01 খুঁড়া কোন বংশের?[ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ · 2026]
উত্তর খুড়া মিত্তির বংশের লোক।
02 ইহা আর একটি শক্তি বলতে কী বোঝানো হয়েছে?[ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ · 2026]
উত্তর ‘ইহা আর একটি শক্তি’ বলতে লেখক নিঃস্বার্থ ভালোবাসার অমিত শক্তির কথা বুঝিয়েছেন।
‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতার সময় বনের মধ্যে এক পোড়োবাড়িতে বিলাসী একা রাত-দিন তার সেবা-শুশ্রুষা করে। মৃত্যুঞ্জয়ের শারীরিক যে অবস্থা হয়েছিল, তাতে যেকোনো সময় সে মারা যেতে পারত। সেটি জেনেও বিলাসী এক অমিত শক্তিবলে মুমূর্ষু মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করেছে। এটি এমন একটি শক্তি যা স্বামী-স্ত্রী বহু কাল একসঙ্গে ঘর করেও অর্জন করতে পারে না। এই দিক বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
03 ‘মাঝে মাঝে আমাদের গুরুশিষ্যের সহিত বিলাসী তর্ক করিত।’-কী বিষয়ে?[রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ · 2026]
উত্তর ‘মাঝে মাঝে আমাদের গুরুশিষ্যের সহিত বিলাসী তর্ক করিত।’ শিকড় বিক্রি করে মানুষ ঠকানোর বিষয়ে।
04 ‘অতিকায় হস্তি লোপ পাইয়াছে, কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।’-ব্যাখ্যা করো।[রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ · 2026]
উত্তর সংকীর্ণমনা ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের প্রতি তীব্র কটাক্ষ হিসেবে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
গৌরবের সঙ্গে টিকে থাকার মধ্যেই রয়েছে জীবনের সার্থকতা। যেন তেন প্রকারের টিকে থাকার মধ্যে জীবনের সার্থকতা নেই। তৎকালীন সমাজে মানুষ বেঁচে থাকার জন্য ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার, অনাচার-অবিচারকে উপায় হিসেবে গ্রহণ করত। ‘এ ধরনের অসুস্থ মানসিকতা নিয়ে বেঁচে থাকার কোনো গৌরব নেই। লেখকের মতে তেলাপোকা হয়ে টিকে থাকার চেয়ে অতিকায় হস্তী হয়ে মরে যাওয়াও গৌরবের।
05. বিলাসীর কোন ব্যাপারটি অনেকের কাছে পরিহাসের বিষয়?[ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026]
উত্তর বিলাসীর আত্মহত্যার ব্যাপারটি অনেকের কাছে পরিহাসের বিষয়।
06 গেল গেল, গ্রামটা এবার রসাতলে গেল।’ কে, কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলেছে বুঝিয়ে লেখো।[ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026]
উত্তর ‘গ্রামটা এবার রসাতলে গেল’- এ কথা ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া বলেছিলেন মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীকে বিয়ে করার কারণে এবং তার হাতে ভাত খাওয়ার অপরাধে।
‘বিলাসী’ গল্পে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী রাত জেগে সেবা করে মৃত্যুপথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়কে সুস্থ করে তোলে। মৃত্যুঞ্জয় ভালোবেসে বিলাসীকে বিয়ে করলে তার খুড়া জাতভেদের কথা তুলে গ্রামটা রসাতলে গেল বলে তোলপাড় শুরু করেন। সমাজে তার আর মুখ দেখানোর জায়গা থাকল না, সবাইকে ডেকে ডেকে এ কথা বলেন। বিয়ের কথা বাদ দিলেও, বিলাসীর হাতে সে ভাত পর্যন্ত খেয়েছে। গ্রামে যদি এর শাসন-বিচার না থাকে তাহলে তো বনে-জঙ্গলে গিয়ে বাস করতে হবে। মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া মূলত মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পত্তি দখলের জন্যই এমন তোলপাড় কাণ্ড করেছেন।
07. ‘বিলাসী’ গল্পের গল্পকথকের নাম কী?[নটরডেম কলেজ · 2026]
উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পের কথকের নাম ন্যাড়া।
08 ‘বাঙালির বিষ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।[নটরডেম কলেজ · 2026]
উত্তর ‘বাঙালির বিষ’ বলতে লেখক রাঙালির ক্রোধ, বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ মনের ভয়াবহ রূপটি প্রকাশ করেছেন।
‘বাঙালির বিষ’ কথাটির দ্বারা লেখক বাঙালিক ক্রোধ, বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাবকে বুঝিয়েছেন। মৃত্যুঞ্জয় দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে সাপুড়েকন্যা বিলাসীর হাতের রাঁধা ভাত খেয়ে অন্নপাপ করেছে বলে খুড়োর প্ররোচনায় গ্রামবাসী তাকে গ্রামছাড়া করে। মৃত্যুঞ্জয়ের এই জ্ঞাতি খুড়ার ক্রোধ ও প্রতিহিংসাকে লেখক বাঙালির বিষ বলে উল্লেখ করেছেন, যা মৃত্যুঞ্জয়ের মর্মান্তিক পরিণতিকে ত্বরান্বিত করেছিল।
09 ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?[সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ, যশোর · 2026]
উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় থার্ড ক্লাসে পড়ত।
10 “টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়।”- কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।[সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ, যশোর · 2026]
উত্তর “টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়।”- কথাটি ‘বিলাসী’ গল্পে হিন্দু সম্প্রদায়ের কুসংস্কারাচ্ছন্ন বহু বছরের পুরানো ব্যর্থ সমাজব্যবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।
রক্ষণশীল হিন্দু সমাজপতিরা মনে করেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী সমাজে টিকে থাকাই চরম সার্থকতা। ‘বিলাসী’ গল্পে লেখক দেখিয়েছেন, দীর্ঘকাল টিকে থেকেও এই সমাজ কুসংস্কার ও অনগ্রসরতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাই ‘বিলাসী’ গল্পে লেখক বলতে চান, বহুকাল টিকে থাকাতেই সাহসিকতা অর্জিত হয় না।
11 মৃত্যুঞ্জয়কে তার শ্বশুরের দেওয়া নামটি কী?[সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026]
উত্তর মৃত্যুঞ্জয়কে তার শ্বশুরের দেওয়া নামটি হলো মন্ত্রৌষধি।
12 “নারায়ণের কর্তৃপক্ষেরও চক্ষুলজ্জা হইবে।”- ব্যাখ্যা করো।[সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026]
উত্তর “নারায়ণের কর্তৃপক্ষেরও চক্ষুলজ্জা হইবে”- চরণটি দ্বারা তথাকথিত সমাজপতিদের কাপুরুষতার দিকটি বোঝানো হয়েছে।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে একদিকে সর্বভারতীয় রাজারা একপক্ষ নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন নিরস্ত্র রথের সারথি। সেখানে নারায়ণের নিরপেক্ষ আচরণ ছিল কাপুরুষসুলভ। আলোচ্য গল্পেও তথাকথিত সমাজপতিরা উঁচু বর্ণের ছেলেকে বিয়ে করার কারণে দলবল নিয়ে বিলাসীর ওপর আক্রমণ করে কাপুরুষতার পরিচয় দেয়। বাক্যাংশটিতে প্রকৃতপক্ষকে ব্যঙ্গ করে বলা হয়েছে যে, ওদের আচরণ এতটাই বর্বর ছিল যে তা কাপুরুষতার চেয়েও লজ্জাজনক ছিল।
13 ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?[সিলেট এমসি কলেজ · 2026]
উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় থার্ড ক্লাসে পড়ত।
14 “শুধু কর্তব্যজ্ঞানের জোরে অথবা বহুকাল ধরিয়া একসঙ্গে ঘর করার অধিকারেই এই ভয়টাকে কোনো মেয়েমানুষই অতিক্রম করিতে পারে না।”- ব্যাখ্যা করো।[সিলেট এমসি কলেজ · 2026]
উত্তর “শুধু কর্তব্যজ্ঞানের জোরে কিংবা সহুকাল ধরিয়া একসঙ্গে ঘর করার অধিকারেই এই ভয়টাকে কোনো মেয়েমানুষই অতিক্রম করিতে পারে না” বলতে লেখক বিলাসীর মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার দিকটিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী বৃহৎ জঙ্গলের মধ্যে একাকী দিন-রাত জেগে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা-শুশ্রুষা করেছে। মৃত্যুঞ্জয় মৃতপ্রায় অবস্থায় মাসখানেক বিছানায় পড়ে ছিল। সে যেকোনো সময়ই মারা যেতে পারত। তখন একাকী বিলাসীর কী হতো, কীভাবে সে সারাটা রাত পার করত- এই চিন্তা বিলাসীর মনে কখনো উদিত হয়নি। মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই এই ভয়কে অতিক্রম করতে পেরেছে, শুধু কর্তব্যজ্ঞান বা বহুদিন ধরে একসাথে বসবাসের অধিকারে যা অতিক্রম করা ছিল অসম্ভব। আলোচ্য পঙ্ক্তির মধ্য দিয়ে লেখক এ বিষয়টিকে প্রকাশ করতে চেয়েছেন।
15 বিলাসী’ গল্পের ন্যাড়া কত ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যেত?[আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ · 2026]
উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পের ন্যাড়া পাকা দুই ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যেত।
16 “অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।”- ব্যাখ্যা করো।[আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ · 2026]
উত্তর প্রশ্নোক্ত কথাটির মাধ্যমে লেখক তৎকালীন কুসংস্কারাচ্ছন্ন হিন্দু সমাজের প্রকৃত অবস্থাকে নির্দেশ করেছেন।
সাধারণত কালের অন্তর্ঘাতে জগতে ছোট প্রাণী থাকলেও অনেক বৃহৎ প্রাণী টিকে থাকতে পারেনি। এই প্রজাতির হাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অথচ আদিকাল থেকে ক্ষুদ্র অবয়ব নিয়ে তেলাপোকা টিকে আছে। এই টিকে থাকার সঙ্গে লেখক একসময়ের প্রবল প্রভাবশালী হিন্দু সমাজের হীন নিয়মকানুনের টিকে থাকাকে তুলনা করেছেন।
17 ন্যাড়া পরীক্ষার উত্তরপত্রে হুমায়ুনের পিতার নাম কী লিখেছিল?[জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট · 2026]
উত্তর ন্যাড়া পরীক্ষার উত্তরপত্রে হুমায়ুনের পিতার নাম লিখেছিল তোগলক খাঁ।
18 “গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম।”- ব্যাখ্যা করো।[জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট · 2026]
উত্তর “গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম।”- কথাটি ‘বিলাসী’ গল্পের অকৃতজ্ঞ লোকদের এবং মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি লেখকের ব্যঙ্গাত্মক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পে লেখক ‘সুনাম’ শব্দটিকে ব্যঙ্গার্থে ব্যবহার করেছেন। সহপাঠীদের খাওয়ানো, স্কুলের বেতনের টাকা হারিয়ে যাওয়া এবং বই চুরি হয়ে যাওয়ার নাম করে মৃত্যুঞ্জয়ের কাছ থেকে টাকা আদায় ইত্যাদির মাধ্যমে তার মানবীয় গুণাবলির পরিচয় পাওয়া যায়। তৎকালীন সমাজের সংকীর্ণমনারা তা মনে রাখেনি। তাই লেখক মৃত্যুঞ্জয় সম্পর্কে প্রশ্নোক্ত কথাটির মাধ্যমে সমাজের অকৃতজ্ঞ লোকদের নির্দেশ করেছেন।
19 ‘সাইবেরিয়া’ এশিয়ার কোন অঞ্চলে অবস্থিত?[ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2026]
উত্তর ‘সাইবেরিয়া’ এশিয়ার উত্তর অঞ্চলে অবস্থিত।
20 “সে কত বড়ো সাহসের কাজ!”- সপ্রসঙ্গ উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।[ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2026]
উত্তর “সে কত বড়ো সাহসের কাজ !”- এই উক্তিটিতে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে সুস্থ করে তুলতে বিলাসীর অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাহসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন গল্পের কথক ন্যাড়া।
‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে প্রায় দেড় মাস যাবৎ শয্যাগত থাকে। তার পাশে ছিল শুধু বিলাসী। এমন একজন মুমূর্ষু রোগীকে সুস্থ করার প্রয়াস নিয়ে বনের মধ্যে পোড়োবাড়িতে একাকী একটি মেয়ে যে চেষ্টা চালিয়েছে সেটি নিশ্চিতভাবেই সাহসী পদক্ষেপ। গল্পকথক ন্যাড়ার কাছে এটি অনেক বড়ো একটি গুরুভার। কেননা দিনের পর দিন, রাতের পর রাত একা একটি মেয়ের কত সেবা, শুশ্রুষা, ধৈর্য ও রাত জাগা নিয়ে মুমূর্ষু একজন মানুষের পাশে থাকা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। তাই ন্যাড়া বিলাসীর এমন কাজকে বড়ো সাহসের কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
21 মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?[রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা · 2025]
উত্তর • মৃত্যুঞ্জয় থার্ড ক্লাসে পড়ত।
22 গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম- ব্যাখ্যা কর।[রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা · 2025]
উত্তর • ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি লেখকের এটি ব্যঙ্গাত্মক উক্তি।
• ‘সুনাম’ শব্দটি একটি আদর্শ অর্থ বহন করে, যা দিয়ে কারও প্রশংসাকে বোঝানো হয়। কিন্তু ‘বিলাসী’ গল্পে লেখক শব্দটিকে ব্যঙ্গার্থে ব্যবহার করেছেন। সহপাঠীদের খাওয়ানো, স্কুলের বেতনের টাকা হারিয়ে যাওয়া এবং বই চুরি হয়ে যাওয়ার নাম করে মৃত্যুঞ্জয়ের কাছ থেকে টাকা আদায় ইত্যাদির মাধ্যমে তার মানবীয় গুণাবলির পরিচয় পাওয়া যায়। তৎকালীন সমাজের সংকীর্ণমনারা তা মনে রাখেননি। তাই লেখক মৃত্যুঞ্জয় সম্পর্কে ব্যঙ্গাত্মক উক্তির মাধ্যমে সমাজের অকৃতজ্ঞ লোকদের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন।
23 ‘সাইবেরিয়া’ এশিয়ার কোন অঞ্চলে অবস্থিত?[ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2025]
উত্তর • ‘সাইবেরিয়া’ এশিয়ার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত।
24 সে কত বড় সাহসের কাজ!’ সপ্রসঙ্গ উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।[ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2025]
উত্তর • “সে কত বড় সাহসের কাজ!”- এই উক্তিটিতে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে সুস্থ করে তুলতে বিলাসীর অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাহসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন গল্পের কথক ন্যাড়া।
• ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে প্রায় দেড় মাস যাবৎ শয্যাগত থাকে। তার পাশে ছিল শুধু বিলাসী। এমন একজন মুমূর্ষু রোগীকে সুস্থ করার প্রয়াস নিয়ে বনের মধ্যে পোড়োবাড়িতে একাকী একটি মেয়ে যে চেষ্টা চালিয়েছে সেটি নিশ্চিতভাবেই সাহসী পদক্ষেপ। গল্পকথক ন্যাড়ার কাছে এটি অনেক বড় একটি গুরুভার। কেননা দিনের পর দিন, ‘রাতের পর রাত একা একটি মেয়ের কত সেবা, শুশ্রুষা, ধৈর্য ও রাত জাগা নিয়ে মুমূর্ষু একজন মানুষের পাশে থাকা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। তাই ন্যাড়া বিলাসীর এমন কাজকে বড় সাহসের কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
25 শরৎচন্দ্রের প্রথম মুদ্রিত রচনা কোনটি?[চট্টগ্রাম কলেজ · 2025]
উত্তর • শরৎচন্দ্রের প্রথম মুদ্রিত রচনা হলো ‘মন্দির’ নামে একটি গল্প।
26 “ইহা আর একটি শক্তি”- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?[চট্টগ্রাম কলেজ · 2025]
উত্তর • “ইহা আর একটি শক্তি” বলতে লেখক নিঃস্বার্থ ভালোবাসার শক্তির কথা বুঝিয়েছেন।
• ‘বিলাসী’ গল্পে লেখক ন্যাড়ার মাধ্যমে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতার সময় বনের মধ্যে এক পোড়োবাড়িতে বিলাসী একা রাত-দিন তার সেবা করে। মৃত্যুঞ্জয় যেকোনো সময় মারা যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তা জানা সত্ত্বেও বিলাসী এক অমিত শক্তিবলে মুমূর্ষু মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করেছে। এটি এমন এক শক্তি যা অনেক স্বামী-স্ত্রী বহুকাল একসঙ্গে বসবাস করেও অর্জন করতে পারে না। এই প্রসঙ্গে ন্যাড়া প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে বিলাসীর প্রগাঢ় ভালোবাসার শক্তির বিষয়টি বুঝিয়েছে।
27 ‘বিলাসী’ গল্পের ন্যাড়া কত ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যেত?[আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ · 2025]
উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পের ন্যাড়া দুই ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যেত।
28 “অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।”- ব্যাখ্যা কর।[আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ · 2025]
উত্তর • প্রশ্নোক্ত কথাটির মাধ্যমে লেখক তৎকালীন কুসংস্কারাচ্ছন্ন হিন্দু সমাজের প্রকৃত অবস্থাকে নির্দেশ করেছেন।
• সাধারণত কালের অন্তর্ঘাতে জগতে ছোট প্রাণী থাকলেও অনেক বৃহৎ প্রাণী টিকে থাকতে পারেনি। এই প্রজাতির হাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অথচ আদিকাল থেকে ক্ষুদ্র অবয়ব নিয়ে তেলাপোকা টিকে আছে। এই টিকে থাকার সঙ্গে লেখক একসময়ের প্রবল প্রভাবশালী হিন্দু সমাজের হীন নিয়মকানুনের টিকে থাকাকে তুলনা করেছেন।
29 বিলাসী’ গল্পটি প্রথমে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?[ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ · 2025]
উত্তর • ‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথমে ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
30 ‘একলা যেতে ভয় করবে না তো?’ কে, কাকে এবং কেন এই উক্তিটি করেছিল? বুঝিয়ে লেখ।[ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ · 2025]
উত্তর • “একলা যেতে ভয় করবে না তো?”- এ কথা বিলাসী বলেছে গল্পকথক ন্যাড়াকে উদ্দেশ করে, অন্ধকার রাতে ঘনজঙ্গলে পথে একা যেতে হবে বলে।
• ‘বিলাসী’ গল্পের কথক ন্যাড়া এক সন্ধ্যায় অন্ধকারে লুকিয়ে মৃত্যুঞ্জয়কে দেখতে যায়। মৃত্যুঞ্জয় ন্যাড়াকে চিনতে পারল এবং তাকে নিজের অসুস্থতার কথা খুলে বলল। কয়েকদিন হলো সে মানুষকে চিনতে পারছে। বিলাসীর সেবাযত্নেই সে এই যাত্রায় প্রাণে বেঁচে আছে। ফিরে আসার সময় আর একটি প্রদীপ হাতে বিলাসী ন্যাড়াকে ভাঙা প্রাচীরের শেষ পর্যন্ত এগিয়ে দেয় এবং শেষ রাস্তা পর্যন্ত রেখে আসবে কি না জানতে চায়। ন্যাড়া তখন পৌছে দিতে হবে না বলে আলোটা চায়। তখন ন্যাড়ার হাতে প্রদীপটা দিয়ে তাকে উদ্দেশ করে বিলাসী প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে।
31 গল্পকথক ন্যাড়া সদব্রাহ্মণের ছেলেকে কী পেশা গ্রহণ করতে দেখেছে?[আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা · 2025]
উত্তর গল্পকথক ন্যাড়া সদব্রাহ্মণের ছেলেকে এন্ট্রান্স পাশ করেও ডোমের মেয়েকে বিয়ে করে ডোম হতে দেখেছেন।
32 “অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।” ব্যাখ্যা কর।[আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা · 2025]
উত্তর • প্রশ্নোক্ত কথাটির মাধ্যমে লেখক তৎকালীন কুসংস্কারাচ্ছন্ন হিন্দু সমাজের প্রকৃত অবস্থাকে নির্দেশ করেছেন।
• সাধারণত কালের অন্তর্ঘাতে জগতে ছোট প্রাণী থাকলেও অনেক বৃহৎ প্রাণী টিকে থাকতে পারেনি। এই প্রজাতির হাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অথচ আদিকাল থেকে ক্ষুদ্র অবয়ব নিয়ে তেলাপোকা টিকে আছে। এই টিকে থাকার সঙ্গে লেখক একসময়ের প্রবল প্রভাবশালী হিন্দু সমাজের হীন নিয়মকানুনের টিকে থাকাকে তুলনা করেছেন।
33 ‘পারিবারিক প্রবন্ধ’ গ্রন্থের লেখক কে?[ঢাকা কমার্স কলেজ · 2025]
উত্তর • ‘পারিবারিক প্রবন্ধ’ গ্রন্থের লেখক ভূদেব মুখোপাধ্যায়।
34 “অ্যাঁ, এ হইল কী? কলি কি সত্যই উল্টাইতে বসিল?”- ব্যাখ্যা কর।[ঢাকা কমার্স কলেজ · 2025]
উত্তর • “অ্যাঁ, এ হইল কী? কলি কি সত্যই উল্টাইতে বসিল।”-উক্তিটি দ্বারা কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের অভিব্যক্তি প্রকাশ পায়।’
• ‘বিলাসী’ গল্পে কায়স্থ ঘরের ছেলে মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হলে সাপুড়েকন্যা বিলাসীর সেবা-শুশ্রুষায় সুস্থ হয়ে ওঠে। ফলশ্রুতিতে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে বিয়ে করে এবং তার হাতে ভাত খায়, যা সমাজের চোখে অন্নপাপ। নীচু জাতের মেয়েকে বিয়ে করা এবং তার হাতে অন্ন গ্রহণ কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের কাছে এক চরম অধর্ম। তাই তারা কটূক্তি করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
35 ‘মৃত্যুঞ্জয়’ নামের অর্থ কী?[ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2025]
উত্তর ‘মৃত্যুঞ্জয়’ নামের অর্থ যিনি মৃত্যুকে জয় করেন।
36 “কিন্তু তাহার হৃদয় জয় করিয়া দখল করার আনন্দটাও তুচ্ছ নয়, সে সম্পদও অকিঞ্চিৎকর নহে।” উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।[ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2025]
উত্তর • প্রশ্নোক্ত উক্তিটি বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের ভালোবাসা সম্পর্কে করা হয়েছে।
• কায়স্থের ছেলে মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়েকন্যা বিলাসীর সেবায় অসুস্থতা থেকে পরিত্রাণ পায়। নিচু জাতের মেয়েকে বিয়ে করে তার হাতে অন্ন গ্রহণ করায় তাকে সমাজচ্যুত করা হয়। ফলশ্রুতিতে মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ে পেশা গ্রহণ করে এবং দুর্ঘটনায় মারা যায় এবং মৃত্যুঞ্জয়ের শোকে বিলাসীও আত্মহত্যা করে। সমাজ শুধু তাদের উঁচু-নিচুর বন্ধনকে কটাক্ষ করল, কিন্তু সাপুড়েকন্যা হয়েও যে মানবিক গুণের কারণে কায়স্থের ছেলের ভালোবাসা অর্জন করেছে সেটি অনুধাবন করেনি এ বিষয়টি বোঝানোর জন্য প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
37 ভুজ্যি উচ্ছ্বগ্য শব্দের অর্থ কী?[বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ · 2025]
উত্তর ‘ভুজ্যি উচ্ছ্বগ্য’ শব্দের অর্থ মৃতের আত্মার সদগতি কামনা করে ব্রাহ্মণকে যে ভোজ্য উৎসর্গ করা হয় তা।
38 বিলাসীর আত্মহত্যার ব্যাপারটা অনেকের কাছে পরিহাসের বিষয় হইল। কেন? ব্যাখ্যা কর।[বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ · 2025]
উত্তর • বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের’ সম্পর্ক তৎকালীন সমাজের কাছে অগ্রহণযোগ্য ও অধর্ম প্রতিপন্ন হয়েছিল বলে মৃত্যুঞ্জয়ের পর বিলাসীর মৃত্যুকে অনেকের কাছে পরিহাসের বিষয় বলে মনে হয়।
• সমাজের বর্ণপ্রথাকে উপেক্ষা করে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে বিয়ে করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত একদিন সাপের কামড়ে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু হয়। ফলে স্বামীর শোকে বিলাসীও একদিন আত্মহত্যা করে। কিন্তু তৎকালীন সমাজ তাদের গভীর ভালোবাসার সম্পর্ককে না দেখে একে সেই অন্নপাপের অনিবার্য ফল মনে করে। তাই অনেকে বিলাসীর মৃত্যুকে পরিহাসের বিষয় মনে করে।
39 ‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম কত সালে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?[জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট · 2025]
উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম ১৯১৮ সালে ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
40 “স্বদেশের মঙ্গলের জন্য সমস্ত অকাতরে সহ্য করিয়া তাহাকে হিড়হিড় করিয়া টানিয়া লইয়া চলিলাম।”- লাইনটি ব্যাখ্যা কর।[জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট · 2025]
উত্তর • উদ্ধৃত উক্তিটিতে স্বার্থান্ধ-কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামবাসীর সাপুড়েকন্যা বিলাসীর ওপর আক্রমণের কারণ সম্পর্কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
• তৎকালীন সমাজ মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর প্রেম ও সেবা করার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। কায়স্থের ছেলে মৃত্যুঞ্জয়ের সাপুড়েকন্যা বিলাসীর হাতে রান্না করা ভাত খাওয়াকে অন্নপাপ এবং জাত যাওয়ার মতো ঘটনা হিসেবে সাব্যস্ত করে। এক সন্ধ্যায় দশ-বারোজনের একটি দল অতর্কিতে বিলাসীর ওপর হামলা চালায়। অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়ের কোনো কথাই তারা শোনে না। তারা বীরদর্পে হুঙ্কার দিয়ে বিলাসীকে হিড়হিড় করে টেনে বাইরে নিয়ে যেতে থাকল। এ সবই তারা করেছিল ধর্ম ও গ্রামের মুখ রক্ষার অজুহাতে। নিচু জাতের বলে তারা বিলাসীর প্রতি এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছিল।
41 ‘বিলাসী’ গল্পের ন্যাড়ার কয়টি শখ ছিল?[সিলেট সরকারি কলেজ · 2025]
উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পের ন্যাড়ার দুটি শখ ছিল।
42 “অন্নপাপ। বাপরে! এর কি আর প্রায়শ্চিত্ত আছে।”- ব্যাখ্যা কর।[সিলেট সরকারি কলেজ · 2025]
উত্তর • বিলাসীর হাতে মৃত্যুঞ্জয়ের ভাত খাওয়াকে গ্রামবাসী অন্নপাপ বলে অভিহিত করেছে।
• বিলাসী মৃত্যুপথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা-শুশ্রুষার মাধ্যমে সারিয়ে তুলেছিল। এর প্রতিদানে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে ভালোবেসে বিয়ে করে। বিলাসী ছিল মালোপাড়ার এক সাপুড়েকন্যা। সেই কারণে মৃত্যুঞ্জয়ের পাড়া-প্রতিবেশীরা বিষয়টি সহজেই মেনে নিতে পারেনি। তদুপরি তারা যখন জানতে পারল মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর হাতে রান্না করা ভাত খেয়েছে তাতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। ছোট জাতের কারও হাতে রান্না করা ভাত খাওয়াকে তারা অন্নপাপ হিসেবে সাব্যস্ত করত। তৎকালীন স্বার্থান্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজবাসীর বিশ্বাস ছিল অন্নপাপের কোনো প্রায়শ্চিত্ত নেই। তাই বিয়ের কিছুদিন পর মৃত্যুঞ্জয় যখন সাপের ছোবলে মৃত্যুবরণ করল, তখন গ্রামবাসী প্রচার করল অন্নপাপের কারণেই মৃত্যুঞ্জয়ের এমন অপমৃত্যু হয়েছে।
43 ‘বিলাসী’ গল্পের বর্ণনাকারী কে?[Dhaka · 2025]
উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পের বর্ণনাকারী ন্যাড়া।
44 “অন্নপাপ। বাপরে! এর কি আর প্রায়শ্চিত্ত আছে।”- ব্যাখ্যা কর।[Dhaka · 2025]
উত্তর বিলাসীর হাতে মৃত্যুঞ্জয়ের ভাত খাওয়াকে গ্রামবাসী ‘অন্নপাপ’ বলে অভিহিত করে সেই পাপকে ক্ষমার অযোগ্য বলে অভিহিত করে।
‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসী মৃত্যুপথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা-শুশ্রুষার মাধ্যমে সারিয়ে তোলে। এর প্রতিদানে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে ভালোবেসে বিয়ে করে। বিলাসী ছিল মালোপাড়ার এক সাপুড়েকন্যা। সেই কারণে মৃত্যুঞ্জয়ের পাড়া-প্রতিবেশীরা বিষয়টি সহজেই মেনে নিতে পারেনি। তদুপরি তারা যখন জানতে পারে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর হাতে রান্না করা ভাত খেয়েছে তাতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ছোট জাতের কারও হাতে রান্না করা ভাত খাওয়াকে তারা অন্নপাপ হিসেবে সাব্যস্ত করত। তৎকালীন স্বার্থান্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজবাসীর বিশ্বাস ছিল- অন্নপাপের কোনো প্রায়শ্চিত্ত নেই। তাই বিয়ের কিছুদিন পর মৃত্যুঞ্জয় যখন সাপের ছোবলে মৃত্যুবরণ করে, তখন গ্রামবাসী প্রচার করে- অন্নপাপের কারণেই মৃত্যুঞ্জয়ের এমন অপমৃত্যু হয়েছে।45 মৃত্যুঞ্জয় কয় দিন অচেতন অবস্থায় ছিল?[Rajshahi · 2025]
উত্তর মৃত্যুঞ্জয় দশ-পনেরো দিন অচেতন অবস্থায় ছিল।
46 “ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।”- উক্তিটির তাৎপর্য লেখ।[Rajshahi · 2025]
উত্তর “ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাই রাখা বাসি ফুলের মতো।”- এ কথাটি বিলাসীর শারীরিক অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পের কথক ন্যাড়া মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতা এবং তাকে সেবাদানকারী বিলাসীর অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। ন্যাড়া একদিন সন্ধ্যার অন্ধকারে লুকিয়ে বনের মধ্যে পোড়োবাড়িতে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে দেখতে যান। বিলাসী তখন ‘মৃত্যুঞ্জয়ের শিয়রে বসে পাখা দিয়ে বাতাস করছিল। ন্যাড়া তার মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলেন যে, খাটতে খাটতে আর রাত জাগতে জাগতে বিলাসীর শরীরে আর কিছুই নেই। ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়ে ভিজিয়ে রাখা বাসি ফুলের মতো। হাত দিয়ে সামান্য স্পর্শ করলে, একটু নাড়াচাড়া করতে গেলে ঝরে পড়বে। বিলাসীর সেই দুর্বল অবস্থা নির্দেশ করতেই লেখক ‘বিলাসী’ গল্পের কথক ন্যাড়ার জবানিতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
47 মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?[Jessore · 2025]
উত্তর মৃত্যুঞ্জয় থার্ড ক্লাসে পড়ত।
48 “সাপের বিষ যে বাঙালির বিষ নয়।”- কথাটি বুঝিয়ে লেখ।[Jessore · 2025]
উত্তর “সাপের বিষ যে বাঙালির বিষয় নয়”- কথাটি দ্বারা বাঙালির ক্রোধ ও বিদ্বেষের বিষের তুলনায় সাপের বিষের অব্যর্থ প্রভাবের বিষয়টিকে নির্দেশ করা হয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পের কথক ন্যাড়া সাপের বিষের প্রভাব সম্পর্কে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে। অসুস্থ মৃত্যুপথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়কে অকৃত্রিম সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলার কারণে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে ভালোবেসে বিয়ে করে। মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া ও সমাজ এ বিয়ে মেনে না নেওয়ায় মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ে পেশা গ্রহণ করে। একদিন সাপ ধরতে গিয়ে সে সাপের ছোবলের শিকার হয় এবং বিষক্রিয়ায় মৃত্যুমুখে পতিত হয়। তখন ন্যাড়া বুঝতে পারে যে, সাপের বিষ বাঙালির হিংসা-বিদ্বেষের বিষের মতো নয়। এ বিষ একেবারেই অব্যর্থ। তা মন্ত্র, তন্ত্র, মাদুলি, বিষহরির আজ্ঞা কিছুই মানে না। অন্যদিকে বাঙালির বিষ তথা হিংসা-বিদ্বেষ, ক্ষোভ ক্ষণস্থায়ী। গল্পকথক ন্যাড়া ব্যঙ্গাত্মকভাবে সাপের বিষের সঙ্গে বাঙালির এ বিষের তুলনা করেছে।
49 মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু হয়েছিল কোন সাপের দংশনে?[Chittagong · 2025]
উত্তর গোখরা সাপের দংশনে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু হয়েছিল।
50 “তাহার বয়স আঠারো কি আটাশ ঠাহর করিতে পারিলাম না।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।[Chittagong · 2025]
উত্তর “তাহার বয়স আঠারো কি আটাশ ঠাহর করিতে পারিলাম না।”- উক্তিটি ‘বিলাসী’ সম্পর্কে গল্পকথক ন্যাড়া করেছেন।
‘বিলাসী’ গল্পটি রচিত হয়েছে সাপুড়েকন্যা বিলাসী এবং মিত্তির বংশের মৃত্যুঞ্জয়ের জীবনকাহিনিকে কেন্দ্র করে। গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে তার পোড়াবাড়িতে মরতে বসেছিল। তার সেবা-শুশ্রুষা করার মতো কেউ ছিল না। এই অবস্থায় সাপুড়েকন্যা বিলাসী তাকে সেবা-যত্ন করে সুস্থ করে তোলে। মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করতে গিয়ে এবং রাত জেগে খেটে খেটে বিলাসীর শরীরের অবস্থা এমন হয়েছে যে, তাকে দেখে তার বয়স অনুমান করা যায় না.। তাই ন্যাড়া প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছেন।
51 মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?[Dinajpur · 2025]
উত্তর মৃত্যুঞ্জয় থার্ড ক্লাসে পড়ত।
52 “আমি বুঝিলাম, বিষহরির দোহাই বুঝি আর খাটে না।”-কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।[Dinajpur · 2025]
উত্তর “আমি বুঝিলাম, বিষহরির দোহাই বুঝি আর খাটে না।”-মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু আসন্ন বুঝতে পেরে ন্যাড়া আলোচ্য মন্তব্যটি করেছে।
‘বিলাসী’ গল্পে বিষহরি হলেন দেবী মনসা, দোহাই হলো তার নামে পড়া মন্ত্র। বেদে সম্প্রদায় সরল গ্রাম্য জনগোষ্ঠীর কাছে দেবী মনসার নামে মন্ত্র পড়ে বিষাক্ত সাপের বিষ ঝাড়ার মিথ্যা আশ্বাস দেয়। ন্যাড়া সেই কথা বিশ্বাস করে নিয়েছিল। কিন্তু শত মন্ত্র পড়েও সাপে-কাটা মৃত্যুঞ্জয়ের যখন সুস্থ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা দিল না, তখন মনসা দেবীর সেই মন্ত্রের ওপর থেকে ন্যাড়ার বিশ্বাস উঠে যায়।
53 ‘বিলাসী’ গল্পে কোন মোগল সম্রাটের নাম উল্লেখ আছে?[Mymensingh · 2025]
উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পে মোগল সম্রাট হুমায়ুনের নাম উল্লেখ আছে।
54 “গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম।”- কথাটি কোন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।[Mymensingh · 2025]
উত্তর “গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম।”- কথাটি ‘বিলাসী’ গল্পের অকৃতজ্ঞ লোকদের এবং মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি লেখকের ব্যঙ্গাত্মক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পে লেখক ‘সুনাম’ শব্দটিকে ব্যঙ্গার্থে ব্যবহার করেছেন। সহপাঠীদের খাওয়ানো, স্কুলের বেতনের টাকা হারিয়ে যাওয়া এবং বই চুরি হয়ে যাওয়ার নাম করে মৃত্যুঞ্জয়ের কাছ থেকে টাকা আদায় ইত্যাদির মাধ্যমে তার মানবীয় গুণাবলির পরিচয় পাওয়া যায়। তৎকালীন সমাজের সংকীর্ণমনারা তা মনে রাখেনি। তাই লেখক মৃত্যুঞ্জয় সম্পর্কে প্রশ্নোক্ত কথাটির মাধ্যমে সমাজের অকৃতজ্ঞ -লোকদের নির্দেশ করেছেন।
55 ‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?[ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2024]
উত্তর ভারতী।
56 ‘অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলেপোকা টিকিয়া আছে’- ব্যাখ্যা কর।[ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2024]
উত্তর
শরৎচন্দ্রের বিখ্যাত উক্তি-“অতিকায় হস্তি লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।” অতিকায় হস্তি বা ম্যামথরা টিকে থাকতে পারে নি,কিন্তু তেলাপোকা সেই প্রাচীন কাল থেকে এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে বহাল তবিয়তে টিকে আছে বিবর্তন প্রক্রিয়ায় বড় ধরণের কোনো শারীরিক পরিবর্তন ছাড়াই!
57 কামস্কাটকা দ্বীপটি কোন মাছের দেশ নামে পরিচিত?[ঢাকা কমার্স কলেজ · 2024]
উত্তর কামস্কাটকা দ্বীপটি স্যামন মাছের দেশ নামে পরিচিত।
58 ‘বিলাসী’ গল্পে “দেখ, এমন করে মানুষ ঠকায়ো না” কে, কেন বলেছে?[ঢাকা কমার্স কলেজ · 2024]
উত্তর দেখ, এমন করে মানুষ ঠকায়ো না কথাটি মৃত্যুধঞ্চয় কে বলা হয়েছে। বিলাসী একজন সাপুড়ে মেয়ে। কিন্তু সে মৃত্যু ধঞ্চয়ের মূমুর্ষ অবস্থা থেকে আরোগ্য লাভ করতে সহযোগিতা করেছে।
বিলাসী যেন ঠকে না যায় এজন্য কথাটি বলা হয়েছে।
59 ‘মাসি-পিসি’ গল্পে আহ্লাদির বাবা, মা, ভাই কোন রোগে মারা যায়?[ঢাকা কমার্স কলেজ · 2024]
উত্তর ‘মাসি-পিসি’ গল্পে আহ্লাদির বাবা, মা, ভাই কলেরা রোগে মারা যায়।
60 “বুড়ো রহমান ছলছল চোখে তাকায় আহ্লাদির দিকে।”- কেন? বুঝিয়ে দাও।[ঢাকা কমার্স কলেজ · 2024]
উত্তর আহ্লাদিকে দেখে তার নিজের মেয়ের কথা মনে হওয়ায় বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে ওঠে।
আহ্লাদির চেয়ে বয়সে ছোটো মেয়েটাকে রহমান বিয়ে দিয়েছিল। অবুঝ মেয়েটা শ্বশুরবাড়ি না যাওয়ার জন্য খুব কেঁদেছিল। কিন্তু তার ভালোর জন্যই তাকে জোর করে শ্বশুরবাড়ি পাঠায় রহমান। সেখানে গিয়ে অল্পদিন পরেই তার মেয়ে মারা যায়। একই সমস্যার শিকার আহ্লাদিকে দেখে মেয়ের কথা মনে হওয়ায় বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে ওঠে।
61 ‘পারিবারিক প্রবন্ধ’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?[আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল · 2024]
উত্তর ভূদেব মুখোপাধ্যায়
62 ‘স্বদেশের মঙ্গলের জন্য সমস্ত অকাতরে সহ্য করিয়া টানিয়া লইয়া চলিলাম-উদ্ধৃিতিটি কোন প্রসঙ্গে, কেন, কে বলেছে?[আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল · 2024]
উত্তর স্বদেশের মঙ্গলের জন্য সমস্ত অকাতরে সহ্য করিয়া টানিয়া লইয়া চুরির নাম উক্তিটি ন্যাড়ার। ন্যাড়া বিলাসী এবং মৃত্যুঞ্জয় এর ভালোবাসার কাহিনী শুনে এবং দেখে উক্তিটি করেছেন । বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুসজ্জা থেকে রক্ষা করে তাকে বিবাহ করেছে।
63 ন্যাড়া সন্ন্যাসী অবস্থায় কোথায় গিয়ে সিদ্ধি লাভ করে এসেছে?[ঢাকা সিটি কলেজ · 2024]
উত্তর ন্যাড়া সন্ন্যাসী অবস্থায় কামাখ্যায় গিয়া সিদ্ধ হইয়া আসিয়াছে ।
64 স্বদেশের মঙ্গলের জন্য সমস্ত অকাতরে সহ্য করিয়া টানিয়া লইয়া চলিলাম’— উক্তিটি বাখ্যা করো ।[ঢাকা সিটি কলেজ · 2024]
উত্তর প্রশ্নোক্ত উক্তিটি বিলাসীকে গ্রামের বাইরে রেখে আসার ঘটনায় ব্যঙ্গার্থে করা হয়েছে।
অন্নপাপের অজুহাতে গ্রামের লোকেরা বিলাসীকে অকথ্য নির্যাতন করে গ্রামের বাইরে রেখে আসার জন্য টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছিল। অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়ের জন্য তৈরি করা রুটিগুলো ঘরে দিয়ে আসার কথা বললেও তার আকুতিতে কারো মন গলেনি। মৃত্যুঞ্জয়ের মাথা কোটা, দ্বারে পদাঘাত, গালাগালি কাউকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারেনি। কেননা, তাদের মনে হয়েছিল এভাবে বিলাসীকে গ্রামের বাইরে বের করে দিতে পারলেই স্বদেশের মঙ্গল ঘটবে।
65 ‘সাইবেরিয়া’ এশিয়ার কোন অঞ্চলে অবস্থিত?[ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2024]
উত্তর ‘সাইবেরিয়া’ এশিয়ার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত।
66 “সে কত বড় সাহসের কাজ!” সপ্রসঙ্গ উক্তিটি ব্যাখ্যা কর ।[ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2024]
উত্তর “সে কত বড় সাহসের কাজ!”— এই উক্তিটিতে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে সুস্থ করে তুলতে বিলাসীর অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাহসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন গল্পের কথক ন্যাড়া।
‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে প্রায় দেড় মাস যাবৎ শয্যাগত থাকে। তার পাশে ছিল শুধু বিলাসী। এমন একজন মুমূর্ষু রোগীকে সুস্থ করার প্রয়াস নিয়ে বনের মধ্যে পোড়োবাড়িতে একাকী একটি মেয়ে যে চেষ্টা চালিয়েছে সেটি নিশ্চিতভাবেই সাহসী পদক্ষেপ । গল্পকথক ন্যাড়ার কাছে এটি অনেক বড় একটি গুরুভার। কেননা দিনের পর দিন, রাতের পর রাত একা একটি মেয়ের কত সেবা, শুশ্ৰূষা, ধৈর্য ও রাত জাগা নিয়ে মুমূর্ষু একজন মানুষের পাশে থাকা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। তাই ন্যাড়া বিলাসীর এমন কাজকে বড় সাহসের কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ।
67 ‘বিলাসী’ গল্পের বর্ণনাকারী কে?[বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ · 2024]
উত্তর বিলাসী’ গল্পের বর্ণনাকারী ন্যাড়া।
68 মৃত্যুঞ্জয়ের ‘জাতবিসর্জনের’ কারণ বর্ণনা কর।[বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ · 2024]
উত্তর মৃত্যুঞ্জয়ের জাত বিসর্জনের কারণ হলো বিলাসীর প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমাজের চোখরাঙানি।
মৃত্যুঞ্জয় কায়স্থের ছেলে। তার বাবা-মা বেঁচে নেই। গ্রামের আর দশটা ছেলের মতো সেও লেখাপড়া করে। কিন্তু ছাত্র হিসেবে ভালো নয় বিধায় সে কখনো থার্ড ক্লাস অতিক্রম করতে পারেনি। এদিকে পাড়ার এক সাপুড়ে মেয়ে বিলাসীর সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গ্রামের রক্ষণশীল হিন্দু সমাজ কিছুতেই সে সম্পর্ক মেনে নেয়নি। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় তার ভালোবাসার টানে এবং সমাজপতিদের নানা অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সাপুড়ে কন্যা বিলাসীকে বিয়ে করার মধ্য দিয়ে জাত-ধর্ম বিসর্জন দেয়।
69 ‘বিলাসী’ গল্পের ন্যাড়া কত ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যেত?[Comilla · 2024]
উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পের ন্যাড়া দুই ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যেত।
70 “গ্রামটা এবার রসাতলে গেল।” ব্যাখ্যা কর।[Comilla · 2024]
উত্তর “গ্রামটা এবার রসাতলে গেল।”- এ কথা ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া বলেছিলেন মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীকে বিয়ে করার কারণে এবং তার হাতে ভাত খাওয়ার অপরাধে।
‘বিলাসী’ গল্পে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী রাত জেগে সেবা করে মৃত্যুপথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়কে সুস্থ করে তোলে। মৃত্যুঞ্জয় ভালোবেসে বিলাসীকে বিয়ে করলে তার খুড়া জাতভেদের কথা ‘তুলে গ্রামটা রসাতলে গেল বলে তোলপাড় শুরু করেন। সমাজে তার আর মুখ দেখানোর জায়গা থাকল না, সবাইকে ডেকে ডেকে এ কথা বলেন। বিয়ের কথা বাদ দিলেও, বিলাসীর হাতে সে ভাত পর্যন্ত খেয়েছে। গ্রামে যদি এর শাসন-বিচার না থাকে তাহলে তো বনে-জঙ্গলে গিয়ে বাস করতে হবে। মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া মূলত মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পত্তি দখলের জন্যই এমন তোলপাড় কান্ড করেছেন।
71 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করে?[Dinajpur · 2024]
উত্তর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৩৬ সালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করে।
72 “আমার মাথার দিব্যি রইল, এসব তুমি আর কখনো করো না।”- ব্যাখ্যা কর।[Dinajpur · 2024]
উত্তর সাপের ছোবলে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু হলে বিলাসী ন্যাড়াকে সাপ- ধরা ও সাপের খেলা দেখাতে নিষেধ করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
মৃত্যুঞ্জয় ও ন্যাড়ার সাপ ধরা নিয়ে অসাবধানতার ভয় সব সময়েই বিলাসীর মনে ছিল। সে জানত সাপ ভয়ংকর প্রাণী। তাই সাপ ধরা আর সাপ খেলানোয় তাদের সতর্ক হতে বিলাসী সব সময়ই উপদেশ দিত। অবশেষে একদিন বিলাসীর কথাই মর্মান্তিকভাবে ফলে গেল। সাপের কামড়ে মৃত্যু হলো মৃত্যুঞ্জয়ের। মিথ্যা প্রতিপন্ন হলো সব মন্ত্রতন্ত্র, মাদুলি, কবচ, মনসার দোহাই ইত্যাদি। মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর সাপ আর বিষ সম্পর্কে বিলাসীর ধারণা আরও বন্ধমূল হলো যে তা কতটা ভয়ংকর। তাই বিলাসী ন্যাড়াকে মাথার দিব্যি দিয়ে সাপ ধরতে ও সাপের খেলা দেখাতে নিষেধ করে বলেছিল, ‘আমার মাথার দিব্যি রইল, এসব তুমি আর কখনো করো না।’
73 ‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। [Comilla · 2023]
উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
74 ‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ির পরিবেশ কেমন ছিল? [Comilla · 2023]
উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পে গল্পকথক ন্যাড়ার বর্ণনায় মৃত্যুঞ্জয়ের জঙ্গলাকীর্ণ বাড়ির পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিচয় পাওয়া যায়। মৃত্যুঞ্জয়ের বাস ছিল গ্রামের এক প্রান্তে, বিশ-পঁচিশ বিঘা আয়তনের প্রকাণ্ড এক আম-কাঁঠালের বাগানের মধ্যে বিশাল একটা পোড়োবাড়িতে। এ পোড়োবাড়িতে প্রাচীরের বালাই ছিল না। স্বচ্ছন্দে যে কেউ বাড়ির ভেতরে ঢুকতে বা বের হতে পারত। রাতের অন্ধকারে ঘন জঙ্গল বাড়ির পরিবেশকে ভুতুড়ে ও ভীতিজনক করে তুলত।
75 ‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?[Jessore · 2023]
উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
76 “ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।”— ব্যাখ্যা কর।[Jessore · 2023]
উত্তর উদ্ধৃত উক্তিটির মাধ্যমে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়ের সেবায় রত বিলাসীর শারীরিক অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে। ‘বিলাসী’ গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে পড়লে বিলাসী রাতের পর রাত জেগে তার সেবা-শুশ্রূষা করে। এই নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমে বিলাসী শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তার সারা শরীরে একটা অপরিসীম ক্লান্তি ও নিরবচ্ছিন্ন রাত জাগার ছাপ পড়ে যায়। তার এ সজীবতাহীন ও অবসন্ন শরীরকে গল্পের কথক তুলে ধরেছে উক্তিটির মাধ্যমে।
77 মৃত্যুঞ্জয়ের কত বিঘার বাগান ছিলো? [Mymensingh · 2023]
উত্তর মৃত্যুঞ্জয়ের কুড়ি-পঁচিশ বিঘা জমি ছিল।
78 মৃত্যুঞ্জয়ের জাত বিসর্জনের কারণ ব্যাখ্যা কর। [Mymensingh · 2023]
উত্তর মৃত্যুঞ্জয়ের জাত বিসর্জনের কারণ হলো বিলাসীর প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমাজের চোখরাঙানি।
মৃত্যুঞ্জয় কায়স্থের ছেলে। তার বাবা-মা বেঁচে নেই। গ্রামের আর দশটা ছেলের মতো সেও লেখাপড়া করে। কিন্তু ছাত্র হিসেবে ভালো নয় বিধায় সে কখনো থার্ড ক্লাস অতিক্রম করতে পারেনি। এদিকে পাড়ার এক সাপুড়ে মেয়ে বিলাসীর সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গ্রামের রক্ষণশীল হিন্দু সমাজ কিছুতেই সে সম্পর্ক মেনে নেয়নি। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় তার ভালোবাসার টানে এবং সমাজপতিদের নানা অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সাপুড়ে কন্যা বিলাসীকে বিয়ে করার মধ্য দিয়ে জাত-ধর্ম বিসর্জন দেয়।
79 ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?[Sylhet · 2023]
উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় আজীবন থার্ড ক্লাসে পড়ত।
80 “স্বদেশের মঙ্গলের জন্য সমস্ত অকাতরে সহ্য করিয়া তাহাকে হিড়হিড় করিয়া টানিয়া লইয়া চলিলাম।”—ব্যাখ্যা কর।[Sylhet · 2023]
উত্তর উদ্ধৃত উক্তিটিতে স্বার্থান্ধ-কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামবাসীর সাপুড়েকন্যা বিলাসীর ওপর আক্রমণের কারণ সম্পর্কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তৎকালীন সমাজ মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর প্রেম ও সেবা করার বিষয়টি কোনােভাবেই মেনে নিতে পারেনি। কায়স্থের ছেলে মৃত্যুঞ্জয়ের সাপুড়েকন্যা বিলাসীর হাতে রান্না করা ভাত খাওয়াকে অন্নপাপ, এবং জাত যাওয়ার মতাে ঘটনা হিসেবে সাব্যস্ত করে।
এক সন্ধ্যায় দশ-বারােজনের একটি দল অতর্কিতে বিলাসীর ওপর হামলা চালায়। অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়ের কোনাে কথাই তারা শােনে না। তারা বীরদর্পে হুঙ্কার দিয়ে বিলাসীকে হিড়হিড় করে টেনে বাইরে নিয়ে যেতে থাকল। এ সবই তারা করেছিল ধর্ম ও গ্রামের মুখ রক্ষার অজুহাতে। নিচু জাতের বলে তারা বিলাসীর প্রতি এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছিল।
81 মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?[Dinajpur · 2023]
উত্তর মৃত্যুঞ্জয় আজীবন থার্ড ক্লাসে পড়ত।
82 “একদিন এই মন্ত্রের সত্য-মিথ্যার চরম মীমাংসা হইয়া গেল।”—উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ ।[Dinajpur · 2023]
উত্তর সাপের কাপড়ে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর মাধ্যমেই সাপ ধরার মন্ত্রের সত্য-মিথ্যার মীমাংসা হয়ে গেল। সাপ ধরার একটি মন্ত্র রয়েছে যেটিকে বিষহরির আজ্ঞা বলা হয়। সেই মন্ত্র বলে সাপকে পোষ মানানো যায়, সাপকে যা বলা যায় সাপ তাই করতে বাধ্য হয়। কিন্তু এটিও ছিল নিছক অন্ধ-বিশ্বাস। গোয়ালার বাড়িতে সাপ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর মধ্য দিয়েই বিষহরির আজ্ঞা যে নেহায়েত একটি কুসংস্কার, সেটিই প্রমাণিত হয়।
83 ন্যাড়ার সন্ন্যাসীগিরি ইস্তফার কারণ কী?[Chittagong · 2023]
উত্তর মশার কামড় সহ্য করতে না পেরে ন্যাড়া সন্ন্যাসীগিরিতে ইস্তফা দেন।
84 ‘অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।'[Chittagong · 2023]
উত্তর সংকীর্ণমনা ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের প্রতি তীব্র কটাক্ষ হিসেবে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
গৌরবের সঙ্গে টিকে থাকার মধ্যেই রয়েছে জীবনের সার্থকতা। যেন তেন প্রকারের টিকে থাকার মধ্যে জীবনের সার্থকতা নেই। তৎকালীন সমাজে। মানুষ বেঁচে থাকার জন্য ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার, অনাচার-অবিচারকে উপায় হিসেবে গ্রহণ করত। এ ধরনের অসুস্থ মানসিকতা নিয়ে বেঁচে থাকার কোনো গৌরব নেই। লেখকের মতে তেলাপোকা হয়ে টিকে থাকার চেয়ে অতিকায় হস্তী হয়ে মরে যাওয়াও গৌরবের।
85 এডেন কীসের জন্য বিখ্যাত?[Rajshahi · 2023]
উত্তর এডেন সামুদ্রিক লবণ তৈরির জন্য বিখ্যাত।
86 “ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?[Rajshahi · 2023]
উত্তর ‘ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।’- এ কথা বিলাসীকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পের কথক ন্যাড়া মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতা এবং তাকে সেবাদানকারী বিলাসীর অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে। ন্যাড়া একদিন সন্ধ্যার অন্ধকারে লুকিয়ে বনের মধ্যে পোড়োবাড়িতে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে দেখতে যায়। বিলাসী তখন মৃত্যুঞ্জয়ের শিয়রে বসে পাখার বাতাস করছে। ন্যাড়া সেই মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে যে, খাটতে খাটতে আর রাত জাগতে জাগতে বিলাসীর শরীরে আর কিছুই নেই। ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়ে ভিজিয়ে রাখা বাসি ফুলের মতো। হাত দিয়ে সামান্য স্পর্শ করলে, একটু নাড়াচাড়া করতে গেলে ঝরে পড়বে। এই অবস্থা নির্দেশ করতেই লেখক ‘বিলাসী’ গল্পের কথক ন্যাড়ার জবানিতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
87 ন্যাড়ার মাদুলি-কবচ কবরে দেওয়ার পরে তার কাছে আর কী অবশিষ্ট রইল? [Mymensingh · 2022]
উত্তর ন্যাড়ার মাদুলি কবচ দেওয়ার পরে তার কাছে আর অবশিষ্ট রইল বিষহরির আজ্ঞা।
88 ‘ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।’ ব্যাখ্যা কর। [Mymensingh · 2022]
উত্তর উদ্ধৃত উক্তিটির মাধ্যমে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবায় রত বিলাসীর শারীরিক অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।
বিলাসী গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে পড়লে বিলাসী রাতের পর রাত জেগে সেবা করে।এই নির্বিচ্ছিন্ন পরিশ্রমে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।তার সারা শরীরে একটা অপরিসীম ক্লান্তি ও নিরবিচ্ছিন্ন রাত জাগার ছাপ পড়ে যায়।তার এ সজীবতাহীন ও অবসন্ন শরীরকে গল্পের কথক তুলে ধরেছে উক্তিটির মাধ্যমে।
89 ‘বিলাসী’ গল্পের গল্পকথকের নাম কী? [Chittagong · 2022]
উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পের গল্প কথকের নাম ন্যাড়া।
90 “ওরে বাপরে! আমি একলা থাকতে পারব না।” উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। [Chittagong · 2022]
উত্তর উক্তিটির মাধ্যমে ন্যাড়া তার এক আত্মীয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তার মেকি স্বামীপ্রেমের প্রতি ইঙ্গিত করেছে।
‘বিলাসী’ গল্পে ন্যাড়ার এক আত্মীয় মারা গেলে তার বিধবা স্ত্রী শোকাহত হয়ে স্বামীর সঙ্গে সহমরণের জন্য হাহাকার করতে থাকে। কিন্তু লাশের পাশে তাকে একাকী রেখে ন্যাড়া যখন মৃতের সৎকারের জন্য লোক ডাকতে বাইরে পা বাড়ায়, তখনই সে চিৎকার করে উদ্ধৃত উক্তিটি করে। এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়, বহুদিনের সাহচর্য সত্ত্বেও হৃদয়ের গভীর সংযোগ ঘটেনি । এভাবে উক্তিটির মধ্য দিয়ে তার মেকি স্বামীপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
91 ‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথমে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? [Sylhet · 2022]
উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ।
92 “গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম”- ব্যাখ্যা কর।[Sylhet · 2022]
উত্তর প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের নেতিবাচক ভাবমূর্তিকে ব্যঙ্গার্থে ‘সুনাম’ বলা হয়েছে।
মৃত্যুঞ্জয় সম্পর্কে উদ্ধৃত উক্তিতে ‘সুনাম’ শব্দটি গল্পকথক ন্যাড়া ‘দুর্নাম’ অর্থে ব্যবহার করেছে। আত্মীয়-পরিজনহীন মৃত্যুঞ্জয়ের এক জ্ঞাতি খুড়া ছিল। সে তার নামে দুর্নাম রটনা করে বেড়াত। দুর্নাম রটানোর কারণে গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের এমন একটা নেতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছিল |যে, গ্রামবাসী তার সঙ্গে প্রকাশ্যে মেলামেশা দূরে থাক, তার সঙ্গে সংশ্রব থাকার কথাটা পর্যন্ত স্বীকার করত না। নিজ গ্রামে মৃত্যুঞ্জয়ের এমন নেতিবাচক ভাবমূর্তি প্রসঙ্গেই গল্পটিতে উদ্ধৃত উক্তিটির অবতারণা করা হয়েছে।
93 ‘বিলাসী’ গল্পে কোন মোগল সম্রাটের নাম উল্লেখ আছে?[Barisal · 2022]
উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পে মোগল সম্রাট হুমায়ুনের নাম উল্লেখ আছে।
94 “একলা যেতে ভয় করবে না তো?’- কে, কাকে এবং কেন এই উক্তিটি করেছিল? বুঝিয়ে লেখ।[Barisal · 2022]
উত্তর আম বাগানের জমাট বাঁধা অন্ধকারের মধ্য দিয়ে যেতে ভয় করবে কি না তা জানতে চেয়ে বিলাসী ন্যাড়াকে উদ্দেশ করে আলোচ্য উক্তিটি করেছে।
দীর্ঘদিন মৃত্যুঞ্জয়ের দেখা না পেয়ে, তার মর মর অবস্থার কথা জানতে পেরে তাকে দেখতে এসেছিল ন্যাড়া। ফেরার সময় পথ এমনকি নিজের হাতও দেখতে না পাওয়া জমাট অন্ধকারে আম বাগানের ভেতর দিয়ে আসতে যে কারো দারুণ ভয় পাওয়ার কথা। বিলাসী সে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ন্যাড়ার কাছে জানতে চেয়েছে সে একা যেতে ভয় পাবে কি না ।
95 এডেন কীসের জন্য বিখ্যাত?
উত্তর এডেন সামুদ্রিক লবণ তৈরির জন্য বিখ্যাত।
96 “ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।” বলতে কী বুঝানো হয়েছে?
উত্তর উদ্ধৃত উক্তিটির মাধ্যমে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জারের সেবায় রত বিলাসীর কৃষ্ণ শারীরিক অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে। “বিলাসী’ গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে পড়লে বিলাসী রাতের পর রাত জেগে তার সেবা-শুশ্রূষা করে। এই নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমে বিলাসী সে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তার সারা শরীরে একটা অপরিসীম ক্লান্তি ও নিরবচ্ছিন্ন রাত জাগার ছাপ পড়ে যায়। তার এ সজীবতাহীন ও অবসন্ন শরীরকে গল্পের কথক তুলে ধরেছে উক্তিটির মাধ্যমে।
