Question 01
নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-

[ ঢাকা কলেজ, 2025]
a.
জিন কী?
b.
জেনেটিক কোডের বৈশিষ্ট্য লেখ।
c.
উদ্দীপকে উল্লেখিত A এর গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের ‘A’ দ্বারা DNA কে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে এর গঠন বর্ণনা করা হলো-
সজীব কোষে অবস্থিত স্বপ্রজননশীল, পরিব্যক্তিক্ষম, সকল প্রকার জৈবনিক কার্যের নিয়ন্ত্রক এবং বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক যে নিউক্লিক অ্যাসিড তাকে DNA বলে। DNA হলো জীবের বংশগত। বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক। DNA হলো জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক। যা জীবনের আণবিক ভিত্তি।
DNA এর ভৌত গঠন:
১. দুটি পলিনিউক্লিওটাইড সূত্র পরস্পরের সাথে লোহার সিঁড়ির মতো ডানদিকে প্যাঁচানো থেকে একটি জোড় কুন্ডলী বা ডাবল হেলিক্স গঠন করে। এ সিড়ির দুদিকের হাতল নির্মিত হয় ডি-অক্সিরাইবোজ সুগার ও ফসফেট এর পর্যায়ক্রমিক সংযুক্তির মাধ্যমে এবং ধাপগুলো দুটি নাইট্রোজেন বেস দিয়ে গঠিত।
২. একটি নিউক্লিওটাইডের সুগারের ৫ম কার্বন অণুর সাথে ফসফেট যুক্ত থাকলে অপর নিউক্লিওটাইডের সুগার ৩য় কার্বন অণুর সাথে ফসফেট যুক্ত হয়। নাইট্রোজেন বেসটি সব সময় সুগারের ১ম কার্বনের সাথে যুক্ত থাকে।
৩. সিঁড়ির মতো প্যাচানো সূত্রদুটি একটি কাল্পনিক মধ্য অক্ষকে ঘিরে থাকে। সূত্র দুটি পরস্পরের সামান্তরালে কিন্তু বিপরীতমুখী হয়ে অবস্থান করে। অর্থাৎ একটি সূত্র 5’3′ মুখী এবং অন্যটি 3’5′ কার্বনমুখী অবস্থান থাকে ।
৪. বেসগুলো হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয়। কাজেই সিঁড়ির বাইরের দিকে থাকে ফসফেট এবং ভেতরের দিকে নাইট্রোজেন বেস। একটি সূত্রের গুয়ানিন অপর সূত্রের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয় এবং এক সূত্রের অ্যাডেনিন অপর সূত্রের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে সংযুক্ত থাকে।
৫. হেলিক্সের ব্যাস 20Å । দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হতে পারে।
৬. একটি পূর্ণাঙ্গ, প্যাচ প্রতি 34Å দূরত্বে সম্পন্ন হয়। প্যাচটি হয় ডান থেকে বাঁদিকে। দশ নিউক্লিওাইড জোড়ের পর একেকটি প্যাচ সম্পন্ন হয়। প্রতি প্যাঁচে থাকে প্রায় ২৫টি হাইড্রোজেন বন্ড।
৭. বেস জোড়গুলো পরস্পর থেকে 3.4Å দূরত্বে অবস্থিত।
৮. DNA-র দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হতে পারে, যেমন- মানুষের দেহেকোষের DNA-র দৈর্ঘ্য 174cm এবং ব্যাকটেরিয়ার DNA-র দৈর্ঘ্য 1.4 mm। DNA-র আণবিক ওজন 10-10° হতে পারে।
d.
উদ্দীপকে উল্লেখিত B উৎপাদনের প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত B তথা mRNA সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া তথা ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়া নিচে বর্ণনা করা হলো-
ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াকে প্রধানত তিন ধাপে ভাগ করা যায়। যথা-
১. সূচনা বা প্রারম্ভিক ধাপ: এধাপে DNA, প্রোমোটার নামক বিশেষ বেস সিকোয়েন্স অংশ ট্রান্সক্রিপসন ফ্যাক্টর ও RNA- পলিমারেসকে নির্দেশ দেন DNA অনুর কোন সূত্রে ট্রান্সক্রিপশন ঘটাবে এবং ট্রান্সক্রিপশন কোথা থেকে শুরু হবে। প্রোমোটারের সংযুক্ত হওয়ার পর প্রথমে RNA- পলিমারেজ DNA অনুর অংশ বিশেষের পাক খুলে দেয় এবং হাইড্রোজেন বন্ড ভেঙে সূত্র দুটি কে আলাদা করে ফেলে।
২. সূত্র বর্ধিতকরণ বা দীর্ঘায়ন ধাপ: RNA পলিমারেজ-II এনজাইম ATP, GTP, UTP, CTP থেকে টেমপ্লেটের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নিউক্লিয়টাইড যুক্ত করতে হয়। এভাবে সূচনা স্থান থেকে mRNA এর সূত্র বর্ধিতকরণ চলতে থাকে (5′->3′ অভিমুখে) এবং RNA- পলিমারেজ অগ্রসর হতে থাকে। RNA- পলিমারেজ অগ্রসর হওয়ার পর DNA অনুর পাক খুলে যাওয়া অংশে আবার পাক তৈরি হয়।
৩. সমাপ্তি করন বা সমাপন ধাপ: RNA সূত্র বর্ধিতকরণ শেষে RNA- পলিমারেজ সমাপ্তি স্থানে পৌঁছালে এনজাইমটি মুক্ত হয়ে যায় এবং ট্রান্সক্রিপশনের সমাপ্তি ঘটে।
Question 02
X → বংশগতির বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক
Y→ হাইড্রোলাইটিক এনজাইমের আধার
[ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা, 2025]
a.
টনোপ্লাস্ট কী?
b.
জেনেটিক কোড বলতে কী বুঝায়?
c.
সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী উদ্দীপকের X-এর প্রকারভেদ ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত ‘X’ দ্বারা ক্রোমোসোমকে বুঝানো হযেছে যা বংশগতির বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক। সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোসোমকে চার ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১) মধ্যকেন্দ্রিক বা মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজম।
২) উপ-মধ্যকেন্দ্রিক ভা সাব মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজম
৩) উপ-প্রান্তকেন্দ্রিক বা এক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোজম
৪) প্রান্তকেন্দ্রিক বা টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজম।
d.
উদ্দীপকের Y এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত ‘Y’ দ্বারা লাইসোজোমকে নির্দেশ করেছে। নিচে লাইসোেজাম এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
লাইসোসোম কোষের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত। এটি দ্বি-স্তরবিশিষ্ট এবং লিপো-প্রোটিন মেমব্রন দ্বারা আবৃত। এটি প্রাণী কোষে পাওয়া যায়।
লাইসোসোম অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে।যেমন-
১) এরা ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে জীবাণু ধ্বংস করে।
২) বিগলনকারী এনজাইমসমূহকে আবদ্ধ করে রেখে এটি কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুকে রক্ষা করে।
৩) লাইসোসোম অন্তঃকোষীয় পরিপাক কাজে সাহায্য করে।
৪) এরা জীবদেহের অকেজো কোষসমূহকে অটোলাইসিস পদ্ধতিতে ধ্বংস করে বলে এদের আত্মঘাতী থলিকা বা স্কোয়াড বলা হয়।
৫) কোষ বিভাজনকালে এরা কোষীয় ও নিউক্লীয় আবরণী ভাঙ্গতে সাহায্য করে।
৬) এরা কোষে কেরাটিন প্রস্তুত করে।
৭) টিস্যু বিগলনকারী অ্যাসিড ফসফেটেজ এনজাইম থাকে
৮) শুক্রাণুর লাইসোসোম নিঃসৃত হায়ালিউরোনিডেজ এনজাইম ডিম্বাণুর আবরণের অংশবিশেষের বিগলন ঘটায়।
সুতরাং বলা যায়, লাইসোসোম অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
Question 03
বিজ্ঞান মেলায় এক শিক্ষার্থী ঘুরানো সিঁড়ির মতো একটি মডেল উপস্থাপন করেন। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন এটি জীবদেহের গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক অণু যার সাহায্যে বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত ও পিতৃত্ব নির্ণয় করা যায়।
[ সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া, 2025]
a.
প্রোমোটার কী?
b.
অপেরন বলতে কী বুঝ?
c.
উদ্দীপকের মডেলটির চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের প্যাঁচানো সিঁড়ির মতো জৈব অণুটি হলো- । নিচে -র চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-

d.
বংশপরস্পরায় জীবের বৈশিষ্ট্য স্থানান্তরে মডেলটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত মলিকুলার অঙ্গাণুটি হলো অণু। চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে -এর ভূমিকা অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
হলো এর সংক্ষিপ্ত রূপ । জীবনের আণবিক ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত। বংশগতির সব ধরনের জৈবিক সংকেত বহন করার ক্ষমতা রাখে।প্রকৃত কোষের ক্রোমোসোমের মূল উপাদান হলো . একে “বংশগতির বাহক” বলা হয় কারণ এতে পিতামাতার কাছ থেকে তাদের সন্তানদের কাছে পাঠানো জেনেটিক তথ্য রয়েছে।যখন একটি শিশুর জন্ম হয়, তারা তাদের পিতামাতার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে ডিএনএ পায়। এটা মা এবং বাবা উভয়ের কাছ থেকে জিনের মিশ্রণ পাওয়ার মতো। এই জিনগুলি আমাদের চোখের রঙ, আমাদের নাকের আকৃতি এবং এমনকি আমাদের উচ্চতা বা আমরা কীভাবে নির্দিষ্ট খাবার প্রক্রিয়াজাত করার মতো জিনিসগুলি সম্পর্কে তথ্য বহন করে। হলো একটি দীর্ঘ, ডাবল-স্ট্র্যান্ডেড অণু যা চারটি ভিন্ন ধরনের নাইট্রোজেনাস : অ্যাডেনিন , থাইমিন , গুয়ানিন , এবং সাইটোসিন বেস দ্বারা গঠিত । এগুলো একটি নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে সাজানো ঠাকে যা একটি জেনেটিক কোড তৈরি করে। এই কোডে চোখের রঙ, চুলের রঙ এবং উচ্চতার মতো বৈশিষ্ট্য সহ একটি জীবের বিকাশ এবং কার্যকারিতার জন্য সমস্ত নির্দেশাবলী রয়েছে।প্রজননের সময়, পিতামাতার ডিএনএ থেকে জেনেটিক তথ্য ডিএনএ প্রতিলিপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সন্তানদের কাছে প্রেরণ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ডিএনএ কোডের অনুলিপি করা জড়িত, যাতে সন্তানের প্রতিটি নতুন কোষে পিতামাতার জেনেটিক তথ্যের একটি সঠিক অনুলিপি থাকে। মিয়োসিসের সময়, যে প্রক্রিয়াটি শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু তৈরি করে, জিনগত উপাদানগুলিকে পুনরায় একত্রিত করা হয় যাতে প্রতিটি সন্তান তাদের পিতামাতার কাছ থেকে জিনের একটি অনন্য সংমিশ্রণ পায়, বংশের মধ্যে তারতম্য তৈরি করে। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা সংক্ষেপে থেকে বলা যায়, ডিএনএ জেনেটিক তথ্য বহন করে যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রেরণ করা হয়। এটি আমাদের শরীরকে কীভাবে বিকাশ এবং কাজ করতে হয় তা বলে দিয়ে আমাদের বৈশিষ্ট্যগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে। আর তাই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণে ডিএনএ এর ভূমিকা অপরিসীম।
Question 04
উদ্ভিদকোষের বাইরে দুই ধরনের আবরণ থাকে। একটি তিন স্তর বিশিষ্ট এক ধরনের পলিস্যাকারাইড দিয়ে গঠিত এবং অন্যটি লিপিডের ফাঁকে ফাঁকে বিশেষ কিছু প্রোটিন দিয়ে গঠিত। উভয় আবরণই কোষকে বাইরের আঘাত থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।
[ সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া, 2025]
a.
প্রোটন মোটিভ ফোর্স কী?
b.
পুষ্প রঙিন হয় কেন?
c.
উদ্দীপকের প্রথম আবরণটির সূক্ষ্ম গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের আবরণটি হলো কোষপ্রাচীর। কোষপ্রাচীর উদ্ভিদকোষের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। নিচে কোষপ্রাচীরের সূক্ষ্ম গঠন বর্ণনা করা হলো-
উদ্ভিদকোষ প্রাচীরের প্রধান উপাদান হলো সেলুলোজ। সেলুলোজ হলো একটি পলিস্যাকারাইড যা ৬-কার্বনবিশিষ্ট গ্লুকোজের অসংখ্যা অণু নিয়ে গঠিত। ১ হাজার থেকে ৩ হাজার সেলুলোজ, অণু নিয়ে একটি সেলুলোজ চেইম গঠিত হয়। প্রায় ১০০টি সেলুলোজ চেইন মিলিতভাবে একটি ক্রিস্টালাইন মাইসেলি গঠন করে। মাইসেলিকে কোষ প্রাচীরের ক্ষুদ্রতম গাঠনিক একক ধরা হয়। প্রায় ২০টি মাইসেলি মিলে একটি মাইক্রোফাইব্রিল গঠন করে এবং ২৫০টি মাইক্রোফাইব্রিল মিলিতভাবে একটি ম্যাক্রোফাইব্রিল গঠন করে। অনেকগুলো ম্যাক্রোফাইব্রিল মিলিতভাবে একটি তত্ত্ব (ফাইবার) গঠন করে।
d.
উদ্দীপকের দ্বিতীয় আবরণটি প্রথমটি থেকে পৃথক কেন তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের প্রথম আবরণটি হলো কোষপ্রাচীর এবং দ্বিতীয় আবরণটি হলো প্লাজমামেমব্রেন বা কোষঝিল্লি। নিচে এদের পৃথক হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করা হলো-
একটি উদ্ভিদ কোষ অপেক্ষাকৃত শক্ত জড় আবরণ দিয়ে আবৃত থাকে, যাকে বলা হয় কোষ প্রাচীর । উদ্ভিদ কোষের মধ্য পর্দা এবং কোষঝিলের মাঝখানে জড় প্রাচীরের অবস্থান হয়। এককোষী উদ্ভিদ বা ব্যাকটেরিয়াতে কোষঝিলের বাইরে জড় প্রাচীরটির অবস্থান থাকে। কোষ প্রাচীর প্যাকটিক এসিড ক্যালসিয়াম পেকটেট এবং ম্যাগনেসিয়াম লবণ দিয়ে গঠিত হয় এছাড়াও তাতে অল্প পরিমাণে প্রোটোপেকটিন থাকে।
কোষ ঝিল্লি একটি সেলের অংশ যা সেলটির বাইরের সীমা দেওয়া থাকে। এটি সেলটির রক্ষা করে, সেলের অবস্থান স্থাপন করে। কোষ ঝিল্লি সেলটির প্রাচীর এবং সেলের অত্যন্ত দুর্বল অংশের সুরক্ষা ও ভিত্তি প্রদান করে। এটি সেলের অভ্যন্তরীণ সংযোগ প্রদান করে ।
প্রতিটি উদ্ভিদ কোষ সাধারণত বাইরের দিকে একটি নির্জীব জড় আবরণী দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে। কোষ প্রাচীর ও কোষ ঝিল্লীর মধ্যে পার্থক্য নিম্নরুপ-
১। কোষ প্রাচীর কোষের নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লীর কোষকে নির্দিষ্ট আকার দান করে।
২। কোষ প্রাচীর বাইরের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে প্রোটোপ্লাজমকে রক্ষা করে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লীর কোষ এর আভ্যন্তরীণ সকল বস্তুকে বেষ্টন করে রাখে।
৩। কোষ প্রাচীরের প্রয়োজনীয় শক্তি ও দৃঢ়তা প্রদান করে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লীর বাইরের সকল প্রতিকূল অবস্থা থেকে অভ্যন্তরীণ বস্তুকে রক্ষা করে।
৪। কোষ প্রাচীর কোষের ভেতরে ও বাইরে পানি ও খনিজ লবণ যাতায়াত কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লী কোষের বাইরে এবং ভেতরে পদার্থের স্থানান্তর নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করে (ভেদ্য, অভেদ্য বা অর্ধভেদ্য হিসেবে)।
৫। কোষ প্রাচীরের কোষগুলোকে পরস্পর থেকে পৃথক রাখে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লীর বিভিন্ন বৃহদাণু সংশ্লেষ করতে পারে।
Question 05
নিম্নে কয়েকটি কোষীয় অঙ্গাণুর তালিকা দেওয়া হলো-
a) সর্বজনীন অঙ্গাণু
b) কোষের ট্রাফিক পুলিশ
৫) লিপিড ও প্রোটিনের অন্তঃবাহক
d) পাওয়ার হাউস
৫) কোষীয় কঙ্কাল
[ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, 2025]
a.
এন্ডোসিমবায়োসিস কী?
b.
লাইসোসোম কে সুইসাইডাল স্কোয়াড বলা হয় কেন?
c.
এ অঙ্গাণুটির গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত “a” অঙ্গাণুটি হলো রাইবোসোম যা কোষর সর্বজনীন অঙ্গাণু হিসেবে পরিচিত। নিচে রাইবোজোমের গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা করা হলো-
রাইবোজোমের গঠন: প্রোটিন ও RNA দ্বারা গঠিত ঝিল্লিবিহীন যে কোষীয় অঙ্গাণুটি প্রোটিন সংশ্লেষণের স্থান হিসেবে কাজ করে তাকে রাইবোসোম বলে। একে “প্রোটিন ফ্যাক্টরি” বা “প্রোটিন সংশ্লেষণের কারখানা” বলা হয়। রাইবোসোম আদিকোষের DNA (আদি ক্রোমোসোম) থেকে এবং প্রকৃত কোষের নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওলাস থেকে উৎপন্ন হয়। সকল সজীব কোষে রাইবোসোম থাকে। রাইবোসোম সাধারণত গোল বা বৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার, পার্শ্বীয়ভাবে চ্যাপ্টা পর্দাবিহীন এবং অত্যন্ত ক্ষুদ্র আকৃতির হয়। প্রতিটি কার্যকর রাইবোসোম দুটি অসম উপএকক বা সাব-ইউনিট নিয়ে গঠিত। সাধারণত বড় উপ-এককটি গোলাকার ও ছোট উপ-এককটি ডিম্বাকার হয়। ছোট উপ-এককটি বড় উপ-এককের উপরে অবস্থান করে। এদের ব্যাস ১৫০৪ – ২৬০৪ পর্যন্ত হতে পারে। অনেকগুলো রাইবোসোম একটি সূক্ষ্ম mRNA সূত্রের সহায়তায় সংযুক্ত থাকলে তাকে ‘পলিজোম বা পলিরাইবোসোম বলে। কোষভেদে রাইবোসোম দুই ধরনের হয়। যথা- 70 S হচ্ছে আদিকোষে (যার উপ-একক হলো 50 S ও 30 S) এবং ৪০ S হলো প্রকৃতকোষে (যার উপ-একক হলো 60 S ও 40 S)। রাইবোসোমের প্রধান উপাদান হচ্ছে RNA ও প্রোটিন। এছাড়া অল্প পরিমাণে বিভিন্ন ধাতব আয়ন, যেমন- ও থাকে।
রাইবোজোমের কাজ: রাইবোজোমের প্রধান কাজ হলো প্রোটিন তৈরি করা। এজন্য রাইবোজোমকে কোষের প্রোটিন ফ্যাক্টরিও বলা হয়। গ্লুকোজের ফসফোরাইলেশন এবং স্নেহজাতীয় পদার্থের বিপাক রাইবোসোমে সংঘটিত হয়।
d.
b. c ও c অঙ্গাণুর মধ্যে তুলনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত b, c ও অঙ্গাণুগুলো হলো যথাক্রমে গলগিবডি, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম এবং কোষীয় কঙ্কাল বা সাইটোকঙ্কাল। নিচে এদের মধ্যে তুলনা উল্লেখ করা হলো-

Question 06
প্রক্রিয়া A- যার মাধ্যমে পুরাতন (মাতৃ DNA) DNA থেকে নতুন DNA (অপত্য DNA) সৃষ্টি করে।
প্রক্রিয়া B- যার মাধ্যমে DNA থেকে mRNA সৃষ্টি করে।
[ ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, 2025]
a.
বান্ডল ক্যাপ (গুচ্ছ টুপি) কী?
b.
ভাইরাস জীবিত, নাকি জীবিত নয়? তোমার মন্তব্য দাও।
c.
উপরোক্ত প্রক্রিয়া দুটির মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রক্রিয়া-A দ্বারা DNA অনুলিপন বা রেপ্লিকেশন এবং প্রক্রিয়া-B দ্বারা DNA থেকে mRNA সৃষ্টির প্রক্রিয়া টান্সক্রিপশনকে বুঝানো হয়েছে। নিচে DNA অনুলিপন এবং ট্রান্সক্রিপশনের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করা হলো-

d.
উদাহরণসহ উপরের নিউক্লিয়িক এসিডগুলোর জেনেটিক কোডের বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত নিউক্লিয়িক এসিডগুলো হলো DNA এবং RNA। DNA এর সিকোয়েন্স অনুযায়ী সৃষ্ট mRNA অণুর উপর সজ্জিত পরপর তিনটি নিউক্লিওটাইড মিলে অ্যামিনো এসিডের জন্য যে অর্থবহ সংকেত তৈরি হয় তাকে জেনেটিক কোডন বা জেনেটিক কোড বলে। নিচে জেনেটিক কোডের বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ করা হলো-
১. কোড ট্রিপলেট: প্রত্যেক কোড তিন অক্ষরবিশিষ্ট। যেমন-AUG, AAA, UUU ইত্যাদি।
২. অনতিক্রম্য বা নন-ওভারল্যাপিং একটি কোডের কোনো অক্ষর অন্য কোডের অন্তর্ভুক্ত হয় না অর্থাৎ কখনো ওভারল্যাপ করে না বরং ক্রমমজ্জা অণুসরণ করে যেমন- AUUCGG থেকে AUU ও CGG কোড তৈরি হওয়া সম্ভব কিন্তু AUC, UUC, UCG AUG কোড তৈরি হয়না অসম্ভব)।
৩. প্রায় সর্বজনীন: দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সাধারণত একটি নির্দিষ্ট কোড সকল জীবেই একই ধরনের অ্যামিনো অ্যসিডকে কোড করে। দেখা গেছে যে, , , গম, ইদুরের ক্ষেত্রে UUU ফিনাইল অ্যালানিন এবং GUU ভ্যালিন কোড করে।
৪. বিরামহীন বা কমাহীন দুটি কোডের মধ্যে অতিরিক্ত নিউক্লিও-টাইড বা নন-সেন্স কোডন থাকে না।
৫. দ্ব্যর্থহীন: সাধারণত একটি কোড কেবল একটি অ্যামাইনো এসিডকে নির্দেশ করে, একাধিক অ্যামিনো এসিডকে নয়। যেমন- UUA শুধু লিউসিনকে নির্দেশ করে, অন্য অ্যামাইনো এসিডকে নয়।
৬. ডিজেনারেটিভ বা অর্ধঃগামিতা একাধিক কোড একটি অ্যামাইনো এসিডকে কোড করতে পারে। যেমন- ফিনাইল ‘অ্যালানিন ২টি (UUU ও UDC) এবং লিউসিন 6টি (UUA, UUG, CUU, CỤC, CUA ও CUG) কোড দ্বারা নির্দেশিত হয়।
৭. মেরুত্ব: জেনেটিক কোডের মেরুতা 5’→3′ অভিমুখে নির্দেশিত হয়।
৮. সূচনা নির্দেশ: 64টি কোডের মধ্যে AUG (কখনো GUG) কোডটিকে সূচনা কোডন বলা হয়। কেননা এটি প্রোটিন সংশ্লেষণের সূচনা নির্দেশ করে।৯. সমাপ্তি নির্দেশ 64টি কোডের মধ্যে ৩টি কোড কোনো অ্যামাইনো এসিডকে কোড করে না। এদের সমাপনী কোড বা নন-সেন্স কোড বলে। সমাপনী কোড তিনটি হলো-UAA, UAG এবং UGA।
Question 07
[ কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ, 2025]
a.
স্প্লাইসিং কী?
b.
গলজি বডিকে কোষের ট্রাফিক পুলিশ বলা হয় কেন?
c.
‘Y’ প্রক্রিয়াটি আলোচনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত ‘Y’ প্রক্রিয়াটি হলো DNA থেকে mRNA তৈরির প্রক্রিয়া অর্থাৎ ‘Y’ দ্বারা ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়েছে। নিচে প্রক্রিয়াটি আলোচনা করা হলো-
DNA অণুতে গ্রথিত রাসায়নিক তথ্যগুলোকে RNA (mRNA) অণুতে কপি করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ট্রান্সক্রিপশন। (HIV-এর ক্ষেত্রে রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন ঘটে।) RNA তৈরির এ কার্যত প্রক্রিয়াটি DNA কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। সহজভাবে বলা যায়, DNA থেকে RNA উৎপাদন প্রক্রিয়ার নাম হলো ট্রান্সক্রিপশন RNA থেকে প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়া হলো ট্রান্সলেশন। ট্রান্সক্রিপশন নিউক্লিয়াসে সংঘটিত হয় এবং এতে সৃষ্ট mRNA নিউক্লিয়ার ছিদ্রের মাধ্যমে সাইট্রোপ্লাজমে প্রবেশ করে।
ডিএনএ অণুর দুটি স্ট্র্যান্ড রয়েছে, একটিকে সেন্স বা কোডিং স্ট্র্যান্ড এবং অন্যটিকে অ্যান্টি-সেন্স বা অ্যান্টি-কোডিং স্ট্র্যান্ড বলা হয়। যখন আমাদের শরীরের প্রোটিন তৈরির প্রয়োজন হয়, তখন আরএনএ পলিমারেজ II নামে একটি বিশেষ অণু mRNA নামক ডিএনএর একটি অনুলিপি তৈরি করতে সাহায্য করে। এই mRNA প্রায় ডিএনএর মতোই, তবে এটি T-এর পরিবর্তে U, একটি ভিন্ন অক্ষর ব্যবহার করে। এই অনুলিপি প্রক্রিয়া জেনেটিক তথ্য সঠিক রাখতে সাহায্য করে। অনুলিপিটি ক্যাপ সাইট নামে একটি বিশেষ স্থানে শুরু হয় এবং এটিকে রক্ষা করার জন্য এমআরএনএর শুরুতে 9 মিথাইল গুয়ানোসিন নামক একটি বিশেষ অণু যুক্ত করা হয়। এটি একটি টুপি পরা মত. তারপর mRNA এর একটি ছোট অংশ আছে যা লিডার সিকোয়েন্স বলে কিছু করে না। এর পরে, AUG নামে একটি বিশেষ কোড রয়েছে যা শরীরকে একটি প্রোটিন তৈরি করতে বলে। অবশেষে, একটি স্টপ কোডন নামে একটি বিশেষ কোড রয়েছে যা শরীরকে প্রোটিন তৈরি বন্ধ করতে বলে।
d.
আদিকোষ ও প্রকৃতকোষে Y প্রক্রিয়ায় বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত ‘Y’ প্রক্রিয়াটি হলো ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়া। ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়ায় আদিকোষ এবং প্রকৃতকোষের জীবের মধ্যে বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-

Question 08
তিনা ও রুনা কোষের দুটি অঙ্গাণু নিয়ে আলোচনা করছিল। প্রথম অঙ্গাণুটি ফটোফসফোরাইলেশনে সহায়তা করে এবং দ্বিতীয় অঙ্গাণুটিতে শ্বসনের বিভিন্ন পর্যায় সংঘটিত হয়।
[ রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, 2025]
a.
ক্যাম্বিয়াম কী?
b.
কোন অঙ্গাণুকে আত্মঘাতী থলিকা বলা হয় এবং কেন?
c.
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অঙ্গাণুটির গঠন ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। নিচে মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
মাইটোকন্ড্রিয়া জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী ঝিল্লি দ্বারা সীমিত সাইটোপ্লাজমস্থ যে অঙ্গাণুতে ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট ইত্যাদি ঘটে থাকে এবং শক্তি উৎপন্ন হয় সেই অঙ্গাণুকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে। একে কোষের ‘পাওয়ার হাউস’ বা শক্তিঘর বলা হয়।
ভৌত গঠন:
১। আবরণী : প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ন লিপোপ্রোটিন বাইলেয়ারের দুটি মেমব্রেন নিয়ে গঠিত। বাইরের মেমব্রেনটি খাঁজবিহীন, মূলত ভেতরের অংশসমূহকে রক্ষা করাই এর প্রধান কাজ। বাইরের মেমব্রেন ভেদ করে বিভিন্ন ক্ষুদ্র অণু এবং আয়ন ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, আবার বের হয়ে যেতেও পারে। এতে কিছু ট্রান্সপোর্ট প্রোটিন থাকে যা প্রয়োজনে সক্রিয় ট্রান্সপোর্টে সহায়তা করে। এতে কোনো ETC, ATP Synthases, ATP তৈরির এনজাইম ইত্যাদি থাকে না। দুটি আবরণীর মধ্যে ব্যবধান ৬-৮ nm |
২। প্রকোষ্ঠ : দুই মেমব্রেনের মাঝখানের ফাঁকা স্থানকে বলা হয় বহিস্থ কক্ষ বা আন্তঃমেমব্রেন ফাঁক এবং ভতরের মেমব্রেন দিয়ে আবদ্ধ কেন্দ্রীয় অঞ্চলকে বলা হয় অভ্যন্তরীণ কক্ষ। অভ্যন্তরীণ কক্ষ জেলির ন্যায় ঘন সমসত্ত্ব ধাত্র দ্বারা পূর্ণ থাকে। একে ম্যাট্রিক্স বলে।
৩। ক্রিস্টি: বাইরের মেমব্রেন সোজা কিন্তু ভেতরের মেমব্রেনটি নির্দিষ্ট ব্যবধানে ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে আঙ্গুলের মতো প্রবর্ধক সৃষ্টি করে। এ অংশকে ক্রিস্টি বলে। এগুলো মাইটোকন্ড্রিয়ার ধাত্রকে কতগুলো অসম্পূর্ণ প্রকোষ্ঠে বিভক্ত করে। ক্রিস্টির মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানকে অন্তঃক্রিস্টি ফাঁকা স্থান বলে যা বহিঃপ্রকোষ্ঠের সাথে সংযুক্ত।
৪। অক্সিসোম: মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃআবরণীর অন্তর্গাত্রে অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য দানা লেগে থাকে। এদের অক্সিসোম বলে। অক্সিসোম বৃন্তক বা অবৃত্তক হতে পারে।
৫। ATP Synthases ও ETC: ক্রিস্টিতে স্থানে স্থানে ATP Synthases নামক গোলাকার বস্তু আছে। এতে ATP সংশ্লেষিত হয়। এছাড়া সমস্ত ক্রিস্টিব্যাপী অনেক ইলেক্ট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন অবস্থিত।
৬। DNA ও রাইবোসোম : মাইটোকন্ড্রিয়ার- নিজস্ব বৃত্তাকার DNA এবং রাইবোসোম রয়েছে। এটিও আদি কোষীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। এরা ম্যাট্রিক্স-এ থাকে।
d.
জীবজগতে উদ্দীপকের প্রথম অঙ্গাণুটির ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। জীবজগতে অস্তিত্ব রক্ষায় ক্লোরোপ্লাস্টের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. খাদ্য প্রস্তুত : উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সরল শর্করা তৈরি হয়। এ সকল শর্করা হতে পরবর্তীতে বিভিন্ন বিপাকীয় পদ্ধতিতে স্নেহ, আমিষ, অ্যামিনো অ্যাসিড ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জৈব যৌগ সৃষ্টি হয় যেগুলো বিভিন্ন খাদ্যরূপে উদ্ভিদদেহে সঞ্চিত থাকে।
২. প্রাণীর খাদ্য : প্রাণীরা নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না। এরা খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল। উদ্ভিদদেহের ক্লোরোপ্লাস্টে তৈরিকৃত শর্করা ও খাদ্যরূপে সঞ্চিত বিভিন্ন যৌগকে প্রাণীরা ভক্ষণের মাধ্যমে গ্রহণ করে।
৩. শক্তির উৎস: পৃথিবীর সকল জীবদেহের বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে ব্যবহৃত সকল শক্তির একমাত্র উৎস হলো আলোকশক্তি। কেবল উদ্ভিদই ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোকশক্তিকে রাসায়নিক স্থিতিশক্তি হিসেবে বিভিন্ন খাদ্যে আবদ্ধ করে। উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৃদ্ধি এবং সকল শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যবহৃত শক্তি খাদ্যের মাধ্যমেই পেয়ে থাকে।
৪. প্রাণীর শ্বসন: প্রাণীর শ্বসন কাজে ব্যবহৃত অক্সিজেনের একমাত্র উৎস হলো উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্টে সংঘটিত সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট অক্সিজেন। এছাড়া প্রাণীর শ্বসনে সৃষ্ট উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলে ও ভারসাম্য রক্ষা করে।
৫. পরিবেশ দূষণ রোধ: প্রাণীর শ্বসন এবং মানুষের বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কাজে সৃষ্ট পরিবেশে দূষণ সৃষ্টি করছে। ভূপৃষ্ঠে বিস্তৃত বৃক্ষরাজি ও সমুদ্রের ফাইটোপ্লাঙ্কটন ক্লোরোপ্লাস্টে সংঘটিত সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ গ্রহণ করে পরিবেশ দূষণ রোধ করছে এবং পৃথিবীকে প্রাণী তথা মানুষের বসবাসের যোগ্য রাখছে।
৬. ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা : ক্লোরোপ্লাস্টে সংঘটিত সালোকসংশ্লেষণের সময় উদ্ভিদ প্রচুর সৌরশক্তি শোষণ করায় ভূ-পৃষ্ঠের তপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকে।
৭. মানবসভ্যতা বিকাশে : ক্রমবিকশিত মানবসভ্যতা খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধ, জ্বালানি, জীবাশ্ম-জ্বালানি, কাগজ, আসবাবপত্র ইত্যাদির উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। আর এসব কিছুই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আসে উদ্ভিদজগৎ থেকে। উদ্ভিদদেহের সব কিছুই মূলত সালোকসংশ্লেষণের ফসল। এভাবে হাজার বছর ধরে গড়ে উঠা মানবসভ্যতা উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্টে সংঘটিত সালোকসংশ্লেষণের উপর নির্ভরশীল।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, ক্লোরোপ্লাস্টে সংঘটিত সালোকসংশ্লেষণ প্রাণিকুলের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য।
Question 09
প্রকৃত কোষে দুই ধরনের জৈব এসিড থাকে যার প্রথমটি বংশগতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে এবং দ্বিতীয়টি প্রোটিন সংশ্লেষণে সহায়তা করে।
[ রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, 2025]
a.
সেন্ট্রোমিয়ার কী?
b.
নাইট্রোজেন বেস বলতে কী বুঝ?
c.
উদ্দীপকের প্রথম জৈব এসিডটির ভৌত গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম জৈব এসিডটি হলো DNA। DNA বহুসংখ্যায় উপস্থিত থেকে প্যাঁচানো সূত্র গঠন করে। নিচে DNA অণুর ভৌত বর্ণনা করা হলো-
সজীব কোষে অবস্থিত স্বপ্রজননশীল, পরিব্যক্তিক্ষম, সকল প্রকার জৈবনিক কার্যের নিয়ন্ত্রক এবং বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক যে নিউক্লিক অ্যাসিড তাকে DNA বলে। DNA হলো জীবের বংশগত। বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক। DNA হলো জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক। যা জীবনের আণবিক ভিত্তি।
DNA এর ভৌত গঠন:
১. দুটি পলিনিউক্লিওটাইড সূত্র পরস্পরের সাথে লোহার সিঁড়ির মতো ডানদিকে প্যাঁচানো থেকে একটি জোড় কুন্ডলী বা ডাবল হেলিক্স গঠন করে। এ সিড়ির দুদিকের হাতল নির্মিত হয় ডি-অক্সিরাইবোজ সুগার ও ফসফেট এর পর্যায়ক্রমিক সংযুক্তির মাধ্যমে এবং ধাপগুলো দুটি নাইট্রোজেন বেস দিয়ে গঠিত।
২. একটি নিউক্লিওটাইডের সুগারের ৫ম কার্বন অণুর সাথে ফসফেট যুক্ত থাকলে অপর নিউক্লিওটাইডের সুগার ৩য় কার্বন অণুর সাথে ফসফেট যুক্ত হয়। নাইট্রোজেন বেসটি সব সময় সুগারের ১ম কার্বনের সাথে যুক্ত থাকে।
৩. সিঁড়ির মতো প্যাচানো সূত্রদুটি একটি কাল্পনিক মধ্য অক্ষকে ঘিরে থাকে। সূত্র দুটি পরস্পরের সামান্তরালে কিন্তু বিপরীতমুখী হয়ে অবস্থান করে। অর্থাৎ একটি সূত্র 5’3′ মুখী এবং অন্যটি 3’5′ কার্বনমুখী অবস্থান থাকে ।
৪. বেসগুলো হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয়। কাজেই সিঁড়ির বাইরের দিকে থাকে ফসফেট এবং ভেতরের দিকে নাইট্রোজেন বেস। একটি সূত্রের গুয়ানিন অপর সূত্রের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয় এবং এক সূত্রের অ্যাডেনিন অপর সূত্রের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে সংযুক্ত থাকে।
৫. হেলিক্সের ব্যাস 20Å । দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হতে পারে।
৬. একটি পূর্ণাঙ্গ, প্যাচ প্রতি 34Å দূরত্বে সম্পন্ন হয়। প্যাচটি হয় ডান থেকে বাঁদিকে। দশ নিউক্লিওাইড জোড়ের পর একেকটি প্যাচ সম্পন্ন হয়। প্রতি প্যাঁচে থাকে প্রায় ২৫টি হাইড্রোজেন বন্ড।
৭. বেস জোড়গুলো পরস্পর থেকে 3.4Å দূরত্বে অবস্থিত।
৮. DNA-র দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হতে পারে, যেমন- মানুষের দেহেকোষের DNA-র দৈর্ঘ্য 174cm এবং ব্যাকটেরিয়ার DNA-র দৈর্ঘ্য 1.4 mm। DNA-র আণবিক ওজন 10-10° হতে পারে।
d.
উদ্দীপকের প্রথম ও দ্বিতীয় জৈব এসিডের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের প্রথম জৈব এসিডটি হলো ডাবল স্ট্যান্ডবিশিষ্ট DNA এবং দ্বিতীয় জৈব এসিডটি হলো রাইবোজ সমৃদ্ধ এক সূত্রক বিশিষ্ট RNA । DNA এবং RNA অণুর মধ্যে পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-

Question 10
নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-

[ রংপুর ক্যাডেট কলেজ, 2025]
a.
টিস্যু কী?
b.
Flip-Flop Movement ব্যাখ্যা কর।
c.
প্রদত্ত চিত্রটি অন্য কোষীয় অঙ্গাণুর সাথে সঠিকভাবে আঁক যার মধ্যে প্লাস্টিড আছে।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্রটি হলো নিউক্লিয়াস। উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড আছে। প্রাণী কোষে থাকে না। নিচে অন্যান্য কোষীয় অঙ্গাণুর সাথে নিউক্লিয়াস ও প্লাস্টিডসহ একটি আদর্শ উদ্ভিদ কোষের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-

চিত্র: একটি আদর্শ উদ্ভিদকোষের চিহ্নিত চিত্র
d.
চিত্রের অভ্যন্তরে বিদ্যমান সূক্ষ্ম সূতার মতো গঠনটি জীবজগতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে- বিবৃতিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রদত্ত চিত্রটি হলো নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে সূক্ষ্ম সূতার মতো গঠনটি হলো ক্রোমোসোম। জীবজগতের জন্য ক্রোমোসোম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে বিবৃতিটি ব্যাখ্যা করা হলো-
১. ক্রোমোসোমে সারিবদ্ধভাবে অসংখ্য জিন থাকে। আর জিনের মাধ্যমে বংশগতি বৈশিষ্ট্যসমূহ পিতা-মাতা থেকে সন্তান-সন্ততিতে বাহিত হয়।
২. এটি ক্রোমোসোম কোষ বিভাজন তথা জীবের বৃদ্ধি ও বিকাশ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে সৃষ্ট কোষ সমবৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হয়। এভাবে সমস্ত দেহ সমসত্ত্ব হয়।
৩. মিয়োসিসের সময় হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের মধ্যে ক্রসিং ওভার হয়। ফলে নতুন চারিত্রিক বিন্যাস ঘটে। নতুন চারিত্রিক বিন্যাসের মাধ্যমে ক্রোমোসোমে নতুন জীব সৃষ্টি তথা বিবর্তনে ভূমিকা নেয়।
৪. সেক্স ক্রোমোসোম জীবের লিঙ্গ নির্ধারণ করে যা প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ক্রোমোসোম পিতা-মাতার সাথে বংশধরের সংযোগ সৃষ্টি করে।
৫. ক্রোমোসোমে বংশগতির পদার্থ DNA বা RNA থাকে। মাতা-পিতার DNA-এর পরিমাণ’ সন্তানের অনুরূপ থাকে।
৬. DNA অনুলিপনের পরেই ক্রোমোসোমের দ্বিতুন ঘটে। এ প্রক্রিয়ায় বৈশিষ্ট্যের বিন্যাসও অপরিবর্তিত থাকে। DNA-তে নিয়ন্ত্রিতভাবে mRNA তৈরি হয় এবং এর মাধ্যমে প্রোটিন সংশ্লেষণ নিয়ন্ত্রণ করে। প্রোটিন জীবের দৈহিক গঠন নিয়ন্ত্রণ করে বলে অপত্য তথা সন্তান-সন্ততি মাতা-পিতার অনুরূপ দেখায়।
Question 11
জীবদেহে দুই ধরনের জৈব এসিড পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে একটি সমস্ত বৈশিষ্ট্যের প্রকাশের মূল একক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্যটি প্রোটিন সংশ্লেষণে অংশ নিতে পারে।
[ রংপুর ক্যাডেট কলেজ, 2025]
a.
ক্রিস্টি এর সংজ্ঞা লেখ।
b.
আত্মঘাতী থলিকা বলতে কী বুঝায়?
c.
প্রথম জৈব অণুটির প্রতিলিপন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম জৈব অণুটি হলো DNA। একটি DNA থেকে দুটি নতুন DNA সৃষ্টির প্রক্রিয়া হলো DNA রেপ্লিকেশন বা প্রতিলিপন। নিচে DNA প্রতিলিপন প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা হলো-
DNA অণুর রেপ্লিকেশনের ধাপসমূহ : প্রকৃত কোষে DNA রেপ্লিকেশন একটি জটিল প্রক্রিয়া। অর্ধ-সংরক্ষণশীল প্রক্রিয়ায় DNA রেপ্লিকেশনের ধাপসমূহ নিম্নরূপ :
ধাপ-১ : ডাবল হেলিক্স-এর দুটি স্ট্র্যান্ডকে একক স্ট্র্যান্ড-এ পৃথকীকরণ:
রেপ্লিকেশন শুরু হওয়ার জন্য DNA অণুর দুটো স্ট্র্যান্ডকে অবশ্যই একটি থেকে অপরটি পৃথক হতে হবে।
(i) প্রথমে হেলিকেজ এনজাইম অরি-তে সংযুক্ত হয়ে ডাবল হেলিক্স-এর প্যাচ খুলতে শুরু করে এবং হাইড্রোজেন বন্ড ভেঙ্গে DNA অণুর স্ট্র্যান্ড দুটিকে প্যাচমুক্ত ও পৃথক করে দেয়।
(ii) পৃথককৃত স্ট্র্যান্ড দুটিতে সংযুক্ত হয়ে যায় এবং এদের মাঝে পুনরায় হাইড্রোজেন বন্ড তৈরি হতে দেয় না
iii) রেপ্লিকেশনের জন্য পৃথক হওয়া প্রতিটি স্ট্র্যান্ড নতুন স্ট্র্যান্ড তৈরির ছাঁচ (template) হিসেবে ব্যবহৃত হয় । রেপ্লিকেশন অরিজিন থেকে হেলিকেজ এনজাইম DNA সূত্রের উভয় দিকে দুটি স্ট্র্যান্ডকে পৃথক করে থাকে।
ধাপ-২ : সম্পূরক স্ট্র্যান্ড তৈরিঃ
(i) DNA Polymerases প্রতিটি ছাঁচ স্ট্র্যান্ডের কমপ্লিমেন্টারি নতুন স্ট্র্যান্ড তৈরি করে রেপ্লিকেশনের কাজ করে থাকে ।
(ii) রেপ্লিকেশনের জন্য রেপ্লিকেশন ফর্ক তৈরি হলে সেখানে কেবলমাত্র দুটি পুরাতন স্ট্র্যান্ড থাকে যা নতুন স্ট্র্যান্ড তৈরির ছাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
(iii) RNA Primase একটি রেপ্লিকেশন এনজাইম যা RNA প্রাইমার তৈরি করে থাকে। এ এনজাইম পুরাতন একটি স্ট্র্যান্ডকে ছাঁচ হিসেবে ব্যবহার করে রেপ্লিকেশন ফর্কের কাছে একটি ক্ষুদ্র কমপ্লিমেন্টারি RNA সূত্র তৈরি করে দেয়।
(iv) DNA Polymerase- এনজাইম ছাঁচের একটি কমপ্লিমেন্টারি নিউক্লিওটাইড এনে RNA প্রাইমারের ৩’-প্রান্তে সংযুক্ত করে নতুন DNA স্ট্র্যান্ড তৈরির সূচনা করে এবং রেপ্লিকেশন কাজটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত একটির পর একটি নিউক্লিওটাইড সংযুক্তি চলতে থাকে।
(v) নতুন যে সূত্রটি নিরবচ্ছিন্নভাবে ফর্ক-এর দিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে তাকে বলা হয় লিডিং সূত্র (leading strand)। আর যে সূত্রটি রেপ্লিকেশন ফর্ক-এর বিপরীত দিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে তাকে বলা হয় ল্যাগিং সূত্র।
(vi) লিডিং সূত্র নিরবচ্ছিন্নভাবে তার প্রতিরূপ সৃষ্টি করে অগ্রসর হওয়ার কারণে ল্যাগিং সূত্রে জোড়াবিহীন নিউক্লিওটাইডের সারি তৈরি হয়। জোড়াবিহীন নিউক্লিওটাইডের সারিটি একটু লম্বা হলে প্রাইমেজ এনজাইম কার্যকরী হয় এবং একটি প্রাইমার তৈরি করে অনুলিপন কাজ শুরু হয়।
(vii) DNA অণুর রেপ্লিকেশনে ল্যাগিং সূত্রের খণ্ড খণ্ড বিচ্ছিন্ন অংশকে লাইগেজ এনজাইম মধ্যকার গ্যাপকে সংযুক্ত করে নতুনভাবে সৃষ্ট অংশকে নিরবচ্ছিন্নতা দান করে ।
(viii) একই সাথে DNA ডাবল হেলিক্স-এর বিভিন্ন স্থানে রেপ্লিকেশন কার্য শুরু হওয়াতে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিপূর্ণ ডাবল হেলিক্সটিই রেপ্লিকেটেড হয়ে দুটি ডাবল হেলিক্স-এ পরিণত হয় অর্থাৎ প্রতিলিপন সমাপ্ত হয়।
d.
বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ সম্পূর্ণরূপে উভয় জৈব এসিডের উপর নির্ভরশীল। বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত জৈব এসিড দুটি হলো DNA এবং RNA। জীবের বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ সম্পূর্ণরূপে DNA ও RNA-এর উপর নির্ভরশীল। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
DNA:
১.. DNA মূলত ডি-অক্সিরাইবোনিউক্লিয়িক এসিড যা একটি রাসায়নিক জৈব যৌগ। DNA জীবদেহের সকল বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
২. অনুলিপন প্রক্রিয়ায় জীবের জাতিসত্ত্বা অটুট রাখে। এছাড়া DNA প্রজাতি শনাক্তকরণেও ভূমিকা রাখে এবং বংশগতি বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে।
৩. DNA অণুর মাধ্যমে বিভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পিতা-মাতা থেকে সন্তানের মধ্যে সঞ্চারিত হয়। এ কারণে DNA কে বংশগতির রাসায়নিক ভিত্তি বলা হয়।
৪. বংশগতি বস্তুর প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোসোম। এ ক্রোমোসোমে রয়েছে DNA যেখানে জিনগুলো সুসজ্জিত থাকে। জিন হলো ক্রোমোসোমে বিদ্যমান DNA অণুর এমন একটি অংশ যা কোষে প্রোটিন সংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করতে সক্ষম।
৫. বিভিন্ন বিজ্ঞানীর পরীক্ষা থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, DNA এর অংশ বিশেষই জিন হিসেবে কাজ করে অর্থাৎ DNA-ই জিন। জিনই হচ্ছে জীবের সব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ধারক যা পর্যায়ক্রমে বাহ্যিক চরিত্রসমূহ ফুটিয়ে তোলে।
RNA: RNA প্রধানত DNA এর কাজে সহায়তা করে এবং প্রোটিন সংশ্লেষে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। তবে কিছু ভাইরাস ও অনুরূপ নিম্নশ্রেণির জীবে DNA পাওয়া যায় না এসব ক্ষেত্রে RNA বিদ্যমান থাকে। ফলে RNA উক্ত জীবের বৈশিষ্ট্য শনাক্তকরণে ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করে। এরা উক্ত জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। এসব RNA কে জেনেটিক RNA বা gRNA বলে। যেসব দেহে gRNA থাকে, তাদের DNA থাকে না (যেমন- TMV, HIV)।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, DNA ও RNA উভয়ই জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Question 12
দুইটি কোষীয় অঙ্গাণু উদ্ভিদদেহকে কার্যকর রাখে যার প্রথমটিতে ফটোফসফোরাইলেশন ঘটে এবং দ্বিতীয়টিতে অক্সিডেটিভফসফোরাইলেশন ঘটে।
[ সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ, যশোর, 2025]
a.
গ্লাইকোক্যালিক্স বলতে কী বুঝ?
b.
লাইসোসোমকে অটোফ্যাগী বলা হয় কেন?
c.
উদ্দীপকে নির্দেশিত দ্বিতীয় অঙ্গাণুটির গঠন লেখ।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে নির্দেশিত দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া, যা কোষের শক্তিঘর নামে পরিচিত। নিচে মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন বর্ণনা করা হলো-
১। আবরণী : প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ন লিপোপ্রোটিন বাইলেয়ারের দুটি মেমব্রেন নিয়ে গঠিত। বাইরের মেমব্রেনটি খাঁজবিহীন, মূলত ভেতরের অংশসমূহকে রক্ষা করাই এর প্রধান কাজ। বাইরের মেমব্রেন ভেদ করে বিভিন্ন ক্ষুদ্র অণু এবং আয়ন ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, আবার বের হয়ে যেতেও পারে। এতে কিছু ট্রান্সপোর্ট প্রোটিন থাকে যা প্রয়োজনে সক্রিয় ট্রান্সপোর্টে সহায়তা করে। এতে কোনো ETC, ATP Synthases, ATP তৈরির এনজাইম ইত্যাদি থাকে না। দুটি আবরণীর মধ্যে ব্যবধান ৬-৮ nm |
২। প্রকোষ্ঠ : দুই মেমব্রেনের মাঝখানের ফাঁকা স্থানকে বলা হয় বহিস্থ কক্ষ বা আন্তঃমেমব্রেন ফাঁক এবং ভতরের মেমব্রেন দিয়ে আবদ্ধ কেন্দ্রীয় অঞ্চলকে বলা হয় অভ্যন্তরীণ কক্ষ। অভ্যন্তরীণ কক্ষ জেলির ন্যায় ঘন সমসত্ত্ব ধাত্র দ্বারা পূর্ণ থাকে। একে ম্যাট্রিক্স বলে।
৩। ক্রিস্টি: বাইরের মেমব্রেন সোজা কিন্তু ভেতরের মেমব্রেনটি নির্দিষ্ট ব্যবধানে ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে আঙ্গুলের মতো প্রবর্ধক সৃষ্টি করে। এ অংশকে ক্রিস্টি বলে। এগুলো মাইটোকন্ড্রিয়ার ধাত্রকে কতগুলো অসম্পূর্ণ প্রকোষ্ঠে বিভক্ত করে। ক্রিস্টির মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানকে অন্তঃক্রিস্টি ফাঁকা স্থান বলে যা বহিঃপ্রকোষ্ঠের সাথে সংযুক্ত।
৪। অক্সিসোম: মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃআবরণীর অন্তর্গাত্রে অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য দানা লেগে থাকে। এদের অক্সিসোম বলে। অক্সিসোম বৃন্তক বা অবৃত্তক হতে পারে।
৫। ATP Synthases ও ETC: ক্রিস্টিতে স্থানে স্থানে ATP Synthases নামক গোলাকার বস্তু আছে। এতে ATP সংশ্লেষিত হয়। এছাড়া সমস্ত ক্রিস্টিব্যাপী অনেক ইলেক্ট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন অবস্থিত।
৬। DNA ও রাইবোসোম : মাইটোকন্ড্রিয়ার- নিজস্ব বৃত্তাকার DNA এবং রাইবোসোম রয়েছে। এটিও আদি কোষীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। এরা ম্যাট্রিক্স-এ থাকে।
d.
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রথম অঙ্গাণুটির জৈবিক ও পরিবেশীয় গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রথম অঙ্গানুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। জৈবিক ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ক্লোরোপ্লাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
জৈবিক গুরুত্ব: ক্লোরোপ্লাস্ট উদ্ভিদের খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে। সবুজ উদ্ভিদ ক্লোরোপ্লাস্টের সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে। এ খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কাজ করার শক্তি জোগায়। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্লোরোপ্লাস্ট উৎপন্ন করে যা মানুষের এবং অন্যান্য প্রাণীর জন্য প্রয়োজনীয়। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন খাদ্য (শর্করা) উদ্ভিদের বৃদ্ধি ঘটায়। উদ্ভিদ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হলে এতে ফুল ফোটে। পরাগায়ন ও নিষেকের মাধ্যমে ফুল থেকে ফল ও বীজ উৎপন্ন হয়। এ ফল ও বীজ প্রাণিকূল খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। বীজ থেকে নতুন গাছ জন্মে এবং উদ্ভিদকূল দীর্ঘদিন পৃথিবীতে টিকে থাকে। ক্লোরোপ্লাস্ট জীব জগতের খাদ্য শৃঙ্খল বজায় রাখতে সাহায্য করে কারণ এটি প্রাণীদের জন্য মৌলিক খাদ্য উৎস হিসেবে কাজ করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। ক্লোরোপ্লাস্টের অনুপস্থিতিতে উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করতে না পারলে এক সময় খাদ্যাভাবে জীবকূল বিলীন হয়ে যাবে।
পরিবেশীয় গুরুত্ব: ক্লোরোপ্লাস্টের পরিবেশীয় গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করার সময় বায়ু থেকে গ্রহণ করে এবং ত্যাগ করে যা প্রাণিকুল গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। এতে পরিবেশে ও এর ভারসাম্য বজায় থাকে। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়াসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে।
উপরের আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, ক্লোরোপ্লাস্ট জৈবিক ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Question 13

[ রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ, 2025]
a.
প্লাজমোডেসমাটা কী?
b.
কোষ তত্ত্ব বলতে কী বুঝ?
c.
উদ্দীপকের চিত্র-B অঙ্গাণুর গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের চিত্র-B অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। নিচে মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন ও কাজ বর্ণনা করা হলো-
১। আবরণী : প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ন লিপোপ্রোটিন বাইলেয়ারের দুটি মেমব্রেন নিয়ে গঠিত। বাইরের মেমব্রেনটি খাঁজবিহীন, মূলত ভেতরের অংশসমূহকে রক্ষা করাই এর প্রধান কাজ। বাইরের মেমব্রেন ভেদ করে বিভিন্ন ক্ষুদ্র অণু এবং আয়ন ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, আবার বের হয়ে যেতেও পারে। এতে কিছু ট্রান্সপোর্ট প্রোটিন থাকে যা প্রয়োজনে সক্রিয় ট্রান্সপোর্টে সহায়তা করে। এতে কোনো ETC, ATP Synthases, ATP তৈরির এনজাইম ইত্যাদি থাকে না। দুটি আবরণীর মধ্যে ব্যবধান ৬-৮ nm |
২। প্রকোষ্ঠ : দুই মেমব্রেনের মাঝখানের ফাঁকা স্থানকে বলা হয় বহিস্থ কক্ষ বা আন্তঃমেমব্রেন ফাঁক এবং ভতরের মেমব্রেন দিয়ে আবদ্ধ কেন্দ্রীয় অঞ্চলকে বলা হয় অভ্যন্তরীণ কক্ষ। অভ্যন্তরীণ কক্ষ জেলির ন্যায় ঘন সমসত্ত্ব ধাত্র দ্বারা পূর্ণ থাকে। একে ম্যাট্রিক্স বলে।
৩। ক্রিস্টি: বাইরের মেমব্রেন সোজা কিন্তু ভেতরের মেমব্রেনটি নির্দিষ্ট ব্যবধানে ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে আঙ্গুলের মতো প্রবর্ধক সৃষ্টি করে। এ অংশকে ক্রিস্টি বলে। এগুলো মাইটোকন্ড্রিয়ার ধাত্রকে কতগুলো অসম্পূর্ণ প্রকোষ্ঠে বিভক্ত করে। ক্রিস্টির মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানকে অন্তঃক্রিস্টি ফাঁকা স্থান বলে যা বহিঃপ্রকোষ্ঠের সাথে সংযুক্ত।
৪। অক্সিসোম: মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃআবরণীর অন্তর্গাত্রে অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য দানা লেগে থাকে। এদের অক্সিসোম বলে। অক্সিসোম বৃন্তক বা অবৃত্তক হতে পারে।
৫। ATP Synthases ও ETC: ক্রিস্টিতে স্থানে স্থানে ATP Synthases নামক গোলাকার বস্তু আছে। এতে ATP সংশ্লেষিত হয়। এছাড়া সমস্ত ক্রিস্টিব্যাপী অনেক ইলেক্ট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন অবস্থিত।
৬। DNA ও রাইবোসোম : মাইটোকন্ড্রিয়ার- নিজস্ব বৃত্তাকার DNA এবং রাইবোসোম রয়েছে। এটিও আদি কোষীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। এরা ম্যাট্রিক্স-এ থাকে।
d.
চিত্র-A অঙ্গাণু জীবিত জীবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তোমার নিজের ভাষায় লেখ।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র-‘A’ অঙ্গাণু দ্বারা নিউক্লিয়াসকে বুঝানো হয়েছে। নিউক্লিয়াস জীবিত জীবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে আমার ভাষায় বর্ণনা করা হলো-
নিউক্লিয়াস জীবকোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। এটি কোষে সংঘটিত বিপাকীয় কার্যাবলিসহ সকল ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য নিউক্লিয়াসকে সকল কাজের নিয়ন্ত্রক বলা হয়। নিউক্লিয়াসের চারদিকে বিদ্যমান নিউক্লিয়ার ঝিল্লি কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে নিউক্লিয়াসের অন্যান্য বস্তুকে পৃথক রাখে ও বিভিন্ন বস্তুর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরস্থ নিউক্লিওপ্লাজমে নিউক্লিক এসিড, প্রোটিন, উৎসেচক ও কতিপয় খনিজ লবণ থাকে। এগুলো কোষের বিভিন্ন জৈবনিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়া নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে গোলাকার নিউক্লিওলাস ক্রোমোসোমের সাথে লেগে থাকে। এরা RNA ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত। এরা নিউক্লিক এসিড মজুদ করে ও প্রোটিন সংশ্লেষণ করে। নিউক্লিয়াসে কুণ্ডলী পাকানো সূক্ষ্ম সুতার মতো ক্রোমাটিন জালিকা থাকে। কোষ বিভাজনের সময় এরা মোটা ও খাটো হয় তখন এদের আলাদা আলাদা ক্রোমোসোম হিসেবে দেখা যায়। এ ক্রোমোসোমে অবস্থিত জিনগুলো বংশগতির গুণাবলি বহন করে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে নিয়ে যায়। অর্থাৎ নিউক্লিয়াসে উপস্থিত ক্রোমোসোমই পুরুষানুক্রমে বংশগতীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
সুতরাং, এ থেকে বুঝা যায় যে, নিউক্লিয়াস কোষের সব জৈবনিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকরী অঙ্গাণু।
Question 14

[ রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ, 2025]
a.
নিউক্লিওটাইড এর সংজ্ঞা লেখ।
b.
রিভার্জ ট্রান্সক্রিপশন বলতে কী বুঝ?
c.
চিত্রসহ উদ্দীপকের প্রক্রিয়া-X সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত ‘X’ প্রক্রিয়াটি হলো DNA থেকে mRNA তৈরির প্রক্রিয়া অর্থাৎ ‘X’ দ্বারা ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়েছে। নিচে ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো-
DNA অণুতে গ্রথিত রাসায়নিক তথ্যগুলোকে RNA (mRNA) অণুতে কপি করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ট্রান্সক্রিপশন। (HIV-এর ক্ষেত্রে রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন ঘটে।) RNA তৈরির এ কার্যত প্রক্রিয়াটি DNA কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। সহজভাবে বলা যায়, DNA থেকে RNA উৎপাদন প্রক্রিয়ার নাম হলো ট্রান্সক্রিপশন RNA থেকে প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়া হলো ট্রান্সলেশন। ট্রান্সক্রিপশন নিউক্লিয়াসে সংঘটিত হয় এবং এতে সৃষ্ট mRNA নিউক্লিয়ার ছিদ্রের মাধ্যমে সাইট্রোপ্লাজমে প্রবেশ করে।
ডিএনএ অণুর দুটি স্ট্র্যান্ড রয়েছে, একটিকে সেন্স বা কোডিং স্ট্র্যান্ড এবং অন্যটিকে অ্যান্টি-সেন্স বা অ্যান্টি-কোডিং স্ট্র্যান্ড বলা হয়। যখন আমাদের শরীরের প্রোটিন তৈরির প্রয়োজন হয়, তখন আরএনএ পলিমারেজ II নামে একটি বিশেষ অণু mRNA নামক ডিএনএর একটি অনুলিপি তৈরি করতে সাহায্য করে। এই mRNA প্রায় ডিএনএর মতোই, তবে এটি T-এর পরিবর্তে U, একটি ভিন্ন অক্ষর ব্যবহার করে। এই অনুলিপি প্রক্রিয়া জেনেটিক তথ্য সঠিক রাখতে সাহায্য করে। অনুলিপিটি ক্যাপ সাইট নামে একটি বিশেষ স্থানে শুরু হয় এবং এটিকে রক্ষা করার জন্য এমআরএনএর শুরুতে 9 মিথাইল গুয়ানোসিন নামক একটি বিশেষ অণু যুক্ত করা হয়। এটি একটি টুপি পরা মত. তারপর mRNA এর একটি ছোট অংশ আছে যা লিডার সিকোয়েন্স বলে কিছু করে না। এর পরে, AUG নামে একটি বিশেষ কোড রয়েছে যা শরীরকে একটি প্রোটিন তৈরি করতে বলে। অবশেষে, একটি স্টপ কোডন নামে একটি বিশেষ কোড রয়েছে যা শরীরকে প্রোটিন তৈরি বন্ধ করতে বলে।

d.
উপযুক্ত যুক্তির সাথে প্রক্রিয়া-X এবং প্রক্রিয়া-Y এর মধ্যে তুলনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রক্রিয়া ‘X’ এবং প্রক্রিয়া ‘ হলো যথাক্রমে ট্রান্সক্রিপশন এবং ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়া। DNA থেকে mRNA তৈরির প্রক্রিয়াটি হলো ট্রান্সক্রিপশন এবং mRNA থেকে প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়াকে বলা হয় ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়া। নিচে ট্রান্সক্রিপশন এবং ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়ার মধ্যে তুলনা করা হলো-

Question 15
নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-

[ শহিদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ, ঢাকা, 2025]
a.
পুষ্পপুট কী?
b.
ক্রাঞ্জ অ্যানাটমি বলতে কী বুঝ?
c.
উদ্দীপকে উল্লেখিত ‘B’ চিত্রের গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র-‘B’ হলো DNA। DNA জীবে বহুসংখ্যায় উপস্থিত থেকে প্যাঁচানো সূত্র গঠন করে। নিচে DNA. অণুর ভৌত গঠন বর্ণনা করা হলো-
DNA এর ভৌত গঠন:
১. দুটি পলিনিউক্লিওটাইড সূত্র পরস্পরের সাথে লোহার সিঁড়ির মতো ডানদিকে প্যাঁচানো থেকে একটি জোড় কুন্ডলী বা ডাবল হেলিক্স গঠন করে। এ সিড়ির দুদিকের হাতল নির্মিত হয় ডি-অক্সিরাইবোজ সুগার ও ফসফেট এর পর্যায়ক্রমিক সংযুক্তির মাধ্যমে এবং ধাপগুলো দুটি নাইট্রোজেন বেস দিয়ে গঠিত।
২. একটি নিউক্লিওটাইডের সুগারের ৫ম কার্বন অণুর সাথে ফসফেট যুক্ত থাকলে অপর নিউক্লিওটাইডের সুগার ৩য় কার্বন অণুর সাথে ফসফেট যুক্ত হয়। নাইট্রোজেন বেসটি সব সময় সুগারের ১ম কার্বনের সাথে যুক্ত থাকে।
৩. সিঁড়ির মতো প্যাচানো সূত্রদুটি একটি কাল্পনিক মধ্য অক্ষকে ঘিরে থাকে। সূত্র দুটি পরস্পরের সামান্তরালে কিন্তু বিপরীতমুখী হয়ে অবস্থান করে। অর্থাৎ একটি সূত্র 5’3′ মুখী এবং অন্যটি 3’5′ কার্বনমুখী অবস্থান থাকে ।
৪. বেসগুলো হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয়। কাজেই সিঁড়ির বাইরের দিকে থাকে ফসফেট এবং ভেতরের দিকে নাইট্রোজেন বেস। একটি সূত্রের গুয়ানিন অপর সূত্রের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয় এবং এক সূত্রের অ্যাডেনিন অপর সূত্রের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে সংযুক্ত থাকে।
৫. হেলিক্সের ব্যাস 20Å । দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হতে পারে।
৬. একটি পূর্ণাঙ্গ, প্যাচ প্রতি 34Å দূরত্বে সম্পন্ন হয়। প্যাচটি হয় ডান থেকে বাঁদিকে। দশ নিউক্লিওাইড জোড়ের পর একেকটি প্যাচ সম্পন্ন হয়। প্রতি প্যাঁচে থাকে প্রায় ২৫টি হাইড্রোজেন বন্ড।
৭. বেস জোড়গুলো পরস্পর থেকে 3.4Å দূরত্বে অবস্থিত।
৮. DNA-র দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হতে পারে, যেমন- মানুষের দেহেকোষের DNA-র দৈর্ঘ্য 174cm এবং ব্যাকটেরিয়ার DNA-র দৈর্ঘ্য 1.4 mm। DNA-র আণবিক ওজন 10-10° হতে পারে।
d.
উদ্দীপকে উল্লেখিত ‘A’ চিত্রটি X ও Y এর উপস্থিতি অনুপস্থিতির উপর জীবের কোষীয় পার্থক্য রয়েছে- বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত ‘A’ চিত্রটি হলো নিউক্লিয়াস যার ‘X’ ও ‘Y’ হলো যথাক্রমে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এবং নিউক্লিওলাস। সাধারণত নিউক্লিয়াসের গঠন অর্থাৎ নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাসের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর ভিত্তি করে জীবের কোষকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ এবং ২. প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ। আদিকোষ ও প্রকৃতকোষের মধ্যে যথেষ্ট কোষীয় পার্থক্য বিদ্যমান। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. যেসব কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস অর্থাৎ নিউক্লিয়ার মেমব্রেন, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিওজালক থাকে না তাদেরকে আদিকোষ বলে। অন্যদিকে, যেসব কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস অর্থাৎ নিউক্লিয়ার মেমব্রেন, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিওজালক থাকে তাদেরকে প্রকৃতকোষ বলে।
২. আদিকোষে কোনো আবরণীবেষ্টিত অঙ্গাণু যেমন- মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বস্তু, লাইসোজোম ইত্যাদি থাকে না। কিন্তু প্রকৃতকোষে এসব অঙ্গাণু উপস্থিত।
৩. আদিকোষের নিউক্লিয়াসে শুধু একটিমাত্র ক্রোমাটিন বডি বা বৃত্তাকার এবং প্রান্তহীন DNA থাকে, কোনো ক্রোমোসোম গঠিত হয় না। অন্যদিকে প্রকৃতকোষের ক্রোমোসোম লম্বা, একাধিক ও দুই প্রান্তবিশিষ্ট এবং DNA সূত্রাকার।
৪. আদিকোষে অ্যামাইটোসিস বা দ্বি-বিভাজন কোষ বিভাজন দেখা যায় । কিন্তু প্রকৃতকোষে মাইটোসিস ও মায়োসিস কোষ বিভাজন দেখা যায় ৷
৫. ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া বা নীলাভ সবুজ শৈবাল, মাইকোপ্লাজমা ইত্যাদি আদিকোষের উদাহরণ । অন্যদিকে উন্নত সব ধরনের উদ্ভিদকোষ ও সকল প্রাণিকোষ প্রকৃতকোষের উদাহরণ।
Question 16
অঙ্গাণু ‘X’ আদিকোষী এবং প্রকৃতকোষী উভয় জীবেই বিদ্যমান।
অঙ্গাণু ‘Y’ কেবল সবুজ কোষে পাওয়া যায়।
[Dhaka , 2025]
a.
ক্রিস্টি কী?
b.
জেনেটিক কোডনসমূহ সার্বজনীন ব্যাখ্যা কর।
c.
উদ্দীপকে উল্লেখিত ‘Y’ অঙ্গাণুটির রাসায়নিক গঠন এবং শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত ‘Y’ কোষ অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট, যা কেবল সবুজ কোষে পাওয়া যায়। নিচে ক্লোরোপ্লাস্টের রাসায়নিক গঠন এবং শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি বর্ণনা করা হলো-
রাসায়নিক গঠন: রাসায়নিকভাবে ক্লোরোপ্লাস্ট প্রধানত কার্বোহাইড্রেট,লিপিড, প্রোটিন নিয়ে গঠিত। এছাড়া এতে ক্লোরোফিল থাকে। শুষ্ক ওজনের ১০-২০% লিপিড এবং ৩৫-৫৫% প্রোটিন। প্রোটিনের মধ্যে -৮০% হচ্ছে অদ্রবণীয় যা লিপিডের সঙ্গে একত্রে ঝিল্লি নির্মাণ করে, বাকি ২০% দ্রবণীয় এবং এনজাইম হিসেবে থাকে। ক্লোরোপ্লাস্টের রয়েছে ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা। ক্লোরোপ্লাস্টে ৭৫% ক্লোরোফিল-a ও ২৫% ক্লোরোফিল-৮ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে সামান্য ক্যারোটিনয়েড ও নিউক্লিক অ্যাসিড। একই ক্লোরোপ্লাস্টে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়, এদের মধ্যে স্টার্চ হচ্ছে সাধারণ কার্বোহাইড্রেট। এছাড়া এতে DNA, RNA, কিছু এনজাইম, খনিজ পদার্থ ও কো-এনজাইম উপস্থিত থাকে।
ক্লোরোপ্লাস্টের শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি :
১. ক্লোরোপ্লাস্ট শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। এজন্য একে কোষের রান্নাঘর বা Kitchen of cell বলে।
২. ক্লোরোপ্লাস্টের গ্রানা অঞ্চলে সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায় ও স্ট্রোমা অঞ্চলে অন্ধকার পর্যায়ের বিক্রিয়া হয়।
৩. এটি ফটোফসফোরাইলেশন প্রক্রিয়ায় সূর্যালোকের সাহায্যে ADP থেকে ATP উৎপন্ন করে।
৪. ক্লোরোপ্লাস্টে ফটোরেসপিরেশন বা আলোক শ্বসন ঘটে।
৫. ক্লোরোপ্লাস্টে অবস্থিত রাইবোসোম প্রোটিন সংশ্লেষণে অংশ নেয়।
d.
প্রোটিন তৈরিতে অঙ্গাণু ‘X’ এর ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের ‘X’ অঙ্গাণুটি হলো রাইবোজোম। এটি এমন একটি ক্ষুদ্র কোষীয় অঙ্গাণু যা সমস্ত জীবকোষে, যেমন- প্রাণী, উদ্ভিদ ও ব্যাকটেরিয়া কোষে পাওয়া যায়। রাইবোজোমের প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। রাইবোজোমকে কোষের প্রোটিন তৈরির কারখানা বলা হয়।
প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে, DNA থেকে mRNA তৈরি হয়, যা প্রোটিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জেনেটিক কোড বহন করে। এই mRNA নিউক্লিয়াস থেকে সাইটোপ্লাজমে আসে এবং রাইবোজোমের সাথে যুক্ত হয়। রাইবোজোম দুটি উপ-একক নিয়ে গঠিত। একটি ছোট উপ-একক এবং একটি বড় উপ-একক। mRNA এই ছোট উপ-এককের সাথে সংযুক্ত হয়।
এরপর, tRNA (ট্রান্সফার RNA) নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড বহন করে রাইবোজোমে নিয়ে আসে। রাইবোজোম mRNA-এর কোডন অনুযায়ী সঠিক অ্যামিনো অ্যাসিডগুলোকে একটার পর একটা যুক্ত করে একটি দীর্ঘ পলিপেপটাইড শৃঙ্খল তৈরি করে। এই পলিপেপটাইড শৃঙ্খলই পরে ভাঁজ হয়ে একটি কার্যকরী প্রোটিনে রূপান্তরিত হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ট্রান্সলেশন নামে পরিচিত। রাইবোজোম এই অ্যামিনো অ্যাসিডগুলোকে পেপটাইড বন্ধন দ্বারা যুক্ত করে প্রৈাটিন শৃঙ্খল তৈরি করে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, রাইবোজোম ছাড়া কোষের পক্ষে প্রোটিন তৈরি করা সম্ভব নয়, যা জীবনের মৌলিক কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য অত্যাবশ্যক।
Question 17
নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-

[Rajshahi , 2025]
a.
ক্রিস্টালাইন মাইসেলি কাকে বলে?
b.
স্পাইসিং বলতে কী বুঝায়?
c.
C এর গঠনের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মডেলের চিহ্নিত চিত্র আঁক।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের চিত্রে ‘C’ চিহ্নিত আবরণটি হলো কোষঝিল্লি। আর কোষঝিল্লির সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মডেল হলো ‘ফ্লুইড মোজাইক মডেল’। নিচে এ মডেলটির চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-

d.
উদ্দীপকে A ও B যে দুটি প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করছে তাদের মধ্যে কী কী পার্থক্য আছে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের চিত্রে ‘A’ ও ‘B’ দ্বারা যথাক্রমে ট্রান্সলেশন ও ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে। ট্রান্সলেশন কোষের সাইটোপ্লাজমে ঘটে, অন্যদিকে ট্রান্সক্রিপশন ইউক্যারিওটিক কোষের নিউক্লিয়াসে সংঘটিত হয়ে থাকে। নিচে এদের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-

Question 18
নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর-

[Jessore , 2025]
a.
সেন্ট্রাল ডগমা কী?
b.
আত্মঘাতী থলিকা বলতে কী বুঝ?
c.
উদ্দীপকের P প্রক্রিয়াটি বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের P প্রক্রিয়াটি হলো DNA অনুলিপন। একটি DNA থেকে দুটি নতুন DNA সৃষ্টির প্রক্রিয়া হলো DNA রেপ্লিকেশন বা অনুলিপন। নিচে DNA অনুলিপন প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো-
১. DNA ডাবল হেলিক্স-এর এক বা একাধিক বিন্দুতে প্রতিলিপন কাজের সূচনা ঘটে যাকে বলা হয় Origin of replication বা সংক্ষেপে ওরি (Ori) বা প্রতিলিপন সূচনা বিন্দু।
২. সূচনা বিন্দু থেকে ডাবল হেলিক্সের এক পাক. খুলতে শুরু করে এবং একই সাথে A = T, G = C নিউক্লিয়োটাইডের মধ্যকার হাইড্রোজেন বন্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর ফলে উক্ত স্থানে ডাবল হেলিক্স দুটি একক হেলিক্স-এ পরিণত হয়। হেলিকেজ এনজাইম ATP থেকে শক্তি নিয়ে হাইড্রোজেন বন্ড ভাঙ্গার কাজ করে।
৩. রেপ্লিকেশনের জন্য পৃথক হওয়া প্রতিটি স্ট্র্যান্ড নতুন স্ট্র্যান্ড তৈরির ছাঁচ (Template) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৪. প্রতিটি সূচনা বিন্দুতে দুটি করে রেপ্লিকেশন কমপ্লেক্স থাকে। ডাবল হেলিক্স এর জোড়া ভেঙ্গে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে রেপ্লিকেশন
কমপ্লেক্স দুটি একটি অপরটির বিপরীত দিকে চলতে শুরু করে।
৫. প্রাইমেজ এনজাইম পৃথককৃত একটি সূত্রকে ছাঁচ হিসেবে ব্যবহার করে তার একটি অংশ কপি করে একটি প্রাইমার তৈরি করে। দেয়। প্রাইমার হলো RNA-এর কয়েকটি ক্ষারকের সংক্ষিপ্ত সিকোয়েন্স।
৬. পৃথককৃত দুটি সূত্রের একটি তার প্রতিরূপ সৃষ্টি করে নিরবচ্ছিন্নভাবে ফর্ক-এর দিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই সূত্রকে বলা হয় অগ্রগামী সূত্র বা লিডিং সূত্র। অপর সূত্রটি নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রতিরূপ সৃষ্টি করতে পারে না। এই সূত্রকে বলা হয় ধীরগামী সূত্র বা ল্যাগিং সূত্র।
৭. লিডিং সূত্র নিরবচ্ছিন্নভাবে তার প্রতিরূপ সৃষ্টি করে অগ্রসর হওয়ার কারণে ল্যাগিং সূত্রে জোড়াবিহীন নিউক্লিওটাইডের সারি তৈরি হয়।
৮. DNA অণুর রেপ্লিকেশনে ল্যাগিং সূত্রের খন্ড খন্ড বিচ্ছিন্ন অংশকে ওকাজাকি (Okazaki) খণ্ড বলে।
৯. DNA অণুর বিচ্ছিন্নকৃত স্ট্র্যান্ড দুটির নতুন সৃষ্ট সম্পূরক স্ট্র্যান্ডের নাইট্রোজেন ক্ষারকগুলো সঠিকভাবে মিলে গেলে (A = T এবং C = G) এক্সোনিউক্লিয়েজ এনজাইম দ্বারা প্রাইমারগুলো অপসারিত হয় এবং এদের খালি স্থানগুলো সম্পূরক নিউক্লিওটাইড দ্বারা পূর্ণ হয়।
১০. রেপ্লিকেশনের শেষ পর্যায়ে DNA লাইগেজ এনজাইম স্ট্র্যান্ডের DNA সিকুয়েন্স প্রলম্বন রহিত করে দেয়। ফলে ছাঁচ স্ট্র্যান্ড ও সম্পূরক স্ট্র্যান্ডের পিউরিন ও পাইরিমিডিন ক্ষারকগুলো সুনির্দিষ্ট নিয়মে হাইড্রোজেন বন্ড দ্বারা সংযুক্ত হয়ে একটি DNA অণু গঠন করে।
১১. এভাবে অর্ধসংরক্ষণশীল রেপ্লিকেশনের মাধ্যমে একটি DNA অণুর দুটি স্ট্র্যান্ড দুটি ছাঁচরূপে ব্যবহৃত হয়ে দুটি নতুন DNA অণু সৃষ্টি করে এবং প্রতিলিপন সমাপ্ত হয়।
d.
উদ্দীপকে বর্ণিত একসূত্রক জৈব এসিডের ক্লোভার লিফ মডেল চিত্রসহ বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে বর্ণিত এক সূত্রক জৈব এসিডটি হলো RNA। RNA-এর এই গঠন সম্পর্কিত R. Holley প্রদত্ত মডেলটি লবঙ্গ পত্র মডেল বা ক্লোভার লিফ মডেল (Clover leaf model) নামে পরিচিত, যা tRNA-এর গঠন ব্যাখ্যায় সর্বাধিক স্বীকৃত।
এ মডেল অনুযায়ী tRNA-এর পলিনিউক্লিওটাইড, শৃঙ্খলটি বিভিন্ন ভাঁজে ৫টি বাহু হিসেবে অভিহিত হয়। ৩’ ও ৫’ প্রান্ত পাশাপাশি অবস্থান করে। ফলে একটি বাহু গঠিত হয়। এ বাহুতে কোনো ফাঁস থাকে না, শুধু কান্ড (stem) গঠন করে। অন্যান্য বাহুগুলোতে ফাঁসসহ কান্ড থাকে। কাণ্ডের পরিপূরক নাইট্রোজেন বেসগুলোর মধ্যে বন্ধনী সৃষ্টি হয়ে যুগল অবস্থা প্রাপ্ত হয়। ফাঁসের মধ্যে এরূপ বেসযুগল সৃষ্টি হয় না। নিচে বাহুগুলোর বিবরণ দেওয়া হলো-
ক. গ্রাহক বাহু: RNA একক তন্ত্রীর ৩’ ও ৫’ প্রান্ত পাশাপাশি অবস্থান পূর্বক গ্রাহক কাণ্ড সৃষ্টি করে। এতে ৭টি বেসযুগল (base pair) সহ ৩’ প্রান্তে ৪টি অতিরিক্ত অযুগ্ম নিউক্লিওটাইড আছে। ৩’ প্রান্তে অ্যামাইনো এসিড সংযুক্ত হয়।
খ. D বাহু: এটি দ্বিতীয় বাহু এবং ১৫ থেকে ১৮টি নিউক্লিওটাইড নিয়ে গঠিত। এর কাণ্ড ৩ থেকে ৪টি যুগ্মবেস এবং ফাঁসটি। ১ থেকে ৩টি অযুগ্ম বেস নিয়ে গঠিত। D বাহুর ফাঁসকে (Loop) ফাঁস-১ বা D ফাঁস বলে।
গ. অ্যান্টিকোডন বাহু: তৃতীয় বাহুকে অ্যান্টিকোডন বাহু বলে। অ্যান্টিকোডন বাহু ৫টি বেসযুগল এবং ফাঁস ৭টি অযুগ্ম নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত। ফাঁসটিকে ফাঁস-II বলে।
ঘ. পরিবর্তনশীল বাহু: এটি দু’ধরনের। একটি ফাঁসে ৪ থেকে ৫টি বেস আছে। এর কোনো কান্ড নেই। অন্যটিতে ১৩ থেকে ২১টি বেস আছে এবং কান্ড ও ফাঁস পৃথক করা যায়।
ঙ. T বাহু: T বাহুতে কান্ড ও ফাঁস উভয়ই আছে। কান্ড ৫টি বেসযুগল এবং ফাঁস ৭টি নিউক্লিওটাইড নিয়ে গঠিত। সকল tRNA-এর ফাঁসের উপর একটি রাইবোসোম স্বীকৃত স্থান আছে।
Question 19
নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-

[Comilla , 2025]
a.
জিন কাকে বলে?
b.
লাইসোসোমকে ‘আত্মঘাতী থলিকা’ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
c.
উদ্দীপকে উল্লেখিত ‘A’ যৌগটির ভৌত গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
এ উদ্দীপকের ‘A’ নির্দেশিত জৈব অণুটি হলো DNA। DNA হলো জীবের বংশগতির তথ্য বহনকারী অণু, যা জীবের গঠন ও কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। নিচে DNA অণুর ভৌত গঠন বর্ণনা করা হলো-
১. DNA অণু দ্বিসূত্রক, লোহার সিঁড়ির মতো ডান থেকে বাম দিকে প্যাঁচানো, যাকে বলা হয় ডাবল হেলিক্স।
২. সূত্র দুটি সমদূরত্বে পরস্পর বিপরীতমুখী (একটি ৫’ → ৩’ মুখী, অপরটি ৩’ → ৫’ মুখী) হয়ে অবস্থান করে।
৩. সিঁড়ির দু’দিকের হাতল তৈরি হয় ডিঅক্সিরাইবোজ স্যুগার (s) ও ফসফেটের (P) পর্যায়ক্রমিক সংযুক্তির মাধ্যমে।
৪. সূত্র দুটির মাঝখানের প্রতিটি ধাপ তৈরি হয় একজোড়া নাইট্রোজেন বেস (A = T বা G=C) দিয়ে।
৫. ফসফেট যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ স্যুগারের ৩য় ও ৫ম (3′ ও 5′ কার্বনের) কার্বনের সাথে এবং ক্ষারকগুলো যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ স্যুগারের ১ম কার্বনের (1′ কার্বনের) সাথে। কাজেই সূত্রকের বাইরের দিকে ফসফেট এবং ভিতরের দিকে ‘নাইট্রোজেন ক্ষারক থাকে।
৬. DNA অণুতে চার ধরনের নাইট্রোজেন ক্ষারক (এডিনিন (A), গুয়ানিন (G), থাইমিন (A) এবং সাইটোসিন (C)) থাকে। একটি সূত্রের এডিনিন (A) অপর সূত্রের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা (A = T/T = A) এবং একটি সূত্রের গুয়ানিন (G) অপর সূত্রের সাইটোসিনের (C) সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা (C= G/G = C) যুক্ত থাকে।
৭. ডাবল হেলিক্সের প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাঁচ বা ঘূর্ণনের দূরত্ব 34°A (= 3.4 nm)। প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাঁচে ১০ জোড়া মনোনিউক্লিওটাইড থাকে। প্রতিটি প্যাঁচে ২৫টি হাইড্রোজেন বন্ড থাকে।
৮. সিঁড়ির এক ধাপ থেকে অপর ধাপ অর্থাৎ বেস জোড়গুলো পরস্পর থেকে 3.4Å দূরত্বে অবস্থিত।
৯. হেলিক্সের ব্যাস 20Å (= 2 nm)। তবে প্রজাতিভেদে অণুর দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হয়।
১০. DNA-এর আনবিক ওজন ডাল্টন এর মধ্যে।
d.
উদ্দীপকের যৌগ ‘B’ যে ধরনের জৈব অণুর প্রতিনিধিত্ব করে, ‘X’ প্রক্রিয়া সংঘটনে তাদের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের যৌগ ‘B’ যে ধরনের জৈব অণুর প্রতিনিধিত্ব করে তা হলো RNA এবং ‘X’ প্রক্রিয়াটি হলো ট্রান্সলেশন। ট্রান্সলেশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে mRNA-এর নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্স অনুযায়ী অ্যামাইনো অ্যাসিড একটির পর একটি যুক্ত হয়ে একটি পলিপেপটাইড শৃঙ্খল তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াটি ঘটে রাইবোসোমে, যেখানে mRNA, tRNA ও রাইবোসোম যৌথভাবে কাজ করে। ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়ায় mRNA ও. tRNA এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়াটি রাইবোসোমে সংঘটিত হয়। রাইবোসোমের ছোট উপ-এককের সাথে mRNA সর্বপ্রথম যুক্ত হয়। রাইবোসোমে tRNA-র জন্য ২টি স্থান থাকে যথা- A সাইট এবং P সাইট। A সাইটে প্রথম সূচনা কোডসহ mRNA এবং tRNA যুক্ত হয়।
২. রাইবোসোমের মধ্যে mRNA-র 5′ প্রান্ত প্রথম অনুপ্রবেশ করে সেখানে প্রারম্ভিক কোডন AUG এর সাথে tRNA এর UAC অ্যান্টিকোডনের সংযুক্তি ঘটে।
৩. mRNA ক্রমান্বয়ে 5′ → 3′ রাইবোসোমের A সাইট হতে P সাইটে অতিক্রম করতে থাকে।
8. A সাইট ও P সাইট পাশাপাশি দুটি অ্যামিনো অ্যাসিড পলিপেপটাইড বন্ধনী দিয়ে সংযুক্ত হয়। অ্যামাইনো অ্যাসিডসহ tRNA, A সাইট হতে P সাইটে বন্ধনী গঠন করে পুনরায় tRNA মুক্ত হয়ে যায়।
৫. mRNA-র শেষে টারমিনেশন বা সমাপ্তি কোডন- UAA, UAG, UGA রাইবোসোমের A সাইটে পৌঁছালে নতুন tRNA হাজির না হয়ে একটি প্রোটিন রিলিজ ফ্যাক্টর যুক্ত হয়। যার ফলে পলিপেপটাইড চেইন P সাইট থেকে মুক্ত হয়।
৬. পলিপেপটাইড অণু ও mRNA রাইবোসোম ত্যাগ করে এবং রাইবোসোমের দুটি উপ-একক পৃথক হয়ে পড়ে।
এভাবে কয়েকটি ধারাবাহিক ধাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড, এনজাইমের সহায়তায় পলিপেপটাইড চেইন তথা প্রোটিন তৈরির ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়ায় tRNA ও mRNA গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Question 20
নিচের চিত্রটি লক্ষ কর:

[Chittagong , 2025]
a.
টনোপ্লাস্ট কাকে বলে?
b.
পিটপেয়ার বলতে কী বোঝায়?
c.
উদ্দীপকে ‘P’ চিহ্নিত অংশের সবচেয়ে গ্রহণীয় মডেলের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের ‘P’ চিহ্নিত আবরণটি হলো কোষঝিল্লি। আর কোষঝিল্লির সর্বজনগ্রাহ্য মডেল হলো ‘ফ্লুইড মোজাইক মডেল’। নিচে এ. মডেলটির চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-

d.
উদ্দীপকে ‘Q’ এবং ‘R’ নির্দেশিত অংশের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের ‘Q’ ও ‘R’ নির্দেশিত অংশ দুটি হচ্ছে যথাক্রমে ক্লোরোপ্লাস্ট ও মাইটোকন্ড্রিয়া। নিচে মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্ট এর পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-

Question 21

[Chittagong , 2025]
a.
জিন কী?
b.
লাইসোজোমকে আত্মঘাতী থলিকা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
c.
উদ্দীপকে ‘Q’ নির্দেশিত জৈব অণুর ভৌত গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের ‘Q’ নির্দেশিত জৈব অণুটি হলো DNA DNA হলো জীবের বংশগতির তথ্য বহনকারী অণু, যা জীবের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। নিচে DNA অণুর ভৌত গঠন বর্ণনা করা হলো-
১. DNA অণু দ্বিসূত্রক, লোহার সিঁড়ির মতো ডান থেকে বাম দিকে প্যাঁচানো, যাকে বলা হয় ডাবল হেলিক্স।
২. সূত্র দুটি সমদূরত্বে পরস্পর বিপরীতমুখী (একটি ৫’ → ৩’ মুখী, অপরটি ৩’ → ৫’ মুখী) হয়ে অবস্থান করে।
৩. সিঁড়ির দু’দিকের হাতল তৈরি হয় ডিঅক্সিরাইবোজ স্যুগার (s) ও ফসফেটের (P) পর্যায়ক্রমিক সংযুক্তির মাধ্যমে।
৪. সূত্র দুটির মাঝখানের প্রতিটি ধাপ তৈরি হয় একজোড়া নাইট্রোজেন বেস (A = T বা G = C) দিয়ে।
৫. ফসফেট যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ স্যুগারের ৩য় ও ৫ম (3′ ও 5′ কার্বনের) কার্বনের সাথে এবং ক্ষারকগুলো যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ স্যুগারের ১ম কার্বনের (1′ কার্বনের) সাথে। কাজেই সূত্রকের বাইরের দিকে ফসফেট এবং ভিতরের দিকে নাইট্রোজেন ক্ষারক থাকে।
৬. DNA অণুতে চার ধরনের নাইট্রোজেন ক্ষারক (এডিনিন (A), গুয়ানিন (G), থাইমিন (A) এবং সাইটোসিন (C)) থাকে। একটি সূত্রের এডিনিন (A) অপর সূত্রের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা (A = T / T = A) এবং একটি সূত্রের গুয়ানিন (G) অপর সূত্রের সাইটোসিনের (৫) সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা (C= G/G = C) যুক্ত থাকে।
৭. ডাবল হেলিক্সের প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাঁচ বা ঘূর্ণনের দূরত্ব 34°A (= 3.4 nm)। প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাঁচে ১০ জোড়া মনোনিউক্লিওটাইড থাকে। প্রতিটি প্যাঁচে ২৫টি হাইড্রোজেন বন্ড থাকে।
৮. সিঁড়ির এক ধাপ থেকে অপর ধাপ অর্থাৎ বেস জোড়গুলো পরস্পর থেকে 3.4Å দূরত্বে অবস্থিত।
৯. হেলিক্সের ব্যাস 20Å (= 2 nm)। তবে প্রজাতিভেদে অণুর দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হয়।
১০. DNA-এর আনবিক ওজন ডাল্টন এর মধ্যে।
d.
উদ্দীপকের প্রক্রিয়া ‘X’ ও ‘X’ এর মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের প্রক্রিয়া ‘X’ ও ‘Y’ দ্বারা যথাক্রমে ট্রান্সক্রিপশন ও ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে। নিচে এদের মধ্যকার তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-

Question 22
শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের ব্লাকবোর্ডের একটি কোষের সূক্ষ্মগঠনের চিত্র আঁকলেন এবং কোষ অঙ্গাণু A ও B চিহ্নিত করলেন। W. Schimper ১৮৮৩ সালে কোষ অঙ্গাণু A সর্বপ্রথম লক্ষ করেন এবং এর নামকরণ করেন। Albert Von Kolliker ১৮৫০ সালে কোষ অঙ্গাণু B লক্ষ করেন এবং ১৮৯৮ সালে Carl Benda এর নামকরণ করেন।
[Sylhet , 2025]
a.
কোষীয় কঙ্কাল কী?
b.
জেনেটিক কোড বলতে কী বুঝ?
c.
উদ্দীপকের কোষের চিহ্নিত চিত্র আঁক।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে শিক্ষক কর্তৃক অঙ্কিত কোষটি একটি উদ্ভিদকোষ এবং চিহ্নিত অঙ্গাণু A ও B যথাক্রমে ক্লোরোপ্লাস্ট ও মাইটোকন্ড্রিয়া। কারণ, ক্লোরোপ্লাস্ট শুধু উদ্ভিদকোষে উপস্থিত থাকে। নিচে একটি উদ্ভিদকোষের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-

d.
উদ্দীপকের কোষ অঙ্গাণু দুইটির গঠনের তুলনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত A ও B কোষীয় অঙ্গাণু দুটি যথাক্রমে ক্লোরোপ্লাস্ট ও মাইটোকন্ড্রিয়া। নিচে মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্ট এর পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-

Question 23
নমুনা ‘ক’ : বৈষম্যভেদ্য একটি সজীব ঝিল্লি- যা কোষ অভ্যন্তরে বিভিন্ন বস্তুর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
নমুনা ‘খ’ : একটি অঙ্গাণু যা হাইড্রোলাইটিক এনজাইমের একস্তরী ঝিল্লি দ্বারা তৈরি এবং এটি আন্তঃকোষীয় পরিপাকে সাহায্য করে।
[Barisal , 2025]
a.
ক্রিস্টি কী?
b.
কেন কোষ প্রাচীর উদ্ভিদের বিশেষায়িত অংশ?
c.
উদ্দীপকের নমুনা ‘ক’ কে আইসবার্গের সাথে তুলনা করা হয়-যুক্তি দ্বারা ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের বর্ণিত নমুনা ‘ক’ হলো কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেন। কোষঝিল্লির গঠনের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মডেল হলো ফ্লুইড মোজাইক মডেল। বিজ্ঞানী Singer ও Nicolson ১৯৭২ সালে প্লাজমামেমব্রেনের ফ্লুইড মোজাইক মডেলটি প্রবর্তন করেন। নিচে মডেলটি বর্ণনা করা হলো-
১. ফসফোলিপিড বাইলেয়ার: প্লাজমামেমব্রেন দুটি স্তরে বিন্যস্ত থাকে। প্রত্যেকটি স্তর ফসফোলিপিড অণু দিয়ে গঠিত। প্রতিটি ফসফোলিপিডে এক অণু গ্লিসারল থাকে এবং গ্লিসারলের সাথে দুটি নন-পোলার ফ্যাটি অ্যাসিড লেজ এবং একটি পোলার ফসফেট মাথা বা হেড থাকে।
২. মেমব্রেন প্রোটিন: কোষঝিল্লিতে তিন রকমের প্রোটিন দেখা। যায়। যথা- i. পেরিফেরাল প্রোটিন, ii. লিপিড সম্পৃক্ত প্রোটিন এবং iii. ইন্টিগ্রাল প্রোটিন।
৩. গ্লাইকোক্যালিক্স: ফসফোলিপিড ও প্রোটিন অণুর সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খল যথাক্রমে গ্লাইকোলিপিড ও গ্লাইকোপ্রোটিন গঠন করে। এ দুটোকে মিলিতভাবে গ্লাইকোক্যালিক্স বলা হয়।
৪. কোলেস্টেরল: ফসফোলিপিড অণুর ফাঁকে ফাঁকে কোলেস্টেরল অণু অবস্থান করে।
প্রোটিন অণুগুলো ফসফোলিপিড স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে ভেসে থাকে, ফলে এদের মোজাইকের মতো দেখা যায়। এসব বৈশিষ্ট্যের কথা বিবেচনা করে প্লাজমামেমব্রেনের এই মডেলটির নামকরণ হয়েছে ফ্লুইড মোজাইক মডেল। বিজ্ঞানী সিঙ্গার ও নিকলসন লিপিড অণুর সাথে প্রোটিনের বিন্যাসকে হিমশৈলের সাথে তুলনা করেন বলে এই মডেলকে আইসবার্গ মডেলও বলা হয়ে থাকে।
d.
উদ্দীপকে উল্লেখিত নমুনা ‘খ’ এর জৈবিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে বর্ণিত নমুনা ‘খ’ এর অঙ্গাণুটি হলো লাইসোজোম, যা হাইড্রোলাইটিক এনজাইমের একস্তরী ঝিল্লি দ্বারা তৈরি। নিচে লাইসোজোমের জৈবিক গুরুত্ব উপস্থাপন করা হলো-
১. লাইসোসোম বিভিন্ন প্রকার এনজাইমের মাধ্যমে কোষস্থ উপাদানকে ধ্বংস করতে পারে।
২. লাইসোসোম এনজাইমের সাহায্যে ফ্যাগোসাইটোসিস ও পিনোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় অণুপ্রবেশিত জীবাণু ও খাদ্য উপাদানকে আত্তীকরণ করে।
৩. কোষে খাদ্যাভাব দেখা দিলে বা কোষের ক্ষতি হলে লাইসোসোম কোষস্থ অঙ্গাণুগুলোকে বিগলিত করে ধ্বংস করে। একে অটোফ্যাগি বা স্ব-গ্রাস বলে।
৪. লাইসোসোমের উৎসেচকগুলো যখন কোষের মধ্যে গৃহীত খাদ্যবস্তু, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিকে জারিত করে, তখন সেই প্রক্রিয়াকে হেটারোফ্যাগি বলে।
৫. লাইসোসোম প্রতিকূল অবস্থায় পতিত হলে এটি লাইসোসোমসহ সমস্ত কোষ অঙ্গাণু এমনকি সম্পূর্ণ কোষকে ধ্বংস করে। এভাবে সমস্ত কোষটি পরিপাক হয়ে যেতে পারে। এ প্রক্রিয়াকে অটোলাইসিস বলে।
৬. লাইসোসোম কোষের অকেজো অঙ্গাণুগুলোকে অপসারণ করে।
৭. অন্তঃকোষীয় স্কাভেনজিং-এর ফলে সৃষ্ট মেটাবোলাইটগুলো নতুন অঙ্গাণু সৃষ্টি করে।
৮. লাইসোসোম মাইটোসিস কোষবিভাজনে উদ্দীপনা যোগায়।
Question 24
নিচের চিত্রটি লক্ষ কর :

[Barisal , 2025]
a.
স্পাইসিং কী?
b.
রাইবোসোমকে কেন প্রোটিন ফ্যাক্টরী বলা হয়?
c.
উদ্দীপকের ‘C’ অণুটির ভৌত গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের ‘C’ অণুটি হলো DNA। DNA জীবে বহু সংখ্যায় উপস্থিত থেকে প্যাঁচানো সূত্র গঠন করে। নিচে DNA অণুর ভৌত গঠন বর্ণনা করা হলো-
১. DNA অণু দ্বিসূত্রক, লোহার সিঁড়ির মতো ডান থেকে বাম দিকে প্যাঁচানো, যাকে বলা হয় ডাবল হেলিক্স।
২. সূত্র দুটি সমদূরত্বে পরস্পর বিপরীতমুখী (একটি ৫’ → ৩’ মুখী, অপরটি ৩’ → ৫’ মুখী) হয়ে অবস্থান করে।
৩. সিঁড়ির দু’দিকের হাতল তৈরি হয় ডিঅক্সিরাইবোজ স্যুগার (s) ও ফসফেটের (P) পর্যায়ক্রমিক সংযুক্তির মাধ্যমে।
৪. সূত্র দুটির মাঝখানের প্রতিটি ধাপ তৈরি হয় একজোড়া নাইট্রোজেন বেস (A = T বা G = C) দিয়ে।
৫. ফসফেট যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ স্যুগারের ৩য় ও ৫ম (3′ ও 5′ কার্বনের) কার্বনের সাথে এবং ক্ষারকগুলো যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ স্যুগারের ১ম কার্বনের (1′ কার্বনের) সাথে। কাজেই সূত্রকের বাইরের দিকে ফসফেট এবং ভিতরের দিকে নাইট্রোজেন ক্ষারক থাকে।
৬. DNA অণুতে চার ধরনের নাইট্রোজেন ক্ষারক (এডিনিন (A), গুয়ানিন (G), থাইমিন (A) এবং সাইটোসিন (C) থাকে। একটি সূত্রের এডিনিন (A) অপর সূত্রের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা (A = T/T = A) এবং একটি সূত্রের গুয়ানিন (G) অপর সূত্রের সাইটোসিনের (C) সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা (C= G/G = C) যুক্ত থাকে।
৭. ডাবল হেলিক্সের প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাঁচ বা ঘূর্ণনের দূরত্ব 34°A (= 3.4 nm)। প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাঁচে ১০ জোড়া মনোনিউক্লিওটাইড থাকে। প্রতিটি প্যাঁচে ২৫টি হাইড্রোজেন বন্ড থাকে।
৮. সিঁড়ির এক ধাপ থেকে অপর ধাপ অর্থাৎ বেস জোড়গুলো পরস্পর থেকে 3.4Å দূরত্বে অবস্থিত।
৯. হেলিক্সের ব্যাস 20Å (= 2 nm)। তবে প্রজাতিভেদে অণুর দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হয়।
১০. DNA-এর আনবিক ওজন ডাল্টন এর মধ্যে।
d.
উদ্দীপকে ‘C’ থেকে ‘D’ তৈরির চূড়ান্ত পরিণতি বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের চিত্রে C হলো DNA এবং D হলো mRNA | DNA থেকে mRNA তৈরির প্রক্রিয়াটি হলো ট্রান্সক্রিপশন। mRNA হতে ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়ায় জৈব অণু প্রোটিন তৈরি হয় যা জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
ক্রোমোসোমে থাকা DNA-তে জিন সজ্জিত থাকে, যা জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। জিনের কার্যক্রমের প্রথম ধাপ হলো DNA থেকে mRNA তৈরি, যা নিউক্লিয়াস থেকে রাইবোসোমে যায়। সেখানে mRNA-এর তথ্য অনুযায়ী tRNA-এর সহায়তায় নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড যুক্ত হয়ে পলিপেপটাইড চেইন (প্রোটিন) তৈরি হয়, যা জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
mRNA → প্রোটিন → বৈশিষ্ট্য
বংশগতীয় বস্তুর প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোসোম। এ ক্রোমোসোমে রয়েছে DNA যেখানে জিনগুলো সজ্জিত থাকে। জিনই হচ্ছে জীবের সব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ধারক যা পর্যায়ক্রমে বাহ্যিক চরিত্রসমূহ ফুটিয়ে তোলে। এক্ষেত্রে জিনের মাধ্যমে জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশের প্রথম ধাপ হলো DNA অণু ব্যবহার করে RNA অণু তৈরি করা।
RNA অণু বলতে mRNA-কে বুঝায়। mRNA অণু DNA থেকে আলাদা হয়ে নিউক্লিয়াস থেকে রাইবোসোমে আসে। সেখান থেকে mRNA কোড করা তথ্য ব্যবহার করে tRNA-র সহায়তায় নির্দিষ্ট ‘সিকুয়েন্স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড সংযুক্ত করে পলিপেপটাইড চেইন তৈরি করে। এই চেইন তথা প্রোটিন জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
Question 25
এক ধরনের কোষীয় অঙ্গাণু বা আত্মঘাতী থলিকা নামে পরিচিত কিন্তু প্রয়োজনীয় অঙ্গাণু। আর এক ধরনের কোষীয় অঙ্গাণু থাকে, যাকে সার্বজনীন অঙ্গাণু বলে এবং যার কোনো আবরণী নেই।
[Dinajpur , 2025]
a.
টনোপ্লাস্ট কী?
b.
কোষীয় কঙ্কাল কীভাবে গঠিত হয়?
c.
উদ্দীপকের প্রথম অংশে উল্লেখিত কোষীয় অঙ্গাণুটির গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের প্রথম অংশে উল্লেখিত আত্মঘাতী থলিকা হলো লাইসোসোম। লাইসোসোমের গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো-
লাইসোসোম সাধারণত বৃত্তাকার (গোলাকার), এদের ব্যাস সাধারণত ০.২ – ০.৮ । প্রতিটি লাইসোসোম একটি দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী দ্বারা আবদ্ধ থাকে। এদের ভ্যাকুওল ঘন তরলে পূর্ণ থাকে। কৃতক বস্তু লাইসোসোমের ঝিল্লিকে স্থিতি দান করে যার ফলে লাইসোসোম থেকে এনজাইমসমূহ বের হয়ে আসতে পারে না। এদের বলা হয় লাইসোসোম Stabilizer। কতক বস্তু লাইসোসোমের ঝিল্লি বিদীর্ণ হতে সাহায্য করে যার ফলে এর এনজাইমসমূহ বের হয়ে এসে অটোলাইসিস ঘটায়। এদেরকে বলা হয় Labilizer।
রাসায়নিক গঠন: লাইসোসোমের আবরণী ঝিল্লি লিপো-প্রোটিন নির্মিত। ঝিল্লি দ্বারা আবদ্ধ অবস্থায় এতে প্রায় ৪০ ৫০ ধরনের এনজাইম থাকে। উল্লেখযোগ্য এনজাইমগুলো হলো DNAase, RNAase, অ্যাসিড লাইপেজ, এস্টারেজ, স্যাকারেজ, লাইসোজাইম, ফসফোলাইপেজ ইত্যাদি।
d.
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে উল্লেখিত অঙ্গাণুটির ক্ষেত্রে যে মন্তব্য করা হয়েছে তার তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে উল্লেখিত সার্বজনীন অঙ্গাণু, যার কোনো আবরণী নেই, সেটি হলো রাইবোজোম। রাইবোজোম সম্পর্কে মন্তব্যটির তাৎপর্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
রাইবোসোম হলো একটি ঝিল্লিবিহীন, গোলাকার বা ডিম্বাকার কোষীয় অঙ্গাণু, যা প্রোটিন সংশ্লেষণে অংশ নেয়। এটি সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায়, অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, নিউক্লিয়ার মেমব্রেন কিংবা মাইটোকন্ড্রিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থান করতে পারে। অনেক রাইবোসোম mRNA সূত্রে যুক্ত হয়ে পলিরাইবোসোম বা পলিসোম গঠন করে। রাইবোসোম প্রধানত rRNA ও. প্রোটিন দিয়ে গঠিত এবং দুটি অসম সাব-ইউনিট নিয়ে তৈরি। কোষভেদে রাইবোসোম দুই ধরনের হয়। যথা- ৭০ ১ হচ্ছে আদিকোষে (যার উপ-একক হলো ৫০ ৪ ও ৩০ ৪) এবং ৮০ ১ হলো প্রকৃতকোষে (যার উপ-একক হলো ৬০১ ও ৪০১)। রাইবোসোমে RNA ও প্রোটিন ছাড়াও সামান্য পরিমাণে Mg, Ca ও Mn আয়ন থাকে।
রাইবোজোমকে সার্বজনীন অঙ্গাণু বলার মূল কারণ হলো এটি প্রোক্যারিওটিক এবং ইউক্যারিওটিক উভয় ধরনের কোষে, অর্থাৎ সকল সজীব কোষে উপস্থিত থাকে। রাইবোজোমের প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণ। প্রোটিন জীবনের সকল জৈবিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। যেহেতু সকল জীবকোষের প্রোটিন তৈরির প্রয়োজন হয়, তাই রাইবোজোম সকল কোষে বিদ্যমান।
অতএব, রাইবোসোম একটি সার্বজনীন ও অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গাণু, যা জীবকোষে প্রোটিন সংশ্লেষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Question 26
নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর:
P: উদ্ভিদকোষের সবচেয়ে বাইরের আবরণ।
Q: প্রাণিকোষের বহিরাবরণ।
[Mymensingh , 2025]
a.
অক্সিসোম কী?
b.
ফটোসিনথেটিক ইউনিট বলতে কী বোঝায়?
c.
P-এর ভৌত গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের ‘P’ আবরণটি হলো কোষপ্রাচীর। কোষপ্রাচীর উদ্ভিদকোষের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। নিচে কোষপ্রাচীরের ভৌত গঠন বর্ণনা করা হলো-
১. মধ্যপর্দা: মাইটোটিক কোষ বিভাজনের টেলোফেজ পর্যায়ে এর সূচনা ঘটে। সাইটোপ্লাজম থেকে আসা ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট এবং গলগি বডি থেকে আসা পেকটিন জাতীয় ভেসিকলস্ মিলিতভাবে মধ্য পর্দা সৃষ্টি করে। পেকটিক অ্যাসিড বেশি থাকার কারণে এটি প্রথম দিকে জেলির মতো থাকে। কোষ প্রাচীরের সে স্তরটি দুটি পাশাপাশি কোষের মধ্যবর্তী সাধারণ পর্দা হিসেবে অবস্থান করে তার নাম মধ্যপর্দা। এটি বিগলিত হয়ে গেলে দুটি কোষ পৃথক হয়ে যায়।
২. প্রাথমিক প্রাচীর: এটি দ্বিতীয় স্তর। মধ্যপর্দার ওপর সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ এবং গ্লাইকোপ্রোটিন ইত্যাদি জমা হয়ে একটি পাতলা স্তর তৈরি করে। এটিই প্রাথমিক প্রাচীর। মধ্য পর্দার অন্তঃতলে এটি তৈরি হয়।
৩. সেকেন্ডারি প্রাচীর: কোনো কোনো কোষে প্রাথমিক প্রাচীরের ওপর আর একটি স্তর তৈরি হয়। এটি সাধারণত কোষের বৃদ্ধি পূর্ণাঙ্গ হবার পর ঘটে থাকে। এ স্তরটি অধিকতর পুরু (৫-১০ µm)। এতে সাধারণত সেলুলোজ এবং লিগনিন জমা হয়। এটি সেকেন্ডারি প্রাচীর। ভাজক কোষে এবং অধিক মাত্রায় বিপাকীয় অন্যান্য কোষে সেকেন্ডারি প্রাচীর তৈরি হয় না।
d.
Q-এর গঠন সম্পর্কে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মডেলটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উউদ্দীপকে উল্লেখিত Q হচ্ছে প্রাণিকোষের বহিরাবরণ বা কোষঝিল্লি। কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেনের গঠনের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মডেল হলো ফ্লুইড মোজাইক মডেল। বিজ্ঞানী Singer ও Nicolson ১৯৭২ সালে প্লাজমামেমব্রেনের ফ্লুইড মোজাইক মডেলটি প্রবর্তন করেন। নিচে মডেলটি বিশ্লেষণ করা হলো-
১. ফসফোলিপিড বাইলেয়ার: প্লাজমামেমব্রেন দুটি স্তরে বিন্যস্ত থাকে। প্রত্যেকটি স্তর ফসফোলিপিড অণু দিয়ে গঠিত। প্রতিটি ফসফোলিপিডে এক অণু গ্লিসারল থাকে এবং গ্লিসারলের সাথে দুটি নন-পোলার ফ্যাটি অ্যাসিড লেজ এবং একটি পোলার ফসফেট মাথা বা হেড থাকে।
২. মেমব্রেন প্রোটিন: কোষঝিল্লিতে তিন রকমের প্রোটিন দেখা যায়।
i. পেরিফেরাল প্রোটিন: এগুলো ফসফোলিপিড স্তরের বাইরে ও ভেতরের তলে অর্থাৎ ঝিল্লির সার্ফেসে অবস্থান করে।
ii. লিপিড সম্পৃক্ত প্রোটিন: এগুলো ফসফোলিপিড স্তরে আংশিক বা সম্পূর্ণ প্রবিষ্ট থাকে।
iii. ইন্টিগ্রাল প্রোটিন: এগুলো ফসফোলিপিডের দু’স্তর জুড়েই অবস্থান করে। এ প্রোটিনগুলো ছিদ্রযুক্ত এবং এই ছিদ্রপথে অণু বা আয়নের চলাচল সম্ভব হয়।
৩. গ্লাইকোক্যালিক্স: অনেক ফসফোলিপিড অণু এবং অধিকাংশ প্রোটিন অণুর সঙ্গে ক্ষুদ্র কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খল যুক্ত থাকে। তখন এগুলোকে যথাক্রমে গ্লাইকোলিপিড ও গ্লাইকোপ্রোটিন বলে। এ দুটোকে মিলিতভাবে গ্লাইকোক্যালিক্স বলা হয়।
৪. কোলেস্টেরল: ফসফোলিপিড অণুর ফাঁকে ফাঁকে কোলেস্টেরল অণু অবস্থান করে। ফসফোলিপিড অণুগুলো সবসময় সচল থাকে, কাঁপে, পরস্পরের সাথে ঠোকাঠোকি করে লাফিয়ে উঠে এবং স্তরের মধ্যেই স্থান পরিবর্তন করে।
প্লাজমামেমব্রেনের মধ্যে উপাদানগুলোর এই স্থানান্তরকে ঘূর্ণন বা Flip-Flop movement বলা হয়ে থাকে। প্রোটিন অণুগুলো ফসফোলিপিডের মধ্যে ভেসে থাকে ফলে এদের মোজাইকের মতো দেখা যায়। এসব বৈশিষ্ট্যের কথা বিবেচনা করে প্লাজমামেমব্রেনের – এই মডেলটির নামকরণ হয়েছে ফ্লুইড মোজাইক মডেল।
Question 27
নিচের চিত্রটি লক্ষ কর:

[Mymensingh , 2025]
a.
অ্যান্টিকোডন কী?
b.
অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম বলতে কী বোঝায়?
c.
উদ্দীপকের ‘P’ প্রক্রিয়াটি বর্ণনা কর
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত ‘P’ প্রক্রিয়াটি হলো DNA থেকে mRNA তৈরির প্রক্রিয়া অর্থাৎ ট্রান্সক্রিপশন। ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াকে প্রধানত ৩টি ধাপে ভাগ করা যায়। যথা-
১. সূচনা বা প্রারম্ভিক ধাপ: এ ধাপে DNA অণুর প্রোমোটার নামক বিশেষ বেস সিকোয়েন্স অংশে ট্রান্সক্রিপশন ফ্যাক্টর ও RNA-পলিমারেজ এনজাইম যুক্ত হয়। প্রোমোটারই RNA-পলিমারেজকে নির্দেশ দেয় DNA অণুর কোন সূত্রের ট্রান্সক্রিপশন ঘটবে এবং ট্রান্সক্রিপশন কোথা থেকে শুরু হবে। প্রোমোটারে সংযুক্ত হওয়ার পর প্রথমে RNA-পলিমারেজ DNA অণুর অংশ বিশেষের পাক খুলে দেয় এবং হাইড্রোজেন বন্ড ভেঙে সূত্র দুটিকে আলাদা করে ফেলে।
২. সূত্র বর্ধিতকরণ বা দীর্ঘায়ন ধাপ: RNA পলিমারেজ-II এনজাইম ATP, GTP, UTP ও CTP থেকে টেমপ্লেটের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নিউক্লিওটাইড যুক্ত করতে থাকে। এভাবে সূচনা স্থান থেকে mRNA-এর সূত্র বর্ধিতকরণ চলতে থাকে (5′ 3′ অভিমুখে) এবং RNA-পলিমারেজ অগ্রসর হতে থাকে। RNA-পলিমারেজ অগ্রসর হওয়ার পর DNA অণুর পাক খুলে যাওয়া অংশে আবার পাক তৈরি হয়।
৩. সমাপ্তিকরণ বা সমাপন ধাপ: RNA সূত্র বর্ধিতকরণ শেষে RNA-পলিমারেজ সমাপ্তি স্থানে পৌঁছালে এনজাইমটি মুক্ত হয়ে যায় এবং ট্রান্সক্রিপশনের সমাপ্তি ঘটে।
d.
K ও L এর মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে K দ্বারা দ্বিসূত্রক DNA এবং L দ্বারা একসূত্রক mRNA বা RNA কে নির্দেশ করা হয়েছে। DNA এবং RNA অণুর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। নিচে এদের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-

Question 28
নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর-
[Dhaka , 2025]
a.
পিউরিন কী?
b.
DNA প্রুফ রিডিং বলতে কী বুঝ?
c.
উদ্দীপকের ‘M’ প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
সই উদ্দীপকের ‘M’ প্রক্রিয়াটি হলো DNA থেকে mRNA তৈরির প্রক্রিয়া অর্থাৎ, ‘M’ দ্বারা ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়েছে। ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াকে প্রধানত ৩টি ধাপে ভাগ করা যায়। যথা-
১. সূচনা বা প্রারম্ভিক ধাপ: এ ধাপে DNA অণুর প্রোমোটার নামক বিশেষ বেস সিকোয়েন্স অংশে ট্রান্সক্রিপশন ফ্যাক্টর ও RNA-পলিমারেজ এনজাইম যুক্ত হয়। প্রোমোটারই RNA-পলিমারেজকে নির্দেশ দেয় DNA অণুর কোন সূত্রের ট্রান্সক্রিপশন ঘটবে এবং ট্রান্সক্রিপশন কোথা থেকে শুরু হবে। প্রোমোটারে সংযুক্ত হওয়ার পর প্রথমে RNA-পলিমারেজ DNA অণুর অংশ বিশেষের পাক খুলে দেয় এবং হাইড্রোজেন বন্ড ভেঙে সূত্র দুটিকে আলাদা করে ফেলে।
২. সূত্র বর্ধিতকরণ বা দীর্ঘায়ন ধাপ: RNA পলিমারেজ-II এনজাইম ATP, GTP, UTP ও CTP থেকে টেমপ্লেটের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নিউক্লিওটাইড যুক্ত করতে থাকে। এভাবে সূচনা স্থান থেকে mRNA-এর সূত্র বর্ধিতকরণ চলতে থাকে (5′ → 3′ অভিমুখে) এবং RNA-পলিমারেজ অগ্রসর হতে থাকে। RNA-পলিমারেজ অগ্রসর হওয়ার পর DNA অণুর পাক খুলে যাওয়া অংশে আবার পাক তৈরি হয়।
৩. সমাপ্তিকরণ বা সমাপন ধাপ: RNA সূত্র বর্ধিতকরণ শেষে RNA-পলিমারেজ সমাপ্তি স্থানে পৌছালে এনজাইমটি মুক্ত হয়ে যায় এবং ট্রান্সক্রিপশনের সমাপ্তি ঘটে।
d.
উদ্দীপকের ‘M’ ও ‘N’ প্রক্রিয়ার মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের ‘M’ ও ‘N’ প্রক্রিয়া দ্বারা যথাক্রমে ট্রান্সক্রিপশন ও ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে। নিচে এদের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা উপস্থাপন করা হলো-

Question 29
জীবকোষে P ও Q নামে দুটি আবরনী রয়েছে। যাদের P অংশটি মৃত এবং Q অংশটি সজীব। P অংশটি শুধু উদ্ভিদে থাকে ও Q অংশটি উদ্ভিদ ও প্রাণি উভয় জীবেই থাকে।
[ সোনার বাংলা কলেজ, 2024]
a.
r DNA কি?
b.
রিভার্স ট্রান্সক্রিপশান বলতে কি বুঝ?
c.
উদ্দীপকের P এর সুক্ষগঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
প্রতিটি উদ্ভিদকোষ একটি অপেক্ষাকৃত শক্ত, জড় ও মৃত আবরণ দিয়ে আবৃত থাকে। এ জড়, শক্ত ও মৃত আবরণকে কোষ প্রাচীর বলে। উদ্দীপকের P হলো কোষপ্রাচীর।
কোষপ্রাচীরের সুক্ষ্ম গঠন উদ্ভিদকোষ প্রাচীরের প্রধান উপাদান হলো সেলুলোজ। সেলুলোজ হলো একটি পলিস্যাকারাইড যা ৬-কার্বনবিশিষ্ট B-ID গুকোজের অসংখ্য অণু নিয়ে গঠিত। ১ হাজার থেকে ৩ হাজার সেলুলোজ অণু নিয়ে একটি সেলুলোজ চেইন গঠিত হয়। প্রায় ১০০টি সেলুলোজ চেইন মিলিতভাবে একটি ক্রিস্টালাইন মাইসেলি গঠন করে। মাইসেলিকে কোষ প্রাচীরের ক্ষুদ্রতম গাঠনিক একক ধরা হয়। প্রায় ২০টি মাইসেলি মিলে একটি মাইক্রোফাইব্রিল গঠন করে এবং ২৫০টি মাইক্রোফাইব্রিল মিলিতভাবে একটি ম্যাক্রোফাইব্রিল গঠন করে। অনেকগুলো ম্যাক্রোফাইব্রিল মিলিতভাবে একটি তন্তু গঠন করে।
সেলুলোজ
|
সেলুলোজ চেইন
|
ক্রিস্টালাইন মাইসেলি
|
মাইক্রোফাইব্রিল
|
ম্যাক্রোফাইব্রিল
|
তন্তু
d.
উদ্দীপকের Q অংশটির একটি গ্রহণযোগ্য মডেলের বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের Q হলো প্লাজমামেব্রেন। বিভিন্ন মডেলের মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণীয় মডেল হলো ফ্লুইড-মোজাইক মডেল। এ মডেল অনুযায়ী কোষঝিল্লি দ্বিস্তরবিশিষ্ট। প্রতিটি স্তর ফসফোলিপিড দিয়ে গঠিত। উভয় স্তরের হাইড্রোকার্বন লেজটি সামনাসামনি থাকে এবং পানিগ্রাহী মেরু অংশ বিপরীত দিকে থাকে। ঝিল্লির প্রোটিন অণুগুলো ফসফোলিপিড স্তরে এখানে সেখানে বিক্ষিপ্তাবস্থায় থাকে। কার্বোহাইড্রেট এবং অন্যান্য উপাদানও ফসফোলিপিড মাধ্যমে এখানে সেখানে মিশে থাকে।
ফ্লুইড-মোজাইক মডেল অনুযায়ী কোষঝিল্লির গাঠনিক উপাদান নিম্নরূপ:
● ফসফোলিপিড বাইলেয়ার
● মেমব্রেন প্রোটিন
1. ইন্টিগ্রাল প্রোটিন
2. পেরিফেরাল প্রোটিন
3. লিপিড সম্পৃক্ত প্রোটিন

Question 30

[ সোনার বাংলা কলেজ, 2024]
a.
মাইসেলি কি?
b.
পলিসোম বলতে কি বুঝ?
c.
উল্লিখিত প্রক্রিয়া-২ কিভাবে সংঘটিত হয় বর্ণনা করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে প্রক্রিয়া-২ এ RNA থেকে অ্যামাইনো এসিডের পলিমার তৈরির প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে যা ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
RNA থেকে প্রোটিন তৈরি করা হলো ট্রান্সলেশন।RNA-এর সহায়তায় জিন-DNA থেকে এনকোডেড সিকোয়েন্স অনুযায়ী একটির পর একটি অ্যামিনো অ্যাসিড শৃঙ্খলিত করে পলিপেন্টাইড তৈরি করার প্রক্রিয়া হলো ট্রান্সলেশন।
ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়া কোষের সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয়। এ প্রক্রিয়াকে তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করে আলোচনা করা হয়ে থাকে। যথা-
১। ট্রান্সলেশনের সূচনা:
ইনিশিয়েটর (IRNA, মেথিওনিন অ্যামিনো অ্যাসিড সংযুক্ত করে রাইবোসোমের ছোট খণ্ডের সাথে একটি যৌগ গঠন করে।এ যৌগ mRNA এর ৫’ প্রান্তের ক্যাপ অংশের সাথে আবদ্ধ হলে রাইবোসোম mRNA ধরে ৩’ প্রান্তের দিকে চলতে থাকে যতক্ষণ না স্টার্ট কোডন AUG পেয়ে যায়।
২। পলিপেপটাইড চেইন-এর বৃদ্ধিকরণ:
বর্ধিতকরণ হলো প্রথমে আনা মেথিওনিন অ্যামিনো অ্যাসিডের সাথে কোডের নির্দেশ অনুযায়ী একটির পর একটি অ্যামিনো অ্যাসিড এনে যুক্ত করা। সঠিক ইনিশিয়েটর IRNA-ই পরবর্তী কোডনগুলো সঠিকভাবে শনাক্তের পথ সৃষ্টি করে থাকে। বর্ধিতকরণে রাইবোসোমের A. P এবং E সাইট কার্যকরী হয়। এবং
৩। সমাপ্তিকরণ (termination):
রাইবোসোমের সাইট-এতে কোনো স্টপ কোডন (UAA, UAG বা UGA) পৌছালে ট্রান্সলেশনের সমাপ্তি ঘটে। স্টপ কোডন রাইবোসোমের সাইট- A তে যুক্ত হলে অ্যামিনো অ্যাসাইল-IRNA-এর পরিবর্তে একটি প্রোটিন বিলিজ ফ্যাক্টর (Protein release factor) সাইট-A তে সংযুক্ত হয়। এর ফলে পলিপেন্টাইড চেইন সাইট-P থেকে মুক্ত হয়ে যায় এবং একই সাথে রাইবোসোমের দুটি অংশও পৃথক হয়ে যায়। খালি (RNA এবং রিলিজ ফ্যাক্টরও পৃথক হয়ে যায়।
d.
উল্লিখিত প্রক্রিয়া দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষন কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে প্রক্রিয়া-১ এ ট্রান্সক্রিপশন (DNA -RNA) ও প্রক্রিয়া -২ এ ট্রান্সলেশন (RNA-প্রোটিন) প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে।এদের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
| ট্রন্সক্রিপশন | ট্রান্সলেশন |
| ১। DNA অণুতে গ্রথিত রাসায়নিক তথ্যগুলোকে RNA (mRNA) অণুতে কপি করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ট্রান্সক্রিপশন। ২। এক্ষেত্রে ATP, GTP, CTP ও UTP উপকরণগুলো ব্যবহৃত হয়। ৩। এ প্রক্রিয়াটি কোষের নিউক্লিয়াসের মধ্যে সংঘটিত হয়ে থাকে। ৪। ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াটি রাইবোসোমের সাথে সম্পর্কিত নয়। ৫। এ প্রক্রিয়ায় RNA পলিমারেজ এনজাইম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ৬। প্রোমোটারে সংযুক্ত হওয়ার পর RNA পলিমারেজ প্রথমে DNA এর পাক খুলে নেয়। | ১। mRNA থেকে প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়াকে বলা হয় ট্রান্সলেশন। ২। এক্ষেত্রে সাধারণত 20টি অ্যামিনো অ্যাসিড ব্যবহৃত হয়। ৩।এ প্রক্রিয়াটি সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয়। ৪। ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়াটি কোষের রাইবোসোমের সাথে সংশ্লিষ্ট। ৫। এ প্রক্রিয়ায় অ্যাকটিভেটিং এনজাইম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ৬। এনজাইমে tRNA এর সাথে নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড সংযুক্তির পর বের হয়ে যায় এবং AMP পারে এনজাইমে মুক্ত হয়। |
Question 31

[ ঢাকা কলেজ, 2024]
a.
সেন্ট্রোমিয়ার কি?
b.
ট্রান্সলেশন বলতে কি বুঝ?
c.
উদ্দীপকের চিত্র-P অঙ্গণুটির ভৌত গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
চিত্র – P এ প্রদর্শিত অঙ্গানণুটি হলো DNA বা ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড। এর ভৌত গঠন নিচে দেয়া হল:
(১) DNA অণু দ্বিসূত্রক বিন্যাস ডান থেকে বাম দিকে প্যাঁচানো সিঁড়ির মতো, যাকে বলা হয় double helix।
(২) সূত্র দুটি সমদূরত্বে পরস্পর বিপরীতমুখী (একটি 5- 3′
কার্বনমুখী এবং অপরটি 3′ 5′ কার্বনমুখী) হয়ে অবস্থান করে।
(৩) সূত্র দুটি তৈরি হয় ডিঅক্সিরাইবোজ ব্যগার (S) ও ফসফেটের (P) পর্যায়ক্রমিক সংযুক্তির মাধ্যমে।
(৪) সূত্র দুটির মাঝখানের প্রতিটি ধাপ তৈরি হয় একজোড়া নাইট্রোজেন বেস (A-1 বা (GC) দিয়ে।
(৫) ফসফেট যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ ত্যগারের ও ও5 কার্বনের (৩য় ও ৫ম কার্বনের) সাথে এবং ক্ষারকগুলো যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ ত্যগারের। কার্বনের (১ম কার্বনের) সাথে। কাজেই সূত্রকের বাইরের দিকে ফসফেট এবং ভেতরের দিকে নাইট্রোজেন ক্ষারক থাকে।
(৬) DNA অণুতে চার ধরনের নাইট্রোজেন ক্ষারক (অ্যাভিনিন, গুয়ানিন, থাইমিন এবং সাইটোসিন) থাকে। অ্যাডিনিন (A) এর সম্পূরক ক্ষারক থাইমিন (1) এবং গুয়ানিন (G) এর সম্পূরক ক্ষারক সাইটোসিন (C)।
(৭) একটি সূত্রের অ্যাভিনিন অপর সূত্রের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দিয়ে (A::T/T::A) এবং একটি সূত্রের গুয়ানিন অপর সূত্রের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনী (G:::C/C:::G) দিয়ে যুক্ত হয়। কাজেই সিঁড়ির ধাপ হবে A::T অথবা G:::C। বন্ড তৈরি হয় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ক্ষারকের এর মধ্যে।
(৮) DNA অণুর সূত্র দুটির প্রতিটি প্যাচ বা ঘূর্ণনের দৈর্ঘ্য 34 A (34 nm)। প্রতিটি প্যাচে নাইট্রোজিনাস বেস জোড়ের ১০টি ধাপ সমদূরত্বে অবস্থান করে। ফলে সিড়ির এক ধাপ থেকে অপর ধাপের দূরত্ব হয় 3.4A (0.34
(৯) প্রতিটি প্যাচে হেলিক্স দুটির ব্যাস 20A (2 nm) তবে DNA অণুর দৈর্ঘ্য প্রজাতিভেদে বিভিন্ন।
(১০) হেলিক্সের প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাঁচ বা ঘূর্ণনে শৃঙ্খলের বাইরের দিকে একটি গভীর খাঁজ (major groove) ও একটি অগভীর খাঁজ (minor groove) সৃষ্টি হয়।
(১১) প্রতিটি ঘূর্ণনে মনোনিউক্লিওটাইডের সংখা 10 জোড়া বা ২০টি।
(১২) প্রতিটি প্যাঁচে হাইড্রোজেন বন্ড সংখ্যা 25 টি।
(১৩) DNA-এর আণবিক ওজন 10°-10° এর মধ্যে।
d.
উদ্ভিদের খাদ্য উৎপাদনে উদ্দীপকের চিত্রে-Q অঙ্গণুটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর
উত্তরঃ
উদ্দীপকের Q অঙ্গানুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট।উদ্ভিদের খাদ্য উৎপাদনে এর প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। উদ্ভিদকোষে বিদ্যমান সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। ক্লোরোফিল-৪, ক্লোরোফিল-৮, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু কারণ ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে।এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গাণু।
ক্লোরোপ্লাস্ট আলোক শক্তিকে শোষণ করে তা সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে ফটোসিনথেসিস প্রক্রিয়ায়।সজীব জীবকে তার কোষের কাঠামো গঠন করতে এবং জীবন ধারণের প্রক্রিয়াসমূহ পরিচালনা করতে জটিল কার্বন যৌগের (কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, লিপিড) প্রয়োজন হয়। আলোক শক্তি রূপান্তরিত হয়ে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে জমা হয়।
এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজন হয় (i) CO₂, (ii) পানি, (ii) সূর্যালোক এবং (ⅳ) ক্লোরোফিল।
CO₂ ব্যবহৃত হয় কার্বোহাইড্রেট তৈরির জন্য, পানি ব্যবহৃত হয় রাসায়নিক শক্তি হিসেবে NADPH2 তৈরির জন্য। সূর্যালোকের প্রয়োজন হয় শক্তির জন্য এবং ক্লোরোফিলের তথা ক্লোরোপ্লাস্টের প্রয়োজন হয় সূর্যশক্তিকে শোষণ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরের জন্য।
৬ অনু কার্বন ডাই- অক্সাইড +১২ অনু পানি → (ক্লোরোফিল,সূর্যালোক) → গ্লুকোজ +৬ অনু পানি + ৬অনু অক্সিজেন।
Question 32

[ ঢাকা কলেজ, 2024]
a.
জিন কি?
b.
পিনোসাইটিক ফোস্কা বলতে কি বুঝ?
c.
উদ্দীপকের চিত্র-A অঙ্গণুটির গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের A অঙ্গানুটি হলো নিউক্লিয়াস। এর গঠন নিচে দেয়া হলো:
নিম্নলিখিত চারটি অংশ নিয়ে একটি নিউক্লিয়াস গঠিত হয়-
(ক) নিউক্লিয়ার এনভেলপ,
(খ) নিউক্লিওপ্লাজম,
(গ) নিউক্লিওলাস এবং
(ঘ) নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম বা ক্রোমাটিন তন্তু।
(ক) নিউক্লিয়ার এনভেলপ (Nuclear envelope):
নিউক্লিয়াস দু’টি দ্বিন্তরী মেমব্রেন দ্বারা আবৃত স্থান। প্রতিটি মেমব্রেন দ্বিস্তরী ফসফোলিপিড বাইলেয়ার দ্বারা গঠিত। প্লাজমামেমব্রেন এবং অধিকাংশ অঙ্গাণুর আবরণী একটি দ্বিন্তরী মেমব্রেন দ্বারা গঠিত। নিউক্লিয়াসের আবরণীকে নিউক্লিয়ার এনভেলপ বলা হয়। নিউক্লিয়ার এনভেলপে সর্বত্রই বিশেষ ধরনের অসংখ্য ছিদ্র (রন্ধ্র) থাকে।
(খ) নিউক্লিওপ্লাজম (Nucicoplasm):
নিউক্লিয়ার এনভেলপ দ্বারা আবৃত স্বচ্ছ, ঘন ও দানাদার তরল পদার্থই নিউক্লিওপ্লাজম। একে ক্যারিওলিম্ফ-ও বলে। এটি নিউক্লিয়াসের অভান্তরহ প্রোটোপ্লাজমিক রস। প্রোটোপ্লাজমের বৈশিষ্ট্যসমূহ এতে বিদ্যমান। নিউক্লিওলাস এবং ক্রোমোসোম এতে অবস্থান করে।
(গ) নিউক্লিওলাস (Nucleolus):
নিউক্লিয়াসে যে ছোট ও অধিকতর ঘন গোলাকার বস্তু দেখা যায় তাই নিউক্লিওলাস।
(ঘ) নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম বা ক্রোমাটিন তন্ত্র (Nuclear reticulum or Chromatin fibre):
কোষের বিশ্রাম অবস্থায় (অ-বিভাজন অবস্থায়) নিউক্লিয়াসের ভেতরে জালিকার আকারে কিছু তন্তু দেখা যায়। তন্ত্রঘটিত এ জালিকাকে নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম বা ক্রোমাটিন তন্তু বলা হয়।

d.
প্রোটিন সংশ্লেষণে উদ্দীপকের চিত্র-B এর X অঙ্গাণুটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের চিত্র B তে দেখানো X অঙ্গানু টি হলো রাইবোজোম যাকে প্রোটিন তৈরির কারখানাও বলা হয়ে থকে।
রাইবোসোমের প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণ (তৈরি) করা। তাই রাইবোসোমকে কোষের প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়। প্রোটিন সংশ্লেষণের শুরুতে mRNA আদিকোষের 30S এবং প্রকৃতকোষের 40 S সাব-ইউনিটের সাথে সংযোগ স্থাপন করে। এরপর আদি কোষে 30S এর সাথে 50S মিলে 70 S একক গঠন করে এবং প্রকৃত কোষে 40 S এর সাথে 60 S সাব-ইউনিট এসে একত্রিত হয়ে 80S একক গঠন করে এবং প্রোটিন সংশ্লেষণ শুরু হয়। এরা সাইটোক্রোম উৎপন্ন করে যারা কোষীয় শ্বসনে ইলেকট্রন পরিবহণ করে। গুকোজের ফসফোরাইলেশন এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক রাইবোসোমে সংঘটিত হয়। mRNA কে নিউক্লিয়েজ এনজাইম ও নতুন পলিপেপটাইড চেইনকে প্রোটিওলাইটিক এনজাইমের যেকোনো ক্ষতিকর ক্রিয়া থেকে সুরক্ষা করে।এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি লাইসোসোম, প্লাজমামেমব্রেন বা কোষের বাইরে ব্যবহার্য প্রোটিন যুক্ত-রাইবোসোমে উৎপত্তা হইলামুক্ত পাংিবা কেতিম তৈরি হয়া সাইটোপ্লাজম, মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টে ব্যবহার্য প্রোটিন।
Question 33
চিত্রটি অনুসরন কর এবং নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও

[ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা, 2024]
a.
প্লাজমোডেসমা কী?
b.
এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের কাজ লেখ।
c.
A অংশ এবং B অংশের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের চিত্রের A হলো কোষপ্রাচীর আর B হলো কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেন। এদের মধ্যে পার্থক্য নিচে দেয়া হল:
| পার্থক্যের বিষয় | কোষ প্রাচীর | কোষঝিল্লি / প্লাজমামেমব্রেন |
| ১। সজীবতা | কোষ প্রাচীর নির্জীব তথা জড়। | কোষঝিল্লি সজীব। |
| ২। অবস্থান | কোষ প্রাচীর উদ্ভিদ কোষের বৈশিষ্ট্য, কোষঝিল্লির বাইরে অবস্থিত। | কোষঝিল্লি উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় প্রকার কোষে থাকে। |
| ৩। গঠন | প্রধানত সেলুলোজ নির্মিত: জড়, শক্ত, ভেদ্য প্রাচীরযুক্ত। | প্রধানত প্রোটিন ও লিপিড সমন্বয়ে গঠিত : জীবন্ত, স্থিতিস্থাপক ও অর্ধভেদ্য পর্দাযুক্ত। |
| ৪। কাজ | প্রধান কাজ হলো কোষের আকার-আকৃতি নিয়ন্ত্রণ এবং কোষকে দৃঢ়তা প্রদান। | প্রধান কাজ হলো কোষের ভেতর-বাইরে প্রয়োজনীয় বস্তুর চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং কোষস্থ প্রোটোপ্লাজমীয় অংশ সংরক্ষণ। |
| ৫। অলংকরণ | গৌণস্তরের বিশেষ বিন্যাসের জন্য নানাবিধ অলংকরণ দেখা যায়। | কোনোরূপ অলংকরণ দেখা যায় না। |
d.
এর গঠন সম্পর্কিত সর্বাধিক গৃহীত মডেল বিশ্লেষন কর।
উত্তরঃ
পার্থক্যের বিষয় কোষ প্রাচীর কোষঝিল্লি / প্লাজমামেমব্রেন
১। সজীবতা কোষ প্রাচীর নির্জীব তথা জড়। কোষঝিল্লি সজীব।
২। অবস্থান কোষ প্রাচীর উদ্ভিদ কোষের বৈশিষ্ট্য, কোষঝিল্লির বাইরে অবস্থিত। কোষঝিল্লি উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় প্রকার কোষে থাকে।
৩। গঠন প্রধানত সেলুলোজ নির্মিত: জড়, শক্ত, ভেদ্য প্রাচীরযুক্ত। প্রধানত প্রোটিন ও লিপিড সমন্বয়ে গঠিত : জীবন্ত, স্থিতিস্থাপক ও অর্ধভেদ্য পর্দাযুক্ত।
৪। কাজ
প্রধান কাজ হলো কোষের আকার-আকৃতি নিয়ন্ত্রণ এবং কোষকে দৃঢ়তা প্রদান। প্রধান কাজ হলো কোষের ভেতর-বাইরে প্রয়োজনীয় বস্তুর চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং কোষস্থ প্রোটোপ্লাজমীয় অংশ সংরক্ষণ।
৫। অলংকরণ গৌণস্তরের বিশেষ বিন্যাসের জন্য নানাবিধ অলংকরণ দেখা যায়। কোনোরূপ অলংকরণ দেখা যায় না।

Question 34

[ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা, 2024]
a.
জেনেটিক কোড কী?
b.
নিউক্লিওটাইড বলতে কী বুঝ?
c.
উদ্দীপকে এবং এর গঠনটি যে অনুগুলো ধারন করে তাদের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের চিত্রের A হলো রাইবোনিউক্লিক এসিড আর B হলো ডি অক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড।এদের মধ্যে পার্থক্য নিচে দেয়া হল:
| বৈশিষ্ট্য | DNA | RNA |
| ১। ভৌত গঠন | দ্বিসূত্রক, প্যাঁচানো বা ঘুরানো সিঁড়ির মতো | একসূত্রক, শিকলের ন্যায় |
| ২। রাসায়নিক গঠন | (ⅰ) এতে থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ শ্যগার এবং (ii) DNA-এর পাইরিমিডিনে থাইমিন ও সাইটোসিন বেস থাকে। | (i) এতে থাকে রাইবোজ শ্যগার এবং(ii) RNA-এর পাইরিমিডিনে ইউরাসিল ও সাইটোসিন বেস থাকে। |
| ৩। প্রকার | DNA-অণুর কোনো প্রকারভেদ নেই। কার্যগত দিক হতে DNA-একই রকম হয়। | কার্যগত দিক হতে RNA পাঁচ প্রকার। যথা- tRNA, rRNA, mRNA, gRNA, মাইনর RNA । |
| ৪। উৎপত্তি | প্রতিলিপনের মাধ্যমে নতুন DNA সৃষ্টি হয়। | নতুনভাবে RNA সৃষ্টি হয়। কোনো প্রতিলিপন হয় না। |
| ৫। অবস্থান | প্রধানত ক্রোমোসোমে থাকে। সামান্য পরিমাণ মাইটোকন্ড্রিয়া এবং ক্লোরোপ্লাস্টেও থাকে। | ক্রোমোসোম, সাইটোপ্লাজম, রাইবোসোম নিউক্লিওলাসে থাকে। |
| ৬। প্রধান কাজ | বংশগতির ধারক, বাহক ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করা। | প্রোটিন সংশ্লেষ করা। |
| ৭। বংশগতি | DNA বংশগত চরিত্র বহন করে। | ভাইরাল RNA ছাড়া বংশগত চরিত্র বহন করে না। |
| ৮। সংখ্যা | এতে নিউক্লিওটাইডের সংখ্যা অনেক বেশি। | এতে নিউক্লিওটাইডের সংখ্যা অনেক কম। |
| ৯। অতিবেগুনি রশ্মি | অধিক পরিমাণে অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। | তুলনামূলকভাবে কম অতিবেগুনি রশ্মি শোষিত হয়। |
| ১০। আণবিক ওজন | এদের আণবিক ওজন দশ লক্ষ হতে বহু কোটি ডাল্টন পর্যন্ত হয়। | এদের আণবিক ওজন কয়েক লক্ষের বেশি হয় না। |
d.
উদ্দীপকের গঠন দুটির মধ্যে একটি গঠন জীবে বহু সংখ্যায় উপস্থিত থেকে প্যাঁচানো সূত্র গঠন করে- বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের গঠন দুটির মধ্যে একটি গঠন জীবে বহু সংখ্যায় উপস্থিত থেকে প্যাঁচানো সূত্র গঠন করে-এখনে DNA এর কথা বলা হয়েছে। নিচে বিস্তারিত দেয়া হল :
(১) DNA অণু দ্বিসূত্রক, বিন্যাস ডান থেকে বাম দিকে ঘুরানো (প্যাঁচানো) সিঁড়ির মতো, যাকে বলা হয় ডাবল হেলিক্স।
(২) সূত্র দুটি সমদূরত্বে পরস্পর বিপরীতমুখী হয়ে অবস্থান করে।
(৩) সূত্র দুটি তৈরি হয় ডিঅক্সিরাইবোজ শ্যুগার (S) ও ফসফেটের (P) পর্যায়ক্রমিক সংযুক্তির মাধ্যমে।
৬৪ সূত্র দুটির মাঝখানের প্রতিটি ধাপ তৈরি হয় একজোড়া নাইট্রোজেন বেস (A-T বা G ::: C) দিয়ে।
(৫) ফসফেট যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ শ্যুগারের ও ও 5′ কার্বনের (৩য় ও ৫ম কার্বনের) সাথে এবং ক্ষারকগুলো যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ শ্যুগারের । কার্বনের (১ম কার্বনের) সাথে। কাজেই সূত্রকের বাইরের দিকে ফসফেট এবং ভেতরের দিকে নাইট্রোজেন ক্ষারক থাকে।
(৬) DNA অণুতে চার ধরনের নাইট্রোজেন ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থাইমিন এবং সাইটোসিন) থাকে। অ্যাডিনিন (A) এর সম্পূরক ক্ষারক থাইমিন (T) এবং গুয়ানিন (G) এর সম্পূরক ক্ষারক সাইটোসিন (C)।
(৭) একটি সূত্রের অ্যাডিনিন অপর সূত্রের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দিয়ে (AT/T A) এবং একটি সূত্রের গুয়ানিন অপর সূত্রের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনী (G = C/C = G) দিয়ে যুক্ত হয়। কাজেই সিঁড়ির ধাপ হবে AT অথবা G = C।
(৮)DNA অণুর সূত্র দুটির প্রতিটি প্যাচ বা ঘূর্ণনের দৈর্ঘ্য ৩৪ A (৩.৪ mm)। প্রতিটি প্যাচে নাইট্রোজিনাস বেস জোড়ের ১০টি ধাপ সমদূরত্বে অবস্থান করে। ফলে সিঁড়ির এক ধাপ থেকে অপর ধাপের দূরত্ব হয় ৩.৪ A (০.৩৪ nm)
(৯) প্রতিটি প্যাঁচে হেলিক্স দুটির ব্যাস ২০Å (২ nm)। তবে DNA অণুর দৈর্ঘ্য প্রজাতিভেদে বিভিন্ন।
(১০) হেলিক্সের প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাচ বা ঘূর্ণনে শৃঙ্খলের বাইরের দিকে একটি গভীর খাঁজ ও একটি অগভীর খাঁজ সৃষ্টি হয়।
(১১) প্রতিটি ঘূর্ণনে মনোনিউক্লিওটাইডের সংখ্যা ১০ জোড়া বা ২০টি।
(১২) প্রতিটি প্যাঁচে হাইড্রোজেন বন্ড সংখ্যা ২৫ টি।
(১৩) DNA-এর আণবিক ওজন 10°-10° এর মধ্যে।
Question 35
উদ্ভিদ কোষে এক ধরনের অঙ্গাণু বিদ্যমান যাকে কোষের রান্নাঘর ও শক্তি রূপান্তরের অঙ্গাণু বলা হয়।
[ রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, 2024]
a.
ক্রোমোমিয়ার কাকে বলে?
b.
রাইবোসোমকে কোষের সর্বজনীন অঙ্গাণু বলা হয় কেন?
c.
উদ্দীপকের অঙ্গাণুটির চিত্রসহ গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে একে ‘কোষের রান্নাঘর’ (kitchen of cell), শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা’ (factory of synthesis of sugar) বলে ।এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গাণু। এর গঠন নিচে চিত্রসহ দেয়া হল:
ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন (ভৌত গঠন):
একটি পরিণত ক্লোরোপ্লাস্ট নিম্নলিখিত অংশগুলো নিয়ে গঠিত।
১। আবরণী ঝিল্লিঃ
সমস্ত ক্লোরোপ্লাস্ট একটি স্তরবিশিষ্ট আংশিক অনুপ্রবেশ্য দুই মেমব্রেন (ঝিল্লি) দ্বারা আবৃত থাকে। ক্লোরোপ্লাস্ট মেমব্রেনে ফসফোলিপিড-এর পরিবর্তে গ্লাইকোসিল গ্লিসারাইড থাকে। এটি একটি ব্যতিক্রমী গঠন।ক্লোরোপ্লাস্ট হলো তিন মেমব্রেন দ্বারা তৈরি ৩ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট একটি অঙ্গাণু।
২। স্ট্রোমা/ম্যাট্রিক্সঃ
আবরণী শিলি দ্বারা আবৃত পানিগ্রাহী, কলয়েডধর্মী ম্যাট্রিক্স তরলকে স্ট্রোমা (stroma) বলে স্ট্রোমাতে 705 রাইবোসোম অরামোফিলিক দানা, DNA, RNA ইত্যাদি থাকে। এতে শর্করা তৈরির এনজাইমও থাকে।সালোকসংশ্লেষণে কার্বন বিজারণের মাধ্যমে শর্করা উৎপাদন প্রক্রিয়া (C3 বা C4চক্র) স্ট্রোমাতে ঘটে থাকে।
৩। থাইলাকয়েড ও গ্রানামঃ
স্ট্রোমাতে অসংখ্য বলে আকৃতির 100-300 A প্রস্থবিশিষ্ট ত্রিমাত্রিক সজ্জার গঠন বিদ্যমান। এদেরকে থাইলাকয়েড (thylacoid) বলে। প্রত্যেকটি থাইলাকয়েডের ভেতরে একটি প্রকোষ্ঠ থাকে।
৪। স্ট্রোমা ল্যামেলিঃ
দুটি পাশাপাশি গ্রানার কিছু সংখ্যক থাইলাকয়েডস সূক্ষ্ম নালিকা দ্বারা সংযুক্ত থাকে। এ সংযুক্তকারী নালিকাকে স্ট্রোমা ল্যামেলি (একবচন-ল্যামেলাম) বলে। এদের অভ্যন্তরেও কিছু পরিমাণ ক্লোরোফিল বিদ্যমান থাকে।
৫। ফটোসিনথেটিক ইউনিট ও ATP-synthases ও থাইলাকয়েড মেমব্রেন বহু গোলাকার বস্তু বহন করে। থাইলাকয়েড মেমব্রেনের ভেতরের গাত্রে অসংখ্য সালোকসংশ্লেষণকারী একক ও ATP সিন্থেসেস নামক ব্যস্ত থাকে। ATP-সিহেসেস নামক বস্তুতে ATP-তৈরির সকল এনজাইম থাকে। মেমব্রেনগুলোতে অসংখ্য ফটোসিনথেটিক ইউনিট থাকে। প্রতি ইউনিটে ক্লোরোফিল-এ, ক্লোরোফিল-বি, ক্যারোটিন, জ্যান্থোফিল এর প্রায় ৩০০-৪০০টি অণু থাকে।
৬। DNA ও রাইবোসোমঃ
একটি ক্লোরোপ্লাস্টের মধ্যে সমআকৃতির প্রায় ২০০টি DNA অণু থাকতে পারে। ক্লোরোপ্লাস্টে তার নিজস্ব বৃত্তাকার DNA ও রাইবোসোম থাকে। এদের সাহায্যে ক্লোরোপ্লাস্ট নিজের অনুরূপ সৃষ্টি (reproduce) ও কিছু প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি বা সংশ্লেষ করতে পারে।

d.
উদ্ভিদ ও প্রাণির জীবনধারনের জন্য উদ্দীপকের অঙ্গাণুটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের চিত্রের অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করা এর প্রধান কাজ। তাই উদ্ভিদ ও প্রাণির জীবনধারণের জন্য উদ্দীপকের অঙ্গাণুটি গুরুত্বপূর্ণ কেননা জীবজগতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। একে একটি প্রাকৃতিক জৈব রাসায়নিক শিল্প বলা যেতে পারে। নিচে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তথা ক্লোরোপ্লাস্টের গুরত্ব সম্বন্ধে বর্ণনা করা হলোঃ
উদ্ভিদের খাদ্য প্রস্তুত:
এ প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ তাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য তৈরি করে থাকে। কাজেই এ প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ জীবনের মৌলিক চাহিদা মিটায়।
প্রাণিকুলের খাদ্য:
প্রাণিজগৎ তার খাদ্যের জন্য সম্পূর্ণভাবে সবুজ উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল। প্রাণিজগতের সমুদয় খাদ্য উদ্ভিদজগৎ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত করে থাকে। কাজেই এ প্রক্রিয়ার উপর প্রত্যক্ষভাবে উদ্ভিদ জগৎ এবং পরোক্ষভাবে মানুষসহ সমস্ত জীবজগৎ নির্ভরশীল।
সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্টে শ্বেতসার বা স্টার্চ উৎপন্ন হয়। এটি একটি কঠিন পদার্থ। কাজেই উদ্ভিদ এটি সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না, পাতায় তৈরি স্টার্চ প্রথমে গ্লুকোজ ও পরবর্তীতে সুকরোজ-এ পরিবর্তিত হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন অঞ্চলে সঞ্চালিত হয় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সাইটোসোলে সুকরোজ উৎপন্ন হয়। সুকরোজ সরাসরি উদ্ভিদদেহের বিভিন্ন অংশে প্রবাহিত হয় এবং প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়। এর এক অংশ বিপাকক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। বাড়তি অংশ সঞ্চয়ী অঞ্চলে ভবিষ্যতের জন্য জমা হয়। বিভিন্ন কাজ-কর্ম চালানোর জন্য শ্বসন প্রক্রিয়ায় তা ভেঙে শক্তি উৎপন্ন করে। এক অংশ অন্য প্রকার খাদ্য যথা চর্বি, আমিষ প্রভৃতি তৈরিতে কাজে লাগে।
Question 36

[ রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, 2024]
a.
জিন কী?
b.
নাইট্রোজেন বেস বলতে কী বুঝো?
c.
উদ্দীপকের ক্ষুদ্রাঙ্গটির রাসায়নিক গঠন ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের চিত্রের অঙ্গাণুটি হলো ক্রোমোসোম। এর রাসায়নিক গঠন নিচে দেয়া হল:

d.
উদ্দীপকের ক্ষুদ্রাঙ্গটির কাজগুলি বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের চিত্রের ক্ষুদ্র অঙ্গাণুটি হলো ক্রোমোসোম।এর কাজসমূহ নিচে দেয়া হল:
জীবদেহের বৃদ্ধি ও জনন উভয় কাজের জন্যই কোষ বিভাজন জরুরি। কোষ বিভাজনের মুখ্য বস্তু ক্রোমোসোম। ক্রোমোসোমকে বাদ দিয়ে কোষ বিভাজন সম্ভব নয়। কোষ বিভাজনের শুরু এবং শেষ উভয়ই ক্রোমোসোম নির্ভর। ক্রোমোসোমে অবস্থিত DNA প্রতিলিপনের মাধ্যমে কোষ বিভাজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়, অর্থাৎ ক্রোমোসোমহ DNA প্রতিলিপিত না হলে কোষ বিভাজন শুরু হবে না। কাজেই দেখা যায় কোষ বিভাজনে ক্রোমোসোমের ভূমিকা মুখ্য। কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় কোষস্থ ক্রোমোসোমের প্রতিলিপন, দ্বিতুন, বিভাজন ও মেরুকরণ সবই আবশ্যকীয় বিষয়। আবার ক্রোমোসোমবিহীন কোষ তার অস্তিত্বও রক্ষা করতে পারে না, এমনকি কোষ বিভাজনকালে ক্রোমোসোমের বণ্টন নীতিমালা বহির্ভূত হলে কোষের বৈশিষ্ট্য ও অস্তিত্বে বিরূপ প্রভাব পড়বে। কাজেই বলা যায়, কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় ক্রোমোসোমের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। ক্রোমোসোম কতবার বিভক্ত হবে তার ওপর নির্ভর করে কোষ বিভাজনের ধরন, মাইটোসিস না মায়োসিস। এছাড়াও ক্রোমোসোম যে কাজগুলো করে থাকে তা হলো:
(১) ক্রোমোসোম বংশগতির ধারক ও বাহক। তাই বংশপরম্পরায় জীবের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে, বহন করে এবং স্থানান্তর করে।
(২) বিভক্তির মাধ্যমে ক্রোমোসোম কোষ বিভাজনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে।
(৩) DNA বা জিন অণু ধারণ করে।
(৪) DNA-এর ছাঁচ অনুযায়ী তৈরি mRNA এর মাধ্যমে প্রোটিন সংশ্লেষণ করা।
(৫) সেক্স ক্রোমোসোম জীবের লিঙ্গ নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
(৬) বংশগতির বাহক জিন জীবের জীবনের বু প্রিন্ট হিসেবে কাজ করে।
(৭) ক্রোমোসোমের সংখ্যা ও গঠনের পরিবর্তন অভিব্যক্তির মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
Question 37

[ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা, 2024]
a.
জেনেটিক কোড কী?
b.
ট্রান্সক্রিপশন ও ট্রান্সলেশনের মধ্যে দুটি পার্থক্য লিখ।
c.
উদ্দীপকের প্রথম অণুটির দ্বিসূত্রক গঠনের চিহ্নিত চিত্র দাও ।
d.
উদ্দীপকের প্রথম ও দ্বিতীয় অণুর মধ্যে বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে চিত্রে দ্বিসূত্রক অংশটি DNA ও একসূত্রক অংশটি হলো RNA। এদের মধ্যে পার্থক্য নিচে দেয়া হল:
| DNA | RNA |
| দ্বিসূত্রক, প্যাঁচানো বা ঘুরানো সিঁড়ির মতো | একসূত্রক, শিকলের ন্যায় |
| (i) এতে থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ শু্যগার এবং বি (ii) DNA-এর পাইরিমিডিনে থাইমিন ও সাইটোসিন বেস থাকে। | (i) এতে থাকে রাইবোজ শ্যগার এবং (ii) RNA-এর পাইরিমিডিনে ইউরাসিল ও সাইটোসিন বেস থাকে। |
| DNA-অণুর কোনো প্রকারভেদ নেই। কার্যগত দিক হতে DNA-একই রকম হয়। | কার্যগত দিক হতে RNA পাঁচ প্রকার। যথা- tRNA, rRNA, mRNA, gRNA, মাইনর RNA । |
| অনুলিপনের মাধ্যমে নতুন DNA সৃষ্টি হয়। | নতুনভাবে RNA সৃষ্টি হয়। কোনো অনুলিপন হয় না। |
| প্রধানত ক্রোমোসোমে থাকে। সামান্য পরিমাণ মাইটোকন্ড্রিয়া এবং ক্লোরোপ্লাস্টেও থাকে। | ক্রোমোসোম, সাইটোপ্লাজম, রাইবোসোম ও নিউক্লিয়োলাসে থাকে। |
| বংশগতির ধারক, বাহক ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করা। | প্রোটিন সংশ্লেষ করা। |
| DNA বংশগত চরিত্র বহন করে। | ভাইরাল RNA ছাড়া বংশগত চরিত্র বহন করে না। |
| এতে নিউক্লিয়োটাইডের সংখ্যা অনেক বেশি। | এতে নিউক্লিয়োটাইডের সংখ্যা অনেক কম। |
| অধিক পরিমাণে অতিবেগুণি রশ্মি শোষণ করে। এদের আণবিক ওজন দশ লক্ষ হতে বহু কোটি ডাল্টন পর্যন্ত হয়। | তুলনামূলকভাবে কম অতিবেগুণি রশ্মি শোষিত হয়। এদের আণবিক ওজন কয়েক লক্ষের বেশি হয় না। |
Question 38
আলিনা ম্যাডাম কোষ ও এর গঠন অধ্যায়টি পড়ানোর সময় বললেন, উদ্ভিদ কোষে এমন দুইটি অঙ্গাণু উপস্থিত যার প্রথমটিতে সবাত শ্বসন সম্পন্ন হয় এবং অপরটির উপর পৃথিবীর সকল জীবকুল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল।
[ সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, ঢাকা, 2024]
a.
জিন (Gene) কী?
b.
ট্রান্সক্রিপশন এবং ট্রান্সলেশন বলতে কী বোঝ?
c.
উদ্দীপকের প্রথম অঙ্গাণুটির গঠন চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে আলোচিত দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। এর অঙ্গাণুতে সাবাত শ্বসনে সবগুলো ধাপ (গ্লাইকোলাইসিস ব্যাতীত) সংঘটিত হয়। এর গঠন চিত্রসহ দেয়া হল:

মাইটোকন্ড্রিয়ার ভৌত গঠন:
১। আবরণী: প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ন লিপোপ্রোটিন বাইলেয়ারের দুটি মেমব্রেন নিয়ে গঠিত। বাইরের মেমব্রেনী খাঁজবিহীন, মূলত ভেতরের অংশসমূহকে রক্ষা করাই এর প্রধান কাজ। বাইরের মেমব্রেন ভেদ করে বিভিন্ন ক্ষুদ্র অণু এক আয়ন ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, আবার বের হয়ে যেতেও পারে। এতে কিছু ট্রান্সপোর্ট প্রোটিন থাকে যা প্রয়োজনে সক্রিম ট্রান্সপোর্টে সহায়তা করে। এতে কোনো ETC, ATP Synthases, ATP তৈরির এনজাইম ইত্যাদি থাকে না। এর কাজ মূলত রক্ষণাত্মক। দুটি আবরণীর মধ্যে ব্যবধান ৬-৮ nm।
২। প্রকোষ্ঠ: দুই মেমব্রেনের মাঝখানের ফাঁকা স্থানকে বলা হয় বহিস্থ কক্ষ (প্রকোষ্ঠ) বা আন্তঃমেমব্রেন ফাঁক এবং ভেতরের মেমব্রেন দিয়ে আবদ্ধ কেন্দ্রীয় অঞ্চলকে বলা হয় অভ্যন্তরীণ কক্ষ। অভ্যন্তরীণ কক্ষ জেলির ন্যায় ঘন সমসত্ত্ব পদার্থ বা ধাত্র দ্বারা পূর্ণ থাকে। এই ধাত্র পদার্থকে ম্যাট্রিক্স বলে।
৩। ক্রিস্টি বা প্রবর্ধক: বাইরের মেমব্রেন সোজা কিন্তু ভেতরের মেমব্রেনটি নির্দিষ্ট ব্যবধানে ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে আঙ্গুলের মতো প্রবর্ধক সৃষ্টি করে। প্রবর্ধিত অংশকে ক্রিস্টি (cristae) বলে। এদের সংখ্যা ও আকৃতি বিভিন্ন কোষে বিভিন্ন রকম হয়। এগুলো মাইটোকন্ড্রিয়ার ধাত্রকে কতগুলো অসম্পূর্ণ প্রকোষ্ঠে বিভক্ত করে। ক্রিস্টির মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানকে। অন্তঃক্রিস্টি ফাঁকা স্থান (intracristal space) বলে-যা বহিঃপ্রকোষ্ঠের সাথে সংযুক্ত।
৪। অক্সিসোম (Oxisome): মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃআবরণীর অন্তর্গাত্রে অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য দানা লেগে থাকে। এদের অক্সিসোম বলে।
৫। ATP-Synthases ও ETC: ক্রিস্টিতে স্থানে স্থানে ATP-Synthases নামক গোলাকার বস্তু আছে। এতে ATP সংশ্লেষিত হয়।
৬। বৃত্তাকার DNA ও রাইবোসোম: মাইটোকন্ড্রিয়ার নিজস্ব বৃত্তাকার DNA এবং রাইবোসোম (705) রয়েছে। এটিও আদি কোষীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। এরা ম্যাট্রিক্স-এ থাকে।
d.
উদ্দীপকের আলোকে দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি কীভাবে জীবজগতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে — আলোচনা করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অঙ্গানুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট।এ অঙ্গাণুটির ওপর প্রত্যক্ষ্য ও পরোক্ষভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীকূল নির্ভর করে।উদ্ভিদ এই অঙ্গাণুর মাধ্যমে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে, আর এই খাদ্যের ওপর প্রাণীকূল নির্ভর করে।
উদ্ভিদের খাদ্য উৎপাদনে এর প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। উদ্ভিদকোষে বিদ্যমান সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। ক্লোরোফিল-৪, ক্লোরোফিল-৮, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু কারণ ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে।এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গাণু।
ক্লোরোপ্লাস্ট আলোক শক্তিকে শোষণ করে তা সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে ফটোসিনথেসিস প্রক্রিয়ায়। সজীব জীবকে তার কোষের কাঠামো গঠন করতে এবং জীবন ধারণের প্রক্রিয়াসমূহ পরিচালনা করতে জটিল কার্বন যৌগের (কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, লিপিড) প্রয়োজন হয়। আলোক শক্তি রূপান্তরিত হয়ে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে জমা হয়।
এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজন হয় (i) CO₂, (ii) পানি, (ii) সূর্যালোক এবং (ⅳ) ক্লোরোফিল।
CO₂ ব্যবহৃত হয় কার্বোহাইড্রেট তৈরির জন্য, পানি ব্যবহৃত হয় রাসায়নিক শক্তি হিসেবে NADPH2 তৈরির জন্য। সূর্যালোকের প্রয়োজন হয় শক্তির জন্য এবং ক্লোরোফিলের তথা ক্লোরোপ্লাস্টের প্রয়োজন হয় সূর্যশক্তিকে শোষণ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরের জন্য।
৬ অনু কার্বন ডাই-অক্সাইড + ১২ অনু পানি → ক্লোরোফিল,
সূর্যালোক → গ্লুকোজ + ৬ অনু পানি + ৬ অনু অক্সিজেন।
Question 39

[ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, 2024]
a.
স্প্রাইসিং কী?
b.
সেন্ট্রোসোম ও সেন্ট্রোমিয়ারের পার্থক্য লিখো ।
c.
উদ্দীপকের “A” এর গঠন লিখো।
উত্তরঃ
চিত্র – A এ প্রদর্শিত সুতার মতো প্যাঁচানো অংশটি হলো DNA বা ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড।এর ভৌত গঠন নিচে দেয়া হল:
(১) DNA অণু দ্বিসূত্রক বিন্যাস ডান থেকে বাম দিকে প্যাঁচানো সিঁড়ির মতো, যাকে বলা হয় double helix।
(২) সূত্র দুটি সমদূরত্বে পরস্পর বিপরীতমুখী (একটি 5- 3′ কার্বনমুখী এবং অপরটি 3′ 5′ কার্বনমুখী) হয়ে অবস্থান করে।
(৩) সূত্র দুটি তৈরি হয় ডিঅক্সিরাইবোজ ব্যগার (S) ও ফসফেটের (P) পর্যায়ক্রমিক সংযুক্তির মাধ্যমে।
(৪) সূত্র দুটির মাঝখানের প্রতিটি ধাপ তৈরি হয় একজোড়া নাইট্রোজেন বেস (A-1 বা (GC) দিয়ে।
(৫) ফসফেট যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ ত্যগারের ও ও5 কার্বনের (৩য় ও ৫ম কার্বনের) সাথে এবং ক্ষারকগুলো যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ ত্যগারের। কার্বনের (১ম কার্বনের) সাথে। কাজেই সূত্রকের বাইরের দিকে ফসফেট এবং ভেতরের দিকে নাইট্রোজেন ক্ষারক থাকে।
(৬) DNA অণুতে চার ধরনের নাইট্রোজেন ক্ষারক (অ্যাভিনিন, গুয়ানিন, থাইমিন এবং সাইটোসিন) থাকে। অ্যাডিনিন (A) এর সম্পূরক ক্ষারক থাইমিন (1) এবং গুয়ানিন (G) এর সম্পূরক ক্ষারক সাইটোসিন (C)।
(৭) একটি সূত্রের অ্যাভিনিন অপর সূত্রের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দিয়ে (A::T/T::A) এবং একটি সূত্রের গুয়ানিন অপর সূত্রের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনী (G:::C/C:::G) দিয়ে যুক্ত হয়। কাজেই সিঁড়ির ধাপ হবে A::T অথবা G:::C। বন্ড তৈরি হয় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ক্ষারকের এর মধ্যে।
DNA অণুর সূত্র দুটির প্রতিটি প্যাচ বা ঘূর্ণনের দৈর্ঘ্য 34 A (34 nm)। প্রতিটি প্যাচে নাইট্রোজিনাস বেস জোড়ের ১০টি ধাপ সমদূরত্বে অবস্থান করে। ফলে সিড়ির এক ধাপ থেকে অপর ধাপের দূরত্ব হয় 3.4A (0.34
(৯) প্রতিটি প্যাচে হেলিক্স দুটির ব্যাস 20A (2 nm) তবে DNA অণুর দৈর্ঘ্য প্রজাতিভেদে বিভিন্ন।
(১০) হেলিক্সের প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাঁচ বা ঘূর্ণনে শৃঙ্খলের বাইরের দিকে একটি গভীর খাঁজ (major groove) ও একটি অগভীর খাঁজ (minor groove) সৃষ্টি হয়।
(১১ ) প্রতিটি ঘূর্ণনে মনোনিউক্লিওটাইডের সংখা
10 জোড়া বা ২০টি।
(১৫) প্রতিটি প্যাঁচে হাইড্রোজেন বন্ড সংখ্যা 25 টি।
(১৩) DNA-এর আণবিক ওজন 10°-10° এর মধ্যে।
d.
উদ্দীপকের “A” থেকে B তৈরির প্রক্রিয়াটি লিখো ।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের A থেকে B তৈরির প্রক্রিয়া হলো ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়া:
ট্রান্সক্রিপশন হলো DNA নির্দেশিত RNA সংশ্লেষণ। একটু বাড়িয়ে বলনে বলা যায়, “RNA পলিমারেজ এনজাইম এর DNA বেস সিকোয়েন্স কপি করে mRNA সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া হলো ট্রান্সক্রিপশন।” সহজ কথায় DNA থেকে mRNA তেরি প্রক্রিয়া হলো ট্রান্সক্রিপশন। ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে DNA কোড, RNA কোড হিসেবে রাসায়নিকভাবে পুনঃলিখিত DNA হলো ডাবল স্ট্র্যান্ড কিন্তু RNA হলো একক স্ট্র্যান্ডবিশিষ্ট। তাই ট্রান্সক্রিপশন হবে ডাবল স্ট্যান্ডের পরিবর্তে একক স্ট্যান্ডে। যে স্ট্র্যান্ডকে ছাঁচ (template) হিসেবে ব্যবহার করে ট্রান্সক্রাইব করা হবে সেই স্ট্র্যান্ডকে বলা হয় template srand, entisense strand বা non-coding strand। অপর স্ট্র্যান্ডটিকে (যে স্ট্র্যান্ড থেকে ট্রান্সক্রাইব হবে না) বলা হয় হাশিমেন্টারি স্ট্যান্ড, sense strand বা coding strand, কারণ DNA অণুর এই স্ট্র্যান্ডের বেস সিকোয়েন্স আর নতুনভাবে সই RNA অণুর বেস সিকোয়েন্স হবে হুবহু একই রকম, কেবল এর স্থলে । হবে। ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে জিন-এর যে অংশটুকু mRNA অণুতে রূপান্তরিত হবে। ঐ অংশটুকুই হলো ট্রান্সক্রিপশন ইউনিট।
(i) DNA ছাঁচ (template)
(ii) RNA-পলিমারেজ এনজাইম যা তিন প্রকার হতে পারে।
(iii) যুক্ত রাইবোনিউক্লিয়োটাইড ট্রাইফসফেট (ATP, GTP, CTP এবং UTP).
(iv) রাসায়নিক শক্তি, ট্রাইফসফেট ভেঙ্গে নিউক্লিয়োটাইড এবং পাইরোফসফেট সৃষ্টিকালে মুক্ত হয়। পাইরোফসফেট
ভেঙ্গে দুই আয়ন ফসফেট তৈরি কালেও কিছু অতিরিক্ত শক্তি পাওয়া যায়।
(v) কিছু সহযোগী প্রোটিন।
ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়া :
● DNA অণুতে গ্রথিত রাসায়নিক তথ্যগুলোকে RNA (mRNA) অণুতে কপি করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ট্রান্সক্রিপশন।
● এক্ষেত্রে ATP, GTP, CTP ও UTP উপকরণগুলো ব্যবহৃত হয়।
● এ প্রক্রিয়াটি কোষের নিউক্লিয়াসের মধ্যে সংঘটিত হয়ে থাকে।
● ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াটি রাইবোসোমের সাথে সম্পর্কিত নয়।
● এ প্রক্রিয়ায় RNA পলিমারেজ এনজাইম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রোমোটারে সংযুক্ত হওয়ার পর RNA পলিমারেজ প্রথমে DNA এর পাক খুলে নেয়।
Question 40
জীবদেহে দুই ধরনের কোষ বিভাজন দেখা যায়। একটি সমীকরণিক বিভাজন অপরটি হ্রাসমূলক বিভাজন, যার একটি ধাপে ক্রোমোজোমের অংশ বিনিময় ঘটে ।
[ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, 2024]
a.
মেসোজোম কী?
b.
কেন অ্যানোফিলিস মশকী ম্যালেরিয়া পরজীবী বহন করে?
c.
উদ্দীপকে উল্লেখিত ধাপটি চিত্রসহ বর্ণনা করো ।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের ধাপটি হলো প্যাকাইটিন ধাপ। প্যাকাইটিন ধাপটি চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো :

ক্রমাগত সংকোচনের ফলে এ উপ-পর্যায়ে ক্রোমোসোমগুলোকে আরও খাটো ও মোটা দেখা যায়। এ পর্যায়ে সর্বপ্রথম বাইডেলেন্টের প্রতিটি ক্রোমোসোমকে সেন্ট্রোমিয়ার ব্যতীত অনুদৈর্ঘ্যে দুটি ক্রোমাটিডে বিভক্ত দেখা যায়, অর্থাৎ প্রতি বাইডেলেন্টে দুটি সেন্ট্রোমিয়ার এবং চারটি ক্রোমাটিড থাকে। এ অবস্থাকে টেট্রাড বলে। প্যাকাইটিনের পূর্বে প্রতিটি ক্রোমোসোমের দুটি করে ক্রোমাটিড দৃষ্টিগোচর হয় না। একই ক্রোমোসোমের দুটি ক্রোমাটিডকে সিস্টার ক্রোমাটিড বলে এবং একই জোড়ার দুটি ভিন্ন ক্রোমোসোমের ক্রোমাটিডকে নন-সিস্টার ক্রোমাটিড বলে। এ উপ-পর্যায়ের শেষের দিকে বাইভেলেন্টের যে কোনো দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিড সম্ভবত একই স্থানে ভেঙে গিয়ে পুনরায় একটির সাথে অন্যটির জোড়া লাগে। ফলে ঐ জোড়ার হানে একটি ইংরেজি ‘X’ আকৃতির বা ক্রস চিহ্নের মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়। দুটি নিন-সিস্টার ক্রোমাটিডের ‘X’ আকৃতির বা ক্রস চিহ্নের মতো জোড়াহুলকে একবচনে কায়াজমা (Gk. Chiasma = cross) এবং বহুবচনে কায়াজমাটা বলে। নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে পরস্পর অংশের বিনিময়কে ক্রসিং ওভার বা ক্রস ওভার বলে।
d.
উদ্দীপকের কোষবিভাজনদ্বয় মানবজীবনে গুরুত্ব বহন করে-বিশ্লেষণ করো ।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের কোষ বিভাজনদ্বয় হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন ও মায়োসিস বিভাজন প্রক্রিয়া। উভয় কোষ বিভাজনদ্বয় মানব জীবনের জন্য গুরত্বপূর্ণ। নিচে বিস্তারিত দেয়া হল :
মায়োসিস কোষ বিভাজন ডিপ্লয়েড জীবের জনন মাতৃকোষে ঘটে থাকে। এ বিভাজন প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস একটি জটিল পরিবর্তনের মাধ্যমে দু’বার বিভক্ত হয় এবং বিভক্তির ফলে সৃষ্ট চারটি কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। তাই এ প্রকার কোষ বিভাজনকে মায়োসিস বা হ্রাসমূলক কোষ বিভাজন বলে। এ প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস দু’বার এবং ক্রোমোসোম একবার বিভক্ত হয়।
অপরদিকে যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃত কোষের নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোসোম উভয়ই একবার করে বিভক্ত হয় তা-ই মাইটোসিস কোষ বিভাজন।
উচ্চ শ্রেণির জীবে মায়োসিসের ফলে একটি জনন মাতৃকোষ হতে চারটি জনন কোষের সৃষ্টি হয় এবং প্রত্যেক কোষে মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোসোম থাকে। আমরা জানি, দুটি জনন কোষ (পুং জননকোষ এবং স্ত্রী জননকোষ) একসাথে মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোট পরে বার বার মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে একটি ভ্রূণ এবং ভ্রূণের কোষগুলো আরও বিভাজিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবের সৃষ্টি করে। কাজেই জননকোষগুলোতে ক্রোমোসোম সংখ্যা হ্রাস পেয়ে জনন মাতৃকোষের অর্ধেক না হলে তাদের যৌন মিলনের ফলে সৃষ্ট জীবে ক্রোমোসোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। হ্যাপ্লয়েড জীবে (যেমন-শৈবাল) দুটি গ্যামিটের যৌন মিলনের ফলে সৃষ্ট জাইগোটেও ক্রোমোসোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়। যেহেতু ক্রোমোসোমই জীবের লক্ষণ নিয়ন্ত্রণকারী জিন (gene) বহন করে, সেহেতু ক্রোমোসোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেলে সন্তান-সন্ততি আর তার পিতা-মাতার গুণসম্পন্ন হবে না এবং প্রত্যেকটি প্রজাতিতে একটি আমূল পরিবর্তন ঘটে যাবে। পরিণামে জীবজগৎ ধ্বংস হয়ে যাবে ডিপ্লয়েড জীবে গ্যামিট সৃষ্টিকালে জনন মাতৃকোষে এবং হ্যাপ্লয়েড জীবের জাইগোটে মায়োসিস হয় বলেই প্রজাতির ক্রোমোসোম সংখ্যা ও বৈশিষ্ট্য বংশ পরম্পরায় টিকে থাকে এবং জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষা পায়।
Question 41

[ চট্টগ্রাম কলেজ, 2024]
a.
SSB প্রোটিন কাকে বলে?
b.
জেনেটিক কোডের সার্বজনীনতা বলতে কী বুঝায়?
c.
উদ্দীপকে উল্লিখিত “A” এর গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের A চিত্রের দ্বি – সূত্রক ফিতার মতো অঙ্গানুটি হলো DNA বা ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড।এর গঠন নিচে দেয়া হল:
(১) DNA অণু দ্বিসূত্রক বিন্যাস ডান থেকে বাম দিকে প্যাঁচানো সিঁড়ির মতো, যাকে বলা হয় double helix।
(২) সূত্র দুটি সমদূরত্বে পরস্পর বিপরীতমুখী (একটি 5- 3′ কার্বনমুখী এবং অপরটি 3′ 5′ কার্বনমুখী) হয়ে অবস্থান করে।
(৩) সূত্র দুটি তৈরি হয় ডিঅক্সিরাইবোজ ব্যগার (S) ও ফসফেটের (P) পর্যায়ক্রমিক সংযুক্তির মাধ্যমে।
(৪) সূত্র দুটির মাঝখানের প্রতিটি ধাপ তৈরি হয় একজোড়া নাইট্রোজেন বেস (A-1 বা (GC) দিয়ে।
(৫) ফসফেট যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ ত্যগারের ও ও5 কার্বনের (৩য় ও ৫ম কার্বনের) সাথে এবং ক্ষারকগুলো যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ ত্যগারের। কার্বনের (১ম কার্বনের) সাথে। কাজেই সূত্রকের বাইরের দিকে ফসফেট এবং ভেতরের দিকে নাইট্রোজেন ক্ষারক থাকে।
(৬) DNA অণুতে চার ধরনের নাইট্রোজেন ক্ষারক (অ্যাভিনিন, গুয়ানিন, থাইমিন এবং সাইটোসিন) থাকে। অ্যাডিনিন (A) এর সম্পূরক ক্ষারক থাইমিন (1) এবং গুয়ানিন (G) এর সম্পূরক ক্ষারক সাইটোসিন (C)।
(৭) একটি সূত্রের অ্যাভিনিন অপর সূত্রের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দিয়ে (A::T/T::A) এবং একটি সূত্রের গুয়ানিন অপর সূত্রের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনী (G:::C/C:::G) দিয়ে যুক্ত হয়। কাজেই সিঁড়ির ধাপ হবে A::T অথবা G:::C। বন্ড তৈরি হয় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ক্ষারকের এর মধ্যে।
DNA অণুর সূত্র দুটির প্রতিটি প্যাচ বা ঘূর্ণনের দৈর্ঘ্য 34 A (34 nm)। প্রতিটি প্যাচে নাইট্রোজিনাস বেস জোড়ের ১০টি ধাপ সমদূরত্বে অবস্থান করে। ফলে সিড়ির এক ধাপ থেকে অপর ধাপের দূরত্ব হয় 3.4A (0.34
(৯) প্রতিটি প্যাচে হেলিক্স দুটির ব্যাস 20A (2 nm) তবে DNA অণুর দৈর্ঘ্য প্রজাতিভেদে বিভিন্ন।
(১০) হেলিক্সের প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাঁচ বা ঘূর্ণনে শৃঙ্খলের বাইরের দিকে একটি গভীর খাঁজ (major groove) ও একটি অগভীর খাঁজ (minor groove) সৃষ্টি হয়।
(১১ ) প্রতিটি ঘূর্ণনে মনোনিউক্লিওটাইডের সংখা
10 জোড়া বা ২০টি।
(১৫) প্রতিটি প্যাঁচে হাইড্রোজেন বন্ড সংখ্যা 25 টি।
(১৩) DNA-এর আণবিক ওজন 10°-10° এর মধ্যে।
d.
উদ্দীপকের “A” থেকে অনুরূপ “A” তৈরির প্রক্রিয়ার সাথে “B” তৈরির প্রক্রিয়ার তুলনা কর ।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের A থেকে A অর্থাৎ DNA থেকে DNA তৈরির প্রক্রিয়া হলো রেপ্লিকেশন আর A থেকে B অর্থাৎ DNA থেকে RNA তৈরির প্রক্রিয়া হলো ট্রান্সক্রিপশন।
যে প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃ DNA থেকে তার প্রতিরূপ দুটি DNA উৎপন্ন হয় তাকে DNA রেপ্লিকেশন বলে।অপরদিকে
DNA থেকে mRNA তৈরি প্রক্রিয়া হলো ট্রান্সক্রিপশন বলে।
এদের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করা হলো :
রেপ্লিকেশন প্রক্রিয়া :
● একটি কোষ বিভাজিত হয়ে দুটি কোষে পরিণত হওয়ার আগেই মাতৃকোষের DNA ডাবল হেলিক্সটিকে দুটি ডাবল হেলিক্স-এ পরিণত হতে হয়।
● কোষ বিভাজন শুরু হওয়ার আগে ইন্টারফেজ পর্যায়ে একটি DNA ডাবল হেলিক্স থেকে দুটি ডাবল হেলিক্স তৈরি হয়। এটিই হলো DNA অণুর রেপ্লিকেশন বা প্রতিলিপন।
● যে প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃ DNA থেকে তার প্রতিরূপ দুটি DNA উৎপন্ন হয় তাকে DNA রেপ্লিকেশন বলে। কোষ চক্রের S ধাপে DNA-এর রেপ্লিকেশন সম্পন্ন হয়।
● DNA অণুর রেপ্লিকেশন হয়ে থকে অর্থ-সংরক্ষণশীল পদ্ধতিতে (Semi-conservative method) অর্থাৎ নতুন সৃষ্ট ডাবল হেলিক্স-এর একটি হেলিক্স থাকবে পুরাতন এবং একটি হেলিক্স হবে নতুনভাবে সৃষ্ট।
ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়া :
● DNA অণুতে গ্রথিত রাসায়নিক তথ্যগুলোকে RNA (mRNA) অণুতে কপি করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ট্রান্সক্রিপশন।
● এক্ষেত্রে ATP, GTP, CTP ও UTP উপকরণগুলো ব্যবহৃত হয়।
● এ প্রক্রিয়াটি কোষের নিউক্লিয়াসের মধ্যে সংঘটিত হয়ে থাকে।
● ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াটি রাইবোসোমের সাথে সম্পর্কিত নয়।
● এ প্রক্রিয়ায় RNA পলিমারেজ এনজাইম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
● প্রোমোটারে সংযুক্ত হওয়ার পর RNA পলিমারেজ প্রথমে DNA এর পাক খুলে নেয়।
| পার্থক্যের বিষয় | রেপ্লিকেশন | ট্রান্সক্রিপশন |
| টেমপ্লেটসাবসট্রেটপ্রইমারএনজাইমপ্রোডাক্টনাইট্রোজেন বেস | ডাবল স্ট্র্যন্ডdNTPলাগেডি এন এ পলিমারেজডাবল স্ট্র্যন্ড ডিএন এA-T,C-G | সিঙ্গেল স্ট্র্যন্ড NTPলাগে নাআর এন এ পলিমারেজসিঙ্গেল স্ট্র্যন্ড আর এন এA-U,C-G,T-A, |
Question 42
মূলত প্রোটিন ও লিপিডযুক্ত স্থিতিস্থাপক একটি সজীব উপাদান যাবতীয় কোষীয় অঙ্গাণুকে সুরক্ষাসহ কোষ অভ্যন্তরে বিভিন্ন বস্তুর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। এটি উদ্ভিদ কোষে জড় উপাদানে তৈরি “বেষ্টনী” দ্বারা আবদ্ধ থাকে ।
[ চট্টগ্রাম কলেজ, 2024]
a.
পলিরাইবোজোম কী?
b.
“জীবনের ভৌত ভিত্তি” বলতে কী বুঝায় ?
c.
উদ্দীপকে শেষোক্ত বাক্যে উল্লিখিত “বেষ্টনী” র গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে কোষপ্রাচীরের কথা বলা হয়েছে । এর গঠন দেয়া হল:
কোষ প্রাচীরকে প্রধানত তিনটি ভিন্ন স্তরে (layers) বিভক্ত দেখা যায়।
- মধ্যপর্দা:মাইটোটিক কোষ বিভাজনের টেলোফেজ) (telophasc) পর্যায়ে এর সূচনা ঘটে। সাইটোপ্লাজম থেকে আসা ফ্ল্যোগমোপ্লাস্ট (phragmoplast) এবং গলগি বডি থেকে আসা পেকটিন) জাতীয় ডেসিবলস্ (vesicles or droplets) মিলিতভাবে মধ্যপর্দা সৃষ্টি করে।
- প্রাথমিক প্রাচীর :দ্বিতীয় স্তরটি হলো প্রাথমিক প্রাচীর (primary wall)। মধ্যপর্দার দু’পাশে সেলুলোজ (cellulose), হেমিসেলুলোজ (hemicellulose) এবং গ্লাইকোপ্রোটিন (glycoprotein) ইত্যাদি জমা হয়ে একটি পাতলা স্তর (১-৩ µm পুরু) তৈরি হয়। এটিই প্রাথমিক প্রাচীর।
- সেকেন্ডারী প্রাচীর :কোষ প্রাচীরের প্রধান উপাদান সেলুলোজ। কোনো কোনো কোষে (যেমন-ট্রাকিড, ফাইবার ইত্যাদি) প্রাথমিক প্রাচীরের অন্ততলে আর একটি স্বর তৈরি হয়। এটি সাধারণত কোষের বৃদ্ধি পূর্ণাঙ্গ হবার পর ঘটে থাকে। এ স্তরটি অধিকতর পুরু (৫-১০jum)। এতে সাধারণত সেলুলোজ এবং লিগনিন জমা হয়। এটি সেকেন্ডারি প্রাচীর (secondary wall) বা তৃতীয় স্তর। ভাজক কোষ এবং অধিক মাত্রায় বিপাকীয় অন্যান্য কোষে সেকেন্ডারি প্রাচীর তৈরি হয় না। সেকেন্ডারি প্রাচীর তিন স্তরবিশিষ্ট হয়।
d.
উদ্দীপকের প্রথমোক্ত বাক্যে উল্লিখিত উপাদানটির জৈবিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর
উত্তরঃ
উদ্দীপকের প্রথমোক্ত বাক্যে উল্লিখিত প্রোটিন ও লিপিডযুক্ত স্থিতিস্থাপক সজীব উপাদানটি হলো প্লাজমামেমব্রেন। প্লাজমামেমব্রেনের জৈবিক গুরুত্ব অনেক। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো—
কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেন কোষীয় সকল বস্তুকে ঘিরে রাখে । বাইরের প্রতিকূল অবস্থা থেকে কোষকে রক্ষা করে। কোষঝিল্লি কোষের আকার নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। এটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লি হিসেবে কাজ করে। কোষের বাইরে থেকে ভেতরে এবং ভেতর থেকে বাইরে বিভিন্ন অণুর যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করে এ কোষঝিল্লি। কোষের বিভিন্ন প্রকার অনুভূতি প্রেরণের উৎস হিসেবেও কাজ করে এ ঝিল্লি । কোষঝিল্লি স্বয়ংক্রিয়ভাবে’ এর ক্ষত নিরাময়ে সক্ষম। মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বড়ি, নিউক্লিয়ার পর্দার মতো কোষীয় অঙ্গাণু সৃষ্টিতে সাহায্য করে এ ঝিল্লি। সুতরাং কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেনের জৈবিক গুরুত্ব অপরিসীম।
Question 43
উদ্ভিদকোষে এমন একটি আবরণ বিদ্যমান, যা তাদের অনন্য বৈশিষ্ট্য। এছাড়া অপর এক ধরনের ঝিল্লি বিদ্যমান যা প্রধানত লিপোপ্রোটিন দ্বারা গঠিত ।
[ সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম, 2024]
a.
লাইসোসোম স্ট্যাবিলাইজার কী?
b.
অল্টারনেটিভ স্লাইসিং বলতে কী বুঝ?
c.
উদ্দীপকে উল্লেখিত লিপোপ্রোটিন দ্বারা গঠিত ঝিল্লিটির ভৌত গঠন বর্ণনা কর ।
d.
উদ্ভিদ দেহের শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে উল্লেখিত আবরণী ও ঝিল্লির ভূমিকা অনস্বীকার্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে কোষপ্রাচীর ও কোষঝিল্লির কথা বলা হয়েছে। উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় কাজে এদের ভূমিকা রয়েছে।
প্রতিটি উদ্ভিদকোষ একটি অপেক্ষাকৃত শক্ত ও জড় আবরণ দিয়ে আবৃত থাকে। এ জড় ও শক্ত আবরণকে কোষ প্রাচীর বলে। কোষ প্রাচীর উদ্ভিদকোষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
কোষ প্রাচীরের কাজ: (1) কোষের সুনির্দিষ্ট আকৃতি দান করা। (।।) বাইরের আঘাত হতে ভেতরের সজীব বস্তুকে রক্ষা করা; (iii) প্রয়োজনীয় শক্তি ও দৃঢ়তা প্রদান করা। (iv) পানি ও খনিজ লবণ শোষণ ও পরিবহণে সহায়তা করা; (v) এক কোষকে অন্য কোন হতে পৃথক করা: (১৮) কোষ প্রাচীরের কূপ এলাকা (ছিদ্র পথ) দিয়ে প্রয়োজনীয় বস্তু কোষের ভেতরে বা বাইরে চলাচল করে থাকে এবং (৬১) বহিঃ ও অগ্র উদ্দীপনার পরিবাহকরূপে প্লাজমোডেসমাটা কাজ করে।
প্রোটোপ্লাজম (Protoplasm) হলো কোষের অভ্যন্তরের অর্ধস্বচ্ছ, আঠালো এবং জেলির ন্যায় অর্ধতরল, কলয়ডালধর্মী সব্জীব পদার্থকে প্রোটোপ্লাজম বলে।
বিজ্ঞানী হাক্সলে (Huxley)-এর মতে প্রোটোপ্লাজম হচ্ছে জীবনের ভৌত ভিত্তি। কারণ প্রোটোপ্লাজমই কোষের তথা দেহের সকল মৌলিক জৈবিক কার্যাদি সম্পন্ন করে থাকে। এ জন্যই প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌত ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এতে (৭০% – ৯০% পানি থাকে।
কোষঝিল্লির কাজ:
(i) এটি কোষীয় সব বস্তুকে ঘিরে রাখে।
(ii) বাইরের প্রতিকূল অবস্থা হতে অভ্যন্তরীণ বস্তুকে রক্ষা করে।
iii) কোষঝিল্লির মধ্যদিয়ে বস্তুর স্থানান্তর, ব্যাপন নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (control and coordinate) হয়। ( (iv) ঝিল্লিটি একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করে যাতে বিশেষ এনজাইম এতে বিন্যস্ত থাকতে পারে।
(v) ভেতর থেকে বাইরে এবং বাইরে থেকে ভেতরে বস্তু স্থানান্তর করে।
৬(স) বিভিন্ন বৃহদাণু (macro-molecule) সংশ্লেষ করতে পারে।
(vii) বিভিন্ন রকম তথ্যের ভিত্তি (information source) হিসেবে কাজ করে।
(viii) পারস্পরিক বন্ধন, বৃদ্ধি ও চলন ইত্যাদি কাজেও এর ভূমিকা আছে।
(ix) ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কঠিন ও পিনোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় তরল বস্তু গ্রহণ করে।
( x) এনজাইম ও অ্যান্টিজেন ক্ষরণ করে।
(xi) কোষের বাইরে থেকে নিউরোট্রান্সমিটার, হরমোন ইত্যাদি রূপে তথ্য সংগ্রহ করে।
( xii) স্নায়ু উদ্দীপনা সংবহন করে।
(xiii) ব্যাকটেরিয়ার কোষঝিল্লি ভাঁজ হয়ে মেসোসোম সৃষ্টি করে যা শক্তি উৎপাদন করে। (xiv) গ্লাইকোক্যালিক্স কোষের চিহ্নিত (recognizer) হিসেবে কাজ করে।·
Question 44
সকল জীবকোষে এক ধরনের বস্তু আছে যা বংশপরম্পরায় জীবের বৈশিষ্ট্য বহন করে। আবার উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষে এক ধরনের অঙ্গাণু আছে যা কোষের ‘শক্তিঘর’ হিসেবে কাজ করে ।
[ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ, 2024]
a.
নিউক্লিওসাইড কী?
b.
রাইবোসোমকে সর্বজনীন অঙ্গাণু বলা হয় কেন?
c.
উদ্দীপকের প্রথম অংশে উল্লিখিত বস্তুটির প্রতিরূপ সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি অতি সংক্ষেপে বর্ণনা করো ।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের প্রথম জৈব এসিড টি হলো ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লক এসিড বা DNA।DNA অণুর রেপ্লিকেশন (Replication of DNA) বা প্রতিলিপন বা দ্বিত্বন প্রক্রিয়া দেয়া হল:DNA অণুর রেপ্লিকেশন তথা প্রতিলিপনের জন্য তিনটি অনুকল্প রয়েছে :
(১) সংরক্ষণশীল অনুকল্প,
(২) অর্ধ-সংরক্ষণশীল অনুকল্প এবং
(৩) বিচ্ছুরণশীল অনুকল্প।
সংরক্ষণশীল অনুকল্প ও বিচ্ছুরণশীল অনুকল্প পরবর্তীতে ভুল বলে প্রমানিত হয়, এবং অর্ধ- সংরক্ষণশীল অনুকল্পটি সঠিক হিসেবে প্রমানিত হয়।
অর্ধ-সংরক্ষণশীল প্রক্রিয়ায় DNA অণুর রেপ্লিকেশন বা প্রতিলিপন :এ প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃ DNA অণু থেকে দুটি নতুন DNA অণু সৃষ্টি হয়। নতুন সৃষ্ট DNA অণু দুটোর প্রত্যেকটিতে একটি মাতৃসূত্র এবং অন্যটি নতুন সূত্র থাকে। এজন্য একে অর্ধ-সংরক্ষণশীল অনুকল্প বা পদ্ধতি বলে।
কোষ বিভাজন শুরু হওয়ার আগে ইন্টারফেজ পর্যায়ে একটি DNA ডাবল হেলিক্স থেকে দুটি ডাবল হেলিক্স তৈরি হয়। এটিই হলো DNA অণুর রেপ্লিকেশন বা প্রতিলিপন। DNA অণুর রেপ্লিকেশন হয়ে থাকে অর্ধ-সংরক্ষণশীল পদ্ধতিতে অর্থাৎ নতুন সৃষ্ট ডাবল হেলিক্স-এর একটি হেলিক্স থাকবে পুরাতন এবং একটি হেলিক্স হবে নতুনভাবে সৃষ্ট।

d.
দ্বিতীয় অংশের অঙ্গাণুটি জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে মাইটোকন্ড্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। উদ্ভিদের প্রতিটি জীবন্ত কোষেই দিন-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা শ্বসনকার্য চলতে থাকে। কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াই শ্বসন ক্রিয়ার প্রধান অঙ্গাণু।শ্বসনের সবগুলো ধাপ (গ্লাইকোলাইসিস ব্যাতীত) মাইটোকন্ড্রিয়ায় সংঘটিত হয়।
শ্বসন হলো শক্তি নির্গমনকারী কতিপয় জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সমষ্টি।সকল সজীব উদ্ভিদকোষে (এবং সকল সজীব প্রাণিকোষে) প্রতিনিয়ত অব্যাহতভাবে বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া সংঘটিত হয় যার জন্য শক্তির দরকার হয়।এছাড়াও কোষের শক্তির প্রয়োজন হয়: বড় জৈব অণু, যেমন DNA, RNA, প্রোটিন ইত্যাদি সংশ্লেষ করা। সক্রিয় ট্রান্সপোর্ট প্রক্রিয়ায় জৈব অণু বা আয়ন মেমব্রেনের মধ্যদিয়ে আদান-প্রদান করা।এসব ক্রিয়া বিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি আসে জৈবযৌগ ভাঙ্গনের মাধ্যমে। ATP কখনও এক কোষ থেকে অন্যকোষে স্থানান্তরিত হতে পারে না, অথচ সকল কোষের জন্যই নিরবচ্ছিন্ন ATP সরবরাহ প্রয়োজন। এ কারণে প্রতিটি সজীব কোষেই শ্বসন গুরুত্বপূর্ণ।
যে কোনো জীবের জীবনে শ্বসনের গুরুত্ব অপরিসীম। উদ্ভিদ বা প্রাণীর প্রতিটি সজীব কোষেই শ্বসন প্রক্রিয়া
অব্যাহতভাবে চলতে থাকে। শ্বসন প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়া মানেই জীব বা সেই জীব কোষের মৃত্যু হওয়া। নিচে উদ্ভিদ জীবনে শ্বসনের গুরুত্ব সম্পর্কে অতি সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো।
১। জীবের দেহে শক্তি সরবরাহ। জীবের প্রতিটি প্রক্রিয়া (যা জীবনের বৈশিষ্ট্য) পরিচালনার জন্য শক্তির প্রয়োজন, আর এ শক্তি আসে শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। কাজেই শক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে জীবের সকল জৈবিক প্রক্রিয়া পরিচালিত করার মধ্যেই রয়েছে যে কোনো জীবের জীবনে শ্বসন প্রক্রিয়ার প্রকৃত গুরুত্ব।
২। খাদ্য প্রস্তুত। শ্বসন প্রক্রিয়ায় নির্গত CO₂ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয় এবং খাদ্য উৎপন্ন করে। সে খাদ্য যেমন উদ্ভিদ জীবনকে রক্ষা করে, তেমনই আবার সমগ্র প্রাণী জগতকেও রক্ষা করে।
৩। খনিজ লবণ পরিশোষণ: উদ্ভিদের খনিজ লবণ পরিশোষণে শ্বসন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শ্বসনের হার কম হলে লবণ পরিশোষণ হার কমে যায় এবং বৃদ্ধি ও অন্যান্য জৈবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
৪। কোষ বিভাজন ও দৈহিক বৃদ্ধি: শ্বসন প্রক্রিয়ার প্রভাব কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার উপরও প্রতিফলিত হয়। কোষ বিভাজনের প্রয়োজনীয় শক্তি ও কিছু আনুষঙ্গিক পদার্থ শ্বসন প্রক্রিয়া হতে আসে। তাই এ প্রক্রিয়া জীবের দৈহিক বৃদ্ধিও নিয়ন্ত্রণ করে।
৫। তাপমাত্রা রক্ষা। শ্বসনে সৃষ্ট তাপ জীবদেহের প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা বজায় থাকে।
৬। এনজাইম ও জৈব অ্যাসিড উৎপাদন: এ প্রক্রিয়া বিভিন্ন উপক্ষার ও জৈব অ্যাসিড সৃষ্টিতে সহায়তা করার মাধ্যমে জীবনের অন্যান্য জৈবিক কার্যক্রমেও সহায়তা করে।
৭। বায়ুমণ্ডলে CO₂ ও O₂ এর ভারসাম্য রক্ষা। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল হতে CO₂ গৃহীত হয় এবং ০₂ বর্জিত হয় কিন্তু শ্বসন প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল হতে ০₂ গৃহীত হয় এবং CO₂ বর্জিত হয়, তাই বায়ুমণ্ডলে CO₂ ও ০₂ এর ভারসাম্য রক্ষিত হয়।
৮। শিল্পে ব্যবহার: বিভিন্ন অণুজীবের অবাত শ্বসন প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে অ্যালকোহল, মদ, সিরকা, আচার, মাছ ও মাংসের সস ইত্যাদি উৎপাদন শিল্প প্রতিষ্ঠান।
দ্বিতীয় অংশের অঙ্গাণুটি অর্থাৎ মাইটোকন্ড্রিয়া জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে।
Question 45
অঙ্গাণু-E: সাইটোপ্লাজমিক ইনহেরিটেন্স, সকল প্রকৃত কোষে বিদ্যমান
অঙ্গাণু- F: সাইটোপ্লাজমিক ইনহেরিটেন্স, ফটোসিন্থেটিক কোষ বিদ্যমান
[ সিলেট এমসি কলেজ , 2024]
a.
প্রোটোপ্লাস্ট কী ?
b.
কোষীয়কঙ্কাল বলতে কী বুঝ ? ব্যাখ্যা কর।
c.
অঙ্গাণু F এর প্রকারভেদ সমূহ আলোচনা কর ।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের অঙ্গাণুটি হলো প্লাস্টিড। এর প্রকারভেদসহ বিস্তারিত নিচে দেয়া হল :
উদ্ভিদ কোষের সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্ত ডিম্বাকৃতি, ফিতাকৃতি অথবা তারকাকৃতি সঞ্জীব বর্ণাধার বস্তুগুলোই হলো প্লাস্টিড। স্ট্রোমা ও গ্রানা সমৃদ্ধ এবং লিপো-প্রোটিন ঝিল্লি দ্বারা সীমিত সাইটোপ্লাজমস্থ সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্রাঙ্গের নাম প্লাস্টিড।
প্লাস্টিড প্রধানত তিন প্রকার। যথা- (ক) লিউকোপ্লাস্ট, (৪) ক্রোমোপ্লাস্ট এবং (গ) ক্লোরোপ্লাস্ট। প্লাস্টিডগুলোর মধ্যে
ক্লোরোপ্লাস্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
(ক) লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast): এরা বর্ণহীন । আলোর
সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্টে, বিশেষ করে ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে।। মূল, ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ড প্রভৃতি যে সব অঙ্গে সূর্যালোক পৌছায় না সে সব অঙ্গের কোষে লিউকোপ্লাস্ট অবস্থি
অ্যামাইলোপ্লাস্ট: স্টার্চ বা শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য সঞ্চয়কারী লিউকোপ্লাস্টকে অ্যামাইলোপ্লাস্ট বলা হয়।
ইলায়োপ্লাস্ট :তেল ও চর্বিজাতীয় খাদ্য সঞ্চয়কারী লিউকোপ্লাস্টকে ইলায়োপ্লাস্ট বলা হয়।
অ্যালিউরোপ্লাস্ট : প্রোটিন সঞ্চয়কারী লিউকোপ্লাস্টকে অ্যালিউরোপ্লাস্ট বা প্রোটিনোপ্লাস্ট বলা হয়। কাজ। খাদ্য সঞ্চয় করে রাখা এবং শর্করা থেকে শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য তৈরি করা এদের প্রধান কাজ।
(খ) ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): রঙিন প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলা হয়। ক্যারোটিন (কমলা-লাল) এবং জ্যান্থোফিল (হলুদ) পিগমেন্টের জন্যে এরা রঙিন হয়। আকৃতিতেও এরা ভিন্নতর। উদ্ভিদের যে সব অঙ্গ বর্ণময় সে সব অঙ্গে ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে। যেমন-ফুলের পাপড়ি, রঙিন ফল ও বীজ, গাজরের মূল ইত্যাদি। সম্ভবত ক্লোরোপ্লাস্ট হতে ক্রোমোপ্লাস্ট সৃষ্টি হয়।
(গ) ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। ক্লোরোফিল-ও, ক্লোরোফিল-৮, ক্যারোটিন ও জ্যাক্ট্রোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু।
d.
অঙ্গাণু E এবং F এর কাজের তুলনামূলক আলোচনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া।নিচে মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টের মধ্যে পার্থক্য দেয়া হল :
| মাইটোকন্ড্রিয়া | প্লাস্টিড |
| রঞ্জক পদার্থ অনুপস্থিত। উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় কোষেই থাকে। অন্তঃপর্দা ভেতরের দিকে অসংখ্য ভাঁজযুক্ত, এদের ক্রিস্টি বলে। এটি অসম্পূর্ণ প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। শক্তি উৎপন্ন করা এর প্রধান কাজ। কোনো খাদ্য সঞ্চয় করে না। প্রধান রাসায়নিক উপাদান প্রোটিন, লিপিড ও নিউক্লিক অ্যাসিড। | বিভিন্ন রঞ্জক পদার্থ উপস্থিত। শুধুমাত্র উদ্ভিদ কোষে থাকে। অন্তঃপর্দায় কোনো ভাঁজ থাকে না, থাইলাকয়েড বিদ্যমান। এতে ৩ ধরনের প্রকোষ্ঠ শনাক্তযোগ্য। খাদ্য তৈরি করা এর প্রধান কাজ। লিউকোপ্লাস্ট খাদ্য সঞ্চয় করে। প্রধান রাসায়নিক উপাদান প্রোটিন, লিপিড, ক্লোরোফিল ও এনজাইম। |
Question 46

C = রাইবোজ শ্যুগারযুক্ত এক সূত্রক পলি নিউক্লিওটাইড
D = A ও B দ্বারা গঠিত জৈব অ্যাসিড
[ নটরডেম কলেজ, 2024]
a.
রেপ্লিকেশন ফর্ক কী?
b.
রাইবোসোম ও লাইসোসোমের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
c.
উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘D’ এর গঠন বর্ণনা করো।
d.
D থেকে C তৈরির প্রক্রিয়া চিত্রসহ বর্ণনা করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে D থেকে C তৈরির প্রক্রিয়া অর্থাৎ DNA থেকে RNA বা mRNA তৈরির প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করা হয়েছে যা সামগ্রিকভাবে ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে। চিত্রসহ প্রক্রিয়াটি নিচে বর্ণনা করা হলো-

i. RNA পলিমারেজ এনজাইমের ক্রিয়ায় DNA অণুর একটি নির্দিষ্ট অংশের হাইড্রোজেন বন্ধনগুলো ভেঙে গিয়ে ডাবল হেলিক্সের প্যাচ খুলে যায়। ফলে DNA অণুর এ অংশের প্রতিটি সূত্রকের নাইট্রোজেন ক্ষারকগুলো উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।
ii. প্যাচ খুলে যাওয়া DNA অণুর 3′-5′ সূত্রকের উন্মুক্ত প্রতিটি নাইট্রোজেন ক্ষারক তার সম্পূরক RNA নিউক্লিওটাইডকে আকর্ষণ করে অর্থাৎ DNA সূত্রকের উন্মুক্ত গুয়ানিন ক্ষারক সাইটোসিনযুক্ত RNA নিউক্লিওটাইডকে এবং অ্যাডেনিন ক্ষারক ইউরাসিলযুক্ত RNA নিউক্লিওটাইডকে আকর্ষণ করে । iii. RNA পলিমারেজ এনজাইম DNA অণুর নির্দিষ্ট দিক বরাবর ধাবিত হয়ে ডাবল হেলিক্স বিচ্ছিন্ন করে এবং Mgth বা Mn আয়নের সহায়তায় DNA অণুর 3′-5′ সূত্রকের উন্মুক্ত নাইট্রোজেন ক্ষারকের সাথে ক্রমাগত সক্রিয় পরিপূরক RNA নিউক্লিওটাইড যুক্ত করে mRNA শিকল গঠন করে।
iv. RNA পলিমারেজ এনজাইম DNA অণুর যে দিকে ডাবল হেলিক্স বিচ্ছিন্ন করে পরিপূরক RNA নিউক্লিওটাইড যুক্ত হওয়ার পর একই এনজাইমের সাহায্যে তার বিপরীত দিকে DNA অণুর পুনর্গঠন সংঘটিত হয়। অর্থাৎ DNA অণুর 3’5′ সূত্রকটি mRNA তৈরির ছাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
V. একই সময়ে একসাথে 12টি RNA নিউক্লিওটাইড যুক্ত mRNA শিকল গঠিত হয় এবং RNA পলিমারেজ এনজাইম অতি দ্রুত DNA অণুর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অসংখ্য mRNA শিকল গঠন করে। vi. সংশ্লেষিত mRNA অণু DNA অণুর নিউক্লিয়ার ছিদ্রের মাধ্যমে নিউক্লিয়াস থেকে বের হয়ে সাইটোপ্লাজমে চলে আসে এবং প্রোটিন সংশ্লেষণের স্থান রাইবোজোমে যায়।
Question 47
জীববিজ্ঞানের শিক্ষক একটি আদর্শ উদ্ভিদকোষের চিহ্নিত চিত্র আঁকলেন, যার বাইরে ‘M’ আবরণীটি নির্জীব কিন্তু ভেতরের ‘N’ আবরণীটি সজীব।
[Comilla , 2023]
a.
অটোলাইসিস কী?
b.
রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয় কেন?
c.
উদ্দীপকের ‘M’ আবরণটির ভৌত গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের M আবরণটি উদ্ভিদ কোষের কোষপ্রাচীর যা নির্জীব।
ভৌত গঠনঃ একটি বিকশিত কোষপ্রাচীর প্রধানত তিনটি স্তরে বিভক্ত দেখা যায়। এর প্রথমটি হল মধ্যপর্দা। মাইটোটিক কোষ বিভাজনের টেলোফেজ পর্যায়ে এর সূচনা হয়। সাইটোপ্লাজম থেকে আসা ফ্যাগমোপ্লাস্ট এবং গলগি বডি থেকে আসা পেকটিন জাতীয় ভেসিকল মিলিতভাবে মধ্যপর্দার সৃষ্টি করে।
সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, গ্লাইকোপ্রোটিন যা মধ্যপর্দার উপর জমা হয়ে একটি পাতলা স্তর ১-৩mm পুরু তৈরি করে। যা প্রাথমিক প্রাচীর। কোনো কোনো কোষে প্রাথমিক প্রচীরের উপর ১টি স্তর তৈরি হয়। কোষের পূর্ণাঙ্গ বৃদ্ধি হবার পর।এটি অধিকতর পুরু ৫-১০Nm, এতে সেলুলোজ এবং লিগনিন জমা হয়। সেকেন্ডারি প্রাচীর তিনস্তর বিশিষ্ট হয়।
চিত্রঃ কোষ প্রাচীরের গঠন
d.
উদ্দীপকের N আবরণীর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের ‘N’ আবরণটি কোষস্থ সজীব বস্তু প্রোটোপ্লাজম। কোষঝিল্লী, সাইটোপ্লাজম এবং নিউক্লিয়াস নিয়ে প্রোটোপ্লাজম গঠিত।
প্রোটোপ্লাজম বিভিন্ন ধরনের উত্তেজনায় সাড়া দেয়, খাদ্য তৈরি, খাদ্য হজম, আত্তিকরণ, শ্বসন, বৃদ্ধি, জনন মেটাবলিক কার্যকলাপ করে থাকে। প্রোটোপ্লাজমের জৈবিক বৈশিষ্ট্যই জীবের বৈশিষ্ট্য। পানি পরিশোষণে সাহায্য করে। নিউক্লিয়াসের কোষের সব ধরনের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এতে ক্রোমোজম থাকে যার জীবের বৈশিষ্ট্য রক্ষা পায়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ‘M’ অংশের গুরুত্ব অপরিসীম। বাইরের প্রতিকূল অবস্থা ব্যাপন ও বস্তুর স্থানান্তর, বৃহদানু সংশ্লেষণ, বন্ধন বৃদ্ধি চলনে উদ্দীপকে ‘M’ আবরণীর গুরুত্ব অপরিসীম।
Question 48

[Barisal , 2023]
a.
নিউক্লিওসাইড কী?
b.
কোডন বলতে কি বুঝ?
c.
উদ্দীপকের ‘Z’ এর গঠন লিখ।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের ‘Z’ ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়া।
(i) mRNA যা DNA থেকে জেনেটিক কোড বহন করে নিয়ে আসে। এটি প্রটিন সংশ্লেষণের ছাঁচরূপে ব্যবহার করা হয়।
(ii) tRNA যা সুনির্দিষ্ট অ্যামিনো এসিড বহন করে আনে। প্রতিটি অ্যামিনো এসিডের জন্য কমপক্ষে একটি tRNA থাকে। tRNA অণু খুবই ছোট। ৭৫-৮০ টি নিউক্লিয়োটাইড থাকে। tRNA – এর ৩ প্রান্তে অ্যামিনো-অ্যাসিড সংযুক্তির জন্য কোডন থাকে এবং মাঝামাঝি অবস্থায় বিপরীত দিকে mRNA -এর সাথে সংযুক্তির জন্য ৩ বেস এর একটি অ্যান্টিকোডন থাকে।
(iii) অ্যামিনো এসিড সাধারণত বিশ প্রকার। বিশ প্রকার অ্যামিনো-অ্যাসিডের জন্য ৬১ প্রকার কোডন থাকে।
(iv) রাইবোজোমঃ রাইবোজোম হল tRNA বসার মঞ্চ। প্রতিটি রাইবোজোম tRNA বসার জন্য দুটি স্থান থাকে, A -স্থান এবং P -স্থান। একটি রাইবোজোম যে কোনো mRNA -র সাথে এবং সকল tRNA এর সাথে সংযুক্ত হতে পারে।
(v) অ্যাক্টিভেটিং এনজাইমঃ এদেরকে সাধারণত অ্যামিনো-অ্যাসিড সিন্থেটেজ (Aminoacyl-tRNA Synthetases) বলে। প্রতিটি এনজাইমে তিনটি কার্যকরী সাইট থাকে; একটি নির্দিষ্ট অ্যামিনো-অ্যাসিডের জন্য,একটি ATP এর জন্য এবং একটি নির্দিষ্ট tRNA এর জন্য। এনজাইম প্রথমে অ্যামিনো-অ্যাসিড (AA) ও ATP এর সাথে ক্রিয়া করে AA-AMP bond তৈরি করে এবং পাইরুফসফেট বের হয়ে যায়। এরপর এটি tRNA এর সাথে যুক্ত হয়। দুটি অ্যামিনো অ্যাসিডের মধ্যে পেপটাইড বন্ড সৃষ্টির শক্তি এ পর্যায় থেকেই আসে। এনজাইমে tRNA -এর সাথে নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড সংযুক্তির পর AMP বের হয়ে যায় এবং পরে এনজাইম মুক্ত হয়।
d.
উদ্দীপকের প্রক্রিয়ায় ‘X’ ও ‘Y’ এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ
জীবদেহে জিন-এর প্রকাশের জন্য প্রয়োজন DNA-এর জিন অংশ থেকে RNA (mRNA) সৃষ্টি করা, যাকে বলা হয় ট্রান্সক্রিপশন, এবং mRNA থেকে পলিপেপটাইড চেইন তথা প্রোটিন সৃষ্টি করা, যাকে বলা হয় ট্রান্সলেশন। RNA নির্দেশিত পথে পলিপেপটাইড চেইন তথা প্রোটিন সংশ্লেষণের প্রক্রিয়াই হলো ট্রান্সলেশন। DNA থেকে তথ্য বা নির্দেশ ‘কপি’ করে থাকে mRNA । DNA এর ভাষাকে RNA এর মাধ্যমে প্রোটিনের ভাষায় রূপান্তরিত করাকে বলা হয় ট্রান্সলেশন। ট্রান্সলেশন রাইবোসোমে সংঘটিত হয়।
i) mRNA যা DNA থেকে জেনেটিক কোড বহন করে নিয়ে আসে। এটি প্রোটিন সংশ্লেষণের ছাঁচরূপে ব্যবহৃত হয়।
ii) tRNA যা সুনির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড বহন করে আনে। প্রতিটি অ্যামিনো অ্যাসিডের জন্য কমপক্ষে একটি tRNA থাকে। tRNA অণু খুবই ছোট। এতে ৭৫-৮০টি নিউক্লিয়োটাইড থাকে। tRNA-এর ৩ প্রান্তে অ্যামিনো অ্যাসিড সংযুক্তির জন্য কোডন থাকে এবং মাঝামাঝি অবস্থায় বিপরীত দিকে mRNA-এর সাথে সংযুক্তির জন্য ৩ বেস-এর একটি অ্যান্টিকোডন থাকে
iii) অ্যামিনো অ্যাসিড সাধারণত বিশ প্রকার। বিশ প্রকার অ্যামিনো অ্যাসিডের জন্য ৬১ প্রকার কোডন থাকে।
iv) রাইবোসোম হলো tRNA বসার মঞ্চ। প্রতিটি রাইবোসোমে tRNA বসার জন্য দুটি স্থান থাকে, A-স্থান এবং P-স্থান। একটি রাইবোসোম যে কোনো mRNA-র সাথে এবং সকল tRNA-র সাথে সংযুক্ত হতে পারে।
একটি নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিডের জন্য, একটি ATP-এর জন্য এবং একটি নির্দিষ্ট tRNA-এর জন্য। এনজাইম প্রথমে অ্যামিনো অ্যাসিড (AA) ও ATP এর সাথে ক্রিয়া করে AA-AMP bond তৈরি করে এবং পাইরুফসফেট বের হয়ে যায়। এরপর এটি tRNA এর সাথে যুক্ত হয়। দুটি অ্যামিনো অ্যাসিডের মধ্যে পেপটাইড বন্ড সৃষ্টির শক্তি এ পর্যায় থেকেই আসে। এনজাইমে tRNA-এর সাথে নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড সংযুক্তির পর AMP বের হয়ে যায় এবং পরে এনজাইম যুক্ত হয়।
সুতরাং একথা নির্দ্য় বলা যায় যে, উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি ট্রান্সলেশন এবং প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য mRNA ও tRNA ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
Question 49

[Dhaka , 2023]
a.
জিন কাকে বলে?
b.
কোষের গলজি বস্তুকে কোষের প্যাকেজিং কেন্দ্র বলা হয় কেন?
c.
উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘খ’ চিত্র গঠন ও কাজ বর্ণনা করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘খ’ চিত্রটি হচ্ছে RNA বা রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড। যে নিউক্লিক অ্যাসিডের পলিনিউক্লিওটাইডের মনোমার এককগুলোতে গাঠনিক উপাদানরূপে রাইবোজ সুগার এবং অন্যতম বেস হিসেবে ইউরাসিল থাকে, তাকে রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড বলে। রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিডকে সংক্ষেপে RNA বলা হয়।
RNA এর গঠন এবং কাজ :
RNA একটি একসূত্রক নিউক্লিক অ্যাসিড। এটি রাইবোজ সুগার, চার ধরনের নাইট্রোজেনযুক্ত বেগ এবং ফসফেট গ্রুপ নিয়ে গঠিত। চার ধরনের নাইট্রোজেনযুক্ত বেসের মধ্যে রয়েছে- দুধরনের পাইরিমিডিন ও দুধরনের পিউজিন। পাইরিমিডন বেস হচ্ছে সাইটোসিন ও ইউরাসিল এবং পিউরিন বেস হলো অ্যাডেনিন ও গুয়ানিন (উল্লেখ্য যে DNA এর মধ্যে উক্ত ৪ ধরনের বেস- এর মধ্যে ইউরাসিলের পরিবর্তে থাইমিন থাকে)। RNA একসূত্রক হলেও মাঝেমধ্যে নানারকম ভাঁজ সৃষ্টি করে দ্বিসূত্রক গড়নের মতো রূপ নেয়। ফাঁক হওয়া জায়গায় বেস-জোড়েরও সৃষ্টি হয়। RNA সূত্রের দৈর্ঘ্য নির্ভর করে নিউক্লিওটাইডের সংখ্যার উপর। ক্ষুদ্রতম RNA সূত্রে ২২টি (মাইক্রো RNA বা miRNA) এবং একটি বড় অনুতে ১০ হাজার নিউক্লিওটাইড (mRNA) থাকতে পারে।
১) RNA প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষ।
২) tRNA অ্যামিনো অ্যাসিড স্থানান্তর করে।
৩) mRNA DNA হতে বার্তা বহন করে রাইবোসোমে পৌঁছায়।
৪) rRNA রাইবোনিউক্লিয়োপ্রাটিন গঠন করে।
d.
উদ্দিপকের উল্লিখিত ‘ক’ চিত্রটির ‘M’ এবং ‘N’ এর উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর ভিত্তি করে জীব দেহর কোষীয় পার্থক্য রয়েছে-বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র-‘ক’ দ্বারা নিউক্লিয়াসকে এবং ‘M’ ও ‘N’ দ্বারা যথাক্রমে নিউক্লিয়াসের মেমব্রেন এবং নিউক্লিওলাসকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এবং নিউক্লিওলাসের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর ভিত্তি করে জীবকোষকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়, যথা- আদিকোষ এবং প্রকৃতকোষ। নিচে এদের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-
১. যেসব কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস অর্থাৎ নিউক্লিয়ার মেমব্রেন, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিওজালক থাকে না তাদেরকে আদিকোষ বলে। অন্যদিকে, যেসব কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস অর্থাৎ নিউক্লিয়ার মেমব্রেন, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিওজালক থাকে তাদেরকে প্রকৃতকোষ বলে।
২. আদিকোষে কোনো আবরণীবেষ্টিত অঙ্গাণু যেমন- মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বস্তু, লাইসোজোম ইত্যাদি থাকে না। কিন্তু প্রকৃতকোষে এসব অঙ্গাণু উপস্থিত।
৩. আদিকোষের নিউক্লিয়াসে শুধু একটিমাত্র ক্রোমাটিন বডি বা বৃত্তাকার এবং প্রান্তহীন DNA থাকে, কোনো ক্রোমোসোম গঠিত হয় না। অন্যদিকে প্রকৃতকোষের ক্রোমোসোম লম্বা, একাধিক ও দুই প্রান্তবিশিষ্ট এবং DNA সূত্রাকার।
৪. আদিকোষে অ্যামাইটোসিস বা দ্বি-বিভাজন কোষ বিভাজন দেখা যায় । কিন্তু প্রকৃতকোষে মাইটোসিস ও মায়োসিস কোষ বিভাজন দেখা যায় ৷
৫. ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া বা নীলাভ সবুজ শৈবাল, মাইকোপ্লাজমা ইত্যাদি আদিকোষের উদাহরণ । অন্যদিকে উন্নত সব ধরনের উদ্ভিদকোষ ও সকল প্রাণিকোষ প্রকৃতকোষের উদাহরণ।
Question 50

[Rajshahi , 2023]
a.
ট্রান্সক্রিপশন কি?
b.
নিউক্লিওটাইড বলতে কি বোঝায়?
c.
উদ্দীপকের ‘ K’ এর গঠন বর্ণনা কর।
d.
উদ্দীপকের ‘K’ এবং ‘L’ এর শারীবৃত্তীয় কাজ পরস্পর নির্ভরশীল বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দিপকের ‘K’ এবং ‘L’ অঙ্গাণু হচ্ছে যথাক্রমে মাইটোকন্ড্রিয়া ও প্লাস্টিড । এদের শারিরবৃত্তীয় কাজ পরস্পর নির্ভরশীল।
কোষের যাবতীয় কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করা মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ। এছাড়াও শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম, কো-এনজাইম প্রভৃতি ধারণ করে, শ্বসনের বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস্ চক্র, ইলেক্ট্রন ট্রান্সপোর্ট, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন সম্পন্ন করাও মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ। এছাড়াও এটি নিজস্ব DNA, RNA উৎপন্ন করে এবং বংশগতিতে ভূমিকা রাখে , প্রোটিন সংশ্লেষন ও স্নেহ বিপাকে সাহায্য করা। এরা Ca, K প্রভৃতি পদার্থের সক্রিয় পরিবহনে সক্ষম।) শুক্রাণু ও ডিম্বাণু গঠনে অংশগ্রহণ করে, কোষের বিভিন্ন অংশে ক্যালসিয়াম আয়নের সঠিক ঘনত্ব রক্ষা করে।
অপরপ্রান্তে, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করা ক্লোরোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। এছাড়াও ক্লোরোপ্লাস্ট সৌরশক্তিকে জৈবিকশক্তিতে রূপান্তর করে এবং বায়ুর CO, কে কোয়ান্টোসোমে সংবন্ধন করে। ক্লোরোপ্লাস্টের প্রয়োজনে প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড তৈরি করে ফটোফসফোরাইলেশন অর্থাৎ সূর্যালোকের সাহায্যে ADP-কে ATP-তে রূপান্তর করে , ফটোরেসপিরেশন করে সাইটোপ্লাজমিক ইনহেরিটেন্সে সাহায্য করা। এছাড়াও, বহিঃগঠন রক্ষণাত্মক এবং অভ্যন্তরে কাঁচামাল পাঠানো এবং অভ্যন্তর থেকে উৎপাদিত দ্রব্য বাইরে পাঠানো নিয়ন্ত্রণ করাও ক্লোরোপ্লাস্টের অন্যতম কাজ।
আমরা জানি, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ক্লোরোপ্লাস্টে উদ্ভিদ দেহের যে শর্করা (গ্লুকোজ) জমা হয়, তা উদ্ভিদ সরাসরি গ্রহণ করতে পারেনা। এই গ্লুকোজ হতে শক্তি উৎপাদনের জন্য বিপাক ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এই গ্লুকোজকে পরবর্তীতে শক্তিতে রূপান্তরের কাজটি করে থাকে মাইটোকন্ড্রিয়া। শ্বসনের প্রথম ধাপ অর্থাৎ গ্লাইকোলাইসিস সাইটোপ্লাজমে হলেও পরবর্তী ধাপগুলোঃ ক্রেবস চক্র এবং ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম সংঘঠিত হয় মাইটকন্ড্রিয়ায়। সুতরাং একথা স্পষ্ট যে, শক্তি উৎপাদন ও শারীর বৃত্তীয় কাজের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট এবং মাইটকন্ড্রিয়া একটি অপরটিকে ছাড়া অচল।
Question 51
নিচের চিত্র দুটি লক্ষ্য কর:

[Jessore , 2023]
a.
থাইলাকয়েড কী?
b.
লাইসোজোমকে আত্মঘাতী থলিকা বলা হয় কেন?
c.
উদ্দীপকের চিত্র-P” এর ভৌত গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দিপকের চিত্র ‘P’ হচ্ছে DNA ( ডি অক্সি রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড)।
সজীব কোষে অবস্থিত স্বপ্রজননশীল, পরিব্যক্তিক্ষম, সকল প্রকার জৈবনিক কার্যের নিয়ন্ত্রক এবং বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক যে নিউক্লিক অ্যাসিড তাকে DNA বলে। DNA হলো জীবের বংশগত। বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক। DNA হলো জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক। যা জীবনের আণবিক ভিত্তি।
DNA এর ভৌত গঠন:
১. দুটি পলিনিউক্লিওটাইড সূত্র পরস্পরের সাথে লোহার সিঁড়ির মতো ডানদিকে প্যাঁচানো থেকে একটি জোড় কুন্ডলী বা ডাবল হেলিক্স গঠন করে। এ সিড়ির দুদিকের হাতল নির্মিত হয় ডি-অক্সিরাইবোজ সুগার ও ফসফেট এর পর্যায়ক্রমিক সংযুক্তির মাধ্যমে এবং ধাপগুলো দুটি নাইট্রোজেন বেস দিয়ে গঠিত।
২. একটি নিউক্লিওটাইডের সুগারের ৫ম কার্বন অণুর সাথে ফসফেট যুক্ত থাকলে অপর নিউক্লিওটাইডের সুগার ৩য় কার্বন অণুর সাথে ফসফেট যুক্ত হয়। নাইট্রোজেন বেসটি সব সময় সুগারের ১ম কার্বনের সাথে যুক্ত থাকে।
৩. সিঁড়ির মতো প্যাচানো সূত্রদুটি একটি কাল্পনিক মধ্য অক্ষকে ঘিরে থাকে। সূত্র দুটি পরস্পরের সামান্তরালে কিন্তু বিপরীতমুখী হয়ে অবস্থান করে। অর্থাৎ একটি সূত্র 5’3′ মুখী এবং অন্যটি 3’5′ কার্বনমুখী অবস্থান থাকে ।
৪. বেসগুলো হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয়। কাজেই সিঁড়ির বাইরের দিকে থাকে ফসফেট এবং ভেতরের দিকে নাইট্রোজেন বেস। একটি সূত্রের গুয়ানিন অপর সূত্রের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয় এবং এক সূত্রের অ্যাডেনিন অপর সূত্রের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে সংযুক্ত থাকে।
৫. হেলিক্সের ব্যাস 20Å । দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হতে পারে।
৬. একটি পূর্ণাঙ্গ, প্যাচ প্রতি 34Å দূরত্বে সম্পন্ন হয়। প্যাচটি হয় ডান থেকে বাঁদিকে। দশ নিউক্লিওাইড জোড়ের পর একেকটি প্যাচ সম্পন্ন হয়। প্রতি প্যাঁচে থাকে প্রায় ২৫টি হাইড্রোজেন বন্ড।
৭. বেস জোড়গুলো পরস্পর থেকে 3.4Å দূরত্বে অবস্থিত।
৮. DNA-র দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হতে পারে, যেমন- মানুষের দেহেকোষের DNA-র দৈর্ঘ্য 174cm এবং ব্যাকটেরিয়ার DNA-র দৈর্ঘ্য 1.4 mm। DNA-র আণবিক ওজন 10-10° হতে পারে।
d.
প্রোটিন সংশ্লেষণে চিত্র-‘Q’ এর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দিপকের চিত্র “Q” হচ্ছে RNA যা প্রোটিন সংশ্লেষণে সহায়তা করে।
(ক) রাইবোজোম ও পলিরাইবোজোম: প্রতিটি রাইবোজোমের দুটি উপ-একক থাকে যথা, 30S 50S অথবা 40S ও 60S (ইউক্যারিওটের ক্ষেত্রে)। কোষের সাইটোপ্লাজমে এরা পৃথক পৃথকভাবে অবস্থান করলেও প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় মিলিত হয়ে 70S বা 80S গঠন করে। mRNA সাইটোপ্লাজমে এসে প্রথমে 30S বা 40S এর সাথে যুক্ত হয় এবং এ স্থানে কোডন ও অ্যান্টিকোডনের মিলন ঘটে প্রোটিন সংশ্লেষণকালে রাইবোজোমের উপ-একক দুটি যুক্ত হয়ে 70S বা 80S রাইবোজোম সৃষ্টি করে কিন্তু পলিপেপটাইড সংশ্লেষের শেষে এ উপ একক দুটি পুনরায় বিশ্লেষিত হয় এবং পুনরায় প্রোটিন সংশ্লেষে কার্য করে। সুতরাং 40S এবং 60S উপ-একক দুটি যুক্ত হয়ে mRNA সংকেত লিপি পাঠ করতে সাহায্য করে।
(খ) অ্যামাইনো এসিডের সক্রিয়তাঃ অ্যামাইনো এসিডগুলোকে tRNA-র সাথে যুক্ত হতে হলে প্রথমে সক্রিয় হতে হয়। অ্যামাইনো এসিডগুলো অ্যামাইনো এসিড সিনথিটেজ এনজাইমের উপস্থিতিতে ATP-র সাথে যুক্ত হয়ে অ্যামাইনো অ্যাসাইল অ্যাডিনোসিন মনোফসফেট ও পাইরোফসফেট তৈরি করে।
(গ) সক্রিয় অ্যামাইনো এসিড tRNA তে যুক্ত: সক্রিয় অ্যামাইনো এসিড অ্যামাইনো অ্যাসাইল সিনথিটেজ এনজাইমের প্রভাবে tRNA এর সাথে যুক্ত হয়ে অ্যামাইনো অ্যাসাইল tRNA যৌগে ও AMP তৈরি হয়।
(ঘ) প্রোটিন শৃঙ্খলের সূচনা: রাইবোজোমের বিশেষ দুটি স্থান আছে। একটি A-site এবং অপরটি P- site। রাইবোজোম গঠনের পরই প্রোটিন নির্মাণের জন্য mRNA এর প্রথম সংকেত AUG, A site এ অবস্থান করে এবং এর সাথে UAC অ্যান্টিকোডন দ্বারা সংযুক্ত হয় মেথিওনিন বহনকারী tRNA । প্রায় প্রত্যেক ক্ষেত্রে AUG কোডনটি প্রোটিন সংশ্লেষণ শুরু করার সংকেত বহন করে। mRNA এবং এর সাথে যুক্ত মেথিওনিন গ্রহনকারী tRNA A site হতে P-site এ সরে আসে (৫’ প্রান্তের দিকে)। এ অগ্রসরে ফলে পরবর্তী অ্যামাইনো এসিডের (ভ্যালিন) কোডন (GUU), A site এ পৌঁছায়। অতঃপর এ স্থানে ভ্যালিনের tRNA-র এন্টিকোডন AA এর সাথে GUU এর সংযোগ প্রতিস্থাপিত হয় ।
ঙ) পলিপেপটাইড শৃঙ্খলের সমাপন ও মুক্তকরণ: mRNA এর UAA, UAG এভং UGA কোডন তিনটি শৃঙ্খল সমাপ্তির কাজ করে, এদের শেষ নির্দেশকারী কোড বলা হয়। আবার এ কোডগুলো অ্যামাইনো
এসিডের অর্থ বহন করে না বলে এদের non-sence কোডন বলা হয়। ননসেন্স কোডন পলিপেপটাইড চেইনের শেষ নির্দেশ করে। ননসেন্স কোডনের প্রভাবে P স্থান থেকে tRNA-র সাথে যুক্ত পলিপেপটাইড চেইনটি আলাদা হয়ে যায় এছাড়া tRNA রাইবোজোম থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং রাইবোজোমের দুটি অংশ আলাদা হয়ে যায়। মুক্ত tRNA গুলো সাইটোপ্লাজমে নতুন অ্যামাইনো এসিডের সাথে যুক্ত হয়ে তাদের প্রোটিন উৎপাদনের স্থানে নিয়ে আসে এবং একইভাবে আরেকটি প্রোটিন অণু তৈরি করে।
অর্থাৎ প্রোটিন সংশ্লেষণ এ এর গুরুত্ব অপরিসীম।
Question 52
নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর-

[Jessore , 2023]
a.
কেমিঅসমোসিস কী?
b.
ATP কে জৈবমুদ্রা বলা হয় কেন?
c.
প্রক্রিয়া-১ যে অঙ্গাণুতে ঘটে তার গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দিপকের প্রক্রিয়া- ১ হচ্ছে। মাইটোকন্ড্রিয়া।
মাইটোকন্ড্রিয়া জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী ঝিল্লি দ্বারা সীমিত সাইটোপ্লাজমস্থ যে অঙ্গাণুতে ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট ইত্যাদি ঘটে থাকে এবং শক্তি উৎপন্ন হয় সেই অঙ্গাণুকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে। একে কোষের ‘পাওয়ার হাউস’ বা শক্তিঘর বলা হয়।
ভৌত গঠন:
১। আবরণী : প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ন লিপোপ্রোটিন বাইলেয়ারের দুটি মেমব্রেন নিয়ে গঠিত। বাইরের মেমব্রেনটি খাঁজবিহীন, মূলত ভেতরের অংশসমূহকে রক্ষা করাই এর প্রধান কাজ। বাইরের মেমব্রেন ভেদ করে বিভিন্ন ক্ষুদ্র অণু এবং আয়ন ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, আবার বের হয়ে যেতেও পারে। এতে কিছু ট্রান্সপোর্ট প্রোটিন থাকে যা প্রয়োজনে সক্রিয় ট্রান্সপোর্টে সহায়তা করে। এতে কোনো ETC, ATP Synthases, ATP তৈরির এনজাইম ইত্যাদি থাকে না। দুটি আবরণীর মধ্যে ব্যবধান ৬-৮ nm |
২। প্রকোষ্ঠ : দুই মেমব্রেনের মাঝখানের ফাঁকা স্থানকে বলা হয় বহিস্থ কক্ষ বা আন্তঃমেমব্রেন ফাঁক এবং ভতরের মেমব্রেন দিয়ে আবদ্ধ কেন্দ্রীয় অঞ্চলকে বলা হয় অভ্যন্তরীণ কক্ষ। অভ্যন্তরীণ কক্ষ জেলির ন্যায় ঘন সমসত্ত্ব ধাত্র দ্বারা পূর্ণ থাকে। একে ম্যাট্রিক্স বলে।
৩। ক্রিস্টি: বাইরের মেমব্রেন সোজা কিন্তু ভেতরের মেমব্রেনটি নির্দিষ্ট ব্যবধানে ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে আঙ্গুলের মতো প্রবর্ধক সৃষ্টি করে। এ অংশকে ক্রিস্টি বলে। এগুলো মাইটোকন্ড্রিয়ার ধাত্রকে কতগুলো অসম্পূর্ণ প্রকোষ্ঠে বিভক্ত করে। ক্রিস্টির মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানকে অন্তঃক্রিস্টি ফাঁকা স্থান বলে যা বহিঃপ্রকোষ্ঠের সাথে সংযুক্ত।
d.
প্রক্রিয়া-১ ও প্রক্রিয়া-২ এর মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে প্রক্রিয়া-১ এবং প্রক্রিয়া-২ হচ্ছে যথাক্রমে সবাত শ্বসন এবং অবাত শ্বসন।
যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় এবং শ্বসনিক বস্তু সম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে CO2, H2O ও বিপুল রিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে তাকে সবাত শ্বসন বলে। যে শ্বসন প্রক্রিয়া অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় তাকে অবাত শ্বসন বলে। এদের তুলনামূলক নিম্নরূপ:
১. অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পাইরুভিক অ্যাসিডের সবাত জারণ ঘটে। অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে পাইরুভিক অ্যাসিডের অবাত জারণ ঘটে।
২. সবাত শ্বসন এ নির্গত CO2 এর পরিমাণ বেশি। অবাত শ্বসন এ নির্গত CO2 এর পরিমাণ কম।
৩. সবাত শ্বসন পানি উৎপন্ন হয়। অবাত শ্বসন এ পানি উৎপন্ন হয় না।
৪. সবাত শ্বসন এ অ্যালকোহল কিংবা ল্যাকটিক অ্যাসিড উৎপন্ন হয় না। অবাত শ্বসন এ অ্যালকোহল কিংবা ল্যাকটিক অ্যাসিড উৎপন্ন হয়।
৫. সবাত শ্বসন এ কেবল উঁচুস্তরের উদ্ভিদে ঘটে। অবাত শ্বসন কেবল ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক প্রভৃতিতে ঘটে।
৬. সবাত শ্বসন এ নির্গত শক্তির পরিমাণ বেশি, প্রায় ৬৭৩ কিলোক্যালরি। অবাত শ্বসন এ নির্গত শক্তির পরিমাণ কম, মাত্র ২৪ কিলোক্যালরি।
৭. সবাত শ্বসন এ ৩৬টি ATP উৎপন্ন হয়। অবাত শ্বসন এ মাত্র ২টি ATP উৎপন্ন হয়।
৮. সবাত শ্বসন এ বিক্রিয়াগুলি আংশিক সাইটোপ্লাজমে ও আংশিক মাইটোকন্ড্রিয়াতে সংঘটিত হয়। অবাত শ্বসন এ সমস্ত বিক্রিয়া সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয়।
৯. শিল্পক্ষেত্রে সবাত শ্বসন প্রক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয় না। অ্যালকোহল ও জৈব অ্যাসিড উৎপন্ন শিল্পে অবাত শ্বসন প্রক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়।
Question 53
উদ্ভিদ কোষের বাইরের দিকে দুই ধরনের আবরণ দেখা যায়। একটি জড় এবং অন্যটি সজীব ।
[Dinajpur , 2023]
a.
সাইটোসোল কী?
b.
লাইসোসোমকে আত্মঘাতী থলিকা বলা হয় কেন?
c.
উদ্দীপকের ২য় ঝিল্লীর সবচেয়ে গ্রহণীয় মডেলটি বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের দ্বিতীয় ঝিল্লি অর্থাৎ সজীব ঝিল্লিটি হচ্ছে কোষ ঝিল্লি।
কোষ ঝিল্লির সবচেয়ে গ্রহণীয় মডেলটিকে বলা হয় ফ্লুইড মোজাইক মডেল। এ মডেল অনুযায়ী কোষ ঝিল্লি বীজ স্তর বিশিষ্ট প্রতিটি স্তর ফসফোলিপিড দিয়ে গঠিত এবং উভয় স্তরের হাইড্রোকার্বন লেজটি সামনাসামনি থাকে এবং হাইড্রোফিলিক অংশ বিপরীত দিকে থাকে । এখানে সেখানে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকে এবং অন্যান্য উপাদান ও ফসফোলিপিডের মাধ্যমে এখানে সেখানে মিশে যেতে পারে ।
ফ্লুইড-মোজাইক মডেল অনুযায়ী কোষঝিল্লির গাঠনিক উপাদান নিম্নরূপ :
- ফসফোলিপিড বাইলেয়ার : এটি দুই স্তরবিশিষ্ট এবং ফসফোলিপিড (অণু) দিয়ে তৈরি। প্রতিটি ফসফোলিপিডে এক অণু গ্লিসারল থাকে এবং গ্লিসারলের সাথে দুটি ননপোলার ফ্যাটি অ্যাসিড লেজ এবং একটি পোলার ফসফেট হেড থাকে। ফসফেট হেড ও ফ্যাটি অ্যাসিড লেজের মাঝে গ্লিসারল থাকে।
- মেমব্রেন প্রোটিন : কোষঝিল্লিতে তিন ধরনের প্রোটিন শনাক্ত করা হয়েছে : (i) ইনটিগ্রাল প্রোটিন- এগুলো ঝিল্লির উভয় সার্ফেস পর্যন্ত ব্যাপ্ত থাকে। (ii) পেরিফেরাল প্রোটিন-এগুলো ঝিল্লির সার্কেসে থাকে এবং (iii) লিপিড সম্পৃক্ত প্রোটিন-এগুলো লিপিড কোর-এ সম্পৃক্ত থাকে ।

- গ্লাইকোক্যালিক্স : এটি ঝিল্লির ওপর একটি চিনির স্তর বিশেষ। ফসফোলিপিড অণুর সঙ্গে কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খল যুক্ত হয়ে গ্লাইকোলিপিড ও প্রোটিন অণুর সাথে কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খল যুক্ত হয়ে গ্লাইকোপ্রোটিন গঠন করে। গ্লাইকোপ্রোটিন এবং গ্লাইকোলিপিডকে মিলিতভাবে গ্লাইকোক্যালিক্স বলা হয়। কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খলগুলো সবসময় ঝিল্লির বহিঃস্তরে অবস্থান করে।
- কোলেস্টেরল : এটি লিপিড জাতীয় পদার্থ। ফসফোলিপিড অণুর ফাঁকে ফাঁকে এগুলো অবস্থান করে। প্রাণি কোষের ঝিল্লিতে এটি অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে। সেল সার্ফেস (cell surfaces)-এ ভেদ্যতা (permeability) ও এনজাইমের লিপি কার্যকারিতা পরিবর্তনশীল হতে দেখা যায়। এতে বোঝা যায়, সার্ফেস এলাকা এবং এর উপাদান উভয়ই পরিবর্তনযোগ্য। লিপি, ফ্লুইড-মোজাইক মডেল অনুযায়ী এসব পরিবর্তনশীলতা ঘটা সম্ভব। এ মডেল অনুযায়ী প্রোটিন এবং গঠন উপাদানসমূহকে স্থির (fixed) ধরা হয় না, বরং মনে করা হয় এরা ফসফোলিপিডে ভেসে থাকে। ফলে বস্তুর একটি মোজাইক তৈরি হয়। প্রোটিনসমূহ আংশিক পানিগ্রাহী (hydrophilic -যখন ঝিল্লির সার্ফেস-এ থাকে) এবং আংশিক পানিরোধী (hydrophobic- যখন লিপিডের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় মাঝের দিকে থাকে) হতে পারে। এ মডেল কোষঝিল্লির কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিন হতে উৎপন্ন অন্যান্য দ্রব্যাদির (protein derivatives) উপস্থিতি সমর্থন করে।
d.
উদ্দীপকের ঝিল্লী দুটির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর ।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের ঝিল্লী দুটি হলো ঃ কোষ প্রাচীর এবং কোষ ঝিল্লী ।
একটি উদ্ভিদ কোষ অপেক্ষাকৃত শক্ত জড় আবরণ দিয়ে আবৃত থাকে, যাকে বলা হয় কোষ প্রাচীর । উদ্ভিদ কোষের মধ্য পর্দা এবং কোষঝিলের মাঝখানে জড় প্রাচীরের অবস্থান হয়। এককোষী উদ্ভিদ বা ব্যাকটেরিয়াতে কোষঝিলের বাইরে জড় প্রাচীরটির অবস্থান থাকে। কোষ প্রাচীর প্যাকটিক এসিড ক্যালসিয়াম পেকটেট এবং ম্যাগনেসিয়াম লবণ দিয়ে গঠিত হয় এছাড়াও তাতে অল্প পরিমাণে প্রোটোপেকটিন থাকে।
কোষ ঝিল্লি একটি সেলের অংশ যা সেলটির বাইরের সীমা দেওয়া থাকে। এটি সেলটির রক্ষা করে, সেলের অবস্থান স্থাপন করে। কোষ ঝিল্লি সেলটির প্রাচীর এবং সেলের অত্যন্ত দুর্বল অংশের সুরক্ষা ও ভিত্তি প্রদান করে। এটি সেলের অভ্যন্তরীণ সংযোগ প্রদান করে ।
প্রতিটি উদ্ভিদ কোষ সাধারণত বাইরের দিকে একটি নির্জীব জড় আবরণী দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে। কোষ প্রাচীর ও কোষ ঝিল্লীর মধ্যে পার্থক্য নিম্নরুপ-
১। কোষ প্রাচীর কোষের নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লীর কোষকে নির্দিষ্ট আকার দান করে।
২। কোষ প্রাচীর বাইরের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে প্রোটোপ্লাজমকে রক্ষা করে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লীর কোষ এর আভ্যন্তরীণ সকল বস্তুকে বেষ্টন করে রাখে।
৩। কোষ প্রাচীরের প্রয়োজনীয় শক্তি ও দৃঢ়তা প্রদান করে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লীর বাইরের সকল প্রতিকূল অবস্থা থেকে অভ্যন্তরীণ বস্তুকে রক্ষা করে।
৪। কোষ প্রাচীর কোষের ভেতরে ও বাইরে পানি ও খনিজ লবণ যাতায়াত কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লী কোষের বাইরে এবং ভেতরে পদার্থের স্থানান্তর নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করে (ভেদ্য, অভেদ্য বা অর্ধভেদ্য হিসেবে)।
৫। কোষ প্রাচীরের কোষগুলোকে পরস্পর থেকে পৃথক রাখে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লীর বিভিন্ন বৃহদাণু সংশ্লেষ করতে পারে।
Question 54
কোষীয় অঙ্গাণুগুলোর মধ্যে ‘ট্রাফিক পুলিশ’ ও কোষের ‘রান্নাঘর’ হিসেবে পরিচিত দুটি অঙ্গাণু রয়েছে। প্রথম অঙ্গাণুটি শুধু সবুজ উদ্ভিদ কোষে বিদ্যমান থাকলেও প্রাণীকূলের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য।
[Mymensingh , 2023]
a.
গ্রানাম কী?
b.
লাইসোজোমকে ‘আত্মঘাতী থলিকা’ বলা হয় — ব্যাখ্যা কর।
c.
উদ্দীপকে প্রথমে যে অঙ্গাণুটিকে নির্দেশ করা হয়েছে তার গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথমে যে অঙ্গাণুটিকে নির্দেশ করা হয়েছে তা হলো গলজি বস্তু। গলজি বস্তু মসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম বা নিউক্লিয়ার মেমব্রেন থেকে উৎপন্ন হয়। নিচে গলজি বস্তুর গঠন বর্ণনা * করা হলো-
গলজি বস্তু তিন ধরনের গঠন সমন্বয়ে গঠিত। যথা- ১. সিস্টারনি, ২. ভ্যাকুওল ও ৩. ভেসিকল।
১. সিস্টারনি: এরা পাতলা ঝিল্লিবেষ্টিত লম্বা, চ্যাপ্টা ও রসে পূর্ণ চৌবাচ্চা আকৃতির বা সরু নালিকাসদৃশ অংশ। এগুলো সংখ্যায় ২ – ২০টি হয় এবং পরস্পর সমান্তরালভাবে এবং কিছুটা বাঁকানো অবস্থায় থাকে। সম্ভবত মসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম থেকে এদের উৎপত্তি হয়।
২. ভ্যাকুওল বা বড় গহ্বর: সিস্টারনির পার্শ্বদেশে অবস্থিত গোলাকার বৃহৎ থলির মতো অংশকে ভ্যাকুওল বলে। সিস্টারনির প্রাচীর চওড়া হয়ে ভ্যাকুওলের সৃষ্টি করে। এগুলো দানাদার পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে। এদের ব্যাস প্রায় 60° A – 200° A।
৩. ভেসিকল বা ক্ষুদ্র গহ্বর: সিস্টারনি পরিধির দিকে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোলাকার থলির মতো বস্তুগুলো দেখা যায়, তাকে ভেসিকল বলে। এগুলো পৃথক পৃথক বা দলবদ্ধ থাকতে পারে এবং মসৃণ বা অমসৃণ আবরণী বিশিষ্ট হতে পারে। এদের ব্যাস প্রায় 30°-40° A ।
d.
উদ্দীপকের শেষের বাক্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। ক্লোরোপ্লাস্ট শুধুমাত্র সবুজ উদ্ভিদ কোষে বিদ্যমান থাকলেও প্রাণীকুলের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। নিচে বাক্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. খাদ্য প্রস্তুত : উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সরল শর্করা তৈরি হয়। এ সকল শর্করা হতে পরবর্তীতে বিভিন্ন বিপাকীয় পদ্ধতিতে স্নেহ, আমিষ, অ্যামিনো অ্যাসিড ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জৈব যৌগ সৃষ্টি হয় যেগুলো বিভিন্ন খাদ্যরূপে উদ্ভিদদেহে সঞ্চিত থাকে।
২. প্রাণীর খাদ্য : প্রাণীরা নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না। এরা খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল। উদ্ভিদদেহের ক্লোরোপ্লাস্টে তৈরিকৃত শর্করা ও খাদ্যরূপে সঞ্চিত বিভিন্ন যৌগকে প্রাণীরা ভক্ষণের মাধ্যমে গ্রহণ করে।
৩. শক্তির উৎস: পৃথিবীর সকল জীবদেহের বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে ব্যবহৃত সকল শক্তির একমাত্র উৎস হলো আলোকশক্তি। কেবল উদ্ভিদই ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোকশক্তিকে রাসায়নিক স্থিতিশক্তি হিসেবে বিভিন্ন খাদ্যে আবদ্ধ করে। উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৃদ্ধি এবং সকল শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যবহৃত শক্তি খাদ্যের মাধ্যমেই পেয়ে থাকে।
৪. প্রাণীর শ্বসন: প্রাণীর শ্বসন কাজে ব্যবহৃত অক্সিজেনের একমাত্র উৎস হলো উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্টে সংঘটিত সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট অক্সিজেন। এছাড়া প্রাণীর শ্বসনে সৃষ্ট CO₂ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলে O₂ ও CO₂ ভারসাম্য রক্ষা করে।
৫. পরিবেশ দূষণ রোধ: প্রাণীর শ্বসন এবং মানুষের বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কাজে সৃষ্ট CO₂ পরিবেশে দূষণ সৃষ্টি করছে। ভূপৃষ্ঠে বিস্তৃত বৃক্ষরাজি ও সমুদ্রের ফাইটোপ্লাঙ্কটন ক্লোরোপ্লাস্টে সংঘটিত সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ CO₂ গ্রহণ করে পরিবেশ দূষণ রোধ করছে এবং পৃথিবীকে প্রাণী তথা মানুষের বসবাসের যোগ্য রাখছে।
৬. ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা : ক্লোরোপ্লাস্টে সংঘটিত সালোকসংশ্লেষণের সময় উদ্ভিদ প্রচুর সৌরশক্তি শোষণ করায় ভূ-পৃষ্ঠের তপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকে।
৭. মানবসভ্যতা বিকাশে : ক্রমবিকশিত মানবসভ্যতা খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধ, জ্বালানি, জীবাশ্ম-জ্বালানি, কাগজ, আসবাবপত্র ইত্যাদির উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। আর এসব কিছুই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আসে উদ্ভিদজগৎ থেকে। উদ্ভিদদেহের সব কিছুই মূলত সালোকসংশ্লেষণের ফসল। এভাবে হাজার বছর ধরে গড়ে উঠা মানবসভ্যতা উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্টে সংঘটিত সালোকসংশ্লেষণের উপর নির্ভরশীল।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, ক্লোরোপ্লাস্টে সংঘটিত সালোকসংশ্লেষণ প্রাণিকুলের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য।
Question 55
উদ্ভিদ কোষের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন অংশের মধ্যে একটিতে “কোষের মস্তিষ্ক” এবং অন্যটিকে “কোষের রান্নাঘর” বলা হয়।
[Sylhet , 2023]
a.
নিউক্লিওসাইড কি?
b.
সমাপ্তি কোড বলতে কী বোঝায়?
c.
উদ্দীপকে প্রথমে উল্লেখিত অংশটির গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের প্রথমে উল্লেখিত অংশটি দ্বারা নিউক্লিয়াসকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে নিউক্লিয়াসের গঠন বর্ণনা করা হলো-
নিউক্লিয়াস হচ্ছে কোষের সেই অঙ্গানু যা বংশগতি উপাদানকে ধারণ করে এবং বিভাজনের মাধ্যমে অপত্য কোষের সঞ্চার করে। সকল প্রকার ইনক্যারিওটিক কোষের নিউক্লিয়াস পাওয়া যায়। নিউক্লিয়াসকে কোষের প্রাণকেন্দ্র, মস্তিষ্ক, কেন্দ্রিকা ইত্যাদি বলা হয়।
একটি আদর্শ নিউক্লিয়াস চারটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা-
১. নিউক্লিয়ার আবরণী বা নিউক্লিয়াস এনভেলপ: যে সজীব, অর্ধভেদ্য, লিপোপ্রটিন নির্মিত দ্বি-স্তরী আবরণী দ্বারা নিউক্লিয়াস আবৃত থাকে, তাকে নিউক্লিয়ার আবরণী বা নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বলে। এটি বহিঃস্তরী অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত, ছিদ্র গুলোকে নিউক্লিয়ার রন্ধ্র বলে। প্রতিটি ছিদ্র সংকোচন প্রসারণশীল। এ বহিঃস্তরের রাইবোজোম ও এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ও যুক্ত থাকে।
২. নিউক্লিওপ্লাজম: নিউক্লিয়াস মধ্যস্থ সমসত্ব, স্বচ্ছ, অর্ধতরন ও দানাদার ধাত্র পদার্থ, যার মধ্যে নিউক্লিয়াস ও ক্রোমাটিন তন্তু অবস্থান করে তাকে নিউক্লিওপ্লাজম বা ক্যারিওলিম্ফ বলে। এর প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো পানি, RNA, DNA, ফসফোপ্রোটিন, হিস্টোন, এনজাইম ও খনিজ লবণ ইত্যাদি।
৩. নিউক্লিয়াস: নিউক্লিয়াসের ভেতর যে ছোট অধিকতর ঘন গোলাকার ও অপেক্ষাকৃত উজ্জ্বল বস্তু দেখা যায় তাই নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াস সাধারণত নির্দিষ্ট ক্রোমোজোমের একটি নির্দিষ্ট স্থানে লাগানো থাকে সেই স্থানটিকে বলা হয় SAT বা স্যাটেলাইট। প্রতিটি নিউক্লিয়াসের একটি নিউক্লিওলাস থাকে। রাসায়নিকভাবে এতে প্রোটিন, লিপিড, DNA, RNA, কয়েক ধরনের এনজাইম, সামান্য খনিজ লবণ ইত্যাদি থাকে।
৪. ক্রোমোটিন জালিকা: ইন্টারফেস দশায় নিউক্লিওপ্লাজমে অবস্থিত যে সূক্ষ্মসূত্রাকার অংশ গুলো জালিকাকারে বিন্যস্ত থাকে তাদের ক্রোমোটিন তন্তু বা নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম বলে। প্রোমোটিন সূত্রগুলো নিউক্লিক অ্যাসিড এবং প্রোটিন দ্বারা গঠিত। কোষ বিভাজনের সময় এই ক্রোমোটিন জালিকা খুলে কতগুলো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সরু সুতার মতো অংশে পরিণত হয়, এদের ক্রোমোজোম বলে। কোষ বিভাজন অবস্থায় ক্রোমোটিন তন্তুগুলো ক্রমাগত কুন্ডলিত হয়ে অপেক্ষাকৃত খাটো ও মোটা হয়ে পৃথক পৃথকভাবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও আকৃতিতে দৃশ্যমান হয় তখন এদের ক্রোমোজোম বলে। ক্রোমোজোমে জিন অবস্থিত এবং জীন গুলোই প্রজাতির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য দায়ী।
d.
উদ্দীপকের শেষে উল্লেখিত অংশটি প্রানীজগতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে- বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের শেষে লিখিত অংশটি দ্বারা ক্লোরোপ্লাস্টকে নির্দেশ করা হয়েছে। প্রাণিজগতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে ক্লোরোপ্লাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
ক্লোরোপ্লাস্ট এক ধরনের সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড। ক্লোরোপ্লাস্ট লিপিড ও প্রোটিনের দ্বি-স্তর বিশিষ্ট পর্দার ভেতরে স্ট্রোমা নামক জলীয় মাধ্যমে অসংখ্য ফলে সদৃশ চাকতির সমন্বয়ে গঠিত এ চাকতির ভিতরে রয়েছে, ATP তৈরির যাবতীয় এনজাইম। এছাড়াও ফটোসিন্থেটিক ইউনিটে রয়েছে ক্লোরোফিল-এ, ক্লোরোফিল-বি, ক্যারেটিন এবং জ্যান্থোফিল।
ক্লোরোপ্লাস্ট এর প্রধান কাজ হল সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় CO2 ও পানির সাহায্যে শর্করা উৎপন্ন করা। এজন্য সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত কাজও করে থাকে ক্লোরোপ্লাস্ট। যেকোনো সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির জন্য এ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা উৎপন্ন করার সময় O2 উৎপন্ন করে। O2 ছাড়া কোন জীব বেঁচে থাকতে পারে না।
যেহেতু, এ প্রক্রিয়াগুলোর সাথে ক্লোরোপ্লাস প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তাই জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় এ কোষীয় অঙ্গাণুটি অপরিহার্য। আর এভাবেই ক্লোরোপ্লাস্ট জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Question 56

[Chittagong , 2023]
a.
প্লাসমোডেসমাটা কি?
b.
DNA এর অর্ধ সংরক্ষণ অনুলিপন বলতে কি বুঝায়?
c.
উদ্দীপকের ‘M’ দ্বারা নির্দেশিত অঙ্গানুর গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘M’ অঙ্গাণুটি হলো রাইবোসোম। নিচে রাইবোসোমের গঠন বর্ণনা করা হলো-
প্রোটিন ও RNA দ্বারা গঠিত ঝিল্লিবিহীন যে কোষীয় অঙ্গাণুটি প্রোটিন সংশ্লেষণের স্থান হিসেবে কাজ করে তাকে রাইবোসোম বলে। একে “প্রোটিন ফ্যাক্টরি” বা “প্রোটিন সংশ্লেষণের কারখানা” বলা হয়। রাইবোসোম আদিকোষের DNA (আদি ক্রোমোসোম) থেকে এবং প্রকৃত কোষের নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওলাস থেকে উৎপন্ন হয়। সকল সজীব কোষে রাইবোসোম থাকে। রাইবোসোম সাধারণত গোল বা বৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার, পার্শ্বীয়ভাবে চ্যাপ্টা পর্দাবিহীন এবং অত্যন্ত ক্ষুদ্র আকৃতির হয়। প্রতিটি কার্যকর রাইবোসোম দুটি অসম উপ-একক বা সাব-ইউনিট নিয়ে গঠিত। সাধারণত বড় উপ-এককটি গোলাকার ও ছোট উপ-এককটি ডিম্বাকার হয়।
ছোট উপ-এককটি বড় উপ-এককের উপরে অবস্থান করে। এদের ব্যাস ১৫০ – ২৬০ পর্যন্ত হতে পারে। অনেকগুলো রাইবোসোম -একটি সূক্ষ্ম mRNA সূত্রের সহায়তায় সংযুক্ত থাকলে তাকে পলিজোম বা পলিরাইবোসোম বলে। কোষভেদে রাইবোসোম দুই ধরনের হয়। যথা- 70 S হচ্ছে আদিকোষে (যার উপ-একক হলো 50 S ও 30 S) এবং 80 S হলো প্রকৃতকোষে (যার উপ-একক হলো 60 S ও 40 S)।
‘রাইবোসোমের প্রধান উপাদান হচ্ছে RNA ও প্রোটিন। এছাড়া অল্প পরিমাণে বিভিন্ন ধাতব আয়ন, যেমন- Mg++, Ca++ ও Mn++ থাকে।
d.
উদ্দীপকের N এর মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘N’ দ্বারা লাইসোসোমকে বুঝানো হয়েছে। লাইসোসোমকে কোষের আত্মঘাতি বা সুইসাইডাল স্কোয়াড বলা সত্ত্বেও একে কোষের প্রয়োজনীয় অঙ্গাণুও বলা হয়ে থাকে। নিচে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করা হলো-
লাইসোসোম পরিপাকে সাহায্য করে। প্রতিকূল পরিবেশে অর্থাৎ তীব্র খাদ্যাভাবের সময় বা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় লাইসোসোমের এনজাইম মুক্ত হয়ে কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুকে বিনষ্ট করে দেয়। এ কাজকে অটোফ্যাগী বা স্বগ্রাস বলে। এভাবে সমস্ত কোষটিও পরিপাক হয়ে যেতে পারে। একে বলা হয় অটোলাইসিস। এরা জীবদেহের অকেজো কোষসমূহকে অটোলাইসিস প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করে বলে এদের আত্মঘাতী থলিকা বা সুইসাইডাল স্কোয়াড বলা হয়। লাইসোসোম আত্মঘাতী থলিকা হওয়া সত্ত্বেও এটি কোষের জন্য
অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি অঙ্গাণু। যেমন-
১. লাইসোসোম ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
২. বিগলনকারী এনজাইমসমূহকে আবদ্ধ করে রেখে এটি কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুকে রক্ষা করে।
৩. কোষ বিভাজনকালে এরা কোষীয় ও নিউক্লিয় আবরণী ভাঙ্গতে সাহায্য করে। বীজের অঙ্কুরোদগমেও সাহায্য করে।
৪. শুক্রাণুর লাইসোসোম স্পার্মলাইসিন এনজাইম নিঃসৃত করে ডিম্বাণুর প্রাচীরের বিগলন ঘটিয়ে শুক্রাণুর প্রবেশ পথ সৃষ্টি করে।
৫. রূপান্তরকালে লাইসোসোম নিঃসৃত এনজাইম দেহের অংশবিশেষ (যেমন- ব্যাঙাচির লেজ, ফুলকা ইত্যাদি অবলুপ্তির সময়) অবলুপ্তিতে অংশ নেয়।
৬. লাইসোসোম কেরাটিন সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
৭. শ্বেত কণিকায় লাইসোসোম দেহের প্রতিরক্ষায় সাহায্য করে।
৮. তরুণাস্থি থেকে অস্থি গঠনের সময় লাইসোসোম নিঃসৃত এনজাইম বিশেষ ভূমিকা রাখে।
অতএব, উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, লাইসোসোম আত্মঘাতী থলিকা হওয়া স্বত্ত্বেও কোষের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে অংশগ্রহণ করে তাই একে প্রয়োজনীয় অঙ্গাণু বলা হয়।
Question 57
১৯৬৩ সালে যৌথভাবে তিনজন বিজ্ঞানী জীবকোষের অতিসূক্ষ্ম মলিকুলার অঙ্গাণুর ভৌত মডেল উপস্থাপনের জন্য নোবেল পুরস্কার পান। যা জীবনের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য প্রকাশের মৌলিক একক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা করে। অপর একটি সূক্ষ্ম অঙ্গাণু যা প্রোটিন সংশ্লেষণে এবং বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে জেনেটিক বস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
[Dhaka , 2022]
a.
ট্রান্সক্রিপশন কী?
b.
প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌত ভিত্তি বলা হয় কেনা হয় ?
c.
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় সূত্র মলিকুলার অঙ্গাণুটির শ্রেণিবিন্যাস বর্ণনা করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত দ্বিতীয় সূক্ষ্ম মলিকুলার অঙ্গাণু হলো RNA। যা একইসাথে প্রোটিন সংশ্লেষণে এবং জেনেটিক বস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (সংক্ষিপ্তকরণে আরএনএ বা RNA) হল একটি নিউক্লিক অ্যাসিড যা সরাসরি প্রোটিন সংশ্লেষণের সাথে জড়িত এবং পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শ্যুগার , নাইট্রোজেন বেস (A TGC) এবং ফসফেট নিয়ে RNA গঠিত। গঠন ও কাজের ভিত্তিতে RNA-কে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
(i) বার্তাবহ RNA (Messenger RNA /mRNA): এর প্রধান কাজ হলো বার্তা বহন করা। mRNA প্রোটিন তৈরির জন্য আমাদের ডিএনএ, জেনেটিক উপাদান থেকে নির্দেশনা বহন করে। এটি একটি বার্তাবাহকের মতো কাজ করে, নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরির ব্লুপ্রিন্ট বা রেসিপি বহন করে যা আমাদের দেহের কাজ করার জন্য প্রয়োজন।
(ii) ট্রান্সফার RNA বা tRNA) : যে সব RNA জেনেটিক কোড অনুযায়ী একেকটি অ্যামিনো অ্যাসিডকে mRNA অণুতে স্থানান্তর করে প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে সেগুলোকে ট্রান্সফার RNA বলে। এর কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় জেনেটিক কোড অনুযায়ী অ্যামিনো অ্যাসিডকে mRNA অণুতে স্থানান্তর করা। mRNA দ্বারা বাহিত নির্দেশাবলী অনুসারে tRNA প্রোটিনের বিল্ডিং ব্লকগুলিকে একত্রিত করতে সাহায্য করে, যাকে অ্যামিনো অ্যাসিড বলা হয়। এটি আমাদের কোষের ভিতরে প্রোটিন তৈরির অঙ্গাণু সমূহ কে সঠিক অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করে, প্রোটিনগুলি সঠিকভাবে তৈরি হয়েছে তা নিশ্চিত করে।
(iii) রাইবোসোমাল RNA বা rRNA) : যে সব RNA রাইবোসোমের প্রধান গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে, তাকে রাইবোসোমাল RNA বলে এটি রাইবোসোমের একটি অংশ, যা আমাদের কোষের ভিতরে প্রোটিন কারখানা। কোষের সমস্ত RNA-এর শতকরা ৮০-৯০ ভাগই rRNA কোষের রাইবোসোমে এদের অবস্থান। এর কাজ রাইবোসোম সৃষ্টিতে অবদান রাখা যার মাধ্যমে কোষে প্রোটিন সংশ্লেষিত হয়। রাইবোসোমগুলি mRNA থেকে নির্দেশাবলী পড়ে এবং rRNA ব্যবহার করে অ্যামিনো অ্যাসিডগুলিকে একত্রে লিঙ্ক করতে সাহায্য করে, লম্বা চেইন তৈরি করে যা প্রোটিন তৈরি করে।
(iv) বংশগতীয় RNA (Genetic RNA বা gRNA): জেনেটিক আরএনএ, বিশেষ করে মেসেঞ্জার আরএনএ (mRNA), আমাদের কোষের মধ্যে প্রোটিন সংশ্লেষণের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি আমাদের ডিএনএ থেকে রাইবোসোমে জেনেটিক তথ্য বহন করে, যা প্রোটিন তৈরির জন্য দায়ী। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বংশগতির বস্তু হিসেবেও কাজ করে (যেমন- TMV )।
(v) মাইনর RNA (Minor RNA) : সাইটোপ্লাজমীয় RNA ও নিউক্লীয় RNA নামে ক্ষুদ্র রঙা কোষে বিভিন্ন প্রোটিনের সাথে মিশে এনজাইমের কাঠামো তৈরী করে এরা মাইনর RNA হিসেবে পরিচিত। এর কাজ হলো বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের কাঠামো দান করা এবং এনজাইম হিসেবে কাজ করা।
d.
চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম মলিকুলার অঙ্গানুটির ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম মলিকুলার বস্তুটি হলো DNA। এটি জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
DNA হলো Deoxyribonucleic acid এর সংক্ষিপ্ত রূপ। DNA জীবনের আণবিক ভিত্তি (molecule more of life) হিসেবে স্বীকৃত। DNA বংশগতির সব ধরনের জৈবিক সংকেত বহন করার ক্ষমতা রাখে। প্রকৃত কোষের ক্রোমোসোমের মূল উপাদান হলো DNA একে “বংশগতির বাহক” বলা হয় কারণ এতে পিতামাতার কাছ থেকে তাদের সন্তানদের কাছে পাঠানো জেনেটিক তথ্য রয়েছে। যখন একটি শিশুর জন্ম হয়, তারা তাদের পিতামাতার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে ডিএনএ পায়। এটা মা এবং বাবা উভয়ের কাছ থেকে জিনের মিশ্রণ পাওয়ার মতো। এই জিনগুলি আমাদের চোখের রঙ, আমাদের নাকের আকৃতি এবং এমনকি আমাদের উচ্চতা বা আমরা কীভাবে নির্দিষ্ট খাবার প্রক্রিয়াজাত করার মতো জিনিসগুলি সম্পর্কে তথ্য বহন করে। DNA হলো একটি দীর্ঘ, ডাবল-স্ট্র্যান্ডেড অণু যা চারটি ভিন্ন ধরনের নাইট্রোজেনাস : অ্যাডেনিন (A), থাইমিন (T), গুয়ানিন (G), এবং সাইটোসিন (C)বেস দ্বারা গঠিত । এগুলো একটি নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে সাজানো থাকে যা একটি জেনেটিক কোড তৈরি করে। এই কোডে চোখের রঙ, চুলের রঙ এবং উচ্চতার মতো বৈশিষ্ট্য সহ একটি জীবের বিকাশ এবং কার্যকারিতার জন্য সমস্ত নির্দেশাবলী রয়েছে। প্রজননের সময়, পিতামাতার ডিএনএ থেকে জেনেটিক তথ্য ডিএনএ প্রতিলিপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সন্তানদের কাছে প্রেরণ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ডিএনএ কোডের অনুলিপি করা জড়িত, যাতে সন্তানের প্রতিটি নতুন কোষে পিতামাতার জেনেটিক তথ্যের একটি সঠিক অনুলিপি থাকে। মিয়োসিসের সময় যে প্রক্রিয়াটি শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু তৈরি করে, জিনগত উপাদানগুলিকে পুনরায় একত্রিত করা হয় যাতে প্রতিটি সন্তান তাদের পিতামাতার কাছ থেকে জিনের একটি অনন্য সংমিশ্রণ পায়, বংশের মধ্যে তারতম্য তৈরি করে।
সুতরাং, উপরিউক্ত আলোচনা সংক্ষেপ থেকে বলা যায়, ডিএনএ জেনেটিক তথ্য বহন করে যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রেরণ করা হয়। এটি আমাদের শরীরকে কীভাবে বিকাশ এবং কাজ করতে হয় তা বলে দিয়ে আমাদের বৈশিষ্ট্যগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে। আর তাই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণে ডিএনএ এর ভূমিকা অপরিসীম ।
Question 58
জীব কোষে ‘A’ অঙ্গাণুটি প্রোটিন ফ্যাক্টরি এবং ‘B’ অঙ্গাণুটি কোষের ট্রাফিক পুলিশ হিসেবে অভিহিত।
[Rajshahi , 2022]
a.
সাইক্লোসিস কী?
b.
রেপ্লিকেশন বলতে কী বোঝায়?
c.
‘A’ অঙ্গাণুটির গঠন বর্ণনা করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের ‘A’ অঙ্গাণুটি হলো প্রোটিন ফ্যাক্টরি অর্থাৎ রাইবোসোম।
রাইবোসোম প্রধানত উপ-বৃত্তাকার তবে সামান্য চ্যাপ্টা। রাইবোসোম প্রধানত বহু প্রকার প্রোটিন ও rRNA দিয়ে তৈরি। রাইবোসোমের বহু প্রোটিন মূলত এনজাইম। রাইবোসোম দুইটি উপএককে বিভক্ত, যথা:
ছোট উপ-একক: এতে মস্তক, পাদদেশ এবং মঞ্চ-এ তিনটি অংশ থাকে।
বড় উপ-একক: এটিতে চূড়া, বৃত্ত এবং কেন্দ্রীয় স্ফীত অংশ-এ তিনটি অংশ থাকে।

d.
জীবদেহে ‘B’ অঙ্গাণুটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ
জীবদেহে ‘B’ অঙ্গাণুটি কোষের ট্রাফিক পুলিশ হিসেবে অভিহিত অর্থাৎ এটি গলগি বডি ।
গলগি বডি নিউক্লিয়াসের কাছাকাছি অবস্থিত। এটি দ্বিস্তরবিশিষ্ট ঝিল্লি দ্বারা আবদ্ধ। মসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম থেকে গলডি বডি সৃষ্টি হয়। প্রায় সব প্রাণী কোষেই এরা থাকে।
এটি জীবদেহে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। যেমন:-
১) লাইসোসোম ও ভিটামিন তৈরি করে।
২) অ-প্রোটিন জাতীয় পদার্থের সংশ্লেষণ করে।
৩) কিছু এনজাইম ও প্রাণরস নির্গম করে।
৪) প্রোটিন, হেমিসেলুলোজ, মাইক্রোফাইব্রিল তৈরি করে।
৫) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামে প্রস্তুতকৃত দ্রব্যাদি ঝিল্লিবদ্ধ করে।
৬) প্রোটিন ও Vit-C সঞ্চয় করা।
৭) শুক্রাণু গঠনে সহায়তা করা। লিপিড সংশ্লেষণ ও প্রোটিন ক্ষরণের সাথে জড়িত থাকা।
এসব গুরুত্বপূর্ণ কাজ গলগি বডি করে থাকে।তাই জীবদেহে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
Question 59
জীবজগতে পিতামাতার বৈশিষ্ট্যগুলো সন্তান-সন্ততিতে স্থানান্তরিত হয় একটি জৈব অণুর মাধ্যমে। জীবের কোষবিভাজনের অন্যতম পূর্বশর্ত উক্ত জৈব অণুটির একটি থেকে দুটিতে পরিণত হওয়া। এ জৈব অণুটির সাথে রাইবোজ সমৃদ্ধ এক সূত্রক জৈব অণুর গুরুত্বপূর্ণ বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
[Comilla , 2022]
a.
মাইসেলি কী?
b.
ট্রিপলেট কোডন বলতে কী বোঝায়?
c.
উদ্দীপকে আলোচিত জৈব অণুটির দুটিতে পরিণত হওয়ার পদ্ধতি বর্ণনা করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে আলোচিত জৈব অণুটি একটি DNA। DNA-এর একটি থেকে দুটিতে পরিণত হওয়ার পদ্ধতি আলোচনা করা হলোঃ
যে প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃ DNA থেকে তার প্রতিরূপ দুটি DNA উৎপন্ন হয় তাকে DNA রেপ্লিকেশন বলে। কোষ চক্রের S ধাপে DNA-এর রেপ্লিকেশন সম্পন্ন হয়। DNA অণুর রেপ্লিকেশন হয়ে থাকে অর্ধ-সংরক্ষণশীল পদ্ধতিতে অর্থাৎ নতুন সৃষ্ট ডাবল হেলিক্স-এর একটি হেলিক্স থাকবে পুরাতন এবং একটি হেলিক্স হবে নতুনভাবে সৃষ্ট।
DNA অণুর রেপ্লিকেশনের ধাপসমূহ : প্রকৃত কোষে DNA রেপ্লিকেশন একটি জটিল প্রক্রিয়া। অর্ধ-সংরক্ষণশীল প্রক্রিয়ায় DNA রেপ্লিকেশনের ধাপসমূহ নিম্নরূপ :
ধাপ-১ : ডাবল হেলিক্স-এর দুটি স্ট্র্যান্ডকে একক স্ট্র্যান্ড-এ পৃথকীকরণ:
রেপ্লিকেশন শুরু হওয়ার জন্য DNA অণুর দুটো স্ট্র্যান্ডকে অবশ্যই একটি থেকে অপরটি পৃথক হতে হবে।
(i) প্রথমে হেলিকেজ এনজাইম অরি-তে সংযুক্ত হয়ে ডাবল হেলিক্স-এর প্যাচ খুলতে শুরু করে এবং হাইড্রোজেন বন্ড ভেঙ্গে DNA অণুর স্ট্র্যান্ড দুটিকে প্যাচমুক্ত ও পৃথক করে দেয়।
(iii) পৃথককৃত স্ট্র্যান্ড দুটিতে সংযুক্ত হয়ে যায় এবং এদের মাঝে পুনরায় হাইড্রোজেন বন্ড তৈরি হতে দেয় না।
(iv) রেপ্লিকেশনের জন্য পৃথক হওয়া প্রতিটি স্ট্র্যান্ড নতুন স্ট্র্যান্ড তৈরির ছাঁচ (template) হিসেবে ব্যবহৃত হয় । রেপ্লিকেশন অরিজিন থেকে হেলিকেজ এনজাইম DNA সূত্রের উভয় দিকে দুটি স্ট্র্যান্ডকে পৃথক করে থাকে।
ধাপ-২ : সম্পূরক স্ট্র্যান্ড তৈরিঃ
(i) DNA Polymerases প্রতিটি ছাঁচ স্ট্র্যান্ডের কমপ্লিমেন্টারি নতুন স্ট্র্যান্ড তৈরি করে রেপ্লিকেশনের কাজ করে থাকে ।
(ii) রেপ্লিকেশনের জন্য রেপ্লিকেশন ফর্ক তৈরি হলে সেখানে কেবলমাত্র দুটি পুরাতন স্ট্র্যান্ড থাকে যা নতুন স্ট্র্যান্ড তৈরির ছাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
(iii) RNA Primase একটি রেপ্লিকেশন এনজাইম যা RNA প্রাইমার তৈরি করে থাকে। এ এনজাইম পুরাতন একটি স্ট্র্যান্ডকে ছাঁচ হিসেবে ব্যবহার করে রেপ্লিকেশন ফর্কের কাছে একটি ক্ষুদ্র কমপ্লিমেন্টারি RNA সূত্র তৈরি করে দেয়।
(iv) DNA Polymerase- এনজাইম ছাঁচের একটি কমপ্লিমেন্টারি নিউক্লিওটাইড এনে RNA প্রাইমারের ৩’-প্রান্তে সংযুক্ত করে নতুন DNA স্ট্র্যান্ড তৈরির সূচনা করে এবং রেপ্লিকেশন কাজটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত একটির পর একটি নিউক্লিওটাইড সংযুক্তি চলতে থাকে।
(v) নতুন যে সূত্রটি নিরবচ্ছিন্নভাবে ফর্ক-এর দিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে তাকে বলা হয় লিডিং সূত্র (leading strand)। আর যে সূত্রটি রেপ্লিকেশন ফর্ক-এর বিপরীত দিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে তাকে বলা হয় ল্যাগিং সূত্র।
(vi) লিডিং সূত্র নিরবচ্ছিন্নভাবে তার প্রতিরূপ সৃষ্টি করে অগ্রসর হওয়ার কারণে ল্যাগিং সূত্রে জোড়াবিহীন নিউক্লিওটাইডের সারি তৈরি হয়। জোড়াবিহীন নিউক্লিওটাইডের সারিটি একটু লম্বা হলে প্রাইমেজ এনজাইম কার্যকরী হয় এবং একটি প্রাইমার তৈরি করে অনুলিপন কাজ শুরু হয়।
(vii) DNA অণুর রেপ্লিকেশনে ল্যাগিং সূত্রের খণ্ড খণ্ড বিচ্ছিন্ন অংশকে লাইগেজ এনজাইম মধ্যকার গ্যাপকে সংযুক্ত করে নতুনভাবে সৃষ্ট অংশকে নিরবচ্ছিন্নতা দান করে।
(viii) একই সাথে DNA ডাবল হেলিক্স-এর বিভিন্ন স্থানে রেপ্লিকেশন কার্য শুরু হওয়াতে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিপূর্ণ ডাবল হেলিক্সটিই রেপ্লিকেটেড হয়ে দুটি ডাবল হেলিক্স-এ পরিণত হয় অর্থাৎ প্রতিলিপন সমাপ্ত হয়।
d.
উদ্দীপকের শেষ বাক্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের শেষ লাইনটি হলো এ জৈব অণুটির সাথে রাইবোজ সমৃদ্ধ এক সূত্রক জৈব অণুর গুরুত্বপূর্ণ বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। এখানে প্রথম জৈব অণুটি হলো DNA আর রাইবোজ সমৃদ্ধ এক সূত্রক জৈব অণুটি হলো RNA। DNA ও
RNA এর মধ্যে পার্থক্য নিম্নে বিদ্যমানঃ

সুতরাং বলা যায় DNA ও RNA এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান, অর্থাৎ উক্তিটি যথার্থ।
Question 60
P অঙ্গাণু: প্রোটিন তৈরির কারখানা।
Q অঙ্গাণু: আত্মঘাতী থলিকা।
[Barisal , 2022]
a.
কোষ কী?
b.
কোষের শক্তিঘর বলতে কী বোঝায়?
c.
উদ্দীপকে বর্ণিত ‘P’ অঙ্গাণুর গঠন বর্ণনা করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের P অঙ্গাণুটি হলো প্রোটিন তৈরির কারখানা অর্থাৎ রাইবোজোম।
নিচে এর গঠন ব্যাখা করা হলো-
রাইবোসোম প্রধানত উপ-বৃত্তাকার তবে সামান্য চ্যাপ্টা। রাইবোসোম প্রধানত বহু প্রকার প্রোটিন ও rRNA দিয়ে তৈরি। রাইবোসোমের বহু প্রোটিন মূলত এনজাইম। রাইবোসোম দুইটি উপএককে বিভক্ত, যথা ছোট উপ-এককঃ এতে মস্তক, পাদদেশ এবং মঞ্চ-এ তিনটি অংশ থাকে।
বড় উপ-এককঃ এটিতে চূড়া, বৃত্ত এবং কেন্দ্রীয় স্ফীত অংশ-এ তিনটি অংশ থাকে ।

d.
উদ্দীপকে বর্ণিত ‘Q’ অঙ্গাণুর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের Q অঙ্গাণুটি হলো লাইসোসোম।একে আত্নঘাতী থলিকা বলা হয়।
লাইসোসোম কোষের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত। এটি দ্বি-স্তরবিশিষ্ট এবং লিপো-প্রোটিন মেমব্রন দ্বারা আবৃত। এটি প্রাণী কোষে পাওয়া যায়।
লাইসোসোম অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে।যেমন-
১) এরা ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে জীবাণু ধ্বংস করে।
২) বিগলনকারী এনজাইমসমূহকে আবদ্ধ করে রেখে এটি কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুকে রক্ষা করে।
৩) লাইসোসোম অন্তঃকোষীয় পরিপাক কাজে সাহায্য করে।
৪) এরা জীবদেহের অকেজো কোষসমূহকে অটোলাইসিস পদ্ধতিতে ধ্বংস করে বলে এদের আত্মঘাতী থলিকা বা স্কোয়াড বলা হয়।
৫) কোষ বিভাজনকালে এরা কোষীয় ও নিউক্লীয় আবরণী ভাঙ্গতে সাহায্য করে।
৬) এরা কোষে কেরাটিন প্রস্তুত করে।
৭) টিস্যু বিগলনকারী অ্যাসিড ফসফেটেজ এনজাইম থাকে
৮) শুক্রাণুর লাইসোসোম নিঃসৃত হায়ালিউরোনিডেজ এনজাইম ডিম্বাণুর আবরণের অংশবিশেষের বিগলন ঘটায়।
সুতরাং বলা যায়, লাইসোসোম অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
Question 61

[Barisal , 2022]
a.
জেনেটিক কোড কী?
b.
ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়া বলতে কী বোঝায়?
c.
উদ্দীপকে প্রদর্শিত ‘S’ এর প্রকারভেদ বর্ণনা করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে প্রদর্শিত S হলো RNA.
রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (সংক্ষিপ্তকরণে আরএনএ বা RNA) হল একটি নিউক্লিক অ্যাসিড যা সরাসরি প্রোটিন সংশ্লেষণের সাথে জড়িত এবং পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শ্যুগার, নাইট্রোজেন বেস (A TGC) এবং ফসফেট নিয়ে RNA গঠিত ।
গঠন ও কাজের ভিত্তিতে RNA-কে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
(i) বার্তাবহ RNA (Messenger RNA /mRNA): এর প্রধান কাজ হলো বার্তা বহন করা । mRNA প্রোটিন তৈরির জন্য আমাদের ডিএনএ, জেনেটিক উপাদান থেকে নির্দেশনা বহন করে। এটি একটি বার্তাবাহকের মতো কাজ করে, নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরির ব্লুপ্রিন্টবা রেসিপি বহন করে যা আমাদের দেহের কাজ করার জন্য প্রয়োজন।
(ii) ট্রান্সফার RNA বা tRNA): যে সব RNA জেনেটিক কোড অনুযায়ী একেকটি অ্যামিনো অ্যাসিডকে mRNA অণুতে স্থানান্তর করে প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে সেগুলোকে ট্রান্সফার RNA বলে। এর কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় জেনেটিক কোড অনুযায়ী অ্যামিনো অ্যাসিডকে mRNA অণুতে স্থানান্তর করা।
(iii) রাইবোসোমাল RNA বা rRNA: যে সব RNA রাইবোসোমের প্রধান গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে, তাকে রাইবোসোমাল RNA বলে ।কোষের রাইবোসোমে এদের অবস্থান।এর কাজ রাইবোসোম সৃষ্টিতে অবদান রাখা যার মাধ্যমে কোষে প্রোটিন সংশ্লেষিত হয়।
(iv) বংশগতীয় RNA (Genetic RNA বা gRNA); এটি ডিএনএ থেকে রাইবোসোমে জেনেটিক তথ্য বহন করে, যা প্রোটিন তৈরির জন্য দায়ী । কোনো কোনো ক্ষেত্রে বংশগতির বস্তু হিসেবেও কাজ করে ।
(v) মাইনর RNA (Minor RNA): এর কাজ হলো বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের কাঠামো দান করা এবং এনজাইম হিসেবে কাজ করা।
d.
উদ্দীপকে নির্দেশিত ‘R’ এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে প্রদর্শিত R হলো DNA.
ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড অর্থাৎ DNA একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে। সকল জীবের ডিএনএ জিনোম থাকে।
DNA কে বংশগতির ধারক ও বাহক বলা হয়। এছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ন কাজ DNA করে থাকে যেমন-
১। DNA ক্রোমোসোমের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
২। এটি বংশগতির আণবিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
৩। জীবের সকল বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং নিয়ন্ত্রণ করে।
৪। জীবের বৈশিষ্ট্যসমূহ বংশপরম্পরায় স্থানান্তর করে।
৫। জীবের যাবতীয় বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায়।
৬। জীবের সকল শারীরতাত্ত্বিক ও জৈবিক কাজকর্মের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
৭। জীবের পরিবৃত্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
৮। জীবকোষের জৈবিক সংকেত প্রেরক হলো DNA।
৯। DNA-রেপ্লিকেশন বা প্রতিলিপন প্রক্রিয়া জীবের জাতিসত্ত্বা অটুট রাখে এবং প্রজাতি শনাক্তকরণে DNA ভূমিকা রাখে।
সুতরাং বলা যায়, জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় DNA এর ভূমিকা অপরিসীম।
Question 62
উদ্ভিদকোষে এমন দুটি অঙ্গাণু উপস্থিত যার প্রথমটি না থাকলে কোষটিতে সবাত শ্বসন সম্পন্ন হয় না এবং অপরটির ওপর পৃথিবীর সকল জীবকুল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল।
[Jessore , 2022]
a.
জিন কি?
b.
ট্রান্সক্রিপশন কি?
c.
উদ্দীপকের প্রথম অঙ্গাণুটির গঠন লেখ।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের প্রথম অঙ্গানুটি না থাকলে সবাত শ্বসন হতো না, সুতরাং অঙ্গানুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া।
মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন নিচে ব্যাখ্যা করা হলো –
১. আবরণী : মাইটোকন্ড্রিয়ার দুইটি আবরণ আছে। এগুলো লিপোপ্রোটিন বাইলেয়ারের নিয়ে গঠিত।
২. প্রকোষ্ঠ : দুই মেমব্রেনের মাঝখানের ফাঁকা স্থানকে বলা হয় প্রকোষ্ঠ বা আন্তঃমেমব্রেন ফাঁক এবং ভেতরের মেমব্রেন দিয়ে আবদ্ধ কেন্দ্রীয় অঞ্চলকে বলা হয় অভ্যন্তরীণ কক্ষ। এখানে জেলির মতো ঘন বস্তু থাকে এদের ম্যাট্রিক্স বলে।
৩. ক্রিস্টি বা প্রবর্ধক : ভেতরের দিকে আঙ্গুলের মতো ভাঁজ হয়ে প্রবর্ধক সৃষ্টি করে, এগুলোকে ক্রিষ্টি বলে।
৪. অক্সিসোম: মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃআবরণীর অন্তর্গাত্রে অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য দানা লেগে থাকে। এদের অক্সিসোম বলে।
৫. ATP-Synthases ও ETC: ক্রিস্টিতে স্থানে স্থানে ATP-Synthases নামক গোলাকার বস্তু আছে। এতে ATP সংশ্লেষিত হয়।
৬. বৃত্তাকার DNA ও রাইবোসোম: মাইটোকন্ড্রিয়ার নিজস্ব বৃত্তাকার DNA এবং 70 S রাইবোসোম রয়েছে।

d.
উদ্দীপকের আলোকে দ্বিতীয় অঙ্গাণুটির খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশীয় গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত আছে যে,দ্বিতীয় অঙ্গানুটির উপর পৃথিবীর সকল জীবকুল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। অর্থাৎ এটি ক্লোরোপ্লাস্ট। এটি খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
ক্লোরোপ্লাস্ট, এটি জীবজগতের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ন। এটি একটি কোষ অঙ্গাণু এবং সবুজ রঞ্জক পদার্থ ক্লোরোফিল ধারণ করে, তাই একে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার দ্বারা শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করা কোরোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। এতে ফটোফসফোরাইলেশন অর্থাৎ, সূর্যের আলোর সহায়তায় ADP কে ATPতে রূপান্তর করে। প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড তৈরি করে। কিছু RNA ও ফ্যাটি এসিড সংশ্লেষণ করে। এদের DNA থাকায় সাইটোপ্লাজমিক ইনহেরিটেন্স এ অংশ নেয়। বংশানুক্রমে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের স্বকীয়তা ধারণ করে রাখা। এটি ফটোরেসপিরেশন বা আলোক শ্বসন ঘটায়। একমাত্র সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমেই সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়ে খাদ্যে আবদ্ধ হয়। এ কাজটি ক্লোরোপ্লাস্ট করে। এছাড়া ক্লোরোপ্লাস্টের ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুর কার্বন ডাই অক্সাইড শোষিত হয় এবং অক্সিজেন উৎপন্ন হয়। ক্লোরোপ্লাস্ট প্রাণিকুলের জন্য ক্ষতিকর কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং সকল জীবের শ্বসনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে জীবজগতকে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়া ক্লোরোপ্লাস্ট এর সাহায্যে প্রস্তুতকৃত খাদ্য শর্করা উদ্ভিদে সঞ্চিত থাকে। যা প্রাণিকুলের খাদ্যের একমাত্র উৎস।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, ক্লোরোপ্লাস্ট এর খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশীয় অনেক গুরুত্ব আছে।
Question 63

[Chittagong , 2022]
a.
জেনেটিক কোড কী?
b.
রাইবোজোমকে প্রোটিন তৈরির কারখানা বলা হয় কেন?
c.
উদ্দীপকে ‘A’ এবং ‘B’ এর গঠনটি যে অণুগুলো ধারণ করে তাদের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের A এর গঠনটি RNA অনু ধারণ করে এবং B এর গঠনটি DNA অনু ধারণ করে।
নিচে এদের পার্থক্য দেখানো হলো –

d.
উদ্দীপকের গঠন দুটির মধ্যে একটি গঠন জীবে বহু সংখ্যায় উপস্থিত থেকে প্যাচানো সূত্র গঠন করে বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের গঠন দুটি হলো RNA ও DNA এর একটি শিকলের গঠন। এ গঠন দুটির মধ্যে প্যাচানো সূত্র গঠন করে DNA.
DNA এর পূর্নরূপ হলো Deoxyribonucleic acid। DNA হলো জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক। এটি জীবে বহু সংখ্যায় থাকে। ক্রোমোজোমের মূল রাসায়নিক উপাদান হলো DNA।
DNA অনু দ্বিসূত্রক, বিন্যাস প্যাঁচানো সিঁড়ির মত যাকে ডাবল হেলিক্স বলা হয়। সূত্র দুটি সমদূরত্বে পরস্পর বিপরীতমূখী অর্থৎ একটি সূত্র ৫’-৩’ এবং অপরটি ৩’-৫’ কার্বনমূখী থাকে। সূত্র দুটির দুই পাশ তৈরি হয়েছে সুগার ও ফসফেটের পর্যায়ক্রমিক বিন্যাস দ্বারা। সূত্র দুটির মাঝখানের প্রতিটি ধাপ তৈরি হয়েছে একজোড়া নাইট্রোজেন বেস ক্ষারক দিয়ে। DNA অনুতে চার ধরনের নাইট্রোজেন ক্ষারক থাকে, যথা-অ্যাডিনিন (A), গুয়ানিন (G), থায়ামিন (T) ও সাইটোসিন (C)। একটি সূত্রের অ্যাডেনিন অপরসূত্রের থায়ামিনের সাথে হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা এবং এটি সূত্র গুয়ানিন অপর সূত্রের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা যুক্ত থাকে। হেলিক্সের প্রতিটি ঘূর্ননে একটি গভীর খাঁজ ও একটি অগভীর খাঁজের সৃষ্টি হয়। এভাবে দুইটি ডিঅক্সিরাইবো পলিনিউক্লিওটাইডের সূত্র বিপরীতমুখীভাবে পরষ্পর সংযুক্ত হয়ে একটি দ্বিসূত্রক DNA অনু গঠন করে এবং অনুটি প্যাঁচানো সিড়ির মতো বিন্যস্ত থাকে।
তাই বলা যায়,উদ্দীপকের গঠন দুটির মধ্যে গঠন B জীবদেহে বহু সংখ্যায় থেকে পঁ্যাচানো সূত্র অর্থাৎ DNA গঠন করে।
Question 64

[Chittagong , 2022]
a.
স্প্লাইসিং কী?
b.
কোষ কেন জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক?
c.
চিত্র ‘P’ এর ক্ষেত্রে ‘D’ এর ওপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের P হলো ক্রোমোসোম। D হলো সেন্ট্রোমিয়ার।
সেন্ট্রোমিয়ার এর অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোসোম চার আকৃতির হয়। যথা-
(i) মধ্যকেন্দ্রিক বা মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোসোম: যে ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ার মাঝখানে অবস্থিত তাকে মধ্যকেন্দ্রিক বা মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোসোম বলে। অ্যানাফেজ পর্যায়ে এর আকৃতি ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো দেখায়। Solanum nigrum এর সবকটি ক্রোমোসোমই মধ্যকেন্দ্রিক।
(ii) উপ-মধ্যকেন্দ্রিক বা সাব-মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোসোম: যে ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ারটি মধ্যখান থেকে এক পাশে অবস্থিত তাকে উপ-মধ্যকেন্দ্রিক বা সাব-মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোসোম বলে। অ্যানাফেজ পর্যায়ে এর আকৃতি অনেকটা ইংরেজি ‘L’ অক্ষরের মতো দেখায়।
(iii) উপ-প্রান্তকেন্দ্রিক বা অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোসোম: যে ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ারটি কোনো এক প্রান্তের কাছাকাছি অবস্থিত তাকে উপ-প্রান্তকেন্দ্রিক বা অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোসোম বলে। অ্যানাফেজ পর্যায়ে এর আকৃতি অনেকটা ইংরেজি ‘J’ অক্ষরের মতো দেখায়।
(iv) প্রান্তকেন্দ্রিক বা টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোসোম: যে ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ারটি একেবারে প্রান্তভাগে অবস্থিত তাকে প্রান্তকেন্দ্রিক বা টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোসোম বলে। অ্যানাফেজ পর্যায়ে এর আকৃতি অনেকটা ইংরেজি ‘I’ অক্ষরের মতো বা একটি দণ্ডের মতো দেখায়। উদ্ভিদে সাধারণত প্রান্তকেন্দ্রিক ক্রোমোসোম থাকে না। মানুষের টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোসোম নেই।
d.
চিত্র ‘Q’ এর জেনেটিক তথ্য ‘R’ তে স্থানান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়া লেখ।
উত্তরঃ
চিত্রে Q হলো DNA এবং R হলো RNA। DNA এর জেনেটিক তথ্য RNA তে স্থানান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়ার নাম ট্রান্সক্রিপশন।
DNA অনুতে গ্রথিত রাসায়নিক তথ্যগুলোকে RNA বা mRNA অনুতে কপি করার প্রক্রিয়াকে ট্রান্সক্রিপশন বলে। এ প্রক্রিয়াটি নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. অনুর যে টুকু জায়গা ১টি mRNA অনুকে ট্রান্সক্রিপ্ট করে তাকে ট্রান্সক্রিপশন একক বলে।
২. ট্রান্সক্রিপশনের শুরুতেই ট্রান্সক্রিপশন এককের নির্দিষ্ট স্থানে হেলিকেজ এনজাইমের প্রভাবে DNA এর সূত্রগুলোর মধ্যকার হাইড্রোজেন বন্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সূত্রগুলো পৃথক হয়ে পড়ে।
৩. পৃথক DNA সূত্রের 3’-5’ অভিমূখী সূত্রটি mRNA তৈরির ছাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং 5’-3’ অভিমুখে RNA এর ট্রান্সক্রিপশন শুরু হয়।
৪. RNA এর যে সূত্রটি ছাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে ট্রান্সক্রাইবিং সূত্র বলে এবং অপর DNA সূত্রটিকে কমপ্লিমেন্টারী সূত্র বলে।
৫. RNA পলিমারেজ এনজাইমের প্রভাবে ট্রান্সক্রাইবিং শুরু হয়। ছাঁচ DNA সূত্রের 3’–5’ অভিমুখে একটি করে নিউিইক্লওটাইড ধরে অগ্রসর হয় এবং পরিপূরক ক্ষারক যুক্ত করে mRNA উৎপন্ন করে। এ ক্ষেত্রে ট্রন্সক্রাইবিং সূত্রের A,T,G,C ক্ষারকের বিপরীতে যথাক্রমে UTP, ATP, GTP ও CTP সংযুক্ত হয়। একই সাথে পিছনে DNA ডাবল হেলিক্স পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
৬. তৈরিকৃত mRNA সূত্রটি হবে ছাঁচ DNA সূত্রের বিপরিত কিন্তু কমপ্লিমেন্টারী সূত্রের অনুরুপ। শুধুমাত্র DNA এর থায়ামিনের (T) বদলে mRNA তে ইউরাসিল (U) যুক্ত হবে।
ট্রান্সক্রিপশন শেষে RNA পলিমারেজ এনজাইম ট্রন্সট্রাইবিং সূত্র থেকে পৃথক হয়ে যায়। এভাবে ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।
Question 65

[Sylhet , 2022]
a.
নিউক্লিওটাইড কী?
b.
ভেদবার্গ একক বলতে কী বুঝ ?
c.
উপরোক্ত P প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করো।
উত্তরঃ
উপরোক্ত P প্রক্রিয়াটি হলো ট্রান্সক্রিপশন।
DNA থেকে RNA তৈরির প্রক্রিয়াকে ট্রান্সক্রিপশন বলে।
নিচে ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াটি দেয়া হলো-
১. অনুর যে টুকু জায়গা ১টি mRNA অনুকে ট্রান্সক্রিপ্ট করে তাকে ট্রান্সক্রিপশন একক বলে।
২. ট্রান্সক্রিপশনের শুরুতেই ট্রান্সক্রিপশন এককের নির্দিষ্ট স্থানে হেলিকেজ এনজাইমের প্রভাবে DNA এর সূত্রগুলোর মধ্যকার হাইড্রোজেন বন্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সূত্রগুলো পৃথক হয়ে পড়ে।
৩.পৃথক DNA সূত্রের 3’–5’ অভিমূখী সূত্রটি mRNA তৈরির ছাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং 5’—3’ অভিমুখে RNA এর ট্রান্সক্রিপশন শুরু হয়।
৪. RNA এর যে সূত্রটি ছাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে ট্রান্সক্রাইবিং সূত্র বলে এবং অপর DNA সূত্রটিকে কমপ্লিমেন্টারী সূত্র বলে।
৫.RNA পলিমারেজ এনজাইমের প্রভাবে ট্রান্সক্রাইবিং শুরু হয়। ছাঁচ DNA সূত্রের 3’–5’ অভিমুখে একটি করে নিউিইক্লওটাইড ধরে অগ্রসর হয় এবং পরিপূরক ক্ষারক যুক্ত করে mRNA উৎপন্ন করে। এ ক্ষেত্রে ট্রন্সক্রাইবিং সূত্রের A,T,G,C ক্ষারকের বিপরিতে যথাক্রমে UTP, ATP, GTP ও CTP সংযুক্ত হয়। একই সাথে পিছনে DNA ডাবল হেলিক্স পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
৬.তৈরিকৃত mRNA সূত্রটি হবে ছাঁচ DNA সূত্রের বিপরিত কিন্তু কমপ্লিমেন্টারী সূত্রের অনুরুপ। শুধুমাত্র DNA এর থায়ামিনের (T) বদলে mRNA তে ইউরাসিল (U) যুক্ত হবে।
ট্রান্সক্রিপশন শেষে RNA পলিমারেজ এনজাইম ট্রন্সট্রাইবিং সূত্র থেকে পৃথক হয়ে যায়। এভাবে ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় ।
d.
উপরোক্ত P ও Q প্রক্রিয়ার মধ্যে বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ
উপরোক্ত P প্রক্রিয়াটি হলো ট্রান্সক্রিপশন এবং Q প্রক্রিয়াটি হলো ট্রান্সলেশন।
DNA থেকে mRNA তৈরির প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সক্রিপশন ও mRNA থেকে প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সলেশন।
নিচে ট্রান্সক্রিপশন ও ট্রান্সলেশন এর মধ্যে বৈসাদৃশ্য দেয়া হলো-

Question 66
সকল জীবিত কোষে ‘A’ গঠনটি পাওয়া যায় এবং এটি ক্রোমোসোমাল ইনহেরিটেন্সে অংশগ্রহণ করে। অন্য একটি গঠন ‘B’ সকল সালোকসংশ্লেষণকারী কোষে পাওয়া যায় এবং এটি সাইটোপ্লাজমিক ইনহেরিটেন্সে অংশগ্রহণ করে।
[Mymensingh , 2022]
a.
নিউক্লিওটাইড কী?
b.
জেনেটিক কোড বলতে কী বুঝ ?
c.
উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘B’ গঠনটির চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লেখিত B হলো প্লাস্টিড।

উদ্ভিদকোষের সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্ত ডিম্বাকৃতি, ফিতাকৃতি অথবা তারকাকৃতি সজীব বর্নধার বস্তুগুলোই হলো প্লাস্টিড। প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে। এটি সাইটোপ্লাজমিক ইনহেরিটেন্সে সাহায্য করে। নিচে প্লাস্টিডের চিত্র দেয়া হলো-
d.
উদ্দীপকে উল্লিখিত গঠন ‘A’ জীবদেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের A গঠনটি হলো DNA.
DNA ক্রোমোজমের মূল গাঠনিক উপাদান। ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড অর্থাৎ DNA একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে। সকল জীবের ডিএনএ জিনোম থাকে।
DNA কে বংশগতির ধারক ও বাহক বলা হয় । এছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ন কাজ DNA করে থাকে যেমন-
১। DNA ক্রোমোসোমের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
২। এটি বংশগতির আণবিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
৩। জীবের সকল বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং নিয়ন্ত্রণ করে।
৪। জীবের বৈশিষ্ট্যসমূহ বংশপরম্পরায় স্থানান্তর করে।
৫। জীবের যাবতীয় বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায়।
৬। জীবের সকল শারীরতাত্ত্বিক ও জৈবিক কাজকর্মের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
৭। জীবের পরিবৃত্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে ।
৮। জীবকোষের জৈবিক সংকেত প্রেরক হলো DNA।
৯। DNA-রেপ্লিকেশন বা প্রতিলিপন প্রক্রিয়া জীবের জাতিসত্ত্বা অটুট রাখে এবং প্রজাতি শনাক্তকরণে DNA ভূমিকা রাখে ।
সুতরাং বলা যায়, জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় DNA এর ভূমিকা অপরিসীম ।
Question 67
A = প্যাঁচানো, দ্বিসূত্রক নিউক্লিক অ্যাসিড
B = অ্যামাইনো অ্যাসিড বহনকারী একসূত্রক নিউক্লিক অ্যাসিড
[Dinajpur , 2022]
a.
জিনোম কী?
b.
রাইবোজোমকে প্রোটিন তৈরির কারখানা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
c.
উদ্দীপক ‘B’-তে নির্দেশিত নিউক্লিক অ্যাসিডের গঠন বর্ণনা করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপক ‘B’ তে নির্দেশিত নিউক্লিক অ্যাসিডটি হলো RNA। নিচে RNA-এর গঠন বর্ণনা করা হলো-
RNA অণু একসূত্রক চেইনের মতো। চার ধরনের নিউক্লিওটাইড যুক্ত হয়ে এক সূত্রকবিশিষ্ট RNA অণু গঠন করে। প্রতিটি নিউক্লিওটাইড পাঁচ কার্বন বিশিষ্ট রাইবোজ শ্যুগার অর্থাৎ পেন্টোজ শ্যুগার নিয়ে গঠিত। RNA-এর গঠনে চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস যেমন- অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল এবং সাইটোসিন থাকে। এছাড়া ফসফেট অর্থাৎ ফসফোরিক অ্যাসিড নিয়ে RNA গঠিত। নিউক্লিওটাইডগুলো 3′-5′ ফসফোডাইএস্টার বন্ধন দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে। ফসফেট-শর্করা-ফসফেট-শর্করার বার বার সংযুক্তির মাধ্যমে পলিনিউক্লিওটাইডের রেলিং বা হেলিক্স গঠিত হয়। কোনো RNA অণুর গঠনে একাধিক ‘U’-আকৃতির ফাঁস বা লুপ থাকে। RNA সূত্রক যখন ফাঁস গঠন করে তখন ফাঁসের ভেতরে সাইটোসিন তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দিয়ে গুয়ানিনের সাথে এবং অ্যাডেনিন দুইটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দিয়ে ইউরাসিলের সাথে জোড় বাঁধে। RNA স্থানে স্থানে কুণ্ডলিত অবস্থায় থাকতে পারে।
d.
উদ্দীপকে নির্দেশিত ‘A’ নিউক্লিক অ্যাসিডের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের ১ম মলিকুলার অঙ্গাণুটি হলো DNA যা বংশগতির আণবিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে DNA-এর ভূমিকা অপরিসীম।
DNA মূলত ক্রোমোসোমের মূল গাঠনিক উপাদান। DNA তে অসংখ্য জিন বিদ্যমান। এই জিনই সকল প্রকার অদৃশ্য ও দৃশ্যমান লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী। সাধারণত একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট জিন থাকে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক জিন মিলিতভাবে একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে থাকে। DNA বিভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পিতা-মাতা থেকে সন্তানের মধ্যে সঞ্চারিত করে। যৌন জননের মাধ্যমে এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য স্থানান্তরিত হয়। DNA তে অবস্থিত এই সকল জিন জীবের বৈশিষ্ট্যসমূহ বংশ পরম্পরায় পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তর করে। যে কারণে মূলত আমরা পিতা-মাতার সাথে সন্তান-সন্ততিতে অনেক সাদৃশ্য খুঁজে পাই।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা হতে বোঝা যায়, উদ্দীপকের ১ম মলিকুলার অঙ্গাণুটি অর্থাৎ DNA চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে জীবের বৈশিষ্ট্য – প্রকাশে সাহায্য করে।
Question 68
একটি নির্জীব, দৃঢ়, ভেদ্য আবরণ উদ্ভিদকোষে থাকে। একটি সজীব, স্থিতিস্থাপক বৈষম্যভেদ্য আবরণ সকল জীবকোষে থাকে।
[Dinajpur , 2022]
a.
ক্রিস্টি কী?
b.
ক্লোরোপ্লাস্টকে ‘কোষের রান্নাঘর’ বলা হয় কেন?
c.
উদ্দীপকে বর্ণিত ১ম আবরণটির গঠন বর্ণনা করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে বর্ণিত ১ম আবরণটি হলো উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর। কোষপ্রাচীরের গঠনে তিনটি স্তর দেখা যায়। যথা
- মধ্যপর্দা: কোষপ্রাচীরের যে স্তরটি দুটি পাশাপাশি কোষের মধ্যবর্তী সাধারণ পর্দা হিসেবে অবস্থান করে তাকে বলা হয় মধ্যপর্দা। ফ্রাগমোপ্লাস্ট এবং পেকটিন জাতীয় ভেসিকল মিলিতৃভাবে মধ্যপর্দা গঠন করে।
- প্রাথমিক প্রাচীর: মধ্যপর্দার উপর সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ এবং গ্লাইকোপ্রোটিন ইত্যাদি জমা হয়ে যে পাতলা স্তর তৈরি হয়, সেটি হলো প্রাথমিক প্রাচীর। এটি মধ্যপর্দার অন্তঃতলে তৈরি হয়।
- সেকেন্ডারি প্রাচীর: প্রাথমিক প্রাচীরের উপর স্তরে স্তরে সেলুলোজ জমা হয়ে যে স্তর সৃষ্টি হয় তাকে সেকেন্ডারি প্রাচীর বলে। এ স্তরটি বেশ পুরু এবং তিনস্তর বিশিষ্ট।
d.
উদ্দীপকে বর্ণিত ২য় আবরণের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মডেলের নামকরণের যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে বর্ণিত ২য় আবরণটি কোষঝিল্লি। কোষঝিল্লির সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মডেল হলো ফ্লুইড মোজাইক মডেল। নিচে মডেলটির নামকরণের যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো-
১৯৭২ সালে বিজ্ঞানী এস. জে. সিঙ্গার এবং জি. এল. নিকলসন কোষঝিল্লির গঠন ব্যাখ্যা করেন, যাকে ফ্লুইড মোজাইক মডেল নামে আখ্যায়িত করা হয়। এ মডেল অনুযায়ী, কোষঝিল্লি দ্বিস্তর বিশিষ্ট এবং প্রতিটি স্তর ফসফোলিপিড দিয়ে তৈরি। ফসফোলিপিড অণুগুলো দ্বিপ্রান্তবিশিষ্ট। এর এক প্রান্তকে পানিগ্রাহী মস্তক ও অন্য প্রান্তকে পানিবিদ্বেষী লেজ বলে। ফসফোলিপিডের উভয় স্তরে হাইড্রোকার্বন লেজটি মুখোমুখি থাকে এবং পানিগ্রাহী মস্তক অংশ বিপরীত দিকে থাকে। ফসফোলিপিড অণুর ফাঁকে ফাঁকে কোলেস্টেরল অণু থাকে। অনেক সময় ফসফোলিপিড এবং কোলেস্টেরল অণুর মাঝে মাঝে অনিয়মিতভাবে প্রোটিন অণু অবস্থান করে। অনেক ফসফোলিপিড অণু এবং অধিকাংশ প্রোটিন অণুর সঙ্গে ক্ষুদ্র কার্বোহাইড্রেট চেইন সংযুক্ত থাকে। এদেরকে যথাক্রমে গ্লাইকোলিপিড এবং গ্লাইকোপ্রোটিন বলে। কোষঝিল্লি অনেকটা অর্ধ-তরল ফসফোলিপিড স্তরে স্থির না থেকে পার্শ্বীয়ভাবে নড়াচড়া করতে পারে। কোষঝিল্লি অর্ধ-তরল গঠনের কারণেই প্রোটিন অণুগুলো ফসফোলিপিড স্তরের উপর যত্রতত্র মোজাইকের মতো ছড়ানো দেখায়। এজন্যই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য এ মডেলটিকে ‘ফ্লুইড মোজাইক মডেল’ নামকরণ করা যথার্থ হয়েছে।
Question 69
নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
[Mymensingh , 2021]
a.
লিগিউল কী?
b.
জীবন্ত জীবাশ্ম বলতে কী বোঝায় ?
c.
উদ্দীপকে চিত্র-E এর প্রতিনিধিত্বকারী গোত্রের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের চিত্র E হলো ধান (Oryza sativa) গাছের গর্ভকেশর। ধান গাছের প্রতিনিধিত্বকারী গোত্র হলো Poaceae।
নিচে Poaceae গোত্রের উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলো-
১. কাণ্ড নলাকার এবং পর্বমধ্যগুলো ফাঁপা ।
২. পাতা সরল, একান্তর, পত্রমূল অর্ধ কাণ্ডবেষ্টক এবং লিগিউলবিশিষ্ট।
৩. পুষ্পবিন্যাস স্পাইকলেট।
৪. পুষ্পপুট লডিকিউলে রূপান্তরিত। পরাগধানী সর্বমুখ
৫. গর্ভমুণ্ড পক্ষল (পালকের ন্যায় লোমশ)।
৬. ফল ক্যারিওপসিস জাতীয় ।
d.
চিত্র-F এর প্রতিনিধিত্বকারী গোত্রের পুষ্প সংকেত বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র-F হলো Malvaceae গোত্রের জবা (Hibiscus rosa-sinensis) ফুলের পরাগধানী।
Malvaceae গোত্রের (জবা ফুলের) পুষ্পসংকেত হলো- [পুষ্প সংকেত]
ব্যাখ্যা : পুষ্প-বহুপ্রতিসম, উভলিঙ্গ। উপবৃত্যাংশ ৫টি, বিযুক্ত। বৃত্যংশ ৫টি সংযুক্ত। দল/পাপড়ি ৫টি, বিযুক্ত। পুংকেশর অসংখ্য, যুক্ত ও দললগ্ন। গর্ভাশয় অধিগর্ভ, গর্ভপত্র ৫টি যুক্ত।
Question 70

[Barisal , 2019]
a.
সিন্যাপসিস কী?
b.
জেনেটিক কোডকে ট্রিপলেট কোড বলা হয় কেন?
c.
উদ্দীপকে প্রদর্শিত ‘B’ এর গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে প্রদর্শিত B-চিত্রটি হলো tRNA বা ট্রান্সফার RNA ।
যে সব RNA জেনেটিক কোড অনুযায়ী একেকটি অ্যামিনো অ্যাসিডকে mRNA অণুতে স্থানান্তর করে প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে সেগুলোকে ট্রান্সফার RNA বলে। প্রতিটি কোষে প্রায় ৩১-৪২ ধরনের tRNA থাকে। নিউক্লিয়াসের ভেতরে tRNA সৃষ্টি হয়। প্রতিটি tRNA-তে মোটামুটি ৭৫ থেকে ৯০টি নিউক্লিওটাইড অণু থাকে। কোষের প্রায় ১৫ ভাগ RNA-ই tRNA। এটি সবচেয়ে ক্ষুদ্রাকার RNA এবং ওজন প্রায় ২৫০০০ ডাল্টন। tRNA-তে পাঁচটি বাহু ও চারটি ফাঁস থাকে। বাহুগুলো হলো-অ্যামিনো অ্যাসিড বাহু, T বাহু, অ্যান্টিকোডন বাহু, D বাহু এবং অতিরিক্ত বাহু। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি tRNA এক সূত্রক এবং লম্বা চেইনের মতো থাকে কিন্তু পরবর্তীতে এটি ভাঁজ হয়ে যায় এবং বিভিন্ন বেস-এর মধ্যে জোড়ার সৃষ্টি হয়ে প্রতিটি tRNA-তে একাধিক ফাঁস সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফাঁস হলো অ্যান্টিকোডন ফাঁস যা mRNA-এর কোডন-এর সাথে মুখেমুখে বসে যেতে পারে। tRNA প্রান্ত এক সূত্রক এবং সব সময়ই ACC ধারায় বেস সজ্জিত থাকে। এখানে অ্যামিনো অ্যাসিড সংযুক্ত হয়। একে বলা হয় অ্যামিনো অ্যাসিড সাইট। ফাঁস অবস্থায় সব সময়ই অ্যান্টিকোডন ফাঁস ও অ্যামিনো অ্যাসিড সাইট বিপরীত অবস্থানে থাকে।তিনটি বেস নিয়ে অ্যান্টিকোডন সৃষ্টি হয় ।
d.
উদ্দীপকের D প্রক্রিয়ার জৈবিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের D প্রক্রিয়া হলো DNA অনুলিপন প্রক্রিয়া।
যে প্রক্রিয়ায় একটি DNA ডাবল হেলিক্স অনু থেকে অনুরুপ দুটি অনুর সৃষ্টি করে তাকে DNA অনুর দিত্বন বা প্রতিরুপ সৃষ্টি বা অনুলিপন বা রেপলিকেশন বলে। DNA অনুর প্রতিরূপ সৃষ্টিই কোষ বিভাজনের পূর্বশর্ত কারণ প্রতিটি জীবের জীবন শুরু হয় একটিমাত্র কোষ থেকে। বহুকোষী জীবের ক্ষেত্রে এককোষী জাইগোট বিভাজিত হয়ে বিভিন্ন টিস্যুতে রূপান্তরিত হয়ে পরিণত জীবদেহ গঠন করে। এককোষী জীবেরা কোষ বিভাজনের মাধ্যমে প্রজনন বা সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটায়। একটি কোষ বিভাজিত হয়ে দুটি কোষে পরিণত হওয়ার আগেই মাতৃকোষের DNA ডাবল হেলিক্সটি DNA অনুলিপন প্রক্রিয়ায় দুটি ডাবল হেলিক্সে পরিণত হয়। মাইটোটিক কোষ বিভাজনের ইন্টারফেজ পর্যায়ে সাধারনত DNA অণুর অনুলিপন ঘটে। DNA অর্ধ-রক্ষণশীল পদ্ধতিতে অনুলিপিত হয়।জীবজগতে DNA অনুলিপনের গুরুত্ব অপরিসীম। কোষ বিভাজন এবং গ্যামিট সৃষ্টির জন্য DNA অনুলিপন অত্যাবশ্যক।
সুতরাং বলা যায়, দেহের বৃদ্ধি ও জনন এবং এর মাধ্যমে বৈশিষ্ট্য পুর্বপুরুষ থেকে উত্তরপুরুষে স্থানান্তর ইত্যাদির জন্য DNA অনুলিপন জীবজগতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।
Question 71
এ বছর মিমির বাবা জমিতে সুগন্ধি বাঁশমতি ধানের চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। খাবার সময় মিমি মাকে বলল, ধানসহ এই গোত্রের আরো উদ্ভিদ বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
[Barisal , 2019]
a.
সিনোসাইট কী?
b.
ইক্ষুকে C4 উদ্ভিদ বলা হয় কেন?
c.
উদ্দীপকে উল্লিখিত উদ্ভিদটির পুষ্পপ্রতীক আঁক।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লিখিত উদ্ভিদটি হলো ধান যা Poaceae গোত্রের উদ্ভিদ।
নিচে এর পুষ্প প্রতীক উপস্থাপন করা হলো—
d.
উদ্দীপকের শেষ উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর ।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের শেষ উক্তিটিতে Poaceae গোত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে।এ গোত্রের কিছু বৈশিষ্ট্য হলো – ১। কাণ্ড নলাকার, মধ্যপর্ব ফাঁপা। ২। পত্রমূল কাণ্ডযুক্ত এবং পাতা লিগিউলবিশিষ্ট। ৩। পুষ্পবিন্যাস স্পাইকলেট ৪। পরাগধানী সর্বমুখ | ৫। গর্তমুন্ড পালকের মতো । ৬। আমরাবিন্যাস মূলীয় ৭। ফল ক্যারিঅপসিস।
Poaceae গোত্রের অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্ব সর্বাধিক। এছাড়াও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ আছে যেগুলো প্রতিনিয়ত মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করছে। । নিচে এই গোত্রের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলো-১) ধান : বাঙালির প্রধান খাদ্য ভাত আসে ধানের চাল থেকে। চিড়া, মুড়ি, পিঠা, পায়েস সবই আসে ধান বা চাল থেকে। খড় উঁচু মানের গো-খাদ্য ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ধানের কুড়া থেকে
ভোজা তেল ও হাঁস-মুরগীর খাদ্য প্রস্তুত করা হয়।
২) বাঁশ : এটি গৃহ নির্মাণ ও কাগজ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। কুটির শিল্পে বিভিন্ন প্রকার গৃহসজ্জা ও আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। দৈনন্দিন কাজে বাঁশের গুরুত্ব অপরিসীম।
৩) ইক্ষু : এটি প্রক্রিয়া করে অ্যালকোহল, ভিনেগার তৈরি করা হয়। আখের ছোবড়া পার্টের তৈরিতে করা হয়। এছাড়া জ্বালানির কাজেও ব্যবহার করা হয়।৪) গম: আটা, সুজি, ময়দা ইত্যাদির জন্য চাষ করা হয়। রুটি, পাউরুটি, বিস্কুট প্রভৃতি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। গমের খড় গো-খাদ্য ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
৫) ভুট্টা: ভুট্টা থেকে পপকন,কর্ণফ্লেক্স ও খইসহ বিভিন্ন প্রকার খাদ্য তৈরি হয়। হাঁস-মুরগির খাদ্য ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
৬)যব বা বার্লি : যবের ছাতু স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য। হরলিক্স ও কমপ্ল্যান জাতীয় খাদ্যদ্রব্যের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
৭) লেমন ঘাস : লেবুর গন্ধযুক্ত ঘাস। সুগন্ধি তেল ও প্রসাধনী ব্যবহার করা হয়। চাইনজি স্যুপেও ব্যবহার করা হয়।
৮)নলখাগড়া : কাগজের মণ্ড তৈরিতে এটি ব্যবহার করা হয় ।৯) ঝাড়ুঘাস: ঝাড়ু তৈরি করা হয়।
১০) দূর্বাঘাসঃ লন তৈরি, ওষুধি উদ্ভিদ, রক্তপাত বন্ধ ও ক্ষত নিরাময়ে ভেষজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজে এই গোত্রের ব্যাবহার রয়েছে। তাই বলা যায় , Poaceae গোত্রের উদ্ভিদ বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে
Question 72
রবিন, কোষের বিভিন্ন অঙ্গাণু পড়ার সময় দেখল দ্বিস্তরবিশিষ্ট দুটি কোষীয় অঙ্গাণু একটি শক্তিঘর নামে ও অপরটি কোষের ট্রাফিক পুলিশ।
[Dhaka , 2019]
a.
অটোফ্যাগী কী?
b.
রাইবোসোমকে সর্বজনীন অঙ্গাণু বলা হয় কেন?
c.
উদ্দীপকের ২য় অঙ্গাণুটির গঠন চিত্রসহ লিখ ।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের ২য় অঙ্গাণুটি হলো গলজি বডি( golgi body)। এটি কোষের ট্রাফিক পুলিশ হিসেবে পরিচিত। নিচে গলজি বডির গঠন চিত্রসহ লেখা হলো-
১. সিস্টার্নি : অসমান দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট ও সমান্তরালভাবে অবস্থিত লম্বা ও চ্যাপ্টা নালিকা সিস্টার্নি নামে পরিচিত।
২. ভ্যাকুওল : সিস্টার্নির কাছে অবস্থিত গোলাকৃতির থলির মতো অংশগুলোকে ভ্যাকুওল বলে।
৩. ভেসিকল : সিস্টারনির নিচের দিকে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র থলির মতো বস্তুগুলোকে ভেসিকল বলে ।এগুলো পৃথক বা দলবদ্ধ হয়ে থাকতে পারে।
চিত্রঃ গলজি বডি
d.
উদ্দীপকের ১ম অঙ্গাণুটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর ।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের ১ম অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া । এটি কোষের শক্তিঘর হিসেবে পরিচিত ।
নিচে মাইটোকন্ড্রিয়ার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
১. কোষের যাবতীয় কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে।
২. শ্বসন ও প্রোটিন সংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম ও কো-এনজাইম ধারণ করে ।
৩. গ্লাইকোলাইসিস সম্পন্ন করে।
৪.ক্রেবস চক্র, Electron Transport System(ETS), অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেসন সম্পন্ন করে।
৫.ADP থেকে ATP অণু সংশ্লেষণ করে।
৬. বিভিন্ন ধরনের ক্যাটায়ন সঞ্চিত থাকে।
৭. নিজস্ব DNA, RNA সংশ্লেষ করে।
৮. ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর গঠনে ও শুক্রাণুর চলনে সহায়তা করে।
৯. স্নেহ বা লিপিড বিপাকে সাহায্য করে।
১০. এরা Ca, K এর সক্রিয় পরিবহনে সক্ষম।
১১.কোষের পূর্বনির্ধারিত মৃত্যু নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
১২. অনেক সময় রক্তকণিকা ও হরমোন উৎপাদনে সাহায্য করে ।
১৩. DNA থাকায় সাইটোপ্লাজমিক ইনহেরিটেন্সে সাহায্য করে।
সুতরাং বলা যায়, কোষের কার্যকলাপ সম্পন্নের জন্য মাইটোকন্ড্রিয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
Question 73
[Chittagong , 2019]
a.
কুপ কী?
b.
রেফাইড কী-ব্যাখ্যা কর।
c.
উদ্দীপকে ‘A’ এর অনুরূপ অণু সৃষ্টির প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে ‘A’ হলো ডাবল হেলিক্স DNA। DNA রেপ্লিকেশন বা অনুলিপন প্রক্রিয়ায় A অর্থাৎ DNA তার অনুরূপ অণু সৃষ্টি করে।
নিচে DNA এর অনুলিপন প্রক্রিয়া দেয়া হলো-
১. DNA এর যে নির্দিষ্ট স্থান থেকে প্রতিলিপন শুরু হয় তাকে বলে অরি বা সূচনা বিন্দু।
২. প্রতিলিপনের শুরুতে হেলিকেজ এনজাইম অরি অংশ থেকে দ্বিসূত্রক DNA এর মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ডগুলো ভেঙ্গে দেয়। ফলে এটি এক সূত্রকে পরিণত হয়।
৩. এরপর প্রত্যেক সূত্রকের গায়ে SSBP যুক্ত হয়, যার ফলে সূত্রকদ্বয় পুনরায় একত্র হতে না পরে। সূত্রক দুইটি পৃথক হওয়ায় DNA তে Y আকৃতির রেপ্লিকেশন ফর্ক সৃষ্টি হয়।
৪. পৃথক হওয়া প্রত্যেকটি সূত্রক তার সম্পূরক তৈরীর ছাঁচ হিসাবে কাজ করে।
৫. ছাঁচের ভিত্তিতে প্রাইমেজ এনজাইম নিউক্লিওটাইড যুক্ত করে ক্ষুদ্র RNA খন্ডক তৈরি করে।
৬. DNA পলিমারেজ শুধু ৩ʹ প্রান্তে নিউক্লিওটাইড যুক্ত করে, এজন্য নতুন সূত্র সবসময় ৫ʹ → ৩ʹ মুখী হয়ে বৃদ্ধি পায়। কোন নিউক্লিওটাইড এর পর কোন নিউক্লিওটাইড যুক্ত হবে তা নির্ভর করে ছাঁচের উপর।
৭. একটি ছাঁচ সুত্রের সম্পূরক নতুন সূত্র বিরতিহীন বা নিরবিচ্ছন্নভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে যাকে অগ্রগামী বলে। অপর নতুন সূত্রটি ধীরগতি বা খন্ড খন্ড ভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে,যাকে পশ্চাৎগামী বলে ।
৮. Lagging Strand এর প্রতিটি খন্ডকে বলা হয় ওকাজাকি খন্ড। লাইগেজ এনজাইম ওকাজাকি খন্ডগুলোকে যুক্ত করে। রেপ্লিকেশন সমাপ্ত হলে রেপ্লিকেশন কমপ্লেক্স বিচ্ছিন্ন হয়ে।এভাবে একটি DNA থেকে পূর্বানুরূপ দুইটি DNA অণুর সৃষ্টি হয়।
d.
বৈশিষ্ট্য প্রকাশে উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘B’ এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে চিত্রে প্রদর্শিত ‘B’ অংশটি হলো RNA। জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে RNA-এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
আরএনএ জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ডিএনএর মধ্যে একটি মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করে, যার মধ্যে জেনেটিক তথ্য থাকে এবং প্রোটিন উৎপাদন, যা জীবের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য এবং কাজের জন্য দায়ী। mRNA ডিএনএ থেকে রাইবোসোমে জেনেটিক কোড বহন করে, যা প্রোটিন সংশ্লেষণের জন্য দায়ী সেলুলার কাঠামো।mRNA দ্বারা বাহিত জেনেটিক তথ্য অ্যামিনো অ্যাসিডের একটি নির্দিষ্ট ক্রম একত্রিত করতে ব্যবহৃত হয়।ডিএনএ থেকে প্রোটিন সংশ্লেষণে জেনেটিক তথ্য স্থানান্তরকে সহজ করে, আরএনএ জীবের বৈশিষ্ট্য এবং কার্যাবলী নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। mRNA-তে নিউক্লিওটাইডের ক্রম শেষ পর্যন্ত প্রোটিনে অ্যামিনো অ্যাসিডের ক্রম নির্ধারণ করে, যা ফলস্বরূপ, জীবের গঠন, কার্যকারিতা এবং বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করে। আরএনএ সিকোয়েন্সের তারতম্য প্রোটিন উৎপাদনে পার্থক্য সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে ব্যক্তিদের মধ্যে ফেনোটাইপিক ভিন্নতা দেখা দেয়। সুতরাং বলা যায়, RNA জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
Question 74
[Comilla , 2019]
a.
জীব সম্প্রদায় কী?
b.
মরুজ উদ্ভিদ কিভাবে প্রকৃতিতে টিকে থাকে?
c.
উদ্দীপকের A থেকে B সৃষ্টির প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে A হলো DNA এবং B হলো RNA.
DNA থেকে RNA উৎপাদন প্রক্রিয়ার নাম হলো ট্রান্সক্রিপশন।
ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াটি হলো-
#DNA অনুর যেটুকু জায়গা ১টি mRNA অনুকে ট্রান্সক্রিপ্ট করে তাকে ট্রান্সক্রিপশন একক বলে।
# ট্রান্সক্রিপশনের শুরুতেই ট্রান্সক্রিপশন এককের নির্দিষ্ট স্থানে হেলিকেজ এনজাইমের প্রভাবে DNA এর সূত্রগুলোর মধ্যকার হাইড্রোজেন বন্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সূত্রগুলো পৃথক হয়ে পড়ে।
# পৃথক DNA সূত্রের 3’–5’ অভিমূখী সূত্রটি mRNA তৈরির ছাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং 5’—3’ অভিমুখে RNA এর ট্রান্সক্রিপশন শুরু হয়।
# RNA এর যে সূত্রটি ছাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে ট্রান্সক্রাইবিং সূত্র বলে এবং অপর DNA সূত্রটিকে কমপ্লিমেন্টারী সূত্র বলে।
# RNA পলিমারেজ এনজাইমের প্রভাবে ট্রান্সক্রাইবিং শুরু হয়। ছাঁচ DNA সূত্রের 3’–5’ অভিমুখে একটি করে নিউিইক্লওটাইড ধরে অগ্রসর হয় এবং পরিপূরক ক্ষারক যুক্ত করে mRNA উৎপন্ন করে। এ ক্ষেত্রে ট্রন্সক্রাইবিং সূত্রের A,T,G,C ক্ষারকের বিপরিতে যথাক্রমে UTP, ATP, GTP ও CTP সংযুক্ত হয়। একই সাথে পিছনে DNA ডাবল হেলিক্স পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
# তৈরিকৃত mRNA সূত্রটি হবে ছাঁচ DNA সূত্রের বিপরিত কিন্তু কমপ্লিমেন্টারী সূত্রের অনুরুপ। শুধুমাত্র DNA এর থায়ামিনের বদলে mRNA তে ইউরাসিল যুক্ত হবে।
# ট্রান্সক্রিপশন শেষে RNA পলিমারেজ এনজাইম ট্রন্সট্রাইবিং সূত্র থেকে পৃথক হয়ে যায়।
এভাবে ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।
d.
উদ্দীপকের চিত্র A থেকে চিত্র B তৈরির প্রক্রিয়াটি প্রোটিন উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের A থেকে B তৈরির প্রক্রিয়াটি হলো ট্রান্সক্রিপশন।
ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াটি প্রোটিন উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
DNA অণুর জেনেটিক তথ্য RNA-তে স্থানান্তরিত হওয়াকে ট্রান্সক্রিপশন বলে। আমিষ সংশ্লেষণের প্রথম ধাপ হলো ট্রান্সক্রিপশন। DNA-এর যতটুকু অংশ নিরবচ্ছিন্নভাবে একটি RNA অণু সৃষ্টি করে, তাকে ট্রান্সক্রিপশন একক বলে। । এ প্রক্রিয়ায় দ্বি- সূত্রক DNA থেকে RNA উৎপন্ন হয় যা নিউক্লিয়ার রন্ধ্র দ্বারা বের হয়ে ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। ট্রান্সলেশন হলো mRNA- এর কোডন অনুসারে অ্যামিনো এসিড যুক্ত হয়ে পলিপেপটাইড তথা প্রোটিন সৃষ্টির প্রক্রিয়া। ট্রান্সলেশনে রাইবোসোমের 80s ও 40s ইউনিটের সাথে mRNA যুক্ত এবং নির্দিষ্ট অ্যান্টিকোডনের জন্য নির্দিষ্ট কোডন সংযুক্ত হয়। পরবর্তীতে tRNA এর সাথে যুক্ত অ্যামিনো এসিডগুলো পরস্পর পলিপেপটাইড চেইন গঠন করে এবং রাইবোসোমের সাইট হতে বের হয়ে আসে। এই পলিপেপটাইড চেইনই হলো প্রোটিন। অর্থাৎ বলা যায় যে, ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়ায় প্রোটিন উৎপাদনের ছাঁচ হিসেবে কাজ করে mRNA, যা ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়ায় DNA থেকে উৎপন্ন হয়। যদি ট্রান্সক্রিপশন না হতো এবং DNA থেকে mRNA উৎপন্ন না হতো তাহলে ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়া ঘটতো না এবং প্রোটিনও উৎপন্ন হতে পারতো না। প্রোটিনকে যেহেতু জীবনের ভাষা বলা হয় তাই প্রোটিন উৎপাদন না হলে অনেক সমস্যা হতো।
তাই বলা যায়, প্রোটিন উৎপাদনের জন্য ট্রান্সক্রিপশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
Question 75
কোষ অঙ্গাণু ‘J’ উদ্ভিদ কোষে বর্তমান এবং আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। কোষ অঙ্গাণু ‘K’ সকল কোষে বর্তমান এবং এক প্রকার জৈব এসিডের ছাঁচ অনুযায়ী অ্যামিনো এসিড দ্বারা বৃহদাকার জৈব অণু তৈরি করে।
[Rajshahi , 2019]
a.
সাইটোপ্লাজম কী?
b.
নিউট্রাল লিপিড বলতে কী বুঝ?
c.
উদ্দীপকে ‘J’ কোষ অঙ্গাণুর গঠন চিহ্নিত চিত্রসহ বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে বর্ণিত ‘J’ কোষ অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট।
ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন নিচে দেওয়া হলো-
১. আবরণী : সমস্ত ক্লোরোপ্লাস্ট দুই স্তরবিশিষ্ট আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে।
২. স্ট্রোমা : আবরণী দ্বারা আবৃত পানিগ্রাহী, কলয়েডধর্মী ম্যাট্রিক্স তরলকে স্ট্রোমা বলে।
৩. থাইলাকয়েড ও গ্রানাম : স্ট্রোমাতে অসংখ্য থলি আকৃতির অংশগুলোকে থাইলাকয়েড বলে।
থাইলাকয়েড এক সঙ্গে একটির ওপর আর একটি সজ্জিত হয়ে স্তূপের মতো থাকে। থাইলাকয়েডের এ স্তূপকে গ্রানাম বলে।
৪. স্ট্রোমা ল্যামেলি : দুটি পাশাপাশি গ্রানার কিছুসংখ্যক থাইলাকয়েডস সূক্ষ্ম নালিকা দ্বারা সংযুক্ত থাকে, একে স্ট্রোমা ল্যামেলি বলে।
৫. ফটোসিনথেটিক ইউনিট ও ATP-Synthases : থাইলাকয়েড মেমব্রেন বহু গোলাকার বস্তু বহন করে। এদের ATP-Synthases বলে। মেমব্রেনগুলোতে বহু ফটোসিনথেটিক ইউনিট থাকে।
৬. DNA ও রাইবোসোম : ক্লোরোপ্লাস্টে তার নিজস্ব বৃত্তাকার DNA ও রাইবোসোম থাকে।
d.
মানবদেহে উদ্দীপকের জৈব অণুর গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকের জৈব অণুটি হলো প্রোটিন।এটি কোষ অঙ্গাণু K অর্থাৎ রাইবোসোমে সংশ্লেষিত হয়।
প্রোটিন অসংখ্য অ্যামিনো এসিড সমন্বয়ে গঠিত বৃহদাকার জৈব অণু।প্রোটিনকে জীবনের ভাষা বলা হয়।এটি মানবদেহে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।যেমন ১) মানবদেহের গঠন এবং বিকাশে প্রোটিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কোষের গঠন, বিকাশ এবং রক্ষনাবেক্ষনের জন্য প্রোটিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় । আমাদের শরীরের যেকোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিকাশ বা ক্ষত নিরাময়ের জন্য প্রোটিনের প্রয়োজন ।
২)মানবদেহের শক্তির উৎস হিসেবে প্রোটিন কাজ করে।প্রতি গ্রাম প্রোটিন থেকে ৪.১ কিলোক্যালরি শক্তি পাই। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমানে খাদ্যগ্রহন করলে শরীরে শক্তির অভাব ঘটে, তখন মাংসপেশিতে সঞ্চিত অ্যামিনো অ্যাসিড প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান দেয় ।
৩)প্রোটিন উৎসেচক হিসেবে কাজ করে।উৎসেচক মূলত প্রোটিন দ্বারা গঠিত, যার আনবিক গঠন সাহায্য করে। আমাদের শরীরের বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক ক্রিয়া যেমন পরিপাক, নতুন কোষ গঠন, রক্ত জমাট বাঁধা এসবের জন্য উৎসেচকের প্রয়োজন হয় ।যেমন পরিপাক উৎসেচক ল্যাকটেজ এবং সুক্রেজ, যা শর্করা পরিপাক করতে সাহায্য করে ।
৪)কিছু প্রোটিন হরমোনে রূপান্তরিত হয়, যা বিভিন্ন কোষ, কলা এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে দৈহিক কার্যকলাপে সাহায্য করে ।যেমন- ইনসুলিন।
৫) জীবদেহের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে, যেমন-কোলাজেন।
৬)অ্যান্টিবডির গাঠনিক উপাদান হিসেবে দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে এবং দেহকে রোগমুক্ত রাখে,যেমন-ইমিউনোগ্লোবিউলিন।
৭) ইন্টারফেরন একটি কোষীয় প্রোটিন। এটি ভাইরাস আক্রমণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেহে তৈরি হয়। ইন্টারফেরন ক্যান্সার ও ভাইরাসজনিত রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
৮) মানবদেহের পেপটাইড থেকে উৎপাদিত প্রোটিন ডিফেনসিড অ্যান্টিবডি হিসেবে কাজ করে।
সুতরাং বলা যায়, প্রোটিন মানবদেহে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Question 76
উদ্ভিদ কোষের মধ্যে দুটি বিশেষ অঙ্গাণু রয়েছে। প্রথমটিতে ETS এবং দ্বিতীয়টিতে ফটোসিন্থেটিক ইউনিট বিদ্যমান।
[Dinajpur , 2019]
a.
জীবন্ত জীবাশ্ম কী?
b.
ফ্রুটবডি বলতে কী বুঝ ?
c.
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম অঙ্গাণুটির চিহ্নিত চিত্রসহ বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া।
নিচে মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো-
মাইটোকন্ড্রিয়৷’ একটি দ্বি-স্তরী আবরণী বা মেমব্রেন দ্বারা আবৃত। মেমব্রেনটি লিপোপ্রোটিন বাইলেয়ার প্রকৃতির। বাইরের মেমব্রেনটি মসৃণ কিন্তু ভেতারের মেমব্রেনটি কেন্দ্রের দিকে অনেক ভাঁজবিশিষ্ট আঙ্গুলের মতো প্রবর্ধক সৃষ্টি করে। এগুলোকে ক্রিস্টি বলে। দুই মেমব্রেনের মাঝখানের ফাঁকা স্থানকে বলা হয় বহিঃস্থ কক্ষ এবং ভেতরের মেমব্রেন দিয়ে আবদ্ধ কেন্দ্রীয় অঞ্চলকে বলা হয় অভ্যন্তরীণ কক্ষ। অভ্যন্তরীণ কক্ষ জেলীর ন্যায় ঘন সমসত্ব পদার্থ ম্যাট্রিক্স দ্বারা পূর্ণ থাকে। অন্তঃআবরণীর অন্তর্গাত্রে অসংখ্য অক্সিজোম থাকে। অক্সিসোম বৃন্তকে স্থানে স্থানে ATP Synthesis নামক গোলাকার বস্তু আছে। এতে ATP সংশ্লেষিত হয়। এছাড়া সমস্ত ক্রিস্টিব্যাপী অনেক ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন অবস্থিত। আগে এগুলোকে একত্রে অক্সিসোম নামে অভিহিত করা হতো। মাইটোকন্ড্রিয়ার নিজস্ব বৃত্তাকার DNA এবং রাইবোসোম রয়েছে।
d.
জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় উদ্দীপকের দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—বিশ্লেষণ কর ।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে বর্ণিত দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট।
জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় পৃথিবীর সকল জীবকুল ক্লোরোপ্লাস্ট এর উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। এটি খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।ক্লোরোপ্লাস্ট জীবজগতের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ন ।এটি একটি কোষ অঙ্গাণু এবং সবুজ রঞ্জক পদার্থ ক্লোরোফিল ধারণ করে, তাই একে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার দ্বারা শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করা কোরোপ্লাস্টের প্রধান কাজ।এতে ফটোফসফোরাইলেশন অর্থাৎ, সূর্যের আলোর সহায়তায় ADP কে ATPতে রূপান্তর করে ।প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড তৈরি করে।কিছু RNA ও ফ্যাটি এসিড সংশ্লেষণ করে । এদের DNA থাকায় সাইটোপ্লাজমিক ইনহেরিটেন্স এ অংশ নেয়। বংশানুক্রমে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের স্বকীয়তা ধারণ করে রাখা। এটি ফটোরেসপিরেশন বা আলোক শ্বসন ঘটায়। একমাত্র সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমেই সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়ে খাদ্যে আবদ্ধ হয়। এ কাজটি ক্লোরোপ্লাস্ট করে । এছাড়া ক্লোরোপ্লাস্টের ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুর কার্বন ডাই অক্সাইড শোষিত হয় এবং অক্সিজেন উৎপন্ন হয়। ক্লোরোপ্লাস্ট প্রাণিকুলের জন্য ক্ষতিকর কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং সকল জীবের শ্বসনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে জীবজগতকে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়া ক্লোরোপ্লাস্ট এর সাহায্যে প্রস্তুতকৃত খাদ্য শর্করা উদ্ভিদে সঞ্চিত থাকে। যা প্রাণিকুলের খাদ্যের একমাত্র উৎস।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষায় ক্লোরোপ্লাস্ট এর ভূমিকা অপরিসীম ।
Question 77
শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে কোষের গঠন পড়াতে গিয়ে কোষকে বেষ্টন করে থাকা x ও y দু’ধরনের আবরণীর গঠন বর্ণনা দিলেন। x শুধু উদ্ভিদ কোষে পাওয়া যায় এবং y উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয়কোষে পাওয়া যায়।
[Jessore , 2019]
a.
ক্লোরোপ্লাস্ট কী?
b.
লাইসোজোমকে আত্মঘাতী থলিকা বলার কারণ ব্যাখ্যা কর।
c.
উদ্দীপকে নির্দেশিত অংশের ভৌত গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে নির্দেশিত X অংশটি হলো কোষ প্রাচীর। নিচে কোষ প্রাচীরের ভৌত গঠন বর্ণনা করা হলো-
মধ্যপর্দা : বিকশিত কোষ প্রাচীরকে প্রধানত তিনটি স্তরে বিভক্ত দেখা যায়। এর প্রথম স্তরটি হলো মধ্যপর্দা ।সাইটোপ্লাজম থেকে আসা ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট এবং গলগি বডি থেকে আসা পেকটিন জাতীয় ভেসিকলস মিলিতভাবে মধ্যপর্দা সৃষ্টি করে।
প্রাথমিক প্রাচীর : দ্বিতীয় স্তরটি হলো প্রাথমিক প্রাচীর । মধ্যপর্দার ওপর সেলুলোজ , হেমিসেলুলোজ এবং গ্লাইকোপ্রোটিন ইত্যাদি জমা হয়ে যে পাতলা স্তর তৈরি করে সেটি প্রাথমিক প্রাচীর।
সেকেন্ডারি প্রাচীর : দ্বিতীয় স্তরের ওপরের স্তরে সাধারণত সেলুলোজ এবং লিগনিন জমা হয়। এটি সেকেন্ডারি প্রাচীর বা তৃতীয় স্তর।এটি তিন স্তরবিশিষ্ট হয়।
পিট মেমব্রেন : দুটি পাশাপাশি কোষের কূপও একটি অপরটির উল্টোদিকে মুখোমুখি অবস্থিত এবং কূপ দুটির মাঝখানে মধ্যপর্দা থাকে।
পিট পেয়ার : মুখোমুখি দুটি কূপকে পিট পেয়ার বলে।
প্লাজমোডেসমাটা : দুটি পাশাপাশি কোষের প্রাচীরের সূক্ষ্ম ছিদ্র পথে নলাকার সাইটোপ্লাজমিক সংযোগ স্থাপিত হয়।
d.
উদ্দীপকে নির্দেশিত y অংশের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মডেলের নামকরণের যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে নির্দেশিত y অংশটি হলো প্লাজমামেমব্রেন বা কোষঝিল্লি। এর গ্রহণযোগ্য মডেল হলো ফ্লুইড মোজাইক মডেল।
প্রতিটি সজীব কোষের আবরণ যে সূক্ষ, স্থিতিস্থাপক,বৈষম্যভেদ্য দ্বিস্তরী ঝিল্লি দ্বারা আবৃত থাকে তাকে কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেন বলে।
কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেন এর সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য মডেল হলো ফ্লুইড মোজাইক মডেল।এ মডেল অনুযায়ী মেমব্রেনটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট। প্রতিটি স্তর ফসফোলিপিড দিয়ে গঠিত। উভয় স্তরের হাইড্রোকার্বন লেজটি সামনাসামনি বা মুখোমুখি থাকে এবং পানিগ্রাহী মেরু অংশ বিপরীত দিকে থাকে। ঝিল্লীর প্রোটিনঅণুগুলো ফসফোলিপিড স্তরে এখানে সেখানে বিক্ষিপ্তাবস্থায় থাকে। ফ্লুইড-মোজাইক মডেল অনুযায়ী কোষঝিল্লীর গাঠনিক উপাদান নিম্নরূপ:
১. লিপিড বাইলেয়ার:এটি ফসফোলিপিড দিয়ে তৈরী। প্রতিটি ফসফোলিপিডে এক অণু গ্লিসারল থাকে এবং গ্লিসারলের সাথে দুটি ননপোলার ফ্যাটি এসিড লেজ এবং একটি পোলার ফসফেট মাথা থাকে।
২. মেমব্রেন প্রোটিন :কোষঝিল্লীতে তিন ধরনের প্রোটিন শনাক্ত করা হয়েছে। যেমন:
(ক) ইনটিগ্রাল প্রোটিন
(খ) পেরিফেরাল প্রোটিন
(গ) লিপিড সম্পৃক্ত প্রোটিন
৩. গ্লাইকোক্যালিক্স:এটি ঝিল্লীর উপর একটি চিনির স্তর বিশেষ। গ্লাইকোপ্রোটিন এবং গ্লাইকোলিপিডকে মিলিতভাবে গ্লাইকোক্যালিক্স বলা হয়।
৪. কোলেস্টেরল:প্রাণী কোষের ঝিল্লীতে এটি অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে।
Question 78
একজন শিক্ষার্থী উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের চিত্র পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে উদ্ভিদকোষে একটি প্রাচীর দেখতে পেল যা প্রাণিকোষে নেই। আবার প্রাচীরের ভিতরে এটি পর্দা দেখতে পেল, যা প্রাণিকোষকেও আবৃত করে রেখেছে। এই পর্দা সম্পর্কে পড়তে গিয়ে দেখল, সূক্ষ্ম গঠনে একটি মোজাইক সদৃশ।
[Sylhet , 2019]
a.
SSBP কী?
b.
কোষকে জীবদেহের গঠন এবং কাজের একক বলা হয় কেন?
c.
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাচীরটির ভৌত গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাচীরটি হলো কোষ প্রাচীর।
নিচে কোষ প্রাচীরের ভৌত গঠন বর্ণনা করা হলো-
মধ্যপর্দা : বিকশিত কোষ প্রাচীরকে প্রধানত তিনটি স্তরে বিভক্ত দেখা যায়। এর প্রথম স্তরটি হলো মধ্যপর্দা ।সাইটোপ্লাজম থেকে আসা ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট এবং গলগি বডি থেকে আসা পেকটিন জাতীয় ভেসিকলস মিলিতভাবে মধ্যপর্দা সৃষ্টি করে।
প্রাথমিক প্রাচীর : দ্বিতীয় স্তরটি হলো প্রাথমিক প্রাচীর । মধ্যপর্দার ওপর সেলুলোজ , হেমিসেলুলোজ এবং গ্লাইকোপ্রোটিন ইত্যাদি জমা হয়ে যে পাতলা স্তর তৈরি করে সেটি প্রাথমিক প্রাচীর।
সেকেন্ডারি প্রাচীর : দ্বিতীয় স্তরের ওপরের স্তরে সাধারণত সেলুলোজ এবং লিগনিন জমা হয়। এটি সেকেন্ডারি প্রাচীর বা তৃতীয় স্তর।এটি তিন স্তরবিশিষ্ট হয়। পিট মেমব্রেন : দুটি পাশাপাশি কোষের কূপও একটি অপরটির উল্টোদিকে মুখোমুখি অবস্থিত এবং কূপ দুটির মাঝখানে মধ্যপর্দা থাকে।
পিট পেয়ার : মুখোমুখি দুটি কূপকে পিট পেয়ার বলে।
প্লাজমোডেসমাটা : দুটি পাশাপাশি কোষের প্রাচীরের সূক্ষ্ম ছিদ্র পথে নলাকার সাইটোপ্লাজমিক সংযোগ স্থাপিত হয়।
d.
উদ্দীপকে উল্লিখিত পর্দাটিকে কেন মোজাইক সদৃশ বলা হয়েছে – বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লিখিত পর্দাটি হলো প্লাজমামেমব্রেন বা কোষঝিল্লি ।
্লাজমামেমব্রেন একটি গতিশীল অর্ধতরল গঠন। এটি প্রধানত লিপিড ও প্রোটিন দিয়ে তৈরি। প্লাজমামেমব্রেন এর গঠন সম্পর্কে কয়েকটি মডেল আছে তার মধ্যে ফ্লুইড মোজাইক মডেল আধুনিক। সিঙ্গার ও নিকলসন প্রবর্তিত কোষপর্দার গঠন মডেলের নাম দেয়া হয় ফ্লুইড -মোজাইক মডেল।কোষপর্দার গঠনে দুইটি স্তরে ফসফোলিপিড থাকে, ফসফোলিপিড অণুগুলো সব সময় সচল থাকে এবং পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে করে লাফিয়ে ওঠে এবং স্থান পরিবর্তন করে। তখন এগুলোঅক্ষ বরাবর ঘুরতে পারে; একে ফ্লিপ ফ্লপ সঞ্চালন বা flip-flop movement বলে। এসব কারণে এদের মোজাইকের মতো দেখা যায়। অর্থাৎ, প্লাজমামেমব্রেনের উপাদানসমূহ স্থির না থেকে স্থান পরিবর্তন, ব্যাপ্ত হওয়া এবং চলাচলের কারণে প্লাজমামেমব্রেনকে মোজাইক সদৃশ বলা হয়েছে।
Question 79
জীবকোষে দুই ধরনের জৈব এসিড থাকে, যাহার একটি দ্বি-সূত্রক অবস্থায় বংশগতির বৈশিষ্ট্য বহন করলেও অপরটি এক সূত্রক এবং প্রোটিন সংশ্লেষণ করে।
[Combined , 2018]
a.
সেন্ট্রোস্ফিয়ার কী?
b.
জেনেটিক কোড বলতে কি বুঝ?
c.
উদ্দীপকের প্রথম জৈব এসিডটির গঠন বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে DNA এর কথা বলা হয়েছে যা দ্বি সুত্রক অবস্থায় থাকে।নিচে DNA এর গঠন দেয়া হল:
১) DNA অণু দ্বিসূত্রক, বিন্যাস ডান থেকে বাম দিকে ঘুরানো (প্যাচানো) সিঁড়ির মতো, যাকে বলা হয় ডাবল
(২) সূত্র দুটি সমদূরত্বে পরস্পর বিপরীতমুখী (একটি 5 – 3′ কার্বনমুখী এবং অপরটি 3 — 5′ কার্বনমুখী) হয়ে অবস্থান করে।
(৩) সূত্র দুটি তৈরি হয় ডিঅক্সিরাইবোজ ভাগার (S) ও ফসফেটের (P) পর্যায়ক্রমিক সংযুক্তির মাধ্যমে।
(৫) ফসফেট যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ জগারের 3′ ও কার্বনের (৩য় ও ৫ম কার্বনের) সাথে এবং ক্ষারকগুলো যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ ভাগারের। কার্বনের (১ম কার্বনের) সাথে। কাজেই সূত্রকের বাইরের দিকে ফসফেট এবং ভেতরের দিকে নাইট্রোজেন ক্ষারক থাকে।
(৬) DNA অণুতে চার ধরনের নাইট্রোজেন ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থাইমিন এবং সাইটোসিন) থাকে। অ্যাডিনিন (A) এর সম্পূরক ক্ষারক থাইমিন (T) এবং গুয়ানিন (G) এর সম্পূরক ক্ষারক সাইটোসিন (C)।
(৭) DNA অণুর সূত্র দুটির প্রতিটি প্যাচ বা ঘূর্ণনের দৈর্ঘ্য 34 A 3.4 mm)।
(৮) প্রতিটি প্যাচে নাইট্রোজিনাস বেস জোড়ের ১০টি ধাপ সমদূরত্বে অবস্থান করে। ফলে সিঁড়ির এক ধাপ থেকে অপর ধাপের দূরত্ব হয় 3.4 A (0.34 nm)।
(৯) প্রতিটি প্যাঁচে হেলিক্স দুটির ব্যাস 20.A2nm)। তবে DNA অণুর দৈর্ঘ্য প্রজাতিভেদে বিভিন্ন । (১০) হেলিক্সের প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাচ বা ঘূর্ণনে শৃঙ্খলের বাইরের দিকে একটি গভীর খাঁজ (major groove) ও একটি অগভীর খাঁজ (minor groove) সৃষ্টি হয়।
(১১) প্রতিটি ঘূর্ণনে মনোনিউক্লিওটাইডের সংখ্যা 10 জোড়া।
(১২) প্রতিটি প্যাছে হাইড্রোজেন বন্ড সংখ্যা 25 টি।
(১৩) DNA-এর আণবিক ওজন 106-109এর মধ্যে।
d.
উপরোক্ত দুই ধরনের এসিডের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা কর।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে DNA ও RNA এর কথা বলা হয়েছে। নিচে DNA ও RNA এর পার্থক্য নিচে দেয়া হল:



Question 80
উদ্ভিদের এক প্রকার অঙ্গাণু খাদ্য তৈরি করে এবং অন্য প্রকার অঙ্গাণু স্নেহ বিপাকে ভূমিকা রাখে ও শক্তি উৎপন্ন করে থাকে।
[Dhaka , 2017]
a.
ফ্রুটবডি কী?
b.
জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলতে কী বোঝায়?
c.
উদ্দীপকের ১ম অঙ্গাণুর চিহ্নিত চিত্র আঁক।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট যা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে। নিচে ক্লোরোপ্লাস্টের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-

d.
উদ্দীপকের ১ম ও ২য় অঙ্গাণুর তুলনামূলক আলোচনা করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট যা খাদ্য তৈরি করে এবং ২য় অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া যা কোষে স্নেহ বিপাকে ভূমিকা রাখে ও শক্তি উৎপন্ন করে। নিচে অঙ্গাণু দুটির তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-
আবরণী ঝিল্লি, স্ট্রোমা, থাইলাকয়েড, গ্রানাম, স্ট্রোমা ল্যামেলি, ফটোসিনথেটিক ইউনিট, ATP সিনথেসিস এবং DNA এ অংশগুলো নিয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত হয়। অপরদিকে আবরণী ঝিল্লি, প্রকোষ্ঠ, ATP সিনথেসিস ও ETS, DNA ও রাইবোজোম এবং অন্যান্য উপাদান নিয়ে মাইটোকন্ড্রিয়া গঠিত। ক্লোরোপ্লাস্ট ও মাইটোকন্ড্রিয়া উভয়ই লিপোপ্রোটিন বাইলেয়ারের দুটি মেমব্রেন নিয়ে গঠিত। উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতি সাধারণত লেন্সের মতো, তবে নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে এরা পেয়ালাকার, সর্পিলাকার, জালিকাকার, তারকাকার, গোলাকার ইত্যাদি আকৃতিরও হতে পারে। অপরদিকে, মাইটোকন্ড্রিয়া সাধারণত বৃত্তাকার, দণ্ডাকার, তন্তুকার, তারকাকার ও কুণ্ডলী আকার হতে পারে। সাধারণত গড়ে প্রতিটি উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে ১০-৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। অপরদিকে, গড়ে প্রতি কোষে ৩০০-৪০০টি মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে। রাসায়নিকভাবে কার্বোহাইড্রেট, লিপিড, প্রোটিন, ক্লোরোফিল, ক্যারোটিনয়েড (ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল), DNA, RNA, কিছু সংখ্যক এনজাইম ও কো-এনজাইম নিয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। অপরদিকে, মাইটোকন্ড্রিয়ায় শুষ্ক ওজনের ৬৫% প্রোটিন, ২৯% গ্লিসারাইড, ৪% লেসিথিন ও সেফালিন এবং ২% কোলেস্টেরল, লিপিডের মধ্যে ৯০% ফসফোলিপিড, বাকি ১০% ফ্যাটি অ্যাসিড, ক্যারোটিনয়েড, ভিটামিন E এবং কিছু অজৈব পদার্থ বিদ্যমান। ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে একে কোষের রান্নাঘর বা শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা বলা হয়। অপরদিকে, কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তিঘর বলা হয়।
Question 81
উদ্ভিদ কোষের মধ্যে বিদ্যমান বিশেষ দুই প্রকার অঙ্গাণুর একটি শ্বসনিক কাজে এবং অন্যটি খাদ্য তৈরিতে অংশগ্রহণ করে।
[Sylhet , 2017]
a.
একক পর্দা কী?
b.
জেনেটিক কোড বলতে কী বোঝ?
c.
উদ্দীপকের প্রথম অঙ্গাণুটির গঠন বর্ণনা করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া, যা শ্বসনিক বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। নিম্নে মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন বর্ণনা করা হলো- মাইটোকন্ড্রিয়া একটি দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী বা মেমব্রেন দিয়ে আবৃত থাকে। মেমব্রেনটি লিপোপ্রোটিন বাইলেয়ার প্রকৃতির। বাইরের স্তরটি মসৃণ কিন্তু ভেতরের স্তরটি কেন্দ্রের দিকে অনেক ভাঁজবিশিষ্ট। ভেতরের মেমব্রেনের এ ভাঁজগুলোকে বলা হয় ক্রিস্টি। দুই মেমব্রেনের মাঝখানের ফাঁকা স্থানকে বলা হয় বহিঃস্থ কক্ষ এবং ভেতরের মেমব্রেন দিয়ে আবদ্ধ অঞ্চলকে বলা হয় অভ্যন্তরীণ কক্ষ। উভয় কক্ষে অবস্থান করে তরল বা ম্যাট্রিক্স। ক্রিস্টিতে স্থানে স্থানে ATP সিনথেসিস নামক গোলাকার বস্তু আছে। এতে ATP সংশ্লেষিত হয়। এছাড়া সমস্ত ক্রিস্টিব্যাপী অনেক ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম অবস্থিত। আগে এদেরকে এক সাথে অক্সিজোম হিসেবে অভিহিত করা হতো। মাইটোকন্ড্রিয়নের নিজস্ব বৃত্তাকার DNA, RNA এবং রাইবোজোম রয়েছে।
d.
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি কীভাবে জীবজগতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লিখিত ২য় অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। এটি জীবজগতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
জীবের মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্যতম হলো খাদ্য। আর সবুজ উদ্ভিদই কেবলমাত্র সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করতে পারে। আর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রকৃতির সকল জীব খাদ্যের জন্য সবুজ উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি না করলে সকল জীবই খাদ্যাভাবে মারা যেত। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সক্রিয় রাখতে ক্লোরোপ্লাস্টে অবস্থিত ক্লোরোফিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ক্লোরোফিল তথা ক্লোরোপ্লাস্টের অনুপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ অসম্ভব। আর সালোকসংশ্লেষণ না ঘটলে খাদ্য তৈরি সম্ভব নয়। অন্যদিকে, জীবের অস্তিত্ব অনেকাংশেই নির্ভর করে পরিবেশের ভারসাম্যের ওপর। যদি কোনো কারণে পরিবেশে CO₂ এর পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ০₂ এর পরিমাণ কমে যায় তবে পরিবেশ তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সালোকসংশ্লেষণের সময় সবুজ উদ্ভিদ CO₂ গ্রহণ ও O₂ ত্যাগ করে। ফলে পরিবেশে CO₂ ও O₂ এর সাম্যাবস্থা বজায় থাকে। পরিবেশের এমন সাম্যাবস্থা বজায় রাখতে ক্লোরোপ্লাস্টই মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
তাই বলা যায়, জীবজগতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ক্লোরোপ্লাস্টের গুরুত্ব অপরিসীম।
