BNG – AB S – Feb 1969

01 ঘাতকের থাবার সম্মুখে কে বুক পাতে? [ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2026]

উত্তর সালামের চোখে আলোচিত ঢাকা।

02 ঘাতকের থাবার সম্মুখে বরকত বুক পাতে। [ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর · 2026]

উত্তর “সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ।”- চরণটির মাধ্যমে কবি ভাষা আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগে দুঃখিনী মায়েদের চোখের জলে যে ফুল ফুটেছিল তা বুঝিয়েছেন।
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কবি এদেশের মানুষের সংগ্রামী চেতনা, গণজাগরণ ও দেশপ্রেম তুলে ধরেছেন। কবির মনে হয়েছে ভাষাশহিদদের রক্তের বুদ্বুদ কৃষ্ণচূড়া ফুল হয়ে শহরের পথে পথে ফুটে আছে। তিনি একুশের কৃষ্ণচূড়াকে বাঙালি জাতির চেতনার রঙের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে চেয়েছেন। ভাষার জন্য যাঁরা রক্ত দিয়েছেন সেই বীরদের রক্তে, সন্তানহারা মায়েদের চোখের জলে যে চেতনাদীপ্ত ফুল ফোটে তা কবির কাছে প্রাণস্বরূপ। সেই চেতনাতেই বাঙালি আজ স্বাধীন জাতি। এই বিষয়টি বোঝাতেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

03 ঘাতকের আস্তানায় ভূলুণ্ঠিত কারা? [নটরডেম কলেজ · 2025]

উত্তর • কবি এবং কবির মতো বহু লোক রাতিদিন ঘাতকের আস্তানায় ভূলুণ্ঠিত।

04 ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় ‘মানবিক বাগান’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [নটরডেম কলেজ · 2025]

উত্তর • ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় ‘মানবিক বাগান’ বলতে মানবীয় জগৎকে বোঝানো হয়েছে।
• ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি দেশপ্রেম, গণজাগরণ ও সংগ্রামী চেতনার কবিতা। এই কবিতায় স্মৃতির আবরণে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় দিনের কথা উল্লেখ করেছেন কবি। ১৯৬৯ সালে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বৈষম্যমূলক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে গণআন্দোলনন সূচিত হয়েছিল। প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসংখ্য মানুষ জড়ো হয় ঢাকার রাজপথে। কবি রাজপথের সেই অগণিত মানুষের সচেতন গণজাগরণকে ‘মানবিক বাগান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
মানবিক বাগান বলতে কবি মনুষ্যত্ব, ন্যায় ও মঙ্গলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ জনসাধারণের জগৎকে বুঝিয়েছেন।

05 ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার প্রকাশ সাল কত? [সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া · 2025]

উত্তর • ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত ‘নিজ বাসভূমে’ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয় বিধায় এর প্রকাশ সাল ১৯৭০।

06 “স্মৃতিগন্ধে ভরপুর” উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? [সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া · 2025]

উত্তর • “স্মৃতিগল্পে ভরপুর” বলতে কবি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতিকে মূর্ত করে তুলেছেন।
• ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কবি তুলে ধরেছেন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতি। একুশের চেতনা এক অবিনাশী চেতনা। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের কথা ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসেও কবি গভীরভাবে স্মরণ করেছেন। শহরের পথে পথে যে কৃষ্ণচূড়ার ফুল ফোটে সেই ফুলকে কবির কাছে মনে হয়েছে ভাষাশহিদদের রক্তের বুদ্বুদ। তাই একুশের কৃষ্ণচূড়াকে কবি আমাদের চেতনার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে চান। কবির স্মৃতিতে ভরপুর হয়ে আছে একুশের ভাষাশহিদদের স্মৃতি। তাই কবি কবিতায় উল্লেখ করেছেন ‘স্মৃতিগন্ধে ভরপুর’ উক্তিটি।

07 শামসুর রাহমানের প্রথম কবিতা কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? [আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা · 2025]

উত্তর শামসুর রাহমানের প্রথম কবিতা ‘সাপ্তাহিক সোনার বাংলা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

08 “সারা দেশ ঘাতকের অশুভ আস্তানা।”- বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা · 2025]

উত্তর • ‘সারা দেশ ঘাতকের অশুভ আস্তানা’ বলতে কবি পূর্ব বাংলার সর্বত্র শত্রুর আধিপত্য বিস্তারকে বুঝিয়েছেন।
• ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কবি ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলনের প্রেরণায় ১৯৬৯-এ গণআন্দোলন শুরু হওয়ার কথা বলেছেন। শাসকগোষ্ঠী তৎকালীন পূর্ব বাংলার মানুষকে নানাভাবে শাসন-শোষণ করেছে। তারা এ দেশে বসেই এ দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে। নির্বিচারে মানুষ হত্যার মাধমে তারা বাঙালির স্বাধীনতার স্পৃহাকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। তারা পুরো দেশেই তাদের অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। এই কারণে কবি এই দেশকে ‘ঘাতকের অশুভ আস্তানা’ বলেছেন।

09 কখন আবার সালাম নামে রাজপথে? [ঢাকা কমার্স কলেজ · 2025]

উত্তর • উনিশশো উনসত্তরে সালাম আবার রাজপথে নামে।

10 “সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ।”- ব্যাখ্যা কর। [ঢাকা কমার্স কলেজ · 2025]

উত্তর • “সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ।”- চরণটির মাধ্যমে কবি ভাষা আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগে দুঃখিনী মায়েদের চোখের জলে যে ফুল ফুটেছিল তা বুঝিয়েছেন।
• ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কবির মনে হয়েছে ভাষাশহিদদের রক্তের বুদ্বুদ কৃষ্ণচূড়া ফুল হয়ে শহরের পথে পথে ফুটে আছে। ভাষার জন্য যাঁরা রক্ত দিয়েছেন সেই বীরদের রক্তে, সন্তানহারা মায়েদের চোখের জলে যে চেতনাদীপ্ত ফুল ফোটে তা কবির কাছে প্রাণস্বরূপ। সেই চেতনাতেই বাঙালি আজ স্বাধীন জাতি। এই বিষয়টি বোঝাতেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

11 ঘাতকের থাবার সম্মুখে বুক পাতে কে? [সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ, যশোর · 2025]

উত্তর ঘাতকের থাবার সম্মুখে বুক পাতে বরকত।

12 “সালামের মুখ আজ তরুণ শ্যামল পূর্ব বাংলা”- চরণটিতে কী বোঝানো হয়েছে? [সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ, যশোর · 2025]

উত্তর • ‘সালামের মুখে আজ তরুণ শ্যামল পূর্ব বাংলা।’- উক্তিটির মাধ্যমে ভাষাশহিদ সালামের আত্মত্যাগের সূত্র ধরে পূর্ব বাংলায় ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনের সূচনা হওয়াকে বোঝানো হয়েছে
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চেতনাই এ দেশের পরবর্তী সকল আন্দোলন-সংগ্রামে দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। যার ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানি শাসকদের অপশাসনের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সূচনা হয়। কবি তাই দেশবাসীর এই বিপ্লবী রূপটিকে বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছেন।

13 আমাদের চেতনার রং কী? [বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ · 2025]

উত্তর একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনার রং।

14 সারা দেশ ঘাতকের অশুভ আস্তানা’- কেন এ কথা বলা হয়েছে? [বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ · 2025]

উত্তর • ‘সারা দেশ ঘাতকের অশুভ আস্তানা’ বলতে কবি পূর্ব বাংলার সর্বত্র শত্রুর আধিপত্য বিস্তারকে বুঝিয়েছেন।
• ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কবি ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলনের প্রেরণায় ১৯৬৯-এ গণআন্দোলন শুরু হওয়ার কথা বলেছেন। শাসকগোষ্ঠী তৎকালীন পূর্ব বাংলার মানুষকে নানাভাবে শাসন-শোষণ করেছে। তারা এ দেশে বসেই এ দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে। নির্বিচারে মানুষ হত্যার মাধমে তারা বাঙালির স্বাধীনতার স্পৃহাকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। তারা পুরো দেশেই তাদের অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। এই কারণে কবি এই দেশকে ‘ঘাতকের অশুভ আস্তানা’ বলেছেন।

15 কবি শামসুর রাহমানের কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়? [আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল · 2025]

উত্তর • কবি শামসুর রাহমানের কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয় ‘সাপ্তাহিক সোনার বাংলা’ পত্রিকায় (১৯৪৯ সালে)।

16 ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কবি ‘মানবিক বাগান’ বলতে কী বুঝিয়েছেন? [আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল · 2025]

উত্তর • ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় ‘মানবিক বাগান’ বলতে মানবীয় জগৎকে বোঝানো হয়েছে।
• ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি দেশপ্রেম, গণজাগরণ ও সংগ্রামী চেতনার কবিতা। এই কবিতায় স্মৃতির আবরণে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় দিনের কথা উল্লেখ করেছেন কবি। ১৯৬৯ সালে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বৈষম্যমূলক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে গণআন্দোলনন সূচিত হয়েছিল। প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসংখ্য মানুষ জড়ো হয় ঢাকার রাজপথে। কবি রাজপথের সেই অগণিত মানুষের সচেতন গণজাগরণকে ‘মানবিক বাগান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
মানবিক বাগান বলতে কবি মনুষ্যত্ব, ন্যায় ও মঙ্গলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ জনসাধারণের জগৎকে বুঝিয়েছেন।

17 ‘কৃষ্ণচূড়া’ কীসের প্রতীক? [বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ · 2025]

উত্তর ‘কৃষ্ণচূড়া’ আমাদের চেতনার প্রতীক।

18 বিপরীত চেতনা বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?- ব্যাখ্যা কর। [বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ · 2025]

উত্তর • বিপরীত চেতনা বলতে করি পাকিস্তানি শাসকদের হীন শাসনকে বুঝিয়েছেন।
• শহরের পথে পথে ফুটে ওঠা কৃষ্ণচূড়াকে কবি আমাদের চেতনার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। যেখানে শহিদদের ঝলসিত রক্তের বুদ্বুদ স্মৃতিগন্ধে ভরপুর হয়ে কৃষ্ণচূড়া হয়ে ফুটে উঠেছে। কিন্তু এ চেতনার বিপরীত চেতনা বলতে কবি পাকিস্তানি শাসকদের হীন শাসনকে বুঝিয়েছেন। যারা জোরপূর্বক বাঙালির মাতৃভাষার ওপর আঘাত হানে। বাঙালিরা সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর অমানবিক অত্যাচার চালায় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী, যা বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রেরণা ও সংগ্রামী চেতনার বিপরীত।

19 শহরের পথে থরে থরে কী ফুটেছে? [জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট · 2025]

উত্তর . শহরের পথে থরে থরে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটেছে।

20 “দুঃখিনী মাতার অশ্রুজলে ফোটে ফুল”- বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট · 2025]

উত্তর • “দুঃখিনী মাতার অশ্রুজলে ফোটে ফুল” বলতে শহিদের রক্তে স্বাধীনতা অর্জন এবং দেশের জন্য মায়ের সন্তানদের আত্মত্যাগকে বোঝানো হয়েছে।
• বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনে হাজারো শহিদের রক্ত ঝরে পড়েছে রাজপথে। এতে অনেক মা সন্তান হারিয়েছেন। তাই কবির মতে মায়ের চোখের অশ্রু যেন বাঙালির জন্য স্বাধীনতার ফুল হয়ে ফুটেছে। কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে যে ফুল ফুটেছে তা যেন শহিদ জননীর অশ্রুর ফসল। প্রশ্নোক্ত লাইনে মূলত এই বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।

21 সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ- ফুল বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? [সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম · 2025]

উত্তর সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ- ফুল বলতে বাংলা ভাষাকে বোঝানো হয়েছে।

22 একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদেরই চেতনার রং- ব্যাখ্যা কর। [সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম · 2025]

উত্তর • “একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনার রং” চরণটির মাধ্যমে কবি একুশের চেতনাকে সর্বজনীন করে তুলেছেন।
• ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কবি স্মৃতিচারণ করেছেন ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির কথা। কবি বলেছেন, একুশের শহিদদের যে চেতনা তা বাঙালির জাতীয় চেতনা। প্রতিবছর শহরের পথে পথে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে। কবির মনে হয়, যেন ভাষাশহিদদের রক্তের বুদ্বুদ কৃষ্ণচূড়া ফুল হয়ে ফুটেছে। তাই একুশের কৃষ্ণচূড়াকে কবি আমাদের চেতনার রঙের সাথে মিলিয়ে নিতে চান। এ কারণেই কবি বলেছেন, ‘একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং।’

23 ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯’ কবিতায় বরকত কোথায় বুক পাতে? [আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা · 2024]

উত্তর ঘাতকের থাবার সম্মুখে।

24 এবংশের কৃষ্ণচূড়া আমাদেরই চেওনার রং” বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? [আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা · 2024]

উত্তর কবির চেতনায় ভাষা শহীদদের রক্তের বুদবুদ ফুটেছে কালো ফুলে নগরের রাস্তায়। ফুলের লাল রঙ ছড়িয়ে পড়েছে পথের সর্বত্র। ভাষার জন্য যারা শহীদ হয়েছেন তাদের সংগ্রামের স্মৃতি কবির চেতনা জুড়ে বিরাজমান।

তিনি ১৯৬৯-এ এসেও সেই স্মৃতি ভুলতে পারেন না, বরং সেই ‘৫২-এর চেতনায় দীপ্ত হয়ে সব অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। তাই তিনি ভাষাশহিদদের রক্তের চেতনাকে কৃষ্ণচূড়া ফুলের রক্তবর্ণের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

25 থরে থরে কৃষ্ণচূড়া কোথায় ফুটেছে ? [রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা · 2024]

উত্তর শহরের পথে থরে থরে কৃষ্ণচূড়া কোথায় ফুটেছে।

26 ‘ফুল নয়, ওরা শহিদের কলকিত রক্তের বুদ্বুদ’- ব্যাখ্যা কর। [রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা · 2024]

উত্তর ফুল নয় ওরা শহিদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ”- লাইনটিতে কবি কৃষ্ণচূড়ার ডালে থরে থরে ফুটে থাকা লাল ফুলকে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে শহিদদের রক্তের সাথে তুলনা করেছেন। ‘ফেব্রুয়ারি-১৯৬৯’ কবিতা কবির হৃদয়ে একুশের চেতনার প্রতীক। প্রতি একুশেই কৃষ্ণচূড়ার ডাল রক্তের মতো লাল হয়ে ওঠে ফুলে ফুলে। কবির মনে হয় ভাষাশহিদদের রক্তের বুদ্বুদ যেন কৃষ্ণচূড়া ফুল হয়ে ফুটেছে। মূলত কবির স্মৃতিতে হয়ে আছে ভাষাশহিদদের স্মৃতি।

27 ‘লালসালু’ উপন্যাসে কাকে ‘শয়তানের খাম্বা’ বলা হয়েছে?। [রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা · 2024]

উত্তর ঢেঙা বুড়ো লোকটা বা তাহেরের বাবা।

28 ‘সে-মুখ ফ্যাকাশে, রক্তশূন্য’- কোন প্রসঙ্গে এবং কেন বলা হয়েছে? [রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা · 2024]

উত্তর লালসালু’ উপন্যাসে এ লাইনটিতে পালকি থেকে মাজারে যাওয়ার পর আমেনা বিবির ভয়ার্ত চেহারার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। বিনা আহারে রোজা রেখে, সারাদিন কুরআন পাঠ করে এবং আদা-নুন দিয়ে ইফতার করা আমেনা বিবির শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। অন্যদিকে অজানা আশঙ্কা যে, মাজার প্রদক্ষিণের পরও যদি সন্তান জন্ম দিতে ব্যর্থ হয়। একদিকে অভুক্ত দুর্বল শরীর আরেক দিকে ভয়-শঙ্কা সব মিলিয়ে আমেনার চেহারা রক্তশূন্য ফ্যাকাশে বর্ণ ধারণ করে। সে মুখ কোনো জীবন্ত মানুষের নয়, সে মুখে পৃথিবীর কোনো লক্ষণ নেই।

29 কার রক্তে বাস্তবের বিশাল চত্বরে ফুল ফোটে? [হলিক্রস কলেজ · 2024]

উত্তর এখনো বীরের রক্তে বাস্তবের বিশাল চত্বরে ফুল ফোটে।

30 ‘সারা দেশ ঘাতকের অশুভ আস্তানা।’— বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [হলিক্রস কলেজ · 2024]

উত্তর হানাদার বাহিনীর অশুভ পদচারণে বিপর্যস্ত দেশকে বোঝাতেই কবি সমগ্র দেশকে ঘাতকের অশুভ আস্তানার সঙ্গে তুলনা করেছেন । পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালির উপর ব্যাপক নির্যাতন চালায়। তারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের উপর নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালায় । চারদিকে তাদের পরিচালিত হত্যা, সন্ত্রাস ও লুণ্ঠন জনজীবনে আতঙ্ক তৈরি করে। এ বিষয়টি বোঝাতেই কবি সারা দেশকে ঘাতকের অশুভ আস্তানার সঙ্গে তুলনা করেছেন ।

31 ঘাতকের থাবার সম্মুখে কে বুক পেতে দেয়? [ঢাকা সিটি কলেজ · 2024]

উত্তর ঘাতকের থাবার সম্মুখে বুকে পেতে দেয় বরকত।

32 ‘এ রক্তের বিপরীতে আছে অন্য রং’— বলতে কী বোঝো? [ঢাকা সিটি কলেজ · 2024]

উত্তর প্রশ্নোক্ত চরণটির মাধ্যমে কবি বিরুদ্ধ চেতনার আস্ফালনকে বুঝিয়েছেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই মূলত বাঙালি একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা হিসেবে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বাঙালির প্রতিষ্ঠালাভের পিছনে ভাষা আন্দোলন এবং ভাষাশহিদদের অবদান তাই অনস্বীকার্য। এ কারণে আলোচ্য কবিতাটিতে শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে কৃষ্ণচূড়া ফুলকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার সাথে তুলনা করা হয়েছে। আর এ চেতনার বিরুদ্ধ শক্তিকেই কবি বিপরীত রং হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন । প্রশ্নোক্ত পক্তিটিতে এ বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।

33 শামসুর রাহমান কর্মজীবন শুরু করেন কোন পত্রিকার মধ্য দিয়ে? [ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2024]

উত্তর শামসুর রাহমান কর্মজীবন শুরু করেন ‘দৈনিক মর্নিং নিউজ’ পত্রিকার মধ্য দিয়ে ।

34 “এখন সে রঙে ছেয়ে গেছে পথ-ঘাট”— কোন রঙে, কেন? ব্যাখ্যা কর । [ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2024] উত্তর “এখন সে রঙে ছেয়ে গেছে পথ-ঘাট” এখানে সে রং বলতে কবি আমাদের চেতনার বিপরীত রং অর্থাৎ পাকিস্তানি শাসকদের হীন শাসনকে বুঝিয়েছেন ।

‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কবি কৃষ্ণচূড়ার লাল রংকে আমাদের চেতনার রং হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু এ রং বিপরীত রং হিসেবে কবি পাকিস্তানি শাসনকে বুঝিয়েছেন, যারা সারা দেশে অত্যাচার, নির্যাতন চালিয়েছে। কবির মতে, এই রং আলোকে ঢেকে দিয়ে আঁধারের সূচনা করে, মানুষকে অস্থির করে তোলে। মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করে মানুষকে নিরাপত্তাহীনতায় নিয়ে যায়। কবি মনে করেন পুরো দেশ যেন এই অশুভ শক্তির আস্তানা হয়ে গেছে। এই বিষয়টিকে বোঝাতেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন ।

35 ‘হরিৎ উপত্যকা’ অর্থ কী? [সিলেট এমসি কলেজ · 2024]

উত্তর ‘হরিৎ উপত্যকা’ অর্থ সবুজ দেশ। হরিৎ উপত্যকা বলতে পূর্ব বাংলা অর্থাৎ বাংলাদেশকে বোঝানো হয়েছে।

36 ‘সারা দেশ ঘাতকের অশুভ আস্তানা’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [সিলেট এমসি কলেজ · 2024]

উত্তর ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় ‘সারাদেশ ঘাতকের অশুভ আস্তানা’ বলতে পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশকে বোঝানো হয়েছে। • পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশকে নানাভাবে শাসন-শোষণ করেছে। এদেশে বসেই তারা এদেশের মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে। নির্বিচারে মানুষ হত্যার মাধমে তারা বাঙালির স্বাধীনতার স্পৃহাকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। এই কারণে কবি এই দেশকে ‘ঘাতকের অশুভ আস্তানা’ বলেছেন ।

37 কবি কার মুখকে তরুণ-শ্যামল পূর্ব বাংলার সঙ্গে তুলনা করেছেন? [বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ · 2024]

উত্তর সালাম।

38 ‘যে রঙ লাগে না ভালো চোখে, যে রঙ সন্ত্রাস আনে’- বুঝিয়ে দাও। [বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ · 2024]

উত্তর এ রঙের বিপরীত আছে অন্য রং, যে-রং লাগে না ভালো চোখে, যে-রং সন্ত্রাসে আনে কারণ অধিকার আদায় সংগ্রামের চেতনার রং প্রেরণার উৎস একুশ, এর বিপরীতেও আছে অন্য এক রং, যা আলোকে ঢেকে নিয়ে আঁধারের সূচনা করে, সত্যকে আড়াল করে মিথ্যা, নীচতা, হীনতা, অন্যায় ছড়ায়। সে-ই রং কবির ভালো লাগে না। কারণ সে রং অস্থির করে তোলে, মানুষের অধিকার ক্ষুণœ করে মানুষকে নিরাপত্তাহীনতায় নিয়ে যায়। কবি সকাল থেকে সন্ধ্যায় সেই রঙের জয়জয়কার লক্ষ্য করেন।  কবির প্রিয় দেশ আজ  যেন সেই অশুভ ছায়া বিস্তারকারী অশুভ  শক্তির বাহক, বিশ্বাস ঘাতকের  অবাধ বিচরণক্ষেত্র। পুরো দেশে যেন তাদের  আস্তানা।

39 ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় আমাদের চেতনার রং কী? [সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া · 2024]

উত্তর ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতায় আমাদের চেতনার রং কৃষ্ণচূড়া।

40 “এ-রঙের বিপরীত আছে অন্য রং” বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া · 2024]

উত্তর “এ রঙের বিপরীত আছে অন্য রং” বলতে প্রতিবাদ বা গণজাগরণের কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন ও অত্যাচার চালিয়েছে। তারা সে সময়ের পূর্ববঙ্গের মানুষকে পুতুলের মতো ব্যবহার করতে থাকে। চারদিকে হত্যা, সন্ত্রাস ও লুণ্ঠন জনজীবনে আতঙ্ক তৈরি করে। এর প্রতিবাদে এদেশের সাধারন মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনার রঙ হলেও এর বিপরীতে লুকিয়ে আছে বেদনার রঙ। এটি মনে ক্ষুব্ধ সৃষ্টি করে। এই রক্তাক্ত রঙটি ছেয়ে গিয়েছিল পথ-ঘাট, সারা দেশে,ঘাতকদের আস্তানা পর্যন্ত। এজন্য এই রঙটি চোখে আসলে ভালো লাগে না। অত্যাচারের এ কথা বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

41 কার চোখে আলোচিত ঢাকা? [Jessore · 2024]

উত্তর সালামের চোখে আলোচিত ঢাকা।

42 “সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ।”- কীভাবে? [Jessore · 2024]

উত্তর “সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ।”- চরণটির মাধ্যমে কবি ভাষা আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগে দুঃখিনী মায়েদের চোখের জলে যে ফুল ফুটেছিল তা বুঝিয়েছেন।
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কবি এদেশের মানুষের সংগ্রামী চেতনা, গণজাগরণ ও দেশপ্রেম তুলে ধরেছেন। কবির মনে হয়েছে ভাষাশহিদদের রক্তের বুদ্বুদ কৃষ্ণচূড়া ফুল হয়ে শহরের পথে পথে ফুটে আছে। তিনি একুশের কৃষ্ণচূড়াকে বাঙালি জাতির চেতনার রঙের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে চেয়েছেন। ভাষার জন্য যাঁরা রক্ত দিয়েছেন সেই বীরদের রক্তে, সন্তানহারা মায়েদের চোখের জলে যে চেতনাদীপ্ত ফুল ফোটে তা কবির কাছে প্রাণস্বরূপ। সেই চেতনাতেই বাঙালি আজ স্বাধীন জাতি। এই বিষয়টি বোঝাতেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

43 ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে? [Comilla · 2024]

উত্তর ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি ‘নিজ বাসভূমে’ কাব্যগ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে।

44 “চতুর্দিকে মানবিক বাগান, কমলবন হচ্ছে তছনছ”- বাক্যটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? [Comilla · 2024]

উত্তর “চতুর্দিকে মানবিক বাগান, কমলবন হচ্ছে তছনছ”- বাক্যটি দ্বারা মানবিকতা, সুন্দর ও কল্যাণের জগৎ তছনছ হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কবি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। একুশের চেতনা এক অবিনাশী চেতনা। ১৯৫২ সালের ভাষা-আন্দোলনের কথা ১৯৬৯- এর ফেব্রুয়ারিতে এসে কবি গভীরভাবে স্মরণ করেছেন। বিশ্বাসঘাতকদের কালো থাবার নিচে বসবাস করেছেন তিনি। তাদের অত্যাচার-নির্যাতনে কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে। আবার কেউ প্রতিবাদ করেছে, বিপ্লব-বিদ্রোহ করেছে ঘাতকের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে। মানুষের শান্তি, সুখ, কল্যাণ, সত্য, সুন্দর তারা নষ্ট করে দিয়েছে। তারা চরম অমানবিক আচরণ করে মানবিক সবকিছুই তছনছ করে দিয়েছে। কবির মনে হয়েছে, তাদের অশুভ শক্তির দাপটে ফুলের মতো সাজানো মানুষের সংসার, পরিবেশ সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

45 শহরের পথে থরে থরে কী ফুটেছে? [Chittagong · 2024]

উত্তর শহরের পথে থরে থরে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটেছে।

46 ‘সালামের মুখে আজ তরুণ শ্যামল পূর্ব বাংলা।’- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। [Chittagong · 2024]

উত্তর ‘সালামের মুখে আজ তরুণ শ্যামল পূর্ব বাংলা।’- উক্তিটির মাধ্যমে ভাষাশহিদ সালামের আত্মত্যাগের সূত্র ধরে পূর্ব বাংলায় ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনের সূচনা হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কবি ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে স্মরণ করে বাঙালির সংগ্রামী চেতনা, দেশপ্রেম ও গণজাগরণের দিকটি তুলে ধরেছেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালিরা একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা হিসেবে নিজেদের আবিষ্কার করে এবং এই আন্দোলনের চেতনাই এ দেশের পরবর্তী সকল আন্দোলন-সংগ্রামে দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। যার ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানি শাসকদের অপশাসনের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সূচনা হয়। ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কবি তাই দেশবাসীর এই বিপ্লবী রূপটিকে বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছেন।

47 ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কোন ফুলের উল্লেখ রয়েছে? [Jessore · 2023]

উত্তর ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কৃষ্ণচূড়া ফুলের উল্লেখ রয়েছে।

48 ”দুঃখিনী মাতার অশ্রুজলে ফোটে ফুল”- বলতে কী বুঝানো হয়েছে? [Jessore · 2023]

উত্তর বাঙালির বেঁচে থাকার ও দাবি-দাওয়ার স্বাভাবিক পরিবেশের অভাবের কথাই ব্যক্ত করা হয়েছে এখানে।

পাকিস্তানিরা বাঙালিদের সর্বদা অত্যাচার, শোষণ, নির্যাতন করেছে। তাদের কাছ থেকে যে-কোনো দাবি-দাওয়া আদায় করতে গিয়ে নির্বিচারে মরতে হয়েছে বাঙালিদের। ভাষার দাবিতে যেমন প্রাণ দিতে হয়েছে ১৯৫২ সালে বাঙালিদেরকে, ১৯৬৯ সালেও ছয় দফা দাবি আদায় করতে গিয়ে ঠিক তেমনই হয়েছে। এখনো বীরের রক্তে দুখিনী মাতার অশ্রুজলে ফোটে ফুল বাস্তবতার বিশাল চত্বরে হৃদয়ের হরিৎ উপত্যকায় কথাটি দ্বারা পাকিস্তানিদের শাসনামলে বাঙালির বৈরী সময়ের কথাই বোঝানো হয়েছে।

49 ‘ফেব্রুয়ারি-১৯৬৯’ কবিতায় শহরের পথে থরে থরে কী ফুটেছে? [Barisal · 2023]

উত্তর ‘ফেব্রুয়ারি-১৯৬৯’ কবিতায় শহরের পথে থরে থরে কৃষ্ণচূড়া ফুটেছে।

50 “এ রঙের বিপরীত আছে অন্য রং” -বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [Barisal · 2023]

উত্তর “এ রঙের বিপরীত আছে অন্য রং” বলতে প্রতিবাদ বা গণজাগরণের কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন ও অত্যাচার চালায়। তারা সে সময়ের পূর্ববঙ্গের মানুষকে পুতুলের মতো ব্যবহার করতে থাকে। চারদিকে হত্যা, সন্ত্রাস ও লুণ্ঠন জনজীবনে আতঙ্ক তৈরি করে। এর প্রতিবাদে এদেশের সাধারন মানুষ ক্ষুদ্ব হয়ে ওঠে। এ কথা বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

51 ঘাতকের থাবার সম্মুখে বুক পাতে কে? [Mymensingh · 2023]

উত্তর ঘাতকের থাবার সম্মুখে বুক পাতে বরকত।

52 “নক্ষেত্রের মতো ঝরে অবিনাশী বর্ণমালা’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? [Mymensingh · 2023]

উত্তর ‘নক্ষত্রের মতো ঝরে অবিনাশি বর্ণমালা’ বলতে আমাদের রাষ্ট্রভাষার স্মারকচিহ্নের অমরত্বকে বোঝানো হয়েছে। বর্ণমালা ভাষার স্মারকচিহ্ন; আর রাষ্ট্রভাষা বাংলা ও বাংলার বর্ণমালা আমাদের অবিস্মরণীয় এক অর্জন। সে কারণে এই চিহ্ন কোনভাবেই ধূলিত হবে না। যুগ যুগ ধরে আমাদের চেতনার মধ্যে এ চিহ্ন বেঁচে থাকবে। এ কারণে কবি বর্ণমালার ঐ চিহ্নকে অবিনাশী বলে নক্ষত্রের সাথে তুলনা করেছেন।

53 শহরের পথে থরে থরে কী ফুটেছে? [Rajshahi · 2023]

উত্তর শহরের পথে থরে থরে কৃষ্ণচূড়া ফুটেছে।

54 ‘সেই ফুল আমাদের প্রাণ’ – বুঝিয়ে দাও। [Rajshahi · 2023]

উত্তর ‘সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ’ -এখানে ‘সেই ফুল’ বলতে মুক্তি ও স্বাধিকার চেতনাকে নির্দেশ করা হয়েছে। ১৯৬৯-এর ফেব্রুয়ারি কবি দেশে কিছু লোকের অপতৎপরতা লক্ষ করেছেন। চারদিকে সন্ত্রাসের রং ছড়িয়ে পড়তে দেখেছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী বীর শহিদ সালাম ও বরকতকে আবারও রাজপথে নেমে আসতে দেখেন। অর্থাৎ ভাষা-আন্দোলনের অবিনশ্বর সংগ্রামী চেতনায় এখনো মৃত্যু ঘটেনি। ফলে সেই বাস্তবতায়ও মুক্তি ও স্বাধিকার চেতনায় বাঙালি আবার উজ্জীবিত হয়। আর এই চেতনাই বাঙালির প্রাণ।

55 শহরের পথে কী ফুটেছে? [Dinajpur · 2023]

উত্তর শহরের পথে থরে থরে কৃষ্ণচূড়া ফুটেছে।

56 ‘অবিনাশী বর্ণমালা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [Dinajpur · 2023]

উত্তর ‘অবিনাশী বর্ণমালা’ বলতে আমাদের রাষ্ট্রভাষার স্মারকচিহ্নের অমরত্বকে বোঝানো হয়েছে। বর্ণমালা ভাষার স্মারকচিহ্ন, আর রাষ্ট্রভাষা বাংলা ও বাংলার বর্ণমালা আমাদের অবিস্মরণীয় এক অর্জন। সে কারণে এই চিহ্ন কোনভাবেই ধূলিত হবে না। যুগ যুগ ধরে আমাদের চেতনার মধ্যে এ চিহ্ন বেঁচে থাকবে। এ কারণে কবি বর্ণমালার ওই চিহ্নকে অবিনাশী বলেছেন।

57 ‘কমলবন’ শব্দটির অর্থ কী [Dhaka · 2022]

উত্তর ‘কমলবন’ শব্দটির অর্থ পদ্মবন।

58 “এ-রঙের বিপরীতে আছে অন্য রং” বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [Dhaka · 2022]

উত্তর “এ রঙের বিপরীতে আছে অন্য রং” বলতে খুবই পাকিস্তানি শাসকদের বর্বর শাসন নামের শোষণকে বুঝিয়েছেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান দুটি ভূখণ্ড পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে গঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তান ছিল বর্তমান আমাদের বাংলাদেশ।পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকেরা আমাদের নানাভাবে  শাসন নামের শোষণ করতে থাকে। তারা আমাদের মাতৃভাষার উপরে আঘাত হানে।স্বাধীনচেতা বাঙালীরা সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে।এর জন্য তারা বাঙালীদের ওপর অমানবিক অত্যাচার চালিয়েছে।

59 ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতা? [Comilla · 2022]

উত্তর ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি ‘নিজ বাসভূমে’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।

60 ‘সারা দেশ ঘাতকের অশুভ আস্তানা’-বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

[Comilla · 2022] উত্তর হানাদার বাহিনীর অশুভ পদচারণে বিপর্যস্ত দেশকে বোঝাতেই কবি সমগ্র দেশকে ঘাতকের অশুভ আস্তানার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালির ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালায়। তারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ওপর নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালায়। চারিদিকে তাদের পরিচালিত হত্যা, সন্ত্রাস ও লুণ্ঠন জনজীবনে আতঙ্ক তৈরি করে। এ বিষয়টি বোঝাতেই কবি সারা দেশকে ঘাতকের অশুভ আস্তানার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

61 ‘হরিৎ উপত্যকা’ অর্থ কী? [Dhaka · 2019]

উত্তর হরিৎ উপত্যকা’ শব্দের অর্থ— সবুজ প্রান্তর।

62 সালামের মুখে আজ তরুণ শ্যামল পূর্ব বাংলা’– ব্যাখ্যা করো। [Dhaka · 2019]

উত্তর কবি ১৯৬৯-এর গণ অভ্যুত্থানের বিপ্লবী বাংলাকে যেন ভাষা আন্দোলনের শহিদ সালামের বিপ্লবী মুখাবয়বে খুঁজে পেয়েছেন। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার উপর পাকিস্তান সরকারের অন্যায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্র-জনতা আন্দোলন শুরু করে এবং বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করে। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের শোষণ-অত্যাচারের বিরুদ্ধে ১৯৬৯-এর গণ অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। ভাষা আন্দোলনের শহিদ সালাম, বরকতসহ অনেকেই ছিলেন এ আন্দোলনের মূল প্রেরণা। এ বিষয়টি বোঝাতে গিয়েই আলোচ্য চরণটিতে কবি বিপ্লবী ভাষাশহিদ সালামের প্রসঙ্গ টেনেছেন।