01
Question 01
“জাত গেল জাত গেল বলে
একি আজব কারখানা।
সত্য কাজে কেউ নয় রাজি
সবই দেখি তা না না না।”
Dhaka · 2025
a
‘বিলাসী’ গল্পের বর্ণনাকারী কে?
উত্তর
‘বিলাসী’ গল্পের বর্ণনাকারী ন্যাড়া।
b
“অন্নপাপ। বাপরে! এর কি আর প্রায়শ্চিত্ত আছে।”- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
বিলাসীর হাতে মৃত্যুঞ্জয়ের ভাত খাওয়াকে গ্রামবাসী ‘অন্নপাপ’ বলে অভিহিত করে সেই পাপকে ক্ষমার অযোগ্য বলে অভিহিত করে।
‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসী মৃত্যুপথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা-শুশ্রুষার মাধ্যমে সারিয়ে তোলে। এর প্রতিদানে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে ভালোবেসে বিয়ে করে। বিলাসী ছিল মালোপাড়ার এক সাপুড়েকন্যা। সেই কারণে মৃত্যুঞ্জয়ের পাড়া-প্রতিবেশীরা বিষয়টি সহজেই মেনে নিতে পারেনি। তদুপরি তারা যখন জানতে পারে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর হাতে রান্না করা ভাত খেয়েছে তাতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ছোট জাতের কারও হাতে রান্না করা ভাত খাওয়াকে তারা অন্নপাপ হিসেবে সাব্যস্ত করত। তৎকালীন স্বার্থান্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজবাসীর বিশ্বাস ছিল- অন্নপাপের কোনো প্রায়শ্চিত্ত নেই। তাই বিয়ের কিছুদিন পর মৃত্যুঞ্জয় যখন সাপের ছোবলে মৃত্যুবরণ করে, তখন গ্রামবাসী প্রচার করে- অন্নপাপের কারণেই মৃত্যুঞ্জয়ের এমন অপমৃত্যু হয়েছে।
c
উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন দিকটির সাদৃশ্য আছে? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর
উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের জাতিগত বিভেদের দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পে লেখক সমাজে প্রচলিত ঘৃণ্য জাতিভেদ প্রথা তুলে ধরেছেন। সমাজে প্রচলিত জাতভেদ প্রথার কাছে কীভাবে মানবিকতার পরাজয় হয় তার বয়ান এই গল্পটি। গল্পের প্রধান দুটি চরিত্র বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের জাতিভেদ প্রথার বলি হওয়া প্রেমকাহিনি এর প্রধান বিষয়।
উদ্দীপকে জাতিগত বৈষম্যের রূপ তুলে ধরা হয়েছে। একেক ব্যক্তি একেক জাতের হতেই পারে, তাতে ক্ষতি নেই। সবার একটাই পরিচয়, আর তা হলো মানুষ। জাতিগত বিভেদের পেছনে কেবল ব্যক্তিস্বার্থই কাজ করে। এই বৈষম্যের কারণে মানুষে মানুষে বিভাজন তৈরি হয়, সমাজ ও দেশ অনেকাংশে পিছিয়ে পড়ে। ‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসী অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। মৃত্যুঞ্জয় এর প্রতিদানে বিলাসীকে বিয়ে করে। সমাজ এ বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেয় না। কারণ বিলাসী নিচু জাতের আর মৃত্যুঞ্জয় উঁচু জাতের। এ কারণে বিলাসীর ওপর নির্মম অত্যাচার চালানো হয়। শুধু জাতিগত বৈষম্যের কারণেই বিলাসীকে মৃত্যুঞ্জয়ের কাছ থেকে আলাদা করার চেষ্টা করা হয় এবং তাদেরকে সমাজ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এভাবেই উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের জাতিগত বিভেদের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
d
“উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
গল্পের সামগ্রিক ভাব উঠে না আসায় “উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে” মন্তব্যটি যথার্থ।
‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী দুই মানব-মানবীর অসাধারণ প্রেমের মহিমা, যা ছাপিয়ে উঠেছে জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা। প্রেমের এই আখ্যানে সমাজের অনুদারতা ও রক্ষণশীলতা, জীবনের নিষ্ঠুর ও অশুভ চেহারা ধরা পড়েছে।
উদ্দীপকে জাতিভেদের অসারতা তুলে ধরা হয়েছে। জাতিগত ভেদাভেদের ফলে মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয় না, অর্থাৎ মানবমর্যাদা এতে ক্ষুণ্ণ হয়। আর জাতিগত এই বিভেদের পেছনে কেবল কিছু মহলের স্বার্থসিদ্ধির দুরভিসন্ধি থাকে। ‘বিলাসী’ গল্পে জাতিভেদের এ রূপটিই স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। মৃত্যুঞ্জয় মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকলে বিলাসী সেবাযত্ন করে তাকে সুস্থ করে তোলে। একপর্যায়ে তারা ভালোবেসে বিয়ে করে। সমাজ এই বিয়ে মেনে নিতে পারে না। কারণ বিলাসী নিচু জাতের সাপুড়ের মেয়ে। ফলে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এ বিষয়টি উদ্দীপকের মূলভাবের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ বিষয়টি ছাড়াও ‘বিলাসী’ গল্পে তৎকালীন সমাজব্যবস্থার চিত্র, মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার ষড়যন্ত্র, বিলাসী চরিত্রের কর্মনিপুণতা, বুদ্ধিমত্তা ও সেবাব্রত, মৃত্যুঞ্জয়ের সমাজ ছেড়ে চলে যাওয়া, গ্রামবাসীর অমানবিকতার বিষয়গুলোও উঠে এসেছে, যেগুলো উদ্দীপকে নেই।
উদ্দীপকে জাতিভেদ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। ‘বিলাসী’ গল্পে জাতিভেদের রূপটি স্পষ্ট হলেও এ গল্পের বড় শিক্ষা হলো অসাম্প্রদায়িক মনোভাব তৈরি ও মানবিক হওয়া। তবে গল্পের অন্যান্য বিষয় যেমন- তৎকালীন সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, সমাজের নানা অসংগতি, মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসী চরিত্রের ট্র্যাজিক পরিণতি ইত্যাদি উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Question 02
ইদ্রিস আলী দামপাড়া ইউনিয়নের প্রভাবশালী চেয়ারম্যান। বংশমর্যাদাও ছিল সবার উপরে। হঠাৎ একটি সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ নিহত হন। গুরুতর আহত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় তাঁর বড় ছেলে রাইহান। রাইহানকে সেবা করার মতো নিকটাত্মীয় কেউ ছিল না। কিন্তু পাশের বাড়ির হাতেম চৌকিদারের মেয়ে বিউটি তাকে সেবা দিয়ে, সাহস আর ভালোবাসা দিয়ে বাঁচিয়ে তোলে। এর বিনিময়ে তার কপালে জোটে কলঙ্কের দাগ, বঞ্চনা আর শারীরিক নির্যাতন।
Rajshahi · 2025
a
মৃত্যুঞ্জয় কয় দিন অচেতন অবস্থায় ছিল?
উত্তর
মৃত্যুঞ্জয় দশ-পনেরো দিন অচেতন অবস্থায় ছিল।
b
“ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।”- উক্তিটির তাৎপর্য লেখ।
উত্তর
“ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাই রাখা বাসি ফুলের মতো।”- এ কথাটি বিলাসীর শারীরিক অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পের কথক ন্যাড়া মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতা এবং তাকে সেবাদানকারী বিলাসীর অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। ন্যাড়া একদিন সন্ধ্যার অন্ধকারে লুকিয়ে বনের মধ্যে পোড়োবাড়িতে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে দেখতে যান। বিলাসী তখন ‘মৃত্যুঞ্জয়ের শিয়রে বসে পাখা দিয়ে বাতাস করছিল। ন্যাড়া তার মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলেন যে, খাটতে খাটতে আর রাত জাগতে জাগতে বিলাসীর শরীরে আর কিছুই নেই। ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়ে ভিজিয়ে রাখা বাসি ফুলের মতো। হাত দিয়ে সামান্য স্পর্শ করলে, একটু নাড়াচাড়া করতে গেলে ঝরে পড়বে। বিলাসীর সেই দুর্বল অবস্থা নির্দেশ করতেই লেখক ‘বিলাসী’ গল্পের কথক ন্যাড়ার জবানিতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
c
উদ্দীপকের সমাজের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত সমাজের তুলনা কর।
উত্তর
অন্ধকারাচ্ছন্ন বর্ণপ্রথার তথা উঁচু-নিচু প্রভেদের দিক থেকে উদ্দীপকের সমাজের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের সমাজের তুলনামূলক সাদৃশ্য রয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পে মৃতপ্রায় মৃত্যুঞ্জয়কে সেবাশুশ্রুষা দিয়ে বাঁচিয়ে তোলে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ মৃত্যুঞ্জয় ভালোবেসে ‘বিলাসীকে বিয়ে করে। সমাজ তা মেনে নিতে পারেনি। তারা অন্নপাপের দোহাই দিয়ে মৃত্যুঞ্জয়কে সমাজচ্যুত করে। জাতভঙ্গের দোহাই দিয়ে বিলাসীকে তারা অত্যাচার করে তাড়িয়ে দেয়।
উদ্দীপকের দুর্ঘটনা বাবা-মাকে হারানো আহত রাইহানকে সেবা, সাহস ও ভালোবাসা দিয়ে সুস্থ করে তোলে হাতেম চৌকিদারের মেয়ে বিউটি। এর বিনিময়ে বিউটি রক্ষণশীল সমাজ দ্বারা কলঙ্ক, বঞ্চনা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। ‘বিলাসী’ গল্পেও সাপুড়ের মেয়ের হাতে ভাত খাওয়ার অপবাদে জাতভঙ্গের দোহাই দিয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ো গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বিলাসীকে নির্যাতন করে। সমাজ কর্তৃক নির্যাতনের দিক দিয়ে উদ্দীপকের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের রক্ষণশীল সমাজের সাদৃশ্য বিদ্যমান। বিলাসীর মতোই উদ্দীপকের হাতেম চৌকিদারের মেয়ে বিউটিও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
d
উদ্দীপকের বিউটি ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের অনুরূপ, তুমি কি এ মত সমর্থন কর? যুক্তিসহ তুলে ধর।
উত্তর
উদ্দীপকের বিউটি ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের অনুরূপ-আমি এ মত সমর্থন করি না।’
‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী মুমূর্ষু মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করে কলঙ্ক ও নির্যাতনের শিকার হয়েও মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে সংসার গড়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ও তাকে ভালোবেসে বিয়ে করে সমাজ ও সম্পত্তি সব ছেড়ে সাপুড়ে পেশা গ্রহণ করেছে। সাপ ধরতে গিয়ে সাপের ছোবলে বিষক্রিয়ায় সে মৃত্যুবরণ করেছে। এরপর বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়ের বিরহ সইতে না পেরে একদিন আত্মহত্যা করেছে।’
উদ্দীপকের বিউটি আহত রাইহানের সেবা-শুশ্রুষা করে সুস্থ করে তুলেছে। বিনিময়ে পেয়েছে রক্ষণশীল সমাজের কলঙ্ক, বঞ্চনা ও শারীরিক নির্যাতন, যা বিলাসী চরিত্রের মৃত্যুঞ্জয়ের সেবার বিনিময়ে রক্ষণশীল সমাজের জাতভঙ্গের অপবাদ ও নির্যাতনের বিষয়টিকে ধারণ করে।
উদ্দীপকের বিউটি ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের একটি দিককে ধারণ করলেও সম্পূর্ণ চরিত্রকে ধারণ করেনি। শত কলঙ্ক-বঞ্চনা মাথায় নিয়েও বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়ের জীবনসঙ্গিনী হয়েছে, দুজনে একসঙ্গে ঘর বেঁধেছে। নিয়তি মৃত্যুঞ্জয়কে বিলাসীদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়। বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে ছাড়া বেশিদিন বাঁচতে পারেনি। সে মৃত্যুঞ্জয়ের শোকে আত্মহত্যা করেছে। বিলাসী চরিত্রের এই প্রেম উদ্দীপকের বিউটি চরিত্রে স্পষ্ট হয়নি। তাই আমি মনে করি, উদ্দীপকের বিউটি বিলাসী চরিত্রের অনুরূপ নয়।
Question 03
নয়া জমিদার আদিলদ্দীন ধরি সকিনারে হাত,
কহিল, চল গো সোনার বরণী, মোর ঘরে মোর সাথ!
পঙ্খী করিয়া পুষিব তোমারে উড়াব আকাশ ভরি,
আমার দুনিয়া রঙিন করিব তোমারে মেহেদী করি।
সকিনা কহিল, আপনি মহান, হতভাগিনীর তরে
যাহা করেছেন জিন্দেগী যাবে ঋণ পরিশোধ করে।
তবুও আমারে ক্ষমা করিবেন, আপনার ঘরে গেলে,
বসিতে হইবে হতভাগিনীরে কলঙ্ক কালি মেলে।
আসমান সম আপনার কুল, মোর জীবনের মেঘে,
যত চান আর সুরয তারকা সকল ফেলিবে ঢেকে।
Jessore · 2025
a
মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?
উত্তর
মৃত্যুঞ্জয় থার্ড ক্লাসে পড়ত।
b
“সাপের বিষ যে বাঙালির বিষ নয়।”- কথাটি বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর
“সাপের বিষ যে বাঙালির বিষয় নয়”- কথাটি দ্বারা বাঙালির ক্রোধ ও বিদ্বেষের বিষের তুলনায় সাপের বিষের অব্যর্থ প্রভাবের বিষয়টিকে নির্দেশ করা হয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পের কথক ন্যাড়া সাপের বিষের প্রভাব সম্পর্কে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে। অসুস্থ মৃত্যুপথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়কে অকৃত্রিম সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলার কারণে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে ভালোবেসে বিয়ে করে। মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া ও সমাজ এ বিয়ে মেনে না নেওয়ায় মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ে পেশা গ্রহণ করে। একদিন সাপ ধরতে গিয়ে সে সাপের ছোবলের শিকার হয় এবং বিষক্রিয়ায় মৃত্যুমুখে পতিত হয়। তখন ন্যাড়া বুঝতে পারে যে, সাপের বিষ বাঙালির হিংসা-বিদ্বেষের বিষের মতো নয়। এ বিষ একেবারেই অব্যর্থ। তা মন্ত্র, তন্ত্র, মাদুলি, বিষহরির আজ্ঞা কিছুই মানে না। অন্যদিকে বাঙালির বিষ তথা হিংসা-বিদ্বেষ, ক্ষোভ ক্ষণস্থায়ী। গল্পকথক ন্যাড়া ব্যঙ্গাত্মকভাবে সাপের বিষের সঙ্গে বাঙালির এ বিষের তুলনা করেছে।
c
উদ্দীপকের আদিলদ্দীনের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন চরিত্রের মিল দেখা যায়? – কীভাবে?
উত্তর
ভালোবাসা ও অনুরাগের প্রগাঢ়তায় উদ্দীপকের আদিলদ্দীনের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রের মিল দেখা যায়।
‘বিলাসী’ গল্পে দুই মানব-মানবীর অসাধারণ প্রেমের মহিমা বর্ণিত হয়েছে। এ প্রেম জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা ছাপিয়ে উঠেছে। প্রেমের কারণে মৃত্যুঞ্জয় নিজের জাত-বংশের মর্যাদাকে উপেক্ষা করেছে। উদ্দীপকে প্রেমের এ দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে মহান জমিদার আদিলদ্দীন সকিনার হাত ধরে বলেন তার সঙ্গে গেলে তাকে পাখির মতো অনেক আদর-যত্নে পুষবেন, মনের আকাশ ভরে তাকে উড়াবেন। তাকে মেহেদি রঙে রাঙিয়ে দুনিয়া রঙিন করে তুলবেন। নয়া জমিদার আদিলদ্দীনের এ প্রেমানুরাগ ‘বিলাসী’ গল্পের নিচু জাতের সাপুড়ে মেয়ে বিলাসীকে ভালোবেসে মৃত্যুঞ্জয়ের নিজের জাত-বংশ-গোষ্ঠী ছেড়ে সাপুড়ে পেশা গ্রহণের চেতনা ও অনুরাগের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এভাবে ভালোবাসা ও অনুরাগের প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপকের আদিলদ্দীনের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রের মিল রয়েছে।
d
“উদ্দীপকের সকিনার ভেতরে দোদুল্যমানতা থাকলেও ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর মধ্যে তা নেই।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
মৃত্যুপথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়কে ভালোবেসে সেবা-শুশ্রুষার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার দিক বিচারে “উদ্দীপকের সকিনার ভেতরে দোদুল্যমানতা থাকলেও ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর মধ্যে তা নেই-মন্তব্যটি যথার্থ।”
‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতার সময় নিম্নবর্ণের সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী তাকে সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। তার প্রতিদানে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে ভালোবেসে বিয়ে করে। বিলাসীও তাতে অমত করে না। কারণ সেও মৃত্যুঞ্জয়কে ভালোবেসেই সেবা দিয়ে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছে। বিলাসীর হাতে ভাত খাওয়ার অপরাধে তাদেরকে সমাজচ্যুত করা হলে মৃত্যুঞ্জয় পুরোদস্তুর সাপুড়ে হয়ে ওঠে। বিলাসী তাকে নিয়ে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করে।
উদ্দীপকে নয়া জমিদার আদিলদ্দীনের প্রেমানুরাগের কথা শুনে সকিনা কলঙ্ক কালির ভয় করেছে। নিজে হতভাগিনী হয়ে মহান ব্যক্তি জমিদারকে সে গ্রহণ করতে সাহস পায়নি। জমিদারের ঋণ শোধ করতে জীবন কেটে যাবে তবুও সকিনা জমিদারের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। সে বলেছে জমিদারের বংশমর্যাদা আকাশচুম্বী আর তার জীবন অন্ধকার মেঘে ঢাকা, হীন জীবনের অন্ধকার সূর্য-তারাকেও অন্ধকার করে ফেলবে। তাই সে নয়া জমিদারের সঙ্গে যেতে দ্বিধা প্রকাশ করেছে। এই দিকটি ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর মধ্যে পরিলক্ষিত হয় না।
‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়ের জন্য যে গভীর অনুরাগ অনুভব করেছে তা উদ্দীপকের আদিলদ্দীনের জন্য সকিনার ক্ষেত্রে ঘটেনি। গ্রামের লোকজন বিলাসীকে টেনে-হিঁচড়ে গ্রামের বাইরে রেখে আসার সময় বিলাসী তাদের বলেছে- “বাবুরা, আমাকে একটিবার ছেড়ে দাও আমি রুটিগুলো ঘরে দিয়ে আসি। বাইরে শিয়াল কুকুরে খেয়ে যাবে-রোগা মানুষ সমস্ত রাত খেতে পাবে না।” মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি ‘বিলাসী’র এহেন ভালোবাসা উদ্দীপকের সকিনার মাঝে প্রকাশ পায়নি। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Question 04
অবস্থাপন্ন সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান রিফাত ভালোবেসে বিয়ে করে দিনমজুরের মেয়ে আসমাকে। এই অসম বিয়েতে ক্ষুব্ধ হয়ে রিফাতের বাবা ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা করে। জীবন-জীবিকার তাগিদে রিফাত একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি নেয়। একদিন চাকরি থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হলে এলাকাবাসী তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। রিফাতের পরিবার তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে কোনো প্রকার দুঃখ প্রকাশ না করে বলে- “এটা তার কর্মের ফল।”
Chittagong · 2025
a
মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু হয়েছিল কোন সাপের দংশনে?
উত্তর
গোখরা সাপের দংশনে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু হয়েছিল।
b
“তাহার বয়স আঠারো কি আটাশ ঠাহর করিতে পারিলাম না।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
“তাহার বয়স আঠারো কি আটাশ ঠাহর করিতে পারিলাম না।”- উক্তিটি ‘বিলাসী’ সম্পর্কে গল্পকথক ন্যাড়া করেছেন।
‘বিলাসী’ গল্পটি রচিত হয়েছে সাপুড়েকন্যা বিলাসী এবং মিত্তির বংশের মৃত্যুঞ্জয়ের জীবনকাহিনিকে কেন্দ্র করে। গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে তার পোড়াবাড়িতে মরতে বসেছিল। তার সেবা-শুশ্রুষা করার মতো কেউ ছিল না। এই অবস্থায় সাপুড়েকন্যা বিলাসী তাকে সেবা-যত্ন করে সুস্থ করে তোলে। মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করতে গিয়ে এবং রাত জেগে খেটে খেটে বিলাসীর শরীরের অবস্থা এমন হয়েছে যে, তাকে দেখে তার বয়স অনুমান করা যায় না.। তাই ন্যাড়া প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছেন।
c
উদ্দীপকের রিফাতের মর্মান্তিক পরিণতি ‘বিলাসী’ গল্পের কোন ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়? বর্ণনা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের রিফাতের মর্মান্তিক পরিণতি ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়।
‘বিলাসী’ গল্পে ব্যতিক্রমধর্মী দুই মানব-মানবীর প্রেমের মহিমা চিত্রায়িত হয়েছে। এখানে জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা অতিক্রম – করে মানবিকতার জয় ঘোষিত হয়েছে। বংশমর্যাদা ও সমাজের নিয়মকে উপেক্ষা করে উচ্চ বংশীয় মৃত্যুঞ্জয় প্রণয়ে আবদ্ধ হয়ে নিচু বংশের বিলাসীর সাথে সংসার গড়েছে।
উদ্দীপকে সম্ভ্রান্ত পরিবারের রিফাত ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দিনমজুরের মেয়ে আসমাকে বিয়ে করে। বাবা তাকে ত্যাজ্য করলে তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জীবিকার সন্ধান করতে হয়। দুর্ভাগ্যবশত দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের ক্ষেত্রেও এই করুণ পরিণতি লক্ষ করা যায়। তবে তাদের এই মৃত্যুতে তাদের পরিবার বংশমর্যাদার মুখোশ পরে অনুশোচনা বা শোক না করে তাকেই দোষারোপ করেছে, তারা মনে করে মৃত্যুঞ্জয়ের এমন পরিণতি তার অন্নপাপের ফল। যা মূলত সমাজে গেড়ে বসা কুসংস্কারকেই নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রিফাতের মর্মান্তিক পরিণতি ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের করুণ পরিণতির ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
d
“প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পে প্রচলিত সমাজ বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।
উত্তর
মূলভাবের দিক থেকে বলা যায় “প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পে প্রচলিত সমাজ বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে”-মন্তব্যটি যথার্থ।
‘বিলাসী’ গল্পে সমাজ বাস্তবতার এক করুণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের সমাজে নর-নারীর মধ্যে পরস্পরের হৃদয় জয় করে বিয়ে করার রীতি নেই। বরং তা নিন্দার সামগ্রী। উচ্চ বংশীয় কেউ অপেক্ষাকৃত নিম্ন বংশের মানুষের সাথে প্রণয়ে আবদ্ধ হলে তাকে সমাজচ্যুত করা হয়।
উদ্দীপকের ঘটনাংশে রিফাত সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হয়েও দিনমজুরের কন্যা আসমাকে বিয়ে করে। বিষয়টি তার পরিবার মেনে নিতে পারেনি। পিতা তাকে ত্যাজ্য ঘোষণা করে। জীবন-জীবিকার তাগিদে রিফাত বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি নেয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার জীবনের মর্মান্তিক সমাপ্তি ঘটে। অথচ পরিবার এ মৃত্যুকে তার কর্মের ফল হিসেবে অভিহিত করে। ‘বিলাসী’ গল্পেও একই সমাজবাস্তবতা ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের মতো ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের করুণ পরিণতি ঘটেছে। বংশমর্যাদা ত্যাগ করে প্রণয়ে আবদ্ধ হয়ে সাপুড়েকন্যাকে বিয়ে করে সাপুড়ে হয়ে ওঠে মৃত্যুঞ্জয়। কিন্তু মর্মান্তিকভাবে সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হয়। অথচ সমাজ মনে করে এটি মৃত্যুঞ্জয়ের অন্নপাপের ফল। উদ্দীপকের রিফাত এবং গল্পের মৃত্যুঞ্জয় উভয়ের মর্মান্তিক পরিণতিতে তাদের আত্মীয়-স্বজন শোকাহত না হয়ে প্রফুল্ল হয়। কেননা তাদের ধারণা এটা তাদের কর্মফল। যা মূলত নির্মম সমাজবাস্তবতার চিত্র। সমাজের এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা উদ্দীপক ও আলোচ্য গল্পের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে। তাই বলা যায়, প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পে প্রচলিত সমাজ বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে।
Question 05
ধর্ম ও সমাজসংস্কারক রাজা রামমোহন রায়কে বলা হয় ভারতের নবজাগরণের পথিকৃৎ। রামমোহনের সমকালীন সমাজে গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস ও জাতিভেদসহ নানা কুপ্রথা প্রচলিত ছিল। একটি মানবিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের জন্য তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁর আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকার সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করে আইন পাশ করে। এতে নারীকে স্বামীর চিতায় জীবন্ত দাহ করার অমানবিক প্রথার, অবসান ঘটে।
Dinajpur · 2025
a
মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?
উত্তর
মৃত্যুঞ্জয় থার্ড ক্লাসে পড়ত।
b
“আমি বুঝিলাম, বিষহরির দোহাই বুঝি আর খাটে না।”-কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
“আমি বুঝিলাম, বিষহরির দোহাই বুঝি আর খাটে না।”-মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু আসন্ন বুঝতে পেরে ন্যাড়া আলোচ্য মন্তব্যটি করেছে।
‘বিলাসী’ গল্পে বিষহরি হলেন দেবী মনসা, দোহাই হলো তার নামে পড়া মন্ত্র। বেদে সম্প্রদায় সরল গ্রাম্য জনগোষ্ঠীর কাছে দেবী মনসার নামে মন্ত্র পড়ে বিষাক্ত সাপের বিষ ঝাড়ার মিথ্যা আশ্বাস দেয়। ন্যাড়া সেই কথা বিশ্বাস করে নিয়েছিল। কিন্তু শত মন্ত্র পড়েও সাপে-কাটা মৃত্যুঞ্জয়ের যখন সুস্থ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা দিল না, তখন মনসা দেবীর সেই মন্ত্রের ওপর থেকে ন্যাড়ার বিশ্বাস উঠে যায়।
c
উদ্দীপকের রামমোহন রায়ের সমকালীন সমাজের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের সমাজব্যবস্থার সাদৃশ্য বর্ণনা কর।
উত্তর
কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও বর্ণপ্রথার ঘৃণ্য প্রচলনের দিক থেকে উদ্দীপকের রামমোহন রায়ের সমকালীন সমাজের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পে লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তৎকালীন হিন্দু সমাজে প্রচলিত ধর্মীয় কুসংস্কার, বর্ণপ্রথাকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছেন। দুজন নর-নারীর প্রেমের মধ্য দিয়ে তিনি সমাজের অনুদারতা ও রক্ষণশীলতা, জীবনের নিষ্ঠুর ও অশুভ চেহারা ফুটিয়ে তুলেছেন।
উদ্দীপকের রাজা রামমোহন রায় তাঁর সমকালে প্রচলিত সমাজের গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস ও জাতিভেদসহ নানা কুপ্রথাকে তীব্র ভাষায় শ্লেষ করেছেন। একটি মানবিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়ে তোলার জন্য তিনি এসব কুপ্রথার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। ‘বিলাসী’ গল্পেও তৎকালীন সমাজের কুসংস্কারাচ্ছন্নতা, গোঁড়ামি, নারীর প্রতি সহিংসতা, বর্ণপ্রথার নির্মম রূপ প্রকাশ পেয়েছে। এদিক থেকে উভয় সমাজে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
d
“রামমোহনের কাঙ্ক্ষিত মানবিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হলে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের জীবনের এমন করুণ পরিণতি হতো না।”- উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটি বিচার কর।
উত্তর
পরিণতির দিক বিবেচনায় “রামমোহনের কাঙ্ক্ষিত মানবিক ও বিজ্ঞানমনষ্ক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হলে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের জীবনের এমন করুণ পরিণতি হতো না” মন্তব্যটি যথার্থ।
‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত হয়েছে সামাজিক কুসংস্কার, বর্ণ ও জাতিভেদ প্রথার দরুন মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর করুণ পরিণতি। নিচু জাতের মেয়ে বিলাসীর হাতের রাঁধা ভাত খেয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের জাতভঙ্গ হয়েছে বলে সমাজের লোকজন বিলাসীকে মেরে তাড়িয়ে দেয়।
উদ্দীপকে রাজা রামমোহন রায় তৎকালীন সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার, গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস ও জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। একটি বিজ্ঞানমনস্ক মানবিক সমাজ গঠনের প্রধান অন্তরায় এ ধরনের অন্ধবিশ্বাস ও কুপ্রথা। তাই তিনি সমাজ থেকে এগুলো উচ্ছেদের আন্দোলন গড়ে তোলেন। রামমোহন রায়ের কাঙ্ক্ষিত সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠলে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের জাতভেদ প্রথার শিকার হতে হতো না। তাদের পরিণতি হয়তো অন্যরকম হতে পারত।
‘বিলাসী’ গল্পের রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় নিচু জাতের হাতে রাঁধা ভাত খেলেই জাতভঙ্গ ও অন্নপাপের কুসংস্কার লেপ্টে দেওয়া হতো। এ জাতভঙ্গের ব্যাপারে সমাজের লোকজন নারীর প্রতি সহিংস হতেও দুবার ভাবেনি। শেষে মৃত্যুঞ্জয় নিজের পিতৃ জাত বিসর্জন দিয়ে শ্বশুরের সাপুড়ে বৃত্তি গ্রহণ করে। উদ্দীপকের রাজা রামমোহন রায়ের কাঙ্ক্ষিত বিজ্ঞানমনস্ক সমাজব্যবস্থা চালু হলে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে নিয়ে পিতৃভিটায় বৃহৎ আমবাগান বন্ধক দিয়ে দিব্যি খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারত। সাপের দংশনে অকালে তাকে প্রাণ দিতে হতো না। হয়তো বিলাসীও স্বেচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করত না। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।
Question 06
“কেউ মালা, কেউ তসবি গলায়
তাইতে কি জাত ভিন্ন বলায়
যাওয়া কিংবা আসার বেলায়
জাতের চিহ্ন রয় কার রে।।”
Mymensingh · 2025
a
‘বিলাসী’ গল্পে কোন মোগল সম্রাটের নাম উল্লেখ আছে?
উত্তর
‘বিলাসী’ গল্পে মোগল সম্রাট হুমায়ুনের নাম উল্লেখ আছে।
b
“গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম।”- কথাটি কোন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
“গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম।”- কথাটি ‘বিলাসী’ গল্পের অকৃতজ্ঞ লোকদের এবং মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি লেখকের ব্যঙ্গাত্মক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পে লেখক ‘সুনাম’ শব্দটিকে ব্যঙ্গার্থে ব্যবহার করেছেন। সহপাঠীদের খাওয়ানো, স্কুলের বেতনের টাকা হারিয়ে যাওয়া এবং বই চুরি হয়ে যাওয়ার নাম করে মৃত্যুঞ্জয়ের কাছ থেকে টাকা আদায় ইত্যাদির মাধ্যমে তার মানবীয় গুণাবলির পরিচয় পাওয়া যায়। তৎকালীন সমাজের সংকীর্ণমনারা তা মনে রাখেনি। তাই লেখক মৃত্যুঞ্জয় সম্পর্কে প্রশ্নোক্ত কথাটির মাধ্যমে সমাজের অকৃতজ্ঞ -লোকদের নির্দেশ করেছেন।
c
উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন দিকটিকে নির্দেশ করা হয়েছে? আলোচনা কর।
উত্তর
উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের জাতিগত বিভেদের দিকটিকে নির্দেশ-করা হয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পের জাতিভেদ প্রথার স্বরূপ উন্মোচন করা হয়েছে। সেখানে সাপুড়েকন্যা বিলাসীকে বিয়ে করা এবং তার হাতে ভাত খাওয়ার অপরাধে মৃত্যুঞ্জয়কে সমাজচ্যুত হতে হয়। মূলত বর্ণবিভক্ত সমাজের সংকীর্ণতাই তার এমন পরিণতির কারণ।
উদ্দীপকে মানবধর্মের কথা বলা হয়েছে। একেক ব্যক্তি একেক ধর্মের অনুসারী হতেই পারে, তাতে ক্ষতি নেই। সবার একটাই-পরিচয়, আর তা হলো- তারা সবাই মানুষ। কারণ সবার জন্ম-মৃত্যু-রহস্য এক ও অভিন্ন। জন্ম-মৃত্যুর মতো সত্যের কাছে কোনো জাতিভেদের অস্তিত্ব থাকে না। ‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসী অসুস্থ-মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। মৃত্যুঞ্জয় এর প্রতিদানে বিলাসীকে বিয়ে করে। সে জাতিগত বিভেদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। কিন্তু সমাজ এ বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেয় না। কারণ বিলাসী-নিচু জাতের, আর মৃত্যুঞ্জয় উঁচু জাতের। এ কারণেই বিলাসীর ওপর নির্মম অত্যাচার চালানো হয়। শুধু জাতিগত বৈষম্যের কারণেই বিলাসীকে মৃত্যুঞ্জয়ের কাছ থেকে আলাদা করার চেষ্টা করা হয়, তাদেরকে সমাজ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এভাবে উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’-গল্পের জাতিগত বিভেদের দিকটিকে নির্দেশ করে।
d
উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পেরেছে ‘কি? তোমার মতামত দাও।
উত্তর
কেবল জাতিভেদের দিকটি তুলে ধরায় উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।
‘বিলাসী’ গল্পে গল্পকার বর্ণপ্রথার ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন। সেখানে বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের মানবিক প্রেমের সম্পর্কও সেই সমাজের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে বারবার। সংকীর্ণ সেই সমাজ তাদের সম্পর্ককে মেনে নেয়নি, উপরন্তু অন্নপাপের দোহাই দিয়ে তাদের সমাজচ্যুত করেছে।
উদ্দীপকে জাতিভেদের অসারতা তুলে ধরা হয়েছে। ধর্ম আলাদা হলেও সবার পরিচয় একটাই, আর তা হলো- তারা সবাই মানুষ। কারণ জাতিভেদ সৃষ্টি করা হলেও জন্ম ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে এই ভেদাভেদের কোনো স্থান নেই। ‘বিলাসী’ গল্পে জাতিভেদের এই রূপটিই স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। মৃত্যুঞ্জয় মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকলে বিলাসী সেবা-যত্ন করে তাকে সুস্থ করে তোলে। একপর্যায়ে তারা ভালোবেসে বিয়ে করে। সমাজ এই বিয়ে মেনে নিতে পারে না। কারণ বিলাসী নিচু জাতের সামান্য সাপুড়ের মেয়ে। ফলে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং তাদের গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এ বিষয়টি উদ্দীপকের মূলভাবের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ বিষয়টি ছাড়াও ‘বিলাসী’ ‘গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার ষড়যন্ত্র, মৃত্যুঞ্জয়ের সমাজ ছেড়ে চলে যাওয়া, গ্রামবাসীর অমানবিকতা, মৃত্যুঞ্জয়ের সাপুড়ে জীবন, সাপের কামড়ে তার মৃত্যু, স্বামীর মৃত্যুশোকে বিলাসীর মৃত্যু ইত্যাদি বিষয় উঠে এসেছে, যেগুলো উদ্দীপকে নেই।
উদ্দীপকে ধর্মের দোহাই দিয়ে জাতিভেদ সৃষ্টি না করার কথা বলা হয়েছে। এখানে জন্ম-মৃত্যুর কাছে সবাই সমান এ কথা বলা হয়েছে। ‘বিলাসী’ গল্পে জাতিভেদের রূপটি স্পষ্ট হয়ে উঠলেও এ গল্পের বড় শিক্ষা ‘হলো অসাম্প্রদায়িক মনোভাব ও মানবিক হওয়া। তবে গল্পের অন্যান্য বিষয় যেমন- তৎকালীন সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, সমাজের নানা অসংগতি ইত্যাদি উদ্দীপকে অনুপস্থিত। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের আংশিক ভাব ধারণ করেছে।
Question 07
দীর্ঘ ৫০ বছর পথে-ঘাটে সাপখেলা দেখিয়ে সংসার চালিয়েছে ঝড়ু সর্দার। আত্মীয়-পরিজন হারিয়ে বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে সর্দারজি। পনেরো বছরের মেয়ে স্বর্ণময়ী এখন তার একমাত্র ভরসা। কয়েকদিন ধরে খাবারের ব্যবস্থা হয়নি বলে সাপ নিয়ে স্বর্ণময়ী রাস্তায় বেরিয়েছে। কিন্তু আজকাল লোকে সাপখেলা দেখে না। এমন অবস্থা দেখে প্রতিবেশী ব্রাহ্মণের ছেলে রাজন স্বর্ণময়ীকে বিয়ে করে তাদের দায়িত্ব নেয়। এই ঘটনায় সমাজ রাজনের পরিবারকে একঘরে করে রাখে।
Comilla · 2024
a
‘বিলাসী’ গল্পের ন্যাড়া কত ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যেত?
উত্তর
‘বিলাসী’ গল্পের ন্যাড়া দুই ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যেত।
b
“গ্রামটা এবার রসাতলে গেল।” ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
“গ্রামটা এবার রসাতলে গেল।”- এ কথা ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া বলেছিলেন মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীকে বিয়ে করার কারণে এবং তার হাতে ভাত খাওয়ার অপরাধে।
‘বিলাসী’ গল্পে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী রাত জেগে সেবা করে মৃত্যুপথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়কে সুস্থ করে তোলে। মৃত্যুঞ্জয় ভালোবেসে বিলাসীকে বিয়ে করলে তার খুড়া জাতভেদের কথা ‘তুলে গ্রামটা রসাতলে গেল বলে তোলপাড় শুরু করেন। সমাজে তার আর মুখ দেখানোর জায়গা থাকল না, সবাইকে ডেকে ডেকে এ কথা বলেন। বিয়ের কথা বাদ দিলেও, বিলাসীর হাতে সে ভাত পর্যন্ত খেয়েছে। গ্রামে যদি এর শাসন-বিচার না থাকে তাহলে তো বনে-জঙ্গলে গিয়ে বাস করতে হবে। মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া মূলত মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পত্তি দখলের জন্যই এমন তোলপাড় কান্ড করেছেন।
c
উদ্দীপকের স্বর্ণময়ী ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের কোন দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর’।
উত্তর
সাপ খেলা দেখিয়ে সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করার দিক থেকে উদ্দীপকের স্বর্ণময়ী ও ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
সমাজে নানান শ্রেণি ও নানান পেশার মানুষ থাকে। এদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা সাপুড়ে। এরা সাপ খেলা দেখিয়ে পয়সা রোজগার করে এবং ক্ষুন্নিবৃত্তি করে। সামাজিক শ্রেণি অবস্থানে এরা নিচু জাতের। ‘বিলাসী’ গল্পের তেমনই এক চরিত্র বিলাসী। সে সাপুড়ের কন্যা। পিতার বয়স হয়ে যাওয়ায় সে সাপ খেলা দেখিয়ে পয়সা উপার্জনের চেষ্টা করে। অর্থাৎ সে সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করে। উদ্দীপকের স্বর্ণময়ীর মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যায়। তার পিতা বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে পড়ায় সে সাপ নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। অর্থাৎ স্বর্ণময়ীও সাপ খেলা দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করে সংসারের হাল ধরতে চায়, যা বিলাসী চরিত্রের অন্য রূপ। এভাবে সাপ খেলা দেখিয়ে সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করার দিক দিয়ে উদ্দীপকের স্বর্ণময়ী ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
d
“উদ্দীপকের ভাববস্তু ও ‘বিলাসী’ গল্পের প্রেক্ষাপট, অভিন্ন নয়।”- মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর
“উদ্দীপকের ভাববস্তু ও ‘বিলাসী’ গল্পের প্রেক্ষাপট অভিন্ন নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
হিন্দু সমাজব্যবস্থায় জাতভেদ প্রথা প্রবল। তারা জাতিভেদের নামে সমাজে এক নির্মম প্রথা চালু করে রেখেছে। উঁচু জাতের হিন্দুর সাথে নিচু জাতের হিন্দুর প্রণয় সমাজ কখনই মেনে নেয় না। আসলে সমাজের এই ব্যবস্থা মানবতাবিরোধী।
‘বিলাসী’ গল্পটি হিন্দু সমাজে প্রচলিত জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে এক শ্লেষাত্মক আখ্যান। গল্পের প্রধান চরিত্র মৃত্যুঞ্জয়, যে কায়স্থের ছেলে। সে যখন একা ঘরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিল তখন এক সাপুড়ের কন্যা বিলাসী তাকে সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। এরপর মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে বিয়ে করে, আর তখনই বিপত্তি বাধে। উঁচু জাতের ছেলে হয়ে নিচু জাতের এক সাপুড়ের মেয়েকে বিয়ে করে বলে সমাজ তাকে হেয় করে। তখন সে বিলাসীর সঙ্গে অন্য জায়গায় চলে যায়। যখন তার সাহায্য প্রয়োজন ছিল তখন সমাজ ছিল নির্বিকার আর বিয়ের, বেলায় জাতপ্রথা। আসলে গল্পকার এই প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে সমাজের ঘৃণ্য প্রথার রূপ উন্মোচন করেছেন।
উদ্দীপকেও এমনই এক ভাববস্তু প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে দেখা যায় ব্রাহ্মণ রাজন নিচু জাতের স্বর্ণময়ীকে বিয়ে করার দরুন সমাজ তার পরিবারকে একঘরে করে দেয়। উদ্দীপকেও সমাজে প্রচলিত ঘৃণ্য প্রথার রূপ উন্মোচন করা হয়েছে। এই বিবেচনায় তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভাববস্তু ও ‘বিলাসী’ গল্পের প্রেক্ষাপট অভিন্ন নয়।
Question 08
‘মহেশ’ গল্পে গফুরের প্রিয় গরুটির নাম মহেশ। দরিদ্র গফুর নিরীহ পশুটিকে ঠিকমতো খাবারের জোগান দিতে পারে না। ফসল নষ্ট করার কারণে তাকে জমিদারের শাস্তিও পেতে হয়েছে। একদিন তৃষ্ণার্ত মহেশ পানির জন্য গফুরের মেয়ে আমিনার মাটির পাত্র ভেঙে ফেলে। রাগান্বিত গফুর লাঙলের ফলা দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মহেশ মারা যায়। গো-হত্যার প্রায়শ্চিত্ত করতে গফুর রাতের আঁধারে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
Dinajpur · 2024
a
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করে?
উত্তর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৩৬ সালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করে।
b
“আমার মাথার দিব্যি রইল, এসব তুমি আর কখনো করো না।”- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
সাপের ছোবলে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু হলে বিলাসী ন্যাড়াকে সাপ- ধরা ও সাপের খেলা দেখাতে নিষেধ করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
মৃত্যুঞ্জয় ও ন্যাড়ার সাপ ধরা নিয়ে অসাবধানতার ভয় সব সময়েই বিলাসীর মনে ছিল। সে জানত সাপ ভয়ংকর প্রাণী। তাই সাপ ধরা আর সাপ খেলানোয় তাদের সতর্ক হতে বিলাসী সব সময়ই উপদেশ দিত। অবশেষে একদিন বিলাসীর কথাই মর্মান্তিকভাবে ফলে গেল। সাপের কামড়ে মৃত্যু হলো মৃত্যুঞ্জয়ের। মিথ্যা প্রতিপন্ন হলো সব মন্ত্রতন্ত্র, মাদুলি, কবচ, মনসার দোহাই ইত্যাদি। মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর সাপ আর বিষ সম্পর্কে বিলাসীর ধারণা আরও বন্ধমূল হলো যে তা কতটা ভয়ংকর। তাই বিলাসী ন্যাড়াকে মাথার দিব্যি দিয়ে সাপ ধরতে ও সাপের খেলা দেখাতে নিষেধ করে বলেছিল, ‘আমার মাথার দিব্যি রইল, এসব তুমি আর কখনো করো না।’
c
গফুরের জীবনবাস্তবতার সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা কর।
উত্তর
গফুরের জীবনবাস্তবতার সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের সাম্প্রদায়িকতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।
পৃথিবীতে সব মানুষের জন্মপরিচয় এক, তা হলো মানুষ। কিন্তু আত্মস্বার্থে তারা পরস্পরকে হিংসা করে এবং সমাজের লোকদের বিভিন্ন স্তরে বিভাজন করে। মানুষ স্বার্থের কারণে বিভিন্ন জাতিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
উদ্দীপকের দরিদ্র গফুর নিরীহ পশুটিকে খাবারের জোগান দিতে পারে না। এমনকি গরুটি অন্যের ফসল নষ্ট করায় শাস্তিও পায় গফুর। ঘটনাক্রমে রাগান্বিত গফুর লাঙলের ফলা দিয়ে মাথায় আঘাত করলে গরুটি মারা যায়। তৎকালীন হিন্দু রক্ষণশীল সমাজের শাস্তির ভয়ে সে মেয়েকে নিয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। অপরদিকে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী মৃত্যুঞ্জকে সেরা করে সুস্থ করে তোলে। মৃত্যুঞ্জয় এর প্রতিদানে বিলাসীকে বিয়ে করে। কিন্তু সমাজ এই বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেয় না। কারণ বিলাসী নিচু জাতের সাপুড়ে মেয়ে, আর মৃত্যুঞ্জয় উঁচু জাতের। এ কারণে সমাজের মানুষদের সঙ্গে নিয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া বিলাসীর ওপর নির্মম অত্যাচার চালায়। তাই বলা যায়, গফুরের জীবনবাস্তবতার সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের সাম্প্রদায়িকতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।
d
“উদ্দীপকের ‘গো-হত্যা’ এবং ‘বিলাসী’ গল্পের ‘অন্নপাপ’ একই সূত্রে গাঁথা”- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
“উদ্দীপকের ‘গো-হত্যা’ এবং ‘বিলাসী’ গল্পের ‘অন্নপাপ’ একই সূত্রে গাঁথা”- মন্তব্যটি যথার্থ।’
পৃথিবীতে সব মানুষ সমান। সবারই সম্মান অধিকার আছে। তাই এই পৃথিবীকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তুলতে চাইলে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি গড়ে তুলতে হবে।
উদ্দীপকের গফুর দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত। সে রাগান্বিত হয়ে তার পোষা প্রাণী সন্তানতুল্য মহেশের মাথায় লাঙলের ফলা দিয়ে আঘাত করে। তাতে গরুটি মারা যায়। গোহত্যা করার কারণে প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ রাতের আঁধারে তাকে পালিয়ে যেতে হয়। অন্যদিকে ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে পড়লে মালোপাড়ার সাপুড়েকন্যা বিলাসী সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে মৃত্যুঞ্জয়কে সুস্থ করে তোলে। মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর হাতে ভাত খেয়েছে বলে তৎকালীন সমাজ বিষয়টি মেনে নেয়নি। তখনকার কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজবাসীর বিশ্বাস ছিল- অন্নপাপের কোনো প্রায়শ্চিত্ত নেই। পরবর্তী সময়ে মৃত্যুঞ্জয় সাপের কামড়ে মারা গেলে গ্রামবাসী মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুকে অন্নপাপের পরিণাম হিসেবে আখ্যায়িত করে।
‘বিলাসী’ গল্পে সমাজে জাতিভেদ বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। এই জাতিভেদের কারণে সমাজে নিম্নশ্রেণির মানুষের ওপর নানা অন্যায়- অত্যাচার করা হয়। অন্নপাপের অজুহাতে মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়ার নেতৃত্বে গ্রামের মানুষ সংঘবদ্ধভাবে বিলাসীর ওপর নির্যাতন চালায়। উদ্দীপকের ‘গোহত্যা’ সমাজের মানুষের তৈরি এমন কিছু নিয়ম- কানুনের বহিঃপ্রকাশ যার কারণে গফুরের মতো নিরীহ বহু মানুষকে বসতভিটা ছেড়ে পালাতে হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Question 09
হুমরাবেদের মেয়ে মহুয়ার প্রেমে পড়ে জমিদারপুত্র নদের চাঁদ। জমিদার বিষয়টি জানতে পেরে রাতের আধারে হুমরাবেদের দলকে গ্রামছাড়া করে। নীচু জাত বেদের মেয়ের সাথে তাঁর পুত্র নদের চাঁদের প্রেম তিনি মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু নদের চাঁদ মহুয়াকে পাওয়ার আশায় বাবা-মাকে ছেড়ে যায়। হুমরাবেদে নদের চাঁদকে হত্যার জন্য মহুয়ার হাতে বিষলক্ষার ছুরি তোলে দেয়।
Comilla · 2023
a
‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
উত্তর
‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
b
‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ির পরিবেশ কেমন ছিল?
উত্তর
‘বিলাসী’ গল্পে গল্পকথক ন্যাড়ার বর্ণনায় মৃত্যুঞ্জয়ের জঙ্গলাকীর্ণ বাড়ির পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিচয় পাওয়া যায়। মৃত্যুঞ্জয়ের বাস ছিল গ্রামের এক প্রান্তে, বিশ-পঁচিশ বিঘা আয়তনের প্রকাণ্ড এক আম-কাঁঠালের বাগানের মধ্যে বিশাল একটা পোড়োবাড়িতে। এ পোড়োবাড়িতে প্রাচীরের বালাই ছিল না। স্বচ্ছন্দে যে কেউ বাড়ির ভেতরে ঢুকতে বা বের হতে পারত। রাতের অন্ধকারে ঘন জঙ্গল বাড়ির পরিবেশকে ভুতুড়ে ও ভীতিজনক করে তুলত।
c
উদ্দীপকের নদের চাঁদ চরিত্রের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন চরিত্র তুলনীয় ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের নদের চাঁদ চরিত্রের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
গল্পের মৃত্যুঞ্জয় উচ্চ কায়স্থ বংশ এবং বিলাসী নিচু বংশের হওয়ায় তাদের ভালোবাসা ও একত্রে ঘরবাঁধা সমাজপতিরা মেনে নিতে পারেনি। সেই সমাজে সমাজপতিদের মুখের কথাই ছিল আইন। তাদের খেয়ালখুশিমতো চলত সমাজ।
এমনি উদ্দীপকের জমিদার পুত্র নদের চাঁদ নীচু জাত বেদের মেয়ের সাথে প্রেম করায় নদের চাঁদের বাবা জমিদার মেনে নিতে পারেনি।
উদ্দীপকের নদের চাঁদ যেমন মহুয়ার প্রেমে পড়ে সমাজকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছিল তেমনি বিলাসী গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে আপন করতে সমাজপতিদের চোখ রাঙানোকে উপেক্ষা করেছিল।
d
“উদ্দীপকটি যেন ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর অমর প্রেমের উপাখ্যান।”- মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর
“উদ্দীপকটি যেন ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর অমর প্রেমের উপাখ্যান।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
বিলাসী গল্পের মৃত্যুঞ্জয় উচ্চ কায়স্থ বংশ এবং বিলাসী নিচু বংশের হওয়ায় তাদের ভালোবাসা ও একত্রে ঘরবাঁধা সমাজপতিরা মেনে নিতে পারেনি। সেই সমাজে সমাজপতিদের মুখের কথাই ছিল আইন। তাদের খেয়ালখুশিমতো চলত সমাজ। বিলাসী নারী হওয়া সত্ত্বেও তার প্রতি সমাজপতিদের সামান্য শ্রদ্ধাবোধ ছিল না। জাত ও বংশ রক্ষার নামে তারা বিলাসীর ওপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে। সমাজপতিদের নির্মমতা সহ্য করেও মৃত্যুঞ্জয়কে নিয়ে বিলাসীর ঘরবাঁধা এ গল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। যদিও তাদের দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, তবুও মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর ভালোবাসা যেন নির্মম সমাজে নতুন আলোকপ্রভা হয়ে উঠেছে।
উদ্দিপকে হুমরাবেদের মেয়ে মহুয়ার প্রেমে পড়ে জমিদারপুত্র নদের চাঁদ। জমিদার বিষয়টি জানতে পেরে রাতের আধারে হুমরাবেদের দলকে গ্রামছাড়া করে। নীচু জাত বেদের মেয়ের সাথে তাঁর পুত্র নদের চাঁদের প্রেম তিনি মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু নদের চাঁদ মহুয়াকে পাওয়ার আশায় বাবা-মাকে ছেড়ে যায়। হুমরাবেদে নদের চাঁদকে হত্যার জন্য মহুয়ার হাতে বিষলক্ষার ছুরি তোলে দেয়।
তাই দেখা যায় উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পে একই অবয়বে দুইটি প্রেমের উপাখ্যান রচিত হয়েছে।
“উদ্দীপকটি যেন ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর অমর প্রেমের উপাখ্যান।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
Question 10
কেউ মালা, কেউ তসবি গলায়
তাইতে কী জাত ভিন্ন বলায়,
যাওয়া কিংবা আসার বেলায়
জাতের চিহ্ন রয় কার রে।।
Jessore · 2023
a
‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
উত্তর
‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
b
“ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।”— ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্ধৃত উক্তিটির মাধ্যমে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়ের সেবায় রত বিলাসীর শারীরিক অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে। ‘বিলাসী’ গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে পড়লে বিলাসী রাতের পর রাত জেগে তার সেবা-শুশ্রূষা করে। এই নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমে বিলাসী শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তার সারা শরীরে একটা অপরিসীম ক্লান্তি ও নিরবচ্ছিন্ন রাত জাগার ছাপ পড়ে যায়। তার এ সজীবতাহীন ও অবসন্ন শরীরকে গল্পের কথক তুলে ধরেছে উক্তিটির মাধ্যমে।
c
উদ্দীপকটিতে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? বুঝিয়ে লেখ ।
উত্তর
উদ্দীপকটি বিলাসী গল্পের জাত ভেদকে নির্দেশ করে।
‘বিলাসী’ গল্পে সমাজে বিদ্যমান জাত প্রথার প্রকট চিত্র ফুটে উঠেছে। মৃত্যুঞ্জয় কায়স্তের সন্তান হয়ে সাপুড়ে কন্যা বিলাসীকে বিয়ে করে। • বিলাসীর হাতের খাবার খেয়ে সে অন্নপাপ করেছে বলে অভিযোগ করে গ্রামবাসী। একপর্যায়ে তাদের গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে জাতপ্রথার অসাড়তা সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন পোশাকে আমরা ভিন্ন ভিন্ন জাতকে চিনতে পারি। কিন্তু জন্ম বা মৃত্যুর সময় । আমাদের জাত নির্ধারিত থাকে না। প্রকৃতির কাছে সবাই সমান। উদ্দীপকে যে জাতপ্রথা নিয়ে কথা বলা হয়েছে ‘বিলাসী’ গল্পে সেই জাতপ্রথার নেতিবাচক দিকগুলো চিত্রিত হয়েছে।
d
“উদ্দীপকটি কি ‘বিলাসী’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পেরেছে?” তোমার অভিমত দাও।
উত্তর
‘বিলাসী’ গল্পে জাতপ্রথার করুণ পরিণতি এবং সার্বিক চিত্র প্রতিফলিত হলেও উদ্দীপকে শুধু এর অসাড়তা নিয়ে কথা বলায় উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের পুরো ভাব প্রকাশিত হয়নি ।
‘বিলাসী’ গল্পে তৎকালীন সমাজের জাত প্রথার স্বরূপ বিস্তৃতভাবে চিত্রিত হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসী পরস্পরকে ভালোবাসলে জাতপ্রথার কারণে তারা কালিমার শিকার হয়। মৃত্যুঞ্জয়কে অন্নপাপের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। তাদের গ্রাম থেকে বের করে দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জীবনের দিকে ঠেলে দেয় সমাজের মানুষ ।
উদ্দীপকে জাতপ্রথার অপ্রয়োজনীয়তা দেখানো হয়েছে। জাতপ্রথা মানুষেরই সৃষ্টি, মানুষ বিভিন্নভাবে নিজেদের মধ্যে উঁচু-নিচু ভেদ তৈরি করে। কিন্তু জন্ম বা মৃত্যুর সময় মানুষের কোনো জাত পরিচয় থাকে না। ‘বিলাসী’ গল্পে জাতপ্রথা নিয়ে আলোকপাত করার পাশাপাশি নর- নারীর ভালোবাসার রূপও প্রকাশিত হয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পে সংকীর্ণ সমাজ দৃষ্টির ঊর্ধ্বে মানব-মানবীর প্রেমের স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে। বর্ণবাদী সমাজের দৃষ্টি-ভঙ্গি প্রকাশিত হয়েছে। অসচেতন মানুষের অন্ধ বিশ্বাস প্রবণতা দেখানো হয়েছে। এর সাথে জাতপ্রথার বলী হয়ে বিলাসী এবং মৃত্যুঞ্জয়ের করুণ পরিণতি এ গল্পে দৃশ্যমান।
উদ্দীপকে জাতপ্রথার একটিমাত্র দিক আলোচিত হওয়ায় উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি বলে আমি মনে করি।
Question 11
সৌদামিনী মালো স্বামীর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে ধানি জমি, বসত-বাড়ি, পুকুরসহ কয়েক একর সম্পত্তির মালিক হয়। এই সম্পত্তির উপর নজর পড়ে সৌদামিনীর জ্ঞাতি দেওর মনোরঞ্জনের। সৌদামিনীর সম্পত্তি দখলের জন্য সে নানা কৌশল অবলম্বন করে। একবার সৌদামিনী দুর্ভিক্ষের সময় ধানখেতের পাশে একটি মানব শিশু খুঁজে পায়। অসহায় অসুস্থ শিশুটিকে সে তুলে এনে পরম যত্নে সন্তানের মতো লালন-পালন করে। মনোরঞ্জন সৌদামিনীকে সমাজচ্যুত করতে প্রচার করে যে নমঃশূদ্রের ঘরে ব্রাহ্মণ সন্তান পালিত হচ্ছে। এ যে মহাপাপ। সমাজের জাত-ধর্ম সব শেষ হয়ে গেল।
Mymensingh · 2023
a
মৃত্যুঞ্জয়ের কত বিঘার বাগান ছিলো?
উত্তর
মৃত্যুঞ্জয়ের কুড়ি-পঁচিশ বিঘা জমি ছিল।
b
মৃত্যুঞ্জয়ের জাত বিসর্জনের কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
মৃত্যুঞ্জয়ের জাত বিসর্জনের কারণ হলো বিলাসীর প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমাজের চোখরাঙানি।
মৃত্যুঞ্জয় কায়স্থের ছেলে। তার বাবা-মা বেঁচে নেই। গ্রামের আর দশটা ছেলের মতো সেও লেখাপড়া করে। কিন্তু ছাত্র হিসেবে ভালো নয় বিধায় সে কখনো থার্ড ক্লাস অতিক্রম করতে পারেনি। এদিকে পাড়ার এক সাপুড়ে মেয়ে বিলাসীর সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গ্রামের রক্ষণশীল হিন্দু সমাজ কিছুতেই সে সম্পর্ক মেনে নেয়নি। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় তার ভালোবাসার টানে এবং সমাজপতিদের নানা অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সাপুড়ে কন্যা বিলাসীকে বিয়ে করার মধ্য দিয়ে জাত-ধর্ম বিসর্জন দেয়।
c
সৌদামিনী চরিত্রের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসীর সাদৃশ্য তুলে ধর।
উত্তর
তৎকালীন হিন্দু সমাজের দিক থেকে বিচার করলে জ্ঞাতিজন কর্তৃক সমাজচ্যুত করার অপচেষ্টার ক্ষেত্রে সৌদামিনী মালো চরিত্রের সঙ্গে বিলাসী চরিত্রের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। আবার জাত-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে কাউকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও উভয়ের মধ্যে একই বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে।
সৌদামিনী মালোর স্বামীর মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তির ওপর নজর পড়ে সৌদামিনীর দেবর মনোরঞ্জন মালোর। অন্যদিকে, মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পত্তির ওপর নজর পড়ে জ্ঞাতি খুড়ার।
সৌদামিনী মালো দুর্ভিক্ষের সময় ধানখেতের পাশে কুড়িয়ে পাওয়া এক অসহায়, অসুস্থ মানবশিশুকে তুলে এনে একান্ত আপনজনের মতো করে লালন-পালন করে। ফলে সমাজ থেকে সে ধিক্কার পায়। অন্যদিকে, সাপুড়ে কন্যা বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে ভালোবেসে বিয়ে করেও সমাজ কর্তৃক ধিক্কৃত হয়।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি, সৌদামিনী মালো চরিত্রের সঙ্গে বিলাসী চরিত্রের এক অপরূপ মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
d
উদ্দীপকের মূলভাব ‘বিলাসী’ গল্পের আংশিক প্রতিচ্ছবি। ‘মূল্যায়ন কর।
উত্তর
উদ্দীপকের মনোরঞ্জন মালো ও ‘বিলাসী’ গল্পের খুড়া একে অন্যের প্রতিচ্ছবি। সৌদামিনী মালো তার স্বামীর মৃত্যুর পর বসতবাড়ি, পুকুরসহ বেশ কয়েক একর জমির মালিক হয়। এ সম্পত্তির ওপর নজর পড়ে সৌদামিনীর জ্ঞাতি দেবর মনোরঞ্জন মালোর।
অন্যদিকে, ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পত্তির ওপর কু-নজর পড়ে তার এক জ্ঞাতি খুড়ার। সে ছলে-বলে-কৌশলে মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পত্তি দখলে নিতে চায়। অর্থাৎ উভয়ের মধ্যেই অন্যের সম্পত্তি হস্তগত করার একটা মানসিকতা দিবালোকের মতো পরিষ্কার।
মনোরঞ্জন মালো সৌদামিনীকে সমাজচ্যুত করার লক্ষ্যে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। সে বলে বেড়াচ্ছে যে নমশূদ্রের ঘরে ব্রাহ্মণ সন্তান পালিত হচ্ছে। এ যে মহাপাপ, হিন্দু সমাজের জাত-ধর্ম সব শেষ হয়ে গেল। অন্যদিকে, মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া মৃত্যুঞ্জয়ও বিলাসীর মৃত্যুর পর এই বলে অপপ্রচার চালিয়েছিল যে মৃত্যুঞ্জয় কায়স্থের ছেলে হয়ে সাপুড়ে মেয়েকে বিয়ে করছে। এমনকি তার হাতে ভাত পর্যন্ত খেয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া একে অন্নপাপ বলতে পিছপা হয়নি।
সুতরাং আলোচনার শেষ প্রান্তে এসে বলা যায়, মনোরঞ্জন যেন ‘বিলাসী’ গল্পের খুড়ারই প্রতিচ্ছবি।
12
Question 12
মুখে দেয় জল, সুধায় কুশল, শিরে দেয় মোর হাত,
দাঁড়ায়ে নিঝুম, চোখে নাই ঘুম, মুখে নাই তার ভাত ।
বলে বার বার, ‘কর্তা, তোমার কোন ভয় নাই, শুন-
যাবে দেশে ফিরে, মা ঠাকুরাণীরে দেখিতে পাইবে পুন ।’
লভিয়া আরাম আমি উঠিলাম, তাহারে ধরিল জ্বরে,
নিল সে আমার কালব্যাধিভার আপনার দেহ পরে।
Sylhet · 2023
a
‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?
উত্তর
‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় আজীবন থার্ড ক্লাসে পড়ত।
b
“স্বদেশের মঙ্গলের জন্য সমস্ত অকাতরে সহ্য করিয়া তাহাকে হিড়হিড় করিয়া টানিয়া লইয়া চলিলাম।”—ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্ধৃত উক্তিটিতে স্বার্থান্ধ-কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামবাসীর সাপুড়েকন্যা বিলাসীর ওপর আক্রমণের কারণ সম্পর্কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তৎকালীন সমাজ মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর প্রেম ও সেবা করার বিষয়টি কোনােভাবেই মেনে নিতে পারেনি। কায়স্থের ছেলে মৃত্যুঞ্জয়ের সাপুড়েকন্যা বিলাসীর হাতে রান্না করা ভাত খাওয়াকে অন্নপাপ, এবং জাত যাওয়ার মতাে ঘটনা হিসেবে সাব্যস্ত করে।
এক সন্ধ্যায় দশ-বারােজনের একটি দল অতর্কিতে বিলাসীর ওপর হামলা চালায়। অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়ের কোনাে কথাই তারা শােনে না। তারা বীরদর্পে হুঙ্কার দিয়ে বিলাসীকে হিড়হিড় করে টেনে বাইরে নিয়ে যেতে থাকল। এ সবই তারা করেছিল ধর্ম ও গ্রামের মুখ রক্ষার অজুহাতে। নিচু জাতের বলে তারা বিলাসীর প্রতি এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছিল।
c
উদ্দীপকের ভৃত্যের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায়? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর
উদ্দীপকের ভৃত্যের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর মিল পাওয়া যায়।
‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী উদার ও সেবাপরায়ণ মনোভাবাপন্ন এক নারী। নিচু জাতের মেয়ে হয়েও বিলাসী অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা-শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলে। পোড়োবাড়িতে একা রাত জেগে সে দিন-রাত সেবা করে গেছে মৃত্যুঞ্জয়ের। এজন্য তাকে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়েছে। সমাজের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করে গেছে। পরম মমতা ও ভালোবাসায় আগলে রেখেছে মৃত্যুঞ্জয়কে।
উদ্দীপকের ভৃত্য ও তার কর্তাকে পরম ক্ষমতায় সযত্নে সেবা করে। মুখে জল দিয়ে, মাথায় হাত বুলিয়ে, না ঘুমিয়ে, না খেয়ে কর্তার সেবায় নিয়োজিত থাকে। কর্তাকে বারবার আরোগ্য লাভের আশ্বাস দেন। নিচু জাত হয়েও কর্তার যত্ন করেন উচ্চ মানসিকতা নিয়ে। ভালোবাসা ও মমতায় আগলে রেখেছে কর্তাকে।
উদ্দীপকের ভৃত্যের এই সেবাপরায়ন মানসিকতার সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর সাদৃশ্য রয়েছে।
d
”উদ্দীপকের পরিণতি থেকে ‘বিলাসী’ গল্পের পরিণতি ভয়াবহ।”—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
”উদ্দীপকের পরিণতি থেকে ‘বিলাসী’ গল্পের পরিণতি ভয়াবহ।”—মন্তব্যটি যথার্থ।
‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয় দুইজন ভিন্ন জাতভুক্ত মানুষ। অনাথ মৃত্যুঞ্জয় একবার অসুস্থ হলে বিলাসী তাকে সেবা-যত্ন করে সুস্থ করে তোলে। তারা বিয়ে করে একসাথে সংসার শুরু করলে গ্রামের মানুষ মৃত্যুঞ্জয়ের অন্নপাপ হয়েছে অভিযোগ তুলে বিলাসীকে ‘গ্রাম থেকে বের করে দিতে চায়, মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসী পরদিন গ্রাম থেকে চলে যায় । মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ে জীবন বেছে নেয় ও পরে সাপের কামড়ে মৃত্যুবরণ করে, বিলাসী এই শোক সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে।
উদ্দীপকের ভৃত্য তার কর্তাকে পরম ক্ষমতায় সযত্নে সেবা করে। মুখে জল দিয়ে, মাথায় হাত বুলিয়ে, না ঘুমিয়ে, না খেয়ে কর্তার সেবায় নিয়োজিত থাকে। কর্তাকে বারবার আরোগ্য লাভের আশ্বাস দেন। নিচু জাত হয়েও কর্তার যত্ন করেন উচ্চ মানসিকতা নিয়ে। অবশেষে কর্তার অসুস্থতা তার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, কর্তার জ্বরের প্রকোপ যেন ভৃত্য তার গায়ে তুলে নেয়। কর্তার জন্য জীবন বাজি রেখে সে জ্বরে আক্রান্ত হয়।
‘বিলাসী’ গল্পের সমাজ কুসংস্কারাচ্ছন্ন, গোড়া সমাজ। এ সমাজের মধ্যে জাতপ্রথায় প্রাপ্ত পরিচয়ই মানুষের একমাত্র পরিচয় বলে গণ্য করা হয়, মানবিক উদারতার জায়গা এখানে খুব কম। যার কারণেই বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়কে গ্রাম ছেড়ে সাপুড়ে জীবন বেছে নিতে হয়েছিল। উদ্দীপকের গানে জাতপ্রথার ঊর্ধ্বে গিয়ে সকল মানুষের সমতার সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে। ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী কে বরণ করে নিতে হয়েছিল বিয়োগান্তক ফলাফল, অপরদিকে উদ্দীপকের বৃত্তের পরিণতি হয়েছিল অসুস্থতার প্রতিস্থাপনে।
”উদ্দীপকের পরিণতি থেকে ‘বিলাসী’ গল্পের পরিণতি ভয়াবহ।”—মন্তব্যটি সঠিক।
Question 13
করোনাকালীন দুর্যোগে জনাব শিমুল চাকুরি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। চরম আর্থিক সংকট এবং মানসিক চাপে তিনি শারীরিকভাবেও ভেঙে পড়েন। ফলে দুই সন্তানের লেখাপড়াসহ সংসারের খরচ চালানো তার জন্য কঠিন হয়ে যায়। এই সময়ে তার স্ত্রী পারুল আক্তার সেলাইয়ের কাজ করে সংসারের হাল ধরেন। পাশাপাশি অসুস্থ স্বামীর সেবা করেন পরম মমতায়।
Dinajpur · 2023
a
মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?
উত্তর
মৃত্যুঞ্জয় আজীবন থার্ড ক্লাসে পড়ত।
b
“একদিন এই মন্ত্রের সত্য-মিথ্যার চরম মীমাংসা হইয়া গেল।”—উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ ।
উত্তর
সাপের কাপড়ে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর মাধ্যমেই সাপ ধরার মন্ত্রের সত্য-মিথ্যার মীমাংসা হয়ে গেল। সাপ ধরার একটি মন্ত্র রয়েছে যেটিকে বিষহরির আজ্ঞা বলা হয়। সেই মন্ত্র বলে সাপকে পোষ মানানো যায়, সাপকে যা বলা যায় সাপ তাই করতে বাধ্য হয়। কিন্তু এটিও ছিল নিছক অন্ধ-বিশ্বাস। গোয়ালার বাড়িতে সাপ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর মধ্য দিয়েই বিষহরির আজ্ঞা যে নেহায়েত একটি কুসংস্কার, সেটিই প্রমাণিত হয়।
c
পারুল আক্তারের সঙ্গে বিলাসী চরিত্রের কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের পারুল আক্তারের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর সাদৃশ্যপূর্ণ দিক হলো উদার এবং সেবাব্রতী মানসিকতা।
‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী উদার ও সেবাপরায়ণ মনোভাবাপন্ন এক নারী । নিচু জাতের মেয়ে হয়েও বিলাসী অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা-শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলে। পোড়োবাড়িতে একা রাত জেগে সে দিন-রাত সেবা করে গেছে মৃত্যুঞ্জয়ের। এজন্য তাকে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়েছে। সমাজের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করে গেছে। পরম মমতা ও ভালোবাসায় আগলে রেখেছে মৃত্যুঞ্জয়কে।
উদ্দীপকের পারুল আক্তার একজন মানবিক এবং সেবাপরায়ণ, কোমল স্বভাবের নারী। করোনাকালীন দুর্যোগে তার স্বামী চাকুরী হারিয়ে চরম আর্থিক সংকট এবং মানসিক চাপে শারীরিকভাবেও ভেঙে পড়েন। এই সময়ে পারুল আক্তার সংসারে হাল ধরার পাশাপাশি স্বামীর সেবায় নিয়োজিত হন। মূলত পারুলের আন্তরিকতা, সেবাযত্ন এবং ভালোবাসাই সংসার টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে। তাই বলা যায়, তার মানবিকতা ও সেবাপরায়ণ মানসিকতা বিলাসী চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
d
“উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের সাদৃশ্য থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।”—উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর
“উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের সাদৃশ্য থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।”—উক্তিটির যথার্থ।
‘বিলাসী’ গল্পে সাপুড়ে কন্যা বিলাসীর সঙ্গে উচ্চবংশীয় মৃত্যুঞ্জয়ের অকৃত্রিম ভালোবাসার অনন্যসাধারণ কাহিনি উঠে এসেছে। পাশাপাশি গল্পটিতে তাদের অসমবর্ণ সম্পর্কের বিরুদ্ধে কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের আগ্রাসী রূপটিও ফুটে উঠেছে। গল্পটিতে বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের করুণ কাহিনির মধ্যদিয়ে তৎকালীন বর্ণবাদী সমাজের ভয়ংকর রূপটি উন্মোচিত হয়েছে ।
উদ্দীপকে করোনাকালীন দুর্যোগে জনাব শিমুল চাকুরি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। চরম আর্থিক সংকট এবং মানসিক চাপে তিনি শারীরিকভাবেও ভেঙে পড়েন। ফলে দুই সন্তানের লেখাপড়াসহ সংসারের খরচ চালানো তার জন্য কঠিন হয়ে যায়। এই সময়ে তার স্ত্রী পারুল আক্তার সেলাইয়ের কাজ করে সংসারের হাল ধরেন। পাশাপাশি অসুস্থ স্বামীর সেবা করেন পরম মমতায়। আলোচ্য ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রটিও গভীর ভালোবাসার শক্তিতে বলীয়ান হয়েই’সমাজবাস্তবতার বিরুদ্ধে গিয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। সেবা দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে তাকে ফিরিয়ে এনেছে।
এসকল বিষয়ে সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও, বিলাসী গল্পের বিলাসী ভালোবাসার মানুষের সেবা করেছিল তার প্রেমের টানে, আর উদ্দীপকের পারুল আক্তার তার ভালোবাসার মানুষের সেবা করেছিল প্রয়োজনের তাড়নায়। বিলাসী গল্পে মৃত্যুঞ্জয় ভালোবেসে জাত ধর্ম ত্যাগ করে বিলাসীর কাছে এসেছিল, কিন্তু উদ্দীপকে তেমন কিছু হয় নি।
তাই বলা যায়, “উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের সাদৃশ্য থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।”—উক্তিটির যথার্থ।
Question 14
মহামারি কোভিডের সময় বাবুলের বাবার কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, বাবুলের লেখাপড়া প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়। এ সময় সহপাঠী রানুর বাবা বাবুলকে গৃহশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। বাবুল যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে। কিন্তু তাদের পারিবারিক শত্রুর কারসাজিতে নিজের আড়ালে কিছু একটা ঘটতে থাকে। কিছুদিনের মধ্যেই সে টের পায়- তার পাড়া-প্রতিবেশী তাকে এড়িয়ে চলছে। সবাই বাবুল এবং রানুকে জড়িয়ে অপপ্রচারে বিশ্বাসী।
Chittagong · 2023
a
ন্যাড়ার সন্ন্যাসীগিরি ইস্তফার কারণ কী?
উত্তর
মশার কামড় সহ্য করতে না পেরে ন্যাড়া সন্ন্যাসীগিরিতে ইস্তফা দেন।
b
. ‘অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।’
উত্তর
সংকীর্ণমনা ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের প্রতি তীব্র কটাক্ষ হিসেবে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
গৌরবের সঙ্গে টিকে থাকার মধ্যেই রয়েছে জীবনের সার্থকতা। যেন তেন প্রকারের টিকে থাকার মধ্যে জীবনের সার্থকতা নেই। তৎকালীন সমাজে। মানুষ বেঁচে থাকার জন্য ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার, অনাচার-অবিচারকে উপায় হিসেবে গ্রহণ করত। এ ধরনের অসুস্থ মানসিকতা নিয়ে বেঁচে থাকার কোনো গৌরব নেই। লেখকের মতে তেলাপোকা হয়ে টিকে থাকার চেয়ে অতিকায় হস্তী হয়ে মরে যাওয়াও গৌরবের।
c
উদ্দীপকের পারিবারিক শত্রু ‘বিলাসী’ গল্পের খুড়াকে কীভাবে প্রতিনিধিত্ব করে? আলোচনা করো।
উত্তর
মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিক অনাচার সৃষ্টির ক্ষেত্রে উদ্দীপকের পারিবারিক শত্রু ‘বিলাসী’ গল্পের খুড়ার প্রতিনিধিত্ব করে।
‘বিলাসী’ গল্পে চিত্রিত হয়েছে দুই মানব-মানবীর প্রেমের মহিমা। পাশাপাশি বর্ণিত হয়েছে ধর্মীয় গোঁড়ামি, পরনিন্দা, দুর্বলের প্রতি সবলের অত্যাচার ও তৎকালীন হিন্দু সমাজের বীভৎস রূপ। গল্পের মৃত্যুঞ্জয় এক অনাথ যুবক। এক জ্ঞাতি খুড়া ছাড়া আপনজন বলতে তার আর কেউ ছিল না। জ্ঞাতি খুড়া নিজেকে মৃত্যুঞ্জয়ের আম বাগানের অর্ধেক অংশের মালিক বলে প্রচার করে এবং মৃত্যুঞ্জয়ের নামে নানা ধরনের দুর্নাম রটায়। মৃত্যুঞ্জয় কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা করে মালো পাড়ার সাপুড়ে কন্যা বিলাসী। মৃত্যুঞ্জয় অসহায় বিলাসীকে বিয়ে করলে সমাজের মানুষ তার বিরুদ্ধে অন্নপাপের অভিযোগ আনে যার নেতৃত্ব দেয় স্বার্থান্বেষী খুড়া। খুড়ার ষড়যন্ত্রে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।
উদ্দীপকে বাবার কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাবুলের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হয়। সহপাঠী রানুর বাসায় গৃহশিক্ষক হওয়ায় সে হাফ ছেড়ে বাঁচে। পারিবারিক শত্রুর কারসাজির কারণে এই ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত হতে থাকে। বাবুল এবং রানুকে জড়িয়ে ঘৃণ্য অপপ্রচার চলতে থাকে। তারা বুঝতে পারে পাড়া-প্রতিবেশী তাকে এড়িয়ে চলছে। ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার যে মানুষের জীবন কীভাবে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে তা আমরা ‘বিলাসী’ গল্পে এবং উদ্দীপকে লক্ষ করি। উদ্দীপকে যেমন একজন পারিবারিক শত্রু দুটি ছেলে মেয়ের জীবন বাধাগ্রস্ত করে তেমনি ‘বিলাসী’ গল্পের খুড়াও মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর জীবন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। বিলাসী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। সংগত কারণেই উদ্দীপকের পারিবারিক শত্রু ‘বিলাসী’ গল্পের খুড়াকে প্রতিনিধিত্ব করে।
d
উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজচিত্রকে ‘বিলাসী’ গল্পের সমাজচিত্রের দর্পণ বলা যায় কি? যুক্তিসহ মত প্রকাশ করো।
উত্তর
ঘটনার সাজুয্য থাকলেও উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজচিত্রকে ‘বিলাসী’ গল্পের সমাজচিত্রের পুরোপুরি দর্পণ বলা যায় না।
‘বিলাসী’ গল্পে জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা পেরিয়ে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর ভালোবাসা জয়যুক্ত হয়েছে। কিন্তু অশিক্ষা, কুসংস্কার ও তৎকালীন হিন্দু সমাজের জাতভেদ প্রথা তাদের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছিল। সমাজের নিষ্ঠুর নিপীড়নের শিকার হয়েছিল মমতাময়ী নারী বিলাসী। নিচু জাতের বলে বিলাসীকে গ্রাম ছেড়ে তাড়িয়ে দিতে উদ্যত হয়েছে গ্রামবাসী। মৃত্যুঞ্জয়ের আপন বলতে কেউ ছিল না। কঠিন রোগে আক্রান্ত মৃত্যুঞ্জয়কে বিলাসী | মনপ্রাণ দিয়ে শুশ্রুষা করে সারিয়ে তোলে। মৃত্যুঞ্জয়ও তাই তাকে ভালোবেসে ম বিয়ে করে। জাত-কুলের মূলে কুঠারাঘাত করে মৃত্যুঞ্জয় পৈতৃক ভিটা ছেড়ে নি মালোপাড়ায় নতুন বসতি গড়ে।
উদ্দীপকে মানসিক দৈন্য ও পরাশ্রীকাতরতার একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। কোভিড মহামারির সময় বাবুলের বাবার কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। বাবুলের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হলে সহপাঠী রানুর বাবা তাকে গৃহশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। কিন্তু তাদের পারিবারিক শত্রু রানু ও বাবুলকে জড়িয়ে ঘৃণ্য অপপ্রচার চালায়। এতে প্রতিবেশীরাও তাদের এড়িয়ে চলে।
‘বিলাসী’ গল্পে দুটি হৃদয়ের অমর প্রেমকাহিনি তুলে ধরতে গিয়ে লেখক নানা চরিত্র ও ঘটনার সমাবেশ ঘটিয়েছেন। সেখানে উদার, নিভীক, দৃঢ়চেতা, ধৈর্যশীল ও মানবিক মৃত্যুঞ্জয়ের উল্লেখ রয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে বুদ্ধিমতী, সেবাব্রতী ও কর্মনিপুণ নারী বিলাসীর। বিদ্যার্জনে তৎকালে শিক্ষার্থীদের কী পরিমাণ কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে তাও প্রসঙ্গক্রমে বাল এসেছে। বিভিন্ন ফলমূল, গাছের বর্ণনাসহ প্রকৃতির প্রকৃত চিত্র অংকন করা ভাল হয়েছে। ন্যাড়ার জবানিতে হৃদয়গ্রাহী প্রেমকাহিনিসহ সামাজিক অনাচার, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও জাতভেদ প্রথার উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্দীপকে তার একটি খণ্ডিত চিত্র ফুটে উঠেছে। তাই উদ্দীপককে ‘বিলাসী’ গল্পের দর্পণ বলা যায় না।
Question 15
মহুয়া শহরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। তার শহরে কাজ করার বিষয়টি গ্রামের কিছু মানুষ পছন্দ করে না। উপরন্তু তার নামে দুর্নাম রটনা করে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি এলে গ্রামের মানুষগুলো মহুয়ার নামে বিচার বসায়। তারা মহুয়াকে জোর করে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মহুয়া তাতে প্রতিবাদ করে। অসুস্থ মাকে রেখে সে কিছুতেই কোথাও যাবে না।
Rajshahi · 2023
a
এডেন কীসের জন্য বিখ্যাত?
উত্তর
এডেন সামুদ্রিক লবণ তৈরির জন্য বিখ্যাত।
b
“ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর
‘ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।’- এ কথা বিলাসীকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পের কথক ন্যাড়া মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতা এবং তাকে সেবাদানকারী বিলাসীর অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে। ন্যাড়া একদিন সন্ধ্যার অন্ধকারে লুকিয়ে বনের মধ্যে পোড়োবাড়িতে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে দেখতে যায়। বিলাসী তখন মৃত্যুঞ্জয়ের শিয়রে বসে পাখার বাতাস করছে। ন্যাড়া সেই মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে যে, খাটতে খাটতে আর রাত জাগতে জাগতে বিলাসীর শরীরে আর কিছুই নেই। ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়ে ভিজিয়ে রাখা বাসি ফুলের মতো। হাত দিয়ে সামান্য স্পর্শ করলে, একটু নাড়াচাড়া করতে গেলে ঝরে পড়বে। এই অবস্থা নির্দেশ করতেই লেখক ‘বিলাসী’ গল্পের কথক ন্যাড়ার জবানিতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
c
বিলাসী চরিত্রের কোন দিকটি মহুয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা বর্ণনা কর।
উত্তর
বিলাসী চরিত্রের মৃত্যুঞ্জয়ের গ্রামের মানুষ কর্তৃক নির্যাতনের দিকটি মহুয়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
পৃথিবীতে সব মানুষের জন্ম-পরিচয় এক ও অভিন্ন। অথচ আত্মস্বার্থে তারা পরস্পরকে ঘৃণা করে এবং সমাজের লোককে বিভিন্ন স্তরে বিভাজন করে বৈষম্য তৈরি করে।
উদ্দীপকে মহুয়া শহরে কাজ করে। মেয়ে হয়ে শহরে কাজ করে বলে গ্রামের লোকেরা তাকে বদনাম দেয় এবং তাকে গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে হয়ে কায়স্থ ঘরের সন্তান মৃত্যুঞ্জয়কে বিয়ে করায় গ্রামের লোকজন তা মেনে নেয় না। তারা বিলাসীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। তারা বিলাসীর প্রতি অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করে। জ্ঞাতি খুড়া মৃত্যুঞ্জয়ের জমি ও বাগানের লোভে অন্ন্য পাপের অভিযোগে সমাজচ্যুত করে। এভাবে, উদ্দীপকের মহুয়া এবং ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী দুজনেই গ্রামের মানুষ কর্তৃক নির্যাতনের শিকার।
d
“বিলাসী ও মহুয়া পরস্পর বিপরীত চরিত্রের মানুষ।”-মন্তব্যটি যাচাই কর।
উত্তর
“বিলাসী ও মহুয়া, পরস্পর বিপরীত চরিত্রের মানুষ।”-মন্তব্যটি যথার্থ।
পৃথিবী সব মানুষ সমান। সবারই সুন্দরভাবে জীবনযাপন করার অধিকার রয়েছে। কেউ কেউ অন্যায়ভাবে সেই অধিকার খর্ব করতে চায়। কেউ সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করে। আবার কেউ তা নীরবে সহ্য করে।
উদ্দীপকে গ্রামের মেয়ে মহুয়া শহরে কাজ করায় গ্রামের লোকজন তার নামে কুৎসা রটনা করে এবং তাকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মহুয়া এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। অসুস্থ মাকে রেখে সে কোথাও যাবে না। অন্যদিকে ‘বিলাসী’ গল্পে নিচু জাতের হয়ে উঁচু জাতের ছেলেকে বিয়ে করায় গ্রামবাসী তাকে গ্রামছাড়া করতে চায়। বিলাসী এ সিদ্ধান্তের কোনো প্রতিবাদ করেনি, বরং চুপচাপ সহ্য করেছে।
উদ্দীপকের মহুয়া একজন প্রতিবাদী নারী। কিন্তু ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর মধ্যে অন্যায়কে সহ্য করার প্রবণতা প্রতিফলিত হয় যা মহুয়া চরিত্রের বিপরীত। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Question 16
আলেয়া খাতুন রাতের বেলা এক হাতে লণ্ঠন আর অন্য হাতে রশি নিয়ে মনের দুঃখে কাঁদতে কাঁদতে পাশের বাড়ির সালেহা বেগমকে এসে বললেন, ‘আম্মা, আমার আর বাঁচার এতটুকু ইচ্ছে নেই। যাকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসলাম সেই যখন আমাকে ছেড়ে চলে গেল তখন আমি বাঁচতে চাই না। আমিও মরতে চাই।’ সাহেলা বেগম বললেন, ‘দেখ বউমা, এমন কথা বলো না। তোমার শ্বশুরের সাথে ত্রিশ বছর ধরে সংসার করেছি। তিনি মারা যাওয়ার পরে আজও এই ঘর, এই সংসারকে আঁকড়ে পড়ে আছি। কোনোদিন এই সংসার ছেড়ে চলেযাওয়ার চিন্তাও করি নাই। তিনি যেদিন মারা গেলেন, বুকে পাথর বেঁধে সারাটি রাত তার পাশেই বসে ছিলাম। যাও বাড়ি যাও। সব ঠিক হয়ে যাবে।’ পাশেই বসে থাকা সালেহা বেগমের ছোট সন্তান সোহাগ আলেয়া খাতুনকে জিজ্ঞাসা করে, ‘ভাবী, তোমার হাতে লণ্ঠন কেন?’ আলেয়া খাতুন চট করে উত্তর দেয়-‘যদি সাপে কামড়ায়!’
Mymensingh · 2022
a
ন্যাড়ার মাদুলি-কবচ কবরে দেওয়ার পরে তার কাছে আর কী অবশিষ্ট রইল?
উত্তর
ন্যাড়ার মাদুলি কবচ দেওয়ার পরে তার কাছে আর অবশিষ্ট রইল বিষহরির আজ্ঞা।
b
‘ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।’ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্ধৃত উক্তিটির মাধ্যমে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবায় রত বিলাসীর শারীরিক অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।
বিলাসী গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে পড়লে বিলাসী রাতের পর রাত জেগে সেবা করে।এই নির্বিচ্ছিন্ন পরিশ্রমে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।তার সারা শরীরে একটা অপরিসীম ক্লান্তি ও নিরবিচ্ছিন্ন রাত জাগার ছাপ পড়ে যায়।তার এ সজীবতাহীন ও অবসন্ন শরীরকে গল্পের কথক তুলে ধরেছে উক্তিটির মাধ্যমে।
c
উদ্দীপকের আলেয়া খাতুনের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? আলোচনা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের আলেয়া খাতুনের সাথে বিলাসী গল্পের ন্যাড়ার আত্মীয়ার স্ত্রীর স্বামীভক্তির দিকটির সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।বিলাসী গল্পের আত্মীয় মারা গেলে তার বিধায় স্ত্রী শোকাহত হয়ে স্বামীর সঙ্গে সহমরণের জন্য হাহাকার করতে থাকে।কিন্তু লাশের পাশে তাকে একাকী রেখে ন্যাড়া যখন মৃতের সৎকারের জন্য লোক ডাকতে বাইরে পা বাড়ায়, সে চিৎকার করে বলে ওঠে যে, সে একা থাকতে পারবে না।
উদ্দীপকে আলেয়া খাতুন রাতের বেলা এক হাতে লন্ঠণ আর এক হাতে দড়ি নিয়ে পাশের বাড়ির সালেহা বেগমকে বললেন যে, তার স্বামী মারা যাওয়ায় তিনিও আর বেঁচে থাকতে চান না।কেননা, তিনি তাঁর স্বামীকে প্রাণদিয়ে ভালবাসতেন।তখন সালেহা বেগমের ছোট ছেলে সোহাগ আলেয়া খাতুনের হাতে লন্ঠন কেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন সাপে কামড়ানোর ভয়ে।অর্থাৎ তিনি স্বামীর প্রতি লোভ দেখানো ভালোবাসা প্রকাশ করে মারা যাওয়ার কথা বলেছেন।যেমনটি আমরা লক্ষ করি আলোচ্য গল্পের ন্যাড়ার আত্মীয় স্ত্রীর মধ্যেও। সেও স্বামীর মৃত্যুতে লোক দেখানো শোক প্রকাশ করে সহমরনের কথা বলে। সুতরাং মেকি স্বামীভক্তির দিক দিয়ে উদ্দীপকের আলেয়া খাতুন এর সাথে বিলাসী গল্পের ন্যাড়ার আত্মীয় সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।
d
উদ্দীপকের সালেহা বেগমের ক্ষেত্রে ‘বিলাসী’ গল্পের ‘ইহা আর এক শক্তি’ উক্তিটি প্রযোজ্য হয়নি। বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
উদ্দীপকের সালেহা বেগমের ক্ষেত্রে বিলাসী গল্পে ইহা আর এক শক্তি, উক্তিটি প্রযোজ্য হয়নি।মন্তব্যটি যথার্থ
বিলাসী গল্পে কথকের এক আত্মীয় তার স্বামীর মৃত্যুর পরে মৃতদেহের পাশে একা থাকতে ভয় পায়। একসঙ্গে দীর্ঘ দিন সংসার করলেও মৃতদেহের পাশে একা কোন মেয়ে থাকতে চায় না।কথকের মতে, এই ভয়কে অতিক্রম করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়।কথক মনে করেন এটি অন্য এক শক্তি যা একসঙ্গে সংসার করলেই সবার মধ্যে আসে না।
উদ্দীপকের সালেহা বেগম ত্রিশ বছর সংসার করেন। এরপর তার স্বামী মারা গেলেও তিনি সংসার ছেড়ে যাননি। যেদিন তার স্বামীর মৃত্যু হয় সেদিন সারা রাত্রি মৃত স্বামীর পাশে বসে ছিলেন। মৃতদেহের পাশে বসে থাকার সময় তার মধ্যে কোন ভয় কিংবা আতঙ্কের ভাব দেখা যায়নি।বরয় ভয়কে অতিক্রম করতে পেরেছেন।’বিলাসী’ গল্পের মৃত মানুষের সঙ্গে একা সময় পার করার সাহস সবার থাকে না বলে কথক মনে করেছেন।এই সাহস ও শক্তি বহু স্বামী স্ত্রী একসঙ্গে দীর্ঘদিন সংসার করার পরও হয় না।উদ্দীপকের সালেহার ক্ষেত্রে আমরা শক্তি ও সাহস দেখতে পাই।তিনি মৃতস্বামীর পাশে সারারাত থাকলেও তার মধ্যে কোন ভয় পরিলক্ষিত হয়নি।পারস্পরিক মনোজগতে নৈকট্য লাভের এই দিকটিকেই কথক ‘ইহা আর একটি শক্তি’ বলে অভিহিত করেছেন। আর এই শক্তি উদ্দীপকের সালহা বেগমের মধ্যে প্রকাশ পাওয়ায় প্রশ্নোত্তর মন্তব্যটির যথার্থ হয়ে ওঠেনি বলেই প্রতিমান।
Question 17
ভয়ংকর এক সড়ক দুর্ঘটনায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা রায়হানকে পাশের বস্তির
মেয়ে জাহানারা উদ্ধার করে নিয়ে আসে। স্মৃতি ফিরে পেলে রায়হান জানতে পারে
তার জীবন বাঁচিয়েছে ঐ মেয়েটি। দীর্ঘদিন সেবা-যতেœর পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে
ওঠে সে। রায়হান মেয়েটির প্রতি কৃজ্ঞতাবোধ থেকে তাকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে
আসে। তার বাবা জাহানারাকে মেনে নেয় না। কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে তাকে বিদায়
করে দিতে চাইলে রায়হানও জাহানার সাথে বস্তিতেই চলে যায় এবং সেখানেই সুখে
সংসার বাঁধে।
Chittagong · 2022
a
‘বিলাসী’ গল্পের গল্পকথকের নাম কী?
উত্তর
‘বিলাসী’ গল্পের গল্প কথকের নাম ন্যাড়া।
b
“ওরে বাপরে! আমি একলা থাকতে পারব না।” উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উক্তিটির মাধ্যমে ন্যাড়া তার এক আত্মীয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তার মেকি স্বামীপ্রেমের প্রতি ইঙ্গিত করেছে।
‘বিলাসী’ গল্পে ন্যাড়ার এক আত্মীয় মারা গেলে তার বিধবা স্ত্রী শোকাহত হয়ে স্বামীর সঙ্গে সহমরণের জন্য হাহাকার করতে থাকে। কিন্তু লাশের পাশে তাকে একাকী রেখে ন্যাড়া যখন মৃতের সৎকারের জন্য লোক ডাকতে বাইরে পা বাড়ায়, তখনই সে চিৎকার করে উদ্ধৃত উক্তিটি করে। এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়, বহুদিনের সাহচর্য সত্ত্বেও হৃদয়ের গভীর সংযোগ ঘটেনি । এভাবে উক্তিটির মধ্য দিয়ে তার মেকি স্বামীপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
c
উদ্দীপকের জাহানারা চরিত্রের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি আলোচনা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের জাহানারা চরিত্রের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর সাদৃশ্যপূর্ণ দিক হলো উদার এবং সেবাব্রতী মানসিকতা ।
‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী উদার ও সেবাপরায়ণ মনোভাবাপন্ন এক নারী নিচু জাতের মেয়ে হয়েও বিলাসী অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা-শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলে। পোড়োবাড়িতে একা রাত জেগে সে দিন-রাত সেবা করে গেছে মৃত্যুঞ্জয়ের । এজন্য তাতে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়েছে। সমাজের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করে গেছে।পরম মমতায় আগলে রেখেছে মৃত্যুঞ্জয়কেউদ্দীপকের জাহানারা একজন মানবিক এবং সেবাপরায়ণ, কোমল স্বভাবের নারী । মারাত্মক দুর্ঘটনায় আহত রায়হানকে সে নিজ দায়িত্বে বাড়িতে নিয়ে সেবা শুশ্রূষা করে। দুর্ঘটনায় রায়হান তার স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে। পরবর্তী সময়ে জাহানাবার সেবা-যত্নে সে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। মূলত জাহানারার আন্তরিকতা, সেবা যত্নে এবং ভালোবাসাই রায়হানকে নতুন জীবন দিয়েছে। তাই বলা যায়, মানবিকতা ও সেবাপরায়ণ মানসিকতা বিলাসী চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।।
d
“উদ্দীপকের রায়হান এবং ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় উভয়েই মানবিকতার মূর্ত প্রতীক।” উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
উদ্দীপকের রায়হান এবং মৃত্যুঞ্জয় উভয়েই মানবিকতার মূর্ত প্রতীক। কারণ, তারা সামাজিক ভেদ বৈষম্যের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানবিক পরিচয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে।
মৃত্যুঞ্জয় কায়স্থ ঘরের মিত্তির বংশের ছেলে। কিন্তু সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সেবা-শুষা করে সুস্থ করে তোলে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী। পরবর্তী সময়ে বিলাসীর গুণমুগ্ধ হয়ে তাকে ভালোবেসে বিয়ে করে মৃত্যুঞ্জয়। এ কারণে রক্ষণশীল সমাজের চাপে পড়ে জাত বিসর্জন দিয়ে সাপুড়ে হতে হয় মৃত্যুঞ্জয়কে।
উদ্দীপকের রায়হান ছিল অত্যন্ত কৃতজ্ঞতাবোধসম্পন্ন মানুষ। বস্তির মেয়ে জাহানারা তারা জীবন বাঁচালে সে-ও তার প্রতি আন্তরিকতা, ভালোবাসা এবং মুগ্ধতা থেকে তাকে বিয়ে করে ঘরে নিয়ে আসে। কিন্তু রায়হানের পরিবার জাহানারাকে কিছু টাকা দিয়ে বিদায় করে দিতে চায়। তবে, রায়হান এই অন্যায় হতে দেয়নি। সে তার পরিবার ছেড়ে স্ত্রীকে নিয়ে বস্তিতে চলে আসে।
জাহানারার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং উদারতার জন্য রায়হান নিজের পরিবার ত্যাগ করে বস্তিজীবন বেছে নেয়। তাছাড়া সে তার স্ত্রীর প্রতি অত্যন্ত দায়িত্বশীল। অন্যদিকে মৃত্যুঞ্জয় সমাজের নিষ্ঠুরতা রক্ষণশীলতা, সংকীর্ণতা ও চোখরাঙানি উপেক্ষা করে স্বেচ্ছায় সাপুড়ে কন্যাকে বিয়ে করে জাত সাপুড়ে হয়ে উঠতেও দ্বিধা করেনি। যার মূলে সক্রিয় ছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মানবতাবোধ। তাই বলা যায়; রায়হান ও মৃত্যুঞ্জয় উভয়েই মানবিকতার মূর্ত প্রতীক।
Question 18
শরৎচন্দ্রের ‘মহেশ’ গল্পে গফুরের প্রিয় গরুটির নাম মহেশ। দরিদ্র গফুর নিরীহ পশুটিকে
ঠিকমতো খাবারের জোগান দিতে পারে না। ফসল নষ্ট করার জন্য তাকে জমিদারের শাস্তিও
পেতে হয়েছে। একদিন তৃষ্ণার্ত মহেশ পানির জন্য গফুরের মেয়ে আমিনার মাটির পাত্র ভেঙে
ফেলে। রাগান্বিত গফুর লাঙলের ফলা দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মহেশ মারা যায়। গোহত্যার
প্রায়শ্চিত্ত করতে গফুর রাতের আঁধারে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
Sylhet · 2022
a
‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথমে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
উত্তর
‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ।
b
“গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম”- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের নেতিবাচক ভাবমূর্তিকে ব্যঙ্গার্থে ‘সুনাম’ বলা হয়েছে।
মৃত্যুঞ্জয় সম্পর্কে উদ্ধৃত উক্তিতে ‘সুনাম’ শব্দটি গল্পকথক ন্যাড়া ‘দুর্নাম’ অর্থে ব্যবহার করেছে। আত্মীয়-পরিজনহীন মৃত্যুঞ্জয়ের এক জ্ঞাতি খুড়া ছিল। সে তার নামে দুর্নাম রটনা করে বেড়াত। দুর্নাম রটানোর কারণে গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের এমন একটা নেতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছিল |যে, গ্রামবাসী তার সঙ্গে প্রকাশ্যে মেলামেশা দূরে থাক, তার সঙ্গে সংশ্রব থাকার কথাটা পর্যন্ত স্বীকার করত না। নিজ গ্রামে মৃত্যুঞ্জয়ের এমন নেতিবাচক ভাবমূর্তি প্রসঙ্গেই গল্পটিতে উদ্ধৃত উক্তিটির অবতারণা করা হয়েছে।
c
গফুরের জীবন-বাস্তবতার সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন ঘটনার সাদৃশ্য বিদ্যমান? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
গফুরের জীবনবাস্তবতার সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের সমাজচ্যুত হওয়ার ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সেবা-শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী। পরবর্তী সময়ে বিলাসীর গুণমুগ্ধ হয়ে তাকে ভালোবেসে বিয়ে করে মৃত্যুঞ্জয়। এ কারণে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের চাপে পড়ে জাত বিসর্জন দিয়ে সাপুড়ে হতে হয় মৃত্যুঞ্জয়কে।
উদ্দীপকের গফুর রেগে গিয়ে লাঙলের ফলা দিয়ে তার প্রিয় গরু মহেশকে আঘাত করে। ফলে মহেশ মারা যায়, যা তাকে অত্যন্ত ব্যথিত করে। কিন্তু এর ফলে সমাজপতিদের চাপে তাকে গোহত্যার প্রায়শ্চিত্ত করার মতো শাস্তির সম্মুখীন হতে পারে। তাই শাস্তি থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে গফুর রাতের অন্ধকারে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এক্ষেত্রে গোহত্যার ঘটনাটি তার ইচ্ছাকৃত ছিল না, তবুও সমাজের ভয়ে তাকে তার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়। অন্যদিকে, ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে ভালোবেসে বিয়ে করে সমাজচ্যুত হয়। গফুরের জীবনবাস্তবতার সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের এই ঘটনার সাদৃশ্য বিদ্যমান ।
d
“উদ্দীপকের ‘গোহত্যা’ এবং গল্পের ‘অন্নপাপ’ একই সূত্রে গাঁথা”- তোমার মতামত আলোচনা কর।
উত্তর
তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজ বাস্তবতার নিরিখে উদ্দীপকের ‘গোহত্যা’ এবং গল্পের ‘অন্নপাপ’ মূলত একই সূত্রে গাঁথা ।
সেকালে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের বিভিন্ন কুসংস্কারের মধ্যে অন্যতম ছিল ‘অন্নপাপ’ নামক প্রচলিত ধারণা। অন্নপাপ বলতে সমাজে উঁচু জাতের কেউ নিচু জাতের কারো হাতে ভাত খাওয়াকে বোঝায়। গল্পের মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ে কন্যা বিলাসীর গুণমুগ্ধ হয়ে তাকে বিয়ে করলে অন্নপাপের অভিযোগে তাদের সমাজচ্যুত করা হয়৷
উদ্দীপকের গফুরের অত্যন্ত প্রিয় গরু মহেশ। দারিদ্র্যের কারণে গফুর ঠিকমতো তার খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে না। একদিন রাগের মাথায় মহেশকে আঘাত করলে মহেশ মারা যায়। এমতাবস্থায় গোহত্যার অভিযোগে তাকে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। তাই নিজেকে বাঁচাতে সে সপরিবারে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়। তার এই গ্রামছাড়া হওয়ার কারণ তৎকালীন সমাজের কুসংস্কার ও সংকীর্ণ চিন্তাধারা।
‘বিলাসী’ গল্পে গল্পকার তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের ভয়াবহ রূপটি উন্মোচন করেছেন। অসবর্ণের হওয়ায় সেই সমাজ বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের বিয়েকে স্বীকৃতি দেয় না। উপরন্তু অন্নপাপের অজুহাতে তাদের নিপীড়ন করে গ্রামছাড়া করে । ফলে বাধ্য হয়েই মৃত্যুঞ্জয়কে সাপুড়ে জীবন গ্রহণ করতে হয় এবং পরিণতিতে সর্প দংশনে মৃত্যু হয় তার। একইভাবে, গোহত্যার কারণে রক্ষণশীল সমাজের শাস্তির ভয়েই গফুরকেও গ্রাম ছাড়তে হয়। এই গোহত্যাজনিত অপরাধ বা অন্নপাপ মূলত রক্ষণশীল মানসিকতারই প্রকাশ। এ দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ ।
Question 19
সৌদামিনী মালোর পালিত পুত্র হরিদাসকে নিয়ে মনোরঞ্জন মালো গ্রামময় প্রচার
করে দিল যে সৌদামিনী ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ কর্ম করেছে। ব্রাহ্মণের জাত
মেরেছে সে। সৌদামিনী মালোর সাথে মনোরঞ্জন মালোর শত্রæতা আগে ছিল
ব্যক্তিগত এখন তা সমাজগত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু একা মনোরঞ্জন
মালো নয়, সমস্ত গ্রাম সৌদামিনী মালোর বিরুদ্ধে জুলুম শুরু করল।
Barisal · 2022
a
‘বিলাসী’ গল্পে কোন মোগল সম্রাটের নাম উল্লেখ আছে?
উত্তর
‘বিলাসী’ গল্পে মোগল সম্রাট হুমায়ুনের নাম উল্লেখ আছে।
b
“একলা যেতে ভয় করবে না তো?’- কে, কাকে এবং কেন এই উক্তিটি করেছিল? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর
আম বাগানের জমাট বাঁধা অন্ধকারের মধ্য দিয়ে যেতে ভয় করবে কি না তা জানতে চেয়ে বিলাসী ন্যাড়াকে উদ্দেশ করে আলোচ্য উক্তিটি করেছে।
দীর্ঘদিন মৃত্যুঞ্জয়ের দেখা না পেয়ে, তার মর মর অবস্থার কথা জানতে পেরে তাকে দেখতে এসেছিল ন্যাড়া। ফেরার সময় পথ এমনকি নিজের হাতও দেখতে না পাওয়া জমাট অন্ধকারে আম বাগানের ভেতর দিয়ে আসতে যে কারো দারুণ ভয় পাওয়ার কথা। বিলাসী সে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ন্যাড়ার কাছে জানতে চেয়েছে সে একা যেতে ভয় পাবে কি না ।
c
উদ্দীপকের সৌদামিনী মালোর সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসী চরিত্রের কী মিল খুঁজে পাওয়া যায়? আলোচনা কর।
উত্তর
তৎকালীন হিন্দু সমাজের বিশ্বাস অনুসারে উচ্চ জাতকে কলঙ্কিত করেছে এই অজুহাতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার সঙ্গে সৌদামিনী মালো করে দুজনেই কর্পোরেট জব করছে এবং পরিবারের
ও বিলাসী চরিত্রের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যায় ।
‘বিলাসী’ গল্পের নাম চরিত্র বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে। তার নিবিড় সেবা-যত্নে মৃত্যুঞ্জয় কঠিন রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করে। এরপরই মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে বিলাসীর বিয়ে দেয় বিলাসীর পিতা। মৃত্যুঞ্জয়ের স্বার্থান্বেষী খুড়া এ বিয়ে ও বিলাসীর হাতে মৃত্যুঞ্জয়ের ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামের লোকদের খেপিয়ে তোলে। গ্রামের লোকেরা নির্যাতন করে বিলাসীকে বাড়ি ছাড়া করে। মূলত মৃত্যুঞ্জয়ের আমবাগান দখল করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে খুড়া জুলুম করার এমন প্রেক্ষাপট তৈরি করে ।
উদ্দীপকের সৌদামিনী মালোকেও ব্রাহ্মণের জাত মারার অপবাদ দিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাজেহাল করা হয়। মনোরঞ্জন মালোর সঙ্গে সৌদামিনী মালোর পূর্ব শত্রুতা ছিল। ব্যক্তিগত সেই শত্রুতাকে গ্রামময় ছড়িয়ে দিতে মনোরঞ্জন মালো পুরো গ্রামে প্রচার করে যে, সৌদামিনী ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপকর্ম করেছে। সে ব্রাহ্মণের জাত মেরেছে বলে সমাজের লোকদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। গোটা গ্রাম তখন সৌদামিনীর বিরুদ্ধে জুলুম শুরু করে। ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর অবস্থাও সৌদামিনীর মতোই। সাপুড়ের মেয়ে হয়ে মিত্তির বংশের মৃত্যুঞ্জয়কে বিয়ে করা ও ভাত রেঁধে খাওয়ানোর কারণে গায়ে হাত তুলে টেনেহিঁচড়ে গ্রামের বাইরে বের করে দেওয়া হয় বিলাসীকে। বিলাসীর ওপর জুলুম করতে সম্পত্তির লোভে অন্ধ খুড়া | গ্রামবাসীকে প্রভাবিত করে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে। উদ্দীপকের সৌদামিনী মালোও বিলাসীর মতোই এমন জুলুমের শিকার। তাই বলা যায়, ধর্মীয় কুসংস্কারকে ব্যবহার করে অত্যাচার করার দিক থেকে উভয় চরিত্রের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যায় ।
d
উদ্দীপকের ‘ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ’ ‘বিলাসী’ গল্পে কীভাবে দেখানো হয়েছে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
উদ্দীপকের ‘ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ’ ‘বিলাসী’ গল্পে দেখানো হয়েছে সাপুড়ের মেয়ে হয়ে মিত্তির বংশের মৃত্যুঞ্জয়কে ভাত খাওয়ানোর অর্থাৎ অন্নপাপের মধ্য দিয়ে।
‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে হওয়ায় তার রান্না করা ভাত উচ্চ. জাতের কেউ খেতে পারবে না। এতে অন্নপাপ হয় বলেই সমাজের মানুষের বিশ্বাস। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় তাকে বিয়ে করে তার হাতে ভাত খেয়েছে। এজন্য মৃত্যুঞ্জয়ের জাত গেছে ও মিত্তির বংশের নাম ডুবেছে বলে জ্ঞাতি খুড়া গ্রামময় প্রচার করে। তৎকালীন সমাজের প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে এতে ভয়ানক অপরাধ হয়েছে বলে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়কে কঠিন পরিণতি বরণ করতে হয়।
উদ্দীপকে সৌদামিনী মালোকে ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপের কথা বলে তার ওপর জুলুম করা হয়। সে ব্রাহ্মণের জাত মেরেছে বলে প্রচার করে মনোরঞ্জন মালো। পূর্বশত্রুতার জেরে মনোরঞ্জন মালো সৌদামিনীর বিরুদ্ধে গোটা সমাজকে খেপিয়ে তোলে। সমাজের মানুষও এতটাই অন্ধবিশ্বাসী যে তারা মনোরঞ্জন মালোর কথায় প্রভাবিত হয়ে সৌদামিনীর ওপর জুলুম চালায় ।
‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসীর ওপরও ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ কথাটির প্রয়োগ করা হয় অন্নপাপ করার অভিযোগের ভেতর দিয়ে। সে সাপুড়ের মেয়ে হয়ে উচ্চবংশীয়, শারীরিকভাবে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে ভাত রেঁধে খাইয়ে যেন অপরাধ করেছে। কঠিন অসুখে মৃত্যুঞ্জয়ের জীবন যখন মৃত্যুর মুখোমুখি তখন বিলাসীর মতো মানবিক মেয়ে রাত-দিন তার পাশে ছিল । তার অক্লান্ত সেবা-শুশ্রুষা ও রাতজেগে সেবার পর মৃত্যুঞ্জয় সুস্থ হয়ে ওঠে। সেই দুর্দিনে গাঁয়ের কেউ এসে খোঁজ নেয়নি, উদ্যোগ নেয়নি ভালো চিকিৎসার। কিন্তু চক্রান্তকারী লোভী খুড়ার প্ররোচনায় সবাই অন্নপাপের অপবাদে একজোটহয়ে আক্রমণ করে। তাদের কাছে জীবনের চেয়ে জাতে ওঠে। তাই তারা বিলাসীকে নির্যাতন করে মৃত্যুঞ্জয়ের বা দেয়। বিলাসী তাদেরকে বলার চেষ্টা করে যে, সে মৃত স্ত্রী। তবুও অন্নপাপের ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ কাজের অজুহ ওপর জুলুম করে । বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে ভাত রান্না করে ভয়ানক শাস্ত্র-বিরুদ্ধ পাপ বলে গণ্য হয়। উদ্দীপকে ে এমন পাপকে অত্যধিক গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়েছে।
