Board Prep – Civics 1 CH 1

  1. পৌরনীতি ও সুশাসন পরিধি (D25,B25,M25,B23,D22, R21, S21,S19 ) : পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো নাগরিক। একটি রাষ্ট্রের উন্নতি-অবনতি, উত্থান-পতন, সফলতা-ব্যর্থতা নির্ভর করে রাষ্ট্রের নাগরিকের ভূমিকার ওপর। উত্তম নাগরিক রাষ্ট্রের সম্পদ। নাগরিকের উত্তম ও পূর্ণাঙ্গ জীবন প্রতিষ্ঠা করার জন্যই মূলত রাষ্ট্রের উৎপত্তি। এসব কারণে পৌরনীতিকে নাগরিকতাবিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়। আবার, নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য যেমন অধিকার অপরিহার্য, তেমনি রাষ্ট্রকে সচল, গতিশীল ও প্রাণবন্ত করার জন্য কর্তব্য পালন আবশ্যক। অধিকার ভোগ করতে হলে একজন নাগরিককে যেসব কর্তব্য পালন করতে হয় এবং অধিকার যেভাবে বিভিন্ন ধরনের কর্তব্যের সাথে সম্পর্কিত পৌরনীতি তা আলোচনা করে। তাছাড়া রাষ্ট্রের সংজ্ঞা, প্রকৃতি ও উৎপত্তির ইতিহাস, রাষ্ট্রের উপাদানসমূহ, রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি, সরকারের প্রকৃতি ও শ্রেণিবিভাগ এবং কার্যাবলি প্রভৃতি বিষয় নাগরিক জীবনের সাথে জড়িত। পৌরনীতি এসব বিষয় সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। এছাড়া নাগরিক জীবন আজ স্থানীয় ও জাতীয় গণ্ডির সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করেছে। অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশই বর্তমানে প্রতিবেশী ও দূরের সকল রাষ্ট্রের সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করে। এক্ষেত্রে বিশ্বশান্তি ও বন্ধুত্বের বন্ধনকে সুদৃঢ় করার জন্যই মানুষ গড়ে তুলেছে জাতিসংঘসহ বহু আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। পৌরনীতি ও সুশাসন এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্ভব, বিকাশ, উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি সম্পর্কে আলোচনা করে।
  2. পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিককে কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে (D25,C25,M23,R23) : সুনাগরিক সেই ব্যক্তি যিনি নিজ দেশের আইন মেনে চলেন, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সচেতন, অপরের অধিকারকে সম্মান করেন এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। আত্মনিয়ন্ত্রণ, বিবেকবোধ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা- এই গুণগুলো একজন সুনাগরিকের বৈশিষ্ট্য। তিনি দেশপ্রেমিক, শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং সমাজকল্যাণে আগ্রহী।
    পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টি একজন নাগরিককে দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলে। এটি অধ্যয়নের ফলে নাগরিক নিজ অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয় এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি বুঝতে পারে। নাগরিকতার সাথে যুক্ত নানা গুণ যেমন উদারতা, সহনশীলতা, সততা ও দায়িত্ববোধ তার মধ্যে বিকশিত হয়। নাগরিকের ভেতরে গোঁড়ামি ও সংকীর্ণতা দূর হয়ে বিচারবোধ ও যুক্তিনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে। ফলে সে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। সুশাসনের উপাদানসমূহ যেমন আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ, স্থানীয় সরকারের শক্তিশালীকরণ ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে সে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে প্রস্তুত হয়। সে জানে কীভাবে নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হয় এবং কোন পথে জাতি উন্নতির দিকে এগোতে পারে। পাশাপাশি সে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করে এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী হয়।
  3. পৌরনীতি ও সুশাসন (R25, J25, C25, Ct25, S25, B25, D25, M25, D23, M23,R23,D23,B23,C23,CT23,J23,R22 , C22, CT22, S22, B22, J22, D21,R21, J21, C21, CT21, B21, M21, D19 , D19,C19 , R18, D17, C17, CT17, S17, J17, B17 ) : ইংরেজি Civics শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ পৌরনীতি, যা ল্যাটিন শব্দ Civis ও civitas থেকে উৎপন্ন। এ শব্দদয়ের  অর্থ যথাক্রমে নাগরিক ও নগররাষ্ট্র। অর্থাৎ উৎপত্তিগতভাবে পৌরনীতি হলো নগররাষ্ট্রের  বসবাসরত নাগরিকদের আচরণ ও কার্যাবলী সংক্রান্ত বিজ্ঞান।পৌরনীতি বর্তমানে কেবল শব্দগত অর্থ সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি আধুনিক সময়ে বিস্তৃত নাগরিক জীবনের সামগ্রিক পাঠ। আর তাই এর আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে নাগরিকতার অতীত ও বর্তমান এবং তার আলোকে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ও কাঙ্ক্ষিত রূপ। একইভাবে নাগরিকদের উত্তম অপূর্ণাঙ্গ জীবন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুনাগরিকতার শিক্ষা, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ,সচেতনতা প্রভৃতি সম্পর্কে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে থাকে। আর নাগরিকতার স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রূপ সম্পর্কে আলোচনা পাশাপাশি রাষ্ট্র ও বিশ্ব সভ্যতার বিভিন্ন ক্ষেত্র সমূহ নাগরিকগণের যাবতীয় সম্পর্কিত বিষয় ও পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের আওতাভুক্ত। নাগরিকের উত্তম জীবন প্রতিষ্ঠা করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরনীতি নাগরিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন- নাগরিক ও নাগরিকতা, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা দিক সম্পর্কে আলোচনা করে। এসব বিষয়ের জ্ঞান একজন নাগরিককে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন হিসেবে গড়ে উঠতে উদ্বুদ্ধ করে।
  4. পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও নাগরিকতার সাথে জড়িত সকল বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান লাভ (S23) : পৌরনীতি ও সুশাসন মূলত নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। নাগরিকের উত্তম জীবন প্রতিষ্ঠা করায় পৌরনীতির লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে নাগরিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন- নাগরিক ও নাগরিকতা, সুনাগরিকের গুণাবলী, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানাদিক সম্পর্কে আলোচনা করে থাকে। এছাড়া নাগরিক জীবনের নিরাপদ, সভ্য ও নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল জ্ঞানের ভান্ডার পৌরনীতি ও সুশাসন।নাগরিকের জীবন ও কার্যাবলী যতদূর বিস্তৃত অর্থাৎ যা কিছু নাগরিক জীবনে স্পর্শ করে পৌরনীতি ও সুশাসনের বিষয়বস্তুও ততদূর প্রসারিত। এছাড়াও পরিবার, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের সাথে জড়িত সকল প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে পৌরনীতি জ্ঞান প্রদান করে।
  5. সুশাসন (M25,D22, J22,D22, D21, D21, C21 ) : যে শাসনব্যবস্থায় প্রশাসনের জবাবদিহিতা, বৈধতা, স্বচ্ছতা, সবার অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, সে শাসনকে সুশাসন বলে। সুশাসনের অন্যতম স্তম্ভ হলো জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। শাসনকাজে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শাসন প্রক্রিয়ার সুশৃংখল ও কাঠামো বোঝার একটি রূপ হলো সুশাসন। একটি রাষ্ট্রে সুশাসনের উপস্থিতি বোঝাতে কিছু মূল বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। যেমন- অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং জবাবদিহিতা। এখানে সুস্পষ্ট ভাবে রাষ্ট্রের  দায়িত্ব ও কর্তব্য, রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পর্ক, জনগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য, নেতার জনতা ও রাষ্ট্রের আত্মসম্পর্ক, প্রশাসন সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণসহ স্থান পায়। শাসন ব্যবস্থায় প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সকল সমস্যার সমাধান করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, জাতীয়শিলতা কার্যকর ও সফলতা লাভ করে সুশাসনের মাধ্যমে। জনগণের মৌলিক অধিকার ও বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সহ গণতন্ত্র সর্বোচ্চ সকল বই আন্তসহায়তা করে। প্রশাসনের মাধ্যমিক গণতন্ত্র ক্লাসের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক আইন প্রণয়ন সম্ভব হয়।
  6. সুশাসনের অভাব (S22) : একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান অন্তরায় হলো সীমাহীন দুর্নীতি। দুর্নীতি যদি রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে গ্রাস করে তাহলে প্রশাসন ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়ে।ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে তাই বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।পাশাপাশি জনগণকে সচেতন ও উদ্যোগী হতে হবে।
  7. গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুশাসনের ভূমিকা (M25,D21): গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এটি তখনই বাস্তবায়নযোগ্য হয়, ‘যখন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠিত থাকে। সুশাসন আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চেতনাকে কার্যকর করে তোলে। ফলে গণতন্ত্র মানুষের জীবনে বাস্তব প্রভাব ফেলে।
  8. পৌরনীতি ও সুশাসন ক্রমবিকাশ (J25) : পৌরনীতির উৎপত্তির ইতিহাস অনেক পুরোনো। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্রকেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে এ শাস্ত্রের উদ্ভব। সেই সময়ে পৌরনীতির ক্ষেত্র ছিল মূলত নগররাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিক। সম্পর্কিত আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে নাগরিকতার ধরন, বিস্তার ও মাত্রা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, সুনাগরিকতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে। নাগরিকের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ইত্যাদির গঠন, কার্যাবলি ও ভূমিকা পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। জাতীয় গৌরবময় ইতিহাস, আন্দোলন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও জ্ঞানদান করে পৌরনীতি। বর্তমানকালের বৈশ্বিক বিস্তৃতি নাগরিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠান, যেমন- জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, সার্ক ইত্যাদির গঠন ও কার্যাবলি নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে থাকে। একই সাথে অতীতে নাগরিক জীবন কেমন ছিল, রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব কেমন ছিল, নাগরিকগণ কেমন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত তার স্বরূপ নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে এর প্রকৃতি কেমন এবং ভবিষ্যতে তা কেমন হতে পারে, তারও দিকনির্দেশনা পৌরনীতি হতে পাওয়া যায়। অতীতের শাসনব্যবস্থা, সংবিধান, শাসকশ্রেণি ইত্যাদির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে ভালো ছিল যা ভবিষ্যতে গ্রহণ করা যেতে পারে পৌরনীতির আলোচনায় তা পাওয়া যায়।
  9. পৌরনীতি ও সুশাসন যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা (R25,B21) : অদক্ষতা, সুশাসনের জন্য অন্যতম প্রধান শর্ত হলো শাসনকার্যে জনসাধারণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অংশগ্রহণ। আর এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক জ্ঞান ও সচেতনতা। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। এছাড়াও রয়েছে সরকারের জবাবদিহিতার অভাব, আইনের শাসনের অভাব, সরকারের পরমতসহিষ্ণুতার অভাব, জনসচেতনতার অভাব ইত্যাদি। এক্ষেত্রে পৌরনীতি ও সুশাসন প্রতিটি সমস্যার সমাধান দেয়। সংশ্লিষ্ট ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তসহ ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি সমস্যার সমাধানকল্পে পৌরনীতি ও সুশাসন কাজ করে। পৌরনীতি নাগরিকদের যেমন অধিকার-কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞান দেয় ও সুশাসন তেমনি সরকারসহ সব প্রতিষ্ঠানের জন্য রয়েছে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা। ফলে জনগণ ও সরকারের পারস্পরিক সুষ্ঠু সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। এজন্য পৌরনীতি ও সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে আমরা সাধারণভাবে বলতে পারি, সুশাসন নিশ্চিত করা। এ অর্থে পৌরনীতি যদি হয় তত্ত্বীয়, তাহলে সুশাসন হলো এর ব্যবহারিক দিক।
  10. সুশাসন অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে (CT25) : সুশাসন হলো একটি রাষ্ট্র পরিচালনার এমন প্রক্রিয়া যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, দুর্নীতি দমন ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকে। এর মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা, যা একটি টেকসই ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনে সহায়তা করে। সুশাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জিত হয়, যা বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ায়। সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং বৈষম্য হ্রাসের মাধ্যমে আয় বণ্টনের ভারসাম্য রক্ষা করা যায়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, জনসম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং ন্যায়সংগত আর্থিক নীতি প্রণয়নের ফলে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়। এটি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে এবং একচেটিয়া কারবার রোধ করে। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, বেকারত্ব কমে এবং রাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করে অর্থনৈতিক খাতে একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করে। সুশাসন জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে রাষ্ট্রকে কার্যকরভাবে পরিচালিত করে, ফলে জনসেবা কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ হয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে জাতীয় আয় বৃদ্ধি এবং তা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।
  11. ‘পৌরনীতি ও নাগরিকতা’ অধ্যয়ন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক / গুরুত্ব অপরিসীম //সুনাগরিক হওয়ার পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টি অধ্যায়ন করা জরুরী / নাগরিককে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে /  নাগরিকের জীবনে অপরিহার্য / দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি / বিশ্বসভ্যতার উন্নয়নে ভূমিকা (D25, S23, R22, C22,B22, J21,D19, C19, J19 ) : শাসন প্রক্রিয়ায় সুশৃঙ্খল ও কাঠামোবদ্ধ একটি রূপ সুশাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য করণীয় ও বর্জনীয় সকল বিষয় সম্পর্কে ‘পৌরনীতি ও সুশাসন’ বিশদভাবে আলোচনা করে। পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্রের নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, সরকার ও আমলাতন্ত্র, রাষ্ট্রের উপাদান ও কার্যাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যার মাধ্যমে সচেতন ও সুনাগরিক গঠনে সহায়তা করে। সুশাসন এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি দেশের সীমিত সম্পদকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে জনগণের অধিক কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়। সুশাসনের অভাবে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় যা দেশের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সুশাসন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা কেবল ‘পৌরনীতি ও সুশাসন’ বিষয়টি অধ্যয়নের মাধ্যমেই সম্ভব। কেননা সুশাসন বা ‘Good governance’ শব্দটির শাব্দিক ও প্রায়োগিক অর্থ এর সংজ্ঞা ও আলোচ্য বিষয় ‘পৌরনীতি ও সুশাসনে’ আলোচিত হয়েছে। পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়নের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে বিশদ ধারণা পাওয়া যায়। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় সকল বিষয় পর্যালোচনা করে শাসনব্যবস্থার প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সকল সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার শিক্ষা ‘পৌরনীতি ও সুশাসন’ প্রদান করে।
  12. পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে সুশাসনের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর (D23): শাসন প্রক্রিয়ার সুশৃংখল ও কাঠামোবদ্ধ একটি রূপ সুশাসন যা একটি আদর্শ রূপে বাস্তবায়িত হয়। এটা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত। বর্তমান বিশ্বের রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রচলিত শাসন ব্যবস্থার মধ্যে গণতন্ত্রের শাসনযোগ্য সর্বাধিক। আর এ শাসনকে সুন্দর ভাবে পরিচালনার জন্য সর্বাধিক জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হলো সুশাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য করণীয় ও বর্জনীয় সকল কিছুই পৌরনীতি ও সুশাসন বিশদভাবে আলোচনা করে। এছাড়াও পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্রের নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, সরকার ও আমলাতন্ত্র, রাষ্ট্রের উপাদান ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান দান করে সচেতন ওসুনগরিক গঠনে সহায়তা করে। একজন শুরু নাগরিক রাষ্ট্রের শাসনকার্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করে।
  13. আধুনিক সরকার ব্যবস্থায় সুশাসন অত্যন্ত কার্যকরী ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান পালন করে(D23) : আধুনিক সরকার ব্যবস্থায় উক্ত বিষয়টি তথা সুশাসন অত্যন্ত কার্যকরী ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।আধুনিক বিশ্বের অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োচিত একটু শাসনব্যবস্থা হলে সুশাসন। এটি সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত। বর্তমান বিশ্বে আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রচলিত শাসন ব্যবস্থার মধ্যে গণতন্ত্রের গ্রহণযোগ্যতা সর্বাধিক। বর্তমানে সকল আধুনিক রাষ্ট্র নাগরিকদের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে রাষ্ট্রকে কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে করতে সচেষ্ট থাকে। গণতন্ত্র বা কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করতে হয় তা হলো সুশাসন। আইনের শাসন বলতে বোঝায় আইনের চোখে সবাই সমান। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এরূপ সাম্যভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা। সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন। আইনের শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষতা আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকার সংরক্ষণকে সংখ্যালঘু ও রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারবিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।
  14. পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান(CT 23, C21) : পৌরনীতি ও নাগরিকতার পরিধি ও বিষয়বস্তু বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি কার্যত নাগরিক জীবন ও তদসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সম্পর্কের বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ। পৌরনীতি ও সুশাসন মূলত নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। রাষ্ট্রের সংজ্ঞা, প্রকৃতি, উৎপত্তি, সংবিধানের প্রকৃতি, রাষ্ট্রের উপাদানসমূহ, সংবিধানের প্রকৃতি ও শ্রেণীভেদ, সরকারের শ্রেণীভেদ ও  প্রকৃতি,সরকারের বিভিন্ন অঙ্গসমূহের প্রকৃতি ও গঠন এদের কার্যাবলী নির্বাচন ও নির্বাচক মন্ডলী, রাজনৈতিক দল সহ প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন সম্পর্কে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। অপরদিকে, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহই হলো পৌরনীতি ও সুশাসনের বিশেষ অন্যতম প্রধান উপজীব্য। স্পষ্ট তো পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান ব্যতীত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ যেমন কল্পনা করা দুঃসাধ্য তেমনি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ছাড়াও পৌরনীতি অসম্পূর্ণ। এই আলোচনা কেবল ব্যাখ্যা ধানের সীমাবদ্ধ নয় বরং বিভিন্ন সমস্যা নিরূপণসহ সেসবের যৌক্তিক পর্যালোচনা ও সমাধান পৌরনীতি পাঠ করে থাকে।  
  15. পৌরনীতি ও সুশাসন জ্ঞান বিশ্ব সভ্যতার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে (J23) : পৌরনীতির রাষ্ট্রের নাগরিক ও নাগরিকতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বরূপ সম্পর্কিত জ্ঞান। বর্তমান যুগের রাষ্ট্র ও সরকার শুধু শাসন কাজই করেনা বরং অন্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক স্থাপন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ সহ নাগরিকের সার্বিক বিষয় নিয়ে কাজ করে। উদ্দীপকে জনাব ‘X’ এ কারণেই শিক্ষার্থীদের পৌরনীতি ও সুশাসন সম্পর্কে ধারণা নিতে বলেছেন। তবে পৌরনীতি শুধু রাষ্ট্র, সরকার, নাগরিকের অধিকার, কর্তব্য নিয়েই আলোচনা করে না বরং পৌরনীতি নাগরিকের অতীত, বর্তমান ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার পাশাপাশি নাগরিকের স্থানীয়, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিষয় নিয়ে ও আলোচনা করে। কেননা রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে একজন নাগরিক বিশ্বসমাজেরও সদস্য। কোন রাষ্ট্রীয় বর্তমানে একাকী চলতে পারেনা। তাই প্রত্যেকটি পারস্পারিক সম্পর্কে বেড়াজাল সৃষ্টি করে বিশ্ব সমাজ গঠন করেছে। ফলের রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে একজন নাগরিক বিশ্ব সমাজের প্রকার অধিকার ও কর্তব্যবোধ আবদ্ধ। নাগরিকের নাগরিকতা আন্তর্জাতিকতায় নাগরিক বিভিন্ন সংস্থার সদস্য হতে পারে আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে। উপরিউক্ত এই সমস্ত বিষয়ের পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে সম্ভব। কেননা এই সমস্ত বিষয়েই পৌরনীতি পাঠের মূল বিষয়বস্তু হিসেবে পরিচিত।
  16. পৌরনীতি ও সুশাসন সম্পর্কে বিখ্যাত মনীষী ই. এম. হোয়াইটের প্রদত্ত সংজ্ঞা (J23) : পৌরনীতির নাগরিকতা বিষয়ক একটি মৌলিক সামাজিক বিজ্ঞান। নাগরিক জীবনে সকল দিক নিয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য কি শুরু করে নাগরিকতার সাথে জড়িত সকল প্রশ্ন ও এর উত্তর নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করে। নাগরিকতা নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতেই পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকতার স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিক পর্যালোচনা করে। এজন্য ই. এম. হোয়াইট বলেছেন, ” নাগরিকতার সাথে জড়িত সকল প্রশ্ন সম্পর্কে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাই পৌরনীতি। ” তিনি আরো বলেন ” পৌরনীতি হচ্ছে জ্ঞানের সেই মূল্যবান শাখা যা নাগরিকতার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকতার সাথে আলোচনা করে। ” উদ্দীপকে পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকতার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিক তুলে ধরেছে, যা ই. এম. হোয়াইটের সংজ্ঞার পূর্ণ প্রতিফলন।
  17. নাগরিকতা (J23,J17+1, B17) : পৌরনীতি নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। নাগরিকতার সাথে জড়িত সকল বিষয় নিয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। এক্ষেত্রে নাগরিকতার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করার পাশাপাশি নাগরিকতার স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রূপ নিয়েও আলোচনা করে। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অতীতের বিশৃঙ্খলা সমাজ ব্যবস্থা এর উপর ভিত্তি করে স্থাপিত হয়েছে আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা। অতীতে নাগরিকদের জীবনের সাধের সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক বিষয়ে ও বর্তমান সময়ে এ রূপান্তর এবং ভবিষ্যতের এসব সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানসমূহ কিরূপ পরিগ্রহ করতে পারে পৌরনীতি সে বিষয়ে ধারণা প্রদান করে। নাগরিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অতীত ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থান পর্যালোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতের রূপরেখা প্রণয়ন করে। অতীতকাল থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংগঠন গড়ে উঠেছে, বর্তমানেও রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা অব্যাহত থাকবে। মোটকথা পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রূপ তুলে ধরে নাগরিকতার সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকে।
  18. নাগরিকের স্থানীয় দিক (R19) : নাগরিকের স্থানীয় দিক সম্পর্কে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। এটি ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের গঠন, কার্যাবলি ও বিকাশ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে, যা নাগরিকের স্থানীয় দিক হিসেবে বিবেচিত।
  19. পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক / রস্পর গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত (D19, C17, S17 ): পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি উভয়ই সামাজিক বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকের অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য, আচরণ প্রভৃতি বিষয় বিশ্লেষণ করে। আর অর্থনীতি নাগরিকের সুবিধার্থে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। উভয়ের লক্ষ্য নাগরিকের কল্যাণ সাধন করা। তাই উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। অর্থনীতির সাথে পৌরনীতি ও সুশাসন বিভিন্নভাবে সম্পর্কযুক্ত। প্রতিটি রাজনৈতিক সমস্যার যেমন অর্থনৈতিক দিক রয়েছে, তেমনি প্রতিটি অর্থনৈতিক সমস্যার রয়েছে রাজনৈতিক দিক। পৌরনীতি ও সুশাসন মূলত নাগরিককে অধিকার ও কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতন করে। অন্যদিকে, অর্থনীতি মানুষের জীবনে অভাব ও চাহিদার মাঝে সামঞ্জস্য বিধান করে সুন্দর ও সুখী জীবনযাপনে সহায়তা করে থাকে। একটি দেশের রাজনৈতিক সংগঠনের স্থায়িত্ব ও সমৃদ্ধি সে দেশের অর্থনৈতিক সংগঠনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। আবার কোনো দেশের আর্থিক উন্নতি ও অবনতি সমানভাবে সে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব, দক্ষতা ও দূরদর্শিতা।
  20. পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে ইতিহাসের সম্পর্ক (J19, CT19, B19, D18 ): পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে ইতিহাসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। পৌরনীতি ও সুশাসনের সাহায্য ছাড়া ইতিহাসের পথচলা যেমন কঠিন, তেমনি ইতিহাসের সাহায্য চাড়াও পৌরনীতি ও সুশাসনের পথচলা কঠিন পৌরনীতি ও সুশাসনের যে অংশ সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকারের সাথে সম্পর্কিত সেসব ক্ষেত্রে ইতিহাসের সাথে তার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। এছাড়া দুটি পরস্পর পরস্পরকে পূর্ণতা প্রদান করেছে। কারণ পৌরনীতি ও সুশাসন ইতিহাসের তথ্য দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছে, আর পৌরনীতির ও সুশাসনের জ্ঞান দ্বারা ইতিহাসও সঞ্জীবিত হয়েছে। পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচ্য বিষয়সমূহ যেমন- পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র প্রভৃতি অতীতে কীরূপ ছিল, কীভাবে তা পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান রূপ পরিগ্রহ করেছে তা ইতিহাস পাঠ করে জানা যায়। ঐতিহাসিক তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ ব্যতীত পৌরনীতি ও সুশাসন অসম্পূর্ণ। আবার, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচিত না হলে ইতিহাসও নিরর্থক হয়ে পড়ে। পৌরনীতি ও সুশাসনের তথ্যগুলো পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক ঘটনাবলির ওপর আলোকপাত করে এবং ইতিহাসের স্বরূপ উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। তাই বলা যায়, ইতিহাস এবং পৌরনীতি ও সুশাসন পরস্পর পরিপূরক ও সহায়ক।
  21. পৌরনীতি ও সুশাসন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মধ্যে সম্পর্ক (R18) : পৌরনীতি ও সুশাসন’ এবং ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞান’ সামাজিক বিজ্ঞানের একই শাখার দু’টি অংশ। রাষ্ট্রবিজ্ঞান নাগরিকের রাজনৈতিক সংগঠন, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে । আবার রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রাষ্ট্র, সরকার, সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ, নির্বাচকমণ্ডলী, রাজনৈতিক দল ইত্যাদি পৌরনীতি ও সুশাসনেও আলোচিত হয়। সুতরাং উভয়ের আলোচ্য বিষয় কার্যত এক ও অভিন্ন ।