্ষ্মণকে পথ দেখিয়ে নিয়ে এসেছে। প্রশ্নোক্ত কথাটির মধ্য দিয়ে বিভীষণের প্রতি মেঘনাদের তিরস্কার প্রকাশ পেয়েছে।
09 সৌমিত্রি কে? [আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ · 2026]
উত্তর সৌমিত্রি হলো লক্ষ্মণ।
10 “হায়, তাত, উচিত কি তব এ কাজ?”- কে, কেন এ উক্তিটি করেছিল? [আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ · 2026]
উত্তর নিজের জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব এবং স্বজাতির প্রতি কর্তব্য জলাঞ্জলি দিয়ে বিভীষণ বিশ্বাসঘাতকতা করে রামানুজ লক্ষ্মণকে নিকুন্ডিলা যজ্ঞাগারে নিয়ে যাওয়ায় মেঘনাদ তাকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিল। লঙ্কাপুরীকে রামচন্দ্রের হাত থেকে বাঁচাতে এবং যুদ্ধজয় নিশ্চিত করতে মেঘনাদ সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে। যুদ্ধে যাওয়ার আগে মেঘনাদ নিকুন্তিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা করতে যায়। লক্ষ্মণকে সেখানে প্রবেশ করতে বিভীষণ সহায়তা করে। তার এমন বিশ্বাসঘাতক আচরণে মেঘনাদ ব্যথিত হয়। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে শত্রুকে পথ চিনিয়ে ঘরে নিয়ে আসা উচিত হয়েছে কি-না মেঘনাদ তা তার পিতৃব্য বিভীষণের কাছে জানতে চেয়েছে।
11 রাবণের মধ্যম সহোদর কে ? [Chittagong · 2019]
উত্তর রাবণের মধ্যম সহোদর হলেন- কুম্ভকর্ণ।
12 “তব বাক্যে ইচ্ছি মরিবারে!” – বুঝিয়ে বলো। [Chittagong · 2019]
উত্তর “তব বাক্যে ইচ্ছে মরিবারে!”- এখানে বিভীষণের আচরণ ও কথায় দেশপ্রেমিক মেঘনাদের মরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা বলা হয়েছে।
‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার মেঘনাদ একজন দেশপ্রেমিক। সে জন্মভূমি স্বর্ণলঙ্কাকে রক্ষা করতে দৃঢ়প্রত্যয়ী। অন্যদিকে মেঘনাদের চাচা বিভীষণ দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ভাবে না। সে স্বজাতি ও স্বদেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে মেঘনাদকে হত্যা করার জন্য লক্ষ্মণকে সহায়তা করে। বিভীষণ রাবণের ভাই হওয়া সত্ত্বেও সে ভ্রাতৃত্ব, জাতিত্ব ভুলে শত্রুপক্ষ রামের সঙ্গে হাত মেলায়। সে লক্ষ্মণকে সঙ্গে করে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নিয়ে আসে। লক্ষ্মণ যখন নিরস্ত্র মেঘনাদকে আঘাত করে তখন সে অস্ত্রাগারের দ্বার আগলে দাঁড়িয়ে থাকে। মেঘনাদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও অস্ত্রাগারে প্রবেশ করতে দেয় না। মেঘনাদের সমস্ত চেষ্টা সে ব্যর্থ করে দেয়। তার সমস্ত অনুরোধ উপেক্ষা করে বিভীষণ বলে- সে ‘রাঘবদাস’, তার বিরুদ্ধে সে কিছুতেই যেতে পারবে না। এ কথা শুনে মেঘনাদের মরে যেতে ইচ্ছে করে। কারণ তার পিতৃব্য বিভীষণের কাছে সে এমন অমানবিক বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ উক্তি আশা করেনি।
13 মাইকেল মধুসূদন দত্তের মায়ের নাম কী ? [Rajshahi · 2019]
উত্তর মাইকেল মধুসূদন দত্তের মায়ের নাম জাহ্নবী দেবী।
14 “স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থানুর ললাটে”— কবিতার এই চরণ দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে ? [Rajshahi · 2019]
উত্তর “স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে”- কবিতার এই চরণ দ্বারা বোঝানো হয়েছে বিধাতা চাঁদকে আকাশে নিশ্চল করে স্থাপন করেছেন।
সৃষ্টিকর্তা এ-জগতের সবকিছু সৃষ্টি করে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান দিয়েছেন। এমনিভাবে আকাশে চাঁদের একটি নির্দিষ্ট অবস্থান রয়েছে। চাঁদ সেই অবস্থান ত্যাগ করে কখনো ভূতলে নেমে আসে না। অর্থাৎ সবকিছুই এক-একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চলে। এখানে বিভীষণকে তাঁর বংশগৌরব ও আত্মমর্যাদা বোধ স্মরণ করিয়ে দিতে মেঘনাদ প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।
15 সৌমিত্রি কে? [Rajshahi · 2018]
উত্তর সৌমিত্রি হলো লক্ষ্মণ।
16 ‘হায় তাত, উচিত কি তব এ কাজ?’- কে, কেন এ উক্তিটি করেছিল? [Rajshahi · 2018]
উত্তর নিজের জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব এবং স্বজাতির প্রতি কর্তব্য জলাঞ্জলি দিয়ে বিভীষণ বিশ্বাসঘাতকতা করে রামানুজ লক্ষ্মণকে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নিয়ে যাওয়ায় মেঘনাদ তাকে উদ্দেশ করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিল। লঙ্কাপুরীকে রামচন্দ্রের হাত থেকে বাঁচাতে এবং যুদ্ধজয় নিশ্চিত করতে মেঘনাদ সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে। যুদ্ধে যাওয়ার আগে মেঘনাদ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা করতে যায়। লক্ষ্মণকে সেখানে প্রবেশ করতে বিভীষণ সহায়তা করে। তার এমন বিশ্বাসঘাতক আচরণে মেঘনাদ ব্যথিত হয়। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে শত্রুকে পথ চিনিয়ে ঘরে নিয়ে আসা উচিত হয়েছে কিনা মেঘনাদ তা তার পিতৃব্য বিভীষণের কাছে জানতে চেয়েছে।
17 ‘বিধু’ শব্দের অর্থ কী? [Barisal · 2017]
উত্তর ‘বিধু’ শব্দের অর্থ চাঁদ।
18 “চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে” পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর। [Barisal · 2017]
উত্তর “চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে”- কথাটি লক্ষ্মণ সম্পর্কে মেঘনাদ বিভীষণকে বলেছিল।
মেঘনাদ লক্ষ্মণকে চণ্ডাল বলে অভিহিত করেছে। সে তার চাচা বিভীষণের কাছে লঙ্কাপুরীতে লক্ষ্মণ কীভাবে প্রবেশ করতে পারল সেই বিষয়ে জানতে চায়। কারণ শত-শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সেখানে কারও প্রবেশ করা সহজ নয়। অবশেষে বুঝতে পারল যে, বিভীষণের সহায়তায় সে লঙ্কাপুরীতে প্রবেশ করেছে। লঙ্কাপুরীর স্বর্ণনির্মিত রাজার আলয়ে বিভীষণ লক্ষ্মণকে নিয়ে এসে নিজের আভিজাত্যের অপমান ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। লঙ্কার ক্ষমতাধর রাজা রাবণের ভাই হয়ে তার এ কাজ করা মোটেই উচিত হয়নি। অথচ সে রাবণের শত্রু রামের পক্ষে যোগ দিয়ে এসব করেছে। এ হীন অবস্থা দেখে মেঘনাদ তাকে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছে।
19 বাসবত্রাস কে? [Sylhet · 2017]
উত্তর বাসবত্রাস হচ্ছে- মেঘনাদ।
20 “লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে।”- দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? [Sylhet · 2017]
উত্তর “লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে।”- কথাগুলো মেঘনাদ বলেছে বিশ্বাসঘাতক বিভীষণকে। এখানে অস্ত্রাগারে গিয়ে যুদ্ধের সাজে সজ্জিত হয়ে এসে মেঘনাদ লক্ষ্মণকে হত্যা করে লঙ্কাপুরীর কলঙ্ক কালিমা মুছে দিতে চেয়েছে।
‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় যুদ্ধযাত্রার আগে মেঘনাদ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা সম্পন্ন করতে মনস্থির করে। কিন্তু মায়াদেবীর অনুগ্রহ এবং বিভীষণের সহায়তায় শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে রামানুজ লক্ষ্মণ সেই যজ্ঞাগারে প্রবেশ করে। সেখানে লক্ষ্মণ নিরস্ত্র মেঘনাদকে তার সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধের আহ্বান করে এবং তরবারি কোষমুক্ত করে আক্রমণ করে। সেই আক্রমণ প্রতিহত করাতে মেঘনাদ অস্ত্রাগারে যেতে চায় অস্ত্র আনার জন্য। কিন্তু বিভীষণ অস্ত্রাগারের দ্বার রোধ করে দাঁড়িয়ে থাকে। তখন মেঘনাদ বিভীষণকে প্রশ্নোক্ত, কথাগুলো বলেছে।
21 ‘অরিন্দম’ কে?
উত্তর অরি বা শত্রুকে দমন করে যে তাকে বলা হয় অরিন্দম। আলোচ্য কবিতায় অরিন্দম হচ্ছে মেঘনাদ।
22 ‘স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে।’ কথাটি বুঝিয়ে দাও।
উত্তর স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে’ বলতে বোঝানো হয়েছে বিধাতা চাঁদকে আকাশে নিশ্চল করে স্থাপন করেছেন।
সৃষ্টিকর্তা এ জগতের সবকিছু সৃষ্টি করে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান দিয়েছেন। এমনিভাবে আকাশে চাঁদের একটি নির্দিষ্ট অবস্থান রয়েছে। চাঁদ সেই অবস্থান ত্যাগ করে কখনো ভূতলে নেমে আসে না। অর্থাৎ সবকিছুই এক-একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চলে। এখানে বিভীষণকে তাঁর বংশগৌরব ও আত্মমর্যাদা বোধকে স্মরণ করিয়ে দিতে মেঘনাদ প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।
23 বিভীষণের মায়ের নাম কী?
উত্তর বিভীষণের মায়ের নাম নিকষা।
24 “শাস্ত্রে বলে, গুণবান যদি
পরজন, গুণহীন স্বজন, তথাপি নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা!”- বুঝিয়ে দাও।
উত্তর শাস্ত্রমতে গুণহীন হলেও নির্গুণ স্বজনই শ্রেয়। কারণ গুণবান হলেও পর কখনো আপন হয় না। পর সর্বদা পরই থেকে যায়।
গুণবান ব্যক্তি সবার কাছেই প্রশংসা লাভ করে। কিন্তু সে যদি স্বজন না হয় তবে তাতে কারও কোনো লাভ, হয় না। অন্যদিকে স্বজন ব্যক্তি গুণহীন হলেও ভালো, কারণ বিপদের দিনে স্বজনরাই আগে এগিয়ে আসে। প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিটিতে এ বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। বিভীষণকে বংশ-সম্পর্কের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতেই মেঘনাদ এ কথা বলেছে।
25 লক্ষ্মণের মায়ের নাম কী?
উত্তর লক্ষ্মণের মায়ের নাম সুমিত্রা।
26 “প্রফুল্ল কমলে কীটবাস?”- বুঝিয়ে দাও।
উত্তর ‘প্রফুল্ল কমলে কীটবাস’ বলতে প্রফুল্ল কমলসম লঙ্কাপুরীতে কীটসম লক্ষ্মণের অবস্থান করাকে বোঝানো হয়েছে।
মেঘনাদ যুদ্ধযাত্রার আগে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা সম্পন্ন করার জন্য উপস্থিত হয়। সেখানে মায়াদেবীর আনুকূল্যে এবং বিভীষণের সহায়তায় লক্ষ্মণ প্রবেশ করে নিরস্ত্র মেঘনাদকে যুদ্ধে আহ্বান করে। মেঘনাদ তখন পিতৃব্য বিভীষণকে নানাভাবে বুঝিয়ে অস্ত্রাগারে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করে। কিন্তু বিভীষণ দ্বার ছাড়ে না’। সে নিজেকে রাঘবের দাস হিসেবে পরিচয় দেয়। তখন ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে মেঘনাদ লঙ্কাকে মনোরম সাজানো বাগান আর লক্ষ্মণকে কীটরূপে অভিহিত করে।
27 ‘নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা!” উক্তিটি কার?
উত্তর “নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা!” উক্তিটি মেঘনাদের।
28 গুণবান পরজন অপেক্ষা নির্গুণ স্বজন শ্রেয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর গুণবান পরজন অপেক্ষা নির্গুণ স্বজন শ্রেয়- পর কখনো আপন হয় না, কোনো বিপদে সাহায্যের হাত বাড়ায় না।
পৃথিবীতে সুখে-দুঃখে আপনজনেরাই এগিয়ে আসে। স্বজন গুণহীন হলেও স্বজন। কারণ তার সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক। আর পরজন যতই গুণবান হোক, সে কখনো বিপদে এগিয়ে আসে না। বিভীষণ স্বজন হয়েও যখন পরজনদের সঙ্গে হাত মেলায় তখন তাকে মেঘনাদ শাস্ত্রে বর্ণিত এসব কথা শুনিয়ে তাঁর স্বজাতির প্রতি বীরধর্ম পালনের জন্য আহ্বান করে। ‘এসব নীতিকথা বলে বিভীষণের চেতনা জাগ্রত করার চেষ্টা করে।
29 ‘স্থাণু’ অর্থ কী?
উত্তর ‘স্থাণু’ অর্থ নিশ্চল।
30 মেঘনাদ যজ্ঞাগারে বিষাদ অনুভব করেছিল কেন? বুঝিয়ে দাও। উত্তর মেঘনাদ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে বিষাদ অনুভব করেছিল। কারণ সেখানে বিভীষণের সহায়তায় শত্রু লক্ষ্মণ প্রবেশ করেছিল।
ভাঁতা কুম্ভকর্ণ ও পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুর পর লঙ্কারাজ রাবণ পরবর্তী দিবসে অনুষ্ঠেয় মহাযুদ্ধের সেনাপতি ঘোষণা করেন মেঘনাদকে। যুদ্ধজয় নিশ্চিত করতে মেঘনাদ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা করতে যায়। তখন মায়াদেবীর আনুকূল্যে এবং রাবণানুজ বিভীষণের সহায়তায় লক্ষ্মণ শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সেই যজ্ঞাগারে প্রবেশ করে। মেঘনাদ লক্ষ্মণকে দেখে বিস্মিত হয়। এর পর দেখে লক্ষ্মণকে সেখানে আসতে সাহায্য করেছে পিতৃব্য বিভীষণ। তার এ ধরনের আচরণে মেঘনাদ বিষাদ অনুভব করে।
