BNG – AB S – Mashi Pishi

01 ছেলের মুখ দেখে পাষাণ নরম হয়- উক্তিটি কার?[ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ · 2026]

উত্তর ছেলের মুখ দেখে পাষাণ নরম হয়- উক্তিটি পিসির।

02 যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি- উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?[ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ · 2026]

উত্তর “যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি”- কথাটি দ্বারা দুর্বৃত্তদের আক্রমণ মোকাবিলায় মাসি-পিসি প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে।

‘মাসি-পিসি’ গল্পে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে আহ্লাদির ঠাঁই হয় মাসি-পিসির কাছে। লালসা-উন্মত্ত জোতদার ও দারোগার কুনজর পড়ে আহ্লাদির ওপর। তাই তারা গুন্ডা-বদমাশদের পাঠিয়ে মাসি-পিসির কাছ থেকে আহ্লাদিকে ছিনিয়ে নিতে চায়। মাসি-পিসি তাদের প্রতিরোধ করে। পুনরায় আক্রমণের ভয়ে কাঁথা-কম্বল চুবিয়ে রাখে ] এবং হাঁড়ি-কলসিতে জল ভরে রাখে। যাতে তারা রাতের অন্ধকারে ঘরে আগুন দিলে তা নিভাতে পারে। বঁটি আর দাও রাখে হাতের কাছেই। এভাবে যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি।

03 সালতি কী?[সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া · 2026]

উত্তর সালতি হলো শালকাঠ নির্মিত বা তালকাঠের সরু ডোঙ্গা বা নৌকা।

04 “বুড়ো রহমান ছলছল চোখে তাকায় আহ্লাদির দিকে।”- কেন? বুঝিয়ে লেখো।[সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া · 2026]

উত্তর “বুড়ো রহমান ছলছল চোখে তাকায় আহ্লাদির দিকে।”-উক্তিটির মাধ্যমে বলা হয়েছে যে বুড়ো রহমান ছলছল চোখে আহ্লাদির দিকে তাকায় তার মরে যাওয়া মেয়ের কথা মনে পড়ায়।
‘মাসি-পিসি’ গল্পে বুড়ো রহমানের মেয়ে আহ্লাদির চেয়ে বয়সে ছোট এবং রোগাটে ছিল। অবুঝ ছোট সেই মেয়েটি শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের ভয়ে সেখানে যেতে চাইত না; কান্নাকাটি করত। তবু মেয়ের ভালোর কথা ভেবে বুড়ো রহমান তাকে জোর করে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিলে মেয়েটি সেখানে মানসিক যন্ত্রণায় মারা যায়। ‘মাসি-পিসি’ গল্পে স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আহ্লাদিও শ্বশুরবাড়ি থেকে মাসি-পিসির কাছে চলে আসে। তাই আহ্লাদিকে দেখে বুড়ো রহমানের নিজের মেয়ের কথা মনে পড়ে এবং সে ছলছল চোখে আহ্লাদির দিকে তাকায়।

05 ‘মাসি-পিসি’ গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?[সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026]

উত্তর ‘মাসি-পিসি’ গল্পটি ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।

06 “যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি”- কেন?[সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম · 2026]

উত্তর “যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি”- কথাটি দ্বারা দুর্বৃত্তদের আক্রমণ মোকাবিলায় মাসি-পিসি প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে।
‘মাসি-পিসি’ গল্পে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে আহ্লাদির ঠাঁই হয় মাসি-পিসির কাছে। লালসা-উন্মত্ত জোতদার ও দারোগার কুনজর পড়ে আহ্লাদির ওপর। তাই তারা গুন্ডা-বদমাশদের পাঠিয়ে মাসি-পিসির কাছ থেকে আহ্লাদিকে ছিনিয়ে নিতে চায়। মাসি-পিসি তাদের প্রতিরোধ করে। পুনরায় আক্রমণের ভয়ে কাঁথা-কম্বল চুবিয়ে রাখে এবং হাঁড়ি-কলসিতে জল ভরে রাখে। যাতে তারা রাতের অন্ধকারে ঘরে আগুন দিলে তা নিভাতে পারে। বঁটি আর দাও রাখে হাতের কাছেই। এভাবে যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি।

07 মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম কী?[ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2025]

উত্তর • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

08 ঈষৎ তন্দ্রার ঘোরে শিউরে ওঠে আহ্লাদি’- কেন?[ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2025]

উত্তর • স্বামীর ঘরে ফিরে যাওয়ার কথা ভেবেই আহ্লাদি ঈষৎ তন্দ্রার ঘোরে শিউরে ওঠে।
• জগুর কাছে অত্যাচারের শিকার হয়ে আহ্লাদি মাসি-পিসির কাছে আশ্রয় নেয়। এখানেও তার নিজেকে নর্দমার মতো মনে হয়। কারণ পুরুষেরা তার দিকে খারাপ নজরে তাকায়। বিশেষ করে এলাকার গোকুল। তাকে নিয়ে মাসি-পিসির ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে। তাই সে ভাবে এর চেয়ে জগুর ঘরে ফিরে গেলেই ভালো। কিন্তু পরক্ষণেই জগুর অত্যাচারের কথা মনে হয়ে আহ্লাদি আঁতকে ওঠে। মূলত স্বামীর ঘরে ফিরে যাওয়ার কথা ভেবেই আহ্লাদি ঈষৎ তন্দ্রার ঘোরে শিউরে ওঠে।

09 মাসি-পিসির গলার আওয়াজ কেমন?[হলিক্রস কলেজ · 2025]

উত্তর • মাসি-পিসির গলার আওয়াজ একটু মোটা।

10 “বজ্জাত হোক, খুনে হোক, জামাই তো!”- বক্তব্যটি ব্যাখ্যা কর।[হলিক্রস কলেজ · 2025]

উত্তর • বাঙালি সমাজে জামাই যেমনই হোক না কেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে আদর-যত্ন করতে কমতি রাখে না- প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে এ কথাই প্রকাশিত হয়েছে।
• ‘মাসি-পিসি’ গল্পে আহ্লাদির স্বামী সব সময় আহ্লাদিকে নির্যাতন করত। তাই স্বামীর ওপর অতিষ্ঠ হয়ে সে বাবার বাড়িতে চলে আসে। আহ্লাদিকে নির্যাতন করার পরও যখন জগু শ্বশুরবাড়িতে আসে তখন মাসি-পিসি জামাইয়ের আদরে কমতি রাখে না। তারা ছাগল বিক্রি করে জামাইকে ভালো-মন্দ দশটা জিনিস খাইয়ে আদর-যত্ন করে। এ কারণে কৈলাশ যখন মাসি-পিসিকে আহ্লাদিকে ফেরত পাঠাতে বলে তখন মাসি-পিসি বলে, মেয়ে না পাঠালেও জামাই এলে তার আদর-যত্নের কমতি হবে না।

11 কৈলেশের সাথে জগুর কোথায় দেখা হয়?[সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া · 2025]

উত্তর • কৈলেশের সাথে জগুর চায়ের দোকানে দেখা হয়।

12 “কত দায়িত্ব তাদের, কত কাজ, কত ভাবনা।” উক্তিটি কী উপলক্ষ্যে করা হয়েছে?[সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া · 2025]

উত্তর • “কত দায়িত্ব তাদের, কত কাজ, কত ভাবনা।”- উক্তিটি করা হয়েছে মাসি-পিসির কর্মব্যস্ত জীবনে আহ্লাদিকে সযত্নে রক্ষা করার দায়িত্ববোধ থেকে।
• ‘মাসি-পিসি’ গল্পে মাসি ও পিসি খেয়ে না খেয়ে তাদের নিজেদের জীবনের পাশাপাশি আহ্লাদির জীবনের জন্যও সংগ্রাম করে যাচ্ছিল। পিতৃমাতৃহীন আহ্লাদি স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পিতৃগৃহে এসে তার মাসি ও পিসির কাছে আশ্রয় নেয়। তারপর থেকে নিজেদের ভরণপোষণ ও বেঁচে থাকার দায়িত্বের পাশাপাশি আহ্লাদির জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয় মাসি ও পিসিকে। আহ্লাদিকে খাইয়ে-পরিয়ে যত্নে রাখতে হবে, শ্বশুর বাড়ির অত্যাচার থেকে বাঁচাতে হবে, গাঁয়ের বজ্জাতদের নজর থেকে সামলে রাখতে হবে। এমনই কত কাজ তাদের! কত দায়িত্ব, কত ভাবনা! এ সম্পর্কেই আলোচ্য উক্তিটি করা হয়েছে।

13 ‘মাসি-পিসি’ গল্পে আহ্লাদির বাবা কী রোগে মারা গিয়েছিল?[আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ · 2025]

উত্তর • ‘মাসি-পিসি’ গল্পে আহ্লাদির বাবা মহামারি কলেরা রোগে মারা গিয়েছিল।

14 “নিজেকে তার ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।[আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ · 2025]

উত্তর • “নিজেকে তার ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে।”-লালসা-উন্মত্ত পুরুষের দৃষ্টি আহ্লাদির ওপর পড়ায় তার যে মনোভাব সৃষ্টি হয়, উক্তিটির মাধ্যমে তাই বোঝানো হয়েছে।
• ‘মাসি-পিসি’ গল্পে পিতৃমাতৃহীন আহ্লাদি স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পিতৃগৃহে তার পিসি ও মাসির কাছে আশ্রয় নেয়। তারা ছাড়া আহ্লাদির আর আপন বলতে কেউ নেই। দরিদ্র জীবনেও মাসি-পিসি তাকে পরম যত্নে আগলে রাখে। তরুণ বয়সি আহ্লাদির ওপর সমাজের লালসা-উন্মত্ত জোতদার, গুন্ডা-বদমাশসহ অনেকেরই দৃষ্টি রয়েছে। এছাড়া সে যেখানেই যায় না কেন সেখানেই যেন হীন চরিত্রের পুরুষেরা তার দিকে লালসার দৃষ্টিতে তাকায়। সেসব কথা মনে পড়ায় আহ্লাদির মনের মধ্যে প্রশ্নোক্ত ভাবের উদয় হয়।

15 কী উপলক্ষ্যে মাসি-পিসি উপোস ছিল?[ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ · 2025]

উত্তর • শুক্লপক্ষের একাদশী উপলক্ষ্যে মাসি-পিসি উপোস ছিল।

16 “যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি”- উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?[ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ · 2025]

উত্তর “যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি”- কথাটি দ্বারা সমাজপতিদের অত্যাচার থেকে আহ্লাদিকে রক্ষা করা এবং আসন্ন বিপদ থেকে বাঁচার জন্য মাসি-পিসির পরিকল্পনা ও কর্মতৎপরতাকে বোঝানো হয়েছে।
• ‘মাসি-পিসি’ গল্পে লালসা-উন্মত্ত জোতদার ও দারোগার কুনজর পড়ে আহ্লাদির ওপর। তাই তো তারা গুন্ডা-বদমাশদের পাঠিয়ে মাসি-পিসির কাছ থেকে আহ্লাদিকে ছিনিয়ে নিতে চায়। মাসি-পিসি তাদেরকে কৌশল ও সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ করে। তারা আবার আক্রমণের ভয়ে কাঁথা-কম্বল পানিতে চুবিয়ে ভিজিয়ে রাখে এবং হাঁড়ি-কলসিতে জল ভরে রাখে। কেননা তারা আবার ঘরে আগুন দিতে পারে। বঁটি আর দা রাখে হাতের কাছেই। শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি।

17 “খুনসুটি রাখো দিকি কৈলেশ তোমার।”- উক্তিটি কার?[সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ, যশোর · 2025]

উত্তর • ‘খুনসুটি রাখো দিকি কৈলেশ তোমার।”- উক্তিটি মাসির।

18 মেয়ে যদি স্বামীর ঘরে না যেতে চায় খুন হওয়ার ভয়ে?- ব্যাখ্যা কর।[সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ, যশোর · 2025]

উত্তর • মেয়ে যদি স্বামীর ঘরে না যেতে চায় খুন হওয়ার ভয়ে?-কথাটি মাসি বলেছে কৈলেশকে।
• আহ্লাদির স্বামী জগু পাষণ্ড হৃদয়ের মানুষ। সে আহ্লাদিকে পাশবিক নির্যাতন করায় আহ্লাদি মাসি-পিসির কাছে আশ্রয় নেয়। জগুর অত্যাচার থেকে রক্ষার জন্য মাসি-পিসি তাকে আর স্বামীর বাড়িতে পাঠাবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়। জগু কৈলেশকে দিয়ে খবর পাঠায়, বউকে নিয়ে যেতে না দিলে সে মামলা করবে। মামলার কথা শুনে মাসি-পিসি একটু ঘাবড়ে যায় এবং মাসি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।

19 মাসি-পিসি’ গল্পের চৌকিদারের নাম কী?[ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2025]

উত্তর ‘মাসি-পিসি’ গল্পের চৌকিদারের নাম কানাই।

20 “সে-ই এখানকার কর্তা, সে-ই সর্বেসর্বা।” কার সম্পর্কে উক্তিটি করা হয়েছে?[ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2025]

উত্তর • “দুর্ভিক্ষ কোনোমতে ঠেকিয়েছিল তার বাপ।”- এখানে আহ্লাদির বাবার দুর্ভিক্ষ ঠেকানোর মর্মস্পশী বেদনাটি ব্যক্ত হয়েছে।
• আহ্লাদির বর্তমানে মায়ের বোন মাসি আর বাপের বোন পিসি ছাড়া কেউ নেই। নিরাশ্রয় দুই বিধবা আহ্লাদির পরিবারের সাথেই থাকত। এমনিতেই দরিদ্র পরিবার, তার ওপর দুর্ভিক্ষ এলে নিদারুণ কষ্টে পড়ে তারা। তখন আহ্লাদির বাবা আহ্লাদির মাসি-পিসির থাকাটা বরাদ্দ রেখে যাওয়া ছাঁটাই করে দেয়, কেননা নিজেদেরই বিষম আস্থা, খাদ্যের অভাবে বাঁচে কি বাঁচে না। এভাবে তার বাপ দুর্ভিক্ষ কোনোমতে ঠেকিয়েছিল। তবে মহামারি কলেরায় তার বাবা-মা আর ভাই মারা যায়। এ প্রসঙ্গেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

21 ‘মাসি-পিসি’ গল্পে কোন লোকটা মাসি-পিসির অচেনা?[বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ · 2025]

উত্তর ‘মাসি-পিসি’ গল্পে মাথায় লাল পাগড়ি আঁটা লোকটা মাসি-পিসির অচেনা।

22 “ঈষৎ তন্দ্রার ঘোরে শিউরে ওঠে আহ্লাদি”- কেন?[বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ · 2025]

উত্তর • সংসারে নিজের অবস্থান এবং অত্যাচারী স্বামীর ঘরে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কায় ঈষৎ তন্দ্রার ঘোরেও আহ্লাদি শিউরে ওঠে।
• আহ্লাদির স্বামী জগু তাকে পুনরায় ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়। এমতাবস্থায় আহ্লাদি একবার স্বামীগৃহে যাওয়ার কথা ভাবে। কিন্তু পরক্ষণেই মাতাল স্বামীর ভয়াবহ ও নির্দয় অত্যাচারের কথা মনে করে সে শিউরে ওঠে। এসময় তার মনে হয়, এমন অমানবিক পরিস্থিতিতে মাসি-পিসিকে ছাড়া সে বাঁচতে পারবে না। এমন সব আশঙ্কায় ঈষৎ ঘুমের ঘোরে আহ্লাদি শিউরে ওঠে।

23 আহ্লাদির স্বামীর নাম কী?[আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল · 2025]

উত্তর • আহ্লাদির স্বামীর নাম জগু।

24 মাসির ওপর পিসির একটা অবজ্ঞার ভাব ছিল কেন?[আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল · 2025]

উত্তর • পিসির বাপের বাড়িতে মাসি এসেছে আশ্রিত হয়ে- এই ভেবে মাসির প্রতি পিসির একটা অবজ্ঞার ভাব ছিল।
• মাসি-পিসি দুজনেই বিধবা। তাছাড়া দুজনের বয়স এক এবং তারা এক ঘরেই থাকে। তা সত্ত্বেও পিসি অন্তত তার বাপের বাড়িতে থাকে। আর সেখানে মাসি থাকে অনেকটা উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো। তাই নিজের শক্ত অবস্থানের কথা ভেবে মাসির প্রতি পিসির একটা অবজ্ঞার ভাব ছিল।

25 বাজারের তোলা নিয়ে মাসি-পিসির কার সঙ্গে ঝগড়া হয়?[Chittagong · 2025]

উত্তর বাজারের তোলা নিয়ে মাসি-পিসির ঝগড়া হয় সরকারবাবুর সঙ্গে।

26 “হাতে দুটো পয়সা এলে তোমারও স্বভাব বিগড়ে যায় কৈলেশ।”- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।[Chittagong · 2025]

উত্তর “হাতে দুটো পয়সা এলে তোমারও স্বভাব বিগড়ে যায় কৈলেশ।” ‘মাসি-পিসি’ গল্পে কৈলাশ সম্পর্কে পিসি এ উক্তিটি করেছে।

মাসি-পিসি’ গল্পে অপ্রধান চরিত্র কৈলাশ। সে মাসি-পিসির কাছে আহ্লাদির স্বামী জগ্ন সম্পর্কে কথা বলতে আসে। কথা প্রসঙ্গে উঠে আসে যে চায়ের দোকানে জগুর সাথে তার দেখা হয়েছে। চায়ের দোকান না কীসের দোকান তা বুঝতে বাকি থাকে না মাসি-পিসির। কারণ হাতে টাকা-পয়সা এলে জগুর মতো কৈলাশেরও স্বভাব বিগড়ে যায়। সে নেশাপানি করে সব উড়িয়ে দেয়। তাই তার সম্পর্কে পিসি এ মন্তব্যটি করে।

27 ‘সালতি’ কী?[Sylhet · 2025]

উত্তর ‘সালতি’ হচ্ছে শালকাঠ নির্মিত বা তালকাঠের সরু ডোঙা বা নৌকা।

28 “মরণ ঠেকাতেই ফুরিয়ে আসছে তাদের জীবনীশক্তি”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।[Sylhet · 2025]

উত্তর “মরণ ঠেকাতেই ফুরিয়ে আসছে তাদের জীবনীশক্তি।”- উক্তিটি দ্বারা লেখক দুর্ভিক্ষের সময় মাসি-পিসির জীবনীশক্তি ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে নির্দেশ করেছেন।

‘মাসি-পিসি’ গল্পে দুর্ভিক্ষ-মহামারির সময় আহ্লাদি পিতা-মাতার মৃত্যুর পর বিধবা নিঃস্ব মাসি-পিসির আশ্রয়ে বেঁচে থাকে। অভাবের কারণে তারা তখন খাবার পেলে খায়, আর খাবার না পেলে না খেয়েই থাকে। না খেয়ে চারদিকে তখন মানুষ মরতে শুরু করেছে। সেই মরণ ঠেকাতে মাসি-পিসি বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালাতে থাকে। মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম যে চাহিদা খাদ্য তা -থেকেও তারা বঞ্চিত। তখন মাসি-পিসির অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। কোনোভাবেই তারা খাদ্যের সংস্থান করতে পারছিল না। দুর্ভিক্ষের মর্মস্পর্শী এই স্মৃতি নিয়ে মাসি-পিসি পরে সালতি বেয়ে গ্রাম থেকে তরিতরকারি ও ফলমূল নিয়ে শহরে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের সংগ্রাম শুরু করে।

29 সালতি কী?[Barisal · 2025]

উত্তর সালতি হলো শালকাঠ নির্মিত বা তালকাঠের সরু ডোঙা বা নৌকা।

30 “যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি”-সপ্রসঙ্গ ব্যাখ্যা কর।[Barisal · 2025]

উত্তর “যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি”- কথাটি দ্বারা দুর্বৃত্তদের আক্রমণ মোকাবিলায় মাসি-পিসি প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে।
‘মাসি-পিসি’ গল্পে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে আহ্লাদির ঠাঁই হয় মাসি-পিসির কাছে। লালসা-উন্মত্ত জোতদার ও দারোগার কুনজর পড়ে আহ্লাদির ওপর। তাই তারা গুন্ডা-বদমাশদের পাঠিয়ে মাসি-পিসির কাছ থেকে আহ্লাদিকে ছিনিয়ে নিতে চায়। মাসি-পিসি তাদের প্রতিরোধ করে। পুনরায় আক্রমণের ভয়ে কাঁথা-কম্বল চুবিয়ে রাখে এবং হাঁড়ি-কলসিতে জল ভরে রাখে। যাতে তারা রাতের অন্ধকারে ঘরে আগুন দিলে তা নিভাতে পারে। বঁটি আর দাও রাখে হাতের কাছেই। এভাবে যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি।

31 মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম কী?[Mymensingh · 2025]

উত্তর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

32 “বুড়ো রহমান ছলছল চোখে তাকায় আহ্লাদির দিকে।”- ব্যাখ্যা কর।[Mymensingh · 2025]

উত্তর “বুড়ো রহমান ছলছল চোখে তাকায় আহ্লাদির দিকে।”-উক্তিটির মাধ্যমে বলা হয়েছে যে বুড়ো রহমান ছলছল চোখে আহ্লাদির দিকে তাকায় তার মরে যাওয়া মেয়ের কথা মনে পড়ায়।

‘মাসি-পিসি’ গল্পে বুড়ো রহমানের মেয়ে আহ্লাদির চেয়ে বয়সে ছোট এবং রোগাটে ছিল। অবুঝ ছোট সেই মেয়েটি শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের ভয়ে সেখানে যেতে চাইত না; কান্নাকাটি করত। তবু মেয়ের ভালোর কথা ভেবে বুড়ো রহমান তাকে জোর করে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিলে মেয়েটি সেখানে মানসিক যন্ত্রণায় মারা যায়। ‘মাসি-পিসি’ গল্পে স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আহ্লাদিও শ্বশুরবাড়ি থেকে মাসি-পিসির কাছে চলে আসে। তাই আহ্লাদিকে দেখে বুড়ো রহমানের নিজের মেয়ের কথা মনে পড়ে এবং সে ছলছল চোখে আহ্লাদির দিকে তাকায়।

33 বুড়ো রহমানের মেয়ে কোথায় মারা গেছে?[Jessore · 2025]

উত্তর বুড়ো রহমানের মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে মারা গেছে।

34 “যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি।”- কেন?[Jessore · 2025]

উত্তর “যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি”- কথাটি দ্বারা দুর্বৃত্তদের আক্রমণ মোকাবিলায় মাসি-পিসি প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। ‘মাসি-পিসি’ গল্পে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে আহ্লাদির ঠাঁই হয় মাসি-পিসির কাছে। লালসা-উন্মত্ত জোতদার ও দারোগার কুনজর পড়ে আহ্লাদির ওপর। তাই তারা গুন্ডা-বদমাশদের পাঠিয়ে মাসি-পিসির কাছ থেকে আহ্লাদিকে ছিনিয়ে নিতে চায়। মাসি-পিসি তাদের প্রতিরোধ করে। পুনরায় আক্রমণের ভয়ে কাঁথা-কম্বল চুবিয়ে রাখে এবং হাঁড়ি-কলসিতে জল ভরে রাখে। যাতে তারা রাতের অন্ধকারে ঘরে আগুন দিলে তা নিভাতে পারে। বঁটি আর দাও রাখে হাতের কাছেই। এভাবে যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি।

35 কানাই আর গোকুলের পেয়াদায়া যেদিন মাসিপিসির বাড়িতে আসছিল সেদিন চান্দ্র মাসের কত তারিখ ছিল?[কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ · 2024]

উত্তর দ্বাদশী

36 ‘ ভাঁওতা দিয়ে আমাদের দমাবার ফিকির সব।’-উক্তিটির কারণ ব্যাখ্যা কর।[কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ · 2024]

উত্তর চালাকি করে যে মাসি-পিসিকে সবাই ভড়কে দিতে চায়, সে কথা বুঝতে পেরে মাসি এ কথা বলেছিল। আহ্লাদি স্বামীর অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য বাবার বাড়ি চলে আসে এবং মাসি-পিসির কাছে নিরাপদ আশ্রয় পায়। কিন্তু জগুর মামলা করার কথা বলে কৈলাশ তাদের ভয়ভীতি দেখায়। কৈলাশের কথায় আহ্লাদি কিছুটা দমে যায়। কিন্তু মাসি প্রকৃত ঘটনা উপলব্ধি করতে পেরে আহ্লাদিকে অভয় দিতে এমন মন্তব্য করেছিল।

37 মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম কী?[আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল · 2024]

উত্তর প্রবোধকুমার।

38 ‘নিজেদের বেঁচে থাকা শুধু নয়, তাদের দু’জনেরই এখন আহ্লাদি আছে”-উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।[আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল · 2024]

উত্তর উক্তিটি আহ্লাদির উপর মাসি পিসির দায়িত্বভার বোঝানো হয়েছে। কলেরায় মারা যাওয়া আহ্লাদীর একমাত্র মাসি পিসি ছাড়া দুনিয়াতে কেউ নাই। মাসি পিসি কষ্ট করে আহ্লাদীকে বিয়ে দিয়েছেন। আহ্লাদীর দেখাশোনা সবকিছুই এখন মাসি পিসির হাতে। এজন্য নিজেদের শুধু বেচে থাকা নয় মাসি পিসি এখন আহ্লাদীর উপর দায়িত্ব আছে অর্থাৎ দায়িত্ব আছে বোঝানো হয়েছে।

39 শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?[আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল · 2024]

উত্তর ২০১২ সালের জুনে

40 “মানুষের যখন পতন আসে তখন পদে পদে ভুল হতে থাকে”-উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।[আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল · 2024]

উত্তর মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় উন্নীত করার দাবিতে তল্কালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও এ ঘটনা ঘটেনি। এছাড়াও আন্দোলন দমানোর জন্য বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ নির্বিশেষে যেকোনো মানুষকেই তিনি অযথা গ্রেফতার করে নির্যাতন চালিয়েছেন।

মূলত মানুষ তার পতনের আগ মুহূর্তে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে একের পর এক ভুল করতে থাকে। বায়ান্নর দিনগুলো প্রবন্ধের লেখক সেই প্রসঙ্গেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

41 কে বাহকের মাথায় খড় চাপাতে ব্যস্ত ছিল?[রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা · 2024]

উত্তর কৈলাশ।

42 ‘যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি-কেন?[রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা · 2024]

উত্তর ষড়যন্ত্র করে আহ্লাদিকে গোকুল তুলে নিতে আসলে মাসি-পিসি তাদের কৌশলে প্রতিহত করে পরবর্তী আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য প্রস্তুত থাকার বিষয়টিকে ‘মাসি-পিসি’ গল্পের লেখক প্রদত্ত উক্তি দ্বারা বুঝিয়েছেন।

গোকুল আহ্লাদিকে অনৈতিকভাবে পেতে চায়। মাসি-পিসিকে সে ছলে-বলে-কৌশলে বশীভত করতে না পেরে কানাই চৌকিদারের মাধ্যমে মাসি-পিসিকে কাছারি বাড়ি পাঠিয়ে তার গুণ্ডা-বাহিনী দিয়ে তুলে নেওয়ার ফাঁদ পাতলে সংসার-অভিজ্ঞ মাসি-পিসি তা বুঝতে পারে এবং বঁটি ও রামদার ভয় দেখিয়ে এবং প্রতিবেশীদের ডেকে তাদের তাড়িয়ে দেয়। গুণ্ডা বাহিনী তাদের ঘরে আগুন দিতে পারে ভেবে জল ও ভেজা কাঁথার ব্যবস্থা করে রাখে, হাতের কাছে রাখে বঁটি আর দা। এভাবেই মাসি গুণ্ডাবাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

43 ‘জেলে নয় গেলাম কৈলেশ’— উক্তিটি কার?[ঢাকা কলেজ · 2024]

উত্তর ‘জেলে নয় গেলাম কৈলাশ’ উক্তিটি মাসির ।

44 ‘তাতেই জগুর প্রবল লোভ’ কীসের প্রতি জগুর লোভের কথা বলা হয়েছে?[ঢাকা কলেজ · 2024]

উত্তর প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা জগুর লোভী মানসিকতাকে বোঝানো হয়েছে দুর্ভিক্ষের সময় আহ্লাদির বাবা, মা ও ভাই মারা গেলে বাপের ঘরবাড়ি ও জমিজমার মালিক হয় আহ্লাদি। আহ্লাদিকে ফিরিয়ে নিলে জগু তার জমিজমার মালিক হয়ে যাবে। হোক তা সামান্য কিন্তু বিনা পয়সায় বিনা পরিশ্রমে অর্জিত সম্পত্তি জগু হাতছাড়া করতে চায় না। উল্লিখিত উক্তিটির মধ্য দিয়ে জগুর লোভী মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে ।

45 বুড়ো রহমানের মেয়ে কোথায় মারা গেছে?[সিলেট এমসি কলেজ · 2024]

উত্তর বুড়ো রহমানের মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে মারা যায় ।

46 রহমান কেন আহ্লাদির দিকে তাকিয়ে থাকে?- ব্যাখ্যা কর।[সিলেট এমসি কলেজ · 2024]

উত্তর :মৃত মেয়ের কথা মনে হওয়ায় বুড়ো রহমান আহ্লাদির দিকে তাকিয়ে থাকে ।

• ‘মাসি-পিসি’ গল্পে আহ্লাদি স্বামীর নির্যাতনের কারণে মাসি-পিসির আশ্রয়ে থাকছে। মাসি-পিসি যেখানেই যায় সেখানেই তাকে নিয়ে যায়। মাসি-পিসির নৌকায় আহ্লাদিকে দেখে বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে ওঠে। আহ্লাদির চেয়ে বয়সে ছোট মেয়েটাকে রহমান বিয়ে দিয়েছিল । স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য অবুঝ মেয়েটা শ্বশুরবাড়ি না যাওয়ার জন্য খুব কেঁদেছিল। তবুও তার ভালোর জন্যই বাবা জবরদস্তি করে শ্বশুরবাড়ি পাঠায়। পরে সে তার মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পায়। নিজের মৃত মেয়ের কথা মনে হওয়ায়, বুড়ো রহমান আহ্লাদির দিকে তাকিয়ে থাকে।

47 ‘বায়ান্নোর দিনগুলো’ রচনায় কোন পার্কের উল্লেখ রয়েছে?[সিলেট এমসি কলেজ · 2024]

উত্তর ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ রচনায় ভিক্টোরিয়া পার্কের উল্লেখ রয়েছে।

48 শেখ মুজিবুর রহমান ও মহিউদ্দিন আহমদ অনশন করেছিলেন কেন?[সিলেট এমসি কলেজ · 2024]

উত্তর ক্ষমতাসীন সরকারের অন্যায় ও নির্যাতনমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সহবন্দি মহিউদ্দিন সাহেব অনশন করেছিলেন । • ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ রচনায় ১৯৫২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেলজীবন ও জেল থেকে মুক্তি লাভের স্মৃতি,বিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সহবন্দি মহিউদ্দিন সাহেব ছিলেন তখন রাজবন্দি। সরকারের স্বৈরাচারী শাসন, জুলুম ও অন্যায় কাজের প্রতিবাদে তাঁদেরকে আটক করেছে। তাদের মতো আরও অনেক রাজনেতাকে সরকার বছরের পর বছর বিনাবিচারে আটক রাখছে। সরকারের এমন অন্যায় ও নির্যাতনমূলক কাজের প্রতিবাদ করার জন্যই তাঁরা ফরিদপুর জেলে থাকাবস্থায় অনশন করেছিলেন ।

49 হোগলা গাঁথা কী?[সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া · 2024]

উত্তর হোগলা গাঁথা শব্দের অর্থ জলাভূমিতে জাত লম্বাকৃতির তৃর্ণবিশেষ।

50 “নিজেকে তার ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে।”-ব্যাখ্যা করো।[সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া · 2024]

উত্তর নিজেকে তার ছ্যাচড়া, নোংরা, নর্দমার মত লাগে- কথাটি আহ্লাদিকে বোঝানো হয়েছে।

প্রতিটি মেয়ের শান্তি তার স্বামীগৃহে। কিন্তু আহ্লাদির মন্দ কপাল। বাবা-মা ছোট থাকতেই কলেরায় মারা গেছে। যাকে স্বামী হিসেবে বেছে নিয়েছে, সে বজ্জাত লোক। উঠতে বসতে অত্যাচার। তীব্র অত্যাচার ভয়ে মাসি পিসি তাকে তাদের কাছে রাখে। ফলে আহ্লাদি গরুর হাটে বেচাকেনার মত দামা দামি হয়। এজন্য আহ্লাদি নিজেকে ছ্যাচড়া, নোংরা, নর্দমা মনে করেন।

51 বাজারের তোলা নিয়ে মাসি-পিসির সঙ্গে কার ঝগড়া হয়?[Dhaka · 2024]

উত্তর বাজারের তোলা নিয়ে মাসি-পিসির সঙ্গে সরকার বাবুর ঝগড়া হয়।

52 “ফের আসুক, আদরে রাখব যদ্দিন থাকে।”- ব্যাখ্যা কর।[Dhaka · 2024]

উত্তর “ফের আসুক, আদরে রাখব যদ্দিন থাকে।”- কথাটি মাসি বলেছে কৈলাশকে আহ্লাদির স্বামী জগুর শ্বশুরবাড়ি আসা প্রসঙ্গে।
‘মাসি-পিসি’ গল্পে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে আহ্লাদির ঠাঁই হয় মাসি-পিসির কাছে। মাসি-পিসি দুজনই বিধবা ও নিঃস্ব। তা সত্ত্বেও তারা মাতৃস্নেহে আহ্লাদিকে আগলে রাখে অত্যাচারী স্বামী জগু এবং লালসা-উন্মত্ত জোতদার, দারোগা ও গুন্ডা-বদমাশদের আক্রমণ থেকে। যৌতুকলোভী জগু মাসি-পিসির কাছে কৈলাশের মাধ্যমে খবর পাঠায় আহ্লাদি সম্পর্কে। কৈলাশ জানায় যে জগু নেশা ছেড়ে দিয়েছে। সে আর আগের জগু নেই। এখন সে বউকে নিতে চায়। তাই কৈলাশ মাসি-পিসিকে বলে- “আমি বলি কী, নিজেরা যেচে এবার পাঠিয়ে দেও মেয়াকে।” তখন মাসি তাকে জানায়, পেট শুকিয়ে লাথি ঝাঁটা খেতে, কলকেপোড়া ছ্যাঁকা খেতে, খুঁটির সাথে দড়িবাঁধা হয়ে থাকতে তারা মেয়ে পাঠাবে না। তবে আহ্লাদির স্বামী যদি ফের আসে তাহলে তাকে তারা আদর-যত্ন করবে। কারণ বজ্জাত হোক, খুনে হোক, জামাই তো। প্রশ্নোক্ত কথাটিতে এটাই বোঝানো হয়েছে।

53 ‘মাসি-পিসি’ গল্পে আহ্লাদির বাবা কী রোগে মারা গিয়েছিল?[Comilla · 2024]

উত্তর ‘মাসি-পিসি’ গল্পে আহ্লাদির বাবা মহামারি কলেরা রোগে মারা গিয়েছিল।

54 “নিজেকে তার ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।[Comilla · 2024]

উত্তর “নিজেকে তার ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে।”- লালসা-উন্মত্ত পুরুষের দৃষ্টি আহ্লাদির ওপর পড়ায় তার যে মনোভাব সৃষ্টি হয়, উক্তিটির মাধ্যমে তাই রোঝানো হয়েছে।

‘মাসি-পিসি’ গল্পে পিতৃমাতৃহীন আহ্লাদি স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ. হয়ে পিতৃগৃহে তার পিসি ও মাসির কাছে আশ্রয় নেয়। তারা ছাড়া আহ্লাদির আর আপন বলতে কেউ নেই। দরিদ্র জীবনেও মাসি-পিসি তাকে পরম যত্নে আগলে রাখে। তরুণ বয়সি আহ্লাদির ওপর সমাজের লালসা-উন্মত্ত জোতদার, গুন্ডা-বদমাশসহ অনেকেরই দৃষ্টি রয়েছে। এছাড়া সে যেখানেই যায় না কেন সেখানেই যেন হীন চরিত্রের পুরুষেরা তার দিকে লালসার দৃষ্টিতে তাকায়। সেসব কথা মনে পড়ায় আহ্লাদির মনের মধ্যে প্রশ্নোক্ত ভাবের উদয় হয়।

55 ‘মাসি-পিসি’ গল্পে বর্ণিত বুড়ো লোকটির নাম কী?[Chittagong · 2024]

উত্তর ‘মাসি-পিসি’ গল্পে বর্ণিত বুড়ো লোকটির নাম রহমান।

56 “মরণ ঠেকাতেই ফুরিয়ে আসছে তাদের জীবনীশক্তি।”– উক্তিটির প্রাসঙ্গিকতা লেখ।[Chittagong · 2024]

উত্তর “মরণ ঠেকাতেই ফুরিয়ে আসছে তাদের জীবনীশক্তি।”- উক্তিটি দ্বারা দুর্ভিক্ষের সময় নিজেদের বেহাল অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।

‘মাসি-পিসি’ গল্পে স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা মাসি-পিসির স্থান হয় আহ্লাদির বাবার সংসারে। সেখানে টিকে থাকাটা তাদের জন্য সহজ ছিল না। এর ওর বাড়িতে এটা ওটা করে, শাক-পাতা কুড়িয়ে আর আহ্লাদির বাবার সহায়তায় কোনোমতে তাদের দিন কেটে যেত। গ্রামে হঠাৎ দুর্ভিক্ষ শুরু হলে আহ্লাদির বাবা বাধ্য হয়ে তাদের খাবার বন্ধ করে দেয়। এমতাবস্থায় নিজেদের বাঁচিয়ে রাখাই তাদের জন্য দায় হয়ে পড়ে। এই দারিদ্র্যের করুণ অবস্থা বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটির অবতারণা করা হয়েছে।

57 “ছেলের মুখ দেখে পাষাণ নরম হয়”- এখানে কার ছেলের কথা বলা হয়েছে?[Dinajpur · 2024]

উত্তর “ছেলের মুখ দেখে পাষাণ নরম হয়”- এখানে পিসির ছেলের কথা বলা হয়েছে।

58 “বুড়ো রহমান ছলছল চোখে তাকায় আহ্লাদির দিকে”- কেন? বুঝিয়ে দাও।[Dinajpur · 2024]

উত্তর বুড়ো রহমান ছলছল চোখে তাকায় আহ্লাদির দিকে; কারণ আহ্লাদিকে দেখে তার মরে যাওয়া মেয়ের কথা মনে পড়ে।

‘মাসি-পিসি’ গল্পে বুড়ো রহমানের মেয়ে আহ্লাদির চেয়ে বয়সে ছোট এবং রোগাটে ছিল। অবুঝ ছোট সেই মেয়েটি শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের ভয়ে সেখানে যেতে চাইত না; কান্নাকাটি করত। তবু মেয়ের ভালোর কথা ভেবে বুড়ো রহমান তাকে জোর করে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিলে মেয়েটি সেখানে মানসিক যন্ত্রণায় মারা যায়। ‘মাসি-পিসি’ গল্পে স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আহ্লাদিও শ্বশুরবাড়ি থেকে মাসি- পিসির কাছে চলে আসে। তাই আহ্লাদিকে দেখে বুড়ো রহমানের নিজের মেয়ের কথা মনে পড়ে এবং সে ছলছল চোখে আহ্লাদির দিকে তাকায়।

59 মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম কি ?[Jessore · 2023]

উত্তর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।  

60 “বুড়ো রহমান ছলছল চোখে তাকায় আহ্লাদির দিকে।” ব্যাখ্যা কর।[Jessore · 2023]

উত্তর আহ্লাদিকে দেখে তার নিজের মেয়ের কথা মনে হওয়ায় বুড়ো রহমান ছলছল চোখে তাকায় তার দিকে। 

আহ্লাদির চেয়ে বয়সে ছোট মেয়েটাকে রহমান বিয়ে দিয়েছিল। অবুঝ মেয়েটা শ্বশুরবাড়ি না যাওয়ার জন্য খুব কেঁদেছিল । কিন্তু তার    ভালোর জন্যই তাকে জোর-জবরদস্তি করে শ্বশুরবাড়ি পাঠায় রহমান। সেখানে গিয়ে অল্পদিন পরেই মেয়েটা মারা যায়। একই সমস্যার শিকার আহ্লাদিকে দেখে মেয়ের কথা মনে হওয়ায় বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে ওঠে।

61 ছেলের মুখ দেখে পাষাণ নরম হয়’—উক্তিটি কার? [Mymensingh · 2023]

উত্তর “ছেলের মুখ দেখে পাষাণ নরম হয়” – উক্তিটি পিসির।

62 আহ্লাদিকে দেখে বুড়ো রহমানের চোখ ছল ছল করে উঠে কেন?[Mymensingh · 2023]

উত্তর আহ্লাদির দিকে তাকিয়ে নিজের মেয়ের কথা মনে করে বৃদ্ধ রহমানের চোখ ছল ছল করে উঠে।

বৃদ্ধ রহমানের মেয়ে কিছুদিন আগে শ্বশুর-বাড়িতে মারা গেছে। মেয়েটি কিছুতেই শ্বশুরবাড়ি যেতে চায়নি, অনেক কেঁদেছে। তবু তার ভালোর কথা চিন্তা করে জোর করে তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। যদিও আহ্লাদির সাথে তার মেয়ের চেহারায় কোনো মিল নেই। বয়সেও সে ছিল আহ্লাদির থেকে ছোটো। তবুও আহ্লাদির ফ্যাকাসে চেহারায় সে তার নিজের মেয়ের ছাপ দেখতে পায়।

63 ‘মাসি-পিসি’ গল্পটির লেখক কে?[Rajshahi · 2023]

উত্তর ‘মাসি-পিসি’ গল্পটির লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

64 আহ্লাদি স্বামীর বাড়ি যেতে চায় না কেন?[Rajshahi · 2023]

উত্তর পাষণ্ড স্বামীর অত্যাচার, নির্যাতনের ভয়ে আহ্লাদি স্বামীর ঘরে যেতে চায় না। আহ্লাদির স্বামী জগু নেশাখোর, লম্পট। তার মধ্যে কোনো মানবিকতার ছোঁয়া নেই। সে অমানুষের মতো আহ্লাদিকে নির্যাতন করে। লাথি, ঝাঁটা, কলকেপোড়া ছ্যাঁকা, খুঁটির সাথে বেঁধে প্রহার করা -এভাবেই সে স্ত্রীকে নির্যাতন করে। যার জন্য আহ্লাদি স্বামীর ঘর ছাড়তে বাধ্য হয় এবং অত্যাচারের ভয়ে আবারও সেখানে যেতে চায় না।

65 ‘মাসি-পিসি’ গল্পে উল্লিখিত বাবুর নাম কী?[Dinajpur · 2022]

উত্তর ‘মাসি-পিসি’ গল্পে উল্লিখিত বাবুর নাম গোকুল ।

66 “মোরা নয় মরব।”-পিসির এ উক্তি কিসের ইঙ্গিত বহনকারী?-বুঝিয়ে দাও।[Dinajpur · 2022]

উত্তর প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে বদমায়েশ কানাই ও তার দলের বিরুদ্ধে | পিসির প্রতিবাদী চেতনা ও দৃঢ় মনোভাবের পরিচয় প্রকাশ পায় ।

‘মাসি-পিসি’ গল্পে মাসি ও পিসি দুজনেই বিধবা। তাঁরা আহ্লাদিকে আগলে রেখেছেন সকল লম্পটের কুদৃষ্টি থেকে। রাতের বেলা ষড়যন্ত্র করে কানাই ও তার দল মাসি ও পিসিকে কাছারিতে নিয়ে যেতে চাইলে | মাসি ও পিসি তার কুমতলব বুঝতে পারেন। কৌশলে কানাই ও তার দল আহ্লাদির কোনো ক্ষতি করতে পারে তা মাসি ও পিসি দুজনেই টের পান। তাই তাঁরাও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন কানাই ও তার দলের বিরুদ্ধে। মাসি ও পিসি রাতের বেলা কাছারিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তা বোঝা যায় পিসির প্রশ্নোক্ত উক্তিতে ।

67 হাতে দুটো পয়সা এলে কার স্বভাব বদলে যায়?[Chittagong · 2022]

উত্তর হাতে দুটো পয়সা এলে কৈলাশের স্বভাব বদলে যায় ।

68 আহ্লাদির দিকে তাকিয়ে বৃদ্ধ রহমানের চোখে জল আসে কেন? বুঝিয়ে দাও।[Chittagong · 2022]

উত্তর আহ্লাদিকে দেখে তার নিজের মেয়ের কথা মনে হওয়ায় বুড়ো রহমানের চোখে জল আসে । 

আহ্লাদির চেয়ে বয়সে ছোটো মেয়েটাকে রহমান বিয়ে দিয়েছিল। অবুঝ মেয়েটা শ্বশুরবাড়ি না যাওয়ার জন্য খুব কেঁদেছিল। কিন্তু তার ভালোর জন্যই তাকে জোর করে শ্বশুরবাড়ি পাঠায় রহমান। সেখানে গিয়ে অল্পদিন পরেই মেয়েটা মারা যায়। একই সমস্যার শিকার আহ্লাদিকে দেখে মেয়ের কথা মনে হওয়ায় বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে।

69 খুনসুটি রাখো দিকি কৈলেশ তোমার।’— উক্তিটি কার ?[Comilla · 2019]

উত্তর ‘খুনসুটি রাখো দিকি কৈলেশ তোমার’— উক্তিটি মাসির ।

70 ‘অতি সন্তর্পণে তারা বিছানা ছেড়ে ওঠে।’- কাদের সম্পর্কে এবং কেন বলা হয়েছে ?[Comilla · 2019]

উত্তর আহ্লাদি যেন ঘুম থেকে জেগে না যায় তাই মাসি-পিসি সতর্কতার সাথে বিছানা ছাড়ে বলে আলোচ্য উক্তিটি মাসি-পিসি সম্পর্কে করা হয়েছে ।

সাধু বৈদ্য ও ওসমানের দল আবার আসতে পারে এই আশঙ্কায় মাসি-পিসি রাত্রে সজাগ থাকার পরিকল্পনা করে এবং গুন্ডাদের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। তাদের এই প্রস্তুতির কারণে আহ্লাদির যেন ঘুমে ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্যই মাসি-পিসি সন্তর্পণে বিছানা ছাড়ে।

71 ‘সালতি’ কী?[Sylhet · 2019]

উত্তর ‘সালতি’ হলো শালকাঠে নির্মিত বা তালগাছের সরু ডোঙা।

72 ‘বুড়ো রহমান ছলছল চোখে তাকায় আহ্লাদির দিকে।’- কেন? বুঝিয়ে দাও[Sylhet · 2019]

উত্তর আহ্লাদিকে দেখে তার নিজের মেয়ের কথা মনে হওয়ায় বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে ওঠে।

আহ্লাদির চেয়ে বয়সে ছোটো মেয়েটাকে রহমান বিয়ে দিয়েছিল। অবুঝ মেয়েটা শ্বশুরবাড়ি না যাওয়ার জন্য খুব কেঁদেছিল । কিন্তু তার ভালোর জন্যই তাকে জোর করে শ্বশুরবাড়ি পাঠায় রহমান। সেখানে গিয়ে অল্পদিন পরেই তার মেয়ে মারা যায়। একই সমস্যার শিকার আহ্লাদিকে দেখে মেয়ের কথা মনে হওয়ায় বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে ওঠে।

 73 ‘মাসি-পিসি’ গল্পে চৌকিদারের নাম কী ?[Dinajpur · 2019]

উত্তর ‘মাসি-পিসি’ গল্পে চৌকিদারের নাম কানাই।

74 আহ্লাদিকে দেখে বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে ওঠে কেন ?[Dinajpur · 2019]

উত্তর আহ্লাদিকে দেখে তার নিজের মেয়ের কথা মনে হওয়ায় বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে ওঠে। 

আহ্লাদির চেয়ে বয়সে ছোটো মেয়েটাকে রহমান বিয়ে দিয়েছিল । অবুঝ মেয়েটা শ্বশুরবাড়ি না যাওয়ার জন্য খুব কেঁদেছিল। কিন্তু তার ভালোর জন্যই তাকে জোর করে শ্বশুরবাড়ি পাঠায় রহমান। সেখানে গিয়ে অল্পদিন পরেই তার মেয়ে মারা যায়। একই সমস্যার শিকার আহ্লাদিকে দেখে মেয়ের কথা মনে হওয়ায় বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে ওঠে

75 পাতাশূন্য শুকনো গাছটায়’ কারা বসেছে?[Barisal · 2019]

উত্তর ‘পাতাশূন্য শুকনো গাছটায়’ শকুনরা বসেছে।

76 ‘ছেলের মুখ দেখে পাষাণ নরম হয়।’ – এখানে ‘পাষাণ’ কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?[Barisal · 2019]

উত্তর প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে ‘পাষাণ’ শব্দটি দ্বারা নির্যাতক পুরুষের নিষ্ঠুর মানসিকতাকে বোঝানো হয়েছে। সন্তানের প্রতি পিতামাতা স্বভাবতই সংবেদনশীল হয়। অপত্যস্নেে বশবর্তী হয়ে কঠিন হৃদয়ের মানুষও আবেগে আপ্লুত হয়। আর তাই সন্তানের প্রতি স্নেহের কারণে স্ত্রী নির্যাতনকারী কঠিন হৃদয়ের পুরুষও অনেক সময় স্ত্রীর প্রতি যত্নশীল হয়। আলোচ্য উরিটিতে ‘পাষাণ’ শব্দটি দ্বারা স্ত্রীর প্রতি নির্দয় ও কঠিন মানসিকতার পুরুষদের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

77 মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম কী?[Sylhet · 2017]

উত্তর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম হলো প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

78 ‘নিজেকে তার ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে’- কার, কেন?[Sylhet · 2017]

উত্তর নিজেকে ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে ‘মাসি-পিসি’ গল্পের আহ্লাদির।

অত্যাচারী স্বামী জগুর ঘর থেকে আহ্লাদি তার মাসি-পিসির কাছে চলে আসে। কিন্তু এলাকার কিছু খারাপ লোক তার দিকে কুদৃষ্টিতে তাকায়। মাসি-পিসির সাথে বাজারে গেলে তারা তরিতরকারি কেনার মতো তাকেও করায়ত্ত করার জন্য মাসি-পিসির সাথে আলাপ জমায়। এ সকল কথা চিন্তা করে নিজেকে আহ্লাদির ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে।

79 মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত বছর বেঁচেছিলেন?[Comilla · 2017]

উত্তর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ৪৮ বছর বেঁচেছিলেন।

80 ‘যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি’- ব্যাখ্যা করো।[Comilla · 2017]

উত্তর প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মাসি-পিসির নানারকম প্রস্তুতির দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

‘মাসি-পিসি’ গল্পে রাতের বেলা দুশ্চরিত্র ও লোভী প্রতিবেশী গোকুল আহ্লাদিকে তুলে নিতে কয়েক জন গুন্ডা-বদমাসকে পাঠায়। কিন্তু মাসি- পিসির দা-বঁটি হাতে তুলে নিয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় গুণ্ডা-বদমাশদের তাড়িয়ে দেয়। কিন্তু তবুও এ কুচক্রীরা রাতে আবার আক্রমণ চালাতে পারে- এ আশঙ্কায় মাসি-পিসি নিরাপত্তার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখে। এ বিষয়টি বোঝাতে গল্পকার আলোচ্য উক্তিটি করেন।

81 “খুনসুটি রাখো দিকি কৈলেশ তোমার।”উক্তিটি কে করেছিলেন?

উত্তর উক্তিটি মাসির।

82 সালতি’শব্দের অর্থ কি?

উত্তর শালকাঠ নির্মিত বা তালকাঠের সরু ডোঙা বা নৌকা।

83 শকুনেরা উড়ে এসে কোথায় বসেছে?

উত্তর পাতাশূন্য শুকনো গাছটায় ।

84 মাসি-পিসি’ গল্পে চৌকিদারের নাম কী?

উত্তর কানাই ।

85 মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত বছর বেঁচে ছিলেন?

উত্তর ৪৮ বছর।

86 মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম কী?

উত্তর প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

87 মাসির শাশুড়ি ননদ কেমন ছিল?

উত্তর বাঘের মতো।

88 ‘মাসি-পিসি’ গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?

উত্তর কলকাতার ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় ।

89 ‘পাঁশুটে’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর ছাইবর্ণবিশিষ্ট বা ফ্যাকাশে।

90 ‘ব্যঞ্জন’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর রান্না করা তরকারি।

91 মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম কী?

উত্তর প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

92 মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম কী?

উত্তর ‘অতসীমামী’।

93 মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন কত সালে?

উত্তর ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ১৯ মে।

94 মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়ি কোথায়?

উত্তর ঢাকার বিক্রমপুরে।

95 মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কবে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর।

96 মাসি-পিসির মাঝখানে গুটিসুটি হয়ে কে বসে থাকে ?

উত্তর আহ্লাদি ।

97 আহ্লাদি কোন পর্যন্ত ঘোমটা টেনে দেয়?

উত্তর সিঁথির সিঁদুর পর্যন্ত ।

98 মাসি-পিসির গলার স্বর কেমন?

উত্তর ঝরঝরে।

99 কৈলাশের সঙ্গে অপুর কোথায় দেখা হয়েছিল?

উত্তর চায়ের দোকানে ।

100 “লোকটা কেমন বদলে গেছে মাসি”- কার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর অপুর কথা বলা হয়েছে।

101 “বজ্জাত হোক, খুনে হোক, জামাই তো”—কথাটি কার ছিল?

উত্তর কথাটি মাসির ছিল।

102 বুড়ো রহমান ছলছল চোখে কার দিকে তাকায়?

উত্তর আহ্লাদির দিকে।

103 আহ্লাদির ফেকাসে মুখে রহমান কার মুখের ছাপ দেখতে পায়?

উত্তর রহমান তার মৃত মেয়ের মুখের ছাপ দেখতে পায়।

104 “সোয়ামি নিতে চাইলে বউকে আটকে রাখার আইন নেই।” কথাটি কার? –

উত্তর কথাটি কৈলাসের।

105 আহ্লাদি কাদের সেবা-যত্নে সেবার বেঁচে গিয়েছিল?

উত্তর মাসি-পিসির।

106 কোথায় তরিতরকারি আর ফলমূলের দাম খুব চড়া?

উত্তর শহরের বাজারে।

107 “দুজনের হয়ে গেল একমন একপ্রাণ”-এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর মাসি-পিসির।

108 আহ্লাদির ভার কাদের ঘাড়ে পড়ল?

উত্তর মাসি-পিসির ।

109 কাকে শশুর ঘরের কবল থেকে বাঁচাতে হবে?

উত্তর আহ্লাদিকে ।

110 “ভাঁওতা দিয়ে আমাদের দমাবার ফিকির সব”- কথাটি কে কাকে বলে?

উত্তর কথাটি মাসি আহ্লাদিকে বলে।

111 আহ্লাদির নিজেকে কেমন লাগে?

উত্তর আহ্লাদির নিজেকে ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে।

112 কে মাসি-পিসিকে পাগল করে তুলেছে?

উত্তর গোকুল ।

113 বাজারের তোলা নিয়ে মাসি-পিসির কার সঙ্গে ঝগড়া হয়?

উত্তর সরকারবাবুর সঙ্গে।

114 পাতার ফাঁকে কার মাথায় জ্যোৎস্না পড়েছে?

উত্তর বৈদ্যের বাবরি চুলওয়ালা মাথায়।

115 সকলের নাম ধরে গলা ফাটিয়ে কারা হাঁক দেয়?

উত্তর মাসি-পিসি ।

116 কারা যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে?

উত্তর মাসি-পিসি ।

117 ‘বুড়ো রহমান ছলছল চোখে তাকায় আহ্লাদির দিকে।’- কেন? বুঝিয়ে দাও ।

উত্তর আহ্লাদিকে দেখে বুড়ো রহমানের অল্পদিন আগে মরে যাওয়া মেয়ের কথা মনে হয়।তাই বুড়ো রহমান ছলছল চোখে তাকায় আহ্লাদির দিকে।

118 ‘বুড়ো রহমান ছলছল চোখে তাকায় আহ্লাদির দিকে।’- কেন? বুঝিয়ে দাও ।

উত্তর আহ্লাদিকে দেখে বুড়ো রহমানের অল্পদিন আগে মরে যাওয়া মেয়ের কথা মনে হয়।তাই বুড়ো রহমান ছলছল চোখে তাকায় আহ্লাদির দিকে। বুড়ো রহমানের মেয়ে আহ্লাদির চেয়ে বয়সে ছোট এবং রোগাটে। অবুঝ ছোট সেই মেয়েটি শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের ভয়ে সেখানে যেতে চাইত না; কান্নাকাটি করত। তবু মেয়ের ভালোর কথা ভেবে বুড়ো রহমান তাকে জোর করে শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দিলে মেয়েটি সেখানে মারা যায়। স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আহ্লাদিও শ্বশুরবাড়ি থেকে মাসি-পিসির কাছে চলে আসে। তাই আহ্লাদিকে দেখে বুড়ো রহমানের নিজের মেয়ের কথা মনে পড়ে এবং সে ছলছল চোখে আহ্লাদির দিকে তাকায়।

119 “ছেলের মুখ দেখে পাষাণ নরম হয়,” এখানে ‘পাষাণ’ কথাটি দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে?

উত্তর “ছেলের মুখ দেখে পাষাণ নরম হয়”- এখানে ‘পাষাণ’ কথাটি দ্বারা কঠিন হৃদয়ের মানুষকে বোঝানো হয়েছে। ‘মাসি-পিসি’ গল্পের আহ্লাদি গর্ভবতী। তার স্বামী জগু খুব নিষ্ঠুর প্রকৃতির মানুষ। সে আহ্লাদিকে নানা রকম শারীরিক নির্যাতন করে। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আহ্লাদি মাসি-পিসির কাছে বাবার বাড়ি চলে আসে। তখন পিসি আহ্লাদিকে বুঝায় যখন তার সন্তান হবে তখন তার স্বামী আর তার ওপর নির্যাতন করবে না। কারণ সাধারণত সন্তানের মুখ দেখলে কঠিন হৃদয়ের মানুষও নরম হয়ে যায়। এখানে ‘পাষাণ’ কথাটি দ্বারা কঠিন হৃদয়ের মানুষকে বোঝানো হয়েছে।

120 ‘যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি’- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ‘যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি’- কথাটি দ্বারা আহ্লাদিকে রক্ষার জন্য মাসি-পিসির তৎপরতাকে বোঝানো হয়েছে। ‘মাসি-পিসি’ গল্পে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে আহ্লাদি আশ্রয় নেয় মাসি-পিসির কাছে। লালসা উন্মত্ত জোতদার ও দারোগার কুনজর পড়ে আহ্লাদির ওপর। তাই তো তারা গুন্ডা-বদমাশদের পাঠিয়ে মাসি-পিসির কাছ থেকে আহ্লাদিকে ছিনিয়ে নিতে চায়। মাসি-পিসি তাদের প্রতিরোধ করে। পুনরায় আক্রমণের ভয়ে কাঁথা-কম্বল চুবিয়ে রাখে এবং হাঁড়ি-কলসিতে জল ভরে রাখে। বঁটি আর দা রাখে হাতের কাছেই। যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি।যাতে তারা আবার আসলে তাদের সহজে প্রতিরোধ করতে পারে।

121 “নিজেকে তার ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে।”- কার, কেন?

উত্তর ‘নিজেকে তার ছ্যাচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে’- কথাটি আহ্লাদি তার নিজের অবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছে। স্বামীর অত্যাচার সইতে না পেরে আহ্লাদি তার মাসি-পিসির কাছে আশ্রয় নেয়।কিন্তু মাসি পিসির বাড়িতে আসলেও সে পথ খারাপ লোকজন থেকে রেহাই পায় না। বদ লোকজনের কুনজর তার ওপর পড়ে । তরিতরকারি কিনতে আসা মানুষজন তাকে পণ্যের সমতুল্য মনে করে। গাঁয়ের কিছু লোকের এমন মনোভাব বুঝতে পেরে আহ্লাদির মন খারাপ হয়। তার মনে হয় তার কোনো সম্মান নেই, ইচ্ছা-অনিচ্ছা নেই, কোনো স্বতন্ত্র সত্তা নেই। তাই নিজেকে তার ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো মনে হয়।

122 মাসি-পিসি কেন কানাই চৌকিদারের সাথে গেল না?

উত্তর তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে আহ্লাদিকে তুলে নিয়ে যেতে পারে ভেবে মাসি-পিসি কানাই চৌকিদারের সঙ্গে গেল না। হঠাৎ এক রাতে কানাইয়ের সঙ্গে গোকুলের তিনজন পেয়াদা এসে মাসি-পিসিকে কাছারিবাড়ি যেতে বলে। মাসি জানতে চায় তাদের দুজনের মধ্যে একজন গেলে হবে কিনা। কিন্তু কানাই তাতে অসম্মতি জানায় এবং বলে দুজনকেই যেতে হবে। মাসি-পিসি জানে তারা দুজনে কাছারিবাড়ি গেলে সাধু বৈদ্য ওসমানেরা এসে রাতের আঁধারে আহ্লাদিকে তুলে নিয়ে যাবে। আর সেজন্যই মাসি-পিসি কানাই চৌকিদারের সঙ্গে গেল না।

123 ‘সেই এখানকার কর্তা, সেই সর্বেসর্বা’- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর “সেই এখানকার কর্তা, সেই সর্বেসর্বা।” কথাটির দ্বারা লেখক পুরুষশাসিত সমাজে পুরুষের প্রাধান্য তুলে ধরেছেন। মাসি-পিসি রান্নাঘরে আহ্লাদির ভবিষ্যতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে। এরই এক পর্যায়ে তারা জামাই জগুর সম্পর্কে কথা তোলে। জামাই যদি আসে, তারা জামাইকে যথাযথ খ্যাতির-যত্ন করবে, এমনকি মেয়েকে শিখিয়ে দেবে যে, স্বামী এসেছে বলে সে যেন আহ্লাদে গদগদ হওয়ার ভাব দেখায়। যে কদিন জামাই থাকে সে যেন অনুভব করে সে-ই এখানকার কর্তা, সে-ই সর্বেসর্বা। সে আহ্লাদির সঙ্গে অতীতে কী করেছে বা ভবিষ্যতে কী করবে সেটা বড় কথা নয়। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট হয় যে, পুরুষ হলো সমাজের মাথা। তারা যত অন্যায় করুক না কেন, তাদের মর্যাদা সর্বদা উপরে।

124 বাকি রাতটুকু মাসি-পিসি কীভাবে সতর্কতা অবলম্বন করে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর বাকি রাতটুকু মাসি-পিসি আহ্লাদিকে না জাগিয়েই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিভিন্ন সতর্কতা অবলম্বন করে। গ্রামের খারাপ লোকেরা রাতে মাসি-পিসিদের আক্রমণ করতে পারে বা ঘরে আগুন দিতে পারে সেজন্য মাসি সজাগ থাকার কথা বলে। পিসি কাঁথা-কম্বল ভিজিয়ে রাখে যাতে আগুন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হাঁড়ি-কলসে আরও জল এনে রাখে। বঁটি আর রামদা হাতের কাছেই রাখে। এভাবে তারা যেকোনো বিপদ প্রতিহত করার সাহস আর মনোবল নিয়ে প্রস্তুত থাকে ।

125 “পেটে শুকিয়ে লাথি ঝাঁটা খেতে?” বলতে কী বোঝায়?

উত্তর উক্তিটির মাধ্যমে আহ্লাদির ওপর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অত্যাচারের বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে। আহ্লাদির স্বামীর বাড়ির মানুষগুলো মানুষরূপী পশু। তারা আহ্লাদির ওপর পাশবিক অত্যাচার চালাত। সেখানে সে ঠিকমতো খেতে পায় না উপরন্তু লাথি-ঝাঁটার বাড়ি তো আছেই। কখনো কখনো স্বামীর কলকে পোড়ার ছ্যাঁকাও খেতে হয় তাকে ।কিন্তু আবার কিছুদিন পরে যখন তাকে আবার তার শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার কথা বলা হয় তখন মাসি পিসি এর প্রতিবাদ জানাই এবং জানিয়ে দেয় এত অত্যাচার সহ্য করে আর আহ্লাদি সেখানে যাবে না । প্রশ্নোক্ত উক্তিতে এ বিষয়টিই বোঝানো হয়েছে।

126 “হাতে দুটো পয়সা এলে তোমারও স্বভাব বিগড়ে যায় কৈলেশ”- ব্যাখ্যা কর ।

উত্তর “হাতে দুটো পয়সা এলে তোমারও স্বভাব বিগড়ে যায় কৈলেশ”- উক্তিটি দ্বারা পিসি কৈলাশের চারিত্রিক অধঃপতনের ইঙ্গিত করেছে। ‘মাসি-পিসি’ গল্পের আহ্লাদি অভাগী এক নারী চরিত্র। জগুর সঙ্গে তার বিয়ে হলেও শ্বশুর বাড়ির লোকদের অত্যাচারে স্বামীর ঘর করা তার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই স্বামীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে স্বামীর ঘর ছেড়ে আহ্লাদি চলে আসে মাসি-পিসির কাছে। কাজেই কৈলাশ যখন পুনরায় আহ্লাদিকে জগুর কাছে পাঠানোর জন্য সুপারিশ করে, তখন তার প্রতি রাগান্বিত হয়ে পিসি জগুর সঙ্গে তুলনা করে কৈলাশকে এ কটূক্তি করে ।

127 “বজ্জাত হোক, খুনে হোক, জামাই তো।”- ব্যাখ্যা কর?

উত্তর বাঙালি সমাজে জামাই যেমনই হোক না কেন, জামাইকে আদর করতে কমতি রাখে না- প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে এ কথাই প্রকাশিত হয়েছে। আহ্লাদির স্বামী সবসময় আহ্লাদিকে নির্যাতন করত। তাই স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সে মাসি পিসির কাছে চলে আসে। কিন্তু এত কিছুর পরও যখন জগু শ্বশুরবাড়ি আসে তখন মাসি-পিসি জামাইয়ের আদরে কমতি রাখে না। তারা ছাগল বিক্রি করে জামাইকে ভালো-মন্দ খাইয়ে আদর-যত্ন করে। তাই কৈলাশ যখন মাসি-পিসিকে আহ্লাদিকে আবার তার স্বামীর সংসারে ফেরত পাঠাতে বলে তখন মাসি- পিসি বলে, মেয়ে না পাঠালেও জামাই এলে তার আদর-যত্নের কমতি হবে না।

128 মাসি-পিসি কানাইকে কীভাবে প্রতিহত করেছিল?

উত্তর বঁটি ও কাটারি হাতে নিয়ে এবং প্রতিবেশীদের ডেকে এনে মাসি-পিসি কানাইকে প্রতিহত করেছিল। রাতের বেলায় তাদের কাছারিতে নিয়ে যাওয়াটা মাসি-পিসির কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। তাছাড়া তারা ঝোপের আড়ালে লুকানো সাধু বৈদ্য- ওসমানদের দেখে ফেলে। তাই তারা ঘরে গিয়ে বঁটি আর কাটারি নিয়ে বেরিয়ে আসে। তারপর প্রতিবেশীদের জোরে জোরে ডাকতে থাকে। প্রতিবেশীরা ছুটে এলে কানাই দলবলসহ পালিয়ে যায়। মূলত অদম্য সাহস আর আহ্লাদির প্রতি মমত্ববোধই মাসি-পিসিকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে কানাইকে প্রতিহত করতে।