01 ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের শেষ সংলাপটি কার? [Dhaka · 2025]
উত্তর ’সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের শেষ সংলাপটি মোহাম্মদি বেগের।
02 “ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব”- ব্যাখ্যা কর। [Dhaka · 2025]
উত্তর “ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই – সম্ভব”- নবাব সিরাজউদ্দৌলা বিশ্বাসঘাতক মিরজাফরের অপকর্ম প্রসঙ্গে এ কথাটি বলেছেন।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজ-অমাত্যরা নবাবকে রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করবেন বলে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে শপথ করেছিলেন। কিন্তু তাদের অনেকেই নবাবকে পরাজিত করতে ইংরেজদের সঙ্গে গোপনে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা হচ্ছেন প্রধান সেনাপতি মিরজাফর। অমাত্যদের এই বিশ্বাসঘাতকতার দিকটিই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে। 03 ঘসেটি বেগম কাকে ‘সাপিনী’ বলেছে?
[Dhaka · 2025] উত্তর
ঘসেটি বেগম তার বোন আমিনা বেগমকে ‘সাপিনী’ বলেছেন। 04 “তুমিও আমার বিচার করতে বসলে”- কে এবং কেন বলেন?
[Dhaka · 2025] উত্তর
“তুমিও আমার বিচার করতে বসলে”- ঘসেটি বেগমের ক্ষেত্রে নবাবের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য স্ত্রী লুৎফুন্নেসাকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা এ কথাটি বলেন।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের নবাব সিরাজ নিজের বিরুদ্ধে আপন খালা ঘসেটি বেগমের ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার কথা জানতে পারেন। তাই তিনি খালা ঘসেটি বেগমের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেন এবং তাকে নিজ গৃহে নিয়ে এসে গৃহবন্দি থাকার নির্দেশ দেন। যার ফলে ঘসেটি বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। নবাবের এই সিদ্ধান্তকে তার স্ত্রী লুৎফুন্নেসাও ভুল বলে আখ্যায়িত করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে নবাব সিরাজ প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন। 05 যুদ্ধে সিরাজদৌলার পতন হলে কোম্পানি কত টাকা পাবে বলে দলিলে উল্লেখ আছে?
[Rajshahi · 2025] উত্তর
যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পতন হলে কোম্পানি এক কোটি টাকা পাবে বলে দলিলে উল্লেখ আছে। 06 “সবাই মিলে সত্যিই আমরা বাংলাকে বিক্রি করে দিচ্ছি না তো?”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
[Rajshahi · 2025] উত্তর
“সবাই মিলে সত্যিই আমরা বাংলাকে বিক্রি করে দিচ্ছি না তো?” একথাটি মিরজাফর বলেছে ইংরেজদের সঙ্গে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করা প্রসঙ্গে।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর কে কী পাবে সেটা সম্পর্কে মিরনের বাড়িতে বসে ক্লাইভের সঙ্গে মিরজাফর চক্রের গোপন বৈঠক হয়। চুক্তিপত্রে উল্লেখ করা হয়- সিরাজের পতনের পর কোম্পানি এক কোটি, ক্লাইভ দশ লাখ টাকা পাবে আর মসনদ পাবে বিশ্বাসঘাতক মিরজাফর। এমন চুক্তিতে সই করতে গিয়ে মিরজাফরের মন ক্ষণিকের জন্য দুর্বল হয়, বিবেকের তাড়নায় তার কাছে এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়- তারা সবাই মিলে বাংলাকে বিক্রির চুক্তিপত্রে সই করতে যাচ্ছে কিনা। 07 পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের কামানের সংখ্যা কত ছিল?
[Rajshahi · 2025] উত্তর
পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের কামানের সংখ্যা ছিল আটটি। 08 “ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব।”- উক্তিটির তাৎপর্য লেখ।
[Rajshahi · 2025] উত্তর
“ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই – সম্ভব”- নবাব সিরাজউদ্দৌলা বিশ্বাসঘাতক মিরজাফরের অপকর্ম প্রসঙ্গে এ কথাটি বলেছেন। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজ-অমাত্যরা নবাবকে রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করবেন বলে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে শপথ করেছিলেন। কিন্তু তাদের অনেকেই নবাবকে পরাজিত করতে ইংরেজদের সঙ্গে গোপনে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা হচ্ছেন প্রধান সেনাপতি মিরজাফর। অমাত্যদের এই বিশ্বাসঘাতকতার দিকটিই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে। 09
“আমি বরং নবাবকে বিশ্বাস করতে পারি।”- উক্তিটি কার? [Jessore · 2025]
উত্তর “আমি বরং নবাবকে বিশ্বাস করতে পারি।”- উক্তিটি রবার্ট ক্লাইভের। 10
“আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়।”-সংলাপটি বুঝিয়ে লেখ। [Jessore · 2025]
উত্তর “আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়।”-উক্তিটি দ্বারা নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর বেদনাদায়ক অবস্থা বোঝাতে চেয়েছেন। বাংলার মসনদে আরোহণের পর থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য প্রাসাদ ষড়যন্ত্র শুরু করেন সিরাজের খালা ঘসেটি বেগম। ক্ষমতা না পাওয়ায় ঘসেটি বেগমের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভবিরাজমান ছিল- নবাব তা বুঝতে পারতেন। মিরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভের সঙ্গে ঘসেটি বেগম সিরাজের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ওদিকে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ইংরেজ ও সিরাজের দ্বন্দ্বও দিন দিন বেড়েই চলছিল। সিরাজ তাঁর সেই বেদনায়ক অবস্থা বোঝাতেই স্ত্রী লুৎফুন্নেসার কাছে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
11 ইংরেজের পক্ষে মোট সৈন্যসংখ্যা কত ছিল?
[Jessore · 2025] উত্তর ইংরেজদের পক্ষে মোট সৈন্যসংখ্যা ছিল তিন হাজার।
12 “দেশবাসীকে আশ্বাস দিচ্ছি যে, তাঁদের দুর্ভোগের অবসান হয়েছে।”- বুঝিয়ে লেখ।
[Jessore · 2025] উত্তর “দেশবাসীকে আশ্বাস দিচ্ছি যে, তাঁদের দুর্ভোগের অবসান হয়েছে।”- সিরাজউদ্দৌলা সম্পর্কে এই উক্তিটি সিংহাসনে আরোহণ করে নতুন নবাব মিরজাফর করেন।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে প্রধান সেনাপতি মিরজাফর নবাবের পক্ষে যুদ্ধ না করে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নবাব সিরাজের পতন ঘটান এবং নিজে নবাব হন। এরপর মিরজাফর ক্লাইভের হাত ধরে সিংহাসনে বসে দরবারে সবার উদ্দেশ্যে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন। বিশ্বাসঘাতক মিরজাফরের মতে, নবাব সিরাজের শাসন দেশবাসীর জন্য দুর্ভোগের ছিল। মিরজাফর নবাব হওয়ার ফলে সেই দুর্ভোগের অবসান হয়েছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বাস দিয়েছেন।
13 পলাশির যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
[Comilla · 2025] উত্তর পলাশির যুদ্ধ ১৭৫৭ সালে সংঘটিত হয়।
14 “ওই একটি পথেই আবার আমরা উভয়ে উভয়ের কাছাকাছি আসতে পারি।”- প্রসঙ্গটি ব্যাখ্যা কর।
[Comilla · 2025] উত্তর “ওই একটি পথেই আবার আমরা উভয়ে উভয়ের কাছাকাছি আসতে পারি।”- উক্তিটি সিরাজউদ্দৌলা মিরজাফরের প্রতি করেছেন।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজ চরিত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সবার সম্মিলিত শক্তি দিয়ে দেশকে রক্ষা করার অভিপ্রায়। তাই তিনি দেশের স্বার্থে নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আর সেই কারণেই সন্দেহ-বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠে প্রকৃত সম্প্রীতির ভিত্তিতে দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য বিশ্বাসঘাতক সিপাহসালার মিরজাফরকে তিনি কাছে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, শুধু দেশের কল্যাণের জন্য তারা আবার একসঙ্গে কাজ করতে পারেন। একে অন্যের কাছাকাছি আসতে পারেন।
15 সিরাজউদ্দৌলার নানার নাম কী?
[Comilla · 2025] উত্তর সিরাজউদ্দৌলার নানার নাম আলিবর্দি খাঁ।
16 ষড়যন্ত্রকারীরা শওকতজঙ্গকে নবাব হিসেবে চেয়েছিল কেন?
[Comilla · 2025] উত্তর ষড়যন্ত্রকারীরা ক্ষমতা নিজেদের হাতে কুক্ষিগত রাখার জন্য শওকতজঙ্গকে নবাব হিসেবে চেয়েছিল।
ঘসেটি বেগম, উমিচাঁদ, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ ও রায়দুর্লভশওকতজঙ্গকে নবাব করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। কেননা, শওকতজঙ্গ ছিল নেশাগ্রস্ত ও অকর্মণ্য। সে সারাদিন ভাঙের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকত। তাছাড়া তাকে নাচনেওয়ালিদের নিয়ে পড়ে থাকতেও দেখা যেত। এমতাবস্থায় শওকতজঙ্গ নবাব হলে রাজ্যের আসল ক্ষমতা থাকত ষড়যন্ত্রকারী ও দুর্নীতিবাজ সভাসদদের হাতে। তাই কৌশলে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখতেই যড়যন্ত্রকারীরা শওকতজঙ্গকে নবাব করতে চেয়েছিল।
17 মানিকচাঁদ কত টাকা খেসারত দিয়ে মুক্তি পেয়েছিল?
[Chittagong · 2025] উত্তর মানিকচাঁদ সাড়ে দশ লক্ষ টাকা খেসারত দিয়ে মুক্তি পেয়েছিল।
18 “লোকবল বাড়ুক আর না বাড়ুক আমাদের অংশীদার বাড়ল তা অবশ্য ঠিক।”- ব্যাখ্যা কর।
[Chittagong · 2025] উত্তর “লোকবল বাড়ুক আর না বাড়ুক আমাদের অংশীদার বাড়ল তা অবশ্য ঠিক”- নিজেদের চরম দুরবস্থা প্রসঙ্গে মার্টিন ও ড্রেককে উদ্দেশ্য করে হ্যারি এ উক্তিটি করেছে।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে প্রথম অংকের দ্বিতীয় দৃশ্য রচিত হয়েছে কলকাতার ভাগীরথী নদীতে ভাসমান ফোর্ট উইলিয়াম জাহাজে। কলকাতা থেকে তাড়া খেয়ে ইংরেজ বাহিনী আশ্রয় নেয় ভাগীরথী নদীর উপর ভাসমান একটি জাহাজে। পুনরায় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে কিলপ্যাট্রিক যে অতিরিক্ত আড়াইশোর মতো সেনা নিয়ে হাজির হয় তাদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে হ্যারি আলোচ্য উক্তিটি করেছে।
19 ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ধনকুবের কে?
[Chittagong · 2025] উত্তর ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ধনকুবের হচ্ছে জগৎশেঠ।
20 “সে নবাবি পেলে প্রকারান্তরে আপনারাইতো দেশের মালিক হয়ে বসবেন।”- উক্তিটি বুঝিয়ে দাও।
[Chittagong · 2025] উত্তর “সে নবাবি পেলে প্রকারান্তরে আপনারাইতো দেশের মালিক হয়ে বসবেন।”- শওকতজঙ্গের নবাব হওয়াকে কেন্দ্র করে ঘসেটি বেগম এ উক্তিটি করেছেন।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের নবাব সিরাজের বিরুদ্ধে তাঁর আপনজনেরাই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। বিশেষ করে সিরাজের আপন খালা ঘসেটি বেগম সিরাজের নবাব হওয়াকে মেনে নিতে পারেননি। তিনি – চেয়েছিলেন শওকতজঙ্গ নবাব হবে। তাই সিরাজের বিরুদ্ধে তিনি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। শওকতজঙ্গকে নবাব বানাতে পারলে দরবারের অন্যরা কী কী সুবিধা পাবে সেটি বলতে গিয়েই ঘসেটি বেগম আলোচ্য মন্তব্যটি করেছেন।
21 ‘অন্ধকূপ হত্যা’র কাহিনি কে প্রচার করেছিলেন?
[Sylhet · 2025] উত্তর ‘অন্ধকূপ হত্যা’র কাহিনি প্রচার করেছিলেন হলওয়েল।
22 “আমার নালিশ আজ আমার নিজের বিরুদ্ধে।”- ব্যাখ্যা কর।
[Sylhet · 2025] উত্তর “আমার নালিশ আজ আমার নিজের বিরুদ্ধে।”- উক্তিটি নবাব সিরাজউদ্দৌলা করেছেন ইংরেজদের নিপীড়নে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা মিরজাফর, রাজবল্লভ, জগৎশেঠের পরামর্শে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে লবণের ইজারাদারি দিয়েছিলেন দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড মজবুত করার জন্য। তিনি মনে করেছিলেন এতে রাজস্ব বাড়বে এবং দেশের উন্নতি হবে। অথচ কোম্পানি বাণিজ্য করার নামে নিরীহ প্রজাদের ওপর অত্যাচার শুরু করে। তারা পাইকারি দরে লবণ কিনে স্থানীয় লোকদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করে। কেউ লৰণ বিক্রি না করলে ইংরেজরা তার ওপর অত্যাচার করে। ফলে নবাব তাঁর সিদ্ধান্তকে ভুল অনুধাবন করে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
23 নন্দকুমার কে?
[Sylhet · 2025] উত্তর নন্দকুমার হলো একজন ঘুসখোর ব্যক্তি যার সহায়তায় ক্লাইভও ওয়াটসন চন্দননগর ধ্বংস করে।
24 “নবাব আলিবর্দি ইন্তেকাল করার আগের দিন থেকেই পোশাকটি তৈরি।”- সপ্রসঙ্গ উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
[Sylhet · 2025] উত্তর নবাব সিরাজের পতনের পর মিরজাফর নবাব হলে রাজবল্লভজানতে চান নতুন নবাবের পোশাকটা নিয়ে দর্জি ঠিক সময়ে পৌছেছে কি না। তার কথার পরিপ্রেক্ষিতে জগৎশেঠ প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার করুণ পতন ঘটে। ইংরেজ বেনিয়াদের সিদ্ধান্তে বাংলার পরবর্তী নবাব হন মিরজাফর আলি খান। তার দরবারে বসে অপেক্ষা করার সময় রাজবল্লভ ও জগৎশেঠ নতুন নবাবের পোশাক নিয়ে কথা বলেন। রাজবল্লভ জানতে চান দর্জি নতুন নবাবের পোশাকটা সময় মতো পৌঁছে দিয়েছে কি না। পরে জগৎশেঠ বলেন, সে বিষয়ে কোনো ভাবনা নেই, কেননা নবাব আলিবর্দি ইন্তেকালের আগের দিন থেকেই পোশাকটি তৈরি।
25 নবাবের গোলন্দাজ বাহিনী কোন খাল পেরিয়ে ছুটে এসেছিল?
[Barisal · 2025] উত্তর নবাবের গোলন্দাজ বাহিনী শিয়ালদহের মারাঠা খাল পেরিয়ে ছুটে এসেছিল।
26 “আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবে।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
[Barisal · 2025] উত্তর “আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবে”- কথাটি ক্লাইভবলেছিলেন নবাবের বিরুদ্ধে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে উপস্থিত সবার উদ্দেশে।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে মিরনের প্রাসাদে মিরজাফর, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভসহ সবাই মিলে ক্লাইভের সঙ্গে নবাবের বিরুদ্ধে গোপন বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে তাদের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন সংক্রান্ত বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ছিল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায়। এ কারণে ধূর্ত ক্লাইভ বলেছিলেন, “আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবে।”
27 নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোথায় বন্দি হন?
[Barisal · 2025] উত্তর নবাব সিরাজউদ্দৌলা ভগবানগোলায় বন্দি হন।
28 “শুভ কাজে অযথা বিলম্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
[Barisal · 2025] উত্তর “শুভ কাজে অযথা বিলম্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।”-কথাটি মিরজাফর দলিলে দস্তখত করা প্রসঙ্গে বলেছেন।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাবের পর্তনের জন্য মিরজাফর ও তার অনুসারীরা ইংরেজদের সঙ্গে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর কে কোন ক্ষমতা পাবেন সেই বিষয়ে কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা গোপন বৈঠক করেন। দলিলে লিখিত চুক্তি অনুসারে মিরজাফর মসনদে বসলেও রাজ্য চালানোর ক্ষমতা থাকবে কোম্পানির হাতে। এ ক্ষেত্রে রাজবল্লভ কিছুটা দ্বিমত পোষণ করলে ক্ষমতার লোভে মিরজাফর দ্রুত দলিলে দস্তখত করার জন্যই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
29 পলাশির যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
[Dinajpur · 2025] উত্তর পলাশির যুদ্ধ ১৭৫৭ সালে সংঘটিত হয়।
30 “ফিরে এসেছি রাজধানীতে স্বাধীনতা বজায় রাখার শেষ চেষ্টা করব বলে।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
[Dinajpur · 2025] উত্তর “ফিরে এসেছি রাজধানীতে স্বাধীনতা বজায় রাখার শেষ চেষ্টা করব বলে।”- উক্তিটিতে পলাশির যুদ্ধে পরাজয়ের পর সিরাজউদ্দৌলার রাজধানী রক্ষার শেষ প্রচেষ্টার দিকটির প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে পলাশির যুদ্ধক্ষেত্রে প্রধান সেনাপতি ‘মিরজাফর ও অন্য সেনাপতিদের ষড়যন্ত্রে যোগদানের সূত্রে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করায় নবাবের শোচনীয় পরাজয় হয়। দেশপ্রেমিক সেনাপতি মোহনলাল সেই পরাজয়ের খবর পৌছে দেন নবাবের কাছে এবং সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজধানী রক্ষার শেষ প্রচেষ্টার কথা বলেন। মোহনলালের সেই পরামর্শ অনুযায়ী নবাবের রাজধানী রক্ষার শেষ প্রচেষ্টার দিকটি আলোচ্য বাক্যে প্রকাশ পেয়েছে।
31 সিরাজউদ্দৌলার ঘাতকের নাম কী?
[Dinajpur · 2025] উত্তর সিরাজউদ্দৌলার ঘাতকের নাম মোহাম্মদি বেগ।
32 “কাজেই শওকতজঙ্গ নবাব হবে নামমাত্র।”- কথাটি ব্যাখ্যা কর।
[Dinajpur · 2025] উত্তর “কাজেই শওকতজঙ্গ নবাব হবে নামমাত্র।”- উক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে- মাতাল শওকতজঙ্গ নবাব হলে মূল ক্ষমতা চলে যাবে অমাত্যদের হাতে।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ঘসেটি বেগমের পালকপুত্র শওকতজঙ্গ নিতান্ত অকর্মণ্য ও মাতাল প্রকৃতির পুরুষ। সারাক্ষণ ভাঙের নেশায় ডুবে নারীসঙ্গে লিপ্ত থাকাই তার একমাত্র কাজ। এ ধরনের লোক নবাব হলে অমাত্যরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভোগবিলাসে মত্ত হতে পারবে, সম্পদ লুট করার পথ সুগম হবে। তাই বলা হয়েছে, শওকতজঙ্গের নবাব হওয়াটা স্বার্থসিদ্ধির পক্ষে অনুকূল।
33 “Victory or death”- কার সংলাপ?
[Mymensingh · 2025] উত্তর “Victory or death”- এটি ক্লেটনের সংলাপ।
34 “ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়।”- ব্যাখ্যা কর।
[Mymensingh · 2025] উত্তর “ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়।”- উক্তিটিতে ভীরু ও প্রতারকেরা যে কখনো সাহস নিয়ে শত্রুর সামনে দাঁড়াতে পারে না এবং সম্মুখ সমরে আসতে পারে না সে কথাই বলা হয়েছে।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে পলাশির যুদ্ধের পরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার কাছ থেকে সেনা সংগ্রহের জন্য অনেকেই টাকা নিয়েছিল। তারা টাকা নিয়ে পালিয়েছিল। এমনকি সিরাজউদ্দৌলার শ্বশুর মুহম্মদ ইরিচ খাঁও সেনাবাহিনী সংগঠনের কথা বলে নবাবের কাছ থেকে প্রচুর টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তারা পালিয়েছিল প্রাণের ভয়ে, প্রতারণা করে। এ প্রসঙ্গটি বোঝাতেই নবাব বলেছিলেন, “ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়। আর তাতে প্রকৃত বীরের মনোবল ক্ষুণ্ণ হয় না।”
35 সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রীর নাম কী?
[Mymensingh · 2025] উত্তর সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রীর নাম লুৎফুন্নেসা।
36 “আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়।”-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
[Mymensingh · 2025] উত্তর “আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়।”-উক্তিটি দ্বারা নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর বেদনাদায়ক অবস্থা বোঝাতে চেয়েছেন।
বাংলার মসনদে আরোহণের পর থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য প্রাসাদ ষড়যন্ত্র শুরু করেন সিরাজের খালা ঘসেটি বেগম। ক্ষমতা না পাওয়ায় ঘসেটি বেগমের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভবিরাজমান ছিল- নবাব তা বুঝতে পারতেন। মিরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভের সঙ্গে ঘসেটি বেগম সিরাজের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ওদিকে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ইংরেজ ও সিরাজের দ্বন্দ্বও দিন দিন বেড়েই চলছিল। সিরাজ তাঁর সেই বেদনায়ক অবস্থা বোঝাতেই স্ত্রী লুৎফুন্নেসার কাছে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। 37
নবাব আলিবর্দি খাঁর প্রকৃত নাম কী? [Dhaka · 2024] উত্তর
নবাব আলিবর্দি খাঁর প্রকৃত নাম মির্জা মুহম্মদ আলি। 38
“আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়”- এর অর্থ কী? [Dhaka · 2024] উত্তর
“আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়”- কথাটি দ্বারা নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর বিরুদ্ধে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর বর্তমান অবস্থা বোঝাতে চেয়েছেন।
বাংলার মসনদে আরোহণের পর থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য প্রাসাদ ষড়যন্ত্র শুরু করেন সিরাজের খালা ঘসেটি বেগম। নবাব মসনদে বসার পর থেকেই ঘসেটি বেগমের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভ বিরাজমান ছিল, নবাব তা বুঝতে পারতেন। মিরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভের সঙ্গে ঘসেটি বেগম সিরাজের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ওদিকে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ইংরেজদের সঙ্গে সিরাজের দ্বন্দ্বও দিন দিন বেড়েই চলছিল। সিরাজ তাঁর বর্তমান অবস্থা বোঝাতেই স্ত্রী লুৎফুন্নেসার কাছে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। 39
মোহনলালের তথ্যমতে, নবাব সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে সৈন্যসংখ্যা কত? [Dhaka · 2024] উত্তর
মোহনলালের তথ্যমতে, নবাব সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে সৈন্যসংখ্যা পঞ্চাশ হাজারের বেশি। 40
“আমাদের কারও অদৃষ্ট মেঘমুক্ত থাকবে না শেঠজি।”- এর অর্থ বুঝিয়ে দাও। [Dhaka · 2024] উত্তর
“আমাদের কারও অদৃষ্ট মেঘমুক্ত থাকবে না শেঠজি।”- কথাটি মিরজাফর জগৎশেঠকে উদ্দেশ করে সিরাজউদ্দৌলা সম্পর্কে ভীত হয়ে বলেছেন। নবাব সিরাজউদ্দৌলার অধিকাংশ অমাত্য ও সেনাপতি অর্থ ও ক্ষমতার লোভে নবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। মিরজাফর আলি খান নিজেই নবাব হওয়ার লোভে হাত মেলান রাজা রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ প্রমুখ বিশ্বাসঘাতক ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে। নবাবের খালা ঘসেটি বেগমও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। ক্লাইভের সঙ্গে তারা হাত মেলান। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মিরজাফরের বাড়িতে এক বৈঠক বসে। সেখানে সিরাজউদ্দৌলা সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে মিরজাফর প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন। কেননা নবাব সিরাজ সিংহাসনে স্থির হতে পারলে এসব চক্রান্তকারীর অর্থাৎ তাদের কারও ভাগ্যই মেঘমুক্ত থাকবে না বলে মিরজাফর মনে করেছেন।
41 সিরাজউদ্দৌলাকে কোথায় বন্দি করা হয়? [Rajshahi · 2024]
উত্তর সিরাজউদ্দৌলাকে ভগবানগোলায় বন্দি করা হয়।
42 “সিরাজ আমার কেউ নয়”- ঘসেটি বেগম কেন একথা বলেছেন? [Rajshahi · 2024]
উত্তর ‘সিরাজ আমার কেউ নয়’- ঘসেটি বেগম এই কথা বলেছেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার ধ্বংস কামনায় তার প্রতিহংসায়।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ঘসেটি বেগম সিরাজের বড় খালা এবং শওকতজঙ্গের পালক মাতা। রাজপরিবারের নিয়ম অনুসারে শওকতজঙ্গেরই নবাব হওয়ার কথা। কিন্তু সিরাজউদ্দৌলা বাংলার মসনদে বসায় ঘসেটি বেগমের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। এজন্য তিনি সিরাজের সুখ সহ্য করতে পারতেন না। নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য তিনি নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। এই প্রতিহিংসার কারণেই ঘসেটি বেগম সিরাজের ধ্বংস কামনা করেন।
43 পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সৈন্য সংখ্যা কত ছিল? [Rajshahi · 2024]
উত্তর পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সৈন্যসংখ্যা পঞ্চাশ হাজারের বেশি ছিল।
44 “আমার নালিশ আজ আমার নিজের বিরুদ্ধে”- উক্তিটির মর্মার্থ বুঝিয়ে দাও। [Rajshahi · 2024]
উত্তর নিরীহ লবণ চাষিকে ইংরেজরা নির্মম নিপীড়ন করায় নবাব ক্ষোভে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছেন- “আমার নালিশ আজ আমার নিজের বিরুদ্ধে।”
নবাব সিরাজউদ্দৌলা মিরজাফর, রাজবল্লভ, জগৎশেঠের পরামর্শে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে লবণের ইজারাদারি দিয়েছিলেন দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড মজবুত করার জন্য। তিনি মনে করেছিলেন এতে রাজস্ব বাড়বে এবং দেশের উন্নতি হবে। কিন্তু কোম্পানি বাণিজ্য করার নামে নিরীহ প্রজাদের ওপর অত্যাচার শুরু করে। তারা কম দামে পাইকারি দরে লবণ কিনে স্থানীয় লোকদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করে। কেউ লবণ বিক্রি না করলে ইংরেজরা তার ওপর অত্যাচার করে। ফলে নবাব তাঁর সিদ্ধান্তকে ভুল অনুধাবন করে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। 45 কে চিরকালই ইংরেজদের বন্ধু?
[Jessore · 2024] উত্তর
উমিচাঁদ চিরকালই ইংরেজদের বন্ধু। 46 “আসামির সে অধিকার থাকে নাকি?” কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে?
[Jessore · 2024] উত্তর
“আসামির সে অধিকার থাকে নাকি?”- কথাটি মিরন বলেছিল সিরাজউদ্দৌলার কাছে তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিয়ে আসার পর নবাব তা দেখতে চাওয়া প্রসঙ্গে। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে বন্দি করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। সেখানে সিরাজের মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিয়ে আসে মিরজাফরের ছেলে মিরন। নতুন নবাব মিরজাফর আলি খান বিভিন্ন অপরাধের জন্য তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বলে জানায় মিরন। তখন নবাব অনেকটা অবিশ্বাসের স্বরে স্বাক্ষর করা দণ্ডাদেশ দেখতে চাইলে মিরন তাঁকে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে। 47
রাইসুল জুহালার প্রকৃত নাম কী? [Jessore · 2024]
উত্তর রাইসুল জুহালার প্রকৃত নাম নারান সিং। 48
“আজ আমরা সবাই সন্দেহের দোলায় দুলছি।”- উক্তিটি কে, কেন করেছে? [Jessore · 2024]
উত্তর “আজ আমরা সবাই সন্দেহের দোলায় দুলছি।”- কথাটি বিশ্বাসঘাতক মিরজাফর নিজেদের প্রতি সন্দিগ্ধ মনোভাব নিয়ে বলেছেন নিজেদের অপকর্ম সম্পর্কে।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে মিরজাফরসহ নবাব সিরাজউদ্দৌলার অন্য অমাত্যবর্গ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার পরিকল্পনা করে। নবাব সিরাজউদ্দৌলা দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান করলেও তারা তাতে সাড়া দেয় না। নিজে নবাব হওয়ার লোভে মিরজাফর মরিয়া হয়ে ওঠেন। মিরজাফরকেই সবাই নেতৃত্ব দিতে বলেন। তখন মিরজাফর এ ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্ত কাগজে-কলমে পাকাপাকি করে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। কেননা বিশ্বাসঘাতকতা করতে করতে তারা নিজেদের ওপর থেকেও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। তাই তিনি নিজেদের প্রতি সন্দিহান হয়ে প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 49
“আমাদের অদৃষ্ট মেঘমুক্ত থাকবে না শেঠজি।”- উক্তিটি কার? [Comilla · 2024]
উত্তর “আমাদের অদৃষ্ট মেঘমুক্ত থাকবে না শেঠজি।”- উক্তিটি মিরজাফরের। 50
“আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়।”- উক্তিটির তাৎপর্য তুলে ধর। [Comilla · 2024]
উত্তর “আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়”- কথাটি দ্বারা নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর বিরুদ্ধে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর বর্তমান অবস্থা বোঝাতে চেয়েছেন।
বাংলার মসনদে আরোহণের পর থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য প্রাসাদ ষড়যন্ত্র শুরু করেন সিরাজের খালা ঘসেটি বেগম। নবাব মসনদে বসার পর থেকেই ঘসেটি বেগমের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ বিরাজমান ছিল, নবাব তা বুঝতে পারতেন। মিরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভের সঙ্গে ঘসেটি বেগম সিরাজের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ওদিকে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ইংরেজদের সঙ্গে সিরাজের দ্বন্দ্বও দিন দিন বেড়েই চলছিল। সিরাজ তাঁর বর্তমান অবস্থা বোঝাতেই স্ত্রী লুৎফুন্নেসার কাছে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। 51
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ফরাসি সেনাপতির নাম কী? [Comilla · 2024]
উত্তর ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ফরাসি সেনাপতির নাম সাঁফ্রে। 52
“আসামির সে অধিকার থাকে নাকি?” উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। [Comilla · 2024]
উত্তর “আসামির সে অধিকার থাকে নাকি?”- এ কথা মিরজাফরের পুত্র মিরন বলেছিল নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে তাঁর মৃত্যুর আদেশনামা আছে কি না তা জানতে চাওয়ার কারণে।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন হলে সিরাজউদ্দৌলা মিরকাশেমের সেনাদের হাতে বন্দি হন। তাঁকে জাফরগঞ্জ কয়েদখানায় রাখা হয়। ক্লাইডের প্ররোচনায় মিরন সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। সেই কয়েদখানায় মিরন মোহাম্মদি বেগকে নিয়ে উপস্থিত হয়। মিরন নবাবকে মৃত্যুর আদেশনামার কথা বলে মৃত্যুর জন্য তাঁকে প্রস্তুত হতে বলে। তখন নবাব মিরজাফরের স্বাক্ষর করা দন্ডাদেশপত্র দেখতে চান। এ সময় নবাবের কথার উত্তরে মিরন প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে। 53
“ভগবানের দিব্যি কর্নেল সাহেব, তোমরা বড় বেহায়া।”- উক্তিটি কার? [Chittagong · 2024]
উত্তর “ভগবানের দিব্যি কর্নেল সাহেব, তোমরা বড়ো বেহায়া।”- – উক্তিটি জগৎশেঠের। 54
“পাবলিকের মনে টেরর জাগিয়ে রাখতে পারাটাই শাসন ক্ষমতার গ্রানাইট ফাউন্ডেশন।”- সংলাপটি দিয়ে নাট্যকার কী বোঝাতে চেয়েছেন? [Chittagong · 2024]
উত্তর “পাবলিকের মনে টেরর জাগিয়ে রাখতে পারাটাই শাসন ক্ষমতার গ্রানাইট ফাউন্ডেশন।”- সংলাপটি মধ্য দিয়ে নাট্যকার বোঝাতে চেয়েছেন যে, অবৈধ বা স্বৈরশাসনের মূল ভিত্তিই হলো ভয় বা ত্রাস।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর নবাব হিসেবে মিরজাফরের অভিষেক অনুষ্ঠানে রবার্ট ক্লাইভ সিরাজউদ্দৌলাকে সর্বসমক্ষে শেকল বাঁধা অবস্থায় জাফরগঞ্জের কয়েদখানায় নিয়ে আসার কথা বলেন। কেননা নবাবের এহেন দুরববস্থা দেখে জনসাধারণের মনে নতুন নবাবকে নিয়ে ভয়ের সঞ্চার হবে। ফলে তারা প্রতিবাদী হতে ভয় পাবে। তার মতে, জনমনে ভয় জিইয়ে রাখাই হলো শাসন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার মূল ভিত্তি। প্রশ্নোক্ত সংলাপটির মাধ্যমে এ কথাই বোঝানো হয়েছে। 55
রোজার ড্রেক কে ছিলেন? [Chittagong · 2024]
উত্তর রজার ড্রেক ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন গভর্নর। 56
“আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়”- উক্তিটি কেন করেছে? [Chittagong · 2024]
উত্তর “আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়”- কথাটি দ্বারা নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর বিরুদ্ধে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর বর্তমান অবস্থা বোঝাতে চেয়েছেন।
বাংলার মসনদে আরোহণের পর থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য প্রাসাদ ষড়যন্ত্র শুরু করেন সিরাজের খালা ঘসেটি বেগম। নবাব মসনদে বসার পর থেকেই ঘসেটি বেগমের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ বিরাজমান ছিল, নবাব তা বুঝতে পারতেন। মিরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভের সঙ্গে ঘসেটি বেগম সিরাজের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ওদিকে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ইংরেজদের সঙ্গে সিরাজের দ্বন্দ্বও দিন দিন বেড়েই চলছিল। সিরাজ তাঁর বর্তমান অবস্থা বোঝাতেই স্ত্রী লুৎফুন্নেসার কাছে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। 57
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন অঙ্কের কোন দৃশ্যে পলাশি যুদ্ধের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে? [Barisal · 2024]
উত্তর ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের তৃতীয় অঙ্কের তৃতীয় দৃশ্যে পলাশি যুদ্ধের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। 58
মিরনের ভাষ্যমতে সিরাজউদ্দৌলাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কারণ কী? ব্যাখ্যা কর। [Barisal · 2024]
উত্তর মিরনের ভাষ্যমতে সিরাজউদ্দৌলাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কারণ বাংলার প্রজাসাধারণকে পীড়ন করা।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে মিরজাফর অন্যায়ভাবে সিংহাসনে বসার লোভে ইংরেজদের সঙ্গে গোপন চুক্তি করেন। তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করে পলাশির যুদ্ধে নবাবকে পরাজিত করেন। পরে ইংরেজদের পরামর্শে মিথ্যা-বানোয়াট কিছু অভিযোগ দিয়ে নবাবকে মৃত্যুদণ্ড দেন, যা মিরনের ভাষ্যে ফুটে উঠেছে। মিরনের মতে বাংলার প্রজাসাধারণকে নীড়ন, দরবারের পদস্থ-আমির ওমরাহদের মর্যাদাহানি, বাংলাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আইনসঙ্গত বাণিজ্যের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা, অশান্তি এবং বিপ্লব সৃষ্টির জন্য সিরাজউদ্দৌলাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 59
‘জগৎশেঠ’ কার উপাধি? [Barisal · 2024]
উত্তর ‘জগৎশেঠ’ হলো ফতেহ চাঁদ-এর উপাধি। 60
“দেশপ্রেমিকের রক্ত যেন আবর্জনার স্তূপে চাপা না পড়ে।”- ব্যাখ্যা কর। [Barisal · 2024]
উত্তর “দেশপ্রেমিকের রক্ত যেন আবর্জনার স্তূপে চাপা না পড়ে।”- নবাব সিরাজউদ্দৌলা এই কথাটি বলেছেন দেশের জন্য যাঁরা জীবন দিয়েছেন তাঁদের আদর্শ কেউ যেন ভুলে না যায়, সেই দিক বিবেচনা করে।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে শত্রুর ভয়ে যখন সবাই পালিয়ে যাচ্ছিল তখন নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাদেরকে অভয় দেন। তিনি বলেন, পলাশির প্রান্তরে পরাজয়ের পর আমরা যদি প্রাণভয়ে কাপুরুষের মতো পালিয়ে যাই তবে যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে। শত্রুরা আমাদের মাটিতে ঘাঁটি গড়ে তুলবে। ফলে দেশপ্রেমিকদের প্রাণ নরপশুদের পায়ের তলায় ভূলুণ্ঠিত হবে। এ বিষয়টি নবাব সিরাজউদ্দৌলা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। তাঁর মনে হয়েছে- শত্রুর অত্যাচারে এ দেশ তখন আবর্জনার স্তূপে পরিণত হবে। তিনি শহিদ দেশপ্রেমিকদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন। 61
নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে বন্দি করে কোথায় রাখা হয়? [Dinajpur · 2024]
উত্তর নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে বন্দি করে জাফরগঞ্জের কয়েদখানায় রাখা হয়। 62
“আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়।”- উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর। [Dinajpur · 2024]
উত্তর “আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়”- কথাটি দ্বারা নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর বিরুদ্ধে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর বর্তমান অবস্থা বোঝাতে চেয়েছেন।
বাংলার মসনদে আরোহণের পর থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য প্রাসাদ ষড়যন্ত্র শুরু করেন সিরাজের খালা ঘসেটি বেগম। নবাব মসনদে বসার পর থেকেই ঘসেটি বেগমের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ বিরাজমান ছিল, নবাব তা বুঝতে পারতেন। মিরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভের সঙ্গে ঘসেটি বেগম সিরাজের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ওদিকে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ইংরেজদের সঙ্গে সিরাজের দ্বন্দ্বও দিন দিন বেড়েই চলছিল। সিরাজ তাঁর বর্তমান অবস্থা বোঝাতেই স্ত্রী লুৎফুন্নেসার কাছে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। 63
সিরাজউদ্দৌলার মায়ের নাম কী? [Dinajpur · 2024]
উত্তর সিরাজউদ্দৌলার মায়ের নাম আমিনা বেগম। 64
“ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা।”- ব্যাখ্যা কর। [Dinajpur · 2024]
উত্তর “ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা।”- উমিচাঁদ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ইংরেজদের পালানো প্রসঙ্গে এই কথাটি হলওয়েলকে বলেছিলেন।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজরা নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে জেনে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ আক্রমণ করেন। এই আক্রমণে ইংরেজ সেনারা পরাজিত হয় এবং গভর্নর রজার ড্রেক, ক্যাপ্টেন ক্লেটনসহ অনেক ইংরেজ পালিয়ে যায়। অথচ ব্রিটিশরা নিজেদের অত্যন্ত বীর বলে অহংকার বোধ করে। উমিচাঁদ সেই কথা মনে করে বিদ্রুপের স্বরে বলেছেন- “ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা।” 65
মিরজাফরের মনোবাসনা কী ছিল? [Mymensingh · 2024]
উত্তর মিরজাফরের মনোবাসনা ছিল বাংলার মসনদে বসা। 66
ইংরেজরা ডাচ ও ফরাসিদের সাহায্য চেয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা কর। [Mymensingh · 2024]
উত্তর ইংরেজরা ডাচ ও ফরাসিদের কাছে সাহায্য চেয়েছিল নবাবের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে বাণিজ্যের নাম করে সুচতুর ইংরেজরা কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে গোপনে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকে। নবাব সিরাজউদ্দৌলা সেই খবর পেয়ে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ আক্রমণ করেন। সেই আক্রমণের খবর পেয়ে ইংরেজরা নিজেদের স্বল্প সেনা ও অস্ত্রের কথা চিন্তা করে ডাচ ও ফরাসিদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। তারা ভেবেছিল ডাচ ও ফরাসিদের কাছ থেকে সাহায্য পেলে সহজেই নবাব সিরাজের সেনাদের প্রতিহত করতে পারবে। 67
অন্ধকূপ হত্যার কাহিনি কে প্রচার করেছিলেন? [Mymensingh · 2024]
উত্তর অন্ধকূপ হত্যার কাহিনি হলওয়েল প্রচার করেছিলেন। 68
মিরজাফর উমিচাঁদকে কালকেউটে বলেছেন কেন? [Mymensingh · 2024]
উত্তর মিরজাফর উমিচাঁদকে কালকেউটে বলেছেন উমিচাঁদের ধূর্ততা, স্বার্থান্বেষী মনোভাব এবং দ্বিমুখী নীতির জন্য।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাবের অমাত্যদের অধিকাংশই ছিলেন লোভী, বিশ্বাসঘাতক ও দেশদ্রোহী। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য মিরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ, ঘসেটি বেগম ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। তাদের সঙ্গে উমিচাঁদও ছিলেন। নবাবকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর কে কতটুকু ভাগ পাবে তা নির্দিষ্ট করার জন্য ক্লাইভের তৈরি দলিলে অন্যরা স্বাক্ষর করতে এলেও উমিচাঁদ অনুপস্থিত ছিলেন। মিরজাফরের ধারণা, উমিচাঁদ কলকাতায় বসেই চুক্তিতে স্বাক্ষর দেবেন এবং চুক্তিতে তার দাবি পূরণ না হলে গোপন ষড়যন্ত্রের সমস্ত খবর নবাবের দরবারে পৌছে দেবেন। এ রকম ধারণা থেকেই মিরজাফর উমিচাঁদকে কালকেউটে বলেছেন। 69
পলাশি যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌল্লার পক্ষে কত হাজার সৈন্য ছিল? [Dhaka · 2023]
উত্তর পলাশি যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌল্লার পক্ষে ৫০ হাজারের বেশি সৈন্য ছিল। 70
‘এ সময়ে এভাবে আসা খুবই বিপদজনক’ – উক্তিটির কারণ বিশ্লেষণ কর? [Dhaka · 2023]
উত্তর ‘এ সময়ে এভাবে আসা খুবই বিপদজনক’ উক্তিটি করেছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার সেনাপতি মীরজাফর। মীরজাফরের পুত্র মিলনের বাসগৃহে নবাবকে পরাজিত করার এক কুটকৌশল গ্রহণ করার জন্য গোপন বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে অন্তঃপরবাসিনী নারীর ছদ্মবেশে সভাস্থলে উপস্থিত হন কোম্পানীর প্রতিনিধি ওয়াটস ও রবার্ট ক্লাইভ। নবাবের বিশ্বাসঘাতক পরিষদবর্গ তখন উমিচাঁদের অনুপস্থিতির প্রসঙ্গে কথা বলছিলেন। ওয়াট্স ছদ্মবেশে ত্যাগ করে প্রথমেই কর্নেল ক্লাইভকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সসম্ভ্রমে উঠে দাঁড়ান বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নবাবের বিশ্বাসঘাতক পরিষদবর্গ। মীরজাফর এবং জগৎশেঠ ঝুঁকি গ্রহণ করে রবার্ট ক্লাইভের এভাবে বৈঠকে উপস্থিত হওয়াকে ‘বিপজ্জনাক’ আখ্যায়িত করলে, অহঙ্কারী ও ধূর্ত ক্লাইভে রিষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, নবাবকে তার বিন্দুমাত্র ভয় নেই। আসলে নবাবের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালানোর কারণে তাদের মনের ভিতর ভয় থেকে উপরোক্ত উক্তিটি করেছিলেন।
71 সিরাজউদ্দৌলার প্রধান গুপ্তচর কে?
[Dhaka · 2023] উত্তর সিরাজউদ্দৌলার প্রধান গুপ্তচর নারান সিং।
72 ‘কত বড় শক্তি, তবু কত তুচ্ছ’—উক্তিটি ব্যাখ্যা কর ।
[Dhaka · 2023] উত্তর ‘কত বড় শক্তি, তবু কত তুচ্ছ। এ উক্তি নবাব সিরাজউদ্দৌলা করেছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে ইংরেজ সৈন্যদের সামনে নিজেদের অবস্থান বিবেচনা করে।
পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের পক্ষে মোট সৈন্য ছিল প্রায় তিন হাজার। তারা অস্ত্র চালনায় সুশিক্ষিত ছিল সেই তুলনায় নবাবের পক্ষে সৈন্য সংখ্যা ছিল ৫০ হাজারের বেশি। ছোট-বড় মিলিয়ে ইংরেজদের কামান ছিল গোটা দশেক আর নবাবের পঞ্চাশটারও বেশি। এত বড় শক্তি নিয়েও ইংরেজদের বিরুদ্ধে পলাশির যুদ্ধে নবাবের মনে আশঙ্কা ও সন্দেহ ছিল। কারণ তাঁর মনে হয়েছে মিরজাফর, রায়দুর্লভ, ইয়ার লুৎফ খাঁ নিজেদের সেনাবাহিনী নিয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে না। তাই মিরমদানের সন্ধ্যে যুদ্ধের নকশা নিয়ে পর্যালোচনার সময় তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন। 73
নবাব সিরাজউদ্দৌলার শ্বশুরের নাম কী ছিল? [Comilla · 2023] উত্তর
নবাব সিরাজউদ্দৌলার শ্বশুরের নাম মির্জা ইরিচ খান। 74
“আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে নাও শয়তান। ”— কে, কোন প্রসঙ্গে এ কথাটি বলেছে? [Comilla · 2023] উত্তর
আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে নাও শয়তান। মিলন যখন সিরাজউদ্দৌলাকে তার মৃত্যুর খবর দিতে আসলেন তখন একথা বললেন।
বাংলার প্রজাসাধারণকে পীড়নের জন্যে, দরবারের পদস্থ আমির ওমরাহদের মর্যাদাহানির জন্যে, বাংলাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আইনসঙ্গত বাণিজ্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করবার জন্যে, অশান্তি এবং বিপ্লব সৃষ্টির জন্যে তুমি অপরাধী। নবাব জাফর আলি খান এই অপরাধের জন্য তোমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। 75 কতো টাকার বিনিময়ে মোহাম্মদি বেগ নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করে?
[Comilla · 2023] উত্তর
১০,০০০ (দশ হাজার) টাকার বিনিময়ে মোহাম্মদি বেগ নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করে। 76 “দওলত আমার কাছে ভগবানের দাদামশায়ের চেয়ে বড়ো।” – কে, কাকে, কোন প্রসঙ্গে বলেছে?
[Comilla · 2023] উত্তর
“দওলত আমার কাছে ভগবানের দাদামশায়ের চেয়েও বড়। – উক্তিটি দ্বারা উমিচাদের অর্থলোভী মানসিকতা নির্দেশ করা হয়েছে। উমিষ্টাদের ভাষ্যমতে, তিনি দওলতের পূজারি। অর্থের জন্য তিনি যেকোনো জঘন্য কাজই করতে পারেন। অর্থ তার কাছে ঈশ্বরের থেকেও বড়। অর্থের লোভ তাকে এমনই হীন মানুষে পরিণত করেছে। অর্থের লোভে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরোধিতা করতেও তার বাঁধেনি। 77 সিকানদার আবু জাফর সম্পাদিত সাহিত্য-পত্রিকার নাম কী?
[Jessore · 2023] উত্তর
সিকানদার আবু জাফর সম্পাদিত সাহিত্য- পত্রিকার নাম সমকাল। 78 ঘসেটি বেগম সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন কেন?
[Jessore · 2023] উত্তর
নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পরে, ঘসেটি বেগম চেষ্টা করছিলেন দ্বিতীয় বোন শাহ বেগমের পুত্র শওকত জঙ্গকে সিংহাসনে বসানোর। কিন্তু সিরাজউদ্দৌলা বাংলার ক্ষমতা আরোহণ করতে সমর্থ হন। অবশেষে, তিনি নবাব আলীবর্দী খানের সেনাপতি মীর জাফর, ব্যবসায়ী জগৎ শেঠ এবং উমিচাঁদের সঙ্গে গোপনে ষড়যন্ত্র করেন। পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন এবং ইংরেজরা মীর জাফরকে নবাব বানান। 79 পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের পক্ষে সৈন্য সংখ্যা কত ছিল?
[Jessore · 2023] উত্তর
পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের পক্ষে সৈন্য সংখ্যা ৩ হাজার ছিলো। 80 “তুমিও আমাকে বিচার করতে বসলে?” কোন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে? সংক্ষেপে বর্ণণা কর।
[Jessore · 2023] উত্তর
নানা ষড়যন্ত্রের শিকার সিরাজউদ্দৌলা যখন তাঁর বিশ্বাসের শেষ আশ্রয় সহধর্মিনী লুৎফার কাছে আসে তখন স্ত্রীর অনুযোগের উত্তর দিতে গিয়ে বিপর্যস্ত নবাব এ উক্তিটি করেছেন। নবাবের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ ও স্বার্থান্ধ ঘসেটি বেগমের সাথে নবাবের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর নবাব পত্নী স্বামীকে কিঞ্চিৎ অভিযোগের সুরেই ঘসেটি বেগমের মর্মাহত হয়ে ফিরে যাওয়ার কথা বলেন। নবাব স্ত্রীর কাছে বলেন, “আমাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারলে খালাম্মা খুশি হবেন সবচেয়ে বেশি।” প্উত্তরে লুৎফা বেগম বলেন, তার সম্পত্তিতে বার বার হস্তক্ষেপ করতে থাকলে ভরসা নষ্ট হওয়ারই কথা। স্ত্রীর এ কথার উত্তর দিতে গিয়েই অভিমানী সিরাজ প্রশ্নোলিখিত সংলাপটি করেছেন।
81 “কাপুরুষ, বেইমান। জ্বলন্ত আগুনের মুখে বন্ধুদের ফেলে পালিয়ে যায়।” উক্তিটি কার?
[Barisal · 2023] উত্তর “কাপুরুষ, বেইমান। জ্বলন্ত আগুনের মুখে বন্ধুদের ফেলে পালিয়ে যায়।” -উক্তিটি ক্যাপ্টেন ক্লেটনের।
82 “ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা। ”- ব্যাখ্যা কর।
[Barisal · 2023] উত্তর ফোর্ট উইলিয়াম দুৰ্গ নবাব সিরাজউদ্দৌলার আক্রমণের মুখে ইংরেজরা পালিয়ে যাওয়াই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে। ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ ইংরেজরা নবাবের বিনা অনুমতিতে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে। তাই নবাব ওই দুর্গ আক্রমণ করেন।ইংরেজ সৈন্যরা নবাবের সনদের আক্রমণের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়লে ক্যাপ্টেন মিনচিন কাউন্সিলর ফকল্যান্ড নৌকা যোগে দুর্গ থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। শেষ পর্যায়ে ক্যাপ্টেন ক্লেটন ও গর্ভনর ড্রেক এর সাথে পরামর্শের নাম করে আত্মরক্ষার্থে সব প্রতিজ্ঞা ভুলে দুর্গ থেকে পালিয়ে যান। তাই ব্যাঙ্গার্থে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
83 সিরাজ কাকে আলিনগরের দেওয়ান নিযুক্ত করেন?
[Barisal · 2023] উত্তর সিরাজ মানিকচাঁদ কে আলিনগরের দেওয়ান নিযুক্ত করেন।
84 “শুভ কাজে অযথা বিলম্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়” – কে কী প্রসঙ্গে একথা বলেছিলেন?
[Barisal · 2023] উত্তর শুভ কাজে অযথা বিলম্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়—উক্তিটি মীরজাফর ক্লাইভের উদ্দেশে করেছিলেন। এখানে শুভ কাজ বলতে গোপন চুক্তিপত্রে সই করাকে বোঝানো হয়েছে।
85 সিরাজউদ্দৌলার শশুরের নাম কী? [Mymensingh · 2023]
উত্তর সিরাজউদ্দৌলার শ্বশুরের নাম মির্জা ইরিচ খান।
86 “ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব” —বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [Mymensingh · 2023]
উত্তর “ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব”- উক্তিটি সিরাজউদ্দৌলার।
নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে তার আত্মীয় পরিজন ও অমাত্যবর্গরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। কীভাবে নবাবকে সিংহাসনচ্যুত করা যায়। এবং নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করা যায় সেই ভাবনায় সবাই একাট্টা। তারা দেশরক্ষার শপথ করলেও সজ্ঞানে নবাবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। তাদের এই বিশ্বাসঘাতকতার সুযোগ গ্রহণ করে ইংরেজরা। তারা নবাবকে আক্রমণ করার সুযোগ খোঁজে। সার্বিক পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে নবাব সিরাজউদ্দৌলা স্ত্রী লুৎফুন্নেসাকে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন । 87 সিরাজউদ্দৌলা নাটকে মোট কয়টি দৃশ্য রয়েছে?
[Mymensingh · 2023] উত্তর
সিরাজউদ্দৌলা নাটকে মোট বারটি দৃশ্য রয়েছে। 88 ক্লাইড সিরাজউদ্দৌলাকে দ্রুত হত্যা করতে চেয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা কর।
[Mymensingh · 2023] উত্তর
গণবিক্ষোভের আশঙ্কায় ক্লাইড সিরাজউদ্দৌলাকে দ্রুত হত্যা করতে চেয়েছিল। পলাশি যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর নবাব সিরাজ পাটনায় পালিয়ে যাওয়ার সময় বন্দি হন। তাকে মিরজাফরের সৈন্যরা মুর্শিদাবাদে নিয়ে আসে। সিরাজকে হত্যা করার বিষয়ে মিরজাফর দ্বিধান্বিত থাকলেও চতুর লর্ড ক্লাইভ সিরাজকে দ্রুত হত্যা করতে চায়। কারণ সে ভাবে, বন্দি সিরাজকে মুক্ত করার জন্য গণবিক্ষোভ হতে পারে। তাই এ থেকে পরিত্রাণের জন্য ক্লাইড সিরাজউদ্দৌলাকে দ্রুত হত্যা করতে চেয়েছিল।
89 সিরাজউদ্দৌলার মায়ের নাম কী?
[Rajshahi · 2023] উত্তর সিরাজউদ্দৌলার মায়ের নাম আমিনা বেগম।
90 “শুভ কাজে অযথা বিলম্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।” –ব্যাখ্যা কর ।
[Rajshahi · 2023] উত্তর নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সময় ইংরেজদের সাথে ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে তর্ক শুরু হলে মিরজাফর উক্তিটি করেন। নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের এক পর্যায়ে মিরনের আবাসে সকলের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে সভা বসে। নবাবের পরাজয়ে কে কত টাকা পাবে তা নিয়ে তর্ক শুরু হয় তাদের মাঝে। তবে মিরজাফর দ্রুত চুক্তিটি সম্পাদন করতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেন।
91 “সিরাজের পতন কে না চায়”—সংলাপটি কার ?
[Rajshahi · 2023] উত্তর “সিরাজের পতন কে না চায়” – সংলাপটি ঘসেটি বেগমের।
92 “ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন”–কে, কেন বলেছে?
[Rajshahi · 2023] উত্তর সিরাজের বাহিনীর তীব্র আক্রমণে ইংরেজরা একে একে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ ছেড়ে পালিয়ে গেলে তাদের প্রতি ব্যঙ্গ করে। উমিচাঁদ এ উক্তিটি করেন।
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ ও কাশিমবাজার কুঠিতে ইংরেজরা গোপনে তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকলে নবাব সিরাজ তাদের দুর্গ আক্রমণ করেন। নবাবের সৈন্যদলের আক্রমণের মুখে যখন ইংরেজ সৈন্যরা আর টিকতে পারছিলনা, তখন তারা একে একে দুর্গ ছেড়ে পালাতে থাকে। এমনকি গভর্নর রজার ড্রেক আর ক্যাপ্টেন ক্লেটনও দুর্গ ছেড়ে নৌকা করে পালিয়ে যান। তাঁদের এ কাপুরুষতাকে কটাক্ষ করে উমিচাঁদ হলওয়েলকে লক্ষ করে উক্তিটি করেন। 93
রাইসুল জুহালার প্রকৃত নাম কী? [Sylhet · 2023] উত্তর
রাইসুল জুহালার প্রকৃত নাম নারান সিং। 94
হলওয়েল কে? ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের আলোকে তার পরিচয় দাও [Sylhet · 2023] উত্তর
হলওয়েল প্রকৃত নাম ‘জন জেফনিয়া’। উপাধি ‘সার্জন’। কোম্পানির ঘুষখোর ডাক্তার। তিনি ক্লেটনকে নবাবের কাছে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দেন। ‘দুর্গ প্রাকারে সাদা পতাকা ওড়াও’। 95
“ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব।”—উক্তিটি কার? [Sylhet · 2023] উত্তর
ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব।”—উক্তিটি নবাব সিরাজউদ্দৌলা’র । 96
“পলাশিতে যুদ্ধ হয়নি, হয়েছে যুদ্ধের অভিনয়।” —উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। [Sylhet · 2023] উত্তর
‘পলাশিতে যুদ্ধ হয়নি, হয়েছে যুদ্ধের অভিন্ন উক্তিটি নবাব সৈন্যদের বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি ইঙ্গিত করে।
১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশির প্রান্তরে ইংরেজ বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলার যুদ্ধ হয়। সিরাজের সৈন্যবাহিনী শক্তিশালী থাকলেও তাদের একটা বিশাল অংশ ইংরেজদের সঙ্গে গোপনে হাত মেলায়, যার পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধের ময়দানে গিয়ে মোহনলাল, মিরমর্দান ও সাঁফ্রে ছাড়া সবাই দর্শকের ভূমিকা পালন করে। তারপরও তারা যুদ্ধে জয়ী হতেন যদি না মিরজাফরের কুচক্রান্তে যুদ্ধ বন্ধ না করা হতো। আর সেজন্যই বলা হয়েছে- ‘পলাশিতে যুদ্ধ হয়নি, হয়েছে যুদ্ধের অভিনয় ৷ 97 কোম্পানির ঘুষখোর ডাক্তার কে?
[Dinajpur · 2023] উত্তর
কোম্পানির ঘুষখোর ডাক্তার হলওয়েল । 98 ‘আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবে’—ব্যাখ্যা কর।
[Dinajpur · 2023] উত্তর
সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের এ উক্তিটি নানা দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করে বাংলার সিংহাসন করায়ত্ত করতে নিজ নিজ সংকীর্ণ স্বার্থকে বাস্তবে রূপদান করতে সংঘবদ্ধ বিশ্বাসঘাতকদের সবাই ইংরেজদের সাথে সন্ধি করে। সন্ধিপত্রে এক এক করে জগৎশেঠ, মিরজাফর, রাজবল্লভ সবাই স্বাক্ষর দেয়। আর এর দ্বারাই সূচিত হয় বাংলার পরাধীনতার সনদ। এ সনদই শত্রুদের বিজয় বার্তা ঘোষণা করে ১৭৫৭ সালে ২৩ জুন ঐতিহাসিক পলাশীর প্রান্তরে। 99 নবাব সিরাজউদ্দৌলার শ্বশুরের নাম কী?
[Dinajpur · 2023] উত্তর
নবাব সিরাজউদ্দৌলার শ্বশুরের নাম মির্জা ইরিচ খাঁন 100 ‘দেশপ্রেমিকের রক্ত যেন আবর্জনার স্তূপে চাপা না পড়ে।’ সংলাপটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।
[Dinajpur · 2023] উত্তর
‘দেশপ্রেমিকের রক্ত যেন আবর্জনার স্তূপে চাপা না পড়ে’ – দেশের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের আদর্শ কেউ যেন ভুলে না যায়, তা যেন টিকে থাকে এই দিক বিবেচনা করে নবাব সিরাজউদ্দৌলা এই কথাটি বলেছেন। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে শত্রুর ভয়ে যখন সবাই পালিয়ে যাচ্ছিল তখন নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাদেরকে অভয় দেন। তিনি বলেন পলাশির প্রান্তরে পরাজয়ের পর আমরা যদি প্রাণভয়ে কাপুরুষের মতাে পালিয়ে যাই তবে যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাদের মর্যাদা ক্ষুন্ন হবে। শত্রুরা আমাদের মাটিতে ঘাঁটি গড়ে তুলবে। ফলে দেশপ্রেমিকের প্রাণ নরপশুদের পায়ের তলায় ভূলুণ্ঠিত হবে। এই বিষয়টি নবাব সিরাজউদ্দৌলা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। তাঁর মনে হয়েছে শত্রুর অত্যাচারে এদেশ তখন আবর্জনার স্তুপে পরিণত হবে। তিনি শহিদ দেশপ্রেমিকদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেন।
101 ‘আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবে।’- উক্তিটি কার? [Chittagong · 2023]
উত্তর ‘আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবে’- উক্তিটি রবার্ট ক্লাইভের।
102 ‘দওলত আমার কাছে ভগবানের দাদা মশায়ের চেয়েও বড়ো।’- ব্যাখ্যা করো। [Chittagong · 2023]
উত্তর ‘দওলত আমার কাছে ভগবানের দাদামশায়ের চেয়েও বড়ো।’- উক্তিটি দ্বারা উমিচাঁদের অর্থলোলুপ মানসিকতার দিকটি বোঝানো হয়েছে।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার অমাত্যদের অধিকাংশই ছিল অর্থলোভী ও বিশ্বাসঘাতক। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থলোভী ছিল উমিচাঁদ। অর্থের জন্য সে একেক সময় একেকজনের পক্ষ নিত। ঘসেটি বেগমের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে উমিচাঁদ জানায় যে, সে দণ্ডলতের পূজারি। কারণ দওলত বা অর্থ তার কাছে ভগবানের দাদামশায়ের চেয়েও বড়ো। 103 সিরাজের শ্বশুরের নাম কী?
[Chittagong · 2023] উত্তর
সিরাজের শ্বশুরের নাম ইরিচ খাঁ। 104 ‘তার নবাব হওয়াটাই আমার মস্ত ক্ষতি।’- ঘসেটি বেগমের এ উক্তির কারণ কী?
[Chittagong · 2023] উত্তর
সিরাজউদ্দৌলা নবাব হওয়ায় ঘসেটি বেগম ঈর্ষান্বিত হয়ে আলোচ্য উক্তিটি করেন। নবাব আলিবর্দি খাঁ তাঁর মৃত্যুর আগে দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনের উত্তরাধিকার দিয়ে যান। কিন্তু ঘসেটি বেগম এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। তাই তিনি নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। একদিন রাজমাতা আমিনার সামনে ঘসেটি বেগম সিরাজের অমঙ্গল কামনা করলে আমিনা বলেন, ‘সিরাজ তোমার কোনো ক্ষতি করেনি, বড়ো আপা।’ এর উত্তরে ঘসেটি বেগম ক্ষতির ধরন ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘তার নবাব হওয়াটাই তো আমার মস্ত ক্ষতি।’ 105
ওয়াটসনের সই জাল করে দিয়েছে কে? [Dhaka · 2022]
উত্তর ওয়াটসনের সই জাল করে দিয়েছে লুসিংটন। 106
“বাট আই অ্যাম সিউর নবাব ক্যান কজ নো হার্ম টু আস।” উক্তিটি কেন করা হয়েছে? [Dhaka · 2022]
উত্তর নবাবের ক্ষমতা সম্পর্কে সন্দিহান হওয়ায় ক্লাইভ প্রশ্নোত্তর উক্তিটি করেছে। সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ক্লাইভ ও ওয়াটস নারীর ছদ্মবেশে মীরজাফরের সঙ্গে দেখা করতে আসে। কিন্তু এভাবে ছদ্মবেশে দেখা করাটাকে বিপজ্জনক মনে করে মীরজাফর। কিন্তু ক্লাইভের বিশ্বাস, নবাবের প্রধান সেনাপতি সহ প্রধান অমাত্যরা যখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, তখন সেই বিপজ্জনক হওয়ার ক্ষমতা নেই। এই পরিপ্রেক্ষিতেই ক্লাইভ প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।
107 কোম্পানির ঘুষখোর ডাক্তার কে?
[Rajshahi · 2022] উত্তর কোম্পানির ঘুষখোর ডাক্তার হলেন, হলওয়েল।
108 “বৃটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা”-
সংলাপটি বুঝিয়ে লেখ। [Rajshahi · 2022] উত্তর
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলার আক্রমণের মুখে ইংরেজের পালিয়ে যাওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে । ১৭০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে ইংরেজরা নবাবের বিনা অনুমতিতে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে। তাই নবাব ওই দুর্গ আক্রমণ করেন। ইংরেজ সৈন্যরা নবাবের সৈন্যদের আক্রমণের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়লে | ক্যাপ্টেন মিনচিন, কাউন্সিলর ফকল্যান্ড ও ম্যানিংহাম নৌকাযোগে দুর্গ থেকে | পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। শেষ পর্যায়ে ক্যাপ্টেন ক্লেটনও গভর্নর ড্রেকের | সাথে পরামর্শের নাম করে আত্মরক্ষার্থে সব প্রতিজ্ঞা ভুলে দুগ থেকে পালিয়ে যান । তাই ব্যঙ্গার্থে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
109 ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রথম সংলাপ কার? [Rajshahi · 2022]
উত্তর সিরাজউদ্দৌলা নাটকের প্রথম সংলাপ ক্যাপ্টেন ক্লেটনের।
110 “আমার শেষ যুদ্ধ পলাশীতেই”-ব্যাখ্যা কর। [Rajshahi · 2022]
উত্তর মোহনলাল পলাশির যুদ্ধে আসন্ন পরাজয় ও নিজের মৃত্যু অনিবার্য নে করে সিরাজউদ্দৌলাকে আলোচ্য কথাটি বলেছে।
লাশির যুদ্ধে মিরজাফর, রায়দুর্লভ, ইয়ার লুৎফা তাদের সৈন্যবাহিনী নিয়ে তুলের মতো দাঁড়িয়ে ছিল। যে কারণে বিশাল সৈন্যবাহিনী থাকা সত্ত্বেও নবাব কে পরাজয় বরণ করতে হয়। কিন্তু নবাবের পক্ষে দেশপ্রেমিক মোহনলাল, নৌবে সিং বদ্রি আলি প্রমুখ জীবন বাজি রেখে লড়াই করে। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে মোহনলাল সিরাজউদ্দৌলাকে মুর্শিদাবাদে ফিরে গিয়ে সৈন্য সংগ্রহে পরামর্শ দেয়। নবাব একাই ফিরে যাবেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে মোহনার প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিল। 111 পত্র মারফত শওকতজঙ্গকে কে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন?
[Mymensingh · 2022] উত্তর
পত্র মারফত শওকত জঙ্গকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন মিরজাফর। 112 “ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব।”- ব্যাখ্যা কর।
[Mymensingh · 2022] উত্তর
প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি দ্বারা নবাব সিরাজউদ্দৌলার অমাত্যবর্গের বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি বোঝানো হয়েছে। ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে রাজ অমাত্যগণ নবাব সিরাজউদ্দৌলার কর্তৃত্ব রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করবেন বলে পবিত্র গ্রন্থ নিয়ে শপথ করেছিলেন। কিন্তু নবাবকে পরাজিত করতে গোপনে অনেকেই ষড়যন্ত্র করেছিলেন ইংরেজদের সাথে, যা তাদের কর্মকাণ্ডে প্রকাশ পেয়েছে। অমাত্যবর্গের এই বিশ্বাসঘাতকতার দিকটিই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে । 113
ইংরেজরা পরাজিত হয়ে কোন জাহাজে আশ্রয় নেয়? [Mymensingh · 2022]
উত্তর ইংরেজরা পরাজিত হয়ে ফোর্ট উইলিয়াম জাহাজে আশ্রয় নেয় । 114
‘শুভ কাজে অযথা বিলম্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।’- সপ্রসঙ্গ উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। [Mymensingh · 2022]
উত্তর নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের একপর্যায়ে নিজেদের ভাগ- বাঁটোয়ারা হিসাব করতে গিয়ে মিরজাফর প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছিল । নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য তাঁর সিপাহসালার মিরজাফর ও কোম্পানির প্রতিনিধিরা মিরনের বাসগৃহে এক হয়েছিল। যুদ্ধে ক্লাইভ বিজয়ী হলে কে কতটা ভাগ পাবে তা নিয়ে দলিল তৈরি করেছিল তারা। কিন্তু দলিলে সই করতে গিয়ে চক্রান্তকারীরা তর্কে জড়িয়ে পড়ে। তখন বিলম্ব না করে দলিলে সই করার মাধ্যমে নিজ স্বার্থকে পাকাপোক্ত করার জন্য মিরজাফর আলোচ্য উক্তিটি করে।
115 ক্লাইভের গাধা বলা হয় কাকে?
[Dinajpur · 2022] উত্তর ক্লাইভের গাধা বলা হয় মিরজাফরকে।
116 “আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়।”-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
[Dinajpur · 2022] উত্তর ‘আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়’- উক্তিটিতে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বেদনাভারাক্রান্ত ও ঘনায়মান অসহায় অবস্থার প্রকাশ পেয়েছে।
শাসনকার্য পরিচালনার শুরু থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলা চিন্তা ও কাজের মাঝে বাধা পেয়েছেন। ঘরে-বাইরে ষড়যন্ত্র নবাবের শাসনকার্য পরিচালনায় প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় । তাই ঘরে, বাইরে, দরবারে, সবখানে তাঁর মনে হয়েছে শুধু প্রতিবন্ধকতার দেয়াল। আর এই দেয়ালগুলো তাঁর অস্তিত্বকে সংকটে ফেলেছে, যা আলোচ্য উক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে । 117
ইংরেজদের সাথে উমিচাঁদের কত টাকার চুক্তি হয়েছিল? [Dinajpur · 2022] উত্তর
ইংরেজদের সাথে উমিচাদের ২০ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়েছিল। 118
“আমি বরং নবাবকে বিশ্বাস করতে পারি।”-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। [Dinajpur · 2022] উত্তর
নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে রবার্ট ক্লাইভ প্রশ্নোত্ত্ব মন্তব্যটি করেছেন। মিরজাফর ছিল নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি। সে নিজ স্বার্থের জন্য নবাব ও দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। মিরজাফরের এ ধরনের ঘৃণিত কর্মে রবার্ট ক্লাইভ মিরজাফরের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমি বরং নবাবকে বিশ্বাস করতে পারি।’
119 ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রথম সংলাপটি কার? [Comilla · 2022]
উত্তর ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রথম সংলাপটি ক্যাপ্টেন ক্লেটনের।
120 “ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা।”- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ। [Comilla · 2022]
উত্তর ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলার আক্রমণের মুখে ইংরেজের পালিয়ে যাওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে ।
১৭০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে ইংরেজরা নবাবের বিনা অনুমতিতে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে। তাই নবাব ওই দুর্গ আক্রমণ করেন। ইংরেজ সৈন্যরা নবাবের সৈন্যদের আক্রমণের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়লে | ক্যাপ্টেন মিনচিন, কাউন্সিলর ফকল্যান্ড ও ম্যানিংহাম নৌকাযোগে দুর্গ থেকে | পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। শেষ পর্যায়ে ক্যাপ্টেন ক্লেটনও গভর্নর ড্রেকের | সাথে পরামর্শের নাম করে আত্মরক্ষার্থে সব প্রতিজ্ঞা ভুলে দুগ থেকে পালিয়ে যান । তাই ব্যঙ্গার্থে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে। 121 সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারীর নাম কী?
[Comilla · 2022] উত্তর
সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারীর নাম মোহাম্মদি বেগ । 122 “আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভীড়।” এ উক্তিটি তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।
[Comilla · 2022] উত্তর
‘আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়’– উক্তিটিতে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বেদনাভারাক্রান্ত ও ঘনায়মান অসহায় অবস্থার প্রকাশ পেয়েছে। শাসনকার্য পরিচালনার শুরু থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলা চিন্তা ও কাজের মাঝে বাধা পেয়েছেন। ঘরে-বাইরে ষড়যন্ত্র নবাবের শাসনকার্য পরিচালনায় প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাই ঘরে, বাইরে, দরবারে, সবখানে তাঁর মনে সংকটে ফেলেছে, যা আলোচ্য উক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে ৷ হয়েছে শুধু প্রতিবন্ধকতার দেয়াল। আর এই দেয়ালগুলো তাঁর অস্তিত্বকে । 123
‘আমি দওলতের পূজারী।’- উক্তিটি কার? [Jessore · 2022]
উত্তর ‘আমি দওলতের পূজারি।’—উক্তিটি উমিচাঁদের। 124
“ওই একটি পথেই আবার আমরা উভয়ে উভয়ের কাছাকাছি আসতে পারি।”- কে, কাকে, কোন প্রসঙ্গে উক্তিটি করেছে? [Jessore · 2022]
উত্তর ‘ওই একটি পথেই আবার আমরা উভয়ে উভয়ের কাছাকাছি আসতে পারি’ আলোচ্য উক্তিটি সিরাজউদ্দৌলা মিরজাফরকে উদ্দেশে করে বলেছিল । সিরাজউদ্দৌলা তাঁর অমাত্যবর্গের পরামর্শেই রাজ্যের লবণের ইজারাদারি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দেয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নবাব জানতে পারেন যে, ইংরেজরা নানাভাবে এদেশের নিরীহ প্রজাদের শোষণ ও নিপীড়ন করছে। তখন তিনি তাঁর অমাত্যবর্গের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু রাজ্যের সার্বিক কল্যাণের জন্য সকলকে এক সাথে কাজ করতে হবে। এখানে ‘ওই একটি পথ’ বলতে দেশের কল্যাণে একযোগে কাজ করাকে বোঝানো হয়েছে। মূলত আলোচ্য উক্তিটি দ্বারা নবাব ও তার অমাত্যবর্গের একসাথে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগের দিকটি বোঝানো হয়েছে।
125 নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে বন্দি করে কোথায় রাখা হয়?
[Jessore · 2022] উত্তর নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে বন্দি করে রাখা হয় জাফরগঞ্জের কয়েদখানায় ।
126 “ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়।”-ব্যাখ্যা কর।
[Jessore · 2022] উত্তর মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইংরেজ ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করতে গেলে অনেকের পালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে নবাবের
প্রশ্নোক্ত কথায় প্রতারক ভীরুদের চিরন্তন প্রবণতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। । পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা রাজধানীতে ফিরে এসে পুনরায় সৈন্য সংগ্রহ করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু দিকে দিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকের পালানোর কথা ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর নবাবের কাছে এলে হতাশাগ্রস্ত মানুষকে আশান্বিত করতে তখনো । তিনি বীরত্বের কথা বলেন। এ প্রসঙ্গেই পলায়নরতদের কাপুরুষ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন । 127
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের শেষ সংলাপটি কার? [Sylhet · 2022] উত্তর
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের শেষ সংলাপটি মোহাম্মদি বেগের। 128
“ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা”- ব্যাখ্যা কর। [Sylhet · 2022] উত্তর
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলার আক্রমণের মুখে ইংরেজের পালিয়ে যাওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে । ১৭০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে ইংরেজরা নবাবের বিনা অনুমতিতে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে। তাই নবাব ওই দুর্গ আক্রমণ করেন। ইংরেজ সৈন্যরা নবাবের সৈন্যদের আক্রমণের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়লে | ক্যাপ্টেন মিনচিন, কাউন্সিলর ফকল্যান্ড ও ম্যানিংহাম নৌকাযোগে দুর্গ থেকে | পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। শেষ পর্যায়ে ক্যাপ্টেন ক্লেটনও গভর্নর ড্রেকের | সাথে পরামর্শের নাম করে আত্মরক্ষার্থে সব প্রতিজ্ঞা ভুলে দুগ থেকে পালিয়ে যান । তাই ব্যঙ্গার্থে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
129 ঘসেটি বেগম কোন প্রাসাদে থাকতেন? [Sylhet · 2022]
উত্তর ঘসেটি বেগম মুর্শিদাবাদের সুরম্য মতিঝিল প্রাসাদে থাকতেন ।
130 “আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়”- উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর। [Sylhet · 2022]
উত্তর ‘আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়’– উক্তিটিতে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বেদনাভারাক্রান্ত ও ঘনায়মান অসহায় অবস্থার প্রকাশ পেয়েছে।
শাসনকার্য পরিচালনার শুরু থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলা চিন্তা ও কাজের মাঝে বাধা পেয়েছেন। ঘরে-বাইরে ষড়যন্ত্র নবাবের শাসনকার্য পরিচালনায় প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাই ঘরে, বাইরে, দরবারে, সবখানে তাঁর মনে সংকটে ফেলেছে, যা আলোচ্য উক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে ৷ হয়েছে শুধু প্রতিবন্ধকতার দেয়াল। আর এই দেয়ালগুলো তাঁর অস্তিত্বকে । 131 নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোথায় বন্দি হন?
[Barisal · 2022] উত্তর
নবাব সিরাজউদ্দৌলা ভগবান গোলায় বন্দি হন। 132 “ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়”- ব্যাখ্যা কর।
[Barisal · 2022] উত্তর
মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইংরেজ ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করতে গেলে অনেকের পালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে নবাবের প্রশ্নোক্ত কথায় প্রতারক ভীরুদের চিরন্তন প্রবণতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। । পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা রাজধানীতে ফিরে এসে পুনরায় সৈন্য সংগ্রহ করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু দিকে দিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকের পালানোর কথা ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর নবাবের কাছে এলে হতাশাগ্রস্ত মানুষকে আশান্বিত করতে তখনো । তিনি বীরত্বের কথা বলেন। এ প্রসঙ্গেই পলায়নরতদের কাপুরুষ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন । 133
নকল দলিল দেখিয়ে কাকে ঠকানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল? [Barisal · 2022]
উত্তর নকল দলিল দেখিয়ে উমিচাঁদকে ঠকানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। 134
“তোমার ক্ষমতা ধ্বংস হবে, সিরাজ।”- কে, কাকে এবং কেন এ উক্তিটি করেছিল? [Barisal · 2022]
উত্তর প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ঘসেটি বেগম সিরাজউদ্দৌলাকে লক্ষ্য করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিল। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সরিয়ে যারা অর্থ ও ক্ষমতা লাভের জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল, তাদের সঙ্গে ছিল ঘসেটি বেগম। সিরাজউদ্দৌলা নবাব হলে তা মেনে নিতে পারে না ঘসেটি বেগম । তাই সে গোপনে মিরজাফর ও অন্যদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে । নবাব সিরাজউদ্দৌলা ঘসেটি বেগমের এই কর্মকাণ্ড বুঝতে পেরে তাকে মতিঝিল থেকে নবাবের মায়ের কাছে নিয়ে যেতে চাইলে ক্ষুব্ধ হয় ঘসেটি বেগম। আর তখনই সে নবাবকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
135 ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রথম সংলাপটি কার?
[Chittagong · 2022] উত্তর ‘সিরাজউদৌলা’ নাটকের প্রথম সংলাপটি ক্যাপ্টেন ক্লেটনের।
136 “আমি আল্লাহর পাক কালাম ছুঁয়ে ওয়াদা করছি, আজীবন নবাবের আজ্ঞাবহ হয়েই থাকব।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
[Chittagong · 2022] উত্তর আলোচ্য উক্তিটি সিরাজউদ্দৌলাকে উদ্দেশে করে মিরজাফর বলেছিল ।
সিরাজউদ্দৌলা মিরজাফর তার অন্যান্য অমাত্যবর্গের পরামর্শে ইংরেজদের লবণের ইজারাদারি দিয়েছিল। এই লবণ ব্যাবসার নামে ইংরেজরা এদেশের নিরীহ প্রজাদের ওপর জুলুম ও নিপীড়ন শুরু করে। তাছাড়া কলকাতায় ওয়াটস এবং ক্লাইভ আলিনগরের সন্ধি খেলাপ করে ফরাসি অধিকৃত চন্দননগর আক্রমণ করে। এতে ইংরেজ এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতি নবাব বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেন। তাঁর দরবারের অমাত্যবর্গের প্রতিও তাঁর আস্থা রাখতে সন্দেহ হয়। তখন নবাবকে আশ্বস্থ করতে দেশের মঙ্গলের উদ্দেশ্যে মিরজাফর কোরান শরিফ নিয়ে ওয়াদা করে এবং আলোচ্য উক্তিটি করে। 137
‘সিরাজউদ্দৌলা’ কোন জাতীয় নাটক? [Chittagong · 2022] উত্তর
‘সিরাজউদ্দৌলা’ ইতিহাসভিত্তিক নাটক। 138
‘তার নবাব হওয়াটাই আমার মস্ত ক্ষতি।’- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। [Chittagong · 2022] উত্তর
সিরাজউদ্দৌলা নবাব হওয়ায় ঘসেটি বেগম ঈর্ষান্বিত হয়ে আলোচ্য উক্তিটি করেন । নবাব আলিবর্দি খাঁ তাঁর মৃত্যুর আগে দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনের উত্তরাধিকার দিয়ে যান। কিন্তু ঘসেটি বেগম এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। তাই তিনি নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। একদিন রাজমাতা আমিনার সামনে ঘসেটি বেগম সিরাজের অমঙ্গল কামনা করলে আমিনা বলেন, ‘সিরাজ তোমার কোনো ক্ষতি করেনি, বড়ো আপা।’ এর উত্তরে ঘসেটি বেগম ক্ষতির ধরন ব্যাখ্যা করে বলেন, “তার নবাব হওয়াটাই তো আমার মস্ত ক্ষতি।’
139 ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে শেষ সংলাপ কার ? [Comilla · 2019]
উত্তর ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে শেষ সংলাপ মোহাম্মদি বেগের।
140 “ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা” -ব্যাখ্যা করো। [Comilla · 2019]
উত্তর ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলার আক্রমণের মুখে ইংরেজরা পালিয়ে যাওয়ায় উমিচাঁদ প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছে।
১৭০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে ইংরেজরা নবাবের বিনা অনুমতিতে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে। তাই নবাব ওই দুর্গ আক্রমণ করেন । ইংরেজ সৈন্যরা নবাবের সৈন্যদের আক্রমণের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়লে ক্যাপ্টেন মিনচিন, কাউন্সিলর ফকল্যান্ড ও ম্যানিংহাম নৌকাযোগে দুর্গ থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করে। শেষ পর্যায়ে ক্যাপ্টেন ক্লেটনও গভর্নর ড্রেকের সাথে পরামর্শের নাম করে আত্মরক্ষার্থে সব প্রতিজ্ঞা ভুলে দুর্গ থেকে পালিয়ে যায় । তাই ব্যঙ্গার্থে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে। 141 নবাবের গোলন্দাজ বাহিনী কোন খাল পেরিয়ে ছুটে আসছে ?
[Comilla · 2019] উত্তর
নবাবের গোলন্দাজ বাহিনী শিয়ালদহের মারাঠা খাল পেরিয়ে ছুটে আসছে। 142 “ফিরে এসেছি রাজধানীতে স্বাধীনতা বজায় রাখবার শেষ চেষ্টা করব বলে।” — উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
[Comilla · 2019] উত্তর
প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার মধ্যে পলাশির যুদ্ধে পরাস্ত হয়ে স্বাধীনতা রক্ষার প্রবল আকাঙ্ক্ষার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে । ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে পলাশির যুদ্ধে নবাবের প্রধান সেনাপতি মিরজাফর বিশ্বাসঘাতকতা করে। ফলে নবাব সেখানে পরাস্ত হয়ে কিছু সৈন্য নিয়ে রাজধানীতে ফিরে আসেন। এ আসা পলায়ন নয়, পুনর্গঠিত হয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বাধীনতা রক্ষার শেষ চেষ্টা করতে চান নবাব । প্রশ্নোত্ত উক্তিটির মাধ্যমে সিরাজের সে আকাঙ্ক্ষাই অভিব্যক্ত হয়েছে । 143
“আমাদের কারো অদৃষ্ট মেঘমুক্ত থাকবে না শেঠজি”- উক্তিটি কার? [Chittagong · 2019]
উত্তর “আমাদের কারো অদৃষ্ট মেঘমুক্ত থাকবে না শেঠজি।”—উক্তিটি মিরজাফরের । 144
“আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল দেয়ালের ভিড়।” – বুঝিয়ে দাও ৷ [Chittagong · 2019]
উত্তর ‘আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়’— উক্তিটিতে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বেদনাভারাক্রান্ত ও ঘনায়মান অসহায় অবস্থার প্রকাশ পেয়েছে । শাসনকার্য পরিচালনার শুরু থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলা চিন্তা ও কাজের মাঝে বাধা পেয়েছেন। ঘরে-বাইরে ষড়যন্ত্র নবাবের শাসনকার্য পরিচালনায় প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাই ঘরে, বাইরে, দরবারে, সবখানে তাঁর মনে হয়েছে শুধু প্রতিবন্ধকতার দেয়াল। আর এই দেয়ালগুলো তাঁর অস্তিত্বকে সংকটে ফেলেছে, যা আলোচ্য উক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে।
145 ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের তৃতীয় অঙ্কের দৃশ্যসংখ্যা কত?
[Sylhet · 2019] উত্তর ক ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের তৃতীয় অঙ্কের দৃশ্যসংখ্যা চারটি।
146 ‘আসামির সে অধিকার থাকে নাকি?’ –কে, কাকে, কখন বলেছিল? বর্ণনা করো
[Sylhet · 2019] উত্তর কারাগারের ভেতর নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করার প্রেক্ষাপটে মিরন নবাবকে উদ্দেশ করে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিল ।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে মিরন ও মোহাম্মদি বেগ কারাগারের ভিতর হত্যা করে। মিরন রবার্ট ক্লাইভের যোগসাজশে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে। এজন্য সে মোহাম্মদি বেগকে দশ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়া করে। মিরন এবং মোহাম্মদি বেগ তাদের হীন স্বার্থ পূরণের জন্য কারাগারে নবাবের কাছে যায়।’ সেখানে মিরন নবাবকে মিথ্যে দণ্ডাজ্ঞা শোনায়। তখন সিরাজউদ্দৌলা সেই দণ্ডাজ্ঞায় সত্যিই মিরজাফরের স্বাক্ষর আছে কি না, তা জানতে চাইলে মিরন প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে। 147
সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রীর নাম কী? [Sylhet · 2019] উত্তর
সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রীর নাম লুৎফুন্নেসা। 148
“রজার ড্রেক প্রাণভয়ে কুকুরের মতো ল্যাজ গুটিয়ে পালিয়েছে -ব্যাখ্যা করো। [Sylhet · 2019] উত্তর
নবাব সিরাজউদ্দৌলার সৈন্য কলকাতা আক্রমণের সময় গভর্নর রজার ড্রেকের পালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে নবাব প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন । ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ইংরেজদের নিয়মবহির্ভূত শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টার প্রাক্কালে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতায় ইংরেজদের দুর্গ আক্রমণ, করেন। নবাব সৈন্যের কলকাতা আক্রমণে ইংরেজদের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। তখন গভর্নর রজার ড্রেক ভয় পেয়ে গোপনে পালিয়ে যায়। কিন্তু হলওয়েল প্রকৃত সত্য গোপন করে নবাবকে জানায়, রজার ড্রেক কলকাতার বাইরে গেছেন। তখন রজার ড্রেকের কাপুরুষতার কথা জানিয়ে নবাব প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। 149
নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোথায় বন্দি হন ? [Chittagong · 2019] উত্তর
নবাব সিরাজউদ্দৌলা ভগবানগোলায় বন্দি হন । 150
“ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়।” – ব্যাখ্যা করো। [Chittagong · 2019] উত্তর
মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইংরেজ ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করতে গেলে অনেকের পালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে নবাবের প্রশ্নোক্ত কথায় প্রতারক ভীরুদের চিরন্তন প্রবণতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে । পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা রাজধানীতে ফিরে এসে পুনরায় সৈন্য সংগ্রহ করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু দিকে দিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকের পালানোর কথা ছড়িয়ে পড়ে । এ খবর নবাবের কাছে এলে হতাশাগ্রস্ত মানুষকে আশান্বিত করতে তখনো তিনি বীরত্বের কথা বলেন। এ প্রসঙ্গেই পলায়নরতদের কাপুরুষ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন
151 কত সালে আলিনগরের সন্ধিচুক্তি সম্পাদিত হয় ? [Dinajpur · 2019]
উত্তর ১৭৫৭ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি আলিনগরের সন্ধিচুক্তি সম্পাদিত হয়।
152 ‘ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব’— এর তাৎপর্য লেখো । [Dinajpur · 2019]
উত্তর প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি দ্বারা নবাব সিরাজউদ্দৌলার অমাত্যবর্গের বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি বোঝানো হয়েছে।
ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে রাজ অমাত্যগণ নবাব সিরাজউদ্দৌলার কর্তৃত্ব রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করবেন বলে পবিত্র গ্রন্থ নিয়ে শপথ করেছিলেন। কিন্তু নবাবকে পরাজিত করতে গোপনে অনেকেই ষড়যন্ত্র করেছিলেন ইংরেজদের সাথে, যা তাদের কর্মকাণ্ডে প্রকাশ পেয়েছে। অমাত্যবর্গের এই বিশ্বাসঘাতকতার দিকটিই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে। 153 মিরজাফরের গুপ্তচর কে ?
[Dinajpur · 2019] উত্তর
মিরজাফরের গুপ্তচর হলো উমর বেগ । 154 “ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়” – উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
[Dinajpur · 2019] উত্তর
মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইংরেজ ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করতে গেলে অনেকের পালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে নবাবের প্রশ্নোক্ত কথায় প্রতারক ভীরুদের চিরন্তন প্রবণতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা রাজধানীতে ফিরে এসে পুনরায় সৈন্য সংগ্রহ করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু দিকে দিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকের পালানোর কথা ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর নবাবের কাছে এলে হতাশাগ্রস্ত মানুষকে আশান্বিত করতে তখনো তিনি বীরত্বের কথা বলেন। এ প্রসঙ্গেই পলায়নরতদের কাপুরুষ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন। 155
উমিচাঁদ কোথা থেকে বাংলাদেশে এসেছে ? [Rajshahi · 2019]
উত্তর উমিচাঁদ লাহোর থেকে বাংলাদেশে এসেছে। 156
“আমার শেষ যুদ্ধ পলাশিতেই।”— কেন ? [Rajshahi · 2019]
উত্তর মোহনলাল পলাশির যুদ্ধে আসন্ন পরাজয় ও নিজের মৃত্যু অনিবার্য মনে করে সিরাজউদ্দৌলাকে আলোচ্য কথাটি বলেছে । পলাশির যুদ্ধে মিরজাফর, রায়দুর্লভ, ইয়ার লৎফ তাদের সৈন্যবাহিনী নিয়ে পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে ছিল। যে কারণে বিশাল সৈন্যবাহিনী থাকা সত্ত্বেও নবাবকে পরাজয় বরণ করতে হয়। কিন্তু নবাবের পক্ষে দেশপ্রেমিক মোহনলাল, নৌবে সিং, বদ্রি আলি প্রমুখ জীবন বাজি রেখে লড়াই করে। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে মোহনলাল সিরাজউদ্দৌলাকে মুর্শিদাবাদে ফিরে গিয়ে সৈন্য সংগ্রহের পরামর্শ দেয়। নবাব একাই ফিরে যাবেন কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে মোহনলাল প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিল।
157 “চারিদিকে শুধু অবিশ্বাস আর ষড়যন্ত্র।”— উক্তিটি কার ?
[Rajshahi · 2019] উত্তর “চারিদিকে শুধু অবিশ্বাস আর ষড়যন্ত্র।” —উক্তিটি রায়দুর্লভের ।
158 “ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়” –এর তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
[Rajshahi · 2019] উত্তর মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইংরেজ ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করতে গেলে অনেকের পালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে নবাবের প্রশ্নোক্ত কথায় প্রতারক ভীরুদের চিরন্তন প্রবণতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে ।
পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা রাজধানীতে ফিরে এসে পুনরায় সৈন্য সংগ্রহ করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু দিকে দিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকের পালানোর কথা ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর নবাবের কাছে এলে হতাশাগ্রস্ত মানুষকে আশান্বিত করতে তখনো তিনি বীরত্বের কথা বলেন। এ প্রসঙ্গেই পলায়নরতদের কাপুরুষ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন । 159
“ভিক্টরি অর ডেথ, ভিক্টরি অর ডেথ” —উক্তিটি কাদের প্রতি করা হয়েছিল? [Barisal · 2019] উত্তর
“ভিক্টরি অর ডেথ, ভিক্টরি অর ডেথ” —উক্তিটি ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে যুদ্ধরত ইংরেজপক্ষের সৈন্যদের প্রতি করা হয়েছিল। 160
“তোমার ক্ষমতা ধ্বংস হবে, সিরাজ” –কে, কাকে লক্ষ করে কেন এ উক্তিটি করেছিল? [Barisal · 2019] উত্তর
প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ঘসেটি বেগম সিরাজউদ্দৌলাকে লক্ষ করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিল। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সরিয়ে যারা অর্থ ও ক্ষমতা লাভের জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল, তাদের সঙ্গে ছিল ঘসেটি বেগম। সিরাজউদ্দৌলা নবাব হলে তা মেনে নিতে পারে না ঘসেটি বেগম। তাই সে গোপনে মিরজাফর ও অন্যদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে । নবাব সিরাজউদ্দৌলা ঘসেটি বেগমের এই কর্মকাণ্ড বুঝতে পেরে তাকে মতিঝিল থেকে নবাবের মায়ের কাছে নিয়ে যেতে চাইলে ক্ষুব্ধ হয় ঘসেটি বেগম। আর তখনই সে নবাবকে উদ্দেশ করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
161 “মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছেন সেনাপতি’ –এখানে সেনাপতির নাম কী? [Barisal · 2019]
উত্তর ‘মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছেন সেনাপতি’ – এখানে সেনাপতির নাম মোহনলাল।
162 ‘আমার শেষ যুদ্ধ পলাশিতেই’ —উক্তিটি কে, কখন এবং কাকে করেছিলেন? ব্যাখ্যা করো। [Barisal · 2019]
উত্তর মোহনলাল পলাশির যুদ্ধে আসন্ন পরাজয় ও নিজের মৃত্যু অনিবার্য মনে করে সিরাজউদ্দৌলাকে আলোচ্য কথাটি বলেছে ।
পলাশির যুদ্ধে মিরজাফর, রায়দুর্লভ, ইয়ার লুৎফ তাদের সৈন্যবাহিনী নিয়ে পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে ছিল। যে কারণে বিশাল সৈন্যবাহিনী থাকা সত্ত্বেও নবাবকে পরাজয় বরণ করতে হয়। কিন্তু নবাবের পক্ষে দেশপ্রেমিক মোহনলাল, নৌবে সিং, বদ্রি আলি প্রমুখ জীবন বাজি রেখে লড়াই করে। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে মোহনলাল সিরাজউদ্দৌলাকে মুর্শিদাবাদে ফিরে গিয়ে সৈন্য সংগ্রহের পরামর্শ দেয়। নবাব একাই ফিরে যাবেন কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে মোহনলাল প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিল। 163 সিরাজের কোন সেনাপতি যুদ্ধে প্রথম মৃত্যুবরণ করেন ?
[Jessore · 2019] উত্তর
সিরাজের সেনাপতি নৌবে সিং হাজারি যুদ্ধে প্রথম মৃত্যুবরণ করেন । 164 ‘আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়’— উক্তিটির সপ্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করো ।
[Jessore · 2019] উত্তর
‘আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়’— উক্তিটিতে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বেদনাভারাক্রান্ত ও ঘনায়মান অসহায় অবস্থার প্রকাশ পেয়েছে । শাসনকার্য পরিচালনার শুরু থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলা চিন্তা ও কাজের মাঝে বাধা পেয়েছেন। ঘরে-বাইরে ষড়যন্ত্র নবাবের শাসনকার্য পরিচালনায় প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাই ঘরে, বাইরে, দরবারে, সবখানে তাঁর মনে হয়েছে শুধু প্রতিবন্ধকতার দেয়াল। আর এই দেয়ালগুলো তাঁর অস্তিত্বকে সংকটে ফেলেছে, যা আলোচ্য উক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে । 165
ঐতিহাসিক পলাশি কোন নদীর তীরে অবস্থিত ? [Jessore · 2019]
উত্তর ঐতিহাসিক পলাশি ভাগীরথী (গঙ্গা থেকে উৎপন্ন) নদীর তীরে অবস্থিত। 166
ট্র্যাজেডি হিসেবে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। [Jessore · 2019]
উত্তর নায়কমুখ্য কাহিনি এবং করুণ রস পরিবেশনের ফলে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ট্র্যাজেডির বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। নায়ক কিংবা নায়িকামুখ্য করুণ রস পরিবেশন ট্র্যাজেডির ধর্ম। ট্র্যাজেডি নাটকে কোনো জটিল ও গুরুতর ঘটনার আশ্রয়ে বিশেষ ধরনের রস সঞ্চার করা হয়, যা আমাদের অনুভূতিকে অভূতপূর্ব আবহে আলোড়িত করে । এই ধরনের নাটকে শত বিপর্যয় সত্ত্বেও নায়কের সুদৃঢ় মহিমান্বিত অবস্থান রূপায়িত হয়। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে আমরা দেখি নায়কমুখ্য কাহিনি এবং করুণ রসের ব্যঞ্জনা ।
167 রবার্ট ক্লাইভ কাকে সেরা বিশ্বাসঘাতক বলেছেন?
[Dhaka · 2019] উত্তর রবার্ট ক্লাইভ উমিচাঁদকে সেরা বিশ্বাসঘাতক বলেছেন।
168 “কত বড় শক্তি, তবু কত তুচ্ছ।” —উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
[Dhaka · 2019] উত্তর ইংরেজদের তুলনায় শক্তি ও সামর্থ্যে বেশি হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বাসঘাতকদের কারণে পরাজয় অবশ্যম্ভাবী জেনেই নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে পলাশির প্রান্তরে যুদ্ধের ময়দানে ইংরেজদের তুলনায় নবাব সিরাজউদ্দৌলার সৈন্য সংখ্যা ছিল অধিক এবং শক্তিশালী কিন্তু নবাবের বাহিনীতে বিশ্বাসঘাতক মিরজাফর এবং তার অনুসারী সৈন্যও ছিল। মিরজাফর নবাবের সেনাপ্রধান হলেও তার প্রতি নবাবের বিশ্বাস ছিল না। তাই সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পরাজয় ঠেকানো যাবে না ভেবে নবাব প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন। 169
সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারীর নাম কী? [Dhaka · 2019] উত্তর
সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারীর নাম মোহাম্মদি বেগ । 170
‘আমরা এমন কিছু করলাম, যা ইতিহাস হবে’— উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। [Dhaka · 2019] উত্তর
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ এ উক্তিটি করেছেন। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করে বাংলার সিংহাসন করায়ত্ত করতে চায় বিশ্বাসঘাতকের দল। তাই নিজ নিজ সংকীর্ণ স্বার্থকে বাস্তবে রূপদান করার জন্য তারা ইংরেজদের সাথে একটি ঘৃণ্য চুক্তি করে। এ ঘটনার মাধ্যমেই পাক-ভারত উপমহাদেশে ইংরেজদের দীর্ঘ শাসনের বীজ রোপিত হয়। চুক্তিপত্রে একেক করে জগৎশেঠ, মিরজাফর, রাজবল্লভ সবাই স্বাক্ষর দেয়। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলার পরাধীনতার পথ সুগম হয়। এ সনদই শত্রুদের বিজয় নিশ্চিত করে ১৭৫৭ সালে ২৩শে জুন ঐতিহাসিক পলাশির প্রান্তরে। যা পাক-ভারতকে সুদীর্ঘ পরাধীনতার জালে আবদ্ধ করে । উক্তিটি এ ইঙ্গিত বহন করে।
171 ইংরেজরা পরাজিত হয়ে কোন জাহাজে আশ্রয় নেয়? [Rajshahi · 2018]
উত্তর ইংরেজরা পরাজিত হয়ে ফোর্ট উইলিয়াম জাহাজে আশ্রয় নেয়।
172 “ইনি কি নবাব, না ফকির?”- মীরজাফর সম্পর্কে ক্লাইভের এ উক্তির কারণ কী? [Rajshahi · 2018]
উত্তর মিরজাফরের ব্যক্তিত্বহীনতা দেখে রবার্ট ক্লাইভ তাকে ব্যঙ্গ করে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন।
বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর পূর্ব চুক্তিমতো নবাব হয় বিশ্বাসঘাতক ও ক্ষমতালোভী মিরজাফর। রাজদরবারে এসে মিরজাফর সিংহাসনে না বসে সিংহাসনের হাতল ধরে কর্নেল ক্লাইভের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এতে মিরজাফরের ব্যক্তিত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আর তা দেখেই ক্লাইভ প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন। 173 ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রথম সংলাপ কার?
[Rajshahi · 2018] উত্তর
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রথম সংলাপ ক্যাপ্টেন ক্লেটনের। 174 রবার্ট ক্লাইভ নারীর ছদ্মবেশে মিরনের বাড়িতে এসেছিল কেন?
[Rajshahi · 2018] উত্তর
গুপ্তচরের চোখ ফাঁকি দিয়ে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে যোগ দিতে রবার্ট ক্লাইভ নারীর ছদ্মবেশে মিরনের বাড়িতে এসেছিল। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করতে রবার্ট ক্লাইভ এবং নবাবের অমাত্যবর্গ মিরনের বাড়িতে গোপন বৈঠক ডাকে। বৈঠকে মিরজাফর, ওয়াটস, রায়দুর্লভসহ সমস্ত বিশ্বাসঘাতকেরা উপস্থিত হয়। নবাবের গুপ্তচরেরা যেন এই গোপন বৈঠকের খবর না পায় এবং তাদের ধরতে না পারে সেজন্য রবার্ট ক্লাইভ নারীর ছদ্মবেশ ধারণ করে মিরনের বাড়িতে উপস্থিত হয়। 175
সিরাজউদ্দৌলার মায়ের নাম কী? [Dhaka · 2018]
উত্তর সিরাজউদ্দৌলার মায়ের নাম আমিনা বেগম। 176
“আমার নালিশ আজ আমার বিরুদ্ধে”- এ উক্তির তাৎপর্য কী? [Dhaka · 2018]
উত্তর প্রজাদের দুর্ভোগের জন্য অন্য কাউকে দোষারোপ না করে আত্মগ্লানি প্রকাশ করতে গিয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা একথা বলেছেন। উৎপীড়িত ব্যক্তিকে দরবারে ডাকার পূর্বে নবাব তাঁর পারিষদদের ডেকে তাঁদের নিজ নিজ দায়িত্ব পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে মিরজাফর নবাবকে প্রশ্ন করে, তিনি তাদের সন্দেহ করছেন কি না? কিন্তু নবাব কোনো অভিযোগ জানাতে চান না। বাংলার প্রজাদের সুখ- স্বাচ্ছন্দ্য বিধান না করতে পারায় নিজেকেই অপরাধী আখ্যা দেন তিনি। আর এ প্রসঙ্গেই তিনি নিজের বিরুদ্ধে নালিশের কথা বলেন।
177 কার নির্দেশে সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করা হয়?
[Dhaka · 2018] উত্তর মিরনের নির্দেশে সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করা হয়।
178 “শওকতজঙ্গ নবাব হলে সকলের উদ্দেশ্য হাসিল হবে”- কেন?
[Dhaka · 2018] উত্তর শওকতজঙ্গ ঘসেটি বেগমের আস্থাভাজন হওয়ায় সে নবাব হলে ষড়যন্ত্রকারীদের স্বার্থসিদ্ধি ঘটবে, এমনটিই প্রকাশ পেয়েছে প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে।
আলিবর্দি খানের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন তার দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলা। কিন্তু ঘসেটি বেগমসহ অন্যান্য চক্রান্তকারী এটি মেনে নিতে পারে না। তারা সিরাজউদ্দৌলার খালাতো ভাই শওকত জঙ্গকেই যোগ্য উত্তরাধিকারী মনে করে। কেননা, সিরাজউদ্দৌলা নবাব হওয়ায় তাদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। ফলে ঘসেটি বেগমের স্নেহধন্য শওকতজজাকে নবাব বানাতে পারলে নিজেদের স্বেচ্ছাচারিতায় কোনো অন্তরায় থাকবে না বলে মনে করে ষড়যন্ত্রকারীরা। আর এজন্যই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে। 179
সিরাজউদ্দৌলা কাকে কলকাতার দেওয়ান নিযুক্ত করেন? [Dhaka · 2017] উত্তর
সিরাজউদ্দৌলা মানিকচাঁদকে কলকাতার দেওয়ান নিযুক্ত করেন। 180
‘ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা’- ব্যাখ্যা করো। [Dhaka · 2017] উত্তর
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলার আক্রমণের মুখে ইংরেজরা পালিয়ে যাওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্ত্রব্যটি করা হয়েছে। ১৭০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে ইংরেজরা নবাবের বিনা অনুমতিতে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে। তাই নবাব ওই দুর্গ আক্রমণ করেন। ইংরেজ সৈন্যরা নবাবের সৈন্যদের আক্রমণের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়লে ক্যাপ্টেন মিনচিন, কাউন্সিলার ফাকল্যান্ড ও ম্যানিংহাম নৌকাযোগে দুর্গ থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। শেষ পর্যায়ে ক্যাপ্টেন ক্লেটনও গভর্নর ড্রেকের সাথে পরামর্শের নাম করে আত্মরক্ষার্থে সব প্রতিজ্ঞা ভুলে দুর্গ থেকে পালিয়ে যান। তাই ব্যঙ্গার্থে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
181 সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রীর নাম কী? [Dhaka · 2017]
উত্তর সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রীর নাম লুৎফুন্নেসা।
182 ‘শুভ কাজে অযথা বিলম্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়’- ব্যাখ্যা করো। [Dhaka · 2017]
উত্তর নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের এক পর্যায়ে নিজেদের ভাগ- বাটোয়ারা হিসেব করতে গিয়ে মিরজাফর প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছিল।
নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য তার সিপাহসালার ও কোম্পানির প্রতিনিধিরা মিরনের বাসগৃহে একত্রিত হয়েছিল। যুদ্ধে ক্লাইভ বিজয়ী হলে কে কতটা ভাগ পাবে তা নিয়ে দলিল তৈরি করেছিল তারা। কিন্তু দলিলে সই করতে গিয়ে তারা তর্কে জড়িয়ে পড়ে। তখন কালবিলম্ব না করে দলিলে সই করার মাধ্যমে নিজ স্বার্থকে পাকাপোক্ত করার জন্য মিরজাফর আলোচ্য উক্তিটি করে। 183 সিরাজউদ্দৌলাকে কে হত্যা করেন?
[Barisal · 2017] উত্তর
সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করেন মোহাম্মদি বেগ। 184 ‘দওলত আমার কাছে ভগবানের দাদামশায়ের চেয়ে বড়’- উক্তিটির দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
[Barisal · 2017] উত্তর
‘দওলত আমার কাছে ভগবানের দাদামশায়ের চেয়ে বড়’- উক্তিটি দ্বারা উমিচাঁদের অর্থলোলুপ মানসিকতার দিকটি বোঝানো হয়েছে। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার অমাত্যদের অধিকাংশই ছিল অর্থলোভী ও বিশ্বাসঘাতক। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থলোভী ছিল উমিচাঁদ। অর্থের জন্য সে একেক সময় একেকজনের পক্ষ নিত। ঘসেটি বেগমের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে উমিচাঁদ জানায় যে সে দওলতের পূজারি। কারণ দওলত বা অর্থ তার কাছে ভগবানের দাদামশায়ের চেয়েও বড়। 185
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে কতটি অঙ্ক রয়েছে? [Barisal · 2017]
উত্তর ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে চারটি অঙ্ক রয়েছে। 186
ঘসেটি বেগম কেন সিরাজের ধ্বংস কামনা করেন? [Barisal · 2017]
উত্তর সিরাজউদ্দৌলার প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে অর্থ ও ক্ষমতার লোভে ঘসেটি বেগম তাঁর ধ্বংস কামনা করেন। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সরিয়ে যারা অর্থ ও ক্ষমতা লাভের জন্য ষড়যন্ত্র করছিল, তাদের সঙ্গে ছিলেন ঘসেটি বেগম। রাজকার্য পরিচালনার লোভে তিনি সিরাজউদ্দৌলার ভাই একরামউদ্দৌলাকে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ছেলেটি অকালে মৃত্যুবরণ করায় অংকুরেই বিনষ্ট হয়েছিল তাঁর স্বপ্ন। আবার হোসেন কুলি খাঁ নামক এক ব্যক্তির সঙ্গে ঘসেটির অনৈতিক সম্পর্ক ছিল, যাঁকে আলিবর্দি খানের নির্দেশে হত্যা করেন সিরাজউদ্দৌলা। এসব কারণে সিরাজের প্রতি আক্রোশ থেকে ঘসেটি বেগম তাঁর ধ্বংস কামনা করতেন।
187 সিরাজউদ্দৌলার মায়ের নাম কী?
[Jessore · 2017] উত্তর সিরাজউদ্দৌলার মায়ের নাম- আমিনা বেগম।
188 “ফরাসিরা ডাকাত আর ইংরেজরা অতিশয় সজ্জন ব্যক্তি, কেমন?”- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
[Jessore · 2017] উত্তর ফরাসিরা আর ইংরেজরা এদেশে এসেছে মূলত বাণিজ্য করার নামে অবাধ লুণ্ঠন করতে, কেউ সজ্জন ব্যক্তি নন, তাদের লক্ষ্য অভিন্ন, সিরাজউদ্দৌলা একথাই বোঝাতে চেয়েছেন।
ইংরেজরা নবাব সিরাজউদ্দৌলার নিষেধ সত্ত্বেও ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায়। ইংরেজদের এই নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে নবাব ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ দখল করে নেন এবং ওয়াটস ও হলওয়েলকে বন্দি করেন। বন্দিদের কাছে নবাবের নির্দেশ অমান্যের কারণ জানতে চাইলে হলওয়েল জানায়, তারা ফরাসিদের কাছ থেকে আত্মরক্ষার জন্য দুর্গ নির্মাণ করছিল। হলওয়েলের এ কথার প্রেক্ষিতে নবাব কটাক্ষ করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন। 189
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে কতটি অঙ্ক রয়েছে? [Jessore · 2017] উত্তর
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে চারটি অঙ্ক রয়েছে। 190
‘ভিকটরি অর ডেথ, ভিকটরি অর ডেথ’- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো। [Jessore · 2017] উত্তর
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে ক্যাপ্টেন ক্লেটন সৈনিকদের মনোবল বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন- ‘ভিকটরি অর ডেথ, ভিকটরি অর ডেথ।’ ১৭৫৬ সালের ১৯শে জুন ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে বাঙালিদের সঙ্গে ইংরেজদের যুদ্ধ হচ্ছিল। নবাব সিরাজউদ্দৌলার সৈন্যদের কাছে ইংরেজরা পরাজিত হয়ে পড়ছিল। তাদের উৎসাহ দিতে ক্লেটন আলোচ্য কথাটি বলেছিলেন। কারণ তাঁর মতে যুদ্ধে জয়লাভ অথবা মৃত্যুবরণ, এটাই ব্রিটিশ সৈনিকদের প্রতিজ্ঞা।
191 সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারীর নাম কী? [Dinajpur · 2017]
উত্তর সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারীর নাম মোহাম্মদি বেগ।
192 ‘ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা’- কে, কেন এ কথা বলেছেন? [Dinajpur · 2017]
উত্তর উমিচাঁদ ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের পতন দেখে হলওয়েলকে উদ্দেশ্য করে ব্যাঙ্গার্থে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিল।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ব্রিটিশ সিংহ হলেন ক্যাপ্টেন ক্লেটন। ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে ইংরেজ সৈন্যরা নবাব সৈন্যদের আক্রমণের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়লে ক্যাপ্টেন মিনচিন, কাউন্সিলার ফাকল্যান্ড আর ম্যানিংহোম নৌকাযোগে দুর্গ থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। শেষ পর্যায়ে ক্যাপ্টেন ক্লেটনও গভর্নর ড্রেকের সাথে পরামর্শের নাম করে আত্মরক্ষার্থে সব প্রতিজ্ঞা ভুলে দুর্গ থেকে পালিয়ে যান। তাই উমিচাঁদ দুর্গ পতন প্রসঙ্কো হলওয়েলকে ব্যঙ্গার্থে এ কথা বলেছিলেন। 193 আত্মসমর্পণ করাই এখন যুক্তিসংগত’- উক্তিটি কার?
[Dinajpur · 2017] উত্তর
‘আত্মসমর্পণ করাই এখন যুক্তিসংগত’- এ উক্তিটি করেছেন হলওয়েল। 194 ’মতিঝিল ছেড়ে আমি এক পাও নড়ব না’- উক্তিটিতে ঘসেটি বেগমের কোন মানসিকতা ফুটে উঠেছে?
[Dinajpur · 2017] উত্তর
মতিঝিল ছেড়ে আমি এক পাও নড়ব না’- উক্তিটিতে ঘসেটি বেগমের ক্রোধ ও ঔদ্ধত্য ফুটে উঠেছে। মতিঝিলে ঘসেটি বেগমের বাড়িতে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে। ষড়যন্ত্র চলছিল। নবাব সেখানে উপস্থিত হয়ে মতিঝিলের জলসা ভেঙে দেন এবং ঘসেটি বেগমকে তার প্রাসাদে যেতে নির্দেশ দেন। কিন্তু ঘসেটি বেগম তা মানতে নারাজ। তাই নবাবের প্রতি ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে সে বলে, ‘মতিঝিল ছেড়ে আমি এক পাও নড়ব না।’ 195
মোহনলালের তথ্য মতে, নবাব সিরাজউদ্দৌলার সৈন্য সংখ্যা কত? [Sylhet · 2017]
উত্তর মোহনলালের তথ্য মতে, নবাব সিরাজউদ্দৌলার সৈন্য সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। 196
ঘসেটি বেগম নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে অভিসম্পাত করলেন কেন? [Sylhet · 2017]
উত্তর ঘসেটি বেগম নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন প্রত্যাশা করতেন বলে তাঁকে অভিসম্পাত করলেন। ঘসেটি বেগম রাষ্ট্রদ্রোহিতা করছিলেন। কিন্তু সম্পর্কে খালা হওয়ায় নবাব সিরাজউদ্দৌলা ঘসেটি বেগমের প্রতি যথেষ্ট কঠোর হতে পারছিলেন না। তাই নবাব দেশকে রক্ষা করার জন্য ঘসেটি বেগমকে তাঁর প্রাসাদে রাখতে চাইলেন। এটা এক অর্থে ঘসেটি বেগমের কাছে বন্দিত্ব। সিরাজউদ্দৌলাকে উৎখাত করে ক্ষমতা প্রাপ্তির বদলে নিজেই বন্দি হচ্ছেন দেখে তিনি অভিশাপ দিয়েছিলেন সিরাজউদ্দৌলার প্রাসাদ যেন বাজ পড়ে খানখান হয়ে যায়।
197 নবাব সিরাজউদ্দৌলার পূর্ণ নাম কী?
[Sylhet · 2017] উত্তর নবাব সিরাজউদ্দৌলার পূর্ণ নাম- মির্জা মুহাম্মদ সিরাজউদ্দৌলা।
198 ‘ওর কাছে সব কিছুই যেন বড় রকমের জুয়ো খেলা’- কার কাছে, কেন?
[Sylhet · 2017] উত্তর রবার্ট ক্লাইভ স্বার্থের প্রয়োজনে যেকোনো ঝুঁকি নিতে পারত বলে নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন।
নবাব সিরাজউদ্দৌলার ভাষ্যমতে, ক্লাইভ ছিল সাংঘাতিক লোক। মতলব হাসিল করার জন্য যেকোনো পরিস্থিতিতে সে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারত। খেলায় জিততে হলে জুয়াড়ি যেমন সর্বস্থ বাজি ধরতে পারে এবং যেকোনো উপায়ে জিতেই ছাড়ে, ক্লাইভও তেমনি এক ভয়ংকর ব্যক্তি ছিল। নবাবের এ দৃষ্টিভঙ্গি ভুল প্রমাণিত হয়নি। ক্লাইভ এত বেশি অর্থলোভী ছিল যে একটি দেশের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতেও দ্বিধান্বিত হয়নি সে। তার লোভ ও আগ্রাসী মনোভাবের কারণেই নবাবের নেতৃত্বাধীন বাংলা করুণ পরিণতির দিকে ধাবিত হয়। 199
মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতা থেকে সিকান্দার আবু জাফর কোন পত্রিকা সম্পাদনা করেন? [Comilla · 2017] উত্তর
মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতা থেকে সিকানদার আবু জাফর ‘সাপ্তাহিক অভিযান’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 200
“আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভীড়”- উক্তিটির তাৎপর্য লেখো। [Comilla · 2017] উত্তর
‘আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়’- উক্তিটিতে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বেদনাভারাক্রান্ত ও অসহায় মনের সংকট প্রকাশ পেয়েছে। শাসনকার্য পরিচালনার শুরু থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলা চিন্তা ও কাজের মাঝে বাধা পেয়েছেন। ঘরে বাইরে ষড়যন্ত্র নবাবের শাসনকার্য পরিচালনায় প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাই ঘরে, বাইরে, দরবারে, সবখানে তাঁর মনে হয়েছে শুধু প্রতিবন্ধকতার দেয়াল। আর এই দেয়ালগুলো তাঁর অস্তিত্বকে সংকটে ফেলেছে, যা আলোচ্য উক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে।
201 রাইসুল জুহালার প্রকৃত নাম কী? [Comilla · 2017]
উত্তর রাইসুল জুহালার প্রকৃত নাম নারাণ সিং।
202 “… সবাই মিলে সত্যিই আমরা বাংলাকে বিক্রি করে দিচ্ছি না তো?” বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। [Comilla · 2017]
উত্তর ক্লাইভের দলিলে স্বাক্ষর দিতে গিয়ে মিরজাফর নিজের মনের শঙ্কা প্রকাশ করে এ কথা বলেছিল।
নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মেলায় মিরজাফরসহ নবাবের পারিষদবর্গের বেশ কয়েকজন। ষড়যন্ত্রের জন্য নিজেদের মধ্যে সমঝোতার দলিল তৈরি করেন লর্ড ক্লাইভ। ক্লাইভ এ দলিলে সই করতে বললে মিরজাফর উদ্বিগ্ন হয়। তার মনে হয়, নিজেদের স্বার্থের জন্য দেশের চূড়ান্ত ক্ষতি সাধন করছে না তো তারা? প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে মিরজাফরের সে আশঙ্কাই ফুটে উঠেছে। 203 নবাব আলিবর্দি খাঁর প্রিয়পাত্র কে ছিলেন?
[Chittagong · 2017] উত্তর
নবাব আলিবর্দি খাঁর প্রিয়পাত্র ছিলেন মিরজাফর। 204 ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি কেন সিপাহসালারের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন?
[Chittagong · 2017] উত্তর
নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটস সিপাহসালারদের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন। মিরন, রায়দুর্লভ, জগৎশেঠ, মিরজাফর প্রমুখ নবাবের সিপাহসালারবৃন্দ একত্র হয়েছিলেন সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ক্লাইভ ও ওয়াটস সেখানে গিয়েছিলেন। ক্লাইভ সেখানে গিয়েছিলেন দলিল করে সব ষড়যন্ত্র পাকাপোক্ত করার জন্য। 205
রাইসুল জুহালার প্রকৃত নাম কী? [Chittagong · 2017]
উত্তর রাইসুল জুহালার প্রকৃত নাম নারাণ সিং। 206
“ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব” বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [Chittagong · 2017]
উত্তর প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি দ্বারা নবাব সিরাজউদ্দৌলার অমাত্যবর্গের বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি বোঝানো হয়েছে। ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে রাজ অমাত্যগণ নবাব সিরাজউদ্দৌলার কর্তৃত্ব রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করবেন বলে পবিত্র গ্রন্থ নিয়ে শপথ করেছিলেন। কিন্তু নবাবকে পরাজিত করতে গোপনে অনেকেই ষড়যন্ত্র করেছিলেন ইংরেজদের সাথে, যা তাদের কর্মকাণ্ডে প্রকাশ পেয়েছে। অমাত্যবর্গের এই বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি প্রশ্নোক্ত মন্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে।
207 ‘ক্লাইভের গাধা’ কে?
[Rajshahi · 2017] উত্তর ‘ক্লাইভের গাধা’ হচ্ছে মিরজাফর।
208 সিরাজউদ্দৌলার পতন হলে কে কত টাকা পাবে বলে দলিলে সই হয়?
[Rajshahi · 2017] উত্তর সিরাজউদ্দৌলার পতন হলে কোম্পানি এক কোটি, কলকাতার বাসিন্দারা সত্তর লক্ষ এবং ক্লাইভ দশ লক্ষ টাকা পাবেন বলে চুক্তি হয়।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ষড়যন্ত্রকারীরা ক্লাইভের সঙ্গে চুক্তি করে। এ নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কের তৃতীয় দৃশ্যে ক্লাইভের আনা দলিলে বিশ্বাসঘাতকেরা সই করে। চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পতন হলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এক কোটি টাকা পাবে। এছাড়া কলকাতার বাসিন্দারা ক্ষতিপূরণ বাবদ পাবে সত্তর লক্ষ টাকা এবং ক্লাইভ সাহেব পাবেন দশ লক্ষ টাকা। অন্যদের টাকা সম্পর্কে নাটকে উল্লেখ করা না হলেও এ চুক্তিপত্রে জগৎশেঠ, রাজবল্লভ, মিরন সবাই স্বাক্ষর করে। 209
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের শেষ সংলাপ কার? [Rajshahi · 2017] উত্তর
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের শেষ সংলাপ মোহাম্মদি বেগের। 210
‘এই অস্ত্র নিয়ে আমরা কাপুরুষ দেশদ্রোহীদের অবশ্যই দমন করতে পারব’- এখানে কোন অস্ত্রের কথা বলা হয়েছে এবং কেন? [Rajshahi · 2017] উত্তর
বিশ্বাসঘাতক ও দেশদ্রোহীদের দমনে দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতা রক্ষার সংকল্পই হয়ে উঠতে পারে প্রধান হাতিয়ার এই বিষয়টি বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে। পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর তিনি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। মুর্শিদাবাদে ফিরে দেশপ্রেমিক জনতাকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চান ইংরেজদের বিরুদ্ধে। এ সময় দেশের স্বাধীনতা রক্ষা নিয়ে অনেকেই আশাহত হয়ে পড়ে। অনেকেই বিশ্বাসঘাতকদের কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়। তখন উপস্থিত জনতাকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করার প্রয়াসে নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেন।
